Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাজপাট – তিলোত্তমা মজুমদার

    তিলোত্তমা মজুমদার এক পাতা গল্প1633 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাজপাট – ১০১

    ১০১

    ডানা ভেঙে ঘুরে ঘুরে প’ড়ে গেলো ঘাসের উপরে;
    কে তার ভেঙেছে ডানা জানে না সে;-আকাশের ঘরে
    কোনোদিন—কোনোদিন আর তার হবে না প্রবেশ?
    জানে না সে; কোনো এক অন্ধকার হিম নিরুদ্দেশ
    ঘনায়ে এসেছে তার? জানে না সে, আহা,
    সে যে আর পাখি নয়-রঙ নয়—খেলা নয়—তাহা
    জানে না সে;—ঈর্ষা নয়—হিংসা নয়— বেদনা নিয়েছে তারে কেড়ে!
    সাধ নয়—স্বপ্ন নয়—একবার দুই ডানা ঝেড়ে
    বেদনারে মুছে ফেলে দিতে চায়; রূপালি বৃষ্টির গান,
    রৌদ্রের আস্বাদ
    মুছে যায় শুধু তার, মুছে যায় বেদনারে মুছিবার সাধ।

    .

    ফিরে আসছিল একা সে। একা। বিধুর বিষণ্নতায়। বুকের ভিতর তার বিচ্ছেদবেদনার ভার। বিচ্ছেদ, ভার লাঘবও করে দেয়। জমিয়ে তোলা যত ভারে নুয়ে পড়া মেরুদণ্ড দেয় সোজা করে। তবু, থাকে কিছু বিচ্ছেদজনিত যন্ত্রণা। তাকে এড়াবার সাধ্য নেই তার।

    সে ভাবছিল তার নিজেরই বলা কথা। সে বলেছিল, এ অভিমান নয় শুধু। তার চেয়ে বেশি কিছু। কিন্তু ব্যাখ্যা ছিল না তার কাছে। কেন ছিল না? তার তো সিদ্ধান্ত বিষয়ে কোনও দ্বিধা নেই। তবু কেন ছিল না? হৃদয়ের সত্যকে আশ্রয় করেছিল সে। উপলব্ধির সত্যকে। তবু ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এ কী! এ কি অস্পষ্টতা? এ কি জটিলতা? সে বলতে পারত না স্পষ্ট করে, সে কী অনুভব করে? সে কি সরাসরি দাবি করতে পারত না, ওই লোকটিকে দল থেকে বহিষ্কার করুন!

    বললে কী হত? রাসমোহন দত্ত পালটা যুক্তি সাজাতেন। ওই লোকটির ওপর রাসুদার বিপন্ন নির্ভরশীলতা কি বোঝেনি সে? বুঝেছে!

    তা ছাড়া এমন সংহারী শক্তি এই দলে ঝাঁকে ঝাঁকে আছে। সর্বস্তরে আছে। বহিষ্কারের দীর্ঘ তালিকা কোথায় ঠেকবে, কে বলতে পারে!

    পরম নিষ্ঠাবান, সৎ নেতা যাঁরা রয়েছেন আজও, কী ভেবে বহিষ্কারের দাবি তাঁরা তোলেন না? দলীয় স্বার্থ ভেবেই তো! প্রত্যেকটি মানুষ আলাদাভাবে জটিল। আলাদাভাবে সৎ বা অসৎ। প্রত্যেকটি মানুষ পৃথকভাবে একক সংগঠন। কোনও নির্দিষ্ট আদর্শের ছাঁচে তাদের আদল দেওয়া যায় মাত্র। সমগ্র আচরণ ও ব্যবহারবিধি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এ কথা মনে রাখতেই হয়। মেনে নিতে হয় বহু অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতিকারক আচরণ। বৃহত্তর স্বার্থের রক্ষার জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জনের সহজ তত্ত্ব। এ তত্ত্ব কার্যকরী কিন্তু গোল বাঁধে তখনই, যে-স্বার্থ ক্ষুদ্র ভাবা গিয়েছিল, তার ফলাফল ও পরিণতি যদি দাঁড়ায় গভীর ও সুদূরপ্রসারী। তবুও কোথায় একটা নির্ভরশীলতা থেকেই যায় অসৎ প্রকৃতির ওপর। তাড়াতে চাইলেও তাড়ানো যায় না। এই রাজনৈতিক বন্ধন—এখানে জট পাকিয়ে গ্রন্থিবদ্ধ হয়ে যায়, গ্রন্থি হয় জটিল।

    সত্য স্বচ্ছ। অস্পষ্ট নয়। সত্য সরল। জটিল নয়। তবু সত্যের রূপ ধরা পড়ে না অবিকল। কারণ সত্য স্বচ্ছ হয়েও অস্বচ্ছ, সরল হয়েও জটিল। কারণ সত্য একক নয়। একরৈখিক নয়। এক সত্যের মধ্যে জড়িয়ে থাকে আরও বহু সত্য। একাধিক সারল্যের সমাবেশে তৈরি হয় সত্যের দুর্বোধ্য জটিলতা।

    ভাবতে ভাবতে চলেছিল সে। পথের বাতিস্তম্ভগুলির তলায় তার ছায়া তাকে অনুসরণ করছিল। এখন প্রায় ঘুমন্ত এই আদি ব্রহ্মপুর ভূখণ্ড। প্রায়, কেন না, সকল ঘুমের মধ্যেও কোথাও ফুটে থাকে জাগরণ। কোনও পাখি জেগে থাকে। কিংবা কোনও নিশ্চুপ লোক। অথবা নিদ্রাহীন পাগল কোনও। যেমন, সে দেখেছিল, ধ্বস্ত ‘প্রথম পাঠ’ ইস্কুলের নীচে এক পাগল তরুণ, খানিক আগেই সিদ্ধার্থকে দেখামাত্র সে ছুটে এল। বলল—একটা খবর দিতে পারি আপনাকে।

    —কী!

    জিগ্যেস করেছিল সে। দেখছিল, সেই পাগল ইতস্তত তাকাচ্ছে চারদিকে। যেন-বা ভীত অস্থির। তার দেহের পরতে পরতে এখনও ময়লা বসেনি। শুধু রুক্ষতা আপাদমস্তক। আত্মীয় পরিবারের নজর এড়িয়ে সদ্য ঘরছাড়া বুঝি সে। সিদ্ধার্থ দেখছিল তাকে। সে বলেছিল- গোপন খবর। খুবই গোপন। ওরা যদি জানতে পারে, আমাকে খুন করে ফেলবে।

    —কারা? কী খবর?

    —বলব। আরেকদিন। এখন যাই।

    ফিসফিস করে বলেছিল কথা। মিশেছিল অন্ধকারে। এমত ব্যতিক্রমী জাগরণ পার হয়ে সে গৃহে প্রবেশ করছে যখন, এক আবাহন এল—সিদ্ধার্থ। শোনো।

    দাঁড়াল সে। এ কণ্ঠ তার নিত্যকার জানা নয়। তবু যেন পরিচিত লাগে। তখন অন্ধকার হতে বেরিয়ে আসছেন সেই স্বরের অবয়ব। একাকী। সিদ্ধার্থ দেখল, তিনি দেবেশ্বর সাধুখাঁ।

    ইতিমধ্যেই তাঁর দেহে এসেছে শীর্ণতা। মাথার চুলগুলি সম্পূর্ণ সাদা হয়ে গেছে। চোখের নীচেকার কালিমা পথবাতির আলোর নীচে স্পষ্টতর, যা দেখলে বেদনা জাগে, ভয় হয়, চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফিনকি রক্তের ধারা। সিদ্ধার্থ তাঁকে দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। বলে—আপনি!

    দেবেশ্বর বলেন—এসেছি অনেকক্ষণ। রাসু এসেছিল, তাই আর ডাকিনি তোমায়।

    সে ত্রস্ত হয়। বলে—এতক্ষণ বাইরে রয়েছেন! ছি-ছি! এভাবে একা একা!

    —একাকীত্বে আমার আর ভয় নেই সিদ্ধার্থ। মারলে মারবে। ওই দেবতুল্য মানুষ যদি প্রকাশ্যে খুন হতে পারেন তা হলে আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কিছু নেই, এটা মেনে নেওয়া ভাল।

    —দেবেশ্বরকাকা, স্কুলে আপনি আমার বাবার সঙ্গে পড়তেন। আপনি আমার পিতৃতুল্য। সেই অধিকারে বলছি, এত উদাসীন হওয়া ঠিক হয়নি আপনার। চলুন ভিতরে চলুন।

    —চলো।

    দেবেশ্বরকে নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেল না সিদ্ধার্থ। বসল নীচেই। বসার ঘরে। সাবিত্রীকে যাতে বার বার দরজা খুলতে বন্ধ করতে না হয় তার জন্য চাবি নিয়ে বেরিয়েছিল সে। তবু তার সাড়া পেয়ে সাবিত্রী নীচে নেমে এলেন। কিছু লাগবে কি না জানতে চেয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। সিদ্ধার্থর, সাবিত্রীকে দেখলে মনে হয় এখন, তিনি কোনও স্নেহশীলা আত্মীয়াই বুঝি। দেবেশ্বর লেবু-চা চাইলেন এককাপ। সিদ্ধার্থও তা পান করার ইচ্ছে প্রকাশ করল। সাবিত্রী চলে গেলেন।

    দেবেশ্বর বললেন—তুমি জানো সিদ্ধার্থ আমি কী মানসিক অবস্থায় রয়েছি!

    —জানি কাকা।

    —পরপর দু’টো হত্যা সিদ্ধার্থ, আমি বিপর্যস্ত হয়ে গেছি। দাদার শোক সারাজীবনেও সামলে নিতে পারব না। তবু, সময় মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু জানো। ভেবেছিলাম, সময়ের পরতে পরতে সমস্ত ক্ষোভ, শোক, যন্ত্রণা চাপা পড়ে যাবে। সময়ের দিকে তাকিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে! এরই মধ্যে উনি চলে গেলেন! মানুষ বোধহয় ক্রমশ আরও নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছে। আদিম হিংস্রতা ফিরে আসছে। দাদার মৃত্যুর প্রতিবাদে যে-মিছিল হয়েছিল, তাতে দল নির্বিশেষে লোকে যোগ দিয়েছিল। কেঁদেছিল জানো। লোকে কেঁদেছিল। আমার মনে হচ্ছিল, আমি একা নই। কত লোক ভালবাসে দাদাকে! আবার একই দেখলাম। রাজীবজিকে আমরা ব্যক্তিগত পরিচয়ে জানি। দাদা ওঁকে গভীর স্নেহ করতেন। বলতেন, ‘রাজীবের মধ্যে একজন সত্যিকারের শিক্ষিত পরিশীলিত মানুষকে খুঁজে পাই আমি। ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চ ওঁর জায়গা নয়।’ সেই রাজীব—কী বীভৎসভাবে খুন হয়ে গেলেন। ওঁর জন্যও আমি দেখেছি লোকে কাঁদছে। যত অরাজনৈতিক মানুষ, তাঁরাও কাঁদছেন। যে-সব মহিলারা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে ভাবেন না পর্যন্ত, তাঁরাও এমনকী রাজীবকে স্মরণ করে কেঁদেছেন দেখেছি আমি। ওই সৌম্যকান্তি আধুনিক মনস্ক পুরুষ, ভারতবাসীর হৃদয়ে তিনি ধীরে ধীরে নেতার আসন গড়ে নিচ্ছিলেন। চলে গেলেন। বড় ফাঁকা লাগছে। কংগ্রেসের পক্ষে এই দু’টি ক্ষতি অপূরণীয়। মাঝে মাঝে সংশয় দেখা দিচ্ছে। মনে হচ্ছে, কংগ্রেস কি পুরনো মহিমায় পুনরুজ্জীবিত হতে পারবে? পুনরুজ্জীবনের জন্য প্রচণ্ড শক্তি দরকার। এত বিপর্যস্ত আমি, এত শঙ্কিত, তবু আমি তোমার কাছে এসেছি এই রাত্রে। কেন জানো?

    —না কাকা।

    —সিদ্ধার্থ, তোমার মধ্যে প্রতিবাদের আগুন আছে। সে আগুনকে আমি শ্রদ্ধা করি। দাদার নৃশংস হত্যার বিরুদ্ধে তুমি যে-প্রতিবাদ করেছ সিদ্ধার্থ, আমরা কেউ তার কিছুমাত্র পারিনি। পুরো ঘটনার যথাযথ তদন্ত অবধি হল না এখনও। আমরা তা করাতে পারলাম না।

    সিদ্ধার্থ নীরব। স্থির শুনছে। দেবেশ্বর বলছেন—দাদা তোমাকে চিনেছিলেন। বলতেন, ছেলেটার মধ্যে আগুন আছে। একদিন ও জাতিকে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু সি পি আই এম ওর দল নয়। কারণ সি পি আই এম তরুণ নেতৃত্বকে সহজে স্বীকৃতি দেয় না। এই দলের নেতৃত্ব দেয় পক্ককেশ তাত্ত্বিকরা। যতদিনে ওর নেতৃত্বের সুযোগ আসবে, ততদিনে ওর আগুন নিভে না যায়।

    সিদ্ধার্থ প্রতিবাদ করে এখানে। বলে—তা কেন? সমস্ত জেলায় সি পি আই এম-এর যুবনেতারা রয়েছেন। আমার তো মনে হয়, এই দল একেবারে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের থেকে নেতৃত্বক্ষমতা বেছে নিয়ে সংগঠিত করতে যতখানি তৎপর, ততখানি আর কেউ নয়।

    —একটা বিশেষ স্তর পর্যন্ত। তারপর? রাজ্য স্তরে ক’জন আছেন?

    —অনেকেই আছেন। স্বপ্ন সোম, ধীরাজ সরকার, খায়রুল করিম, সুমন চক্রবর্তী, শুদ্ধময় সেনগুপ্ত।

    —এঁরা কি সেই অর্থে তরুণ?

    —না। তবে বৃদ্ধও নন। এমনকী প্রৌঢ়ও নন কেউ। যথেষ্ট দায়িত্ব এঁদের দেওয়া হয়েছে।

    —না। হয়নি। যাঁদের নাম করলে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় কে জানো?

    —কে?

    —শুদ্ধময় সেনগুপ্ত। কিন্তু দেখো, ওঁকে কোন কোন দপ্তর দেওয়া হয়েছে? সবচেয়ে গুরুত্বহীন, সবচেয়ে কম কাজের জায়গা। সে যাই হোক, এই নিয়ে তর্ক করতে আমি তোমার কাছে আসিনি। আমি জানি তুমি নিজেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলছ। সতেরোই মে যে-মিছিল তুমি করেছ, তা ঐতিহাসিক। এ মিছিল তুমি কেন করলে? এ কি তোমার শক্তি প্ৰদৰ্শন?

    —না। এ আমার কাজ।

    —আমার বিশ্বাস, এ এক বিচ্ছিন্ন সাফল্য। তোমার ক্ষমতা ধরে রাখতে গেলে, তা প্রয়োগ করতে গেলে, তোমাকে কোনও দলে যোগ দিতে হবে। দলীয় পরিকাঠামো ছাড়া কাজ করা যায় না। একথা কি তুমি ভেবে দেখেছ?

    —ভাবছি।

    —সিদ্ধান্ত নিয়েছ কিছু?

    —না।

    —তুমি কংগ্রেসে যোগ দাও সিদ্ধার্থ।

    সাবিত্রী চা রেখে গেলেন। দু’টি মানুষ নিঃশব্দে চুমুক দিল চায়ে। মুখোমুখি চেয়ারের মাঝখানে ধ্যানী বুদ্ধের মতো বসে রইল নীরবতা। অবশেষে দেবেশ্বর বললেন – বলো, সিদ্ধার্থ।

    সিদ্ধার্থ সোজা তাকাল দেবেশ্বরের চোখের দিকে। পুরু কাচের অন্তরালে চিকিৎসকের দু’টি মোহময় চোখ। তার নীচে জমে দুঃখের হতাশার নিবিড় জমাট চাপ চাপ অন্ধকার। কোনও চিকিৎসায় আর তা সারানো যাবে না। কোনও প্রসাধনী ঘষে তা তুলে ফেলা যাবে না। এই সবই গভীর নিরিখ করে সে স্পষ্ট বলল—আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি পারব না।

    —কেন নয়? সিদ্ধার্থ? তোমার চারপাশ নিঃশত্রু নয়। একা তুমি কী করবে? কংগ্রেস একটি জাতীয় দল। ঐতিহাসিক দল। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের এই কোণঠাসা অবস্থায় তোমাকে পেলে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি।

    —আমাকে ক্ষমা করবেন।

    —ভেবে দেখো সিদ্ধার্থ। তুমি সি পি এম ছেড়েছ। সকলেই ভাবছে তুমি কংগ্রেসে যোগ দেবে। এমনকী পবিত্র জোয়ারদার পর্যন্ত তোমাকে দলে নিতে আগ্রহী। কিন্তু আমার বিশ্বাস বি জে পি-তে তুমি কখনও যোগ দেবে না।

    —আপনি ঠিকই বুঝেছেন।

    —তা হলে আর জায়গা কোথায় বলো? কংগ্রেসে তোমার যোগ দেওয়া নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। যেমন আসাদুর চায় না তুমি কংগ্রেসে আসো। কিন্তু আমরা অনেকেই চাই। এ নিয়ে জনমতও আমাদেরই পক্ষে। তোমার বাধা কোথায় সিদ্ধার্থ? যে-দল তঞ্চকতা করে ক্ষমতায় আসে, জোচ্চুরি করে, রিগিং করে হত্যা করে গণতন্ত্রকে, সেখানে তোমার মতো সৎ রাজনৈতিক কর্মীর স্থান কোথায়? সেই দল তুমি সর্বাংশে ছাড়তে পারছ না কেন?

    সিদ্ধার্থ সোজা হয়ে বসে। ভিতরে ভিতরে বোধ করে উত্তেজনা। বলে— সর্বাংশে ছাড়া সম্ভব নয় কারণ আমি যা শিখেছি, যা জেনেছি, তা ওই দলেই। তত্ত্বগতভাবে বা আদর্শগতভাবে দলের সঙ্গে আমার কোনও বিরোধ নেই। আমার প্রতিবাদ অন্য জায়গায়। সেটা আমি এখন ব্যাখ্যা করব না। কিন্তু আপনার কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলি, রিগিং করে সার্বিক জয় লাভ করা যায় না। জয়ের জন্য সাংগঠনিক জোর লাগে। আপনাদের তা নেই। বিরোধী দল হিসেবে আপনারা ব্যর্থ। যেমন পশ্চিমবঙ্গে শাসকদল হিসেবেও আপনারা ব্যর্থই ছিলেন। এ বারের কথাই ধরুন না। এবার তো রিগিং আটকানো হয়েছিল এখানে। তা হলে আপনারা আসতে পারলেন না কেন? তা ছাড়া রিগিং কারা শুরু করেছিল দেবেশ্বর কাকা? কংগ্রেস করেনি? কংগ্রেসের প্রদর্শিত পথেই চলছে আজকের অসততা। প্রকাশ্যে গুন্ডা দিয়ে ভয় দেখাত না আপনাদের নেতারা? সত্তরের দশককে ভুলিনি আমি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কোনও দিনই ওই সময়ের ইতিহাস ভুলবে না।

    —তখন তোমার বয়স কত সিদ্ধার্থ?

    —তেষট্টিতে জন্ম আমার। সত্তরের দশকে আমার বয়স দশ পেরিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাতে কী? অত্যাচারের ইতিহাস জানতে গেলে শতাব্দীপ্রাচীন হওয়ার দরকার হয় না। কী দিয়েছিল তখন কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গকে? সেমি-ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিলেন আপনারা তখন। হাজার হাজার কমিউনিস্টকে হত্যা করেছেন। তার জন্য গ্রেপ্তার হয়নি একজনও। বাহাত্তরের বিধানসভা নির্বাচনে কী পরিমাণ রিগিং হয়েছিল মনে করে দেখুন। জরুরি অবস্থার সময় মানুষের জীবনের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন আপনারাই। হাজার হাজার মানুষকে জেলে পুরে কোনও বিচার ছাড়াই ফেলে রেখেছিলেন। সেইসব ভুলি কী করে বলুন?

    —তুমি এক দিক থেকে দেখছ সিদ্ধার্থ। তা ছাড়া কংগ্রেসের অবস্থান এখন অনেক পালটেছে।

    —কিছুই পালটায়নি। নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে আপনারা দুর্বল হয়ে পড়েছেন, তাই। নইলে মনে করে দেখুন মাত্র দু’বছর আগে পাশের রাজ্যে কী হয়েছিল।

    —কীসের কথা বলছ?

    —কমিউনিস্ট পার্টি করার অপরাধে উমা মৌলিক নামে এক মহিলাকে নগ্ন করে হাঁটানো হয়েছিল প্রকাশ্য রাস্তায়। কারা করেছিল? কংগ্রেসেরই সমর্থক তারা। সমাজবাদী পার্টির উত্থান হওয়ায় ওখানে কংগ্রেস এখন কোণঠাসা। কিন্তু তাতে কী!

    —কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে তুমি দলীয় চরিত্র বলতে পারো না।

    —না। পারি না। কংগ্রেসে পরমেশ্বর সাধুখাঁর মতো নেতাও ছিলেন। এগুলো সবই বললাম আপনার সি পি এম-কে সমালোচনা করার জবাব হিসেবে। এবং এটা বোঝাবার জন্য যে আমি দল ছেড়ে দিয়েছি মানেই আমি কংগ্রেসে বা বি জে পি-তে যোগ দিতে যাচ্ছি না।

    —তোমাকে আর কিছুই বলার মুখ নেই আমার। কিন্তু সিদ্ধার্থ, ভেবে দেখো, এই যে তুমি মিছিল করলে, তোমার মিছিলের সাফল্য কিন্তু এ জন্যই যে, তুমি সি পি এম ছেড়েছ এবং মানুষ তোমার মধ্যে কংগ্রেসে যোগদানের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে। আমি নিশ্চিত, কংগ্রেসের সমর্থকরাই তোমার মিছিলকে সফল করেছিল। অতখানি আনুগত্যের সঙ্গে মিছিল করতে পারে একমাত্র কংগ্রেসিরাই।

    সিদ্ধার্থ চুপ করে রইল। এরকম একটি দাবি রাসুদাও করেছিলেন বলে মনে পড়ল তার। সে প্রতিবাদ করল না। দলমত বিচার করে সে মিছিলের আহ্বান জানায়নি। সে ছিল মানুষের জন্য মানুষের মিছিল। জীবনের জন্য মানুষের মিছিল।

    তার নীরবতাকে অগ্রাহ্য করে দেবেশ্বর বললেন— দাদার হত্যা আমাকে নতুন দায়ে ফেলেছে সিদ্ধার্থ। মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না করে আমার মুক্তি নেই। আগামী লোকসভা নির্বাচনে তুমি নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়াও। প্রচারের জন্য সমস্ত খরচ আমি দেখব। আমি জানি তুমি জয়ী হবে। এখুনি কংগ্রেসে যোগ না দিয়ে, সেইসময় কংগ্রেসকে সমর্থন করবে তুমি

    সিদ্ধার্থ হাসল। বলল—ভেবে দেখব।

    —ভাববে?

    —নিশ্চয়ই! আমার এখন অনেক ভাবনা।

    —তোমার এ কথা কি আমি সম্মতিসূচক ধরে নিতে পারি?

    —তা হলে আর আমার ভাবনার অবকাশ কী রইল?

    —উঠি তা হলে?

    —চলুন এগিয়ে দিই আপনাকে।

    —না না। আমি একাই চলে যাব। এমন গভীর রাত্রে কতদিন যে একা একা হাঁটিনি।

    —আমি যাচ্ছি আপনার সঙ্গে। আপনি না বলবেন না।

    —বেশ। চলো।

    আবার এক নীরব পথ চলা। যেন একই নাটক অভিনীত হয়ে চলেছে প্রহরে প্রহরে। আপন দুয়ারে পৌঁছে দেবেশ্বর বলছেন—তোমার বাবা আমার বন্ধু ছিল।

    —জানি।

    —ওর ওই ভয়ংকর পরিণতির কথা ভাবলে কষ্ট হয় আমার।

    সিদ্ধার্থ চুপ করে থাকল। কেন এসব কথা? ওই পরিণতিকে সে স্মরণ করতে চায় না।

    দেবেশ্বর বলছেন তখন—তুমি আমাদের স্নেহের পাত্র। আবার শ্রদ্ধারও পাত্র তুমি। তোমার মঙ্গল হোক।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার
    Next Article বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    Related Articles

    তিলোত্তমা মজুমদার

    শামুকখোল – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    অর্জুন ও চারকন্যা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    ঝুমরা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    নির্জন সরস্বতী – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    কয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }