Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাজপাট – তিলোত্তমা মজুমদার

    তিলোত্তমা মজুমদার এক পাতা গল্প1633 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাজপাট – ১০৭

    ১০৭

    আষাঢ় মাসে ফতেমা গো
    করুইন বড় আশা।
    দুই পুত্ৰ দিয়াছে আল্লা
    খেলিতাইন তারা পাশা।
    দিন ত গেল অবশেষে
    বেইল ত বেশি নাই।
    আইজকা অব্দি ইমাম উছেন
    কোথায় রইল দুই ভাই ি
    হায় হায় রে—
    আয়রে ও আয়রে উছেন আয় আয়
    মায়েরই কোলে।
    আইছ রে আঙ্গিনার মাইঝে
    তুইল্যা লইব কোলে ॥
    তর মায় ফইরাদি আইল
    ওই আল্লার দরবারে।
    হায় হায় রে—

    .

    শুকিয়ে যাওয়া, কুঁকড়ে যাওয়া নদীগর্ভ ভরে উঠছে ধীরে ধীরে। অল্পে অল্পে পূর্ণ হচ্ছে জলাশয়গুলি। জলের ভিতর মাছেরা গর্ভবতী অথবা প্রস্তুত হচ্ছে গর্ভিণী হয়ে ওঠার জন্য। বীজের অভ্যন্তরে প্রতীক্ষায় আছে বৃক্ষাদির ভবিষ্যৎ। প্রোথিত হবে মাটির তলায়। তারপর এ ধরণীতে দাঁড়াবে সবুজ

    এই বর্ষণ আগমনে বড় বাঁচা বেঁচে গেছে কৃষিজীবী মানুষ। এক বৎসরের অনাবৃষ্টিতেই অর্ধাহারে অনাহারে দিন গিয়েছে। সামান্য সোনা-রুপা বেচে খেয়েছে তারা। থালা-বাটি বাঁধা দিয়েছে এমনকী। প্রাণ আঁকড়ে এক বৎসর বলদকে জুগিয়ে গেছে ঘাস। অনাবৃষ্টি প্রলম্বিত হলে ধীরে ধীরে সব যেত। বলদ যেত। জমি যেত। তারপর হাত পড়ত ভিটেয়। শহরের ঝোপড়িতে ভিড় বাড়াত শীর্ণ আধপেটা জীবন।

    সকলেরই এমন হয় না। কারও হয়, কারও হয় না। এমনকী রাশি রাশি পঙ্গপালে শস্য খেয়ে গেলেও যে-ক্ষতি, তাতে সব কৃষকের হৃদি স্তব্ধ হয়ে যায় না। বেশি আছে যার, সে ক্ষতি সামলে নিতে পারে। ক্ষতি দিয়েই যাদের জীবন গড়া, তারা পড়ে মুখ থুবড়ে

    চিরকালেরই নিয়ম এই। আর এই নিয়ম সম্বল করেই বৃষ্টি দেখে পুলকিত কৃষিজীবী মাঝে-মধ্যে কেঁপে ওঠে শঙ্কায়। আষাঢ়ের এ বর্ষণ, কত কিছু আগাম বলে দেয়। ফলে কিছু, কিছু-বা ফলে না। আর এমন দ্বিবিধই ঘটে বলে আশঙ্কা উদ্বেগ সদা সঙ্গী হয়ে থাকে। ভগবানের এ দুনিয়ায় নিশ্চয়তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। অতএব, আষাঢ়ের এই লাগাতার ছিকছিকানি, এরও মধ্যে আছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আভাস।

    এখন হল ধান রোয়ার সময়। কথায় বলে বৈশাখী বোনা আষাঢ়ী রোয়া, জায়গা হয় না ধান থোয়া। তাই সেই বিপুল পরিমাণ শস্যের জন্য চাই আরও আরও শর্ত।

    আষাঢ় মাসের নবমী তিথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত শুক্লপক্ষের নবমী। এই দিনের বৃষ্টির পরিমাণের ওপর লেখা থাকে সারা বছরের বৃষ্টিপাত এবং ফসলের ইঙ্গিত। গত বৎসর সরাল গ্রামের অশ্বিনী হালদার শুনিয়েছিলেন এ বচন, সিদ্ধার্থর মনে আছে।

    ।কী করো শ্বশুর লেখাজোখা।
    আষাঢ়ে নবমী শুকল পাখা ।।
    যদি বর্ষে মুষলধারে।
    মাঝসমুদ্রে বগা চরে ।।
    যদি বর্ষে ছিটেফোঁটা।
    পর্বতে হয় মীনের ঘটা ।।
    যদি বর্ষে ঝিমি-ঝিমি।
    শস্যের ভার না সহে মেদিনী ।।
    হেসে চাকি বসেন পাটে।
    চাষার গোরু বিকায় হাটে ।।

    .

    আজ তারা তেকোনায় এসেছে। সে আর রেজাউল। তাদের পিছনে পিছনে আলাদাভাবে আছে সফি। সিদ্ধার্থ জানে। কিন্তু রেজাউল জানে না। তেকোনায় সফি থাকবে কোথায় সে জানে না। সফি বলেছে, সে দায়িত্ব তার। এই আষাঢ়ের শুক্লা নবমী পেরিয়ে যায়নি এখনও। তিথি-নক্ষত্রের হিসেব রাখে না সিদ্ধার্থ কোনও দিন। আসার পথে রেজাউলকে জিগ্যেস করে জেনেছিল।

    রেজাউল জানে এসব। এমনকী চাষ-বাস সংক্রান্ত প্রবাদ-প্রবচন তারও জানা আছে। হরিহরপাড়া থেকে ঘোড়ার গাড়িতে আসতে আসতে সে শুনিয়েছিল কিছু। তার মধ্যে একটি যেমন ইন্দ্ৰধনু নিয়ে।

    পশ্চিমের ধনু নিত্য খরা।
    পুবের ধনু বর্ষে ধারা ।।
    পুবেতে উঠিলে কাড়।
    ডাঙা-ডোবা একাকার ।।

    বৎসরের প্রথম হলকর্ষণ কখনও করতে নেই পূর্ণিমায় বা অমাবস্যায়। এ বিষয়ের বচন হল—

    পূর্ণিমায় অমায় যে ধরে হাল।
    তার দুঃখ সর্বকাল ।।
    তার বলদের হয় বাত।
    ঘরে তার না থাকে ভাত ।।
    খনা বলে—আমার বাণী।
    যে চষে তার হবে হানি ।।

    অনেকের ব্যাখ্যা—শুধু প্রথম হলকর্ষণই নয়। কোনও পূর্ণিমা বা অমাবস্যা তিথিতেই হাল ধরা অনুচিত।

    হতে পারে গবাদি পশুকে বিশ্রাম দিতেই এই নিয়ম। অবোলা পশুর জন্যও তো চাই কিছু বিশ্রাম ও খাদ্যের কানুন। আর গোরু হল চাষির সম্পদ। গাভী হল সকল মানবজাতির সম্পদ। চাষির কিন্তু বলদ ছাড়া চলে না। বড় কৃষক, যাঁরা ট্রাক্টর কিনে ফেলতে পারেন, তাঁদেরই একমাত্র বলদের প্রয়োজন নেই।

    সেইদিন এখনও বহু দূরে, যখন সাধারণ কৃষকের ঘরে গোহালের পরিবর্তে থাকবে ট্রাক্টরের গ্যারাজ। তাই গোরু কেনার বিষয়ে যে প্রবচন, তা জানতেই হয়।

    ন’ঘর ছ’ঘর ভাগ্যে পাই।
    সাতুল দেখে দূরে পলাই ॥
    গোরু চিন্ বা না চিন্।
    ধলা ঘুঁচি দেখে কিন ॥

    ন’দাঁতের বা ছ’দাঁতের গোরু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু সপ্তদন্তী ক্রয় করা উচিত নয় কখনও-ই। অন্য আর সবই বোঝা যাক বা না যাক, শ্বেতাভ পালান দেখে নেওয়া অবশ্য কর্তব্য। অতএব, গোরু-গাভী কেনার সময় খরিদের প্রাথমিক শর্তই হল মুখ হাঁ করিয়ে তার দাঁত গুণে নেওয়া।

    এমত সমস্তই এক জানার বিষয়। সিদ্ধার্থও আসছিল এমনই জানকারির ভিতর। এখন তেকোনায় আসার পরিকল্পনা রেজাউলের। হারাধনের অভাব সে বোধ করে পূর্ণমাত্রায়। অন্তত অবশিষ্ট দু’জন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে কিছুক্ষণ কাটাবার আকুলতায় সে রেখেছিল এই প্রস্তাব।

    সিদ্ধার্থ সন্দিহান। সে জানে না, কতখানি পূর্ণ হবে রেজাউলের অভিলাষ। সে বলেনি রেজাউলকে যে, মোহনলাল এর মধ্যে শহরে এসেছিল এবং তার সঙ্গে দেখা না করেই চলে গেছে। অতএব, কিছু-বা রূঢ়তার মুখোমুখি হতে পারে তারা, সে প্রস্তুত হয়েই এসেছে। এবং একপক্ষে ভাল হল, এমনই মনে হচ্ছে তার। মোহনলালের সঙ্গে মুখোমুখি সে হবে। তাদের উভয়ের পক্ষেই এই দেখা হওয়া নতুনতর সম্পর্কের সূচনা হতে পারে।

    আসতে আসতে দেখছিল সে। সারা পথ পিচ্ছিল। কর্দমময়। এই পথ প্রচুর ব্যয়ে সারানো হয়েছিল, সিদ্ধার্থ জানে। বর্ষা আসতে না আসতেই তা হয়ে গেছে পূর্ববৎ। সর্বত্র একই ছবি। একই পরিস্থিতি। পথ, ঘাট, সেতু, বাঁধ, স্পার, বাড়ি, যন্ত্র—সব সব সমস্ত সারানো হয় বহু অর্থ ব্যয় করে। কিন্তু সারে না কিছুই। লেগে থাকে রোগ। ক্ষয় লেগে থাকে। এবং এতদ্দর্শন সত্ত্বেও বিষণ্ণতা পাশে রেখে সহসা হৃদয়ে লাগে আনন্দের দোলা। এবং আনন্দের পাশাপাশি পাথুরে বিষাদ। নন্দিনীকে দেখতে পাবার আনন্দ তার। আবার, এই প্রথম, এ বাড়িতে নয়াঠাকুমা নেই, এমন পরিস্থিতিতে সে আসছে। এমনকী কাজের অছিলায় শ্রাদ্ধবাসরও সে এড়িয়ে গিয়েছিল। নয়াঠাকুমার মৃত্যুর চেয়েও গাঢ়তর বিষাদ তাকে ঢেকে ফেলেছিল ধুলামাটি গ্রামে।

    দেউড়ি দিয়ে ঢুকছে যখন তারা, এক ঘোমটা-ঢাকা নারীমূর্তি দ্রুত পায়ে তাদের পাশ কাটিয়ে গেল। আকাশের চাপ-চাপ কালচে মেঘের নীচে, ঝিমি-ঝিমি বারিপাতের মধ্যে, সেই নারী, শীর্ণ দেহকাঠামো জীর্ণ শাড়িতে ঢেকে, যেন দুটি বৃষ্টিফোঁটার মধ্যে মধ্যে গলে চলে গেল ত্বরা করে। ছাতা নেই মাথায়। চটি নেই পায়ে। সেই নারী হতে চোখ তুলে ওপরে তাকাতেই তার মনে হল, যেন নয়াঠাকুমা এখুনি দাঁড়িয়েছিলেন ওই জানালায়। অতি স্পষ্ট সে দেখা। তার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। সে দেখল, রেজাউল তাকিয়ে আছে জানালার দিকে। সে বলল—চল। ভেতরে যাই।

    তার দিকে তাকিয়ে ফ্যাকাশে হাসল রেজাউল। বলল—মনে হল উনি দাঁড়িয়ে আছেন।

    —কে? নয়াঠাকুমা?

    —হুঁ!

    —আমারও মনে হয়েছিল। নয়াঠাকুমাকে ছাড়া এই বাড়ি যে কল্পনাও করা যায় না রেজাউল। তাই আমরা দেখলাম। হয় এরকম। চল।

    —চল।

    —একটা কথা…

    সিদ্ধার্থ, রেজাউলের হাত টেনে ধরে।

    —কী?

    —আমি জানি না রেজা, মোহন আমাকে কীভাবে নেবে!

    রেজাউল বলে—কেন? পার্টি ছেড়েছিস বলে?

    —তাই-ই।

    —পার্টির সঙ্গে বন্ধুত্বের কী?

    —তবুও!

    —বেশ তো। দেখি না!

    —দেখি!

    ছাতা বন্ধ করে সিঁড়ির নীচে রেখে দিল তারা। তারপর ধাপে ধাপে উঠতে লাগল। মেঘের কারণে ভেতরটা অনুজ্জ্বল। সিঁড়ির কাছটা অন্ধকারই বলা যায়। সিদ্ধার্থর মনে হল, এ ঘর বড় বেশি চুপচাপ। এই গৃহ বড় বেশি নিঃশব্দ। কে আছে বাড়িতে? নন্দিনী। একা নন্দিনী। আর হয়তো-বা রাজিয়া। চাটুজ্যেবাড়ির বহুদিনের পুরনো কাজের মেয়ে। আর আছে রহস্যের নতুন করে জট পাকিয়ে ওঠা।

    নয়াঠাকুমা একাই সমগ্র পরিবার হয়ে বিরাজ করছিলেন। এতগুলি ফাঁকা ঘর, এত জনবিরলতা বোঝা যায়নি আগে। গম্ভীর আঁধার ঢাকা এ আষাঢ়ে এ নির্জনতা নতুনরূপে প্রতীয়মান।

    সিদ্ধার্থ ডাকল-কাকিমা! কাকিমা!

    রান্নাঘর হতে বেরিয়ে এলেন নন্দিনী। নীল রঙের তাঁতের শাড়ি পরেছেন, তাতে চওড়া লাল পাড়। কপালে বড় সিঁদুরের টিপ। ভেজা চুল ছড়িয়ে দিয়েছেন পিঠময়। এই আষাঢ়ের নীলাঞ্জন-ছায়ায় তাঁকে দেখাচ্ছে অপরূপা। সিদ্ধার্থর মনে হল, নয়াঠাকুমা থাকলে এখন বলতেন—ছি ছি! চুল খুলে রান্নাঘরে গিয়েছ বউমা! এ কী অলক্ষ্মীপনা!

    কিংবা বলতেন—যাও যাও! দাঁড়িয়ে থেকো না নন্দিনী! ওদের জন্য রান্না চাপাও গে। এখন কি তোমার গল্প করার সময়?

    আজ নয়াঠাকুমা নেই। আজ নন্দিনী একা। কী উদ্ভাসিত তাঁর মুখ! সিদ্ধার্থর মনে হল, এই বিভা যেন প্রকাশিত হতে পারেনি এতদিন। মায়ের কথা তার মনে পড়ল। নিত্য-নতুন তাঁতের শাড়ি পরতে ভালবাসতেন তিনি। সে যখন স্কুল থেকে ফিরত, দেখত এমনই, একেকদিন একেক রঙের শাড়ি, এমনই খোলা চুল, সিঁদুরের টিপ, তার যে কী ভাল লাগত! সিঁদুর হতে, চুল হতে, তাঁতের শাড়ি হতে, মায়ের শরীর হতে বেরিয়ে আসত অসামান্য গন্ধ। বিশ্বের সেরা সুগন্ধীকেও তা হার মানায়। সে ফিরত মায়ের পাশে পাশে। মায়ের শাড়ির খস্থস্ শুনত। মাঝে মাঝে অকারণেই বলত মা! ও মা! ও মা!

    মা বলতেন—কীরে!

    সে বলত—–এমনিই

    আজ, এতদিন পর, নন্দিনীকে দেখে, তার গলার কাছে ব্যথা করে উঠল। ইচ্ছে করল, সেইরকম করে ডাকে—মা! ও মা! ও মা!

    তখন নন্দিনী বললেন—আয়! বোস! ঠাকুমা নেই বলে আসতে নেই বুঝি!

    ঘেরা বারান্দায় তেমনই সাজানো একখানি চেয়ার। মোড়া। যেন নয়াঠাকুমা এখুনি এসে বসবেন।

    সিদ্ধার্থ বলল— না। সময় পাইনি কাকিমা।

    —হ্যাঁ। তুই খুব ব্যস্ত। ওঁর কাছে খবর পাই। রেজাউলও তো আসে না। হ্যাঁ রেজাউল, তোমার বাচ্চারা ভাল আছে তো?

    —জি। সবাই ভাল। মোহন কোথায়?

    —হরিহরপাড়ায় গিয়েছে। ওর স্কুলের চাকরিটা তো হয়ে গেছে, জানিস তো?

    সিদ্ধার্থ বলল—না। জানি না তো। ভাল হয়েছে।

    —ও বহরমপুরে গিয়ে তোর সঙ্গে দেখা করেনি, না?

    সিদ্ধার্থ ম্লান হাসল। মাথা নাড়ল।

    নন্দিনী এ নিয়ে আর কথা বললেন না। পিঠময় ছড়ানো চুল তুলে খোঁপা করলেন। বললেন—সামনের অঘ্রানে বিয়ে দেব মোহনকে।

    —ওখানেই?

    —হ্যাঁ।

    নয়াঠাকুমার চেয়ারে বসেছেন নন্দিনী। তারা দু’জন মোড়ায় বসেছে। বাইরে আর বৃষ্টি নেই। আকাশে মেঘ থমকে আছে। নন্দিনী বলছেন—আমি চলে যাব এ মাসেই বহরমপুরে।—

    —ওখানেই থাকবে?

    —হ্যাঁ। উনি আর একা থাকতে পারেন না। এ বাড়িতে আমারও আর প্রাণ ঢেঁকে না। খাওয়া আর ঘুমের সময়টুকু ছাড়া মোহন বাড়িতে থাকে না। মা নেই। এ বাড়ি যেন খাঁ-খাঁ করে। এতগুলো বছর কাটল তো ওই মানুষটার সঙ্গেই। ওঁকে ছাড়া কীভাবে বাঁচতে হয়, তা-ই যেন ভুলে গিয়েছিলাম। ক’দিনের জন্য বাপের বাড়ি গেলেও মনে হত, সারাক্ষণ উনি পাশে পাশে আছেন। এটা-ওটা বলছেন। এখনও তাই মনে হয়। উনি যেন সর্বত্র আছেন। সারাক্ষণ মনে হয়, এই বুঝি ডাকলেন, নন্দিনী, বউমা! ভুল করে সাড়া দিয়ে ফেলি কতবার! রাজিয়া বলে, কী করছ বউদি! কে ডাকল তোমায়! আমি জানি, কেউ ডাকুক না ডাকুক, আমি ঠিকই শুনতে পাই। শোনাই যে আমার অভ্যাস।

    কথা বলতে বলতে সোজা হয়ে বসেছেন নন্দিনী। সিদ্ধার্থর মনে পড়ে না, এভাবে একটানা নিজের কথা বলেছেন কখনও নন্দিনী। সে দেখল, নন্দিনীর চোখ থেকে জল পড়ছে। আঁচলে চোখ মুছে তিনি বললেন— তোদের ভালবাসতেন উনি। তোরা এলে কত খুশি হতেন। বলতেন, ‘ইচ্ছে করে, ছেলেগুলোকে রেখে দিই।’ ছেলেপিলে লোকজন ভালবাসতেন মানুষটা। অথচ কতগুলো বছর এই এক আমাকে নিয়েই তো কাটালেন! গ্রামের কত লোক ধার নিয়ে গেছে ওঁর কাছে। কেউ ঘটি-বাটি বাঁধা দিত। কেউ ওমনি নিত। ওঁর খাটের নীচে এখনও এক ট্রাঙ্ক জিনিসপত্র। সব বাঁধা দেওয়া থালা-বাসন। কোনটা যে কার, তা উনিই জানতেন। ওঁর কাছেই লোক আসত। সুখ-দুঃখের কথা বলত। এখন উনি নেই। লোকও প্রায় আসেই না। ধার চাইতেও আসে না। আমার কাছে কে চাইবে? আমি তো তেমন করে মিশলামই না এ গ্রামের সঙ্গে। ঘরের মধ্যেই দিন কাটল।

    দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি। সিদ্ধার্থর মনে হল, এই কথাগুলোর মধ্যে গভীর অভিমান আছে। ক্ষোভ আছে। যেন এ গ্রামের মানুষের মধ্যে মিশে যাবার ইচ্ছা তাঁর প্রবল ছিল। কিন্তু তা প্রতিহত হয়েছে। শাশুড়ির উত্তরাধিকার তিনি পেতে পারতেন। হতে পারতেন গ্রামের বউ- ঝিদের গোপন বলভরসা! কিন্তু হল কোথায়? তার মনে আছে, নন্দিনী বলেছিলেন, তাঁর অনেক কথা আছে। তিনি সিদ্ধার্থকে বলবেন কোনওদিন। আজও মনে হচ্ছে, বহু কথা তাঁর বুকের মধ্যে আটকে ছিল। প্রথম সুযোগেই তা অনর্গল বেরিয়ে আসছে। মনে পড়ল, তারা যখন ঢুকছিল এ বাড়িতে, তখন এক অবগুণ্ঠনবতী মহিলার ত্রস্তে চলে যাবার কথা। এমনভাবে লোকে আসে কখন? যায় কখন? সে বলল— কাকিমা, এই তো ছোট গ্রাম। তুমি চাইলে, এখনও সবার সঙ্গে মিশে যেতে পারো।

    নন্দিনী ম্লান হাসলেন। বললেন—তা পারি। এই তো, জোছনা আরা এসেছিল একটু আগে। তোরা এলি, তখনই। একটা কাঁসার বাটি বাঁধা দিয়ে টাকা নিতে এসেছিল। আমি বাঁধা নিইনি। তিরিশটা টাকা। এমনিই দিয়ে দিলাম। বউটা কেঁদে ফেলল। বলল, ‘তুমি কি আমাকে চেনো?” বললাম, ‘না। চিনি না।’ সে বলল, ‘আমি আসগর মোল্লার বড় বিবি। আমার স্বামী কংগ্রেস করেন বলে মোহনবাবুর খুব রাগ। তা মায়ের কাছে এর আগে টাকা নিয়েছি আমরা। লোকে বলে, তুমি নাকি ধার-টার দেবে না। তোমার নাম তো দেমাকি বউ। তবু আমি সাহস করে এলাম। কই তুমি তো আমাদের মায়ের মতোই ভাল। বলব। সবাইকে বলব আমি। টাকা ফিরত দিয়ে যাব। দেখো তুমি।’ হয়তো এবার আস্তে আস্তে আরও অনেকেই আসবে। আজ ত্রিশ-বত্রিশ বৎসর হল দেমাকি বউ অপবাদ নিয়ে আছি। তা-ও ঘুচে যাবে। কিন্তু ওই জোছনা আরাকে টাকা দিয়ে আমার কী মনে হল জানিস?

    —কী?

    —আমি যেন মায়ের ভূমিকায় চলে যাচ্ছি ক্রমশ। মা মরে যাওয়ায় সে আসন শূন্য হয়েছিল, আমি তার অধিকার নিচ্ছি। ক’মাস পরে আমার ছেলের বিয়ে হবে। আমি শাশুড়ি হব। একইভাবে আমি… না না! সিধু, আমার মনে হচ্ছে, মা আড়াল থেকে আমাকে পরিচালিত করছেন, যেমন করতেন সারাক্ষণ!

    —তোমার বহরমপুরে চলে যাওয়াই উচিত কাকিমা।

    —হ্যাঁ। চলে যাব। এ মাসেই।

    রেজাউল বলল—মোহন একা থাকবে?

    —হ্যাঁ। ওর কোনও অসুবিধা হবে না। এই তো ক’টা মাস। তারপর বউ এসে যাবে। রাজিয়া রইল। ও তো সব পারে। মুনিষরা রাতে থাকে। আমাকে ছাড়াই তো মোহন বড় হয়ে গেল রেজাউল।

    নন্দিনীর কথার মধ্যে ব্যথিতের সুর। সিদ্ধার্থ তাকে হালকা করতে বলল— আহা! কী আনন্দ! রোজ হামলা চালাব তোমার বাড়িতে। যা ইচ্ছে খেতে চাইব। তুমি রেঁধে খাওয়াবে।

    নন্দিনী বললেন—ও তোর কথার কথা। কাজের চাপে ভুলেই যাবি। তোকে আমি চিনি না? রেজাউল বলল—আমি কিন্তু বিবি-বাচ্চা নিয়ে আসব।

    —একা এলে তোকে কিছু খাওয়াব আমি?

    নন্দিনী উঠলেন—তোরা স্নান করবি তো?

    —করব।

    —যা। মোহন সন্ধের আগে আসবে না। তোরা থাকবি তো আজ?

    —থাকব।

    .

    দুপুরে যথারীতি পোস্তর বড়া ছিল পাতে। সঙ্গে বেগুনের ভর্তা, চুনো মাছের চচ্চড়ি, ছোলার ডাল এবং ডালের বড়া দিয়ে পেঁপের ডালনা।

    তাদের খাওয়াতে বসিয়ে কথা বলছিলেন নন্দিনী। সিদ্ধার্থর কষ্ট হচ্ছিল নন্দিনীর জন্য। কথা বলতে এত ভালবাসেন মানুষটা, আগে কখনও বোঝা যায়নি। যদিও নন্দিনীর কথার সমস্তই ছিল নয়াঠাকুমাকে ঘিরে। কী খেতে ভালবাসতেন তিনি, কী করতেন, কী বলতেন।

    প্রায় তিরিশ-বত্রিশ বছর ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, এ তো বন্ধুত্ব নয়। বরং, সিদ্ধার্থ দেখেছে, কোথাও একটা প্রভুত্ব ছিল নয়াঠাকুমার, নন্দিনীর ওপর। নন্দিনীরও সমস্ত অস্তিত্বের মধ্যে ছিল এক অসুখী প্রকাশ। দাঁতে দাঁত চেপে মেনে নেওয়া জীবন। তবু কী নিবিড় ছিল ওই সম্বন্ধ! যাকে নন্দিনী এক মুহূর্তের জন্য ভুলতে পর্যন্ত পারছেন না! শুধুমাত্র বসবাসের অভ্যাসেও গড়ে ওঠে অন্তরঙ্গ ঘনিষ্ঠতা? নাকি এ ঘনিষ্ঠতাই! এর মধ্যে অন্তর কোথাও নেই। কেবল তর্জনী ও অবনত মাথার সম্পর্ক যেমন। বন্দির সঙ্গে সান্ত্রীর সম্পর্ক যেমন।

    খাওয়া সেরে সিদ্ধার্থ বেরুল বরকত আলির সঙ্গে দেখা করার জন্য। রেজাউল এল না। এমন ধ্যানগম্ভীর আঁধারতর দুপুরে সে নন্দিনীর সঙ্গে কথা বলে কাটিয়ে দেওয়াই মনস্থ করেছে। শরীর চাইলে একটু ঘুমিয়েও সে নিতে পারে। চতুষ্কোনা পেরিয়ে পেতনির চরে তার জীবন অতি পরিশ্রমের। এখন এতটুকু অবসরের সুযোগ সে ছাড়তে রাজি নয়। সে বলে-আমি আসলে বদ অলস। কাজ না করলে খেতে পাব না, আব্বা পিটবে, তাই কাজ করি।

    .

    পেতনির চরের সমস্ত লোক সিদ্ধার্থকেই তাদের আন্দোলনের দায়িত্ব দিতে চায়। রেজাউলের দৃঢ় বিশ্বাস, একমাত্র সিদ্ধার্থর মাধ্যমেই তাদের আন্দোলন সফল হবে। কারণ সিদ্ধার্থ এই সাফল্য আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করে। সমস্ত দাবি-দাওয়া সমেত আন্দোলনের যে-সূচনা সে করেছে, তা লোক-দেখানো মাত্র ছিল না। রেজাউল জানে, লক্ষে না পৌঁছোনো পর্যন্ত সিদ্ধার্থ থামে না। থামবে না।

    তেকোনায় আসার পথে কিছু কিছু পরিকল্পনার বিষয়ে কথা বলেছিল তারা। সিদ্ধার্থ চায়, গ্রামে গ্রামে মেয়েদের কিছু সংগঠন হোক। যারা ধীরে ধীরে নারীপাচার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলবে। প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে তারা শুধু সতর্ক করার কাজটি করতে পারে। সেইসঙ্গে একটি পর্যবেক্ষণ পরিকাঠামোও তারা গড়ে তুলবে। কারণ, শুধু নারীপাচারের দুষ্টচক্র সম্বন্ধে বা এই সামাজিক অপরাধ কতখানি গর্হিত ও নির্মম এইটুকু বোঝালেই সমস্যার সমাধান হবে না। অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মায়েরা দালালের হাতে মেয়েদের তুলে দেয় যে আপাত অনুষ্ঠান বা প্রতিশ্রুতিকে সাক্ষী করে, যেমন বিবাহের মাধ্যমে বা চাকুরি দেবার ছলনায়, সেই সমস্তই তারা করে জেনেশুনে, চূড়ান্ত দারিদ্রের চাপে।

    অর্থাৎ দারিদ্র। দারিদ্র এবং অজ্ঞতা। অতএব, শুধু অজ্ঞতা দূরীকরণই নয়, চাই দারিদ্র্য হতে মুক্তি। চাই উপার্জনের অবলম্বন।

    এ কাজে এগিয়ে এসেছে বেশ কিছু বেসরকারি সমাজ-উন্নয়নমূলক সংগঠন। কিন্তু তাদের কাজ ব্যাপক নয়। স্থানীয় সংগঠনগুলি যুগ্মভাবে কাজ করলে যে-কোনও পরিকল্পনার রূপায়ণ ত্বরান্বিত করা যায়।

    মেয়েদেরই প্রয়োজন এ কাজের জন্য কারণ রক্ষণশীল পরিবারগুলির অন্দরে গিয়ে কাজ করার বা কথা বলার সুযোগ তাদের থাকে। অতএব সতর্কীকরণের পাশাপাশি যে-কাজ তারা করতে পারে, তা হল, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ। কী কী ধরণের কাজ এই দরিদ্র পরিবারগুলিকে দিয়ে করানো যায়। কার কী বিষয়ে দক্ষতা আছে। কোনও বিশেষ কুটির শিল্প কারও জানা আছে কি না। বা কোনও বিশেষ শিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব কি না।

    সরকারিভাবে এ কাজ করার বিবিধ পরিকল্পনা আছে। কিন্তু তার রূপায়ণ হয় নামমাত্র। সিদ্ধার্থ চায়, কোনও সরকারি নির্ভরশীলতা নয়, জনগণের নিজের মধ্যে তৈরি হোক প্রেরণা। নিজেদের মধ্যে প্রেরণা জাগলে সরকারের গাফিলতিময় দীর্ঘসূত্রী প্রকল্পও সফল করা সম্ভব। তার জন্য সময় দরকার। ধৈর্য দরকার। দরকার আর্থিক উপায়। সেজন্য প্রস্তুত হতে চায় সে। এবং চায়, মেয়েদের একটি সংগঠন। নিবেদিতা বাগচির ওপর সে দিতে চায় এই দায়িত্ব। আর এই দলে সে চায়, যোগ দিক, রেজাউলের স্ত্রী।

    রেজাউল এ কাজে তার স্ত্রীকে যেতে দিতে সম্মত আছে। রওশন, তার বিবি, বুদ্ধিমতী মেয়ে। সে ভরসা রাখে, রওশন এইসব কাজ করতে পারবে ভাল। কিন্তু তাকে কথা বলতে হবে বাড়িতে। সে আশা রাখে, বাড়িতে আপত্তি না-ও হতে পারে। কারণ সিদ্ধার্থর প্রতি তাদের আছে আস্থা ও নির্ভরতা। সিদ্ধার্থ এমন কিছু করতে বলবে না, যা রওশনের পক্ষে অসম্মানজনক হতে পারে।

    সে ভেবেছিল, সিদ্ধার্থ বুঝি-বা বিবিধ কাজের চাপে ভুলে গেছে কমলির কথা। সে বিস্মিত হয়েছিল। কারণ, সিদ্ধার্থর সম্পর্কে তার ধারণা এমনই, সে ভোলে না কিছুই। ভোলেনি।

    .

    রেজাউলকে রেখে একাই বেরিয়ে এল সিদ্ধার্থ। ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছে আবার। সে দ্রুত পা চালাল বরকত আলির বাড়ির দিকে। নানারকম সম্ভাবনার কথা মাথায় ঘুরছিল তার। হতে পারে বরকত আলি বাড়িতেই নেই। উঠোনে পা দিয়ে সে ডাকল— চাচা! আছেন নাকি?

    দোতলার বারান্দায় দাঁড়ালেন বরকত আলি। সহর্ষে বললেন—আরে আসো আসো! অনেকদিন পরে এসেছ। ভিতরে এসো।

    এই প্রথম বরকত আলির বাড়ির দ্বিতলে এল সে। বৃষ্টির কারণে সকল জানালা বন্ধ বলে ঘরে অন্ধকার। সিদ্ধার্থ বলল— আপনার বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটালাম কি?

    —না না! ব্যাঘাত কী! এখন তো আমার মাঠে থাকার কথা। ক’দিন শরীরটা ভাল নাই।

    —কী হয়েছে? একবার শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে নেবেন?

    —না বাবা! অত উতলা হওয়ার মতো কিছু নয়। আসলে, মনেও যেন ইচ্ছা লাগে না। বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেছে বাবা আমার ঘরে। ভাবলে কোনও কার্যে হাত দিতে মন চায় না।

    সিদ্ধার্থ নীরবে চেয়ে ছিল বরকত আলির দিকে। প্রশ্ন করতে পারছিল না, কী হয়েছে! পারিবারিক কোনও দুর্ঘটনা বিষয়ে কৌতূহল প্রকাশ করা ঠিক নয়।

    বরকত আলি বলে চললেন—তোমার মিছিল সফল হয়েছে। হবে আমি জানতাম। মানুষ তোমাকে চায় সিদ্ধার্থ। আমি যেতে পারি নাই মিছিলে। তবে সকল শাসন অগ্রাহ্য করে অনেকে গিয়েছিল। সকল দলের সমর্থক গিয়েছিল। দল ছেড়ে দেবার পরে তোমার সঙ্গে আমার আর দেখা হয় নাই।

    সিদ্ধার্থ বলল— হ্যাঁ। মিছিলের প্রচারে তৌফিক এসেছিল এখানে। আমি আসতে পারিনি।

    —তৌফিকের সঙ্গেও আমার দেখা হয় নাই। কারণ সে যেদিন এসেছিল, আমি ছিলাম না।

    —ও!

    —কী জানো সিদ্ধার্থ, তুমি দল ছেড়েছ শুনে প্রথমটায় বড় খারাপ লেগেছিল। মনে হয়েছিল তুমি আমাদের সঙ্গে মিরজাফরি করলে। বিশ্বাসঘাতকতা করলে তুমি।

    সিদ্ধার্থ চুপ করে আছে। শুনছে। বরকত আলি বলছেন—দল ছেড়ে যাওয়ার অর্থ বুঝিনি। পরমেশ্বর সাধুখাঁ পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তাঁকে হত্যা করার ওই নারকীয় পরিকল্পনা কখনও সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু প্রমাণ তো হয়নি সি পি এম-এর কেউ তাঁকে মেরেছে! রাজনীতি যারা করে, তাদের প্রতি বহুজনের বহুরকম আক্রোশ থাকে। সি পি এম-এর মিছিলকে ব্যবহার করে কেউ আক্রোশ মিটিয়েছে! তার জন্য তুমি দল ছাড়বে কেন? আমরা কি তা হলে সবাই খারাপ? অনেক ভাবলাম। পরে মনে হল, না, সিদ্ধার্থ ঠিকই করেছে। বড় একটা গাছকে আশ্রয় করে আছি আমরা। সে-গাছের ডালে পচন লাগলে আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে তা কেটে ফেলা উচিত। কিন্তু যদি কাটা না যায়? ওই একটা ডাল থেকে পুরো গাছে পচন লাগার সম্ভাবনা যদি থাকে? তখন অন্য কোনও সুস্থ গাছের সন্ধানে যাওয়াই ভাল। সিদ্ধার্থ ঠিকই করেছে। কিন্তু এর পরেও ধাঁধা লাগল। ভাবতে লাগলাম, সুস্থ গাছ কে? কংগ্রেস? বি জে পি? আর এস পি? আমরা বাঙালি? মুসলিম লিগ? কে? জানি না কাকে আশ্রয় করবে তুমি শেষ পর্যন্ত! কেন করবে! তোমার অনেক শক্তি। শেষ পর্যন্ত তুমি কি নিজেই গড়ে তুলবে কোনও দল? তাতে কতটুকু শক্তি পাবে? ধরো ফরোয়ার্ড ব্লকের কথাই। নামে একটি জাতীয় দল। সংগঠনও খুব ছোট নয়। কিন্তু কী তাদের শক্তি? কতটুকু? তোমার ওপর ভরসা আছে আমার। তুমি বিরাট হয়ে ওঠো। বিরাট হতে পারলে, তবেই ভেঙে বেরুবার সিদ্ধান্ত মর্যাদা পাবে।

    সিদ্ধার্থ বলল— আপনার আশীর্বাদ চাই। সহযোগিতা চাই চাচা।

    —আশীর্বাদ সবসময় আছে বাবা। সহযোগিতাও করব নিশ্চয়ই। তবে কিনা এই বয়সে দল ছাড়তে পারব না। তিরিশ বৎসরের এ সম্পর্ক। ছাড়তে পারব না। তোমরা তরুণ, তোমরা যা পারো, আমরা পারি না। তবে রাজনীতি থেকে সরে যাব আমি। প্রত্যক্ষ রাজনীতি আর করব না। আর যে-কোনও ভাল কাজে লাগার জন্য রাজনৈতিক দলের পরিচয় বড় কথা তো নয়।

    —না। তা নয়। আমি বলব না দল ছাড়ুন আপনি। রাজনীতি থেকে সরে যান বলব না। আমি চাই আপনি থাকুন। রাজনীতির জগতে আপনার মতো মানুষ প্রয়োজন।

    —না বাবা না। আমি আর কী! সামান্য মানুষ! তুমি কি তা হলে আলাদা দল গড়াই মনস্থ করলে?

    —জানি না চাচা। আলাদা দল, আলাদা নাম, এসবের প্রয়োজনীয়তা কত, এখনও জানি না। কখনও মনে হচ্ছে, ক্ষমতা দরকার। প্রভূত ক্ষমতার জন্য আগ্রাসী হওয়া দরকার। না হলে বিরুদ্ধ ক্ষমতার দ্বারা ধ্বংস হয়ে যাব। কখনও মনে হচ্ছে, জনগণের জন্য গড়ে তুলতে হবে জনগণের আন্দোলন। তার জন্য দল মুখ্য হবে কেন?

    —কাজে শৃঙ্খলা আনার জন্য, নিয়ন্ত্রণ আনার জন্যও তো দল গড়ে তোলা দরকার। তা ছাড়া তোমার ক্ষমতা না থাকলে সাধারণ মানুষ তোমার ওপর নির্ভর করবে কেন?

    —ঠিক। ঠিকই! তবু আমাকে ভাবতে হবে আরও।

    —ভাবো। তবে বেশি সময় নিয়ো না। বেশিদিন চুপচাপ থাকলে লোকের মন থেকে তুমি মুছে যাবে। তখন তোমার কাজ কঠিন হয়ে যাবে আরও।

    —আমি এরকমই চলে আসতে পারি তো আপনার কাছে চাচা?

    বরকত আলি বলেন—আমার বাড়িকে তোমার নিজের বাড়ি জানবে সিদ্ধার্থ। আমি সামান্য মানুষ, কিন্তু আমার স্নেহে কোনও ফাঁকি নেই।

    সিদ্ধার্থ প্রতিবাদ করে। বলে—আপনি সামান্য নন।

    —সামান্য! ক্ষুদ্র! আমার স্বপ্ন ছিল এম এল এ হওয়া! ভাবো! সামান্য এম এল এ হওয়ার দিকে এতকাল ছুটেছি! আমি সামান্য নই?

    —না। তাতে কিছুর বিচার হয় না।

    —হয় হয়! আরে কেউ ভাবেন আমি পঞ্চায়েত প্রধান হব, কেউ ভাবেন আমি এম এল এ, এম পি হব। মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হব, এমনও ভাবেন। এঁরা কেউ সে-অর্থে ছোট নন। বিরাট। ক্ষমতাবান। মহানও হতে পারেন। কিন্তু এঁদের দৃষ্টি ছোট। এঁদের দৃষ্টি ঠেকে যায়। একটি আসনে ঠেকে যায়। এঁরা কেউ ভাবেন না আমি একজন সার্থক নেতা হয়ে উঠব। মহাত্মা গাঁধীর মতো নেতা। সুভাষচন্দ্র বসুর মতো নেতা। মাও সে তুঙ, ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন, চে গুয়েভারার মতো নেতা। পদের লোভ যাঁদের কাছে মুখ্য বিষয় ছিল না! সে কথা থাক। আমি বলছিলাম, তুমি এ বাড়িতে আসবে। তেকোনায় অন্য কোনও বাড়ির দরজা যদি তোমার জন্য না খোলে তো আমার দরজা খোলা থাকবে জেনো। আজ তুমি এলে, ভাল হল। মনে বড় বেদনা ভার হয়ে আছে বাবা। মেয়েটাকে নিয়ে বড় চিন্তায় আছি।

    —কী হয়েছে ফিরোজার?

    —গর্ভবতী হয়েছিল সে।

    —হয়েছিল?

    —হ্যাঁ। শ্বশুরবাড়ি থেকে খবর দিল মেয়েকে নিয়ে আসতে হবে। তোমার মিছিলের জন্য তৌফিক যখন এসেছিল, আমি চতুষ্কোনায় গিয়েছিলাম ফিরোজাকে নিয়ে আসতে। আমার ইচ্ছা ছিল ফিরোজা ওখানেই থাকুক। কারণ বহরমপুর শহর কাছে। সুবিধা হবে। কিন্তু তাঁরা বললেন, নিয়ম এই যে, প্রথম সন্তান হবে বাপের ঘরে। ফিরোজাও থাকতে চাইল না। নিয়ে এলাম। ঘোড়ার গাড়িতে করে এতটা পথ আসা, ভাল হল না মেয়েটার পক্ষে। এখানে আসার দিন পনেরো পরে অসময়ে পেটে বেদনা উঠল। বেদে বউকে ডেকে নিয়ে এলাম। সে বললে, শহরে নিতে হবে। বাচ্চা নড়ে গেছে। সারা গ্রামে একটা ঘোড়ার গাড়ি নেই তখন। বেরিয়ে গেছে সব। মেয়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করছে। মোহন বলল বাইকে করে নিয়ে যাবে। কোনওক্রমে সে যতটা পারা যায় সামনে বসল। ফিরোজা বসল মাঝে। আমি ফিরোজাকে ধরে প্রায় পেছনদিকে স্টিলের মাল রাখার ঝুরিতে বসলাম। মোহন চেষ্টা করেছিল। পায়ে ঠেকিয়ে ঠেকিয়ে ধীরে ধীরে চালাচ্ছিল যতখানি সম্ভব। কিন্তু রাখতে পারলাম না। মরালী পেরিয়ে যেতেই ফিরোজা প্রায় অজ্ঞান হয়ে গেল। বাইক থামিয়ে ধু-ধু জমির ওপর শুইয়ে দিলাম তাকে। মোহন তার আপন ভাইয়ের মতো। মোহন কোল পেতে তার মাথা তুলে নিল। বাকি শরীরটা আমি কোলে নিলাম। দু’টি পুরুষের কোলে শুয়ে অসহায় গর্ভবতী। রক্তের ডেলা বেরিয়ে এল মেয়ের শরীর থেকে! ওঃ কী বলব সিদ্ধার্থ! আমার হাতের ওপর… আমার হাতের ওপর…

    গুড়গুড় করে মেঘ ডাকল। অন্ধকার নেমে এল ঝুপসি হয়ে। কিছুক্ষণ নীরব রয়ে গেল তারা দু’জনেই। সিদ্ধার্থর মনে পড়ছিল ধুলামাটি গ্রামের কথা। বুকে মৃত শিশুর শৈত্য। বরকত আলি প্রায় ফিসফিস করে বললেন—আমি, পঞ্চায়েত প্রধান, আমার মেয়ের গর্ভপাত হয়ে গেল বিনা চিকিৎসায়! এর জন্য কে দায়ী বলো? ভাল রাস্তা নাই। ডাক্তার নাই। হাসপাতাল নাই। এর জন্য কে দায়ী?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার
    Next Article বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    Related Articles

    তিলোত্তমা মজুমদার

    শামুকখোল – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    অর্জুন ও চারকন্যা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    ঝুমরা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    নির্জন সরস্বতী – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    কয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }