Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কালিদাস কাহিনী – পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প157 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাড়ির খবর – ৩

    ৩

    মুমুদের ইস্কুল ছুটি হবার সময় অন্তত দুশোটা গাড়ি সেখানে জড়ো হয়। সামনেই ট্রাম লাইন। তখন অত গাড়ি ট্রাম, মিনিবাস, রিক্সা সব মিলিয়ে একটা বিতিকিচ্ছিরি জটলা। প্যাঁপোঁ করে একসঙ্গে অনেকগুলো হর্ন বাজে। হুড়হুড় করে নীল স্কার্ট পরা মেয়ের দঙ্গল বেরিয়ে আসে, তার মধ্যে কোনো একজনকে খুঁজে বার করা বেশ শক্ত ব্যাপার।

    আমি দারোয়ানের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম।

    অন্য দুটি মেয়ের সঙ্গে বেরিয়ে কথা বলতে বলতে মুমু একটা গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিল, আমি দৌড়ে গিয়ে বললাম, এই মুমু তোর সঙ্গে একটা জরুরি কথা আছে। আমাকে হঠাৎ এ জায়গায় দেখে মুমু বেশ ঘাবড়ে গেল। শুকনো মুখে জিতে করল, কী? কী হয়েছে?

    আমি বললাম, তোর কাকা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তোকে এক্ষুনি সেখানে যেতে হবে একবার।

    অন্য মেয়ে দুটির দিকে তাকিয়ে আমি বললাম, ওকে নিয়ে যাচ্ছি।

    একটি মেয়ে বলল, আমরা পৌঁছে দেব? আপনিও গাড়িতে আসুন না! আমি বললাম, তার দরকার নেই। ট্যাক্সি ধরে রেখেছি!

    মুমুর হাত ধরে নিয়ে চললাম মোড়ের দিকে

    একটু বাদেই মুমু জোর করে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, মিথ্যে কথা—তাই না?

    —মোটেই না।

    –আমার আবার কাকা কে? আমার তো কোনো নিজের কাকা নেই!

    —কাকা নেই, তার অসুখও হতে পারে না। সুতরাং এটা মিথ্যে কথা নয়। কাকা থাকলে তার অসুখের কথা বলাটা মিথ্যে হতো। এটা একটা কাল্পনিক ব্যাপার। কল্পনা আর মিথ্যে কি এক?

    —কল্পনা মানে ইমাজিনেসন?

    —কল্পনা মানে ইমাজিনেশন নয়! কল্পনার ইংরিজি ইমাজিনেশন। যেমন বাবা মানে ফাদার নয়! ইংরিজিতে বাবাকে বলে ফাদার।

    —হচ্ছিল কাকার অসুখের কথা। তার মধ্যে আবার বাবা এল কী করে? বাবার কিছু হয়েছে?

    —কিচ্ছু না। তোর বাবার সঙ্গে আমার বেশ কিছুদিন দেখাই হয়নি।

    —তুমি কেন আমার বন্ধু অদিতিকে বললে, তোমার ট্যাক্সি দাঁড় করানো আছে। কোথায় ট্যাক্সি? এটা মিথ্যে বলোনি?

    —এটাকেও ঠিক মিথ্যে বলা যায় না। একটা ট্যাক্সি স্টার্ট বন্ধ না করে ঘ রর ঘ-র-র আওয়াজ করে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য, এটা আমি কল্পনা করেছি। এই কল্পনাকে অনায়াসে এক্ষুনি বাস্তব করা যায়।

    —বাস্তব মানে?

    —হায় রে, খুকি, এখনো বাস্তবের মানে জানিস না। থাক, যতদিন না জেনে থাকা যায় ততই ভালো। আর কয়েক বছর পরে তো ঠেকে শিখতেই হবে। কঠোর বাস্তবের মধ্যে পড়ে যেতে হবে!

    —অ্যাই, ব্লু, তুমি আমাকে খুকি বলবে না। তুমি আমাকে ডেকে আনলে কেন, এবার সত্যি করে বলো তো?

    —মুমু, তুই তো এখন বাড়ি ফিরছিলি না, বুঝতেই পারছি। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে যাচ্ছিলি। এত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেই বা কী করবি! তোর মা ছ’টার আগে ফিরতে পারে না। বাড়িতে রাঁধুনি বুড়িমা ছাড়া আর কেউ নেই। আজ চল না, আমার সঙ্গে একটু বেড়াবি!

    –তোমার সঙ্গে কোথায় বেড়াব?

    —আজ বেশ মেঘলা মেঘলা আছে। ময়দানে গিয়ে বসতে পারি, গঙ্গার ধারে গিয়ে নৌকোয় চড়তে পারি।

    মুমু হঠাৎ হি হি হি হি করে জোর হেসে উঠল। ওর দু’ চোখে চকচক করছে দুষ্টুমি।

    আমি বললাম, কী রে, তুই হাসছিস কেন!

    মুমু মাথা ঘুরিয়ে এদিক ওদিক চেয়ে দেখল। তারপর ফিসফিস করে বলল, তুমি যে বলেছিলে, আমার আঠারো বছর বয়স না হলে চুমু খাওয়া চলবে না? আমার গায়ে যেন ইলেকট্রিক শক লাগল। একটি কিশোরী মেয়ের মুখে চুমু শব্দটা সাঙ্ঘাতিক বিপজ্জনক শোনায়!

    আমি চোখ পাকিয়ে বললাম, এই মুমু, তোকে পাকা পাকা কথা বলতে বারণ করেছি না?

    —বেশ করব বলব। তুমি কি আমার গার্জিয়ান? তুমি আমায় শাসন করবার কে? তোমাকে আমি এমনিই নীলকাকা বলি। তোমাকে আমি নাম ধরেও ডাকতে পারি। সত্যি করে বলো তো, তোমার মতলবটা কী? তুমি আমায় কোথায় নিয়ে যেতে চাইছ?

    —মুমু, আমি বুঝি তোর বন্ধু নই? আমরা একসঙ্গে ছোটপাহাড়ী যাইনি? পুরুলিয়া যাইনি? তুই একদিন বিকেলে আমার সঙ্গে বেড়াতে যেতে পারিস না?

    —তুমি হঠাৎ আমাকে নিয়ে বেড়াতে যেতে চাইছ কেন, সেটা আগে জানতে চাই! তুমি এত বড় ছেলে, তোমার গার্ল ফ্রেণ্ড নেই?

    —ছিল একজন। কিন্তু সে যে কোথায় গেল। আর আসে না। অনেকদিন তাকে দেখতে পাই না!

    —আহারে, বেচারা ব্লু, কোনো মেয়ে তোমাকে পাত্তা দিচ্ছে না তাই তুমি আমার কাছে এসেছ! তাই না? কোনো সুবিধে হবে না। কেটে পড়।

    —তুই আমার সঙ্গে যাবি না, মুমু?

    —না। আমি অদিতির সঙ্গে এক জায়গায় যাচ্ছিলুম, তুমি একটা বাজে কথা বলে আমাকে টেনে আনলে।

    —যাবি না? আমার সঙ্গে যাবি না?

    —না, না, না!

    —ঠিক আছে। এই শেষ। তোর সঙ্গে আর কখনো আমার দেখা হবে না! মুমু আবার হি হি করে হেসে উঠল। তারপর আমার বুকে একটা আঙুল দিয়ে টোকা মেরে বলল, খুব রাগ হয়েছে বাবুর। জানতুম। তোমাকে রাগানো খুব সোজা। বেড়াতে নিয়ে যাবে তো, কী খাওয়াবে তা বলছ না কেন? আগে সেটা বলো।

    সত্যিই আমার রাগ হয়ে গিয়েছিল। সামলে নিতে একটু সময় লাগল। তারপর বললাম, আইসক্রিম, ফুচকা, চ্যাপটা ছোলা, চিকেন রোল, যা খেতে চাস।

    —ট্যাংরার চীনে রেস্তোরাঁয় ফ্রায়েড প্রন খাওয়াতে পারবে?

    –না, তা পারব না। কোনো স্কুলের মেয়েকে হোটেল-রেস্তোরায় নিয়ে যাওয়াটা ভাল দেখায় না। তাও স্কুলের পোশাকটা পাল্টে যদি শাড়ি পরে নিস, তাহলে তোকে অনেকটা বড় দেখাবে।

    —আহা-হা, স্কুলের মেয়েকে নিয়ে ময়দানে কিংবা গঙ্গার ধারে ঘোরা যায়, অথচ রেস্তোরাঁয় বসা যাবে না কেন? কী যে তোমাদের ব্যাপার বুঝি না। ঠিক আছে, আমি ময়দানে গিয়ে ফুচকা খাব। যত খুশি খাব, থামতে বলতে পারবে না।

    —তাহলে চল, একটু এগিয়ে গিয়ে ট্যাক্সি ধরি।

    —তুমি তো চাকরি করো না। ট্যাক্সি চড়ার টাকা কোথায় পেলে?

    —তা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। মাঝে মাঝে পার্ট টাইম কাজ পেয়ে যাই দু’একটা।

    সামনের রাস্তাটায় প্রচুর গাড়ি-লরির স্রোত। খালি ট্যাক্সি দেখা যাচ্ছে না। দেখা গেলেও এই মোড়ের মাথায় থামবে না। এগিয়ে যেতে হবে ফাঁড়ির কাছে। রাস্তায় পা দিতেই মুমু বলল, তুমি আমার হাতটা ধরো। রাস্তাটা পার হতে আমার ভয় করে।

    আমি ওর একটা হাত ধরে বললাম, তাহলে তুইও কোনো কিছুতে ভয় পাস।

    মুমু বলল, শক্ত করে ধরেছ তো!

    তারপর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত ভাবে হেসে বলল, জানো, আমি এখন তোমাকে খুব মার খাওয়াতে পারি? যদি চেঁচিয়ে বলি, এই লোকটা আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, বাঁচান, বাঁচান।

    আমি আঁতকে উঠে তাড়াতাড়ি ওর হাত ছেড়ে দিলাম। কী সাঙ্ঘাতিক মেয়ে! এমনিতে আমার সঙ্গে অন্য সময় খুব ভাব দেখায়। বই চাইতে আসে। আগে শুধু ইনিড ব্লাইটন আর মিল্স অ্যাণ্ড বুনের বই পড়ত, বাংলা বই কিছু পড়েনি বলে একদিন আমি খুব ঠাট্টা করেছিলাম। তারপর থেকে আমার কাছে বাংলা বই চাইতে আসে। অনেক বই ওকে কিনে দিতেও হয়।

    বছর দুয়েকের মধ্যে মুমু অনেকটা বদলে গেছে। বাচ্চা বয়স থেকেই ও খুব জেদি, কিন্তু সারল্যও ছিল খুব। কিন্তু এখন যেন বড়দের জগৎটা বুঝে গেছে অনেকটা। অথচ কতই বা ওর বয়েস, বড় জোর তেরো-চোদ্দ।

    আমি বললাম, কেন, আমাকে মার খাওয়াতে চাইবি কেন?

    –মাঝে মাঝে আমার খুব ইচ্ছে করে কারুকে মার খাওয়াতে। আমার বাবাকে কেউ মারুক, আমার মাকে মারুক!

    –এ কী বলছিস রে, মুমু? নিজের বাবা-মাকে কেউ মার খাওয়াতে চায়?

    —ওরা কেন সব সময় ঝগড়া করে?

    —এখনো ঝগড়া করে? চন্দনদা আর নীপা বৌদির ঝগড়া তো মিটে গিয়েছিল!

    —কিচ্ছু মেটেনি। ঐ লালু রাস্কেলটা আমাদের বাড়িতে রোজ সন্ধেবেলা বসে থাকে। বাবা সেইজন্য বাড়ি ফিরতেই চায় না সন্ধেবেলা। অনেক রাত করে ফেরে। খুব ড্রিংক করে আসে, তারপরই দু’জনে ইংরিজিতে ঝগড়া শুরু করে। হাউ ফানি! আমি যেন ইংরিজি বুঝি না। তখন আমার ইচ্ছে করে, কেউ যদি, ফ্যানটমের মতন যদি কেউ এসে ঠকাস ঠকাস করে ওদের মাথা ঠুকে দিত, তা হলে বেশ হতো!

    ব্যাপারটা হৃদয়ঙ্গম করতে আমার খানিকটা সময় লাগল। চন্দনদাকে বেশি ড্রিংক করতে তো কখনো দেখিনি। এখন বাড়িয়েছে? বাড়িতে বসে খেলেই তো পারে, নীপা বৌদির তো তাতে আপত্তি থাকার কথা নয়। চন্দনদার সঙ্গে একদিন দেখা করে ব্যাপারটা পরিষ্কার করে নিতে হবে।

    –তোর বাবা-মায়ের ওপর রাগ, তাও না হয় বুঝলাম। কিন্তু তুই আমাকে মার খাওয়াতে চাস কেন রে?

    —তুমি আমার বাবার সাইডে। বাবাকে সব সময় সাপোর্ট করো!

    আমি খপ করে মুমুর হাতটা আবার চেপে ধরে বললাম, আমাকে মার খাওয়ানো অত সোজা নাকি? তুই চ্যাঁচালেই আমিও বলব, এ মেয়েটা বাড়ি থেকে পালাচ্ছে! পালিয়ে বোম্বেতে সিনেমায় নামতে চায়।

    —বেট?

    —লোকদের বলব, আপনারা আমাকে সাহায্য করুন, একে বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে। কয়েকজন লোককে সত্যি সত্যি তোর বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাব।

    -কাগজ পড়ো না? ছেলেধরা শুনলেই লোকে মারতে শুরু করে, আর যদি শোন মেয়ে-ধরা—

    —তোর কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। আমার কথাই বিশ্বাস করবে।

    —তোমার চেহারাটাই তো ছেলেধরাদের মতন। বিশ্বাস করে কিনা, বেট ধরে দেখবে?

    আর কথা না বাড়িয়ে আমি মুমুকে টানতে টানতে নিয়ে এলাম রাস্তার অন্য ধারে। তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে বললাম, আমার ওপর সত্যিই যদি রাগ থাকে, তা হলে তুই বাড়ি যা। কিংবা যেখানে ইচ্ছে যা। আমার সঙ্গে যেতে হবে না!

    –তুমি যে ফুচকা খাওয়াবে বললে?

    –দ্যাখ মুমু, আমি তোকে ভালোবাসি। সেইজন্য মাঝে মাঝে তোর সঙ্গে দেখা করতে আসি। আমার সঙ্গে যদি তোর মিশতে ইচ্ছে না করে তা হলে আর আমি আসব না।

    –ও সব বাজে কথা শুনতে চাই না। তুমি আমাকে ফুচকা খাওয়াবার অফার দিয়ে এখন কি ব্যাক-আউট করছ?

    —যে আমার সম্বন্ধে খারাপ কথা বলবে, যে আমাকে মার খাওয়াতে চাইবে, তাকে আমি ফুচকা খাওয়াতে চাইব কোন্ দুঃখে? যা যা, ভাগ্, বাড়ি যা!

    –তোমার কী হয়েছে, নীলকাকা? তুমি দিন দিন এত গবেট হয়ে যাচ্ছ কেন? তোমাকে আমি সত্যি সত্যি মার খাওয়াতুম নাকি? ইয়ার্কিও বুঝতে পার না আজকাল?

    –তোর বাবা-মা সম্পর্কেও ইয়ার্কি করছিলি?

    –তুমি একদিন এসে ওদের দু’জনের মাথাটা খুব জোর ঠুকে দিতে পার না? তুমি আর একটা কাজ যদি করতে পার, তাহলে আজ থেকে তিন বছর সাত মাস বার দিন পরে তোমাকে ঠিক চুমু দেব। একটা না, অনেকগুলো! অ্যাডভান্স হিসেবে তোমার হাতে একটা চুমু খেতে পারি না এখন?

    —মুমু, এসব কী পাগলামি হচ্ছে?

    —কাজটা কী জানো? তুমি আমাদের বাড়ির সিঁড়ির অন্ধকারে লুকিয়ে থাকবে। ঐ লালুটা, রোজ আসে তো আমাদের ওখানে, ও যখন ফেরার সময় নামবে, তুমি ওকে ল্যাং মেরে ফেলে দেবে। খুব জোরে ফেলতে হবে, যাতে ওর একটা পা অন্তত ভেঙে যায়। পা ভাঙলে ও আর গাড়িও চালাতে পারবে না, আমাদের বাড়িতেও আসতে পারবে না।

    —লালুদার ওপর সত্যিই তোর খুব রাগ?

    —ওর ওপর আমার সবচেয়ে বেশি রাগ। ও-ই তো যত নষ্টের গোড়া।

    —আচ্ছা ঠিক আছে, পরে ব্যাপারটা ভেবে দেখা যাবে।

    –তোমার ওপর এই কাজটার ভার রইল কিন্তু। মনে রাখবে!

    একটা ট্যাক্সি পাওয়া গেল এই সময়। ড্রাইভারটি বাঙালি। মুমুকে নিয়ে ভিকটোরিয়ার সামনে নামবার সময় সে বেশ বক্ৰচোখে তাকাল আমার দিকে। বয়সের তুলনায় মুমুকে বেশ বড়ই দেখায়। আমাদের কেউ ভাই-বোন বলেও ভাববে না। ড্রাইভারটি ভাবছে, আমি একটি কিশোরী মেয়েকে বখাচ্ছি। ঐ মেয়ে যে আমাকে নাকানি-চোবানি খাওয়াতে পারে, তা ও কী বুঝবে?

    কলেজে পড়ার সময় আমি ফুচকা খাওয়ার চাম্পিয়ন ছিলাম। একবার কলেজ স্কোয়ারে একজন ফুচকাওয়ালার কাছে একচল্লিশটা ফুচকা খাবার পর সে ভয় পেয়ে বলেছিল, বাবু, আপনাকে আর দেব না। অনেকের ধারণা, ফুচকাওয়ালারা নোংরা, তেঁতুল গোলা জলে ওরা হাত ডোবায়, হাতে কত জার্ম থাকতে পারে, কিন্তু এত ফুচকা খেয়েও তো আমার কক্ষনো অসুখ-বিসুখ হয়নি।

    চন্দনদা আর নীপা বৌদি দু’জনেই খাওয়ার ব্যাপারে পিটপিটে

    চন্দনদা বাড়ি ফেরার সময় প্রায়ই মেয়ের জন্য কেক, পেস্ট্রি, স্যাণ্ডউইচ, প্যাটিজ নিয়ে যায়। ফুচকা কিংবা আলুকাবলি খেতে দেখলেই শিউরে ওঠে। নিশ্চয়ই মুমুকে কখনো খেতে দেয় না। তাই মুমু আইসক্রিমের বদলে ফুচকা খেতে চেয়েছে।

    আমি বললাম, দেখি তুই কটা খেতে পারিস। আমার সঙ্গে পারবি কমপিটিশনে?

    মুমু বলল, বেট?

    আমি বললাম, অমন কথায় কথায় বাজি ধরতে নেই। দেখাই যাক না। স্টার্ট!

    মোটে বারোটা খাবার পর মুমু বলল, আর পারছি না। টিফিনে তিনটে স্যাণ্ডউইচ খেয়েছি, তাই পেট ভর্তি।

    আমি, আরও একটা নিয়ে শেষ করলাম। মুমুকে যে হারিয়ে দেওয়া হলো, সেটা আর মুখে বললাম না। জিজ্ঞেস করলাম, এবার আইসক্রিম? কিংবা কোল্ড ড্রিংক?

    মুমু দু’দিকে মাথা নাড়ল। তারপর একটু কী যেন চিন্তা করে বলল, এখন কটা বাজে?

    -সাড় চারটে

    —দুপুরে খুব বৃষ্টি হয়েছে, মাঠ ভিজে। মাঠে তো বসা যাবে না।

    —ভেতরে গিয়ে বেঞ্চে বসতে পারি। তোর সঙ্গে আমার কয়েকটা কথা আছে, মুমু।

    —এখানে বসার চেয়ে ..ব্লু, তুমি আমার সঙ্গে এক জায়গায় যাবে?

    —কোথায়?

    –তোমাকে আমি নিয়ে যাব। আমাদের একটা ক্লাব আছে। স্কুলের ছুটির পর আমি প্রায়ই সেখানে যাই। তুমি চলো না, তোমার ভালো লাগতে পারে।

    —তোমাদের ক্লাব, মানে সেখানে তোদের বয়েসী স্কুলের ছেলেমেয়ে, আমি তার মধ্যে গিয়ে কী করব?

    –না, না, কয়েকজন বড়ও আছে। বেশ মজার জায়গা।

    —সবাই আমার অচেনা। তারা আমার যাওয়াটা কি পছন্দ করবে?

    —কেউ তোমাকে নিয়ে মাথাই ঘামাবে না। ওখানে কেউ কারুর সম্বন্ধে কিছু বলে না। তা ছাড়া সেখানে প্রিসিলা আছে।

    —প্রিসিলা কে?

    —গেলেই দেখতে পাবে। এখানে দাঁড়িয়ে শুধু শুধু প্রিসিলা কে, প্রিসিলা কে বলে কী বুঝবে? প্রিসিলা হচ্ছে প্রিসিলা!

    আবার ট্যাক্সি।

    এবার ফিরে গেলাম মুমুদের স্কুলের কাছেই। গুরুসদয় রোডে। একটা বারোতলা বাড়ির সামনে মুমু ট্যাক্সিটা থামাল।

    এই রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে অনেকবার পাশাপাশি এই কয়েকটা আকাশচুম্বী বাড়ি দেখেছি। কখনো ভেতরে ঢুকিনি। কারা এসব বাড়িতে থাকে তা-ও জানি না।

    মুমু যে প্রায়ই আসে তা বেশ বোঝা গেল। গেটের দারোয়ানদের ভূক্ষেপ না করে গট গট করে ঢুকে এল ভেতরে। সোজা গিয়ে লিফটের সামনে দাঁড়াল। পাশাপাশি দুটো লিফ্ট। পাশের লাল আলো দেখে বোঝা গেল দুটোই ওপরে উঠছে। প্রথমে যেটা নামল, তাতে লিফ্‌টম্যান নেই।

    তবু মুমু আমাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকে দরজা টেনে দিল। তারপর টিপল এগারো নম্বর বোতাম।

    নিঃশব্দে লিফটটা উঠতে লাগল ওপরে। মুমু আমার বুকের ওপর মাথাটা এলিয়ে দিয়ে বলল, ব্লু, এই জায়গাটার কথা কারুকে বলিনি। সিক্রেট। তোমাকে নিয়ে এলাম কেন বলো তো? বলতে পারবে না। তুমি একটা হাঁদারাম। তুমি কিন্তু আমাদের ক্লাবটার কথা আর কারুকে জানাতে পারবে না!

    —প্রতিজ্ঞা করতে হবে?

    —মনে মনে করো। মোট কথা কারুক্কে বলবে না। আর তোমাকে যে কাজের ভার দিয়েছি, সেটা মনে থাকবে তো? লালুমামাকে ল্যাঙ মেরে ওর পা-টা ভেঙে দেওয়া চাই। আমাদের বাড়ির সিঁড়িতেই করবে, তা হলে আমরা বেশ দেখব!

    অগ্রিম পুরস্কার হিসেবে মুমু আমার ডান হাতটা তুলে ওর ঠোটে ছোঁয়াল।

    তা হলে ব্যাপারটা দাঁড়াল এই যে লালুদা আমাকে কাজ দিয়েছে মুমুর ওপর নজর রাখার। আর মুমু আমার ওপর ভার দিচ্ছে লালুদার পা খোঁড়া করার।

    এক ধরনের স্পাইদের বলে ডাবল এজেন্ট, যারা গোপনে দু’পক্ষের হয়েই কাজ করে। আমার অবস্থাটাও এখন সে-রকম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আকাশ পাতাল – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Ek Pata Golpo সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Our Picks

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কালিদাস কাহিনী – পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }