Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাধানগর – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প177 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাধানগর – ৪

    চার – মন্দাকিনীর কথা

    কেকা বলল— থার্ড বেঞ্চ থেকে একটা ছেলে তোর দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে।

    ম্যাথসের ক্লাস। বোর্ডের ওপর এ. কে. জি. খসখস করে লিখে যাচ্ছেন। ফলো করতে চেষ্টা করছিলাম। ছেলেটাকে আমি দেখেছি। কিন্তু ভাব দেখালাম যেন আকাশ থেকে পড়ছি।

    কেকা বলল—তাকাসনি। সেকেন্ড ফ্রম রাইট। এক্কেবারে গবেট টাইপ।

    —কী করে জানলি?— আমি হাসি লুকিয়ে বলি— জাস্ট আমার দিকে চেয়ে আছে বলেই! —শুধু কেকা কেন, সব মেয়েই আমার ওপর জেলাস, প্রচণ্ড।

    —আজ্ঞে না—কেকা বলল— খাড়া চুল, ভাঁটা চোখ, প্যাতপেতে কান, ন্যাতনেতে শার্ট… গেট-আপ দেখলেই বোঝা যায়।

    —অনেক দেখে ফেলেছিস, আমি বলি, এত দেখছিস বলেই ও এদিকে চেয়ে আছে। আমার দিকে নয়, তোর দিকে। ছেলেটা মোটেই গবেট নয়, দেখবি হয়তো তোকে আমাকে মেরে বেরিয়ে যাবে। গুডি-গুডি টাইপ।

    —গাঁইয়া!

    ছেলেটা ততক্ষণে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বুঝতে পেরেছে আমরা ওকে নিয়েই আলোচনা করছি।

    দেখছে দেখছে। সে নিয়ে এত আলোচনার কী আছে আমি বুঝি না। ছেলেরা মেয়ে দেখে। মেয়েরা ছেলে দেখে। এ তো স্বাভাবিক স্বতঃসিদ্ধ ব্যাপার। এমন দিন আমার তো মনে পড়ে না যবে কিছু লোক আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে না দেখেছে। তেমন দিন আসলে যে আমার খুব ভাল লাগবে এমন কথাও আমি বলতে পারছি না। আই ডেফিনিটলি এনজয় অ্যাটেনশন। এতে আমার কনফিডেন্স বাড়ে। সাহস বাড়ে। তবে এ ছেলেটা একেবারে মফঃস্বলী তাতে সন্দেহ নেই। ক্লাস করছি মাস দুয়েক হল ওকে লক্ষ করিনি। সেদিন চার নম্বর রুমে ঢুকছি, আমি একা নয়, অনেকেই ছিল। ও বেরোচ্ছিল। একটা ভিড়ের মাঝখানে ছিল ও। চুলগুলো ভিড়ের মাথায় জেগে ছিল ওর। হঠাৎ চক্ষু ছানাবড়া করে ভিড়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এল। আমাকে দেখছে। —দ্যাখ বাবা দ্যাখ, এরকমটা দেখিসনি কখনও বুঝতেই পারছি। আমার চেয়ে সুন্দর এ কলেজে কি আর নেই? আছে কয়েকটা আর্টস-এ। কিন্তু আমার মতো গ্ল্যামার বোধহয় আর কারওই নেই। অহংকার করছি না। জাস্ট আ স্টেটমেন্ট অফ ফ্যাক্‌ট।

     

    আরও দেখুন
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    PDF বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    Books

     

    অনেকেই তো দেখে! প্রোফেসররা দেখেন চুরি করে। সিনিয়ররা দেখে সোজাসুজি, কেউ কেউ কমেন্ট করে যায়। ‘উরি শাবাস— কী মেখেছিস রে?’ এক সিনিয়র সেদিন বলতে বলতে চলে গেল। আর আমার নিজের ব্যাচ-মেটগুলো? ওগুলোর তো এখনও গোঁফে দুধ লেগে রয়েছে। তবু কতকগুলো গায়ে পড়ে ভাব করতে আসে। অন্যগুলো এখনও অত বোঝেসোজে না। তার মধ্যে ইনি কে তালেবর এলেন, এখনও পিঠে মাস্টারমশাইয়ের বেতের দাগ, আমার যাওয়া-আসার পথে চোখ পেতে দাঁড়িয়ে থাকেন? এটা যদি আমাদের পাড়া হত, আমাকে বলতে হত না, রুডি মাইকেল আসলাম আমার বন্ধুরা ওর ঠ্যাং-ফ্যাং ভেঙে দিত।

    দিয়া খুব চেষ্টা করেছিল যেন আমি গার্লস কলেজে যাই। কেন তা জানি না। গার্লস কলেজে গেলেই ছেলেদের সঙ্গে হুজ্জোতি করব না, এ গ্যারান্টি দিয়াকে কে যে দিল! স্কুলিং তো হয়েছে রাম-কনজারভেটিভ স্কুলে, তাতে কি আমার ছেলে বন্ধুর সংখ্যা কিছু কম হয়েছে? যতক্ষণ স্কুলে থাকছি লালপাড় সাদা শাড়ি পরে, খালি পায়ে হাত জোড় করে ক্লাস করেছি, যেন সন্ন্যাসিনী এই হলাম বলে। স্কুল বাসে যাতায়াত, একেবারে এয়ার-টাইট। ওয়াটার-টাইট। তাতে কিছু ইতর বিশেষ হয়েছে? মল্লিকদের বইয়ের দোকানে সন্ধে না হতেই আড্ডাও কমেনি, ওদের সঙ্গে দল বেঁধে সিনেমা কি রেস্টুরেন্ট যাওয়াও বন্ধ থাকেনি। দিয়া অবশ্য মুখ ফুটে বলেনি কিছু, কিন্তু দিয়ার মনের কথাই যদি পড়তে না পারব, তো দিয়ার আঁচল আর স্কার্টের ছায়ায় বড় হলাম কেন?

     

    আরও দেখুন
    অনলাইনে বই
    Library
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা ই-বুক রিডার
    Books
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    অনলাইন বুকস্টোর

     

    ক’দিনই সেই গাঁইয়াটা বাড়ি আসার সময়ে আমাকে ফলো করছে। আমার ট্রামে উঠেছিল। দু তিনটে সিট পেছনে ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে ছিল, ভেবেছে আমি দেখতে পাইনি। অগত্যা আমায় ফট করে নেমে যেতে হল। ইচ্ছে হয়ে থাকে সোজাসুজি এসে আলাপ কর না বাবা। লুকিয়ে-চুরিয়ে পেছন-পেছন আসা—এ সব আবার কী? মতলব কী কে জানে? পার্ভার্টেড হতে পারে। সাবধান হওয়া ভাল। আজকাল নানারকম অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে।

    কলেজ স্ট্রিটে নেমে গেলাম। ওমা দেখি, ও-ও নেমেছে। স্টপে দাঁড়িয়ে থাকি। দেখি কী করে। একটু ইতস্তত করল, যেন কিছু বলবে। বল বাবা বলে ফ্যাল, বুকখানা হালকা হয়ে যাবে। নাঃ সরু মতো একটা গলির দিকে পা বাড়াল। কলেজ রো। যাক। ও গলিটাতে ঢুকে যাওয়ার পর আমি হ্যারিসন রোড ক্রস করে বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ঢুকি। বই দেখতে দেখতে চলে যাই ইউনিভার্সিটি ইনস্টিট্যুট পেরিয়ে কলেজ স্কোয়ারের ওদিকে। ও দিক দিয়ে বেরিয়ে আবার ট্রাম ধরব। লেঃ এবার ঘুরে মর। আলাপ করতিস লক্ষ্মী ছেলের মতো তো তোকে নিয়ে কফি-হাউজে ঢুকতাম। চিকেন ওমলেট খাওয়াতাম। ঘণ্টা দুয়েক তো অন্তত গল্প, আড্ডা হতই। কথা-টথা না বলে একটা ব্লাইন্ড লেনে ঢুকে গেলি। বেরিয়ে দেখবি আমি হাওয়া। যতদিন গাড়লের মতো ফলো করবি এমনি পিছলে পিছলে বেরিয়ে যাব। তুই তো চুনো পুঁটি। কত রাঘব বোয়ালকে ঘোল খাইয়ে ছেড়ে দিয়েছি। বাগবাজার থেকে ওয়েলেসলি পর্যন্ত সমস্ত গলিঘুঁজি আমার হাতের পাতার মতো চেনা। যে কোনও মুখ দিয়ে ঢুকে আবার যে কোনও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারি। প্রত্যেক পুজোর সময়ে নতুন নতুন আউটলেট বার করি। মাইকেলরা আমাকে বলে বান ফিশ। বান মাছ সাপের মতো দেখতে। মোটা সোটা। আমি নাকি ওই স্বাস্থ্যবান দুরন্ত মাছটার মতো সারা উত্তর কলকাতা মধ্য কলকাতা সাঁতরে বেড়াই।

     

    আরও দেখুন
    Library
    অনলাইন বুকস্টোর
    লাইব্রেরি
    বুক শেল্ফ
    গল্প, কবিতা
    বইয়ের তালিকা
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    নতুন বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই

     

    বাড়ি যাওয়ার দুটো রাস্তা আছে আমার। সার্কুলার রোড দিয়ে ট্রামে করে সোজা চলে যাওয়া যায়। এলিয়ট রোডে নেমে পড়লেই হল। হাতে সময় থাকলে আমার এই আনরোম্যান্টিক পথ ভাল লাগে না। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণের মেয়েদের সঙ্গে চলে যাব চৌরঙ্গি। লিন্ডসে দিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে ঢুকব। এইখানে চৌরঙ্গি লেন, রিপন স্ট্রিট একটু এগিয়ে রয়েড স্ট্রিট এইসব আমার প্রিয় জায়গা। চা কফি আর ভাজা মাংসের গন্ধে বাতাসটা ভারী। হঠাৎ ঢুকলেই গন্ধটা এসে সোজা নাকে ধাক্কা দেয়। জিভে জল এসে যায়। পেটে খিদে থাকলে তো কথাই নেই। আর ক্লান্ত থাকলে? কফির গন্ধে সঙ্গে সঙ্গে চাঙ্গা।

    আমাদের বাড়িটা একটু ভেতর দিকে। ঠিক ট্রাম রাস্তার ওপরে নয়। বাড়িটা দিয়ার। তবে দিয়া বা দিদিমা বলে দিয়ার মানেই আমার। দিয়ার যা কিছু সব আমিই পাব। টাকা পয়সা দিয়ার নেহাত মন্দ নয়। চৌরঙ্গি লেনে একটা রিপন স্ট্রিটে দুটো তিনখানা বাড়ি দিয়ার। আগাপাশতলা ঠাসা ভাড়াটে। অ্যাংলো ইন্ডিয়ান, আপ-কানট্রি মুসলিম, বাঙালি মুসলিম। অনেক দিনের ভাড়াটে সব। আগেকার রেটে ভাড়া। তাই তিনটে বাড়ি শুনতে যতটা, আয় ততটা নয়। তবে দিয়ার যখন অসুখ করেছিল, স্টিফেনের সঙ্গে গিয়ে আমি ওদের কাছে অ্যাপীল করি, ওরা সকলেই প্রায় ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছিল। দোকানগুলো তো বটেই, যারা বসবাস করে তারাও। দেয়নি খালি আকবর আলি, মিসেস ডি-সুজা আর রবিনা পার্কার। আকবর আলি ওখানেই একটা খাবার দোকানে কাজ করে। দুটো বিবি আর সাতটা ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকে। ও বেচারা আর কী করে দেবে? বলেছিল— ‘আল্লাহ্‌ দিলে আমিও বিবিজিকে দেব, ঠকাব না।’ মিসেস ডি-সুজা নিজে থাকেও বটে, একটা মস্ত হলও আছে ওর কাছে। সেই হলে মিসেস ডি-সুজার শাশুড়ির ডান্স-স্কুলে আমার দিয়াও না কি কাজ করেছে একদিন। মিসেস ডি-সুজার আলাদা খাতির দিয়ার কাছে। বন্ধুও তো ছিল দু’জনে। তার ওপরে মিসেস ডি-সুজা এখন পায়ের বাতের জন্য নাচ-স্কুল প্রায় বন্ধই করে দিয়েছে। ওর ছেলে বনি অবশ্য জাহাজে কাজ করে, অনেক মাইনে পায়। কিন্তু সে আছে নিজের তালে। মাকে কিছু দেয় কি না কে জানে! কিন্তু রবিনা পার্কার বেশ শাঁসালো পার্টি। স্টিফেন বলে ওর প্রচুর ইনকাম। স্কুল প্রেমিসেই রিসেসের সময়ে আধঘণ্টা ও বাচ্চাদের হোম টাস্ক করিয়ে দিয়ে রোজগার করে, ছুটির পর এক ঘণ্টা স্কুলের ক্লাসরুমেই পড়ায়। তারপর আবার কাছাকাছি কোনও বাচ্চার বাড়ি মস্ত একখানা ক্লাস করে। তা ও যা ঝগড়াটে! আমাকে তো স্রেফ হাঁকিয়ে দিলে। দিক, এখন দিক। আমি যখন বাড়িগুলোর মালিক হব, তখন দেখব কেমন না দেয়।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা কৌতুক বই
    ডিজিটাল বই
    বই
    বাংলা সাহিত্য
    গল্প, কবিতা
    লেখকের বই
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    ডিকশনারি

     

    তবে এসব বাড়ি মুরগির খাঁচার মতো। আসল বাড়ি হচ্ছে দিয়ার বাড়ি। দাদা যে রুচিশীল মানুষ ছিল সেটা দিয়ার বাড়ি দেখলেই বোঝা যায়।

    লাল ইঁটের দোতলা বাড়ি। থামগুলোর ওপরটা সাদা লতাপাতার কারুকাজ করা। সবুজ দরজার পাল্লাদুটোয় তিনটে তিনটে ছটা পদ্ম। পেতলের কড়াগুলো বালার মতো। ঢুকেই উঠোন। সুন্দর কুচি-কুচি পাথর বসানো উঠোন। দিয়ার শখের গাছগুলো টবে করে মাঝখানে থাকে। অ্যারিকা পাম, নানান জাতের ক্রোটন, রবার, বেশ কয়েকরকমের ফার্ন, প্রকাণ্ড একটা টবে শিউলি গাছ আছে একটা, শিউলি নাকি দাদার প্রিয় ফুল ছিল। দাদার দেশের বাড়ির চত্বরে সারা শরৎকাল জুড়ে শিউলির কার্পেট বিছিয়ে থাকত। কলকাতার বাড়িতে দাদা সেই শিউলির জন্যে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলত, তাই দিয়া টবে শিউলিগাছ করেছিল।

    আমাদের সিঁড়িগুলো চওড়া, খুব উঁচু ধাপ নয়। মাঝের চাতালটাতে দুদিকে দুটো বড় বড় ছবি আছে একটা কুইন আলেকজান্দ্রার, আরেকটা হেস্টিংসের সময়কার কলকাতার। ফীটনে চড়ে সাহেব মেমসাহেবরা বেড়াতে বেরিয়েছে। ঘোড়ায় চড়ে সৈনিক যাচ্ছে। নতুন তৈরি সব প্রাসাদ, দূরে দূরে। কত ফাঁকা তখন এদিকটা! কী চওড়া রাস্তা!

    কুইন আলেকজান্দ্রার ছবির একটা গল্প আছে। গল্পটা খুব মজার। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে এই ছবির গলায় মুক্তোর চোকার দেখে নাকি দিয়া খুব মুগ্ধ হয়ে যায়। দাদা তখন চুপিচুপি ওই রকম চোকার করিয়ে দিয়ার জন্মদিনে উপহার দেয়। তখন দিয়া আবদার করেছিল আলেকজান্দ্রার ওই ছবিটাও তার চাই, দিয়া গলায় চোকার পরে আলেকজান্দ্রার ছবির সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেখবে। ভিক্টোরিয়া থেকে ওই ছবি দাদা কত টাকা দিয়ে, কীভাবে কিনেছিল তা জানি না। কিন্তু দিয়ার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়েছিল। ভালই করেছিল দিয়া আবদার করে। ওই চোকার আমি ব্যাংকের লকার থেকে বার করে দেখে এসেছি। দা-রুণ! দিয়ার অন্যান্য গয়না আর টাকা কড়ির মতো ওটাও আমার।

    দোতলায় আমাদের চারটে মস্ত বড় বড় শোবার ঘর। দিয়ার পাশের ঘরেই থাকি আমি। আগে আমাদের সব ঘরে ওয়াল-টু-ওয়াল কার্পেট ছিল। সেসব দিয়া তুলে দিয়েছে। যত দিন যাচ্ছে শহর নোংরা দূষিত হয়ে যাচ্ছে, এখন তাই খোলা মেঝে, প্রতিদিন ঝকঝকে করে পরিষ্কার করা হয়। এতটুকু ধুলো ঘরে থাকলে দিয়ার টান বাড়ে, তখন যা কষ্ট পায় বেচারি, অতি বড় শত্রুও দেখলে আহা আহা করবে। তবে দাদার আমলের আসবাব দিয়া একটাও বদলায়নি। আমাদের প্রত্যেক খাট, চেয়ার টেবিল আলমারির নকশা পুরনো ধরনের। ফুল লতাপাতার কারুকাজ-অলা। প্রত্যেকটি আসবাব মেহগনির। কয়েকটা আছে বার্মা টিকের। আমার পড়ার টেবিল কাম দেরাজটা ওয়ল নাটের। এগুলো সব আমাকে চিনতে, যত্ন করতে শিখিয়েছে দিয়া। পুবের বারান্দা ভর্তি আমাদের ফুল গাছ। সব সিজন ফ্লাওয়ার অবশ্য।

     

    আরও দেখুন
    ডিকশনারি
    Books
    ডিজিটাল বই
    বই ডাউনলোড
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    অনলাইনে বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বইয়ের
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ

     

    এগুলো প্রতি বছর বর্ষায় পোঁতা হয়। শীতে ফুল দিয়ে সব গাছ নেতিয়ে যায়। হলুদ আর ব্রাউনের ভ্যারাইটি করি আমরা। গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্র মল্লিকা, অ্যাসটার, সূর্যমুখী—সব হলুদ আর ব্রাউন। আমাদের অ্যালসেশিয়ানটারও নাম গোল্ডি। গোল্ডির মায়ের নামও ছিল গোল্ডি, তার আগে যে অ্যালসেশিয়ান ছিল তারও নাম গোল্ডি। গোল্ডি ছাড়া দিয়া থাকতে পারে না। গোল্ডি হওয়া চাই, আর অ্যালসেশিয়ান হওয়া চাই। না হলে দিয়ার মন উঠবে না।

    দিয়া অবশ্য বলে এই বাড়ির থেকে মুসৌরিতে আমার বাবা-মার বাড়ি অনেক সুন্দর। তার সব জানলা কাচের, মেঝে ওক কাঠের, কী সুন্দর একটা গন্ধ বেরোয় সেই সব মেঝে দরজা-জানলা দিয়ে। কথাটা সত্যি। কিন্তু ওই বাড়ির চারপাশটাও দেখতে হবে। সেখানে এরকম নোংরাও নেই, ঘিঞ্জিও নেই। উপরন্তু চারদিকে দেওদার পাইনের সারি, চমৎকার হাওয়া, আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে নেই কোনও স্কাইস্ক্র্যাপার। এই সব সুবিধেগুলো তো মুসৌরির বাড়ির আছেই।

    মুসৌরিতে স্কুলও আছে ভাল। তেমন দরকার হলে দিল্লিতে পড়তে পারতাম। কিন্তু আমি মায়ের কথা শুনিনি। এগারো বারো বছর বয়স অবধি আমি কলকাতার এই গলিতে, দিয়ার কাছেই মানুষ, আমার দিল্লি ভাল লাগে না। মুসৌরি ভাল না লাগার অবশ্য অন্য কারণ আছে। সে যাই হোক, আমার এই এঁদো কলকাতাই ভাল। আমি এঁদো, আমার কলকাতাও এঁদো।

    অনেক দিন পর্যন্ত আমার স্কুল ছিল আটটা থেকে একটা। স্কুলের পরে গাড়ি ঘোড়া এড়িয়ে ধর্মতলার ভিড়ের মধ্যে দিয়ে স্টিফেনের সঙ্গে বাড়ি ফিরেছি। ট্রাম চলার শব্দ, বাস চলার ঘষ্‌ ঘষ্‌ আওয়াজ, স্রেফ অনেক মানুষের একসঙ্গে চলাফেরার দরুন একটা চাপা আওয়াজ রাস্তা ভরে রাখত, এই আওয়াজ না থাকলে আমি ঘুমোতেই পারতাম না। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলে খালেদা আমার জন্যে লুচি আর চিংড়িমাছ-পেঁয়াজকলি দিয়ে চচ্চড়ি নিয়ে আসত রুপোর রেকাবিতে, এইগুলো আমার প্রিয় জল-খাবার। কিন্তু, এই সময়ে। স্কুল থেকে ফিরে দুপুরবেলায়। সময়টা যদি বিকেল, বা সন্ধে হয়, চায়ের গন্ধ ওঠে বাড়ির বাতাসে, গলি দিয়ে কফি আর কাবাব-এর খদ্দেরদের আনাগোনা বেড়ে যায়! তখন এই খাবার আর চলবে না। তখন চা-এর সঙ্গে মাফিন, কিংবা পেস্ট্রি, দোকান থেকে কিনে-আনা পসিন্দা কি শামি কাবাব এই হবে আমার টিফিন। সে যাই হোক, দুপুরে বাড়ি ফিরে পেঁয়াজ-কলির চচ্চড়ি দিয়ে লুচি চিবোতে চিবোতে আমি পায়রাদের গান শুনতাম।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বই ডাউনলোড
    বইয়ের
    লাইব্রেরি
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা বই
    বাংলা অডিওবুক
    গল্প, কবিতা

     

    সিঁড়িতে বসে বসে সাধারণত আমি স্কুলফেরত বেলাটা পুরোই কাটিয়ে দিতাম। পায়রাদের গান শুনে। এই সময়ে গোল্ডি এসে আমার গা ঘেঁষে বসত। গোল্ডির গায়ে মাথা রেখে আমি ঘুমিয়ে পড়তাম। গোল্ডির গায়ের গন্ধ, পায়রাদের গানের গুব গুব আওয়াজ আর পেঁয়াজকলির চচ্চড়ির স্বাদে ভরা দুপুরবেলা আমি মুসৌরিতে কোথায় পাব?

    আমার দিয়া আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। তাকে ছেড়েই বা আমি অতদিন থাকব কী করে?

    দিয়া একটা মোমের পুতুলের মতো। কিংবা একটা মোমবাতির মতো। বাতিদানের ওপরে ক্রিম রঙের মোমবাতিটা বসিয়ে চলে গিয়েছিল কেউ। অনেক দিন ধরে জ্বলছে বাতিটা, মোম গলে বাতিটা ছোট হয়ে গেছে বা অসমান হয়ে গেছে বাতির ওপরটা, গলা মোম জমে জমে আছে বাতিটার গায়ে। তবু বাতিটা জ্বলছে, চারদিকে আভা ছড়াচ্ছে। এই রকম মোমবাতি আমার দিয়া। ক্রিম রঙের শিফন কাপড়ের ওপর প্রচুর লেস দেওয়া নাইট-গাউনটা পরে মেহগনির পালংকে বসে যখন দিয়া প্রে করে শোয়ার আগে হাত দুটো জোড়, চোখ বোজানো, লাল লাল চুলের গুছিগুলো কানের পাশ দিয়ে কাঁধের ওপর এসে পড়ে, তখন এইরকম এক ক্ষয়ে-যাওয়া মোমবাতির সঙ্গে দিয়ার এত মিল পাই যে আমি চোখ ফেরাতে পারি না।

    সামনের দেয়ালে যিশুর ক্রুসিফিক্স। সেই দিকে চেয়েই প্রার্থনা করে দিয়া। পাশের দেয়ালে আমার দাদার ছবি। অয়েল পেন্টিং। দাদাকে কিন্তু একটুও জমিদারের মতো দেখতে নয়। মাথার চুলগুলো খুব ঘন, কিন্তু ছোট ছোট করে ছাঁটা। নাকটা চওড়া। পুরু লাল ঠোঁট। চোয়ালের হাড়গুলো উঁচু-উঁচু। গোঁফদাড়ি পরিষ্কার কামানো। সুট পরা, স্ট্রাইপ দেওয়া টাই। হিরের টাইপিন জ্বলজ্বল করছে। গোলগাল জমিদারের চেয়ে মিলিটারি অফিসারের মতোই দেখায় দাদাকে ছবিতে। দাদা বেশ কালো, দেখতে ভাল নয়, আমার কিন্তু মনে হয় দাদার একটা ব্যক্তিত্ব ছিল বটে। দিয়া যদি হয় একটা মোমবাতি, দাদা তা হলে একটা বন্দুক, একটা রাইফল্‌। বারুদের গন্ধ পাওয়া যায় ছবিটার কাছে গেলেই।

    আমি জন্মাবার অনেক আগে দাদা মারা গেছে। মা-ই বোধহয় দাদাকে ভাল করে মনে করতে পারে না। এতদিন আগেকার কথা সে সব। আমার দাদার জন্যে খুব মন কেমন করে। যে দাদাকে কোনওদিন দেখিনি সেই দাদার জন্যে। স্টিফেন দেখেছে দাদাকে, খালেদাও দেখেছে। খালেদা গল্প করে তার হাতের রান্না খেতে দাদা কেমন ভালবাসত। পান্তাভাতের মধ্যে কাঁচা সর্ষের তেল, কাঁচা পেঁয়াজ আর কাঁচা লংকা দিয়ে সপাসপ মেরে দিত দাদা। খালেদা আর স্টিফেনের কাছে ভাগাভাগি করে দিয়া আর দাদার রোমাঞ্চকর প্রেমের গল্পও আমি শুনে নিয়েছি।

    ওই যে রিপন আর চৌরঙ্গির গলির তিনটে বাড়ি, ওরই একটাতে, তেরো নম্বরে নাকি থাকত দিয়া, তার বুড়ি দিদিমার সঙ্গে। খালেদা আমাকে সবকিছু খুলে বলতে পারে না, আমি কিন্তু এখন বুঝে গেছি। দিয়ার দিদিমা খুব ভাল চরিত্রের মহিলা ছিল না। এমন কী দিয়া তার নিজের নাতনি কি না এ নিয়েও সন্দেহ ছিল। তখন দিয়ার পনেরো ষোলো বছর বয়স। স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। স্টেনোগ্রাফি-টাইপিং শিখছে, আর এসপ্লানেড পাড়া মাতিয়ে বেড়াচ্ছে। যত বাজে ছেলের সঙ্গে আড্ডা। যখন-তখন ওরা এসে ডাকে, দিয়া চলে যায় সিনেমা, চলে যায় রেস্তোরাঁয়, বারে। সে সময়ে মিসেস ডি-সুজার শাশুড়ির নাচের স্কুলেও কমপ্যানিয়নের কাজ করেছে দিয়া। ওখানে নাচ শিখতে আসত বড় ঘরের ছেলেরাও। কত জন দিয়াকে ছেলেমানুষ পেয়ে কত রকমের প্রস্তাব দিয়েছে, দিয়া কোনওটাকে পাত্তা দেয়নি। আমি এখনও চোখ বুজলেই দেখতে পাই আইলিন নামে অপূর্ব সুন্দর সেই হাসিখুশি মেয়েটা লাল স্কার্ট আর পোলকাডটেড টপ পরে ওয়ালজ কি ফক্স-ট্রট নাচছে। ওই সময়কার ছবি আছে দিয়ার অ্যালবামে, বিশ্বাস করা যায় না এত সুন্দর সেই আইলিন।

     

    আরও দেখুন
    লেখকের বই
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    ডিজিটাল বই
    গল্প, কবিতা
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা অডিওবুক
    বাইশে শ্রাবণ

     

    হেসে হেসে ওই সব জমিদার ব্যবসাদারদের ছেলেদের সঙ্গে ফ্লার্ট করছে আইলিন। ওই ছেলেগুলো ক্যাবলা মেরে যাচ্ছে। পাগল হয়ে যাচ্ছে। খালেদা আমাকে ফিসফিস করে বলত—ওই সব বড়লোকের ছেলেরা আইলিনের সঙ্গে ঘুরতে চাইত, হোটেলে ঘর বুক করে একটা রাতও অন্তত কাটাতে চাইত। চাইত গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়বে শহর থেকে দূরে। অনেক আরাম, ঐশ্বর্য, টাকাপয়সা, গয়নাগাঁটির লোভ দেখাত ওরা। আর লোভ দেখাত ভালবাসার।

    —‘আইলিন। আইলিন তোমাকে পেলে আর কিছু চাই না—তুমি আমার হও’—এই রকম গুঞ্জন কানের কাছে করতে থাকলে রক্তে কী রকম দোল লাগে তা তো আমি ভালই জানি। আইলিনেরও নিশ্চয় লাগত। টাকা পয়সা, গয়নাগাঁটির লোভ এড়ানো যায়, ভালবাসার, রোম্যান্সের লোভ এড়ানো খুব শক্ত। তার ওপরে আমরা এই সময়ের মেয়েরা যত প্র্যাকটিক্যাল, যত হিসেবি, আইলিনরা তো তা ছিল না। আইলিন তাই ভেসে যাচ্ছিল। ভাসছিল, আর ভেসে যেতে যেতে বুঝতে পারছিল কত ধানে কত চাল।

    বিনয়ভূষণ চৌধুরী এই সময়েই মিসেস ডি-সুজার ডান্স স্কুলে আসে। আইলিনের আর ভেসে যাওয়া হয় না। আমার দাদার অনেক গুণ। আইলিনের জন্যে সে সর্বস্ব পণ করেছিল। কী-ই বা ছিল তখন আইলিন? একটা সতেরো আঠেরো বছরের ফুটফুটে মেয়ে বই তো নয়! বিনয় চৌধুরী তার জন্যে নিজের জমিদারি টাকা পয়সার আশা ছেড়ে দিল। নিজে ব্যবসা করে এখানে এই কলকাতাতেই টাকা পয়সা করল। এই সব বাড়ি ঘর কিনল। আইলিনকে মানুষ করল, ঠিক যেমন মেয়েকে বাবা মানুষ করে। আইলিন বাড়িতে পণ্ডিতের কাছে সংস্কৃত শিখল, বাংলা শিখল। অনেক ভাল ভাল বই পড়ল। গান শিখল, ভজন, কীর্তন, রামপ্রসাদী। শাড়ি-পরা বাংলা মেয়ে, বাংলা বউ হল। মোচার ঘন্ট থোড়ের ছেঁচকি রান্না করতে শিখল, পরীক্ষা দিয়ে দিয়ে গ্র্যাজুয়েট হল। আমার মা যখন হয়েছে তখন আইলিন পুরোদস্তুর এক মিসেস এলা চৌধুরী।

    আমি বলি—দিয়া, দাদা তোমাকে অত চেষ্টা-চরিত্র করে বাঙালি বউ বানাল। তা তুমি এই শেষ বয়সে কেন আবার মেম-সাহেব হয়ে যাচ্ছ?

    —মেমসাহেব হচ্ছি? হাউ?—দিয়া অবাক হয়ে তাকায়।

    আমি বলি—কেন? তোমার চুলের খোঁপা, বিনুনি কোথায় গেল? চুল কেটে ফেলেছ যে!

    —চুল কাটিনি, বুলা—চুল পড়ে গেছে সব। অত যত্ন করে লম্বা চুল করেছিলুম। অ্যাত্ত বড় খোঁপা হত, এখন চুল তো নয়! যেন টিকটিকির ল্যাজ!

    —আচ্ছা ঠিক আছে, শাড়ি কেন তাহলে পরো না! পরে থাক তো একটা ম্যাক্সি।

    —বুলা, বুড়ো শরীরে আর শাড়ি সামলাতে পারি না রে! কত সুন্দর সুন্দর শাড়ি পরেছি এক সময়ে। ঢাকাই, জর্জেট, মাইসোর সিল্ক, শিফন, জামদানি, বেনারসী, আবার টাঙ্গাইল বুটিগুলো, ধনেখালির ডুরেগুলো, শান্তিপুরের কলকা পাড় হাতি পাড় এক রঙা শাড়ি এ সবও তো কত পরেছি। তোলা আছে কত আমার আলমারিতে। এখন সে সব যেন হাতেবহরে আমাকে গিলতে আসে।

     

    আরও দেখুন
    PDF
    বাংলা ই-বুক রিডার
    গল্প, কবিতা
    অনলাইনে বই
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    Books

     

    সত্যি কথাই, এলা চৌধুরীর সেইসব শাড়িপরা চেহারার ফটোও যেন আমাদের অ্যালবামে আছে। এত সুন্দর করে পরত কে বলবে বাঙালি নয়।

    —আজকাল তুমি তো আর চচ্চড়ি, ঘণ্ট, মাছের তেলের বড়া, ইলিশের পাতুরি এ সব খাও না,—আসলে এইগুলো আমি নিজে খুব ভালবাসি। মিস্‌ করি।

    —সহ্য হয় না বুলা, তা নয়তো চচ্চড়ি আমারও খুব ফেভারিট।

    —তা হলে কেন রাত্তিরে জিসাসের কাছে প্রার্থনা কর?

    —এটা চিরকাল করেছি বুলা। ভক্তির জিনিস, দেবতা, কখনও বদলায় না। ভেতর থেকে কোনও আর্জ না এলে আমি কালী কি কৃষ্ণকে ভগবান বলে প্রণাম করতে পারব না। এ নিয়ে তোর দাদা আমাকে দু-একবার জোর করেছিল। আমি কী বলেছিলুম, জানিস?

    —কী?

    —বলেছিলুম, দেখো পোশাক, খাদ্য, ভাষা এ সবই বাইরের, তাই এগুলো বদলাতে পেরেছি। কিন্তু যিশাস আমার ভেতরের জিনিস। এটা পাল্টানো যাবে না। পাল্টে গেলে আমি আর আমি থাকব না। তুমি আমায় বিয়ে করলে কেন? একজন ফর্সা-দেখে বাঙালি কালীভক্ত মেয়ে বিয়ে করলেই তো পারতে! বাঙালিদের মধ্যে কি ফর্সা নেই? সুন্দরী নেই?

    —কী বলল দাদা?

    —চুপ করে গেল। একদম চুপ। আর কোনওদিন এ সব নিয়ে কিছু আমায় বলেনি।

    এখন শেষ বয়সে দিয়ার ভেতর থেকে, এলা চৌধুরীর ভেতর থেকে কি আইলিন বার হয়ে আসছে? দিয়া হয়তো নিজেও জানে না, কিন্তু ঘটছে ব্যাপারটা।

    যখন মুসৌরি থেকে প্রথম চলে এলুম, তখনই দেখি এই পরিবর্তনটা। রেখে গিয়েছিলাম একজন শাড়ি পরা, পান-খাওয়া, দিয়া। এসে দেখি দিয়া পান খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। রোগা হয়ে গেছে খুব। পায়ের হাতের গাঁটের ব্যথায় ভোগে। আর কাফতান কিংবা ম্যাক্সি পরে থাকে সারাদিন।

    যদি বলি দাদার কষ্ট হবে এলা এরকম বদলে যাচ্ছে দেখে, তখন দিয়া কী বলে জানেন? দিয়া বলে বিনয়ভূষণ এখন শেষ বিচারের দিনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এখন কে এলা কোথায় কী করল দেখবার অবস্থা তার নেই।

    আমি বলি–আঃ দিয়া, কী সব পুরনো পুরনো কথা বলছ, বিনয়ভূষণ এখন অন্য কোথাও জন্মে গেছে। শেষ বিচার টিচার তোমাদের শাস্ত্রের পাতাতেই পাওয়া যায়।

    এই নিয়ে আমাদের মধ্যে খুব তর্ক হয়। দিয়া শেষ বিচার আঁকড়ে থাকে, আমি আঁকড়ে থাকি পুনর্জন্ম। দিয়া আঁকড়ে থাকে যিশুকে, আমি বলি যে নিজেকেই বাঁচাতে পারল না সে আবার আমাদের কী বাঁচাবে? নির্ভর করতে হলে কোনও মানুষের ছেলের ওপর করা ভাল? না মানুষের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিমান কোনও অপার্থিব, অলৌকিক সত্তার ওপর করা ভাল?

    দিয়া বলে—যেটা ট্রুথ, সেটাই আমাদের মেনে নিতে হবে, বিশ্বাস অবিশ্বাসগুলো আমাদের পছন্দ, আমাদের সুবিধে-অসুবিধে মেনে তো হবে না।

    আমি বলি—সত্য কোনটা তুমিও জানো না, আমিও জানি না। আমরা দুজনেই আমাদের পছন্দ, আমাদের সুবিধে-অসুবিধেগুলো অনুযায়ী সত্য সৃষ্টি করছি।

    —আমরা হয়তো জানি না, কিন্তু মহাজনরা তো জানেন। —দিয়া বলে— তাঁদের কথাই সত্য।

    মহাজনদের ওপর অত ভরসা আমার নেই। আর কে প্রকৃত মহাজন এ নিয়েও তো তর্ক হতে পারে। একজন মহাজন হলে আরেকজন আরও বড় মহাজন হতে পারেন। তাঁর চেয়েও বড় হতে পারেন আরেক জন। কার কথা মানব? তাই নিজের বোধ-বুদ্ধিতে যেটুকু বুঝি, সেইটুকুই আমার আসল ভরসা। আর সেই বোধবুদ্ধি বলে মৃত্যুর পরে কে কোথায় যাবে, এ নিয়ে মাথা ঘামিয়ে কোনও লাভ নেই, মৃত্যুর আগে এই জীবনটাতে কোথায় যাচ্ছ, কী করছ সেটাই আসল।

    আমি যাই বলি, দিয়া সেই বিনয়ভূষণেরই আশায় নিজেকে কখনও এলা, কখনও আইলিন বানায় এ বিষয়ে আমার সন্দেহ নেই। দক্ষিণেশ্বরে পুজো দিতে যায়, আবার সেন্ট পলস-এ ক্রিসমাস, গুড ফ্রাইডেতে প্রার্থনা শুনতেও যায় দিয়া, যাকে বলে ‘মাস।’ আর বিনয়ভূষণের লাইব্রেরি? ঠিক সেই একরকম ভাবে রেখে দিয়েছে দিয়া। ঠিক সেই এক জায়গায় ওয়লনাটের ডেস্‌ক, চেয়ার, রকিং চেয়ার একটা বেতের। একটা জার্মান সিলভারের পানের বাটা ডেস্কটার বাঁ দিকে। ডান দিকে রাইটিং প্যাড, পেন হোল্ডার। আমি যদি লাইব্রেরিতে পড়তে ঢুকি, হয় দিয়া নিজে নয় তো খালেদা, দিয়ার এক নম্বর স্পাই উঁকি মেরে দেখে যাবে আমি কিছু এদিক-ওদিক করছি কিনা। আইভরির পেনহোল্ডারটা কতদিন চেয়েছি। দিয়া খুব আঘাত পাওয়া চোখে চেয়ে বলে—‘ওটা তো তোর দাদার!’ যেন দাদা এখনও বেঁচে আছে, এখনও ব্যবহার করবে এ সব জিনিস!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসমুদ্র-যাত্রা – বাণী বসু
    Next Article যে যেখানে যায় – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }