Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাজপাট – তিলোত্তমা মজুমদার

    তিলোত্তমা মজুমদার এক পাতা গল্প1633 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাজপাট – ৫৭

    ৫৭

    এখন অনেক দূরে ইতিহাস-স্বভাবের গতি চ’লে গেছে।
    পশ্চিম সূর্যের দিকে শত্রু ও সুহৃদ তাকায়েছে।
    কে তার পাগড়ি খুলে পুব দিকে ফসলের, সূর্যের তরে
    অপেক্ষায় অন্ধকার রাত্রির ভিতরে
    ডুবে যেতে চেয়েছিলো ব’লে চ’লে গেছে।

    .

    মানুষ হিসেবে নবাব আলিবর্দি খাঁয়ের কোনও তুলনা ছিল না। হিন্দু মুসলমান সকলের প্রিয় পাত্র ছিলেন তিনি। শান্ত ও শুদ্ধচিত্ত এই মানুষটি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ ও ধর্মভীরু। কেবল সিরাজের বেলাতেই তাঁর ন্যায়বোধ অন্ধ হয়েছিল।

    তিনি যখন পাটনার নবাব তখন এক হিন্দু সাধু এলেন তাঁর কাছে। তাঁর ভাগ্যগণনা করে বললেন—হে মহামান্য নবাবসাহেব, আপনি মসনদ লাভ করবেন। বাংলা-বিহার-ওড়িশার সিংহাসন পাবেন আপনি!

    আলিবর্দি বলেছিলেন—কেমন হবে সেই জীবন?

    —নিষ্কণ্টক হবে না।

    বলেছিলেন সেই সাধু। তার সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলেন—আপনি যে রোশনি জ্বালবেন, তার রেশ যতদিন থাকবে ততদিন। তারপর বড় অন্ধকার।

    আলিবর্দি বলেছিলেন—হায়! আমিই কি সেই অন্ধকারের কারণ হয়ে থাকব?

    —না। ইতিহাস আপনি লিখিত হয়। আপনি তাকে খণ্ডাবার কে? গড়ে তুলবারই বা কে? আপনি ইতিহাসের অংশ মাত্র। কিছুই আপনার হাতে নেই।

    সাধুর কথা সত্য হল। আলিবর্দি খাঁ বাংলার মসনদে বসলেন।

    অপুত্রক আলিবর্দির তিনটি মেয়ে ছিল। আমিনা, ঘসেটি ও ময়মানা। আলিবর্দি নিজের ভাই হাজি আহমদের তিন পুত্র নোয়াজেস মহম্মদ, সাইয়েদ আহমদ ও জয়েনুদ্দিনের সঙ্গে তিন মেয়ের বিবাহ দিয়েছিলেন। ঘসেটির সঙ্গে বিবাহ হল নোয়াজেস মহম্মদের। আমিনার সঙ্গে জয়েনুদ্দিনের এবং ময়মানার সঙ্গে সাইয়েদ আহমদের। বাংলার সিংহাসনে বসে তিন জামাতাকে তিন প্রদেশের শাসনভার দিলেন তিনি। জয়েনুদ্দিন পাটনায়। সাইয়েদ আহমদ পূর্ণিয়ায়। নোয়াজেস মহম্মদ ঢাকায়।

    আলিবর্দি যখন পাটনার নবাব তখন আমিনার কোলে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হল। তার নাম মির্জা মহম্মদ। আলিবর্দি তাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করলেন। তার নাম হল সিরাজদ্দৌলা।

    দেখতে দেখতে নবাব, আলিবর্দির চোখের মণি হয়ে উঠল সিরাজ। তার জন্য আদর যত রইল, শাসন রইল না। আবদার যত সহ্য করা হল, অভিযোগ শোনা হল না। ফলে সিরাজদ্দৌলার শিক্ষা সম্পূর্ণ হল না। শৈশব থেকেই তিনি হয়ে উঠলেন খুদে নবাব। বিলাস ও কুপ্রবৃত্তির বিষ তাঁর মধ্যে অঙ্কুরিত হয়ে ফলে-ফুলে বেড়ে উঠল। তাঁর কুপ্রবৃত্তিকে ইন্ধন দেবার লোকেরও অভাব রইল না। যারা বিলাস ব্যসন, বহুনারী গমন ইত্যাদিকে নবাবির অন্যতম লক্ষণ মনে করত, তারা আলিবর্দি খাঁর ধর্মপরায়ণ উন্নত জীবনচর্চায় সন্তুষ্ট ছিল না। সেই অসন্তোষ নিয়ে তারা ঘিরে ধরল কিশোর সিরাজকে। সিরাজ মত্ত হয়ে উঠল।

    আলিবর্দির জীবনযাত্রায় মুর্শিদাবাদের প্রাসাদ পবিত্র হয়ে উঠেছিল। দান-ধ্যান, শাস্ত্রব্যাখ্যা, ন্যায়বিচার চলত সারাক্ষণ। রাজপ্রাসাদে বারবণিতার প্রবেশাধিকার ছিল না। রাজকার্যের মধ্যে ছিল না কোনও নৃত্যগীতের বিলাসিতা। কিন্তু এই ধর্মাচারী প্রাসাদে সিরাজের দিন অসহ্য হয়ে উঠল। তিনি চান রঙিন জীবন। নারী, সুরা, নৃত্যগীতের বিলাস। অনেক ভেবে অবশেষে তিনি একদিন আলিবর্দির কাছে গিয়ে বললেন—একখানি জীর্ণ কম্বলে দশজন ফকির একত্রে বসিয়া বৎসর অতিবাহিত করিতে পারেন কিন্তু একটিমাত্র পুরাতন প্রাসাদে প্রবীণ এবং নবীন দুইজন ভূপতি একসঙ্গে বাস করিলে তাঁহাদের মানসম্ভ্রম শীঘ্রই উপহাসের বিষয় হইয়া পড়ে।

    আলিবর্দি বুঝলেন। সিরাজের জন্য নতুন প্রাসাদ নির্মাণের আদেশ দিলেন তিনি।

    রাজধানীর নিকটে ভাগীরথীর পশ্চিমতীরে সিরাজের প্রমোদভবন নির্মিত হল। নাম হল হিরাঝিলের প্রাসাদ। গৌড়ের রাজপ্রাসাদের কারুকার্য করা পাথর সংগ্রহ করে সিরাজের ভবন সাজানো হল। সিরাজ সেই ভবনে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে লাগলেন। আলিবর্দি তার জন্য মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা করলেন।

    দিন যায়। সিরাজের বিলাসের উপকরণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। একদিন সিরাজ উপলব্ধি করলেন, এই পরিমাণ বৃত্তিতে আর চলছে না। কীভাবে বৃত্তি বাড়ানো যায়? তাঁর কূট বালক মন বুঝেছিল, অনুরোধে-উপরোধে যা বাড়বে তাতে তাঁর বিপুল বিলাসব্যয়ভার অতিবাহিত হবে না। তাঁর চাই প্রভূত অর্থ। এবং অর্থ মানেই স্বাধীনতা। বেহিসেবি অর্থের বিনিময়ে বেহিসেবি স্বাধীনতা। বেহিসেবি স্বাধীনতার বিনিময়ে বেহিসাবি উল্লাস নারী, সুরা, শিকার, পীড়ন, তর্জন! হা সিরাজ, হা সিরাজ, হা হা হা সিরাজদ্দৌলা, সে মিতব্যয়ে বিশ্বাসী নয়, মিতাচারে তুষ্ট নয়! অতএব চতুর হলেন ভাবীকালের নবাব সিরাজ। ফন্দি আঁটলেন জব্বর। কেউ তা টের পেল না।

    সিরাজ আলিবর্দিকে পাত্র-মিত্রসমেত হিরাঝিলের প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানালেন। আলিবর্দি সকল পাত্র-মিত্র এবং মুর্শিদাবাদে উপস্থিত রাজা-মহারাজাদের নিয়ে সিরাজের প্রাসাদে পদধূলি দিলেন। সকলকেই সাদর অভ্যর্থনা করলেন সিরাজ। লোকে হিরাঝিল প্রাসাদের প্রশংসা করতে লাগল। ঘুরে ঘুরে প্রাসাদ দেখতে লাগল। বিস্ময় উপচে পড়ছে তাদের চোখে। লোভ ঝিলিক দিচ্ছে তাদের দৃষ্টিতে। ইনশাল্লাহ্! এই না হলে ভাবী নবাবের প্রাসাদ! ভগবান যাকে দেন একেবারে ছপ্পর ফেড়ে দেন!

    দেখাশোনা শেষ হলে দরবার কক্ষে বসবে মজলিশ। সিরাজ তখন নবাবকে নিয়ে গেলেন প্রাসাদের অন্দরমহল দেখাতে। পরিদর্শন শেষ হলে তিনি দরবার কক্ষে আসবেন।

    আজ সেই প্রাসাদ আর নেই। কাল তাকে খেয়েছে। নদী তাকে গর্ভে ভরেছে। কিন্তু সেই সময় হিরাঝিলের প্রাসাদ, অর্থাৎ লোকে যাকে মনসুরগঞ্জের প্রাসাদ বলত, তা ছিল দর্শনীয় স্থাপত্য। ভিন্ন ভিন্ন মহলে বিভক্ত এই প্রাসাদের একটি মহলই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাসাদ হতে পারত। প্রাসাদের একধারে ছিল হিরাঝিল। লোকে বলে, ঘসেটি বেগম ও নওয়াজেস মহম্মদের মোতিঝিলের অনুকরণে সিরাজ ওই হিরাঝিল খনন করেন।

    এই বিশাল প্রাসাদ একদিনে দেখে ওঠা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য।

    সময় বয়ে যায়। নবাবের দেখা নেই। অভ্যাগতরা শঙ্কিত হয়ে উঠছেন। এত দেরি কেন? নবাব-রাজা-সুলতান-সম্রাটের ইতিহাস চিরকাল আত্মীয়বধের রক্তে কলঙ্কিত। তা ছাড়া, সিরাজের স্বভাব-চরিত্র বিষয়ে সকলে অবগত আছেন। উচ্ছৃঙ্খল, বিলাসী, চপলমতি এই কিশোরকে বিশ্বাস নেই। তবে কি… তবে কি… নিরুচ্চার প্রশ্ন সকলের মনে মনে ফেরে।

    সিরাজ তখন কক্ষ হতে কক্ষান্তরে নিয়ে চলেছেন নবাবকে। একটি কক্ষে এসে নবাব দেখলেন তিনি একা। সিরাজ পাশে নেই। নবাব ডাকলেন সিরাজকে। সাড়া নেই। কক্ষ হতে নিষ্ক্রান্ত হয়ে দ্বারপ্রান্তে এলেন। দ্বার রুদ্ধ। অন্য দ্বার দিয়ে বেরুতে গেলেন, সে-ও রুদ্ধ। নবাব আলিবর্দি সিরাজকে ডাকেন আর সিরাজ হা-হা করে হাসেন। প্রতিটি রুদ্ধদ্বারের প্রান্তে তাঁর হাস্যধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়। নবাবের কৌতুক জাগে। তাঁর চোখে সিরাজ বড় ছেলেমানুষ মাতামহের সঙ্গে দৌহিত্রের লুকোচুরি খেলা তো সাজেই।

    কিন্তু খেলার সময় দীর্ঘ হয়ে উঠল। নবাব ক্লান্ত হলেন। এবার শেষ হওয়া চাই। তামাম বাংলা-বিহার-ওড়িশার নবাব, হিন্দুস্থানের বাদশার বল-ভরসা, নবাব আলিবর্দি খাঁ রুদ্ধ দ্বারের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে দ্বার খুলে দেবার জন্য অনুনয় করলেন। সিরাজ দ্বার খুললেন না। এবার নবাব নিরুপায় হলেন। তাঁর উপলব্ধি হল, তিনি বন্দি হয়েছেন। হায়! যাঁকে তিনি আপন প্রাণাপেক্ষা অধিক প্রিয় মনে করেন, যাঁকে অদেয় কিছু নেই, যাঁর জন্য এই সাম্রাজ্যকে নিঃশত্রু ও নিষ্কন্টক করে তোলার জন্য তিনি অবিশ্রাম প্রাণপাত করছেন, তাঁর এমন কূটকৌশল! এমন ছলনা! আহাহা! নাদান বাচ্চা আর কাকে বলে! এবার তিনি বললেন—তুমি আমার প্রিয়পাত্র। এরূপ কৌশল করিবার প্রয়োজন কী ছিল। কী চাহ তাহা বল।

    সিরাজ বললেন—আমার প্রাপ্য মাসোহারা বৃদ্ধি করুন।

    —বেশ। করিলাম।

    —অঙ্গীকার করুন।

    —অঙ্গীকার করিলাম।

    —যুদ্ধশাস্ত্রে নগদ অর্থই একমাত্র মুক্তিপত্র। রাজা-বাদশাহের মুখের কথায় বিশ্বাস কী!

    নবাব অসহায় বোধ করলেন। সমুদয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁর লজ্জা হল। তিনি একান্ত অনুরোধে বললেন—আমি অঙ্গীকারবদ্ধ হইয়াছি। তুমি আর কেন অবিশ্বাস কর? তুমি তো আমাকে জানিয়াছ। হে প্রিয় দৌহিত্র, দ্বার খুলিয়া দাও। যাহা হইবার তাহা হইয়াছে। এ-কথা বাহিরে প্রকাশিত হইলে লোকে বড়ই উপহাস করিবে। রাজা-মহারাজাগণ আমার অপেক্ষা করিতেছেন।

    সিরাজ নিষ্ঠুরের মতো বললেন—বৃদ্ধ নবাবের পক্ককেশ রাজা-মহারাজাদিগের নিকট যদি এতই মূল্যবান বস্তু, তবে তাঁহারাই কেন অর্থদানে নবাবের বন্ধনমোচন করুন না।

    অপেক্ষমাণ রাজা-মহারাজার কাছে এ সংবাদ পৌঁছল। তাঁরা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। সিরাজের স্বভাব তাঁরা জানতেন। তিনি যা চান তা কবলিত না-হওয়া পর্যন্ত তাঁর শান্তি নেই। অগত্যা যাঁর কাছে যা ছিল, সব একত্র করে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা সিরাজকে দিয়ে নবাবকে মুক্ত করা হল।

    আশ্চর্য নবাব আলিবর্দি খাঁ! আশ্চর্য তাঁর স্নেহ। সিরাজদ্দৌলার এ আচরণে তিনি ক্রুদ্ধ হলেন না। বরং দৌহিত্রের কাছে বুদ্ধিকৌশলে পরাজিত হয়ে পরম কৌতুক লাভ করলেন। সহাস্যে বলে বেড়ালেন—সিরাজের ন্যায় বুদ্ধিমান আর নাই। কী কৌশলই না আঁটিয়াছিল।

    সিরাজের অর্থবল বৃদ্ধি পেল। তাঁর পাপেরও কোনও সীমা রইল না। নারী, সুরা, বিলাসে ভাসা সিরাজের চাই নিত্য নতুন নারীদেহ। তাঁর অনুচরেরা ছলে-বলে ভদ্র গৃহস্থকন্যারও সর্বনাশ করতে লাগল। বাংলার ঘরে ঘরে সিরাজদ্দৌলা হয়ে উঠল মহাপাপের অন্য নাম।

    কিন্তু শুধু নারী-সুরা নিয়ে মত্তই ছিলেন না সিরাজ। চতুর রণকৌশলী এবং সুযোদ্ধা ছিলেন তিনি। প্রায় শৈশব থেকেই আলিবর্দি খাঁয়ের সঙ্গে তিনি বহুবার যুদ্ধযাত্রা করেছেন। অতএব নবাবি পাবার জন্য অচিরেই লালায়িত হয়ে উঠল তাঁর মন। আফগানরা তাঁর পিতা জয়েনুদ্দিনকে হত্যা করেছিল। আলিবর্দি খাঁ অনেক যুদ্ধ করে আফগানদের পরাস্ত করে পাটনায় পুনরধিকার স্থাপন করেছিলেন। শিশু সিরাজকে নামমাত্র নবাব করে পাটনার শাসনভার তিনি অর্পণ করেছিলেন তাঁর একান্ত প্রিয়, অনুগত, বিশ্বস্ত, সুযোগ্য পরিচালক রাজা জানকীরামের ওপর।

    পনেরো বৎসর বয়সে পার্টনার নবাবি হস্তগত করার অভিলাষে সিরাজ আলিবর্দি খাঁয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। সেইসঙ্গে পার্টনার দুর্গ আক্রমণ করলেন। একটি চরমপত্র তিনি লিখে পাঠালেন নবাবকে। আলিবর্দি খাঁ এবারও কিন্তু সিরাজের ওপর ক্রুদ্ধ হলেন না। বরং যুদ্ধে সিরাজের কোনও ক্ষতি না হয়—এই ভাবনায় ব্যাকুল হলেন। সিরাজ চেয়েছিলেন সম্মুখ সমরে শক্তিপরীক্ষা–হয় তোমার জয়, নয় আমার। হয় তুমি থাকবে, নয় আমি থাকব। কিন্তু আলিবর্দি খাঁ যুদ্ধের কথা চিন্তাও করলেন না। একটি অসামান্য পত্র তিনি লিখে পাঠালেন সিরাজকে। পত্র না বলে এই রচনাকে শের বলা ভাল। অর্থাৎ নবাব, ছুরিকাঘাতের বিনিময়ে গোলাপ দেবার মতো তাঁর অপরূপ স্নেহ দ্বারা, কল্যাণ কামনার দ্বারা, সিরাজের যুদ্ধ-অভীপ্সার জবাব দিলেন একটি ফারসি কবিতা লিখে—

    গাজি কে পায়ে সাহাদাৎ আন্দার্ তাসো পোস্ত
    গাফেল কে শাহিদে এক্ ফাজেল্ তার্ আজ দোস্ত্।

    —যাঁরা ধর্মের জন্য সম্মুখ সমরে জীবন বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকেন, তাঁরা প্রায়ই ভুলে যান, সংসার-সংগ্রামে স্নেহের অত্যাচার যাঁরা নিয়ত সহ্য করেন, তাঁরাই প্রকৃত বীর।

    ফার্দায় কেয়ামৎ ইঁ বা আঁ কায়মানাদ।
    ই কোস্তা দুমানা ওঁয়া কোস্তায়ে দোস্ত।

    —পরকালেও তাঁদের মধ্যে তুলনা হয় না। ধর্মবীর শত্রুর হাতে নিহত হন, কিন্তু সংসারি বীর কেবল স্নেহভাজন আত্মীয়দের নির্যাতনেই জীবন বিসর্জন দিয়ে থাকেন।

    আলিবর্দির হৃদয়ের কত গভীর স্নেহ এই কবিতার মধ্যে ব্যক্ত হয়েছিল, অপার স্নেহের কী অসহ্য অসহায়তা ফুটে উঠেছিল ছত্রে ছত্রে তা উপলব্ধি করেননি তখন সিরাজ। আলিবর্দি যেন নিরুচ্চারে বুঝিয়েছিলেন—তোমাকে ভালবাসি, তাই তোমার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরব না আমি, সে তুমি আমাকে যতই হানো। আমি সইব। কত অত্যাচার করবে তুমি আমার ওপর! সইব আমি।

    পাটনা দুর্গ আক্রমণ করেও জানকীরামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়লাভ করেননি সিরাজ। বরং তাঁর পরাজয়ের পরেও আলিবর্দির নির্দেশে জানকীরাম সিরাজের জন্য সসম্মান বসবাসের আয়োজন করেছিলেন। সিরাজ সতেজ জবাব দিলেন— চাই না এসব। আমি পরাস্ত। আমাকে যোগ্য শাস্তি দেওয়া হোক।

    সিরাজ দর্শী, সিরাজ লুণ্ঠক, নারীলোলুপ কিন্তু যোদ্ধা! বীর, কৌশলী যোদ্ধা! তাঁর জিদ এবং অপরিণতমনস্ক হঠকারী সিদ্ধান্তে আলিবর্দি ব্যাকুল। আহা! কোনও ক্ষতি না হয় ছেলেটার! নাদান বাচ্চা। না বুঝে একটা কাজ করে ফেলেছে। আল্লা, পরম শক্তিমান খোদা তুমি ওকে রক্ষা করো।

    বাংলার বর্গিদমন ফেলে নবাব আলিবর্দি যখন পাটনায় ছুটে এলেন তখন তাঁর শিবিরে সিরাজদ্দৌলাকে নিয়ে আসা হল। নবাব দেখলেন, পঞ্চদশ বর্ষীয় সিরাজ রণক্লান্ত, একাকী, নিরস্ত্র। আলিবর্দির নিকটে এসে সিরাজ কদমবুসি করলেন। আলিবর্দির স্নেহ অশ্রু হয়ে গলে পড়ল। সিরাজ যে অক্ষত আছেন, এই আনন্দে তিনি আপ্লুত হলেন। সিরাজকে কোলের কাছে টেনে নিলেন তিনি। এবং পাটনার দরবারে উপবেশন করে সিরাজদ্দৌলাকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার যুবরাজ হিসেবে অভিষিক্ত করলেন।

    সিরাজের চেতনা ফিরল যখন বৃদ্ধ আলিবর্দি মৃত্যুশয্যায় শায়িত হলেন। চারপাশে শত্রুর পদধ্বনি, সর্বত্র চক্রান্তের ছায়া। সিরাজ উপলব্ধি করলেন, কী বিশাল স্নেহছত্রতলে সুরক্ষিত ছিলেন তিনি। কালের কীট সে-ছত্রের বস্ত্র দংশন করেছে। স্নেহশীল মানুষটি তাঁকে ছেড়ে এবার মহাকালের নির্দেশে গমন করছেন কোন অজানায়।

    ধর্মপ্রাণ ন্যায়পরায়ণ আলিবর্দি খাঁ—বেহেস্তেই তাঁর স্থান নির্দিষ্ট হয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজদ্দৌলা এ ভুবনে হয়ে গেলেন একাকী। মাতামহের অন্তিম শয্যায় তাঁর কণ্ঠলগ্ন হয়ে রইলেন সিরাজ। সুরা ত্যাগ করার প্রতিজ্ঞা করলেন। জিদ্দি, অমার্জিত, সম্ভোগী বালক সিরাজ হয়ে উঠলেন মনোযোগী, দায়িত্বশীল, বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ। আলিবর্দি খাঁ, অন্তিমকালের আহ্বান উপলব্ধি করে সিরাজের জন্য শেষ বাক্যগুলি বলতে শুরু করলেন।—

    “আমি কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে অসিহস্তে জীবনযাপন করিয়াই সংসার হইতে অবসর গ্রহণ করিলাম। কিন্তু কাহার জন্য এত যুদ্ধ যুঝিলাম, কাহার জন্যই বা কৌশল-নীতিতে রাজ্যরক্ষা করিবার জন্য প্রাণপণ করিয়া মরিলাম? তোমার জন্যই তো এত করিয়াছি।

    “আমার অভাবে তোমার কীরূপ দুর্গতি হইবে, তাহা ভাবিয়া কত রজনী জাগরণে অতিবাহিত করিয়াছি; তুমি তাহার কিছুই জান না। আমার অভাবে, কে কীভাবে তোমার সর্বনাশ করিতে পারে, তাহা আমার কিছুই অপরিজ্ঞাত নাই।

    “হোসেন কুলি খাঁর বিদ্যাবুদ্ধি এবং খ্যাতি-প্রতিপত্তি ছিল। শওকতজঙ্গের প্রতি তাঁহার ঐকান্তিক অনুরাগ জন্মিয়াছিল। আজ হোসেন কুলি জীবিত থাকিলে তোমার পথ কণ্টকশূন্য হইত না। সে হোসেন কুলি আর নাই।

    “দেওয়ান মানিকচাঁদ তোমার প্রবল শত্রু হইয়া উঠিত। সেইজন্য আমি তাঁহাকে রাজপ্রাসাদ-দানে পরিতুষ্ট করিয়া রাখিয়াছি।

    “এখন আর কী বলিব? আমার শেষ উপদেশ শ্রবণ কর। ইউরোপীয় বণিকদিগের কীরূপ শক্তিবৃদ্ধি হইতেছে, তাহার প্রতি সর্বদাই তীক্ষ্ণদৃষ্টি রাখিও। তাহারাই তোমার একমাত্র আশঙ্কার স্থল।

    “পরমেশ্বর আমার এই দীর্ঘজীবনকে আরও কিছুদিন পৃথিবীতে জীবিত রাখিলে, আমিই তোমার এ আশঙ্কা নির্মূল করিয়া দিতাম। কিন্তু তাহা হইল না। এ কার্য এখন তোমাকেই একাকী সাধন করিতে হইবে।

    “ইহারা তেলেঙ্গা প্রদেশের যুদ্ধ ব্যাপারে লিপ্ত হইয়া যেরূপ কুটিলনীতির পরিচয় দিয়াছে, তাহা দেখিয়া তোমাকে সর্বদা সতর্ক থাকিতে হইবে। ইহারা দেশের লোকের গৃহবিবাদের উপলক্ষ করিয়া সে দেশ আপনাদের মধ্যে বাঁটিয়া লইয়া, প্রজাদিগের যথাসর্বস্ব লুটিয়া লইয়াছে।

    “কিন্তু সমুদায় ইউরোপীয় বণিকদিগকেই একসঙ্গে পদানত করিবার চেষ্টা করিও না। ইংরাজদিগেরই সমধিক ক্ষমতাবৃদ্ধি হইয়াছে। সেদিন তাহারা অস্ট্রিয়া দেশ জয় করিয়া আসিয়াছে। তাহাদিগকেই সর্বাগ্রে দমন করিও।

    “ইংরাজদিগকে দমন করিতে পারিলে, অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকেরা আর মাথা তুলিয়া উৎপাত করিতে সাহস পাইবে না। ইংরাজদিগকে কিছুতেই দুর্গনির্মাণ বা সৈন্যসংগ্রহ করিবার প্রশ্রয় দিও না। যদি দাও, এ দেশ আর তোমার থাকিবে না।’

    .

    আলিবর্দি খাঁ কতখানি দূরদর্শী ছিলেন তা প্রমাণিত হয়েছিল। হতভাগ্য সিরাজ আলিবর্দির অন্তিম উপদেশ মান্য করেও নিকটজনের বিশ্বাসঘাতকতায় শেষরক্ষা করতে পারলেন না। পলাশির যুদ্ধে তাঁর শোচনীয় পরাজয় ঘটল। শুরু হল সেই অন্ধকার। কেবলই অন্ধকার। এক হিন্দু সন্ন্যাসী, আলিবর্দি খাঁর ভবিষ্যৎ গণনা করে সে অন্ধকারের কথা বহুকাল আগে বলে গিয়েছিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার
    Next Article বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    Related Articles

    তিলোত্তমা মজুমদার

    শামুকখোল – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    অর্জুন ও চারকন্যা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    ঝুমরা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    নির্জন সরস্বতী – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    কয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }