Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প126 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঘটনার ঘনঘটা – ৬

    ৬

    দুপুরবেলা ঠিক খাওয়ার সময় জয়দেব এসে হাজির। আমার খাওয়া তখন মধ্যপথে, জয়দেব সরাসরি চলে এলো খাওয়ার ঘরে, আমার মাকে ঢিপ করে একটা প্রণাম করে ফেলে বলল, কেমন আছেন, মাসিমা!

    সেই দশাসই জোয়ানকে দেখে মা একেবারে হকচকিয়ে গেলেন। কলেজে পড়ার সময় জয়দেব দু’একবার মাত্র এসেছে আমাদের বাড়িতে, কিন্তু সেই জয়দেব আর এই জয়দেব তো এক নয়!

    আজ জয়দেব একটু অতিরিক্ত সাজগোজ করে এসেছে, হাতঘড়িটা সোনা–সোনা দেখতে, চোখে সানগ্লাস, গায়ে সিল্কের শার্ট। সে ঘরে ঢোকামাত্র তার গা থেকে ভুরভুর করে বেরুতে লাগল বিলিতি পারফিউমের গন্ধ।

    মা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি খেয়ে এসেছ? একটু কিছু খেয়ে নেবে?

    জয়দেব বলল, আমার লাঞ্চ খাওয়া হয়ে গেছে সেই কখন। নীলু এত দেরি করে খায় কেন?

    আমি বললুম, লাঞ্চ খেতে হয় ঠিক ঘড়ি দেখে, সাড়ে বারোটা থেকে দেড়টার মধ্যে। আর আমরা যারা ছুটির দিনে দুপুরের খাওয়া খাই, আড়াইটে তিনটের সময় খেলেও চলে!

    —ছুটির দিন? তুই কি কোথাও চাকরি পেয়েছিস নাকি? এই যে সেদিন বললি, কোথাও বাঁধা কাজ–টাজ করিস না?

    মায়ের সামনে এই রকম প্রশ্ন কেউ করে? মাথা–মোটা জয়দেবটার কোনোদিন কাণ্ডজ্ঞান হবে না!

    আমি গম্ভীর ভাবে বললুম, যেদিন আমি বাড়িতে থাকি, সেটাই আমার ছুটির দিন।

    আমার খাদ্যদ্রব্যের ওপর চোখ বুলিয়ে জয়দেব জিজ্ঞেস করল, এটা কি–চিংড়ি? প্লেটে করে একটু দিন তো মাসিমা, অনেকদিন খাইনি।

    বাটিতে যতটা ছিল সবটাই একটা প্লেটে ঢেলে, সঙ্গে একটা চামচ দিয়ে মা তুলে দিলেন জয়দেবের হাতে। বাড়ির অন্য কারুর আর খাওয়া হবে না।

    জয়দেব চোখের নিমেষে সবটা শেষ করে ফেলে বলল, অপূর্ব! অপূর্ব! এত ভালো স্বাদ, মাসিমা আপনার হাতের রান্না নিশ্চয়ই। জানেন তো, কাজের চাপে প্রত্যেকদিনই হোটেল–রেস্টুরেন্টে খেতে হয়, বাড়িতে খাওয়ার চান্সই পাই না। এই তো কালই গ্রান্ডে ডিনার খেতে হলো এক পার্টির সঙ্গে, ওরা পারবে এমন লাউচিংড়ি রাঁধতে?

    মা একই সঙ্গে লজ্জিত ও বিগলিত হয়ে বললেন, শুধু একটুখানি তরকারি খেলে, আর একদিন এসো, ভালো করে খাওয়াব।

    –আপনি তবু এই কথা বললেন, মাসিমা। গত শনিবার অজয়ের বাড়ি গিয়েছিলুম, অজয়ও আমাদের সঙ্গে পড়ত, নীলুর পাশেই বসত, এখন সরকারি অফিসার হয়েছে, এর মধ্যেই একটা গাড়ি কিনেছে। কিন্তু কী চালিয়াত! ওর সঙ্গে দু’ঘণ্টা ধরে কথা হলো, আমার জেনুইন খিদে পেয়েছিল, শুধু এক কাপ চা আর দু’খানা বিস্কুট ঠেকাল, আর কিছু না!

    আমার গলায় ভাত আটকে যাবার মতন অবস্থা। মায়ের সামনে কী সব উদাহরণ তুলে ধরছে এই জয়দেবটা। আমারই সহপাঠীদের মধ্যে কেউ এরই মধ্যে গাড়ি কিনেছে, কেউ গ্র্যান্ড হোটেলে ডিনার খায়…। এরপর মা আমার নাম করে যে কতবার দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন তার ঠিক নেই।

    এরকম ছেলেকে আর বেশিক্ষণ মায়ের সামনে বসিয়ে রাখা ঠিক নয়, আরো কত কী বলবে তার ঠিক নেই। তাড়াতাড়ি আঁচিয়ে এসে বললুম, চল জয়দেব, বেরুবি নাকি? আমাকে একটু কাজে যেতে হবে।

    —কোথায় যাবি?

    একবার যখন রেডিও স্টেশনের নামটা ব্যবহার করতে শুরু করেছি, তখন সারা মাস ধরে ওটাই চালাব। এরপর খুঁজে পেতে রেডিওতে একটা চেনা লোক বার করতেই হবে।

    —রেডিওতে একটা প্রোগ্রামের ব্যাপার আছে!

    –চল, আমিও যাব তোর সঙ্গে। আমি তোকে পৌঁছে দেব।

    বাড়ি থেকে বেরুবার পর জয়দেব আমাকে একটা সিগারেট দিল। মৌজ করে দু’টান দেবার পর সে একটু অন্যমনস্ক হয়ে বলল, রেডিও স্টেশনে তোকে ক’টার মধ্যে যেতে হবে? খুব তাড়াতাড়ি আছে?

    —না। চারটে–পাঁচটার মধ্যে গেলেই হবে। ইন ফ্যাকট, রেকডিং আজ হবে না। একটু অন্য কথাবার্তা বলার আছে, কাল গেলেও চলে।

    –তবে তো ঠিকই আছে। আজই তোকে আমি পাঁচটার মধ্যে পৌঁছে দিতে পারব।

    —তুই পৌঁছে দিতে যাবি কেন, আমি নিজে যেতে পারি না?

    —তার আগে দু’এক ঘণ্টা আমার সঙ্গে থাকবি, নীলু। একটু দরকার আছে রে?

    —আজ তুই তোর সব সাইট দেখতে যাসনি?

    জয়দেব কয়েক মুহূর্ত আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে রীতিমতন দুঃখ–দুঃখ গলায় বলল, অজয় আমার মনে একটা দাগা দিয়েছে!

    আমার ধারণা ছিল, মেয়েরাই শুধু ছেলেদের মনে দাগা দেয়। জয়দেবের সবই উল্টো? অজয় ওর মনের মতন কোনো মেয়েকে কেড়ে নিয়েছে? এর মধ্যে যেন একটা গল্পের গন্ধ পাচ্ছি!

    —কী ব্যাপার, খুলে বল তো জয়দেব!

    জয়দেব প্রথমে একটা লম্বা ভূমিকা করল। কলেজের বন্ধুদের অনেকেরই খোঁজখবর রাখি না আমি, কিন্তু জয়দেব অনেকের ঠিকানা খুঁজে বার করে দেখা করতে যায়। বিশেষত যারা জীবনে উন্নতি করেছে,’ কিংবা কোনো ব্যাবসা–প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত, কিংবা ঘুষের চাকরি করে। জয়দেব তাদের কাছে গিয়ে তার বাড়ি বানাবার কন্ট্রাকটারির গল্প শুরু করে। এতে কেউ কেউ নিজস্ব একখানা বাড়ি বানাবার জন্য প্রলুব্ধ হতে পারে, কেউ কেউ কোম্পানির বাড়ি বানাবার কন্ট্রাক্ট দিতে পারে। এ হচ্ছে জয়দেবের উদ্দেশ্য।

    শ্যামল কাজ করে রাইটার্স বিল্ডিংসে, রণেন পুলিশ অফিসার হয়েছে, কড়েয়া থানায় বসে, মলয় দুর্গাপুরের ইঞ্জিনিয়ার, প্রীতম খবরের কাগজের রিপোর্টার, অরুণাংশু অন্য দু’জনের সঙ্গে পার্টনারশিপে ব্যাবসা শুরু করেছে ইত্যাদি। এর মধ্যে প্রায় সবাই জয়দেবের বর্তমান চেহারা দেখে প্রথমে চিনতে পারে না। তারপর চিনলে ভালো ব্যবহার করে, দু’জন সত্যি সত্যি বাড়ি তৈরির কন্ট্রাক্টও দিয়েছে, আবার কেউ কেউ ওকে পাত্তাই দেয়নি।

    সবচেয়ে দুর্ব্যবহার করেছে অজয়। না, কোনো মেয়েঘটিত ব্যাপার নয়। জয়দেবের কাহিনী একেবারেই স্ত্রী–ভূমিকা বর্জিত।

    অজয় ডবলু. বি. সি. এস. অফিসার হয়েছে বলে তার নাকি খুব অহংকার। সে জয়দেবের পেশার কথা শুনে ঠাট্টা–ইয়ার্কি করেছে। নিজে সে একটা গাড়ি কিনেছে কিংবা শ্বশুরের কাছ থেকে পেয়েছে, তাই নিয়ে খুব চাল মারছিল।

    এমনকি দু’জনে একসঙ্গে বেরুবার পর জয়দেব জিজ্ঞেস করেছিল, তুই কোথায় যাবি! অজয় বলেছিল, তুই কোন দিকে? জয়দেবের যাবার কথা দেশপ্রিয় পার্ক, আর অজয় যাবে বালিগঞ্জ ফাঁড়িতে। এমনই চশমখোর অজয় যে সে তার কলেজের বন্ধুকে নিজের গাড়িতে দেশপ্রিয় পার্কে পৌঁছে দেবার প্রস্তাব জানাল না। আচ্ছা চলি, বলে জয়দেবের নাকের ওপর ধোঁয়া ছেড়ে চলে গেল?

    জয়দেব চোয়াল কঠিন করে বলল, আমি অজয়ের ওপর প্রতিশোধ নেব! আমি জিজ্ঞেস করলুম, তুই মারিব নাকি অজয়কে? তার জন্য তুই আমার কাছে সাহায্য চাইতে এসেছিস? তুই একলাই তো পাঁচজনকে মারার পক্ষে যথেষ্ট! জয়দেব বলল, আমি সহজে কারুর গায়ে হাত তুলি না। কলেজ–ফ্রেন্ডদের তো মারার প্রশ্নই ওঠে না। আমি আজই একটা গাড়ি কিনব। সেই গাড়ি নিয়ে অজয়ের নাকের ওপর ধোঁয়া ছেড়ে আসব!

    —গাড়ি কিনবি? আজই?

    —হ্যাঁ, এতদিন ইচ্ছে করলে কি আমি গাড়ি কিনতে পারতুম না? আমার কাজ বেশির ভাগ মফস্বল শহরে, তাই ট্রেনে ট্রেনেই ঘুরে বেড়াই, গাড়ির দরকার হয় না। এবারে গাড়ি কিনে গ্যারাজে ফেলে রাখব তা সই, তবু গাড়ি কিনতেই হবে! তুই চল আমার সঙ্গে!

    — গাড়ি কেনায় আমি কি সাহায্য করব রে, জয়দেব?

    –তুই শুধু আমার সঙ্গে থাকবি। শোন, আমি সেদিন দেখেছি, অজয়ের

    গাড়িটা নতুন নয়, ডব্লু এম এ নাম্বার, সেকেন্ড হ্যান্ড নির্ঘাৎ। থার্ড হ্যান্ড বা ফোর্থ হ্যান্ড হতে পারে। আমিও একটা সস্তার গাড়ি কিনব। গাড়ি একটা হলেই তো হলো! আমি খবরের কাগজের বিজ্ঞাপনের কাটিং নিয়ে এসেছি, সেই চার–পাঁচখানা গাড়ি দেখতে যাব। আমি গাড়ি সম্পর্কে কিছু কিছু বুঝি, অনেক ট্যাক্সি চেপেছি তো! তোর নিশ্চয়ই গাড়ি সম্পর্কে কোনো জ্ঞানই নেই?

    আমি সবেগে দু’দিকে মাথা নেড়ে বললুম, না! আমি ট্যাক্সি চাপার চান্সই পাই না।

    –তুই তবু বিজ্ঞের ভান করবি। একজনের বদলে দু’জন থাকলে কেসটা জোরাল হয়। তাতে দাম কমাবার সুবিধে।

    —একটা গাড়ির কত দাম হয় রে?

    —তা নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না!

    প্রথমে আমরা গেলাম হরিশ মুখার্জি রোডের একটা গ্যারাজে। সেখানে তিনখানা পুরোনো গাড়ি আছে বিক্রির জন্য। আমার তো মনে হলো তিনখানাই বেশ চমৎকার। বেশ চকচকে রং। তার মধ্যে সাদা রঙের গাড়িটা নিশ্চয়ই সবচেয়ে ভালো। আমি লক্ষ করেছি, বেশি বড়লোকেরা সাদা গাড়ি চড়ে।

    মুখ খুলতে যাচ্ছিলাম, মনে পড়ে গেল, জয়দেব আমাকে বিজ্ঞ সেজে থাকতে বলেছে।

    গ্যারাজের মালিকটির মুখে রুখু দাড়ি। গায়ে খাঁকি জামা, কিন্তু বেশ একটা ব্যক্তিত্বের ভাব আছে।

    ভুরু নাচিয়ে সে জয়দেবকে জিজ্ঞেস করল, কত রেইঞ্জের মধ্যে চাইছেন? জয়দীপ বলল, ভালো গাড়ি দেখান, টাকার কোশ্চেন তো পরে! লোকটি একটা কচি–কলাপাতা রঙের গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে বলল, এটা নিয়ে যান, এ–গাড়ির মাইলেজ ভালো পাবেন। ইঞ্জিন কন্ডিশন ফাইন।

    জয়দেব অবহেলার সঙ্গে সেই গাড়ির বনেটে একটা চাপড় মেরে বলল, এ তো অ্যাকসিডেন্টের গাড়ি, দেখেই বোঝা যাচ্ছে। কবার অ্যাকসিডেণ্ট করেছে? খাকি জামা একটু থতমত খেয়ে বলল, হ্যাঁ, মানে অ্যাকসিডেন্ট করেছে একবার, ঐ একবারই, তবে ইঞ্জিন ড্যামেজ হয়নি!

    –ক’জন মারা গেল?

    —কী বলছেন মশাই, কেউ মারা যায়নি। তবে ড্রাইভারের একটু চোট লেগেছিল!

    —এ রকম অপয়া গাড়ি আমি নিতে চাই না।

    —দাম কিন্তু সস্তার ওপরে আছে।

    —কত?

    আমি একটা নতুন জিনিস শিখলাম। সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কিনতে হলে প্রথমেই বনেটে চাপড় মেরে বলতে হয়, এটা অ্যাকসিডেন্টের গাড়ি!

    গাড়িটা দেখে কিচ্ছু বোঝা যাচ্ছে না, তবু জয়দেব কী করে বলল? আর লোকটাও মেনে নিল সঙ্গে সঙ্গে?

    দু’খানা গাড়ি নিয়ে কিছুক্ষণ দরাদরি করার পর জয়দেব বলল, নাঃ, পোষাচ্ছে না। আমরা আরো অন্য দু’একটা দেখে আসি, দরকার হলে আপনার কাছে ফিরে আসব।

    বাইরে বেরিয়ে আমি জিজ্ঞেস করলুম, তুই সাদা গাড়িটাকে একেবারে পাত্তাই দিলি না কেন রে? দামও জিজ্ঞেস করলি না?

    —ওটার নম্বার প্লেট লক্ষ করিসনি? মডেলটা বেশি পুরোনো নয়, দাম হাঁকত অনেক!

    গাড়ির নাম্বার প্লেট দেখে যে তার মডেল বোঝা যায়, তাই–ই বা আমি জানব কী করে? শুধু অ্যাম্বাসেডর গাড়িরই তো কত রকম নাম্বার দেখি, তারও আবার বিভিন্ন রকম মডেল হয় নাকি?

    এরপর যাওয়া হলো, প্রতাপাদিত্য রোডের একটা গ্যারাজে। এখানে বিক্রির গাড়ি আছে একখানাই

    জয়দেব প্রথমেই নাম্বার প্লেট দেখল। তারপর সে মুখ খোলার আগেই আমি বনেটের গায়ে চাপড় মেরেই উঃ বলে চেঁচিয়ে উঠতে যাচ্ছিলুম। চাপড়টা বেশ জোরেই হয়ে গেছে, আমার হাত জ্বালা করছে। কী রকম ভাবে চাপড় মারতে হয়, সেটাও দেখা দরকার।

    যাই হোক, অতি কষ্টে উঃ দমন করে বললুম, এটা তো অ্যাকসিডেন্টের গাড়ি, দেখেই বোঝা যাচ্ছে!

    এই গ্যারাজের মালিকের চেহারা নিরীহ, চোখে চশমা, সেই চশমার ফাঁক দিয়ে আমার দিকে একখানা শেল দৃষ্টি হেনে সে বলল, কলকাতা শহরে এমন একখানাও গাড়ি বার করুন তো, যেটা কোনো–না–কোনো অ্যাকসিডেন্ট করেনি? সে রকম একখানা বার করতে পারবেন?

    বাবাঃ, এ যে গৌতম বুদ্ধের মতন প্রশ্ন। এমন একখানা বাড়ি থেকে এক দানা শর্ষে এনে দিতে হবে, যে বাড়িতে কখনো কোনো শোকের কারণ ঘটেনি। কলকাতার বাড়ির মতন গাড়িরও সেই অবস্থা!

    জয়দেব বলল, এ গাড়ির কন্ডিশনটা এমনিতে ভালোই মনে হচ্ছে। কী রকম তেল খায়?

    লোকটি পাল্টা প্রশ্ন করল, কী করে বুঝলেন কন্ডিশন ভালো? বাইরেটা দেখে গাড়ির কিছু বোঝা যায়? এই জন্যই তো অধিকাংশ লোক ঠকে।

    এ লোকটি সত্যি অন্য টাইপের। এর কাছে মুখ খুলে লাভ নেই। আমি জয়দেবের আড়ালে গিয়ে দাঁড়ালুম। আমার কেন যেন ধারণা হলো, এই লোকটা আমাকে অপমান করার জন্য বদ্ধপরিকর। যা যায় জয়দেবের ওপর দিয়ে যাক! লোকটি চিবোনো গলায় জয়দেবকে প্রশ্ন করল, আপনি সত্যি সত্যি গাড়ি কিনবেন?

    জয়দেব ধমকের সুরে উত্তর দিল, সত্যি নাকি মিথ্যে মিথ্যে আমরা আপনার কাছে ট্যাক্সি চেপে এসেছি?

    –আজই কিনবেন?

    — আজই!

    —ক্যাশ ডাউন?

    —ক্যাশ ডাউন! গাড়ি পছন্দ হলে এখান থেকেই ডেলিভারি নিয়ে যাব। লোকটি বলল, শুনুন তা হলে। এমনি এমনি দেখে গাড়ি চেনা যায় না। গাড়ি চালিয়ে দেখতে হয়। রানিং গাড়ির সাউন্ড শুনতে হয়, পিক আপ দেখতে হয়। ক্লাচ, গীয়ার, অ্যাকসিলারেটর…গাড়ি কি দর্শনধারী জিনিস, গাড়ি হচ্ছে চালাবার জিনিস!

    জয়দেব গম্ভীরভাবে বলল, তা হলে চালিয়ে দ্যাখান একটু?

    —এই গ্যারাজের মধ্যে কী বুঝবেন? গাড়িতে পাঁচ লিটার তেল ঢালুন। তারপর কলকাতার রাস্তায় এক–দেড় ঘণ্টা ঘুরে আসুন। তারপর অন্য কথা হবে।

    –দর কত পড়বে, সেটা আগে বলবেন না?

    —আমি অনেয্য দাম নিই না। গাড়ির কিছু দোষ থাকলে নিজে বলে দেব, যেমন আগেই বলে রাখছি, দু’খানা চাকা আপনাকে নতুন কিনতে হবে। যান ঘুরে আসুন।

    —কে চালাবে? আমি অবশ্য চালাতে জানি, কিন্তু, মানে—

    —আমার একজন ড্রাইভার সঙ্গে দিচ্ছি। কিন্তু আপনাকে দু’হাজার টাকা জমা রাখতে হবে। আমি রসিদ দিচ্ছি, গাড়ি ফেরত আসার পর, আপনি এ–গাড়ি কিনুন বা না কিনুন, দরে পোষাক বা না পোষাক, ও–টাকা আপনি ফেরত পাবেন, এক পয়সা কাটব না!

    এই চশমাধারীর ব্যক্তিত্বের কাছে জয়দেবও হার মেনে গেল। মুখে আর কোনো কথা জোগাল না। আমারও মনে হলো, লোকটি মন্দ বলেনি, আগে কিছুক্ষণ গাড়ি চড়ে ঘুরে তো আসা যাক! এমনকি….

    দু’ হাজার টাকা জমা রেখে, রসিদ নিয়ে বেরিয়ে পড়া গেল। ড্রাইভারটি একটি রোগা–পাতলা আঠেরো–উনিশ বছরের ছেলে, গায়ে শুধু একটা ময়লা গেঞ্জি। মনে হয় সে ড্রাইভার নয়, মেকানিক।

    খানিক দূর যাবার পরই স্টিয়ারিং–এর তলায় ডান্ডাটায় একটা মড়মড় শব্দ হলো।

    জয়দেব বলল, ওকি ওকি?

    ছেলেটি বলল, গীয়ারে একটু সাউন্ড আছে, স্যার। কিছু কাজ করাতে হবে, সে খরচটা আপনি দাম থেকে বাদ দেবেন।

    –কত খরচা পড়বে গীয়ারের কাজ করাতে?

    –বড় জোর শ’ দুয়েক।

    —আর কিসে কিসে গণ্ডগোল আছে বলো তো ভাই। তোমাকে আমি একশো টাকা দেবো।

    —আর সে রকম কিছু গণ্ডগোল নেই স্যার।

    —গাড়িটা এত দুলছে কেন?

    —স্প্রিং একটু অ্যাডজাস্ট করতে হবে, স্যার।

    আর শক অ্যাবজরভার বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমারও কিছু জিজ্ঞেস করা উচিত। তাই আমি ভারিক্কি ভাবে বললুম, এ গাড়ির পেছন দিয়ে ধোঁয়া বেরোয় তো?

    ছেলেটি অবাক ভাবে মুখ ঘুরিয়ে বলল, না স্যার! ধোঁয়া বেরুবে কেন? মোবিল খায় না। ইঞ্জিন কন্ডিশন বেশ ভালো আছে।

    আমি একটু হতাশ ভাবে তাকালুম জয়দেবের দিকে। গাড়ি থেকে যদি ধোঁয়াই না বেরোয়, তা হলে অজয়ের নাকের ওপর ধোঁয়া ছাড়া হবে কী করে?

    জয়দেব ফিসফিস করে বলল, ইচ্ছে করলে ইঞ্জিন ভালো থাকলেও ধোঁয়া ছাড়া যায়!

    গাড়ি ছুটছে ময়দানের দিকে। একটু বেশি লাফাচ্ছে এই যা, আর তেমন দোষ পাওয়া যাচ্ছে না। কলকাতার রাস্তায় সব গাড়িই লাফিয়ে লাফিয়ে চলে।

    আমি জয়দেবকে জিজ্ঞেস করলুম, অজয় আজকাল কোন পাড়ায় থাকে রে?

    জয়দেব ঠিক আমার মনে কথা বুঝেছে। আজ শনিবার, অজয়ের এখন বাড়ি থাকার সম্ভাবনা আছে। অজয়ের নাকের ওপর ধোঁয়া ছাড়াই যদি উদ্দেশ্য হয়, তা হলে আর গাড়িটা কেনার দরকার কী? আজই তো সেই কাজ সেরে ফেলা যায়। আমি অজয়কে ডেকে ভুলিয়ে ভালিয়ে গাড়িটার পেছনে এনে দাঁড় করাবো, জয়দেব ধোঁয়া ছেড়ে দেবে।

    জয়দেব আমার দিকে চোখ টিপে বলল, আমিও ঠিক এইকথাই ভাবছিলুম, তোতে আমাতে খুব মনের মিল রে, নীলু!

    ড্রাইভারের কাঁধে টোকা মেরে সে বলল, এই যে ভাই, একটু বেকবাগানের দিকে চলো তো!

    ছেলেটি অবাক হয়ে বলল, স্যার, ময়দানের মধ্যেই তো ভালো টেস্টিং হবে।

    –না, আমি ভিড়ের রাস্তায় চালিয়ে দেখতে চাই। চলো বেকবাগান

    ময়দান ছেড়ে গাড়িটা থিয়েটার রোডে ঢুকল। তারপর আর বেশি দূর এগোতে পারল না। ধক্ ধক্ ধক্ ধক্ করতে লাগল, তারপর খ–র–র–র খ–র–র–র, তারপর একেবার চুপ।

    জয়দেব জিজ্ঞেস করল, এটা কী ব্যাপার হলো?

    ছেলেটি বলল, মনে হচ্ছে, কারবুরেটারে ময়লা এসে গেছে, এক্ষুনি ঠিক হয়ে যাবে!

    জিজ্ঞেস করলুম, কারবুরেটার জিনিসটা কোথায় থাকে।

    সে হাত দিয়ে বনেটটা দেখিয়ে দিল।

    আমি বললুম, ও জায়গাটা তো দিব্যি ঢাকা রয়েছে, ওখানে ধুলো–ময়লা আসবে কী করে?

    ছেলেটি নেমে গিয়ে বনেটটা খুলল। কী সব নাড়াচাড়া করতে লাগল। ফিরে এসে আবার স্টার্ট দেবার চেষ্টা করল, গাড়ি আর কোনো শব্দই করল না।

    ছেলেটি জয়দেবের দিকে তাকিয়ে অভিযোগের সুরে বলল, কেন এ রাস্তায় ঢুকতে বললেন? এ–গাড়ি ময়দানেই ভালো চলে।

    জয়দেব আঁতকে উঠে বলল, তার মানে? গাড়ি কিনে আমি কি সারাজীবন ময়দানেই ঘুরব নাকি! বাড়ি যেতে পারব না!

    –তেল ওভার ফ্লো করছে স্যার! একটু ঠেললে ঠিক হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। দু’হাত ঠেলে দিন না!

    ছেলেটি ঠেলবে না। তাকে স্টিয়ারিং হুইলে বসে স্টার্ট নেবার চেষ্টা করতে হবে। ঠেলতে হবে জয়দেবকে আর আমাকে।

    অগত্যা নেমে হাত লাগাতে হলো। এ–গাড়িখানা যেন অতিরিক্ত ভারী। পাঁচ মিনিটেই গলদ্ঘর্ম অবস্থা। জয়দেবের গায়ে অনেক জোর, তা ছাড়া, এ–গাড়ির জন্য সে এর মধ্যেই দু’হাজার টাকা জমা দিয়ে এসেছে, তার উদ্যম বেশি হতেই পারে, কিন্তু আমি অতটা পারব কেন?

    জয়দেব বলল, তোকে খামোকা খাটাচ্ছি, নীলু! ঠিক আছে, রাত্তিরে তোকে জিমিস কিচেনে খাওয়াব।

    তারপর সে হেঁকে বলল, কই হে! আর কত ঠেলতে হবে?

    –আর একটুখানি, স্যার!

    ক্যামাক স্ট্রিটের মোড় পার হয়ে গেলুম, তবু গাড়ির পুনর্জীবনের লক্ষণ নেই।

    জয়দেব বলল, আমার প্রেস্টিজ কী রকম পাংকচার করে দিল, বল তো নীলু! হয়তো আমার কত ক্লায়েন্ট আমাকে গাড়ি ঠেলতে দেখে ফেলছে।

    আমি বললুম, হয়তো তারা ভাববে, গাড়িটা আমার, তোকে আমি ঠেলার জন্য ভাড়া করেছি!

    -তার মানে! কী করে লোকে তোকে গাড়ির মালিক ভাববে?

    –আমার কপালে ঘাম জমে গেছে। তুই একটুও হাঁপাসনি। গাড়ির মালিকদের কি এতখানি গাড়ি ঠেলার অভ্যেস থাকে?

    জয়দেব রেগে গিয়ে বলল, এটা একটা পচা, লঝঝড়ে গাড়ি। এটার ইঞ্জিন বলতে কিছুই নেই। এ–গাড়ি কেনার চেয়ে গলায় কলসি বেঁধে ডুবে মরা অনেক ভালো।

    – আমার ধারণা কি জানিস, এ–গাড়িটার দাম দু’হাজারের থেকেও কম। কিংবা কারুকে বিনা পয়সায় দিতে চাইলেও এ–গাড়ি নেবে না। তোর ঐ টাকাটাই গেল!

    —আমার টাকা যাবে! ঐ চশমা–পরা বুড়োটা তা হলে এখনো জয়দেব সাহাকে চেনেনি। গলায় গামছা দিয়ে টাকা আদায় করব!

    -তা হলে আর ঠেলে লাভ কী?

    জয়দেব ঠেলা থামিয়ে ড্রাইভারের কাছে গিয়ে বলল, তুমি কী ভেবেছ, বলো তো হে? এ–গাড়ি আর স্টার্ট নেবে কোনো দিন?

    —বোধহয় তেল ফুরিয়ে গেছে।

    —এই বললে তেল ওভার ফ্লো করছে, এখন বলছ তেল ফুরিয়ে গেছে?

    —কী করব স্যার, আপনি কেন এই রাস্তায় ঢুকতে বললেন!

    —চোপ! কেন, এ–রাস্তায় আর অন্য গাড়ি চলছে না?

    -বললুম তো, এ–গাড়ি ময়দানে ভালো চলে। আর পাঁচ মিনিট ঠেলুন, তাতে গাড়ি গরম হয়ে যাবে।

    —ঠিক পাঁচ মিনিট!

    কলামন্দিরও ছাড়িয়ে প্রায় সার্কুলার রোডের মুখটায় এসে আমি বললুম, ওরে জয়দেব এবারে আমি অজ্ঞান হয়ে যাব!

    —ঠিক বলেছিস! পাঁচ মিনিটের জায়গায় পনেরো মিনিট হয়ে গেছে। আমি একটা অন্যকথা ভাবছিলুম!

    – অন্য কথা ভাবতে ভাবতে তোর গাড়ি ঠেলতে কষ্ট হয় না, কিন্তু আমার যে বুকে হাঁপ ধরে গেল!

    –এবারে লোক ডেকে ঠেলাতে হবে।

    –তা হলে আর এদিকে গিয়ে কী লাভ? তুই এই অবস্থায় গাড়িটা অজয়ের বাড়ির সামনে নিয়ে যেতে চাস?

    — মাথা খারাপ! এ–গাড়ি গ্যারাজে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে আগে আমার দু’হাজার টাকা আদায় করতে হবে।

    —দেবে টাকাটা?

    —দেবে না মানে? ওর বাপ দেবে! চোদ্দ পুরুষ দেবে! জয়দেব সাহার টাকা মারতে পারে এমন কোনো বাপের ব্যাটা নেই!

    দুমদাম করে এগিয়ে গিয়ে সে ড্রাইভারের দিকে দরজা খুলে চোখ পাকিয়ে বলল, নাম, তুই এবারে নেমে গাড়ি ঠ্যাল, ব্যাটা শয়তানের সাগরেদ! আমায় এখনও চিনিসনি?

    ছেলেটি বিনা আপত্তিতে নেমে। দাঁড়িয়ে বলল, আমি একলা পারব না, স্যার! আরও লোক জোগাড় করতে হবে।

    —জোগাড় কর!

    জয়দেব নিজে স্টিয়ারিং হুইল ধরে বসল। যে–গাড়ি অন্য লোক ঠেলবে, সে– গাড়ি চালানোয় বোধহয় খুব একটা কৃতিত্ব লাগে না।

    আমি জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বললুম, তা হলে আমি এখন কী করব, জয়দেব? তোর সঙ্গে যাব?

    আমাকে গাড়ির মধ্যে বসাবে, না ঠেলাওয়ালাদের দলে ফেলবে, সে বিষয়ে মনঃস্থির করতে না পেরে সে বলল, নাঃ তুই আর গিয়ে কী করবি? তোর অনেক পরিশ্রম গেছে, এবারে বিশ্রাম নে। তুই ট্রামে করে ফিরে যা। তোর কাছে ট্রাম ভাড়া আছে।

    -আছে। টাকাটা উদ্ধার করতে পারলি কিনা পরে একদিন খবর দিস!

    কলকাতা শহরে গাড়ি–ঠেলার লোকের অভাব হয় না। দেখতে দেখতে গোটা তিনেক নেংটি–নেংটি ছেলে জুটে গেল, তারা হৈ–হৈ করে গাড়িটা ঠেলে নিয়ে চলল, একটু বাদে বাঁক ঘুরে গেল।

    আমি দাঁড়িয়ে রইলুম রাস্তার মোড়ে। সন্ধে হয়ে এসেছে। এতখানি পরিশ্রমের ঘামে ভিজে গেছে জামা। চায়ের তেষ্টায় গলা শুকিয়ে গেছে, কিন্তু এ–পাড়ায় সব দামী–দামী দোকান, পাশাপাশি দু’তিনটে বার, এখানে আমার চা খাওয়ার আশা নেই।

    একটু জিরিয়ে নেবার জন্য একটা সিগারেট ধরালুম। এ–পাড়ায় আমার খুব কমই আসা হয়। পেট্রোল পাম্পটার ওপাশে ঐ বড় বাড়িটার নাম হিরনানি ম্যানসান না? খবরের কাগজে ঐ বাড়িটার নাম প্রায়ই দেখি!

    একটু পরেই রাস্তার ওপারের একটা গোলমালের প্রতি আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট হলো।

    পেট্রোল পাম্পটার কাছে একটা ট্যাক্সি এসে থেমেছে, তার থেকে দু’জন যাত্রী নেমে ড্রাইভারের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে দিয়েছে। লোক দুটির কণ্ঠস্বর জড়ানো, শনিবারের সন্ধেবেলায় মাতালের কারবার। গাড়ি মধ্যে আরো দু’জন বসে আছে, তাদের একজনের মাথা এলানো, মনে হয় অসুস্থ।

    ঝগড়াটা একটু বাদেই থেমে গেল, অন্য লোক দুটিও নেমে পড়ল গাড়ি থেকে। তাদের একজনকে আর দু’জন দু’ কাঁধ ধরে ধরে নিয়ে চলল।

    এটা এমন কিছু একটা দেখার মতন দৃশ্য নয়। আমি মুখটা ফিরিয়ে নিতে গিয়েও মাথার মধ্যে যেন একটা হোঁচট খেলুম। একেবারে আউট হয়ে যাওয়া লোকটা কে? চেনা চেনা লাগছে।

    দ্রুত রাস্তা পার হয়ে সেই দঙ্গলটার পাশে এসে পড়তে সময় লাগল না একটুও। বুকটা কেঁপে উঠল। অসুস্থ লোকটি রাজা সরকার! তার সঙ্গীরা প্রত্যেকে প্রচণ্ড মাতাল!

    জয়দেবের যদি গাড়ি কেনার হুজুগ না হতো, সেই গাড়ি যদি ময়দান ছেড়ে থিয়েটার রোডে না ঢুকত, এবং এতক্ষণ ধরে আমাদের ঠেলতে না হতো, তা হলে আজ সন্ধেবেলা এই মুহূর্তে এই জায়গাটায় আমার উপস্থিত থাকার কোনো প্রশ্নই ছিল না। তা হলে রাজা সরকারকেও আমি এমন অবস্থায় দেখতে পেতাম না।

    ভালো চাকরি যারা করে, তারা টাই পরে অফিস যায়, তারা সাহেব। ধুতি–পাঞ্জাবি পরা অফিসার, কোনো–কোনো সংরক্ষিত প্রাণীর মতন, একেবারে অবলুপ্তির পথে। সাহেব–সাজা অফিসারদের সাহেবী কায়দায় মাঝে–মাঝে মদ খেতেই হয়। দু’একদিন মাতাল হয়ে যাওয়াও দোষের কিছু নয়। শরৎচন্দ্রই তো বলেছেন, যে মদ খায় অথচ কক্ষনো মাতাল হয় না, সে ‘অতি সাঙ্ঘাতিক মানুষ।

    কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েকদিন আগে, সন্ধেবেলাতেই এরকম বেসামাল অবস্থা? সঙ্গের লোকগুলো কেউই রাজা সরকারের মতন একেবারে চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেনি। হয়তো রাজা সরকারের দোষ নেই, ঐ লোকগুলো জোর করে ওকে বেশি খাইয়ে দিয়েছে। এখন ট্যাক্সি থেকে নামিয়ে ওরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে রাজাকে?

    এই দৃশ্য উপেক্ষা করে আমার পক্ষে চলে যাওয়া অসম্ভব।

    আমি ওদের পাশাপাশি হাঁটতে লাগলুম। যেমন রাস্তা দিয়ে অনেক লোক যাচ্ছে। অন্য তিনজন লোককে আমি কস্মিনকালেও দেখিনি, তবে সাজ–পোশাকে বেশ অর্থবান বলে মনে হয়।

    রাজা সম্পূর্ণ চৈতন্য হারায়নি। তার পায়ে জোর নেই বটে কিন্তু মাঝে মাঝে তার সঙ্গীদের সঙ্গে অর্ধস্ফুটভাবে কী যেন বলছে। একবার হেসেও উঠল! সুতরাং এই লোকগুলো রাজাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে না! বদ্ধ মাতালদেরও কয়েকটা ব্যাপারে টনটনে জ্ঞান থাকে।

    পেট্রোল পাম্পটা পার হয়ে ওরা এগলো হিরনানি ম্যানস্যানের দিকে। হয়তো লোকগুলোর কেউ একজন থাকে সেখানে। এটা ঠিক, রাজার এখন কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া দরকার। এই অবস্থায় বাড়ি ফেরাও তো অনুচিত। রিটায়ার্ড আই. এ. এস. অফিসার কি ছেলের এই দশা থেকে খুশি হবেন! হাসির বড় মাসির বাড়িও খুব কাছে। বিয়ের আগেই দু’ বাড়িতে যথেষ্ট যাতায়াত আছে, হাসিদের বাড়ির কেউ এখন রাজাদের বাড়িতে বসে থাকতে পারে।

    ওরা হিরনানি ম্যানসনের গেট দিয়ে ঢুকে লিফটের কাছ দাঁড়াল।

    হঠাৎ আমার মনে পড়ল, বিহারের একজন এম. পি. এই কাছাকাছি একটা বাড়িতে ধরা পড়েছিল না কিছুদিন আগে? তাই নিয়ে খবরের কাগজে কত তোলপাড়! রীতিমতন কেলেংকারি! রাজার পক্ষে এখন এইসব জায়গার সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকাই ভালো নয়?

    কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। রাজার বন্ধুরা কেউ আমাকে চেনে না। এই অবস্থায় রাজাও আমাকে চিনতে পারবে কি না খুব সন্দেহ আছে। আমি কিছু বলতে গেলেই বা ওরা পাত্তা দেবে কেন?

    লিফট নামতেই ওরা একে একে ঢুকল। তারপর দরজা বন্ধ হবার আগেই আমি বিদ্যুতের মতন ছুটে গেলাম তার মধ্যে। কোনো লিফটম্যান নেই। লিফটের গায়ে নানা রকম নোটিশ সাঁটা। আমি মুখ ফিরিয়ে পড়তে লাগলুম সেগুলো। ওরা নামল থার্ড ফ্লোরে, আমি উঠে গেলুম চারতলায়। সঙ্গে সঙ্গে আবার নেমে এসে দেখি, ওরা ফ্ল্যাট নাম্বার থ্রি–এ’র সামনে দাঁড়িয়ে। আমাকে নিচে নেমে যেতে হলো।

    অসম্ভব একটা উত্তেজনা হচ্ছে শরীরে। গোয়েন্দাগিরি করার তো অভ্যেস নেই। এরপর কী করতে হয়?

    লেটার বক্স! ফ্ল্যাট নম্বর থ্রি–এ’ তে কে থাকে?

    এ–বাড়িতে অসংখ্য লেটার বক্স, দেয়ালে ঝুল কালি মাখা। এত বড় বাড়ির যেন কোনো মা–বাপ নেই। কোনো বাক্সের ওপরটা ভাঙা।

    অনেক খুঁজে থ্রি–এ পাওয়া গেল, তার ওপরে কোনো ব্যক্তির নাম লেখা নেই, একটা কোম্পানির নাম লেখা। ফ্রি এন্টারপ্রাইজ! শনিবার সন্ধের পর ফ্রি এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে রাজা সরকারের কী কাজ থাকতে পারে?

    কোনো দারোয়ান শ্রেণীর লোক থাকলেও তার সঙ্গে কিছু কথাবার্তা বলা যেত। কেউ নেই। এ বাড়ি যেন একটা হাট। লোকজন আসছে–যাচ্ছে, কেউ–কেউ লিফটের দরজাটা এমন জোরে টানছে যেন ওটা ভাঙতে পারলেই তার আনন্দ।

    এখন ফিরে যাব? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুরো একটা সিগারেট শেষ করেও কোনো বুদ্ধি এলো না। এ–পাড়ায় আমার চেনা একজনও নেই যে তার কাছে বুদ্ধি নিতে যাব।

    একমাত্র একটা কাজ করা যায়। ফ্রি এন্টারপ্রাইজ ব্যাপারটা কী সেটা অন্তত জেনে নেওয়া যাক। কোম্পানির নাম লিখে রেখেছে যখন, তখন যে–কেউ গিয়ে খোঁজ–খবর নিতে পারে।

    আবার লিফটে চেপে আমি তিনতলায় নেমে থ্রি–এ’র সামনে দাঁড়ালুম। ভেতরে জোর কথাবার্তা চলছে। পাঁচ লাখ টাকা…হুইস্কি…কনসাইনমেণ্ট…নাইলন টায়ার…বরফ নেই, বরফ? …এই শেফালী, এদিকে এসো…আমরা গাড়ি দেব… হ্যাঁ… লন্ডনে …আর একটু নাও…

    এইসব টুকরো–টুকরো কথা ভেসে আসছে। অন্য একটা ফ্ল্যাটে কে যেন চেঁচিয়ে গান গাইছে…করিডোর দিয়ে হেঁটে আসছে দু’জন লোক, লিফটের সামনে দাঁড়াল, আমার দিকে একবার দেখল…। এভাবে একটা বন্ধ দরজার সামনে আমার দাঁড়িয়ে থাকা চলে না।

    সাহস করে আমি দরজায় দু’বার ঠক–ঠক করলুম।

    লোক দুটি লিফটে নেমে গেল। এই ফ্ল্যাটের দরজাটা খুলে গেল সঙ্গে সঙ্গে। শালোয়ার কামিজ পরা একটি যুবতী, বুকের সামনেটা অনেকটা খোলা, চোখদুটো চকচকে, ঠোঁট ভিজে–ভিজে, মাথার চুলে ফুল গোঁজা, হিন্দী সিনেমার নায়িকার মতন…

    মেয়েটি আমাকে দেখে খানিকটা অবাক ও বিরক্ত হয়ে বলল, ও, আমি ভাবলুম বরফ এনেছে বুঝি! তোমাকে কে পাঠিয়েছে?

    আমি নিরুত্তর।

    —কে? কী চাই তোমার?

    আমি ভেতরের দৃশ্যটা যেন গিলছি। কার্পেট–পাতা মেঝেতে গোল হয়ে বসেছে সেই লোকগুলো, মাঝখানে বোতল, কলের জল…রাজা বসে আছে দেয়ালে ঠেস দিয়ে, তার হাতে ভর্তি গেলাস, যে–মেয়েটি দরজা খুলেছে, সে ছাড়াও ঐ রকমই সাজে আরো দুটি মেয়ে বসে আছে সেখানে। এই তা হলে ফ্রি এন্টারপ্রাইজ?

    আমি কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছি না দেখে দরজার মেয়েটি রেগে গিয়ে বলল, এখন এখানে কিছু হবে না, হবে না, যাও!

    ঝপাস করে সে দরজা বন্ধ করে দিল আমার মুখের ওপর।

    ঐ রকম ভাবে দরজা বন্ধ করে দিয়েই সে বাঁচিয়ে দিল আমাকে। আর কয়েকটা মুহূর্ত দেরি হলেই আমি ধরা পড়ে যেতাম।

    বন্ধ দরজার থেকে মুখ ফেরাতেই দেখলুম, লিফট এসে থেমেছে। তার থেকে নেমে আসছে চারজন সশস্ত্র পুলিশ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }