Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাজপাট – তিলোত্তমা মজুমদার

    তিলোত্তমা মজুমদার এক পাতা গল্প1633 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাজপাট – ৮৩

    ৮৩

    আশ্বিন মাসে ফাতেমা গো
    স্বপনে দেখিয়া।
    কান্দিয়া উঠিলাইন মাগো
    দুই পুতের লাগিয়া ॥
    শিশুকালে পুত্রশোক
    দিলা যে আমারে।
    সেই শোগ বাইট্যা দিলাম
    সগল ঘরে ঘরে ।।

    অনাবৃষ্টিতে ফসলবিহীন ধু ধু মাঠ। পাম্পসেটে ভৈরবের জল তুলে যতটুকু হয়েছে চাষের কাজ, তাতে ফলন ভাল হয়নি। গভীর নলকূপ মাটির নীচে জলের নাগাল পায় না। তার গোল মুখগহ্বরে মাকড় জাল বোনে। অতর্কিতে ঢুকে পড়ে সাপ। একটু জলের জন্য জলঢোঁড়া ভিজে কাদায় পাক খায়। ঘরে ঘরে তণ্ডুলাভাব। ঘরের চালায় বাইতে থাকা পুঁই, লাউ, চালকুমড়োর লতা শুকিয়ে উঠছে। অথচ পেটের বড় দায়। ক্ষুধার আগুন নেভে না। শিশুরা কাতর চোখে মায়ের আঁচল ধরে ফেরে—খেতে দে মা। ভুখ লাগে। দু’টি খেতে দে মা

    মা অসহায় ক্রোধে চড়-চাপড় মারে। বুকে টেনে নেয় ফের। শুষ্ক মুখে আপন পুরুষের কাছে যায়। বলে—ওগো! কিছু বেওস্থা কর। ওদের কান্না আর যে প্রাণে সয় না।

    পুরুষ কী করে? হাত পাতে সমৃদ্ধ দুয়ারে। এভাবেই, এভাবেই ঋণ বাড়ে। বাড়ছে। চাষির ঘরে ঋণের পর ঋণ বাড়ছে। তারা হাত পাতছে চাটুজ্যেবাড়িতে, বরকত আলির কাছে, অর্জুন সেনের কাছে। সুদের কারবারি লোকগুলি সাইকেল নিয়ে গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরছে। এই বিপদে লোকে চড়া সুদে টাকা ধার নেবে। তারপর রক্ত জল করা পরিশ্রমের টাকার সিংহভাগ চলে যাবে সুদখোরের হাতে। কতদিন চলবে এমন কেউ জানে না। একটি বৎসরের খরা, দুরারোগ্য ব্যাধির মতো ঢুকে পড়বে গেরস্ত বাড়িতে। বছরের পর বছর তখন লেগেই থাকবে খরা। এমনকী বানের জলে আকণ্ঠ ডুবে গেলেও খরা তাদের ছেড়ে যাবে না।

    চাটুজ্যেদের কাছে বা বরকত আলির কাছে ঋণ নেওয়া আছে অনেকেরই। এরপরেও বিপদে-আপদে আরও এক-দু’বার ঋণ নেওয়া চলে। কিন্তু ঋণের টাকা ফস্ বলতেই ফুরিয়ে যায়। তখন দাঁড়াতেই হয় সুদের কারবারির কাছে।

    এই ব্যবসা অন্যায্য, বেআইনি। কিন্তু কোন পেয়াদা এই অন্যায় বন্ধ করছে? এ হল জেনেও না-জানা, দেখেও না দেখার কারবার। হায়! সাময়িক এই উদ্ধারের জন্য বিষময় হয়ে যায় অধমর্ণ খাতকের জীবন। হয়তো দুপুরে চাট্টি ভাত মুখে দিচ্ছে, এল পাওনাদার। ক্ষুধার ভাত গলা দিয়ে নামল না। অন্ন ছেড়ে ঋণের বোঝা ঘাড়ে করে পালাতে হল খিড়কি দিয়ে। বউ এসে শুকনো মুখে দাঁড়াল পাওনাদারের দৃষ্টি সীমানায়। বলল সে তো বাড়ি নাই!

    যদি নারীলোভী না হয় পাওনাদার, চারটি গালি দিয়ে ফিরে যাবে। স্ত্রী কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে শুনবে সব। তারপর ঘরে ফিরে মাছি তাড়াবে স্বামীর ফেলে যাওয়া অন্ন হতে। স্বামী এসে ফিসফিস করে বলবে—চলে গেছে?

    —গেছে। এস।

    ঠান্ডা শকরি ভাত তখন গোগ্রাসে মুখে তুলবে স্বামী! সেই ভাত গেলার সময় মণ্ড মণ্ড আটকে থাকবে গলায় যদি ওই পাওনাদার হয় নারীলোভী। কারণ, পুরুষটিকে না পেলে সে নারীর শরীরের দিকে তাকায় লোলুপ। যদি সে শরীর হয় শীর্ণ, অর্ধভুক্ত, তবুও তাকায়। দৃষ্টি দিয়ে চাটে। খায়। ভোগ করে। কখনও সরাসরি শয়নের বাসনা প্রকাশ করে। লোভ দেখায় সকল ঋণ মকুব দেবার!

    ভৈরবের গর্ভে জল নেই। সরু নর্দমার জলের মতো তিরতিরে একফালি জলে রোদ্দুর পড়লে চকচক করে। আর হাঁটু অবধি থকথকে কাদা! তবু গ্রামে যত শিউলি গাছ, সবেতে ঝেঁপে ফুল এসেছে। আর কাশফুল। নদীর দুই ধারে কাশ, জমির আলে কাশ, নতুন চরায় গতবছরও ছিল কাশফুল। এবার বণ্টিত জমিতে সব কেটে সাফ করা

    মোটামুটি পথ নির্মিত হয়ে গেছে তেকোনায়। ইটের টুকরো-ফেলা পথ। কিছু-বা চওড়া পূর্ব হতে। এক বর্ষা গেলে এর কী রূপ হবে জানে না কেউ।

    এই সব নিয়েই এসে গেল দুর্গাপূজা। ফসল ভাল হয়নি বলে এবার পূজায় আড়ম্বর কম হওয়ারই কথা ছিল। তবু নেই-নেই করেও যা আয়োজন, তাতে লোকের চোখ ঠিকরোলে বলার কিছু থাকে না। আড়ম্বরের একমাত্র কারণ, নয়াঠাকুমার ছেলেরা এ বছর একত্রিত হয়েছেন।

    প্রতি বৎসরই কেউ না কেউ আসেন। কিন্তু চার ছেলের একসঙ্গে হওয়া ঘটেনি কতকাল! গত দু’-তিন বৎসরের পরিকল্পনায় এইবার সেই অসম্ভবকে সম্ভব করা গেছে। আসেননি কেবল নয়াঠাকুমার মেয়ে পাঞ্চালি। ছেলের পরীক্ষা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত তিনি। চার ছেলের আগমনের আনন্দ-উজ্জ্বলতার মধ্যে একটুকু বিষণ্ণ হয়ে আছেন নয়াঠাকুমা পাঞ্চালির জন্য। সে যদি আসত, সকল সন্তান একত্রিত হলে, নাতি-নাতনিসহ দেখে চোখ সার্থক করতেন। সুস্থ আছেন তিনি। কিন্তু বৃদ্ধ এ বয়স! একে বিশ্বাস কী! কখন চলে যাবেন! পরপারের ডাক এসে পৌঁছবে কখন

    মৃত্যুবিলাসিতা একবিন্দু নেই তাঁর। জীবনকে তিনি কানায় কানায় ভালবাসেন। এই এক তেকোনা গ্রামের মধ্যে, এই ভৈরব নদী, সেনবাড়ি, আম-কাঁঠালের গাছ, দিগন্ত-ছোঁয়া সবুজ ক্ষেত, ব্রত-পার্বণ এবং ঈদ ও মহরমের যতেক অনুষ্ঠানের মধ্যে তিনি জড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর জীবন। প্রতিটি দিন তাঁর কাছে নতুন হয়ে ধরা দেয়। যত শোক, যত বেদনা তিনি এ জীবনে পেয়েছেন, প্রেমানন্দ এবং সুখ পেয়েছেন তার চেয়ে ঢের বেশি। জীবনের কাছে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই। মৃত্যুবিলাসিতাও নেই। ‘ডেকে নাও ঠাকুর’ কিংবা ‘মরলে বাঁচি’—এ ধরনের বাক্য কখনও তাঁকে বলতে শোনা যায় না। তাঁর ভাবনাতেও স্থান পায় না এমন সব। জন্মিলে মরিতে হবে-এ তো জানা কথাই। তার জন্য তৎপর হওয়ার কী দরকার?

    আজ তাঁর সংসার পরিপূর্ণ। চার ছেলে, চার বধূ। সব মিলিয়ে মোট ছ’জন নাতি নাতনি! বড় ছেলের ঘরের নাতজামাই এবং পৌত্রী অবধি সংসারে অধিষ্ঠিত। একজন সংসারি মানুষের এর চেয়ে বড় দাবি আর কী থাকতে পারে?

    তবু আজ, পাঞ্চালির আসতে না পারার শূন্যতাটুকুতে ঢুকে পড়েছে মৃত্যুচিন্তা। মৃত্যুবাসনা নয়, বরং ভয় একরকম। যদিও তিনি জানতেন, পাঞ্চালির পক্ষে আসা সম্ভব নয়, তবু তাঁর মনে হচ্ছে বারবার, যদি সে আসত, আসতে পারত যদি, ছবিওয়ালা ডেকে সকলকে নিয়ে একটি ছবি তুলিয়ে রাখতেন। বাঁধিয়ে রাখতেন শিয়রের দিকে, স্বামীর ছবির পাশে। কোনদিন চলে যাবেন, কোনদিন ডাক এসে যাবে, শিয়রে সংসারের ওই পরিপূর্ণতা রেখে চলে যাবেন। এমন পরিপূর্ণতা, যাতে আর পিছুটান না থাকে, পিছুডাক না আসে। এ বাড়ির কোণে কোণে যেন ঘুরে না মরে বিদেহী আত্মা তাঁর!

    হল না। হল না সে। পাঞ্চালি আসতে পারল না। পারবে না, জানিয়েছিল আগেই। তবুও তার শূন্যতা পীড়িত করে কেন?

    চার ছেলের পর একটিমাত্র মেয়ে, তার প্রতি রয়েছে এক অতুলনীয় টান। সে আসবে না জানতেন, সে ছিল একরকম। এখন সকলের মাঝে তার না-আসার শূন্যতায় বড় বেশি জমাট অন্ধকার। প্রস্তুতি থাকলেও সেই অন্ধকারকে সহন সহজ হয় না।

    ফাঁকে ফাঁকে নয়াঠাকুমার মনে পড়ছে ময়না বৈষ্ণবীর কথা। গত কয়েক বৎসর ধরেই সে এসেছিল পূজার সময়। সন্ধ্যায়, প্রতিমার নিকটে বসে শুনিয়ে গিয়েছিল গান। পূজায় তার আসা, তার গান, আত্মীয় সমাগমের মতোই সমারোহ হয়ে উঠেছিল। তার শুভ্র বেশ, ভূষণবিহীন সুদেহ জড়িয়ে থাকা সুর, তার করতালের ছন্দ, সবকিছুর মধ্যেই ছিল শিউলির ঘ্রাণ, কাশের শুভ্র ধবল ঔদার্য; তার হাসিতে ছিল, কথায় ছিল, শুভ্রনীল মেঘের আহ্বান। ময়না বৈষ্ণবী সে, এক সাধারণ নারী, জীবনের পরতে পরতে সে লেগে থাকে কী প্রকারে?

    ঢাক বাজছে। নীচের বারান্দায় দেবীমূর্তির সামনে এখন বাজছে বিসর্জনের বাজনা। এবারের দুর্ভাবনা গভীর। মূর্তির বিসর্জন কোথায় হবে? ভৈরবের জলে এখন ঘটি ডুবছে না। ঠাকুরমশাই বিধান দিয়েছেন, আপাতত ঘট বিসর্জন হোক। আগামী পূজার পূর্ব পর্যন্ত প্রতিমা রাখা চলে। অতএব দেবীমূর্তি আপাতত ঘরেই থাকুন।

    আপত্তি করেননি কেউ। করে লাভ নেই। চিরকাল ভৈরবে ভাসিয়ে আসা মূর্তি এবার কোন বিলে ভাসাতে যাবেন? দেবী পার্বতী, ভৈরবে বিলীন হবেন, এমনই প্রত্যাশিত। চিরকাল যা ঘটেছে, পূজা-পার্বণের যা পারিবারিক দপ্তর, তার বাইরে যেতে মন চায় না। অতএব বিসর্জিতা হয়েও, দেবীর খড়-মাটির দেহকাঠামো রয়ে যাবে।

    নয়াঠাকুমা মনে করতে পারেন, অনেক বছর আগে, তাঁর দ্বিতীয় পুত্রের জন্মের বার, এমনই খরা হয়েছিল, এমনই অনাবৃষ্টির শুখা ভৈরব নিতে পারেনি পার্বতীর দেহ। তখন এক বৎসর রাখা হয়েছিল প্রতিমা। পরের বছর বৃষ্টি হল এমন, বানভাসি এসে গেল। ঘর-বাড়ি ডুবে গেল। শুধু জেগে ছিল উঁচু ভিতের বাড়ির চালা। তাঁদের এই দোতলা বাড়ির একতলা ছিল জলমগ্ন। প্রতিমা নিজেই সেদিন নিরঞ্জন বরণ করেছিলেন। ভৈরবের জলে আপনাকে আপনি দিচ্ছিলেন ভাসিয়ে। এবারও কি তেমন ঘটবে?

    নিজের ঘরের জানালায় চুপ করে বসে থাকেন নয়াঠাকুমা। পাশের ঘরে, মোহনলালের অন্দর হতে হইচই উঠছে। নাতজামাই শুভ্রর স্বর চড়া। ঢাকের শব্দ ছাপিয়েও সেই স্বর নয়াঠাকুমার কানে পৌঁছল। কী আছে সেই স্বরে, কোন কথা, শোনার ইচ্ছা হল না তাঁর। ছেলেমানুষ সব। হইচই করবে। তাঁর মন তাতে আকৃষ্ট হয় না। ময়না বৈষ্ণবীর কণ্ঠে শোনা একটি গান তাঁর মনে পড়তে থাকে। শৈশব থেকে এ গান তিনি শুনেছেন। তবু, ময়না বৈষ্ণবী যখন গেয়েছিল, তখন নতুন করে উপলব্ধি করেছিলেন। যেন ওই শৈশবে শোনা গানের পথ ধরে তিনি প্রত্যাবর্তন করেছিলেন শৈশবেই। বড় কষ্ট হয়েছিল। মেয়েরা পিতৃগৃহে বারবার ফিরে-ফিরে যায়। বারবার নেড়েচেড়ে দেখে ফেলে আসা জীবন। ফেলে আসা শৈশব-কৈশোরের টুকরো-টুকরো স্মৃতি। তাঁর সে-উপায় ছিল না। কানামাছির মতো চোখ বাঁধা অবস্থায় তিনি হেথা-হোথা ঘুরে ঘুরে ছড়ানো এলোমেলো স্মৃতিগুলি সংগোপনে ছোঁবার চেষ্টা করতেন। শৈশবের শোনা, শৈশব হতে বারবার শোনা সেই গান গেয়ে ময়না বৈষ্ণবী তাঁকে টেনে এনে বসিয়ে দিয়েছিল শৈশবস্মৃতির স্তূপের ওপর। প্রাচীন বৌদ্ধ সমাধির মতো স্তূপ সেই। স্নিগ্ধ

    মঙ্গল           আরতি শ্রীগৌর কিশোর।
    মঙ্গল           শ্রীনিত্যানন্দ জোরই জোর
    মঙ্গল           শ্রীঅদ্বৈত ভকতই সঙ্গে।
    মঙ্গল           গাওয়েত প্রেম তরঙ্গে।
    মঙ্গল           বাজত খোল করতাল।
    মঙ্গল           নাচত হরিদাস ভাল
    মঙ্গল           ধূপদীপ লইয়া স্বরূপ।
    মঙ্গল           আরতি করে অপরূপ।
    মঙ্গল           গদাধর হেরি পঁহু হাস।
    মঙ্গল           গাওয়েত দীন কৃষ্ণদাস।

    মঙ্গল মঙ্গল মঙ্গল কানে বাজে নয়াঠাকুমার। দু’চোখে জল এসে যায়। এবার মোহনের বন্ধুরা আসেনি। কেন আসেনি? তাঁকে পীড়া দেয় এই অনুপস্থিতি। যা থেকে আনন্দ আসে, তাই ঘটুক, প্রতিবার, এমনই প্রত্যাশা করে মানুষ। অন্তত সিদ্ধার্থ যদি আসত! সিদ্ধার্থর মুখ মনে করেন নয়া ঠাকুমা। শক্ত কড়কড়ে তিলের নাড়ু খেতে বড় ভালবাসে ছেলেটা!

    —কেমন আছেন?

    তাকালেন নয়াঠাকুমা। ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে সিদ্ধার্থ। নয়াঠাকুমা ব্যস্ত হয়ে উঠলেন—ওমা! কী কাণ্ড বল দিকি, তোকেই যে ভাবছিলাম এখন। আয় আয় বোস। হ্যাঁ রে, আজ পূজাশেষের দিনে এলি? বিসর্জনের দিন আসে কেউ?

    —কী ভাবছিলেন আমার কথা?

    —ভাবছিলাম তিলের নাড়ু খেতে কত ভালবাসিস…এইসব। এই খরার বৎসর! তবু উৎসবে-আনন্দে সবাইকে কাছে পেতে ইচ্ছে করে। হ্যাঁ রে। আমার কথার জবাব দিলি না তো?

    —আগে তিলের নাড়ু দু’একটা মুখে পড়ুক। নাড়ু আছে তো?

    —কৌটো ভর্তি আছে। এবার বল।

    সিদ্ধার্থ প্রণাম করতে করতে লাজুক হাসল। বলল— মোহন প্রতি বছর আসতে বলে আমাকে। এবার বলেনি তো!

    —বলেনি!

    এক মুহূর্ত থমকে গেলেন নয়াঠাকুমা।

    —মোহন তোকে আসতে বলেনি? তা হ্যাঁ রে ছেলে, আমরা তোর আপন নই? নেমন্তন্ন না করলে তুই আসতে পারিস না আমাদের কাছে?

    —তাই তো এলাম।

    —বেশ করেছিস। আয় বোস। আর সব বন্ধুদের আনলি না কেন? মোহন বলেনি বলে?

    —না না ঠাকুমা। মোহন বলেনি, এটা কোনও বিষয়ই নয়। আমি ব্যস্ত ছিলাম নানা কাজে। কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। আমি অষ্টমীর দিনই আসতে চেয়েছিলাম।

    —তা অন্যরা ঝট বলতে আসতেই বা পারবে কেন এখন! সব বিয়ে করেছে! হারাধন শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে বুঝি?

    সিদ্ধার্থ মাথা নিচু করল। কী বলবে সে? সে অনুমান করতে পারছে, নয়াঠাকুমাকে বলা হয়নি কিছু। সে নিজেও কিছু ভাঙল না। যদিও, এই বৃদ্ধার কাছে মিথ্যা বলতেও তার বাঁধছে। সে বলল—ঠিক জানি না। ওর সঙ্গে দেখা হয়নি কয়েকদিন। মোহন কোথায় ঠাকুমা? নীচে কাকিমার সঙ্গে দেখা হল। এ বছর আপনার বাড়ি তো ভর্তি। কিন্তু আপনার মুখটা এত শুকনো লাগছে কেন?

    নয়াঠাকুমা হাসলেন। তাঁর সাদা চুল এবং নরম ত্বকের ভাঁজ থেকে ঝরে পড়ল কিছু বিষণ্ণতা। তিনি বললেন—মানুষের বাসনা তো পূর্ণ হয় না বাবা। ফাঁক থেকেই যায় কিছু না কিছু। পাঞ্চালিটা আসতে পারল না। তা ছাড়া, তা ছাড়া ময়না বৈষ্ণবীর কথাও মনে হচ্ছিল। তোদের কথাও ভাবছিলাম। তোরা না এলেও যে শূন্যতা থেকে যায়।

    ময়না বৈষ্ণবীর প্রসঙ্গে সিদ্ধার্থ বিষাদবিধুর হয়ে যায় নিজেও। ওই মহিলাকে সে দেখেছে মাত্র দু’দিন। তাতেই সে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে তাকে। আর এ বাড়িতে ময়না বৈষ্ণবী এসেছে কতবার। কতকাল। অতএব এই স্মরণ স্বাভাবিক। এই শোক স্বাভাবিক। নয়াঠাকুমার মতো ব্যক্তিত্বশালিনীও চোখ মোছেন সেই স্মরণে। সে হৃদয়ে তাপিত বোধ করে। কে হত্যা করল তাঁকে? ওই বীভৎস অসম্মানিত মৃত্যু প্রাপ্য ছিল না তাঁর। সে অপরাধী। শতদোষে অপরাধী। ময়না বৈষ্ণবীর হত্যাকারীকে খুঁজে বার করার জন্য কোনও আন্দোলন সে গড়ে তোলেনি কেন? রাজনৈতিক গতি তার বিবেক আচ্ছন্ন করে দিল তবে!

    সে প্রতিজ্ঞা নেয়। কোনওদিন, কোনওদিন এ কাজ সে করবে। খুঁজে নেবে সেই লোক! দশ বছর, বিশ বছর, এমনকী চল্লিশ বছর পরেও তো অপরাধীর সন্ধান পাওয়া যায়!

    অত বড় মঠের সদস্যা ছিল ময়না বৈষ্ণবী, তবু, সে-মঠও তো চাইল না প্রতিকার কোনও? চাপ তো দিল না যাতে ধরা পড়ে হত্যাকারী!

    এক অসামান্য নারীর সামান্য অন্তিম মেনে নিতে পারে না সে। এ জগৎ দুর্ভাগা বড়! এ মানবকুল বড় দুর্ভাগা! বাছবিচার জানে না তারা কে যোগ্য, অযোগ্য কে! কে আনে হিত, কে অহিত, বোঝে না। তাই কল্যাণ করুণ মুখে পথে পড়ে থাকে। সভ্যতায় দাপিয়ে বেড়ায় অকল্যাণের বৃহৎ পেশি।

    সে প্রতি পূজাতেই একদিন অন্তত এসেছে এ বাড়িতে। ময়না বৈষ্ণবীকে কখনও দেখেনি। কেন দেখেনি? বোধিসত্ত্ব বলেন—কার সঙ্গে কার কখন সাক্ষাৎ হবে তা নির্ধারণ করে কাল। কোনও কোনও সাক্ষাৎ ঐতিহাসিক সৃষ্টি ও ধ্বংসের কারক।

    তার সঙ্গে ময়না বৈষ্ণবীর দেখা শুধু ওইটুকুতেই সীমাবদ্ধ ছিল? তার মনে হয় – সাময়িক নয় তা। তাদের সম্বন্ধ চিরকালের। সে যেন ময়না বৈষ্ণবীকেই অনুসরণ করে চলেছে নিজের অজ্ঞাতসারে। মোহনলালের কি ময়না বৈষ্ণবীকে মনে পড়ে এভাবেই? সে জানে না। এবার মোহনলাল সত্যিই আসতে বলেনি তাকে। তবে সোমেশ্বর একদিন দেখা হতে বলেছিলেন- আসছ তো? এসো কিন্তু। তুমি যা ব্যস্ত এখন!

    মোহনলাল বলল না কেন? ভুলে গেছে? নাকি সত্যিই সে চায় না সিদ্ধার্থ আসুক! সে প্রথমে ভেবেছিল, মোহনলাল বলেনি যখন, সে আসবে না। পরে মত পালটেছে। মোহনলালের কাছাকাছি হওয়া তার প্রয়োজন। কতখানি বদলেছে মোহন, তার থেকে দূরে গেছে কতখানি, জানা প্রয়োজন তার। বোঝা প্রয়োজন। বন্ধুবিচ্ছেদ কখনও হয়নি তার। নদীর মতোই, এ জীবনে, দু’জন দু’টি ভিন্ন মুখে ভেসে যেতে পারে, জানে সে। তবু, তার আগে, উপলব্ধি চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত প্রতীক্ষা। হয়তো মুছে যাবে কোনও অভিমান যদি থাকে মোহনলালের ভেতর, হয়তো মিলিয়ে যাবে ভুল বোঝাবুঝি যদি থাকে কোনও। তার নিজের পক্ষে তো কোনও দূরত্ব নেই, কোনও অভিমান, কোনও ভুল বোঝা নেই। এবং সে জানে, গভীর করে জানে, এই পরিবারের সকলের প্রতি তার আছে টান। সমধিক নন্দিনীর প্রতি। নন্দিনীর মধ্যে সে পেয়ে যায় অপরূপ মাতৃত্ব মহিমা! যখন তার মা ছিল ইহজগতের, তখনও, এমনকী নন্দিনীকে সে গ্রহণ করেছিল মাতৃস্বরূপিণী! কিন্তু মাকে হারানোর পর, নন্দিনীর কোল তাকে একমাত্র মাতৃস্নেহ দেয়। সে জানে, বিশ্বাস করে সে, সম্পর্ক সর্বদা রক্তে-রুধিরে-শোণিতে জড়িয়ে থাকে না। সম্পর্কের বিস্তার বংশ-তন্তুর পরোয়া করে না। এই অসীম মহাকাশের সঙ্গে যে সম্পর্ক মানুষের, তারই অপরূপ প্রতিবিম্ব মানুষে মানুষে ঘটে যায়, ঘটে যেতে পারে। এই বোধ তার শক্তি, তার আনন্দ, তার সর্বস্ব। এমনই জীবনদর্শন ভাতে মর্মে মর্মে তার। কিন্তু নন্দিনীকে পেয়েছে সে মোহনের জন্যই তো! সে মোহনলালের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠল।

    তখন সকল নাতি-নাতনিরা প্রবেশ করল নয়াঠাকুমার ঘরে। মোহনলাল পর্যন্ত। সিদ্ধার্থর সঙ্গে কমবেশি পরিচয় আছে সকলের। সেই পরিচয়ে সহজ উচ্ছ্বাসের দোলা লেগে থাকে। অতএব সিদ্ধার্থকে দেখে তারা খুশির প্রকাশ দেয়।

    সিদ্ধার্থ স্থির করে এসেছে আগামী দিন বেশ কয়েকটি গ্রামে যাবে সে। তৌফিককে বলা আছে। তিনটে নাগাদ সে চলে আসবে হরিহরপাড়ায়। সেইখান হতে যাবে তারা। গোমুন্ডি, বাপান। কালান্তর অঞ্চলের এইসব গ্রাম অবহেলিত বড়। দারিদ্রপীড়িত। সেইসব গ্রামে কোনও নেতা যায়নি কখনও। সরু, পায়ে চলা পথে, সেখানে পৌঁছয়, কেবল নির্বাচনের কালে, কিছু লোক। লোক হয়ে যায় তারা। লোক ভাড়া করে আনে। সিদ্ধার্থ যেতে চায় সেইখানে। কথা বলতে চায়। দেখতে চায় জীবনের সৌন্দর্যে দারিদ্রের অসহ পীড়নে হয়ে ওঠা ক্ষত কী গভীর!

    কাল দুপুরের আগেই বেরুতে পারলে ভাল হত। কিন্তু সে জানে, দুপুরে ভাত খেয়ে না এলে নন্দিনী কষ্ট পাবেন। এই এতটুকু কষ্ট সে নন্দিনীকে দিতে চায় না। তার মায়ের মতো অবিকল রূপ, তাঁকে সে দুঃখ দেয় কী প্রকারে!

    মোহনলাল বলে—কখন এলি?

    —এই তো কিছুক্ষণ।

    জবাব দেয় সে।

    —এই তিনদিন এলে না সিদ্ধার্থদা! তোমাকে আমরা খুব চাইছিলাম।

    তড়বড় করে বলে মধুঋতা নামের মেয়েটি। নয়াঠাকুমার ছোট নাতনি সে। ছোটছেলের মেয়ে।

    সিদ্ধার্থ হাসল। স্নিগ্ধ। কথা বলল না কিছু। পুজোর তিনদিনে না আসার জন্য বিবিধ অনুযোগ সাজিয়ে নিয়ে বসল প্রত্যেকেই। মোহনলাল বলল—আজ থাকছিস তো? রাতে বিসর্জনের পর বাউলগানের আসর বসাব।

    —থাকছি।

    বলল সিদ্ধার্থ। এবং সহসা তার মনে পড়ে গেল ইদরিশের কথা। সে যে পঞ্চরসের গান গেয়েছিল, তা চমৎকার। সে প্রস্তাব করে ইদরিশের নাম। এই আসরে গাইবার যোগ্যতা কি নেই তার? তবে ইদরিশ গভীর শোকার্ত ছিল সে জানে। সেই শোক পেরিয়ে গান গাওয়া সে শুরু করেছে কি? সকল প্রশ্ন সমেত সে প্রস্তাব করে। মোহনলাল তার প্রস্তাব সমর্থন করে। কিন্তু মধুঋতা নাক সিঁটকোয়। সে জানে না পঞ্চরস। আলকাপ, হাপু, টুসু, গম্ভীরা জানে না কিছুই। শহুরে ও প্রবাসী শিক্ষায় সে জানে কিছু বাউলগানের সংবাদ। অতএব নাকে কাঁদে নাঁ, নাঁ। শুধু বাউল! ওই বাঁউলটাকে কী সুন্দর দেখতেঁ!

    অতএব গানের সঙ্গে রূপেরও সম্ভার আমন্ত্রিত হওয়ার যোগ্যতা পেয়ে বসে।

    নয়াঠাকুমা এর-ওর মুখের দিকে তাকান। বলেন—কী করবি তোরা মোহন? কী বলিস?

    মোহন বলে—বাউলগান হবে আজ!

    —বাউলগান?

    নয়াঠাকুমা চোখ থেকে চশমা খুলে নিলেন। বার্ধক্যের দু’এক গাছি সাদা ভ্রূ সমেত পেশি কুঁচকে উঠল। তিনি বললেন—বাউলগান হবে? কোথায়?

    —বাড়িতে। তুমি না বোলো না ঠাকুমা। সবার খুব ইচ্ছে।

    —আমি না বলব কেন বাপু? প্রতিমার বিসর্জন হচ্ছে না। ঢের সময় তো থাকবে বিকেল থেকে। ভালই হবে।

    নয়াঠাকুমার গলা জড়িয়ে ধরে চুমু খেল মধুঋতা—ওঃ! ঠাম্মা, এইজন্য তোমায় এত ভালবাসি! তুমি মায়ের চেয়েও বেশি আধুনিক।

    —আমি তোদের চেয়েও বেশি আধুনিক, তা জানিস?

    হইহই হাসি বাজায় সকলে। শৌভ, মেজছেলের পুত্র সে, গড় হয়ে যায় নয়াঠাকুমার পায়ে। ঘরে আনন্দের স্রোত বয়ে যায়। নয়াঠাকুমার মুখ হতে বিষাদের রেশ ধুয়ে-মুছে গেছে এখন। উজ্জ্বল সেই মুখে খুশি ও কৌতুকের নিখাদ কারুকাজ। সিদ্ধার্থ নয়াঠাকুমাকে দেখছিল। তার মনে হচ্ছিল, মানুষের শিশুস্বভাব সারাজীবনেও ঘোচে না। এই তার বিষাদ, এই তার খুশি। এই তার শোক, এই তার সাধ। এই না হলে মানুষের চলেই বা কী প্রকারে? নিরন্তর এত দুঃখ চারিপাশে! এত বঞ্চনা! যুদ্ধ এত! জীবনের এত এত অনিশ্চয়তা! তারই মধ্যে ভুলতে না পারলে, নিজেকে ভোলাতে না পারলে, মানুষ ভারসাম্য হারাবে। শিশুর নির্মলতা নিয়ে, উচ্ছ্বাস নিয়ে যতদিন বেঁচে থাকা যায়, ততদিনই পূর্ণ থাকে জীবনীশক্তি! তার বোধিসত্ত্বকে মনে পড়ে গেল এ সময়। কোনও সঙ্গ লাগে না তাঁর। লাগে না কোনও প্রীত বাতাবরণ। আপন ধর্মে, আপন কর্মে নিরন্তর ব্যাপৃত তিনি। কোথায়, কত দূর হতে লোক আসে তাঁর ওষুধ নিতে। কত প্রত্যাশা নিয়ে বলে—ডাক্তারবাবু! ভাল হবে তো?

    বোধিসত্ত্ব বলেন—আমি ডাক্তার হলে তুই ব্যাটা মোক্তার।

    —অ্যাঁ বাবু?

    হকচকিয়ে যাওয়া ওষুধপ্রার্থী অবাক চোখে তাকায়।

    —হ্যাঁ বাবু!

    বোধিসত্ত্ব ধমকে ওঠেন। সস্নেহ সেই ধমকে রোগী বড় ভরসা পায়। বোধিসত্ত্ব বলেন- ডাক্তারবাবু কী রে! আমি হলাম ঘোড়ার ডিমের ডাক্তার। তোরা তা হলে কী হলি?

    —আজ্ঞে, বাবু!

    —তোরা হলি ঘোড়ার ডিম!

    আপন রসিকতায় আপনি হাসেন তিনি। সদা প্রাণময়, সদা আনন্দিত মানুষটি সিদ্ধার্থর হৃদয় সাজিয়ে দিয়েছেন ফুলে-ফলে। সিদ্ধার্থর মস্তিষ্কে দিয়েছেন শক্তি। জেদ। ধৈর্য। আর স্বপ্ন! স্বপ্ন! স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা! এই দারিদ্র-লাঞ্ছিত ভারতের প্রতিটি মানুষকে দিতে হবে সহায়-সম্বল। জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসনখানি লভ্য হোক হে ভারত, তোমার!

    কীভাবে ঘটবে এত কিছু, জানে না সে। কতদিনে এই দেশ হবে এক সমৃদ্ধ দেশ, জানে না সে। সে শুধু বিশ্বাস করে, দেখতে হবে, বুঝতে হবে, ছোট ছোট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গড়ে তুলতে হবে বড় কাজ। বামফ্রন্ট যেমন নিরন্তর প্রচেষ্টায় বর্গাদারকে জমি ফিরিয়ে দিচ্ছে, ভূমিহীনের হাতে দিচ্ছে মৃত্তিকার ভার, তেমনই সুন্দর, তেমনই বৃহৎ কোনও কাজ।

    আবেগদীপ্ত হয় সে। সকলের হইচই, লঘু হাস্য-পরিহাসে, ঢাকের শব্দে ছড়িয়ে পড়ে বিসর্জনের সে সুর—তারই মধ্যে, দেশবোধে সে আবেগদীপ্ত হয়। এবং বিষণ্ণ হয়ে ওঠে ক্রমে। কোনও বৃহৎ উদ্দেশ্যই সফল হয় না কেন পুরোপুরি? এ দেশে ন্যায় এবং সততার অভাব বড়! ন্যায়বোধ ও সততা! কীভাবে একটি দেশের চরিত্র-লক্ষণ বদলে দেওয়া যায়?

    নয়াঠাকুমা বলেন তখন—গান গাইবে কে? সুন্দর বলে কাকে ঋতা?

    মোহনলাল বলল—দুলু বাউলকে বলব ভাবছি। দেখি আখড়ায় গিয়ে যদি থাকে সে। যাবি সিধু আমার সঙ্গে?

    —যাব।

    জবাব দিল সে। তার মনে পড়ল সেই দৃশ্যের কথা। এক নারীমূর্তির সঙ্গে চলে যাচ্ছে মোহনলাল। এই সম্পর্ক অদ্যাবধি বজায় আছে কি? মোহনলালের চোখের দিকে তাকাল সে।

    মধুঋতা বলল—সুখবরটা দিয়েছ মোহনদা? সিদ্ধার্থদাকে?

    —কী সুখবর?

    জানতে চাইল সিদ্ধার্থ। মোহনলাল লাজুক হাসল। নয়াঠাকুমা বললেন—ষষ্ঠীর দিন মোহনের বিয়ের পাকা কথা হয়ে গেল।

    —তাই নাকি? বাঃ!

    সকলে কলকল করে উঠল—তোমারটা কবে? তোমারটা কবে?

    সিদ্ধার্থ নীরব হাসিতে এড়িয়ে গেল সকল উত্তর। সে জানে এরপরই আসতে থাকবে বহু প্রগল্ভ প্রশ্ন। হাজার রসিকতা। এই সমস্তই সে নীরব হাসির দ্বারা পাশ কাটিয়ে যাবে। সে বলল—কবে? বিয়ে কবে?

    নয়াঠাকুমা বললেন—আগামী ফাল্গুনে।

    হইচই-এর দল নয়াঠাকুমার ঘর হতে বেরিয়ে ফের মোহনলালের ঘরে অধিষ্ঠিত হল। সিদ্ধার্থকে নিয়ে মোহনলাল বেরুল আখড়ার উদ্দেশে। বাইকে পায়ের চাপ দিতে দিতে মোহনলাল বলল—তুই এসেছিস, খুব ভাল লাগছে। আমি এবার সাত কাজে খেয়াল রাখতে পারিনি।

    —আরে তাতে কী আছে? তোদের বাড়ির পুজোয় আসতে আমার নিমন্ত্রণ লাগে নাকি? বাইক নেবার কী দরকার? চল হেঁটে যাই।

    —চল।

    বাইক রেখে বেরিয়ে পড়ে তারা। সিদ্ধার্থ এদিক-ওদিক তাকিয়ে একটি সিগারেট ধরায়। নন্দিনী বড় ব্যস্ত! এত জনের আগমনে, পূজার কাজে, আতিথেয়তার ত্রুটিহীন দায়িত্বে তাঁর সুকঠিন গৃহিণীপনা! সে একবার পিছন ফেরে। রাস্তা হতে দেখা যায় ঠাকুরের মূর্তিখানি। দেখা যায় পূজার আয়োজন। নন্দিনী সেখানে নেই। মোহনলাল এখনও তার কৈফিয়তকে প্রতিষ্ঠিত করছিল। সিদ্ধার্থ বুঝতে পারছে সব আর সমূহ আহত হচ্ছে সে। মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হলে প্রাথমিক আবডাল দেবার জন্য মানুষ ভদ্রতার আবরণ টানতে চায়! মোহনলাল বলে—আসলে দিন কয়েক আগে এমন একটা ঘটনা হল!

    —কী?

    —আমাদের এ অঞ্চলের মুসলিম লিগ নেতা, বেশ প্রভাব আছে এলাকায়, করম মণ্ডল নাম।

    —হ্যাঁ। জানি।

    —রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন খুব ভাল। বাইরে যেতেন। কলকাতায় অনেক বাড়ি করেছেন। রাজমিস্ত্রির কাজে ওঁদের পরিবার রীতিমতো ঐতিহাসিক।

    — তাই?

    —হ্যাঁ। ওঁদের আদিপুরুষ কদম মণ্ডল ছিলেন হিন্দু। সেনদের আদিপুরুষ উদ্ধব সেনের সঙ্গে এসেছিলেন এই গ্রামে। মাথায় সোনার কলস বসানো যে শিবমন্দিরটির কথা শোনা যায়, সেটি গড়েছিলেন কদম মণ্ডল। এই বংশেরই একজন গড়েছিলেন চেহেল সুতুন। চেহেল সুতুন কী, মনে আছে তো?

    —হ্যাঁ। চল্লিশটি থামওয়ালা বাড়ি। মুর্শিদকুলি খাঁর প্রাসাদ।

    —হ্যাঁ। এরপর, শুনেছি সিরাজের প্রাসাদ গড়তেও মিস্ত্রি গিয়েছিল এই পরিবার থেকে। হাজারদুয়ারি নির্মাণেও হাত লাগিয়েছিল এই পরিবার। রাজমিস্ত্রির কাজ সত্যিই ভাল জানেন করমচাচা। আমাদের দোতলাটা নতুন করে উনিই করে দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে ওঁর একটা দুর্ঘটনা হয়েছে।

    —কী দুর্ঘটনা?

    —কলকাতায় একটি বহুতল বাড়ি তৈরির কাজ করতে গিয়ে পড়ে যান করমচাচা।

    —কী করে?

    —যে-বাড়িতে কাজ হচ্ছে, সে বাড়িতেই রাতে থেকে যেতেন ওঁরা। গরমে ছাতে শুয়েছিলেন। ঘুম চোখে ন্যাড়া ছাতের ধারে দাঁড়িয়েছিলেন প্রস্রাব করার জন্য। অন্ধকারে পা পিছলে যায়।

    — ইস্‌স্।

    —কোমর ভেঙে গেছে একেবারে। শিরদাঁড়া টুকরো-টুকরো। করমচাচা উঠে দাঁড়াতে পারবেন না আর কোনও দিন।

    কথা বলতে বলতে তারা পৌঁছে গিয়েছিল ইদরিশের বাড়ির নিকটে। সিদ্ধার্থ তাকাল বাড়িটির দিকে। এই সেই শোকার্ত সংসার। মনে আছে তার। কেমন আছে এরা? আজও কি এই বাড়ির নারীটি সন্তানের জন্য মধ্যরাতে গুমরে কাঁদে?

    সে ভাবছিল এমন। আর তখন মাসুদা এসে দাঁড়াল বারান্দায়। ভরা শরীর তার। গর্ভে সন্তানের অবস্থিতি পুরুষের চোখেও পরিস্ফুট। এ দৃশ্যে মন ভাল হয়ে গেল সিদ্ধার্থর। হোক, হোক। সন্তান হোক এই দম্পতির। নবজাতকের আগমনে সেই অসহ শোকের ওপর প্রলেপ পড়ুক আনন্দের, সুখের। ভাল থাকুক ওরা! ভাল থাকুক।

    মোহনলাল বলে চলেছিল—কী অদ্ভুত ব্যাপার জানিস!

    —কী?

    —বিঘে তিনেক জমিজমা ওঁদের। দুইভাই একসঙ্গেই থাকতেন। মূলত করম মণ্ডলের উপার্জনেই সংসারে ভাল টাকা-পয়সা আসত। করমচাচা পঙ্গু হয়ে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে ওই ভাই জমি ভাগাভাগি করে আলাদা হয়ে গেল। এদিকে করম চাচার দু’টি ছেলে এই আমাদের মতো। চারটি মেয়ে ছিল। দু’জনের বিয়ে দিয়েছে। বাকি আছে আরও দু’টি। খুব কষ্টে পড়েছে সব। বরকতচাচার বয়স হচ্ছে তো। পার্টিকর্মী হিসেবে এলাকার দায়িত্ব আস্তে আস্তে আমার ওপরেই এসে যাচ্ছে।

    সিদ্ধার্থ তাকাল একবার মোহনলালের দিকে। কিছু বলল না। রাজনীতিতে অভিজ্ঞ এবং অভ্যস্ত ব্যক্তির কাছে বয়স কি কোনও বাধা হতে পারে, যদি সে ব্যক্তি সুস্থ থাকেন? বরকত আলি অসুস্থ মোটেই নন। সে টের পায়, এলাকার ক্ষমতা কেড়ে নেবার যুদ্ধে জয়লাভ করতে চলেছে মোহনলাল। মোহনলাল বলে চলে তখন—জমিজমা ভাগাভাগি, কে কত পাবে, আমাকেই করতে হয়েছে সব। লিগের সমর্থক লোকজনও সব আমারই শরণাপন্ন হল। আস্তে আস্তে এমনই হচ্ছে এই এলাকায় সিধু, আমাকে না জিগ্যেস করে গাছের একটি পাতাও এখানে নড়বে না।

    সেটা কি ভাল? এরকম একমুখাপেক্ষী হওয়া কি ভাল? বলল না সিদ্ধার্থ। বলল না, নেতৃত্বের কাজ নয় জনগণের ভাবনক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়া। বরং, জনচেতনাকে জাগ্ৰত করে তোলাই নেতার ধর্ম। নীতি।

    মোহনলাল বলে চলল—মানুষ কত অকৃতজ্ঞ হতে পারে, এই প্রত্যক্ষ রাজনীতির জগতে এসে জানতে পারছি। ছাত্র রাজনীতিতে লোকচরিত্র ততখানি স্পষ্ট হয় না।

    সিদ্ধার্থ ভাবছিল, লোককে চরিত্র হিসেবে দেখলেই বড় অসুবিধা। তার হাজার গুণের সঙ্গে হাজার দোষ দৃষ্টিগোচর হবে তখন। এবং দোষের শক্তি গুণের চেয়ে অধিক বলে দূষণীয়ের আবরণে ঢেকে যাবেই গুণসকল। তখন চরিত্র হিসেবে দেখা মানুষের প্রতি জাগবে না ভালবাসা, জাগবে না সহানুভূতি। দোষ বিশ্লেষণের তিক্ততা প্রতিহত করবে কোমল অনুভূতিগুলিকে। এবম্বিধ মানসিক অবস্থায় মানুষের জন্য কাজ করা সম্ভব হয় কী প্রকারে?

    সকল সময়, দৃষ্টিভঙ্গিই কর্মের অনুপ্রেরণা। মানুষকে, সকল অসহায়তা সমেত দেখলে, হৃদয় সহায়ক হয়। ক্ষমার চেয়ে সুন্দর, ক্ষমার চেয়ে অধিক মানবিক আর কিছুই হয় না এ জগতে। যত যোজন-বিস্তৃতভাবে সম্ভব, এই ক্ষমাসুন্দরের দৃষ্টিই পাথেয় হওয়া উচিত। চরিত্র হিসেবে, দূরতর নির্মোহে না দেখে, মানুষকে দেখা উচিত আত্মীয়ের ঘনিষ্ঠতায়।

    তবু, সিদ্ধার্থ সে, জানে, ক্ষমারও আছে সীমা, আছে শেষ। মানুষ ভেদে ক্ষমার সীমায় তারতম্য ঘটে যায়। এমনকী, কোনও কোনও পর্যায়ে, ক্ষমাধর্মও অপরাধ বলে তার কাছে গণ্য হতে পারে। ময়না বৈষ্ণবীর হত্যাকারী ধরা পড়লে কি সে ক্ষমার কথা ভাববে? না! ভাববে না! যদি ভাবে কেউ, তাকেও নাশ করবে সে। দীপেন হাজরাকে কি সে ক্ষমা করতে পেরেছিল? হাফি আর বাপি? হয় না। ক্ষমা হয় না সব কিছুর। সবাকার। তা হলে কি সকল বৈশিষ্ট্যেরই আছে সীমা-পরিসীমা? নাকি সকল আদর্শই চূড়ান্ত করে রাখা হয় এবং মানুষ সেই চূড়ান্তের দিকে সারাজীবন ধাবিত থাকে!

    মোহনলালকে এসব কিছুই বলে না সে। কোনও তর্কে যায় না। যায় না কোনও বিশ্লেষণে। শুধু শুনে যায়। মোহনলাল বলছে—দাদার টাকায় খেল, পরল, সন্তান মানুষ করল এতকাল। দাদা পঙ্গু হয়ে ফিরতেই যে-যার নিয়ে আলাদা হতে চাইল। করমচাচার দুই ছেলেকে ডাকিয়ে বললাম, ‘সরাসরি আমাদের দলে যোগ দাও। এক বিঘে জমি বেশি পাইয়ে দেব তোমাদের।’

    —রাজি হল তারা?

    জিগ্যেস করল সিদ্ধার্থ। মোহনলাল বলল— রাজি হল। হবে না কেন? যতদূর বুঝতে পারছি, এই এলাকায় লিগের সংগঠন পুরোপুরি করমচাচার হাতে ছিল। এখন কে এগিয়ে আসবে? এলেও করমচাচার ছেলেদের সুবিধে দেবে কেন? লোকে এখন যেদিকে সুবিধে পাবে, সেদিকেই যাবে।

    আখড়া এসে গিয়েছিল। জসিম বাউলের সঙ্গে দাওয়াতেই বসে ছিল দুলু বাউল। দিন কয়েক হল এই আখড়ায় ওসমান নামে এক নতুন বাউল এসেছে। সঙ্গিনীও আছে তার একজন। গুরু মহম্মদ সাঁইয়ের নির্দেশে তারা এখানে বসবাস করে যেতে এসেছে। ওসমান বাউলের সঙ্গিনীর নাম তারা। ওসমান বাউল এবং তারা গায় ভাল। দু’জনেরই গলার সুর প্রাণ স্পর্শ করে। এই পূজার কালে তারা কোনও অনুষ্ঠানে গানের বরাত পেয়ে চলে গেছে। দুলু বাউলেরও ডাক এসেছিল কয়েক জায়গায়। যায়নি সে। সিদ্ধার্থ ও মোহনলালকে দেখে উঠে দাঁড়াল তারা। স্মিত হাসিতে ভরে গেল দুলু বাউলের মুখ। নত হয়ে সে বলল— প্রণাম। তার নজরে পড়ল, মোহনলালের চোখ দু’টি ব্যগ্র চেয়ে আছে অন্দরের দিকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার
    Next Article বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    Related Articles

    তিলোত্তমা মজুমদার

    শামুকখোল – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    অর্জুন ও চারকন্যা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    ঝুমরা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    নির্জন সরস্বতী – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    কয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }