Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সংশয়ী রচনাবলী – আহমদ ছফা

    লেখক এক পাতা গল্প296 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. ভালো মানুষদের কথা

    একশ বছর আগে জেরেমি বেনথাম নামে একজন দার্শনিক সর্বসাধারণের কাছে মন্দলোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলা যেদিন সে নামটির সঙ্গে আমার সর্বপ্রথম পরিচয় হয় সেদিনটির কথা এখনো আমার খেয়াল আছে। রেভারেণ্ড সিডনি স্মিথ বলেছিলেন। বেনথামের মতে মৃতা মাতামহীর মাংস দিয়ে স্যুপ তৈরি করা উচিত। নীতিগতভাবে এ ধরণের ব্যঞ্জন তৈরি করার কাজকে তখন আমার কাছে রীতিমতো বিগর্হিত ঠেকেছিল। সুতরাং আমার মনেও বেনথাম সম্পর্কে খারাপ ধারণা বদ্ধমূল হলো। এর অনেক পরে আমি আবিষ্কার করলাম, যেভাবে প্রচলিত পদ্ধতি অনুসারে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিরা সতোর সুফল ভোগ করার জন্যে যে ধরণের বেপরোয়া মন্তব্য করে থাকে, উক্ত মন্তব্যটিও ছিল সেরকমের একটি। তার বিরুদ্ধে সাংঘাতিক অভিযোগের কারণও আমি অনুধাবন করতে সমর্থ হলাম। তাহলে তার প্রদত্ত সংজ্ঞা সেখানে তিনি বলেছেন, সেই-ই ভালো মানুষ যে ভালো কাজ করে। সৎ পাঠকের মনে সংজ্ঞাটা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে ধারণা জন্মাবে তা সকল রকমের বিশুদ্ধ নৈতিকতার পরিপন্থী। যেখানে কান্ট বলেছেন, শুধুমাত্র উপকৃত জনের প্রতি স্নেহাধিক্যবশত কৃতকর্মসমূহ ধর্মীয় আখ্যা পেতে পারেনা, সেখানে তিনি কিরকম অভিভূত। কিন্তু নৈতিক নিয়মের প্রেরণায় কৃতকর্মসমূহ অপ্রিয় হলেও ধর্মীয়। এও আমরা সকলে জানি যে, ধর্মই ধর্মের শেষ পুরস্কার: কিন্তু গভীরভাবে অনুসন্ধান করলে তেমনি এটাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেমন একজন রোগী নিজেই নিজের শাস্তি ভোগের কারণ। সুতরাং কান্ট বেনথামের চেয়ে আরো একজন বিনম্র চিন্তাবিদ এবং তিনি তাদেরই কল্যাণ কামনা করেন যারা ধর্মকে ধর্মের কারণেই ভালোবাসেন।

    বেনথাম ভালো মানুষের পুরোপুরি সংজ্ঞায়ন করে প্রভূত কল্যাণ করেছেন। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী চল্লিশটি বছর বাস্তব বুদ্ধিবৃত্তিক এবং নীতির দিক দিয়ে অবিশ্বাস্য রকমে উন্নততর যুগ। এই সময়েই হয়েছিল সংস্কার আইন, যার ফলে পার্লামেন্ট সদস্যপদের আসন অধিকার করল মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়, পূর্বের মতো অভিজাত শ্রেণী নয়। এই আইনটি ছিল ইংল্যাণ্ডে গণতন্ত্রের প্রবর্তন করার পদক্ষেপসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং এরই সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংস্কারও সাধিত হলো! যেমন উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে জ্যামেইকার দাস বৃত্তির অবসান। এ সময়ে ছাৈটখাট চুরির অপরাধেও মানুষকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানো হতো, কিন্তু অতি অল্প সময়ের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডকে শুধু খুন অথবা অনুরূপ অপরাধের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ করা হলো। যে শস্য-আইনের ফলে খাদ্যবস্তু দুর্মূল্য হয়ে গেল এবং দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করল, ১৮৪৬ সালে তা রহিত করা হলো। ১৮৭০ সালে বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তিত হলো। ভিক্টোরিয় যুগের নিন্দা করা এখন প্রায় ফ্যাশনে দাঁড়িয়েছে; কিন্তু আমার ধারণা সে যুগের মহৎ গুণাবলীর যে প্রমাণ আমরা পেয়ে থাকি, আমাদের যুগে তার অর্ধেকও বিরল। সে যা হোক, তার আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক কিন্তু আমার যা বলবার বিষয়, তাহলো ঐ বছরগুলোতে যে উন্নতি সাধিত হয়েছিল তার অধিকাংশ অবশ্যই বেনথামের প্রভাবে হয়েছিল। এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে শতাব্দীর শেষভাগে ইংল্যাণ্ডের জনসাধারণ যে রকম সুখ-সন্তষ্ট দিন যাপন করত তেমনটি আর কখনো ছিল না। বেনথামের দর্শন এত অগভীর ছিল যে, সে অগভীরতাকে তিনি তার সাফল্য জ্ঞান করতেন। আমাদের আলোকিত যুগে অনায়াসে বলে দিতে পারি যে, ও জাতীয় মতবাদ কিংবা ধারণা অবিশ্বাস্য এবং অযৌক্তিক হলেও বেনথামের মত আমাদের উপযোগবাদ পরিহার করার ক্ষেত্রে আবিষ্কার করতে সাহায্য করবে।

    ভালোমানুষ বলতে কি বোঝায় তা আমরা সকলেই জানি। আদর্শ ভালোমানুষ মদ খান না, ধুমপান করেন না, খারাপ বাক্য পরিহার করেন, ভদ্রলোকের সঙ্গে এমন সংযতভাবে আলাপচারী করেন যেন সেখানে ভদ্র মহিলা আছেন। নিয়মিত গির্জায় যান এবং সব বিষয়ে সঠিক ধারণা রাখেন। অন্যায় করার ব্যাপারে তার হৃদয়ে প্রবল ভীতি বিরাজিত এবং তিনিও জানেন যে, পাপ বাঁচিয়ে জীবন ধারণ করা হলো আমাদের বেদনার্ত কর্তব্য, তার পরেও পাপের ব্যাপারে তার আতঙ্কিত মনোভাব থেকে যায়। মধ্যবয়স্ক নাগরিকেরা যে সকল মতামত অবলম্বন করে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহণ করেছেন, যখন তাদের জ্ঞানের পরিপক্কতা সম্বন্ধে প্রশ্ন করে বসেন কেউ তাদের অজ্ঞতা থেকে তরুণদেরকে রক্ষা করাকে নিজেদের পবিত্র কর্তব্য বলে মনে করেন। পেশাগত কঠোর পরিশ্রম ছাড়াও ভালো লোকেরা ভালো কাজে প্রচুর সময় ব্যয় করেন। যেমন তিনি দেশকে সামরিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার উৎসাহ দিতে পারেন, কারখানার উন্নতি বিধান করতে পারেন। কারখানার মজুর এবং তাদের সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে সহনশীলতা এবং ধর্মের বাণী প্রচার করতে পারেন, যাতে তারা আসল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে শাস্তি ভোগের কারণ না হয়। অথবা তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি হয়ে বিপরীত আদর্শের অধ্যাপক নিযুক্ত করে জ্ঞানের উদ্দেশ্য প্রণোদিত পক্ষপাতমূলক শ্রদ্ধার নিরসন করতে পারেন, সর্বপরি তার নৈতিকতা সংকীর্ণ হলেও অবশ্যই অক্ষত থাকা চাই।

    উল্লিখিত অর্থে একজন ভালো লোক একজন মন্দ লোকের তুলনায় অধিকতর ভালো করতে পারে কিনা, সে ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। আমি মন্দ বলতে যা বুঝি তা এতক্ষণ যা বলে আসছি তার বিপরীত। একজন মন্দ লোক মদ খায়, ধুমপান করে, তার কাজে ব্যাঘাত ঘটালে মন্দ কথাও উচ্চারণ করে এবং তার কথোপকথন সবসময় ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হবার উপযুক্ত নয়। রোববারে গির্জায় যাওয়ার পরিবর্তে অন্য কোথাও গিয়ে সে বেশ মজা করে কাটায়। তার কতকগুলো মতামত খুবই মারাত্মক। যেমন, ধরুন, সে মনে করে, আপনি যদি শান্তি কামনা করেন তাহলে আপনাকে শান্তির প্রস্তুতি নিতে হবে, যুদ্ধের নয়। মন্দকাজ করার ব্যাপারে সে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে যেমন সে করে, থাকে তার মোটর গাড়ির কলকজা বিগড়ে গেল তার যুক্তি হলো খোতবা এবং কারাগার ফাটা টায়ার মেরামত করার চেয়ে পাপের বিশেষ কিছু করতে পারে না। মন্দ চিন্তা করার ব্যাপারেও সে অধিকতর বিকৃত রুচির পরিচয় দিয়ে থাকে। তার মতে মানুষ স্বাভাবিকভাবে যে সব চিন্তা করে তাকে বলা হয় মন্দ চিন্তা। আর যেগুলোকে সৎ চিন্তা বলা হয়ে থাকে, তা তোতা পাখির মতো এক বুলিকে বারবার আওড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়। এরই ফলে কতকগুলো অনভিপ্রেত বদ্ধমূল ধারণার প্রতি সহানুভূতি আকর্ষিত হয়। তার কাজের সময়ের বাইরের কার্যাবলী তার কাছে খুবই উপভোগ্য হতে পারে অথবা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর গায়ে আঁচড় লাগেনা এমন কতকগুলো প্রতিকারসাপেক্ষ অপরাধের আধিক্যবশতঃ চরম অসন্তেষের মধ্যে জীবন কাটায়। আবার এটাও খুব সম্ভব যে, একজন ধার্মিক যেমন করতে পারে তেমনিভাবে সে নৈতিক বিচ্যুতিগুলো গোপন করে উঠতে পারে না। বরঞ্চ বিকৃত মানসিকতার উপর নির্ভর করে কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করার চাইতে সৎ হওয়াটাকে অনেক বেশি ভালো মনে করেন। একজন লোক যখন এক বিশেষ কোন অথবা কতকগুলো দিকে কৃতকার্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, তখন সম্মানীয় নাগরিকেরা তাকে জজ ম্যাজিষ্ট্রেট, ইত্যাদি পদ এমনকি মাস্টারের চাকুরি পর্যন্ত অধিকার করতে দেয় না। এসকল পদ শুধুমাত্র ভালো মানুষের জন্যই অবারিত।

    এ সকল ব্যাপার কমবেশি আধুনিক। অনুরূপ ব্যবস্থা ক্রমওয়েলের সময়ে পিউরিটানদের অল্পসময় কালীন রাজত্বকালে ইংল্যাণ্ডে স্বল্পকালের জন্য বিদ্যমান ছিল এবং পরে তাদের দ্বারা ঐগুলো আমেরিকাতে প্রবর্তিত হয়। ফরাসি বিপ্লবের পরে যখন জেকোবিনবাদের বিরোধিতা (Jacobinism) করা আজকের যুগের বলশেভিকদের বিরোধিতা করার মতো ভালো কাজ বিবেচিত হতো, তখন সারা ইংল্যাণ্ডে এর পুনরাবির্ভাব হয়নি। ওয়ার্ডসওয়ার্থের জীবনে এ পরিবর্তনকে সুস্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করা যায়। যৌবনে তিনি ফরাসি বিপ্লবকে সমর্থন করে ফরাসিদের চলে গেলেন, কন্যা সন্তাটিকে পরিত্যাগ করলেন, সুনীতি অনুসরণ করে জীবন অতিবাহিত করতে থাকেন এবং খারাপ কবিতা লিখতে থাকেন। কোলরিজের জীবনেও অনুরূপ পরিবর্তন ঘটে, যখন তিনি খারাপ ছিলেন তখন ‘কুবলা খান কবিতা লিখেন, পরে ভালো হয়ে লিখলেন ধর্মতত্ত্ব।

    ভালো থাকার সময় ভালো কবিতা লিখছেন, এমন দৃষ্টান্ত কোন কবির জীবনে খুঁজে পাওয়া একরূপ অসম্ভব। রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার দায়ে দান্তেকে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল। শেক্সপিয়রকে তার সনেট দ্বারা বিচার করা হলে আমেরিকার স্বরাষ্ট্রবিভাগের কর্মচারীরা সেগুলোকে নিউইয়র্ক শহরে ঢুকবার অনুমতি দিতো না। ভালোমানুষের আসল পরিচয় হলো তিনি সরকারকে সমর্থন করেন। সুতরাং ক্রমওয়েলের সময়ে মিলটন ভালো মানুষ ছিলেন, তার আগে কিংবা পরে নয়, কিন্তু এই পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়েই তিনি অধিকাংশ কবিতা রচনা করেছেন। প্রকৃত প্রস্তাবে তার তখনই অধিকাংশ কবিতা লিখিত হয়েছে যখন তিনি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে ফাসী থেকে অল্পের জন্য রেহাই পান। কবি ডান সেন্টপলের ডিন হওয়ার পরে ধার্মিক হয়ে যান, কিন্তু তার অধিকাংশ লেখা হয় তার আগে। সে সকল কবিতা লিখেছেন বলে তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রচুর কেলেংকারীর সৃষ্ট হয়েছিল। যৌবনে সুইনবার্নও ছিলেন মন্দ লোক, তখনই তিনি স্বাধীনতার জন্য যারা সংগ্রাম করে, তাদের উদ্দেশ্যে’ দ্য সংস বিফোর সানরাইজ (The songs before) সূর্য উঠার আগের গান লিখেছিলেন। বুড়ো বয়সে তিনি ধার্মিক হয়ে গিয়েছিলেন এবং তখনই তিনি বোয়ারদের উপর বর্বরোচিত আক্রমনের প্রতিবাদের কলম ধরেছিলেন এবং তাদের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের নিন্দা করেছিলেন। আর দৃষ্টান্ত বাড়িয়ে কোন লাভ নেই। ভালো সম্বন্ধে যে ধারণার মানের কথা সমাজে প্রচলিত রয়েছে তা যে ভালো কবিতা জন্ম দিতে পারেনা, সে সম্বন্ধে অনেক কিছুই বলা হয়েছে।

    অন্যদিক দিয়ে দেখতে গেলেও ব্যাপারটা সত্যি। আমরা সকলে জানি যে ডারউইন এবং গ্যালিলিও উভয়ে মন্দ লোক ছিলেন। মৃত্যুর পর একশ বছর অতীত না হওয়া পর্যন্ত স্পিনোজাকেও মন্দ লোক ভাবা হতো। নির্যাতনের ভয়ে দেকার্তে বিদেশ চলে যান। রেনেসাঁ যুগের সকল শিল্পী ছিলেন খারাপ লোক। সাধারণভাবে বলতে গেলে, যারা দমন করা যায় এমন সব দোষের বিরোধিতা করতেন তাদেরকেই মন্দ লোক ভাবা হতো। আমি লণ্ডনের এমন এক অংশে বাস করি যার অংশবিশেষ ধনী এবং অংশবিশেষ দরিদ্র। শিশু মৃত্যুর হার অস্বাভাবিক ভাবে বেশি এবং ধনীরা দুর্নীতি এবং জোরের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে (Local Government) নিয়ন্ত্রণ করে। তারা শিশুকল্যাণ এবং জনস্বাস্থ্যের খাতে ব্যয় কমিয়ে দেবার জন্যে ক্ষমতা ব্যবহার করে। একজন চিকিৎসককে কম দামেই এ শর্তে নিয়োগ করা হয়েছে যে তিনি শুধু অর্ধেক সময়ের জন্য রোগীদের দেখবেন। গরীবের ছেলের জীবনের চাইতে ধনীদের জন্য ভালো ডিনারকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে না করলে কেউ স্থানীয় প্রভাবশালী লোকদের শ্রদ্ধাভাজন হতে পারে না। একই ব্যাপার আমার পরিচিত পৃথিবীর সর্বত্রই সত্য। এ থেকে আমরা ভালো লোকের গুণাগুণ কি তা অতি সহজে বুঝতে পারি, ভালো লোক হলেন তিনি যার মতামত এবং কার্যাবলী সরকারের কাছে প্রিয়।

    অতীতের যে সকল খারাপ মানুষ দুর্ভাগ্যবশত প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, তাদের সহ্য করা ভয়ঙ্করভাবে বেদনাদায়ক। সুতরাং ভালো লোকদের ভালো ধ্যান-ধারণার দিকে নজর দেয়া যাক।

    স্বভাবতই তৃতীয় জর্জ ছিলেন একজন ধার্মিক ব্যক্তি। পিট যখন তাকে দিয়ে ক্যাথেলিকদের মুক্তি ঘোষণা করাতে চেষ্টা করলেন। (তখন ক্যাথোলিকদের ভোটের অধিকার ছিলনা) তখন এ অজুহাতে তার সঙ্গে একমত হননি যে তা করলে তিনি রাজ্যাভিষেকের সময় যে শপথ করেছেন তা ভঙ্গ করবেন। ন্যায়ত তিনি তাদের মুক্তি ঘোষণার দ্বারা ভালো হবে, এ যুক্তি দ্বারা পরিচালিত হতে চাননি! তা ভালো হবে কিনা তার চাইতে তা ন্যায় কিনা এই বিমূর্ত প্রশ্নই তাকে আলোড়িত করেছিল বেশি। প্রধানতঃ রাজত্বের জন্যই তাকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল, যে কারণে আমেরিকা স্বাধীনতার দাবি করতে লাগলো। কিন্তু তার হস্তক্ষেপ সবসময় সর্বোচ্চ লক্ষ্যের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। ভূতপূর্ব কাইজার সম্বন্ধেও একই কথা বলা যায়, তিনি ছিলেন খাঁটি ধার্মিক, পতনের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত ভগবান তার পক্ষে ছিলেন। এবং (আমি যতটুকু জানি) ব্যক্তিগত কোন পাপ থেকে তিনি সম্পূর্ণ রূপে মুক্ত ছিলেন না। তা সত্ত্বেও আমাদের যুগে এমন একজন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি মানুষের এত বেশি দুর্ভাগ্যের কারণ হয়েছেন।

    রাজনৈতিকদের মধ্যে ভালো লোকের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যাতে করে নামের ধুম্রজালের আড়ালে অন্যেরা তাদের কাজ নিঃসন্দেহে চালিয়ে যেতে পারে। একজন ভালো লোক তার বন্ধুদেরকে নোংড়া কাজের জন্য কখনো সন্দেহ করে না এবং এটাই হচ্ছে তার ভালোত্বের একটা অংশ। জনসাধারণ কখনো ভালো লোকের কার্যকলাপের অন্তরালে যে খারাপ মানুষের খারাপ কাজ থাকতে পারে তা কখনো সন্দেহ করেনা, এটাই হলো ভালো মানুষের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা। এটা সুস্পষ্ট যে এ সকল গুণের সমন্বয়ের ফলে জনসাধারণের কাছে প্রিয় বিবেচিত হন এবং ধনী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের তুলনায় তাদের কাছে জনসাধারণের তহবিল গচ্ছিত রাখা উপযুক্ত মনে করেন। যদিও আমি কোনক্রমে মেনে নিতে পারছিনে, তবু আমাকে বলা হয়েছে, খুব বেশি দিনের ইতিহাস নয়, আমেরিকাতে একজন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, যিনি এ উদ্দেশ্য সাধন করেছিলেন। ইংল্যাণ্ডের হুইটটেকার (Whittaker) যখন তার যশের মধ্যগগনে অবস্থান করছিলেন, তখন তিনি অকলঙ্ক ওমরাহগণ কর্তৃক পরিবেষ্টিত হয়েছিলেন, তার ধার্মিকতার কারণে তারা তার অঙ্কজ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত লাভ করতে পারেনি অথবা পরিচয় থাকলেও তার অঙ্ক সম্পর্কে উচ্চবাচ্য কিছুই করেননি।

    ভালো মানুষদের আরেকটা ব্যবহারযোগ্যতা হলো কাদা ঘাটাঘাটির কারণে অনভিপ্রেত ভদ্রলোকদেরকে রাজনীতির বাইরে রাখা যায়। শতকরা নিরানব্বই জন মানুষ নৈতিক আইন ভঙ্গ করে, কিন্তু সাধারণ্যে প্রকাশ পায়না। নিরানব্বই জনের বেলায় যখন তা প্রকাশ পায় কোন ব্যক্তির সম্বন্ধে, একশর মধ্যে যে একজন মানুষ নির্দোষ তিনি প্রচণ্ড রাগে ফেটে পড়েন এবং অন্যান্য আটানব্বই জন নিজ নিজ অপরাধ প্রকাশ পাবার ভয়ে তার অনুসরণ করে। যখন কোন জঘণ্য মতামতের মানুষ রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করেন, তখন যারা আমাদের প্রাচীন মতামতে মনে প্রাণে বিশ্বাসী তাদেরকে তার ব্যক্তিগত জীবনের কার্যাবলীর প্রতি এমনভাবে নজর রেখে অপেক্ষা করতে হবে যে পর্যন্ত না তারা এমন কিছু আবিষ্কার করতে পারে যা প্রকাশ পেলে তার রাজনৈতিক জীবন ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। তারপরে তাদের জন্য তিনটি পথ খোলা রয়েছে। তার ব্যক্তিগত জীবনের জঘণ্য কার্যাবলী প্রকাশ করে দিয়ে তাকে বিস্মৃতির অতলে ডুবিয়ে দেয়া অথবা প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে তাকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য করা অথবা তাকে ব্ল্যাকমেইল করে প্রচুর অর্থোপার্জন করা-এ তিনটির যে কোন একটি পথ সে অনুসরণ করতে পারে। এ তিনটির মধ্যে প্রথম দু’টি জনসাধারণকে রক্ষা করে এবং তৃতীয়টি যারা জনসাধারণকে রক্ষা করে তাদেরকে রক্ষা করে থাকে। সুতরাং এই তিনটি পথের কথা বলা যায় এবং ভালো মানুষদের দ্বারা ত্রয়ীপন্থানুসারে ইস্পিত ফল লাভ সম্ভব হয়।

    আবার বিবেচনা করে দেখতে গেলে এ সকল ব্যাপার হলো যৌন-রোগের মতো, পূর্বাহ্নে উপযুক্ত নিরোধক ব্যবহার করলে সমূলে ধ্বংশ হয়ে যায়, কিন্তু ভালো লোকদের জন্য এই জ্ঞান খুব অল্পই বিতরণ করা যায় এবং তার সাফল্যের পথে সব রকমের বাধা-বিপত্তির সৃষ্টি করা হয়েছে। বাইবেলের ধারণা অনুসারে পাপ এখনো তার প্রকৃতিক দণ্ড ভোগ করে থাকে। পিতামাতার পাপের কারণে সন্তানকে কষ্ট দেয়া হয়। এরকম না হয়ে অন্যরকম হলে কি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করত। যদি পাপীকে শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা না থাকতো তাহলে মানুষ পাপ বলে কিছু নেই মনে করত এবং যদি নির্দোষেরা শাস্তি ভোগ না করত তা হলে তা ভয়ঙ্কর হতো না। সুতরাং সে ভালো মানুষদের প্রতি যারা বৈজ্ঞানিকদের ধর্মবহির্ভূত জ্ঞানকে অস্বীকার করে এখনও তারা প্রাকৃতিক আইনের প্রতি আত্মসমর্পনের নামে অজ্ঞানতাকে চালু রাখতে চান, আমাদের কি রূপ কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। সৎ চিন্তাকারী ব্যক্তি মাত্রই জানে যে কষ্ট দেয়া অথবা না দেয়ার সঙ্গে খারাপ কাজের কোন সংযোগ নেই। যেহেতু সব মানুষকে বিশুদ্ধ নৈতিক আইনানুসারে পরিচালিত করা যায় না বলে এ সিদ্ধান্তে আসা যায় যে দুঃখের আগুনে পাপকে শুদ্ধ করে পূণ্য অর্জন করতে হয়। প্রাক বৈজ্ঞানিক যুগে যেভাবে পাপাত্মক কাজের শাস্তি বিধান করা হতো ঠিক সেভাবে এখনো করা হয় এবং মানুষ যাতে এড়িয়ে যেত না পারে সেজন্য তাদেরকে অজ্ঞানতার অন্ধকারে রাখার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আমাদের ভালো মানুষেরা মেহেরবানী করে যে বিপদজনক জ্ঞান আমাদের মধ্যে বিতরণ করেন, তা থেকে আত্মরক্ষা করে মানবিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য কি পরিমাণ জ্ঞান আবশ্যক তা ভাবতেও আমি কেঁপে উঠি।

    আরেক উপায়ে ভালো লোকেরা কাজে আসতে পারে, তাহলে খুন হয়ে। দু’জন যাজক খুন হওয়ার সুবাদে জার্মানি চীনের কাছ থেকে সানতুং প্রদেশ কেড়ে নিয়েছিল। সারাজেভোতে যে আর্কডিউক নিহত হয়েছিলেন, আমার বিশ্বাস তিনিও ছিলেন ভালো মানুষ, তার প্রতি আমরা অসীম কৃতজ্ঞ। তিনি মারা না-গেলে যুদ্ধ লাগত না, যুদ্ধ না-লাগলে জঙ্গীবাদকে কখনো সরানো যেত না; তাহলে একদিকে গণতন্ত্রকে যেমনি নিরাপদ করা যেতনা তেমনি অন্য দিক দিয়ে ইটালি, স্পেন, বুলগেরিয়া, রাশিয়া এবং হাঙ্গেরিতে সামরিক কর্তৃত্বও প্রতিষ্ঠিত হতো না।

    প্রকৃত প্রস্তাবে, সাধারণত জনমত যে ধরণের ভালোত্বের মান নির্ধারণ করেছে তা পৃথিবীকে অধিকতর সুখকর বাসস্থান হিসেবে গড়ে তোলার এত সুপরিকল্পিত মানবিক গুণাবলী নয়। এর সর্বপ্রধান কারণ হলো ঐতিহ্য এবং দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো পবিত্রতা এবং বিধি-নিষেধের নিরিখেই আদিম নৈতিকতার উৎকর্ষ ঘটেছে। বলতে গেলে আগে যা ছিল কুসংস্কার, তাতে কতক নিরাপদ কাজকেও নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। যেমন সর্দারের থালা হতে খাওয়ার পেছনে তাদের কাল্পনিক বিশ্বাসের ভিত্তি ছিল, তা করলে যাদুর প্রভাবে প্রচণ্ড বিপদ ঘটতে পারে। এভাবে তাদের মধ্যে নিষেধগুলো শিকড় গেড়ে বসলো। তারা কাল্পনিক বিশ্বাসের কথা কালক্রমে ভুললো বটে কিন্তু ওগুলো তাদের চেতনায় অস্পষ্ট স্বাক্ষর রেখে গেলো। প্রচলিত নৈতিকতার অনেকগুলিই এ জাতীয়। বিশেষ বিশেষ আচরণ, কার্যকলাপ অথবা উক্ত কার্যকলাপের ফলশ্রুতি মানুষের মধ্যে উদ্দাম আবেগের সঞ্চার করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই আরেগজনিত উদ্দাম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটা যদি না হয়ে থাকে, নৈতিক মানদণ্ডকে পুখানুপুঙ্খভাবে বিচার করা হলে তা জনসাধারণের স্বীকৃতি আদায় করতে সমর্থ হবে।

    উদাহরণস্বরূপ বলতে গেলে সভ্য সমাজে কখনো খুনকে বরদাশত করা হয় না, তা সত্ত্বেও খুন নিষিদ্ধ ঘোষণার মর্মমূলে রয়েছে কুসংস্কার। এই বিশ্বাস তখন প্রবল ছিল যে খুনী ব্যক্তির রক্ত অথবা প্রেতাত্মা প্রতিশোধের নেশায় শুধু ঘাতককে নয়, তার প্রতি যারা করুণা প্রদর্শন করে তাদেরকেও শাস্তি দিতে পারে। খুন নিষিদ্ধ করার মূলেও যে ছিল কতক কুসংস্কারমূলক অন্ধ অনুপ্রেরণা কতক বাস্তব বিষয়ে নজর দিলে তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। যেমন কতকগুলো গোত্রগত উৎসবের মাধ্যমে ঘাতককে ছদ্মবেশ পরালে বা নিহত ব্যক্তির প্রেতাত্মা না চিনতে পারে মতো রক্ত ধুয়ে দেয়া হতো। স্যার জে, জি ফ্রেজার তার থিয়োরিতে অন্তত এটুকু বলেছেন। রক্তের দাগ মুছে ফেলার জন্য প্রাচীনকালে যে অনুষ্ঠান করা হতো তাকে আমরা রূপক হিসেবে অনুতাপ এবং পাপ ধৌত করার প্রতীক হিসেবে এখনও গ্রহণ করে থাকি। এবং অপরাধ বোধের অন্তরালে রয়েছে অতীতের পূঞ্জীভূত কুসংস্কার। এমনকি একটা খুনের ব্যাপারেও বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন নৈতিকতা ভিন্নতর মতামত দিয়ে থাকে যা অপরাধ, শাস্তি এবং প্রায়শ্চিত্তের চাইতে আরোগ্য এবং প্রতিকারের সঙ্গে অধিকতর সম্পর্কশীল।

    আমাদের বর্তমান নৈতিকতা কুসংস্কার এবং বিচার-বুদ্ধির সমাহারে সৃষ্ট। খুন করা হলো একটি প্রাচীন অপরাধ যা আমরা যুগান্তরের সঞ্চিত কুসংস্কারের ধুম্রজালের মধ্য দিয়ে অবলোকন করে থাকি। আমরা জুয়াচোরদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি বটে কিন্তু খুনীদের এত তাদের আলাদা করে রাখি না। থিয়োরিতে আমরা যাই বলি না কেন, এখনো আমাদের কাজকর্ম সামাজিক রীতিনীতির নিরিখেই করে থাকি। আমাদের ধর্ম আমরা যা করি তার চেয়ে আমরা যা করিনা তার মধ্যেই বহুলাংশে নিহিত। একজন মানুষ অন্য একজন মানুষের কোন উপকার না করেও পাপ বলে কথিত এক শ্রেণীর কাজ করা থেকে বিরত থেকেও ভালোমানুষ আখ্যা পেতে পারে; কিন্তু তা হলেও খ্রিস্টের প্রচলিত বাণী, প্রতিবেশীকেও নিজের এত ভালোবাসো এ ধারণাতে সে সত্যেরই সমর্থন মেলে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সমগ্র খ্রিস্টান বিশ্বে যিনি এ ধারণা মেনে চলেন তার উপর চালানো হয় সবচেয়ে বেশি নির্যাতন। তাকেই দারিদ্রের আগুনে জ্বলতে হয় বেশি, সময়ে, অসময়ে কারাবরণ এমন কি মৃত্যুদণ্ড বরণ করতে হয়।

    পৃথিবীটা অবিচার পরিপূর্ণ, যারা এ অবিচারের দ্বারা লাভবান হয় তাদের হাতেই পুরস্কার এবং শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা সংরক্ষিত। যারা এ অসাম্য এবং অবিচারকে চালু রাখার উপায় উদ্ভাবন করে তাদের ভাগ্যে জোটে শিরোপা এবং যারা প্রতিকার করতে আসে তাদেরকে সইতে হয় কঠোরতম নির্যাতন। আমি এমন একটা দেশও জানিনে যে দেশের মানুষ কুটিলতা পরিহার করে দীর্ঘকালের জন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে সদ্ভাব রক্ষা করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে ফরাসি দেশের শ্রেষ্ঠ নাগরিক জ্যা জ্বরসকে হত্যা করা হয় এবং হত্যাকারী জনসাধারণের জন্য কি একটা কাজ করেছে এ সুবাদে তাকে হত্যার দায় হতে অব্যাহতি দেয়া হয়। এ জাতীয় ঘটনা পৃথিবীর সব জায়গায় অহরহ ঘটছে।

    যারা ঐতিহ্যাশ্রয়ী নৈতিকতার স্বপক্ষে তারাও মাঝে মাঝে বলেন যে তা সম্পূর্ণ নিখুঁত নয়, কিন্তু তারাই আবার কোনোও সমালোচনা উঠলে নৈতিকতার ভিত্তিভূমি রসাতলে গেল বলে হায় হায় করেন। প্রত্যক্ষ এবং গঠনমূলক আলোচনা হলেও তাতে কিছু হবেনা যদি ক্ষণিকের আনন্দের উল্লম্ফনে হয়ে থাকে। আমরা এখন বেথামে ফিরে আসি, যিনি সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের জন্য যে সুউচ্চ নৈতিকতার প্রয়োজন তার জীবন যে মানুষ প্রচলিত অর্থে জীবন ধারণ করে তার চেয়ে ঢের বেশি পরিশ্রমের। স্বভাবতঃই তিনি বঞ্চিত এবং হতাশার দলের সর্বাগ্রগণ্য হবেন এবং মহত বৃহৎদের কোপদৃষ্টিতে পতিত হবেন। শাসকেরা যেসব ঘটনা গোপন করতে চায় তিনি সে সব তারস্বরে জানিয়ে দেন। তার সহানুভূতি যাদের কাম্য তাদেরকে দূরে সরানো মিথ্যাচার থেকে তিনি স্বভাবতঃই বিরত থাকেন। এ জাতীয় জীবন ধারার আসল নৈতিকতা কখনো ধ্বংশপ্রাপ্ত হবে না। শাসক সম্প্রদায় নৈতিক দিক দিয়ে সব সময়ে অত্যাচারী এবং বিয়োগাত্মক হয়ে থাকে। তারা সবসময় বলে যে, যা কিছু নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে কষ্ট করে অনুসন্ধান করে তুমি কিছু বলবেনা। এই ধরণের নৈতিকতার বিরুদ্ধে অতীন্দ্রয়বাদীরা বৃথাই প্রতিবাদ করেছেন, তাদের শিষ্যেরা প্রচারিত বাণীর সার সত্যকেই উপেক্ষা করে গেছেন। তাদের প্রচলিত পদ্ধতি অনুসারে কোন স্থায়ী কল্যাণ আসতে পারে, একথা আশা করাও অন্যায় এবং অযৌক্তিক।

    আমার মনে হয়, বিজ্ঞান এবং প্রগতির কাছ থেকে আমরা অনেক বেশি কিছু আশা করতে পারি। ধীরে ধীরে মানুষ হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হবে যে পৃথিবীর ভিত্তিভূমি যেখানে হিংসা, বিদ্বেষ এবং অত্যাচারের মধ্যে প্রোথিত সেখানে সুখের আশা করাই অযৌক্তিক। অতি অল্প সংখ্যক মানুষের মনে গত মহাযুদ্ধ এ শিক্ষা দিয়ে গেছে। যদি আরো বেশি মানুষকে তা প্রভাবিত করত তাহলে এতদিনে তার আবেদন ম্লান হয়ে যেত। আমাদের এখন এমন একটা নীতির প্রয়োজন যা জীবনের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা থেকে উদ্ভূত এবং যা প্রসারতা এবং প্রত্যক্ষ কীর্তির আনন্দবোধ বেড়ে ওঠে, নিষেধ এবং অত্যাচারের ভিত্তিভূমিতে নয়। অন্যেরা সুখে থাকলে যে মানুষের আনন্দ হয়, অর্থ ব্যয় করতে দ্বিধা করেনা, মনের দিক দিয়ে এমনিতর উদার মানুষকেই আমাদের ভালো মানুষ বলা উচিত। যদি তাই হয়ে থাকে পৃথিবীতে অল্পসংখ্যক সুখী ব্যক্তির কোন দাম নেই। যে মানুষ অপরকে প্রতারিত করে অথবা নির্দয়তার মাধ্যমে সৌভাগ্যের স্বর্ণ তোরণে আরোহণ করেছে বর্তমানে আমাদের নীতিজ্ঞানহীন লোক বলতে তাদেরই বলা উচিত। যদিও তারা রীতিএত গির্জায় যায় এবং অসদুপায়ে অর্থের কিছু অংশ জনসাধারণের তহবিলে দান করে, তবুও তারা নীতিজ্ঞানহীন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়।

    এই দৃষ্টিভঙ্গীকে প্রসারিত করতে হলে আমাদের নৈতিকতাকে কুসংস্কার এবং নির্যাতন যা এখনো আমাদের সমাজের দিকপালদের কাছে ধর্মীয় অনুশাসনের এত তা থেকে মুক্ত করতেই হবে এবং শাণিয়ে তুলতে হবে আমাদের বিচারবুদ্ধিকে। আজকালকার যুগে বিচারবুদ্ধি খুবই সীমিত হলেও আমি সবসময় অননুতপ্তচিত্তে বিচারবুদ্ধিকেই সমর্থন করে যাবো। হতে পারে বিচারবুদ্ধির শক্তি অল্প কিন্তু তা স্থির এবং একমূখী। অন্যদিকে বিচারবুদ্ধি বহির্ভূত শক্তিগুলো একটা আরেকটাকে নির্মূল করে। সুতরাং প্রত্যেক রকমের বিচারবুদ্ধি বহির্ভূত গুপ্ত উপাসনা এবং সমধর্মী প্রবৃত্তিগুলোর সহায়ক হয় এবং উজ্জ্বলভাবে দেখিয়ে দেয় যে ওসবই বিচারবুদ্ধির পরম সুহৃদ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসূর্য তুমি সাথী – আহমদ ছফা
    Next Article সাম্প্রতিক বিবেচনা : বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস – আহমদ ছফা

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }