Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প162 Mins Read0
    ⤶

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – ২৫

    ২৫

    আমি একটি অলীক শহরের অধিবাসী। যখন একা-একা পথ হেঁটে যাই, তখন আমি আমার ছায়ার মুখোমুখি থাকি, পাশাপাশি নয়। আমি ঠিক কোন্ দিকে যাব বুঝতে পারিনা, আমার ছায়া পথনির্দেশ করে। অনেকসময় বলে, রাস্তাটা বাঁদিকে বেঁকে গেছে, তোমার যাবার দরকার সামনে, কিন্তু তুমি এখন ডানদিকেই যাও। এমন অবাস্তব, অলীক, অভ্রপুষ্প, মায়া, দৃষ্টিবিভ্রম এই পথগুলি।

    বস্তুত, যে-কোন বাস্তব শহরের রাস্তাই হওয়া উচিত সোজা। কখনও বাম—দক্ষিণে বেঁকে যাবেনা। রাস্তা তো আর নদী নয় যে, যে-কোন দিকে ঘুরে যাবার অধিকার আছে। নদী ইচ্ছেমতো যায়, ইচ্ছেমতো লুকোচুরি খেলে, নারী-শরীরের মতো প্রত্যেক বাঁকে-বাঁকে নতুন সৌন্দর্য দেখানো তাকে মানায় —কারণ খেয়ালিপনা প্রকৃতিরই ভূষণ। কিন্তু মানুষ যেখানে সম্মিলিতভাবে কাজ করে সেখানে খেয়ালিপনার কোন অবকাশ নেই—সেখানে শুধু কেজো, দরকারি, শ্রীহীন —সরকারি চিঠির ভাষা ও কাগজের মতো কঠোর ও কুৎসিত হওয়াই স্বাভাবিক। যেমন, নদী আঁকাবাঁকা হয়, কিন্তু মানুষের কাটা খাল হয় সোজা আর লম্বা। মঙ্গলগ্রহে কিংবা চাঁদে প্রথম মানুষের অস্তিত্বের কথা বিজ্ঞানীদের মনে আসে–যখন দূরবীনে কয়েকটা লম্বা-লম্বা খালের মতো দেখা গিয়েছিল। ওরকম সোজা বলেই মনে হয়েছিল ওগুলো নদী নয়, প্রাকৃতিক নয়, প্রাণীর তৈরি। সেই নিয়মে, প্রতি শহরের পথ হওয়া উচিত চওড়া, সোজা, বিচার-বিভাগীয় তদন্তের মতো দীর্ঘ। তার বদলে আমার এই অলীক কলকাতা শহরে সব রাস্তাই কুটিল ও বক্র, মানুষের মনের মতো অলিগলি।

    আরেকটি অদ্ভুত কাণ্ড এই শহরের বাড়িগুলি। এক-একটা বাড়ির দেয়াল এক-এক রঙের হয় কেন? বাড়ি চিনতেই পারিনা। এমন নানান রঙের বাড়ি হলে কি সহজে চেনা যায়! আমার কোন-একটা বাড়িতে যাবার দরকার হলে আমি যে-কোন রাস্তায়, যে-কোন দিকে মোড় ঘুরে যে-কোন বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হই। দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলি, অমুক আছে? ঠিক কোন-না-কোন অমুক বেরিয়ে আসে। বাংলা ভাষায় দুটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শব্দ আছে, ‘অমুক’ আর ‘ইয়ে’, অধিকাংশ বাক্যালাপ আমি এই দুটি শব্দপ্রয়োগে সেরে ফেলি। কোন অসুবিধে হয়না। কিন্তু বাড়িগুলো নানা রঙের হওয়ার কোন যুক্তিই নেই। ‘ঈশ্বর গ্রাম সৃষ্টি করেছেন, মানুষ সৃষ্টি করেছেন, আর মানুষ সৃষ্টি করেছে নগর।’ তাহলে, মানুষের গড়া নগর ঈশ্বরের সৃষ্টির চেয়ে আলাদা হবেনা? লাল-নীল-হলুদ-গোলাপী কেন বাড়ির রং, ওসব তো ফুলের রং হয়, বাস্তব শহরের যে-কোন বা প্রতিটি বাড়ির রং হওয়া উচিত কালো, কালোই হওয়া উচিত সমস্ত মানবসমাজের রং। প্রকৃতির একমাত্র কালো অঙ্গ তো যা দেখছি কয়লা, তাও থাকে মাটির নিচে, মানুষ সেগুলো ওপরে তুলেও পুড়িয়ে ছাই রং করে দিচ্ছে। সুতরাং, সমস্ত শহরের বাড়ির রং কালো করে দেওয়া উচিত আইন করে, কোন বাড়ি আর ময়লা দেখাবেনা, কুৎসিত দেখাবেনা, আলাদা দেখাবেনা। একমাত্র আলাদা রং, সাদা রঙের হোক দেবালয়গুলো—মন্দির মসজিদ চৈত্য গির্জা সিনাগগ্। দেবালয় আর মানুষের বাড়ির রং যদি এক হয়, তবে দেবালয়গুলো আলাদা করে-করে তৈরি করার দরকার কী?’হৃদয়-মন্দির’ শব্দটা যে আজকাল অপ্রচলিত হয়ে যাচ্ছে, তার কারণ হৃদয়ের কোন রং নেই, মানুষের দেহকে দেবতার আয়তন হিসেবে ভাবতে অনেক কষ্ট হয়, কেননা মানুষকে শুধু মানুষ হিশেবে চিনতেই বহু সময় কেটে যায়।

    আঃ, কল্পনা করেও কত সুখ! যেদিন আমার শহর বাস্তব হয়ে উঠবে প্রতিটি পথ পিচবাঁধানো চকচকে, যতদূর দৃষ্টি যায় সোজা–দুপাশের প্রাসাদসারি নিখুঁত কালো রঙের, কোথাও অন্য রঙের মলিনতা নেই—মাঝে-মাঝে দু-একটি শ্বেত-শুভ্র দেবালয় ছাড়া। প্রকৃতি জানে কীভাবে সুন্দরের দর্শন করতে হয়, মানুষ জানেনা। প্রকৃতি জানে, সুন্দর জিনিশ সবসময় দেখতে নেই, মাঝে-মাঝে চোখের আড়াল করতে হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্যের আকর যে নারী তাকেও অনবরত দেখলে পুরোনো ও মলিন হয়ে যায় মানুষ তবুও নারীকে মলিন করে। আমি এই তত্ত্ব জেনে একটি বিশেষ নারীকে ঘনঘন দেখতে যাইনি। কিন্তু নারীও মলিনা হতে চায় সে আমাকে ভুলে গিয়ে অপর ঘনঘন-আসা পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠা হয়েছে। প্রকৃতির যেটুকু কালো রং, সেটুকু সৃষ্টির নয়, বিস্মৃতির, অর্থাৎ রাত্রি। প্রকৃতির যত সৌন্দর্য দিনেরবেলায় দেখায়, সেগুলো আবার আড়াল করে রাখে সারারাত। সেইজন্যই প্রকৃতি মলিন হয়না, হয়তো।

    না, শুধু তাই নয়। রাত্রিবেলা চাঁদ ও তারাগুলো দেখার জন্য অমন চমৎকার অন্ধকার পটভূমিকা তৈরি করে। দিনের আলোয় যাঁরা চাঁদ দেখেছেন তাঁরা জানেন, সে চাঁদ ব্যবসায়ীর লাল রঙের বাড়ির পাশে লাল রঙের মন্দিরের মতোই কুৎসিত দেখায়। শুভ্র দেবালয় দর্শনের জন্য শহরের প্রতিটি বাড়ি কালো না হলে চলেনা।

    এই অলীক শহরের মানুষগুলোও এমন দুর্বোধ্য যে, আজ পর্যন্ত কারুকে একবিন্দু বুঝতে পারলামনা। একদা আমি দুটি লোকের সংলাপ শুনেছিলাম একটি জটিল রাস্তার মোড়ে। দুটি লাল ও বেগুনি রঙের মানুষ। বলা বাহুল্য, ওদের গায়ের রং লাল কিংবা বেগুনি ছিলনা, স্বাভাবিক মানুষের গায়ের রং যেমন হয়, ময়লা ঘোলাটে জলের মতো। কিন্তু ওদের একজন একটা কটকটে লাল রঙের র‍্যাপার মুড়ি দিয়ে ছিল, বাকিজন বেগুনি রঙের স্যুট। ওদের দুজনের পোশাকই এমন চড়া রঙের যে দেখলে প্রথমেই মনে হয় ওদের কোন নাম নেই—দুটি লাল ও বেগুনি রঙের মানুষ মাত্র। ওদের সংলাপ এইরকম : বেগুনি লালকে দেখে হন্তদন্ত হয়ে বলল, এই যে বাবলু, তোর সঙ্গে দেখা হয়ে ভালোই হল, তিরিশটা টাকা দে তো। লাল একটু উদাসীন ভঙ্গিতে বলল, টাকা নেই তো ভাই।

    –বাড়ি গিয়ে দিবি চল্! আমার হঠাৎ বিশেষ দরকার পড়েছে!

    –আমার বাড়িতেও টাকা নেই।

    –মহা মুশকিল হল তো। আচ্ছা, তুই একটা চেক্ লিখে দে-না, আমি কাল দশটার মধ্যেই ভাঙিয়ে নেব এখন।

    —আমার ব্যাঙ্ক চেক্-বই দেয়না।

    –সেকী রে, তোর কোন্ ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট?

    –ব্লাডব্যাঙ্কে।

    আমি স্তম্ভিত হয়ে এই বাক্যালাপ শুনলাম। সারাদিনটা সেদিন আমার দুশ্চিন্তায় গেল ওদের কথার মর্মার্থ বুঝতে না-পেরে নয়, অন্য কারণে, ওদের রং বুঝতে না-পেরে। যে-লোকের ব্লাডব্যাঙ্কে অ্যাকাউণ্ট তাকে দেখে লাল মানুষ মনে হতে পারে, কিন্তু যে ঋণ চাইছে সে বেগুনি কেন? কী যুক্তি থাকতে পারে এর? সম্পূর্ণ দুর্বোধ্য এই কাণ্ডটি ওরা করে গেল আমার চোখের সামনে!

    আরেকদিনও এরকম সংলাপ শুনেছিলাম আমি। সেদিন আমার মনে হয়েছিল –কোন বাস্তব শহরে চিড়িয়াখানা থাকা উচিত নয়। সম্পূর্ণ অবান্তর পাগলামি বলা যায়। একদিন আমার এই অলীক শহরের চিড়িয়াখানা দেখতে গিয়েছিলাম আমি তখন শীতের মৌসুমি পাখি এসেছে। কিন্তু পাখি দেখার বদলে—হিংস্র জন্তু-জানোয়ারগুলো দেখার কৌতূহলই বেশি হল আমার—কারণ ওদের তো সহজে দেখতে পাইনা। একটি ঝোপের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, ঝোপের আড়ালের বেঞ্চি থেকে টুকরো সংলাপ কানে এল। একটি বিরক্তি ও ভয়-মিশ্রিত বালিকার চাপা কণ্ঠ, ‘না, একী অসভ্যতা হচ্ছে, ছাড়ুন।

    গলার মধ্যে আস্ত পান্তুয়া ঢোকানো অবস্থার মতো স্বরে একটি পুরুষের উক্তি, ‘একি লীলা, তুমি রাগ করছ!’

    —না, সত্যি ভাল্লাগেনা। চলুন এবার যাই।

    –একটু বসো! আমাকে বুঝি তোমার একটুও ভালো লাগেনা?

    –ওসব কী কথা। আঃ না, চলুন।

    –তোমাকে আমার এমন ভালো লাগে। সত্যি লীলা, তোমার মতন–

    —একি একি! না আপনার সঙ্গে আমার আসাই উচিত হয়নি।

    —আমাকে তুমি ভুল বুঝছ। আমি সত্যি তোমাকে এত -। তোমাকে কাছে পাবার জন্য–

    —ইস্, ছি-ছি-ছি। ছাড়ুন, ছাড়ুন, উঃ, দূর হয়ে যান! আমি একাই যেতে পারব। অসভ্য, জানোয়ার কোথাকার!

    —হা-হা-হা। তুমি সত্যি রেগে যাচ্ছ–

    আমার পায়ের নিচ দিয়ে দুটো শিকড় বেরিয়ে আমাকে মাটির সঙ্গে গেঁথে রেখেছিল। নইলে, আগেই আমি স্থানত্যাগ করতাম। কিন্তু পরেও বহুক্ষণ আমি ওখান থেকে নড়তে পারলামনা। ওই একদৃশ্যের বেতার নাটকটার জন্য নয়, ওরকম তো যেখানে-সেখানে আছার ঘটছে, এমনকী বেতারেও ওরকম কুচ্ছিৎ নাটক শোনা যায় অসংখ্য। কিন্তু, আমি অনড় হয়ে ছিলাম, কারণ মেয়েটির ‘জানোয়ার’ বলার সঙ্গে-সঙ্গে লোকটির হা-হা করে হেসে ওঠার মধ্যে আমি অবিকল একটি হায়নার ডাক শুনতে পেয়েছিলাম। চিড়িয়াখানার রেলিংয়ের বাইরে, খোলামেলা মাঠে ঝোপের পাশে হায়নার ডাক শুনতে পাই। তাহলে আর চিড়িয়াখানায় ও-সব জানোয়ার পুষে লাভ কী? সেদিনই আমার উপলব্ধি হয়েছিল একথা যে, ক্লাইভ স্ট্রিট কেন রেলিং দিয়ে ঘিরে রাখেনি। ক্লাইভ স্ট্রিটে একদিন প্রকাশ্য দিনমানে আমি দুটি কুমীরকে পাশাপাশি বুকে হেঁটে যেতে দেখেছিলাম। তাদের দুজনেরই মাথায় পাগড়ি এবং হাতে গ্ল্যাডস্টোন ব্যাগ। কুমীর দুটো গল্প করতে-করতে পাশের একটা গলির মধ্যে ঢুকে গেল। এবং একটা সর্ষের তেলের পুকুরে নেমে সাঁতার কাটতে লাগল।

    কিন্তু এরসঙ্গে কিছুরই তুলনা হয়না সেই বৃদ্ধের। এই অলীক শহরের দুর্বোধ্যতম মানুষ। কাল রাত্রে।

    আমার এক বন্ধু আমাকে একবার বলেছিল যে, যে-কোন অচেনা মেয়েকেই ‘আপনাকে আগে অনেকবার দেখেছি’ বললে খুব খুশি হয়। মেয়েদের সঙ্গে আলাপ করার উপায় এবং রোগ শুনলেই ওষুধের নাম বলা–পৃথিবীর যাবতীয় লোকের স্বভাব। যাই হোক, বন্ধুটির উপদেশমতো আমি একবার এক জনসম্মিলনীতে একটি অচেনা রূপসী যুবতীকে বলেছিলাম, আমায় চিনতে পারছ, ইন্দ্রাণী? কেমন আছ? এর উত্তরে মেয়েটি বলে যে, সে আমাকে একটুও চিনতে পারেনি, তাঁর নাম ইন্দ্রাণী নয় এবং আমাকে দেখার পরমুহূর্ত থেকে সে আর ভালো নেই। একটুও দমিত না-হয়ে আমি তবু বলেছিলাম—আমি তাকে বহুকাল ধরে চিনি, একজন্ম আগে থেকে, গতজন্মে তার নাম ছিল ইন্দ্রাণী। আমার মনে আছে, আমি জাতিস্মর! মেয়েটি এ-কথায়ও একটুও বিচলিত হয়নি, এবং এর পরবর্তী আখ্যান এখানে আর বিবৃত করার দরকার নেই—শুধু এটুকু বললেই হবে–সেদিনের স্মৃতি আমার পক্ষে সুখকর নয়।

    কিন্তু, কাল রাত্রে আমি একজন সত্যিকারের জাতিস্মরেরই দেখা পেয়েছিলাম হয়তো। সন্ধের পর আকাশ-জোড়া মেঘ, আমি একা ছিলাম। এই শহরে আমার কোথাও যাবার জায়গা ছিলনা, কোন একটি মুখও মনে পড়েনি, যার কাছে গিয়ে নির্ভয়ে বলতে পারি, কতদিন তোমায় দেখিনি, তুমি কেমন আছ? মেঘলা আকাশের নিচে বোধহয় সব মানুষই নিজেকে খুব একা মনে করে, কারণ সে—সময় তার ছায়াও পড়েনা। একা থাকতে-থাকতে আমার মন বিষম ভারী হয়ে গেল। আমি রাস্তার মানুষদের মুখের দিকে চেয়ে রইলাম, এরা সন্ধেবেলায় কে কোথায় যায় বোঝা যায়না। কে এখনই বাড়ি থেকে বেরুল, কে বাড়ি ফিরে চলেছে কে এইমাত্র একটি মেয়ের সঙ্গে দেখা করে এলো, কে এখন দেখা করতে যাচ্ছে এসব কিছুই কারুর মুখে লেখা নেই। এমনকী, একটা ফার্নিচারের দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে আয়নায় দেখতে পেলাম আশ্চর্য, সব মানুষের মুখই আমার মতো দেখতে, কোন তফাত নেই। আমি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে ময়দানের মধ্যে বহুক্ষণ হাঁটতে-হাঁটতে হঠাৎ থেমে ঘাসের ওপর শুয়ে পড়ি, একটু পরেই ঘুম আসে।

    যখন ঘুম ভাঙে, তখনও বৃষ্টি আসেনি, বরং মেঘ কেটে জ্যোৎস্না উঠছে। নীল রঙের জ্যোৎস্না। জ্যোৎস্নার রং এমন স্পষ্ট নীল রেখায় যে আমি অবাক হতে গিয়েও ভাবি–অভিসারে যাবার সময় রাধাও নিজেকে জ্যোৎস্নার সঙ্গে মিলিয়ে দেবার জন্য নীল রঙের শাড়ি পরত। ফলে, আমি জ্যোৎস্না থেকে অন্যমনস্ক হয়ে রেড রোড ধরে হাঁটতে শুরু করি। সেইসময় সেই জাতিস্মরের সঙ্গে আমার দেখা হয়। লোকটি বিশাল কৃষ্ণচূড়াগাছের সঙ্গে মিশে দাঁড়িয়ে ছিল। অত রাত, প্রথমে আমি ভেবেছিলাম দুর্বৃত্ত। কিন্তু, লোকটি অতিশয় বৃদ্ধ। দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গিটাও অস্বাভাবিক—গাছে হেলান দিয়ে বাহুতে মুখ ঢেকে। আমি কাছে এগিয়ে বলি, ‘আপনার কি শরীর অসুস্থ লাগছে? আমি কোন সাহায্য করতে পারি?’

    লোকটি আমার দিকে ভারী কাচের চশমার মধ্য দিয়ে তাকালেন। তারপর বললেন, ‘না, আমি ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন তো?’

    আমি একটু বিব্রত হয়ে বলি, ‘ও আচ্ছা, বিরক্ত করলাম বলে ক্ষমা চাইছি। এত রাত্রে–এভাবে, সেইজন্যই—’

    –আমি রোজ এখানে আসি। অনেক রাত পর্যন্ত থাকি। এই গাছটি আমার বন্ধু!

    আমি একটু কাষ্ঠ হাসির চেষ্টা করে বলি, ‘তা বটে, গাছপালা ছাড়া খাঁটি বন্ধু আজকাল পাওয়াই মুশকিল।’

    –না, মানুষই মানুষের বন্ধু হয়। গাছ গাছের।

    আমি চলে যাবার ভঙ্গিতে দু-একপা এগিয়েছিলাম, এবার লোকটির দিকে আবার ঘুরে তাকালাম। লোকটি আমার মুখের দিকে স্থিরভাবে তাকিয়ে বললেন, ‘যদি বলি, আমি আরজন্মে গাছ ছিলাম? আমার মনে আছে!’

    আমি বললাম, ‘যদি বলি’ আর সত্যি-সত্যি বলার মধ্যে অনেক তফাত।

    –সত্যিই আমি আগের জন্মে গাছ ছিলাম। এই গাছটার পাশে। এ তখন ছিল আমার বন্ধু। আমার ফুল থেকে মৌমাছি উড়ে গিয়ে ওর ফুলে বসত। আমি জাতিস্মর। আমার মনে আছে।

    আমি এবার বৃদ্ধকে যা সন্দেহ করার তাই করি। একটু হেসে বললাম, ‘তা নয়, আপনার আগের জন্মের কথা মনে আছে। কিন্তু এ-জন্মের সবকথা মনে আছে কি? যেমন আপনার নাম কী, বাড়ি কোথায়, আজ কী বার? কত তারিখ, এখন কটা বাজে এইসব?’

    লোকটি বললেন, ‘সব জানি, সব মনে আছে। আর এও জানি, তুমি একটি অজ্ঞান ছোকরা। তোমার চোখ খুব খারাপ। তুমি অবিলম্বে চশমা নাও। নইলে হোঁচট খেয়ে মরবে!’

    —আচ্ছা ধন্যবাদ, চলি এবার।

    আমার ক্ষিদে পেয়েছিল, তাই একটু জোরে হাঁটতে থাকি। তারপর শর্টকাট করার জন্য রেড রোড ছেড়ে মাঠের মধ্যে নামার সঙ্গে-সঙ্গে একটা গর্তে পড়ে হোঁচট খেয়ে পা মুচকে পড়ে যাই। কিন্তু ব্যথার বদলে বিস্ময়ে কঁকিয়ে উঠি আমি। আশ্চর্য, বৃদ্ধ কী করে জানাল আমি হোঁচট খাব। অথবা, ও বলেছে বলেই আমি হোঁচট খেলাম। ইচ্ছে হল জাতিস্মর বৃদ্ধের কাছে ফিরে গিয়ে গাছের পাশে যদি বৃদ্ধকে দেখতে না-পাই, যদি অদৃশ্য হয়ে গিয়ে থাকে তবে এই মধ্যরাত্রে শুধু-শুধু ভয় পেতে হবে আমাকে। অথবা, বুড়োটাকে সত্যিই ওখানে এখন দেখতে পেলে আমি এবার ভয় পাব দেখতে না-পেলে বরং নিশ্চিত হতে পারি। কিন্তু, ঝুঁকি নিয়ে আমি আর ফিরে গেলামনা।

    তাহলে, হোঁচট-খাওয়া সম্পর্কে বুড়োর কথা সত্যি হলে–আগের কথাগুলোও সত্যি। আমার চোখ খারাপ–এটা ওই বুড়ো পুরু কাচের চশমা দিয়ে দেখতে পেল! আমার দেখার ভঙ্গি খারাপ, অনেকেই বলেছে, আমি মানতে চাইনা, আমি বলি, আমি বিশেষভাবে দেখি। সে যাই হোক্, আমার আই-সাইট অত্যন্ত ভালো–আমি এক মাইল দূর থেকে কোন বন্ধুর পকেটের দশ টাকার নোট দেখতে পাই—এত শক্তিশালী আমার দৃষ্টিশক্তি, অথচ, আমার চোখের দেখা খারাপ, সেটাকে স্বাভাবিক করার জন্য আমাকে চশমা নিতে হবে–তবে আমি হোঁচট খাবনা–এ-কথা আমাকে বলে এক চশমা-পরা জাতিস্মর—যুক্তির জালে আমি বিহ্বল হয়ে পড়ি। দূরে, শহরের সবকটা বাড়ির রং এখন কালো দেখাচ্ছে।

    জ্যোৎস্নায় আমার একটা ছোট্ট ছায়া পড়েছে। সেই দিকে তাকিয়ে আমি টুকরো হেসে নিচু গলায় বলি, থাক্, যথেষ্ট হয়েছে। নীললোহিত, আর তুমি ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’ লিখোনা।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Our Picks

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }