Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প204 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. বনলতার বাবা নসিরাম

    বনলতার বাবা নসিরাম তামাক খাওয়া শেষ করে কোটি রেখে প্রাতঃকৃত্যাদি শেষ করার জন্য উঠে দাঁড়াল। বৃদ্ধ হয়েছে নসিরাম। কোমর খানিকটা বেঁকে গিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে শরীরটা। একগলা কষ্ঠির মালা তেলে আর জলে কালো হয়ে উঠেছে। কপালে গায়ে কুঞ্চিত চামড়ায় বাসি তিলকের দাগ।

    আগে নসিরাম খুব শান্ত ধীর ছিল। হাসিখুশি গান কথকতা সমস্ত কিছুতে সৌম্য। কিন্তু আজকাল তার মেজাজ সর্বদাই খানিকটা ক্ষিপ্ত। কথা বলে অল্প, হাসে না মোটেই। বেশি গোলমাল সইতে পারে না। একমাত্র গানের সময় যা একটু প্রফুল্ল থাকে সে। ইদানীং তার সাধনার রূপসটা কেটে গিয়ে কঠোর হয়েছে বলা চলে।

    তার প্রৌঢ়া সেবাদাসী হরিমতী উঠোন নিকোচ্ছে। হরিমতীর বালিকা মেয়ে স্নান করে ঠাকুরঘরের দাওয়ায় বসে গাঁথছে ফুলের মালা। যামাকা বৈরাগী প্রাণেশ সমস্ত দেহটি তেলে ড়ুবিয়ে এবার শুরু করেছে মর্দন। আর মাঝে মাঝে হরিমতীর মেয়ে রাধার দিকে চোরা চোখে দেখছিল। রাধা অশ্য মাত্র বালিকা, তবু প্রাণেশের চোখের মধ্যে প্রচ্ছন্ন রাখার চেষ্টার মধ্যেও যেটুকু ফুটে উঠেছিল—সে ভাবগতিকটুকু রসের। আর এও সে জানে রাধাকে দেখে তার বুকে এ রসের সঞ্চার টের পেলে কেউ রক্ষা রাখবে না আর। বিশেষ করে হরিমতী যদি টের পায়, আর হরিমতীর খাণ্ডার বলে যা সুনাম আছে, তাতে কোন না সে একটা পোড়া কাঠ দিয়েই প্রাণেশের এ রসের ভাণ্ড পিটিয়ে ভাঙবে।

    তবু এ চোখকে নিয়ে বড় জ্বালা প্রাণেশের। হাজার ফেরাও চোখ, তবু ঠাকুরঘরের এই জলে ধোয়া ধবধবে ফুলটির দিকেই নজর যাবে তার।

    সরযু এল স্নান শেষ করে, কাঁখে জল-ভরা কলসি নিয়ে। সরযু প্রায় বনলতারই সমবয়সী, নসিরামের সর্বশেষ সেবাদাসী। এ আখড়ার মধ্যে সে খানিকটা অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করেছে তার কথায় ব্যবহারে। বৃদ্ধ নসিরামের সঙ্গে মিল তো তার নেই-ই, তা ছাড়া, আখড়ার ভাবগাম্ভীর্যকে তার তরল হাসিঠাট্টায় বড় ক্ষুন্ন করে সে। কিন্তু বালকৃষ্ণের সেবার দায়িত্বপূর্ণ কাজগুলো প্রায় সবই তাকে করতে হয়। ভোগ রান্না থেকে ঠাকুরের শয়ন পর্যন্ত সরযুর কাজ। এত কাজ তবু এরই ফাঁকে ফাঁকে কথা হাসি গানে ভরপুর।

    সরযুকে ঢুকতে দেখেই নসিরামের কোঁচকানো ভ্রূ কুঁচকে উঠল আরও। বলল হরিমতীকে লক্ষ করে, পোহর বেলা না কাটলে কি ঠাকুরের ঘুম ভাঙানো হইবে না? আর কখন খোলা হইবে দরজা ঠাকুরের—শুনি?

    সরযু ভেজা কাপড়ে ছপছপ শব্দ করে ঘরে ঢুকে যায়।

    রাধার তাড়া পড়ল। এখুনি তাকে কুটনো কুটতে যেতে হবে—ভোগের। প্রাণেশও তেলের বাটি রেখে উঠল লাফ দিয়ে।

    হরিমতী সরযুর দিকে তাকিয়ে একবার ঠোঁট বাঁকাল। কিন্তু কাজ থামল না তার।

    এমনি সময় কানে গেল বনলতার গুনগুনানি : সো হরি বিনু ইহ রাতিয়া।

    সকলেই একটু তাজ্জব হল, তাকাল বনলতার দিকে। কিন্তু কাজ থামল না কারও।

    নসিরাম বলল, বাসি কাপড় ধুয়ে এলি, নাইলি না?

    –না, শরীরটা কেমন গমগম করছে।

    অর্থাৎ গরম গরম ভাব। নসিরাম শঙ্কিত হয়। নিজের বলতে তো তার আর কেউ নেই এক মেয়ে বনলতা ছাড়া। আজকাল এও একটা চিন্তা হয়েছে তার। কেউ-ই তার আপন নয়, সবাই পর। জীবন ভরে সে কৃষ্ণের আরাধনা করেছে, কিন্তু সে কৃষ্ণ সার করেছে গৃহ। শুধু তাই নয়, বুড়ো বয়সে তার ভীমরতিও হয়েছে। বনলতার মায়ের মৃত্যুর পর ধর্ম ও বয়সের ভাঁড়ামোতে সে প্রথমে আনল হরিমতীকে। কিন্তু শেষের দিকে সরযুকে আনতে দেখে বনলতাও ক্ষুব্ধ না হয়ে পারেনি। এটা নসিরামের ধর্মের আড়ে বিকৃত মনের হীন লোভ। সে বোঝে যে, বনলতার তার উপরে যেমন টান নেই তেমনি কোনও টান নেই এ আখড়ার উপর। এ আখড়ার কারও সঙ্গেই প্রায় তার কথাবার্তা নেই। বরং নরহরির প্রতি মেয়ের খানিক টান আছে মনে করে তাকেই সে খানিকটা বিশ্বাস করে, কিন্তু নরহরির হাবভাব আখড়া রক্ষা করবার পক্ষে মোটেই সুবিধাজনক নয়। বনলতার হাতেই এ সমস্ত কিছু একদিন তাকে তুলে দিয়ে যেতে হবে। বনলতা তার একমাত্র সম্বল। বলল :

    –তবে আর এত বিহানে উঠলি কেন, খানিক বেলা বিছানায় থাকলেই পারতিস।

    —সে মোর সয় না। বলে এক লহমায় চারিদিকে চোখ বুলিয়ে বনলতা বেরিয়ে যায় আবার ভেজা কৃাপড়টা টাঙানো বাঁশে মেলে দিয়ে। এসে উঠল গোবিন্দদের বাড়িতে।

    পিসির তখন নিকানো শেষ হয়েছে। ওদিকে বকবকানির ধ্বনিটাও হয়েছে উচ্চ।

    —হায় মোর মরণ নাই, ফ্রম কি কানা গো! এ ঘরে নাকি মানুষ থাকে। না-নোক না জন, এ আখড়াতে মানুষ থাকে কী করে বলো তো? শরীলে নাকি সয় এ ব আর। মরবার দিনেও কাঠ ঠেলতে হবে চুলোয়। কানা যম কানা মিনসে (অর্থাৎ স্বামী) চোখে কি দেখতে পাও না।

    বলতে বলতে খেপে উঠল পিসি। দেখলও না বনলতা এসেছে।

    —হক করলাম আজ ও ছাই পুঁথিসুথি সব যদি না পুড়িয়ে শেষ করি। ঢং চাষার ছেলে হবে পণ্ডিত, সৃষ্টিছাড়া যত অকাজ কুকাজ। বিয়ে নাই, শাদি নাই, নাই একটা ছওয়াল পাওয়াল, ঘরভ মরণপুঁথি। শ্মশানে-মশানে কালে দুলে মারল বাপটাকে, হায় পোড়াকপাল, এটারও কোন্ দিন যে কী হইবে। মরতে মরতে না জানি কী দেখে যেতে হইবে আমারে। পাপ, পাপ করিয়াছি অনেক এ পিখিমিতে, মরা যম সব শোধ তুলবে। না খাবে আমারে, না খাবে এ চোখজোড়া।

    এবার খিলখিল করে হেসে উঠল বনলতা। বলল, কী হল গো। পিসি?

    এই এক মেয়ে। জ্বলে যায় দেখলে পিসির সর্বাঙ্গ। বলে কত কথা, ভাল করে দেব তোমার গোবিন্দেরে, ঘরমুখো তবে ছাড়ব তোমার ভাইপোরে। পিসি ভাবে, বলে তোরই সেই মুখ ঘুরিয়ে দিল গোবিন্। হ্যাঁ, পিসিরও আছে আতঙ্ক এই সোয়ামীর পর সোয়ামী খাগীর সম্বন্ধে, বিশ্বাস করে, বজ্র ঝরে ওর নিশ্বাসে, শোষ টান আছে এ ডাইনী হুঁড়িটার, শুষে শুষে খায় ও। তবু পিসি যে ওকে আস্কারা দিয়েছিল, সে খালি হুঁড়ি যদি পারে তার ভাইপোর এ পাথুরে ধর্মজ্ঞানে ফাটল ধরাতে। তারপর ভাইপোরে কেড়ে নিয়ে ঘর জমাতে কতক্ষণ। কিন্তু তা হবার নয়। সবাই হার মেনেছে, মনের আর সে ঢিলে ভাব নেই বনলতার প্রতি, বিশ্বাস করে না আর পিসি তাকে। মুখেই ফুটোফুটি, কথার বেলা দেখা যায় গোবিন্দের একটু দর্শন লাভই যেন ঘুড়িকে পাগল করে।

    সময়ে সময়ে গুলিয়েই যায় পিসির কাছে গোবিন্দের মতো বনলতাও। কারওই কোনও ধারা ধরা পড়ে না। সব যেন কেমন।

    পিসি জবাব দিল না বনলতার কথায়।

    বনলতা জিজ্ঞাস করল, পিসি কোথা চললে?

    –যমের দক্ষিণ দোরে।

    –ছি ছি, তা কেন যাবে। বলে গম্ভীর গলায়, কিন্তু হাসে মুখ টিপে। আবার বলে, সামনে তোমার সুদিন, ভাইপোর বউ আনবে, শুয়ে বসে খেয়ে আরাম করে মরবে।

    বড় খুশি হয় পিসি, বড় আনন্দ পায়। কথাতেই তার আনন্দ, জীবনের এইটুকুই সম্বল। এইটুকুই যে তাকে বনলতা ছাড়া আর কেউ দেয় না। সেই জন্যই তো বনলতার প্রতি পিসি কঠিন হলে নরম হতে দেরি লাগে না বেশি। হতে পারে ডাইনী, কথাগুলো তো ভাল বটে। বলে, ফুলচন্দন পড়ক তোর মুখে, মরবার আগে আমি যেন তাই দেখে যাই; কিন্তু ছোঁড়ার ধনে যেন রোগ, না-সারবার ব্যামো গো। সেই এসে ছোট্টবেলাটি থেকে দেখছি এই ধারা।

    কিন্তু বনলতা তো জানে গোবিন্দকে। সাধক গোবিন্দ, নিষ্ঠুর গোবিন্দ, কী এক প্রচণ্ড ঝড়ের বেগে টানছে তাকে। ধর্ম আর জ্ঞান মিলিয়ে সে যে কীসের টানতার হদিস জানে না বনলতা। শুধু বোঝে পিসির আর তার—তাদের সকলের থেকে বহু দূরে—এক দুর্ভেদ্য বর্মে আবৃত গোবিন্দ, যে পাথুরে বমের গায়ে বনলতার উধ্বশ্বাসে ছুটে চলা মাথাটা ঠোক্কা খায় বার বার, ক্ষতবিক্ষত হয় মাথাটা।

    তবু পিসির মনগড়া কথাই বলে সে হেসে, তা একটা সোন্দর কন্যে টন্যে কিছু দেখাও না ভাইপোরে?

    পিসি অমনি হাতের ন্যাতা ও বালতি রেখে বনলতার কাছে এসে, চোখদুটোকে বড় বড় করে বলে ফিসফিসিয়ে, দেখে এসেছি। টুকটুকে ছোট্ট এক কন্যে, পয়সাও দেবে মেলা, সচ্ছল মানুষের মেয়ে। দিনক্ষণ দেখে একদিন নেমন্তন্ন করব করব ভাবছি। যাঁ, সে মেয়ে পারে বোধ হয় ভোলাতে মোর গোবিনেরে।

    —কে গো? বনলতাও তেমনি ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করে।

    চকিতে সন্দেহের ছায়া ঘনিয়ে এল পিসির চোখে। অমনি মুখখানি ভার করে সরে গিয়ে বলে, ব কথা শুনতে চাওয়া কেন বাপু? সে আমি মরে গেলেও বলব না।

    —হ্যাঁ, সেই ভাল পিসি, সব কথা সবাইকে বলতে নাই। আমারই বা কী কাজ বাপু শুনে, অ্যাঁ?

    চকিতে কী অদ্ভুতভাবে মুখ টিপে হেসে ন্যাকামোটুকু করে বনলতা, সাধ্য কী পিসির টের পায় একটুও।

    —হ্যাঁ, সেই ভাল। বলে পিসি বালতি নিয়ে ডোবার দিকে যেতে যেতে ফিরে বলল, ডোবাটার ধার যা পেছল হইছে সঙ্গে একটু আয় তো লতি।

    বনলতা হসল। ডোবার ধারে গেল সে পিসির সঙ্গে। দিব্যি শুকনো খটখটে ডোবার ধার। নীচের ঢালু অংশটুকুও সিঁড়িকাটা।

    পিসি বলল, রাজপুরের দয়াল ঘোষকে চিনিস তো? বুড়ো দয়াল?

    বনলতা বুঝল এ কীসের ইঙ্গিত। সু সে মাথা নেড়ে চুপ করে রইল।

    অনেক দ্বিধা কাটিয়ে পিসি বলল, সেই দয়াল ঘোষের নাতনির সঙ্গে বুঝলি? কথাবার্তা খানিক কয়ে আসছি। বলিস নে যেন কাউকে।

    না না। সে তো খুব ভাল কথা গো পিসি। হাসি চেপে বলল বনলতা।

    বনলতারও একবার মনে হল, দেখাই যাক না একবার পরীক্ষা করে। গোবিন্দের পরীক্ষা হয়ে যাবে—মেয়েটিকে দেখে সে কী বলে।–গোবিন্দের পরীক্ষা? পরমুহূর্তেই যেন বজ্রাঘাতের মত শক লাগল বনলতার বুকে। ছি ছি, এ কী সে ভাবছে! গোবিন্দের পরীক্ষা। কোন পরীক্ষার বেড়ার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে আজও গোবিন্দ? সে তো বহু দুরে উদ্দাম ঝড়ের বেগে ডানা-মেলে দেওয়া পাখি। কোথায় সে থামবে, আর কি নিশ্চয়তা আছে তার নাগাল পাওয়ার?

    বাইরে থেকে হরেরামের হাঁক শোনা গেল, কই গো, গোবিনের পিসি কোথা গেল?

    —ওই এসেছে মুখপোড়া। বোঝা গেল পিসি এই হকের জন্য প্রতীক্ষা করে দিল। বলল, বস, যাই। বলে—সেটুকটুক করে দ্রুত নেমে গেল ডোবার ধারে।

    বনলতা বলল, পেছল যে, অত তাড়াতড়ি যেয়ো না। বলে মুখে কাপড় চেপে হাসে।

    –আর পেছল। গেলেই বাঁচি।

    সরে এসে প্রাণ ভরে একটু হাসল বনলতা। তারপর বাড়ির সামনে হরেরামের কাছে এসে দাঁড়াল।

    হরেরাম একটা কাঁথা মুড়ি দিয়ে, উঠানের একধারে গুটিটি বসেছে। ক্লান্ত থমথমে মুটা বের করে রেখেছে শুধু। কোটরে ঢাকা চোখ দুটো লাল টকটকে।

    বনলতা জিজ্ঞেস করল, কী গো অমন করে বসে আছ যে?অসুখ-বিসুখ করেহেনাকি?

    –আর বলো কেন দিদি। ধুকে ধুকে বলল হরেরাম, শালার কর আর গড়তে চায় না গো। দুদিন ধরে পেটে নাই কিছু। তার মধ্যে আবার

    —তো এলে কেন?

    –এলাম, গোবিন বললে কী জন্যে নাকি ডাকহে ওর পিসি। ভ্যালা যা এক হয়েহে মোর, ছাড়তেও পারি না, রাখতেও পারি না। বলে একের তাড়া সয় না, এর আবার–

    কথা বলতে আরম্ভ করলে আবার জ্বরের ঘোরে কথা বলতেইই করে হরেরামের।

    বনলতা বলল, কী রাখা ছাড়ার কথা বলছ?

    -এই তোমার গে-গোবিনের জমি। বিরক্তি দেখা যায় জ্বরে থমথমে মুটায় হরেরামের। বলে, লাভ তো কিছু নাই–কিন্তু কী করব। তবু যা হোক বিচালিটা মাস দুয়েকের খোরাকিটা হয়, কিন্তু সে দেখতে গেলে চলে না। ভাগে খাটি বাবুদের জমিতে, আর দুই পশ্চিম থেকে বোরে পুবে যেতে লাগে গোবিনের মাঠে যেতে। একলা মানুষ পারি না। অথচ কাজের সময় চুপ করে বসে থাকাও তো যায় না। সেই আমার ছুটতেই হয়।

    হরেরাম ভাগচাষী আধিয়ার। নিজের জমি নাই তার, ভূমিহীন চাষী। পরম্পরায় এ অবস্থা ছিল না তার। বাপ মরার পরও কিছুদিন ছিল খালের ধারের সাত বিঘা জমি। কিন্তু এই নয়নপুরে আরও বহু চাষীর মতো একদিন দেখা গেল বাবুদের বাড়ির সেই লাল কাপড়ের মলাটের মোটা মোটা রাক্ষুসে খাতাগুলোর পেটে হরেরামের খালের ধারের জমিটুকু লেখা হয়ে গেছে। সে যাওয়া যে কী ভীষণ, কী সাংঘাতিক, তা নয়নপুরের ঘরে ঘরে জানা আছে। আজও জানছে, জানবে ভবিষ্যতে।

    গোবিন্দের পিসি প্রথমেই হামলে পড়ে এসে। বলি, দেখা নাই কেন, দেখা নাই কেন তোর আর—অ্যাঁ? কী করলি না কলি, ধান কেমন হল না হল—

    বনলতা বলল, ওর যে জ্বর হইছে গো। আসবে কেমন করে?

    —ও ঢঙের জ্বর ঢের দেখছি। পিসি গরম হয়েই বলে, গত বছর, ক আঁটি ছুিলি দিয়ে তো নিস্তার পেলি, আর যে বিচুলিগুলান্ রইল, তার কী করলি।

    হরেরাম নিস্তেজ গলাতেই বলল, তার কী করব বলল?একলা মানুষ পারি না। দরিদ্দের ঘর, পড়ে রইছে, খরচ হয়ে গেছে তেমনি।

    -মরে যাই আর কী? ভেংচে উঠল পিসি।–মোর সোয়ামীও আধিয়ার ছিল রে, মোর সোয়ামীও ছিল। এমন ছ্যাঁচড়া বিত্তি দেখি নাই কভু। বিধেন তো বিধেন। ন্যায়ের কাম করে মানুষটা মরে গেল। দরিদ্দ তো কী, জোচ্চোরি করবে তাই বলে?

    হরেরাম চুপ করে রইল। বনলতা বুঝল, হরেরাম গত বছরের বিচুলিটা গোলমালই করে ফেলেছে। তাই অমন অপরাধীর মতো চুপচাপ। কি হয় তো গ্রাহইবরহেনা পিসির কথার।

    কিন্তু এ চুপ করে থাকাতে পিসি দমল না। বলল, এবার আমি সেই বিচুলি চাই, নয়তো টাকা মেটাতে হবে। হ্যাঁ, বলে দিলাম। হরেরাম নির্বিকারভাবে বলল, ও নিয়ে আর গোলমাল কেন বাপু। ছেড়ে দাও না। এ বছর তোমার সব কড়ায় গণ্ডায় মেটাব।

    —কিছু শুনব না আমি। বলতে বলতে পিসি আবার গোবিন্দের প্রসঙ্গে চলে এল।–সেই হতচ্ছাড়াই তো যত গোলমালের রাজা। দেখল না বলেই তো গেল। বলে চাষার ছেলে, কাস্তে কুড়োল না ধরলে এমনিই হয়। আমি কোনও কথা শুনব না। বজ্জাতেরা মজা পেয়ে খুব লুটছ, না?

    হরেরাম উঠে দাঁড়িয়ে বলল, নেও বাপু অসুখ শরীলে আর গালমন্দ শুনতে পারব না অখন।

    —তা পারবি কেন? জমিতে এবার একটুকুন সারও তো দিসনি, না এট্টুখানি পাঁক, না গোবর। তবে কি তোর রূপ দেখে ভাগে দিয়েছি। রাগছিস, গালমন্দ শুনবি না?

    –ঘাট হয়েছে বাপু, ঘাট হয়েছে। কাঁথাসুদ্ধ হাত দুটো কপালে ঠেকাল হরেরাম, এই শেষ, আসছে বছর তোমরা অন্য কাউকে দেওগে জমি, ও আমি আর পারব না।

    গোঙাতে গোঙাতে চলে গেল হরেরাম। এদিকে তার ওই কটি কথাতেই ঘৃতাহুতি পড়ল আগুনে। পিসি শুরু করল সারা উঠোনময় দাপাদাপি, গালাগালি আর শাপমন্যি। এ শপনি যদি সোজাসুজি যাত্রা করে তবে হরেরাম নিশ্চয়ই এতক্ষণ ঘরে যেতে যেতে পথেই মুখ দিয়ে রক্ত উঠে মরে গেছে।

    আখড়ার খোলকতালের ধ্বনি সঙ্গে নসিমের বৃদ্ধ গলার গান শোনা গেল। …

    জাগোহে জাগোহে, সখা, জাগোহে, প্রাণনাথ জাগো হে, বালনীলমণি জাগোহে, জাগাও জগৎ হে, জাগাও জগৎ, মনকৃষ্ণ হে, জাগাও ভক্তহৃদয় হে।

    বনলতা ঢুকল গোবিন্দের ঘরে।

    ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কতগুলো বই। এলোমলো বিছানা। ময়লা কাঁথা বালিশটার কাছেই নেভানো প্রদীপটা যেন বুড়িয়ে-যাওয়া জীর্ণ কালো তেলের গাদে আর কালিতে ঝুলে পড়েছে। তা সত্বেও ঘরটা অপরিষ্কার মনে হয় না। সমস্ত ঘরটাতেই সাধকের গাম্ভীর্য যেন অবিচলভাবে ফুটে রয়েছে, যেখানে বনলতার প্রবেশ খানিকটা অনধিকার বলে মনে হল। আশ্চর্য, এ ঘরে ফুলের গন্ধও আছে, ঠিক তাদের বালকৃষ্ণের ঘরের মতোই নির্মল আর পবিত্র গন্ধ।

    বনলতা অত্যন্ত সংকোচের দু-একটা বইয়ের গায়ে একটু হাত বুলায়, অক্ষর তো সে চেনে না। এ যেন গোবিন্দের সাধনার বস্তুগুলোর গায়ে হাত বুলিয়ে গোবিন্দর মনটাকে স্পর্শ করার বাসনা। সে যেন জানতে চায়, এ ঘরের আত্মাটার সঙ্গে যোগাযোগের পথের নিশানাগুলো কোথায়, তার সাধনা যেন এ ঘরের সঙ্গে একাত্মবোধের সাধনা।

    জীবনের এ গতি পালটানোর দিনক্ষণগুলো মনে নেই তার। কিন্তু এটা খানিকটা সে বুঝতে পারছে, জীবনটা তার গতি পালটে অন্য কোনও দিকে চলেছে। বোধ হয়, ঝড়ের বেগে সেই ডানা-মেলে-দেওয়া পাখিটার মতো, সেও অসীম শুন্যে গন্তব্যহীন কোনও একটা পথের শরিক হয়ে পড়েছে। সে জানে না, এ ঝড় তাকে নিয়ে গিয়ে কোথায় ফেলবে, ভেড়াবে কোন্ কিনারায়। অনিশ্চয়তার পাড়ি জমিয়ে আজ আর বুঝি ফিরে যাওয়ার উপায় নেই বনলতার। বুকের অদৃশ্য ঝড়ে ডালপালা কাঁটা অনুক্ষণ ক্ষতবিক্ষত করেছে তাকে, তবুও একেবারেই অপরিতৃপ্ত জীবনের এই যেন শান্তি, এই ঘরের বিক্ষিপ্ত বস্তুগুলোকে হাত বুলানোও একটা তৃপ্তি।

    অথচ এক এক সময় বনলতা কী দারুণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, জীবনটাকে দু হাতে দলে মুচড়ে ইচ্ছে করে ভেঙে ফেলতে, তছনছ করতে। কেন না, সে তো চায় আসুক জীবনের দুঃখ পীড়ন নিষ্পেষণ। ভাঙুক ঘর, পড়ক জল। ভাঙুক বাঁধ, ড়ুবুক মাঠ, ফাট ধরুক মাঠে জ্যৈষ্ঠের রোদে আর নিশ্বাসে, আসুক তার এই বস্তৃত গর্ভ থেকে নাড়ি ছিঁড়ে খুঁড়ে সন্তান; আসুক জীবনের পথে জমা সব সংকট, সব দুঃখ, সব অপমান, ক্লেশ, সবই বুক পেতে নেবে, বনলতা; সব সব সব, বনলতার সমস্ত বলিষ্ঠ দেহ দিয়ে সে সব নেবে, ঠেকাবে, ক্ষয় করবে নিজেকে পলে পলে।

    কিন্তু হায়, কালনাগিনীর বিষাক্ত মসৃণ গা থেকে জীবনের সে রূপটাই যে ঝরে যায় বার বার। জীবনের সেই খোলা সংগ্রামের দিকটা এল না তার। শিউরে উঠল বনলতা। দু-হাত দিয়ে মুখটা চেপে ধরে অত্যন্ত আতঙ্কের সঙ্গে সে চোখ দিয়ে লেহন করল নিজের দেহটাকে। ইচ্ছে করল, প্রাণটাকে ছিনিয়ে নিয়ে এসে এখুনি আছড়ে শেষ করে দেয় ঘরের মেঝেটাতে। বড় অসহ্য হয়ে ওঠে এক এক সময় তার প্রাণটাকে জড়ানো রং-বেরং-এর ইন্দ্রিয়গুলোর বিচিত্র খেলা। ইচ্ছে করল, এই মুহূর্তে লাফিয়ে উঠে ঘরের মাচাটা ধরে ঝুলে পড়ে, ধ্বসিয়ে দেয় ঘটা, ভেঙে ফেলে তছনছ করে।

    হ্যাঁ, এমনি তার জীবনের ঝড়ের বেগ, এমনি অসহ্য হয়ে ওঠে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু
    Next Article অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    সওদাগর – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }