Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প126 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঘটনার ঘনঘটা – ৫

    ৫

    টেলিফোন গাইডে দু’জন রবীন সরকারকে পাওয়া গেল, একজন গরচায়, আর একজন কাঁকুলিয়ায়। এ ছাড়া আর. এন. সরকার, আর. পি. সরকার এইসব অজস্ৰ। গরচা দিয়েই শুরু করা যাক।

    আমাদের পাড়ায় নিউ ডেকরেটার্স দোকানটায় গিয়ে আমি মাঝে–মাঝে বসি। যখনই বিনা পয়সায় টেলিফোন করার দরকার হয়। উপেনদা অবশ্য টেলিফোনের ডায়ালে একটা ছোট্ট তালা দিয়ে রাখেন, মুখ–চেনা কেউ এসে টেলিফোন করতে চাইলে উনি অম্লান বদনে বলেন, চাবিটা তো খুঁজে পাচ্ছি না! এ–পাড়ার কোন্ একটি কলেজে–পড়া মেয়ে নাকি একবার এই টেলিফোনে তার প্রেমিকের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। সেই থেকে তিনি অন্য কারুকে টেলিফোন ব্যবহার করতে দিতে চান না। আসল কারণটা হচ্ছে কৃপণতা।

    কিন্তু এর চেয়ে ঢের–ঢের বড় কৃপণদের আমি চরিয়ে খেয়েছি। এক–একজন কৃপণকে ট্যাকল করার এক–এক রকম কায়দা। এর জন্য মানবচরিত্র স্টাডি করা দরকার। আমি যাওয়া–আসার পথে উপেনদার দোকানের দিকে তাকিয়ে মাঝে–মাঝে দেখতে পাই চেয়ারটা খালি। তার একটা নির্দিষ্ট ব্যবধান আছে, দু’ থেকে আড়াই ঘণ্টা। অর্থাৎ উপেনদার পেটের রোগ, বাড়িওয়ালার বাথরুম ব্যবহারের বিশেষ বন্দোবস্ত আছে।

    দোকানের ছোকরা কর্মচারীটি আমাকে ভালোবাসে, তার মালিককে কেউ ঠকালে সে খুব খুশি হয়। একবার উপেনদাকে কে যেন একশো টাকা কম দিয়েছিল, তাতে ঐ অমূল্য উপেনদার পেছনে দাঁড়িয়ে নেচেছে।

    ক্যাশ ড্রয়ারে চাবিটা থাকে, টপ করে খুলে ডায়াল ঘোরাতে শুরু করি, অন্তত চার–পাঁচটা ফোন করার সময় পাওয়া যায় স্বচ্ছন্দে।

    কিন্তু আমার এত উদ্যোগ, এত পরিকল্পনা সব ব্যর্থ করার জন্য সদা সতর্ক হয়ে আছে টেলিফোন দফতর। ওরা তো অমূল্যদার মতন কৃপণদের সাহায্য করার জন্যই ব্যস্ত। যতই ডায়াল ঘোরাও লবডঙ্কা! হয় এনগেজড টোন, অথবা খট করে একটা শব্দ হবার পর সব চুপচাপ। দুই রবীন সরকারেরই ঐ ব্যাপার। অন্য দু’একটা আর সরকার ট্রাই করলুম, সাড়া নেই। গাইডের যাবতীয় সরকারই বোধহয় আজ টেলিফোন–আওতার বাইরে।

    তালা–ফালা লাগিয়ে সব ঠিকঠাক করে রাখলুম। অমূল্য বলল, ঐ যন্তরটা ভেঙে ফেলুন না।

    আমি বললুম, তুই একদিন ধুলো ঝাড়ার নাম করে ওটাকে একটা আছাড় মারিস!

    সঙ্গে সঙ্গে ঝনঝন্ করে টেলিফোনটা বেজে উঠল। এ তো বেশ মজার ব্যাপার, ফোন করা যাবে না, কিন্তু আসবে। উপেনদার খুব মজা!

    অমূল্য ফোন তুলে পাঁচবার শুধু হ্যাঁ বলে রেখে দিল। আমি জিজ্ঞেস করলুম কে ফোন করেছিল?

    অমূল্য ঠোঁট উল্টে বলল, কী জানি!

    আশ্চর্য, এই সব সত্ত্বেও উপেনদার দোকান বেশ ভালোই চলে। দু’খানা ঠেলাওয়ালা প্রতিদিন প্যান্ডেল বাঁধার জিনিসপত্তর নিয়ে যায়, নিয়ে আসে। এখন বিয়ের সিজ়ন, বর্ষাকালের বিয়েতে ডেকরেটরদের পোয়াবারো। লোকেরা শীতকালে বিয়ে করলেই তো পারে।

    চুরি করে ফোন–টোনের চেষ্টা করে পালিয়ে যাবার পাত্র আমি নই। বসে রইলুম গ্যাঁট হয়ে। একটু বাদে ফিরে এলো উপেনদা, কোমরের ধুতির কষি আঁট করে বাঁধতে–বাঁধতে, মুখে একটা তৃপ্তির ভাব।

    – কী খবর, নীলুচন্দর!

    –এই যে উপেনদা, তোমার এখানে একটু চা খেতে এলাম।

    —হ্যাঁ, চায়ের টাইম হয়ে গেছে। অমূল্য! দু’ কাপ চা বলে আয়। আর চারটে নোনতা বিস্কুট, আচ্ছা থাক, বিস্কুট দরকার নেই, দুটো চিংড়ির কাটলেট আনবি।

    উপেনদার এতখানি ঔদার্য কোনোদিন দেখিনি। হঠাৎ চিংড়ির কাটলেট? আমি তো উপেনদার খদ্দেরও নই।

    –কী ব্যাপার, উপেনদা?

    —কিসের কী ব্যাপার রে?

    —আজ মেজাজটা বেশ খুশি খুশি দেখছি? আপনার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে নাকি?

    –আরে অন্য লোকের বিয়ের ঠ্যালা সামলাতে সামলাতেই হিমসিম খেয়ে যাচ্ছি, যা বিয়ের হিড়িক পড়েছে এই সীজনে, চেনা গ্রাহকদেরই সাপ্লাই দিয়ে উঠতে পারছি না! দ্যাখ না এই পুরো মাসটার লম্বা লিস্ট, প্রত্যেকদিন দুটো করে।

    —তা বলে চিংড়ির কাটলেট খাবেন? আপনার না পেটের…

    —আজ পেটটা বেশ ভালো আছে। বাড়িতে, বুঝলি, সিঙ্গিমাছ কাঁচকলার ঝোল ছাড়া আর কিছু খেতে দেয় না। ভালো–মন্দ যদি খেতেই না পেলুম, তা হলে আর টাকা রোজগার করে লাভ কী!

    –তা তো বটেই!

    উপেনদার চার মেয়ে। উপেনদা মেয়ের বিয়েকে বলেন পার করা। তাঁর ভাষায়, তিন তিনটি মেয়েকে পার করতে পারলেও ছোট মেয়েটি গলার কাঁটা হয়ে আটকে আছে। উপেনদার ছোট মেয়ে শ্রীলাকে আমি চিনি, সে ফিলসফিতে এম. এ. পাশ করে এখন পি. এইচ. ডি–র জন্য তৈরি হচ্ছে। বিয়ে–টিয়ের ব্যাপারে সে মাথাই ঘামাতে চায় না। ডেকরেটরের মেয়ে হয়ে শ্রীলার কেন যে দর্শন শাস্ত্ৰ পড়ার ঝোঁক হলো তা কে জানে। মেয়ে যে দর্শন নিয়ে এম. এ. পাস করেছে, তা উপেনদা জানলেন মাত্র কয়েকদিন আগে। তিনি শুধু জানতেন মেয়ে ইউনিভার্সটিতে লেখাপড়া করে।

    শ্রীলা বেশ তেজি মেয়ে। সে যদি এখন বিয়ে করতে না চায়, তাতে ক্ষতি কী আছে? তার যখন খুশি সে তার জীবনসঙ্গী খুঁজে নেবে।

    কিন্তু উপেনদার মতে “বয়স্থা” মেয়ে বাড়িতে রাখা মানেই “গলার কাঁটা” পুষে রাখা।

    আমাকে তিনি প্রায়ই বলেন, এই নীলু, একটু খোঁজখবর নিয়ে দ্যাখ না, মেয়েটার জন্য একটা ভালোমতন পাত্র জোগাড় করতে পারিস কি না!

    চোখের সামনেই যে জলজ্যান্ত আমি আছি তা উপেনদার খেয়াল হয় না। উপেনদার ছোট ভাই রূপেন আমার সঙ্গে ইস্কুলে পড়ত, সে হঠাৎ বোকার মতন আত্মহত্যা করেছে। সেই জন্যেই উপেনদা আমাকে একটু স্নেহ করেন, কিন্তু মেয়ের পাত্র হিসেবে গ্রাহ্য করেন না আমাকে। আমি কি এতই ফ্যালনা যে একটু প্রত্যাখ্যানের সুখও পেতে পারি না?

    উপেনদা অনেকগুলো নাম ঠিকানা লেখা লম্বা একটা লিস্ট আমার সামনে ফেলে বলেন, একখানা ট্র্যাজেডিয়াস গল্প শুনবি? গল্প নয়, সত্যি ঘটনা, ফ্যাক্‌ট! উপেনদা বোধহয় হিলেরিয়াস, সিরিয়াসের সঙ্গে মিলিয়ে ট্র্যাজেডিয়াস শব্দটি বানিয়েছেন—তা মন্দ কী!

    উপেনদা সেই কাগজের একটা জায়গায় আঙুল দিয়ে বললেন, এই যে দেখছিস সত্যেন নিয়োগী, বেলেলিয়াস রোডে বাড়ি, এই ভদ্রলোকের ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা পাকা হয়ে গিয়েছিল, বুঝলি, পনেরো হাজার নগদ আর বিশ ভরি সোনা, সব দিতে রাজি হয়েছিলুম, কিন্তু মেয়ে আমার বেঁকে বসল, বলে কি না, একুশ বছর বয়েস হয়ে গেছে, বেশি চাপ দিলে বাড়ি থেকে পালাবে! আজকালকার ধিঙ্গি মেয়েদের কি কাণ্ড। মেয়ে বাড়ি থেকে পালালে আমারই মুখে চুন–কালি পড়বে…এখন সেই সত্যেন নিয়োগীর ছেলের ধুমধাম করে বিয়ে ঠিক হয়েছে অন্য জায়গায়, আর আমাকেই সেই বিয়ের প্যাণ্ডেল বাঁধতে হবে। অ্যাঁ? তুই–ই বল্‌!

    –সত্যি বড্ড শ্যাড, উপেনদা। ও বাড়ির কাজটা আপনি না নিলেই পারতেন।

    –কী করব বল, খদ্দের হলো লক্ষ্মী, কক্ষনো ফেরাতে নেই যে।

    —ওদের প্যাণ্ডেলের চালে ফুটো রাখুন তা হলে, যাতে বৃষ্টি হলে বর–বউ ভেসে যায়।

    ধ্যার! আর ওসবে কী হবে!

    চিংড়ির কাটলেট এসে গেল, দুঃখ ভুলবার জন্য উপেনদা একখানা কাটলেট তুলে বড় একটা কামড় বসালেন।

    চা দিয়েছে দুটো ময়লা গেলাসে। উপেনদা শুধু তেরপল–বাঁশ দিয়ে প্যাণ্ডেলই বানান না, ফার্নিচার, ক্রকারি–কাটলারিও ভাড়া দেন। ভেলভেটের চেয়ার আছে দু’খানা, চেয়ারের পেছনের আলমারিতে সারি–সারি গোলাপি রঙের কাপ–ডিশ। ঐ রকম একটা দামী কাপে একদিন চা খেতে ইচ্ছে করে।

    নাম ঠিকানা লেখা লিস্টটা আমার সামনে পড়ে আছে, হঠাৎ সেটাতে চোখ আটকে গেল। একেবারে শেষের নামটা হলো রবীন সরকার, কাঁকুলিয়ার ঠিকানা! উত্তেজনা দমন করার চেষ্টা করে বললুম, উপেনদা, এই যে এই রবীন সরকার নামে ভদ্রলোককে আপনি চেনেন? ইনি কি আই. এ. এস. অফিসার ছিলেন?

    ভুরু কুঁচকে উপেনদা বললেন, তা কে জানে! অর্ডার দিয়ে টাকা অ্যাডভান্স করে গেছে, কিসের অফিসার তা জানি না।

    —বাড়িটা কি ফ্ল্যাট বাড়ি?

    প্রত্যেক নামের পাশেই কোডে কী যেন লেখা আছে। সেটা দেখে উপেনদা বললেন, হ্যাঁ, ফ্ল্যাট বাড়ি। ছাদের ওপর ম্যারাপ বাঁধতে হবে, হাজার স্কোয়ার ফিট কভারড় এরিয়া, ভেতরে ফুলের ডিজাইন করতে হবে…

    –ছেলের বিয়ে, না মেয়ের বিয়ে?

    উপেনদা খামের পাশের কোড আবার দেখলেন। ছেলে কিংবা মেয়ে, তাও কোডে লেখা?

    –বউভাত!

    –কার বাড়ি, ছেলে না মেয়ের বাড়ি, সেটা জানতে চাইছি।

    – আ গেল যা! মেয়ের বাড়িতে কখনো বউভাত হয়? এমন কথা কেউ ভু–ভারতে শুনেছে? বিয়ের দিন যে–থাকে কনে, শ্বশুরবাড়িতে এলে সে হয় বউ। তবে না বউভাত হবে!

    আমার এ হেন অজ্ঞতায় মর্মাহত হবার ছলে মুখ নিচু করে আমি রবীন সরকারের বাড়ির ঠিকানাটা মুখস্থ করে নিলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, তারিখ? কত তারিখ?

    –এ মাসের আঠাশে। কেন রে, তুই চিনিস নাকি?

    —হ্যাঁ, চেনা–চেনা মনে হচ্ছে। ও বাড়িতে আমি অনেকবার গেছি!

    —কাটলেটটা বেড়ে বানিয়েছে রে? আর একখানা করে হবে নাকি।

    —উপেনদা, তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে? দু’খানা চিংড়ির কাটলেট তোমার সহ্য হবে?

    –দ্যাখ, এত লোকের বিয়েতে প্যাণ্ডেল বানাই, কোনো শালা আমাকে কিন্তু নেমন্তন্ন করে না। আমাকে কাটলেট, ফিসফ্রাই নিজের পয়সায় কিনে খেতে হয়!

    —তুমি তা হলে কেটারিং–এর ব্যাবসা ধরো। প্রত্যেকদিন অনেক চপ কাটলেট একস্ট্রা হবে।

    এই আলোচনাটা আর বেশি দূর গড়াল না, একজন খদ্দের এসে হাজির হলো, সেই সুযোগে আমি কেটে পড়লুম।

    তা হলে, শান্তিনিকেতনে সাইকেলে চড়ে যে সারল্য–মাখা রাজকুমারীটি ঘুরে বেড়াচ্ছে, সে–ই এই কাঁকুলিয়ার ফ্ল্যাট বাড়িতে নববধূ হয়ে আসবে। এতগুলো মিল যখন…তারিখটাও মোটামুটি মিলে যাচ্ছে…।

    কেন জানি না, ঐ রিটায়ার্ড আই. এ. এস. অফিসার রবীন সরকারের সঙ্গে দেখা করার একটা উদগ্র ইচ্ছে হলো আমার। একবার ঘুরেই দেখে আসা যাক না।

    বাসে চেপে বসলুম কিন্তু যাত্রাপথে বারবার বাধা পড়তে লাগল। প্রথম কথা, কালীঘাটের কাছে এসে বাসটা গেল খারাপ হয়ে। বর্ষার সময় সরকারি বাসগুলো খারাপ হবার প্রতিযোগিতা নিয়ে রাস্তায় বেরোয়। প্রাইভেট বাস খারাপ হলে টিকিটের পয়সা ফেরত দেয়। কিন্তু সরকারি বাসের কন্ডাক্টর বলে, ঐ টিকিটে পরের বাসে চাপুন!

    কিন্তু পরের বাস কখন আসবে সেটা তার মর্জি। তার বুঝি মাঝপথে খারাপ হবার অধিকার নেই?

    এই সময় নামল তোড়ে বৃষ্টি। দু’খানা প্রাইভেট বাসের মধ্যে যাত্রী তোলার লোভে আমাদের ভিড়টার কাছে এসে দাঁড়াল। কিন্তু আমার জেদ আমি ঐ সরকারি টিকিটেই সরকারি বাসে যাব, খামোকা আবার পয়সা খরচ করব কেন?

    কুড়ি মিনিট বাদে ঐ রুটের একটি সরকারি বাসকে আসতে দেখা গেল, আমাদের প্রাক্তন কন্ডাক্টর এগিয়ে গিয়ে হাত তুলে তাকে দাঁড়াবার জন্য অনুরোধ জানাল, কিন্তু সে থামল না। কী জন্য যেন তার অভিমান হয়েছে।

    এর মধ্যে আমার বৃষ্টিতে ভিজে জবজবে অবস্থা।

    মোট পঁয়তাল্লিশ মিনিটের ব্যবধানে আমি আর একটি বাসে চড়তে পারলুম। পুরনো বাসের যাত্রী শুধু আমি। এ বাসটা বেশ ফাঁকা। একটা সীট পেয়ে বসতে যেতেই কন্ডাক্টার বলল, টিকিট!

    আমি আগের টিকিটটি সযত্নে রক্ষা করেছিলুম, প্যান্টের পকেটে মুঠো করে ধরা ছিল, ভিজতেও দিইনি। সেটা বার করে দেখাতেই কন্ডাক্টর বলল, এটা আবার কী? ভদ্দরলোকের এক কথার মতন একবার টিকিট কেটে সব বাসে চাপবেন ঠিক করেছেন নাকি?

    আমি বোঝাবার চেষ্টা করলুম, আগে যে–বাসটি খারাপ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল….

    কন্ডাক্টরটি বড্ড তার্কিক ধরনের। সে টেকনিক্যাল পয়েন্ট ধরে বলল কই ঐ বাসের কন্ডাক্টর তো আমায় কিছু ডেকে বলেনি। আপনার টিকিটের পেছনে কিছু লিখে দিয়েছে?

    অত বৃষ্টির মধ্যে আগের কন্ডাক্টর তার নিজস্ব বাসে উঠে বসেছিল, সে কথা এ লোকটি মানবে না। কিন্তু আমার বাঙালের গো, আমি কিছুতেই নতুন টিকিট কাটব না। কথাবার্তার টান শুনে বোঝা গেল, এই কন্ডাক্টরটিও বাঙাল, সুতরাং দুই বাঙালের গোঁ মিলে একেবারে রতনে–রতন!

    অন্য যাত্রীরা যথারীতি ভাগ হয়ে গেল দুই পক্ষে। তারপর সিদ্ধান্ত হলো, আমাকে নিয়ে যাওয়া হবে বালিগঞ্জ স্টেশন বাস গুমটিতে, সেখানে এই কন্ডাক্টারের ঊর্ধ্বতন কর্মচারীরা বিচার করবে।

    আমার তাতে আপত্তি নেই। বালিগঞ্জ স্টেশন থেকে কাঁকুলিয়া যেতে সুবিধেই হবে। আমি একডালিয়ার মোড়ে নামব ভেবেছিলুম, আর বড় জোর দু’তিনটে স্টপ।

    বালিগঞ্জ স্টেশনে মামলাটা মোটেই জটিল হলো না। বাসের কন্ডাক্টারটি আমাকে নিয়ে, হাত ধরে টানতে টানতে নয় অবশ্য, পাশাপাশি, অফিস ঘরে যার কাছে নিয়ে গেল, সেই লোকটি এই বাদলার মধ্যে মুড়ি–বেগুনি খেতে খেতে একটা বাংলা উপন্যাস পড়ছিল। নিশ্চয়ই খুব রোমাঞ্চকর জায়গা, বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরাবার ইচ্ছেই নেই তার। আমাদের কথা একটুখানি শোনামাত্র সে আমার দিকে বাঁ হাতের পাঞ্জা নাড়িয়ে বলল, ঠিক আছে, ঠিক আছে, যান, যান, চলে যান! এতসব ঝুট ঝামেলার কী দরকার!

    আমি আমার সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে, সগৌরবের মাথা তুলে বেরিয়ে এলুম সেই ঘর থেকে। তার পরেই আর একখানা অলৌকিক।

    ফ্ল্যাট বাড়িতে যে–কোনো লোক যে–কোনো তলায় উঠে গিয়ে যে–কোনো দরজায় ধাক্কা মেরে কিছু একটা জিজ্ঞেস করতে পারে। লেটার বক্স দেখে রবীন সরকারের ফ্ল্যাট চিনে নেওয়াও শক্ত কিছু নয়। কিন্তু আমার জামা–প্যান্ট সম্পূর্ণ ভিজে, মাথা দিয়ে জল গড়াচ্ছে, এই অবস্থায় কোনো অচেনা লোকের বাড়িতে কি যাওয়া যায়? পকেটে একটা রুমালও নেই ছাই! রুমাল থাকলেই বা কী হতো, সেটাও ভিজে যেত। সিগারেটের প্যাকেটটাও ভিজে গেছে। তাতে অবশ্য ছিল মাত্র একটা।

    প্রথমে একটা সিগারেট টেনে বুদ্ধি ঠিক করা দরকার। এত দূর এসে কিছু একটা না করে ফিরে যাবার কোনো মানে হয়?

    সিগারেটের দোকানে গিয়ে দাঁড়িয়েছি, অমনি পাশের ফলের দোকান থেকে লাল রঙের ছাতার আড়াল সরিয়ে একটি চেনা মুখ আমার নাম ধরে ডেকে বলল, ওমা নীলু, তুমি এখানে কী করছ?

    এ যে বাউল–গান উৎসাহিনী উজ্জয়িনী! শান্তিনিকেতনের তুলনায় আজ তার সাজগোজ একটু বেশি। ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক, সাঁচি স্তূপের স্টাইলের চুলের খোঁপা।

    আমি বললুম, উজ্জয়িনী, তুমি এখানে কী করে এলে?

    উজ্জয়িনী ছাতা ঘুরিয়ে উল্টো দিকের বাড়িটা দেখিয়ে বলল, ঐ তো আমার দিদির বাড়ি। কলকাতায় এলে আমরা এখানেই উঠি। সেদিন তুমি আমাদের কিছু না বলে–টলে পালিয়ে এলে, আমরা তোমার ওপর খুব রাগ করেছি।

    আমি একগাল হেসে বললুম, সেদিন বিকেলে রেডিওতে আমার একটা রেকর্ডিং ছিল, একদম ভুলে গিয়েছিলুম। তাই চলে আসতেই হলো… তোমরা শ্রীনিকেতনের দিকে গেলে…আমার মনে পড়ল যে, একটায় একটা ট্রেন আছে।

    —তা বলে একটা চিঠি লিখে আসতে পারলে না? কলকাতায় তোমার ঠিকানাটা পর্যন্ত জানি না।

    –বাঃ, ফিরেই তো তোমাদের চিঠি লিখেছি। পাওনি?

    –না তো।

    –ক’দিন লাগে চিঠি যেতে? ঠিক পেয়ে যাবে ফিরে গিয়ে!

    —এরকম ভিজে–টিজে কোথা থেকে এলে?

    —এই তো এই ডিপোয় বাস থেকে নামলুম!

    –বাসে এলে বুঝি এরকম ভিজতে হয়? মনে হচ্ছে যেন কোনো পুকুরে ডুব দিয়ে এসেছ!

    –না, মানে, বাসে ওঠার আগে—

    —চলো, চলো, আমার দিদির বাড়িতে চলো, মাথা–টাথা মুছে নেবে।

    — উজ্জয়িনী, আমার এখন একটু কাজ আছে…তোমরা ক’দিন থাকছ? আমি পরে না হয়—

    –এই অবস্থায় আবার কী কাজ। চলো, পাগলামি করো না। আমার দিদির বাড়িতে যেতে তোমার লজ্জা পাবার কিছু নেই!

    শান্তিনিকেতনের স্মার্ট মেয়ে, উজ্জয়িনী আর একটু হলে আমার হাত ধরে টানছিল, আমি বললুম, ঠিক আছে, চলো যাচ্ছি!

    বৃষ্টি অবশ্য এখন গুঁড়িগুড়ি পড়ছে। মেয়েলি ছাতার তলায় দু’জনে যাওয়া যায় না। মানে, উজ্জয়িনীর সঙ্গে আমার ততটা ঘনিষ্ঠতা নেই। উজ্জয়িনীর ব্যবহার এত সাবলীল যে তার সঙ্গে চট করে বন্ধুত্ব হয়ে যায়, কিন্তু তার সঙ্গে প্রেম– ট্রেম করার চিন্তা মনে আসে না।

    প্রথম সরকারি বাসটা যদি খারাপ না হয়ে যেত, তাহলে আমার চল্লিশ মিনিট দেরিও হতো না, বৃষ্টিতেও ভিজতুম না। নামতুমও দু’তিন স্টপ আগে। উজ্জয়িনীর সঙ্গে এমন ভাবে দেখা হয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। এমনকি বাস গুমটির ঊর্ধ্বতন কর্মচারীটি যদি বাংলা উপন্যাস পড়ায় অতটা নিমগ্ন না হতো, আমাকে মিনিট পাঁচেক জেরা করলেও ততক্ষণে উজ্জয়িনী ফলের দোকান থেকে ফিরে যেত!

    উপেনদার দোকানে আড্ডা, সরকারি বাস, বৃষ্টি, পুরোনো টিকিট, বাংলা উপন্যাস এই সবগুলো জিনিস মিলে আমাকে উজ্জয়িনীর সঙ্গে আবার দেখা করিয়ে দিল। বাংলা উপন্যাসটা কার লেখা তা দেখে রাখলে হতো, তা হলে চিঠি লিখে লেখককে ধন্যবাদ জানাতুম।

    রাস্তা পেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলুম, হঠাৎ কলকাতায় এলে, শান্তিনিকেতন এখন ছুটি নাকি!

    উজ্জয়িনী বলল, না, ছুটি নিয়েছি। বিয়ের বাজার করতে এসেছি।

    আজ সর্বক্ষণই খালি বিয়ের কথা শুনছি। পৃথিবী শুদ্ধ সবাই কি এই বর্ষাতেই বিয়ে করছে নাকি!

    —বিয়ের বাজার? কার বিয়ে?

    – আমার মাসতুতো বোনের মেয়ের। ঐ তো, সেদিন তোমার সঙ্গে আলাপ হলো, অনিন্দিতা, সে তো আমার ছোড়দির মেয়ে!

    আমি থমকে দাঁড়িয়ে একটা বড় ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করলুম, এইটা মানে, এটা তোমার ছোড়দির বাড়ি?

    —না। আমার তিন দিদি। এটা আমার বড়দির বাড়ি! মেজদি থাকে ভাগলপুরে। ছোড়দিরা তো আগে এলাহাবাদে থাকত, এখন আমাদের এখানেই…চলো, বড়দির সঙ্গে আলাপ করলে তোমার খুব ভালো লাগবে। রেডিও– তে তোমার কিসের রেকর্ডিং ছিল সেদিন? ব্রডকাস্ট হয়ে গেছে?

    —রেকর্ডিং আমার নিজের ছিল নাঁ ঠিক, আমার এক বন্ধুর। পল্লীগীতি গায়। ও ভীষণ নার্ভাস, সেই প্রথম প্রোগ্রাম তো। গানগুলো অবশ্য আমিই ওকে জোগাড় করে দিয়েছি।

    –ও, তাই বলো। আমরা প্রায় রোজই রেডিও শুনি, তোমার নাম দেখলে…তুমি এর মধ্যে আর নতুন বাউল গান পেলে?

    –ফেরার পথে শ্রীরামপুর স্টেশনে পেয়েছি একটা। একদম নতুন!

    –আমাকে দেবে তো? আমাকে দেবে তো?

    —নিশ্চয়ই।

    একতলায় দোকানপাট, দোতলা ভাড়া, সিঁড়ি দিয়ে উঠে এলুম তিনতলায়। দরজা খোলাই ছিল, ভেতরে পা দিয়ে উজ্জয়িনী সহাস্যে বলল, এই, দ্যাখো, কাকে নিয়ে এসেছি!

    বসবার ঘরে, একখানা সোফায় হাঁটু দ করে আধশোয়া হয়ে যিনি রয়েছেন, তিনি আর কেউ নন, ‘জীবন–দেবতা’ বিষয়ক খটমটে প্রবন্ধের লেখক অধ্যাপক চন্দন দত্ত।

    বোঝা গেল স্ত্রী যেখানে যান তিনিও সেখানে, শুধু বাজার–হাট করার সময় নিজে না গিয়ে স্ত্রীকে পাঠান। এমনকি এ–বাড়ির প্রায় উল্টো দিকের ফলের দোকানেও তিনি যাননি।

    চন্দনদা প্রথমে যেন ভূত দেখল। তারপর ধড়মড় করে উঠে বলল, এই সেই ছিন্নবাধা, পলাতক বালক? একে তুমি কোথায় পেলে? এই ছেলেটা কি কোনো সমুদ্রের তলায় লুকিয়ে ছিল?

    ফলগুলো একটা টেবিলে রেখে উজ্জয়িনী বলল, ওসব কথা পরে হবে। এই ডান দিকের বাথরুমটায় ঢুকে পড়ো, নীলু। আমি তোয়ালে আনছি। এই, তোমার একটা পাজামা আর পাঞ্জাবি ওকে দিচ্ছি। ওরকম ভিজে জামা–প্যান্ট পরে থাকলে ওর নির্ঘাৎ নিউমোনিয়া হয়ে যাবে!

    আমার প্রবল আপত্তিতেও উজ্জয়িনী কিছুতেই কর্ণপাত করল না। এরক আমি কতবার জলে ভিজেছি, সারারাত মাঠে শুয়ে থেকেছি, এইসব কথা শুে সে আরো আঁতকে–আঁতকে ওঠে। জামাকাপড় ছাড়া বিষয়ে একটি নারীর সঙ্গে কতই বা তর্ক করা যায়।

    ওগুলো হাতে ধরিয়ে দিয়ে উজ্জয়িনী আমাকে প্রায় ঠেলেই ঢুকিয়ে দিল বাথরুমে।

    উজ্জয়িনীর মতন এমন দয়াবতী মহিলা আমি খুব কমই দেখেছি। মানুষকে যে কত সহজে আপন করে নিতে পারে। সে এত ভালো তার কারণ সে হাসির মাসি! তার এই নতুন পরিচয় জেনে আমার চোখে সে আরো সুন্দর হয়ে উঠল।

    চন্দনদাও মানুষ ভালোই, কিন্তু কথাবার্তা এমন সহজ বাংলায় বললেও প্ৰবন্ধ লেখার সময় ওরকম বিকট বিকট শব্দ ব্যবহার করেন কেন! আর যদি ঐ জিনিস তিনি লিখতেই চান, তা হলে একা একা নিজে পড়লেই পারেন!

    চন্দনদার পাঞ্জাবি–পাজামা আমার গায়ে মোটামুটি ফিট করে গেল। এখন আমার ভিজে জামা–প্যান্ট নিয়ে কী হবে? চন্দনদার এই পাজামা–পাঞ্জাবি কাচিয়ে আবার ফেরত দিতে আসতে হবে!

    এই বাথরুমে পাউডার, ক্রিম, চিরুনি ইত্যাদি সবই আছে। কিন্তু এসব ব্যবহার করা যায় না, এমনকি অন্যের চিরুনি ব্যবহার করতেও সাহস পেলুম না। আমার নিজের আপত্তি কিছু নেই, কিন্তু ওরা যদি কিছু মনে করে?

    আঙুল দিয়েই চুল আঁচড়ে বাইরে বেরিয়ে এলুম।

    এখন একেবারে ঘর–ভর্তি লোক। চন্দনদা, উজ্জয়িনী ছাড়াও একজন বয়স্কা মহিলা, নিশ্চয়ই ইনিই বড়দি, ফুটফুটে ফর্সা, হাসিখুশি মুখ, সাদা শাড়ি পরা, বিধবা সিঁথি। দুটি প্রায়–যুবক ও একটি কিশোরী। কিশোরীটি ডাকল, হাসিদি, হাসিদি!

    পাশের ঘর থেকে একটি ঝর্ণা ছুটে এলো। আমার রাজকুমারী।

    হ্যাঁ, রাজকুমারী হিসেবে ও আমার, অনিন্দিতা হিসেবে ও রাজা সরকারের।

    কী একটা অদ্ভুত পোশাক পরে আছে হাসি, ঠিক মনে হয় একটা ছাপ– ছাপ চাদরকে জামা বানিয়েছে, কাফ্ফান না কী বলে যেন একে। পোশাকটা যেন তার শরীরের চার পাশে উড়ছে।

    হাসি সেই গভীর বিস্ময় মাখা চোখে আমাকে দু’এক পলক দেখে জিজ্ঞেস করল, আপনি ইচ্ছে করে বৃষ্টি ভিজছিলেন? রাস্তায় খুব জল জমেছে বুঝি?

    এমনই আগ্রহ তার কথায় যেন রাস্তায় জল জমলে সে এক্ষুনি ছুটে দেখতে যাবে।

    আমি বললুম, তা নয়, একবার একটু ভিজে গেলুম তো, তাই ভাবলুম, তা হলে আর পুরো ভিজলেই বা ক্ষতি কী!

    উজ্জয়িনীর বড়দি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় থাক? তোমাকে তুমিই বলছি কিন্তু।

    —হ্যাঁ নিশ্চয়ই। না, আমি খুব কাছে থাকি না, ভবানীপুরের ভেতরে…হ্যাঁচ্চো!

    –তোমার খুব ঠাণ্ডা লেগেছে। একটু চা খাও। এই দ্যাখ না, চা–টা হলো কি না।

    চন্দনদা নিজের পাশের জায়গাটা চাপড়ে বলল, এসো নীলু, এখানে বসবে এসো।

    হাসি গিয়ে জানলার কাছে দাঁড়াল। জানলার একটা পাল্লা খুলতেই পাওয়া গেল ট্রেন চলার শব্দ। হাসি বাইরে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি অনুভব করল, তারপর ভিজে হাত ছোঁয়াল তার চোখে।

    আমি অসভ্যের মতন শুধু হাসির দিকে তাকিয়ে আছি কেন, ঘরে এত লোক থাকতে? চন্দনদার দিকে তাকাতেই চন্দনদা বলল, তোমার সঙ্গে একদিন রেডিও স্টেশনে যাব, তোমার তো চেনা আছে অনেকের সঙ্গে।

    —হ্যাঁ–হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।

    মণিমেলায় থাকার সময় একদিন দল বেঁধে দেখতে গিয়েছিলুম। ভিকটোরিয়া মেমোরিয়াল, ইডেন গার্ডেন, রেডিও স্টেশন ইত্যাদি, তারপর আমি আর কোনোদিন রেডিও স্টেশনের ভেতরে ঢুকিনি।

    কিন্তু চন্দনদারই জামা–পাজামা পরে আছি, এখন কি ওঁকে কোনো বিষয়ে প্রত্যাখ্যান করা যায়?

    চা এলো, মুড়ি আর ডিম–ভাজা তার সঙ্গে। সবাই এসে বসল কাছাকাছি।

    উজ্জয়িনী তার বড়দির সঙ্গে কোটা–কাঞ্জিভরম–বালুচরী ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিল। তারই মধ্যে একবার গলা তুলে জিজ্ঞেস করল, এই তুমি কাল দুপুরে ফ্রি আছ? একটু বেরুতে পারবে আমাদের সঙ্গে?

    আমি সঙ্গে সঙ্গে বললুম, না, কাল আমি কলকাতায় থাকছি না!

    উজ্জয়িনী হেসে বলল, তোমাকে জিজ্ঞেস করিনি। চন্দনকে বলছিলুম! তুমি আমাদের সঙ্গে দোকান করতে যাবে, তা কি আমরা আশা করতে পারি!

    ওর ভাইপো–ভাইঝিরা হেসে উঠল, একটি ছেলে বলল, উনি চন্দনদার পোশাক পরে আছেন, ইজিলি, চন্দনদার হয়ে প্রক্সি দিতে পারেন।

    চন্দনদা তার পিঠ চাপড়ে বলল, ঠিক বলেছিস। মেয়েদের সঙ্গে বাজারে যাবার নাম শুনলেই আমার জ্বর আসে! নীলু, তুমি প্লীজ আমার হয়ে এই উপকারটা করে দাও না!

    আমি উঠে দাঁড়িয়ে বললুম, আমি কালই কলকাতার বাইরে যাচ্ছি। চন্দনদা, আপনার এই জামা–কাপড় অন্য একজনের হাতে পাঠিয়ে দেব!

    চন্দনদা বলল, আরে বসো, বসো। এক্ষুনি পালাচ্ছ কেন? চা–টা খেলে না?

    উজ্জয়িনী বলল, দাঁড়াও, তোমার ভিজে জামা–প্যান্ট আমি একটা ব্যাগে ভরে দেব।

    হাসি বলল, আবার জোরে বৃষ্টি এসেছে। আবার আপনার জামা–টামা সব ভিজে যাবে। আপনি মুড়ি খাচ্ছেন না কেন?

    এরপর আমি ঘাড় নিচু করে মুড়ি খেতে লাগলুম। হাসি তার এক মাসতুতো ভাইকে জিজ্ঞেস করল, বকু, তোর মনে আছে আমরা যে ডায়ণ্ডহারবার গেলুম, নৌকোয় বলে ঝাল–মুড়ি খাওয়া হলো।

    সেই ছেলেটি বলল, বাবাঃ, তোমার সঙ্গে আমি আর কোনোদিন নৌকোয় চাপছি না। তুমি ইচ্ছে করে যা দোলাচ্ছিলে! যদি ডুবে যেত।

    কিশোরীটি বলল, ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি সাহসী হয়। আমার কিন্তু একটুও ভয় করেনি।

    সম্পূর্ণ একটি পারিবারিক দৃশ্য, এখানে আমি বাইরের লোক। ওরা যে বিষয়ে কথা বলছে, তাতে আমার রস পাওয়ার কথা নয়। এই আড্ডায় হাসিই মধ্যমণি, কয়েকদিন পরেই সে অন্য বাড়িতে চলে যাবে, তাই সে একটু বেশি খাতির পাচ্ছে।

    আমার মনের মধ্যে একটা অপরাধ বোধ জাগল। একটি নির্মল–হৃদয়া তরুণী নিজে পছন্দ করে এক সুদর্শন যুবাকে বিবাহ করতে যাচ্ছে, এর মধ্যে আমার কোনোরকম মাথা গলানো বা মেয়েটি সম্পর্কে একটা প্রেম–প্রেম ভাব পুষে রাখা খুবই অরুচিকর ব্যাপার। আমি এখানে বসে আছি কেন, আমার এক্ষুনি অদৃশ্য হয়ে যাওয়া উচিত। অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থনে আমি এটা নিশ্চয়ই যে–কোনো আদালতে বলতে পারি যে আমি তো ইচ্ছে করে হাসির সঙ্গে দেখা করতে আসিনি। আমি হাসিকে অনুসরণও করিনি একবারও। ঘটনা পরম্পরা আমাকে নিয়ে আসছে বারবার, তাতে আমি কী করব?

    যাই হোক, যথেষ্ট হয়েছে, এবারে কেটে পড়ো তো নীললোহিত! বিদায় রাজকুমারী!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }