Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    পিয়া সরকার এক পাতা গল্প133 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভীরু মেঘ তুমি ব্যর্থ ঝরেছ উষর মরুর বুকে

    আনন্দ রক্ষিত মাথা নিচু করে বসেছিল। সাদা শার্ট কনুই অবধি গুটানো, হাতের আঙুলগুলো ইন্টারলক হয়ে মুঠোর মধ্যে বন্ধ ছিল। মৌপিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে ওর সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে নিয়েছে। রাত বারোটা পনেরো নাগাদ সবার অলক্ষ্যে জামাল সর্দারের পকেট থেকে চাবি তুলে ও পাম্পঘরটার কাছে অপেক্ষা করছিল। মৌপিয়া বেরোতেই ওর ওপর হামলা করে। পাম্পঘরটার সামনে প্রথমে মাথায় আঘাত করে, তারপর ঘষটিয়ে টেনে ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। এর মধ্যেই মৌপিয়ার জ্ঞান ফিরে আসে, চিৎকার করতে শুরু করায় আনন্দ ভয় পেয়ে যায়। একহাতে মুখ চেপে আরেকহাত দিয়ে গলা টিপে ধরে। তারপর দ্বিতীয়বার জ্ঞান হারালে ওয়েটটা তুলে আরেকবার মোক্ষম আঘাত করে। মৌপিয়ার জ্ঞান আর ফেরেনি। তারপর খুনটাকে ধর্ষণের রূপ দিতে হাতের কাছে পড়ে থাকা পেইন্টব্রাশটাকে ইনসার্ট করে।

    কীভাবে খুনটা ও করেছিল সে বিষয়ে সবিস্তারে জানালেও কারণ সম্পর্কে আনন্দ কিছু বলছিল না। মৌপিয়া কেন বাইরে এসেছিল সে নিয়েও পুরো চুপ টাকাটা কোথায় গেল সে সম্পর্কেও ওর কোনো ধারণা নেই। চোখে অসম্ভব ক্লান্তির ছাপ নিয়েও ও আমাদের একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছিল। এতক্ষণ আমাদের প্রশ্নোত্তরের পদ্ধতি ছিল নৈর্ব্যক্তিক, উত্তরও নৈর্ব্যক্তিকভাবেই এসেছে। ফ্রি অ্যান্ড ভলান্টারি কনফেশনের ক্রেডিট সবসময়েই বেশি।

    সামন্ত কনফেশনের খুশিতে ডগমগ করছিলেন, আমার পরের প্রশ্নটায় চমকে গেলেন।

    “কোনো ভয় নেই তোমার।” আমি আনন্দকে নরম গলায় বললাম। “তোমাকে দিয়ে কেউ এই কাজটা করিয়েছে?”

    কোনো উত্তর এল না।

    “কেউ তোমাকে বাধ্য করেছে কাজটা করতে?” আমি আবার প্রশ্ন করলাম।

    আনন্দ মাথা নাড়িয়ে না বলল।

    “দেখ, আমি প্রথম দিন থেকে বলে আসছি, এই খুনটা যে করেছে সে কোনো দাগী আসামী হতেই পারে না। আমি শিওর, কাজটা করার পর মনে মনে তুমি অনুতপ্ত হয়েছে। সব খুনই তো আর ক্রিমিনাল ইনস্টিংক্ট থেকে হতে পারে না। কিছু কিছু খুন সাধারণ মানুষ ঝোঁকের মাথায় করে ফেলে। আর যেহেতু সে বাই নেচার খুনি নয়, প্রতি মুহূর্তে তাকে এই খুনের স্মৃতিটা তাড়া করে বেড়ায়। তাই না, আনন্দ? সাধারণ মানুষ খুন করলে এমনই তো হয়?”

    আনন্দ বোবাদৃষ্টিতে মাটির দিকে তাকিয়ে রইল।

    “তোমার মোবাইল রেকর্ডস বলছে তুমি সেইরাতে কারখানা থেকে বেরোনোর আগে রথতলা মোড়ে ছিলে। খোঁজ নিয়ে দেখলাম ওটা তোমার এক ক্লায়েন্টের বাড়ি।”

    “হ্যাঁ।” আনন্দ জিভ চেটে বলল।

    “সেখানে তোমার কাছে একটি ফোন আসে। সামান্য সময়ের জন্য। একই নাম্বার থেকে আবার ফোন আসে তুমি কারখানা থেকে বেরোনোর পর। প্রায় দশ মিনিট কথা হয়েছে। বারোটা বিশ থেকে সাড়ে বারোটা। এই নাম্বারটি কার?” আনন্দ রক্ষিত পকেট থেকে রুমাল বার করে মুখ মুছল। কোনো উত্তর দিলো না।

    “তুমি না বললেও বার করতে বেশিদিন লাগবে না, কিন্তু তাও তোমার কাছ থেকে শুনতে চাই। এই নাম্বারে তোমার মাসের পর মাস, দিনের পর দিন কথা হয়েছে।”

    “না, প্লিজ ওটার সঙ্গে এর কোনো যোগাযোগ নেই।” আনন্দ রক্ষিতের গলা কেঁপে উঠল।

    “তুমি ফোন নাম্বারটা নিয়ে এতই সতর্ক যে ঠিকঠাক নাম দিয়েও সেভ করোনি। তোমার ফোনের এই মিস্টিরিয়াস নাম্বারটা কার?”

    আনন্দ রক্ষিত কোনো উত্তর দিলো না। কিন্তু ও মুঠো বন্ধ করছিল, খুলছিল দ্রুত।

    “তুমি ভালো ছেলে, তোমার অতীত রেকর্ড সব ক্লিন, কোনোদিন কোনো ঝামেলা এমনকি স্টুডেন্ট পলিটিক্সেও তোমাকে পাওয়া যায়নি। তুমি সরাসরি উত্তর দাও, এই ফোন কলের ব্যাপারটা কি কোনোভাবে মৌপিয়ার খুনের সঙ্গে জড়িত?”

    আনন্দ এতক্ষণে মুখ তুলে সজোরে প্রতিবাদ করে উঠল। “না না…কোনোভাবেই না…খুনটা আমিই করেছি, আর কেউ এর সঙ্গে জড়িত নয়।”

    “টাকাটা কী করেছ?”

    “কোনো টাকার কথা আমি জানি না।”

    দীর্ঘ একঘন্টা জেরার পরও আনন্দ একই বক্তব্যে অনড় থাকল। সামন্ত হতাশ হয়ে বাইরে এসে বললেন, “এবার ক্ষ্যামা দিন ম্যাডাম। চার্জশিট দিয়ে দিতে অসুবিধা কী?”

    “চার্জশিট দিন কিন্তু কারণ তো কিছু বলছে না সামন্তবাবু। মোটিভ কী? পোস্টমর্টেম রেপের সাইকোলজিটা কী?” শান্তভাবে জিজ্ঞাসা করলাম।

    “চার্জশিট দিতে তো মোটিভ লাগে না ম্যাডাম।”

    “যদি ডিফেন্স প্রমাণ করে দেয় যে পলিটিকাল রাইভ্যালরি চরিতার্থ করে আনন্দকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে? না, না সামন্তবাবু কোর্টে ডিফেন্স আপনার আমার পিঠের চামড়া তুলে নেবে! বেইজ্জতির একশেষ।”

    “তাহলে!”

    “আনন্দ একটা ক্রীড়নক মাত্র সামন্তবাবু! হাতের পুতুল বোঝেন? আসল কলকাঠি কে নেড়েছে সেটা বুঝতে গেলে মোটিভটা জানতে হবে।”

    “কিছু তো বলতে চাইছে না। টাকা ছাড়া আবার কী? পুলিশকে ভুল বুঝানোর জন্য রেপের নাটক।”

    “মৌপিয়াকে কী বলে বাড়ির বাইরে আনল? ভিকটিমের ফোনে তো কখনও কোনো ফোন করেনি অ্যাকিউজড। আর টাকা নিয়ে থাকলে সেটা গেল কোথায়? বাড়িতে তো নেই, ব্যাংকে জমা পড়েনি, তবে কোথায় গেল?”

    “খরচ করে ফেলেছে নিশ্চয়ই।”

    “মনে হয় না। যে খুন স্বীকার করে নিচ্ছে, টাকা চুরি স্বীকার করতে তার অসুবিধা কোথায়? তাছাড়া খরচ করলে আপনার সোর্সরা কিছু না কিছু বলত সামন্তবাবু। কিসে খরচ করল? বাড়িতে কোনো নতুন প্রোডাক্ট তো চোখে পড়ল না। এক লাখ বিশ হাজারে তো আপনি অস্থাবর সম্পত্তি কিনে ফেলতে পারবেন না!”

    “ফোন নম্বরের ব্যাপারটা নিয়ে কী বুঝছেন ম্যাডাম?”

    “টেকনিকাল উইং বলছে যে নাম্বারে ওর লাস্ট কথা হয়েছিল সেই সিমকার্ডটা রেজিস্টার্ড খড়দার এক ভদ্রলোকের নামে। এখন নম্বরটা সুইচড অফ। খোঁজ নিতে হবে, কিন্তু আমি শিওর ভুয়া ডকুমেন্ট দেখিয়ে তোলা কার্ড

    “একটা উপায় আছে স্যার।” সামন্ত পুরোনো সম্বোধনে ফিরে এলেন। “যদি সিমকার্ড থেকে আই.এম.ই.আই নম্বরটা পাওয়া যায়, তবে আইটি সেল ফোনটা অন হলেই ট্র্যাক করতে পারবে। আজকাল তো শুনছি এরকম কেস হচ্ছে স্যার।”

    “আপনি বোধহয় ১৪ সালের পার্কস্ট্রিট থানার ওই কেসটার রেফারেন্স দিচ্ছেন? সিমকার্ড দেখে আই.এম.আই.ই প্রথম ওই কেসটাতেই ক্র্যাক করেছিল কে.পি।”

    “হ্যাঁ।”

    “পাঠিয়েছি তো, দেখা যাক! ওই সেটে অন্য কোনো সিমকার্ড থাকলেও জানাতে বলেছি।”

    “আপনি কি আলাদা করে কাউকে সন্দেহ করছেন?”

    “করছি, কিন্তু নামটা বলার এখনও সময় আসেনি।”

    রাত্রিবেলা বহুদিন পর সুমন্তর সঙ্গে কথা হল। “আনন্দর নামে চার্জশিট মানে বিধান বেকসুর খাল্লাস!” সুমন্তর গলায় উল্লাস ভেসে এল।

    “তুই আমার সমস্যাটা বুঝছিস না। নাম্বারটাকে খুঁজে পাওয়া না গেলে আমার সন্দেহটা মাঠে মারা যাবে।”

    “মালটার জামিন তো হয়নি? লকআপেই তো?”

    “হ্যাঁ।”

    “ব্যস, তাহলে দুমাদ্দুম চালা। গরম তেল ছিটা, পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে ক্যালা, বরফের ওপর ল্যাংটো করে শুইয়ে ইলেকট্রিক শক দে। তোরা তো এসব করিস।” সুমন্ত ক্যাজুয়ালি বলল।

    “বরফের অনেক দাম! চড়চাপড় পড়েছে। কিচ্ছু বলেনি, ওভাবে বলবে না বলেই মনে হয়।”

    “অ! তো এই মিস্টিরিয়াস নম্বরকে জড়ানোর মতো তোর কাছে কী এভিডেন্স আছে?”

    “কিচ্ছু নেই। ফোনে কারুর সঙ্গে কথা বলা তো অপরাধ নয়!”

    “তবে বেকার মাথা খাটাচ্ছিস!”

    “একটা বিরাট লজিকাল ফ্যালাসি রয়ে গেছে যে, টাকাটা মিসিং!”

    “হুম।”

    “আরও একটা বিষয় কিন্তু তুই ভুলে যাচ্ছিস…

    “কী?”

    “বিধান যে সেদিন অত রাতে ওখানে ছিল; কেন গিয়েছিল সেটা কিন্তু ও বলেনি। কেন!”

    “ধুস! বিধানকে ছাড়। ও তো আজাদ পরিন্দা!” সুমন্ত ফুরফুরে মেজাজে বলে উঠল।

    “হ্যাঁ। তবুও!”

    সুমন্ত গুডনাইট বলে ফোনটা রেখে দিলো।

    আমি ল্যাপটপ খুলে ডিপার্টেমেন্টের পাঠানো মেইলগুলো চেক করছিলাম। ভালো খবর হল, নবগোপাল হুঁইয়ের খুনি লরিটার ড্রাইভার, সেই মহেন ভান গ্রেফতার হয়েছে কাল ঝাড়খণ্ড থেকে। আমার স্নায়ু অসম্ভব উত্তেজিত ছিল, কিন্তু শারীরিক ক্লান্তিতে ধীরে ধীরে কখন ঘুমিয়ে পড়লাম খেয়াল নেই। সারা রাত অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখলাম। মণি হালদার, প্রিয়াঙ্কা, কমল মিত্র, গণেশদা, সুমন্ত সবাই একটা মোবাইল নিয়ে লোফালুফি করছে, আর আমি প্রতিবার ফোনটাকে ধরার চেষ্টা করেও পাচ্ছি না!

    ********

    থানায় যেতেই সামন্ত বেজার মুখে অভ্যর্থনা করলেন। টেকনিকাল উইং থেকে ফোন করেছিল, ওই আই.এম.ই.আই নম্বরে বিভিন্ন সময়ে মোট পাঁচটা সিম কার্ড ব্যবহার হয়েছে। সব কটাই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের আলাদা আলাদা মানুষের নামে রেজিস্টার্ড।

    “ঠ্যালাটা বুঝুন স্যার! ক্রস চেক করতে কখনও শিলিগুড়ি, কখনও হাওড়া, কখনও গড়বেতা, কখনও বা খড়দা যেতে হবে! এ তো পেছন শুকিয়ে দেবে স্যার!”

    “হুম।”

    “কিছু বলুন স্যার!”

    “এত বিভিন্ন জায়গার মানুষের ডকুমেন্টের অ্যাক্সেস সাধারণতঃ কীরকম ধরণের মানুষের কাছে থাকতে পারে সামন্তবাবু?”

    “কেন স্যার, জেরক্সের দোকান, ইউনিভার্সিটি, পি.এস.সি অফিস, স্টাফ সিলেকশন সব জায়গাতেই থাকতে পারে।”

    “হুম। আচ্ছা একটা কাজ করা যায় না?”

    “কী কাজ স্যার?”

    “নাম্বারগুলো তো জানেন, এবার একে একে আপনার ফোনে সেভ করুন।”

    “সব সুইচড অফ স্যার। ফোন করে দেখে নিয়েছি।”

    “আহ! করুন না।”

    সামন্ত ফোন নম্বর সেভ করে আমার দিকে তাকালেন।

    “এবার হোয়াটসঅ্যাপটা দেখুন তো।”

    “এই তো! পাঁচটার মধ্যে দুটো নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ আছছছে…” সামন্ত কথা বলা থামিয়ে দিয়ে হঠাৎ হাঁ করে আমার দিকে চাইলেন।

    ফোনটা ছিনিয়ে নিয়ে আমার দিকে ঘোরাতেই সেই বহু প্রতীক্ষিতের ডিপিটি দেখতে পেলাম। অত্যন্ত চালাক হলেও, সে এই একটা ভুল করে রেখেছে। একটা নাম্বারে তার ডিপিটা জ্বলজ্বল করছে!

    সামন্ত সামনে বসে ঘামছিলেন!

    ******

    মোমবাতির শিখাটা দপদপ করে জ্বলছিল। থানায় কারেন্ট চলে গেছে। আনন্দ ভয়ার্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল।

    “কবে থেকে চেনো?”

    “আমি জানি না আপনি কী বলছেন!”

    “ওহ কাম-অন, যার সঙ্গে দিনে চারবার কথা বলো তাকে চিনতে পারছ না?” কল ডিটেইল রেকর্ডটা আনন্দর দিকে বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। আনন্দ শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ডেটাশিটটার দিকে।

    “তোমাদের দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল তা পুলিশকে জানতে দিতে তোমার অসুবিধা কোথায়?”

    “আমি ওকে এর মধ্যে জড়াতে চাই না।”

    “জড়াচ্ছ কোথায়? আমি শুধু সেদিন ঠিক কী হয়েছিল জানতে চাইছি।”

    “আমি অলরেডি বলেছি।”

    “জানি, কিন্তু ডিটেলসটা লাগবে। প্রিয়াঙ্কা হালদারের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রপাত কী ফিজিওথেরাপি করতে গিয়ে?”

    “সম্পর্ক… না, না আমরা জাস্ট বন্ধু!”

    “মাঝরাতে দেড়টা দুটো অবধি তুমি আর কোনো বন্ধুর সঙ্গেই এত কথা বলোনি আনন্দ। তোমার বিলের পঁচানব্বই ভাগ এই কলগুলো থেকে এসেছে। প্রিয়াঙ্কাকে বাঁচাতে চাইছ কেন, ও খুনটায় জড়িত বলে?”

    “ওকে এসবের থেকে বাইরে রাখুন। প্লিজ!” আনন্দ চেঁচিয়ে উঠল। “ও কোনোভাবেই জড়িত নয়।”

    “তাহলে এই সিক্রেসির কী প্রয়োজন?”

    “ওর… ওর বাড়িতে বয়ফ্রেন্ড থাকা অ্যালাউড নয়। আমি… আমি জাস্ট চাই না ওর বাড়িতে কেউ জানুক। ওর বাবা মেরে ফেলবে ওকে।

    “আমাদের একজন সাক্ষী আছে, সে বলেছে মণি হালদার প্রিয়াঙ্কাকে মেরে ঠোঁট ফুলিয়ে দিয়েছিলেন। তুমি ব্যাপারটা জানতে?”

    “আ…আমি কী করে জানব!”

    “কীভাবে দেখা করতে?”

    “কলকাতাতে বেশিরভাগ সময়। কখনও কখনও বর্ধমানে।”

    “কলকাতাতে হোটেল লিন্ডসে …দুমাস আগের কথা, মার্চ, বিশ। মিস্টার আর মিসেস রক্ষিতের নামে একটা রুম বুক হয়েছিল, তোমার ডেবিট কার্ড স্টেটমেন্ট থেকে জানতে পারলাম।”

    আনন্দ মাথা নিচু করে চিবুকটা প্রায় কণ্ঠায় ঠেকিয়ে ফেলল।

    “তোমরা কি বিয়েটিয়ে করে ফেলেছিলে নাকি?”

    আনন্দ আমার দিকে তাকাল। উদ্ভ্রান্ত, দুর্দশাগ্রস্ত দৃষ্টি।

    “মৌপিয়াকে মারলে কেন? সম্পত্তির লোভে? প্রিয়াঙ্কাই একমাত্র উত্তরাধিকারী হবে সেই আশায়?”

    আনন্দ রক্ষিত প্রচণ্ড শকড হয়ে আমার দিকে তাকাল। “আ… আপনি ভাবছেন আমি টাকার জন্য এই কাজ করেছি?”

    “তাহলে কীসের জন্য করেছ?”

    “জানি না।”

    আমার হাতটা অনেকক্ষণ থেকে নিশপিশ করছিল। সপাটে ওর গালে একটা চড় কষিয়ে বললাম, “ঢ্যামনামি হচ্ছে? মাঝরাতে একটা বাচ্চা নিরপরাধ মেয়েকে ভুলিয়ে বাড়ির বাইরে এনেছ, গলা টিপেছ, মাথায় হিট করে খুলি ফাটিয়েছ, তার শরীরের ভেতরে একটা মোটা তুলি ঢুকিয়েছ, আর বলছ কেন করেছ জানো না!”

    “আপনি বুঝতে পারছেন না…” আনন্দর গলা বাচ্চা ছেলেদের মতো কান্নায় ভেঙে গেল। “সবাই জানে মৌপিয়ার মতো মেয়ে আর হয় না, গঙ্গাজলের মতো পবিত্র, নিষ্পাপ! সত্যিটা শুধু আমি জানি। আপনাকে বললে আপনি বিশ্বাস করবেন না!”

    “করব। বলো।”

    আনন্দর চোখমুখ লাল হয়ে গিয়েছিল। দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে যেন ওর। হাত পা থরথর করে কাঁপছিল। দম নিয়ে ও বলল, “মৌপিয়া পিঙ্কিকে সহ্য করতে পারত না ম্যাডাম। পিঙ্কি হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়তে চেয়েছিল, শুধু মৌয়ের জন্য পারেনি। মৌ চাইত না, পিঙ্কির পিছনে টাকা খরচা হোক। নিত্যি তিরিশ দিন ওর পিছনে লেগে থাকত। পিঙ্কি প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল…বদলে…”

    “বদলে?”

    “লোকটা ওকে মেরেছিল। মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল, দেওয়ালে এমন জোরে ঠেলে ফেলেছিল যে ওর…ওর হাত ভেঙে গিয়েছিল।” আনন্দ ওর চোখ থেকে গড়িয়ে আসা পানি মুছল।

    “লোকটা মানে মণি হালদার?”

    “হ্যাঁ।”

    “কিন্তু মণি হালদার তো মৌপিয়াকেও মারধোর করত?”

    “ভুল কথা ম্যাডাম। একদম ভুল কথা।”

    “প্রিয়াঙ্কা এসব কথা তোমাকে বলল?”

    “একমাত্র আমাকেই…আমাকে ছাড়া ও কাউকে বিশ্বাস করত না!” আনন্দর বিধ্বস্ত মুখটায় হঠাৎ একটা আলগা দীপ্তি ফুটে উঠল

    “কখন বলল?”

    “ভেঙে ভেঙে, মাঝে মাঝে…হোটেল লিন্ডসেতে যখন আমরা একসঙ্গে সময় কাটাব বলে গেলাম, পিঙ্কিকে ছুঁতেই পিঙ্কি শিউরে উঠল। আমাদের তখন অনেকদিনের সম্পর্ক, আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। জিজ্ঞাসা করলাম ও কেন

    এমন অদ্ভুত ব্যবহার করছে…তারপর…তারপর…”

    “তারপর?”

    আনন্দ মাথাটাকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠল, “আসল কথাটা খুব নোংরা ম্যাডাম!”

    “কী কথা?”

    “পিঙ্কি…পিঙ্কির…” আনন্দ ফুঁপিয়ে উঠল।

    “দেখ আনন্দ, যদি সত্যিই এধরণের ঘটনা ঘটে থাকে তবে আইনের চোখে তোমার অপরাধ লঘু হয়ে যেতে পারে। তুমি পুরোটা খুলে বল।”

    ঠোঁটটা দাঁত দিয়ে শক্ত করে কামড়ে ধরে আনন্দ বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। কান্নার প্রবল উদগত বেগ সামলাতে সামলাতে তারপর বলল, “মৌয়ের সঙ্গে ওর বাবার একটা নোংরা সম্পর্ক ছিল ম্যাডাম। সেইজন্যেই মণি হালদার মৌকে অত সুযোগ দিত। পিঙ্কি রাজি ছিল না, তাই পিঙ্কিকে সহ্য করতে পারত না। এভাবেই চলছিল কিন্তু গতবছর পিঙ্কি আর আমার সম্পর্কটা মৌ জেনে গিয়েছিল। আমার সঙ্গে পিঙ্কির সম্পর্ক ফাঁস করে দেবে বলে পিকি বাধ্য করেছিল নোংরা লোকটার কাছে যেতে.. “ আনন্দ আবার ডুকব কেঁদে উঠল।”

    “মানে!”

    “ওই লোকটা…ওই লোকটা পিঙ্কির সঙ্গে…পিঙ্কি বলেছিল ও কোনোদিন আমার সঙ্গে সুস্থ শারীরিক সম্পর্ক রাখতে পারবে না।”

    “তুমি বলতে চাইছ, মৌপিয়া হালদারের সঙ্গে মণিরঞ্জন হালদারের অবৈধ সম্পর্ক ছিল! আর তোমাদের সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মৌপিয়া প্রিয়াঙ্কাকে রাজি করেছিল ওর বাবার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে? প্রিয়াঙ্কাকে মণি হালদার ধর্ষণ করেছিলেন?”

    “হ্যাঁ। ওই নোংরা মেয়েটার তো জন্মটাই ওইভাবে! ওর জন্মের আগে ওর মায়ের সঙ্গে ওর বাবার কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ওর মাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য দিনের পর দিন লোকটা…ওদের বাড়ির বিরাট কেচ্ছা আছে ম্যাডাম!”

    “হ্যাঁ, জানি।”

    “পিঙ্কির পড়াশুনো, শখ আহ্লাদ সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছিল লোকটা। আর ওই নোংরা মেয়েটা একটার পর একটা সুযোগ পেয়ে যাচ্ছিল। তবু পিঙ্কি এসব মুখ বুঝে সহ্য করেছিল। কিন্তু যখন আমাদের ব্যাপারটা জানতে পারল মৌ, ও অস্থির হয়ে গেল। পিঙ্কি রাজি না হলে মৌ সবকিছু মণি হালদারকে বলে দেবে বলল। বলল, আমি যা করছি তোকেও একই জিনিস করতে হবে। আসলে বিধান ওকে পাত্তা দিত না বলে মৌ আরও রেগে ছিল। আমাদের প্রেমের সম্পর্ক ও সহ্যই করতে পারত না। প্রথমবার ওর ওপর অত্যাচার হওয়ার পর বাবার হাত থেকে বাঁচার জন্য পিঙ্কি কলকাতায় পালিয়ে গেল। কিন্তু মৌ ওকে সমানে ভয় দেখাচ্ছিল…”

    আমার মাথাটা পাঁই পাঁই করে ঘুরছিল। চোখের সামনে পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা ভেসে এল। দয়ালহরি মণ্ডল পরিষ্কার লিখেছেন, ‘দ্য হাইমেন ইজ রাপচার্ড বাই ইনসার্টিং দ্য উডেন স্টিক। শি ডায়েড ভার্গো ইনট্যাক্টা!’ কুমারী অবস্থায় মৃত্যু।

    আমি আনন্দর দিকে তাকালাম। মূর্খ ছেলেটা একফোঁটা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করেনি!

    “নোংরা লোকটা…নোংরা লোকটা চাইত শুধু ওর সঙ্গে পিঙ্কি শুক। অন্য কারুর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখছে জানতে পারলে মেরেই ফেলত পিঙ্কিকে। তাও পিঙ্কি নিজের প্রাণের ভয় পায়নি, কিন্তু আমাকে নিয়ে ও খুব ভয়ে থাকত, যদি আমাকেও…” আনন্দ বিড়বিড় করে বলল।

    “তুমি প্রিয়াঙ্কার মাথা ফাটানোর দাগ, হাত ভেঙে যাওয়ার এক্স-রে এসব দেখেছ?” আমার মাথার মধ্যে একটা বিষাক্ত রাগী সাপ ফণা তুলছিল। মনে হচ্ছিল আনন্দকে পিষে মেরে ফেলি।

    “না! পিঙ্কি দেখাতে চায়নি। আমি কষ্ট পাব বলে সেরে না ওঠা অবধি আমাকে কলকাতা আসতে পর্যন্ত দেয়নি।”

    “হুম। তারপর কী হল?” বহু কষ্টে রাগ চেপে বললাম।

    “আমি…আমি বললাম মৌকে সরিয়ে দেব। পিঙ্কি কোনোদিন ভাবতেই পারেনি যে ওর জন্য কেউ এগিয়ে আসবে, কেউ ওকে এমনভাবে ভালোবাসবে। ও স্পষ্ট না বলল। কিন্তু আমি চাইছিলাম না ও এইভাবে বেঁচে থাকুক।”

    “পুলিশের কাছে এলে না কেন? মণি হালদারের এগেন্সটে কমপ্লেইন করতে?”

    আনন্দ ব্যাঙ্গের হাসি হাসল। ওর হাসির অর্থ বুঝতে আমার অসুবিধা হল না। “সুযোগ পেলে মণি হালদারকেই আগে মারতাম! কিন্তু ঠিক করলাম আগে সাপের বাচ্চাটাকে মারি, তারপর সাপটাকে…” ভয়ানক ঘৃণায় আনন্দ রক্ষিতের মুখটা কুঁকড়ে গেল।

    আমার ভীষণ অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিল। দানবীয় অন্ধকার ঘিরে ধরছিল আমায়। জোর করে নিজের মাথা ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করলাম। সম্পূর্ণ ব্যাপারটা ওর কাছ থেকে জানতেই হবে।

    “তারপর বলো কী করে প্ল্যানটা করলে?”

    “এক দিন পিঙ্কি বলল, মৌ দিল্লী চলে যাওয়ার আগে শিওর আমার আর ওর কথা ওর বাবাকে জানিয়ে যাবে, তারপর আমরা আর কোনোদিন… আমি তখন ওকে বললাম পালিয়ে যাই চলো, কিন্তু ও রাজি হল না, বলল ওর মাকে কে দেখবে? ও খুব আশা করেছিল যে আমি একটা উপায় বার করব, কিন্তু কাজটা সত্যিসত্যি করতে হবে ভেবে আমি একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।”

    “হু, তারপর গত মাসের একুশ তারিখ, আবার হোটেল লিন্ডসে …এবার আর ডেবিট কার্ডের ভুলটা করোনি। ক্যাশ পেমেন্ট। কিন্তু হোটেলের রেকর্ডে নামটা রয়ে গেছে।”

    আনন্দ অসহায় ভঙ্গিতে তাকাল আমার দিকে। “হ্যাঁ, আমি কাজটা করতে ইতস্তত করছিলাম দেখে পিঙ্কির মন ভেঙে গিয়েছিল। মানসিকভাবে এত ভেঙে পড়েছিল! ওর মনটা আসলে ভীষণ নরম; আর আ…আমি ডিসিশন না নিতে পেরে ওকে কষ্ট দিচ্ছিলাম। কথা বলার জন্য একটা নিরিবিলি জায়গা দরকার ছিল। সে রাতে ও খুব কাঁদল। তারপর…”

    “তারপর তোমরা শারীরিকভাবে একে অপরকে প্রথমবার কাছে পেলে?”

    “হ্যাঁ।” একটু থেমে আনন্দ উত্তর দিলো।

    “তারপর মৌপিয়াকে খুন করার প্ল্যান থেকে পিছিয়ে আসা তোমার কাছে

    অসম্ভব হয়ে গেল।”

    “কী করে পিছাব ম্যাডাম! ও নিশ্চয়ই ভাবত ওর সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েছি আমি। আমি…..আমাকে ও যে কতটা বিশ্বাস করত, কতটা ভালোবাসত আপনি জানেন না…আমি ওর জন্য কিছু না করে পিছিয়ে এলাম দেখলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকত না ওর কাছে।”

    “হুম ঠিকই। আচ্ছা মৌপিয়া যে জন্ডিসে ভুগত তুমি জানতে?”

    “জন্ডিস! কই নাতো!” আনন্দ অবাক হয়ে বলল।

    “হুম। তারপর ডেট আর টাইম কীভাবে ঠিক হলো?”

    “ওই দিন মানে বৃহস্পতিবার সাড়ে দশটা নাগাদ পিঙ্কি হঠাৎ ফোন করে বলল, ওই দিনই রাত দেড়টার সময় বিধানের সঙ্গে মৌ দেখা করতে বেরোবে। এই একটাই সুযোগ, এটাকে কাজে লাগাতে হবে।”

    “বিধান!”

    “হ্যাঁ, বিধান নাকি রাজি হয়েছিল দেখা করতে। দেখা করে ফেরার পথে আমাকে কাজটা করতে হতো।”

    “বিধান যে রাজি হয়েছিল সেটা প্রিয়াঙ্কা কীরকমভাবে জানল?”

    “মৌ বলে ফেলেছিল ওকে। খানকিটা সবাইকে দিয়েই…” আমার দিকে তাকিয়ে আনন্দ কথাগুলো গিলে নিল।

    “টাকাটা কি বিধান নিয়েছে? তুমি কিন্তু আগেরদিন বলেছ মৌপিয়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতেই তুমি ওকে মেরেছ। আজ অন্যরকম বলছ।” দাঁতে দাঁত চেপে জিজ্ঞাসা করলাম।

    “পিঙ্কি ফেঁসে যেত ম্যাডাম! আর কোনো টাকার কথা আমি জানি না ম্যাডাম। সত্যি বলছি!”

    “তুমি যখন ওকে মারলে ও কোথায় ছিল?”

    “বাড়ির দিকে ফিরছিল ম্যাডাম।”

    “তোমার সম্ভবত মৌপিয়াকে রেপ করার কথা ছিল?”

    আনন্দ অন্যদিকে চোখ সরিয়ে নিল।

    “কী হল বল?”

    “হ্যাঁ, মানে খুনটাকে ধর্ষণ দেখালে সুবিধা হয়, টিভিতে দেখায়, পুলিশের তদন্ত অন্যদিকে….” আনন্দ আবার কথা গিলে নিল।

    “ধর্ষণের আইডিয়াটা কার, প্রিয়াঙ্কার?”

    ‘আনন্দ কোনো উত্তর দিলো না।

    “কিন্তু তুমি তো রেপ করোনি?”

    “না ম্যাডাম! আমি…আমার খুব মাথা ঘুরছিল।”

    “তাই এখন তোমাদের দুজনের মধ্যে কথা বন্ধ? লাস্ট কল শুক্রবারে হয়েছে।”

    “পিঙ্কি বলেছিল সব মিটে গেলে তারপর আমরা আবার আগের মতো হয়ে যাব। আপাতত কিছুদিন কথা বন্ধ রাখতে হবে।”

    “প্রিয়াঙ্কা কোথায় ছিল তুমি যখন মৌপিয়াকে মারলে?”

    “কেন, কলকাতায়। অত রাতে ও কোথায় থাকবে? খুনটা আমিই করেছি ম্যাডাম। পিঙ্কির কিছু হবে না তো?” আনন্দর শেষ কথাগুলো আর্তচিৎকারের মতো শোনাচ্ছিল।

    *****

    “ছেলেটা ডাহা মিথ্যে কথা বলছে স্যার। ওকে আমার হাতে তুলে দিন। বুটের তলায় ওর গলাটা পিষে যদি সত্যিটা না বার করতে পারি, তবে আমার বাপের নামে আপনি কুকুর পুষবেন।” সামন্ত ফুঁসতে ফুঁসতে বললেন।

    “আনন্দ রক্ষিত নিজের তরফ থেকে কোনো মিথ্যে বলেনি সামন্তবাবু। খুনটা যেভাবে ও করেছে বলছে তার সবটাই ফরেনসিক এভিডেন্স আর পোস্টমর্টেম রিপোর্টের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ছেলেটা এতই ভয় পেয়ে ছিল, মৌপিয়াকে অ্যাটাক করলে মেয়েটা কীভাবে রিঅ্যাক্ট করবে বোঝেনি। ওর চিৎকার থামাতে সঙ্গে থাকা ফিজিওথেরাপির ডিস্কটা দিয়েই হিট করেছে। এত পাথর বা ইঁটের টুকরো চারিদিকে থাকা সত্ত্বেও। কতটা আনপ্রিপেয়ার্ড অবস্থায় খুন ভাবুন!”

    “তাহলে চার্জশিট দিয়ে বাড়ি যাই চলুন। অনেক তো হল?”

    “সেটা হয় না। ওর বক্তব্যে যতটুকু পানি আছে সেটা অন্য কারুর মেশানো। তাকে এত সহজে ছেড়ে দেবেন? সেই অন্য কেউ যে মেয়েটাকে বছরের পর বছর ধরে স্লো পয়জন করেছে, সেই অন্য কেউ যে আনন্দ রক্ষিতের মাথাটাকে ভালো করে ধুয়ে তাকে দিয়ে খুন করিয়েছে, সে পার পেয়ে যাবে?” আমার গলার আওয়াজে হয়ত এমন কিছু ছিল যে সামন্ত গম্ভীর হয়ে গেলেন।

    “বাইবেলের কেইন আর অ্যাবেলের গল্পটা জানেন তো?” আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

    সামন্ত মাথা নাড়ালেন।

    “জেনেসিসে লেখা আছে, কেইন আর অ্যাবেল হল আদম আর ইভের প্রথম দুই সন্তান। দুজনেই ভগবান ইয়ায়োহেকে সন্তুষ্ট করার জন্য উপচার সাজাল। ইয়ায়োহে অ্যাবেলেরটা গ্রহণ করলেন কিন্তু কেইনের উপচারকে দূর দূর করে ফেলে দিলেন। রেগে গিয়ে কেইন তখন অ্যাবেলকে খুন করে, অ্যাবেলের রক্তে ভিজে যায় মাটি। অ্যাবেলের রক্ত শুষে ছিল বলে, ইয়ায়োহের অভিশাপে অভিশপ্ত মাটি নিষ্ফলা হয়ে পড়ে থাকে যুগের পর যুগ।”

    “আচ্ছা!”

    “কথায় বলে, ব্লাড ইজ থিকার দ্যান ওয়াটার। পরিবারের ভিত্তি স্থাপিত হয় রক্তের সম্পর্ক দিয়ে। কিন্তু কথাটা কি আদৌ ঠিক?”

    “কেন নয় স্যার?”

    “পরিবারের ভিত্তিটা আসলে বিশ্বাস দিয়ে তৈরী হয় সামন্তবাবু! ট্রাস্ট একটা বিরাট বড় ইস্যু। রক্তের টান, সামাজিক দায়বদ্ধতা, ন্যায়নীতির নিগঢ় এসব অনেক…অনেক পরে আসে। যে পরিবারের ভিত্তিটাই তৈরী হয়েছে অবিশ্বাস থেকে, সেখানে কোনো সম্পর্কই স্বাভাবিক থাকতে পারে না। কোনো না কোনো এক দিন বিষবৃক্ষ মাথা চাড়া দিয়ে উঠবেই।”

    “আপনি বলছেন প্রিয়াঙ্কা হালদার…”

    “প্রিয়াঙ্কা আমার সন্দেহের তালিকাতে ছিলই, প্রথমত যদি খেয়াল করে দেখেন খুনের বারোঘন্টা আগে মৌপিয়াকে করা একমাত্র উল্লেখযোগ্য ফোন প্রিয়াঙ্কার। বিষপ্রয়োগের ফ্রিকুয়েন্সিটা যদি খেয়াল করেন তবে দেখবেন একবছর আগে প্রিয়াঙ্কার কলকাতায় শিফট করার সঙ্গে সঙ্গে মৌপিয়ার শারীরিক অবস্থা বেটার হয়েছিল। কিন্তু প্রিয়াঙ্কার প্রতি সন্দেহ দৃঢ় হল ওর হোস্টেলে গিয়ে। আপনি কি কোনোদিন মেস বা হোস্টেলে থেকেছেন?”

    “ওই, কলেজে পড়তে দু এক বছর।” সামন্ত বললেন।

    “হোস্টেলে সাধারণত মানুষ নিজেদের প্রিয় কিছু স্মৃতি, যেমন ধরুন পরিবারের সঙ্গে কাটানো কিছু সময়ের ছবি, কিছু কার্ড বা নিদেনপক্ষে নিজের শিল্পকর্ম দিয়ে ডেকরেট করে। বিশেষতঃ মেয়েদের হোস্টেলে গেলে আপনার এগুলোতে চোখ পড়তে বাধ্য। প্রিয়াঙ্কার টেবিল বা বিছানার পাশের দেওয়াল ছিল শূন্য। একটাও… নট ইভেন এ সিঙ্গল অ্যালফাবেট… কিচ্ছু ছিল না ওর আশেপাশে যা দিয়ে ওর ইমোশনটাকে আমি বুঝতে পারি। শি ইজ এ সাইকোপ্যাথ সামন্তবাবু!”

    “সাইকোপ্যাথ!” সামন্ত ঢোঁক গিললেন।

    “ওসব তো স্যার হলিউডি সিনেমায় দেখায়।”

    “আমি সিনেমার সাইকোপ্যাথের কথা বলছি না। সাইকোপ্যাথের ক্লিনিকাল ডেফিনিশন অনুযায়ী সাইকোপ্যাথরা হল বিবেকহীন, সহানুভূতিহীন, মিথ্যেবাদী, ম্যানিপুলেটিভ, নার্সিস্টিক, অ্যাটেনশন সিকিং সেইসব মানুষ যারা তাদের ইচ্ছার পথে, তাদের ইগোর পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাদেরকে সরিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র ভাবে না। দু একটা ক্রাইটেরিয়া হয়ত মিস হয়ে গেল সামন্তবাবু, কিন্তু মোটের ওপর ব্যাপারটা এরকমই।”

    “মৌপিয়া প্রিয়াঙ্কা হালদারের ইগো হার্ট করেছিল?”

    “কোয়ায়েট ন্যাচারালি সামন্তবাবু। মাধ্যমিকে প্রথম দশের মধ্যে থাকলে সেই স্টুডেন্টকে নিয়ে এই ছোট্ট মফস্বল শহরটায় ঠিক কতটা হইচই হতে পারে?”

    “খুব হয়েছিল স্যার। পেপার টেপারে নাম বেরোনোর পর ক্লাবে ক্লাবে সম্বর্ধনা, মেডেল টেডেল সে সব বিরাট ব্যাপার। তারপর তো মেডিকেলে পেল…রত্ন মেয়ে ছিল।”

    “ওর এই মেধাই ওর কাল হয়ে দাঁড়াল। আনন্দ রক্ষিত একটা কথা সত্যিই বলেছে, মণি হালদার প্রিয়াঙ্কাকে সহ্য করতে পারত না। তার একটা কারণ কী মনে হয় জানেন?”

    “কী!”

    “প্রথমদিন যেদিন ওদের বাড়িতে গেলাম শতদল মিত্রের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার মুখের মিল দেখে চমকে ওঠেছিলাম। ওর মুখটা দেখলেই মণি হালদারের রক্ত গরম হয়ে উঠত। মঞ্জু হালদার যে ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য স্বামীকে দায়ী করতেন, সে যেন মরে গিয়েও মরে গেল না! প্রতি মুহূর্তে প্রিয়াঙ্কা মঞ্জু হালদারকে শতদলের কথা মনে করিয়ে দিত, ক্ষয়ে যাওয়া সাংসারিক সম্পর্ক কোনোদিন আর জোড়া লাগতেই পারেনি। জন্মের পর থেকেই একটা ডিসটার্বড পরিবেশ পেয়েছিল প্রিয়াঙ্কা। বাবা আর মামার টাগ অফ ওয়ারের ফলে নিষ্পেশিত শৈশব; ছোটবেলা থেকে অবহেলা আর নিজের প্রতি ধিক্কার নিয়ে বড় হতে হতে প্রিয়াঙ্কা যখন জেনে গেল যে এটাই ওর ভবিতব্য, তখন মৌপিয়ার জন্ম হল। প্রিয়াঙ্কা মিসেস হালদারের যেটুকু আদর-স্নেহ পেত সেটুকুও বন্ধ হয়ে গেল।”

    “মানে, মিসেস হালদারের অসুস্থতার জন্য?”

    “হ্যাঁ। ওইটুকু বয়সে বাবা, মার স্নেহহীন জীবন যাপন করা ভীষণ সাংঘাতিক একটা ইস্যু সামন্তবাবু। যখন বুদ্ধিবৃত্তি ঠিক করে গড়ে ওঠেনি, তখন থেকেই প্রিয়াঙ্কা বুঝতে শিখল যে একমাত্র স্নেহের জায়গাটা যদি কারুর জন্য চলে গিয়ে থাকে তবে সে মৌপিয়া। মৌপিয়া ছিল মেধাবী, আর মেধার জোরে ও নিজের একটা পরিচিতি তৈরী করতে পেরেছিল। সম্ভবত মণি হালদারও মনে মনে ছোট মেয়ের অ্যাচিভমেন্টে গর্বিত ছিলেন। প্লাস ছোট মেয়ের জন্য মনের কোনো কোনায় একটা গিল্ট ফিলিং ছিল, জন্মের পর থেকেই তো মেয়েটা একেবারেই মাতৃস্নেহ পায়নি। মুখে প্রকাশ না করলেও তিনি টাকাপয়সা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিয়ে যেতে লাগলেন। আপনি ওর আঁকা বা গানের সার্টিফিকেটগুলো দেখেছেন তো?”

    “হুম!”

    “ছোট থেকে যে মেয়েটা শুধুই অবহেলা পেয়েছে, হয়ত তার মধ্যমেধার জন্য পাড়া-প্রতিবেশী, স্কুলে অবজ্ঞা সহ্য করেছে সে তার এই পরিস্থিতির জন্য বোনকে দায়ী করতে শুরু করল। মনে মনে ভাবতে লাগল, মৌপিয়া না জন্মালে হয়ত প্রতিনিয়ত ওকে এই তুলনার মধ্যে দিয়ে যেতে হতো না।

    “কফিনের শেষ পেরেকটা গাঁথা হল যখন মৌপিয়ার মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরোলো। এই ছোট্ট শহরে লোকের কাছে ও একটা আইকন হয়ে উঠল। বাড়িতে তুমুল অশান্তির সময়ও নিশ্চয়ই এই নিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে কথা শুনাতেন মণি হালদার।”

    “তারপরই স্লো পয়জনিং?”

    “হ্যাঁ। কিন্তু বিষের প্রভাবে যে জন্ডিস হতে পারে সেটা ওর ধারণায় ছিল না। মৌপিয়া ডাক্তারের কাছে গেল এবং সতর্ক হয়ে গেল।”

    “তারপর?”

    “ইতিমধ্যে একটা ঘটনা ঘটল। বিধানের সঙ্গে মৌপিয়ার একটা বাল্য প্ৰেম ছিল। যেটা মণি হালদারের ঘোরতর অপছন্দের কারণ ছিল। স্বভাবগতভাবে মণি হালদার অসম্ভব রাফ একজন মানুষ, নিশ্চয়ই মেয়েকে চড় থাপ্পড় মেরে শাসিয়েছিলেন। প্রিয়াঙ্কা একটা সুযোগ পেয়ে গেল, বোনের কাছাকাছি আসার, ওকে ভরসার পাত্রে পরিণত করার। আমার ধারণা, খাবার নিয়ে সন্দেহের ব্যাপারটা মৌ ওর দিদিকে জানিয়েছিল। প্রিয়াঙ্কা সন্দেহের তীরটা ওর বাবার দিকে ঘুরিয়ে দিলো। এর পর থেকেই মণি হালদারের সঙ্গে মৌপিয়ার মারাত্মক দূরত্ব তৈরী হয়। বন্ধ দরজার ওপর জুতো ছুঁড়ে মারা…মনে পড়ছে?”

    “হুম!”

    “নবগোপাল হুঁইয়ের মারা যাওয়ার পর বিধান একেবারেই মৌপিয়ার থেকে দূরে চলে গেল, এবং সেটার দায়ও প্রিয়াঙ্কা বাবার ওপর চাপাল। এটা করতে অবশ্য ওকে বেশি বেগ পেতে হয়নি। নবগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ওর রাস্তা সোজা করে দিয়েছিল। আপনি মৌপিয়ার মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করুন একবার, দিদি বাদে কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না, বিধানের সঙ্গে দূরত্ব কীভাবে দূর হবে দিদির কাছে পরামর্শ চাইছে। এদিকে যাকে এত ভালোবাসে সে ভুল বুঝে দূরে সরে যাচ্ছে।”

    “আর আনন্দ?”

    “আনন্দ!” দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, “পৃথিবীতে কিছু মানুষের জন্মই হয় গলাটা হাঁড়িকাঠে দেওয়ার জন্য সামন্তবাবু। যমদূতের মতো বাবা, অত্যাচারিত রাজকন্যা, প্রেমের একটা সুদীর্ঘ নাটক, কিছু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না, শারীরিক ঘনিষ্ঠতা… টিপিক্যাল সিন্ডারেলা স্টোরি সামন্তবাবু! আসলে নতুন বৌয়ের জামাকাপড় খুললে তারা অমন কেঁপে কেঁপে ওঠে কেন জানেন?”

    সামন্ত আমার দিকে অবাক হয়ে তাকালেন।

    “ছেলেরা মেয়েদের ওই অসহায়, শরণাগত, লজ্জাবনত, আর্ত রূপটি দেখতে ভালোবাসে। সমস্যাটা হয় যখন এই সাইকলজিটা ব্যাকফায়ার করে। প্রিয়াঙ্কা হালদারের মতো কিছু সাইকোপ্যাথ সেটার সুযোগ নেয়। প্রিয়াঙ্কা জানত, মৌপিয়া মেডিকেল দেবে এবং পাবে। হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই ওকে সরাতে হবে। আনন্দর মতো পাঁঠা থাকতে সেই সুযোগ কীভাবে ছাড়ত প্রিয়াঙ্কা? সম্ভবতঃ আনন্দর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো এবং কলকাতায় যাওয়া দুটোই ক্যালকুলেটেড স্টেপ।”

    “কিন্তু স্যার, এসবই তো থিয়োরি, মিস হালদারের বিরুদ্ধে কোনো এভিডেন্স নেই!”

    “একদম ঠিক। ভালো উকিল হলে আনন্দও ইনস্যানিটির বাহানায় ছাড়া পেয়ে যাবে সামন্তবাবু! প্রিয়াঙ্কাকে তো বাদই দিলাম। আনন্দ যে কলকলিয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, কোর্টে সব অস্বীকার করবে।”

    “তাহলে উপায়?”

    “উপায় একটাই। বিধানকে এবার ডাকুন। আমি দুশো ভাগ শিওর, সেদিন রাতে এক্সাক্ট কী হয়েছিল ও জানে, এবং কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ও মুখ খুলছে না। আনন্দর স্টেটমেন্ট বলছে খুনের সময় প্রিয়াঙ্কা কলকাতায়, অথচ প্রিয়াঙ্কার নিজের স্টেটমেন্ট, আমাদের ইনভেস্টিগেশন, ওর মোবাইল টাওয়ার লোকেশন সব বলছে ও বর্ধমানে। আরেকটা বিরাট ধোঁকার জায়গা আছে, সেটাই এই রহস্যের মিসিং লিঙ্ক।”

    “কী? টাকা?”

    “এক্সাক্টলি। আর তার সন্ধান দিতে পারে একমাত্র বিধান। ওর কেস তো কাল দায়রায় উঠছে?”

    “হ্যাঁ। পুলিশ জামিনের বিরোধিতা করবে না।”

    “একদম। দায়রা থেকেই সোজা যাতে থানায় আনা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। আর প্রিয়াঙ্কার ওপর সাদা পোশাকে নজরদারি বসান।”

    “সে তো এখানেই এখন।”

    “কোথায়? বাড়িতে?”

    “হ্যাঁ। উইকেন্ডে আসে তো।”

    “ওকে। একজন কনস্টেবলকে লাগিয়ে রাখুন।”

    ********

    সেশন কোর্টের বাইরে দাঁড়িয়ে আমরা দরদর করে ঘামছিলাম।

    গণেশদা অসম্ভব বিরক্ত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আবার কী! এখন তো দেখছি বেকসুর খালাস হলেও পুলিশ টানাটানি করছে, এমনি এমনি পাবলিক তোদের ওপর খাপ্পা নয়।”

    “সে কী! তুমি পুলিশের লোক হয়ে পুলিশের নিন্দা করছ?” আমি হালকা হেসে বললাম।

    “খোঁচড়রা কখনও কারুর লোক হয় না দাশু। ওসব ঢং ছাড়। দেখ দাশু, তুই এর আগে বিধানের কোয়ার্টার রেইড করেছিস, আমি কিছু বলিনি। কিন্তু এখন? তুই এবার টর্চার করছিস।”

    “তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেব।”

    গণেশদা হাত তুলে আমাকে থামিয়ে বলল, “বিধান থানায় যাবে কিন্তু উকিল ছাড়া নয়। আমাকে আজ কলকাতা ফিরতেই হবে। তারপর দেখছি, সময় লাগবে একটু।”

    “আরে সামান্য কটা প্রশ্ন!”

    “না!” গণেশদা মাথা নাড়িয়ে চলে গেল। দূরের অশ্বত্থ গাছটার তলায় বসে বিধান কোল্ড ড্রিংকস খাচ্ছিল। বেশ কয়েকজন অল্পবয়সী ছেলে ছোকরা ওকে ভিড় করে ছিল, মাঝে মাঝে চটুল কথাবার্তার ঝাঁজটা এদিকেও উড়ে আসছিল। আমার সঙ্গে চোখাচোখি হতেই বিধান চোখ সরিয়ে নিল।

    বিধানকে মন দিয়ে লক্ষ করলাম। এর আগে সামনাসামনি ওকে কোনোদিন দেখিনি। মৌপিয়ার মোবাইলে একাধিক ছবি সেভ করা ছিল; তার মধ্যে একটা স্কুল ইউনিফর্ম পরে, কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে। ছবিটায় মৌপিয়া নেই, কারণ সে-ই ছবি তুলেছে হয়ত। বিধানের চোখে অনাবিল খুশি, সূর্যের প্রথম আলোর মতো ঝিলিক মারছে। বিধানের এক হাত বাড়ানো মৌপিয়ার দিকে, যেন হঠাৎ ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে। ছবিটা অনবদ্য কারণ, যার ছবি তোলা হয়েছে এবং যে তুলেছে তাদের দুজনেরই আনন্দটুকু ওই একটুকু ছবিতে বন্দী হয়ে মোবাইলে রয়ে গেছে।

    আর এখন! এখন সামনে যাকে দেখছি তার কাছে আনন্দের সংজ্ঞা পাল্টে গেছে সেটা একঝলকেই বোঝা যায়। ঔদ্ধত্যের ঔজ্জ্বল্য চিনতে ভুল হয় না। বড় চকচক করে!

    গাড়িটা ঘুরিয়ে নিয়ে থানার দিকে এগোতেই ফোনটা বেজে উঠল।

    এডিজির ফোন। মহেন ভান কনফেশন দিয়েছে। মণিরঞ্জন হালদার নবগোপাল হুঁইয়ের খুনি নয়! আমার কেসের সঙ্গে অফিসিয়ালি মহেন ভানের সম্পর্ক শেষ। তবে কে মারল বিধানের বাবাকে? প্রশ্নটা জিজ্ঞাসা করার আগেই এ.ডি.জি ফোন কেটে দিলেন।

    ********

    খাটো-গলা, মোটাসোটা, আঁইটাই গরমে গলা বন্ধ সাদা শার্ট পরিহিত যে লোকটার সঙ্গে বিধান থানায় ঢুকল তার নাম পরীক্ষিত সর্দার হলেও কেন জানি আমার মনে হল বিশ্বম্ভর নামটা খুব স্যুট করবে।

    চেয়ারটা টেনে নিজেই বসে বিশ্বস্তর উকিল বললেন, “নিয়ম কানুন নিশ্চয়ই মেনে কাজ হবে এখানে। যা জিজ্ঞাসা করার তাড়াতাড়ি করুন।”

    বিধান দাঁড়িয়েই ছিল। বসতে বলাতে ভাবলেশহীন মুখে চেয়ারে বসল।

    “নবগোপাল হুঁইকে কিন্তু মণিরঞ্জন হালদার মারেননি বিধান। যে বা যারা তোমার মাথায় ওটা ঢুকিয়েছে, সে কিন্তু কোনো সুযোগের সদব্যবহার করেছে, হতে পারে তোমাকে ইউটিলাইজ করেছে।” আস্তে করে কথাটা ওর দিকে ছুঁড়ে দিলাম। আমি ঠিক করেছিলাম প্রথমেই শক-থেরাপি দেব।

    ও চমকে আমার দিকে তাকাল। ওর তাকানো দেখেই বুঝলাম, তীর সঠিক নিশানায় লেগেছে।

    “তোমার বাবাকে যে লরিটা মেরেছে তার সঙ্গে মণিরঞ্জন হালদারের কোনো কানেকশন নেই।” আমি শান্তভাবে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম।

    বিধান অদ্ভুত চোখে আমার দিকে তাকাল, যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না আমার কথা।

    “তবে কে?” বিধান হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞাসা করল।

    “সেটা বলা এই মুহূর্তে একটু চাপের। কিন্তু মৌপিয়ার বাবা কোনোভাবেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।”

    “প্লিজ বলুন!” বিধান অস্থির হয়ে উঠল।

    “অন্য কেউ। কিন্তু মণি হালদার নন।”

    “অসম্ভব! ওই লোকটাই মেরেছে আমার বাবাকে। বাবার জনপ্রিয়তা ওর হজম হচ্ছিল না।”

    “না, তোমার বাবাকে যে লরিটা মেরেছিল তার চালক অলরেডি পুলিশ কাস্টডিতে বিধান।”

    “সে কী বলছে, কে মারতে বলেছিল আমার বাবাকে?”

    “বলব, তার আগে তুমি বল সেদিন রাতে তুমি কী দেখেছিলে?” বিধান উত্তর দিলো না।

    “মৌপিয়ার পরিণতিটা খুব প্যাথেটিক বিধান।” আমি কেটে কেটে বললাম। “তুমি যদি না বল, সেই রাতে তুমি কী দেখেছিলে, তবে হয়ত মৌপিয়ার প্রকৃত অপরাধী শাস্তি পাবে না।”

    বিধান ভুরু কুঁচকে নিচের দিকে তাকিয়ে ছিল। যেন কিছু একটা মেলানোর চেষ্টা করছিল।

    “মৌপিয়ার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কি বলছে জান? ওকে এর আগেও বিষ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তোমরা তো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলে, কিছু জানো এ ব্যাপারে?”

    বিধান হতবাক হয়ে মুখ উঠিয়ে তাকাল আমার দিকে।

    “ওর পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আরও কী লেখা আছে জানো? ওকে অনেকক্ষণ ধরে যন্ত্রণা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। ও বাঁচার খুব চেষ্টা করেছিল…মে বি তুমি যদি ওর কাছে পৌঁছাতে পারতে ও হয়ত বেঁচেও যেত। তুমি সে রাতে ওকে দেখেছিলে? যদি কাছে যেতে হয়ত মৌপিয়া…”

    “আমার ক্লায়েন্টের পক্ষে কোনোভাবেই মার্ডার ভিক্টিমের কাছে যাওয়া সম্ভব ছিল না। আমার ক্লায়েন্ট খুন হতে দেখেনি।” নির্বাক বিধানের পাশ থেকে বিশ্বস্তর বলে উঠল।

    বিশ্বম্ভরকে পাত্তা না দিয়ে, বিধানের মুখের থেকে একটুও চোখ না সরিয়ে বললাম, “মৌপিয়ার মাথায় পাথর মেরে, গলা টিপে, ওকে মেরে ফেলা হয়েছে। ওর মাথায় যে পাথরটা দিয়ে মারা হয়েছিল সেটায় ওর খুলির হাড় গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গিয়েছিল। তারপর মৃত্যুর পর খুনি ওর আন্ডারওয়ার নামিয়ে একটা মোটা তুলি ঢুকিয়ে ওর…তুলিটা ওর প্রাইভেট পার্টসের অনেকটা গভীরে ঢুকেছিল বিধান…”

    “আপনি কিন্তু ওর ওপর টর্চার করছেন।” বিশ্বস্তর বলে উঠল। “থামুন এবার!”

    আমি বিধানের দিকে তাকালাম। ও আমার কথাগুলো শুনতে পাচ্ছিল, শুধু মৃত মানুষের মতো ওর মুখটায় কোনো অভিব্যক্তি ফুটে উঠছিল না। ডান হাত দিয়ে টেবিলের ওপর রাখা পেপার-ওয়েটটাকে ও শক্ত করে ধরে ছিল। আমার কথা শেষ হতেই পেপার-ওয়েটটাকে ও ছেড়ে দিলো। সামান্য রোল করে ওয়েটটা টেবিলের ওপর স্থির হয়ে দাঁড়াল।

    “আমার ক্লায়েন্ট কিছু জানে না। কিছু বলার থাকলে তো বলেই দিত। বিধান চলো।” বিশ্বস্তর পাশ থেকে খোঁচালেন।

    একটা অস্থির নীরবতা নেমে এল। পাশের টেবিলে সামন্ত কাকে যেন বেশ বকা-ঝকা করছিলেন, থানার বাইরে বেশ কয়েকজনের লম্বা লাইন ছিল, তাদের সম্মিলিত কথাবার্তা ভেসে আসছিল। কিন্তু আমি একাগ্র হয়ে বিধানের দিকে তাকিয়েছিলাম। ও যত দেরী করছিল, তত মনে হচ্ছিল আর হয়ত বলবে না! এটাও একটা ইনকমপ্লিট জাস্টিসের কেস হবে!

    “মৌকে কে মেরেছে? ওই আনন্দ?” বিধান হঠাৎ স্বপ্নোত্থিতের মতো জিজ্ঞাসা করল।

    উত্তর দিলাম না।

    “বলুন না?” শূন্যদৃষ্টিতে ও তাকাল। তারপর আমার উত্তর না শুনেই ও বলতে শুরু করল, “মৌ অনেকবার কথা বলতে চেয়েছিল, আমি কোনো উত্তর দিইনি। লাস্ট যেদিন স্কুলের সামনে ওকে দেখলাম, অনেকক্ষণ ধরে রিকোয়েস্ট করেছিল, একটিবার কথা বলার জন্য। আপনি ঠিক জানেন ওর বাবা আমার বাবাকে মারেনি?” বিধান আমার দিকে ক্লান্ত দৃষ্টিতে তাকাল।

    “মৌপিয়ার সঙ্গে সম্পর্কটা ভেঙে গিয়েছিল কেন? তোমার বাবার মৃত্যুর কারণে?”

    বিধান উত্তর দিলো না, কিন্তু অনুভব করলাম ওর মানসিক যন্ত্রণা হচ্ছে। ওর জন্য আলাদা কোনো সমবেদনা অবশ্য আমার হচ্ছিল না। যে আবেগ যুক্তির পথ বন্ধ করে দেয়, তার প্রতি আমি ছোট থেকেই বিতৃষ্ণ। শুধু হৃদয়ের এই অসীম অপচয়ে রাগ হচ্ছিল… প্রবল রাগ!

    “কিন্তু আর কে…আর কে হতে পারে? বাবা তো কারুর কোনোদিন কোনো ক্ষতি করেননি।” বিধান বিড়বিড় করে বলল।

    “হয়ত যারা ক্ষতি করত তাদের চিনতেন।”

    বিধান চকিতে আমার দিকে তাকাল। “কাদের চিনতেন?” ও বলল।

    “আর কদিন অপেক্ষা কর। সবই জানতে পারবে।” আমি শান্তভাবে বললাম। “কিন্তু তুমি তো বুঝতে পারছ, তোমার নামটা এই কেসের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে কারণ তুমি সে রাতে অকুস্থলে ছিলে। আনন্দ রক্ষিত বলেছে সে রাতে মৌপিয়া তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল।”

    “সেকী! কই আপনি এসব তো আগে বলেননি।” বিশ্বস্তর পাশ থেকে বলল। “আমার সাথে? আমার সঙ্গে শেষ দুবছরে ওর কোনো কথা হয়নি!” বিধান অবাক হয়ে বলল।

    “তাহলে সে রাতে তুমি কী এমন দেখলে যে এতদিন চুপ করে থাকলে? তুমি কি কাউকে বাঁচাতে চাইছ বিধান?”

    “না…না… আমি কাকে…”

    “তবে তোমার বলতে অসুবিধা কোথায়?”

    “দেখুন অফিসার…আপনি কিন্তু ফোর্স করতে পারেন না…” বিশ্বস্তর ফাটা রেকর্ডের মতো বলে উঠল

    আমার মাথাটা ফস করে গরম হয়ে গেল। মনে হল উকিলটার গলাটা টিপে ধরি, কিন্তু ইউনিফর্মের দায় অনেক। রাগটা চেপে বললাম, “আপনি কি চান না যে একটা বাচ্চা মেয়ের খুনি ধরা পড়ুক?”

    “সেটা আপনার তদন্তের বিষয়। কোর্টে কেস উঠুক, সরকারি কৌশুলি কোর্টে ফর্মালি জিজ্ঞাসা করুন, আমার ক্লায়েন্ট উত্তর দেবে। সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তার আগে ঘটনা পরিক্রম না বুঝে আমি আমার ক্লায়েন্টকে কিছুতেই মুখ খুলতে দেব না। এই যে আপনি বললেন, আনন্দ রক্ষিত জেরায় আমার ক্লায়েন্টের নাম নিয়েছে, এটা…এটা তো আনঅফিসিয়াল কথাবার্তা। আপনি কী করে ভাবছেন তার বেসিসে আমার ক্লায়েন্ট জবানবন্দী দেবে?”

    “খুনিকে ধরাটা আমার না হয় ফর্মাল ডিউটি, অ্যাজ এ সিটিজেন আপনার কি কোনো নৈতিক দায় নেই?”

    “আমাকে ডিউটি দেখাবেন না ম্যাডাম। আমার ফোরমোস্ট ডিউটি আমার ক্লায়েন্টের স্বার্থ দেখা; সেটা আপনার কাছ থেকে আমি শিখব না। আর নৈতিক দায়িত্ব! সাপের বাচ্চা সাপই হয় ম্যাডাম। পিছন থেকে ছোবল মারে। মরে গিয়েও আমার ক্লায়েন্টকে ফাঁসিয়ে গেছে।”

    “কী সব বলছেন যা তা?”

    বিশ্বস্তর হাত তুলে বললেন, “ব্যাস, যথেষ্ট হয়েছে। বিধানের যা বলার বলা হয়ে গেছে, এর পরে আর একটা কথারও উত্তর দিতে আমার ক্লায়েন্ট বাধ্য নয়। : চলো বিধান।” বিশ্বম্ভর চিবিয়ে চিবিয়ে বলল।

    বিশ্বম্ভর প্রায় হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে বিধানকে নিয়ে বেরিয়ে গেল। আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে চেয়ারে বসে থাকলাম। ফাইলটা খুলে একবার মৌপিয়ার ছবিটা দেখলাম। অন্ধকারের মধ্যে আলোর একটুকু আভাস পেয়েও সেটা মিলিয়ে গেল; আমার ক্লান্ত অবসন্ন লাগছিল। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মৌপিয়া হালদারকে কেউ সাপের বাচ্চা বলে দাগিয়ে দিলো। শরীরের রক্তটা কতটা ম্যাটার করে? আমার শরীরে কার রক্তের প্রভাব বেশি? বাবার না মার!

    ফাইলটা থেকে মৌপিয়া আমার দিকে তাকিয়ে নিষ্পাপ হাসছিল!

    বাড়িতে গেটটা খুলে ঢুকতেও ইচ্ছা করছিল না। বিধান কিছু বলল না, বলবেও না। ইমোশনালি ওকে আঘাত করার চেষ্টা করেও কিছু হল না। ও যদি না বলে, তবে আর কোনো আশা নেই। উকিলটা না থাকলে হয়ত বলত।

    গভীর রাতে একটা ফোন এল আমার কাছে। ফোনটা তুলতেই ঘরঘর একটা শব্দ; তারপর হঠাৎ সব চুপ! আমার সবকটা ইন্দ্রিয় হঠাৎ সজাগ হয়ে উঠল, তবে কী যা ভাবছি…খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে জিজ্ঞাসা করলাম, “কে?”

    কোনো উত্তর এল না।

    “কে বিধান?”

    অনেকক্ষণ পর একটা পরিচিত গলা বলল, “হ্যাঁ।”

    “কিছু বলবে?” আমি গলার উদ্বেগ যথাসম্ভব চাপার চেষ্টা করলাম।

    “হ্যাঁ…” একটু ভেবে উত্তর এল।

    “আমি কথা দিচ্ছি মৌপিয়ার মৃত্যুতে তুমি যদি জড়িয়ে না থাক, তবে আমার সর্বশক্তি দিয়ে তোমাকে প্রোটেক্ট করব। কিন্তু প্লিজ! সেইরাতে কী হয়েছিল বলো।”

    আরও বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বিধান বলা শুরু করল-

    “সেই রাতে আমি একজনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম মেইনরোডের কালভার্টটার কাছে। হঠাৎ মৌপিয়াকে দূর থেকে আসতে দেখে আমি কালভার্টটার পিছনে গিয়ে লুকাই। ওকে দেখা দেওয়ার আমার ইচ্ছে ছিল না। মৌ মেইনরোডের কাছে এসে হ্যালোজেনটার তলায় কার জন্য যেন অপেক্ষা করছিল। একটু পরে একটা টোটো এসে দাঁড়ায়, আর মৌ টোটোটার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। টোটোর মধ্যে কেউ একজন ছিল, মৌ একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে দু-তিন মিনিট কথা বলল। তারপর টোটোটা বেরিয়ে যায়।”

    “টোটোর ভেতরে কে ছিল চোখে পড়েনি?”

    “না! রেক্সিন দিয়ে ঘেরা টোটো। যে ছিল সে নামেনি।”

    “কী রঙের রেক্সিন? টোটোর কী রঙ?”

    বিধান কিছুক্ষণ মনে করার চেষ্টা করে বলল, “মনে হয় কালো। ঠিক মনে পড়ছে না। টোটোর রঙটা খেয়াল নেই।”

    “আচ্ছা, তারপর?”

    “মৌ আবার আমার সামনে দিয়েই হেঁটে ওর বাড়ির দিকে এগোয়। ও অনেকটা এগিয়ে গেলে আমি কালভার্টের পিছন থেকে বেরোই, আর দেখার চেষ্টা করি ও কোনদিকে যায়। হঠাৎ পাম্পঘরের কাছটা থেকে ও যেন ভ্যানিশ হয়ে যায়। রাস্তাঘাট অত রাতে একদম অন্ধকার থাকে, যেটুকু আলো মেইনরোডের হ্যালোজেন বাতি থেকেই আসে। আমি পরিষ্কার কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না, · কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি, তারপর মনে মনে ভাবি এগিয়ে দেখব। কিন্তু তখনই আমার ফোন আসে, আর জানতে পারি যার জন্য অপেক্ষা করছিলাম সে কোয়ার্টারের কাছে আমার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে হতো, তাই তখন ফিরে যাই।

    “পরের দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর মনের ভেতরটা খচখচ করছিল, পাম্পঘরটায় অনেকরকম লোকজন আসে মাঝেমাঝে। সাইকেল নিয়ে আবার ওর বাড়ির দিকে এগোই। পথেই পাম্পঘরটা পড়ে, উঁকি মেরে দেখি দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ।

    “সাইকেল থেকে নেমে দরজাটা ঠেলে দেখি, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পিছন দিয়ে ঘুরে, জানালাটার কাছে গিয়ে উঁকি মারতে যাই, তখনই জামালদাকে আসতে দেখি। তাড়াহুড়ো করে সাইকেলটায় চেপে ওখান থেকে বেরিয়ে যাই।”

    “তুমি মৌপিয়ার ডেডবডি দেখেছিলে?”

    “শুধু একঝলক দেখেছিলাম। কিন্তু ভালো করে দেখার আগেই জামালদাকে দেখি।”

    “টোটোটা কোনদিক থেকে এসেছিল?

    “বর্ধমানের দিক থেকে।”

    “আর গেল কোনদিকে?”

    “আবার ওদিকেই ফিরে গেল।”

    “নাম্বারপ্লেট দেখেছিলে?”

    “নাহ। খেয়াল করিনি।”

    “তুমি অত রাতে কার জন্য অপেক্ষা করছিলে?”

    বিধান উত্তর দিলো না।

    “মৌপিয়াকে তো ভালোবাসতে বিধান? নাহলে ভোরবেলা আবার খুঁজতে যেতে না!”

    “না…না…আমি কাউকে ভালোবাসতে পারি না দিদি।” বিধান কাতরে ওঠে বলল, “আমি মৌকে বারবার ফিরিয়ে দিয়েছি, আমি কারুর ভালোবাসার যোগ্য নই।”

    “অত রাতে কার জন্য অপেক্ষা করছিলে?”

    বিধান চুপ করে থাকল। উত্তর দিলো না।

    “বিধান!”

    “আমাকে আর কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না দিদি। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারব না। ফোনটা কটাস করে কেটে গেল।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    Related Articles

    পিয়া সরকার

    বিসাশন – পিয়া সরকার

    October 21, 2025
    পিয়া সরকার

    বৃশ্চিকচক্র – পিয়া সরকার

    October 21, 2025
    পিয়া সরকার

    বিসাশন – পিয়া সরকার

    September 12, 2025
    পিয়া সরকার

    বৃশ্চিকচক্র – পিয়া সরকার

    September 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Our Picks

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }