Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাজপাট – তিলোত্তমা মজুমদার

    তিলোত্তমা মজুমদার এক পাতা গল্প1633 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাজপাট – ৯২

    ৯২

    আশ্বিন মাসেত ঢাক-ঢুল
    দুগগা পূজার ঘটা।
    ধানের ক্ষ্যাতে হুলাইয়া পড়ে
    সুনা রোদের ছটা।।
    সুনা জামাই আইব ঘরে
    ভাইরে কইছে মায়।
    হলুদ মাখিয়া সুনা বন্ন
    মানিয়া লাইছি গায় ।।
    সুনার পিতিমা কইবান সাধু
    রাইতে একলা ঘরে।
    আশায় আশায় চাইয়া থাকি
    দেহ কেমন করে ।।
    চাহিয়া চাহিয়া দিন গেল
    রাতি পোহাইল।
    সুনার বন্ন কালা করলাম
    সাধু না আসিল ।।

    কলাবিবির বন পেরুতেই তাদের চোখ জুড়িয়ে দিল ভরা ফসলের ক্ষেত। পড়ন্ত বেলার নরম রোদ্দুর বিছিয়ে আছে দিগন্ত জোড়া সবুজ ক্ষেতে। এমন শস্য-শ্যামল গ্রাম দেখে বিশ্বাস করা যাবে না এ হল অনাবৃষ্টির বর্ষ। গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে হা-হা করছে নগ্ন ক্ষেত। স্তব্ধ বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে গেল তারা। ক্ষুধার্ত ছিল সকলেই, ক্লান্ত ছিল। কিন্তু সেসবের কথা তারা ভুলে গেল মুহূর্তে ওই শ্যামল আঘাতে। এই সুফলা ক্ষেতের জন্য তারা একেবারেই তৈরি ছিল না। আকুল উদাসী অনাবাদি রুক্ষতা দিকে দিকে ছড়িয়ে আছে, এই জানবার পর, কোনও আদিম, বিচ্ছিন্ন, ডাকাতিয়া গ্রামে এই সপ্রাণ শস্যের উদ্ভাস তাদের চমকিত করে দিল। বিস্ময়ে পুলকে তারা আবিষ্ট। বিস্ময় নেই কেবল দুলুক্ষ্যাপার। বৈরাগ্যের স্মিত ললিত নিরাসক্তিই যেন-বা তার চোখে-মুখে! সে তো জানতই, এই বিস্ময় পরতে পরতে উঠে আসবে। ধরা দেবে।

    দুলুক্ষ্যাপা ম্লান হাসল তাদের এমতাবস্থায়। বলল—এ গ্রামে জলের অভাব নেই। নদী দু’পাশে বলে, কালান্তর অঞ্চল বলে, জলস্তর খুবই ওপরে। অগভীর নলকূপেই কাজ চলে ভাল। এই অনাবৃষ্টির বৎসরেও এখানে জলের অভাব হয়নি। নলকূপে সেচন দিয়েছে।

    গ্রামের সীমানায় পৌঁছতেই কয়েকজন ঘিরে ফেলল তাদের। একজন বলল—তা ক্ষ্যাপা, এঁদেরই কথা বলেছিলে? এঁরাই আসবেন?

    —হ্যাঁ বাবা। এঁরাই।

    দুলুক্ষ্যাপা সকলের পরিচয় দেয়। সিদ্ধার্থকে সকলেই দেখে সম্ভ্রমের চোখে এবং অভিবাদন জানায়। দুলুক্ষ্যাপা বলে—কই, মুস্তাকিম শেখকে দেখছি না।

    একজন, জুলমত তার নাম, সে বলে – মুস্তাকিমভাই ঘরে আছে। তার ছ্যামরাডার বড় অসুখ।

    দুলুক্ষ্যাপা আক্ষেপ করে—আ হা হা! কচি ছেলে তার। কী অসুখ?

    —সে ধরা যাচ্ছে না। অসুখের মধ্যে এক আশ্চর্য অসুখ লেগেছে এ গ্রামে। গেল মাস হতে শিশুগুলানকে রোগে ধরছে। আর ফট করতেই মরে যাচ্ছে তারা।

    জাহিরুদ্দিন খাঁ নামে একজন ধমকে উঠল জুনামত মিঞাকে চুপ যা দেখি! বাবুরা এসেছেন শ্রান্ত ক্লান্ত না-খাওয়া। আর তুই যত দুঃসংবাদ দিতে লেগেছিস। সময় কি ফুরিয়ে যাচ্ছে নাকি? একটু আপ্যায়ন কর। জিরোতে দে। তা না।

    আফাজুদ্দিন মণ্ডল বলে—ঠিক কথা জাহিরভাই। চলেন বাবুরা। আগে বিশ্রাম নেন।

    খাওয়া-দাওয়া সারেন। তারপর কথা হবে।

    সকলে মিলে তাদের মুস্তাকিমের বাড়ির দিকেই নিয়ে যেতে থাকল। তাদের দেখামাত্রই ক্ষেত থেকে, এধার থেকে, ওধার থেকে বেরিয়ে আসছে লোকজন। ইতিমধ্যেই জনা পঁচিশের ভিড় জমেছে। সিদ্ধার্থ একবার জিগ্যেস করল—আমরা কোথায় যাচ্ছি?

    জাহিরুদ্দিন বলল—জি, মুস্তাকিম শেখের বাড়ি।

    সিদ্ধার্থ থমকে দাঁড়াল। বলল—তার তো ছেলের অসুখ। তার বাড়িতে অতিথি হওয়া কি ঠিক হবে?

    জাহিরুদ্দিন ম্লান হাসল। বলল—জি বাবু, এ গ্রামে এমন কোনও বাড়ি আপনি পাবেন না যেখানে অসুখ নাই। এখানকার সব মোকামেই রোগ-বালাই।

    আফাজুদ্দিন বলল—তা ছাড়া মুস্তাকিমভাইয়ের এমনই নির্দেশ আছে।

    সিদ্ধার্থ আর কোনও কথা বলল না। সে বুঝতে পারছে, মুস্তাকিম এ গ্রামের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

    সে দেখছিল, মোটামুটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এ গ্রাম। তেকোনার মতো পূতিগন্ধময় নয়। সে যত গ্রামে গেছে এ পর্যন্ত, তার অধিকাংশই বড় নোংরা। অপরিচ্ছন্ন। গুয়ে-গোবরে মানুষের অস্বাস্থ্যকর ঘেঁষাঘেঁষি বসবাস। এই গ্রামকে, সেই দিক থেকে, অবশ্যই বলা যাবে এক ব্যতিক্রম। শুধু যা তাকে আশ্চর্য করেছিল, অধিকাংশ মানুষেরই গায়ে-মুখে কালো কালো ছিটে ছিটে দাগ। এটাই কি এ গ্রামের অসুখ? সে বুঝতে পারছিল না। যার গাত্রবর্ণ ঘোর কালো, তারও এমনকী, সেই কালোর ওপর ফুটে উঠেছে দাগগুলি। চিন্তিত হয়ে উঠল সে। এ কীসের প্রকাশ? তার মনে হল, সে যেন জানে, শুনেছিল, কিন্তু মনে পড়ছে না কিছুতেই। বিস্মৃতির অন্ধকার হতে উঠে আসা এক তীক্ষ্ণ কালো কাঁটা বিঁধেই রইল তার চিন্তায়।

    .

    এবং মুস্তাকিম এসে দাঁড়াল তার আঙিনায়। অভিবাদন-প্রত্যভিবাদনের পালা শেষ করে সিদ্ধার্থ এবং মুস্তাকিম পরস্পরকে দেখল পূর্ণদৃষ্টিতে।

    সৃষ্টিকর্তা সমগ্র মহাকালের কোনও কোনও মুহূর্ত চিহ্নিত করে রাখেন তাকে ঐতিহাসিক করে তোলার জন্য। হতে পারে, এ তেমনই এক মুহূর্ত যখন সিদ্ধার্থ নামের পূর্ণ ছাব্বিশের হৃদয়বান যুবক পূর্ণদৃষ্টিতে তাকাল ঘোর তিরিশের স্বাস্থ্যবান যুবক মুস্তাকিম শেখের দিকে এবং মুস্তাকিম দ্বারা নিজেও নন্দিত হল।

    মুস্তাকিম মাঝারি উচ্চতার। চওড়া তার কাঁধ। ঘোর কালো গাত্রবর্ণে কোনও বাড়তি ছিট-ছিট নেই। গালের ঘন কালো চাপদাড়িতে তাকে দেখাচ্ছে কিছু-বা গম্ভীর। কিন্তু সিদ্ধার্থকে দেখে ঝকঝকে দাঁতে সে হাসল যখন, অপরূপ সারল্যে ভরে গেল অস্তিত্ব তার। নীলের ওপর কালো চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবিতে শোভিত তার নির্মেদ শক্তিমান দেহ। তাকে সার্বিক দেখামাত্র সিদ্ধার্থর মনে জন্মাল আস্থা একপ্রকার, প্রীতি একপ্রকার।

    এবং মুস্তাকিম সে, সিদ্ধার্থর ভিতরে পেল আলোর উপস্থিতি। এ আলো সততার, দৃঢ়তার, ভালবাসার। একপ্রকার বিরল আস্থা ও প্রীতি, যা প্রথম দর্শন মাত্রই পুরুষের প্রতি পুরুষের জন্মায় না, কারণ বিশ্বাসযোগ্যতার সকল লক্ষণ তারা পরস্পর যাচাই করে নিতে চায়, হৃদয়ানুভূতি গোপন রাখে এই বোধে যে অনভিব্যক্তই পৌরুষেয়, এতদসত্ত্বেও জন্মাল সিদ্ধার্থর প্রতি মুস্তাকিমেরও হৃদয়ে।

    কী এক প্রেরণায়, যেন কতকালের চেনা পরিজন ফিরেছে ঘরে এমন আবেগে, মুস্তাকিম শেখ আলিঙ্গন করল সিদ্ধার্থর সঙ্গে এবং একে একে অপর ক’জনের সঙ্গেও।

    এবং সিদ্ধার্থ নিজেও, অপূর্ব প্রশান্তিতে ভরে, অনায়াসে তুমি সম্বোধন করল মুস্তাকিমকে। বলল—তোমার ছেলে কেমন আছে মুস্তাকিমভাই?

    মুস্তাকিম হাসল। বলল— খোদাতায়ালার আশীর্বাদে ভাল আছে এইবেলা। ভাত খাবে।

    স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল উপস্থিত জনতা। মুস্তাকিম তাদের প্রিয়। তাদের প্রধান। তাদের ভাল-মন্দর নির্ভর। একটিই মাত্র ছেলে তার। বিবাহের অন্তত চার বৎসর পরে তার জন্ম। মুস্তাকিম আদর করে তার নাম রেখেছে জোনাকি। রাত্রির নিকষ আঁধারের ক্ষুদ্র দীপ সে। কিন্তু মুস্তাকিমের জীবনের দীপক। প্রাণের চিরাগ। এই অমূল্য প্রদীপের বয়স মাত্র চার।

    জোনাকিই থাকবে তার নাম? শেষ পর্যন্ত? এ প্রশ্ন করলে মুস্তাকিম হেসে বলে—না। সুন্নৎ করার সময় নাম পালটে দেব।

    —কী নাম রাখবে তখন?

    লোকে জানতে চায়।

    সে বলে—নাম রাখব সিরাজ। সিরাজুদ্দৌলা। শেখ সিরাজুদ্দৌলা।

    গ্রামের লোক লেগে গেল কাজ করতে। এদের কেউ দারুণ সাংঘাতিক ডাকাতের মতো দেখতে নয়। স্বাভাবিক, সাধারণ। তবে কয়েকজন খুঁড়িয়ে হাঁটছে লক্ষ করল সিদ্ধার্থ। স্নান করে খাওয়া-দাওয়া সারতে বিকেল গড়িয়ে গেল তাদের। আর পেটে দু’টি ডাল-ভাত পড়ামাত্র ক্লান্তির ঘুম নেমে এল শরীর জুড়ে। একখানি ছোট ঘরে পাশাপাশি শুয়ে পড়ল তারা।

    ঘুম যখন ভাঙল, সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। আকাশে উঠেছে শুক্লা দ্বাদশীর মস্ত চাঁদ। এখনও সে স্বর্ণময়। জ্যোৎস্নার বিস্তার এখনও সে ফোটায়নি ধরাভাগে। ইতস্তত ছড়ানো ঘরগুলির মধ্যে বিরাজ করছে শান্ত নৈঃশব্দ্য। একপাশে জঙ্গল ও একপাশে নদী থাকায় এই গ্রামকে মনে হয় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।

    ধুলামাটি হতে আরও কয়েকটি গ্রাম পেরিয়ে পশ্চিমে গেলে ভাগীরথীর দেখা মেলে। সে-ও নয় দূর এমন কিছু।

    অনাবৃষ্টির কারণে জলঙ্গীরও জল কম। তবু দক্ষিণের বাতাস কিছু জলো স্নিগ্ধতা এনে ছড়িয়ে দিচ্ছিল গায়ে। আকাশে ফুটে উঠেছে কয়েকটি নক্ষত্র। সমস্ত তারাদের দৃশ্যমান হওয়ার মতো ঘোর অন্ধকার নামেনি এখনও। মাঝে মাঝে হাওয়ায় ভেসে আছে ফুলের সুগন্ধ। মুস্তাকিমের ছোট গৃহের আঙিনায় ফুটেছে লাল, সাদা, হলুদ রঙের অসংখ্য সন্ধ্যামালতী। এই হালকা অন্ধকারেও তাদের রং বুঝি-বা চেনা যায়। গাছে গাছে পাখিদের কথা চলছে এখনও। আজকের মতো শেষ কথা কওয়া। সন্ধ্যা আর একটু গাঢ় হলেই, আঁধারের ডানা বিস্তারিত হওয়া মাত্র আপনার পক্ষ গুটিয়ে তারা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়বে।

    দুলুক্ষ্যাপা কার কার বাড়ি দেখা করতে গিয়েছে। এর আগে সে একবারই এসেছিল এবং গান শুনিয়ে আপন হয়ে গেছে। বসির খান আর তৌফিককে সঙ্গে করে সিদ্ধার্থ এসেছে ক্ষেতের নিকটে। সে দেখছিল, যেন মাটির তলা থেকে উঠে আসছে চাঁদ। তার মনে হচ্ছিল, উদয়ের সময় চন্দ্রের রূপ এমন যে একটানা তাকিয়ে থাকলে পাগল-পাগল লাগে। আবার চোখ সরাতেও ইচ্ছে করে না। ধীরে ধীরে মধ্যগগনের দিকে যেতে থাকা সোনার থালার মতো চাঁদের দিকে তাকিয়ে একটা সিগারেট ধরাল সে।

    তৌফিক বলল—এ গ্রামেও কি মেয়েদের বিক্রি করে দেয়, সিধুদা?

    সিদ্ধার্থ ধোঁয়া ছেড়ে বলল—জানি না। কেন?

    —ওরকম কিছু শুনতে হবে ভেবে আতঙ্ক হচ্ছে আমার।

    —আতঙ্কিত হলে চলবে কেন? মেয়ে বিক্রির চেয়েও ভয়ংকর কিছু শোনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

    —সহ্য করতে পারছি না সিধুদা। ওঃ! কী অসহ্য! কী ভয়ানক অবস্থা এ জেলার!

    — শুধু এ জেলার? অন্য জেলার নয়? পশ্চিমবঙ্গের নয়? গোটা ভারতবর্ষের নয়?

    —হয়তো। চোখের সামনে দেখতে পাই না বলে সেগুলো জ্বালা ধরায় না।

    —এটা ভুল ভাবনা তৌফিক। জানবি, কোনও জায়গার কোনও সমস্যাই বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়। বিচ্ছিন্ন সমস্যা বলে কিছু হয় না। একটি গ্রামের সমস্যা যখন তুই দেখছিস তখন সেই গ্রামও একটি একক হিসেবে ভারতবর্ষের প্রতিনিধিত্ব করছে।

    —আমরা তো প্রথমে জেলা দিয়েই ভাবব। ভাবব না?

    —না। আমরা সবসময় দেশ দিয়ে ভাবব। কিন্তু আমাদের সীমিত ক্ষমতা দিয়ে যতটুকু কাজ করা সম্ভব, আমরা তা-ই করব। আস্তে আস্তে কাজের পরিধি বাড়াব। দেখ, আমরা আগে পাড়ার টুকিটাকি কাজ করতাম। কবে আমরা বহরমপুর শহরটার কাজও করতে শুরু করে দিলাম। এখন শহর ছেড়ে আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি। আমরা আমাদের জেলার মধ্যে আছি মানেই এই নয় যে আমাদের উদ্দেশ্যও জেলাতেই সীমিত থাকবে। আঞ্চলিকতার ভাবনা খুব খারাপ জিনিস। মনকে সংকীর্ণ করে দেয়। বিচ্ছিন্ন করে দেয় দেশাত্মবোধ থেকে।

    বসির খান বলে—দাদা, একটা কথা বলি?

    —বলো।

    —দেশাত্মবোধ কি একটা সাময়িক আবেগ নয়?

    —সাময়িক বলতে?

    জিগ্যেস করে সিদ্ধার্থ। বসির খানের দিকে তাকায়। সেই সুযোগে চাঁদ তরতর করে আকাশ বেয়ে উঠে পড়ে খানিকটা। এবং নিজের লালচে-সোনালি বরণ ছেড়ে রুপোর পোশাক পরে। হাসি ছলকে পড়ছে দেহ থেকে তার। যৌবনের অশীল চঞ্চলতা ঠিকরে উঠছে। এই মুহূর্তে সিদ্ধার্থ নামের এক মহাতরুণের দৃষ্টি সে আকর্ষণ করতে বুঝি চায়!

    চাঁদের এই উদ্ব্যক্তি দেখে নিয়ে বসির খান বলে- সাময়িক এজন্য যে দেশের কোনও বিপন্নতায় এই বোধ জেগে ওঠে না কি? অন্যসময় তা থাকে না।

    সিদ্ধার্থ জবাব দেয়—সবসময়ই তা থাকে বসিরভাই। কিন্তু আমাদের স্বার্থচিন্তার আড়ালে চাপা পড়ে থাকে। আমার তো মনে হয় মানুষ দেশাত্মবোধ নিয়েই জন্মায়। কোন আদিকাল থেকে, যখন মানুষ কথা শেখেনি ভালমতো, আগুনের ব্যবহার শেখেনি, তখন থেকে তারা দুটি বৈশিষ্ট্য আয়ত্ত করেছিল। এক, গোষ্ঠীবদ্ধতা; দুই, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অধিকারে রাখা নির্দিষ্ট অঞ্চল। কালক্রমে দেশের বোধ, এরই উন্নত প্রকাশ।

    বসির খান বলে—তা হলে মানুষ এমন কাজ করে কেন যাতে নিজের দেশের ক্ষতি হয়?

    সিদ্ধার্থ বলে-এ-ও মানুষের চরিত্রের আর একটি প্রকার। মানুষ বড় স্বার্থপর বসিরভাই। এবং জটিল। মানুষের কোনও আচরণকেই সরলভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। এবং সব মানুষই একই আচরণ করে না। আমি এটুকু বলতে পারি, দেশাত্মবোধ শুধু বিপন্নতার জন্য অপেক্ষা করে না। এই তোমার কথাই ধরো, এই তুমি পার্টি করো না, সমাজ-উন্নয়নের কোনও সংস্থার সঙ্গে তুমি জড়িত নও, তবু তুমি এত কষ্ট করে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছ কেন? দেশের প্রতি কোথাও একটা ভালবাসা আছে বলেই তো?

    বসির খান মাথা ঝাঁকায়। বলে—না। আপনাকে ভালবাসি বলে আপনার সঙ্গে সঙ্গে থাকি। আপনার কাজে লাগার চেষ্টা করি।

    সিদ্ধার্থ হেসে ফেলে এ উত্তরে। অপূর্ব সারল্য খেলে যায় তার মুখে। তাই দেখে চাঁদ কিছু বাড়তি জ্যোৎস্না ঢেলে দেয় সেখানে। সে অনিন্দ্যসুন্দর হয়ে ওঠে যেন। তার আপাতসাধারণ চেহারা কোন মন্ত্রে নয়নলোভন হয়ে ওঠে। সে বলে—সে না হয় হল। কিন্তু ধরো, তুমি তো পর্যটকদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াও। এবার মনে করো, কোনও বিদেশি তোমার সামনে তোমার দেশ সম্পর্কে ঘৃণা প্রকাশ করল, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করল তোমার দেশকে, তোমার রাগ হবে না? অপমান বোধ করবে না তুমি?

    —বলে দেখুক একবার!

    —দেখো, শুনেই উত্তেজিত হয়ে উঠছ তুমি। একেই দেশাত্মবোধ বলে বসিরভাই।

    তার কথা শেষ হতে না হতে নারীকণ্ঠের আর্ত কান্না ছড়িয়ে গেল আকাশে। সচকিত হল তারা। কী হল! কীসের এই কান্না! জুলমত নামে লোকটি বলছিল এ গাঁয়ে শিশুরা মারা যাচ্ছে এক অদ্ভুত রোগে। এ কি তেমনই কিছু?

    মুস্তাকিমের বাড়ির দিকে দ্রুত পা চালাল তারা। তৌফিক বলল—এত সমস্যা মানুষের! মনে হচ্ছে পাগল হয়ে যাব।

    সিদ্ধার্থ দ্রুত পা চালাতে চালাতে বলল—শক্ত হতে হবে তৌফিক। সহ্য করতে হবে। আমরা দেখতে বেরিয়েছি। কেন বেরিয়েছি? জানতে। আমাদের অবস্থা জানতে। এবং লোককে জানাতে, কী তাদের প্রাপ্য, কী করা উচিত। কিন্তু জানানোর আগে আমাকে জানতে হবে। আমাদের দেশের মন্ত্রীদের যখন কোনও গভীর সংকটের বিষয়ে জানানো হয়, তাঁরা বলেন, ‘এ কথা জানতাম না। এখন জেনেছি। দেখছি কী করা যায়।’ এই চাতুরি লজ্জাজনক। এই মন্তব্য লজ্জাজনক। রূপকথায় পড়েছি, ঐতিহাসিক কাহিনিতেও পড়েছি, আগেকার রাজারা ছদ্মবেশে বেরিয়ে পড়তেন প্রজাদের পরিস্থিতি দেখার জন্য। কারণ রাজ্যের অবস্থা সম্যক জানা না থাকলে শাসন সম্ভব নয়। উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কালে রাজা নেই। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষ আছেন। নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন। প্রতিনিধিত্ব পাবার জন্য তাঁরা হাত পেতে দাঁড়ান জনতার দরবারে। সেই তাঁরাই, সাধারণের দুর্দশা অবহিত থাকবেন না কেন?

    তার কথাগুলি শোনায় উত্তেজিত। তৌফিক চলতে চলতে তার মুখের দিকে তাকায়। শ্রদ্ধায় ভরে যায় তার হৃদয়। তার রাজনৈতিক জীবনে সিধুদা একমাত্র মানুষ যে কখনও ব্যক্তিগত নিয়ে ভাবিত থাকে না। কিংবা থাকলেও তা প্রকাশ করে না কিছুমাত্র। তার সকল জুড়ে আছে মানুষ জনগণ। রাজনীতি। অথচ, তৌফিক সিদ্ধার্থর সমগ্র জানে। জানে, কী গভীর ব্যথা ছড়িয়ে আছে সিদ্ধার্থর জীবনময়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার
    Next Article বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    Related Articles

    তিলোত্তমা মজুমদার

    শামুকখোল – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    অর্জুন ও চারকন্যা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    ঝুমরা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    নির্জন সরস্বতী – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    কয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }