Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    अनीश दास এক পাতা গল্প144 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সিঁড়ি – শাহেদ ইকবাল

    সিঁড়ি

    বাড়িটা সুরভির খুব পছন্দ হয়ে গেল।

    চমৎকার রেলিং ঘেরা টানা বারান্দা। মেঝে পর্যন্ত লোহার গ্রিল দেয়া জানালা। ছাদে ওঠার ঝকঝকে সিঁড়ি। ছবির মত ব্যালকনি। জানালার কাছে দাঁড়ালে বিশাল দীঘি চোখে পড়ে। ফুরফুরে বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। সুরভি বলেই ফেলল, ‘বাড়িটা খুব চমৎকার।’

    জয়নাল একটা নিঃশ্বাস ফেলল। বাড়িটা তার পছন্দ হয়নি। জানালায় গ্রিল থাকলেও ছাদে কোন রেলিং নেই। রেলিং নেই সিঁড়িতেও। বাড়ির একপাশে বিশাল পুকুর। অন্যপাশে রাস্তা। সারাক্ষণ গাড়ি-ঘোড়া চলছে। বাচ্চা দুটোর জন্যে বাড়িটা উপযুক্ত নয়। সুরভি তা বুঝতে পারছে না।

    বাড়িওয়ালা অবশ্য বারবার বলেছে, আগামী মাসের মধ্যেই সিঁড়ি ও ছাদের রেলিং হয়ে যাবে। জয়নাল তার কথায় আশ্বস্ত হতে পারেনি। আশ্বস্ত হবার কথাও নয়। আশপাশের লোকজনের কাছে শুনেছে, বাড়িওয়ালা গত তিন বছর ধরে এই আশ্বাস দিয়ে আসছে সবাইকে।

    বাড়িওয়ালার কথায় সুরভির কোন প্রতিক্রিয়া হলো না। কারণ, বাড়িওয়ালার কথা তার কানেই ঢোকেনি। সে বারান্দায় ফুলের টব সাজানোয় ব্যস্ত। ওর চারপাশে ঘুরঘুর করছে পপি ও রিমি। জয়নাল আরেকবার নিঃশ্বাস ফেলল। মেয়ে দুটো মায়ের মতই হয়েছে। একবার কোনকিছু মাথায় ঢুকলে আর হুঁশ থাকে না। ভোগাবে, এরা তাকে প্রচুর ভোগাবে।

    রাতে সবগুলো জানালা খুলে দিয়ে ক্যাসেট প্লেয়ার অন করল সুরভি। জনপ্রিয় হিন্দী গানের সুর বেজে উঠল। খোলা হাওয়ায় সুরভির চুল উড়ছে। সুরভি দাঁড়িয়ে আছে জানালার সামনে। জয়নাল বুঝতে পারছে না আশপাশের লোকজনকে জোর করে হিন্দী গান শুনিয়ে কী লাভ। সে কিছু না বলে চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করল। সারাদিন খুব ধকল গেছে।

    জয়নালকে অবাক করে দিয়ে পরের মাসে বাড়িওয়ালা ছাদের রেলিং-এর কাজ শুরু করল। সিঁড়ির কাজেও হাত দেয়া হলো। কাজ শেষ হতে হতে একমাসের কিছু বেশি সময় লেগে গেল। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল অবিশ্বাস্য সব ঘটনা।

    দিন তারিখ মনে নেই কারও। সময়টা ছিল বর্ষাকাল। সারাদিন বৃষ্টি হওয়ার পর একটুখানি ধরে এসেছিল কেবল। মেঘলা আকাশের কারণে বিকেলটাকে মনে হচ্ছিল সন্ধ্যা। অফিসের কাজে নারায়ণগঞ্জ গিয়েছিল জয়নাল। ফিরতে ফিরতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। অন্ধকার সিঁড়ি ভেঙে ওপরে ওঠার সময় হঠাৎ সে থমকে দাঁড়াল। তার মনে হলো কেউ একজন তার সঙ্গে উপরে উঠছে। সে জানতে চাইল, ‘কে ওখানে?’

    কেউ কোন জবাব দিল না। জয়নাল পকেট থেকে লাইটার বের করল। জায়গাটা বেশি সুবিধার নয়। দিনে দুপুরেও চুরি ডাকাতি হয়। গত সপ্তাহেই পাশের বাড়ির ইসমাইল সাহেবের টু-ইন-ওয়ান চুরি গেছে।

    লাইটার জ্বেলে কোন কিছু পাওয়া গেল না। জয়নাল লাইটার নিভিয়ে ফেলল। তার মনের অস্বস্তি দূর হলো না। কালকেই বাড়িওয়ালাকে বলতে হবে সিঁড়িতে বাতি লাগানোর জন্যে।

    ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার উঠতে শুরু করল সে। সাথে সাথে সেই শব্দটাও শুনতে পেল আবার। একজোড়া পায়ের শব্দ। যেন কেউ সিঁড়ি ভেঙে উঠে আসছে তার পেছনে পেছনে। একটা নিঃশ্বাসের শব্দও যেন শুনতে পেল। জয়নাল গলা চড়িয়ে দ্বিতীয়বারের মত জানতে চাইল, ‘কে ওখানে?’

    এবারও কোন জবাব এল না।

    পরের দিন বাড়িওয়ালাকে সবকিছু খুলে বলল জয়নাল। বাড়িওয়ালা হেসেই উড়িয়ে দিল। বলল, ‘এ বাড়ির ত্রিসীমানায় কারও ঢোকার সাহস নেই। হয়তো অন্ধকারে বেড়াল-টেড়াল হাঁটতে শুনেছেন। আমি এখনই সিঁড়িতে বাতি লাগানোর ব্যবস্থা করছি।’

    বাড়িওয়ালা সিঁড়িতে একশো পাওয়ারের বাল্ব লাগিয়ে দিল। জয়নাল পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারল না। তার মনে হতে লাগল, বাড়িওয়ালা কিছু একটা চেপে যাচ্ছে।

    সেদিন দুপুর। জয়নাল বাসায় নেই। বাচ্চা দুটো গেছে স্কুলে। সুরভি একা একা শোবার ঘরে উপন্যাস পড়ছিল। দুপুরবেলার এই সময়টা ওর সহজে কাটতে চায় না। কেমন একঘেয়েমি লাগে।

    পড়তে পড়তেই সুরভি টের পেল ঘরের ভেতর আলো কমে আসছে। চট্‌ করে ঘড়ির দিকে তাকাল ও। বেলা দুটো বেজে দশ। এ সময় আলো কমে আসার কোন কারণ নেই। জানালা দিয়ে আকাশ চোখে পড়ছে। ঝকঝকে আকাশ। মেঘের ছিটেফোঁটাও নেই। তা হলে?

    আলো কমতে কমতে একেবারে অন্ধকার হয়ে গেল কামরা। বইয়ের অক্ষর দূরের কথা, নিজের হাতও দেখা যাচ্ছে না। হতবাক সুরভি বাতি জ্বালানোর জন্য সুইচ টিপল। কিন্তু বাতি জ্বলল না। সম্ভবত কারেন্ট ফেইলিওর। সুরভি দরজা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে এল।

    বারান্দায় ঘুটঘুটে অন্ধকার। ডানে-বাঁয়ে কোন কিছু নজরে আসছে না। অনুমানের ওপর সামনে এগোল সুরভি। উদ্দেশ্য ড্রইংরুম। রিচার্জেবল ল্যাম্পটা ওখানেই।

    এক ঝলক গরম বাতাস লাগল সুরভির চোখে মুখে। সেই সাথে অদ্ভুত একটা শব্দ শুনতে পেল। গোঙানির শব্দ। হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে এল সুরভির।

    কাজের ছেলে লিয়াকত বাজারে গিয়েছিল। ফিরে এসে দেখে সিঁড়ির কাছে হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে আছে সুরভি। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত গড়াচ্ছে।

    ‘চোখের ভুল, নিশ্চয়ই চোখের ভুল,’ জোর দিয়ে বলল বাড়িওয়ালা।

    ‘কিন্তু দিনের বেলায় আলো কমে যাওয়া…’

    ‘আকাশে মেঘ ছিল ‘হয়তো।’

    ‘ও যে বলল…

    ‘তিনি জানালা দিয়ে একদিকের আকাশ দেখেছেন, অন্য দিকের আকাশ দেখেননি।’

    ‘গোঙানির শব্দ…’ হাল ছাড়ল না জয়নাল।

    ‘নিশ্চয়ই কোন বাচ্চার কান্না।’

    ‘অসম্ভব। বাচ্চা দুটো ছিল স্কুলে।’

    বাড়িওয়ালা হাসল। ‘আপনার বাচ্চা দুটো ছিল স্কুলে। কিন্তু আশপাশের সবগুলো বাচ্চা স্কুলে ছিল না। তাদের মধ্যেই কেউ…’

    ‘আমার মিসেস সুইচ টিপল, অথচ বাতি জ্বলল না।’

    ‘কারেন্ট ফেইলিওর,’ বলল বাড়িওয়ালা। ‘ইদানীং প্রায়ই হচ্ছে।’

    ‘সিঁড়ির গোড়ায় ছায়ামূর্তি দেখা…’

    ‘আপনাদের কাজের লোক, কী যেন নাম, মনে পড়েছে…লিয়াকত, ও-ই হতে পারে। আপনিই তো বললেন, ঘটনার পরপরই লিয়াকত এসে ঢোকে।’

    ‘কিন্তু পেছন থেকে ধাক্কা দেয়া…’

    ওনার ব্রেইন উত্তেজিত ছিল। এ অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে গেছেন।’ পানের পিক ফেলল বাড়িওয়ালা।

    বাড়িওয়ালার স্ত্রীর নাম নাসিমা আকতার। শ্যামলা, মোটাসোটা মহিলা। সারাক্ষণ পান খেয়ে মুখ লাল করে থাকে। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। বাড়িওয়ালার স্ত্রীরা খুব অহঙ্কারী হয়ে থাকে বলে শোনা যায়। কথাটা ঠিক নয়। নাসিমা আকতার বেশ মিশুক ও হাসিখুশি মহিলা। প্রথম পরিচয়েই তাকে ভাল লেগে গেল সুরভির।

    বাড়িওয়ালার তিন মেয়ে। কোন ছেলে নেই। দু’মেয়ের বিয়ে হয়েছে। সেই দু’জন স্বামীসহ বাহরাইন থাকে। প্রতি মাসে চিঠি লেখে। সবচেয়ে ছোট মেয়ে নীপা ইডেন কলেজে পড়ে। সেকেন্ড ইয়ার।

    কথায় কথায় নাসিমা আকতার জানাল, একটি ছেলের খুব শখ ছিল তাদের। প্রচণ্ড শখ।

    ‘সময় তো চলে যায়নি,’ কিছু না ভেবেই বলল সুরভি।

    নাসিমা আকতারের চেহারা কালো হয়ে গেল। এই পরিবর্তন সুরভির দৃষ্টি এড়াল না।

    ‘কী হয়েছে, ভাবী?’

    ‘না, কিছু হয়নি।’ নাসিমা আকতার উঠে গেল।

    .

    সেদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে হঠাৎ ইলিয়াসের সাথে দেখা। জয়নাল প্রথমে চিনতে পারেনি। ইলিয়াসের মুখ ভর্তি দাড়ি গোঁফ। সাইজেও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। পেছন থেকে জয়নালকে জাপটে ধরল ইলিয়াস।

    ‘আরে, দোস্ত! তুই?’

    জয়নালের মুখ দিয়ে কথা সরল না। ইলিয়াস তার স্কুল জীবনের বন্ধু। দেখা হয় না প্রায় এক যুগ। মাঝখানে শুনেছিল ব্যাটা জার্মানী চলে গেছে।

    ‘কোথায় আছিস এখন?’ জানতে চাইল ইলিয়াস।

    ‘একটা কনস্ট্রাকশন ফার্মে আছি। ফকিরাপুল। তুই?’

    ‘বাসার ঠিকানা দে,’ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বলল ইলিয়াস।

    ছোট্ট একটা কাগজে বাসার ঠিকানা লিখে দিল জয়নাল। কাগজটার দিকে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে উঠল ইলিয়াসের।

    ‘বাড়ির নাম কি তাহেরা মঞ্জিল?’

    ‘হ্যাঁ। কেন?’

    ‘বাড়িওয়ালার নাম কি মুসা?’

    মাথা ঝাঁকাল জয়নাল। ‘এ.টি.এম. মুসা।

    ‘কতদিন ধরে আছিস ওখানে?’

    ‘প্রায় দু’মাস। কেন?

    গলা খাদে নামিয়ে ফেলল ইলিয়াস। জয়নালের কানে কানে ফিসফিস করে বলল, ‘পালা। পালিয়ে যা ওখান থেকে।’

    ইলিয়াসের গলার মধ্যে এমন কিছু ছিল, গায়ের সমস্ত লোম দাঁড়িয়ে গেল জয়নালের। সামলে উঠতে সময় লাগল তার।

    ‘এ কথা বলছিস কেন?’ জানতে চাইল সে।

    অনেকক্ষণ ধরে হর্ন দিচ্ছিল একটা গাড়ি ওদের পেছন থেকে। এবার গাড়ির দরজা খুলে গেল। অল্প বয়সী একটা ছেলের চেহারা উঁকি দিল ভেতর থেকে। ব্যস্ত হয়ে উঠল ইলিয়াস।

    ‘দেরি হয়ে যাচ্ছে, দোস্ত। আমি যাই।’ গাড়ির দিকে রওনা হলো সে।

    খপ করে ইলিয়াসের একটা হাত চেপে ধরল জয়নাল। ‘ফুটানির জায়গা পাও না, না? কেবল অন্যের বাসার ঠিকানা নিয়েই খালাস?’

    দাঁত দিয়ে জিভ কামড়ে পকেট থেকে একটা কার্ড বের করল ইলিয়াস। বাড়িয়ে ধরল জয়নালের দিকে। বলল, ‘সময় করে আসিস।’

    ‘গাড়িতে ওরা কারা?’

    ‘বিজনেস পার্টনার। ‘অল্পবয়েসী ওটা কে?’

    কিছু বলার জন্যে মুখ খুলল ইলিয়াস। কিন্তু বলল না। ঘুরে দাঁড়িয়ে হাঁটতে লাগল গাড়ির দিকে। যেতে যেতে বলল, ‘বাসায় আসিস। তোর বউকেও নিয়ে আসিস। তখন কথা হবে।’

    সাঁই করে নাকের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেল ইলিয়াসের মিটসুবিশি জি এক্স। ভিজিটিং কার্ডের ওপর চোখ বুলিয়ে বোকা বনে গেল জয়নাল।

    কার্ডটা ইলিয়াসের নয়, অন্য কারও। নিশানাথ চক্রবর্তী নামক একজন ভারতীয় আইনজীবীর নাম লেখা আছে। ঠিকানাটাও পশ্চিমবঙ্গের: ৪১ ফ্রী স্কুল স্ট্রীট, কলিকাতা। কোন সন্দেহ নেই, ভুল করে অন্য লোকের কার্ড ধরিয়ে দিয়েছে ব্যাটা।

    হাঁটতে শুরু করল জয়নাল। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজটা দ্রুত সেরে ফেলতে হবে।

    .

    সপ্তাহে দু’দিন পপি-রিমিদের স্কুল থাকে না। সুরভির ভোগান্তি তখন বেড়ে যায়। বাচ্চা দুটোকে চোখে চোখে রাখাও একটা ভোগান্তি। যদিও সিঁড়িতে-ছাদে রেলিং লাগানো হয়েছে, কিন্তু বিপদের কি কোন বাপ-মা আছে?

    সমস্যা হলো লিয়াকত বাচ্চা দুটোকে একদম সামলাতে পারে না। ওদের ঘুম পাড়াতে গিয়ে নিজেই ঘুমিয়ে পড়ে। গতকাল মেয়ে দুটো লিয়াকতকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে ছাদে চলে গিয়েছিল। সুরভি এখনও শিউরে ওঠে ভাবলে। ভাগ্যিস ছাদে গিয়েছিল। যদি সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে যেত?

    ছুটির দিনগুলোতে জয়নাল বাচ্চাদের সাথে নাস্তা করে। দুপুরেও একসাথে খায়। আজকের দিনটি ব্যতিক্রম। সে আগেভাগে বলে দিয়েছে দুপুরে ফিরবে না। তাই পপি-রিমি সকাল সকাল লাঞ্চ করতে বসেছে। সকাল সকাল লাঞ্চ করার পেছনে অন্য কারণও আছে। আজকে সুরভি ওদের নেপচুন থিয়েটারে নিয়ে যাবে। বাচ্চাদের জন্য একটা কমেডি ছবি এসেছে, খুব নাকি মজার।

    ওদের জামা পাল্টে দিয়ে ইস্ত্রী করা নতুন জামা পরাল সুরভি। চুল আঁচড়ে দিল। তারপর নিজে কাপড় পাল্টানোর জন্য শোবার ঘরে ঢুকল। লিয়াকতকে বলল ওদের নিয়ে ড্রইং রুমে খেলতে।

    ড্রইং রুমে যেতে হলে সিঁড়ির পাশ দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। জায়গাটা পেরিয়ে যাবার সময় হঠাৎ পপি লিয়াকতের কানে কানে বলল, ‘আমি তোমাকে ধাক্কা দিই?’

    পপির বলার ভঙ্গিতে এমন কিছু ছিল, রীতিমত চমকে উঠল লিয়াকত। ঢোক গিলে বলল, ‘ধাক্কা দিলে পড়ে যাব তো, সোনামণি।’

    ‘পড়ে গেলে অসুবিধা কী?’ আহ্লাদী গলায় বলল পপি।

    পড়ে গেলে অসুবিধা কী মানে? লিয়াকতের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে এল। বলে কী হারামজাদী? লাফ দিয়ে সিঁড়ির কাছ থেকে সরে যেতে চাইল সে। কিন্তু পারল না। মনে হলো, কেউ তাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে ওখানে।

    ‘পড়ে গেলে কোন অসুবিধা নেই,’ সুর করে বলল পপি। ওকে সমর্থন করল রিমি। সে-ও তোতাপাখির মত বলল, ‘পড়ে গেলে কোন অসুবিধা নেই।’ লিয়াকতের পেছনে এসে দাঁড়াল ওরা দু’জন। আছড়ে-পাছড়ে নিজেকে সরিয়ে নেবার চেষ্টা করল লিয়াকত। কিন্তু একচুল নড়তে পারল না। সাঁড়াশীর মত একজোড়া হাত পেছন থেকে জাপটে ধরল ওকে। এই হাত কার? পপির? রিমির? অসম্ভব।

    লিয়াকত আয়াতুল কুরসী পড়তে লাগল।

    পেছন থেকে ফিসফিস করে কেউ বলল, ‘কোন অসুবিধে নেই। তোমাকে ধরার জন্যে নীচে একজন দাঁড়িযে আছে, দেখো।’

    সিঁড়ির দিকে তাকাল লিয়াকত। ঘাড়ের কাছে সবগুলো চুল দাঁড়িয়ে গেল ওর। ইয়া মাবুদ! ইয়া রাব্বুল আলামিন! ওটা কী? ওপরের দিকে উঠে আসছে ওটা কী?

    পেছন থেকে একজোড়া হাত লিয়াকতকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল নীচে।

    শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে হাঁক ছাড়ল সুরভি।

    ‘পপি! রিমি! তোমরা কোথায়?’

    কেউ কোন জবাব দিল না। মনে মনে লিয়াকতের মুণ্ডুপাত করল সুরভি। নিশ্চয়ই মেয়ে দুটোকে নিয়ে ছাদে চলে গেছে।

    শোবার ঘরের ব্যালকনি থেকে ছাদের প্রায় সবটুকু দেখা যায়। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কাউকে দেখল না সুরভি। তবুও গলা চড়িয়ে আরেকবার ডাকল। প্রতিধ্বনি যেন ব্যঙ্গ করল তাকে।

    কাঁপা কাঁপা হাতে কপালের ঘাম মুছল সুরভি। বুকের ভেতরটা ঢিব ঢিব করছে। কেউ কোন সাড়া দিচ্ছে না কেন? লুকোচুরি খেলছে ড্রইং রুমে?

    ড্রইং রুমে যাওয়ার পথে একটা অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ল ওর। দেখল, পপি ও রিমি সিঁড়ির গোড়ায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। মাথা দুটো ঈষৎ ঝুঁকে আছে সামনে। কী দেখছে ওরা? অমন আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেন? লিয়াকত কোথায়?

    ‘এই, কী দেখছিস?’ মেয়ে দুটোর কাঁধে হাত রাখল সুরভি।

    কেউ কোন জবাব দিল না। সুরভির পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভয়ের ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে গেল। মেয়ে দুটোর শরীর এমন শক্ত কেন? মনে হচ্ছে পাথরের গা। পলকহীন চোখে কী দেখছে ওরা সিঁড়িতে?

    সুইচ টিপে সিঁড়ির বাতি জ্বালল সুরভি।

    .

    নিশানাথ চক্রবর্তীর ভিজিটিং কার্ডের ওপর হাতে লেখা একটি টেলিফোন নম্বর পেল জয়নাল। অকূল সমুদ্রে যেন খড়কুটো পেল। হাতের লেখাটা ইলিয়াসের। কাজেই ফোন নম্বরটাও হয়তো ওর পরিচিত কারও। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে ওর নিজেরও হতে পারে।

    টেলিফোন নম্বরটা ইলিয়াসের নয়। ইলিয়াসের কোন বন্ধুরও নয়। একটি বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির। তবে কোম্পানিটি ইলিয়াসের সুপরিচিত। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গড়গড় করে ইলিয়াসের টেলিফোন নম্বর জয়নালকে জানিয়ে দিল।

    টেলিফোন পেয়ে অনেকক্ষণ হো-হো করে হাসল ইলিয়াস। হাসি যেন থামতেই চায় না।

    ‘তোর হাসি অসহ্য লাগছে,’ ধমকে উঠল জয়নাল। ‘দয়া করে থাম।’

    ‘বিলিভ ইট অর নট, আজকে সন্ধ্যায় তোর বাসায় যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলাম।’

    ‘চাপাবাজি রাখ।’

    ‘ধানমণ্ডি গিয়ে টের পেলাম, তোকে ভুল করে অন্য কার্ড দিয়ে দিয়েছি।’ আবার হাসতে শুরু করল ইলিয়াস।

    ‘আমি রিসিভার নামিয়ে রাখছি,’ বলল জয়নাল। ‘তোর কথা অনুযায়ী তুই সন্ধ্যায় আমার বাসায় আসছিস। বউসহ। তখন বিস্তারিত আলাপ হবে।’

    ‘জাস্ট এ মিনিট,’ বলল ইলিয়াস। ‘তুই যে বিষয়ে আলাপ করতে চাইছিস, তা ওই বাসায় করা যাবে না।’

    ‘কেন?’

    ‘পরে বলব।’

    ‘কোথায় করা যাবে তা হলে?’

    ‘তুই সোজা ধানমণ্ডি ২৮ নং রোড ধরে আয়। একদম সোজা। আমি তোকে বুঝিয়ে দিচ্ছি…’

    .

    লিয়াকত মারা গেল একদিন পরে। ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। ডাক্তারী রিপোর্টে বলা হলো: মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত মৃত্যু।

    পুলিশ কয়েকদফা জেরা করল সুরভিকে। জেরা করল জয়নালকেও। কিন্তু কোন কিছু উদ্ধার করতে পারল না। ছোট ছোট দুটি বাচ্চা ধাক্কা দিয়ে লিয়াকতকে ফেলে দিয়েছে-এটাও বিশ্বাসযোগ্য মনে হলো না। পুলিশ তাদের ডায়েরীতে একটা ইউ.ডি. কেস লিখে রাখল।

    .

    ‘পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’ চায়ের কাপে চুমুক দিল ইলিয়াস। ‘খামোকা সময় নষ্ট করবে।’

    ‘কেন পারবে না?’ জানতে চাইল জয়নাল।

    ‘কারণ, এটা পুলিশের কেস নয়।’

    ‘তা হলে? এটা কার কেস?’

    ‘কার কেস বলতে পারব না। ভূত-প্রেত নিয়ে কারা ডিল করে আমি জানি না।’

    ‘তুই কি আমার সাথে ইয়ার্কি করছিস?’

    ‘ইয়ার্কি করব কেন?

    ‘ভূত-প্রেত বিশ্বাস করিস নাকি?’

    ‘না।’

    ‘তা হলে?’

    ‘তোকে যতক্ষণ ধাক্কা দেয়নি, ততক্ষণ তুই ব্যাপারটা বুঝবি না। একবার ধাক্কা খেলেই বুঝবি ভূত-প্রেত বিশ্বাস অথবা অবিশ্বাস করার জন্য হাতে সময় কত কম থাকে।’

    ‘হ্যাঁ-হ্যাঁ,’ জোর গলায় সমর্থন জানাল সুরভি। ‘একদম সময় দেয় না।’

    ‘কারা সময় দেয় না?’ মহা বিরক্ত হলো জয়নাল।

    ‘ওই…মানে…ওরা আর কী।’ ইলিয়াসের দিকে আঙুল দেখাল সুরভি। ‘উনি যাদের কথা বললেন।’

    বোকার মত কথা বোলো না। ভূত-প্রেত বলে কিছু নেই।’

    ‘আমাকে ধাক্কা দিল কে তা হলে?’

    ‘তোমাকে কেউ ধাক্কা দেয়নি। তুমি এমনি এমনি পড়ে গেছ।’

    ‘বাহ্! এমনি এমনি পড়ে যাব কেন?’

    ‘কারণ, তোমার ব্রেইন উত্তেজিত ছিল।’

    ‘জাস্ট এ মিনিট,’ বলল ইলিয়াস। ‘দেখা যাচ্ছে ওই সিঁড়ির কাছে এলেই সবার ব্রেইন উত্তেজিত হয়। বিষয়টা কী?’

    ‘সবার কথা আসছে কেন?’ ভুরু কুঁচকে তাকাল জয়নাল।

    ‘তুই যখন সিঁড়িতে অশরীরী পায়ের আওয়াজ শুনেছিলি, তখন কি তোর ব্রেইন ঠিক ছিল?’

    ‘ঠিক থাকবে না কেন?’

    গলা ছেড়ে হাসল ইলিয়াস। ‘তোর লজিক এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। একটু আগেই বলেছিস, ভূত-প্রেত বলে কিছু নেই।’

    কপালের ঘাম মুছল জয়নাল। তাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে বয়স বেড়ে গেছে।

    ব্যালকনিতে চেয়ার পেতে বসেছে ওরা। ডিনার সেরেছে একটু আগে। খোলা বাতাসে চুল উড়ছে তিনজনেরই। আকাশে গোল থালার মত চাঁদ। পূর্ণিমা না হলেও তার কাছাকাছি কিছু একটা হবে। কারেন্ট চলে যাওয়ায় বেশ ভাল লাগছে পরিবেশটা। একটা গ্রাম-গ্রাম ভাব চলে এসেছে। ধানমণ্ডির এই এলাকায় কারেন্ট চলে গেছে পনেরো মিনিট আগে।

    সিগারেটের ছাই ঝাড়ল জয়নাল। ‘তোর কি ধারণা, ওই সিঁড়িতে কিছু একটা আছে?’

    মাছি তাড়ানোর ভঙ্গি করল ইলিয়াস। ‘ওসব বাদ দে। অন্য কিছু বল। তোদের বিয়ের গল্প বল। ভাবীর সাথে কি পূর্ব পরিচয় ছিল?’

    ‘তুই সেদিন আমাকে ওই বাসা থেকে পালিয়ে যেতে বললি কেন?’ হিস হিস করে বলল জয়নাল।

    ‘এমনি বলেছিলাম।’

    ‘মিথ্যে কথা। তুই কিছু একটা চেপে যাচ্ছিস।’ ইলিয়াসের দিকে তর্জনী তাক করল জয়নাল। ‘ওই সিঁড়ি সম্পর্কে কী জানিস বল।’

    ওই সিঁড়ি সম্পর্কে কিছুই জানি না। বিলিভ ইট অর নট।’ জয়নালকে রেগে উঠতে দেখে তাড়াতাড়ি যোগ করল ইলিয়াস, ‘তবে আমি একটা গল্প জানি। অদ্ভুত গল্প। তোর সিঁড়ির সাথে এটার কোন সম্পর্ক থাকতেও পারে। শুনবি নাকি?’

    ‘বল।’

    ইলিয়াস পায়ের ওপর পা তুলে বসল। ‘তখন মাত্র বিয়ে করেছি। মেহেদীর আমেজ পুরোপুরি কাটেনি। ওই অবস্থায় চাকরি পেয়ে গেলাম একটা এনজিও-তে। অফিস ঢাকায়। বউ ফেলে রেখে জয়েন করতে চলে এলাম। সময়টা ছিল ১৯৮১ সাল।

    ইলিয়াসকে থামিয়ে দিল জয়নাল। ‘এ-ই তোর গল্প?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘এটা তোর ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা। গল্প হবে কেন?’

    ‘গল্প বলছি এ কারণে যে, আজ পর্যন্ত বহু লোকের কাছে এই ঘটনা বলেছি। পুলিশকেও বলেছি। কাউকে বিশ্বাস করাতে পারিনি। সবার ধারণা এটা গল্প। একটু পরে তোদেরও এই ধারণা হবে।’

    ‘ঠিক আছে, বল।’

    ‘নতুন নতুন বিয়ে করলে ছেলেরা বাসা থেকে বের-টের হয় না। সন্ধ্যা সাতটার পরে বাসায় মেহমান এলে বিরক্ত হয়। একটু পর পর ঘড়িতে সময় দেখে। হাই তোলে। অফিসের টেলিফোন ঘনঘন এনগেজড পাওয়া যায়। আমার বেলায় সেরকম কিছু হলো না। সদ্য বিবাহিত একজন লোকের চাকরি জীবন শুরু হলো ব্যাচেলারের মত।’

    সুরভি হাসি চাপতে গিয়ে বিষম খেল। জয়নাল বলল, ‘তারপর? বউ নিয়ে এলি?’

    ইলিয়াস হাসল। ‘বউ নিয়ে এলে কি আজ তোদের বাবুর্চির রান্না খাওয়াই?’

    ‘তা হলে?’

    ‘সবকিছু ঠিকঠাক করে ওকে নিয়ে আসব, এ সময় ছোট্ট একটি ঘটনা ঘটল। সেই ঘটনাই হলো আমার গল্প।

    ‘এর সাথে সিঁড়ির কী সম্পর্ক?’ জানতে চাইল জয়নাল।

    ‘আছে, সম্পর্ক আছে। গল্প শুনলে বুঝতে পারবি। সিগারেট চলবে?’

    ‘দে।’

    সিগারেটের প্যাকেট এগিয়ে দিল ইলিয়াস। নিজেও একটা নিল।

    ‘ঢাকায় বাসা পাওয়া যে কী ঝক্কি তা হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। সস্তা দামের হোটেলে থাকি, সারাদিন অফিস করি আর সন্ধ্যাবেলায় বাসা খুঁজে বেড়াই। এরকম ঘুরতে ঘুরতে একদিন স্টেডিয়াম মার্কেটে নাসিমা আপার সাথে দেখা।’

    ‘কার সাথে?’ নড়ে চড়ে বসল সুরভি।

    ‘নাসিমা আপার সাথে। ভাল নাম নাসিমা আকতার। আপনাদের বাড়িওয়ালার স্ত্রী।’

    ‘আগে থেকে চিনতেন?’

    ইলিয়াস হাসল। ‘নাসিমা আপা আমার দূর-সম্পর্কীয় কাজিন। বয়সে দু’বছরের বড়। শৈশবের খেলার সাথী।’

    ‘তারপর?’

    ‘নাসিমা আপার সাথে আপনাদের বাড়িওয়ালা…কী যেন নাম…এ.টি.এম. মুসাও ছিল। লোকটাকে আগে দেখিনি। আমি থাকার জন্য বাসা খুঁজছি জানতে পেরে সে নিজেই জানাল সে বাসা ভাড়া দেবে। আমি বোকার মত রাজি হয়ে গেলাম।’

    সিগারেটের ছাই ঝাড়ল ইলিয়াস। ‘দু’নম্বর ভুলটা করলাম নাসিমা আপার সাথে মাখামাখি করে। নাসিমা আপা ছিল আমার বড় বোনের মত। আমি ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি যে, এ.টি.এম. মুসা আমাকে সন্দেহ করছে।’

    জয়নালের চোখের দৃষ্টি আরেকটু তীক্ষ্ণ হলো।

    ‘একদিনের ঘটনা বলি। এ.টি.এম. মুসা গেছে টাঙ্গাইল। বাসায় নাসিমা আপা একা। কাজের ছেলেটি এসে খবর দিল নাসিমা আপার খুব জ্বর। আমি কোন কিছু না ভেবেই সিঁড়ি ভেঙে ওপরের দিকে ছুটলাম।

    সিগারেটে লম্বা করে টান দিল ইলিয়াস।

    ‘জ্বর ছিল ঠিকই, কিন্তু খুব বেশি ছিল না। আমি কাজের ছেলেটিকে ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে নাসিমা আপার পাশে বসলাম। একটা হাত রাখলাম কপালে। এই সময় এ.টি.এম. মুসা এসে ঢুকল।’

    ব্যালকনিতে পিনপতন নিস্তব্ধতা। কারও মুখে কোন কথা নেই।

    পরের মাসে নাসিমা আপার একটি ছেলে হলো। চাঁদের মত ফুটফুটে ছেলে। বেচারির খুব শখ ছিল ছেলের। বাড়িওয়ালারও। কিন্তু খুশি হতে পারল না কেউ। বাড়িওয়ালার চেহারা আবলুস কাঠের মত হলেও এই ছেলের গায়ের রঙ হলো ফরসা। চিবুকের কাছে একটি তিল।’

    অন্ধকারে নিঃশ্বাস নিল সুরভি। চাঁদের আলোয় ইলিয়াসের ফর্সা চেহারা চিকচিক করছে। তিলটাও।

    ‘বছর না ঘুরতেই ছেলেটা মারা গেল। কীভাবে মারা গেল বলতে পারি না। শুনেছি হামাগুড়ি দিয়ে সিঁড়ি থেকে নীচে পড়ে গেছে।’

    ‘তুই তখন কোথায়?’ জানতে চাইল জয়নাল।

    ‘অফিসে।’

    ‘আর তোর বউ?’

    ‘লালমণিরহাট।’

    ‘লালমণিরহাট কেন?’

    ‘ও তখন চাকরি করছে একটা স্কুলে। বেসরকারী স্কুল। চাকরির খুব শখ ছিল জোবেদার। আমিও না করিনি।’

    সিগারেট নিভিয়ে ফেলল ইলিয়াস। তারপর চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজল।

    ‘তারপর?’ ধৈর্য হারিয়ে ফেলল সুরভি।

    ‘তারপর কী হলো?’ জানতে চাইল জয়নাল।

    ঘড়ি দেখল ইলিয়াস। ‘বাসায় যাবি না? রাত এগারোটা বাজে।’

    ‘বাসার গোষ্ঠী উদ্ধার করি, ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল জয়নাল। ‘তারপর কী হলো?’

    .

    তারপর আর কী হবে? পরের সপ্তাহে অফিসের কাছাকাছি একটা ফ্ল্যাটে চলে এলাম। ফ্ল্যাট খালি হয়েছিল আগেই। কিন্তু তাহেরা মঞ্জিল ছেড়ে যাব কি-না সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না।’

    ইলিয়াস জগ থেকে পানি ঢেলে ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি খেল। কারেন্ট চলে এল এ সময়।

    ‘তাহেরা মঞ্জিলের সাথে ওটাই আমার শেষ সাক্ষাৎ।’

    ‘নাসিমা আপার সাথেও?’ জানতে চাইল সুরভি।

    ‘নাসিমা আপার সাথেও।’

    জয়নাল তীক্ষ্ণ চোখে ইলিয়াসের দিকে তাকাল। ‘তোর কি মনে হয় না এটা একটা মার্ডার কেস?’

    ‘মনে না হওয়ার কী আছে? এটা তো পানির মত পরিষ্কার।’ ইলিয়াস আরেকটা সিগারেট ধরাল। ‘মজার কথা কি জানিস?’ বাড়িওয়ালা আজ পর্যন্ত একবারও ছেলের কবর দেখতে যায়নি।’

    ‘বলিস কী?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘পুলিশকে জানিয়েছিলি?’

    ‘না।’

    ‘কেন?’

    ‘ওখানেই তো সমস্যা। আমি যখনই পুলিশকে জানানোর জন্য থানায় যাই, আমার সাথে সাথে ওই ছেলেটাও যায়। পা জড়িয়ে থামানোর চেষ্টা করে।’

    ‘কোন্ ছেলেটা?’ চমকে উঠল জয়নাল।

    ‘বাড়িওয়ালার সেই ছেলেটা!’

    ‘মরা ছেলেটা?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘অসম্ভব।’

    ‘একটা কথা তখন বলা হয়নি। আমি যেদিন ওই বাসা ছেড়ে চলে আসি, আমার সাথে সাথে সেই ছেলেটাও চলে আসে।’

    ‘অসম্ভব।’

    ‘দিনের বেলায় মাঝে মাঝে ও বাড়ির সিঁড়িতে খেলতে যায়। লোকজনের সাথে মজা করে,’ বলল ইলিয়াস। যেন জয়নালের কথা তার কানেই ঢোকেনি ‘আবার রাতের বেলায় ফিরে আসে।’

    ‘তোকে থানায় যেতে বাধা দেয় কেন?’

    ‘ওর বিশ্বাস, মামলা হলে বাবার ফাঁসি হয়ে যাবে। তখন মা-কে কে দেখবে?’

    জয়নাল স্তম্ভিত হয়ে গেল। ইলিয়াসের মাথা যে পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে, তাতে কোন সন্দেহ রইল না।

    ‘সে কি রোজ রাতেই এখানে আসে?’ জানতে চাইল সে।

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘আজ আর আসবে না, তাই না?’ জয়নালের গলায় বিদ্রূপ।

    ইলিয়াস শব্দ করে হাসল। ‘আমি গোড়াতেই বলেছি আমার এই গল্প কেউ বিশ্বাস করে না। তোরাও করবি না। যদি ছেলেটিকে এনে হাজির করি, তা হলেও না।’

    ‘কেন?’

    ‘আগেও বহু লোকের সামনে তাকে হাজির করেছি। কোন লাভ হয়নি। ওরা তো বাড়িওয়ালার মরা ছেলেটাকে দেখেনি। কী প্রমাণ আছে এই ছেলেই সেই ছেলে?’

    সুরভি হঠাৎ চিৎকার করে উঠল। ‘আমি দেখেছি। আমি চিনতে পারব। তাকে হাজির করুন।’

    জয়নাল আশ্চর্য হয়ে গেল। ‘কোথায় দেখেছ?’

    ‘নাসিমা আপার কামরায়,’ বলল সুরভি। ‘দেয়ালে টাঙানো ছবিতে।’

    ইলিয়াস আবারও হাসল। যেন খুব মজা পেয়েছে।

    ‘তাকে তো আপনি একটু আগেই দেখেছেন। চিনলেন না কেন?’

    ‘কোথায়?’ চমকে উঠল সুরভি।

    ‘একটু আগে যে সিগারেট দিয়ে গেল?’

    খানিকক্ষণ কেউ কোন কথা বলতে পারল না।

    ‘অন্ধকার ছিল,’ অবশেষে বলল সুরভি। ‘এখন কারেন্ট এসেছে। ব্যালকনির বাতিটা জ্বালান। তারপর ডাকুন।’

    ব্যালকনির বাতিটা জ্বালল ইলিয়াস। তারপর বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাকে যেন ডাকল।

    সময় দাঁড়িয়ে গেল স্তব্ধ হয়ে।

    সিঁড়ি বেয়ে একজোড়া কচি পায়ের শব্দ এগিয়ে আসছে।

    শাহেদ ইকবাল

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Our Picks

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }