Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাধানগর – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প177 Mins Read0
    ⤷

    রাধানগর – ১

    এক – মন্দারের কথা

    একটা প্রকাণ্ড মাঠ। কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে জানি না। ছমছম করছে জোছনা মাঠময়। পাতলা সরের মতো এই জোছনা যেন মাঠটাকে মুড়ে রেখেছে। সরও নয়। মসলিন কাপড়। একটা রেশমি-রেশমি ভাব। দুরে দুরে গাছের জট। পাকুড়…শিরীষ…তমাল…ওটা কী? শিমুল না ছাতিম? পাহাড়ের মতো উঁচু তেঁতুল দেখা যাচ্ছে একটা। পাখা ঝাপটাতে ঝাপটাতে কী একটা রাত-পাখি উড়ে গেল। এই মাঠটা আমাকে পার হতে হবে। একটা ঠিকানা…একটা ঠিকানায় পৌঁছতে হবে আমায়। এ মাঠ আগাগোড়া এই একই রকম। কতটা এলাম বোঝবারও কোনও উপায় নেই।

    কোথাও গঙ্‌ গঙ্‌ করে গম্ভীর সুরে একটা ঘণ্টা বাজছে না? অনেক দূর থেকে আসছে আওয়াজটা। আমাদের ঠাকুরবাড়ির ঘণ্টাটার মতোই আওয়াজ! উঁচুতে, মন্দিরের আড়ার সঙ্গে বাঁধা ঘণ্টাটা। দড়িতে টান মেরে মেরে বাজাতে হয়।

    দূরে, মাটির তলা থেকে যেন ঠেলা খেয়ে উঠে আসছে কী একটা। অন্ধকার রং। দুর্গ। দুর্গ একটা। আশ্চর্য! এই তো সেই দুর্গ যেখানে আমার পৌঁছবার কথা। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি দুৰ্গটার বুরুজে বুরুজে কামান। সবগুলো আমার দিকে তাক করা। জানি এই কামানগুলোর পেছনে, কালো পোশাক পরা কালোকাপড়ে মুখ ঢাকা গোলন্দাজরা আছে। যাঃ দুম দাম করে গোলা ছুটে আসছে যে! যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল? আমার সঙ্গে ওদের? আমি কি মধ্যযুগীয় নাইট? একা আমার সঙ্গে কেন এত লোকে যুদ্ধ করে? গোলাগুলো এসে পড়ছে আমার আশেপাশে। পায়ের কাছ এসে পড়ল একটা। আশ্চর্য! এ তো গোলা নয়। কালো কাপড়ে-ঢাকা মুণ্ডু একটা। গোলন্দাজ-সৈনিকের মুণ্ডু। আমি জানতাম না এই ভাবে কামান ছুঁড়তে হয়। গুঁড়ি মেরে কামানের নলের মধ্যে ঢুকে পড়ে নিজের মুণ্ডুটাকেই গোলার মতন এমনি ছুঁড়ে দিতে হয়? এ ভাবেই যুদ্ধ হয়? তাই তো… এ ভাবেই তো হওয়ার কথা!

    হঠাৎ মনে পড়ে বাঃ আমি তো উড়তে জানি! পায়ের পাতায় একটু চাপ দিয়ে শূন্যে উঠে যাই। আরামে উড়ছি। নীচে জোছনার মাঠ, মাঠে মুণ্ডু গড়াগড়ি খাচ্ছে। এসে গেছি…এসে গেলাম… ‘অজামিল! অজামিল!’ কে যেন ডাকছে আমায়। সাড়া দেবার প্রাণপণ চেষ্টায় হাঁকপাঁক করতে করতে জেগে উঠি। ঘোর কাটেনি এখনও। এখনও শরীরে ওড়ার বেগ, চোখে ভাসছে অন্ধকার রঙের দুর্গ। কিন্তু, কেন সাড়া দিতে গেলাম? কাকে? আমি তো অজামিল নই! আমার নাম যে মন্দার! লোকে আমায় ডাকে না। ডাকার দরকার হয় না। তবু যদি কখনও আমাকে শনাক্ত করতে হয়, কেউ মন্দারও বলে না। বলে ছোট সোনা। অর্থাৎ ‘সোনা’ নামটাও আমার ভাগের। ‘সোনা’ বলে আমার পূর্ববর্তী একজন আছে। সে-ই প্রকৃত সোনা। কোনও অসতর্ক মুহূর্তে কেউ হয়তো আমাকেও ‘সোনা’ বলে ডেকে ফেলেছিল। সেই থেকে আমিও একজন ‘সোনা’ হয়ে গেছি। তবে ছোট সোনা, নকল সোনা, আসল নয়।

     

     

    ভোর হচ্ছে এখন আমার তক্তপোশের বিছানার চারদিক ঘিরে। প্রভাতী গানের সুর ভেসে আসছে দূর থেকে। কোল-হার্মোনিয়াম নিয়ে ছোট চক্কোত্তি বেরিয়ে পড়েছেন। সঙ্গে ওঁর স্যাঙাৎ ভবতারণ, তার গলায় মাদুলির মতো ঝুলছে শ্ৰীখোল। পেছনে ভবতারণের ছেলে, হাতে খঞ্জনি। অর্থাৎ রাধানগরের ভোর

    ‘রাই জাগো রাই জাগো শুকসারি বলে

    কত নিদ্রা যাও কালা মাণিকের কোলে’

    এদিক থেকে নাকের সাজা পুব দিকে চলে গেলে ঠাকুরবাড়ি পড়বে। প্রভাতী শুরু হতে না হতেই খুলে যাবে ঠাকুরবাড়ির দরজা। কোল্যাপসিব্‌ল-এর ভেতর দিয়ে দেখা যাবে ঠাকুরমশাই রাধামাধবের নিদ্রা ভাঙাচ্ছেন। পাতলা মসলিন কাপড়ের টুকরো দিয়ে ঘষে ঘষে চকচকে করবেন উনি ঠাকুরের অঙ্গ। তারপর মাধবকে পরাবেন চাঁপা রঙের সিল্কের ধুতি, রাধারানির অঙ্গে উঠবে নীল বেনারসী বস্ত্র। তারপর দোলায় এসে বসবেন ঠাকুর। এই রকম সব ভাষাই ব্যবহার করতে হয় ঠাকুরের বেলায়— অঙ্গবস্ত্র, মার্জনা, নিদ্রা, শয়ান, জাগরণ। অনেক দিন আমি মন্দিরের ধাপে বসে বসে এইসব দেখি। খুব আলগা চোখে দেখি। যেন অন্য কিছু করবার নেই বলে দেখছি। অন্য কেউ কোথাও নেই বলে…।

     

     

    আজ অনেকক্ষণ বিছানাতেই বুঁদ হয়ে থাকি। এই দুৰ্গটা আমি আগেও যেন দেখেছি, আগেও যেন পৌঁছতে পারিনি, আগেও যেন কে ‘অজামিল অজামিল’ বলে ডেকে আমার সব কিছু গুলিয়ে দিয়েছিল, আগেও আমি ঘুম ভেঙে বুঝতে পারি আমি ঠকে গেছি, ভুল নামে সাড়া দিতে গিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গেছি। আগে যখন ঘটেছে তখন পরেও নিশ্চয় ঘটবে! তখন, সেই অনাগত ভবিষ্যতে কি এ ভুল শুধরে নিতে পারব?

    একদিন না একদিন ওই মুণ্ডুগুলোর কালো কাপড়ের ঘোমটা আমি এক ঝটকায় সরিয়ে দেবই। মুণ্ডুগুলোর পরিচয় আমায় জানতে হবে। ওরা কারা? কেন ওরা এমন মরিয়ার মতো নিজেদের মুণ্ডু আমার দিকে তাক করে? কীসের শত্রুতা আমার সঙ্গে ওদের? একদিন না একদিন ওই দুর্গে আমি ঢুকবই।

    শিশিরদা আমার মাস্টারমশাই। উনি আমাকে একটা ডায়েরি উপহার দেন। ডায়েরির ভেতর ভারতের রেলপথ, সড়কপথের মানচিত্র, সারা বছরের ছুটির দিনের হিসেব, প্রধান প্রধান শহরের ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক বিবরণ, জরুরি টেলিফোন নম্বর, প্রধান প্রধান ট্রেনের খবর, আয়করের চার্ট, রাশিফল, আরও কত রকম খুঁটিনাটি তথ্য। পাতাগুলো রুলটানা, ভাল কাগজ, লিখতে বসলে কলম যেন আপনা আপনি চলতে থাকে। এই ডায়েরিতে পৃথিবীর অনেক সুন্দর জায়গার চমৎকার সব ফটোগ্রাফ আছে। প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, কোপেনহেগেনে সাগরের নীল জলে অ্যান্ডারসেনের জলপরীর মূর্তি, নায়াগ্রা জলপ্রপাতের ওপর ইন্দ্রধনু, দক্ষিণ মেরুর বরফের ওপর পেঙ্গুইন-পাড়া, ইলোরার কৈলাস মন্দির, চিনের প্রাচীর, লাসার পোতালা প্রাসাদ…। এই ছবিগুলো আমার খুব প্রিয়, এগুলো আমাকে খুব নিষ্পৃহ হতেও সাহায্য করে। যেন আমি আর রাধানগরের রায়বাড়ির পশ্চিম প্রান্তের চারচালা ঘরটায় নেই। ঘুরে বেড়াচ্ছি জেটগতিতে কানাডা থেকে উত্তরমেরু, উত্তরমেরু থেকে তিব্বত, তিব্বত থেকে মালয়েশিয়া। জানি সবটাই একটা মোহ, একটা কল্পমায়া, কিন্তু তারও একটা মূল্য আছে আমার কাছে। এই ছবিগুলো দেখতে দেখতেই নিজের অকিঞ্চিৎকরত্ব আমি ভুলে যাই। ভুলে যাই আমি একটা কেউ-না। ডায়েরির মসৃণ পাতা আমায় হাতছানি দিতে থাকে। আমি লিখি। লেখা তো নয়, আসলে এটা নিজেকে গুছিয়ে তোলা। লোকে যেমন ছুটির দিনে আলমারি গোছায়, তাক গোছায়। গোছাতে গেলেই পরিষ্কার জানা যায় কী আছে আর কী নেই, কোন জিনিসটা হারিয়ে গেছে, কোনটা দরকার…।

     

     

    আমি প্রাণীটি খুব চাপা প্রকৃতিরও বটে। চট করে কারও কাছে মন খুলি না। কাউকে ডেকে বসিয়ে জোর করে নিজের কথা শোনাবার ইচ্ছে আমার নেই। নিজের জীবনকে বুঝে নিতে চাই বলেই না আমার ডায়েরি লেখা! সত্যি কথা বলতে কী, বড্ড বেশি কুয়াশায় থেকেছি, বড্ড বেশি আবছায়ায়। আবছা কোনও কিছু আমি যেন আর মেনে নিতে পারি না। স্পষ্ট পরিচয়ের আলোয় দাঁড় করিয়ে দিতে চাঁই সব কিছু।

    এই আবছায়ার ব্যাপারটা খুলে না বললে আপনারা বুঝতে পারবেন না।

    শৈশবে আমাদের প্রথম জ্ঞান হয় একটা কি দুটো মানুষকে ঘিরে। নয়? যেমন এই আমার মা। এ আমাকে খাওয়ায়, নাচায়, ঘুম পাড়ায়। ওই আমার বাবা এল, এই সময়ে আমার বাবা আসে। কতকগুলো কার্যকারণ সম্পর্কও আমরা আবিষ্কার করি, কাঁদি, তা হলেই ঠাকুমা ছুটে আসবেন। ছটফট করি, বিরক্ত করি এদের, তা হলেই এরা আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবে। কোনও কাকা, মামা-দাদা বা খুব আপন কোনও কাজের লোক নিয়ে যাবে খুশি হয়ে।

    আমার অভিজ্ঞতা কিন্তু এ রকম নয়।

     

     

    ধরুন আমি কাঁদছি। কেন কাঁদছি আমি জানি না। বুঝতে পারছি না। কাঁদতে কাঁদতে কখন আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। আবার কখনও কখনও কাঁদতে কাঁদতে আমি চৌকাঠ পেরিয়ে ঘরের বাইরে চলে এসেছি। কাঁদছি একটা জৈবিক তাগিদে। প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে আমার। বুঝতে পারিনি সেটা।

    একজন মহিলা বললেন— কেঁদে পাড়া মাথায় করল যে। কী হয়েছে সোনা! ও সাবির মা একটু দেখো না। এর বোধহয় খিদে পেয়েছে। দেখি তো! একটা আঙুল মহিলা আমার মুখের দিকে বাড়িয়ে ধরলেন। আমি সাগ্রহে সেটা মুখে পুরতে যাই।

    —দেখছ তো। ঠিক ধরেছি! ও সাবির মা।

    গেলাসে করে দুধ খাওয়ানো হয় আমাকে অতঃপর।

    একটা কাঁসার বাটি কেউ বসিয়ে দিয়ে গেছে আমার সামনে। আর একজন মহিলা। বাটিতে মুড়ি। যত না খাচ্ছি, তার চেয়ে বেশি ছড়াচ্ছি চারদিকে। কয়েকটা শালিক এসে ফুটুর ফুটুর করে খেয়ে যাচ্ছে সেগুলো। আমি মজা পাচ্ছি। আরও মুড়ি ছড়িয়ে দিচ্ছি।

     

     

    গোঁফওয়ালা একজন লোক আমায় এক রকম টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে। পুকুরঘাটে দাঁড় করিয়ে মাথায় দু ঘটি জল ঢেলে দিল। হাঁসফাঁস করে কেঁদে উঠলাম আমি। কাঁধের গামছাটা দিয়ে খপ খপ করে গা মুছিয়ে দিল লোকটা। এবার উল্টো মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বলল– যা এবার পালা।

    আমি এগিয়ে যাচ্ছি, একেবারে নাঙ্গা। একজন ভারী গলার রাশভারী লোক আমার পথ আটকে দাঁড়িয়েছেন।

    —আরে! আরে! তুরতুর করে এ দিগম্বর চলল কোথায়? কে এটা? রঘু! রঘো! বাসু! কে আছিস?

    —কী সেজোবাবু!

    —আরে বছরকার দিনে কার খোকা এমন ন্যাংটা ঘুরে বেড়াচ্ছে?

    —এ হল ছোট সোনা, রাজেন দাদার…

    —অ। তা জামা-কাপড় পরিয়ে দে না!

     

     

    আমাকে টানতে টানতে পশ্চিমের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।

    —কে আছ গো! কেউ আছ না কি?

    —কী বলছ? কে?

    —এই তো নন্দদিদি, দাও দিকি এই খোকাকে জামা-প্যান পরিয়ে। চান হয়ে গেছে এর।

    আধ ডজন লোকের হাতে ঘুরে-ফিরে আমার স্নান, ভোজন, বেশকরণ, শয়ন হতে থাকে। সকলেই করে দায়ে পড়ে। এই আধ ডজনও আবার পাল্টে পাল্টে যেতে থাকে। তো কী করে আমি চিনব এদের, কী করে বুঝব এদের কার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক?

    তবে সবচেয়ে আগে এদের ভেতর থেকে স্পষ্ট হয়ে বেরিয়ে আসে নন্দ পিসি। কোরা-কোরা থান-পরা। গলায় তুলসীর কণ্ঠী। খালি গা। তলার পাটির দুটো দাঁত নেই। কপালে একটা চন্দনের টিপ। চুলগুলো টঙের দিকে তুলে একটা গুটকি খোঁপা বাঁধা। নন্দপিসি আমার ঘরে শোয়। মোটের ওপর আমার জামাকাপড়, খাওয়াদাওয়া, অসুখবিসুখের খোঁজ রাখে। মোটের ওপর। কেন না, তারও তো কাজ কম নয়!

     

     

    আর একজন বেরিয়ে আসে— রঘুদা। বেশ শক্তসমর্থ জোয়ান। বুকটা চ্যাটালো। হাঁটুর কাছ অবধি গুটিয়ে তুলে ধুতি পরা। পায়ের পাতাগুলো যেন শাবলের মতো। তেমনই খসকা কালো, তেমনি শিরা ওঠা আঁকাবাঁকা আঙুলঅলা! এদের আমি সারা দিনে একাধিক বার দেখি। রঘুদাকেও আমি চিনে ফেলি। মাঝেসাঝে রঘুদা আমাকে হিজলবাগানে বেড়াতে নিয়ে যায়।

    আরেক মহিলা আসেন। স্বর্গ থেকেই নেমে আসেন বোধহয়। কারণ এঁর সান্নিধ্যে সুন্দর গন্ধ। এঁর হাত-পা-চুল চোখমুখ সব ভরা ভরা। সুন্দর রঙিন কাপড় পরে থাকেন। সোনার হাতে সোনার কাঁকন…। এঁকে মা বলি। কিন্তু এই মাকে তো পাই না সর্বক্ষণ। সারা বছর। ক’দিন দেখি আমাদের পশ্চিমের ঘর আলো করে ঘোরাফেরা করেন, খুব আদর করেন আমায়। কাছে নিয়ে শোন। গল্প বলেন, তারপর একদিন দেখি ঘরদোর ভাল করে গুছিয়ে নন্দপিসিকে ডেকে বলেন ‘মন্দারের সব গুছিয়ে দিয়ে গেলাম। একটু দেখো ওকে।’ অনুনয় মিশে থাকে গলায়। আমাকে চুমু খেয়ে ইনি দাওয়া থেকে উঠোনে নামেন, মাথায় ঘোমটা তুলে দেন, ব্যাগ কাঁধে জুতো পায়ে দেখতে দেখতে আবার দৃষ্টির বাইরে চলে যান। ভেতর থেকে কান্না ওঠে আমার, কাতর একটা ডাক উঠে আসতে চায়, সে-সব গিলে নিই আমি। নন্দপিসি বলে মহিলা একবার মায়ের চলে-যাওয়ার পথের দিকে তাকায়, একবার আমার দিকে তাকায়,—‘ধাত বটে একখানা বাবা, পাষাণও হার মেনে যাবে।’ কাকে লক্ষ্য করে বলে পিসি? আমাকে? না আমার মাকে!

     

     

    মা এলে একজন মানুষকে একটু বেশি বেশি দেখতে পাই। একে বলে ‘বাবা’। লাঠিয়ালদের মতো পাকানো চেহারা এর। পেশির ঢেউ গোটা দেহে। চকচক করছে একেবারে। যেন তবক দেওয়া শরীর। বাবরি চুল। পাকিয়ে তোলা গোঁফ। টানা টানা চোখ। চোখের পাতা এত ঘন যে মনে হয় কাজল পরে আছে। মা থাকলে আমরা এই দাওয়াতে খাই। বাবাকে দেখতে পাই ঘন ঘন। মা চলে যাবার পর তাই এই বাবার কাছেই ঘেঁষতে যাই। বাবার বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ি। কিন্তু যত রাতই হোক বাবা আমাকে তুলে আমার নিজের ঘরে, নিজের বিছানায় তুলে দিয়ে যায়।

    মা চলে যাবার পরে আবার সব গুলিয়ে যায়। সম্পর্ক, সময়, সব। কখন চান করি, সারাদিন কোথায় কোথায় ঘুরি, কখন কোথায় যাই তার কোনওই ঠিক থাকে না। ইচ্ছে হল চান করলাম। মনে পড়ল না, করলাম না। খিদে পেলে আগে ঘরে খুঁজি। যদি মুড়ি, নারকোল নাড়ু, কি মুড়ির চাক ছোলার চাক কিছু পাওয়া গেল, তা-ই চিবিয়ে নিলাম। কিছু না পেলে যেখানে রান্না হতে দেখেছি, বসে পড়ি। তিন চারটে ঘরে রান্না হয় রায়বাড়ির, যেখানে হোক বসে পড়লেই হল।

    —কী? খিদে পেয়েছে?

     

     

    —হ্যাঁ।

    থালায় করে ভাত এসে যায়। হাতায় করে ডাল ঢেলে দেওয়া হয়। তরকারি, ভাজা, অম্বল, দই, যেটা ভাল লাগল খেলাম, যেটা না লাগল পড়ে রইল পাতে।

    এর চেয়েও যখন ছোট ছিলাম, আমার খাওয়ার সময় ছিল মাঝ রাত্তির। সারাদিন হয়তো খাওয়া হয়নি। কেউ মনে করে দেয়নি। একটা বয়স পর্যন্ত শিশুদের তো দিতেই হয়! আমাকে কারও দিতে মনে থাকত না। ঘুমিয়ে পড়েছি এক সময়ে। মাঝরাত্তিরে খিদের চোটে ঘুম ভেঙে গেছে। তখন পিঁড়ির ওপর পিঁড়ি সাজিয়ে শিকেয় রাখা খাবার পাড়বার চেষ্টা করেছি। কিন্তু হাত পৌঁছচ্ছে না।

    —ও কী? সোনা! কী খুটুর খুটুর করছ? খিদে পেয়েছে বুঝি?

    নন্দপিসি শিকে থেকে ঠাকুরের রাতের ভোগের মালপো, সুজির পায়েস বার করে দিত।

     

     

    যেমন উল্টোপাল্টা খাওয়া, তেমন যেখানে সেখানে ঘুম। খেলতে খেলতে যেখানে ঘুম পেল, সেখানেই ঘুমিয়ে পড়তাম। খেলা মানে তো বেড়ালের পেছনে ছোটা, কাঠবেড়ালির সঙ্গে গাছে ওঠা। এই সব খেলায় তো লোকালয়ের চৌহদ্দিতে আটকে থাকা যায় না! সুতরাং কখনও মাঠে-ঘাটে, কখনও গোয়াল ঘরে, কখনও পুকুরের ঘাটে, আমাকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যেত। কারও চোখে পড়লে তুলে দিয়ে যেত, অনেক সময় শুধু ঠেলে তুলে দিত।—যা বাড়ি গিয়ে ঘুমোগে যা। তবে এসব ঘটনা ঘটত দিনের বেলার পরিসরে। একবার হল কী, ঘুম ভেঙে দেখি ভীষণ হাওয়া দিচ্ছে, হাওয়া তো নয়, নদীর স্রোত যেন। এক আকাশ জলজ্বলে তারা হাওয়ার স্রোতে ভেসে চলেছে। তারপর দেখি, আরে আমিও তো ভেসে যাচ্ছি? আমার শরীরের তলায় মাটি, চারিদিকের গাছপালা সবই তো ভেসে যাচ্ছে? ভয়ে আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল, কোথায় যাচ্ছি আমি? চারদিকে কেমন ছায়া-ছায়া মূর্তি সব। এরা যেন সব পাহারা দিয়ে আমাকে নিয়ে চলেছে। যাতে আমি কিছুতেই পালাতে না পারি। মনে হল, অনেক দিন থেকে আমাকে নিয়ে একটা চক্রান্ত চলছিল। এই আকাশ, এই তারা, এইসব ছায়ামূর্তি মিলে ভয়ঙ্কর কিছু একটা করার তালে ছিল, হঠাৎ ঘুমটা না ভাঙলে সেই ভয়ঙ্করটা নির্বিঘ্নে হয়ে যেত।

     

     

    এই সময় দূরে কোথাও শেয়াল ডেকে উঠল। প্রথমে একটা। তারপর অনেকগুলো। বিশ্রী একটা ‘হ্যা হ্যা হ্যা’ ডাকে চারদিক যেন ভেঙে চৌচির হয়ে যেতে লাগল। আমি প্রাণপণ চেষ্টায় চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম। রাতের নিস্তব্ধতায় সেই আওয়াজ হয়তো অনেকদূর ছড়িয়ে গিয়েছিল। মানবশিশুর কান্না বলে বোঝা গিয়েছিল কি না জানি না অবশ্য। কেননা কেউ সাড়াশব্দ করেনি। গাঁয়ের লোকের নানারকম কুসংস্কার তো থাকেই, হয়তো লোকে শুনে থাকলেও ভূতের ছল, কি পেতনির কান্না ভেবে নিয়েছিল। কিন্তু গোরুদের তো কুসংস্কার নেই। কয়েকটা গোরু কাছাকাছি কোথাও হাম্বা হাম্বা করে রীতিমতো শোরগোল শুরু করে। তখন লণ্ঠন নিয়ে দু’জন মানুষ বেরিয়ে আসে।

    —কে রে? গোরুগুলো এত ডাকছে কেন? কে যেন কাঁদল? হরি হরি, রাধাকেষ্ট, রাধাকেষ্ট।

    আমি তখন ভয়ে নেতিয়ে পড়েছি। এরা নিচু হয়ে আমাকে দেখছে, আমি বুঝতে পারছি কিন্তু গলা দিয়ে আর আওয়াজ বেরোচ্ছে না।

    —এ যে একটা ছোট ছেলে দেখছি। কাদের ছেলে? একেবারে হিম হয়ে গেছে যে। তোল তোল!

    ভজহরি আর শ্রীরাম, দুই ভাই আমাকে বাসা থেকে পড়ে যাওয়া পাখির ছানার মতো তুলে নিয়ে যান। ওঁদের বাড়ির মেয়েরা অনেকক্ষণ ধরে গরম সেঁক দিয়ে দিয়ে, অল্প করে গরম দুধ খাইয়ে খাইয়ে আমায় চাঙ্গা করেন। পরদিন বেলা ৯টা অবধি আমি ঘুমোই। ওঁরাই পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হন যে আমি ঠাকুরবাড়ির ছেলে। ভাগ্যক্রমে রঘুদাকেই ওরা ডেকে নিয়ে যান আমায় শনাক্ত করতে।

    আমি তখন ভজহরি ঘোষের স্ত্রীর কোলের কাছে বসে কাঁঠালের রস দিয়ে মেখে চিড়ের ফলার খাচ্ছি। রঘুদাকে ঢুকতে দেখেই ফলার টলার ফেলে উঠে দাঁড়াই।

    —ওঘু, ওঘু…।

    রঘুদা বলে ওঠে—আরে এ তো ছোট সোনা, রাজেনকত্তার ছেলে। কী করে এল এখানে?

    —মাঠের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছিল। বটগাছতলায়, চারদিকে ঝুরি নেমেছে তো৷! আরাম পেয়েছিল বোধহয়!

    এই ঝুরিগুলোকেই আমার ছায়ামূর্তি মনে হয়েছিল।

    বলরাম ঘোষের স্ত্রী বললেন—সাপেখোপে কাটেনি এই ঢের। বাড়িতে নিশ্চয় এতক্ষণে কান্নাকাটি পড়ে গেছে?

    রঘুদা বললে—তুমিও যেমন বউঠাকরুন, ও ঠাকুরবাড়ির কেউ এখনও টেরই পায়নি যে ছেলেটা বাড়িতে নেই!

    —আশ্চয্যি। মা নেই, না কি?

    —আছে আবার নেই-ও। ও সব বড় ঘরের কারবার, তুমি আমি বুঝব না গো! তখন আমার কত বয়স হবে? বছর চারের বেশি না।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসমুদ্র-যাত্রা – বাণী বসু
    Next Article যে যেখানে যায় – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }