Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    अनीश दास এক পাতা গল্প144 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আগুন-বাবা – খসরু চৌধুরী

    আগুন-বাবা

    মেচি নদীর বেশ খানিকটা দক্ষিণ থেকে শুরু হয়েছে নেপাল তরাইয়ের আদিম বন। দুর্ভেদ্য এই বন উত্তর আর দক্ষিণে অনেক মাইল এগোবার পর হঠাৎ করেই শেষ হয়েছে কুসি নদীর প্রান্তে। এখানকার মত বিচিত্র জাতের বড় বড় শিকার ভারতের আর কোনও বনেই নেই।

    পথের মাঝে রাত নেমে আসায় আমি একবার এখানে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছিলাম গাছের ডালে বসে। সান্ত্বনা বলতে সঙ্গে ছিল অনভিজ্ঞ এক বাচাল শিকারী চৌকিদার আর প্রচুর পরিমাণে ধূমপানের ব্যবস্থা। মাংসাশী প্রাণীর আওতার বাইরে থাকলেও আমরা ছিলাম ক্ষুধার্ত মশার পুরো আওতায়। ধূমপান, চড়, গালাগালি এসব অস্ত্র তাদের বিপক্ষে কোনও কাজেই লাগল না। ফলে তাদের কামড়ে হাতে-মুখে জ্বালা ধরে গেল কিছুক্ষণের মধ্যেই, পাশাপাশি চৌকিদার বকর বকর করে শোনাল ম্যালেরিয়ায় ভয়াবহ মৃত্যুর পূর্বাভাস।

    আমার চেহারা কেমন হলো তা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে প্রথম ঊষার আলোয় চৌকিদারের ফুলে ঢোল হয়ে যাওয়া মুখ দেখে তার কিছুটা আন্দাজ পেলাম। মনে মনে নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিলাম যে আমার চেহারা বদলে গেলেও নিশ্চয়ই চৌকিদারের মত অতটা বদলে যায়নি, তারপর অপেক্ষায় রইলাম সকালের। আলো পুরোপুরি ফোটার পর এত বিচিত্র প্রজাতির প্রাণীর আনাগোনা দেখলাম যে মশার কামড়ের জ্বলুনির কথা আর মনে রইল না।

    চতুষ্পদ কোনও প্রাণীই বাদ গেল না বোধহয়। এল তারা একাকী, এল জোড় বেঁধে, এল দলে দলে। সব শেষে এল শুয়োর, হরিণ, খরগোশ আর সজারুর মত ছোট ছোট সব শিকার।

    ‘এমন দৃশ্য জীবনে দেখিনি, হুজুর,’ বলল চৌকিদার।

    ‘আর কখনও দেখবেও না, যদি না আবার মশার খোরাক হতে রাজি হও, ‘ জবাব দিলাম আমি।

    তারপর চৌকিদার মশার চোদ্দগোষ্ঠির যে-বর্ণনা শুরু করল, তা এখন না বলাই ভাল। ঘণ্টাখানেকের কিছু বেশি সময় ধরে চলল প্রাণীগুলোর আনাগোনা। সর্বশেষ প্রাণীটাও ঝোপের আড়ালে হারিয়ে যেতে পুবাকাশে ঝকমকিয়ে হেসে উঠল সূর্য।

    নীরবে গাছ থেকে নেমে আমি ধরলাম বাংলোর পথ, খাণ্ডারনি বৌয়ের কথা ভাবতে ভাবতে চৌকিদার চলল তার বাড়ির দিকে। এগোতে এগোতে বৌয়ের হাতে দুর্দশার এমন সব কথা বলতে লাগল সে, মাঝেসাঝে হাসি চাপতে রীতিমত কসরত করতে হলো আমার।

    তিন দিন পর আমার এক বন্ধু এল কয়েকটা দিন থাকার জন্যে। এই গল্প সেই গল্পের পর সেই জায়গাটার অসংখ্য জাতের জীব-জানোয়ারের কথা বলতেই তার চোখ উত্তেজনায় চকচক করে উঠল।

    ওখানে আবার যেতে সরাসরি অস্বীকার করে আমি বললাম, ‘চৌকিদারকে ভজাতে পারো কি না দেখো। আর যেহেতু একটামাত্র বনমুরগি মারার পারমিট নিয়ে এসেছ, তার বেশি কিছু মারার চেষ্টা কোরো না। এখানে পারমিট ছাড়া শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’

    ‘আজ বিকেলেই কথা বলব চৌকিদারের সঙ্গে, প্রয়োজনে তাকে ঘুস দেব,’ জবাব দিল বন্ধুটি।

    ‘তোমার সৌভাগ্য কামনা করছি,’ বললাম আমি। ‘টাকায় কাজ হতে পারে।’ বিকেলে চৌকিদার এল। বন্ধুটি প্রথমে তাকে অনুরোধ করল, তারপর মিষ্টি মিষ্টি কথা বলল, তারপর ধমকাল, সবশেষে ঘুস দিতে চাইল। কিন্তু কোনও লাভ হলো না। আমার দিকে ঘুরে চৌকিদার বলল, ‘মশার ভয় আমার নেই, হুজুর, আমি যাব না আগুন-বাবার জন্যে।’

    ‘আগুন-বাবা, তার কথা তো কখনও শুনিনি।’

    ‘আমিও শুনিনি, হুজুর। কিন্তু আমার বৌ ওখানে আমাদের রাত কাটাবার কথা শুনে বলল যে আমার অনেক সৌভাগ্য, আগুন-বাবা আমাকে খতম করে ফেলেনি। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম তার মুখের দিকে। তারপর যখন সব খুলে বলতে বললাম, সে আমাকে পাঠাল ধনবীর সর্দারের কাছে।’

    ‘ধনবীরকে তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে?’

    ‘করেছি, হুজুর। ওই মাগীর আবোল-তাবোল কথায় অস্থির হয়ে রইলাম সারাটা দিন, তারপর গতকাল সন্ধেয় ধনবীরের সঙ্গে দেখা করে, তাকে ডেকে নিয়ে গেলাম একপাশে।’

    ‘সে কী বলল?’

    ‘যা বলল তা বলার মত নয়, হুজুর, আপনি আর আমি মানবজাতির এক শত্রুর হাত থেকে বেঁচে গেছি।’

    ‘বলার মত না হলেও কথাগুলো আমরা শুনতে চাই। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা তার দায়িত্ব নিতে রাজি আছি।’

    ‘হুজুর, সে বলল যে সেরাতে আমরা যেখানে বসে ছিলাম, তার শতখানেক গজের মধ্যেই প্রত্যেক রাতে ঘটে এক ভীষণ রহস্যময় ঘটনা। সেরাতে মশার আক্রমণে আমরা চারপাশে তাকাবার সুযোগ পাইনি। তবে সুযোগ না পেয়ে ভালই হয়েছে, হুজুর। খুব কম মানুষই আগুন-বাবার সাক্ষাৎ পায়, আর যারা পায়, তারা খুব  শিগগিরই হয় কোনও না কোনও দুর্ভাগ্যের শিকার। দিনের বেলা সে একজন যোগী হয়ে থাকে, আর রাতে রূপান্তরিত হয় আগুনে।’

    ‘যত্তসব বাজে কথা!’ বলল আমার বন্ধু। ‘শোনো, তুমি কি এমন কারও সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারো, যে ওই অদ্ভুত মানুষটাকে আমাদের দেখাতে পারবে? আমরা কেবল তাকে এক নজর দেখতে চাই, তারপর যা খোঁজ নেয়ার আমরা নিজেরাই নেব। এই কাজের জন্যে আমি তাকে পাঁচ টাকা দিতে রাজি আছি।’

    পরদিন এক থারুকে এনে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল চৌকিদার। থারু হলো নেপালের তরাইয়ের অধিবাসী। এই অঞ্চলে বসবাসের কারণে তারা তরাইয়ের প্রাণঘাতী জ্বর থেকে নিরাপদ। আজব ব্যাপার হলো, তরাই থেকে অন্য অঞ্চলে সরিয়ে নিয়ে গেলে তারা জ্বরে আক্রান্ত হয়। একমাত্র সময়ই তাদের এই রোগ সারায়। ভারত জুড়ে এই থারুরা মাহুতের কাজ করে।

    ‘এই লোক পাঁচ টাকার বিনিময়ে আপনাদের আগুন-বাবাকে দেখাতে রাজি, ‘ বলল চৌকিদার।

    আমার বন্ধুটি তো পারলে তখনই বেরিয়ে পড়ে। তাকে থামিয়ে বললাম, ‘আগে এই লোকটাকে কিছু প্রশ্ন করি, জবাব সন্তোষজনক হলে তাকে আমরা কাজ দেব। আর না হলে, আগুন-বাবা আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করুক।

    থারুর দিকে ফিরে জানতে চাইলাম, আগুন-বাবাকে সে কখনও দেখেছে কী না। ‘তাকে তো প্রায়ই দেখি,’ চটপট জবাব দিল থারু। ‘অনেক বছর ধরে বাবা এখানে আছে। এক হাতি তার শত্রু, জানোয়ারটাকে বন্ধুতে রূপান্তরিত না করা পর্যন্ত সে এখানেই থাকতে চায়।’

    ‘তোমার কথা আমাদের বিশ্বাস হয়েছে,’ মন্তব্য করলাম আমি। ‘তুমি চাইলে এখন আমরা রওনা দিতে পারি।’

    চুপি চুপি রিভলভার নিয়ে আমরা চললাম থারুর পিছু পিছু। যে বনে কেটেছিল আমাদের আর চৌকিদারের দুর্দশার রাত, সেখানেই আমাদের দু’জনকে নিয়ে গেল থারু। পথ দেখিয়ে দু’শো গজ এগোবার পর, হঠাৎ ডানে ঘুরেই সে অদৃশ্য হয়ে গেল একটা ঝোপের ভেতরে। তাকে অনুসরণ করে আমরা পৌঁছুলাম ঝোপের মাঝের একটা খোলা জায়গায়। সেখানে একটা বাঘের চামড়ার ওপর বসে গভীর ধ্যানে মগ্ন একজন যোগী। সম্পূর্ণ নগ্ন, ছাই-মাখা কৃশ শরীর তার, মাথায় জটপাকানো চুল। তার সামনে মাটিতে উপুড় হয়ে আছে থারু।

    আরও এগোতে বুড়ো পুরোহিত মুখ তুলে তাকাল আমাদের দিকে। ‘কৌতূহলই তোমাদের আমার সঙ্গে দেখা করার ব্যাপারে সমস্ত ভয় ভুলিয়ে দিয়েছে।’

    ‘আপনি ঠিকই বলেছেন, সাধু বাবা,’ বন্ধুটি উপযুক্ত কোনও কথা খুঁজে পাবার আগেই জবাব দিলাম আমি। ‘মাত্র আজই আমি আপনার কথা শুনেছি, আর শোনার সঙ্গে সঙ্গে এসেছি শ্রদ্ধা জানাতে।’

    ‘সাহেব, মিথ্যে বোলো না, সত্যবাদিতার ফলে অনেক কিছু লাভ করা যায়। আমি তোমাদের কে যে আমার এই ক্ষুদ্র রাজ্যে তোমরা প্রবেশ করেছ আমাকে শ্রদ্ধা জানাতে? আমার কাছে তোমরা কিছুই গোপন করতে পারবে না। কৌতূহলই তোমাদের এখানে আসতে বাধ্য করেছে, আর সেই কৌতূহল মিটবেও না, যতক্ষণ না আমি তোমাদের খুলে বলব যে কেন এই বনে আমি একাকী বাস করি, আর কেনই বা আশপাশের সবাই আমাকে আগুন-বাবা বলে ডাকে।’

    আমাদের কথোপকথনের খানিকটা বুঝতে পেরে রেগে গেল আমার বন্ধুটি। শান্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে, হাসিমুখে যোগী বলল, ‘যুবক, এই দেশের রহস্য ভেদ করার জন্যে অনেক বছরের সাধনার প্রয়োজন, অথচ প্রায় কিছুই না জেনে রেগে যাচ্ছ তুমি। তোমার রাগের কোনও পরোয়া আমি করি না। সবসময় শান্ত থাকো, আর যে-জ্ঞান তোমার নেই, সেটা অর্জনের চেষ্টা করো; রাগ মানুষকে কিছুই দেয় না। তোমার বন্ধু, এই সাহেব, বহু দিন এই দেশে আছে বলে দু’চারটে রহস্যের খোঁজ রাখে, কিন্তু তারপরেও আজও তার কাছে অনেকটাই অজানা। সে জানে, ভর্ৎসনা করলেও আমরা কারও ক্ষতি করি না।’

    ‘যোগী বাবা,’ বললাম আমি, ‘আমার এই বন্ধুটির বয়স কম, তাই অভিজ্ঞতাও কম। মনে হচ্ছে, কিছুই আপনার অজানা নয়। আমরা যে আপনার গল্প শুনতে এসেছি, আপনার এই অনুমানও সম্পূর্ণ সত্য। যদি আপনি চান, এই গল্প আমরা কাউকে বলব না।’

    ‘সাহেব, সারা পৃথিবী আমার গল্প জানলেও কিছুই যায় আসে না আমার। তবে কেউই যেন আমার এই আস্তানার কথা না জানে, কারণ, শান্তিই আমার একমাত্র চাওয়া। পরে এই আস্তানা ত্যাগ করে আবার হয়তো একদিন আমি ফিরে যাব মানুষের মাঝে, কিন্তু আমার একমাত্র শত্রুটিকে বন্ধুতে রূপান্তরিত করার আগে নয়। সারা পৃথিবীতে আমার সেই একমাত্র শত্রু হলো অকৃতজ্ঞ এক হাতি, যে এই মুহূর্তেও আমাদের লক্ষ করছে দূর থেকে।’

    সংবাদটা মোটেই সুখকর নয়, ফলে আমরা চারপাশে দৃষ্টি বোলালাম। যোগী হাসল। ‘ভয় পাবার কিছু নেই, হাতি এগিয়ে এলে আমার পাহারাদাররা সে- সংবাদ জানিয়ে দেবে।’

    ‘আপনার পাহারাদার,’ বললাম আমি, ‘কই, আমরা তো কাউকে দেখছি না।’

    ‘দেখবেও না, যতক্ষণ না আমি দেখাব,’ ধীরে শিস দিল যোগী, তারপর জোরে।

    সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দু’পাশ থেকে বিদ্যুৎবেগে ছুটে এল একটা বাঘ আর একটা চিতাবাঘ। আমাদের দিকে তাকিয়ে গজরাতে গজরাতে জানোয়ার দুটো বসল যোগীর দু’পাশে। ‘সাহেব, এরাই আমার পাহারাদার। চিতাবাঘটা বুড়ো হয়েছে,’ গভীর ভালবাসায় যোগী হাত বুলিয়ে দিতে লাগল বাঘটার গলায়, ‘আর এটা তো আমার পাহারাদার হলো ওর বাবা মারা যাবার পর। এরা পাহারায় থাকলে হাতিটা কাছে আসে না। এরা যদি এখনই চলে যায়, আমার সেই শত্রু আমাদের সবাইকে খতম করে দেবে।’

    আমার বন্ধু আর আমি মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলাম। দু’জনেই অনুভব করছিলাম, স্রেফ কৌতূহল মেটাতে আমরা এসে পড়েছি দারুণ অস্বস্তিকর এক অবস্থায়।

    ‘অনেক আগে,’ বলতে লাগল যোগী, ‘অনেক বছর আগে মানুষের মাঝে বসবাস ত্যাগ করে, আমি এসে উপস্থিত হলাম বনের এই নীরবতায় লোকালয়ের কাছে হওয়ার ফলে কেউ আমার আস্তানা সম্বন্ধে কোনও ধারণাই করতে পারল না। প্রথম প্রথম গভীর এই বনে আমার কিছুটা ভয় ভয় করতে লাগল, তবে গত দশ বছর থেকে আমি বেশ শান্তিতে আছি। প্রথমে আস্তানা গেড়েছিলাম বড় ওই গাছে, ওখানেই বসে ধ্যান করতে করতে আমি জীব- জানোয়ারের ওপর প্রভুত্ব অর্জনে সমর্থ হই। এখন বনের সমস্ত জীবই আমার বন্ধু, কেবল একটা ছাড়া, সাহেব। আমার একটা ডাকে বনের সব জানোয়ার ছুটে আসবে এখানে, কেবল আসবে না সেই হাতি। তাকে দয়া দেখাতে গিয়ে খানিকটা ব্যথা দেয়ার পর থেকে সে আমার শত্রু।

    ‘একদিন খোঁড়াতে খোঁড়াতে সে এল আমার কাছে। পরীক্ষা করে দেখলাম, তার পায়ের তলায় ফুটে আছে বাঁশের বড় একটা টুকরো। ‘হাতি,’ বললাম আমি, ‘তোমার ব্যথা সারানো যাবে, কিন্তু খানিকটা ব্যথা না দিয়ে নয়।’

    ‘ব্যথা সারাতে ব্যথা পেলে আমি কিছু মনে করব না।’

    ‘সাহেব, কাঁটাটা তুলে ফেললাম আমি, আর তুলতে গিয়ে প্রায় জীবন হারাতে বসলাম। গর্জে উঠল অকৃতজ্ঞ জানোয়ারটা। যে-চিতাবাঘটাকে তোমরা দেখছ— সেটা আর এই বাঘটার বাবা সময়মত হাতিটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচাল আমার, লাফিয়ে আমি উঠে পড়লাম একটা গাছে। সেই ঘটনার পর থেকে বনের সমস্ত প্রাণীর মধ্যে একমাত্র ওই হাতিই আমার শত্রু। আরেক রাতেও পা টিপে টিপে এসেছিল হাতিটা, কিন্তু সেবারেও অল্পের জন্যে রক্ষা পাই আমি। তারপর ধ্যানের মাধ্যমে অনেক বড় বড় শক্তি অর্জন করি, যেগুলোর একটার বলে রাতের বেলা আমি রূপান্তরিত হই আগুনে। এটাই আমার একমাত্র প্রতিরক্ষা, কারণ, হাতিরা কেবল আগুনকেই ভয় পায়।

    ‘আগামীতে এসো কোনও রাতে, তা হলে আমাকে দেখতে পাবে আগুনের রূপে। আগুনের মাঝ থেকেই তোমাদের সঙ্গে কথা বলব আমি, তবে মনে রেখো, সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে আসতে হবে তোমাদের; রাতে এই বনে ওত পেতে থাকে নানারকম বিপদ। হাতির পিঠে এলে এই থারুকে রেখো মাহুত হিসেবে। এবার যাও, এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাঘটা তোমাদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে বনের শেষ সীমা পর্যন্ত। বিদায়।’

    যোগীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বন্ধুসহ ফিরতি পথ ধরলাম আমি, পেছনে পেছনে থারু। বনের প্রান্তে পৌঁছুতে, আমাদের পাশ দিয়ে ছুটে গেল একটা হলদে ঝলক। বুঝলাম, প্রভুর নির্দেশ পালন করে ফিরে গেল বাঘটা। বনের বাইরে আসতেই ফেটে পড়ল ম্যাকলড। প্রথমে খানিকটা গালাগাল করল সে, তারপর বলল, ‘আজ আমরা যা দেখলাম, তা বললে ডুয়ার্সের সবাই আমাকে আনানিয়াস কিংবা ব্যারন মুনশাউজেন মনে করবে।’

    ‘কিংবদন্তি আর রহস্যে ভরা ভারত,’ বললাম আমি, ‘একে কি আমরা কখনোই চিনতে পারব! এখানকার কেবল সেটুকুই আমরা দেখি, যেটুকু আমাদের দেখতে দেয়া হয়; বাইরে থেকে সেগুলোকে অবাস্তব মনে হয়, কিন্তু তার আড়ালেই লুকিয়ে আছে দারুণ বাস্তবের অস্তিত্ব। কেমন লাগবে, বন্ধু, যখন কথা বলে উঠবে আগুন?’

    ‘আগুন কথা বলে উঠবে, তুমি নিশ্চয়ই ওই গল্প বিশ্বাস করোনি!’

    ‘যা ভাবছ ঠিক তার উল্টো, বিশ্বাস করেছি প্রত্যেকটা কথা। দু’দিন পর আবার আমরা রওনা দেব সূর্যাস্তের সময়। আমাদের হাতির মাহুত হয়ে যে আসবে, সে কিন্তু এখন তোমার কাছে পাঁচ টাকা পায়।’

    ‘না, না, দু’জনের কাছে আড়াই টাকা করে।’

    ‘উঁহুঁ, দামটা তুমিই করেছ।’

    ভীষণ বিরক্তির সঙ্গে সে বের করে দিল পাঁচ টাকার একটা নোট।

    দু’দিন পর যেদিনের সূর্যাস্তের সময় আমাদের রওনা হবার কথা, সেদিন সকালে ম্যাকলড একটু অসুস্থ বোধ করল।

    ‘তা হলে না হয় বাদ দাও,’ বললাম আমি।

    ‘অসম্ভব,’ ভেসে এল তার দৃঢ় জবাব।

    যথাসময়ে বেরিয়ে পড়লাম আমরা, আর ঘণ্টাখানেক ধরে হেলতে-দুলতে এসে পৌছুলাম বনে। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে আর কোনও আলো নেই। গাঢ় সেই অন্ধকারের মাঝেই চুপচাপ হাতি চালিয়ে, মাহুত এসে থামল যোগীর আস্তানার দশ গজ সামনে। বাঘের চামড়া, লাউয়ের গামলা, চিমটে সব যথাস্থানে পড়ে আছে, কিন্তু যোগীর কোনও চিহ্ন নেই। বাঘের চামড়ার সামনে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে একটা আগুন, আমাদের চোখের সামনেই সেটা পরিণত হলো একটা শিখায়, আর ঠিক তখনই ভেসে এল একটা স্বর। ‘কৌতূহল মেটাবার জন্যে তা হলে বনের বিপদের পরোয়াও তোমরা করোনি- স্বাগতম।’

    ‘কিছু বলবেন না, হুজুর,’ ফিসফিসিয়ে সাবধান করে দিল থারু।

    মিনিটখানেক পর আবার ভেসে এল সেই স্বর। ‘সাদা চামড়ার মানুষ, তোমরা ভয় না পেলেও ভয়কে অনুভব করতে পারো। আগুনের ভেতর থেকেই কথা বলছি আমি। তোমাদের অপেক্ষায় থেকে থেকে একসময় আমি আর অপেক্ষা করতে পারলাম না। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে এসে পৌঁছুল আমার শত্রু, এল সে আজ অন্যান্য দিনের চেয়ে সামান্য আগেই, ফলে আগুনের রূপ ধরতে বাধ্য হলাম আমি। এখনও সে দূর থেকে লক্ষ করছে আমাদের, তবে যতক্ষণ আমি উজ্জ্বল হয়ে জ্বলব, সে কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।’

    সারা বনের কোথাও কোনও শব্দ নেই, কেবল যোগীর স্বর ভেসে আসছে আগুনের ভেতর থেকে।

    ‘সকালে আমি কোত্থেকে বের হই, তা দেখার জন্যে যুবক রাতটা বনেই কাটাতে চায়। আগুনের ভেতর থেকে আমাকে কথা বলতে শুনে যাবতীয় শক্তির ওপর তার অবিশ্বাস এসেছে। আমার পাহারাদারদের ডাকলেই নিবু নিবু হয়ে আসবে আগুনের শিখা।

    বনভূমির বুক চিরে ধ্বনিত হলো জোর একটা শিস, পরমুহূর্তেই চারপাশ কেঁপে উঠল বাঘের গর্জনে। গুলির মত ছুটে এল বাঘ আর চিতাবাঘটা, আমাদের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে বসল বাঘের চামড়াটার দু’পাশে। আমরা অবাক হয়ে লক্ষ করলাম, কমে গেল আগুনের উজ্জ্বলতা; কমতে কমতে ওটা যখন প্রায় নিবু নিবু হয়ে এল, ঠিক তখন যেন হেসে উঠল বাঘটা। এবার বাঘের শূন্য চামড়াটার দিকে তাকাতে আমরা একেবারে হতবাক হয়ে গেলাম, তার ওপর বসে শান্ত ভঙ্গিতে আমাদের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বৃদ্ধ যোগী।

    ‘যুবক, এই যে আমি এখানে, বিশ্বাস করো বা না করো, আগুন থেকেই আমি এসেছি। এই মুহূর্তে আমার দেহ ধারণ করা উচিত হয়নি, তবু আমি কেবল এসেছি তোমাদের বিদায় জানাতে, কারণ, একত্রে তোমাদের সঙ্গে আমার আর কখনোই দেখা হবে না। আমার আগুন নিবে আসছে, আবার তাকে প্রজ্বলিত করতে হবে আমারই দেহ দিয়ে। বিদায়।’

    দপ্ করে আবার জ্বলে উঠল আগুনের শিখা, আবার শূন্য পড়ে রইল বাঘের চামড়া, বনের গভীর থেকে ভেসে এল কেবল মট মট করে ডালপালা ভাঙার শব্দ আর একটা হাতির ক্রুদ্ধ চিৎকার। বুঝতে অসুবিধে হলো না, কেন আমাদের এত শিগগির বিদায় জানাল যোগী।

    ঘুরেই দ্রুত হাতি ছোটাল থারু। বনের বাইরে আসতে আঁধার খানিকটা হালকা হয়ে এল।

    .

    দু’বছর পর দূরত্ব খানিকটা কমাবার জন্যে আমি এগোচ্ছিলাম গয়াবাড়ি আর কার্সিয়ংয়ের মাঝের পথ ধরে। দেখলাম, লেপচাদের একশিলা বিশিষ্ট স্মৃতিস্তম্ভগুলোর কাছে বসে আছে আগুন-বাবা। তাকে দ্রুত অভিবাদন জানিয়েই পা বাড়ালাম আমি, কিন্তু হাত তুলে আমাকে থামার ইশারা করল সে।

    ‘তোমার বন্ধু কোথায়?’ জানতে চাইল যোগী I

    ‘মারা গেছে,’ জবাব দিলাম আমি।

    ‘হুঁ, আগেই বলেছিলাম যে একত্রে তোমাদের সঙ্গে আমার আর কখনোই দেখা হবে না। যাও, একেবারে শেষ মুহূর্তে ট্রেন ধরতে পারবে তুমি। আবার তোমার সঙ্গে আমার দেখা হবে মহাকালের পাহাড়ে।’

    সত্যি কথা বলতে কী, আমি যেন পালিয়ে বাঁচলাম। দার্জিলিং তরাইয়ের সেই ঘটনার পর আগুন-বাবার কথা মনে পড়লেও শরীর কাঁটা দিয়ে ওঠে আমার। জীবনে অনেক আজব ঘটনা দেখেছি, কিন্তু এটার বেলায় চৌকিদারের সুরেই সুর মেলাব আমি, ‘এমন দৃশ্য জীবনে দেখিনি।’

    আরও জোরে পা চালালাম, তারপর স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনে উঠতেই ছেড়ে গেল সেটা গয়াবাড়ি থেকে।

    মূল: এ. সি. রেনি
    রূপান্তর: খসরু চৌধুরী

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Our Picks

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }