বড় তুচ্ছ এই বেঁচে থাকা
“বেঁচে থাকলে বৌয়ের আদর, মরে গেলে মাথা থেকে পা অবধি ঢাকা সাদা চাদর… তোর ক্ষেত্রে অবশ্য বরের আদর হবে।” ভাঁড়ে চুমুক দিতে দিতে বলল
সুমন্ত। আমরা দুজন নবগ্রাম স্টেশনে এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিলাম।
“মানে?”
“বাঘ-বন্দী খেলা দেখিসনি?”
“দেখেছি, উত্তমের এমন কোনো ডায়ালগ ছিল না।”
“ধুস, এ হল জিতের ডায়ালগ। জিতদা আমার হিরো। পুলিশে চাকরি করলে কী হয় কেমন সুন্দর দু লাইনে বুঝিয়ে দিয়েছে। পারবে তোর উত্তম?” ভাঁড়ের চা-টা তখনও গরম ছিল। মনে হল ওর মাথায় ঢেলে দিই। “মৌপিয়ার ডাক্তার কী বলল?” সুমন্ত আমার দিকে তাকাল।
“বিশেষ কিছু না। যা জানি, তাই। ভদ্রলোকের চেম্বার এই স্টেশনের কাছেই। মোটামুটি চারবছর আগে ওর বমি, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি হয়। টেস্টিং হয়, ডাক্তার খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে বলেন। তিনচার মাস ঠিক থাকে তো, আবার সমস্যার শুরু হয়ে যায়। মৌপিয়া এবার কলকাতায় ডাক্তার দেখায়। এবং নিজের খাবার নিজে রেঁধে খাওয়া শুরু করে।”
“নিজে?”
“হ্যাঁ, কাজের লোক কবিতা কনফার্ম করেছে ছোটদিদি বাড়ির সবার জন্য রান্না করে ওরটা আলাদা করে ওর ঘরে নিয়ে যেত। একই পাত্র থেকে খেত না।”
“তার আগে কে রান্না করত?”
“মিসেস হালদার। উনি অসুস্থ থাকলে প্রিয়াঙ্কা, কখনও কখনও মণি হালদারও।”
“মিসেস হালদার রান্না করার মতো কন্ডিশনে থাকতেন?”
“ওনার ব্যাপারটা খুব আনস্টেবল। ডিপ্রেসড থাকতেন সবসময়, মাঝে মাঝে ভায়োলেন্ট হয়ে যেতেন।”
“নিজে রান্না করে খেত মানে মেয়েটা সতর্ক হয়েছিল?”
“হ্যাঁ। কিন্তু সতর্ক হওয়া সত্ত্বেও খুনটা এড়াতে পারল না।”
চা শেষ করে সুমন্ত বিড়ি ধরাল একটা। তারপর বলল, “দেখো ম্যাডাম ডিটেকটিভ, যে শালা এই খুনটা করেছে, ফাট্ট ছিল। প্রথমে গলা টিপে, তারপর মাথায় মেরে, তারপর শালা তোর ঐ কাঠি ঢুকিয়ে… যে কাজটা করেছে তার আসলে প্রচুর ফাটছিল। নাহলে একেবারেই কাজ সারত। পাবলিকটাকে রীতিমত কালঘাম ছুটাতে হয়েছে মেয়েটাকে মারতে।” সুমন্ত বিড়িতে টান দিয়ে বলল।
আমি ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। মাঝে মাঝে অনায়াসে ও অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করে দেয়। খুনির সাইকলজি নিয়ে একটা খটকা ছিলই মনে, সেটা কিছুটা ক্লিয়ার হল। খুনের সময় খুনির নার্ভ ঠিক শক্ত ছিল না।
“হুম। তুই আমার বাকি ডিডাকশনগুলো শুনবি?” ওর দিকে তাকিয়ে বললাম।
“না! অ্যাকশন থাকলে বল!”
“ঠিক আছে, ডিডাকশন শুনতে হবে না। গল্পটা শোন।”
জোর করেই শুরু করলাম। শুধু নবগ্রাম নয়, গোটা দেশেরই প্রায় এক গল্প। মোটা টাকা কোয়ার্টারভাড়া হিসাবে কাটা যায় পকেট থেকে, ওপরন্তু কোয়ার্টারে থাকলে কর্মচারীরা হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স পান না, তাই রেল কোয়ার্টারের বদলে রেল কর্মচারীরা হয় ফ্ল্যাট কিনে নিচ্ছেন বা ভাড়া বাড়ি বেছে নিচ্ছেন গত তিরিশ বছর ধরে। রেল কোয়ার্টারগুলো হানাবাড়ি হয়েছিল আগেই, তবে ফাঁকা পড়ে থাকলে যা হয়… আস্তে আস্তে বেআইনি দখলদারদের হাতে চলে গেল রেল কোয়ার্টার।
“এখন এই নবগ্রামে গোটা দশেক কোয়ার্টারে বেআইনি দখলদার আছে, তার মধ্যে বিধানের দলবল অন্যতম। বিধানের বাবা নবগোপাল হুঁই লোকাল চাষীদের মাথা ছিল, রাষ্ট্রীয় জনহিত পার্টির উঠতি চাঁইও ছিল। মণিবাবুর পোটেনশিয়াল রাইভাল। এ তল্লাটে মণিবাবুর যত আধিপত্য, তার থেকে কোনো অংশে কম ছিল না ভদ্রলোকের ক্ষমতা। সামন্ত বলছিল, বছর তিনেক আগে শক্তিগড়ের কাছে লরি পিষে দিয়ে গেছিল। উনি মারা যাওয়ার পর পরই বিধান নবগ্রামে কোয়ার্টারে ওঠে আসে। পার্টির কাজকর্ম চলে এখান থেকে। বিধান এখন ধীরে ধীরে বাবার জায়গাটায়….”
“দাঁড়া, দাঁড়া! তুই কী বলতে চাইছিস বলতো? বিধান খুন করেছে?” সুমন্ত মুখ সরু করে বলল।
“সেটা তদন্তসাপেক্ষ। কিন্তু আপাততঃ বিধান বিশ বাঁও জলে।”
“কেন?”
“লোকাল থানার ওসিকে বলেছিলাম, বিধানের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করতে। বৃহস্পতিবার, মানে খুনের দিন রাত দেড়টার সময় বিধানের মোবাইলের লোকেশন পাম্প হাউসের কাছাকাছি ছিল। দেড়টা থেকে একটা পঁয়তাল্লিশ, তারপর ফোন বন্ধ হয়ে গেছে। এটা দায়রাতে উঠবে, আর বিধানের জামিন হওয়া মুশকিল! জামাল সর্দারের সাক্ষ্য, আড্ডায় না থাকা, তারপর টাওয়ারের লোকেশন… কেস কেঁচিয়েছে।”
“আর ওই মেয়েটার সঙ্গে সম্পর্ক? ছিল কিছু আদৌ?”
“হোয়াটসঅ্যাপ আনলক করা হয়েছে। তিন বছর আগেও অনেক কবিতা, ছবি শেয়ার হয়েছে দুজনের মধ্যে, তারপর হঠাৎ সব বন্ধ। রিসেন্টলি একটাই মেসেজ গেছে মৌপিয়ার মোবাইল থেকে। সোমবার। মানে মৃত্যুর তিন দিন আগে।”
“কী লিখেছে?”
“অনন্য রায় বলে একজন মৃত কবির কবিতা। দাঁড়া পড়ে শোনাই।” ফোনটা খুলে বললাম।
“’প্রাপ্তবয়স্কের কোনো নস্টালজিয়া নেই; আছে ভবিষ্যত রক্তমাংস-বিনা!!
এই তুচ্ছ বেঁচে থাকা–অপ্রাপ্তবয়স্ক ঠাট্টা— একে আমি আস্টেপৃষ্ঠে ঘেন্না করি;
তবু এই বেঁচে থাকা: এই বেঁচে থাকাটুকু একমাত্র সুন্দর: সত্য;
সাক্ষী থাকে মৃত্যুর প্রহরী
চলে যাচ্ছি, তার আগে একবার দেখা করা যায় বিধান?”
“আরিব্বাস!” সুমন্ত ভাঁড় নামিয়ে রেখে বলল।
“হুম।” কিন্তু বিধানের তরফ থেকে মেসেজ সিন হয়েছে, রিপ্লাই আসেনি।
“এর থেকে কিচ্ছু প্রমাণ হয় না।”
“হ্যাঁ, কিন্তু সারকামস্ট্যানশিয়াল এভিডেন্স হিসাবে গ্রাহ্য হতে পারে। একটা কথা ভুললে চলবে না, মণিবাবুর বাড়ি থেকে এক লাখ বিশ হাজার টাকা মিসিং, এভিডেন্টলি ওই জগন্নাথ ছাপঅলা ব্যাগটায় করে মৌপিয়া নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কাকে দিতে? বিধানকে? অন্য কাউকে? এটা একটা বিশাল ধাঁধা। আপাতত যেটা বুঝছি, বিধানের ওই মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন… ওটা খুব ফ্যাঁসাদে :- ফেলবে। ওটা অকাট্য প্রমাণ। সাক্ষীকে করাপ্ট প্রমাণ করতে পারবে কিন্তু টাওয়ারকে নয়।”
“তুই বিধানের সঙ্গে ডায়রেক্ট কথা বলেছিস?”
“না সেটা তোকে করতে হবে।”
“মানে!”
“মানে ওসি গণ্ডগোল সামলাতে পারবেন না বলে ও জুডিশিয়ালে গেছে। এদিকে জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পুলিশ ইন্টারোগেশন করতে গেলে স্পেশাল পারমিশন লাগে। আমি অ্যাপ্লাই করেছি। তুই আপাতত কটা ইনফর্মেশন জোগাড় করে দিবি। সেগুলোর উত্তর দরকার। আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে মানকুন্ডুর সরকারি ডাক্তার অরিন্দম বোস, তার সঙ্গে তোকে দেখা করতে হবে। মালটার বেআইনি প্র্যাকটিস। একটু চমকানোর দরকার। কিন্তু এখন টাইম নেই। তুই মঞ্জু হালদারের কেস ডিটেলটা জানবি, মানে কেন কীভাবে কবে থেকে…”
“মানসিক কেস তো, নাও বলতে পারে। সুমন্ত কাঁধ ঝাঁকাল। ওদের কীসব কনফিডেনশিয়ালিটি থাকে।”
“হ্যাঁ, সাইকিয়াট্রিক কেস হিসট্রি আর.টি.আই. অ্যাক্ট এক্সেম্পেটেড। আর যেহেতু রোগী কনভিক্টেড নয়, পুলিশকেও বলবে না। কোর্টে অ্যাপিল করতে হবে। সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সেই জন্যই তোকে পাঠাচ্ছি। যদি কিছু বেরোয়, আমি পিক-আপ করব।”
সুমন্ত আবার কাঁধ ঝাঁকাল। “তোর জিজ্ঞাসাবাদ সব কমপ্লিট?”
“না। আপাতত ছকটা সাজিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু সুমন্ত, গণেশদাকে এই বাজে খবরটা কী করে দিই বলতো? লোকটা ভাইপোকে নিয়ে খুব ইমোশনাল।”
“তুই বলতে না পারিস, আমি বলব। কিন্তু তোর গাট ফিলিং কী বলছে? খুনটা কে করেছে?”
“কতগুলো পয়েন্ট। প্রথমত মেয়েটাকে পয়জনিং করা হয়েছে অনেকদিন ধরে। যে পয়জনিং করেছে আর যে খুন করেছে তারা কি একই লোক?” আমি নখ খুঁটতে খুঁটতে বললাম।
“তারপর, বল?” সুমন্ত তাড়া দিলো।
“হু, হ্যাঁ! সেকেন্ড পয়েন্ট হচ্ছে মৌপিয়ার বিলুরুবিন কাউন্ট, এসজিপিটি, এল.এফ.টি. এগুলো টেস্ট হয়েছে গত আগস্ট মাসে, মানে আটমাস আগে। তখন কিন্তু জ্ঞানত বিধান সিনে নেই। অথচ ওর লিভার বেশ ভালোই ডিফর্মড। তাহলে ধরে নিতে হচ্ছে বিধান বিষ দেয়নি। তাহলে বিষ দেওয়ার সম্ভাবনা হচ্ছে বাড়ির লোকের।”
“রাইটো।” সুমন্ত বলল।
“কিন্তু সেটা হলেও বিধানের ওপর থেকে খুনের সন্দেহটা যাচ্ছে না বস। মোটিভ যদি টাকা হয় বা মণিবাবুর ওপর বাবাকে মেরে ফেলার আক্রোশ হয়!”
“তুই যে পয়েন্টটা বিধানের ক্ষেত্রে বলছিস, সেটা বাড়ির লোকের ক্ষেত্রেও কিন্তু খাপে খাপ বসছে। আর যা সব তারকাটা মালের গল্প শোনালি! বাড়ির লোকের বিষ মেশানোর কোনো অ্যাঙ্গেল নেই? ধর ওই বিধানের সঙ্গে অ্যাফেয়ার সহ্য করতে না পেরে মণিই মেয়েকে সরাচ্ছিল ধীরে ধীরে?”
“অনার কিলিং?”
“হতেই পারে।”
“হুম! তাহলে বাইরে ওকে কে ডাকল?”
“হতে পারে সবটাই সাজানো। বিষপ্রয়োগে সময় লাগছিল, তাই কন্ট্রাক্ট দিয়ে করিয়েছেন। টাকাটা কন্ট্রাক্ট কিলারকে দিয়েছেন, তারপর কমপ্লেন লিখিয়েছেন।”
“কোয়াইট পসিবল। মৌপিয়ার বাড়িটা গণ্ডগোলের তো বটেই। ওর বাড়ির বিশেষতঃ ওর মায়ের অসুখের ব্যাপারে ডিটেলসে খোঁজখবর করতে হবে। আর এই ব্যাপারগুলোয় তুই আমার হেল্প করবি।”
“করব। কিন্তু পিঁপড়ের ডিম খাওয়াতে হবে।” সুমন্ত দাঁত কেলিয়ে বলল। “আপাততঃ প্রথমে কোনদিকটায় যাব? বিধান?”
“হ্যাঁ। তারপর মানকুণ্ডু। আগে বিধানকে মিট করে সেদিন রাতে কোথায় ছিল, কেন পুলিশকে কিছু বলতে চায়নি, মণিরঞ্জনের হালদারের সঙ্গে পার্সোনাল শত্রুতা কতটা গভীরে ছিল… ইন ডিটেল এই খবরগুলো বার করার চেষ্টা কর।”
সুমন্ত চলে গেল। গণেশদা ভাবে ওর সঙ্গে আমার ভাব ভালোবাসার সম্পর্ক ভুলটা ভাঙানোর চেষ্টা করিনি। সুমন্ত আমার সহকর্মী। আর হয়ত… আমার নির্বান্ধব বিশ্বে একমাত্র বন্ধু। হতে পারে, আমার জামায় দুটো তারা আছে, একটা নীলরিবন আছে; আর ওর পরনে সাধারণ জামাকাপড়। ও বাঁকুড়ার ছেলে, কেন কীভাবে এ পথে এল কোনোদিন জানায়নি। যখন ক্যাটাপল জয়েন করলাম, সুমন্তর সঙ্গে সম্পর্কটা একেবারেই ডিপ ফ্রিজে রাখা মাংসের মতো ছিল। যেন ওর যত্নে সাজানো বাগানটাকে লণ্ডভণ্ড করতে এসেছি। দু’একবার গণেশদাকে আকারে ইঙ্গিতে ওর অপছন্দটা বোঝানোর চেষ্টাও করেছিল। তারপর যখন বুঝল, গণেশদার কাছে আমার আসা নেহাতই মানসিক আশ্রয়ের জন্য তখন ব্যাপারটা হজম করতে ওর কষ্ট হয়নি।
গণেশদা অবশ্য ওর বিষাক্ত ইঙ্গিতটা গায়ে মাখেনি। অবশ্য তার কারণও ছিল একটা। গণেশদা যতটা আমাকে জানত, আমার অতীতের সঙ্গে ওর নিজের যতটা পরিচয় ছিল, তাতে আমার সিদ্ধান্তে ওর চমকে ওঠার কারণ ছিল না। মানসিকভাবেও গণেশদার মতো ক্লোজ কেউ ছিল না সেসময়ে।
এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। ব্যক্তিগত ব্যাপারে একটুও আলোচনা না করে শুধু কাজের খাতিরে আমার আর সুমন্তর ঘনিষ্ঠতা। তাই এই সম্পর্ক এত নৈর্ব্যক্তিক। ঘনিষ্ঠতার কোনো ভার আমাদের বইতে হয় না। আমাদের মানসিক গঠন একইরকম। ওকে একদিন হাসতে হাসতে বলেছিলাম যদি কোনোদিন আমরা শত্রু হই, তবে আমি হব হোমস আর তুই মরিয়ার্টি। শঠে শাঠ্যং। কিছু না বলেই, একটাও শব্দ খরচ না করে আমরা পরস্পরের প্রতিটা পদক্ষেপের খবর রাখব। আজও ট্রেনে ওঠার পর ও ফিরে প্ল্যাটফর্মের দিকে তাকাল না, কিন্তু জানি, আমি ডানে যাব না বাঁয়ে সেটা ও জানে।
ফরেনসিক থেকে শ্রীবাস্তব ফোন করেছিলেন। ফসফরাসের লেথাল ডোজ 0.05 মিলিগ্রাম/ ঘনমিটার। তার মানে খুব সামান্য, সূঁচীমুখে যতটা ওঠে ততটা খাবারে মেশালে মোটামুটি কাজ হাসিল করতে বেশিদিন লাগবে না। আর সবথেকে হতাশাজনক ব্যাপার হল, ফসফরাসের সবথেকে সহজলভ্য উৎস গ্রামেগঞ্জেই ছড়িয়ে থাকে। ইঁদুরের বিষে ফসফরাস ব্যবহার হয় প্রচুর, কাজেই বিষ কোথা থেকে আসত এই অ্যাঙ্গেলে তদন্ত শুরু করলে বছর গড়িয়ে যাবে।
