Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাজপাট – তিলোত্তমা মজুমদার

    তিলোত্তমা মজুমদার এক পাতা গল্প1633 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাজপাট – ৬৩

    ৬৩

    শাওনে শয়নে ছিলেন
    শ্যামের মন্দিরে।
    কে জানে এ হেন পিয়া
    যাইবে বহু দূরে ॥
    ছাড়িয়া গিয়েছে পিয়া
    নিদারুণ ব্যথা।
    শাওনের গগনেতে
    তাহারই বারতা।।

    .

    আমবাগানে জমেছে লোক। জমির আলে আলে দাঁড়িয়েছে সারিবদ্ধভাবে। গৃহস্থের আঙিনায় মেয়েদের ভিড়। মাথায় কাপড় দিয়ে, মুখে সেই আঁচলের প্রান্ত চাপা দিয়ে তারা দাঁড়িয়ে আছে উৎসুক। যুদ্ধের মনোভাব তাদের নেই, ঘেরাও-এর উৎসাহ নেই, বুঝি-বা সব মিলিয়ে এক কৌতুক চোখে-মুখে। একটা অন্যরকম কিছু দেখতে পাবার মজা। পাড় ভাঙতে থাকার সমূহ বিপন্নতায়, অনাবৃষ্টির শুখা অভিশাপেও তারা কৌতুকী। জীবনে তাদের নিত্য সংগ্রাম এবং এই জীবন পুরুষের মুখাপেক্ষী। হেঁসেল সামলানো এবং বিড়ি বেঁধে কিছু-বা উপার্জন করা—সন্তান উৎপাদনের মতোই, তাদের লালন-পালনের মতোই সহজ স্বাভাবিক। এসবের দ্বারা স্বাধীন চিন্তার অবকাশ জন্মে না। চিত্তের স্বাধীনতা রচিত হয় না। এই স্বাধীনতা আসে তখনই, যদি ঘরের পুরুষ হয় বেখেয়ালি নেশাখোর কিংবা ছেড়ে চলে যায় এককালীন নারীকে সন্তান-সন্তুতি সমেত অসহায় করে দিয়ে। জীবনযাপনের ব্যাকুলতা তখন তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়। বাধ্য করে এক প্রকার। কিংবা, এই যে সমাগত বিপদাপন্নতা, গঙ্গার আগ্রাসনে ভূমির রোদন-এইসব চিরচেনা সমস্যার আবেদন, প্রত্যক্ষ আঘাতের পূর্বে আর অনুভূত হয় না। যন্ত্রণা নিয়ে বাঁচতে বাঁচতে, যন্ত্রণাই হয়ে ওঠে কৌতুকের বিষয়।

    কয়েকদিন ধরে বদরুদ্দিন সকলকে শিখিয়ে পড়িয়ে নিয়েছে। কী করতে হবে। কীভাবে দিতে হবে স্লোগান। এর আগে ভাঙন বিষয়ে আলোচনা করতে সিদ্ধার্থ এসেছিল। লোকে তার কথা জিগ্যেস করছে। শিশুদের স্কুলে ঘটে যাওয়া বিশ্রী দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে গিয়েছে সর্বত্র। কারণ খবরের কাগজে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। টেলিভিশনের লোক এসে আহত শিশুদের ছবি নিয়ে গেছে। কথা বলেছে নিবেদিতা বাগচীর সঙ্গে। শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে। এবং সিদ্ধার্থর সঙ্গেও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক বিরোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকরা। তাঁরা কথা বলেছেন মিহির রক্ষিতের সঙ্গে। আসাদুর রহমানের সঙ্গে।

    এই ঘটনায় মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষ ব্যথিত হয়েছে। ব্যথিত হবে না এমন ঘটনায়, সে-মানুষ বিরল। যেখানে যে এ খবর পড়েছে, শুনেছে, শিউরে উঠেছে সে-ই।

    মুর্শিদাবাদের মানুষ এই বেদনাবোধের সঙ্গে সঙ্গে ধন্য ধন্য করেছে সিদ্ধার্থকে। সাধারণ মানুষ, সারাজীবন একজন নায়কের সন্ধানে ফেরে। ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে, জনগণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ কারওকে দেখলে তারা নায়কের আগমন-সম্ভাবনায় আপ্লুত হয়। হৃদয়ের সকল শ্রদ্ধা ও সম্মান অর্পণ করে নির্দ্বিধায়। দুঃখে জর্জর, সমস্যায় কন্টকিত জীবনে তারা খোঁজে ত্রাতা একজন। পারলৌকিক মোক্ষ নির্দেশক ত্রাতা নয়, এই দেশ ভারতবর্ষে তার অভাব কী, মানুষ চায় ইহজীবনের পথপ্রদর্শক। একজন সত্যিকারের নেতা। এমন একজন নেতাকে পেলে তারা বর্ষ বর্ষ ধরে তাঁকে বুকে আগলে রাখে। এমনকী সেই বর্ষ বর্ষ পার করে শতবর্ষ পরেও প্রিয় নেতার জীবদ্দশা আকাঙ্ক্ষা করে বসে থাকে হৃদয়। এবং এভাবেই অমরত্ব লাভ করে মানুষ সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত আবেগ, সম্মিলিত প্রেম তাঁকে অমরত্ব দেয়। মাটির সিংহাসন হতে প্রকৃত জননায়ক কখন উঠে আসেন গণহৃদয়ে, তার দিনক্ষণ লেখা থাকে না।

    সিদ্ধার্থ নামের এই যুবক যেন হয়ে উঠছে ওই হৃদয়াসনগামী। মানুষ তাকে বুকে তুলে নেবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। অপরের জন্য যে বারংবার প্রাণ তুচ্ছ করতে পারে—তার চেয়ে বড় আর কে?

    সেকালের রাজাকে সম্মুখসংগ্রামে যেতে হত। যুদ্ধক্ষেত্রে আপন প্রাণ বাজি রেখে প্রজার প্রাণ রক্ষা করতে হত। একালের জনপ্রতিনিধির সে দায় নেই। তাঁরা যুদ্ধ বাধিয়ে তোলেন কেবল। পাড়ায় পাড়ায়। লোকে লোকে। মানুষে মানুষে। দেশে দেশে। যুদ্ধ ঘৃণার। যুদ্ধ ক্ষমতা দখলের। যুদ্ধ স্বার্থের। সেইসব যুদ্ধের কুশীলব, তারা সকলেই সাধারণ মানুষ। প্রাণ যায় তাদের। রাজা বসে থাকেন সুরক্ষিত। জনগণের রাজা। তাঁকে রক্ষা করে ব্যক্তিগত দেহরক্ষী, রক্ষা করে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, রক্ষা করে দল।

    এমতাবস্থায় প্রাণ তুচ্ছ করে যে, সে কেন নয় ব্যতিক্রম? কিন্তু যাঁরা ঈর্ষী, যাঁরা সিদ্ধার্থর নায়কোচিত খ্যাতিলাভে লুব্ধ, তাঁদের আছে অখণ্ড যুক্তি। এই যে বিভিন্ন ঘটনায় বারবার জড়িয়ে পড়া সিদ্ধার্থর, এ কি কাকতালীয় নয়? সেদিন ওই ইস্কুলের সামনে সিদ্ধার্থ না-ও থাকতে পারত, অন্য কেউ থাকতে পারতেন, যিনি থাকতেন, তিনিও একই আবেগে আগুনে ঝাঁপ দিতেন জীবনের পরোয়া না করেই। সিদ্ধার্থ, আসলে, ঘটনাচক্রে হয়ে উঠছে খ্যাতিমান।

    কিন্তু সাধারণ মানুষ, তারা এই যুক্তির অপেক্ষা রাখে না। কী হলে কী হত বা হত না তার তর্কে না গিয়ে হৃদয়ের শূন্য সিংহাসনের জন্য আরাধ্য পাত্র খোঁজে। তারা জানতে চায়—উনি আসবেন না? উনি?

    —কে?

    —সিদ্ধার্থ। সিধুবাবু?

    —না। উনি সেরে ওঠেননি যে এখনও।

    —কবে সেরে উঠবেন? উনি কবে সুস্থ হবেন?

    —উনিই তো এসেছিলেন প্রথম। প্লাবন ও ভাঙন প্রতিরোধের জন্য একটি বড় পরিকল্পনা ছিল তাঁর। তিনি কবে আসবেন?

    —আসবেন। তিনি আসবেন।

    —হে ঈশ্বর ওঁকে সুস্থ করে দাও।

    —খোদাতালা ওঁর ভাল করুন।

    মানুষের আশীর্বাদ তার প্রতি বর্ষিত হয়। সে জানে না। সে মনস্তাপ নিয়ে শুয়ে থাকে। দ্রুত সেরে উঠতে চায়। চায় আরও কাজ। আর তার বুকে ক্রোধ জমে। ঘৃণা জমে। গোপনে ফেনিল হয় নীল বিষ। শুধুই ক্ষমাশীল থাকতে পারে না সে। শুধুই সৎ, শুধুই ভাল, শুধুই নিরুপদ্রব পবিত্র থাকতে পারে না। সে পরিণত হয়ে ওঠে। পরিণত মানুষ হয়ে ওঠে ক্রমশ। রাগ, দ্বেষ, ঘৃণা সমেত, স্নেহ-প্রেম সমেত, ভালবাসা, ঔদার্য, ক্ষমতালিপ্সা সমেত সে এক পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে থাকে। যেন দীর্ঘকাল তার মধ্যে ছিল দেবতার লক্ষণ। কেবল ক্ষমা। কেবল রচিত সততার অনুগমন। কেবল শুদ্ধতার বিচার। এখন দেবত্ব অতিক্রম করেছে সে। দেবতার চেয়েও বড় যে মানুষ, তা-ই হয়ে ওঠা তার প্রয়াস।

    দেবতা, সে কেবল ধারণামাত্র। মানুষের কামনার চূড়ান্ত প্রতিরূপ। তাঁকে ধরা যায় না কিন্তু ধরার ইচ্ছায় জীবনাতিপাত করতে হয়। যে-মানুষ মানুষকে ভালবাসে, সে দেবতার চেয়ে বড়। কারণ সে উদাহরণ। তাকে ধরা যায়। সে ধারণামাত্র দেয় না, দেয় বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠা।

    লোকে সিদ্ধার্থকে নিয়ে আলোচনা করে। বলে— সিধুবাবুর কাছে যাও। সাহায্য পাবে। সে কারওকে ফেরায় না।

    বদরুদ্দিন, সিদ্ধার্থ সুস্থ হলেই আবার নিয়ে আসবে গ্রামে, এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন লোকে তারই কথামতো প্রস্তুত।

    জোয়ারের জলে নদী কিছু ভরন্ত হলে তাঁরা এলেন এক ভুটভুটি চেপে। লঞ্চ নিয়ে আসতে তাঁদের সাহস হয়নি। যদি চরায় আটকে যায়। তাঁদের আগমন সংবাদ পেয়ে সুকুমার পোদ্দারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছেন মিহির রক্ষিত, পোদ্দার এবং পার্শ্বচরবৃন্দ। তাঁরা দ্রুত পায়ে হাঁটছেন। ভঙ্গিতে তাঁদের ব্যস্ততা। প্রতিজ্ঞা। করব, নয়তো মরব—এমনই অভিব্যক্তি। এই পরিবেশে তা মানিয়েছে চমৎকার। জনমনে বলভরসা জাগছে। হ্যাঁ হবে। এবার হবে একটা কিছু। সিদ্ধার্থর অভাব আর বোধ করছে না কেউ। ইনিও যে নেতা

    হ্যাঁ, বড় নেতা। সিদ্ধার্থর চেয়েও বড়।

    হ্যাঁ। উনি এবার দাঁড়াবেন।

    কোথায়? কোথায় দাঁড়াবেন?

    বিধানসভা নির্বাচনে। বহরমপুর কেন্দ্রে দাঁড়াবেন।

    পোদ্দারবাবুর অনেক জানাশোনা।

    হুঁ। দেখাল বটে সুকুমার পোদ্দার। রাস্তা উঁচু হচ্ছে। পাড় বাঁধা হচ্ছে।

    তা তো করবেই। এত ক্ষমতা। কিছু করবে না?

    কিছু না করলে ভোট পাবে কেন?

    আর নিজের ছেলেকে শুনছি ঠিকেদারি পাইয়ে দিয়েছে। কী ধুরন্ধর ছেলে রে বাবা! সহদেবের মেয়েটাকে মেরে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

    বড়লোকের সবই সয়। করত আমাদের ঘরের কেউ।

    ওই পোদ্দারই ঘর জ্বালিয়ে দিত।

    শুনেছি দু’জনা একসঙ্গে মরতে গিয়েছিল। ছেলেটা পালিয়ে এসেছে।

    থাম দেখি। ওসব কথায় কাজ কী! মেয়েটাই বা মরল কোন দুঃখে।

    পেট বাধিয়ে বসেছিল নিশ্চয়ই। যা ঢলাঢলি করত।

    মেয়েরাই তো মরে। ওই জন্য বাবা-মাকে মেয়ে সামলে রাখতে হয়।

    অনির্বাণ ড্যাংডেঙিয়ে বিয়ে করবে এবার।

    শুনলাম তো, পোদ্দার সম্বন্ধ দেখছে।

    তা ছেলে এবার লক্ষ টাকা কামাবে।

    তা কামাক। কিন্তু কাজটা হোক। পরের দেখলে নিজের দেখতে বারণ করব কেন?

    তুমি বারণ করলে শুনছে কে? ঠিকাদারির পয়সা দু’নম্বরিতে আসে। মাল দেবে দু’নম্বরি। কাজ দেবে দু’নম্বরি। তবে না পয়সা।

    গ্রামের ছেলে গ্রামের কাজটা ভাল করবে নিশ্চয়ই।

    কিছু বেকার ছেলে কাজও পাবে।

    হ্যাঁ! কত যে বেকার বসে আছে! ছেলেগুলো খারাপ পথে চলে যাচ্ছে সব।

    কুৎসা, নিন্দা, অপবাদের আলোচনার সঙ্গে জড়ামড়ি করে থাকে আশার বুদ্বুদ। হবে, কিছু হবে। করবে, কিছু করবে। আসলে জীবিতের সবচেয়ে বড় অবলম্বন হল আশা। জীবন প্রবঞ্চিত হয়, তবু আশা করে। ক্ষয়িত হয়, তবু আশা করে। আশাই হয়ে উঠেছে জীবনের লক্ষণ একপ্রকার। তাই, সন্দেহ ও সমালোচনার তীব্র গরলও শেষ অবধি এনে দাঁড় করিয়ে দেয় ওই শব্দটির কাছে। আশা আশা আশা!

    বদরুদ্দিন তখন হাত নেড়ে ভুটভুটি ডাকছে। ভুটভুটি অর্ধবৃত্ত বাঁক নিয়ে পাড়ঘাটায় থামল। তিন বৎসর আগে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রালগ্নে বাঁশের মাচা দেওয়া পাড়ঘাটা বাঁধিয়ে দিয়েছিল পঞ্চায়েত। আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে, পঞ্চায়েতের টাকায় বাঁধিয়েছিলেন সুকুমার পোদ্দার। সেই বাঁধানো ঘাটের অর্ধেক তলিয়ে গেছে এই ক’মাসে। বাকি অর্ধেক বাঁধানো অংশ কাত হয়ে ঢুকে আছে জলে, ভূগর্ভে তলিয়ে যাবার অপেক্ষায়।

    এখন সেই ভাঙা ঘাটের পাড়ে আবার দেওয়া হয়েছে নতুন বাঁশের সাঁকো। সাঁকোর খোঁটায় দড়ি বাঁধছে ভুটভুটির মাঝি। সরকারি বাবুরা বসে আছেন ভুটভুটির পাটাতনে চেয়ার পেতে, ধোপদুরস্ত। বেশ বড় এ নৌকা। একদিকের পাটাতনেই ধরে গেছে পাঁচটি ঘেঁষাঘেঁষি চেয়ার। পাঁচটি চেয়ারে তিনজন বাবু। তাঁরা সকলেই পদস্থ আধিকারিক। দুটি খালি চেয়ারে, যেন আগে থেকেই জানা ছিল কারা আসবেন, কারা বসবেন। কারণ মিহির রক্ষিতকে নিয়ে সুকুমার পোদ্দার ভুটভুটি চাপলেন। তাঁরা বসলেন খালি চেয়ার দুটিতে। অপেক্ষমাণ জনতা দেখছে, সরে যাচ্ছে নৌকা। ভুটভুটির শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে দুই পাড়ে। মাছেরা, জোয়ারের জলে উদ্বেল হয়েছিল যে সামান্য সংখ্যক, তারা চলে যাচ্ছে জলের গভীরে। জেলে-ডিঙিগুলি জাল ফেলতে ফেলতে তাকাচ্ছে এদিকেই। ওই চলেছেন সরকারি আধিকারিকবৃন্দ। চলেছেন সি পি আই এম নেতা মিহির রক্ষিত। চলেছেন গ্রামপ্রধান সুকুমার পোদ্দার। হবে। এবার একটা কিছু হবে। হয়তো বেঁচে যাবে জেলেদের বসত। নইলে কোথায় যে যাবে তারা! পথের দু’ধারে সরকারি খাসজমি জুড়ে অস্থায়ী বসবাস কিছুদিন। তারপর?

    তারপর জানে না কেউ। ভবিষ্যৎ মানেই এক ভয়াবহ অন্ধকার। ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

    ভূমি হারালে ফিরে পেতে বর্ষ-বর্ষ কেটে যায়। একটুকু ভূখণ্ড, একটুকু জমিবাড়ির জন্য হা- প্রত্যাশী মানুষ গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বাঁচে। স্বার্থ, কলহ, ক্লেদাক্ত সেই জীবন হতে আকাশের প্রসারতা বিদায় নিয়ে যায়। ভূমির বড় আকাল গো! লোকে বাঁচে কী প্রকারে? থাকে কোথায়? খায় কী? অন্ন-বস্ত্রের বড় আকাল গো! যার যায়, তার যায়। অন্যে তার দুঃখ বোঝে না। বিলাপ করতে করতে ক্ষয়ে যায়, নিঃশেষ হয়ে যায় কত প্রাণ! অথচ এই পুরনো পৃথিবীতে, জান্তব ভূমিকা থেকে ক্রমবিবর্তিত মানুষের আরও দরদী হওয়ারই কথা ছিল।

    বাঁধ হবে নাকি? বাঁধ হবে? বাঁধ হলে পাড়সংলগ্ন জমি সরকার অধিগ্রহণ করে নেবে। মূল্য পাবে জমির মালিক। তবে সে আর এমন কী মূল্য! কিন্তু না বলার উপায় নেই। দশের স্বার্থে একের স্বার্থ বিসর্জন দিতেই হবে তো। কার কার জমি যাবে? তা যাবে। সুকুমার পোদ্দারের যাবে। বলাই মণ্ডলের যাবে। ইরফানের যাবে। মকবুলের যাবে। রাম সরকারের যাবে।

    আরে সে যখন যাবে তখন। এখন দেখতে হবে কী হয়। পাড়ে ভাঙন লেগেছে। ভাঙন আটকাবার জন্য পাড়-সংলগ্ন জমি পাগলেও ছেড়ে দেবে। এখন শুধু অপেক্ষা। কী সিদ্ধান্ত হয়! কী বিধান দেন সরকারি বিশেষজ্ঞ! প্রযুক্তিবিদ!

    জনতা অপেক্ষা করে। মাথার ওপর শ্রাবণের নির্মেঘ আকাশ দলা দলা রোদ্দুর ঢেলে দেয়। রোদ্দুরের অসহ উত্তাপ। মাঠে কাজ করা, রোদ্দুর নিত্য সহ্য করা মানুষগুলি পর্যন্ত ঘেমে-নেয়ে ওঠে। শরীর তাদের অবসন্ন হয়ে যেতে চায়।

    ওদিকে ভুটভুটি ক্রমশ ভাঙন দেখতে দেখতে এগোয়। বিশেষজ্ঞরা কোনও কোনও জায়গায় ভুটভুটি যন্ত্র বন্ধ করে কেবল ভেসে থাকেন। ভাল করে পর্যবেক্ষণ করেন ভাঙনের ধরন।

    ছবির মতো শান্ত সাজানো ওই গ্রাম। মনে হয়, চিরকালের মতো স্থির। কোনও লয় নেই, ক্ষয় নেই। অনিবার্য যুদ্ধের আগের স্তব্ধতায় যেমন শাস্তিকে নিথর মনে হয়, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, যুদ্ধ হবে না, তেমনই এই গ্রামের অস্তিত্ব! কিন্তু শুধু কালচক্র নয়, এই শান্তশ্রী গ্রামের জন্য ফাঁদ পাতে মানুষ ও

    মাঝখানের চড়ায় ধাক্কা খেয়ে জলস্রোত চাপ সৃষ্টি করছে এ পাড়ে। তাই ভাঙন ধরছে দ্রুত। আরও আগে কেন ভাঙেনি, সেটাই আশ্চর্য। আজ প্রায় ত্রিশ বৎসর হল ওই চড়া জেগে উঠেছে। আকারে বৃহৎ নয়। প্রকারে শক্ত নয় পেতনির চর। ছোটখাটো বন্যায় চড়া ডুবে যায় পুরোপুরি। বড় রকমের বন্যা হলে চড়া চিরকালের জন্য সম্পূর্ণ ডুবে যেতে পারে। ওপরের মাটি ভাসিয়ে নেমে যাবে উচ্চতা। নদী তার ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারবে অনায়াসে। এই ধারণাতেই চড়ায় বসবাস সরকারি স্বীকৃতি পায়নি। পেতনির চর ভূতনির চরের মতো গুরুত্বপূর্ণও হয়ে ওঠেনি। সরকারি খাতায় শূন্য এ চড়া। কিন্তু গত ত্রিশ বৎসরে এই চড়া বাসযোগ্যই আছে। শুধু তার জাগরণে চতুষ্কোনা ধ্বংস হতে চলল। এতদিন কেন ভাঙন লাগেনি, সে এক আশ্চর্য। হয়তো পাড়ের আমবাগান প্রচণ্ড শক্তিতে ধরে রেখেছিল মাটি। রোধ করেছিল ভূমিক্ষয়!

    সুকুমার পোদ্দার বা মিহির রক্ষিত—কেউ-ই এই সরকারি আধিকারিকদের অপরিচিত নন। তাঁদের মধ্যে কথা হয়। কিছু কথা চোখে। কিছু মুখে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কিছু করা দরকার। পাড় বাঁধিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কোটি টাকার প্রকল্প চটজলদি অনুমোদিত হবে না। বর্ষা নামলে আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে পাড়ে বোল্ডার ফেলে লোহার জালি দিয়ে বেঁধে দেওয়া যেত। সে-ও কিছু কম টাকার প্রকল্প নয়। কিছু কাজ করে, বাকি টাকা পাঁচজনের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা হলেও কম পড়বে না পরিমাণে।

    ভুটভুটি মাঝনদীতে নিয়ে গিয়ে কথা হয় তাঁদের। হিসেব-নিকেশ হয়। যত বেশি বোল্ডারের কাজ, তত বেশি পয়সা। পূর্তবিদ্যার বিশারদ যিনি, প্রয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ বোল্ডারের প্রস্তাব দেবেন। সেই বোল্ডার আসবে। জমা হবে। তারপর? তারপর?

    মাঝিরা ভুটভুটি থামিয়ে দিয়েছে এখন। নৌকা ভাসছে। মাঝনদীর ফুরফুরে বাতাসে দেহ জুড়িয়ে যাচ্ছে জনসেবকদের। কেবল মাথার ওপর রোদ্দুরই যা অসুবিধের। সরকারি আধিকারিকবৃন্দ টুপি মাথায় দিয়েছেন। মিহির রক্ষিতকেও তাঁরা ধার দিয়েছেন একখানা। সকলের নধর শ্রীঅঙ্গ কালা হলে চলে কী করে!

    কেবল সুকুমার পোদ্দারের মাথায় টুপি নেই। তিনি বলছেন—চাষাভুসো মানুষ আমি। রোদে-জলে অভ্যাস আছে আমার।

    মাঝিরা পর্দা দিয়ে হাওয়া আড়াল করে চা তৈরি করছে। চিনেমাটির প্লেটে সাজিয়ে এনে দিচ্ছে মিষ্টি, কেক, কাজুবাদাম।

    —এখন দরকার ছিল বিয়ার।

    বলছেন পূর্তবিদ।

    —হা হা হা বিয়ার।

    সমর্থন করছেন অন্যরা। এই ভাঙন দেখে আর মন বিষণ্ণ হয় না। দেখতে দেখতে চোখ সয়ে গেছে। তাই বিয়ার খেতে ইচ্ছে করে। হাসিও পায় ভাঙনের মাঝে দাঁড়িয়ে।

    মিহির রক্ষিত বলছেন—আপনি চাষা? আপনি চাষা? আপনার মতো চাষা যদি আমরা হতাম! মোট কত জমি আছে আপনার বলুন তো?

    —থাকলে কী হবে?

    মিষ্টিতে কামড় দিয়ে সুকুমার পোদ্দার বলেন—দেখছেন তো সব চলে যাবে ভাগীরথীর গর্ভে।

    —আরে সব যাবে কী?

    মিহির রক্ষিত বলেন।

    —আমাদের কাছে সব খবর থাকে মশাই। আপনার সারা মুর্শিদাবাদ জুড়ে জমি আছে।

    —কী যে বলেন!

    —ঠিকই বলি। তা ছাড়া চিন্তা কী! ভগবান এক হাতে নেন, অন্য হাতে দেন। এই যে রাস্তার ঠিকাদারি, এবার পাবেন পাথরের ঠিকাদারি —আর কী চাই! আপনার ছেলের সঙ্গে আমার ছেলেটাকেও লাগিয়ে দেব। বড় হয়েছে। এখনই কাজে লাগিয়ে দেওয়া দরকার।

    —নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই!

    –বাড়িতে লক্ষ্মীপূজা লাগান ভাল করে।

    —আরে আমি পূজা করি না। ওসব আমার স্ত্রী করেন।

    —আরে কমিউনিস্টের স্ত্রীরাই ভক্তিমতী হন। সে তো সবাই জানে।

    —হা হা হা।

    হাসি ওঠে। কেকে কামড় পড়ে। দু’পাটি ধারালো দাঁতের মাঝখানে পড়ে পিষে যায় কাজুবাদাম। দূরে জেলেরা জাল তোলে। মাছ নেই। এমন অনাবৃষ্টি, মাছের প্রজনন হয়নি। ভাগীরথীতে ইলিশ নেই। অন্য মাছই-বা কই! সরকারি বিলগুলিতে পর্যন্ত জাল ফেলে তুলে নেওয়া হচ্ছে ছোট-বড় সব মাছ। মাছের আকালে সেগুলি বিকোচ্ছে আকাশ-ছোঁয়া মূল্যে। সে-জন্য নয়। মাছ না তুললে উপায় নেই। বিলের জলস্তর দ্রুত নামছে। এরপরও বৃষ্টি না হলে মাছের মৃত্যু হতে থাকবে। তখন সম্পূর্ণ ক্ষতি।

    কিন্তু স্বাধীন মৎস্যজীবীদের নদীই ভরসা। নদীতে মাছ নেই। তারা জাল তুলে শূন্য জালে শূন্য দৃষ্টি ফেলে। আবার জলে ছুঁড়ে দেয়। যদি পায়। আশা আশা আশা। অনিশ্চিত দিনগুলি, বিনা উপার্জনের দিনগুলি আশা সম্বল করে দিবারাত্র যাপন করে।

    ভুটভুটি ফিরে আসার অপেক্ষায় পাড়ে বসে পড়ে কৃষকরা। বেলা বাড়ছে। পেটে ভুখ লাগছে। তবু বসে থাকছে সকলে। কারও কারও ট্যাকে গোঁজা লাল রঙের পতাকা। সংগ্রাম বলে কথা! সহজে তো আদায় হবে না। ঘেরাও করতে হবে। এই জীবনের জন্য, জমি-জমার জন্য, গৃহস্থীর জন্য ঘেরাও চাই, সংগ্রাম চাই, লড়াই চাই। লড়াই লড়াই লড়াই চাই। লড়াই করে বাঁচতে চাই। তার জন্য বসে থাকা চলে ভুখা-পেটে কিছুক্ষণ।

    তখন মিহির রক্ষিত প্রশ্ন করেন—কিন্তু বর্ষা না এলে! এ যা লক্ষণ! বর্ষার তো দেখা নেই। সুকুমার পোদ্দার বলেন—এবার অনাবৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। আষাঢ় মাসে শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে ধারাবর্ষণ হলে সেবার দেশে খরা হয়।

    —একালেও লোকে মানে এসব?

    পূর্তবিদ রায় বলেন—কিছু কিছু মেলে মিহিরবাবু। সবই উড়িয়ে দেবেন না।

    —ধুর ধুর! যতসব কুসংস্কার!

    রায় বলেন—আপনাদের ব্যাপার অবশ্য আলাদা। আপনাদের হল—যা নেই মার্ক্স-এ, তা নেই বিশ্বে। মার্ক্সই হলেন আপনাদের বিগ্রহ।

    মিলটা লাগসই হল না তেমন। কেউ-ই হেসে গড়িয়ে পড়লেন না। পরিবেশ একটু থমথমে হয়ে উঠল বরং। রাজনীতিবিদকে নীতি তুলে গালাগালি দেওয়া অনেকটা অস্পৃশ্য পশুসন্তান বলার মতোই গর্হিত কাজ।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে একজন আধিকারিক ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। এমন একটি উপার্জনের সম্ভাবনা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মুখে নিজেদের মধ্যে মন কষাকষি হওয়া ভাল নয়। তা ছাড়া রাজনীতি করা মানুষ, প্রতিষ্ঠিত নেতা—এঁরাই এখন দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। মানুষের প্রাণ এঁদের হাতে। তিনি তাড়াতাড়ি বলেন—হাতে সময় বেশি নেই। আসল কথা হয়ে যাক।

    —হ্যাঁ হ্যাঁ। আসল কথা।

    সকলে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। ফিরতে হবে। আবার ডাঙায় অপেক্ষা করে আছে ঘেরাও উৎসব। সুকুমার পোদ্দার বলেন-তা খরা কি অনাবৃষ্টি তো সরকারিভাবে ঘোষিত হয়নি। হয়েছে কি?

    —না। ঘোষণা হয়নি।

    —তা হলে প্রচণ্ড বর্ষায় আপৎকাল সম্ভাবনা আনার অসুবিধে কোথায়? রায়বাবু চাইলেই তা করতে পারেন।

    —তা পারেন। ওঁর হাতেই তো সব।

    বলে ওঠেন বাকিরা। পোদ্দার বলে চলেন- প্রবল বর্ষণে গ্রাম ভেসে যাবার সম্ভাবনা আছে বলেই আপনি বোল্ডার ফেলে পাড় বাঁধাবেন।

    —ঠিক কথা। ঠিক কথা।

    —আগে বর্ষা হবে। পাড় ভেসে যাবে। তারপর আপনি ব্যবস্থা নেবেন, তা কী করে হয়?

    রায় বলেন—না, এটা সেরকম ব্যবস্থা তো নয়। এ হল আপৎকালীন ব্যবস্থা। দেখা যাক। করে ফেলব আমি। দু-এক ফোঁটা বৃষ্টি কি আর পড়বে না? পড়লেই কাজ হয়ে যাবে।

    —আর ঠিকাদারিটা?

    —ঠিকাদারি পেতে আপনার ছেলের অসুবিধা হবে না। উনি তো রাস্তা তৈরি করছেন। আপৎকালীন ব্যবস্থায় হাতের কাছে ওঁকে পেয়ে বোল্ডার সরবরাহের দায়িত্ব ওঁকেই দেওয়া যেতে পারে।

    —ব্যস ব্যবস্থা পাকা।

    হাত তোলেন মিহির রক্ষিত।

    —ওই কথাই রইল তা হলে। এবার তবে ফেরা যাক।

    সুকুমার পোদ্দার বলেন – আমার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা হয়েছে। তার আগে ঘেরাওটা সামলে দেবেন দাদা।

    মাঝনদী থেকে ভুটভুটি এসে সাঁকোয় লাগে। জনসেবকেরা একে একে নেমে আসেন। জনতা ব্যস্তসমস্ত হয়। জানতে চায়—কী দেখলেন?

    —বুঝলেন কেমন?

    —কী ব্যবস্থা নেবেন?

    মিহির রক্ষিত উঁচু গলায় বলেন—এঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। বলছেন আরও কিছুদিন দেখতে হবে।

    তাঁর উদ্দেশ্য জনতাকে উসকে দেওয়া। যা হয়ে আছে, যা ঘটবে, তাকে জনতার মুখ দিয়ে বলিয়ে প্রতিষ্ঠিত করে নেওয়া চাই।

    পূর্তবিদ রায় নিপুণ সহায়তা করেন মিহির রক্ষিতকে। বলেন—আরও দেখা ছাড়া পথ নেই। সাধারণত চড়া পড়লে নদী বড় রকমের বাঁক নেয়। সেরকম কিছু হচ্ছে কি না তা আগে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

    —না না না না।

    জনতা সম্মিলিতভাবে চিৎকার করে।

    —আমাদের দাবি মানতে হবে।

    বলে তারা। তাদের হাতের লাল পতাকা শূন্যে আন্দোলিত হয়। বৃত্তাকারে তারা ঘিরে ধরে জনসেবকদের। সমাধান চায় তারা। বলে— আমাদের জীবনের প্রশ্ন।

    আমাদের প্রাণের প্রশ্ন।

    কোথায় যাব আমরা?

    পাড় বাঁধাতে হবে। বাঁধাতে হবে। বাঁধাতে হবে।

    নইলে আমরা ছাড়ব না। ছাড়ব না। ছাড়ব না।

    আমাদের ঘেরাও চলবে। চলবে চলবে।

    গা বাঁচানো ফাঁকা বুলি শুনছি না। শুনব না, শুনব না।

    আন্দোলন জমে ওঠে। বদরুদ্দিন শ্লোগানে নেতৃত্ব দেয়। এরকম চলতে থাকে আধঘণ্টা সময় যাবৎ। বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে। এবার খেলা ভাঙার খেলা নইলে চলে না। হাজার কাজ পড়ে আছে সরকারি সেবকদের। জনপ্রতিনিধিবর্গের। পোদ্দারের গৃহে ঠান্ডা মেরে আসছে সুস্বাদু খাবার বড় ভোজনের আগে এই ছোট ভোজন নইলে পাকস্থলী ক্রন্দনমান। তার পেশিগত আক্ষেপ এমনকী এই জনপ্রতিনিধি এবং সেবকদের নিকটেও মানানসই। অসহ বেদনার। তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলার অনুষ্ঠান করেন। তারপর হাত তোলেন মিহির রক্ষিত।

    —আপনারা শান্ত হোন। এঁরা কী বলছেন শুনুন।

    আপাতত বোল্ডার ফেলে আপৎকালীন ব্যবস্থা নেবার কথা ঘোষণা করেন রায়। জনতা উল্লসিত হয়ে ওঠে। কতখানি বিজ্ঞানসম্মত সমাধান আছে এই প্রস্তাবে, জনতা জানে না। যিনি বিজ্ঞান জেনে জনতার সেবা করতে এসেছেন, তাঁর লোভ কেবল পরিকল্পনাকে স্বীকৃতি পাইয়ে দেবার জন্য ছলনা করে গেল। লোভের বন্ধু লোভ। লোভের বন্ধু সর্পিল কূটনীতি। রাজনীতি ও আমলাতন্ত্র তাতে সিদ্ধকাম।

    বদরুদ্দিন হাঁক দেয়—মিহির রক্ষিত জিন্দাবাদ।

    —জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।

    —সুকুমার পোদ্দার জিন্দাবাদ।

    —জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।

    দূরে আমবাগানের প্রান্তে ভাঙা পাড়ের নিকটে দাঁড়িয়ে এই শ্লোগান শুনতে পান এক কবি এবং এক সম্পাদক।

    কবি বলেন—জিন্দাবাদ বলছে। তা হলে বোধহয় কোনও ব্যবস্থা হল।

    সম্পাদক বলেন—এগুলি কী আমের গাছ?

    —নানান জাতের আছে। আমার বাগানে আছে কোহিতুর, বেগম-পসন্দ আর ল্যাংড়া।

    —কোহিতুর? বেগম-পসন্দ? এরকমও নাম হয় বুঝি আমের?

    সম্পাদক বিস্ময় প্রকাশ করেন। কবি বলেন—আরও আছে। বীরা, জাহানকোষা, শাদুল্লা, রানিপসন্দ, আনারস, চাঁপা, মোলামজাম, চন্দনকোষা, কোহিনুর, গোপালভোগ, লক্ষণভোগ, ভবানী। আর ফজলি, সিন্দুরি, বোম্বাই তো আপনারা জানেন। আসুন না আমের মরশুমে পরেরবার। ততদিন যদি আমার গাছগুলি থাকে, খাওয়াব। না থাকলেও খাওয়াব। আসুন।

    সম্পাদক নীরব হয়ে যান। বলতে পারেন না, থাকবে আপনার গাছ। কী করে বলবেন? ভাঙন দেখতেই যে এসেছেন তিনি এই বাগানে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার
    Next Article বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    Related Articles

    তিলোত্তমা মজুমদার

    শামুকখোল – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    অর্জুন ও চারকন্যা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    ঝুমরা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    নির্জন সরস্বতী – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    কয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }