Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    अनीश दास এক পাতা গল্প144 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চোখের আড়াল হলে – মিজানুর রহমান কল্লোল

    চোখের আড়াল হলে

    ঘটনাগুলো এখনও আমাকে দুঃস্বপ্নের মত তাড়া করে ফেরে। ভুলে থাকার চেষ্টা করি। পারি না। কী করেই বা ভুলে থাকব? মাথার উপর দিয়ে অনবরত বিমান উড়ে গেলে কীভাবে ভুলে থাকা যায়? যতবার বিমানের গর্জন কানে আসে ততবার সেই আতঙ্কের কথা মনে পড়ে আমার। কাঁপতে থাকি থরথর করে। ভয়ে গায়ের রোম দাঁড়িয়ে পড়ে, ঘামে ভিজে যায় সমস্ত শরীর। কানে ভেসে আসে ইঁট, কাঁচ, পাথর ভাঙার শব্দ— আর আমার মেয়ের আর্তনাদ। সেই আর্তনাদ কেবল শুনতে পাই আমি। তখন আমার সব মনে পড়তে থাকে- ব্যাখ্যাতীত, রহস্যময় ঘটনাগুলো।

    ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল মিসেস বার্নেসের পেরামবুলেটর দিয়ে। আমার মেয়ে জেনিকে নিয়ে সেদিন দোকান থেকে ফিরছি। হঠাৎ আমার হাতটা চেপে ধরল ও। তারপর আঙুল তুলে দেখাল রাস্তার ওপারটা। উত্তেজিত কণ্ঠে বলল, ‘মা, দেখো- প্রামটাকে দেখো।’

    তাকালাম আমি। দেখলাম পেরামবুলেটরে বসে আছে আমাদের প্রতিবেশী মিসেস বার্নেসের বাচ্চা, আর মিসেস বার্নেস দু’হাতে পেরামবুলেটর ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যাচ্ছেন বাজারের দিকে।

    ‘ও তো রোজই দেখো,’ বললাম আমি। ‘নতুন করে আর দেখার কী আছে?’

    ‘কিন্তু রোজ তো মিসেস বার্নেসই ওটা ঠেলে নিয়ে যান,’ বলল জেনি। ‘অথচ আজ দেখো গাড়িটা কেউ ঠেলছে না। আপনাআপনি চলছে।’

    ‘বাজে বোকো না,’ বিরক্তি চেপে রেখে বললাম আমি।

    ‘মোটেই বাজে বকছি না,’ জেনি বলল। ‘দেখছ না মিসেস বার্নেস ওখানে নেই। বাচ্চাটাকে নিয়ে প্রামটা নিজেই চলছে।’

    ইদানীং জেনির মনটা ভাল নেই, জানি আমি। খুব উল্টোপাল্টা কথা বলছে ও। বুঝতে পারি নিঃসঙ্গতার জন্যেই এমনটা হয়েছে। এখানে ওর কোন বন্ধু বান্ধব নেই। সারাক্ষণ একা থাকে মেয়েটা। একটাই মাত্র মেয়ে আমাদের। আমিও খুব একটা সময় দিতে পারি না ওকে, ওর বাবার কথা তো বাদই দিলাম। তাই হয়তো এসব উল্টোপাল্টা কথা বলে মজা পায় ও। কয়েকদিন আগে ওর বাবার শার্টটা নিয়ে একই কাণ্ড করেছিল। সেদিন সকালে সাদা রঙের শার্ট পরে বেরিয়েছিল ওর বাবা। অথচ জেনি বলল, ‘বাবা সবুজ রঙের শার্ট পরে গেল কেন?’ আমি যতই বলি, তোমার বাবা সাদা শার্ট পরে গেছে, জেনি ততই বলতে থাকে- বাবা সবুজ শার্ট পরে গেছে। এক সময় ওকে বললাম, ‘তোমার বাবার তো সবুজ শার্টই নেই।’ জেনি মানল না আমার কথা। বলল, ‘অবশ্যই আছে। নইলে সবুজ শার্ট পরল কেমন করে?’

    সেদিন এই নিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তর্ক করেছিল জেনি। এখন আবার শুরু করেছে মিসেস বার্নেসের পেরামবুলেটর নিয়ে। বাড়ি পৌঁছেও সেই একই ঘ্যানঘ্যানানি। ‘মা, সত্যি বলছি, প্রামটা নিজে নিজে চলছিল তখন।’

    ‘বোকার মত কথা বোলো না,’ এবার সত্যিই রেগে গেলাম আমি। ‘মিসেস বার্নেস না ঠেললে গাড়িটা চলবে কী করে?’

    ‘তা হলে বোধহয় কম্পিউটার চালাচ্ছিল ওটাকে,’ উত্তর দিল জেনি।

    ‘অনেক হয়েছে, এবার থামো, ইতি টানতে চাইলাম আমি 1

    জেনি বলল, ‘তুমি বোধহয় বাবার শার্টের ব্যাপারটা ভুলতে পারছ না। স্বীকার করছি মিথ্যে বলেছিলাম আমি। বাবা সাদা শার্টই পরেছিল। কিন্তু মিসেস বার্নেসের ব্যাপারটা- তুমি তো দেখলে তিনি ওখানে ছিলেন না।’

    ‘অবশ্যই ছিলেন।’

    ‘ঠিক আছে, আমি জানালার কাছে বসে রইলাম। প্রামটা যখন ফিরবে তোমাকে ডেকে ভাল করে দেখাব।’

    জানালার চৌকাঠে উঠে বসল জেনি। আমি রান্নাঘরে ঢুকলাম। কাজের চাপে ভুলে গেলাম জেনি ও প্রামটার কথা। অনেকক্ষণ পর রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে দেখি তখনও জানালায় বসে আছে জেনি। ‘খেতে এসো,’ ওকে ডাকলাম আমি।

    ‘এখনও ফেরেনি,’ জেনি বলল কাছে এসে।

    ‘কে ফেরেনি?’

    ‘প্রামটা। মনে হয় পথ হারিয়ে ফেলেছে।’

    ‘চিন্তা কী, মিসেস বার্নেস ওটা খুঁজে বের করে আনবেন,’ পরিহাসের ছলে বললাম আমি। ‘এতক্ষণে হয়তো খুঁজতেও বেরিয়েছেন।’

    ‘না, তিনি বেরোননি,’ বলল জেনি। ‘আমি চোখ রেখেছিলাম তাদের দরজায়। তা হলে এখনও ওটা ফিরছে না কেন বুঝতে পারছি না। লাঞ্চের সময় হয়ে গেল।’

    ‘তা হলে বোধহয় তিনি বাচ্চাটাকে নিয়ে কোন বন্ধুর বাড়িতে গেছেন লাঞ্চ খেতে।’

    ‘এখনও আমার কথা বিশ্বাস করছ না তাই না?’

    ‘এটা নিয়ে এখন গল্প লিখতে বসো। চমৎকার গল্প হবে।’

    ‘মা, এটাকে গল্প বলছ কেন? এটা তো সত্যি।’

    সন্ধ্যায় শুয়ে পড়ল জেনি। হ্যারল্ড, আমার স্বামী, বাসায় ফেরার পর আমাকে ডেকে নিয়ে বলল, ‘তুমি তো মিসেস বার্নেসকে চেনো। রাস্তার ওপাশের সুন্দরী মহিলাটা।’

    ‘চিনব না কেন! ওর কথা শুনতে শুনতে আজ কান ঝালাপালা হয়ে গেল।’

    ‘আজ সকালে বড় রাস্তাটার ওপর গাড়ির নীচে চাপা পড়েছিলেন তিনি, ‘ বলল আমার স্বামী। ‘রাস্তা পার হয়ে প্রামটা সবে ফুটপাথে তুলতে যাবেন, এমন সময় ওটা কীসে যেন বেধে যায়। মিসেস বার্নেস তখন রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাস্তা দিয়ে সে সময়ে খুব জোরে একটা গাড়ি আসছিল। সময় মত থামতে পারেনি। মিসেস বার্নেসকে চাপা দিয়ে চলে যায়। সাথে সাথে মারা গেছেন ভদ্র মহিলা।’

    ঠাণ্ডা হয়ে এল আমার শরীর। ‘এজন্যেই তাকে ফিরে আসতে দেখা যায়নি। জেনি সারাটা দিন পথের দিকে চেয়েছিল। বাচ্চাটা কেমন আছে?’

    ‘ওর কিছু হয়নি। কিন্তু জেনি পথের দিকে চেয়ে ছিল কেন?’

    ঘটনাটা খুলে বললাম ওকে। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, ‘মৃত্যুসংবাদটা ওকে জানাই, কী বলো? খুব ভেঙে পড়বে বেচারি।’

    ‘হ্যাঁ জানাও,’ বলল হ্যারল্ড। ‘ভবিষ্যতে যাতে আর কাউকে নিয়ে রসিকতা করতে না পারে, সেই শিক্ষাটা হবে।’

    ‘বারে, ওকে দোষ দিচ্ছ কেন? ও কীভাবে জানবে! থাক, ওকে জানানোর দরকার নেই।’

    মিসেস বার্নেসের ঘটনা ওকে জানালাম না। পরদিনও হয়তো জানাতাম না। কিন্তু জেনি আবার শুরু করল ঘ্যানঘ্যানানি। ‘মা, গতকাল প্রামটা ফিরেছে কিনা জানো?’

    বাধ্য হয়ে খবরটা দিলাম তাকে। ‘মিসেস বার্নেস কাল প্রামটাকে নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন- মনে আছে তো? আগে বলতে দাও আমাকে। খুবই দুঃসংবাদ। একটা গাড়ির নীচে চাপা পড়েছিলেন তিনি। মিসেস বার্নেস মারা গেলেও নিরাপদেই আছে বাচ্চাটা।’

    ‘মিসেস বার্নেস মারা গেছেন!’

    ‘হ্যাঁ, জেনি। খুব দুঃখজনক ঘটনা।’

    ‘কীভাবে হলো?’

    হ্যারল্ড আমাকে যেটুকু বলেছিল সেটুকু বললাম আমি। মনোযোগ দিয়ে শুনল জেনি। শান্ত গলায় বলল, ‘তিনি নিশ্চয়ই বাড়ি থেকে আগেই বেরিয়ে গিয়ে প্রামটার জন্যে ওখানে অপেক্ষা করছিলেন। হলপ করে বলতে পারি প্রামটাকে নিয়ে তিনি বের হননি।’

    আর কিছু বললাম না আমি। স্বস্তিবোধ করলাম মৃত্যুসংবাদ শুনে সে ভেঙে পড়ল না দেখে। সেও আমাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করল না এরপর।

    কয়েক সপ্তাহ পরে স্কুলে একটা ঘটনা ঘটাল জেনি। ওর এক টীচারের রয়েছে মাকড়সা আতঙ্ক। জেনি সেই টীচারের ডেস্কে একটা মাকড়সা রেখে দিল। জেনির নামে হেডমিস্ট্রেসকে নালিশ করলেন টীচার। জেনি আমাকে বলে গেল, ‘হেডমিস্ট্রেস চারটের সময় দেখা করতে বলেছেন আমাকে। ফিরতে তাই দেরি হবে।’

    কিন্তু তাড়াতাড়িই বাসায় ফিরল জেনি। বললাম, ‘তোমার হেডমিস্ট্রেস তো দেখছি খুব তাড়াতাড়িই তোমাকে ছেড়ে দিলেন।’

    হাসল জেনি। ‘ভাগ্য ভাল যে তিনি ছিলেনই না। চারটের সময় তাঁর রুমের সামনে গেলাম। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে দরজায় টোকা দিলাম। একবার মনে হলো তিনি ভেতরে ঢুকতে বলছেন। কিন্তু ঢুকে দেখলাম রুমে কেউ নেই। মনে হয় আমার কথা ভুলেই গেছেন তিনি। কী সৌভাগ্য।’

    ‘কাজটা ঠিক করোনি,’ বললাম আমি। ‘তোমার উচিত ছিল ওখানে অপেক্ষা করা।’

    ‘আর সেধে পড়ে মার খাওয়া, তাই না?’

    পরদিন স্কুলের সেক্রেটারি মিসেস লেনিং এল আমাদের বাড়িতে। কেমন যেন শুকনো দেখাচ্ছিল তাকে। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালাম তার দিকে।

    ‘দুঃসংবাদ আছে,’ বলল মিসেস লেনিং। ‘কাল রাতে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন হেডমিস্ট্রেস মিস পেট্রেল। এখনও কেউ জানে না খবরটা। যে মেয়েটা ঘর ঝাড়ু দেয়, সকালে সেই প্রথমে দেখতে পায় লাশটা। বিছানায় পড়ে আছে। আমি ছাড়া তাঁকে জীবিত অবস্থায় শেষ দেখেছে আপনার মেয়ে জেনি।’

    ‘জেনির সঙ্গে গতকাল চারটের সময় দেখা করার কথা ছিল তাঁর-’

    ‘তা জানি;’ বলল মিসেস লেনিং। ‘কিন্তু জেনি তো ভয়েই পালিয়ে গেল। অফিসে বসে দেখলাম জেনি মিস পেট্রেলের দরজায় টোকা দিল। ভেতরেও ঢুকল কিন্তু সাথে সাথেই ছুটে বেরিয়ে এল আবার। দেখা করতে গেলাম আমি মিস পেট্রোলের সাথে। উনি বললেন, ‘জেনি তাঁর দিকে একবার তাকিয়েই ছুটে বেরিয়ে গেছে। দুঃখ করে মিস পেট্রেল বললেন, ‘আমাকে দেখতে কি ড্রাগনের মত লাগে যে বাচ্চারা আমাকে দেখলেই ছুটে পালাতে চায়?’

    ‘আচ্ছা,’ বললাম আমি। ‘ঘটনা তা হলে এ-ই।’

    মিসেস লেনিং বলল, ‘খুব ক্লান্ত বোধ করছিলেন মিস পেট্রেল। আমাকে বললেন শরীরটা ভাল লাগছে না। কিন্তু বুঝতে পারিনি এতটা অসুস্থ তিনি তিনি বললেন, টীচাররা কেন যে ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে ছেলেমেয়েদের নামে তাঁর কাছে নালিশ করে? দুর্ভাগ্য আমাদের, একজন চমৎকার মহিলাকে আমরা হারালাম।’ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল তার চোখদুটো। ‘জেনি কিছু বলেছে এ ব্যাপারে?’ জিজ্ঞেস করল ও।

    ‘বলেছে মিস পেট্রেল নাকি রুমে ছিলেন না,’ জবাব দিলাম আমি।

    ‘পাজী মেয়ে,’ মাথা নেড়ে বলল মিসেস লেনিং। ‘তখন রুমেই ছিলেন হেডমিস্ট্রেস। খবরটা শোনার পর জেনি নিশ্চয়ই আঘাত পাবে। আজ বিকেলে একটি বিশেষ সভায় খবরটা প্রচার করবেন সিনিয়র মিস্ট্রেস।’

    সেদিন স্কুল থেকে ফিরে জেনি বলল তার হেডমিস্ট্রেসের মৃত্যুর কথা। ‘তা হলে অসুস্থতার জন্যে কাল চারটে পর্যন্ত তিনি আর আমার জন্যে অপেক্ষা করেননি,’ বলল সে। ‘শরীর খারাপ লাগার জন্যে আগেই বাড়ি চলে গিয়েছিলেন।’

    ‘জেনি মিথ্যে বোলো না, প্লীজ। কেন মিথ্যে বলছ?’

    ‘কীসের মিথ্যে?’ অবাক হলো জেনি

    ‘আমি জানি মিস পেট্রেল তোমার জন্যে রুমে অপেক্ষা করছিলেন।’

    ‘তিনি রুমে ছিলেন না,’ জোর দিয়ে বলল জেনি। ‘আর তুমি কীভাবে জানো যে তিনি রুমেই অপেক্ষা করছিলেন?’

    ‘সকালে মিসেস লেনিং এসেছিল আমার সঙ্গে দেখা করতে। সে-ই বলল।’

    ‘কী বলেছেন?’

    ‘বলেছে, তুমি মিস পেট্রেলের রুমে ঢুকেই তাঁর দিকে একবার মাত্র তাকিয়ে ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলে। অবশ্য তোমার পালানোতে হেডমিস্ট্রেস স্বস্তি পেয়েছিলেন। কাউকে শাস্তি দেয়া তিনি পছন্দ করেন না।’

    ‘মা, কসম বলছি, আমি রুমে ঢুকে তাঁকে দেখতে পাইনি। রুমটা তখন খালি ছিল।’

    ‘আর পারি না তোমাকে নিয়ে। খুব বাড়াবাড়ি করছ।’

    ‘আমার কথা বিশ্বাস করো, মা,’ জেনি বলল। ‘মিসেস বার্নেসের বেলায়ও একই ঘটনা ঘটল। সেদিনও তুমি বিশ্বাস করোনি আমার কথা। অথচ আমি একটুও মিথ্যে বলিনি সেদিন।’

    হঠাৎ করেই আতঙ্কের একটা ঢেউ বয়ে গেল আমার শিরদাঁড়া বেয়ে। বুঝতে পারলাম অস্বাভাবিক কিছু একটা ঘটছে। যে দুজনকে আর সবাই দেখলেও জেনি দেখতে পায়নি তারা আর বেঁচে থাকেনি। মারা গেছে অল্পসময় পরে। আমার মনের কথাটা যেন বুঝতে পারল জেনি। বড় বড় চোখে তাকাল আমার দিকে। ‘অবিশ্বাস্য ব্যাপার!’ ফিসফিস করে ভয়ার্ত কণ্ঠে বলল সে।

    সন্ধ্যায় হ্যারল্ডকে ঘটনাগুলো বললাম আমি। হেসে উড়িয়ে দিল সে আমার কথা। বলল, ‘এটা নেহাতই কাকতালীয় ঘটনা। এরকম হতেই পারে। জেনির রূপকথার সাথে মিসেস বার্নেসের অ্যাকসিডেন্ট কিংবা মিস পেট্রেলের হার্ট অ্যাটাকের কোন সম্পর্ক নেই।’

    ঘটনাগুলোকে আমার স্বামীর মতই হেসে উড়িয়ে দিতে পারতাম জেনির রূপকথা বলে। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন পরে আমার দুধওয়ালা, খুবই নিরীহ মানুষ, ও’ব্রায়ানকে ঘিরে যে ঘটনা ঘটল তাতে আর উড়িয়ে দিতে পারলাম না রূপকথা বলে।

    ও’ব্রায়ানের পাওনা আমি প্রতি শনিবারেই মিটিয়ে দিই। ওকে তখন এক কাপ কফিও খাওয়াই। সে সময়ে জেনি তার রুমেই থাকে। হোম ওয়ার্ক করে কিংবা করার ভান করে। সেদিন সকালে দিতে এল ব্রায়ান। কফি খেতে খেতে বলল, ‘মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা চলছে। সন্ধ্যায় দেখতে আসবে। মেহমানদের জন্যে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু দুধের পড়েছে আকাল।

    ব্রায়ান চলে যাবার পর রান্নাঘরে ঢুকল জেনি। বাটির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘দুধ এল কোত্থেকে?’

    ‘দুধওয়ালা দিয়ে গেছে,’ বললাম আমি।

    ‘কিন্তু সে এখানে এলে তো আমি জানালা দিয়ে তাকে দেখতে পেতাম।’

    ‘তুমি বোধ হয় পড়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলে।’

    ‘আমার বয়েই গেছে,’ বলল জেনি। ‘ওই একই পড়া পড়তে ভাল লাগে না। আমি বাইরেই তাকিয়ে ছিলাম। মনে হয় সামনের পথ দিয়ে না এসে ব্যাটা বাড়ির ওপাশ দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকেছে।’

    কথা বাড়ালাম না আমি। জেনির সঙ্গে এত বকবক করতে আর ভাল লাগে না। পরদিন ছিল রবিবার। দুপুর গড়িয়ে গেল তবু দুধওয়ালার দেখা নেই। বিকেলের দিকে দুধ নিয়ে এল অপরিচিত এক ছেলে। ‘এত দেরি কেন?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি।

    ‘আর কেন,’ বলল ছেলেটি। ‘দুধের ভাণ্ডারে যা তা অবস্থা। এদিকে কালরাতে বুড়ো ও’ব্রায়ান একটা মারামারি লাগিয়ে বসল। খাওয়া দাওয়া চলছিল সেখানে।’

    ‘জানি,’ বললাম আমি। ‘মেয়ের বিয়ের কথা পাকা হচ্ছিল। ব্রায়ান বলেছিল আমাকে। কিন্তু কী হয়েছিল যে মারামারি করতে গেল?’

    মেয়ের চরিত্র নিয়ে কথা তুলেছিল একজন,’ বলল ছেলেটি। ‘মেয়েটার চরিত্র নাকি ভাল না। অনেক পুরুষের সাথে ঢলাঢলির অভ্যেস আছে। এই শুনে খেপে যায় ব্রায়ান। লোকটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমনিতেই মাতাল ছিল ব্রায়ান, তার উপর বুড়ো। লোকটার সাথে পারবে কেন সে? লোকটার এক ঘুসিতে সে উড়ে গিয়ে পড়ল টেবিলের কোনায়। মাথাটা ঠুকে গেল। ডাক্তার এসে দেখল বেচারা মরে গেছে ততক্ষণে।’

    ‘কী বললে? ব্রায়ান মারা গেছে?’ ঘরটা হঠাৎ যেন দুলতে শুরু করল আমার চোখের সামনে। যেন দূর দূরান্ত থেকে ভেসে এল ছেলেটির কণ্ঠ, ‘আমি দুঃখিত। আসলে এভাবে হুট করে কথাটা বলা ঠিক হয়নি আমার। স্থির হয়ে একটু বসুন। হ্যাঁ, এখন কি ভাল লাগছে?’

    ধীরে ধীরে ধাতস্থ হলাম আমি। শরীরটা ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে উঠেছে। শীত করছে খুব। ‘হ্যাঁ, এখন ভাল লাগছে।’

    ঘরে ঢুকল জেনি। ছেলেটির দিকে তাকাল। ‘মি. ও’ব্রায়ান আসেননি আজ?’

    ‘তোমার মা পরে বলবেন সেকথা,’ বলল ছেলেটি। ‘একটু ধরো, মাথাটা ঘুরছে ওঁর।’ ছেলেটি দ্রুত চলে গেল।

    ‘তোমার কী হয়েছে, মা?’ উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল জেনি। ‘মনে হচ্ছে তুমি অসুস্থ।’

    ‘মারামারি করতে গিয়ে কালরাতে মারা গেছে মি. ও’ব্রায়ান,’ বললাম আমি।

    জেনির মুখ থেকে রক্ত সরে গেল। বলল, ‘সেজন্যে কাল তাকে আমি দেখতে পাইনি।’

    ‘ও কথা বোলো না,’ বললাম আমি। ‘কাল সকালে সে সুস্থ ছিল। ঘটনা ঘটেছে সন্ধ্যার পরে।’

    ‘যখনই ঘটুক, সেকারণেই কাল সকালে তাকে আমি দেখতে পাইনি,’ বলল জেনি। ‘একই ঘটনা ঘটেছিল মিসেস বার্নেস ও মিস পেট্রোলের ক্ষেত্রে।’ ভয়ে কেঁপে গেল তার কণ্ঠ। ‘অবিশ্বাস্য! আমি বুঝতে পারছি না, মা! এমন ঘটছে কেন?’

    দেখলাম ভীষণ ভয় পেয়েছে জেনি। প্রকাশ পেতে দিলাম না তাই নিজের ভয়টা। হেসে বললাম, ‘আসলে কিছুই ঘটেনি, মামণি। সবই তোমার কল্পনা।’ কিন্তু ভয়টা লুকোতে পারলাম না আমি হ্যারন্ডের কাছে। বললাম তাকে দুধওয়ালার ঘটনাটা। এবারও হেসে উড়িয়ে দিল সে। বলল, বাদ দাও এসব। জেনি আসলে চাইছে সবার নজর কাড়তে। মনে করছে সে যা বলছে সেটাই সত্য হচ্ছে। এসব ফালতু কথা যেন আমার সামনে এসে না বলে। তা হলে পিটিয়ে সোজা করে ফেলব।’

    অনেকদিন হাঁটাচলা করতে পারছে না আমার শাশুড়ি। খুব অসুস্থ সে। সেদিন সন্ধ্যায় তাকে দেখতে যাবার কথা। হঠাৎ জেনি ফিসফিস করে বলল, ‘মনে করো তাকে গিয়ে আমি দেখতে পেলাম না, তা হলে কী হবে তুমি তো জানো।’ হ্যারন্ডের কথা সেই মুহূর্তে মনে পড়ল আমার। মনে হয় ঠিকই বলেছে হ্যারল্ড। জেনির মধ্যে এক ধরনের নাটক করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সে চায় সবকিছুর মধ্যমণি হতে। আচ্ছা আমার শাশুড়িকে দেখতে গিয়ে যদি সে সত্যিসত্যিই বলে সেখানে কেউ নেই- তা হলে? সেরকম কিছু ঘটল না। বাড়ি ফেরার সময় জেনি বলল, ‘ওনাকে নিয়ে ভেব না, বাবা। মরতে অনেক দেরি আছে।’

    ‘তোমার মতামত শুনতে চাচ্ছি না আমরা,’ তীব্র স্বরে বলল হ্যারল্ড। ‘মা এখনি মরছেন কে বলেছে তোমাকে?’

    হাসল জেনি। অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাল আমার দিকে। সেই দৃষ্টি দেখে আবারও ভয় পেলাম আমি।

    জেনির ব্যাপারটা নিয়ে আলাপ করতে গেলাম ডাক্তারের সাথে। আমাদের পারিবারিক বন্ধু সে। তিনটে ঘটনাই খুলে বললাম ওকে। সব কিছু শুনে হাসল ডাক্তার। বলল, ‘বুদ্ধিমতী মেয়ে তোমার জেনি। কিন্তু বয়সটা হলো খারাপ। কৈশোর ও যৌবনের মাঝামাঝি। এ বয়সে মেয়েরা অনেক পাগলামিই করে। মনের মধ্যে থাকে ফুরফুরে ভাব। বাতাসে ভাসতে থাকে। নিজেকে মনে করে অন্য জগতের কেউ। দোষ তার না, দোষ বয়সের। শরীর ঠিক আছে তো?’

    ‘দেখলে তো মনে হয় সুস্থই।’

    ‘এ বয়সে এরকম হওয়াটা স্বাভাবিক,’ বলল ডাক্তার। ‘তার কিচ্ছু হয়নি। তবে অনেক সময় কারও কারও মধ্যে অতীন্দ্রিয় চেতনা দেখা দেয়। ভবিষ্যৎ মৃত্যুকে সে দেখতে পায়। এ নিয়ে হৈ চৈ করার কিছু নেই। স্বাভাবিকভাবে মেনে নাও। তবে তার সাথে এসব নিয়ে বেশি আলোচনা কোরো না। তা হলে তার আগ্রহ বেড়ে যাবে আরও। এ নিয়ে বেশি চিন্তা কোরো না। কী ব্যাপার, এত ফ্যাকাসে লাগছে কেন তোমাকে? রাতে বুঝি ঘুম হয় না?’

    ‘একদম ঘুমোতে পারি না, ডাক্তার,’ বললাম আমি। ‘ব্যাপারটা আমার মনের মধ্যে চেপে বসে আছে।’

    প্রেসক্রিপশন লিখল ডাক্তার। ঘুমের ওষুধ দিয়েছে আমাকে। বাড়ি ফিরে এলাম ওটা নিয়ে।

    পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ ঘটল না কিছুই। সামনে জেনির পরীক্ষা। তাই নিয়ে ব্যস্ত ও। সেই সাথে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। পড়াশোনা বিশেষ করেনি সে। প্রস্তুতি ভাল না। তার ভয়, প্রশ্নপত্র হাতে পাবার পর সে হয়তো কিছুই লিখতে পারবে না।

    দেখতে দেখতে চলে এল পরীক্ষার দিন। ওর জন্যে নাস্তা বানালাম আমি। কিন্তু নাস্তা খেতে নীচে নামল না সে। কয়েকবার ডেকেও সাড়া পেলাম না তার। শেষ পর্যন্ত আমি গেলাম তার রুমের দিকে। দেখি বিছানায় বসে আছে সে। ভয়ানক আতঙ্কে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে।

    ‘এসো, দেরি হয়ে যাচ্ছে তো,’ ডাকলাম ওকে।

    ‘স্কুলে যাব না আজ। ভাল লাগছে না।’ জবাব দিল সে। ‘আমি এখানেই থাকব।’

    ‘তুমি কি অসুস্থ বোধ করছ?’

    ‘হ্যাঁ, মা। খুব অসুস্থ আমি। ভয়ানক অসুস্থ। স্কুলে যেতে পারব না।’

    ‘তা হলে ডাক্তারকে খবর দিই।’

    ‘না। তিনি এসে বলবেন যে আমার কিচ্ছু হয়নি।’

    ‘কিছু হলে তবে তো বলবে? জেনি তোমাকে স্কুলে অবশ্যই যেতে হবে। পরীক্ষা তুমি আগেও দিয়েছ। একটা পরীক্ষা খারাপ হলে এমন কিছু ক্ষতি হবে না। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নাও।’

    ‘আমি পরীক্ষা নিয়ে ভাবছি না,’ বলল জেনি। ‘ও নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। আমি, আমি মরতে চাই না, মা।’

    ‘কী আজেবাজে কথা বলছ? মরতে যাবে কেন তুমি?’

    ‘আমি বাড়িতেই নিরাপদে থাকতে চাই, মা। বাইরে বেরোলে আমার খুব বিপদ হবে।’

    ‘কীসের বিপদ?’

    ‘যে কোন ধরনের বিপদ হতে পারে। গাড়ি আমাকে চাপা দিতে পারে, আগুন, লাগতে পারে, কেউ হামলা করতে পারে, যে কোন বিপদ একটা ঘটবেই।’

    ‘রাতে কি কোন দুঃস্বপ্ন দেখেছ তুমি?’

    ‘হ্যাঁ, দেখেছি। সে তো প্রায়ই দেখি। কিন্তু স্বপ্নের কথা নয়। মা, আমাকে তুমি বাইরে যেতে বোলো না।’ হঠাৎ করে কাঁদতে শুরু করল জেনি।

    হাত বুলিয়ে দিলাম তার পিঠে। গাঢ় স্বরে বললাম, ‘তোমার ভয়টা কী নিয়ে তা আমাকে বললে তোমাকে বাড়িতে থাকতে দেব। নিশ্চয়ই পরীক্ষার ব্যাপারে ভয় পাচ্ছ?’

    ‘ওটা তো সামান্য ব্যাপার,’ বলল জেনি। ‘যদি সত্যি কথা বলি তুমি তা হলে বিশ্বাস করবে না।’

    ‘বলোই না।’

    ‘বলছি। আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় মুখ দেখলাম।’

    তার ভেজা, ফ্যাকাসে, ভয় পাওয়া ছোট্ট মুখটার দিকে তাকালাম আমি। আস্তে করে বললাম, ‘সকালে সবার মুখ অপূর্ব সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। তাই কি?’

    আমার রসিকতা গায়ে মাখল না সে। বলল, ‘ড্রেসিং টেবিল থেকে আয়নাটা নিয়ে এসো।’

    আয়নাটা এনে তার হাতে দিলাম।

    ‘আমার পেছনে এসে দাঁড়াও,’ বলল সে।

    আমি তার কথা শুনলাম। দাঁড়ালাম তার পেছনে। আয়নাটা সামনে মেলে ধরল ও। আমি আমার ও ওর মুখটা আয়নায় দেখতে পেলাম। ঠাট্টা করে বললাম, ‘আহ্ কী সুন্দর দেখাচ্ছে আমাদের।’

    ‘আমাদের?’ শুষ্ক কণ্ঠে বলল ও। ‘কী দেখতে পাচ্ছ তুমি?’

    ‘তোমাকে ও আমাকে।’ বললাম আমি। ‘আমাদের দুজনকে।’

    আয়নাটা ছুঁড়ে ফেলে দিল জেনি। বলল, ‘আমি দুজনকে দেখছি না। আমি দেখছি শুধু তোমাকে। নিজেকে দেখতে পাচ্ছি না। এর কি অর্থ তুমি জানো?’

    বাচ্চাদের সিজোফ্রেনিয়া রোগের কথা হঠাৎ করে মনে পড়ল আমার। বইতে পড়ছি। শুনেছি রেডিওতে। এখন দেখছি তা নিজের ঘরের মধ্যেই। ওর কণ্ঠ শুনেই বুঝছি মিথ্যে কথা বলছে না ও।

    ‘পরীক্ষার সময় অসুখ বাধিয়ে ভালই করেছ তুমি,’ বললাম আমি। ‘আর সবাই যখন পরীক্ষার জ্বালায় অস্থির হয়ে পড়বে তখন চাদর মুড়ি দিয়ে আরামে শুয়ে থাকবে তুমি। নাও, শুয়ে পড়ো, দুশ্চিন্তা কোরো না।’

    ‘ধন্যবাদ, মা!’ ফুঁপিয়ে উঠল জেনি। শুয়ে পড়ল। গাল বেয়ে নেমে পড়ল অশ্রুধারা।

    নীচে নেমে হ্যারল্ডকে বললাম আমি। কফিতে চুমুক দিতে যাচ্ছিল ও। থেমে গেল। বলল, ‘আয়নায় নিজেকে দেখতে পাচ্ছে না, তাই তো? ভালই ধোঁকা দিয়েছে তোমাকে।’

    ‘সত্যি কথাই বলছে ও,’ বললাম আমি। ‘একেবারে ভয়ে আধমরা হয়ে গেছে মেয়েটা। আয়নায় তাকিয়ে নিজের মুখটা দেখতে পাচ্ছে না। আমার কাছে সুবিধার মনে হচ্ছে না।’

    ‘কল্পনার রাজ্যে আছে ও,’ বলল হ্যারল্ড। ‘সব কিছুই ওর কল্পনা। পরীক্ষা না হয়ে যদি স্কুলে উৎসব হত দেখতে সে এমন করত না। আমি বাজি রেখে বলতে পারি।’

    ‘আমি জেনিকে বিশ্বাস করি। ডাক্তারকে খবর দিচ্ছি আমি।’

    ‘আমাকে আবার এর মধ্যে জড়িও না।’ বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল হ্যারল্ড। ওর গমন পথের দিকে তাকিয়ে রইলাম আমি। ওকে যতটুকু ভালবাসি ততটুকুই ঘৃণা করি।

    ডাক্তার এল। কাঁদতে কাঁদতে সব কথা ওকে খুলে বলল জেনি। ডাক্তার ‘হ্যাঁ’, ‘হুঁ’ করে গেল। তারপর মুখ ফেরাল আমার দিকে। ‘বিছানায় শুইয়ে রেখো ওকে। এতে কিছুটা ভাল লাগবে।’ উঠে দাঁড়াল ডাক্তার। আমাকে বাইরে এনে একটা প্রেসক্রিপশন লিখল। বলল, ‘হালকা ঘুমের বড়ি এটা। পরীক্ষার সময় অনেক ছেলে মেয়েকে খাইয়ে ভাল ফলাফল পেয়েছি। ওষুধের দোকান থেকে নিয়ে এসো। দুপুরে একটা, বিকেলে একটা, শোয়ার সময় একটা, আবার কাল সকালে একটা দিও। দেখবে স্থির মনে পরীক্ষা দিতে পারছে ও।’

    ‘তোমার ধারণা স্নায়ুর উপর অতিরিক্ত চাপের জন্যে এটা হচ্ছে?’

    ‘আমার ধারণা তাই। বেশি পরিশ্রম করে ‘হিস্টিরিয়া’-তে আক্রান্ত হয়েছে। সন্ধ্যার দিকেই অনেকটা ভাল হয়ে যাবে। ওষুধগুলো যাতে ঠিকমত খায় সেদিকে লক্ষ রেখো। ভয়ের কিছু নেই। আশা করছি তাড়াতাড়িই ভাল হয়ে যাবে। অবস্থার উন্নতি না হলে আমাকে রিং কোরো।’

    ডাক্তার চলে যাবার পর উপরে উঠলাম আমি। জেনিকে বললাম, ‘ওষুধ আনতে যাচ্ছি দোকানে। আধঘণ্টা লাগবে। একা একা থাকতে পারবে তো?’

    ‘পারব,’ বলল জেনি। ‘বিছানায় তো কোন ভয় নেই, তাই না?’

    দুহাত বাড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরল জেনি। ওর হাত দুটোকে খুব সরু মনে হলো। এখনও স্পষ্ট মনে আছে আমার, তার সেই উৎকণ্ঠায় ভরা গাঢ় আলিঙ্গন অন্য সব বারের চাইতে ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ওষুধ আনতে বেরিয়ে গেলাম আমি। মেয়েটা যাতে বেশিক্ষণ একা একা না থাকে সেজন্যে প্রায় ছুটতে ছুটতে দোকানের দিকে গেলাম।

    ফেরার সময় চিন্তায় এতটা মগ্ন ছিলাম যে লক্ষ করিনি মাথার উপর দিয়ে বিমান উড়ে যাচ্ছে। একটু পরেই তার প্রচণ্ড শব্দ কানে এল। তাকিয়ে দেখলাম খুব নিচু দিয়ে যাচ্ছে বিমানটা। ইঞ্জিনটা একবার বন্ধ হচ্ছে, একবার চলছে। গর্জনটাও সেই সাথে একবার কমছে, একবার বাড়ছে।

    হঠাৎ ইঞ্জিনটা থেমে গেল। আর কোন শব্দ নেই? কী ভয়ঙ্কর নিস্তব্ধতা। দেখলাম প্লেনটা সোজা নেমে এল। আমি যে রাস্তা ধরে এতক্ষণ হাঁটছিলাম তার ওপাশের বাড়িগুলোর পেছনে প্রচণ্ড শব্দে ভেঙে পড়ল। চমকে উঠলাম আমি। ওদিকেই তো আমাদের বাড়ি। আর ঠিক তখনই শুনতে পেলাম গগনবিদারী একটা আর্তনাদ।

    ছুটতে লাগলাম আমি। এত দ্রুত এর আগে জীবনে ছুটিনি কখনও। যখন বাড়িতে পৌঁছলাম দেখলাম সেটা তখন একটা ধ্বংসস্তূপ মাত্র।

    আগুন জ্বলছে পুরো বাড়িতে। লক লক করে বেড়ে উঠছে আগুনের শিখা। ভাঙা প্লেনটা ইঁট, পাথর ও কাঁচের সঙ্গে একত্রিত হয়ে পড়ে আছে মুখ থুবড়ে। এবং পড়ে আছে বিমান চালকের রক্ত-মাংস-হাড়। পুড়ছে চড় চড় করে। আর পড়ে আছে একটি নিঃসঙ্গ মেয়ে। আমার মেয়ে জেনি। মৃত।

    এটাই হলো অনেক দিন আগের সেই ঘটনা। আমাকে দুঃস্বপ্নের মত তাড়া করে ফেরে। আমি খুঁজে পাইনি এ রহস্যের কোন সমাধান। দুঃসহ সেই স্মৃতি এখনও ডুকরে কাঁদে আমার বুকে। এখন বুঝতে পারছেন তো বিমানের শব্দ শুনলে কেন আমি এত ভয় পাই আর কেন শুনতে পাই অপার্থিব আর্তনাদ, যে আর্তনাদের শব্দ কেবল আমি একাই শুনি- আর কেউ শুনতে পায় না।

    মূল: রোজমেরি টিমপারলি
    রূপান্তর: মিজানুর রহমান কল্লোল

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Our Picks

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }