Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেসিয়ানার জ্যোৎস্নারাত – গৌতম ভট্টাচার্য

    গৌতম ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প461 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ব্রাজিল ২০১৪ – ৮

    ভাঙচুরের মধ্যেও স্কিলের ঐতিহ্য বেঁচে মেসির বাঁ পায়ে

    ব্রাজিলের দু’টো জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল রয়েছে। তারই একটা স্পোর্ট টিভি টু এবং তারা মঙ্গলবার রাত্তিরে বিশ্বকাপ নিয়ে জমজমাট একটা শো করল। আর সেটা গিয়ে দাঁড়াল লিওনেল মেসি চর্চায়।

    পুরোটাই পর্তুগিজে। হোটেলের রিসেপশনিস্টকে দিয়ে গুগল অ্যাপসে গিয়ে গিয়ে সেটার কাছাকাঝি তর্জমা করা হল। প্যানেলে অংশগ্রহণকারী চার জন—বিশ্বকাপজয়ী চার প্রাক্তন অধিনায়ক। লোথার ম্যাথেউজ, ড্যানিয়েল পাসারেলা, কার্লোস আলবার্তো এবং ফাবিও কানাভারো।

    মেসির আলোচনা শোনার সুযোগ নিশ্চয়ই হয়নি। তাঁদের টিম বাসের ততক্ষণে বেলো ফিরে যাওয়ার জন্য সাও পাওলো বিমানবন্দরের দিকে রওনা হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু শুনলে অবশ্যই বিগলিত হয়ে পড়তেন। তাঁর একটা শেষ মুহূর্তের ডিফেন্স তছনছ করে যাওয়া দৌড় আর বিশ্বকাপের এ বারের পারফরম্যান্সটা বিশেষজ্ঞদেরও কেমন দুলিয়ে দিয়েছে!

    পাসারেলা আটাত্তরের সেই আর্জেন্তিনার সোনাজয়ী টিমের ক্যান্টেন। বললেন, ”মারাদোনার টিমে তবু একটা বুরুচাগা ছিল, একটা ভালদানো ছিল, একটা ক্যানিজিয়া ছিল। এ তো একা টেনে নিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এই নিয়ে চারটে ম্যাচ হয়ে গেল। ভাবাই যায় না!” পাসারেলার সঙ্গে মারাদোনার বহু দিনের ঝগড়া। সেই আটাত্তরের দল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ায়। তাই বরাবরই তাঁর মারাদোনার আগে মেসিকে বসানো নিয়ে সূক্ষ্ম সন্দেহ থাকতে পারে।

    কিন্তু নব্বইয়ের মারাদোনাকে হারিয়ে যিনি ট্রফি জিতেছিলেন সেই ম্যাথেউজও একই রকম উচ্ছ্বসিত। ম্যাথেউজ শুধু মনে করেন, এই ব্যক্তির দিনের পর দিন জিতিয়ে দেওয়া ধারাবাহিক চলতে পারে না। কোথাও না কোথাও সিস্টেম তাঁকে আটকে দেবেই। ম্যাথেউজ ঘুরিয়ে বোধহয় ইউরোপীয় দেশগুলোর টিম প্লে-র কথাই বলতে চাইলেন। মেসিয়ানা যদি থেমে যায় ফাইনালের আগেই, মনে হল না খুব আশ্চর্য হবেন। কিন্তু একক ভাবে মেসির নৈপুণ্যে তিনি একটাই টার্ম অব রেফারেন্স পাচ্ছেন—তাঁর সময়ের খুদে ওস্তাদকে। মারাদোনা এবং একমাত্র মারাদোনা।

    কানাভারো বললেন, ”স্টেডিয়ামে এমনি যা আলো থাকে থাকছে, তার ওপর মেসি যেন নিজস্ব আলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে। আর্জেন্তিনাকে ও ফাইনাল অবধি নিয়ে গেলে আমি একটুও অবাক হব না।”

    এঁদের আলোচনা এবং ব্রাজিল ফুটবলমহলের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, ২০১৪ বিশ্বকাপে রাজ করতে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। টিম ফাইনালে যাক বা না, সেই রাজত্বটা স্বীকৃত হয়ে গিয়েছে। কানাভারো যেটা বলেছিলেন সেটা অনেকেরই মনের কথা—”এখনও তো পুরো ফর্মের অর্ধেক খেলাই খেলেনি। সেটা খেললে কী হবে।”

    এ বারে বিশ্বকাপের সব কিছু বদলে ভাঙচুর হওয়ার আওয়াজের জন্য যেন আরও বন্দিত হচ্ছে মেসি-রাজ। বলা হচ্ছে ফিটনেস এবং গতির তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে এখন গড়পড়তা আন্তর্জাতিক ফুটবলার। স্কিলে আগে যে মার খেত অপেক্ষাকৃত বড় প্লেয়ারের কাছে, সেটা ঢেকে গিয়েছে গতি আর শক্তিতে। মোটামুটি সবারই শরীরে তিন-চারটে করে ট্যাটুর চেয়েও অনেক তাৎপর্যপূর্ণ, প্রত্যেকে নিয়মিত জিম করে। ওয়েট তোলে। ভিডিওয় কোচ বিপক্ষের খেলা কেটে কেটে বিশ্লেষণ করিয়ে দেওয়ার সে আইটি বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে কোচের তার জন্য তৈরি করে দেওয়া পেনড্রাইভটা নেয়। এর পর নিজের ল্যাপটপে চালিয়ে দেখে নেয় ঠিক কী করতে হবে। এমন অফুরন্ত এক-এক জনের এখন দম যে, ওপরে গেলে আর নীচে নামতে পারছি না জাতীয় কলকাতা ময়দানের ভাবধারা আমলই পায় না।

    পেলের সত্তরের বিশ্বকাপে একটা বিখ্যাত গোল করানো রয়েছে আলবার্তোকে দিয়ে। ভদ্রতাবশতই হয়তো কেউ আলবার্তোকে জিজ্ঞেস করল না, আচ্ছা এখন হলে গোলটা করতে পারতেন? এখনও ইউ-টিউবে গোলটা রক্ষিত। পেলে ফাঁকায় বলটা ধরলেন। ডান দিক থেকে আলবার্তো ওভারল্যাপে উঠছেন। তাঁর জন্য অপেক্ষা করলেন। বলটা তার পর ডাইনে ঠেলে দিলেন। আধুনিক ফুটবলার ওই লোকের জন্য অপেক্ষা করাটা স্বপ্নেও দেখবে না। পেলের আমলে চিরশ্রেষ্ঠ প্লেয়ার ফাঁকা জমি তৈরি করতে স্কিল বাবদ যে সুবিধেটা পেত, সেটা এখন অদৃশ্য। চলতি বিশ্বকাপে তো বারবার দেখা যাচ্ছে নামী-অনামী কেউ ফাঁকা জমি পাচ্ছে না। এত দ্রুত প্লেয়ার নীচে নামছে যে অ্যাটাকিং জোনে সব সময় বিপক্ষের কমপক্ষে ছয় থেকে সাত জন।

    মেসির জিনিয়াস সেই জনারণ্যের ভুলভুলাইয়া থেকে ছিটকে বার করে দিচ্ছে। কিন্তু এই পরীক্ষাই তো তাঁর বা নেইমারের অনেক বিখ্যাত পূর্বপুরুষকে দিতে হয়নি। আরও সমস্যা করছে দেশের টিমের যথেষ্ট কম্বিনেশন তৈরির সুযোগ না পাওয়া। বার্সার টিমটা যদি নীল জার্সিতে খেলতে পারত তা হলে আর বেলজিয়াম ম্যাচ নিয়ে আর্জেন্তিনায় অধিনায়কের কাঁপুনি উঠত না। কিন্তু এই আর্জেন্তিনীয় তো অর্ধেক সময় ওয়ান টু খেলতে গিয়ে ছয় গজের বক্সে শেষ বারের মতো বল ফেরতই পাচ্ছেন না। রিয়াল এখানে খেললেও কোস্টারিকা বা চিলির এত বাড়-বাড়ন্ত থাকত না।

    কিন্তু টিম কম্বিনেশন যদি চূড়ান্ত তৈরি না থাকে, ফুটবল ঐতিহ্যে অজ্ঞাতকুলশীল দেশও সমস্যায় ফেলতে পারে। বেশির ভাগের মনে হচ্ছে পরবর্তী বিশ্বকাপেও একই ধারা চলবে। ব্রাজিল একটা ট্রেন্ড শুরু করল যেটা বেশ বিপজ্জনক যে, ফুটবল স্কিলকে হারিয়ে দিতে যাচ্ছে ফিটনেস আর স্পিড।

    শো-য়ের কথায় ফিরি। শো-য়ের মধ্যে পাসারেলা এক বার বললেন, ”মেসি এখনকার যুগে জমি না পেয়েই এই খেলা খেলছে। কুড়ি-তিরিশ বছর আগে জন্মালে কী হত!”

    তখনই মনে হল পেলের তো সাও পাওলোতেও একটা বড় বাড়ি আছে। এই শো-টা দৈবাৎ যদি চালিয়ে থাকেন, তাঁর ভাল লাগার কথা নয়!

    সাও পাওলো, ৪ জুলাই

    বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের আবেদন, ব্রাজিল যেন খেলায় মন দেয়, কান্নায় নয়

    আসল নাম মার্কোস ইভাঞ্জেলিস্তা দি মোরায়েস। বয়স চুয়াল্লিশ। দেখলে মনে হবে চৌত্রিশ, এমনই পেটানো! পৃথিবী তাঁকে চেনে কাফু নামে! তিনি ব্রাজিলের শেষ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলছেন। দু’বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তার মধ্যে। এক বার অধিনায়ক। ফাইনাল খেলেছেন তিনটে। মারাকানায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাজিলীয় টিভি নেটওয়ার্কে কাফু ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় হঠাৎ করে দেখা হয়ে গেল। ব্রাজিলীয় ফুটবল সংস্থার মাধ্যমে ইন্টারভিউয়ের আবেদন আগেই পাঠানো ছিল। তাঁর মহিলা ম্যানেজার এ দিন হঠাৎ জানালেন, লম্বা সময় দেওয়া যাবে না। বিশ্বকাপের সময় কাফু খুব ব্যস্ত। এখনই করতে হবে আর গুণে গুণে ঠিক ছ’টা প্রশ্ন। কাফু এটুকু ইংরেজি বলতে পারেন, আই ডোন্ট নো ইংলিশ। জানেন ইতালিয়ান, স্প্যানিশ আর পর্তুগিজ। অগত্যা তাঁর মহিলা মানেজারই দোভাষীর কাজ করলেন। টেনেটুনে প্রশ্নসংখ্যা দশের বেশি নিয়ে যাওয়া গেল না…

    প্রশ্ন: ব্রাজিল টিমের কাছে দেশের শেষ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে আপনার মেসেজ কী?

    কাফু: মেসেজ বলতে?

    প্র: মানে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে যদি আপনি টিমকে টেক্সট করতেন, কী লিখতেন?

    কাফু: লিখতাম, কাঁদো কম। খেলো বেশি।

    প্র: তাই?

    কাফু: (উত্তেজিত শরীরী ভাষায়) হচ্ছেটা কী। কাঁদবে এক বারই, যখন কাপটা হাতে নেবে। তোমরা কি না কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গোটা মাঠ কেঁদে ভাসিয়ে দিচ্ছ! কোথায় নামাচ্ছ ব্রাজিল ফুটবলকে? গোটা বিশ্ব দেখছে নিজের দেশে ব্রাজিল চিলিকে হারিয়ে—চিলি—জার্মানি নয়, ফ্রান্স নয়, চিলি। তাকে হারিয়ে এমন করছ! ভুলে গেলে বিশ্বকাপে তোমার ঐতিহ্যের কথা! তোমার রেকর্ডের কথা।

    প্র: আপনি কি ব্রাজিলের ওপর সব আশা হারিয়ে ফেলেছেন?

    কাফু: একটুও হারাইনি। আমি মনে কবি ব্রাজিলের যা টিম, ফাইনালে যাওয়া উচিত। কলম্বিয়া কোনও ফ্যাক্টর হওয়ার কথা নয়।

    প্র: আপনি তো ডিফেন্সে খেলতেন। হামেস রদ্রিগেজকে কী ভাবে আটকানো উচিত?

    কাফু: ডিফেন্ডারদের নিজেদের দেশের পুরনো ভিডিওগুলো দেখে। অতীতে কাদের কাদের ব্রাজিল আটকেছে সেটা দেখে ধুকপুকানি কমানো উচিত।

    প্র: আপনি কি ব্রাজিলের মানসিকতায় সমস্যা দেখছেন, খেলায় নয়?

    কাফু: হ্যাঁ। ব্রাজিলকে সাহসটা ফেরাতে হবে। ব্রাজিল সাহস ফেরালে কলম্বিয়া কোনও ফ্যাক্টর নয়।

    প্র: নেইমারকে দেখে কখনও কি আফসোস হচ্ছে, আমার সোনার টিমে যদি ওকে পেতাম!

    কাফু: একটুও না। আমার টিমে এক-এক জন লেজেন্ড ছিল ফরোয়ার্ড লাইনে। নেইমার নিশ্চয়ই ভাল। কিন্তু আমার জিভে জল গড়াচ্ছে না।

    প্র: ফ্রান্স-জার্মানি কী হবে?

    কাফু: (অবাক করে দিয়ে মহিলা ম্যানেজার বললেন, না এটা করা যাবে না। কাফু ব্রাজিল ছাড়া আর কোনও প্রশ্নের জবাব দেবেন না।)

    প্র: ফাইনাল কি ব্রাজিল-আর্জেন্তিনা হতে পারে?

    কাফু: হতেই পারে (মহিলা তাড়া শুরু করেছেন, শেষ করুন শেষ করুন, ওঁকে যেতে হবে।)

    প্র: ও-কে। শেষ প্রশ্ন, ব্রাজিল ফাইনালে উঠলে মেসিকে সামলাতে পারবে?

    কাফু: মেসি! না পারার কারণ নেই। তবে আগে তো কলম্বিয়াকে হারানোর মানসিক শক্তি ফিরিয়ে আনুক। ব্রাজিলের টেকনিক্যালি কোনও প্রবলেম নেই। সব হার্টের গণ্ডগোল (বুকের বাঁ দিকে হার্টের জায়গাটা দেখালেন।

    রিও, ৪ জুলাই

    জার্মান হানায় বাস্তিল পতন মুলারদের যোগ্য সঙ্গতে গোলকিপারও

    ম্যানুয়েল নয়্যার আগের ম্যাচে বিশ্বকাপ রেকর্ড করার পর গোটা ফুটবল বিশ্ব খুব আগ্রহের সঙ্গে মারাকানা ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল। রেকর্ড উন্নত হয়, না কাছাকাছি যায়?

    আলজিরিয়া ম্যাচে পেনাল্টি এরিয়ার বাইরে বলে ২৭ স্ট্রোক করেছিলেন নয়্যার। গড়পড়তা ডিফেন্ডার যা গোটা ম্যাচে করে কি না সন্দেহ। জার্মান গোলকিপার একটা বিবর্তন নিয়ে এসেছেন। তাঁকে বলা হচ্ছে সুইপার-কিপার। শুক্রবার অবশ্য সুইপার খেলার সুযোগ পাননি। একটা ভূমিকাতেই ছিলেন আর তাতে দুরন্ত ভাবে থেকে নিজের দেশকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল তুলে দিলেন।

    বত্রিশ বছর আগের এক জার্মান গোলকিপারের অতীত পাপকে জ্বালানির ইন্ধন করে বদলা নিতে এসেছিল ফ্রান্স। কিন্তু জার্মানির বর্তমান গোলরক্ষী সেই বদলা নিতে দিলেন না। শেষ মিনিটে করিম বেঞ্জিমার শট আর একটা ম্যাথু ভ্যালবুয়েনার ভলি। দু’টি অব্যর্থ গোল বাঁচিয়ে ঐতিহাসিক বিশ্বযুদ্ধে নয়্যার জিতিয়ে দিলেন জার্মানিকে।

    মেট্রোয় সকালে মাঠে আসার সময় অপ্রত্যাশিত চমক। মেট্রো স্টেশনের গায়ে মহাত্মা গান্ধীর বিশাল মূর্তি। রিওয় গান্ধী মূর্তির খবর কখনও পড়িনি। তার ওপর রাস্তাটাও দেখলাম গান্ধী প্লাজা। মেট্রোয় নেমে আর একপ্রস্থ চমক।

    সমর্থকরা যা গান গাইতে গাইতে যাচ্ছে তা হল:

    ব্রাজিল তোমার সঙ্গে আছি

    ব্রাজিল আমরা একটা দেশ

    ব্রাজিল ওরা যা বলে বলুক

    ব্রাজিল তুমি তো জানো হলুদ জার্সির মাহাত্ম্য

    ব্রাজিল এটা আমার প্যাশন

    ব্রাজিল এটা আমাদের প্যাশন

    ব্রাজিল এটা আমাদের কাপ

    ব্রাজিল টেনশন কোরো না

    ব্রাজিল আমরা ঠিক হয়ে যাব।

    ব্রাজিলের এক ফুটবল কবি গত পরশু নাকি গানটা লিখেছেন। এ বারের স্পনসররা সেটার পঁয়ত্রিশ হাজার লিফলেট ছাপিয়ে গোটা দেশে বিলি করছে। আর সব মেট্রো স্টেশন সমস্বরে গাইছে। শুনলাম কলম্বিয়াও নাকি একটা গান তৈরি করেছে। প্রচণ্ড ভিড়ের মেট্রোয় কিছু পিঠে কলম্বিয়া লেখা সমর্থকও দেখছি। যদিও তাদের গাইতে শুনছি না সেই গানটা:

    হামেস তুমি আমাদের সেরা

    হামেস তুমি ইতিমধ্যেই নেইমারের সমান

    হামেস তুমি পেলেরও সমান হবে

    হামেস তুমি এক দিন পেলেকেও ছাপিয়ে যাবে

    একটা জিনিস তখনও মাথায় ঢুকছে না। মারাকানায় তো হবে ফ্রান্স-জার্মানি। ব্রাজিলের খেলা শুরু প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বাদে অনেক দূরের ফোর্তালেজায়। তা হলে লোকে এই মেট্রোয় এত ব্রাজিল-ব্রাজিল করছে কেন? মাঠে ঢুকে বোঝা গেল, হয়তো ব্রাজিল দূর দেশ বলেই যথেষ্ট সংখ্যক ফ্রেঞ্চ বা জার্মানরা আসেনি।

    জার্মানির অবশ্য তাতে কিছু আসে যায়নি। বিশ্বকাপে ‘চোকার’ বলে কুখ্যাতি আছে তাদের। কথিত আছে, তারা ফাইনাল হারে, কিন্তু নকআউট পর্বের এমন সব বড় ম্যাচে অন্য খেলা বের করে আনে। স্রেফ বড় ম্যাচ টেম্পারামেন্টে তারা খেলাটায় তফাত করে দিল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো সবচেয়ে ভাল বুঝবেন। ক’দিন আগে সালভাদরেও একই প্রেসক্রিপশন তিনি পেয়েছিলেন। পর্তুগাল ডিফেন্স যাচ্ছেতাই বলে চার গোল হয়েছিল। এখানে ফ্রান্স পাল্টা আক্রমণের ক্ষমতা রাখে বলে এক গোলে থেকে গেল। কিন্তু প্রেসক্রিপশন এক! বড় ম্যাচে সাদা জার্সিকে ছুঁতে যেও না!

    প্রথম দশ মিনিটের খেলা বিভ্রান্ত করে দিচ্ছিল, সাদা জার্সিতে কারা খেলছে? জোয়াকিম লো-র জার্মানি না পেপ গুয়ার্দিওলার বায়ার্ন মিউনিখ?

    ফুটবলে ঐতিহাসিক ভাবে বলা হয়ে এসেছে মাঝমাঠ যার, ম্যাচের মালিক সে। মেসি-নেইমারদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দৌরাত্ম্যে এ বারের বিশ্বকাপে সেই ইতিহাসের তাৎপর্য নিয়মিত আক্রান্ত হচ্ছে। আজকের মারাকানা ম্যাচে সেটা অবশ্যই হওয়ার কথা ছিল না। আর হয়ওনি।

    কিন্তু ফিলিপ লামেরা শুরু থেকে যে স্টাইলে মাঝমাঠ থেকে পেনিট্রেটিভ জোন অবধি খেলাটা নিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটা মোটেও সাবেকি জার্মান স্টাইল নয়। বায়ার্নের তিকিতাকা। টাক-টাক-টাক-টাক। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাসে মাঝমাঠ থেকে বিপক্ষকে ভাসান দিয়ে দেওয়া।

    আজ দুপুর অবধি রিও ফুটবলমহল এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এটাই আলোচনা ছিল যে, ফ্রান্স বড় ম্যাচের আগেও কী অস্বাভাবিক রিল্যাক্সড! আর জার্মানি চোক করছে। নইলে জোয়াকিম লো ওই ভাবে সাংবাদিক সম্মেলনে কখনও বলতে পারেন, ”আমরা কাল জিতছি।” বোঝাই যাচ্ছে দেশ এবং জাতীয় মিডিয়ার চাপ আলজিরিয়া ম্যাচ পরবর্তী এমন অসহনীয় হয়ে উঠেছে যে, কোচকে চরিত্রবিরোধী কথা বলে দলের মনোবল তাগড়াই রাখতে হচ্ছে।

    মাঠে ঠিক উল্টোটাই ঘটল। ওই যে শুরুর পনেরো মিনিটে জার্মানদের চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া মাঝমাঠ মডেল আর তারই মধ্যে ফ্রি-কিকে মাথা ছুঁইয়ে ম্যাট হুমেলসের গোল—ওটাই ঠিক করে দিল বিশ্বযুদ্ধের ভাগ্য। টনি শুমাখারকেও জার্মান টিভি স্টুডিও বিশেষজ্ঞ হিসেবে অস্বস্তিকর প্রশ্নের সামনে পড়তে দিল না—বিরাশিতে আপনার বাতিস্তাকে মেরে দাঁত ভেঙে দেওয়ার বদলা তা হলে নিয়ে নিল ফরাসিরা? আপনি কী বলেন?

    অসম্ভব ট্যাকটিক্যাল একটা ম্যাচ হল। যার মধ্যে হয়তো কোনও আবেগের বাহার নেই। কোনও সুদৃশ্য ফুল ফুটছে না। ঝর্নার জল এসে ধুইয়ে দিচ্ছে না। কিন্তু এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে সেরা দুই অঙ্কের চার্টের সংঘর্ষ! মাঝখান দিয়ে কেউ কোনও জায়গা বার করতে পারছে না। যা আক্রমণ তার নিরানব্বই ভাগ উইং থেকে ভেসে আসা নিচু ক্রসে।

    ফ্রান্স গোল শোধের প্রাণপণ দায়ে ছিল বলে জার্মান স্টপারদের ওপর ঝড়ঝাপ্টাটা শেষ দিকে বেশি গেল। কিন্তু জার্মান ডিফেন্স যে টেম্পারামেন্টের জন্য বিশ্বযুদ্ধে বরাবর ভয়ঙ্কর, সেটাই অবিরাম দেখিয়ে গেল। নয়্যার এমন অসাধারণ গোল রক্ষার পরেও হুমেলস ম্যান অব দ্য ম্যাচ নিয়ে গেলেন। কারণ তিনি জয়সূচক গোল ছাড়াও অনবদ্য সব ট্যাকল করেছেন।

    তিনি আর নয়্যার যে সেমিফাইনালটাও বিপক্ষকে জ্বালাবেন বেশ বোঝা যাচ্ছে। এ দিন তাঁদের যৌথ নৈপুণ্যই শুমাখারকে নতুন করে স্পেন বিশ্বকাপের দগদগে ঘা প্রত্যাবর্তন থেকে রক্ষা করে গেল।

    আর বাতিস্তা—সে দিনকার সেই ফরাসি প্রতিপক্ষ তাঁকে রেখে দিল চার বছরের নতুন অপেক্ষায়। মধ্যিখানে ইউরোয় দেখা হতে পারে। কিন্তু ওটা তো ফুটবলের লড়াই, বিশ্বযুদ্ধ নয়। বিশ্বযুদ্ধে শুমাখারের পাগলামিতে এতগুলো দাঁত খুইয়েছিলেন বলেই তো এই সাতান্ন বছরেও বাতিস্তা বসেছিলেন প্রতিশোধের আগুন-সহ।

    রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপের সময় তাঁর বয়স হবে একষট্টি। সে বার যদি ফ্রান্স পারে? নাকি সেমিফাইনালের আগে জার্মানদের খেললে ঐতিহাসিক বদলাটা হবেই না!

    রিও, ৫ জুলাই

    বিশ্বকাপের সব চেয়ে ফুটফুটে ছেলেটাই মাঠের বাইরে

    রিও ডি জেনেইরো-ব্রাসিলিয়া ফ্লাইটের মাঝপথে ক্যাপ্টেন সেই রুটিন ঘোষণাটাই করলেন, যা বিশ্বকাপ জুড়ে মোটামুটি সব ফ্লাইটে শুনছি।

    ‘হে বিদেশি অতিথিরা, ফুটবলের আপন ভূমিতে আপনাদের স্বাগত। ওয়েলকাম টু দ্য ল্যান্ড অব সকার’।

    কিন্তু আজ রুটিন নয়। তার সঙ্গে যোগ করলেন, ”ফুটবলের দেশে আজ আমাদের সবার খুব মন খারাপ। আমাদের প্রিয় ছেলেটাই বিশ্বকাপ থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। যাই হোক, আপনাদের সবার জন্য শুভেচ্ছা।”

    ব্রাজিলে চাইলেও এই ভরা বিশ্বকাপ বাজারে কোথাও হলুদ না দেখে উপায় নেই। যতই হোক আর্জেন্তিনার ব্রাসিলিয়ায় খেলা। আর এই প্লেনযাত্রীরা একটু পর সেই মাঠেই গিয়ে বসবে। তবু হলুদ জার্সি অন্তত গোটা পনেরো ভোরের ফ্লাইটে হাজির। সামনে দুটো সিট পরে এক মহিলা এতক্ষণ মাথা নিচু করে বসে ছিলেন। ক্যাপ্টেনের বলা শেষ হতে না হতেই কাঁদতে শুরু করে দিলেন। পকেটে মোবাইল ক্যামেরা রয়েছে। ছবি তুলব? তোলা উচিত হবে এই প্রাইভেট মুহূর্তের?

    ভাবতে ভাবতেই মহিলার পাশে বসা কিছু প্রবীণ তাঁকে গালটাল মুছিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে গেলেন। এঁদের মুখচোখও শোকার্ত, গম্ভীর। গায়ে হলুদ রং, কিন্তু তার জৌলুস উধাও। বরং যেন কালো শার্টের নীরব শোকপালন!

    ব্রাজিলের জাতীয় পতাকাও কি অর্ধনমিত করা হয়েছে নাকি? ব্রাসিলিয়া তো রাজধানী। মাঠে আসার সময় সরকারি অফিসগুলো খেয়াল করলে হত।

    অবশ্য পতাকায় আর কী আসে-যায়! গোটা ব্রাজিল তো মৌনতা পালন করছে। তার সবচেয়ে আদরের ছেলে নেইমার দ্য সিলভা, তিনি কিনা শিরদাঁড়ার হাড় ভেঙে বেরিয়ে গিয়েছেন বিশ্বকাপ থেকে। গোটা ব্রাজিলের হৃৎপিণ্ডটাই যেন এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে গিয়েছে সর্বনাশা সেই খবরে। কাল রিওয় বিখ্যাত বোতাফোগো ক্লাবের সামনে অদ্ভুত দৃশ্য দেখলাম। ব্রাজিলের সেমিফাইনালে যাওয়া নিয়ে বাজি পুড়ছে। আলোয় আলো। রাস্তায় সাম্বা শুরু হয়ে গিয়েছে।

    হঠাৎ সব বন্ধ। কলম্বিয়াকে হারানোর পূর্ণিমার চাঁদ ওঠা মাত্র অদ্ভুত ভাবে তাকে ঢেকে দিয়েছে অমাবস্যা! বিশ্বকাপে এমনিতে বহু দিনের পুরনো একটা চলতি কথাই আছে—তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে যাদের রিজার্ভ বেঞ্চ সবচেয়ে শক্তিশালী। এই ভাবনা থেকেই বলা যে, সেরা প্লেয়ার খেলতে না পারলে বদলি যাদের একই রকম ভাল, কাপ তাদের।

    ব্রাজিলেরই তো ইতিহাসে রয়েছে। পেলে বাষট্টির বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে আর খেলতে পারেননি। তাঁর জায়গায় খেলেছিলেন আমারিল্ডো। যাঁর নাম কেউ শোনেনি। অথচ ব্রাজিল তো দিব্যি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। শনিবারও নেইমারের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার দুঃসংবাদ পেয়ে পেলে বলেছেন, ”আমার ঠিক একই জিনিস হয়েছিল। কামনা করব, সে বার যেমন আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, এ বারও পারব!”

    কিন্তু গণ সেন্টিমেন্ট হল, পেলে তো বলেই খালাস! চ্যাম্পিয়ন করবেটা কে? ব্রাসিলিয়া স্টেডিয়াম যাঁর নামে, তিনি বাষট্টিতে একা চ্যাম্পিয়ন করিয়েছিলেন। একই আত্মবিশ্বাস ছিল যে এখনকার লোকগাথা হল, ম্যাচের সকালে জিজ্ঞেস করতেন, আজ কার সঙ্গে খেলা রে?

    হায়, স্কোলারির কোনও গ্যারিঞ্চা নেই। আধুনিক ব্রাজিলের ঐশ্বর্য বলতে একা নেইমার। আর তাই মারাত্মক চোট ঘিরে এই পর্যায়ের বিপন্নতা! কাফু ব্রাজিলীয় ঐতিহ্যের কথা বলছিলেন। এটা কীসের ঐতিহ্য যে, এক মহাতারকার চোট ঘিরে এমন আবহ যে জার্মানি, তোমরা সেমিফাইনালে ওয়াকওভারই পেয়ে গেলে?

    ব্রাজিলের জাতীয় ভিলেন এখন স্প্যানিশ রেফারি কার্লোস ভেলাস্কো। ব্রাসিলিয়ার হোটেলে যে তরুণী চেক ইন করাল, সে একই রকম বিমর্ষ। আর শুধু বলছে, এটা কী জাজ? জাজ মানে বুঝতে হবে রেফারি। তা কার্লোসের রেফারিং সত্যিই ফিফাকে তীব্র অস্বস্তিতে ফেলার মতো। ব্রাজিল-কলম্বিয়া ম্যাচে এই বিশ্বকাপের রেকর্ড সংখ্যক ফাউল হলুদ কার্ড বেরিয়েছে মাত্র তিনটে! ফুটবল মহলের তীব্র অভিযোগ, শুরু থেকে কার্ড দেখাতে শুরু করলে নেইমারকে করা জুনিগার ফাউলটা ঘটত না।

    তবে শুধু কলম্বিয়া কেন, প্রতি ম্যাচেই তো প্রতিপক্ষ নেইমারকে রাগবি ম্যাচের মতো ট্যাকল করেছে। চিলির দিন তাই। মেক্সিকোর দিন তাই। ফিফা কিছু দিন আগেও বলেছে, বল প্লেয়ারদের বিশ্বকাপে সব রকম নিরাপত্তা দেবে। ওটা বোধহয় ব্রাজিল নয়, রাশিয়া বিশ্বকাপের কথা ভেবেই বলা হয়েছিল!

    নেইমারকে নিয়ে বারবার গবেষণা হচ্ছিল, তাঁর ভাগ্য কি আটান্নর পেলের দিকে যাবে? না ছেষট্টির ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পেলেকে অনুসরণ করবে?

    দেখা গেল পরেরটা। সে বারও বুলগেরিয়া ম্যাচে প্রচণ্ড মার খেয়ে পেলেকে কার্যত বাইরে চলে যেতে হয়। এর পর পর্তুগাল ম্যাচে মোরেস তাঁকে এমন মারেন যে লেখা হয়েছিল, ইংল্যান্ডের পুলিশের মাঠে ঢুকে পড়া উচিত ছিল। অথচ সে বারও ইংরেজ রেফারি জর্জ ম্যাককাবি কার্ড অবধি দেখাননি মোরেসকে।

    আর একটা কথা মনে রাখা দরকার।

    ব্রাজিলীয় মিডিয়া এই ডিপ্রেশনের মধ্যে বাষট্টির সঙ্গে মিল খুঁজে বারবার আশাবাদ দেখাচ্ছে যে, পেলে না থেকেও তো ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু রূঢ় বাস্তবতায় ছেষট্টির ম্যাচ অনেক স্পষ্ট যে পেলের ওই আঘাতেই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়।

    তবে নেইমার ফুটবল উচ্চতায় আটান্নর পেলেকে ধরতে না পারুন। নিজের ক্যাপটিভ অডিয়েন্স যে কোন মাত্রায় এই বিশ্বকাপে নিয়ে গিয়েছেন, তা গত চব্বিশ ঘণ্টায় পরিষ্কার। পোপ আর ওবামার বোধহয় প্রতিক্রিয়া আসতে বাকি আছে! নইলে উসেইন বোল্ট থেকে ক্রিস গেইল। জার্মান কাগজ থেকে মার্কিন দেশের সবচেয়ে বড় দৈনিক। চিরশত্রু আর্জেন্টাইন মিডিয়া থেকে জিমন্যাস্ট নাদিয়া কোমানেচি! নেইমার দ্য সিলভা ভেসে যাচ্ছেন সমবেদনা আর শুভেচ্ছায়।

    মার্কিন দৈনিক শিরোনাম করেছে ব্রাজিল জিতল, নেইমার হারলেন। জার্মান দৈনিক লিখছে, নেইমার ব্রাজিলে না থাকা মানে তো জার্মানির ম্যানুয়্যাল নয়্যার না থাকা, ফিলিপ লাম না থাকা, ক্লোজে না থাকা, মুলার না থাকা, পোডলস্কি না থাকা। আর্জেন্তিনা মিডিয়া বলছে, নেইমার, আমরাও শোকাহত!

    ব্রাজিলীয় কাগজে এ দিন ছবি ছাপা হয়েছে, মাঠে নেইমার স্ট্রেচারে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হাউহাউ করে কাঁদছেন তাঁর অভিনেত্রী বান্ধবী। স্ট্রেচারে চলে যাওয়ার ছবিটা গোটা বিশ্বের টিভি দর্শক দেখেছে।

    ফোর্তালেজা-র হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে বার করে আনাটা ছবিতে এ দিন দেখলাম। মুখে তোয়ালে চাপা দেওয়া নেইমারের।

    সদাহাস্যময় বাইশ বছরের এক তরুণ। ব্রাজিল বিশ্বকাপের অঘোষিত পোস্টার বয়। কেউ জানত, শেষ পোস্টারে তাঁর ছবি থাকবে অ্যাম্বুল্যান্সে মুখে তোয়ালে দিয়ে।

    ব্রাসিলিয়া, ৫ জুলাই

    একা মহানায়ক নন,শেষ চারে টিম আর্জেন্তিনা

    খেলা শুরুর এক ঘণ্টা আগে যখন এস্তাদিও ন্যাশিওনাল মানে গ্যারিঞ্চায় ঢুকছি, মিডিয়া স্টোরের মুখে ছোট একটা জটলা। শোকগ্রস্ত সেই জটলার বিষয়বস্তু হল, আজই কি?

    চিনের সাংবাদিক যাঁর সঙ্গে মিডিয়া শাটলে এলাম, তিনি ওই জটলায় ঢুকে পড়লেন আর দ্রুতই জানিয়ে দিলেন, আজই ঘটলে তিনি দেশে ফেরার টিকিটটা আগিয়ে নেবেন। তা হলে আর বিশ্বকাপের কিছুই পড়ে থাকল না!

    নেইমারের নাটকীয় ভাবে বিশ্বকাপের বাইরে চলে যাওয়া ব্রাসিলিয়া-সহ ব্রাজিলের সর্বত্র একটা স্থবির ভাব নিয়ে এসেছে। বেলজিয়াম শুধু চমৎকার গোছানো দলে বলেই নয়। মানে গ্যারিঞ্চা মাঠই তো ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে দেখেছে। তাই অসীম দুর্ভাবনার মধ্যে তারা ছিল। প্রথমে রোনাল্ডো। গতকাল নেইমার। আজকে কি তা হলে মেসি?

    যাবতীয় দুর্ভাবনায় নতুন জ্বালানি না দিয়ে লিওনেল মেসি অক্ষত থেকে গেলেন বিশ্বকাপে। আর আগামী বুধবার ব্রাজিলের বৃহত্তম শহরে সেমিফাইনাল খেলবেন। ব্রাজিল-বিশ্বকাপ তাঁর বৃহত্তম অভিযান! এই প্রথম তিনি শেষ চারে। আগের বার কেপটাউনের এক অশুভ বিকেল যা দিতে পারেনি, ব্রাসিলিয়ার চড়চড়ে রোদ্দুর তাই দিয়ে গেল। বুয়েনস আইরেসের রাস্তায় দলে দলে লোক বেরিয়ে যে নাচছে-গাইছে, সেটা সহাস্য সাবেয়াকে সাংবাদিক সম্মেলনে ঢোকামাত্র জানিয়ে দিলেন আর্জেন্তিনীয় সাংবাদিকেরা। চব্বিশ বছর পর আর্জেন্তিনা আবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে।

    কিন্তু মেসি তাঁর যে ব্যক্তিগত কোয়ার্টার ফাইনাল, সেখানে এই প্রথম স্বমহিমায় ছিলেন না। তিনটে লোক ঘাড়ের ওপর তো তাঁর সব ম্যাচেই থাকে। তাকে ঘাড়ে রেখেই তিনি নিজের ফুটবল আর্ট এগজিবিশন বানান। এ দিনও সেন্টার সার্কলের কাছে একটা বল নিজের গোলের দিকে মুখ থাকার সময় শূন্যে যে ভাবে বুকে রিসিভ করলেন, অবিশ্বাস্য! মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল টেন্টে কোচিং ম্যানুয়্যাল হিসেবে মুহূর্তটার ছবি টাঙিয়ে রাখা উচিত! ফরোয়ার্ডদের কিছু ডিফেন্স চেরা বলও বাড়ালেন আর্জেন্তিনীয় অধিনায়ক। তাঁকে নিয়ে বেলজিয়াম সবসময় সশব্যস্ত থাকায় উইংয়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি হল একাধিক বার।

    কিন্তু যে শিল্পের জন্য মেসি, সেটা ছিল না। দারুণ জায়গা থেকে ফ্রি-কিক বাইরে মারলেন। একা গোলকিপার কুর্তোয়াকে পেয়ে তাঁর গায়ে মারলেন। এত দিন টিমকে তিনি টেনেছেন। এ দিন গঞ্জালো হিগুয়েন, মাসচেরানোরা যেন তাঁকে দেখলেন। সেমিফাইনালে টিম আর্জেন্তিনা উঠল। তার মহানায়ক একা নন!

    বেলজিয়াম এ বারের বিশ্বকাপে এত প্রসিদ্ধি কুড়িয়ে বড় নকআউট ম্যাচে যেন চোক করে গেল। জার্মানির যা আছে, ঠিক সেটাই যেন তাদের নেই। অথচ খেলা শুরুর আগে সাইডলাইনের ধারে তেইশ জন বেলজিয়ান ফুটবলারকে হাডল করতে দেখা গেল। হাডল সাধারণত করে থাকে যে এগারো জন মাঠে খেলে, তারা। এই দৃশ্যকল্প মনে হয় তৈরি করা হল আর্জেন্তিনীয়দের ভড়কাতে যে, আজ আমরা এক জাত, এক দেশ, এক টিম। ন’মিনিটের মধ্যে হিগুয়েনের গোল হয়ে যাওয়ার পরেও গোটা মাঝমাঠ বলতে গেলে বেলজিয়ানদেরই দখলে ছিল। নিজেদের মধ্যে পাস খেলল অনেক বেশি। খেলা ছড়াল দু’দিকে। কিন্তু পেনিট্রেটিভ জোনে শেষ টোকা বা শেষ হেড বা শেষ পাসটা আর করতে পারল না। আক্রমণও তুলল মন্থর ভাবে। যেন নেইমারের ঘটনায় শোকার্ত হয়ে আজ স্পিড কমিয়ে দিয়েছে। লুকাকুকে নিয়ে এত জল্পনা। এত রোমাঞ্চ। তা তিনি গোলে শট করা দূরে থাক, এত খারাপ খেললেন যে কোচ তুলে নিতে বাধ্য হলেন।

    মেসি অবশ্য ম্যাচ জিতেও বিষণ্ণতার চাদরটা সরাতে পারলেন না। এটাও একটা প্রশ্ন ছিল খেলার আগে যে, খারাপ হয়ে যাওয়া সার্বজনীন মন আর্জেন্টাইন জিনিয়াসের জন্য ভাল হবে কি না?

    অবশ্য কে-ই বলতে পারে, নেইমার বিদায়ে ছোট বন্ধুর জন্য লিওনেল মেসি তিনি নিজেই ঘোর বিষণ্ণ ছিলেন না। অন্যের বিষণ্ণতা দূর করবেন কী!

    ব্রাজিলিয়া, ৫ জুলাই

    প্রাক্তন গোলকিপার চান, ধুলোয় লুটোক এ বার ব্রাজিলের ফুটবল-দম্ভ

    অন্যদের চেয়ে তাঁর ইংরেজির অবস্থা সামান্য ভাল। ভাঙা ভাঙা বলতে পারেন। তা বলে একটা গোটা ইন্টারভিউ ফোনে দেওয়ার মতো ক্ষমতা

    নেই। মঙ্গলবার দুপুরে তাই কোপাকাবানা বিচের ধারে নেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহায্য করলেন দিয়েগো মারাদোনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাঁর এক সময়ের ম্যানেজার! যিনি ইংরেজিটা বেশ ভাল বলেন। প্রাক্তন আর্জেন্টাইন গোলকিপার দু’চারটে প্রশ্নের উত্তর দিলেন নিজে। কিন্তু বেশির ভাগটাই তাঁর এই আর্জেন্তিনীয় বন্ধুর মাধ্যমে স্প্যানিশ থেকে ইংরেজিতে তর্জমা হয়ে। সের্জিও গোয়কোচিয়া যা বললেন…

    প্র: মেসি না মারাদোনা?

    গোয়কোচিয়া : এ ভাবে বলা যায় না (মনে হল প্রশ্নটা খুব পছন্দ হয়নি)। দু’জনে দু’রকমের। মানুষ হিসেবে একেবারে আলাদা। দিয়েগো হল প্রাণখোলা, উদ্দাম। এক্সট্রোভার্ট। মেসি খুব চাপা, লাজুক। দু’জনেই দুটো ভিন্ন প্রজন্মের মহানায়ক। নিজের নিজের টিমের কাছে দৃষ্টান্ত।

    প্র: আপনাদের সেই নব্বইয়ের বিশ্বকাপ টিমে যদি মেসি থাকতেন! তা হলে তো গোলপোস্টের তলায় আপনি স্রেফ রিল্যাক্স করতে পারতেন?

    গোয়কোচিয়া : মেসি-দিয়েগো এক সঙ্গে! ওরে বাবা! নাহ, আমার মনে হয় দু’জনে এক সঙ্গে খেলত না (হাসি)।

    প্র: কেন? ইগো সমস্যা হত?

    গোয়কোচিয়া : আরে না না (প্রচণ্ড হাসি)। বিলার্দোর নাম শুনেছেন?

    প্র: কেন শুনব না! বিলার্দো তো কলকাতায়ও এসেছিলেন!

    গোয়কোচিয়া : সাংঘাতিক দাপুটে লোক। বিলার্দো আমার মনে হয় বলতেন, বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে! ওরা দু’জন এক টিমে খেলবে কী! ম্যাচটাই তো তা হলে হাস্যকর হয়ে যাবে বলে দু’জনকে দুটো হাফে খেলাতেন (হাঃ হাঃ হাঃ)।

    প্র: ঠিক আছে। মেসি না রোনাল্ডো?

    গোয়কোচিয়া : মেসি।

    প্র: কেন?

    গোয়কোচিয়া : কারণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো দুর্ধর্ষ প্লেয়ার হয়েও একা টিমকে জেতাতে ওর একটু জমি লাগে। সব বড় প্লেয়ারেরই লেগেছে। তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু মেসি এই জন্যই বিশ্বশ্রেষ্ঠ যে, পায়ের জঙ্গলকেও ভেদ করে গোল করে দিতে পারে। গোটা মাঠের যে কোনও জায়গায় যদি ও এক ইঞ্চিও পায়, সেটাই ওর খেলা ঘুরিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। হয় নিজে গোল করে দেবে। বা দারুণ পাসে কাউকে দিয়ে করিয়ে দেবে।

    প্র: মেসি বনাম নেদারল্যান্ডস তা হলে মেসি!

    গোয়কোচিয়া : এটা আমি বলতে পারছি না (এ বার হাসি সম্পূর্ণ উধাও)। ম্যাচ ফিফটি-ফিফটি। আমার শুধু একটাই ভয়, রবেনরা যদি প্রথম গোল করে ফেলে, তখন আমরা কি ম্যাচে ফিরতে পারব? গোটা টুর্নামেন্টে এপর্যন্ত আর্জেন্তিনা গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েনি। সেমিফাইনালের মতো টেন্সড ম্যাচে যদি সেটা হয়, টিম সামলাতে পারবে তো? আমি জানি না।

    প্র: পরের ম্যাচটা? ব্রাজিল-জার্মানি!

    গোয়কোচিয়া : একই। ফিফটি-ফিফটি। যদিও আমি আপ্রাণ চাইব ব্রাজিল জিতুক।

    প্র: বাবা এ রকম তো দেখা যায় না! পাঁড় আর্জেন্তিনীয় চাইছেন ব্রাজিলের সাফল্য!

    গোয়কোচিয়া : এই জন্যই চাইছি যাতে ফাইনালে ওদের সামনে পাওয়া যায়। নব্বইয়ের বিশ্বকাপ ম্যাচে আমরা ওদের হারিয়েছিলাম। আমি ওই ম্যাচটায় খুব ভাল খেলি। সেই হারানোর পরেও দেখি ব্রাজিলের বাকতাল্লা আর বন্ধ হয় না। এ বার নিজের দেশে ফাইনালে হারিয়ে ওদের জিজ্ঞেস করতে চাই, হ্যাঁ রে তোরা যেন ক’বার বিশ্বকাপ জিতেছিস?

    প্র: আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অভিভাবকতুল্য মারাদোনা বলেছেন, একা মেসির ওপর এত চাপ পড়ে যাওয়াটা খুব অন্যায় হচ্ছে! বাকিদেরও খেলতে হবে। টিম আর্জেন্তিনাকে খেলতে হবে।

    গোয়কোচিয়া : দিয়েগোকে আমি অন্য চোখে দেখি। ও শুধু চিরকালীন আইডলই নয়, একেবারে অন্য মেজাজের মানুষ! আমরা একসঙ্গে টিভি শো-ও হোস্ট করেছি। কিন্তু এই জায়গায় আমি একমত নই। বিশ্বসেরা ফুটবলার যদি টিমে থাকে, টিম তো তাকে বেশি ব্যবহার করবেই। সে যদি আর পাঁচ জনের চেয়ে আলাদা হয়, তার ওয়ার্কলোডটাও তো আলাদা হবে, তাই না?

    প্র: নব্বইয়ের বিশ্বকাপে আপনার পরপর ম্যাচে পেনাল্টি বাঁচানো, বিশেষ করে ইতালিকে বিশ্বকাপের বাইরে করে দেওয়াটা আজও লোকমুখে ফেরে।

    গোয়কোচিয়া : কী লাভ হল! ফাইনালে ব্রেহমের পেনাল্টিটা তো বাঁচাতে পারিনি। আজও ওই পেনাল্টি গোলটা আমার জীবনের একটা কষ্ট বুকে নিয়ে বেড়ানো! ভুলতে পারি না!

    প্র: এ বারের বিশ্বকাপে ম্যানুয়েল নয়্যার এই যে ট্রেন্ডটা চালু করলেন সুইপার-গোলকিপার, সেটা সম্পর্কে আপনার কী মত?

    গোয়কোচিয়া : ম্যানুয়েল নয়্যার অবিশ্বাস্য। গোলকিপারদের দুটো হাত খুব ভাল আর বিশ্বস্ত হতে চায়। ওর দুটো পা-ও একইরকম ভাল। ওর পজিশনিং খুব ভাল। আলজিরিয়া ম্যাচে পা দিয়ে যতগুলো হওয়া দরকার স্ট্রোক করল, ডিফেন্ডাররাও একটা ম্যাচে এতগুলো করে না। এখন ফুটবলের নিয়ম যেমন বদলেছে তাতে একটা গোলকিপার যদি দুটো কাজই করতে পারে, তা হলে টিম আর কী চাইতে পারে? ম্যানুয়েল থাকা মানে জার্মানি তো বারো জন নিয়ে নামছে। কোনও সন্দেহ নেই বিশ্বের এক নম্বর গোলকিপার এখন ও-ই। বেস্ট অব দ্য বেস্ট।

    প্র: মেক্সিকান গোলকিপারকে কেমন দেখলেন? গুলেরমো ওচোয়া?

    গোয়কোচিয়া : খুব ভাল ছেলে। আমরা এক সঙ্গে কাজও করেছি (মনে হল কখনও গোয়কোচিয়া ওঁর ব্যক্তিগত ট্রেনার ছিলেন)। খুব পরিশ্রম করেছে ওচোয়া। আমি বলব ও এ বারের বিশ্বকাপের সেরা চমক! আমি খুব খুশি যে এত দিন পরে গোটা বিশ্ব ওর কদর করছে।

    প্র: আপনাকে আর আটকাব না। শেষ প্রশ্ন, পেলে না মারাদোনা?

    এই প্রশ্নটা শোনামাত্র হাসতে শুরু করে দিলেন প্রচণ্ড।

    গোয়কোচিয়া : পেলে-পেলে-পেলে কে পেলে (দমকা হাসি। তার পর হাসি থামিয়ে) থাক এটা আর লিখবেন না। এটা যেন মনে না হয় যে পেলেকে কোনও রকম অশ্রদ্ধা করছি। জাস্ট চ্যাংড়ামি করে বলা। উনি এত বড় ফুটবলার। কিন্তু…

    প্র: কিন্তু কী?

    গোয়কোচিয়া : কিন্তু এটাই যে, দিয়েগোর নামের পাশে আর কারও নাম বসে না ভাই!

    রিও, ৭ জুলাহ

    চর পাঠিয়ে চাপে ব্রাজিল

    নাম দু’টো শুনে শুধু পাঁড় ফুটবল-মাতালরাই চিনবেন। রকে জুনিয়র আর আলেসান্দ্রো গালো!

    উইকিপিডিয়ায় প্রথম জনের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে ব্রাজিলের শেষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের ডিফেন্ডার হিসেবে। অন্য জনের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। কিন্তু এ বার সময় হয়েছে! আগামী মঙ্গলবার রাতে নতুন করে জুনিয়র এবং গালোর অবসরোত্তর হিসেব কষতে বসা! ব্রাজিলকে তাঁরা সেমিফাইনাল ‘জেতাতে’ পারলেন কি না?

    গালো আর জুনিয়র আসলে ব্রাজিলীয় কোচের সেরা দুই গুপ্তচর। জার্মানি-ফ্রান্স ম্যাচ দেখতে এঁরা বেসক্যাম্প থেকে গোপনে অত্যাধুনিক ট্যাবলেট-সহ গিয়েছিলেন সাও পাওলো মাঠে। সেখানে জার্মানদের এক একটা পুঙ্খনাপুঙ্খ স্ট্র্যাটেজিক অবস্থান তুলে এনেছেন। এমনিতে খেলা তো স্কোলারি-সহ পুরো ব্রাজিল টিমই টিভিতে দেখছে। কিন্তু টিভির সীমাবদ্ধতা হল, বল দেখায়। পুরো মাঠ দেখায় না। এঁদের ট্যাবলেটে ধরা পড়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত— যখন আক্রান্ত হয়েছে জার্মান ডিফেন্স তখন কে কী ভাবে দাঁড়াচ্ছে? কী ভাবে গুটিয়ে আনছে? কী ভাবে সাত নম্বর সোয়াইনস্টাইগার ঠিক দুই স্টপারের ওপর থেকে খেলাটা শুরু করেন? এক কথায় জার্মান ডিফেন্সের বাঁধুনিটা ঠিক কী কী পজিশনিং থেকে তৈরি হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই গোপন তথ্যগুলোই তাঁরা কাল স্কোলারির ল্যাপটপে চালান করে দিয়েছেন। এবার ব্রাজিল টিমের মাথারা সেই অনুযায়ী বদলাবে।

    এই দুই প্রাক্তনকে পাঠানো হয়েছিল যথেষ্ট গোপনে। কিন্তু মাঠে ছবি তোলার সময় এক টিভি ক্রু তাঁদের দেখে ফেলেন। তা থেকে গুপ্তচরদের অনুপ্রবেশের খবর চাউর হয়ে গিয়েছে। ব্রাজিলের বোধহয় সময়টা খারাপই যাচ্ছে। এই গোপন খবরটা ফাঁস হয়ে গেল। নেইমার মাঠের বাইরে চলে গেলেন। মার্সেলোর ঠাকুরদা মারা গেলেন। আবার ব্রাজিলের মুখপাত্র কাম মিডিয়া ম্যানেজার রডরিগো পাইভাকে বাকি বিশ্বকাপের জন্য সাসপেন্ড ও জরিমানা করল ফিফা। ফুটেজ দেখে ফিফা সিদ্ধান্তে এসেছে, সে দিন টানেল দিয়ে ফেরার সময় তর্কাতর্কির পর সত্যিই চিলি ফুটবলারকে মেরেছিলেন রডরিগো।

    বিমর্ষ ব্রাজিল ফুটবলমহল অগত্যা তার সোনার ইতিহাসের আশ্রয়ে নিরাপত্তা খুঁজতে চাইছে। পেশ করে আনছে অসাধারণ একটা তথ্য—নিজের দেশে গত ঊনচল্লিশ বছর যে কোনওরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে ব্রাজিল অপরাজিত। ভাবাই যায় না যখন ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মধ্যগগনে। যখন জরুরি অবস্থা জারি হয়নি। ইউরোপের কমিউনিজমের স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়নি। যখন বার্লিনের প্রাচীর পড়েনি। পৃথিবী ভিডিও কাকে বলে জানে না। সেই সময় থেকে দেশের মাঠে হলুদ জার্সি দুর্লঙ্ঘ! বিশ্বকাপে জার্মানির সঙ্গে দেখা হলে যে অমন দাপুটে জার্মানরা নড়বড়ে থাকে, সেই রেকর্ডও সমর্থকেরা অনবরত বার করছেন।

    তাঁরা নিজেরা জানেন এর পিঠোপিঠি উল্টো রেকর্ডও রয়েছে। যারা কনফেড কাপ জেতে, তারা পরের বার আর কিছুতেই বিশ্বকাপ জেতে না। ফ্রান্স জেতেনি। এর আগে ব্রাজিল জেতেনি। পারস্পরিক শক্তি বিচারেও তো ব্রাজিলকে রক্তশূন্য দেখাচ্ছে। মোরিনহো এ দিন বলেছেন,”নেইমার দারুণ একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে। যে কোনও ডিফেন্স টলিয়ে দিতে পারে। কিন্তু মঙ্গলবার ব্রাজিল নেইমারের চেয়ে বেশি মিস করবে দিয়াগো সিলভাকে। এই ব্রাজিলের খেলাটা রক্ষণাত্মক কাঠামোর ওপর তৈরি। সেখানে দিয়াগো সিলভা অপরিহার্য।” ব্রাজিল সমর্থকদের একেবারে মুষড়ে না দিয়ে চেলসির ফুটবল-প্রভু অবশ্য এটাও বলেছেন, ”ওই জায়গাটায় খেলার সবচেয়ে উপযুক্ত হল দাঁতে। ও জার্মানিতে খেলে বলে জার্মানদের খেলার খোঁচখাঁচ দিয়াগো সবচেয়ে ভালো জানে।”

    মোরিনহো এবং আম-সমর্থকের মতো জুয়াড়িরাও ব্রাজিল নিয়ে খানিক দমে রয়েছে। নইলে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যাদের অবিসংবাদী ফেভারিটের মতো দর দিয়েছিল, তাদের বেলো সেমিফাইনালে এক ঝটকায় এত কমিয়ে দেবে কেন! জুয়াড়িদের মতে ফেভারিট জার্মানি ৭-৪। ব্রাজিলের দর মঙ্গলবার বেশ কম ৯-৫।

    টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্বপ্নের ফাইনাল চাওয়া হয়েছিল ব্রাজিল-আর্জেন্তিনায়। আবেগ এখনও সে দিকে সবুজ আলো জ্বেলে রেখেছে। কিন্তু জুয়াড়িদের কাছে সেই ট্র্যাফিক সিগনালের রং লাল। পরিষ্কার লাল। মেসি নামক কেউ এই গ্রহে বর্তমান থেকেও সাও পাওলোর সেমিফাইনালে ফেভারিট কমলা জার্সি।

    ডি’মারিয়ার রথের চাকাও নেইমারের মতোই মেদিনীগ্রাস করেছে কাল রাত্তিরে। খবরটা ছড়িয়ে পড়াতেই হয়তো আর্জেন্তিনীয়দের ওপর আস্থা নিম্নগামী। নইলে ফুটবল হিসেবে তো উল্টো হওয়া উচিত। একদল টাইব্রেকারে কোস্টারিকাকে হারিয়েছে। আর একটা টিম মেসি নিয়ে সব ক’টা ম্যাচ জিততে জিততে এগোচ্ছে, দর তো তাদের বেশি হওয়া উচিত।

    জুয়াড়িদের বিচারে চুয়াত্তরের ফাইনালের রিম্যাচ হবে। জার্মানি বনাম হল্যান্ড।

    ব্রাজিলীয়রা যদি বা একটু ম্রিয়মাণ থেকে এ সব হিসেবের সঙ্গে তর্ক-যুদ্ধে যাচ্ছে না, আর্জেন্তিনীয় সমর্থকরা অনমনীয়। ডি’মারিয়া বেরিয়ে যাওয়ার পরেও তারা কাপ ছাড়া কিছু দেখতে পাচ্ছে না। কাল ব্রাসিলিয়া মাঠ থেকে ব্রাজিলীয় পুলিশ আর্জেন্তিনার সবচেয়ে গুন্ডাবাহিনী বারা ব্রাভাসের সর্বাধিনায়ককে গ্রেপ্তার করেছে। বারা ব্রাভাস ফুটবল মাঠে গুন্ডামির জন্য বিখ্যাত। মাঠে বহুবার খুনখারাপিও করেছে। এদের নেতা লুকিয়ে ফ্ল্যামেঙ্গো টি শার্টের ছদ্মবেশে খেলা দেখছিলেন। পুলিশ দ্রুত তাঁকে আটক করে। বলে দেওয়া হয়েছে, হয় আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ো, নইলে ব্রাজিলের কারাগারে চুপ করে বোসো। যেটা তোমার ইচ্ছে।

    আর্জেন্তিনা সমর্থকদের কাল মাঠে আরও আগুনে ঠেকছিল। ওই গানটা ক্রমাগত গাইছিল, ব্রাজিল তোর নিজের পাড়ায় তোর বাবাকে চিনতে পেরে কেমন লাগছে। সেমিফাইনালে রবেন, কাউট বা স্নাইডার যে ম্যান ইউয়ের গবেট মিডফিল্ডারের মতো খেলবেন না। তাঁরা যে বেলজিয়াম নয়, কে বোঝাবে আর্জেন্টাইনদের?

    তারা গত এক দিনে আরও মেজাজে। ডি’মারিয়া নেই তো কী। নেইমার তো নেই। ওরে ব্রাজিল, হারালি তো নেইমারকে। কী মজা, কী মজা। এটা তাদের সাম্প্রতিকতম গান। যা বোঝা যাচ্ছে, এরা অন্তত মারাকানায় ইউরোপীয় ফাইনাল কিছুতেই দেখতে পাচ্ছে না।

    বেলো হরাইজন্তে, ৭ জুলাই

    আজ বিশ্বকাপে জার্মানির মুখে নেইমারবিহীন ব্রাজিল-বাহিনী

    ধা-আ-আ-ক-ধা-আ-আ-ক-ধা-আ-আ-ক।

     ঢাক আর মাদল মিলিয়ে একটা অদ্ভুত আওয়াজ ভেসে আসছে বেলো হরাইজন্তে শহরের মধ্যপ্রদেশ থেকে। তৈরি করা একটা স্টেজ। তার ওপর নানান বাদ্যযন্ত্র। সেগুলোর ব্যবহার না করে হলুদ শার্টে একদল ঢাক বাজাচ্ছে। এক বার করে সেটা বন্ধ হতেই ড্রামের আওয়াজ। ড্রামধারীরাও হলুদে।

    ঢাক তো জানতাম যাবতীয় ব্রাজিলীয় নগরীর মধ্যে সালভাদরের বৈশিষ্ট্য। কয়েক’শো বছর আগে সালভাদর বন্দর দিয়ে আফ্রিকান ক্রীতদাসদের ব্রাজিল নিয়ে আসা হয়। তারা সঙ্গে নিয়ে এসেছিল আফ্রিকান মাদল আর ঢাক। সেই পরম্পরা আজও চলছে। হঠাৎ বেলোয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল প্রাক্কালে ঢাকের উৎসব কেন?

    ঠিক যেন, অরণ্যদেব করোটি গুহায় শহর থেকে তাঁর বান্ধবীকে নিয়ে ঢুকবেন। ডায়নাকে সম্মান জানাতে মজবুড়োরা অনুপম সব বাদ্যযন্ত্রের ব্যবস্থা রেখেছেন। সেগুলোই বাজছে। এখানে কি তাই? নাকি উল্টোটাও হতে পারে। করোটি গুহা ছেড়ে শেষ বারের মতো বেরিয়ে যাচ্ছেন অরণ্যদেব! এটা তাঁর বিদায়ী সংবর্ধনা!

    সোমবার ভোরসকালে যারা মাদল আর ঢাক নিয়ে ব্যস্ত ছিল, সে তল্লাটে এমন এক জনকেও পেলাম না যে ইংরেজি জানে এবং ব্যাখ্যা করতে পারে—এটা কীসের জন্য? ব্রাজিলের ওপর সৌভাগ্য বর্ষণের আধিদৈবিক আবাহন? নাকি স্কোলারির টিমের বিদায়ী সংবর্ধনা রঙিন করে রাখতে?

    আসলে শঙ্কা আর বিষণ্ণতা মিলিয়ে এমন অদ্ভুত একটা মুড হয়ে রয়েছে বেলো-সহ গোটা ব্রাজিলের যে, বাজনাও আর পাঁচ দিনের মতো টিমের শুভকামনায় হতে পারে,তেমন ভরসা পাওয়া যাচ্ছে না!

    নইলে পৃথিবীতে কেউ কখনও শুনেছে ব্রাজিল টিম হলুদ কার্ডের বিরুদ্ধে আবেদন করে? বা কোনও সভ্য ফুটবল দেশ করে বলে? ভারত ১৪৭ নম্বরে থাকতে পারে ফিফায়, কিন্তু তারাও কখনও এমন আবেদন জানায়নি যে, আমাদের অমুকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটা অযৌক্তিক দেখানো হয়েছে। ওটা প্লিজ তুলে নিন। রেড কার্ডের বিরুদ্ধে আবেদন হতে পারে। হয়েওছে। কিন্তু হলুদ কার্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ফুটবলের অবিসংবাদী সম্রাট ব্রাজিল যে প্রাক সেমিফাইনাল আবেদন করল এবং প্রত্যাখ্যাত হল, তা থেকেই পরিষ্কার, কেমন দুঃসহ চাপে রয়েছে!

    ব্রাজিলীয় ফুটবল সংস্থার আবেদন নাকচ করে দিয়ে ফিফা বলেছে, দিয়াগো সিলভার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করা সম্পর্কে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কিছুই করার নেই। এটা বিবেচনা করার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। এমনকী নেইমারের দুর্ভাগ্যজনক চোটের ব্যাপারেও ফিফার কিছু করণীয় নেই কারণ, রেফারি সংশ্লিষ্ট কলম্বিয়ান ফুটবলার ক্যামিলো জুনিগাকে না হলুদ, না লাল, কোনও কার্ডই দেখাননি!

    ফিফা আবেদনে ০-২ প্রত্যাখ্যাত ব্রাজিল ফুটবল মহল আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, তাদের বেলো সেমিফাইনালে ফিফা মার্কো রদ্রিগেজকে পোস্টিং দেওয়ায়। মার্কো সেই মহাবিতর্কিত উরুগুয়ে-ইতালি ম্যাচের রেফারি ছিলেন। যেখানে সুয়ারেজের কামড়ে দেওয়াটা তিনি দেখতেই পাননি। ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি পরে ভিডিও দেখে সুয়ারেজকে ন’ম্যাচ নির্বাসনে পাঠায়।

    এ দিন ফিফার রায় বেরনোর পর বেসরকারি ভাবে ব্রাজিল ফুটবল সংস্থার লোকেরা বলতে থাকেন, এটা কী দ্বিচারিতা? যে কমিটি ভিডিও দেখে সুয়ারেজকে শাস্তি দিল, তারাই কি না ভিডিও দেখেও জুনিগাকে বেকসুর খালাস দিয়ে দিল? ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসেই বোধহয় এমন নজির নেই যে, সেমিফাইনাল খেলার আগে জেতায় মন না দিয়ে তারা মাঠের বাইরের ব্যাপারস্যাপার নিয়ে তিতকুটে!

    নেইমার দ্য সিলভা— তিনিও টিমকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার বদলে এবার নিজের অবচেতনে খানিকটা আতঙ্কই ছড়াচ্ছেন। সোমবার নিজের বাড়ি থেকে তিনি আচমকা ব্রাজিলীয় মিডিয়াকে জানান, টিম ফাইনাল গেলে মারাকানায় নামার একটা অসম্ভব চেষ্টা করবেন। পেনকিলারে তাঁর ব্যথা নাকি অনেকটা কমেছে। যদি ১৩ জুলাইয়ের আগে আরও ভাল হয়ে যায়, নামার চেষ্টা করতে অসুবিধে কী? টিম ডক্টর দ্রুত বিবৃতি দিতে বাধ্য হন, নেইমারের যা অবস্থা খেলার কোনও সম্ভাবনাই নেই। শিরদাঁড়ার হাড় ভাঙা নিয়ে মাঠে নামা যায় নাকি? ব্রাজিলীয় জনগণ যেন দূরতম কল্পনাতেও না ভাবেন যে নেইমার বিশ্বকাপে আর খেলতে পারবেন।

    রবিনহো এ দিন গিয়েছিলেন নেইমারকে দেখতে। কাকার মতো তিনিও স্কোলারির বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়া এক বিক্ষুব্ধ। নেইমারকে দেখে বার হওয়ার পর যথারীতি অপেক্ষমান মিডিয়া পেয়ে একপ্রস্থ নুন-লঙ্কা ছিটিয়ে দিয়েছেন। নেইমার ছাড়া সম্ভাবনা কী দেখছেন? রবিনহো বলেছেন, ”নেইমার থেকেও তো সম্ভাবনা বিশেষ ছিল না।”

    নেইমারের বদলি কে, এই লাখ টাকার প্রশ্নের উত্তর পেতে ব্রাজিলীয় মিডিয়া এ দিন ভিড় করেছিল তেরেসোপলিসের বেসক্যাম্পে। সেখানে প্র্যাক্টিস দেখে কিছু বুঝতে পারেনি। স্কোলারি অনেক ঝানু পেশাদার। স্বদেশীয় মিডিয়া তো আসলে নয়, জার্মানদের তিনি শেষ মিনিট পর্যন্ত ধন্ধে রেখে দিলেন, ওই জায়গাটায় কাকে ব্যবহার করবেন? সোমবার স্কোলারির প্রথম একাদশ ছিল—জুলিও, আলভেজ, লুইজ, মার্সেলো, দাঁতে, গুস্তাভো, ফার্নান্দিনহো, পত্তলিনহো, অস্কার, হাল্ক আর ফ্রেড। এর পরে নামানো হয় উইলিয়ান আর বার্নার্ডকে। ব্রাজিলীয় মিডিয়া পুরো ঘেঁটে গিয়েছে যে, তা হলে কোনটা প্রথম এগারো? জার্মানদেরও একই অবস্থা হওয়া উচিত।

    ব্রাজিলীয় মিডিয়া বা প্লেয়ারদের মধ্যে কেউ বলছে না যে, জার্মানির নিজেদেরও সেমিফাইনালে যথেষ্ট ঘাবড়ে থাকা উচিত! সেই ছিয়ানব্বইয়ে ইউরো কাপ জেতার পর মাঝের আঠারো বছরে জার্মানদের কোনও আন্তর্জাতিক ট্রফি নেই। বিদেশি মিডিয়ায় যেমন তাদের বড় ম্যাচের রাজা বলে সম্মান করে, স্বদেশীয় প্রেসের কাছে তারাই হল বকলমে— দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট টিম। যাদের বলা হয় চোকার্স। যারা বড় বড় টুর্নামেন্টের শেষ দুই বা শেষ চারে যায় এবং অবধারিত ট্রফি না জিতে ফেরে। এ বারও জার্মান মিডিয়া বলছিল রিয়াল মাদ্রিদের কাছে মিউনিখে যে বায়ার্ন টিম চার গোলে হেরেছে, তার ছ’টা প্লেয়ার এই টিমে। ম্যানুয়েল নয়্যার, ফিলিপ লাম, জেরোম বোয়াতেং, টনি ক্রুজ, টমাস মুলার, বাস্তিয়ান সোয়াইনস্টাইগার। এঁদের বিশ্বকাপ মনোবল বলে কিছু থাকবে না।

    অথচ এঁরাই দেখা যাচ্ছে জোয়াকিম লো-র টিমের ধারক ও বাহক। লো নিজেও প্রচুর সমালোচনা সহ্য করেছেন গত কয়েক বছর সমেত এই বিশ্বকাপে। কাল তিনিও শুধু লুই ফিলিপ স্কোলারির সঙ্গে লড়ছেন না!

    মিডিয়া শাটল করে মাঠে আসার সময় দেখছিলাম একটা বাড়ির ছাদে পাশাপাশি ব্রাজিল-আর্জেন্তিনার পতাকা টাঙানো। যেন একই বৃন্তে দুটি ফুল। ভাব হয়ে গেল নাকি দু’পক্ষে ইউরোপীয় আগ্রাসনে দু’জনই বিপন্ন দেখে? হওয়ার তো কথা নয়।

    বেলোর ফুলের দোকানে এত সাদা ফুল আজ উপচে পড়ছে কেন, তা-ও তো বুঝলাম না। কলকাতার ফুলের দোকানে পনেরো-কুড়িটা তোড়া দিনে বিক্রি হলেই দোকানি কাস্টমারকে হতাশ করে ফিরিয়ে দেয়। এ তো যা ফুল, এস্তাদিও মিনেইরোর সব গ্যালারি ভরিয়ে দেওয়া যাবে।

    শহরের দোকানে এত সাদা ফুল কি ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দশমী অনুমানে? না বেলো মাঠে কাল সুখের অষ্টমী?

    আজকের মতো কোনও উত্তর নেই!

    বেলো হরাইজন্তে, ৮ জুলাই

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান
    Next Article শয়তানের সন্তান – সৈকত মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }