Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাধানগর – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প177 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাধানগর – ৩

    তিন

    চাঁদের আলোয় চারদিক থই থই করছে। আমি রায় বাড়ির চত্বর ছেড়ে মাঠের পথ ধরি।

    রাসের মেলা চলছে এখন। শুক্লা একাদশী থেকে শুরু হয় এই মেলা। পূর্ণিমা পার করে তবে শেষ হয়।

    ‘ভাবিয়াছিলাম এ তিন ভুবনে

    আর মোর কেহ আছে।

    রাধা বলি কেহ শুধাইতে নাই

    দাঁড়াব কাহার কাছে।’

    দূর থেকে কীর্তনের সুর ভেসে আসছে। মূল গায়েন একজন মহিলা। তিন-চার জন সঙ্গী, সবাই পুরুষ। খুব সুন্দর গান ইনি। আজ বোধহয় সারা রাত কীর্তন হবে। ইনি ছাড়াও একটা দল এসে বসে আছে।

    মন্দির ঘিরে আরও নানান উৎসব হয় সারা বছর। আষাঢ়ে রথযাত্রা দিয়ে শুরু হয়, ফাল্গুনে দোল দিয়ে মোটামুটি শেষ হয়। মাঝে আছে জন্মাষ্টমী, ঝুলন, আর কার্তিকী পূর্ণিমায় এই রাস। বহু দূর থেকে দর্শনার্থীরা আসতে থাকেন কদিন। অন্ধকার হলেই ডায়নামো চলতে থাকে, মন্দিরের সারা অঙ্গে টুনি বালব থাকে। উজ্জ্বল আলোয় ঝকমক করতে থাকে রাধারানির জরি বসানো লাল বেনারসী, মাধবের নীল বসন। পীত উত্তরীয় আজ রাধারানির গলায়। বসন বদলাবদলি হয় এ সময়ে ঠাকুরের। বাগানে ছোট ছোট খোপ করে কৃষ্ণলীলার নানান দৃশ্য পুতুল দিয়ে প্রদর্শনী করা হয়েছে। ছোটবেলায় এই পুতুল সজ্জার আকর্ষণ ছিল খুব। সারা বছর এইসব পুতুল মন্দিরের পাশের ঘরে, জড়ো করা থাকে, সেটা আবিষ্কার করার পর থেকেই আকর্ষণটা কমে যেতে থাকে। কিন্তু কথকতা আর কীর্তন শোনবার আগ্রহ আমার এখনও যায়নি। কতবার তো শুনেছি ধ্রুব, প্রহ্লাদ, বলিরাজা, অজামিল, জড়ভরতের কাহিনী। পুরনো হয় না। আর কীর্তন? কীর্তন শোনবার আমার একটা বিশেষ প্রণালী আছে। আসরে বসে শুনি না আমি। মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়াই। ঝলকে ঝলকে গান ভেসে আসে দূর থেকে। ‘রাধে’ বলে টান দিলে, কি ‘কৃষ্ণ’ বলে হাহাকার করে উঠলে চড়াসুরের সেই টান আমার ভেতর থেকে কী সব টেনে বার করে আনে। একমাত্র তখনই আমি বুঝি, ব্যথা-বেদনা আমারও আছে। একটা নি-মানুষের মতো বাঁচলেও, মানুষেরই কষ্ট আমার ভেতরে বাসা বেঁধে রয়েছে।

    মাঠের মধ্যে প্রচুর গাছ। জায়গায় জায়গায় জঙ্গল মতো। একটু ছোট্ট টিপি মতন দেখে বসি।

     

     

    ‘বঁধু হে’ বলে একটা চড়া সুরে টান দিয়ে সুরের জাল ছড়িয়ে দেন গায়িকা। হঠাৎ ভেতর থেকে গরম জল উঠে আসে দুই চোখে। আমি হাঁটুর ওপর মুখ রেখে বয়ে যেতে দিই নুনের নদী।

    ঘুরে ফিরে গাইতে থাকেন বৈষ্ণবী—

    ‘এ কূলে ও কূলে দুকূলে গোকুলে

    আপনা বলিব কায়।

    শীতল বলিয়া শরণ লইনু

    ও দুটি কমল পায়।।’

    আমি কার পায়ে শরণ নেব? জীবন্ত পা চাই যে আমার। এমন পেতলের রাধামাধবের আমার হবে না, হবে না।

     

     

    কে যেন আমার মাথায় হাত রাখল। চমকে মুখ তুলে দেখি চেনা-চেনা চেহারা। শিশিরদা না? আমি আর মুখ তুলতেই পারছি না। উনি বোধহয় আমাকে কাঁদতে দেখেই এসে দাঁড়িয়েছেন।

    চলো, একটু বেড়ানো যাক— শিশিরদা বললেন।

    —তোমাদের এই পুজো কতদিনের, মন্দার! বেড়াতে বেড়াতে উনি জিজ্ঞেস করলেন, অন্য প্রসঙ্গে যেতে পেরে আমি বাঁচি।

    —১২৭৩ বঙ্গাব্দে এই সম্পত্তি দেবত্র করা হয়েছিল। ঠাকুরদাদের বাবা পেয়েছিলেন। মন্দির বোধহয় তার আগে থেকেই ছিল।

    —উনি কার কাছ থেকে পেয়েছিলেন?

    —বোধহয় ওঁর মামার কাছ থেকে।

     

     

    —আমি কিন্তু অন্য একটা গল্প শুনেছি। শিশিরদা বললেন, মামা নয়, মাতামহ, তোমার প্রপিতামহর মায়ের কাকা না কি নিজের ছেলের ওপর বিরক্ত হয়ে এই নাতিকে সম্পত্তি দেন, কিন্তু মন্দির তৈরি করে সম্পত্তিটা দেবত্র করে দেন। যাতে সম্পত্তিটা নয়ছয় না হয়, আর যাতে ফ্যামিলি একত্র থাকে। তার মানে দেখো মন্দার, সম্পত্তি রক্ষার জন্য নেহাত বৈষয়িক একটা চাল হিসেবে এই মন্দিরের উৎপত্তি। অথচ এখন দেখো জিনিসটা সম্পূর্ণ অন্যরকম দাঁড়িয়েছে।

    —অন্যরকম আর কী?

    —অন্যরকম নয়? কত লোক আসছে ভক্তি নিয়ে, শ্রদ্ধা নিয়ে, কত উৎসব। গ্রামাঞ্চলে একটা এ ধরণের উৎসবের কিন্তু ভীষণ মূল্য। দেখো শহরে কতরকম আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা রয়েছে। ইচ্ছে হলেই সিনেমা, পয়সা খরচ করলেই ভাল হলে গান শুনতে পাবে, এগজিবিশনে যেতে তো বেশির ভাগ সময়েই খরচ লাগে নামমাত্র। কিন্তু এসব জায়গায়? তোমাদের রায়েদের এ বাবদে প্রচুর ধন্যবাদ প্রাপ্য।

    আমি বললাম— ওঁরাও তো পাচ্ছেন অনেক।

     

     

    —ওঁরাও পাচ্ছেন? মানে? —শিশিরদা কেন অবাক হলেন আমি জানি না।

    আমি বললাম— প্রণামী পাচ্ছেন, টাকা ছাড়াও কাপড়, গয়না, মেলার দোকানগুলোর সঙ্গে ব্যবস্থার কথা তো সবাই-ই জানে। সম্পত্তি-রক্ষা তো হচ্ছেই। বৃদ্ধিও হচ্ছে নিশ্চয়ই।

    শিশিরদা অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন, তারপরে আস্তে বললেন— তুমি কি এসব নিয়ে ভেবেছ? আলাদা করে?

    —না। ভাবলে অন্যায় হবে?

    —তা ঠিক নয়। তবে ধরো এতজন মানুষ, তোমাদের ফ্যামিলির কথা বলছি, দেবপূজা নিয়ে মগ্ন হয়ে আছেন তো? বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে হয়তো কিছু উপার্জন হচ্ছে!

    আমার মেজঠাকুরদার সেই মন্তব্য—‘ম্যাম বিয়ে করেছে’ মনে পড়ে গেল চকিতে। এঁদের সবার অনুদারতা, স্বভাবের উদাসীনতা, কাঠিন্য এ সবের কথা মনে পড়ে গেল। আমি চুপ করে রইলাম। কী হবে মন্দির করে, নিত্যপূজা করে যদি একজন মাকে এঁরা পথে ঠেলে দিয়ে থাকেন? একজন শিশুকে যদি আপন করতে না পেরে থাকেন? আরও খানিকটা হাঁটবার পর শিশিরদা বললেন— অনেকটা এসে গেছি কিন্তু মন্দার। চলো এবার ফিরি। তোমাকে পৌঁছে দিয়ে আসি৷

     

     

    —আমাকে?—আমি অন্ধকারে হাসি।

    —কী হল? তোমাকে পৌঁছনোর কথায় হাসলে কেন?

    —আমি তো এখানকারই ছেলে। বড়ও তো হয়ে গেছি। যাই … বরং আপনাকেই আমি এগিয়ে দিই।

    শিশিরদা থাকেন স্কুলবাড়ির কাছেই একটা ঘর ভাড়া নিয়ে। শহর থেকে আসা তিনজন মাস্টারমশাই থাকেন—ঘরটায়। ওখানে আমি পড়াশোনা বুঝে নিতে কি খেলা সংক্রান্ত দরকারে বহুবার গেছি। শিশিরদা আমাদের সঙ্গে খুব খোলাখুলি মেশেনও। তবু আজকের মতো কাছাকাছি ওঁকে কখনও পাইনি।

    জিজ্ঞেস করলাম—এখানে থাকতে আপনার কেমন লাগে শিশিরদা?

    —রাধানগর আমার খুব ভাল লাগে। এত শান্ত। এত পরিষ্কার হাওয়া! দামোদরের তীরটা এত সুন্দর। তবে কলকাতা ছেড়ে থাকতেও খুব কষ্ট হয় মন্দার।

     

     

    কলকাতায় থাকতে আমার কেমন লাগবে শিশিরদা! ‘আমার’ কথাটার ওপর আমি জোর দিই। শিশিরদা হাসলেন, বললেন—তুমি যে রকম ক্রিটিক্যাল হয়ে উঠছ তাতে করে কলকাতা তোমাকে কাবু করতে পারবে বলে মনে হয় না, তবে ভাল লাগা শক্ত। নোংরা আর আওয়াজ এই দুটো জিনিসই তোমাকে সবচেয়ে পীড়া দেবে।

    আমি মনে মনে বলি—নোংরা, আওয়াজ এ সব তো বাইরের ব্যাপার। কিন্তু ওই শহর থেকেই উঠে আসত আমার একমাত্র আপনজন। ওই শহরেই সে হারিয়ে আছে। উপরন্তু শিশিরদা আপনি, অপর হলেও আপনি এত আপন আমার, আপনিও এসেছেন ওই শহর থেকেই, কিছু না কিছু গুণ তো ও শহরের আছেই!

    —তোমার কি রাধানগর ভাল লাগে না? অনেকক্ষণ আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে শিশিরদা বললেন।

    আমি বললাম—কী জানি?

    —সে কী? ভাল লাগে কি লাগে না জানো না? অবশ্য তোমার বয়সে জন্মভূমি খুব একঘেঁয়ে লাগবারই কথা। নিস্তরঙ্গ জীবন, বৈচিত্র্য নেই…তোমাদের এখন রক্ত টগবগ করে ফুটছে, অ্যাকশন…অ্যাকশনের জন্যে এখন তোমরা ছটফট করছ, তাই না?

     

     

    —কলকাতায় গিয়ে লেখাপড়া করতে কি আমার খুব অসুবিধে হবে? —আমি জিজ্ঞেস করি।

    —না, অসুবিধে কেন? ওখানে প্রতিযোগিতাটা বেশি। সংখ্যাও বেশি। এত মানুষের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার, দিশেহারা হয়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি থাকেই।

    —শিশিরদা, আমার পক্ষে কতটা ভাল রেজাল্ট করা সম্ভব? এই ফাইন্যাল পরীক্ষায়?

    —আরে, সেটা তো আমিই তোমায় জিজ্ঞেস করব!

    —কলকাতায় পড়বার জন্যে আমি আমার পক্ষে যতটা পড়াশোনা করা সম্ভব করছি। আমি একটুও ফাঁকি দেব না। কিন্তু কতটা ভাল করতে পারব সেটা তো আমি জানি না, তাই জিজ্ঞেস করছি।

    —তুমি ভাল ছেলে মন্দার, ভাষাগুলো ভাল শিখেছ, অঙ্কের মাথা তোমার পরিষ্কার। বিজ্ঞান আমরা যতটা শেখাতে পেরেছি শিখেছ। ভাল করারই তো কথা।

     

     

    —শিশিরদা, আপনি আমাকে সাহায্য করবেন?

    —কী ব্যাপারে? কলকাতায় যাওয়ার ব্যাপারে?

    —হ্যাঁ।

    —তোমার বাড়ি থেকে যদি যেতে দিতে না চান…..ওঁরা কী বলবেন…

    —ওঁরা কিছু বলবেন না, সেটা কোনও কথা না। আসলে শিশিরদা আমার তো টাকাপয়সা নেই।

    —মানে? কী বলছ মন্দার? শিশিরদা অবাক হয়ে গেছেন। রায়বাড়ির ছেলে তুমি…তোমার? নাঃ আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

    —যতদিন এখানে আছি , ঠিক আছে। কিন্তু দূরে চলে গেলে এঁরা আমার খরচ দেবেন কেন? দেবেন না…। আমার তো কেউ নেই এখানে…।

     

     

    —কেন? তোমার বাবা? জ্যাঠা-কাকারা, এত আত্মীয়স্বজন অথচ…

    আমি কী বলব! চুপ করেই রইলাম।

    —কলকাতায় ধরুন, বাচ্চাদের পড়াতে পারি। দিনের বেলায় কলেজ করলাম। সন্ধেবেলায়… এ ভাবে তো অনেকেই চালায়, এরকম কিছু যদি আপনি জোগাড় করে দেন…

    শিশিরদা খাপছাড়াভাবে বলে উঠলেন—এই মন্দির, পুজো, এত উৎসব, এত মানুষের সমাগম…এগুলো দেখতে দেখতেই তো তুমি বেড়ে উঠেছ মন্দার, সবাইকেই নিশ্চয় কোনও না কোনওভাবে এ সবের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়, এক জেনারেশন চলে গেলে আরেক জেনারেশনকে এ সব ভার নিতে হয়। তুমি…তুমি…তোমাকেও নিশ্চয় নিতে হবে… সে জন্যেই কি তোমার এ সব ভাল লাগে না, না?

    তার মানে উনি ভেবে নিয়েছেন আমি বিদ্রোহী, পারিবারিক পূজা অর্চনা এগুলো আমাকে টানে না, বরং এগুলোর আওতা ছেড়ে আমি বেরোতে চাই।

     

     

    —ইয়াং ম্যান…তোমার অবশ্য ভাল না লাগতেই পারে…কিন্তু তার জন্য ওঁরা তোমাকে একেবারে ত্যাগ করবেন এ কথা ভাবছ কেন? কোনও নিয়ম আছে না কি এ ব্যাপারে?

    কোনও নিয়মের কথা আমি জানি না। এ বাড়ির ছেলেরা বাইরে পড়তে যায়নি এমনও নয়। তবে কম। বাইরে পড়তে গেলেও এঁরা শেষ পর্যন্ত এখানেই ফিরে আসেন। সেটা কোনও নিয়মের জন্যে কি না কী করে জানব? কিন্তু আমি যে এঁদের কেউ না, রায়বাড়ির অবহেলার দানে এত বড়টা হয়েছি তা কী করে শিশিরদাকে বোঝাব। মোটের ওপর আমি এঁদের ওপর নির্ভর করে আর থাকতে চাই না। কারও ওপরেই না।

    শিশিরদা বললেন—তোমাকে আমি যতদূর পারি সাহায্য করব মন্দার। কিন্তু বাস্তব তো অত সহজ নয়! ট্যুইশনি করলে আর সেই উপার্জনে পড়লে শহরে থাকলে এতটা সম্ভব না-ও হতে পারে। তোমার অল্পবয়স, চট করে অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে কাজ করারই বয়স। কিন্তু একটু ভাবনা-চিন্তা করে না চললে বিপদে পড়ে যাবে মন্দার। যাক গে তুমি এ সব না ভেবে মন দিয়ে পড়াশোনাটা করো।

     

     

    শিশিরদা কি ভয় পেলেন? বড়লোকের ছেলেকে পড়াশোনা খেলাধুলায় সাহায্য করা এক জিনিস আর আমার মতো হতভাগার দায়িত্ব নেওয়া আরেক। না শিশিরদা, সামান্যতম সাহায্যের চেয়ে বেশি কিছু আপনার কাছ থেকে চাইব না আমি। চাওয়ার মনটাই আমার তৈরি হয়ে ওঠেনি। আপনাকে আমি বোঝাতে পারিনি এ বাড়ির আমি কেউ নয়। কারও সঙ্গে আমার কোনও মিল নেই। আত্মীয়তা নেই, বন্ধুত্ব নেই। কিন্তু বোঝাতে তো আমাকে হবেই, যদি আপনার সাহায্য চাই!

    হঠাৎ বললাম—শিশিরদা, আপনি ছোটবেলায় লুকোচুরি খেলেছেন? হেসে ফেললেন উনি—এখন কি তোমার লুকোচুরি খেলতে ইচ্ছে করছে না কি মন্দার?

    —না, আমি একবার ছোটবেলায় এই রায়বাড়ির ছেলেমেয়েদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলেছিলাম, সেটা মনে পড়ল।

    —রায়বাড়ির ছেলেমেয়ে মানে? তোমার জাড়তুতো খুড়তুতো ভাইবোনেরা?

    —হ্যাঁ

    —তো একবার বলছ কেন? মাত্র একবারই খেলেছ?

    —খুব বেশি খেলিনি, তবে একবারের চেয়ে বেশি নিশ্চয়ই। শেষবারের কথাটাই খুব ভাল করে মনে আছে। সত্য, নিতাই এদের তো চেনেন? পঞ্চানন, গায়ত্রী…?

    —হ্যাঁ, চিনি…

    —ওদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছিলাম। খুব জমেছিল খেলাটা। এক এক জন চোর হচ্ছিল, আর তাকে চোখ বন্ধ করে উল্টো মুখে বসিয়ে দিয়ে আমরা অন্যরা লুকোচ্ছিলাম। আমাদের উঠোনের চার পাশে কত গাছপালা দেখেছেন তো? ওইসব ঝোপঝাড় গাছপালাতেই লুকোচ্ছিলাম। তারপর শিশিরদা, একবার আমি চোর হলাম। আমাকেও চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে হল। চোখ বুজিয়ে বসে আছি আর ছড়া কাটছি।

    আমপাতা জোড়া জোড়া

    মারবো চাবুক চলবে ঘোড়া

    ওরে সেপাই সরে দাঁড়া

    আসছে আমার পাগলা ঘোড়া…।

    সাধারণত এই ছড়াটা বলতে বলতেই ওদের লুকোনো হয়ে যায়। হয়ে গেলেই ‘কু’ বলে ডাক দেবে একজন। আমার খোঁজা তখন শুরু হবে। তো আমি বসেই আছি, ‘কু’আওয়াজ আর শুনতেই পাইনা। শেষে ধৈর্য হারিয়ে উঠে পড়ি। কী দেখি জানেন?

    —কী?

    —দেখি ওরা লুকোয়ইনি। গায়ত্রী আর সাবিত্রী রান্নাবাড়ির রোয়াকে বসে বাঘবন্দি খেলছে। সত্য আর নিতাই দুজনে দুজনের কাঁধে হাত দিয়ে গল্প করতে করতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর বাকিরা সব বাড়ি চলে গেছে।

    —ওইভাবে বসিয়ে? ঠকাচ্ছিল না কি!

    —না তো!

    —তবে কি সন্ধে হয়ে গিয়েছিল?

    —তাও তো না।

    —তুমি কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করনি?

    —নাঃ

    —তোমাকে উঠে আসতে দেখেও কেউ কিছু বলল না?

    —না।

    —আশ্চর্য তো। এলেবেলে না কি?

    —তা-ই বোধহয়। তবে সে কথাও কেউ তো আমাকে মুখ ফুটে বলেনি।

    —আমি এখানে এইচ. জি ওয়েলস-এর সেই ‘ইনভিজিবল ম্যান’-এর মতো, আমি সবাইকে দেখতে পাচ্ছি। আমায় কেউ দেখতে পায় না। এক হিসেবে তাই আমি নেই। এক একসময়ে সন্দেহ হয় আমি কারও কল্পনা। সত্যি কোনও অস্তিত্ব নয়।

    —কী বললে? তুমি কারও কল্পনা?

    —হ্যাঁ ধরুন—কেউ আমাকে ভেবেছে। আমি একটা সত্যি মানুষ নয়। লেখকরা চরিত্র ভাবেন না? ধরুন বেকার স্ট্রিটের যে ঠিকানায় শার্লক হোমস-এর আস্তানা, সেখানে গিয়ে যদি আমরা হোমস-এর খোঁজ করি। পাব? পাব না। কনান ডয়েল বানিয়েছেন ওটা। আমার রাধানগরের ঠিকানাটাও কারও বানানো। আমিও বানানো। অবাস্তব। না হলে এমন হবে কেন?

    শিশিরদা আমার কাঁধে হাত রাখলেন, বললেন—তুমি বড্ড একা মন্দার, তোমার কোনও বন্ধু নেই? তারক? তারক পাল তো তোমার বন্ধু। খেলাধুলো করছ এত। বন্ধু হয় না কেন তোমার? ব্রুড করবে না একদম, ওটা খুব অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। …আর মন্দার, সে ভাবে দেখতে গেলে তো আমরা সকলেই বানানো …ঈশ্বরের। ফিরে আবার আমরাও ঈশ্বরকে বানাই, এই রাধামাধবের মধ্যে যেমন বানিয়ে তুলেছি।

    আমি কিছু বলি না। শিশিরদা বোধহয় ভাবছেন, আমার মাথার গোলমাল হয়েছে। তবে, আমার অবস্থাটা মনে হয় উনি ঠিক না বুঝলেও, খানিকটা অনুভব করতে পেরেছেন।

    একটা বাঁকের মুখে এসে উনি নিজের পথে চলে যান। আমিও আমার পথ ধরি।

    আগের গানটা শেষ হয়ে গেছে, এখন পুরুষ গায়কের গলা শুনতে পাচ্ছি—

    এখন তখন করি দিবস গমাওল,

    দিবস দিবস করি মাসা,

    মাস মাস করি বরষ গমাওল,

    ছোড়লুঁ জীবন আশা॥

    আ-হ্‌! আমি যদি গান গাইতে পারতাম!

    একমাত্র গানের মধ্যে দিয়েই, মানে এই কীর্তন গানের মধ্যে দিয়েই আমি স্নেহ-ভালবাসা-আবেগ-অনুভূতির জীবন্ত জগৎটার খোঁজ পাই। আমি নিজেও তখন জীবন্ত হয়ে উঠি। শরীরে, মনে। মাথা টিপটিপ করে, বুক হু হু করে, আমার পেটে, তলপেটে একটা আলাদা জীবনস্পন্দন আছে বুঝতে পারি। আপনজনের জন্য কান্না আমার শিরায় শিরায় চারিয়ে যায়। রাধার গান, কৃষ্ণের গানে ওই যে বিরহ, সে তো নারীপুরুষের প্রেম-বিরহের কথা বলছে! আমার কিন্তু মনে হত একজন বা একাধিক অনির্দিষ্ট প্রিয়জনের কথা। এখন-তখন করে দিবস চলে যাচ্ছে, দিবস দিবস করে মাস, মাস মাস করে বছর … এ যেন আমারই কথা। এতদিন চলে যায় আমার মা আসে না। মা হচ্ছে সমস্ত প্রিয় সম্পর্কের প্রতিনিধি আমার কাছে। একটা স্তর টপকে তো আরেকটা স্তরে যাওয়া কঠিন! তাই হয়তো শৈশবের আকাঙ্ক্ষা টপকে আমি যৌবনের আকাঙক্ষাতেও পৌঁছতে পারি না।

    গান ছাড়া অন্য সময়ে আমি যে চেতনায় বাস করি, সেটা প্রায় অনুভূতিহীন। সম্পূর্ণ ব্যবহারিক কিছু কাজকর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ। পাথরের মতো নিরেট একটা অস্তিত্ব। খাচ্ছে, দাচ্ছে, খেলাধুলো করছে, পড়াশোনা করছে একটা যন্ত্র, একটা যন্ত্রমানুষ, দম দিয়ে তাকে চালু করে দিয়েছে কেউ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসমুদ্র-যাত্রা – বাণী বসু
    Next Article যে যেখানে যায় – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }