Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাধানগর – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প177 Mins Read0
    ⤶

    রাধানগর – ১৬

    ষোলো

    সেই গল্প দেখি আর থামতে চায় না। খেতে খেতেও গল্প চলে। প্রধান বক্তা মন্দার। প্রশ্নকর্তা দিয়া আর মা। আমি শুধু মাঝে মাঝে ফোড়ন দিচ্ছি। রাধামাধবের মন্দিরের কথা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করছে দিয়া। কত বড় মূর্তি, মাধবের হাতে বাঁশি আছে কি না। কী ভাবে ঠাকুর সাজানো হয়। রাসের মেলা। দিয়া দেখলাম অনেক খবর রাখে। বলল—রাস হল একটা কমিউনিটি ডান্স। যেমন গরবা, যেমন সাঁওতালদের নাচ। বৃন্দাবনের গোপসমাজে এই নাচটা— চলতি ছিল। সব দেশেই পুরুষ-নারীর সমবেত নৃত্যের একটা প্রবণতা দেখা যায় লোকসংস্কৃতিতে। রাস-নৃত্যকে আধ্যাত্মিক অর্থ দিয়েছে বৈষ্ণব শাস্ত্র। আমরা তো এ সব জানি না। মন্দারও জানে না। বলল— আমি অত সুন্দর সুন্দর গানগুলোর রচয়িতা কারা তা পর্যন্ত জানি না সব। ‘চন্ডিদাস কয়’ কি ‘বিদ্যাপতি ভনে’ এই রকম ভনিতা থেকে কয়েকজন পদকর্তার নাম উদ্ধার করেছি এই পর্যন্ত।

    কথকতা, যাত্রা, কীর্তনের আসর, প্রদর্শনী…। ওর বাবার মাছ ধরার গল্প বলছিল। মাছ ধরে ধরে না কি ছেড়ে দিতেন, বৈষ্ণব বলে। শেষ বেলায় মাটির দাওয়ায় বসে উচ্ছে-বেগুন থেকে কুমড়ো-বেগুনের অম্বল পর্যন্ত পঞ্চ ব্যঞ্জন দিয়ে ভাত খাবার গল্প, মাঠের মাঝখানে এক বটগাছ তলায় কাঠবেড়ালিদের সঙ্গে খেলতে খেলতে ঘুমিয়ে পড়ার গল্প, ‘অ’ লিখে ফেলবার অপরাধে ওর হাতে-খড়িতে ডিসকোয়ালিফায়েড হয়ে যাবার গল্প আরও কত কী! পূর্ণিমায় ও রকম জ্যোৎস্না না কি কোথাও হয় না।

    আমি হাসতে ও বলল—সত্যি বলছি বুলা, ওরকম জোছনার কোয়ালিটি তুমি আর কোথাও পাবে না!

    মা হেসে বলল ও রকম মালপোও কিন্তু সত্যিই আর কোথাও খাইনি। তিন রকমের হয়, না মন্দার?

    —সুজির, ক্ষীরের আর প্লেইন ময়দার— মন্দার বলল।

    —আর সেই থালার মতো লুচি? হয় এখনও?

    —হবে না? ওটাই তো রীতি।

    —একটা লুচি খেলেই পেট ভরে খায়, বুঝলি বুলা! ওদের ওখানে মোচ্ছবের সময়ে হয়।

    দিয়া বলল—‘লুচি মালপোয়া দিয়ে তো রোজই বিগ্রহের সন্ধ্যাবেলার ভোগ দেওয়া হয়। শীতল বলে না! আর রসমুণ্ডি?

     

     

    —আপনি তো অনেক কিছু জানেন।—মন্দার অবাক হয়ে বলল।

    —এ সব রীতি-নীতির কথা শুনেছি তোমার দাদার কাছ থেকে। রসমুণ্ডির কথাও তিনিই বলতেন।

    —রসমুণ্ডি খুব শৌখিন জিনিস, সুদ্ধু জন্মাষ্টমীতে হয় আমাদের ওখানে। দিয়া বলল—এত সুন্দর সুন্দর গল্প … ডলিও কোনওদিন বলেনি আমাকে।

    মা বলল—স্মৃতি হিসেবেই মা সব অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে বেশি সুন্দর লাগে। জানো তো! তখন যেতাম কোন পরিবেশ থেকে কোন পরিবেশে বলো! এখানে এত হই-চই, ফ্রিডম; যা-খুশি খেতে পারি, যেখানে খুশি যেতে পারি, কত রকমের গান চারিদিকে। আর ওখানে? মাটির ঘর, বোষ্টম বোষ্টম গন্ধ, মেয়েরা খালি গায়ে জাস্ট শাড়ি জড়িয়ে থাকে। ওদের জীবনযাত্রাটাই আমার কাছে খুব প্রাচীন, অবসোলিট মনে হত। সব এক ধার থেকে লাল পাড় ধুতি আর লাল পাড় শাড়ি। আমি ওদের ছোঁয়াচ বাঁচাতে চাইতাম। যদি ওরা আমাকে দাবি করে, যদি গিলে ফেলে! তা ছাড়া দেখো, তখন রাজেনকে… মন্দার কিছু মনে করবি না তো!

     

     

    —উঁহু।

    —তখন রাজেনকে কোনওমতে শহরমুখী, কাজ-কর্মে উৎসাহী করে তুলতে আমি আমার সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করছি। ওই পরিবেশ থেকে ওকে সরিয়ে আনাই আমার উদ্দেশ্য ছিল। আমিও যেমন ওঁদের পছন্দ করতাম না, ওঁরাও তেমনি আমাকে পছন্দ করতেন না।

    —তোমাকে ওঁরা ‘মেম’ বলতেন। ‘মেম’ ও না, ‘ম্যাম’।—মন্দার হাসল।

    —বলতেন বুঝি? হবে।—মাও হাসল—তবে এখন মা—মনে করলে একটা অদ্ভুত রোমাঞ্চ হয়। যেন একটা জায়গায় একটা আলাদা সভ্যতা বেঁচে আছে। ওদের জীবনযাত্রা, জীবনদর্শন একেবারে আলাদা। উত্তর আমেরিকার অ্যামিসদের মতো একটা চার্ম আছে, তাই না মন্দার? আসলে সব কিছু বোঝবার জন্যেই একটা পার্সপেকটিভ লাগে।

    —তুমি মন্দারকেও নিয়ে এলে না কেন মা—আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

     

     

    —ওরে বাবা, সে তো ওর বাবা-জ্যাঠামশায়রা ছাড়তেনই না। ওঁদের কনডিশনই ওই, ছ মাস বয়স হল কি না হল ওঁদের ওখানে নিয়ে যেতে হবে, রাধামাধবের প্রসাদ মুখে দিয়ে অন্নপ্রাশন হবে। সে হবে রাধামাধবের সন্তান। তারপর…

    মন্দার বলল— তারপর আর কী? স্ট্রাগল ফর সারভাইভ্যাল… একটু চুপ করে থেকে মা প্রায় ফিসফিস করে বলল— বয়স অল্প ছিল, বুঝিনি অনেক কিছুই… মাদার ইনস্টিংক্‌টের থেকেও তখন অন্য ইচ্ছে, অন্যরকম তাগিদ জোরালো ছিল অনেক। এখানে এলেই এখানকার হুল্লোড়ে সব ভুলে যেতাম… ক্ষমা নেই সে সব অপরাধের, তবু মন্দার, পারিস যদি… ভুলে যাস… যদি পারিস…।

    ওরা সবাই একে একে উঠে গেল। আমরা প্রত্যেকটা সভা আমাদের আরম্ভ করছি খুশি দিয়ে, শেষ করছি অবধারিত প্রশ্নে, বিষাদে। খালেদাকে টেবিল পরিষ্কার করতে সাহায্য করি। তারপর মন্দারের ঘরে ঢুকি। ফুলগুলোর সামনে ও চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। সাদা আর কমলা গ্ল্যাডিওলাস। এরই মধ্যে জল পেয়ে ফুলগুলো কত তাজা হয়ে গেছে।

    —এগুলো কে আনল? তুমি?

     

     

    —আর কে? ওগুলো তোমার পুরস্কার।

    —পুরস্কার? কোন কৃতিত্বের জন্য? কী এমন করলাম?

    —কৃতিত্ব দুটো। তাই দু’রঙের ফুল। কৃতিত্ব নাম্বার ওয়ান ‘বুলা’ আর কৃতিত্ব নাম্বার টু ‘তুই’। তবে এটা চালিয়ে যেতে হবে। গোঁত্তা খেয়ে যাচ্ছ।

    প্রথমটায় ও বুঝতে পারেনি। বোধোদয় হতে হাসল। তারপরে একেবারে সিরিয়াস মুখ করে বলল— কিন্তু তোমার প্রশ্নের উত্তরটা পেলে?

    —কী প্রশ্ন?

    —ওই যে, ছেলে কার?

    আমি বললাম— এ তো জলের মতো স্পষ্ট। ছেলে মায়ের আর মেয়ে মাসির।

     

     

    —মা বলেছে?

    —উঁহু। মা বলেছে আমরা দুজনেই মায়ের— এই না কি গডস ট্রুথ। এটাকে কোয়েশ্চন করা চলবে না।

    —তবু প্রশ্ন থাকে। তাই না?

    —রাইট।

    —তা তুমি তোমার মতো করে একটা সমাধানে পৌঁছেছ। তোমার উত্তর শুনলাম। তোমার যুক্তি? আছে নিশ্চয় কিছু!

    —রাধানগর চেয়েছিল তাদের সন্তানকে তাদের কাছেই জমা দিতে হবে। সুতরাং রাধানগরে যে জমা পড়ল সে-ই রাধানগরের…

    যুক্তির ব্যাখ্যানে আমি যে একটা চালাকি করলাম মন্দার সেটা ধরতে পারল না। ওর সরলতার বর্মে আঘাত খেয়ে আমার যুক্তিটা ফেরত এল। ও বলল, মন্দারকে রাধানগরে রেখে আসা সত্ত্বেও যখন প্রশ্নটা আমরা একবার তুলেছি, তখন এ যুক্তি তো গ্রাহ্য হতে পারে না। বুলা, আগে কহো আর।

     

     

    —আজকের অনুশোচনা, ভালবাসা, চোখের জল— এগুলোও প্রমাণ।

    —মানুষ কি বোন, বোনের ছেলেকে ভালবাসে না?

    —মা বাসত না, মন্দার, টেক ইট ফ্রম মি, বোনের সঙ্গে মার ভীষণ রেষারেষি ছিল। দুজনে এত ঝগড়া হত যে দিয়া ওদের দুজনকে দুজনের সঙ্গে কথা বলতেও বারণ করে দিয়েছিল। কথা বললেই না কি ঝগড়া হত। আর মন্দার, রাধানগরের রাজেন্দ্রনারায়ণকে নিয়েও ওদের দুজনের মধ্যে রেষারেষি ছিল।

    —ওগুলো কিছু না। ওতে কিছু প্রমাণ হয় না। ঠিক আছে তোমার সমাধানের কথা বললে। এবার আমার কথা শোনো।

    আমার শেষ কথাটা মন্দার গ্রাহ্যের মধ্যেই আনলে না।

    —বলো। আমি বললাম।

    —আমার সিদ্ধান্ত মন্দার মাসির ছেলে, মন্দাকিনী মায়ের মেয়ে।

     

     

    —প্রমাণ?

    —এক নম্বর প্রমাণ মন্দাকিনীর সঙ্গে মায়ের চেহারার মিল। এমনই নির্ভুল যে সেই মিলের ওপর নির্ভর করেই মন্দার তার মায়ের ঠিকানায় পৌঁছোয়।

    —মাসির সঙ্গেও মানুষের মিল থাকে মন্দার। আগে কহো আর, আমিও মজা করে বললাম। খুব একসাইটেড হয়ে গেছি, আসলে, এটা যেন একটা মজার ধাঁধা সমাধানের খেলা, আমাদের জীবন-মরণ সমস্যা নয়।

    —দু’নম্বর প্রমাণ ওই মাদার ইনস্টিংকট্‌ যেটা মা অস্বীকার করতে চাইল।— মন্দার বলল। আমার যুক্তি মাদার ইনস্টিংকটের অভাব নয়, প্রবল তাগিদেই ডলিকে ত্বরিত কিছু ডিসিশন নিতে বাধ্য করে। তার বাচ্চাকে রাধানগরে দিয়ে আসতে হবে, এটাই পূর্বশর্ত, কিন্তু বাচ্চাকে ছাড়া অত সোজা নয়, তাই বোনের ছেলেকেই সে নিজের ছেলে বলে চালায়। আর নিজের মেয়েকে বোনের মেয়ে বলে কাছে রেখে দেয়। তুমি যে বললে বোনের ওপর তার রাগ ছিল, —তো এটাতে সেই বোনের ওপর বিরাগটাও হয়তো কাজ করছিল।

     

     

    আমি ভাবতাম ও সরল, অনভিজ্ঞ তাই ওর অনেক বোঝাই বোধহয় অসম্পূর্ণ। এ ধরনের বিশ্লেষণ ওর কাছ থেকে আমি একেবারেই আশা করিনি।

    বললাম— আর কিছু?

    —সবচেয়ে বড় প্রমাণ ওই চেহারাই। তবে এবার, তোমার নয়, মন্দাকিনী, আমার চেহারা।—বলতে বলতে মন্দার গ্ল্যাডিওলাসগুলোকে একধারে সরিয়ে দিল, মাসির ফটোগ্রাফটা পুরো আলোয় বেরিয়ে এল।

    —যবে থেকে এখানে এসেছি বুলা কখনও দিয়া, কখনও খালেদা, আমার সঙ্গে দাদার চেহারার মিল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। শেষবার অবাক হল মা। কিন্তু এঁদের কেউই ভেবে দেখেননি, বিনয়ভূষণের সঙ্গে কারও চেহারার মিল এই প্রথম দেখা গেল না। এর আগেও দেখা গেছে, তাঁর ছোট মেয়ের মধ্যে। মেয়ে বলে হয়তো মিলটা তত প্রকট বলে মনে হয়নি, ছেলে বলে আমার ক্ষেত্রে সেটা চট করে স্ট্রাইক করে। কিন্তু আসলে সত্য হল এই মিল আমি সরাসরি পাইনি। পেয়েছি ঘুরপথে, আরেকজনের মধ্য দিয়ে। সোজা কথায় বলতে গেলে আমি মাসির ছেলে। দেখো বুলা, ওই আমার মা।

     

     

    ও সবগুলো আলো জ্বেলে দিয়েছে। স্পষ্ট লাইট পড়েছে মিলির ছবির ওপরে, তার দিক থেকে সন্ধানী আলো ঘুরিয়ে দিচ্ছে সব অস্পষ্টতা মিলির ছবি থেকে। মিলিই এই রাধা-কাহিনীর চন্দ্রাবলী। ডলির কাছে শেষ পর্যন্ত হেরেই গেছে মিলি। রাজেনকে ভালবাসল দুই বোনই। কিন্তু ডলিই পেল রাজেনকে। সেই বিষাদ মিলির কালো চোখে, কালো-চুলে, গালের ওপর চোখের পাতার কালো ছায়ায়। দিয়া বলেছিল মিলি হয়তো রাজেনের সঙ্গে সুখে ঘর করতে পারত। হয়তো বুঝেছিল বলেই বলেছিল। নিশ্চয় তার চাওয়া ছিল আরও তীব্র, আরও গভীর, নইলে সে জেনেশুনে কেন দিদির প্রণয়ীকে আত্মদান করল? কেন জন্ম দিল সেই সন্তানের? কেনই বা আত্মহত্যা করল তার পরে?

    আমি যেন দেখতে পাচ্ছিলাম রাজেন তার বিয়ের পরই উদাস, অলস, কর্মবিমুখ হয়ে যাচ্ছে। সে বুঝতে পেরেছে সে ভুল করে ফেলেছে। মনে মনে সে-ও মিলিকেই চেয়েছিল। নিজের দুর্বল ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ডলির ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুঝে উঠতে পারেনি। অতএব সে চলে যাচ্ছে রাধানগরে, সেখানে তাকে আর কোনও সংগ্রাম করতে হবে না। তার চেয়েও বড় কথা সেখানে চলে গেলে ডলি শেষ পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেবে।

    আমরা দুজনেই মিলিকে দেখতে লাগলাম। মিলির সঙ্গে আমার মায়েরও মিল নেই। দিয়ারও মিল নেই। মিলি খুব বাঙালি-বাঙালি দেখতে। কেমন ছায়াময়ী। কিন্তু দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। দাদার সঙ্গে খুব মিল, মন্দারের দেখায় কোনও ভুল নেই। চৌকো ধরনের মুখ, যাকে বলে গ্রিসিয়ন কাট, চোখ বড় বড়। গভীর, বিষাদময়। ঠোঁটদুটো ভারী, ঢেউওলা, একেবারে বিনয়ভূষণের মতো। শুনেছি, আমার মা সব বিষয়ে চৌখস ছিল, পড়াশোনা, খেলাধুলো, ডিবেট…। মিলি ছিল ঘরকুনো, লাজুক অথচ জেদি। সিন্ডারেলা। রাজেন্দ্রনারায়ণকে জয় করাটাই বোধহয় ছিল দিদির ওপর ওর প্রথম জিত। তা-ও বিষ হয়ে গেল। সম্পূর্ণ হল কী? দিদির ঘরও তো শেষ পর্যন্ত রইল না! আর তারই সন্তান গিয়ে দিদির শ্বশুরবাড়িতে রাজেনের ছেলে বলে প্রতিষ্ঠা পেল। এর ভেতরে একটা আয়রনি তো দেখাই যায়।

     

     

    মন্দার বলল—আর, এই সব সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াও আর একটা প্রমাণ আছে বুলা, সেটা নির্ভর করে হৃদয়ের সাক্ষ্যের ওপর। মাসি যদি আমার মা হয় তা হলে আমার সেই হৃদয়ের সাক্ষ্যটাও মিলে যায়। সারা ছোটবেলা জুড়ে আমি খালি অন্য শিশুদের অন্য বালকদের দেখেছি আর আশ্চর্য হয়েছি। দেখেছি আর আশ্চর্য হয়েছি। আমার আশেপাশের লোকেরাও কম আশ্চর্য হয়নি। মা না থাকে তো সে অভাগা শিশুর হাড়ির হাল হয়, সবাই জানে। কিন্তু যার মা বর্তমান সে খিদেয় কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ল, আবার খিদেয় কাঁদতে কাঁদতে উঠে পড়ল, তখন দৈবাৎ কারও মনে হল হয়তো এর খিদে পেয়েছে, তখন কেউ এক বাটি দুধ নিয়ে বসল, এটা তুমি ভাবতে পারো? আমার বন্ধু তারকের মা বলতেন স্কুলের পরীক্ষাটা হয়ে গেলে তুমি মায়ের কাছে চলে যেও মন্দার, এভাবে কি মানুষ বাঁচে? মা ছিল না আমার, জন্ম দিয়েই মারা গিয়েছিল তাই, তাই মাতৃহীন শিশুর যা দুরবস্থা হয় তাই আমার হয়েছিল।

    ওর যুক্তি একেবারে নির্ভুল। মা বুঝতে পারেনি, কথার ফাঁদে পড়ে মা আমার সত্যি কথাটা বলেই ফেলেছিল। মা-ছাড়া গার্ল-চাইল্ডের বড় হতে অসুবিধে হয় তাই নাকি মা মেয়েটাকে রেখে ছেলেটাকে দিয়ে দিয়েছিল। মায়ের কন্যা-সন্তান হয়েছিল বলেই তো এ প্রশ্ন উঠল। মেয়েটা যদি মাসির হত, তা হলে তো তাকে রাধানগরে পাঠানোর প্রশ্নই উঠত না। মা আমার কাছে ধরা পড়ে গেছে। তবে তা ছাড়াও আমি মোটামুটি মন্দারের মতো করেই যুক্তি সাজিয়েছিলাম। মাসির সঙ্গে ওর চেহারার মিলটা বাদে। এটা আমি সেভাবে খেয়াল করিনি। পাছে ওর আঘাত লাগে বলে অন্যরকম বলেছিলাম। ওর একজন মা দরকার। এত করে অসাধ্যসাধন করে খুঁজে বার করে যদি বোঝে এই মা ওর মা নয় তা হলে ওর কেমন লাগবে? তাই মাকে দিয়ে দিয়েছিলাম ওকে। আমার দরকার একজন বাবার। একটা ফাদার ফিগার। কিন্তু আমার সেই আসল বাবা যিনি মিলিকে ভালবেসে ডলিকে বিয়ে করলেন, আবার ডলিকে বিয়ে করে মিলির সন্তানের পিতা হলেন, সেই চূড়ান্ত বিভ্রান্ত মানুষটিকেও তাই বলে বাবা হতে ডাকব না কোনওদিন। সুতরাং সেই পুরনো পিতৃকল্প মানুষটি ছাড়া আর আমার গতি নেই। আমি দাদার কথা বলছি। বিনয়ভূষণ।

     

     

    এইবার মন্দার তার চূড়ান্ত বোকামিটা করল। বলল— মানলি তো আমার যুক্তি? বুলা দেখ, এখন বড় জ্যাঠামশাইয়ের দেওয়া এই হার নিয়ে আমি কী করব? আমি তো রাধানগরের কেউ নই?

    কিছুক্ষণ আহাম্মকটার দিকে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম। ও তা হলে মিলির ছেলের পিতৃত্ব বিষয়ে কিছুই অনুমান করতে পারেনি। তখন রাজেনকে নিয়ে দুই বোনের রেষারেষির কথা বললাম, তাতেও না। ও তো এইবার আরেকবার গৃহত্যাগ করল বলে, এ দফায় সোজা রাধানগরে গিয়ে বলবে— ‘আজ্ঞে রাধানগরের দেবত্রে আমার বিন্দুমাত্র অধিকার নেই, আমি কি না মাসির ছেলে!’

    কড়া গলায় সুতরাং বলতে বাধ্য হলাম— অনেক বকবক করেছিস। আমাদের কলেজে খুব ভাল নাটক হয়। নাম দিস এখন। ডায়ালোগ-টোগ ভালই দিতে পারবি। এখন ‘জয় রাধে’ বলে শুয়ে পড় দিকি। আর শোন, আমরা কিন্তু কাজিন নয়, ভাইবোনই রইলাম, সহোদর নয়, সহবীর্য বলতে পারিস।

    —গুড নাইট।

    একটা আলোর বল যেন ফেটে গেল ভেতরে। শেষ বলটা ছুড়ে দিয়ে একটা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মন্দাকিনী বিদ্যুতের মতো চলে গেল। চলে গেল সমস্ত দুঃখ, দ্বিধা, অন্ধকার সঙ্গে নিয়ে। ক্রমশ রাতটা নিখাদ নিশুতি রাত হয়ে গেল, তখনও আমি জেগে। সামনে আমার প্রমাণ সাইজ তৈলচিত্রে আইলিন আর বিনয়ভূষণ। যেন রাধামাধবের মন্দিরের ভেতর দুয়ার খুলে গেছে। শুধু আমার জন্যেই নয়, বিনয়ভূষণের জন্যেও। কবে তিনি প্রেমের জন্য ত্যজ্য হয়েছিলেন, নির্বাসিত হয়েছিলেন এই রকমই কোনও রাধানগর থেকে। কে বলতে পারে হয়তো তিনিই সেই মানুষটি যাঁর আচরণে বিরক্ত হয়ে তাঁর বাবা তাঁকে বঞ্চিত করে ভাগনেদের তাঁর সম্পত্তির অছি করে যান। আজ তাঁর নাতি আমার মধ্যে দিয়ে উনি আবার ওই দেবত্রে ফিরে যাচ্ছেন। আমি যেমন জানতাম না রাধানগর এভাবে আমার রক্তের ভেতরে ঢুকে বসে আছে, তিনিও তেমনি জানতেন না ব্যাপারটা। যখন হারাতে হল, তখনই একমাত্র বুঝতে পেরেছিলেন। মুঠোয় করে সোনার কবচটা দেখতে লাগলাম আমি। এই কবচ আমাকে কেন দিয়েছিলেন বড় জ্যাঠামশাই? কেন? যাতে আমি তাঁদের কাছে বাঁধা থাকি? যত দূরেই যাই আমার বাঁধন, আমার টান যাতে না ঘোচে? এটা তো তা হলে শুধু একটা প্রাপ্তি, একটা স্বীকৃতিই নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। কে জানে একটা মন্ত্রশক্তি কিনা।

    না, না। রাধানগরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক মন্ত্রের নয়, রক্তের। ঘণ্টার সেই গম্ভীর নিনাদ, সেই উৎসব আর গান, আর সেই পেতলের মূর্তিদুটো! মানুষের মতো যাদের স্নান, আভরণ, আহার, বিহার, শয়ান, জাগরণ! তারাই আমাকে টেনে রেখেছে।

    গ্ল্যাডিওলাসগুলো চমৎকার ফুটে উঠেছে। তাদের রঙিন আঙুলগুলো ক্রমাগত ইশারা করছে মিলির সাদা-কালো পৃথিবীটার দিকে। এত বাচ্চা যে ওকে মা বলে ভাবতে পারা যায় না। ও যেন মন্দাকিনীরই জুড়ি, আর একটা বোন আমার। বে-আক্কিলের মতো অসময়ে মরে গিয়ে ও তিরস্কারের যোগ্য হয়ে আছে। যদি ও ভাবে ও নিজেকে শেষ করে না দিত! আমি যেন চোখের সামনে দেখতে পাই আমার এক মা ফিরে আসছে আর এক মা যাচ্ছে। দেখতে পাই মিলি পুবপাড়া থেকে পশ্চিমপাড়ায় হেঁটে যাচ্ছে। আঁচল দিয়ে রোদ আড়াল করল। মিলি চলে যাচ্ছে হিজলবাগানে, মন্দিরতলায়, জ্যাঠামশায়ের সঙ্গে ফর্দ তৈরি করছে রাসের কি জন্মাষ্টমীর মেলার। দামোদরের তীরে জোছনারাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে মিলি, তার মুখ থেকে অন্ধকার সরে যাচ্ছে। মিলির সঙ্গে জোছনা মাখছে একটা ছোট্ট ছেলেও।

    —কী দিয়ে আজ ভাত খেলে মন্দার?

    —শুকতো, ডাল, ভাজা, অম্বল…

    —বাব্বা, অত সকাল সকাল এত সব কে করল মন্দার?

    —কেন? মা, আমার মা!

    —ও কী! এখনই উঠছ কেন মন্দার। এই তো এলে।

    —না, যাই, দেরি হলে মা খুব বকবে আমায় মাসিমা। পড়তে হবে আবার।

    বাবা মানুষটাকে কোনওদিন তেমন ভাল লাগেনি আমার। ভালবাসতে পারিনি। অত আলগা-আলগা থাকলে কোনও মানুষকে ভালবাসা যায়? মানুষটা কি সব সময়ে বিবেকের দংশনে ভুগত? মিলির জন্যে? আহা, বাবা জানলও না, তার শুধু একটা ছেলেই নয়, মেয়েও আছে। আমার বদলে ও যদি রাধানগরে যেত তা হলে রাধানগরের রাজেন্দ্রনারায়ণের ইতিহাসটাই অন্যরকম হত।

    শরতের ভোরবেলা এখন। মাঠে-ঘাটে কাশ ফুটে আলো করে রেখেছে সব। আর আমার আশেপাশে। এই কোয়ার্টার্সের বাগানে হলুদ, ব্রাউন ডালিয়া-চন্দ্রমল্লিকা। শুধু শীতের মরশুমি ফুলই নয়, সারা গ্রীষ্ম, সারা বর্ষা এখানে ফুল ফোটে। ফোটে সারা বছরের ফুলেরা। চা খেতে খেতে দেখছি অশীতিপর আইলিনকে নিয়ে ইরাবতী শিউলি কুড়িয়ে আনছেন। দুজনের হাতেই বেতের ঝাঁপি ভর্তি শিউলি ফুল। শিউলির গোড়ে মালা গাঁথবেন দুজনে, সেই মালা দিয়ে সাজানো হবে প্রয়াতদের ছবি—বিনয়ভূষণ আর মিলি। আইলিন এখন একটি টুকটুকে বুড়ি। কিন্তু তাঁর রাধা-রাধা ভাবটা বোধহয় কোনওদিন যাবার নয়। হাসলে এখনও মনে হয় ‘গোরোচনা গোরী নবীনা কিশোরী’। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস আমি দাদামশাই বিনয়ভূষণেরই ‘অবতার’। জন্মান্তর থেকে তাঁর রক্তের স্রোত বেয়ে বেয়ে বিনয়ভূষণ আবার দৌহিত্র বংশে ফিরে এসেছেন। এই বিশ্বাস যে তাঁর ক্রিশ্চান সংস্কারের বহির্ভূত, তাতেও আইলিনের কিছু যায় আসে না। বেশি কথা কী, বৃদ্ধা আজকাল বেশির ভাগ সময়েই আমাকে ‘বিনু’ বলেই ডাকেন। দাদামশায়ের ফটোর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমারও একেক সময়ে মনে হয় ওটা আমারই ছবি। আমার জীবনে যে সমস্ত নাটকীয়, অবিশ্বাস্য, রোমাঞ্চকর ঘটনা ঘটে গেছে, তাতে করে বিনয়ভূষণের মন্দার হয়ে আইলিনের কাছে ফিরে আসাটা এমন কী আর অবাস্তব?

    মায়ের অর্ধেক চুল পেকে গেছে। মুখে অভিজ্ঞতার আঁচড়। ষাট-টাটের কাছাকাছি হল বোধহয় মার। কিন্তু মা এখনও খেলোয়াড়। গটগট করে চলে, চটপট করে কাজ করে, কথায় চিন্তায় কোনও জড়তা নেই। এবং একটা কর্মহীন জীবন কাটিয়ে আমার বাবা যখন বাহান্ন-তিপ্পান্ন বছর বয়সে ফট করে মারা গেল, বাবা অনেক বুড়ো হয়ে পড়েছিল। আমি ওষুধ-ইনজেকশন নিয়ে পশ্চিম পাড়ায় যেতে যেতেই শেষ। বড় জ্যাঠামশাই তো আশি পার করেও দিব্যি খটখটে আছেন।

    রাধানগরের দেওয়ানি হিসেবে আমারই অভিষেক হবার কথা। বড় জ্যাঠামশাইয়ের অভিজ্ঞ চোখ না কি কত কতদিন আগে থেকেই আমাকে বেছে রেখেছিল। কিন্তু আমি আমার ডাক্তারি কর্তব্যের দোহাই দিয়ে ব্যাপারটাকে ঠেকিয়ে রেখেছি। ইতিমধ্যে বড় হচ্ছে আমার চেয়ে ছোট যারা। এখন রাসের মেলা, হয় আরও অনেক বড়। দোলে, জন্মাষ্টমীতে শামিয়ানা খাটিয়ে বসে কীর্তনের আসর, কথকতার আসর। রায় বাড়ির অল্পবয়সীরা এই সব উৎসবে আগের চেয়ে অনেক বেশি দায়িত্ব পায়। যাত্রা হয়, প্রদর্শনী হয়। তবে এই সব উৎসবে গীত—ওস্তাদ কীর্তনিয়াদের গানের থেকেও প্রিয় আমার কাছে আমার দিদিমার গান। জ্যোৎস্নারাত্রে আকাশে যখন গোল চাঁদ ঠিক মাথার ওপর থেকে আলো ছড়ায় তখন উনি রাধামাধবের মন্দিরের বারান্দায় কখনও কখনও গান করেন। ‘কে বা শুনাইল শ্যাম নাম।’ কপালে চন্দনের টিপ, গলায় তুলসী বীজের মালা, চন্দনবসনা আইলিন যখন গান করেন, কে বলবে ইনি চণ্ডীদাস-বিদ্যাপতি-জ্ঞানদাস-গোবিন্দদাসের সেই বিরহিণী শ্রীরাধা নন! তবে সে সবও তো এখন অতীতের গর্ভে।

    অনেকদিনই এখানে বিজলি এসে গেছে। পথগুলোতে সন্ধে হলেই আলো জ্বলে। দু-চারটে ছাড়া খড়ের চালের ঘরও আর নেই। সব পাকা হয়ে গেছে। রায় পাড়া এখন অনেক সুবিন্যস্ত। গাছপালা, ফলবাগান, ফুলবাগান, পুকুর, নলকূপ সবই একটা পরিকল্পিত ছক মেনে তৈরি। আমার ছোটবেলার সেই দু-তিনটে ঘরের ইউনিট এখনও আছে। কিন্তু পাকা সব। তাতে বিজলি-বাতি জ্বলে, পাখা চলে, রেডিয়োর আওয়াজ শোনা যায়। পূর্ণিমা রাতগুলোতে কিন্তু সব বিজলি-আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। চারদিক রিমঝিম করে জোছনায়। বৃষ্টির মতো জোছনা ঝরছে শব্দ পাওয়া যায় যেন। মুগ্ধ বিস্ময়ে সেই জোছনার দিকে তাকিয়ে থাকেন আইলিন, ইরাবতী, মন্দাকিনী যখন আসে, সে-ও।

    —তুই ঠিকই বলেছিলি মন্দার। সারা পৃথিবীতে কোথাও তোর রাধানগরের জ্যোৎস্নার তুলনা নেই।।

    —রাধানগর আমারও যতটা তোরও ততটা—আমি ওকে মনে করিয়ে দিই। মন্দাকিনীও ডাক্তার, তবে তার কাজ প্রধানত গবেষণা, থাকে তার স্বামীর সঙ্গে নরওয়ের শহর অসলোয়। অরোরার দেশে থাকে, জোছনার ভাল-মন্দের বিচার তার মতো আর কে পারবে?

    কুড়ি কুড়ি বছরের পার। দুই দশক, মানে তো দুই যুগই! এখন মন্দার ডাক্তারের মনে হয় এতগুলো বছরের মধ্যে সবচেয়ে অকিঞ্চিৎকর ছিল তার ছোটবেলাটা। ইনকিউবেটরে থাকার মতো। শুধু টিঁকে থাকা, শুধু টিঁকে থাকা। তারপর কত শেখা হল, জানা হল, দেখা হল—মন, স্বাস্থ্য, শরীর, পরিস্থিতি। একটা সোঁদা শরীর, সোঁদা মন নিয়ে সে জীবনের বহুমুখী জটিলতার মুখোমুখি হয়েছিল, প্রত্যেকটি ঘটনা, প্রত্যেকটি অভিজ্ঞতা তাই তার কাছে অমন বিশেষ, অমন অসামান্য চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছে। পৃথিবীর কত দেশ সে দেখল, কত মানুষ! বিচিত্র তাদের দুঃখ, বিচিত্র তাদের বিপন্নতা। সে সবের পাশে তার সেই অল্প বয়সের দুঃখ এখন মনে হয় যেন কিছুই না। সত্যিকারের অপ্রাপ্তি তার কিছুই ছিল না, ছিল না বিপদ কিংবা প্রতিকূলতাও। ভেবে দেখতে গেলে সবটাই তার মনে হওয়া। কোনও কামানের গোলা তার দিকে ছুটে আসেনি, যতই সে বারবার স্বপ্নে ভয় পাক, কোনও দুর্গ জয় করার বীরত্বও তার দরকার হয়নি। যখন সে ভাবছিল সে একটা ছন্নছাড়া ছোট ছেলে, তখন আড়ালে বড় জ্যাঠামশাই তার ওপরে লক্ষ রেখেছিলেন, অপেক্ষা করছিলেন সোনার কবচ নিয়ে, রাধানগরের দেওয়ানের সোনার কবচ। সে ভাবছিল কেউ তাকে দেখে না, দেখছিল কিন্তু ঠিকই কেউ না কেউ, হয়তো মায়ের মতো অতন্দ্র পাহারায় নয়, কিন্তু অভিজ্ঞতার নিরুদ্বিগ্নতা দিয়ে। সে দুঃখ পাচ্ছিল সে মাতৃপরিত্যক্ত অথচ সত্যি-সত্যি মাতৃহীন হওয়া সত্ত্বেও সে কিন্তু মাতৃস্তন্য থেকে বঞ্চিত হয়নি, আর এতগুলো বছর কেটে গেছে তবু ইরাবতী একদিনের জন্যেও তাঁর সেই ঘোষণা থেকে নড়লেন না— মন্দার মন্দাকিনী দুজনেই তাঁর সন্তান, এই-ই না কি গডস ট্রুথ। এটা কোয়েশ্চন করা চলবে না। এখন তো সে এই নিয়ে মাকে খেপায়। মোটা মালা পরিয়ে দেয় মিলির ছবির গলায়। বলে—‘দেখো মা, তোমার আবার হিংসে হচ্ছে না তো!’ —‘হিংসে কীসের? আমি মরে গেলে আমাকেও দিবি।’

    তার মানে সে, মন্দার যখন নেই-নেই করে অভিমান করছিল, তার ভাগ্য তখন লুকিয়ে লুকিয়ে তার জন্য ঐশ্বর্য জমাচ্ছিল—আইলিন অপেক্ষা করছিলেন তাঁর অনন্যসাধারণ শিক্ষা, স্মৃতি ও স্বপ্ন নিয়ে, মন্দাকিনী অপেক্ষা করছিল তার সহৃদয় সৌহার্দ্য নিয়ে, ইরাবতী অপেক্ষা করছিলেন তাঁর অল্প বয়সের ভুল শোধরাবার ইচ্ছা নিয়ে, আর এঁদের সবার আড়ালে অপেক্ষা করছিলেন রাধামাধব।

    কখনও কখনও তার মনে হয় রাধামাধব তাকে ফিরে পেতে চেয়েছিলেন কেন? সে তো যাকে বলে ভক্ত নয়! বৈষ্ণব ধর্মের বাণীগুলোই যে তাকে টানে তা তো নয়। কেবল হরিনাম করে যে কৈবল্য লাভ তার দিকেও তার কোনও আকর্ষণ নেই। তা ছাড়া রাধামাধব তো ঈশ্বর। সারা পৃথিবীই তো ঈশ্বরের ভূমি! মানুষ যেখানেই যাক না কেন তাঁর নাগালের মধ্যেই তো রয়ে যায়! তিনি কেন তফাত করবেন রাধানগরে আর কলকাতায়, কলকাতায় আর ভারতবর্ষে, ভারতবর্ষে আর বহির্পৃথিবীতে? অথচ চার হাত বাড়িয়ে রাধামাধব খালি তাকে টেনেছেন। চলে গেল মধ্য কলকাতার অ্যাংলো পাড়ায়, সেখানে মেমসাহেব সুদ্ধু গেয়ে উঠলেন— ‘মথুরানগরে প্রতি ঘরে ঘরে যাইব যোগিনী হয়ে।’ যে চুলোতেই সে যাক তিনি নাকি তাকে ঘরে ঘরে খুঁজে বেড়াবেন। পড়াশোনা করতে তো গিয়েছিল ইংল্যান্ড, জার্মানি, যোগ দিয়েছিল আমেরিকার হাসপাতালে। বড় জ্যাঠামশাই তাকে এখানে হাসপাতাল গড়ার প্রস্তাব দিয়ে পাঠালেন, অমনি সে চলে এল। ‘মাধব বহুত মিনতি করি তোয়’…এমন করে আর কোনও গানও তো তার মর্মে গিয়ে বাজল না।

    অনেক ভেবে-চিন্তে তার মনে হয়েছে রাধামাধব ঈশ্বর নন, ঈশ্বরপদবাচ্য নন। তিনি এক রকমের দেবতা, রবীন্দ্রনাথ যাকে বলতেন নিভৃত প্রাণের দেবতা। কারও কারও। সমস্ত পৃথিবী নয়, যে ভূমিতে তাঁদের কল্পনাকে প্রতিদিনের স্মরণে মননে প্রাণ দেওয়া হচ্ছে, সৃষ্টি করা হচ্ছে, সেখানেই তাঁদের অধিষ্ঠান, তাঁদের ঘিরে চৌম্বক ক্ষেত্র। আর দেবতা জাগলেই তাঁর আকাঙক্ষাও জাগে, কল্পনাও জাগে, মন্দার এবং তার জীবন হয়তো সেই জাগ্রত দেবতার নতুন কল্পনা। সে হিসেবে শেষ পর্যন্ত সে মিলিরও না, রাজেনেরও না, রাধামাধবেরই সন্তান। পুরো অস্তিত্বটাই তার দেবত্র।

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসমুদ্র-যাত্রা – বাণী বসু
    Next Article যে যেখানে যায় – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Our Picks

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }