Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প162 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – ১৩

    ১৩

    আবদুল সকালবেলা এসে বলল, ‘আপনার কাছে বিদায় নিতে এলাম, আবার কবে দেখা হয় না-হয়।’

    আবদুলের মতো এমন চমৎকার ছেলে আমি খুব কম দেখেছি। সেই দুর্লভ ধরনের মানুষ যারা হাসতে-হাসতে দুঃখের কথা বলতে পারে। আমার চেয়ে বয়েসে বেশ ছোট, এবার বি.এ. পরীক্ষা দেবে, পড়াশুনোয় খুব ভালো, এরইমধ্যে ইংরিজি খবরের কাগজে চিঠি লেখা শুরু করেছে। দেখতে সুন্দর নয় আবদুলকে — মুখের গড়ন খানিকটা চৌকো ধরনের, অস্পষ্ট চামড়ার রং, সীমাবদ্ধ চোখ, তাছাড়া সেলুনে কায়দার চুলের ছাঁট দিতে শেখেনি একেবারে ভিড়ের মধ্যে মিশে যাবার মতো চেহারা। কিন্তু মুখে এমন একটা ঝলমলে কৌতুক লেগে থাকে সবসময় যে, ওর মুখের দিকে তাকালেই দর্শকের মুখেও একটা প্রসন্নতা আসতে বাধ্য। চব্বিশপরগনার একটা গ্রাম থেকে কলকাতায় এসেছে লেখাপড়া করতে–ওদের আত্মীয়-পরিজনের মধ্যে কেউ কোনদিন ইস্কুল-মাদ্রাসা পার হয়নি, আবদুলই প্রথম এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে, ওর বাবা এখনো চাষের কাজ করে। বাড়ি থেকে পয়সাকড়ি দেবার সামর্থ্য নেই—কলকাতায় থাকে এখানে-সেখানে, কোন চাল-চুলো নেই—ডিস্ট্রিক্ট স্কলারশিপ পায় ১৫ টাকা—সেটা মূলধন করে সারা মাস মাথা খাটিয়ে চালিয়ে দেয় অর্থাৎ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পের চরিত্রের মতো গাঁয়ের ছেলে শহরে এসে খেয়ে না-খেয়ে লেখাপড়া শেখার জন্য প্রাণপণ করেছে। কোনদিন হয়তো, ও আমাকে এসে বলল, ‘আপনি পান খান, নীলুদা?

    —মাঝে-মাঝে দু-একটা। কেন বলো তো?

    –কাল একটা অদ্ভুত জিনিশ আবিষ্কার করলাম। কাল রাত্রে পকেটে দশ নয়াপয়সা ছিল তো, ভাবছিলাম কী করি, কী করি। ক্ষিদে লেগেছিল চার পয়সার ছাতু খেলাম, বুঝলেন। মুখটা একটু বিশ্রি-বিশ্রি লাগছিল তারপর, তাই চার নয়া দিয়ে একটা মিঠে পান খেলাম। তখন জানেন, ভারি আশ্চর্য, বোধহয় পানের সঙ্গে ছাতুর একটা কেমিক্যাল রি-অ্যাকশান হয়, পেট ভরে গেল—আর মনটাও খুব ভালো হয়ে গেল—কীরকম যেন ফুরফুরে লাগতে লাগল—ভাবলাম উড়তে উড়তে বাড়ি যাই। আপনি একদিন ছাতুর সঙ্গে পান খেয়ে দেখবেন?

    আবদুলের সঙ্গে কথাবার্তা আমাকে একটু সাবধানে বলতে হয়। ওর সরলতার কাছে প্রতিমুহূর্তে আমার অপমানিত হবার ভয় থাকে। গতকাল রাত্রে যে শেষ দশ নয়াপয়সা নিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করেছে আজ সে কোন্ মহাশূন্য নিয়ে গবেষণা করবে–সে-সম্পর্কে আমার প্রশ্ন করা চলবেনা। প্রত্যেকের জীবন তার নিজের–তবু আমরা অপরের জীবন নিয়ে কথা বলার জন্য আকুলি-বিকুলি করি।

    আমিও আবদুলকে সৎপথে আনার জন্য কিছু-কিছু চেষ্টা করেছি। গ্রামের ছেলে, আগে বিড়ি-সিগারেট খেতনা, আমিই সিগারেট ধরিয়েছি—এখন, এই মাস-দুয়েকের মধ্যেই ছাই ঝাড়ার সময় দিব্যি আঙুলে টুকি আওয়াজ করতে শিখে গেছে। টিউশানি করতে গিয়ে কী কী উপায়ে পড়ানো ফাঁকি দিতে হয়, সে-সম্পর্কেও উপদেশ দিয়েছি ওকে। ট্রামে-বাসে ভাড়া না-দেবার আমার নিজস্ব পদ্ধতিগুলি শুনে-শুনেও ও এখনো ঠিকমতো রপ্ত করতে পারেনি যদিও। এছাড়া, আর-একটি কথা আমি ওকে প্রায়ই বলে থাকি, ‘পড়াশুনো ছেড়ে দাও আবদুল, পড়াশুনো করে কী হবে?’ এর উত্তরে ও একটা বেয়াড়া ধরনের প্রশ্ন করে, ‘পড়াশুনো না-করে কী হবে, সেটা আগে বলুন!’ পড়াশুনো ছেড়ে গ্রামে ফিরে গিয়ে বাবার সঙ্গে মিলে চাষবাস করা অনেক ভালো –সেটা ও কিছুতে বুঝবেনা। অর্থাৎ একাকীত্ব, মুক্তি, আত্মপ্রকাশ ইত্যাদি কয়েকটা আধুনিক সাহিত্যের অসুখ ওর মধ্যে ঢুকে গেছে। ও এখন নাগরিক জীবন চায়।

    অনেকদিন আবদুলের সঙ্গে দেখা হয়নি। হঠাৎ এসে ও বিদায় নেবার কথা বলতে একটু আবাক হলাম। জিজ্ঞেস করলাম, ‘গ্রামে ফিরে যাচ্ছ নাকি?’

    —না, বিদেশে। পাকিস্তানে। ঢাকা যাব।

    — বেড়াতে? কবে ফিরবে?

    —আর ফিরব না। ওখানেই থেকে যাব।

    আমি, হঠাৎ চুপ করে গেলাম। বুঝলাম, নিশ্চয়ই একটা-কিছু গুরুতর ঘটেছে! সামান্য কারণে আবদুলের মতো ছেলে বিমর্ষ হয়না। আবদুল কিন্তু পরমুহূর্তেই হেসে উঠে বলল, ‘কী, জিজ্ঞেস করলেননা, কেন যাচ্ছি?’

    বললাম, ‘তুমিই বলো-না।

    —একা-একা থাকি। আজকাল বড় মন খারাপ লাগে।

    –ঢাকায় কোন মেয়ের সঙ্গে প্রেম হয়েছে বুঝি?

    —প্রেম তো এখানেই একটা মেয়ের সঙ্গে হয়েছিল, মুসলমান বলে পাত্তা দিলনা। না, ইয়ার্কি নয়, নীলুদা আজকাল টাকা-পয়সা একদম কুলিয়ে উঠতে পারছিনা। তাছাড়া সবসময় একটা অস্বস্তি।

    —অস্বস্তি?

    —কী জানেন, কাগজে টিউশনির বিজ্ঞাপন দেখে-দেখে হয়তো গেলাম সব কথাবার্তা হল, যেই নাম জিজ্ঞেস করল, অমনি হেসে ফেলল আবদুল — লোকগুলো এমন মজার, চট করে মিথ্যে কথাও বানাতে পারেনা। বলে, ‘এখন টাকার টানাটানি কয়েকমাস মাস্টার রাখব না এখন!’ আসলে সব ঠিক হবার পর আমি মুসলমান শুনেই যে এমন মজার মুখ করে লোকেরা …

    –অনেক মুসলমানও তো বাড়িতে প্রাইভেট টিউটর রাখে, সেখানে যাওনা কেন?

    —আমি মুসলমান বলেই কেন মুসলমানের কাছে যাব? আমি মানুষ, যে—কোন মানুষের কাছে যাব।

    –অত আদর্শ রাখলে চলেনা আবদুল। বেঁচে থাকা হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। মুসলমানের কাছে গেলে যদি চাকরি পাও সেখানেই যাবে!

    —তাও গিয়েছিলাম। কিন্তু জানেন তো, এদেশে মধ্যবিত্ত মুসলমান নেই। বুদ্ধিজীবী মধ্যবিত্ত শ্রেণী আছে হিন্দুদের মধ্যেই। আর বড়লোক মুসলমানেরা এক অদ্ভুত চীজ। সত্যি বলছি। তারা থাকে সাহেবী কায়দায় তারা চায় প্যান্টকোট—পরা ইংরেজি-বলা মাস্টার তা হিন্দু মুসলমান অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান যাই হোক—না। আমার মতো ইস্তিরি না-করা জামা, ময়লা ধুতি পরা মাস্টার চায়না। অথচ আমি কি ইংরিজি খারাপ জানি?

    —বড়লোক হিন্দুরাও তাই। দুনিয়ার এমন-কোন বড়লোক নেই, যে নিজের বাড়িতে ময়লা জামাকাপড়-পরা মাস্টার রাখতে চায়।

    আবদুল সরল হেসে বলল, ‘কী মুশকিল, টাকা না পেলে প্যান্টকোট কিনব কী দিয়ে?’ ওর বলার ভঙ্গিতে আমাকেও হেসে উঠতে হল।

    –একজন দোকানদারের কাছে গিয়েছিলাম— খাওয়া-থাকার বদলে দোকানের হিশেবপত্র রাখতে হবে। লোকটা সব ঠিক করার পর আমি মুসলমান শুনে বললে কী জানেন? বললে, ভাই তোমাকে না নেবার কোন যুক্তিই নেই কিন্তু তবু নিতে পারছিনা। মাপ করো ভাই। লোকটার কাচুমাচু মুখ দেখে এমন মায়া হল আমার সত্যি খুব ভালো লোকটা, কিন্তু সংস্কারের কাছে অসহায়। আবার দু-একজন চোখ রাঙায়ও বটে, স্পষ্ট অপমান করে কিন্তু তাতেও কিছু মনে করিনা। ও তো স্বাভাবিক। মানুষ তো আর একরকম হয়না। এখন কারুর কাছে যেতেই লজ্জা হয়। নিজের নাম বলতে যদি লজ্জা হয় তার চেয়ে খারাপ কিছু আছে? সেইজন্য জানেন, সবসময় একটা অস্বস্তি লাগে, কীরকম কষ্ট হয়, বুকের মধ্যে যেন ফোঁটা-ফোঁটা রক্ত পড়ছে অনবরত। নিজেকে খুব একা মনে হয়।

    আমি চুপ করে ভাবতে লাগলাম, আবদুল কি একাই এরকম পরিস্থিতিতে পড়েছে না ওর মতো সব মুসলমান ছেলেদেরই এ-অবস্থা? কী জানি! এমনও হতে পারে, আবদুলের একাকীত্ববোধের সঙ্গে ধর্মভেদের কোন সম্পর্ক নেই। কাফকা কিংবা কামুর লেখাটেখা পড়েই বোধহয় এসব মাথায় ঢুকেছে! হয়তো এসব সাহিত্যের অসুখ। কিন্তু অস্বস্তির কারণ যখন ও নিজেই বার করেছে তখন সেইটাই সত্য। অন্য কোন ধারণা কি ওকে কোন সাহায্য করতে পারবে? কিন্তু ঢাকায় গেলেই ওর এই ভাব সেরে যাবে ও কী করে ভাবল?– সে কথা ওকে জিজ্ঞেস করলাম।

    —জানিনা ওখানে গেলেই কেটে যাবে কিনা। তবু দেখা যাক্। জানেন, এখানে তো আমার কোন বন্ধুও নেই। কলেজে একটা ছেলের সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব হল— বনেদি ব্রাহ্মণবংশের ছেলে অনেক কিছু জানে, অনেক আলোচনা করতাম দুজনে। ছেলেটাকে মনে হত সত্যিকারের উদার। ওর সঙ্গে কথা বলে আনন্দ পেতাম। একদিন বিকেলে একটু একা-একা লাগছে, ওর বাড়িতে গেলাম। ছেলেটা এমন তিনতলা জানলা থেকে উঁকি মেরে বলল, খুব ব্যস্ত, দেখা করতে পারবে না। আচ্ছা দেখুন তো কী বোকা আমার কী ক্ষতি হল ওকেই তো নিজের সঙ্গে জোচ্চুরি করতে হল! আর-একটা ছেলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুব আদরযত্ন করে খাওয়ায় মাঝে-মাঝে খাতিরের ঠেলায় আমি ব্যতিব্যস্ত—পাড়ার লোককে ডেকে-ডেকে পরিচয় করিয়ে দেয় যে, আমি মুসলমান। ব্যাপারটা কী বুঝতে পারলেন তো? আমি ঠিক বুঝে নিয়েছি—মহত্ত্ব দেখানো। তারপর আর আমি যাইনা, কেন যাব বলুন!

    আবদুলের কথা বলার বিশেষ গুণ এই যে কোন বিদ্রূপ বা দুঃখের চিহ্নমাত্র নেই। কথার ঝোঁকে কথা বলে যায়।

    –জানেন নীলুদা, মুসলমানরা আরও খারাপ। আমি তো অনেক চাষাভুষো গরিব লোকের সঙ্গে মিশে দেখেছি! গরিব হিন্দুদের মধ্যে সাধারণত মুসলমানদের সম্পর্কে কোন রাগ বা এড়িয়ে যাবার ভাব নেই। কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে আছে। আমি তো মুসলমানদের বস্তিতে থাকি। দেখেছি হিন্দুদের ওপর সবসময়েই একটা রাগ আর হিংসে নিয়ে কথা বলে। খুব খারাপ!

    –স্বাভাবিক এটাও। ওরা এদেশে সংখ্যালঘু—তাই হয়তো ভাবতে পারে ওদের ওপর অবিচার করা হচ্ছে।

    —শুধু তাই না, কুসংস্কারও বেশি। শিক্ষিত ছেলেদের মধ্যেও আছে। আমি কয়েকটা মুসলমান ছেলের মেসে বসে রবীন্দ্রনাথের ব্রহ্মসঙ্গীত গাইছিলাম ওরা কী বলল জানেন? আমি হিন্দুর গান গাইছি!

    –আমি এরকম কথা কখনো শুনিনি! এটা তোমার বাজে কথা। আমি অনেক মুসলমান ছেলেকে জানি যারা রবীন্দ্রসঙ্গীত বলতে পাগল!

    —আপনারা একটা ছোট গণ্ডির মধ্যে থাকেন তার বাইরে একটা বিরাট বাংলা দেশ আছে। আমি অনেক মুসলমানকে বলতে শুনছি যে রবীন্দ্রনাথ বা জীবনানন্দ দাশ হিন্দু সাহিত্য লিখেছেন—। কিন্তু কোন হিন্দু কি কখনো বলে, নজরুল ইসলাম বা মুজতবা আলী ইসলামি সাহিত্য লিখেছেন? কখনো বলে না! আমাদের মধ্যে এরকম কুসংস্কার বেশি আছে।

    –বলুক-না, তাতে কী ক্ষতি হয়েছে? তোমার তা নিয়ে অত মাথা ঘামাবার কী দরকার?

    –আপনি আমাকে খুশি করার জন্য সত্যি কথাটা এড়িয়ে যেতে চাইছেন!

    আমি হঠাৎ অত্যন্ত চটে গিয়ে বললাম, ‘বাজে বোকো না! তুমিও আমাকে খুশি করার চেষ্টায় মুসলমানদের নিন্দে করতে শুরু করেছ।’ আবদুল চটপট উত্তর দিল, ‘আপনি একথাটা রাগের মাথায় না ভেবে বললেন!

    আমি একটু অনুতপ্ত হয়ে চুপ করে রইলাম। তারপর বললাম, ‘আবদুল, আমার বন্ধুদের মধ্যে কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান কিন্তু কখনো তা মনেও পড়েনা। তুমি আজ সকালে এসে হঠাৎ এসব প্রসঙ্গ তুললে কেন? আমি কি জানিনা, দেশে এ-সমস্যা আছে? থাকবেই। দুই জাত বা দুই ধর্ম বা দুরকম গায়ের রঙ —যে-কোনো একটা হলেই হল …এরকম মানুষ কোথাও শান্তিতে পাশাপাশি থাকতে পারেনা। ঝগড়া-মারামারির জন্য মানুষের একটা তো খেলনা চাই। তুমি আমি পাশাপাশি বসে থাকলে যুক্তিতর্ক মেনে কত কথা হবে। কিন্তু যেই দুপাশে দুটি জনতা, বা দুটো দেশ—অমনি আর কোন যুক্তি টিকবেনা। এসব নিয়ে আর ভাবতে চাইনা কারণ জানি তোমার বা আমার ইচ্ছে-অনুসারে কিছুরই বদল হবেনা। আজ গোটা পৃথিবীতে সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের ইচ্ছে-অনুযায়ী, কোন দেশেরই রাজনীতি চলছেনা।

    —রাজনীতি ছেড়ে দিন, সাধারণ মানুষ?

    — সেখানেও ঐ সংখ্যালঘু সংখ্যাগুরুরা এই দুই দলে রেশারেশি, অবিশ্বাস, ঘৃণা থাকবেই। সংখ্যালঘুরা সবসময়ে মনে করবেই তারা নির্যাতিত, সত্যিকারের নির্যাতিত হোক বা না-হোক। এদেশে মুসলমানরা, পাকিস্তানে হিন্দুরা, আমেরিকায় নিগ্রোরা, সাইপ্রাসে তুর্কিরা, ইউরোপে ইহুদিরা। আচ্ছা, ওটা ভুলে যাও। মনে করো কবি আর অকবি—এই দু-দল। সারা পৃথিবীতেই কবিরা সংখ্যালঘু, অকবিদের কাছে নির্যাতিত। কবি শুনলে প্রেমিকার বাবা বাড়ি থেকে দূর করে দেয়, অপিসে চাকরি হয়না, বইয়ের দোকানে মুখ বাঁকায়, মাছওলা ঠকায়, রাস্তায় পুলিশে তাড়া করে, বাড়িওলা বাড়ি ভাড়া দেয়না—

    আবদুল হেসে বলল, ‘আপনি কথাটা অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছেন।’ তারপর ছেলেমানুষের মতো উত্তেজিত হয়ে আবদুল বলল, ‘আমি লোককে বোঝাতে চাই। কেন মানুষে-মানুষে এমন তফাত হবে ধর্মের জন্য? আমি এখানে পারলামনা, হেরে গেলাম। ঠিক করেছি, পাকিস্তানে গিয়ে মুসলমানদের বোঝাব। মুসলমানরা বেশি পেছিয়ে আছে আমি ওদের বোঝাব—পাকিস্তানে আমার বেশি স্বাধীনতা থাকবে।

    —স্বাধীনতা কথাটা কত ছোট!

    —কেন?

    –তুমি মুসলমান বলে শুধু মুসলমানদের বলতে পারবে—তারা ভুল করছে। হিন্দুদের পারবেনা! আমি দৈবাৎ হিন্দুর ঘরে জন্মেছি–এখন আমি যদি বলতে যাই, মুসলমানদের বোরখা-পরা কিংবা পর্দা-প্রথা খারাপ কিংবা বাঙালি মুসলমানদের নাম কেন বাংলাভাষায় রাখা হয়না, অমনি বলা হবে আমি অনধিকার চর্চা করছি। আমাকে ওরা মারতে আসবে। তুমি যদি আবার বল, হিন্দুদের বিয়ের সময় মেয়েদেখানো প্রথা কিংবা বিধবাদের ঝিয়ের মতো খাটানো, কিংবা জাতিভেদ-প্রথা খারাপ–তবে তোমার নিস্তার নেই। তাও তো এ-সব সামাজিক প্রথা, ধর্ম নিয়ে তো কথাই বলা যাবেনা। আমি হিন্দুধর্ম সম্পর্কে গুষ্টির পিণ্ডি করে যা-খুশি বলতে পারি, কিন্তু ইসলামের নিন্দে করতে পারবনা। আবার, তুমি ইসলামের দোষত্রুটি দেখাতে পারো, কিন্তু একবার হিন্দুদের মূর্তি-পূজা নিয়ে কথা বলে দেখ দেখি! এর নাম স্বাধীনতা, আবদুল?

    —তা হোক! তবু আমাদের যতটা সাধ্য চেষ্টা করা উচিত।

    একটুক্ষণ চুপ করে রইলাম, দুজনেই। তারপর আবদুল গাঢ়স্বরে বলল, ‘চলে যাচ্ছি, আর আপনাদের সঙ্গে কখনো দেখা হবে কিনা, কী জানি। মনটা খারাপ লাগছে।’

    বললাম, ‘চলো, তোমাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।’

    সিঁড়ি দিয়ে নামবার সময় যতদূর সম্ভব চেষ্টা করলাম আবদুলকে অন্যমনস্ক করে দেবার, তবু ওর চোখ পড়ে গেল। আমাদের ফ্ল্যাটবাড়ির সিঁড়ির তলায় অন্ধকার জায়গায় একটি পরিবার এসে আশ্রয় নিয়েছে–সেদিকে তাকিয়ে ও জিজ্ঞেস করল, ‘এরা কারা? আগে তো দেখিনি।’

    বললাম, ‘কী জানি, চলো তাড়াতাড়ি, বাস এসে গেছে।’

    —ইস্, সিঁড়ির নিচের ঐটুকু জায়গায়, এখানেও ভাড়াটে নাকি?

    –জানিনা, চলো চলো।

    –বাঃ, এক বাড়িতে আছেন, জানেননা।

    –কী জানি লক্ষ করিনি। চলো, আমার একটু তাড়া আছে।

    ততক্ষণে আমরা বাড়ির বাইরে এসেছি। আবদুল হঠাৎ থেমে গিয়ে বলল, ‘আপনি যেন কিছু লুকোচ্ছেন!

    নিজের লজ্জার কথা বলব কী করে? ওরা আমার পিসীমা আর তাঁর ছেলেমেয়ে। নিজের ঘরে জায়গা দিতে পারিনি, সিঁড়ির তলায় আছেন– একথা কি আর সকলকে বলা যায়?

    —নীলুদা, আমি দূরে চলে যাচ্ছি শুনে অমনিই আপনি আমাকে পর-পর মনে করছেন। ওরা কোথা থেকে এসেছেন?

    —পাকিস্তান থেকে! কিন্তু, আবদুল, তুমি পাকিস্তান চলে যাচ্ছ– সেই সময়ই পাকিস্তান থেকে একটা হিন্দু পরিবারের চলে আসা নিয়ে আলোচনা করা অত্যন্ত ভালগার। আমি চাইনা। এরকম তো চলছে, জানই। সে নিয়ে আর কথা বলে কী হবে?

    আবদুলের মুখ মুহূর্তে বিষণ্ন হয়ে গেল। ওখানে দাঁড়িয়ে থেকেই বলল, ‘ওঁরা কেন চলে এলেন? আবার কি কোন গণ্ডগোল শুরু হয়েছে?

    –না।

    —আপনি সত্যি কথা বলুন।

    —সত্যিই বলছি। আমি বারবার ওদের জিজ্ঞেস করেছি—কোন দাঙ্গা হয়েছে কিনা, কেউ ভয় দেখিয়েছে কিনা–নইলে এতকাল পর কেন চলে এলেন। কিছুই হয়নি। এমনিই। দাঙ্গা হয় সাধারণত শহর-অঞ্চলে। ওঁরা এসেছেন ফরিদপুরের একটা গ্রাম থেকে–সেখানে আমিও জন্মেছি–সেখানে এপর্যন্ত কোনদিন দাঙ্গা হয়নি।

    —এমনি কেউ আসেনা। কেন চলে এলেন তবে?

    —তুমিও তো এমনিই যাচ্ছ। অস্বস্তি! পিসেমশাই বুড়ো হয়েছেন– ওঁর বড় ছেলেটা মারা গেছে–মুসলমানদের হাতে নয়, কলেরায়। তবু, দেশের জমিজায়গায় দিন চলে যেত। কিন্তু পিসীমার এক মেয়ে বড় হয়েছ–তার জন্যেই এখানে চলে আসা। কয়েকটা ছোকরা নাকি দিনরাত ঘুরঘুর করত, উড়ো চিঠি দিয়েছে, রাত্তিরবেলা মেয়েকে চুরি করে নিয়ে যাবে বলে শাসিয়েছে। কী এমন অস্বাভাবিক এটা? ওঁরা কি জানেননা যে, সোমখ মেয়েদের পিছনে ছোকরাদের ঘোরাঘুরি এখানেও বেশি ছাড়া কম নয়? তাছাড়া, এই শহরতলি—অঞ্চলের ছোকরারা উড়ো চিঠি না-দিয়ে এমনিতেই মেয়েদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তবে, এখানে এসে কী লাভ হল, এখানে খাবার সংস্থান নেই, তবু কেন এলেন? কারণ কী জান, সন্দেহ আর অবিশ্বাস। আসবার সময়, গ্রামের অনেক মুসলমান নাকি বলেছে, যাবেননা, আপনারা গ্রামের শেষ ব্রাহ্মণ, আপনারা যাবেননা। তবু কেন এসেছেন? সেই সংখ্যালঘু হবার অপমানবোধ। ভেবেছে দিনদুপুরে মেয়ের হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলেও গ্রামের একটা লোকও তখন প্রতিবাদ করবেনা। সন্দেহ আর অবিশ্বাস! তুমি যাকে আধুনিক ভাষায় বললে, অস্বস্তি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Our Picks

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }