Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প204 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. সপ্তাহখানেক পরের কথা

    সপ্তাহখানেক পরের কথা।

    মহিম সারা নয়নপুর ও তার আশেপাশে আঁতিপাতি করে খুঁজল কুঁজো কানাইকে। কিন্তু কোথাও দেখা পেল না তার। না, এতে নয়নপুরের বুকে কোনও দুশ্চিন্তা, তার চলতি জীবনে কোনও ব্যতিক্রমই দেখা দেয়নি। শুধু মহিমের ঘুচেছে নাওয়া-খাওয়া, চোখে মুখে অনুক্ষণ দুশ্চিন্তা, বুকের মধ্যে এক অজানা শঙ্কা তাকে বড় মুষড়ে দিয়েছে; কুঁজো কানাইয়ের প্রাণের হদিস্ তো আর কারও জানা নেই! সকলের চোখে সে জানোয়ারের সামিল। জানোয়ারের আবার প্রাণ কীসের! সত্য, কুঁজো কানাইয়ের কিছু নেই, তবু আর দশজনের হিসেবনিকেশ যে তারও হিসেবনিকেশ। সুখ দুঃখ ভাল মন্দ সব কিছুতে আর দশজনের চেয়ে তার প্রাণের বোধ যে আরও বেশি। তার প্রাণের শিশু-বৃদ্ধের যুগপৎ বিচিত্র খেলা আর কেউ না জানুক, মহিম তো জানে। আর জানে বলেই তার উৎকণ্ঠা।

    মালাপাড়ার নামকরা সুন্দরী মেয়ে সে কালু মালার মেয়ে। টাকার লোভে কালু মেয়ে দিয়েছিল ঘাটের দিকে এক-পা বাড়ানো এক বুড়োকে। তাইতেই কুঁজে কানাইয়ের ক্ষোভের অন্ত ছিল না। মহিমকে এসে বলেছিল, পিশাচ শুধু নয়নপুরের শ্মশানেই থাকে না, ঘরেও থাকে।

    এই ক্ষোভই একদিন ফেটে পড়েছিল কুঁজো কানাইয়ের–যেদিন চোখের সামনে দেখল, সেই মেয়েকে তার বুড়ো সোয়ামী এলোপাথারি পিটছে। ছুটে এসে তার সেই মস্ত হাত দিয়ে বুড়োকে সাপটে ধরে সে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল উঠোনে, বুড়ো হারামজাদা, তোর ওই নোনাধরা, ও পোড়া কাঠের হাতে ঠ্যাঙা কচি মেইয়াটারে। …মালা পাড়ার মালারা সেদিন বেধড়ক মার দিয়ে বার করে দিয়েছিল কুঁড়ো কানাইকে।

    কানাই এসে মহিমাকে বলেছিল, মোরে বেড়ন দিলে, সেটা বড় লয়। মালাদের এ মতিগতি দেখতে এ ছার পরান আর রাখতে ইচ্ছা যায় না।

    আর সেই হল মহিমের সবচেয়ে বড় ভয়। এ-সব পাগলেরা থাকে একরকম কিন্তু বিগড়ে গেলে এক মস্ত সমস্যা। মানুষের মতিগতিতে যার নিজের প্রাণের স্বাদ বিস্বাদ, তাকে নিয়ে খেলা করেছে যে ভগবান, সেই ভগবানের বিভ্রমের প্রতিশোধ তুলতে যে সে প্রাণত্যাগ করে বসবে না তার ঠিক কী?

    মহিম শিল্পী, কিন্তু হাত চোখ আর মন আজ বেয়াদপ ঘোড়ার মতো ঘাড় বাঁকিয়ে বসল। হাতের মাটি হাতে রইল, প্রাণ রইল নিঃসাড়।

    অবস্থাটা বুঝল মাত্র একজন। মহিমের সবকিছুই প্রতি গ্রন্থিটি যে, ধরতে পারে সে অহল্যা। যমুনার মতো উপরে শান্ত, তলে তার খরস্রোতের তীব্র বেগ। অহল্যার হল তাই। সে ডাকল তার প্রিয় অনুচর মানিককে। বলল, যেখান থেকে পারিস কুঁজো মালার খোঁজ নিয়ে আয়। এ জগতে। তো তোর কোনও ঘাট-অঘাটের বেড়া নেই। এ খবরটা মোরে এনে দে বাবা, নইলে সোয়ান্তি নাই তোর কাকির পরানে।

    ব্যাপারটা বড় ছোট নয়। মানিক ছুটল কোমরে চিড়েগুড়ের পোঁটলা বেঁধে।

    ভারত এ-সবের কোনও খোঁজ রাখে না। সে একথা জানতে পারলে সামান্য দরদ তো দূরের কথা, এ পাগলামিকে সে তার স্বাভাধিক বিষয়ী ও রুঢ় ভাষায় শাসনই করবে।

    এ অবস্থায় পথ চলতে হরেরাম একদিন ডাকল মহিমকে। দুপুর গড়ায়। উঠোন থেকে উঠে এসে হরেরাম ডাকল, মহিম নাকি গো?

    মহিম ফিরল। বলল, কিছু বলছ হরেরামদা?

    বলতে ভাই ইচ্ছে করে অনেক কথা। ঠিক বিরূপ নয়। কেমন যেন একটা চাপা আফসোস ফুটে উঠল হরেরামের গলায়। বলল, যেতে পারিনে কোথাও। জ্বর-জারিতে শরীলও বশ থাকে না। আর–

    কথা শেষ করল না হরেরাম। মহিম দেখল কেমন বিতৃষ্ণায় ঠোঁট জোড়া কুঁচকে উঠেছে হরেরামের। বলল, আর কী বলে?

    তোমার দাদার ভিটেয় পা বাড়াতে মনটা বড় ছোট হয়। নইলে গাঁ জোড়া যার এত নাম, একবার কি প্রাণে সাধ যায় না, তার হাতে গড়া কাজ দু-দণ্ড দেখে আসি?

    কথাটি বড় সত্য। সেজন্য মহিমের শুধু লজ্জা নয়, ক্ষোভও বড় কম নেই। মামলাবাজ, রূঢ়ভাষী ভারতের উপর গ্রামের মানুষ, বিশেষ জাতভাই চাষীরা সকলেই মর্মাহত, ক্রুদ্ধ। বুঝি ঘৃণাও করে। মানুষের সঙ্গে তার সম্বন্ধ বড় তিক্ত, জ্ঞাতিকে করে হেয়জ্ঞান। অথচ কীসের অহঙ্কারে, তা বোধ হয় ভরতই জবাব দিতে পারে না। এ কথা নিয়েই দাদা বউদির মাঝখানেও যেন এক মস্ত প্রাচীর উঠেছে খাড়া হয়ে।

    তবু অনেকেই তো যায় মহিমের কাছে। কত মানুষকে মহিম হাত ধরে ডেকে নিয়ে যায় নিজের কাজ দেখাতে, কেউ আসে ডাকের আগে। এই নয়নপুর, ওপারে রাজপুর, আশেপাশে মহিম তো কোথাও পর নয়। মহিম বলল, আমার কাছে তো সকলেই যায় হরেরামদা।

    যায়, সে তোর টানে ভাই।

    নয় কেন? তা ছাড়া, ভিটে তো একলা দাদার নয়।

    কথাটা বলে ফেলে বুকের মধ্যে ধ্বক করে উঠল মহিমের।… যেন তার মনে হল সে বুঝি চিৎকার করে লোককে তার অধিকারের কথা জানিয়ে দিচ্ছে, যেন ভারত বিস্মিত ক্রোধে বাকহারা, তার দিকে তাকিয়ে আছে অহল্যা। না না, মহিম তো তাই ভেবে কথা বলেনি।

    যেন কৈফিয়ত দেওয়ার মতন হরেরামকেই বলল সে, দশজন ছাড়া আমি নয় হরেরামদা। তোমরা কেবলি দাদার কথা বলল, আমি কি কেউ নই?

    হঠাৎ হরেরাম অত্যন্ত আপনভাবে বলে উঠল, আয় না কেন, খানিকটা বসবি।

    মহিম দ্বিরুক্তি না করে ঢুকল বাড়িতে। যে ঘরে নিয়ে এল তাকে হরেরাম, সেখানে এসে চমকে উঠল মহিম। দেখল, গাঁয়ের চাষী, মালা, কামার সকলেই এসে সেখানটিতে ভিড় করেছে। রাজপুরেরও কেউ কেউ এসেছে। আশেপাশের গাঁগুলিও বাদ যায়নি। কী ব্যাপার। এমন একটা পরিবেশের কথা মহিম কল্পনাও করতে পারেনি। সকলেই তাকে বাবা, ভাই বলে ডেকে বসাল। এক কোণে অহল্যার বাবাকে বসে থাকতে দেখে মহিম উঠে গিয়ে প্রণাম করল। অহল্যার বাবা পীতাম্বর তাড়াতাড়ি মহিমের হাত ধরে বলল, থাক থাক বাবা, বেঁচে বর্তে থাকো, পায়ে হাত দিয়ে না।

    পায়ে হাত দিয়ো না কথাটা অভিমানের। নিজের জামাই যাকে ভুলে কোনও দিন নমস্কার করে, তারই বিমাতার সন্তান প্রণাম করলে মনে আর লাগে না কার? ও পীতাম্বর শুধু তুষ্ট নয়। মনে প্রাণে আশীর্বাদ করল মহিমকে আর একটি গভীর দীর্ঘনিশ্বাস সে কিছুতেই চেপে রাখতে পারল না। মেয়ের মুখে তার এই দেবরটির অনেক কথাই শুনেছে সে তার মেয়ের বড় মেহের দেবর শুধু নয়কথায় আঁচ করেছে পীতাম্বর, বুঝি বড় সোহগের।

    পীতাম্বরের কথার প্রতিবাদ করল দয়াল কামার। বলল, এ তোমার রাগের কথা পীতু ভাই। গুরুজনকে পেন্নাম করবে না। এ তোমার কোন্ শান্তরের কথা?

    ও সব শাস্তর ফাস্তরের কথা ছাড়া, এখন কাজের কথা বলো, নয় তো বললা ঘরে যাই।

    কেবল চেঁচানি নয়, কথাটা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ধমকানির মতো শোনাল। সকলেই তাকিয়ে দেখল বক্তা পীতাম্বরের বড় ছেলে ভজন। কেউ লক্ষ করেনি, কিন্তু এতক্ষণের সমস্ত ব্যাপারটা তাকে ক্ষিপ্ত করে তুলেছে। এবং এ ক্ষিপ্ততার বর্তমান কেন্দ্র মহিম হলেও আসলে ভরতই। ভগ্নীপতির সঙ্গে ভজনের সম্পর্কটা এমনই তিক্ত যে, অনেকদিনই তার ইচ্ছে হয়েছে ভরতকে পথে ঘাটে ধরে অপদস্থ করে দেয়। কিন্তু অহল্যা তার বড় আদরের বোন। ভরতের উপর আঘাত যে বোনের উপরে গিয়েই শেষ পর্যন্ত পড়বে এটা সে জানত, জানত বলেই নীরব। ভরতের জন্যই ভজন কোনও দিন মহিমকে ডেকে কথা বলেনি। অহল্যার কাছে তার দেবরের গুণপনা শুনলেও রাগটা ভজন মনে মনে জমিয়ে রেখেছে, শত হলেও একই ঝাড়ের বাঁশ তো! আর চাষীর ছেলে কুমার হল, তাও কি না শহরের লেখাপড়া জানা বাবুদের স্কুলে শেখা কুমোরগিরি। একটা ফারাক ভজন কিছুতেই ভুলতে পারে না। সে মাটিতে চাপড় মেরে বলল, চাষী চাষীর পেন্নাম লেয়, আর কারও লয়।

    মহিম চকিতে ফিরে দু-হাতে ভজনের পায়ের ধুলো মাথায় তুলে নিল, দাদা বইসে আছেন, দেখি নাই।

    ভজন দু-হাত বাড়িয়ে বাধা দিয়ে কী একটা বলতে গেল, কিন্তু মহিমের দিকে তাকিয়ে মুহূর্তে স্তব্ধ হইল সে। ঘরের আর সবাই ভজনের গোঁয়ারপনার কথা স্মরণ করে সন্ত্রস্ত হয়ে উঠল। না জানি ভজন কিছু ঘটিয়ে বসে।

    হাত জোড় করে মহিম বলল, ঠিকই বলছেন দাদা, চাষীর পেন্নাম চাষী নেয়, মোর তো অপরাধ নাই। এট্টু ঠাঁই দেন মোরে বসবার।

    সকলেই জায়গা দেবার আগ্রহে নড়ে চড়ে উঠল। কিন্তু তার আগেই ভজন মহিমের জোড় হাত ধরে নিজের পাশে বসিয়ে নিল। বলল, বসো বসো ভাই, মোর ভুল হইছে। মানুষ তো বাঁশের ঝাড় নয়। মানুষ-মানুষই।

    মহিমা ছাড়ল না। ভজনকে আরও খানিক যাচাই করে নেওয়ার জন্যই বলল, চাষীর ছেলের মূর্তি গড়া কি অপরাধ দাদা? মাঠে লাঙল দেওয়া ছাড়া চাষীর ছেলে কি আর কিছু করবে না কোনও দিন? মেলা লেখাপড়া শিখি নাই, কিন্তু যা করছি মোর সে সাধনা কি অন্যায়? আমি কি চাষীকুলের কলঙ্ক?

    ভজন লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি বলে উঠল, ছি ছি, সে কী কথা ভাই? তোমার নাম যে ঘরে ঘরে।

    মহিম বলল, মোর কাজ দশজনার। আপনাদের জন্য আমি কাজ করতেই চাই। বোঝা গেল, ঘরের সকলেই তুষ্ট হয়েছে তার কথায়। দয়াল কামার উঠে এসে মহিমের মাথায় হাত দিয়ে বলল, মুই আশীর্বাদ করছি, তুমি আরও উন্নতি করো বাবা, বেঁচে থাকো। তুমি চাষীকুলের রত্ন।

    সকলেই বলে উঠল, নিশ্চয় নিশ্চয়।

    রাজপুরের জহীর মিয়া বলে উঠল, নইলে বাপজান মোর এক কথায় জমিদারের কথার পিতিবাদ করে আসল পিতিমে গড়তে পারবে না বলে!

    শ্রদ্ধার বিস্মিত সকলের চোখ গরীয়ান করে তুলল শিল্পীকে। মহিম বুঝল, এটা গা ঘরে ভরত্রে ঢাক-পেটানো রটনা। উঠে হাত জোড় করে বলল সে পিতিবাদ নয় জহীর চাচা। যা মোর মন চায় না, তা আমি অস্বীকার করছি।

    সেই হইল বাপজান, সেই হইল। সে হিম্মতই বা ক’জনার আছে?

    কথাটা দয়ালের ছেলের গায়ে লাগল। সে ফুসে উঠল, আছে। আছে বলেই আজ হরেরামদার ভিটেয় সব একত্র হইছি।

    জহীর হেসে বলল, কথাটা মোর ভুল বুইঝ না কামারের পো। জমিদারের সোহাগ আর চাঁদির লোভ সামলানো বড় চাট্টিখানি কথা নয়, বুঝলা? বাপজান মোদের সে পথ মাড়িয়ে দিয়ে আসছে।

    ঠিক সেই মুহূর্তেই একটা টিকটিকির টিক টিক শব্দের সঙ্গে একত্রে কয়েকজন মাটিতে টোকা দিয়ে বলে উঠল, সত্য সত্য সত্য।

    অদৃশ্য টিকটিকির এ দৈব ঘোষণা যেন সমস্ত সত্যকে পূর্ণ স্বীকৃতি দিয়ে গেল। এ ঘরের সমস্ত মানুষগুলোর কাছে ওই জীবটি ঈশ্বরের প্রতিনিধির মতনই।

    মহেশ মালা বলল, আর তো দেরি করা যায় না হরেরাম, বেলা যে গড়ায় ওদিকে।

    মহিম বলল, মোরে কি থাকতে হইবে হরেরামদা?

    হরেরাম বলল, তা তো হইবেই ভাই। সকলের কাজ, সকলের কথা। জোড়া জোড়া মহকুমার চাষী-মনীষরা আজ একটা পিতিবিধেন করতে বসছে। তোমার কথা তোমারে বলতে লাগবে না? কেন, শরীলটা কি বেগতিক বোঝো?

    শরীল না, মনটার বড় হুতাশ রইছে। কুঁজো মাল তার উপর গাঁ ছাড়া। সে বড় দুঃখু পেয়ে গেছে। যদি কিছু করে বসে—বলতে বলতে তার চোখ উঠল ছলছলিয়ে।

    হরেরাম হেসে উঠল। ও হরি, এই কথা।

    সকলেই প্রায় উঠল হেসে। দয়াল বলল, এরেই বলে পাগল। পাগলে পাগলে কেমন জোড় বাঁধে দেখছ তোমরা! তা মোদের জিজ্ঞেস করতে লাগে তো?

    মহিমের চোখে যেন আলোর রেখা দেখা দিল, বলল, তা হইলে—

    বাধা দিয়ে হরেরাম বলে উঠল, তোমার কানাইদা যে কাজে বার হইছে গো। তারে যে মোরা ন’হাট মহকুমায় পাঠাইয়াছি।

    বটে! কুঁজো মালা গেছে কাজে? আর এরাই তাকে পাঠিয়েছে? হায়। মহিমের মনে হল কুঁজো কানাই বুঝি আজও তার কাছে তেমনি দুজ্ঞেয় রয়ে গেছে। জীবনে এই বোধ হয় প্রথম কুঁজো কানাইয়ের উপর মহিমের একটু অভিমান হল। কই, তার কানাইদা তো তাকে কিছু বলে যায়নি।

    একটি নিশ্বাস ফেলে সে ভাবল, যাক। প্রাণটা তবু আশ্বস্ত হল। হরেরাম প্রথমে কাজের কথা শুরু করল। তার আগেই পিছনের দিকে অল্পবয়স্ক কয়েকজন জোয়ানকে লক্ষ করে বলল সে, তোমরা এবার হাসি কথায় একটু চুপ দেও ভাই। তারপর অখিল চাষীকে বলল, অখিলদা, ধার দেনা কি তোমার কিছু কম আছে যে, মাটিতে দাগ কাটতেছ?

    অখিলের এটা অভ্যাস। বসলে নানান রকম দাগ কাটা। সে লজ্জায় হেসে হাত গুটিয়ে নিল। প্রচলিত প্রবাদ, মাটিতে দাগ কাটলে নাকি দেনা হয়।

    পেছনের জোয়ানের দল হেসে উঠল। ভজনের পাশে বসে মহিমও মুখ টিপল। দেখল হরেরামের গাম্ভীর্যের আড়ালে ঠোঁটে রয়েছে চোরা হাসি।

    ঘরটা মানুষে আর তামাকের ধোঁয়ায় ভরপুর। সকলেই নীরব।

    হরেরাম বলল, কুঁজো মালা আজই কিবা আসবে, না, হাট মহকুমা অরাজি হইবে না। শোনেন দাদাভাই দশজনায়, নিজে না চষে, পরকে দিয়ে চাষ করায় এমন মানুষও যখন এখানে আসছেন, তখন মনে লয় মোদের বেগার বন্ধের লড়ায়ে জয় হইবে। পেছনের জোয়ানের দল থেকে হঠাৎ একজন উঠে বলল, পাগল বামুন না আসতেই শুরু করলা যে?

    হরেরাম বলল, পাগলা বামুন আসতে পারবে না, খবর দিছে। তবে সে যা যা বলে দিছে সব কথাই আপনারা শোনবেন।

    বলে সে আরম্ভ করল, জমিদারে ফাঁকি দিচ্ছে অ্যাদ্দিন সরকারের খাজনা। সে ফাঁক ধরা পড়ে জমিদার তার দেনা শুধতে চায় মোদের মাথা কেটে। কথা নাই বাত্তা নাই, হুট বলতে খাজনা বেড়ে গেল, কিন্তুক মোরা কেন তা দিব? এ বাড়তি খাজনা না দিলে জমিদার হুজ্জোত করবে। করুক, মোরা তবু মানব না। তা ছাড়া, জমিদারে আজকাল আমাদের হাত থেকে জমি নিয়ে একুনে হাজার হাজার বিঘা অন্য লোকের হাতে তুলে দিচ্ছে। চাষ জমির খাজনার বিধেন তার আলাদা। তার ফলে আমরা উচ্ছেদ হইলাম। এই জমিদারে আর মালিকে মিলে যা শুরু করেছে তার এট্টা পিতিবিধেন না করলে মোদের কম্মো সারা।’ বলে সে, এমন কী, শত শত বছরের পুরনো প্রথা, ঈশ্বরের বিধানরূপে যা সকলের মনে শিকড় গেড়ে বসেছিল, সেই শিকড়ে টান পড়তে অনেকে কিছুটা সংশয়ান্বিত হয়ে উঠল। কিন্তু হরেরামের অকাট্য যুক্তি ও উদাহরণ সাপের মতো কুটিল এই অবুঝ সংশয়ের মাথা দিল নত করে। এই চাপানো বিধানের প্রতিরোধের নীতি ও কৌশলের ব্যাখ্যা করে গেল, কথায় কথায় অভিমত চাইল সকলের। সম্মতি পেল, প্রতিজ্ঞা শুনল, পেল আশা ও উৎসাহ। সগৌরবে জানিয়ে দিল, আর নয়নপুরই প্রথম শুরু করবে তিনটি মহকুমার মধ্যে। এবারকার হেমন্ত নয়নপুরের বুকে নতুন চেহারায় পদক্ষেপ করবে, নতুন তার স্বাদ গন্ধ। শুধু তাই নয়, আগামী বছরে এই সূত্র ধরেই আসবে ভাগচাষীর ভাগের লড়াই সে কথাও ঘোষণা করা হল।

    ভজন দেখল, মহিমের চোখ দুটো যেন মোটা সতের প্রদীপের মতো জ্বলছে।

    জ্বলবে না। তার মনে পড়ছে একটি উজ্জ্বল মুখ, একটি আবেগদীপ্ত কণ্ঠ। লক্ষ গ্রামের এ অনাগত গৌরবের কাহিনী একদিন সেই কষ্ঠে ধ্বনিত হয়ে উঠেছিল। নয়নপুরের খালের জলে আসার মতো প্লাবিত করেছিল তার অন্তর। কিছু ভাঁটা আসতে দেরি হয়নি। আজ আবার জোয়ার এসেছে। কিশোরের সেই কানে শোনা কথা আজ চলেছে কাজে হতে। আর শুনেছিল, শিল্পসাধনা আপসের পথ ধরবে যদি না তুমি এ মানুষের বাঁচার তাগিদে ভাসো।

    সে কণ্ঠ, সে মুখ পাগলা গৌরাঙ্গের। বুঝলে সে মানুষটি তার কাজ করে চলেছে অহর্নিশ। কোনও কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। আর এই প্রথম সে অনুভব করল, গাঁয়ের সমস্ত কিছু থেকে সে কতখানি দূরে। মূর্তি গড়ায় কাজের মাঝে সে সবাইকে সবরকমে ভুলে বসে আছে, অথচ তার খবর এরা সবাই রাখে সবটুকু। ভরত হয়তো একথা জানে, কিন্তু তার স্বার্থ থাকলেও দায়ে পড়েই বোর হয় নীরব। মহিম কাজের ফাঁকে অনেকের সঙ্গে মেশে, কিন্তু গাঁয়ে ঘরে যে দিনে দিনে কত কাণ্ড ঘটছে, সে কথা কেউ তাকে বলেনি, জেনে নেয়নি সেও কারও কাছ থেকে। মনে হল, সে যেন বহুদিন পরে হঠাৎ দেশে ফিরে এসেছে, এহে আপন মানুষদের কাছে। আর এই হরেরামদা। নিজের উপর শুধু ধিক্কার নয়, বুকটা ভরে উঠল মহিমের। নয়নপুরের চাষী মনিষ্যিরা আজ সকলেই নিধনের জাগ্রত শিব। সমাহত, ক্রুদ্ধ। চোখে চোখে আগুন, সে আগুন ছড়িয়ে পড়ল মহিমের বুকে।

    ঘরের মধ্যে তখন নানান জনে নানান কথা বলছে। মহিম এগিয়ে গেল হরেরামের কাছে। বলল, স্বপন দেখছিলাম হরেরামদা, কথা শুনছি অনেক কিন্তুক–এ মনটার ছিরিছাঁদ নাই, তাই চোখ পথ দেখতে পায় না সব সময়। মোন কি কোনও আলাদা কাজ নাই?

    নাই কেন? হরেরাম বলল, ধম্মঘটের পুজো দেব মোরা, তোমারে তৈরি করতে হইবে সেই ঘট আর ধম্মেদেবের মূর্তি। তোমার মনের মতো বানাবে।

    কে একজন হেঁড়ে গলায় গেয়ে উঠল :

    নতুন কন্যের গর্‌ভে সন্তান
    ঢালামাটির মাঠে ধান,
    অনাবিষ্টির আকাশে জল;
    দিন কখনো সমান যাহেনা,
    (ও) তোমার গত বিধেন না ভাঙ্গিলে
    নতুন বিধেন হবে না
    জোড় হাতে বলি একবার কর পিনিধান।

    পথ চলতে চলতে মহিমের মনে সেই অতীতের পাগলা গৌরাঙ্গের কথাগুলো গুনগুন করতে লাগল। সেই কথার পাশাপাশি অহল্যার কথাগুলোও মনে পড়ল তার। মোর ভাবনার অন্ত নাই তোমাকে নিয়া। কেবলি ডর লাগে, মোদের ছেড়ে চলে যাবে তুমি, এ গাঁ ঘরের আপনজন বুঝি তোমার পর। এ কথার সঙ্গে পাগলা বামুনের ফারাক কোথায়, বিচারক মন মহিমের খুজে পায় না তা। অথচ কী ছিষ্টিছাড়া রাগে ও ব্রাসে বউদি বলে তার, পাগলা বামুন তোমারে কেড়ে নিতে চায় পর করবে বলে।

    না। অহল্যা বউয়ের একথা ভুল। ভুল মনে হতেই তার প্রাণে নতুন আকাঙ্ক্ষা বাসা বাঁধল–তার জীবনের একই নিৰ্বর থেকে বয়ে চলা এই ধারা দুটিকে একত্র করতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু
    Next Article অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    সওদাগর – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }