Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাধানগর – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প177 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাধানগর – ১১

    এগারো – মন্দাকিনীর কথা

    দিয়ার নাতিকে দিয়ার কাছে এনে দিয়েছি। কী খুশি বুড়ি! পরদিন সকালে দেখি ভোর-ভোর উঠল। দুখানা শাল মুড়ি দিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসেছে। খালেদাটাও বুড়ি হয়েছে। দেখি ঘুমোচ্ছে। নাতি এসেছে মিসেস এলা চৌধুরীর, খালেদা বিবির তো আর নয়! আমিই চা-টা করলাম। …পেছন থেকে কাপটা কোলের কাছে বাড়িয়ে ধরেছি। বুড়ি বলল— খালেদ, ছেলেটাকে ভাল করে দেখেছিস?

    আমি বলি— হুঁ।

    —কার মতো বল তো!

    আমি সামনে দাঁড়িয়ে বললাম— কার মতো?

    —ওমা তুই? —মুখটা সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

    —কার মতো বলো? —আমি আবার জিজ্ঞেস করি।

    —না, জিজ্ঞেস করছিলাম। তুই-ই বল না।

    আমি বললাম— ঠিক একটা ছেলের মতো। একটা উজবুক, শহরের চাল-চলন জানে না, এসেই বিপদে পড়েছে এই রকম একটা গাঁইয়া হাঁদা ছেলে।

    —আর দু-চার দিন পরে দেখবি এমন চালাক-চতুর হয়ে গেছে, যে তোরই কান কেটে নেবে।

    —তা হতেই পারে, তুমি যদি ট্রেইনিং দাও আর তোমার মেয়ের এক কণাও যদি পেয়ে থাকে।

    দিয়া চুপ করে রইল। সেদিন থেকে আমি একবারও জিজ্ঞেস করিনি দু’ভাই বোন কী করে একই মাসের মধ্যে পাঁচ দিনের তফাতে জন্মায়। দিয়া বারবার আমাকে বলতে গেছে। আমি হাত তুলে থামিয়ে দিয়েছি। এতদিন একটা আষাঢ়ে গল্প বলে রেখেছিল। আবার আর একটা আষাঢ়ে গল্প ফাঁদবে। এদের আমি আর বিশ্বাস করি না। এদের রক্তের মধ্যে বইছে ছলনা আর কপটাচার। এত মিথ্যার দরকারটা কী ছিল সেটাই শুধু বুঝতে পারি না। বুঝে অবশ্য আর কাজ নেই আমার। যেটুকু বুঝেছি তাই-ই যথেষ্ট।

     

     

    মুখটা এমন চুন করে আছে যে মানুষটার ওপর দয়া হল। বললাম— তোমাকে আর তোমার মেয়েকে ছাড়া আর কাউকে তো দেখিনি। কী করে বলব, কার সঙ্গে ওর মিল?

    একটু বোধহয় উৎসাহ পেল এলা চৌধুরী, বলল— তুই দেখেছিস, রোজ দেখেছিস, ফটোতে। তোর দাদার মতো। নয়?

    —কী জানি!

    —ঠিক অল্পবয়সের বিনু।

    আমি হেসে বললাম— একেবারে এইটুকু ছেলের মুণ্ডু চিবিয়েছিলে? বাঃ, ব্রাভো দিয়া!

    দিয়ার মুখটা একবার লাল, পরক্ষণেই সাদা হয়ে গেল। মুখ নিচু করে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে, হাতটা একটু একটু কাঁপছে। ঠিক বুড়োদের মতো। কত বয়স হল দিয়ার? ষাট হল? যাঃ দিয়া, তুমি ঢকঢকে বুড়ো হয়ে গেলে?

     

     

    সকাল হয়ে গেছে। এক ফালি রোদ এসে ব্রাউন চন্দ্রমল্লিকাটার ওপর পড়েছে। ফুলটা হয়েছে যাকে বলে গর্জাস। একটা ছোটখাটো চুবড়ির মতো। টবগুলোর একটু জায়গা অদল-বদল করে দিই। হলুদগুলোই রাজত্ব করছে, ব্রাউনগুলো যে কত যত্নে ফুটিয়েছি! স্পঞ্জ দিয়ে পাতাগুলো পাপড়িগুলো মুছে দিই। ঝকঝক করতে থাকে ডালিয়া আর চন্দ্রমল্লিকা। এগজিবিশনে দিলেই হয়।

    —পরের বছর, পার্প্‌ল আর লাল ডালিয়া করব, বুঝলে দিয়া?

    মুখ ফিরিয়ে দেখি দিয়া চলে গেছে। বারান্দার দরজার কাছে মন্দার দাঁড়িয়ে আছে।

    বলি— গুড মর্নিং।

    ও বলে—আজি এ প্রভাতে রবির কর

    কেমনে পশিল প্রাণের পর

     

     

    কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাত পাখির গান!

    —বাঃ, এ তো আশাতীত উন্নতি! লাফিয়ে লাফিয়ে উন্নতি! সত্যিই ওর চোখগুলো দেখে আমি অবাক হয়ে গেছি। কোনও ভয় নেই, সঙ্কোচ নেই। অদ্ভুত তো?

    —ডবল প্রমোশন? —ও বোকার মতো হেসে বলল। —যাক, হাসিটা এখনও বোকা-বোকা আছে।

    —ভেতরে আসব?

    —ভেতর কী? বাইরে বলো! এসোনা!

    বলল— বড় ফুলগুলো, ওই যে হলদে আর বাদামি ডালিয়া আর চন্দ্রমল্লিকাগুলো!

    —হ্যাঁ, ওগুলো কী?

     

     

    —তুমি যখন ওগুলোর পাতা মুছিয়ে দিচ্ছিলে, তখন মনে হচ্ছিল ওগুলোও তোমার বোন।

    —বাপ রে! এই রেটে যদি উন্নতি হয় তা হলে তো চাঁদে-টাঁদে পৌঁছে যাবে। শিগগিরই।

    খুব লজ্জা পেয়েছে। বলল— খারাপ কিছু বলেছি? কিছু মনে করলে মন্দাকিনী?

    আমি বলি— আমার ডাকনাম বুলা। তোমার কোনও ডাকনাম নেই।

    —সোনা। ছোটসোনা।

    —গুড। মন্দার কি একটা নাম হল না কি? যেমন মন্দাকিনী, তেমনি মন্দার দুটোই বোগাস!

    —হ্যাঁ ওগুলো স্বর্গের গাছ, স্বর্গের নদী।

    —সোনা তো, ছোট কেন? —

     

     

    বলল— বড় নয়, তাই। দুজনে খানিকটা হাসি। আমি বললাম— আজকের প্রোগ্রাম জানো?

    —না তো!

    —আজ একটা এক্সপিডিশন আছে। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নাও।

    —এক্সপিডিশন? কোথায়?

    —কোথায়, তুমিই বলো না।

    ভেবে-চিন্তে বলল— শেয়ালদা থানায়?

    মনে মনে বললাম— তোমার মাথা! মুখে বললাম— দেখা যাক।

    কালকে ওর জন্যে দু’সেট পায়জামা-পাঞ্জাবি, আর একসেট ট্রাউজার্স-শার্ট কিনে এনেছি। ট্রাউজার্সের কোমরটা ফিট করলে হয়। একটু আলগা হলে বেল্ট দিয়ে ম্যানেজ করে নিতে বলব, কিন্তু ছোট হলে? দোকানে অবশ্য বলল— ছোট হওয়ার কোনও চান্স নেই।

     

     

    জিনিসগুলো নিয়ে গিয়ে ওর ঘরে বিছানার ওপর রেখে দিই।

    বলল— এ সব কিনেছ কেন?

    —জাহাজডুবি হয়ে তো এসেছ, পরবেটা কী? আমার স্কার্ট না দিয়ার শাড়ি?

    —আমি আমার জামাকাপড়গুলো কাল কেচে শুকোতে দিয়েছি।

    —কোথায়?

    —ওই বাথরুমেই,

    ঢুকে দেখি র‍্যাকে জামা-টামা শুকোচ্ছে বটে, —আমি ঢুকতে যেতেই হাঁ হাঁ করে ছুটে এসেছিল।

    —তোমাকে দেখতে হবে না, তোমাকে হাত দিতে হবে না, আমি ঠিক করে নিচ্ছি।

     

     

    আমি বললাম— ওগুলো আয়রণ না করলে তো পরা যাবে না। আমি স্টিফেনকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। ওকে দিয়ে দাও আর নতুন ড্রেসটাই পরো। পরে দেখে নাও ঠিক হয়েছে কিনা।

    রাখাল সরকারের নাকের ওপর একটা আঁচিল আছে এইটাই ছিল আমাদের ট্রাম্প কার্ড। কর্পোরেশনে বেঁটে, ষণ্ডামার্কা নাকে আঁচিল রাখাল সরকারের খোঁজ পেতে মাইকেলের দেরি হয়নি। লোকটা অ্যাসেসমেন্ট সেকশনের ক্লার্ক।

    বিকেলে লোকটা বেরোলে মাইকেল পেছু নিল। সুরেন ব্যানার্জি থেকে একটু পরে ফ্রি-স্কুল স্ট্রিটে ঢুকতে যাবে, পেছন থেকে মাইকেল, সামনে থেকে রুডি গিয়ে ওর কাঁধে থাবড়া মারল।

    —মিঃ সরকার, কেমন আছ?

    —কে? কে? —ভড়কে রাখাল সরকার বলল, কে আপনারা?

    —চিনতে পারছ না? সে কী?—অমায়িক হেসে রুডি বলল।

     

     

    —না তো!

    —এখখুনি চিনবে। একটা শিস দিল মাইকেল।

    আমি আর মন্দার তখন এগিয়ে যাই।

    —দেখো তো মন্দার এই তোমার লোক?

    মন্দার মাথা নাড়ল।

    লোকটা হাঁ করে মন্দারের দিকে একবার আমার দিকে একবার চাইছিল। মুখে কথা নেই।

    ট্যাক্সির ভেতর ঢোকানো হয় লোকটাকে। ওর দুপাশে রুডি আর মাইকেল। সামনে আমি আর মন্দার। লোকটা কিছু বলছে না। ভয়ে চুপ করে আছে। আমার পাশে মন্দারও খুব শক্ত, ঠাণ্ডা মতো হয়ে রয়েছে। ঘাবড়েছে।

     

     

    শেয়ালদার বাড়িটাতে পৌঁছে ট্যাকসি থেকে নামবার সময়ে রাখাল সরকারের বাকস্ফুর্তি হল। বলল, আমি কিন্তু এখুনি চেঁচিয়ে লোক জড়ো করতে পারি।

    মাইকেল বলল—ইউ ক্যান ট্রাই। তবে লোক জড়ো আমরা আরও ভাল করতে পারি।

    রুডি বলল—হেই ম্যান, ভালয় ভালয় এর জিনিসগুলো দিয়ে দাও। বেশি ত্যাণ্ডাই ম্যাণ্ডাই করলে কপালে তোমার দুঃখু আছে।

    বন্ধ ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রাখাল বলল—আমার কাছে চাবি নেই।

    —তো চাবিটা কোথায় আছে? রুডি জিজ্ঞেস করল—জুলির কাছে?

    এমন চমকে উঠেছে রাখাল, যেন কেউ ওর পেটে কোঁৎকা মেরেছে।

    —কী? রুডি বলল, জুলির কাছ থেকে নিয়ে আসব!

     

     

    জোঁকের মুখে নুন পড়ার মতো গুটিয়ে গিয়ে রাখাল বলল

    —দেখি আমার ফোলিওটা, থাকলেও থাকতে পারে।

    ব্যাগ থেকে চাবি বার করে দরজা খুলল লোকটা। আমরা সকলে ঢুকলাম। মন্দার তাড়াতাড়ি নিজের সুটকেসটার দিকে ছুটে গেল।

    আমি বললাম—খুলে দেখে নাও সব আছে কি না।

    মাইকেল বলল—এই মন্দার ছেলেটা তোমার জন্য বড্ড ভাবছিল, বুঝলে রাখালবাবু, কোথায় গেল রাখালবাবু, তার তো তিনকূলে কেউ নেই!

    রুডি বলল— চ্‌ চ্‌, মন্দারবাবু, সত্যি নাকি?—রাখালবাবুর তিনকূলে কেউ না থাকলে কী হবে। আরেকটা কুল আছে—ফোর্থ কুল। জুলি। রাখাল সরকারের মেয়ে জুলি…

     

     

    মন্দার অবাক চোখে তাকিয়ে বলল—রাখালবাবুর মেয়ে আছে? বলেন নি তো!—মন্দারের মতো আহাম্মক, ইডিয়ট আমি আগে দেখিনি।

    —আহা হা হা। রুডি হেসে বলল—মেয়ে কেন হবে? মেয়েমানুষ, না রাখালবাবু? জুলির কাছে কদিন কাটিয়ে আসাও হল, এদিকে মন্দারকে কাটিয়ে দেওয়াও হল।

    রাখালবাবু কম যায় না। শয়তানের মতো চোখ মটকে বলল—এই মন্দারও যেমন এই মেয়েটার কাছে কদিন কাটাচ্ছে। তা ভাল। ভাল জুটিয়েছিস মন্দার!

    হঠাৎ আমার পাশ থেকে একটা গুলতির মতো কী একটা ছুটে বেরিয়ে গেল। দেখি মন্দার। লাফিয়ে রাখালবাবুর ঘাড়ে পড়েছে। তারপর ওরে বাবা, কী মার, কী মার! মুখে কথা নেই, লোকটাকে শুইয়ে ফেলে একেবারে চোরের ঠ্যাঙানি!—ওর যে অত রাগ, ওইরকম করে যে কাউকে ঠেঙাতে পারে, না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।

    মাইকেল, রুডি অনেক কষ্টে ওকে তুলে নিয়ে আসে। ওর বইপত্র, সুটকেস, সব নিয়ে আমরা বেরিয়ে যাই। শুধু বিছানাটা মন্দার নেয় না। মুখের একটা ভয়ঙ্কর ভঙ্গি করে বলে—ও শুয়েছিল। ওটা নোংরা হয়ে গেছে।

    —আমি থানায় যাব—কোঁকাতে কোঁকাতে লোকটা বলল—এফ. আই. আর করব।

    রুডি বলল—ট্রাই ইট। ইটস অলওয়েজ গুড টু ট্রাই। আমাদের এফ. আই. আর তো করাই আছে।

    বাড়িতে ফিরে দেখি দিয়া একটা সাদা খোলের তাঁতের শাড়ি পরেছে। কপালে একটা কালো টিপ। আমাদের দেখে বলল—পেয়েছিস? সব কিছু?

    আমি বললাম—হ্যাঁ।

    —তোমার হার? মন্দার?

    —হ্যাঁ।

    —বইগুলো গুছিয়ে রাখো—দিয়া বলল।

    বইয়ের থলেটা ও নিয়ে গেল ঘরে।

    —বেশি গোলমাল কিছু করিসনি তো?—দিয়া উদ্বিগ্ন হয়ে বলল।

    —না। আমরা অত বোকা না।

    —ধরে আনতে বললে বেঁধে আনে তো ওই রুডি।

    বেশি কিছু করতে হয়নি। আমি বলি—রাখালবাবুর মার খাওয়াটা দেখবার মতো হয়েছিল। ক্যা সীন?

    —সেই মারলে? এত করে যে বললাম ছেলেগুলোকে মারপিট করিস না।

    —ওরা করেনি তো! মার দিল তোমার নাতি।

    —কে মন্দার? মন্দার মারপিট করল?—দিয়ার গলায় অবিশ্বাস।

    —মারপিট নয়। এক তরফা মার, বেধড়ক।

    —বলিস কী রে? কেন? তোরা সামলাতে পারলি না?

    —সামলাব কী? আমাকে লক্ষ্য করে একটা বেফাঁস কথা বলেছিল লোকটা…বাস—ঠাঁই ঠাঁই শুরু হয়ে গেল।

    দিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল, তারপরে বলল—আশ্চর্য!

    আমি বললাম—কোনটা আশ্চর্য?

    দিয়া বলল—ঠিক বিনুর মতো।

    সুটকেসটা তখনও দালানে পড়ে। নিয়ে ওর ঘরে ঢুকেছি, দেখি ও টেবিলের ওপরে মাথা রেখে ফুলে ফুলে কাঁদছে।

    বই-টই সব চারদিকে ছড়ানো।—কিচ্ছু গোছানো হয়নি। আমি নিঃশব্দে বইগুলো র‍্যাকে তুলছি। মুখ তুলে বাথরুমের দিকে চলে গেল।

    আমি চেঁচিয়ে বললাম—দিস ইজ ক্যালকাটা, এ মেট্রোপলিটান সিটি। কান্নাকাটি করে কিছু করতে পারবে না এখানে। লাইফ ইস টাফ হিয়ার। রিয়্যাল টাফ।

    ও মুখ ধুয়ে বেরিয়ে আসছে। আমার দিকে তাকাতে পারছে না। বললে— বিশ্বাস করো, এই প্রথম, জীবনে এই প্রথম, না বোধহয় দ্বিতীয়বার।

    —দ্বিতীয়বার? তা প্রথমবার কী কারণে কাঁদলে?

    —বলব কেন তোমাকে? তুমি ঠাট্টা করবে।

    —ঠাট্টা নিতে পারো না?

    —ভেবে দেখতে হবে।

    —ঠিক আছে বলো ঠাট্টা করব না।

    ও বলল—গান, গান শুনে।

    —গান শুনে? তা হলে তো তোমাকে এখানে দিবারাত্র কাঁদতে হবে।

    —কেন?

    —এখানে তো সব সময়ে গান বাজছে।

    —ওহ্‌। ওই গান। পানের দোকানে টোকানে যেগুলো বাজে? ওগুলো আবার গান না কি?

    পানের দোকানে বাজে বলে হয়তো তেমন মন দিয়ে শোননি। অন্য জায়গায় শুনলে কোনও কোনও গান খুবই ভাল লাগার কথা। বলে আমি একটা গান গেয়ে উঠলাম।—হিন্দি ফিলমি গান।

    ও মন দিয়ে শুনল, বলল—তুমি গাইছ বলে ভাল লাগছে। কিন্তু এইসব গান, আর ওইসব গলা আমার … আমার ঠিক…। বলতে বলতে দু বার গলা ঝেড়ে নিয়ে ও-ও গেয়ে উঠল—

    মাধব, বহুত মিনতি করি তোয়

    দেই তুলসী তিল এ দেহ সোঁপাল

    দয়া জনু ছোড়বি মোয়।

    আমি তো অবাক! বললাম—তুমি তো বেশ গাও। ভয়েস তো চমৎকার।

    —গানটা ভাল লাগল?—ও একটু লজ্জা পেয়ে গেছে।

    আমি বললাম—তুমি গাইলে বলে ভাল লাগল। নইলে কীর্তন আমার ভাল লাগে না।

    —আমার কথা আমাকেই ফিরিয়ে দিচ্ছ? কিন্তু মন্দাকিনী, কার্তিক মাসের শুক্লা পূর্ণিমায় যখন চারদিক দুধসাদা হয়ে যায়, কোথাও কেউ থাকে না, দূর থেকে এই গান হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে আসে। তখন তোমার মন হু-হু করবে, মনে হবে কেউ নেই তোমার, হয়তো কোথাও লুকিয়ে আছে কেউ যে তোমার একমাত্র আপনজন। কিন্তু….

    আমি বললাম—থামলে কেন, বলো আমি শুনছি।

    —নাঃ, —ভয়ে ভয়ে আমার দিকে তাকাল ও।

    —দিয়া খুব ভাল কীর্তন গাইতে পারে। জানো তো?

    —তাই বুঝি?—হ্যাঁ হ্যাঁ, প্রথম যেদিন এ বাড়িতে আসি উনি গুনগুন করছিলেন। আমি খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।

    —শিখেছে তো ভাল করে।

    এই সময়ে পর্দা সরিয়ে দিয়া ঢুকল।—কে গান করল? মন্দার না কি?

    —দুটো লাইন মন্দাকিনীকে শোনাচ্ছিলাম, দিদিমা,—খুব লাজুক মুখ করে ও বলল।

    —ও তো আর জানত না, তুমি কীর্তনে এক্সপার্ট! আমি বলি।

    —তুমি কীর্তন ভালবাসো?—দিয়া জিজ্ঞেস করল।

    মন্দার বলল—আমাদের ওখানে তো যে কোনও উপলক্ষে কীর্তন হয়, বিশেষ করে ব্রজবুলির কীর্তন আমার খুবই ভাল লাগে।

    —কী মনে হয় তোমার?

    —কী মনে হবে?

    —না ওই যে বুলাকে বলছিলে!

    —কিছু না, পূর্ণিমার রাতে-টাতে খুব ভাল লাগে, তাই বলছিলাম মন্দার বেশ লজ্জা পেয়ে গেছে। কিছুতেই আর বলল না।

    দিয়া বলল—তোমার দাদার ইচ্ছেতেই তো আমি কীর্তন শিখি। উনি বলতেন ভক্তি-সংগীত হিসেবে তোমায় কীর্তন গাইতে হবে না। গাও ল্যভ-সঙ হিসেবে। আমরা দুজন কেউই কিছু বললাম না।

    দিয়া বলল—লাভ সঙ ঠিকই। কিন্তু পাওয়ার গান নয়, এগুলো না-পাওয়ার গান। একেবারেই না-পাওয়া, আভাসে-পাওয়া, পেয়েও-না-পাওয়া। যাঁর কাছে শিখেছি সেই যুগল কীর্তনিয়া বলতেন, কীর্তন অঙ্গে মিলনের গানও বিরহের গানের মতো করেই গাইতে হবে। মিলনই বলো আর পাওয়াই বলো, সেটা একটা আইল্যান্ড ডুবু-ডুবু জলের মধ্যে জেগে-থাকা দ্বীপ, যে কোনও সময়ে ডুবে যেতে পারে। তোমার মধ্যে যদি সীমাহীন অভিমান থাকে, যদি তোমার জীবনে রিফিউজ্যালের কষ্ট থাকে, বঞ্চনা থাকে, তা হলে কীর্তন হবে, দি মিউজিক ফর ইউ।

    —ওহ্‌, আমি তোদের খুব বিরক্ত করলাম…দিয়া পর্দা ঠেলে চলে গেল। মাঝে মাঝে দিয়া যেন নিজের ভেতরের একটা ঘরের পর্দা সরিয়ে দেয় কিছুক্ষণের জন্য।

    —সুটকেস থেকে জামাকাপড়গুলো বার করলাম। —আলমারির মধ্যে সাজিয়ে রাখছি, মন্দার বলল—আচ্ছা মন্দাকিনী, দিদিমা অত সুন্দর বাংলা বলেন কী করে?

    —দিয়া তো শিখেছে! দাদার কাছে শিখেছে। টিউটর রেখে শিখেছে।

    —কিন্তু একটু টান আছে, তাই না?

    —হ্যাঁ, যেমন নয় কে বলে নোয়, হয় কে হোয়, ‘যুগোল’ ‘মিলোন’ যুক্তাক্ষরগুলো একটু ভেঙে বলে, কীরতন, বজ্‌রো…।

    —কিন্তু আমার মায়ের বা তোমার তো এ রকম টান নেই?

    —বাঃ দিয়ার বাবা-মারা ছিল ইংলিশ-স্পীকিং। কিন্তু আমার বাবা-মা তো দুজনেই বাংলা বলে, বাঙালি। ইরাবতীর মা মানে আমাদের দিয়া তো সে সময়ে ছিলেন পুরোপুরি বাঙালি। আমরা পড়েওছি নিভেদিতার স্কুলে। মা তো বটেই, আমিও।

    —এ সব কি দাদামশাইয়ের আইডিয়া?

    —হ্যাঁ, দাদা আসলে দিয়া সুদ্ধু পুরো নিজের ফ্যামিলিটাকে বাঙালি সমাজে রিহ্যাবিলিটেট করতে চেয়েছিল!

    —রি-হ্যাবিলিটেট?

    —হ্যাঁ! দিয়া তো অ্যাংলো ইন্ডিয়ান! বাঙালি-সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে ছেলেমেয়েদের বাংলা উচ্চারণ, বাঙালি রীতিনীতি, অভ্যাস সব রপ্ত করতে হবে তো!

    —তা সেই সমাজ, তোমার দাদার সমাজ কই? তাঁদের কেউ তোমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন?

    —এই ব্যাপারগুলো আমি জানি না। তুমি দিয়াকে জিজ্ঞেস করো। তবে আমার জ্ঞানে আমি দাদার কোনও আত্মীয়কে এখানে আসতে দেখিনি।

    —মা কোথায় চাকরি করে মন্দাকিনী? —মন্দার হঠাৎ জিজ্ঞেস করল।

    —মা কি তোমায় তাই বলে গেছে?

    —আর কী বলবে?

    আমি বললাম—দেখো। আমাদের ছোটবেলায় মা একটা চাকরি করত। রিসেপশনিস্ট ছিল। কিন্তু সে চাকরি মা অনেকদিনই ছেড়ে দিয়েছে।

    —তা হলে?

    —তুমি একটা ফার্স্ট ক্লাস ইডিয়ট মন্দার, বুঝতে পারছ না, মা আবার বিয়ে করেছে?

    দিয়া কথাটা বলতে আমাকে বারবার বারণ করেছিল, কিন্তু আমি বলে ফেললাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসমুদ্র-যাত্রা – বাণী বসু
    Next Article যে যেখানে যায় – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Our Picks

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }