Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাজপাট – তিলোত্তমা মজুমদার

    তিলোত্তমা মজুমদার এক পাতা গল্প1633 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাজপাট – ৪৮

    ৪৮

    জ্যৈষ্ঠি না মাসের দিনে
    গাছে পাকে আম।
    জামাই কন্যায় আম খাওয়াইতে
    কত ধুমধাম ॥
    কেউ আনে নিজের বাড়িত
    কেউ পাঠায় ভারে।
    আরিপরি খাইয়া তারা
    খুশি আমোদ করে ॥
    আমকাঁঠাল খাইয়া গায়
    বেয়াইর পাঞ্জালি।
    কন্যার মায় উশাস ছাড়ে
    কোর অইছে খালি ॥

    .

    জ্যৈষ্ঠের প্রথম কয়েকদিন শুখা গেল। ডালশস্য নির্বিঘ্নে ঘরে তোলা গেছে। আউশ বোনার পালা চলবে এবার। যারা ডালশস্য আবাদ করেনি, তাদের জমিতে আউশের কচি সবুজ শির উঠেছে। এ মাসে মাঝে-মধ্যে বর্ষণ ফসলের পক্ষে ভাল। সবচেয়ে ভাল, রাতে বর্ষণ হবে, দিনে থাকবে রোদ্দুর।

    প্রথম কয়েকদিন বৃষ্টি না হওয়ায় গাঁয়ে গাঁয়ে কৃষাণবধূরা মেঘরানির কুলো নামিয়েছিল। জলের ঘট নিয়ে সকল গৃহস্থ ঘরে ঘোরা। আগে যাবে কুলো। তারপর জলের ঘট। গৃহস্থবাড়ি হতে অল্প অল্প জল নিয়ে ঘট পূর্ণ করা। তারপর সেই ঘটপূর্ণ জল ফেলে দিতে হবে জলাশয়ে। কুলোর বাতাস দিয়ে বলতে হবে—

    হ্যাদে লো বুইন ম্যাঘারানি।
    হাত পাও ধুইয়া ফ্যালাও পানি ॥
    ছোট ভুঁইতে চিনচিনানি
    বড় ভুঁইয়ে আডু পানি ॥
    ম্যাঘারানির ঘরখানি পাথরের মাঝে।
    কোন রাজত্বে গ্যালা বুইন কোন হুনা কাজে ॥
    ম্যাঘারানি ঘটের পানি কোন ঘরেতে রাখে?
    হেই বৃষ্টি ঘট ভাইঙ্গা নাম লো ঝাঁকে ঝাঁকে ॥
    ও ভাই কাইলা ম্যাঘা, ধইলা ম্যাঘা
    বাড়ি আছ নি?
    গোলায় আছে বীজ ধান
    বুনাইতে পারো নি?

    .

    এমন আকুল আহ্বানে কৃষাণ-বউয়ের বোন মেঘরানি ঘট দিলেন উপুড় করে। জ্যৈষ্ঠে এমন বৃষ্টি, গলে যাবে শিশু ধানগাছ। গলে যাবে বীজ। পুষ্ট পুরম্ভ কলাইয়ের শটি খসে যাবে গাছ হতে। চাষিরা কালো আকাশ দেখে মুখ ব্যাজার করছে এখন। এ যেন আগবর্ষা নামল। কথায় বলে—

    জ্যৈষ্ঠে মারে আষাঢ়ে ভারে।
    কাটিয়া মারিয়া ঘর ভরে ॥

    অল্প-স্বল্প বৃষ্টি দিয়ে জ্যৈষ্ঠ যাবে শুকনো আর আষাঢ়ে নামবে ধারাবৃষ্টি। তা হলে ভূরি পরিমাণ শস্য উৎপন্ন হবে। যদিও প্রকৃতি প্রতি বৎসরই শাস্ত্র মেনে ঋতুবিন্যাস করে না, অতএব চাষিকেও ধৈর্য ধরতেই হয়। তাদের শঙ্কা এখনও বড় হয়ে ওঠেনি। এবং শঙ্কার ছোঁয়া লাগেনি উৎসবাদিতে। কথায় বলে জ্যৈষ্ঠ হল রসঋতু। খরদাহের তীব্রতা সত্ত্বেও ফলত্বকের আবরণের তলায় কী মিষ্ট রস! আমে রস, জামে রস, কাঁঠালে রস, লিচুতে রস। আর তেমনই শুখা মাটির বুক চিরে উঠে আসে জীবনের সুঘ্রাণ। জুঁই, বেল, মল্লিকা, চাঁপা আশ্রয় করে প্রকৃতি ঘর্মক্লান্ত দেহে ঢেলে দেয় সুবাসিত আবেশ।

    এমন রসের মাসে, এমন সুগন্ধের মাসে, মন উতলা হবে না কার!

    বসন্ত হৃদয় উদাস করে। দেহ পাগল করে। চেতনাকে রঙিন ভাবনা দ্বারা আচ্ছন্ন করে দেয়। বসন্ত রটায় মিলনোন্মাদনা। ফাল্গুনের জ্বলন দেহী। দেহব্রতী। আর জ্যৈষ্ঠের উদাসীনতায় স্নেহ ভরা। উন্মাদক নয় সে। বরং আকুলকরা। সে আকুলেও আছে দেহবোধ কিন্তু তা শান্ত। এ হল রসভাগের কাল। সুগন্ধ ভাগের কাল। ফাগুনের বৈধতার সীমা ছাড়ানো হাতছানি নয়, বরং ঘরের কোণে তাঁকে মনে পড়ে। রেকাবে রাখা জুঁইফুল কার প্রতীক্ষায়? বালিশের পাশে রেখে দেওয়া বেলের মালা কার প্রতীক্ষায়? থরে-বিথরে ছড়ানো রসভরা ফলগুলি তার পাতে না দিয়ে খায় কী করে মানুষ!

    জ্যাট মাসে ডালিম গাছে হয় দ্যাকো কলি।
    তখন ক্যানে যান তিনি বাণিজ্যেতে চলি ॥
    গাছে ত হইল অসের ডালিম কাঁইবেন ধরে তারে।
    পচইয়া পইড়ব ডালিম তুমি না থাকিলে ঘরে ॥

    এমন ফলফুলের মরশুম, জামাইরা আসছেন শ্বশুরবাড়ি। কোথাও কোথাও বিয়ে-সাদির ধুম উৎসব। যেমন বরকত আলির গৃহে এখন লোকে লোকে ভরা। আত্মীয়-কুটুম্বের সমাগম। বরকত আলির বিবি আর ছেলেদের নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। বরকত আলি চতুর্দিকে দেখে বেড়াচ্ছেন। কোথাও যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে। গৃহসংলগ্ন সবজিবাগানে হয়েছে ভোজের আয়োজন।

    চার দিন ধরে ফিরোজাকে হলুদ মাখানো চলছে। পাত্রের বাড়ি থেকে হলুদ, তেল, সাবান, তোয়ালে, কাপড় প্রভৃতি এসেছে। এসেছে মিষ্টি ও মাছ। কয়েকজন আত্মীয়া, তাঁরা গানে নিপুণা, আচরণে সরসা, বাচনে প্রগলভা— ফিরোজাকে তাঁরা অস্থির করে তুলছেন। বিধবা কয়েকজন, তাঁরা গায়ে-হলুদের অনুষ্ঠানে দূরত্ব বাঁচিয়ে রাখছেন। কিন্তু ফিরোজাকে ঘিরে গীত গাইছেন সকলেই। পাড়ার প্রতিবেশিনীরাও যোগ দিয়েছেন। সকল প্রতিবেশীর এ অধিকার নেই। মানে আর বরকত আলির সমান কে! ধনেও বরকত আলির বড় কেবল চাটুজ্যেরা। বাকি সব চার-ছয় বিঘার চাষি। তবু তাদের মধ্যে যারা সচ্ছল, যারা বরকত আলির রাজনৈতিক সহযোগী, এসেছেন তাঁদের ঘরের বিবিরা। গান হচ্ছে।

    উঁচু ঘরের চৌরঙ্গি উসারা
    আরিল কাঠের ক্যাওট যে
    সেই না উসারায় বসে নয়ালাল
    বিয়ার লিখন লিখে যে

    উঁচু ঘরের প্রশস্ত, উঠোন, তাতে আবলুশ কাঠের কপাট দেওয়া দোর। সেই উঠোনে বসে নবরর প্রেমলিপি লিখছে।

    লিখিতে লিখিতে হাতের কলম
    গেল পড়ে যে
    কুথায় গেলে ওগো কামিনী
    দাও না কলম গুড়ায়ে

    লিখতে লিখতে বরের হাত থেকে লেখনি পড়ে গেল। বর তখন নববধূকে উদ্দেশ করে বলছে—হে প্রিয়তমা, গেলে কোথায়? আমার কলমটা কুড়িয়ে দিয়ে যাও।

    কী কাণ্ড! যার উদ্দেশে প্রেমপত্র রচনা— তাকেই নাকি কুড়িয়ে দিতে হচ্ছে কলম! বিবি ও তেমনি টেটিয়া। বলছে—

    বাবাজি দিয়েছে সাত বাঁদি
    কেমনে কলম গুড়াইব

    বধূ বলছে—আমার বাবা সাতবাঁদি পাঠিয়েছেন না? আমি কী করে কলম কুড়োই?

    তুমার হাতের কলম হলে গো কামিনী
    লিখন হবে মোর ভাল যে
    বাঁদির হাতের কলমে কামিনী
    লিখন হবে মোর বাঁকা যে

    বর বলছে—বাঁদি যদি কলম কুড়িয়ে দেয়, লেখা আমার বাঁকা হবে। একমাত্র তুমিই যদি কুড়িয়ে দাও প্রেয়সী, তবেই আমি স্বর্ণাক্ষরে লিখব। অর্থাৎ কলম কুড়িয়ে দেওয়া ছল। আসল উদ্দেশ্য বিবিসাহেবার সান্নিধ্য পাওয়া। পরস্পরের চেনাজানা এখনও তেমন মেলেনি কিনা, তাই ছলচাতুরির আড়াল লাগছে!

    এ পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু মধুযামিনীর গানে ফিরোজার কান গরম হয়ে উঠতে লাগল। আত্মীয়াদের হাত থেকে ছাড়া পাবার জন্য ছটফট করছিল সে। কিন্তু মহিলারা ছাড়বেন কেন? গাঁয়ের বিয়েতে এটুকুই তো আমোদ আহ্লাদ। আর আহ্লাদের মধ্যমণি কনে। অতএব মধুযামিনীর গানে পাগল হল সবাই।

    সোনার পালঙ্কে শুয়ে সোলেহার
    রূপোর পালঙ্কে পাও যে
    সরে শোও না গো ওগো সোলেহার
    তোমার গরমিতে জুও ঘেমে ওঠে যে

    পালঙ্ক জুড়ে কনে শুয়ে আছে। একেবারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। যেন সোনার খাটে শুয়ে রুপোর খাটে তুলে দিয়েছে পা। বর বলছে—সরে শোও। তোমার শরীরের আঁচে আমার শরীর যে ঘেমে উঠল।

    ইরবুঝ দামাদের নিরবুঝ কথা
    কবে আক্কেল হবে যে
    নারীর গরমিতে পুরুষ
    কখনও ঘামে যে

    হায়! কী বেআক্কেলে বর! তার বুদ্ধি হবে কবে। নারীর মধুর উষ্ণতায় পুরুষ স্বেদক্লিষ্ট হয় কখনও?

    সোনার পালঙ্কে শুয়ে সোলেহার
    রুপোর পালঙ্কে পাও যে
    সরে শোও না গো ওগো সোলেহার
    তোমার গরমিতে জুও ঘেমে ওঠে যে
    ইরবুঝ দামাদের নিরবুঝ কথা
    কবে আক্কেল হবে যে
    যে ডালেতে পাখি বসে
    ডাল কখনও ভাঙে যে
    যে পুকুরে মাছ থাকে
    পুকুর কখনও কাঁপে যে

    কী বোকা এই বর। কবে তার বুদ্ধি হবে। পাখির ভারে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে নাকি কখনও? মাছের সাঁতারে পুকুরের জলে আলোড়ন ওঠে?

    এইসব গানের মর্মানুধাবন করছিল না ফিরোজা। তার ষোলো পূর্ণ হওয়া হৃদয় বিচ্ছেদের বেদনায় ভারাক্রান্ত ছিল। চলে যেতে হবে এই গ্রাম ছেড়ে। বাবা-মাকে ছেড়ে। ভাই, ভাই-বউ, তাদের ছোট ছোট সন্তানগুলি ছেড়ে। এই ভৈরবের কিনার হতে সে পৌঁছবে ভাগীরথীর কিনারে। তেকোনা থেকে যাবে চতুষ্কোনায়। কেমন সেখানকার মানুষজন? কেমন তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, অন্যান্য পরিজন?

    গ্রামে ফিরোজার চেয়েও ছোট মেয়েরা বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়ি যায়। ঘর-কন্না করে। পনেরো বা ষোলোতেই মা হয়ে যায়। প্রধান জনাব বরকত আলি একজন আলোকপ্রাপ্ত আধুনিক মানুষ বলেই তাঁর কন্যা এই পূর্ণ ষোলো অবধি ঘরে থাকতে পারল। তবু বিষাদ-বেদনা তাকে আচ্ছন্ন করেছে। মেয়ে হয়ে জন্মেছে, এই তার নিয়তি। এর অন্যথা হলে কি তার ভাল লাগত? গ্রামের পড়শিরা, আত্মীয়েরা নিন্দায় তিষ্ঠোতে দিত না। তৎসত্ত্বেও, যেখানে জন্মেছে, বড় হয়েছে, যাঁদের বুকের উত্তাপে সে হয়ে উঠেছে পূর্ণ ষোলোর ফিরোজা আজ, তাঁদের ছেড়ে যেতে প্রাণ কাঁদে। মন হু-হু করে।

    সকাল-সকাল তাকে স্নান করিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সালঙ্কারা এখন সে। সেজেগুজে বসে আছে। বিয়ে বসবে দুপুর একটায়। এগারোটার মধ্যে বরের চলে আসার কথা। বরকে মনে মনে কল্পনা করেছে সে। দেখেনি। তার বর। তার দুলহা। বিষাদ ফাটিয়ে কখনও-বা এক আনন্দের শিরশিরানি জেগে ওঠে অন্তরে তার। কেমন সে? প্রেমিক পুরুষ কি? তার আব্বাজানের মতো? তার আম্মিকে ছাড়া যেমন চলে না আব্বার একটি দিনও, তার বরও কি তেমনি জাপটে নেবে তাকে জীবনে? হয়তো তারই নাম সুখ, যার সন্ধানে সে যাচ্ছে। তারই প্রার্থনায় সকল মেয়েই পিতৃগৃহ ছেড়ে যায়। ডিঙিয়ে যায় আজন্মের চেনা চৌকাঠ! দু’হাতের দুই করতলে হরষ আর বিষাদ নিয়ে বসে আছে ফিরোজা নামের ষোড়শবর্ষীয়া কিশোরী। মহিলারা তাকে ঘিরে আছে।

    এই বিবাহ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সিদ্ধার্থ এসেছে বহরমপুর থেকে। এবার তৌফিক এসেছে তার সঙ্গে। কারণ বিবাহ অনুষ্ঠান শেষ হলে তারা নদীপাড়ের গ্রামে গ্রামে যাবে। সিদ্ধার্থ তৌফিকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল বরকত আলির। তৌফিক বলল— বিনা দাওয়াতেই চলে আসলাম মামা।

    সে আবিষ্কার করেছে, কোন দূর সম্পর্কের সূত্রে বরকত আলি তার মামা হয়ে ওঠেন। কত সম্পর্ক পড়ে থাকে এমন। কত সম্পর্ক বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে যায়। সে সেই সম্পর্কসূত্র ধরিয়ে দিতে চেষ্টা করছে বরকত আলিকে। বরকত আলি শুনতে শুনতে খুশি হয়ে উঠছেন। তিনি তৌফিকের হাত ধরছেন। সিদ্ধার্থর হাত ধরছেন। আজ তাঁর আনন্দের দিন। দুঃখের দিন ও বটে। তিনি বারবার উদাসী হয়ে উঠছেন। খুশি বেগমের দম ফেলার সময় নেই। আজ সকাল হতে সারা দিবসের জন্য তিনি উপবাসী। মেয়ে চলে যাবে বলে তাঁরও প্রাণ কেঁদে উঠছে। কিন্তু কাঁদবার সময় কোথায়? বরং বরকত আলির উদাসী ভাব দেখে ছেলেদের ডেকে তিনি বলছেন—আব্বাকে গিয়ে বলো একটু বিশ্রাম নিতে।

    এরশাদ এসে দাঁড়াল কাছে। বলল— আব্বু, মা তোমাকে বললেন একটু বিশ্রাম নিতে।

    বরকত আলি এই ফাঁকটুকু চাইছিলেন। বললেন—তা তোমরা একটু দেখেশুনে নাও। আমি একটু আসি।

    সকাল সাড়ে ন’টা। বর আসতে দেরি আছে। আত্মীয়-স্বজন এসে পড়ায় বরকত আলি প্রত্যেককে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন। বড় শ্যালককে বলেছেন—আপনি পাকশালের দায়িত্ব নেন।

    ছোট শ্যালককে বলেছেন—আপনার ওপর ভাঁড়ারের ভার রইল।

    কেউ বরযাত্রীর দেখভাল করবেন। কেউ ভোজনের আয়োজন দেখবেন। কন্যার পিতা হিসেবে তিনি থাকবেন সর্বত্রই। তবু একটু ফাঁক, একটু অবসর তাঁকে আরাম দিল। সিদ্ধার্থ ও তৌফিককে সঙ্গে নিয়ে তিনি ভিড়ের বাড়ি হতে বেরিয়ে পড়লেন। বড় স্বস্তি বোধ হল তাঁর। বাইরের কাজে যারা অভ্যস্ত, ঘরের কাজে তাদের অধিকক্ষণ মন লাগে না।

    আকাশে মেঘ আছে। বৃষ্টি হলে কাজের বাড়িতে বড় অসুবিধা হয়। তা ছাড়া হরিহরপাড়ার পর থেকেই রাস্তা খারাপ। মরালী পর্যন্ত তবু যা হোক, কিন্তু মরালী হতে তেকোনার পথ আর পথ থাকে না বর্ষা হলে। কাদামাটির তাল হয়ে যায়। হরিহরপাড়া থেকে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থা আছে যদিও, আর মোহনলাল বরকত আলির মেজ ছেলে হাসনাতকে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বর আনতে গেছে, তবু বরকত আলি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছিলেন। তিনি বললেন— তোমরা এসেছ, আমার মন আনন্দে ভরে গেছে। কিন্তু মাঝে মাঝে বিবশ লাগে। মেয়ে আমার সুখী হবে তো? সিদ্ধার্থ বলল—নিশ্চয়ই হবে। কেন ভাবছেন চাচা? আমার দাদু বলেন, শুভদিনে শুভ ভাবতে হয়।

    বরকত আলি মাঠের পথ ধরেন। সেদিন তাঁর জমিসংলগ্ন কাঁঠালগাছের তলা তাঁর দেহ-মনকে স্নিগ্ধ করেছিল এমন, তিনি পরের দিনই মজুর দিয়ে বাঁশের বেঞ্চ গড়েছিলেন ওখানে। আহা! কী স্নিগ্ধ ছায়া! কী পাখির ডাক! বাতাসের কী মিষ্টতা! প্রকৃতি যেন এমন সম্ভাষণ তাঁকে করেনি কখনও আগে। নিজেকে সবার থেকে, সবকিছু থেকে আলাদা করে এমন একাকী দেখা আগে কখনও ঘটেনি। এখন বয়স যত তাঁকে মাটির কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে, তত যেন মাটির ভাষা বুঝতে পারছেন। জনাব বরকত আলি পঞ্চায়েত প্রধান থেকে জনাব বরকত আলি এম এল এ পর্যন্ত টইটম্বুর স্বপ্নের বাইরেও থেকে যাচ্ছে আরও কিছু, একা বসে যার সন্ধান করতে হয়।

    এখন বরকত আলি সেই কাঁঠালতলার দিকে চলেছেন। পায়ে কাদা মাখামাখি হয়ে গেছে প্রত্যেকেরই। পরিষ্কার পাজামায় মাটির ছোপ ধরছে, শিরাবরণে লেগে যাচ্ছে জলের ফোঁটা। তবু চলেছেন।

    সিদ্ধার্থর মনে পড়ছে, বরকত আলি প্রথম যেদিন তাকে গ্রাম দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেদিন কত দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। আগাগোড়া ভদ্রতা ও সমীহে মোড়া একটি স্বার্থপূর্ণ আলাপ হয়েছিল সেদিন। কিন্তু এখন যেন তার মনে হচ্ছে সে বরকত আলির ঘরের মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছে। যা সে হতে চায়। মানুষের অন্তরের আত্মীয় হতে না পারলে নেতৃত্ব গড়ে তোলা যায় না। নেতাকে হতে হবে ঘরের ছেলে। আপনজন। সে ভাবে, সে কি নেতা? যে- অর্থে মানুষ নেতা বোঝে, সে তা নয়। তার কোনও সিংহাসন নেই। মাটিতেই তার আসন। কিন্তু যে-কাজগুলি সে করতে চলেছে, যে-আন্দোলন গড়ে তুলতে চলেছে, তাতে সে নেতৃত্ব দেবে। এ নিয়ে তার কোনও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। বিনয় নেই।

    কাঁঠালগাছের নীচে বাঁশের আসন দেখে ভাল লাগল সিদ্ধার্থর। সে বসতে বসতে বলল—বাঃ চমৎকার।

    বরকত আলি বললেন—একটু ভেজা আছে।

    —থাক।

    —চা খাবে তোমরা?

    —এখানে চা কোথায় পাওয়া যাবে?

    —নদীর পাড়ে ইসমাইলের দোকানে চা করে এই সময়। আনতে পাঠাই?

    —বেশ।

    —ইদরিশ। এই এই ইদরিশ।

    বরকত আলি হাঁক পাড়েন। মাঠের কাজ ফেলে একটি যুবক ব্যস্ত হয়ে ছুটে আসে—জি।

    —মেহমান এসেছেন। চা খাওয়া ইদরিশ।

    পকেট থেকে টাকা বার করে দেন তিনি।

    ~কেটলির মুখ এঁটে নিয়ে আসবি। গরম থাকে যেন।

    ইদরিশ চলে যায়। বরকত আলি বলেন—বড় বদনসিব এই ছেলে। ছোট একটা মেয়ে ছিল। মরে গেল।

    বরকত আলি সংক্ষেপে মাসুদার মেয়ে ফরিদার মরণকাহিনি বর্ণনা করলেন। তৌফিক শিউরে উঠল। সিদ্ধার্থ জানত এ-ঘটনা। তবু আরও একবার বিদীর্ণ হল সে। বরকত আলি বললেন-কার কপালে কী লেখা আছে! ভাবলে মন বিবশ হয়ে যায় হে। ফিরোজার মা বড় ভাবনায় আছে। অতগুলো টাকা দিলাম।

    সিদ্ধার্থ জিগ্যেস করে—কী টাকা?

    —বুক ভারী হয়ে আছে। গ্রামের কারওকে তো একথা বলা যায় না। তোমাকে বলি। তোমাকে বলতে ইচ্ছা করে। মুসলমানের বিয়েতে বরপণ ছিল না। এখন হিন্দুদের দেখাদেখি ঢুকেছে। শিক্ষিত জামাই আনতে পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে আমার বরপণের জন্য।

    —পঞ্চাশ হাজার?

    —জামাই আমার ভাল। স্কুলে চাকরি করে। এমএ পাশ। তা খরচ করলাম। ফিরোজা তো লেখাপড়া জানে না। তবে হ্যাঁ, দেনমোহরের পনেরো হাজার ওরা ওই পণের টাকা থেকেই দেবে। অর্থাৎ আমাকে দিতে হল পঁয়ত্রিশ হাজার। পণ হিসাবে তো নেয় না! বলে, মেঝে পাকা করতে হবে। শেষ অব্দি তো আপনার মেয়েই থাকবে। তার পাকা মেঝেতে থাকা অভ্যেস। কথাও ভুল না। তা দেনমোহরের চাঁদি, সে-ও আমার মেয়ের থাকবে। আমি কিছু নিব না। কিন্তু খরচ তো এই এক না! এত লোকের খাওয়া-দাওয়া। মেয়ের অলংকার। চাষির ঘরে টাকা আর কতটুকু জমে! ছেলেদের বিয়ে দিয়েছি। সংসার চালিয়েছি কোনও কাপর্ণ না করে। জমা টাকা কিছু ছিল না তেমন। চারবিঘা জমি বেচে দিলাম। আর তিরিশ হাজার টাকা কর্জ নিয়েছি চাটুজ্যের কাছে। তা সোম আমার বন্ধু মানুষ। বিনা সুদেই সে টাকা দিয়েছে। কিন্তু কী জান, ঋণ মানুষকে নিচু করে, নত করে, দুর্বল করে। রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে হবে আমাকে এবার সিদ্ধার্থ।

    —কেন একথা বলছেন? ঋণ নিয়েছেন, শোধ হয়ে যাবে। রাজনীতি ছাড়বেন কেন? আপনাকে কত প্ৰয়োজন!

    —ঋণ নিয়েছি বলেই তো মোহনলাল আমাকে অবজ্ঞা করে। আমার ওপর কথা বলার সাহস পায়। অপমান হই আমি। কারওকে কিছু বলতে পারি না। যা সব শুরু হয়েছে, এর মধ্যে আমি থাকতে পারব না।

    —ঋণ তো আপনি মোহনের কাছ থেকে নেননি চাচা। এটা সোমকাকার সঙ্গে আপনার বোঝাপড়া।

    —তা বললে কি চলে? মোহনের মধ্যে তার প্রকাশ দেখা যায়। যা সব শুরু হয়েছে, তোমাকে বলব। সব বলব। সিদ্ধার্থ, তুমি মোহনের বন্ধু। কিন্তু আমাদের কাছে এখন আর সেইটা তোমার একমাত্র পরিচয় না। আমরা একই পার্টির সদস্য, সেইটা একটা বড় পরিচয়। আসলে তুমি কী জানো? এইসব সত্ত্বেও কিন্তু আসলে তুমি নেতা। আমি লেখাপড়া জানি না। কিন্তু অভিজ্ঞতা আছে আমার। অনেক বড় হবে তুমি। তাই তোমার সব জেনে রাখা দরকার। মোনাজাত করি আমি তোমার জন্য। মোনাজাত করি।

    কেটলি আর কাচের গ্লাস এনেছিল ইদরিশ। চা দিল। সিদ্ধার্থ বলল— পঞ্চরসের আসরে তুমি লালনের গান করেছিলে না?

    —জি।

    —খুব ভাল গেয়েছিলে।

    —জি, আপনাদের দোয়া।

    বরকত আলি বলেন—গুণী ছেলে। কিন্তু পাগল। কাজে মন দেয় না। তোর বিবি ভাল আছে তো ইদরিশ?

    —জি। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করে।

    —আহা! যা ইদরিশ, কাজে যা তুই। খোদার ওপর ভরসা রাখ। সব ঠিক হয়ে যাবে। আজ দুপুরে দাওয়াত নিতে ভুলিস না। বিবিকে আনিস সঙ্গে।

    —জি।

    কান্না ভুলে কি কেউ দাওয়াত নিতে আসে? আসে না। সন্তানের মৃত্যুশোক, অকালমৃত্যু হয়ে, অপমৃত্যু হয়ে যা নেমে এসেছিল, সেই শোক, পোড়ায়, পেষে, এফোঁড়-ওফোঁড় করে। তবু স্বাভাবিক সজ্জিত জীবনের আহ্বান থাকে তার জন্য। এ হল সান্ত্বনার বাক্য। সকলেই বোঝে। ইদরিশ মাঠের দিকে যায়। বরকত আলি বলেন —মোহন আমাকে কী বলে শোনো। বলে রেশমকুচিতে কংগ্রেস জেতে নুর মহম্মদের জন্য, ওর ডানা ছেঁটে দেন। ওই বর্ডার পার হওয়া উদ্বাস্তুগুলি ঘাঁটি করেছে, বলে ওদের টাকা দেন, কাজ দেন, ভোটে ওরা কাজে লাগবে। বলে, তিন লক্ষ টাকা খরচ দেখাবেন। পঞ্চাশ হাজার টাকা তুলে রাখবেন তার থেকে। ভোটের জন্য খরচ করবেন। চুরি তো আমার ধর্ম নয়। আমি কী করে পারব! যত ছেলে সীমান্তে চোরাচালান করে, তাদের জুটিয়েছে। আমি কখনও ওদের পাত্তা দিই নাই। সে দিচ্ছে। শিক্ষিত ছেলে। তাদের পরিবারের কত সম্মান। তাকে কি মানায় এইসব? তার বাপের সঙ্গে আমার ভাইয়ের সম্বন্ধ। সেকথা মনে রাখতে চায় না সে। আমার বিরোধী যত আছে, তাদের সঙ্গে দল গড়েছে। পয়োস্তি বণ্টনের কাজটা পর্যন্ত ভেস্তে দিল এই করে। নেতা হতে চায়। মোহন চাটুজ্যে নেতা হতে চায়। কিন্তু তার জন্য ধৈর্য ধরতে জানে না।

    তৌফিক বলল— মোহনদা এরকম কবে হয়ে গেল সিধুদা?

    —আমিও জানি না তৌফিক। চাচা, আপনাকে শক্ত হতে হবে। শুধু এখানে না। সব জায়গায় এই হচ্ছে। এটা আমাদের দলের সমস্যা। উপরতলার নেতৃত্বের ভাবমূর্তি খুব পরিষ্কার। কিন্তু জেলাস্তরে বা গ্রামস্তরে স্বার্থপরতা ছেয়ে গেছে। অধিকাংশই হয়ে উঠছে দুর্নীতিগ্রস্ত। আর শুধু আমাদের দল কেন! অন্য দলের অবস্থা দেখুন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা পর্যন্ত ঘুষ নেবার দায়ে অভিযুক্ত। সর্বত্র লোভ ও স্বার্থের রাজনীতি। কিন্তু তার জন্য আপনি রাজনীতি ছাড়বেন কেন? আমরা আমাদের কাজ যতখানি সম্ভব করব। আমাদের লড়াই তো একমুখী নয়। বহুমুখী। দলের ভিতরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। ভিন্ন দলের থেকে ক্ষমতা অধিকার করার জন্য আমাদের লড়াই। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় লড়াই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তার জন্য আপনি থাকবেন না? আপনি তো চেয়েছিলেন ভৈরবের পাড় বাঁধিয়ে দিতে, ভাঙন রুখতে।

    —তোমাকে সত্যি কথা বলি। আজ আমার মেয়ের বিয়ে। মিছে বলব না। সম্পূর্ণ সৎ আমিও নই। কিছু কিছু বাড়তি সুবিধা আমি নিয়েছি। কিন্তু টাকা নয়ছয় করিনি আমি।

    —আপনি থাকুন। লড়াই করুন। আমরা সবাই একসঙ্গে লড়ব। ভাঙনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গেলে শুধু দু-একটা পাড় বাঁধালে চলবে না। আমাদের দাবিগুলি অন্যভাবে সাজাতে হবে। কারণ নদীর ভাঙন স্বাভাবিক ঘটনা। তাকে আটকানো যায় না। কিন্তু পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায়। বন্যা যাতে কম হয়, তার পদক্ষেপ নেওয়া যায়। আমরা তার জন্যই আন্দোলন করব। আপনাকে আমাদের দরকার। আমরা বারবার জনসমাবেশ করব। মিছিল করব।

    কথা বলতে বলতে সিদ্ধার্থ আবেগদীপ্ত হয়েছিল। যেন বহু কথা আর ভেতরে থাকতে পারছে না বলে বসে ছিল কণ্ঠ জুড়ে। কিন্তু ঘড়িতে চোখ পড়ল তার। বর আসবার সময় হয়েছে। তাদের ফেরা দরকার। সে বলল—কথা পরে হবে। এখন বোধহয় আমাদের ফিরে যাওয়া উচিত।

    বরকত আলি উঠলেন। হাঁক মেরে বললেন—ইদরিশ, কেটলি, গ্লাস সব ফেরত দিস।

    ইদরিশ সাড়া দিল-জি।

    ফিরে চলল তারা যে-পথে এসেছিল সে-পথেই। সরু পথে পাশাপাশি চলার উপায় নেই। পরপর হাঁটছিল তারা। সিদ্ধার্থর মনে পড়ল, এ গ্রামের একটা দোকানে চুল্লু বিক্রি হয় জেনেছিল সে। সে বলল— চাচা, নদীর পাড়ে যে-দোকানগুলো আছে, তার একটাতে মদ বিক্রি হয়। আপনি জানেন?

    —যেখান থেকে চা এল, সেই ইসমাইলের দোকানেই হয়। জানি। জেনে কী করব। মরালীতে একটা ফাঁড়ি আছে, সেখানে একবার খবর দিয়েছিলাম। পুলিশ এসে দোকানে দেখনাই ভাঙচুর করে গেল। কিন্তু খবর তো সবই আসে। ইসমাইল ওই ফাঁড়িতেও চুল্লু দিয়ে আসে। এই গ্রামে আরও অনেক কারবারই হয়। পাশেই ডোমকল আছে। আশেপাশের সব গ্রামেই বিবিধ কারবার ঢুকিয়ে দিচ্ছে ডোমকল।

    সিদ্ধার্থ সীমান্তের এই সমস্যাগুলি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। কিন্তু গ্রামের একেবারে মধ্যিখানে বসে কেউ চুল্লু বিক্রি করবে, এ তার ভাল লাগল না। তবু কথা বাড়াল না সে। কথা বাড়ানোর সময়ও এটা নয়। বাড়ি ফিরে পা পরিষ্কার করে নিল তারা। এই লোকজনের মধ্যে না থেকে তারা মোহনের বাড়িতে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিল। বর এলে আবার ফিরে আসবে। কিন্তু বেরুবার মুখে বৃষ্টি নামল চড়বড় করে। হুড়োহুড়ি পড়ে গেল বাড়িতে। এটা সামলাতে হবে। ওটা আগলাতে হবে। সিদ্ধার্থ ও তৌফিক আরও কয়েকজন অতিথির সঙ্গে একটি ঘরে গিয়ে বসল। বৃষ্টির শব্দ ভেদ করে মেয়েদের গলার গান এসে পৌঁছচ্ছিল সেখানে। সিদ্ধার্থ সেই গানগুলি বোঝার চেষ্টা করছিল।

    আমার মা বলেছে বিয়া দিব রে
    দামাদ আমার কী করে
    বহরমপুরের মাঠে গোরু চরায় রে
    আমার মা বলেছে
    বুকে বুকে ভিড়িয়ে শুব রে
    ও মা গো দামাদের
    কী কড়া মোচ
    গালে গাল লাগলে যেন ফুটে
    পাকা বাঁশের চোঁচ
    আমার মা বলেছে বিয়া দিব রে
    আমার মা বলেছে
    বুকে বুক লাগিয়ে চুমা খাব রে
    দামাদের কী ফালা ফালা চোখ রে
    চোখ দেখে ডর লাগে
    আমি চুমা খাব কী করে।

    তখন ঘোড়ার গাড়িগুলি দুয়ারে এসে লাগল। খেলাত পরে বর এলেন। বরের সঙ্গী-সাথীরা এলেন। বৃষ্টির মধ্যে অভ্যর্থনা জুড়ে কেবল ছাতার পর ছাতা। অবশেষে বর-সহ বরযাত্রীরা গুছিয়ে বসলে বরকত আলি সিদ্ধার্থ ও তৌফিককে ডাকলেন সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য। এবং বরকত আলিকে অবাক করে দিয়ে বর জড়িয়ে ধরল সিদ্ধার্থকে। সিদ্ধার্থ মুখের হাসিতে বিস্ময় লুকোতে লুকোতে ভাবল—বদরুদ্দিনই তা হলে সেই পাত্র যে গোপনে পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা পণ নেয়! মন খারাপ হয়ে গেল তার। বদরুদ্দিন একজন নির্ভরযোগ্য কর্মী। তার মধ্যে এমন অনাদর্শ সিদ্ধার্থ আশা করেনি। সে সকলের ব্যস্ততার ফাঁকে বেরিয়ে পড়ল বাড়ি থেকে। তৌফিক আসতে চাইছিল সঙ্গে।

    সে বলল—তুমি থাকো তৌফিক। তুমি থাকলে ভাববে আমিও আছি। আমি একটু ঘুরে আসব।

    সে যখন মোহনলালের বাড়ির দিকে যাচ্ছে তখন পথে দেখা হল নয়াঠাকুমা ও সোমেশ্বরের সঙ্গে। তাঁরা বরকত আলির বাড়িতেই চলেছেন। সিদ্ধার্থ বলল—আরে আমি তো আপনাদের বাড়িতেই যাচ্ছিলাম।

    —যাও। নন্দিনী আছে বাড়িতে।

    সোমেশ্বর বললেন।

    সিদ্ধার্থ বলল—তিনি এলেন না?

    নয়াঠাকুমা বলে উঠলেন—সকলে বাড়ি ছেড়ে এলে চলে কী করে?

    সিদ্ধার্থ হাসল। এগিয়ে গেল বাড়ির দিকে। তার মনে হল, সোমেশ্বরের সঙ্গে নন্দিনীর আসাটাই অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত ছিল। বন্ধ দরজার কড়ায় শব্দ করল সে। নন্দিনী ওপরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বললেন—কে?

    সিদ্ধার্থ নীচে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ল। নন্দিনী বললেন—ওমা তুই!

    প্রায় বালিকার মতো লঘুপায়ে নীচে নেমে এলেন তিনি। দরজা খুলে দিলেন। বললেন- আয়।

    উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল নন্দিনীকে। পাট-ভাঙা কমলা রঙের তাঁতের শাড়ি পরেছেন। তাতে জরি বসানো পাড়। কপালে নিটোল সিঁদুরের টিপ। পাড়েরই অংশ হয়ে বুকের ওপর নেমে এসেছে স্বর্ণহার। সিদ্ধার্থ বলল—কী সুন্দর দেখাচ্ছে তোমাকে কাকিমা।

    —যাঃ! বুড়ো হয়ে গেলাম। আয়। তোর বন্ধুর পাত্রীদের কয়েকটি ছবি এসেছে। দেখাই তোকে।

    নন্দিনী উঠতে লাগলেন। সে অনুসরণ করতে থাকল। হঠাৎ সে বলল—তোমাকে দেখে আমার মাকে মনে পড়ে যায়।

    নন্দিনী সিঁড়ির শেষ ধাপে। ঘুরে দাঁড়ালেন। বললেন—আমি তোর মা নই?

    সে হাসল শুধু। নন্দিনী বললেন—তুই তো আমার আরেক ছেলে সিধু। মোহনের সঙ্গে যদি তোর সম্পর্ক ঘুচেও যায়, তবুও তুই আমার কাছে আসিস।

    —কাকিমা!

    —তোদের সেই আগের বন্ধুত্ব আর নেই, না রে?

    ঘরে পৌঁছেছিল তারা। নন্দিনী একটি সন্দেশ এনে সিদ্ধার্থর মুখে গুঁজে দিলেন। বললেন- আমি করেছি। খা।

    —ক্ষীরের?

    –হুঁ।

    —অনেকদিন পরে খেলাম।

    —আমি বহরমপুর যাই, তোকে কত কী যে খাওয়াব!

    —সত্যি যাবে তো?

    —যাব। তুই আসবি তো? আমার কাছে?

    –হুঁ।

    —যদি মোহনের সঙ্গে আর বন্ধুত্ব না থাকে?

    —থাকবে না কেন কাকিমা?

    —আমার কাছে লুকিয়ে কী লাভ সিধু?

    —আমাদের তো কিছু হয়নি।

    —না। বাইরে হয়নি। ভাল হল আজ তোকে একা পেলাম। আমার যে কত কিছু তোকে বলতে ইচ্ছে করে। কত কথা! আমার কথা শোনার তো কেউ নেই। অথচ ভেতরে একবুক কথা জমে আছে। একদিন সব বলব।

    —শুনব কাকিমা।

    —আমার শুধু ভয় করে।

    —কী ভয়?

    —মোহনের ওপর অভিমান করে তুই যদি আর না আসিস?

    —তোমাকে দেখলে আমার মায়ের কথা মনে পড়ে কাকিমা। মা এমনি করে সব আগে থেকে বুঝে যেত। এমনি তাঁতের শাড়ি পরত।

    —আমার মনে আছে। তোদের স্কুলের অনুষ্ঠানে দেখেছিলাম।

    —হ্যাঁ। মা যেত। প্রতিবার।

    —যাবে না? আমি মা বলেই বুঝি; তোকে নিয়ে তোর মায়ের কত গর্ব ছিল!

    —আমার অনেক কথা বলার আগেই মা বুঝতে পারত।

    —আমিও তো বুঝি তোকে। বুঝি না!

    — হুঁ।

    নন্দিনী চেয়ারে বসেন। সিদ্ধার্থ নন্দিনীর পায়ের কাছে বসে জানুতে মাথা পেতে দেয়। নন্দিনী তাঁর হাত রাখেন সিদ্ধার্থর মাথায়। সেখানে মাতৃস্নেহ বর্ষিত হয়। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি পড়তে থাকে তখন। নন্দিনী বলেন—আমি তোকে বুঝি। আর মোহনকে বুঝব না? ও তো আমার পেটের ছেলে। খুব দ্রুত পালটে যাচ্ছে রে ও। এত দ্রুত যে মাঝে মাঝে ওকে অচেনা লাগছে আমার। কোনও দিন তো ওর ওপর আমার কোনও অধিকার ছিল না। যদি থাকত, এমন হতে দিতাম না আমি। এই পরিবারে আমার ভূমিকা কেবল তামিল করবার।

    তিনি কথা বন্ধ করেন। স্তব্ধতা ফাটিয়ে কেবল বৃষ্টি ঝরে পড়ে অবিশ্রাম। সিদ্ধার্থর ভিতরে এক সুখ মেশানো কষ্ট দাপাদাপি করে বেড়ায়। কতদিন—কতদিন পর সে এমন মাতৃস্পর্শ পাচ্ছে, তাই সুখ! আর কষ্ট? তার রকম সে জানে না। তার মায়ের জন্য কষ্ট হচ্ছে। বুদ্ধদেবের জন্য। বোধিসত্ত্বের জন্য, নন্দিনীর জন্য, মাসুদা ও ফরিদার জন্য। ইদরিশ ও নিসারের জন্য। যে- সন্ন্যাসীর গোমুখদর্শন হল না—তাঁর জন্য। বরকত আলির জন্য। বদরুদ্দিনের জন্য। এমনকী, এমনকী তার ও মোহনের সম্পর্কের জন্যও। কষ্ট এসে, ঝাঁঝাল নিষ্ঠুর জ্বালাময় কষ্ট এসে ভরিয়ে দিচ্ছে তার চোখ। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। সিদ্ধার্থ অস্ফুটে বলল-মা, মাগো

    নন্দিনী তার মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে দিতে থাকলেন। দু-এক বিন্দু নীরব অশ্রু ঝরে পড়ল তাঁরও চোখ থেকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার
    Next Article বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    Related Articles

    তিলোত্তমা মজুমদার

    শামুকখোল – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    অর্জুন ও চারকন্যা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    ঝুমরা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    নির্জন সরস্বতী – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    কয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }