Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেসিয়ানার জ্যোৎস্নারাত – গৌতম ভট্টাচার্য

    গৌতম ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প461 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ব্রাজিল ২০১৪ – ৯

    ‘হায়, আমাদের মতো এদের গ্যারিঞ্চা নেই’

    নেইমার দ্য সিলভার অবর্তমানে জার্মানির সামনে কম্পিত ব্রাজিল নানা ভাবে উৎসাহ-তরঙ্গ খুঁজছে। রোববার রাতে যেমন গোটা টিমকে

    স্কোলারি লাস ভেগাসে হওয়া আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ দেখালেন। তার মিডলওয়েট ফাইনালে ব্রাজিলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রচণ্ড লড়েও উইম্বলডনে ফেডেরারের মতোই পাঁচ রাউন্ডে হেরে গেলেন। কিন্তু গোটা টিম বড় স্ক্রিনের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে সুদূর তেরেসোপলিস বেসক্যাম্প থেকে উৎসাহ দিয়ে গেল। জুলিও সিজার তো একবার প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে বড় স্ক্রিনের ঘুঁষি মেরে বসেন। রাতে পুরনো বিশ্বকাপ ভিডিও-ও দেখানো হল দলকে। আশ্চর্য লাগছে ব্রাজিলীয় কোচ উদ্দীপনার সবচেয়ে সহজ তরঙ্গ হাতের কাছে থেকেও ব্যবহার করলেন না দেখে! তিনি আমারিল্ডো তাবারেজ দ্য সিলভেরা তো থাকেন রিওতেই। এই পঁচাত্তর বছর বয়সেও যখন মারাকানায় ফ্রান্স-জার্মানি ম্যাচ দেখতে গিয়েছেন, তখন বেসক্যাম্প অবধি আসতেই পারতেন। তেরেসোপলিস তো রিও থেকে খুব দূরে নয়!

    বহু কাঠখড় পুড়িয়ে ফোনে তো তাঁকে ধরা গেল। কথা বলার সময়ও রয়েছে। কিন্তু বাষট্টির বিশ্বকাপে পেলের অবর্তমানে তাঁর বদলি হিসেবে নায়ক বলে যাওয়া আমারিল্ডো যে ইংরেজি বলতে পারেন না। মিলানে খেলতেন বলে ইতালিয়ান জানেন। ভাঙা ভাঙা স্প্যানিশও। কিন্তু নো ইংলিশ। বিস্মিত লাগল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছুদিন কোচিং করিয়েও তিনি ইংরেজি জানেন না দেখে! ফোন রেখে আবার নতুন করে দোভাষী খুঁজতে হল। সাও পাওলোর নামী ব্রাজিলীয় সাংবাদিক লুইস অগাস্টা সহৃদয় ভাবে অনুবাদকের কাজ করতে রাজি হলেন ল্যাপটপে নিজের কপি কম্পোজ করা ছেড়ে।

    একটা করে প্রশ্ন তাঁকে ইংরেজিতে লিখে দিচ্ছি আর তিনি ফোনে ও-প্রান্তের জবাব শুনে তর্জমা করছেন। ফোনে অনেকটাই সময় দিলেন আমারিল্ডো। ভাষা সমস্যায় তার পুরো ফায়দা তোলা গেল না। কিন্তু মর্মার্থ খুব পরিষ্কার—ব্রাজিল এত ভয় পেও না…ইতিহাস থেকে উদ্দীপনা নাও…

    প্রশ্ন : অদ্ভুত মিল বাষট্টির সঙ্গে। সে বার পেলে ছিলেন না। এবার নেইমার নেই। আপনি মিল পাচ্ছেন?

    আমারিল্ডো : অসম্ভব মিল পাচ্ছি। অবাক হয়ে ভাবছি নিজের জীবদ্দশাতেই যে কী করে দু’টো জিনিস আগের আর পরের এ রকম মিলে যেতে পারে! এবার যেমন জার্মানিটা মরণ-বাঁচন ম্যাচ, সে বার তেমনই ছিল স্পেন! স্পেন তখনকার দারুণ টিম। আমাদের অবস্থা ভাবুন, বিশ্বের এক নম্বর প্লেয়ার পেলে টিমের বাইরে। আর স্পেনকে হারাতে না পারলে আমরা আউট। সেই ম্যাচটা ব্রাজিল তার পর ফাটিয়ে খেলে। আমরা জিতেছিলাম ৩-০। দু’টো গোল ছিল আমার। পেলের বদলি হিসেবে খুব একটা ঝোলাইনি।

    প্র: ঝোলানোর কথা কী বলছেন। বাষট্টির রিপোর্ট খুললে এখনও দেখা যায় আপনি বাকি টুর্নামেন্টে পেলের অভাব বুঝতেই দেননি। এমনকী ফাইনালে ব্রাজিল ০-১ পিছিয়ে পড়ার পর আপনি গোল শোধ করেছিলেন।

    আমারিল্ডো : অবশ্যই করেছিলাম। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট তিনটে গোলই আমার। তাই এবারও কেন এত মুষড়ে পড়ছে জানি না। আমি তো মাঠে বসে সে দিন জার্মানি-ফ্রান্স ম্যাচ দেখেছি। আমার মোটেই এই জার্মানিকে অতীতের সুপার-জার্মান টিমগুলোর মতো লাগেনি। এদের অনেক ফাঁক-ঢাক আছে। আমার তো মনে হয় আমরা যদি পেলে ছাড়া কাপ জিততে পারি, এরাও নেইমার ছাড়া ফাইনাল ওঠার ক্ষমতা রাখে।

    প্র: নেইমার এখনও জেদ করছেন ব্রাজিল ফাইনাল গেলে একটা অসম্ভব চেষ্টা করবেন। তাঁর শিরদাঁড়ার ব্যথা নাকি ওষুধে খানিকটা কমেছে।

    আমারিল্ডো : পাগলামি হচ্ছে নাকি? ও নামলে তিরিশ সেকেন্ডের মধ্যে আবার একটা মারবে। বিশ্বকাপে দ্রুততম প্লেয়ার হিসেবে মাঠ থেকে উঠে আসতে হবে।

    প্র: তা হলে টিম কী ভাবে পরিকল্পনা করবে?

    আমারিল্ডো : প্রথমত উইলিয়ান যদি নেইমারের পরিবর্ত খেলে বা যে-ই খেলুক, তাকে আমি বলব, তোমার সবচেয়ে সুবিধে হবে জার্মানি জানে না তুমি কী? ওরা পুরোটাই নেইমার ভেবে এতদিনকার ব্রাজিলকে দেখেছে। এই বিশ্বকাপে সব ক’টা টিমই জেনে এসেছে নেইমারকে আটকে দিলেই ব্রাজিল ফরোয়ার্ড লাইন শেষ। কালকে সেটা হঠাৎই বদলাচ্ছে। বিপক্ষ জানেই না ব্রাজিল কী ভাবে আক্রমণে যাবে? এটা একটা বড় সুবিধে। উইলিয়ান, মনের জোর রাখো! জার্মানি এমন কিছু নয়। এদের চেয়ে ঢের ভাল জার্মান টিম আমি আগে দেখেছি।

    প্র: সে বার পেলে বসে যাওয়াটা আপনারা মানসিক ভাবে সামলেছিলেন কী ভাবে? কোচ কোনও ভাষণ-টাষণ দিয়েছিলেন? সে যুগে তো মনোবিদ-টিদেরও চল ছিল না?

    আমারিল্ডো : না, না ও সব ছিল না। তবে আমাদের টিমটা অনেক বেটার ছিল। কী কী সব প্লেয়ার ছিল। ডিডি, ভাভা, গ্যারিঞ্চা। উফ গ্যারিঞ্চা! বোতাফোগোয় আমরা একসঙ্গে খেলতাম বলে ওর সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটাও দারুণ ছিল।

    প্র: স্পেন ম্যাচের সকালটা মনে পড়ে? বা বাষট্টির ফাইনালের দুপুর? পেলে কোনওভাবে উদ্দীপ্ত করেছিলেন?

    আমারিল্ডো : মনে পড়ে না! পেলে বেচারি খুব মনমরা ছিল। এত বড় প্লেয়ার, গোটা বিশ্ব তাকে দেখবে বলে তাকিয়ে রয়েছে, আর সে-ই কিনা খেলতে পারছে না!

    প্র: গ্যারিঞ্চা?

    আমারিল্ডো : যখন চার দিকে দুর্ভাবনার ঢেউ—গ্যারিঞ্চা গিয়ে কোচকে বলেছিল, এত ভাববেন না। খেলার কি বাঁশি এখনও বেজেছে? মাঠে যাইনি তো আমরা এখনও। আর আমাকে ডেকে বলেছিল, এত কথা কীসের রে। যা তো ঘরগুলো দেখে আয়, আমাদের এগারো জন আছে কি না? এগারো থাকলেই চলবে! তার পর কী খেলাটাই না খেলেছিল।

    হ্যাঁ, এটা আমি স্বীকার করতে বাধ্য সেই যুগের সঙ্গে একটাই তফাত। নেইমারের না থাকা ঢাকতে এই টিমটায় কোনও গ্যারিঞ্চা নেই।

     বেলো হরাইজন্তে, ৮ জুলাই

    সাত গোলের লজ্জায় জ্বলে উঠল আগুন

    হলুদের মহাসমুদ্র মনে হচ্ছিল এস্তাদিও মিনেইরোকে। খেলা সাতাশ-আঠাশ মিনিট গড়াতে না গড়াতে সেই সমুদ্রের কোনায় কোনায় দেখা গেল পলি

    পড়ে গিয়েছে। আসলে তখনই ০-৫ হয়ে গিয়েছে। আর সেই মর্মবেদনা সহ্য করতে না পেরে শত শত হলুদ জার্সি তখনই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন!

    মারাকানায় চৌষট্টি বছর আগের ক্ষতকে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল মারাকানাজো। মারাকানার মর্মভেদী আঘাত। মঙ্গলবারের বেলো হরাইজন্তের কালো সন্ধেকে কী বলা হবে? মিনেইরোজো?

    কিছু ভাবাই যাচ্ছে না! উনিশশো পঞ্চাশের ম্যাচটায় তো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল হয়েছিল। প্রথমে এগিয়েও ব্রাজিল হেরেছিল ১-২। আজকেরটা তো হার নয়। পেলে-সহ ব্রাজিলীয় ফুটবলের একরাশ মহারথীর সামনে ব্রাজিল ফুটবলের বস্ত্রহরণ। ব্রাজিলে ফুটবল খেলার প্রতিষ্ঠা মোহনবাগান ক্লাব জন্ম নেওয়ার ঠিক পাঁচ বছর বাদে ১৮৯৪-এ। তা একশো কুড়ি বছরের ফুটবল-ইতিহাসে এত বড় লজ্জার দিন আসেনি! বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ইতিহাসে এত গোল আর কোনও টিমকে হজম করতে হয়নি! সময়-সময় মনে হচ্ছিল ভারত বুঝি খেলছে জার্মানির সঙ্গে!

    সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্রাজিলীয় কোচের মনোভাব। টিম নিঃশেষিত। বন্যার মতো জার্মান আক্রমণ উঠছে দেখেও তিনি স্থাণুবৎ দাঁড়িয়ে রইলেন। ০-৫ পিছিয়েও টিম একটাও প্লেয়ার বদলায় না, কেউ দুঃস্বপ্নেও কখনও দেখেছে! এ দিনের বিহ্বল করে দেওয়া ব্রাজিল সেটাই দেখাল!

    অবিশ্বাস্য যেমন ফলটা, তেমনই অবিশ্বাস্য গোল হওয়ার ভঙ্গিগুলো। বিশ্ব ক্লাব পর্যায়েও এখন পাঁচ-ছয় গোল হয়েই থাকে। বায়ার্ন থেকে রিয়াল— সবাই গোল খায়। কিন্তু ব্রাজিল যে ভঙ্গিতে খেল, বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন অসহায়তা কোনও সুপার-পাওয়ার কখনও দেখিয়েছে কি না সন্দেহ।

    প্রথম গোল কর্নার থেকে ফাঁকায় দাঁড়ানো টমাস মুলার হাল্কা ভলিতে করে গেলেন! আচ্ছা টমাস মুলার যদি এমনি কারও নাম হয়, আর সে ফুটবল খেলে তা হলেও লোকে সম্ভ্রমে তাকে মার্ক করবে। আর ইনি তো আসল টমাস মুলার! তাঁকে কেউ কর্নার হওয়ার সময় ফাঁকা ছেড়ে দেয়?

    এরপর মিরোস্লাভ ক্লোসে যখন তাঁর বিশ্বরেকর্ডটা করে গেলেন, তাঁর আশেপাশে অন্তত তিনটে হলুদ জার্সি। তাতেও তিনি শটের সুযোগ পেলেন। সেটা জুলিও সিজার আটকালেন। আবার ফিরতি বলে ক্লোজে মেরে দিলেন। সেই যে দু’গোল হয়ে গেল, তার পর থেকে এটা যে বিশ্বকাপ ম্যাচ হচ্ছে বোঝার কোনও উপায় ছিল না। ল্যাপটপে কম্পোজ করতে করতেও ভাবছি, কেউ কোনও মাদক-টাদক খাইয়ে দেননি তো? সত্যিই ব্রাজিলকে দেখলাম প্রেসবক্সের সামনের দিকের পোস্টে পাঁচ গোল খেতে? ব্রাজিল তো, যারা ১১ থেকে ২৯ মিনিটের মধ্যে পাঁচ গোল খেয়ে গেল?

    ব্রাজিল দেশের মাঠে উনচল্লিশ বছর পর প্রথম কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ হারল, এটা তো একটা হিসেব। আসল হিসেব হল, বিশ্বকাপের চুরাশি বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ফল এ দিন ঘটে গেল! ফ্লেড বলেছিলেন, এ বার দেশবাসীর মারাকানায় ঘা মুছিয়ে দেবেন। তা তাঁরা এমন ফুটবল খেললেন যে, আধুনিক ব্রাজিলীয় প্রজন্মেরও নতুন ঘা হয়ে গেল। তারা যত দিন বাঁচবে, জার্মানদের কাছে হেনস্থা হওয়ার এই মলিন ইতিহাস নিয়ে বাকি জীবন কাটাবে।

    খেলা শুরুর আগে দুই বিশ্ববিখ্যাত কোচের সঙ্গে মিডিয়া সেন্টারে দেখা হল। আর্সেন ওয়েঙ্গার আর বোরা মিলুটেনোভিচ। ম্যাচে কী হবে? দু’জনের কেউই পূর্বাভাসে গেলেন না। ”জমবে খুব,” বলে ওয়েঙ্গার চলে গেলেন টিভি বক্সের দিকে।

    গোটা পৃথিবীও তাই জানত, যে-ই হারুক, যে-ই জিতুক, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হবে। নেইমারের জার্সি নিয়ে মাঠে এসেছে গোটা টিম। বাসে নেইমার লেখা ফেট্টি বেঁধে সবাই নামছে। খেলার আগে দি’স্তেফানোর মতো বড় ফুটবলারের প্রয়াণে এক মিনিট নীরবতা পালনের ব্যবস্থা নেই। অথচ নেইমারের দশ নম্বর জার্সি হাতে নিয়ে দাভিদ লুই জাতীয় সঙ্গীতের সময় দাঁড়িয়ে।

    এমন বল্গাহীন আবেগ কে কোথায় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে দেখেছে। আর এই অতিরিক্ত আবেগেই ব্রাজিল ধ্বংস হয়ে গেল কি না, এ বার তার ময়নাতদন্ত বহু বছর চলবে। বিশ্বকাপ পাওয়ার সবচেয়ে বড় দাবিদার ২৮ মিনিটে পাঁচ গোল খেতে পারে, জীবনে কেউ ভেবেছে?

    সবচেয়ে আশ্চর্য আবার লাগছে, গোলগুলো হওয়ার ভঙ্গিতে। নিজেদের মধ্যে ছ’টা-সাতটা পাস খেলে বিপক্ষ চলে যাচ্ছে। বিনা বাধায় গোল করে আসছে। আর হলুদ জার্সি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। দাভিদ লুই গোটা টুর্নামেন্ট এত ভাল খেলে ব্রাজিলীয় ফুটবলের সবচেয়ে নারকীয় ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেন! স্কোলারির তো চাকরি যাবেই। লুইকে জনতা কীভাবে আগামী ক’দিন নেয়, সেটা দেখার।

    দাঁতেকে নেওয়া হয়েছিল বুন্দেশলিগার অভিজ্ঞতার জন্য। তাঁকে একটা ট্যাকলেও পাওয়া যায়নি। মার্সেলো ওভারল্যাপেই থাকছিলেন যেন ডিফেন্স করাটা তাঁর কাজের মধ্যে পড়ে না। ফার্নান্দিনহো দু’টো গোল খাওয়ালেন। আর এত সব যখন হচ্ছে, দাভিদ লুই ডুবন্ত জাহাজ ছেড়ে দেওয়া ক্যাপ্টেনের মতো হঠাৎ ম্যাচ থেকে হারিয়ে গেলেন। মাঝমাঠে যে কোনও মার্কার নেই। ফ্রেড যে অচল, প্রথম ম্যাচ থেকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া লিখছে। স্কোলারি কর্ণপাত করেননি। ঐতিহাসিক এত বড় মাসুল তাই তাঁকে দিয়ে যেতে হল। যত দিন বাঁচবেন, সাত গোল খাওয়া জুলিও সিজার আর তাঁকে দিয়ে যেতে হবে!

    ব্রাজিলীয় সমর্থকেরা অতুলনীয়। যাঁরা বেরিয়ে গেলেন, বেরিয়ে গেলেন। বাকিরা ০-৫-এর পরেও চিৎকার করে যাচ্ছিলেন ব্রাজিল, ব্রাজিল বলে। জার্মানি ছয় গোল করে ফেলার পর প্রথম দেখলাম তাঁদেরও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে। ব্রাজিল ফুটবলে শতাব্দীর কালো সন্ধে চলাকালীন স্কোলারি অবশেষে তিনটে পরিবর্তন করেছেন। তাতে কাজের মধ্যে ম্যানুয়েল নয়্যারকে ওয়ান টু ওয়ানে দু’টো দারুণ গোল বাঁচাতে হল, ওই অবধি।

    ব্রাজিলের পরবর্তী প্রজন্ম যখন চিরদিন অবিশ্বাসীর মতো এই সাত গোলের ম্যাচের দিকে তাকাবে, তখন তারা হয়তো বুঝতেও চাইবে না ম্যাচের শুরুতে আক্রমণ করছিল ব্রাজিলই। একটা কর্নারও দ্বিতীয় মিনিটে জোগাড় করেছিল। কিন্তু জেরোম বোয়াতেংয়ের নেতৃত্বে এমন অসাধারণ জার্মানদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে ঠিক শাটার টেনে দিতে পারে। আর ডিফেন্ডাররা কখনও প্যারালাল লাইনে যায় না!

    বোয়াতেংয়ের নাম গোলকারীদের তালিকায় নেই। কিন্তু কেউ জানে না প্রথম দশ মিনিটে ব্রাজিল গোল পেয়ে গেলে অন্তত কিছুটা লড়াই হত কি না?

    মারাকানাও ব্রাজিলের ফুটবল জীবনে এত অভিশাপ বয়ে আনেনি যা আনল এস্তাদিও মিনেইরো। যত দিন ফুটবল থাকবে, ততদিন পেলের হাজার গোল। তাদের পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি এই সাত গোলের লজ্জাটাও থাকবে! বেরোনোর মুখে এক স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে দেখা হল। যে ম্লান মুখে কাঁদছে আর বলছে, হে ঈশ্বর সে দিন চিলিকে জিতিয়ে দিলে না কেন!

    পুনশ্চ : গ্যালারিতে কান্নার রোল আর যেন স্বপ্নের চিতা জ্বলছে! দাভিদ লুই এই বেরিয়ে যাচ্ছেন কাঁদতে কাঁদতে একরাশ বিদ্রুপের মধ্যে। অস্কারের নব্বই মিনিটে করা ১-৭-এ কোনও প্রলেপ পড়েনি। টিভিতে শুনছি, অ্যালান শিয়েরার বলছেন, ”এই টিমটা বাকি জীবন এর থেকে কী ভাবে উঠে দাঁড়াবে জানি না!”

    বেলো হরাইজন্তে, ৯ জুলাই

    যতদিন বাঁচব পৈশাচিক হারের দায় নিয়ে বাঁচতে হবে

    খুব করুণভাবে ১-৭ পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বলে গেলেন লুই ফিলিপ স্কোলারি! সেই বাজখাঁই গলা আর সাংবাদিকদের ওপর চোটপাট

    আজ আর নেই। চুপচাপ বসে পরের পর প্রশ্নের জবাব দিয়ে যাচ্ছেন আর একাধিক বার বলছেন, বিপর্যয়ের সব দায় আমার! ইঙ্গিত পাওয়া গেল শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হয়ে গেলে তিনি পদত্যাগ করবেন।

    প্র: হে ফিলিপাও, ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে লজ্জাকর হারের পর সমর্থকদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

    স্কোলারি : ওঁদের উদ্দেশে আমি এটুকুই বলব, আমরা আমাদের সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। আমরা ততটাই করতে পেরেছি যতটা আমাদের সাধ্যে কুলিয়েছে। গণ্ডগোল হয়ে গেল মাঝের ওই সাত-আট মিনিটে। জার্মানি ওই সময় তিন গোল করে দিল! আমি ফ্যানদের বলতে চাই যে পাঁচ-ছয় গোল হয়ে যাওয়ার পরেও আপনারা যে ভাবে আমাদের সমর্থন করছিলেন দেখে অবিশ্বাস্য লেগেছে! মার্জনা করবেন, আপনাদের এত ভালবাসার যোগ্য সমাদর না করে আমরা বরং বদনামের কালো পোঁচ মাখিয়ে দিলাম দেশবাসীর মুখে! তাঁদের কাছে শেষ আবেদন, তৃতীয় স্থানের জন্য এ বার আমরা শনিবার ব্রাসিলিয়ায় লড়ব। এই ম্যাচটায় অনুগ্রহ করে সঙ্গে থাকুন।

    প্র: এই জাতীয় বিপর্যয়ের জন্য কে দায়ী?

    স্কোলারি : কোচ যখন প্লেয়ার ঠিক করেছে। ট্যাকটিক্স ঠিক করেছে তখন আমিই দায়ী। আমাকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

    প্র: পরপর ম্যাচেই তো আমাদের টিম খারাপ খেলছিল। মেক্সিকো আমরা জিতিনি। আজ জঘন্য খেলে উড়ে গেলাম। আপনার কি মনে হয় টুর্নামেন্ট জুড়েই আমাদের ট্যাকটিক্স ভুলভাল ছিল?

    স্কোলারি : আমি মনে করি না। আমরা চিলি বা কলম্বিয়ার মতো বিপজ্জনক টিমের সঙ্গে যথেষ্ট ভাল খেলেছি। কী যে হল। প্লেয়াররা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। আমাদের গণ্ডগোল হয়ে গেল আজকের ওই এগারো মিনিট মতো। একটা আতঙ্ক হঠাৎ তৈরি হয়ে গেল! এটা মোটেও স্বাভাবিক নয়! রোজ রোজ ঘটে না। কিন্তু আজ ঘটল। আমাকে খেলার পর জার্মান ফুটবলাররা বলছিল, ওরাও ভাবতে পারেনি এমন কিছু ঘটতে পারে!

    প্র: স্কোলারি, ২০০২ সালে আপনি দেশকে বিশ্বকাপ দিয়েছিলেন। আর ২০১৪-এ দিলেন ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লজ্জা।

    ব্রাজিলের কাছে আপনার কি অনেক ঋণ হয়ে গেল না?

    স্কোলারি : না, ঋণ হতে যাবে কেন? আমি কোচ হিসেবে নিজের কাজ করেছি। যথাসাধ্য করেছি। গত দেড় বছর ধরে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ বাদ দিয়ে ব্রাজিল কারও কাছেই হারেনি। সেখান থেকে এত বড় থাপ্পড়! ভাবাই যায় না। তবে ঋণ-টিন হতে যাবে কেন?

    আর একটা কথা বন্ধুদের মনে করিয়ে দিতে চাই। আমাদের কিন্তু শনিবার একটা ম্যাচ রয়েছে। ভুলবেন না আমরা এখনও বিশ্বকাপে থার্ড হতে পারি।

    প্র: এই টিম, এই প্লেয়াররা কী করে ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়াবে?

    স্কোলারি : কেন পারবে না? একটা ম্যাচে লজ্জাকর খেলেছি তো কী, এই তেইশ জনের টিমটার চোদ্দো-পনেরো জনই পরের ওয়ার্ল্ড কাপে ব্রাজিলের হয়ে খেলবে। হ্যাঁ, সর্বকালের নিকৃষ্টতম হার তো নিশ্চয়ই! কিন্তু তাকে তো সামলানোর একটা চেষ্টা করতে হবে।

    প্র: আপনি কি হারের দায়িত্ব নিয়ে অব্যাহতি চাইবেন? না এর পরেও চালিয়ে যাবেন?

    স্কোলারি : এটা নিয়ে আলোচনার সময় এখনও আসেনি। শনিবারের খেলাটা আগে শেষ হোক! কোচ যখন সব সিদ্ধান্তের একক কর্তা, তখন দায়ভারটাও তাকে একক ভাবে নিতে হবে।

    প্র: প্রথমার্ধে যখন গোলের পর গোল হচ্ছিল, তখন আপনারও ব্ল্যাক আউট হয়ে গেল কেন? কেন একটাও প্লেয়ার বদলালেন না?

    স্কোলারি : কী রকম আমরা রিঅ্যাক্ট করতে পারার আগেই ঘটনাগুলো ঘটে গেল। ওই সর্বনাশা ৮-১১ মিনিটে চার গোল হয়ে গেল।

    প্র: এই যে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই আপনারা বলতে শুরু করেছিলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চাই। সেটা কি টিমের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল? সেই আগাম বলাটা কি ভুল হয়েছিল বলে এখন মনে হচ্ছে?

    স্কোলারি : না, সেটা মনে হয় না। চাপ নিয়েও তো আমরা সেমিফাইনাল গিয়েছিলাম। এতগুলো ম্যাচ তো জিতেই উঠেছি! চাপের জন্য নয়। ওই এগারো মিনিটের ব্যর্থতাই সব লন্ডভন্ড করে দিল।

    প্র: নেইমার থাকলে এটা ঘটত?

    স্কোলারি : নেইমার থাকলেও হত। ও কী করত? নেইমার তো আর ডিফেন্ডার নয়!

    প্র: আপনি কালকে প্র্যাকটিস পওলিনহোকে দিয়ে শুরু করলেন। বার্নার্ডকে আনলেন একেবারে শেষে। আমরা তাই জানতাম, পওলিনহো শুরু করবেন। আর আপনি তাঁকে টিমেই রাখেননি, এটা কী স্ট্র্যাটেজি?

    স্কোলারি : ইচ্ছাকৃত রাখিনি। কারণ আপনিই (পরিচিত ব্রাজিলীয় সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে) আমাদের প্র্যাকটিস দেখে ব্রাজিলিয়ান টিভিতে বলেন। আর বিপক্ষ সেটা দেখে আগাম স্ট্র্যাটেজিগুলো বুঝে যায়। তাই আপনাকে ও আপনাদের চোখে ধোঁকা দেওয়ার জন্য ওটা ইচ্ছাকৃত করেছিলাম।

    প্র: তাতে উল্টো ফল পেলেন। তা ছাড়া নেইমার নিয়ে এই যে আপনাদের আদিখ্যেতা। জাতীয় সঙ্গীতের সময় আপনার ক্যাপ্টেন হাতে নেইমারের জার্সি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই আবেগের বাড়াবাড়িটাই কি আপনাদের ডোবাল না?

    স্কোলারি : না, না ওটা কারণ না। আমরা ম্যাচে খুব সহজ কিছু ভুল করেছি আর জার্মানি এমনই গ্রেট টিম যে ওরা চারটে সুযোগ পেয়ে চারটেতেই গোল করে চলে গিয়েছে।

    প্র: একটা সময় তো টিমের প্রস্তুতি ঠিকঠাক করার ব্যাপারে আপনার নামযশ ছিল। এ বারের এত বড় অ্যাক্সিডেন্টটা কেন হল?

    স্কোলারি : প্রস্তুতি ভালই করেছিলাম। কী যে হল ওই এক গোল থেকে পাঁচ গোলের মাঝের সময়টা। পরবর্তী কালে টিমের সঙ্গে বসে সবাই ভাবার চেষ্টা করব, কী ঠিক ঘটে গিয়েছিল?

    প্র: ব্যক্তি হিসেবে আপনার কী মনে হচ্ছে? পেশাদার জীবনের সবচেয়ে হতাশাজনক দিন?

    স্কোলারি : পেশাদার জীবন কী! ব্যক্তিজীবনের সবচেয়ে দুঃসহ দিন! ওয়ার্স্ট মোমেন্ট। জীবনের ওয়ার্স্ট দিন!

    প্র: আর কী মনে হচ্ছে আপনার?

    স্কোলারি : মনে হচ্ছে, বাকি জীবন এই ১-৭ এর হাহাকারই শুধু নয়, এর দায় বুকে নিয়ে বেড়াতে হবে আমাকে। কিন্তু সেটা তো আমি জানতামই যে সব সিদ্ধান্ত যখন আমার, বেয়োনেটের প্রথম শিকারও আমাকেই হতে হবে। যদি কিছু বেচাল হয়। আর এটা তো শুধু বেচাল নয়। কেলেঙ্কারি!

    বেলো হরাইজন্তে, ৯ জুলাই

    ওলন্দাজদের বিরুদ্ধে ‘দুর্যোগের দিনে’ও সেই মেসি-মন্ত্র জপে যাওয়া

    দিয়েগো মারাদোনা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেননি রিও থেকে বুধবার মেসির টিমকে দেখতে সাও পাওলো উড়ে যাবেন কি না?

    তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এ দিন বলছিলেন, টিমের কতটা কাছে দিয়েগো এ বার যাবে, সেটা নিয়ে নানান কারণে ওর নিজেরই দ্বিধা রয়েছে। তাই মাঠে বসে মেসিদের বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার টগবগে সমর্থন জানাবে কি না, দিয়েগো নিজেই জানে না। তা ছাড়া আর্জেন্তিনা এখন অবধি যা খেলেছে, তাতে দারুণ ভরসাও পাচ্ছে না।

    একা মারাদোনা নন। আর্জেন্তিনা ফুটবল মহলে কথা বলে মনে হল, নেইমার বিহীন ব্রাজিল যেমন জার্মানির সামনে পড়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল! আর্জেন্তিনার মেসি সঙ্গে থেকেও ডাচদের নিয়ে মারাত্মক দুর্ভাবনা রয়েছে। গুলেরমো তোফোনি হলেন ওখানকার ফুটবল মহলের এক হর্তা-কর্তা। নিজে কোনও পদে না থেকেও সর্বময় কর্তা গ্রন্দোনাকে তিনি রিমোটে চালান! সেই তোফোনিকে মঙ্গলবার যখন ফোনে ধরলাম তিনি বুয়েনস আইরেস বিমানবন্দর থেকে ব্রাজিলগামী ফ্লাইটে ওঠার তোড়জোড় করছেন। আর্জেন্তিনা ফুটবল মহলে হাতে গোনা তিন থেকে চার জন ভাঙা-ভাঙা ইংরেজি বলতে পারেন। গোয়কোচিয়া, ড্যানিয়েল বার্তোনি, গুলেরমো তোফোনি। তা শেষোক্ত ব্যক্তি তাঁর মোবাইল থেকে বললেন, ”নেদারল্যান্ডস সামনে না পড়লেই ভাল হত। আমরা চেয়েছিলাম কোস্টারিকা। দেখে নেবেন সাও পাওলোটাই কার্যত ফাইনাল। কাল যারা জিতবে তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন!”

    শুনে অবাকই লাগল। প্রথমত আর্জেন্তিনার এক ফুটবল-কর্তা এত খোলাখুলি তাঁদের উদ্বেগের কথা বলছেন। তা ছাড়া বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনার বরাবরের গাঁট হল জার্মানি! জার্মানদের ওই বলিষ্ঠ ডিফেন্স সংগঠন আর গতিকে বরাবর ভয় পেয়েছে আর্জেন্টাইনরা। এমনকী মারাদোনারও জার্মান ডিফেন্সের বিরুদ্ধে কোনও গোল নেই। অন্য সেমিতে জার্মানি রয়েছে এই অবস্থায় নেদারল্যান্ডস নিয়ে এমন হৃদকম্প কেন!

    তোফোনি ব্যাখ্যা করলেন, ”নেদারল্যান্ডস এ বারের টুর্নামেন্টে এখন অবধি সেরা টিম! ওদের সেদিন টাইব্রেকার মারাগুলো লক্ষ করেছিলেন? বদলি গোলকিপার নামানো থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা পেনাল্টি—ওদের পেশাদারিত্বের নিপুণ ছাপ।” বেলোর কাছে আর্জেন্টাইন বেসক্যাম্পেও শুনলাম বারবার একটা প্রসঙ্গ আলোচিত হচ্ছে, নেদারল্যান্ডস হল সাংঘাতিক টিম যারা এবার খুব রাগী হয়ে টুর্নামেন্টে এসেছে। রাগটা কী, না আগের বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে যাওয়ার। আর্জেন্তিনীয়দের মতে, কোনও টিম যদি এমন দলগত রাগের একটা চলমান ভিত্তিপ্রস্তর নিয়ে ঘোরে তখন তারা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মারাত্মক হয়ে যায়। তখন তাদের লম্বা টুর্নামেন্টেও ক্রমাগত মোটিভেশন রেখে যাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় না।

    হতাশার এই আপাত-সুড়ঙ্গ থেকে বাইরে বেরোনোর সবুজ আলো অবশ্য মেসির টিমেরই কেউ কেউ তাঁদের অধিনায়ককে দিয়েছেন। বলেছেন, ”এক দিক নিয়ে আমাদের সুবিধে হবে। ওরা সুইজারল্যান্ড বা বেলজিয়াম নয়। অ্যাটাকে যখন আসবে, সবাইকে নিয়ে ওপেন আসবে। জায়গাটা কালকে বেশি পাওয়া যাবে।”

    শুনে টোস্টাওয়ের কথাটা মনে পড়ে গেল। ‘হোয়াইট পেলে’ নামে নিজের সময়ে খ্যাত টোস্টাও থাকেন বেলো হরাইজন্তেয়। কাল এখানকার কাগজে নিজের কলামে তিনি লিখেছেন, ‘মেসি আর নেইমারের কথা ভাবলে আমার খারাপই লাগে। সত্তর দশকে খেললে ওরা আরও বড় স্টার হত! এখন তো ফুটবলে জায়গাই পাওয়া যায় না। তার মধ্যেই ওরা যেভাবে খেলা তৈরি করে!’

    শহরের এক ফুটবল-উৎসাহী তর্জমা করে দিচ্ছিলেন পর্তুগিজ থেকে টোস্টাওয়ের কলাম। এক জায়গায় তিনি রীতিমতো বিলাপই করেছেন, এখন মিডফিল্ডে খেলার জন্য ফুটবলার লাগছে না। ভাল অ্যাথলিট সঙ্গে ফুটবল সেন্স আছে, এ রকম থাকলেই চলবে। শর্ত হল, অবিরাম গোটা মাঠ দৌড়ে ট্যাকল করে যেতে হবে আর ম্যাচ পিছু ১১ কিলোমিটার করে দৌড়োনোর স্ট্যামিনা থাকতে হবে।

    এটা শুনতে শুনতে আরও মনে হচ্ছে মেসির সতীর্থরা সাও পাওলোয় এবার যে ওপেন স্পেস পাবে বলে ভরসা করছে, সেটা আদৌ পাবে? স্নাইডার, রবেন আর ফান পার্সিদের মতো ডিফেন্স কচুকাটা করা আক্রমণ এই প্রতিযোগিতায় আর্জেন্তিনা দেখেনি তো নিশ্চয়ই। এর সঙ্গে কোচ লুই ফান গলের মস্তিষ্ক। এক-এক জন কোচ এক-এক ভাবে অপারেশন মেসি সম্পন্ন করতে চেয়েছেন। এক-আধ জন সফল হয়েছেন। বেশিরভাগই হননি। হলে আর্জেন্তিনা চব্বিশ বছর পর ২০১৪-এ সেমিফাইনাল খেলত না!

    মেসি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আছেন যথাসম্ভব। ডি’মারিয়াকে খোয়ানো আর্জেন্তিনা আপাতত অ্যাগেরোর প্রত্যাবর্তনী গতির দিকে তাকিয়ে। সামনে অ্যাগেরো, হিগুয়েনরা গতি তুলবেন আর একটু পিছিয়ে মার্কারের আড়ালে খেলতে চাইবেন মেসি! চলতি বিশ্বকাপে মেসি যা খেলছেন তাতে এক-এক সময় মনে হচ্ছে, হাতিবাগানের অফিস টাইমের ভিড় বাসের মধ্যেও ড্রিবল করতে করতে চলে যেতে পারবেন। মেসি রুটটাই খুব সঙ্কীর্ণ জায়গা দিয়ে যাওয়ার মতো করে যেন তৈরি!

    প্রশ্ন হল, সেই এক চিলতে জায়গাটা তাঁকে বুধবারের ভয়ঙ্কর প্রতিদ্বন্দ্বী দেবে? আর্জেন্তিনা সরকার বর্তমানে ঋণের দায়ে জর্জরিত। তাদের অর্থ উপদেষ্টা মোটেও সাও পাওলো উড়ে আসছেন না। বরং গত কাল নিউ ইয়র্ক পৌঁছেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রককে বোঝাতে যে, প্লিজ এখনই আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন না। ঋণ শোধের আরও কিছুদিন সময় দিন।

    মার্কিনরা সহৃদয় হলেও হতে পারে। নেদারল্যান্ডস হবে এমন কোনও পূর্বাভাস ভবিষ্যতদ্রষ্টা হাতি নেলিও করেনি।

    তা হলে আর দুর্যোগের দিনে সেই মেসি-মন্ত্র প্রাণপণ জপে যাওয়া ছাড়া নীল-সাদা জার্সির উপায় কী-ই বা খোলা থাকল!

    সাও পাওলো, ৯ জুলাই

    টাইব্রেকারে স্বপ্নের শেষ সিঁড়িতে মেসিরা

    কে জানত একশো কুড়ি মিনিটের পর বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের চূড়ান্ত নায়ক হয়ে দেখা দেবেন সের্জিও রোমেরো! আর্জেন্তিনা গোলকিপার বিশ্বকাপের ভরা গোলকিপারদের বাজারে কোনও কলকেই পাননি। কিন্তু তাঁর টাইব্রেকারে অব্যর্থ দুটো গোল বাঁচানোই লিওনেল মেসিকে তুলে দিল বিশ্বকাপ স্বপ্নের শেষ সিঁড়িতে।

    মেসি থেকে শুরু করে আর্জেন্তিনার চার জন কিকার গোল করলেন। কমলা জার্সির সেখানে দুটো পেনাস্টি চারটেতে নষ্ট। নেদারল্যান্ডস কোচ ম্যাচ পেনাল্টিতে যেতে পারে জেনেও তিন তিনটে বদলি আগেই কেন করে নিলেন? ব্রাজিলীয় ডিফেন্সের বেলো কেলেঙ্কারির মতোই ফান গলের কোচিং জীবনে প্রশ্নটা এ বার সঙ্গে ঘুরবে।

    তার ঘণ্টাখানেক আগের ছবি। হেড করতে ওঠা এক আর্জেন্তিনীয় যখন চোট পেয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। মাঠে উদ্বেগের ছায়া নীল-সাদা জার্সির মধ্যে। স্ট্রেচার আনা হয়ে গিয়েছে। তখন মনে হল আর্জেন্তিনার এই এতক্ষণের উদিত সম্ভাবনাটা সাও পাওলোর কংক্রিটওয়ালা বাড়িগুলোর তলায় চাপা পড়ে গেল। তাঁর পদবির আদ্যক্ষর ‘এম’ এবং তিনি ছাড়া আজকের আর্জেন্তিনাকে রক্ষা করবে কে?

    এম-এ মেসি! একদম নয়! এম-এ মাসচেরানো! আর্জেন্তিনাকে প্রথম মিনিট থেকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কাল এস্তাদিও মিনেইরোর ব্রাজিলের দেখা ভয়ঙ্কর ভূতের ছবিটা একেবারেই দেখতে চায় না। আর সেই লাতিন আমেরিকান প্রকল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় যে সামনের চুল পাতলা হয়ে যাওয়া জাভিয়ের মাসচেরানো।

    খেলা শুরুর ঘণ্টা দুই আগে থেকে হঠাৎ বৃষ্টি। নটিংহামে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি আজ ব্যাট করার সময় এই পরিবেশ আশা করতে পারতেন। কিন্তু ব্রাজিলে দুম করে ইংলিশ আবহাওয়া, ঝিরঝিরে বৃষ্টি আর তাপমাত্রা কমে যাওয়া তো আচমকাই হয়। আজও কি তা হলে আচমকা কিছু ঘটতে যাচ্ছে?

    আরও বেশি করে কি তা হলে খেলা শুরুর আগেই অ্যাডভান্টেজ কমলা-জার্সি? রবার্তো কার্লোসকে জিজ্ঞেস করায় তিনি দু’হাত নেড়ে এমন ভঙ্গি করলেন যেন আমার দেশ নেই। আমি আর কোনও কিছু নিয়ে ভাবছি না। ঠিক ছাব্বিশ দিন আগে এই এরিনা দি সাও পাওলোয় পৃথিবীতে হলুদের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত দেখেছি। খোলা আর ঢালু গ্যালারির ওপর থেকে নীচ অবধি ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে হলুদ জার্সি। খেলা শুরুর আগে দি’স্তেফানোর জন্য নীরবতা পালন হলে কী হবে। মনে হচ্ছে ১-৭-এর জন্যই মৌনপালন হচ্ছে।

    দ্রুত দেখা গেল আর্জেন্তিনা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না রক্ষণ নিয়ে। দুই স্টপারের সামনে মাসচেরানোকে রাখাই শুধু নয়, ক্রমাগত তাদের ফরোয়ার্ড নীচে নামছে। এমনকী মেসিও। রবেনরা যে আগুনে গতিতে স্পেনকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেই ফাঁকা জায়গাটায় তাঁদের দিচ্ছিল না মেসির টিম! যত পারছে বল নিজেদের মধ্যে রেখে দিচ্ছে। বল নিয়ে বিপক্ষ ঘোরার আগেই কড়া ট্যাকল করছে।

    সাবেয়ার এই আর্জেন্তিনাকে প্রথমার্ধে দেখে তখন মনেই হচ্ছে না যে বেলোয় কালকের রাতের পর তারা আরও আন্ডারডগ বনে গিয়েছে। টুর্নামেন্টে তখনও তাদের সেরা ম্যাচটা খেলছে এবং মেসি মোটেও একক হয়ে ফুটছেন না। বরং মনে হচ্ছে তিনি বেশ চাপের মধ্যে। দু’জনকে কাটিয়ে তিন নম্বর লোকের কাছে আটকে যাচ্ছেন। ফ্রিকিক বা কর্নারে মেসিচিতো ধার নেই।

    রবেন, স্নাইডার আর ফান পার্সিরা চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে তেজিয়ান ফরোয়ার্ড লাইন। জার্মানদেরও আগে। এতক্ষণ তাঁদের বলই ধরতে দিচ্ছিলেন না মাসচেরানোরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি থেকে ডাচরা প্রতি-আক্রমণে উঠতে শুরু করল। ফান পার্সি দুর্দান্ত একটা ব্যাকভলিও মেরেছিলেন। অল্পের জন্য সেটা বারের ওপর দিয়ে উড়ে গেল।

    মাঠে হাজির তেষট্টি হাজার দর্শক। বাংলা কথা, বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে সাত হাজার টিকিটে লোক আসেনি। অথচ ম্যাচ হিসেবে বেলো সেমিফাইনালের চেয়ে অনেক উচ্চচাঙ্গের, অনেক ট্যাকটিক্যাল। মডার্ন বিশ্ব ফুটবলে গতি এসে জমির হাহাকার কোন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে তার প্রকৃষ্ট নমুনা বুধবারের এরিনা সাও পাওলো!

    শেষ মিনিটে রবেন ছ’গজে ঢুকে পড়ে অব্যর্থ গোল করতে যাচ্ছেন। স্লাইডিংয়ে বাঁচিয়ে দিয়ে গেলেন সেই মাসচেরানো। তাঁকে দেখে তখন মনে হচ্ছে জার্মানির হয়ে পুরোনো সোয়াইনস্টাইগার। ওই স্লাইডিং ট্যাকলটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট না অতিরিক্ত সময় অন্য কিছু বলবে, তখন গভীর সাসপেন্সের মধ্যে।

    ম্যাচ শেষে মেসিরা যখন ড্রেসিংরুমে ঢুকে গিয়েছেন, রোমেরোকে দেখলাম একা মাঠে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের অভিনন্দন কুড়োচ্ছেন। আজ আসলে আন্ডারডগদের দিন। মেসি বা রবেনের মতো মহানায়কদের নয়।

    সাও পাওলো, ১০ জুলাই

    মারাদোনার অপমানের জবাব দিতে তৈরি টিম মেসি

    রাইট অফ প্যাসেজ হল— তিন তলার বড় ঘরের চিলেকোঠা টাইপের এক চিলতে জায়গা। সেখানে একটা টেপ চলছে দুপুরেও। রোজ যেমন চলে। মারাকানা ফাইনালে ব্রাজিলের চৌষট্টি বছর আগে হেরে যাওয়ার সেই চিরজখমি ফিল্ম ক্লিপিং।

    কিন্তু বৃহস্পতিবারের পরিস্থিতিটা দেখা গেল একেবারে আলাদা। মুজো দো ফুবল— ব্রাজিলের সরকারি ফুটবল-জাদুঘরে যে দর্শনার্থী হয়ে ঢুকে পড়েছে একদল আর্জেন্তিনীয়। তারা জাদুঘরে এসে কর্মীদের জিজ্ঞেস করছে, রাইট অফ প্যাসেজ এতটুকু ছোট জায়গায় কী করে হবে? তা হলে বেলোর ১-৭-টা আসবে কোথায়? এদের ব্যঙ্গের সামনে দাঁড়িয়ে জাদুঘর কর্মীরা উত্তেজিত না হয়েই বোঝানোর চেষ্টা করলেন, ওটাও আসবে। তবে পরের বছর।

    সামনে একটু এগিয়ে ফ্রেমে বাঁধানো পেলের সত্তর সালের বিশ্বকাপ খেলা দশ নম্বর জার্সি। এরা বলছে মারাদোনা কোথায়? মহিলা তখনও ঠান্ডা মাথায় বোঝানোর চেষ্টা করছেন, এটা ব্রাজিলের সরকারি ফুটবল-জাদুঘর। আমরা ব্রাজিলীয় ফুটবলারদেরই এখানে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। যদিও মারাদোনার স্মরণীয় সব গোলের টেপ সব সময় চলে। পাশের ঘরটায় এলেই দেখতে পাবেন। কিন্তু এরা অনড়, আরে সের্জিও রোমেরোর গ্লাভস জোড়া চেয়ে রাখুন। ফাইনাল জিতে ও না হয় এখানে পাঠিয়ে দেবে।

    বিশ্বকাপ ফাইনালে দল পৌঁছে যাওয়ার পর যেন আরও অদম্য হয়ে উঠেছে ব্রাজিলে আসা মেসির দেশের সমর্থকেরা। মনে হচ্ছে আগামী ক’দিন এদের জন্য রিও আর্জেন্তিনীয় কলোনির চেহারা নেবে। ব্রাজিলীয় জাদুঘরে যে ভিড়টা পেলাম তারা কেউ কেউ এক সময় নিউ ইয়র্কে কাটানোর জন্য ইংরেজি বলতে পারেন। রোববারের ফাইনাল নিয়ে নিরন্তর আলোচনাও করে যাচ্ছেন। কিন্তু মানসিক ভাবে এরা এমন গ্রহে যে বোঝানোর চেষ্টা করাটাই বোকামি, বাকি পৃথিবী কাপ ফেভারিট হিসেবে যে জার্মানদের বাছছে!

    আর্জেন রবেন যেমন ব্রাজিল বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফর্মার। কাল শেষ মুহূর্তেও মাসচেরানোর স্লাইডিং ট্যাকলটা না হলে গোল করে দিচ্ছিলেন। ম্যাচটা অতিরিক্ত সময়ে যেতই না। টাইব্রেকার তো দূরের কথা। তা রবেন মনে করেন, ফাইনালে মেসিদের কোনও আশা নেই। অবিসংবাদী জার্মানি। স্লাইডারেরও খুব অসহ্য লেগেছে কালকের আর্জেন্তিনীয় ট্যাকটিক্স। পেনাল্টি মিস করে আরও বেশি খাপ্পা তিনি অভিযোগ করেছেন, জেতার চেষ্টা না করে আর্জেন্তিনা ম্যাচটা টাইব্রেকারে নিয়ে যেতে বেশি উদ্যোগী ছিল। এই মনোভাব নিয়ে জার্মানদের সঙ্গে আর কত দূর যাবে?

    নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের অবশ্য মনে হচ্ছে, ফাইনাল যেতে না পারার চূড়ান্ত হতাশাতেই ডাচ তারকারা এ সব বলছেন। কাল ম্যাচে অনেক বেশি আক্রমণ তো মেসির আর্জেন্তিনাই করেছে। তা মেসি যতই নিষ্ক্রিয় থাকুন। আর তাঁকে ছিয়াশি নয়, ক্রমাগত নব্বই বিশ্বকাপের মারাদোনা দেখাতেথাকুক। গোটা ম্যাচে ফ্রিকিক গোলকিপারের হাতে মারা আর অতিরিক্ত সময়ের আগে উদ্দীপ্ত টিম টক দেওয়া ছাড়া মেসি একটাই কাজ করেছেন। খেলার শেষ দিকে রাইট উইং থেকে অনবদ্য সেন্টার ভাসিয়েছিলেন। যেটা পনেরো গজের ভলিতে ঠিকঠাক রাখতে পারলেই গোল। ম্যাক্সি রদ্রিগেজ সেটারই টাইমিং গণ্ডগোল করে ফেলেন। এই রড্রিগেজের পেনাল্টিটাই চূড়ান্ত ৪-২ তফাত করে দেয়। ভলিটা লাগাতে পারলে তাঁকে পেনাল্টি কিকের যন্ত্রণা নিতেই হত না। আর এক বার সহজ হেড করলে গোল—ছয় গজ থেকে আর্জেন্তিনা নষ্ট করে।

    টাইব্রেকারের জন্য মেসিরা যে খেলছিলেন না, তার পরিষ্কার নমুনা রয়েছে। বরং যেটা পরিষ্কার হচ্ছে না, কাল ডাচদের হয়ে প্রথম পেনাল্টি মারতে কোন দু’জন অস্বীকার করেছিলেন? তাঁদের নাম কি রবেন আর স্নাইডার? সাংবাদিক সম্মেলনে এসে এই গররাজি হওয়ার খবরটা ফাঁস করলেন স্বয়ং কোচ লুই ফান গল। কাল রাত্তিরে এরিনা সাও পাওলোয় ফান গলের সাংবাদিক সম্মেলনে থেকে অবাকই লাগছিল।

    কত বড় বড় কোচ বিশ্বকাপে এসে হেরে চলে গিয়েছেন। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের নতুন কোচের মতো এত তিতকুটে মেজাজ কারও দেখিনি। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ঢুকে পড়ার পর ব্রিটিশ মিডিয়ার সঙ্গে তাঁর কী রকম যাবে, জানি না। তবে এ দিন যা নমুনা পাওয়া গেল সেটা যদি প্রোমো হয়, তা হলে নিয়মিত স্টোরি হবে! নাম না করে টিমের দু’জন তারকা সম্পর্কে এমন সাংঘাতিক অভিযোগ হানলেন। তার পর বললেন, তৃতীয় স্থানের জন্য খেলাটা একেবারে বোকা বোকা। কোনও মানে হয় না। ওটা জোর করে আমাদের খেলানো হচ্ছে। বাধা হয়ে যাচ্ছি। এরপর আবার বলেন, সের্জিও রোমেরোকে আমিই শিখিয়েছি কী করে পেনাল্টি আটকাতে হয়। আজ সেই গুরুমারা বিদ্যেটাই দেখাল। দ্রুত প্রশ্ন হল, তা হলে কি আর্জেন্তিনার জয়ের পিছনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কোচের শেখানো টেকনিক কাজ করেছে?

    এ বার প্রচণ্ড চটে গেলেন ফান গল। ”অত্যন্ত নোংরা মানসিকতা নিয়ে এই প্রশ্নটা করা হল। আমি তীব্র আপত্তি জানাচ্ছি।” সাংবাদিকরা দেখেটেখে হাঁ। বায়ার্ন মিউনিখে তাঁর প্রাক্তন সহকারী মেহরুট স্কোল তো সরাসরি অভিযোগ এনে বলেছেন, ফান গলের ভুল স্ট্র্যাটেজিই নেদারল্যান্ডসকে ফাইনালে উঠতে দিল না। বাকি ফুটবল-বিশ্ব অনেকটাই একমত যে মেসিকে আটকানোয় সফল হয়েও তিনি ট্যাকটিক্স তৈরিতে স্বভাববিরুদ্ধ এমন কিছু ভুল করেছেন যে, কমলা জার্সির দাপটটাই ম্যাচে ছিল না। সবচেয়ে আশ্চর্যের, ম্যাচ টাইব্রেকারে যাচ্ছে দেখেও তিন নম্বর বদলিটা করে ফেললেন কেন? টিম ক্রুল তো আগের ম্যাচটাই তাঁকে টাইব্রেকারে জিতিয়েছিলেন!

    জ্যাসপার সিলেসেন গোলকিপার হিসেবে যত ভালই হন না কেন, টাইব্রেকারের শরীরী ভাষাটা তাঁর নেই! টাইব্রেকারে গোলকিপারকে দস্যি হতে হবে। লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে এমন একটা বাতাবরণ তৈরি করতে হবে যে, কিকার কিক নিতে গিয়ে ভাববে, কোথা দিয়ে মারব? সব দিকই তো আটকানো। দুর্দান্ত রিফ্লেক্স নিশ্চয়ই চাই যেটা দেখিয়ে রোমেরো টিমকে ফাইনাল তুললেন। প্রথম শটটা বাঁ দিকে আর স্নাইডারের বেলা ডান দিকে ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু রোমেরোরও দাপুটে শরীরী ভাষা আছে। আর্জেন্তিনীয় পেনাল্টিগুলো চারটেই দারুণ মারা। তবু কোচ তাঁর পেনাল্টি রক্ষার সেরা স্ট্রোক বেঞ্চে রাখবেন কেন?

    বেঞ্চ লিখতে গিয়ে মনে পড়ে গেল, অ্যাঞ্জেল ডি’মারিয়াকে রিজার্ভ বেঞ্চে দেখা গেল। শুনলাম আজ বেসক্যাম্পে হালকা ট্রেনিংও তিনি করেছেন। মানে কী? ফাইনালে নামবেন নাকি? না জার্মানদের ওপর চাপ রাখছেন মেসিরা? বোঝা যাচ্ছে না। তবু এটুকু বেশ বোধগম্য যে আর্জেন্তিনা একক মেসি থেকে দলে এখন রূপান্তরিত। ডিফেন্সে দারুণ খেলছেন পাবলো জাবালেতা। কাল মুখ ফেটে রক্ত ঝরার পরেও মুখে ব্যান্ডেজ বেঁধে চালিয়ে গেলেন।

    ব্রিটিশ মিডিয়া এ দিন মেসির টিমকে উজ্জীবিত করাকেই প্রচারে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কিন্তু টাইব্রেকারের আগে রোমেরোকে টগবগে করে দেওয়াটা মাসচেরানোই করেন। রোমেরো গত বছর মোনোকোতে ছ’টা ম্যাচও পেয়েছেন কি না সন্দেহ। ব্রাজিল বিশ্বকাপও তাঁকে এমন কিছু আত্মবিশ্বাস দেয়নি। তিনি চাপে থাকতে পারেন বুঝে মাসচেরানো দৌড়ে যান। মাথায় মাথা ঠেকিয়ে বলে আসেন, যা বলে দিলাম তুই আগামী কয়েক মিনিটে পৃথিবীজোড়া নাম করে ফেলবি পেনাল্টি বাঁচিয়ে।

    মারাকানা থেকে ৩৭৬৮ মাইল দূরবর্তী। রিও-র মতোই অসামান্য রূপসী এক শহরে ঠিক চার বছর দশ দিন আগে লাঞ্ছনাটা এসেছিল। টমাস মুলারের গোল থেকে শুরু হয়েছিল। ব্যবধান গিয়ে দাঁড়ায় ৪-০। কিন্তু রোববার মনে হচ্ছে জার্মানরা কাগজে-কলমে ফেভারিট হয়েও মাঠে অনেক বেশি সংঘাতের মুখোমুখি হবে।

    ওটা ছিল মেসি নামক প্রিয়তম শিষ্যনির্ভর কোচ মারাদোনার আর্জেন্তিনা!

    এটা ক্যাপ্টেন মেসির আর্জেন্তিনা! টিম আর্জেন্তিনা!

    রিও, ১১ জুলাই

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান
    Next Article শয়তানের সন্তান – সৈকত মুখোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }