Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প162 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – ১৯

    ১৯

    তর্কাতর্কি হচ্ছিল বাড়ির ঝি-চাকরকে অবসর সময়ে লেখাপড়া শেখানো উচিত না কি এই নিয়ে। প্রায় সকলেই এতে একমত ছিলাম, কিন্তু একবন্ধু রেগে উঠে বললেন, ‘কী বিশ্রী ধারণা তোমাদের! বাড়িতে ঝি-চাকরদের লেখাপড়া শেখানো খুব একটা মহৎ কাজ হবে মনে করছ? বাড়িতে ঝি-চাকর রাখাই যে কত অন্যায়, সেটা বুঝতে পারছনা? আর কতদিন এরকমভাবে মনুষ্যত্বের অপমান করা হবে? প্রত্যেকের উচিত, নিজের-নিজের পরিবারের কাজ নিজেদের করে নেওয়া। তাকিয়ে দেখো আমেরিকার দিকে। জান, সেখানে স্বয়ং রকফেলারের বাড়িতেও চাকর নেই?’

    অপর বন্ধু বিনীতভাবে বললেন, ‘জানি, কথায়-কথায় আমেরিকার কথা উল্লেখ করা তোমার একটা কু-স্বভাব। আমরা কেউ আমেরিকায় যাইনি, সে দেশ দেখিনি। তবে যতদূর শুনেছি, আমেরিকার সঙ্গে আমাদের দেশের তুলনা করা বোকামি না, না, তোমার ক্ষেত্রে বোকামি বলছিনা, বরং বলা যায়, বুদ্ধি ব্যয় করার আলস্য। ঝি-চাকর রাখার প্রয়োজনটা পারস্পরিক। সকলেই যদি ভদ্রভাবে জীবিকা অর্জনের সুযোগ পায়, তবে লোকে বাড়িতে ঝি-চাকরের কাজ করতে আসবে কেন? রিক্শা চাপা অমানবিক বলে এখনই সকলে রিক্‌শায় চড়া বন্ধ করে রিক্শাওলাদের না-খেতে দিয়ে মেরে ফেলার মধ্যে কোন্ মনুষ্যত্বের পরাকাষ্ঠা আছে আমি জানিনা। আমেরিকার কথা আপাতত ভুলে, তোমার উচিত রাস্তার একটি ভিখিরির ছেলেকে তোমার বাড়িতে চাকরের কাজ দেওয়া, আর–

    —হাঁ, চুরি করে সব ফাঁক করে দিক আর কি!

    –সেটুকু লোক চেনার ক্ষমতা নেই? তাকে কিছু-কিছু লেখাপড়া শেখালে, সে বরং পরে স্বাধীন জীবিকা নেবার সুযোগ পেতে পারে। আর ভিখিরি হয়ে থাকলে, সে পড়ে না-খেয়েই মরত বা চোর-গুণ্ডা হত। একটু লেখাপড়া শেখালে আমাদেরও সুবিধে। অন্তত চিঠি ফেলে দিয়ে আসতে বললে চিঠিটা রাস্তায় গিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসবেনা, কিংবা ঘড়িতে চাবি দিতে বললে– তারপর সারা বাড়ি খুঁজে চাবি নিয়ে আসবেনা, কিংবা সেই যে, একজন তার চাকরকে বলেছিল—‘আমায় যখন কেউ ডাকবে, তখন আগে তাকে বাইরের ঘরে বসাবে আমায় খবর দেবে, বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখবেনা।’ তারপর একদিন চাকর এসে বলেছিল, ‘আজ্ঞে আপনাকে একজন ডাকছেন, কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও বসাতে পারিনি, শেষটায় শুইয়ে রেখে এসেছি!’ অর্থাৎ টেলিফোন!

    অপর একজন বন্ধু বললেন, ‘চাকরদের লেখাপড়া শেখানো খুব ভালো। কিন্তু তাতে অনেক মূল্য দিতে হয় নিজেদেরও। আমাদের বাড়িতে শত্রুঘ্ন বলে একটি চাকর ছিল। বেশ জোয়ান, ছটফটে ছেলেটা। বড়দা তাকে লেখাপড়া শেখালেন। ছেলেটার মাথাও ছিল, চটপট অনেকখানি শিখে গেল। তারপর বড়দা তাঁর বন্ধুকে বলে কুলটির কারখানায় চাকরি করে দিলেন। এখন বেশ ভালো চাকরি করছে, স্কিল্ড ওয়ার্কার হয়ে গেছে, কাজকর্ম শিখে ওভারটাইম ইত্যাদি নিয়ে মাসে চারশোর মতো রোজগার—আমার চেয়ে বেশি। একদিন ওর সঙ্গে হাওড়া স্টেশনে দেখা, চমৎকার ফিটফাট চেহারা, প্যান্টালুন, জুতোর সঙ্গে মোজা, নাইলনের হাওয়াই শার্ট। দেখে আমার খুব ভালো লাগল, ছেলেটা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে, শুনলাম বিয়েও করেছে। ওর প্রতিষ্ঠার সবখানি কৃতিত্বই আমাদের পরিবারের—এই কথা ভেবে বেশ গর্বও বোধ করলাম। কিন্তু তারপরই এমন একটা কাণ্ড করল! একটা সিগারেটের প্যাকেট বার করে একটা কায়দা করে ঠোটে আটকাল, তারপর কিছুক্ষণ এ-পকেট ও-পকেট হাতড়ে–ফস্ করে আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘ছোড়দাবাবু, আপনার কাছে দেশলাই আছে?’ আমার এমন খারাপ লাগল।’

    —এটা তোমার অন্যায়। দু-একজন চেঁচিয়ে উঠলেন।

    –জানি তোমরা কী বলবে। রাস্তার যে-কোন লোক, অচেনা কোন কারখানার শ্রমিক এমনকী কোন ভিখিরিও দেশলাই চাইলে আমরা অপমানিত বোধ করিনা। কিন্তু পুরোনো চাকর চাইলেই অপমানিত বোধ করা আমার ডিকাডেণ্ট মেন্টালিটি। তা হয়তো ঠিক। কিন্তু অপমানিত যে হয়েছিলাম, তা অকপটেই স্বীকার করছি। শড় হয়েছিলাম বলা যায়। আগে কখনো চাইতনা, এখন এরকম স্বাভাবিক ভাবে…। বলতে পারো, ওর স্বভাব বদলাবার অধিকার আছে। কিন্তু তাহলে আমাকে ‘ছোড়দাবাবু’ কেন ডাকল? ‘এই যে অমুক বাবু’ বলে নাম ধরে ডাকাই ওর উচিত ছিল। বাড়িতে এসে এ-ঘটনাটা বলতে বাড়িশুদ্ধ সবাই, এমনকী বড়দা পর্যন্ত হঠাৎ বিষম চটে গেল শত্রুঘ্নর ওপর। সকলেই ওকে বলল নিমকহারাম।

    উপস্থিত অনেকে আমার এ-বন্ধুর গল্প শুনে হেসে ফেললেন। তখন আর কে-যেন বললেন, কেন শরতের বাড়ির চাকরের গল্প? শরৎ, বলো-না! সে ঘটনাটা সত্যিই চমকপ্রদ। শরৎ বলতে শুরু করলেন :

    ছেলেটা সত্যিই ভালো ছিল। মুখ বুজে কাজ করত, মুখে কখনো, কোন বিরক্তির ছায়া ছিলনা। মেদিনীপুরের ছেলে, কী যেন ছিল ওর আসল নাম, আমরা ওকে ডাকতাম মদন বলে। আমাদের বাড়িতে সব চাকরের নামই মদন, পুরুষানুক্রমে চলে আসছে। নিত্যনতুন চাকর এলে প্রত্যেকের নাম মনে রাখা কষ্ট, আর চাকরদের নাম সাধারণত বেশ গালভারি হয় গোবর্ধন, বগলাপ্রসাদ, দীনতারণ, কালীয়দমন এইসব—কাজেই ওসব ঝঞ্ঝাটের বদলে আমাদের বাড়িতে সবাই মদন। একমাত্র ঠাকুরমারই এই নামে আপত্তি, ওঁর কাছে সব চাকরের নামই বদন, কারণ মদন হাজার-হোক দেবতার নাম, আর চাকরবাকরের নাম ঠাকুর—দেবতার নামে হলে ওঁর নাকি সবসময় বকুনি-ঝকুনি দিতে অসুবিধে হয়।

    এ ছেলেটা আমাদের বাড়িতে এসেছিল খুব বাচ্চা বয়সে। নিজের নাম ভুলে ও মদন নামটাই বেশ মানিয়ে নিয়েছিল। সবসময় ফিটফাট পরিচ্ছন্ন থাকত। স্মৃতিশক্তিও ছিল ভালো, বাজার থেকে যা-যা আনতে বলা হত, প্রত্যেকদিন নির্ভুলভাবে সবকটা আনত। ওরকম স্মৃতিশক্তি দেখেই ওকে লেখাপড়া শেখাবার কথা আমাদের মনে আসে। মা ওকে এক-দুই লিখতে শেখালেন। আমার বোন শেখাল অ-আ-ক-খ। তারপরও ওর প্রবল উৎসাহ দেখে আমরা সব ভাইরাই মাঝে-মাঝে একটু-আধটু পড়াতে লাগলাম ওকে। দু-চারখানা বই কিনে দিলাম। ছেলেটা সবকটা বই পড়ে-পড়ে মুখস্থ করে ফেলল, হাতের লেখা লিখে-লিখে লেখাটা করে ফেলল মুক্তোর মতো। ইংরেজিও পড়তে শিখলে কিছু-কিছু। বিশ্বাস করো ছ-সাতবছরের মধ্যেই ছেলেটা প্রায় ম্যাট্রিক স্ট্যান্ডার্ড পর্যন্ত শিখে ফেলল। স্বভাব হয়ে গেল আরও ভদ্র, মার্জিত। চাকর বলে লোকে বুঝতেই পারতনা। অনেকে আমাকে ডাকতে এসে ওকে বলত, তোমার দাদাকে ডেকে দাও তো! আমরাও ওকে একটু সমীহ করতে শুরু করলাম, সবরকমের কাজের হুকুম করতে দ্বিধা করতাম।

    ছেলেটা হয়ে উঠল বইয়ের পোকা। আমাদের বাড়ির যাবতীয় বই পড়ে শেষ করল–আমার আলমারির তোমাদের দেওয়া আধুনিক কবিতার বইগুলো পর্যন্ত! দুপুরবেলা, বাড়ির রোয়াকে বসে রাজ্যের ঠাকুর-চাকররা যখন বিড়ি ফুঁকতে—ফুঁকতে এক-এক বাড়ির কেচ্ছা বিনিময় করে, আমাদের মদন তখন ছাদের সিঁড়িতে বসে-বসে গল্পের বই পড়ছে। অন্য চাকরদের সঙ্গে একদম মিশতনা। কোন কুসংসর্গে পড়েনি, মাইনে পেয়ে প্রত্যেকমাসে দেশে টাকা পাঠায় নিজে মনিঅর্ডার ফর্ম ফিল-আপ করে। আমরা ওকে অন্য কোথাও একটা চাকরি জুটিয়ে দেবার কথা বলেছিলাম। যেতে চায়নি। মদন বলত, এ-বাড়িতে ও ঘরের ছেলের মতো আছে। যদি এ-বাড়ির কাজ ছেড়েই দেয়–তবে অন্য কোথাও ও আর চাকরি করবেনা—কারখানা বা অফিসেও না, ও স্বাধীনভাবে ব্যবসা করবে। সেজন্য পয়সা জমাচ্ছে।

    যা হোক, চাকর হিশেবে মদন আইডিয়াল। মালটিপারপাস চাকর। আমার বাবা চোখে ভালো দেখতে পেতেননা। দুপুরবেলা মদনের অতিরিক্ত কাজ হল বাবাকে খবরের কাগজ পড়ে শোনানো। সেজন্য ওর তিনটাকা মাইনে বাড়িয়ে দেওয়া হল। ও পুরো কাগজটা, প্রথম লীড থেকে শেষপাতার প্রিন্টারস লাইন পর্যন্ত সবকথা, বিজ্ঞাপন সমেত তন্ন-তন্ন করে পড়ে শোনাত। বাড়ি থেকে সক্কলে বেরিয়ে গেলেও মদনকে পাহারা রেখে যেতাম নির্ভয়ে। তারপর

    তারপর একদিন সকালে আর মদন নেই। একটা অলওয়েভ রেডিও আর আমার মেজো ভায়ের একটা হাতঘড়িও নেই। আছে মদনের একটি চিঠি, টেবিলের ওপর চাপা দেওয়া। অনবদ্য চিঠি। ঠিক ভাষাটা মনে নেই। তবে অনেকটা এইরকম। আমার মাকে লেখা:

    শ্রীচরণকমলেষু মা,

    কিছুকাল হইতে আমার একঘেয়ে লাগিতেছিল জীবন। তাই ভাগ্যপরীক্ষার জন্য বাহির হইয়া পড়িলাম। ব্যবসাই করিব ঠিক করিয়াছি। এখন আপনার আশীর্বাদ পাইলে হয়। পুরা মূলধন হাতে নাই, তাই রেডিও আর ঘড়িটা লইয়া গেলাম। দুটোই আপনাদের অপ্রয়োজনীয়। বড় দাদাবাবু একটি নতুন ট্রানজিস্টার রেডিও কিনিয়াছেন, সুতরাং এটাতে আর আপনাদের কী দরকার? একবাড়িতে দুটো রেডিও রাখার দরকার দেখিনা। ট্রানজিস্টারটা বড়দাদাবুর শখের, তাই অলওয়েভটাই লইলাম। আর মেজদাদাবাবু, গতমাসে বিবাহে একটা সোনার হাতঘড়ি পাইয়াছেন। সেটি লইনাই। কিন্তু তিনি পুরানোটি দিয়া এখন কী করিবেন? বাড়ির আর-সকলেরই হাতঘড়ি আছে। মেজদাদাবাবু দুই হাতে দুইটি ঘড়ি পরিবেননা জানি। সেরকম কাহাকেও দেখিনাই। সুতরাং পুরানোটি আমি লইলাম। তবে শপথ করিতেছি, একদিন-না-একদিন এই দুইটি জিনিশের দাম ঠিকই আপনাদের শোধ করিয়া দিব। ইতি আপনার দাস মদন।

    আমাদের পরিবারে একটা মিটিং বসে গেল পুলিশে খবর দেওয়া হবে কিনা, এই নিয়ে। মায়ের প্রবল আপত্তি। শেষপর্যন্ত সবাই ঠিক করল পুলিশে জানানো হবেনা। মদনের চিঠিটা ভাঁজ করে রেখে দেওয়া হল। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এলে মা তাঁর চাকরের গৃহ-শিক্ষার নিদর্শনটি গর্বের সঙ্গে দেখাতেন।

    দিন-পনেরো পর, আর-একটা চিঠি এল। মদন লিখেছে, সে বিষম অনুতপ্ত সে খুব দুরবস্থায় আছে। পাপকাজ দিয়ে শুরু করলে কোন উদ্দেশ্যই সফল হয়না। তার ওপর আমাদের যে বিশ্বাস ছিল সেটা ভঙ্গ করে সে মহাপাপ করেছে। হাতঘড়িটা সে বেচে ফেলেছে। কিন্তু রেডিওটা সে ফেরত দিতে চায়। তাছাড়া চোরাই মাল বলে লোকে মাত্র ৬০। ৭০ টাকায় কিনতে চায় ওটা। কিন্তু মায়ের অমন দামি, শখের জিনিশটা সে জলের দামে বেচতে পারেনি। ওটা সে ফেরত দেবে—কিন্তু নিজে মুখ দেখাতে চায়না। বউবাজারের একটা ঠিকানায় বলাই নামে একটি লোকের কাছে ওটা আছে, আমরা যেন কেউ গিয়ে নিয়ে আসি। এবং মদনকে সর্বান্তঃকরণে ক্ষমা করি।

    এবার পুলিশে খবর দিলাম। কারণ ঠিকানাটা বউবাজারের একটি কুখ্যাত পল্লীর। পুলিশের লোক তো পুরো ঘটনাটা শুনে হেসেই বাঁচেনা। তারপর বলল, কাল ভোরে হানা দেবে। চোরাইমাল উদ্ধারের জন্য ভোরে হানা দেওয়াই নাকি প্রকৃষ্ট উপায়। আমাকেও সঙ্গে যেতে হবে আইডেন্টিফাই করতে।

    গেলাম। একটু দূরে দুজন সেপাইকে নিয়ে ইন্সপেক্টার আর আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। একজন সাদা পোশাক-পরা পুলিশ চিৎকার করে ডাকতে লাগল, ‘বলাই, বলাই!’ তখনো ভালো করে ভোর হয়নি, সাড়ে চারটে পাঁচটা বাজে। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর দোতালার জানালা দিয়ে একটা শুটকো মতো লোক গলা বাড়িয়ে বলল, ‘কে?’ তারপরই কী ভেবে মুখটা সরাৎ করে ভেতরে ঢুকিয়ে নিল আবার। আর কোন সাড়া-শব্দ নেই। তখন ফের শুরু হল ডাকাডাকি, দরজায় ধাক্কা। এবার একটি মেয়েছেলে দরজা খুলে জানাল, এখানে বলাই বলে কেউ থাকেনা। আমরা সবাই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লাম বাড়ির মধ্যে। ইন্সপেক্টার প্রবল ধমক দিয়ে বললেন, ‘ডাক্ বলাইকে। দেখেছি সে দোতালায় আছে! বেগড়বাই করবি তো সবাইকে চালান দেব!’

    বলাই নেমে এল এবং মা কালীর দিব্যি করে জানাল, সে মদন বলে কারুকে চেনেনা।

    —চিনিস্‌ না-চিনিস্ রেডিওটা বার কর্ আগে।–

    —কিন্তু রেডিওর তো সব পার্টস খুলে ফেলা হয়েছে!

    —নিয়ে আয় সেই খোলা পার্টস! এরপর ইন্সপেক্টার হুংকার দিয়ে উঠলেন, এবার বল্ সেই ধৰ্ম্মপুত্তুর মদনটা কোথায়?’—পেছন থেকে মেয়েটা হঠাৎ বলল, ‘সে এখানে থাকেনা, সত্যিই থাকেনা, তাকে ছেড়ে দিন বাবু!

    একটা জিনিশ দেখে আগাগোড়া অবাক হয়েছিলাম যে, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে মদন এসে কোন্ পরিবেশে উঠেছে। আগে সে কারুর সঙ্গে মিশতনা। বেশ—একটা রুচিজ্ঞান ছিল। একটা অন্যায় করার সঙ্গে-সঙ্গে চুম্বকের মতো আন্ডারওয়ার্লড তাকে টেনে এনেছে। আবার একটা দরদ-দেখানো মেয়েও জুটিয়েছে। মেয়েটা তখনও বলছে, ‘মদনকে ছেড়ে দিন বাবু, সে বেচারি

    আমি আগাগোড়া চুপ করেই শুনছিলাম। শরতের গল্প শুনতে-শুনতে খানিকটা অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলাম। ভৃত্যতন্ত্র সম্পর্কে আমার উৎসাহ কম, অভিজ্ঞতাও নেই। আমাদের বাড়িতে কোনদিন চাকর রাখা হয়নি। ফুটফরমাশ বেশির ভাগ আমাকে দিয়েই খাটানো হয়। কিন্তু হঠাৎ একটা মজার প্রশ্ন মনে পড়তেই আমি শরতের গল্প-বলা থামিয়ে দিলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা, একটা প্রশ্ন তোমাদের কারুর মনে এসেছে? মদন চুরি-করা শিখল কী করে?’

    কারণ মদন খুব বাচ্চা বয়েস থেকে আছে শরৎদের বাড়ি। ওখানেই বড় হয়েছে। অন্য চাকরদের সঙ্গে মিশতনা। লেখাপড়া শিখেছে। শরৎদের বাড়ির পরিবেশেই মানুষ। আর পরিবেশ অনুযায়ীই তো মানুষের চরিত্র তৈরি হয়। তাহলে, চুরি করার কথা ওর মনে এল কী করে? শরৎদের বাড়িতে নিশ্চয়ই চুরিবিদ্যের চর্চা নেই, আশা করা যায়। আর পাঠ্যবইগুলোর মধ্যেও বোধহয় চুরি করতে শেখানো নেই। তবে ছোঁড়াটা শিখল কোথা থেকে?

    বন্ধুদের দু-একজন বললেন, ‘আঃ আগে গল্পটা শেষ করতে দে-না।’ আমি বললাম, ‘ছিঁচকে চুরির গল্প কী-আর-এমন রোমাঞ্চকর হবে। তার চেয়ে এ-প্রশ্নটা অনেক জরুরি। আমার তো মনে হয়, ঐ যে বললে ও রোজ দুপুরে খবরের কাগজ পড়ে শোনাত সেই খবরের কাগজ থেকেই চুরি করতে শিখেছে। বিশেষ করে ওর ছিল ব্যবসা করার ইচ্ছে। খবরের কাগজে কি প্রত্যেক দিন ও পড়েনি বড়-বড় ব্যবসায়ীদের চুরির কাহিনী? চুরির খবরেই তো ভর্তি। এক-একদিন এক—একজন বাঘা-বাঘা ব্যবসায়ীর চুরির কাহিনী! আর-একটা ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট, মদন চুরি করল ঘড়ি আর রেডিও, কিন্তু শুধু রেডিওটা ফেরত দেবার কথা লিখেই সে নিজেকে সর্বান্তঃকরণে ক্ষমা পাবার অধিকারী ভাবল কী করে? এটাও সে শিখেছে খবরের কাগজ পড়ে! সে শিখেছে চুরি করার পর অর্ধেকটা ফেরত দিলেই আর কোন শাস্তি নেই, অপমান নেই, একেবারে সসম্মানে মুক্তি। দেখনি কাগজে কৃষ্ণমাচারীর ঘোষণা? ব্ল্যাকমানির বাংলা চোরা-টাকা যাদের কাছে লক্ষ-লক্ষ কোটি-কোটি চোরা-টাকা আছে, তারা যদি স্বেচ্ছায় এসে স্বীকার করে–ব্যাস, তা হলে শুধু ৬০ ভাগ জমা দিয়ে দিলেই হবে। আর সব মাপ, কোন বিচার নেই, শাস্তি নেই। চম্বলের ডাকাতদেরও আত্মসমর্পণ করার পরও শাস্তি হয়েছিল। কিন্তু যে ব্যবসায়ীরা চোরা কারবার করে, খাদ্য বাজার থেকে লুকিয়ে, ওষুধে ভেজাল দিয়ে পরোক্ষভাবে বহু লোককে খুন করে কোটি-কোটি টাকা জমিয়েছে—তারা শুধু এসে একবার স্বীকার করলেই হল, ষাট ভাগ জমানো টাকা জমা দিয়ে দিলেই হল, আর কোন শাস্তি নেই! যে আসনে ছিল সেখানেই রয়ে গেল। মদনও দেখেই শিখেছে নিশ্চিত। মদনের আর দোষ কী! মদনকে লেখাপড়া শিখিয়ে বেশ করেছিলে, কিন্তু খবরের কাগজ পড়তে দিলে কেন? তাইতো ও মহাজনদের পথ অনুসরণ করতে চেয়েছে!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Our Picks

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }