Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤷

    ১. কাকভোর বলে কিছু নেই এখানে

    কাকডোর বলে কিছু নেই এখানে। রাতটাকে একটানে ছুড়ে ফেলে দিয়ে দিন এসেই জাঁকিয়ে বসে। সেই যে সূর্যের উনুন জ্বলল, সারাদিন ধরে চরাচর পুড়িয়ে খাক করে দিলেও শান্ত হয় না, দিন নিবে গেলেও তেতে থাকে চারপাশ অনেকক্ষণ। ঘড়িতে যখন প্রায় পাঁচটা, ছায়া সরতে শুরু করেছে পৃথিবীতে, দীপাবলী স্নান সেরে অফিসঘরে চলে এসেছিল। এই একটু সময় প্রাণ ভরে নিশ্বাস নিতে পারা যায়। তার আবাস,এবং অফিস একই বাড়িতে। পেছনের তিনটে ঘরে সংসার, সামনের তিনটে ঘরে অফিস। ভেতরের উঠোনে একটি গভীর কুয়া আছে। যার জল নামতে নামতে এখন আর চোখে দেখা যায় না। দড়ি নামিয়ে বালতিতে ভরে তুললেও ছেঁকে নিতে হচ্ছে। জষ্ঠি মাসেই যদি এই অবস্থা, আষাঢ়ে কী হবে।

    এখন অফিসে কারও আসার কথা নয়। তবে এসে পড়বে। এইসময় অফিস বসে ছ’টায়, দশটায় যে- যার বাড়িতে। আবার সাড়ে তিনটেয় এসে সাড়ে ছটায় ফিরে যাওয়া। ওই সাড়ে তিনটের সময় আসাটায় কষ্টের, শরীর পুড়ে যায়। জানলা খুলে দিয়ে চেয়ারে বসল দীপাবলী। বড়জোর ন’টা পর্যন্ত এটাকে খুলে রাখা যাবে। ততক্ষণ হাওয়া না আসুক, আকাশ তো দেখা যাবে। চাবি ঘুরিয়ে ড্রয়ার খুলতেই চিঠিটা নজরে এল। গতকালের ডাকে এসেছে। একটা জবাব লেখা দরকার। কাগজ টেনে নিল সে।

    ‘অমল। আপনার চিঠি পেয়ে আরাম লাগল। মাসিমার শরীর ঠিক নেই জেনে অবশ্য ভাল লাগেনি। কী করছেন মশাই? ভাল ডাক্তার দেখাচ্ছেন তো? এইটে লিখেই অবশ্য মনে হল আমি অবান্তর ভাবছি। মাসিমার ব্যাপারে আপনি অবহেলা করার মানুষ নন।

    আমার কথা আপনি জানতে চেয়েছেন। আমি এখন যেখানে আছি সেখানে প্রকৃতির সঙ্গে সবুজের কোনও সম্পর্ক নেই। রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গানগুলো এখানে বসে স্বপ্ন বলেই মনে হয়। শ্রাবণে পথ ভুলে দুই তিন টুকরো মেঘ যদি আকাশে আসে তা হলে স্থানীয় মানুষ মুগ্ধ চোখে তাকায় বলে শুনেছি। সারাবছরে সবসমেত চব্বিশ ঘণ্টা বৃষ্টি হয়েছে এমন কথা কেউ বলতে পারেননি। মাটি ফেটে চৌচির। হাতে নিলে ঝুরুঝুরু ধুলো হয়ে ঝরে পড়ে। মাটিকে বেঁধে রাখে যে-রস তার অস্তিত্ব নেই এখানে। নাই রস নাই, দারুণ দহনবেলা— লাইনটা এইখানে এসে বড় সত্যি বলে বুঝেছি। সবুজ নেই কারণ গাছে পাতা নেই, অথচ নিষ্পত্র গাছেরা দাড়িয়ে আছে। এই প্রকৃতিতে যেসব মানুষেরা বেঁচে আছে তারা জানে না কেন বেঁচে আছে! মেদ দূরের কথা, মাংস খুঁজে পাওয়া যাবে না কারও শরীরে। আমার কাজ এদের নিয়ে। ঢাল নেই তলোয়ার নেই তবুযুদ্ধ করতে হবে। এব্যাপারে আমার কাজের লোক একটা চমৎকার শিক্ষা দিল। সকালে বেরিয়েছিলাম। ফিরতে দুপুর। রোদে পুড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে অফিসে ফিরে মনে পড়ল আজ সকালে ওকে বাজারের টাকা দিতে ভুলে গিয়েছি। ঘরে এক ফোঁটা তরিতরকারি নেই। খিদে পেয়েছিল খুব এবং সেইসঙ্গে আলস্য। তা থেকেই স্থির করলাম আজ উপোস দেব। বিকেল না হলে দোকানপাট খুলবে না। তখন রাত্রের ব্যবস্থা করা যাবে। ভেতরের ঘরে ঢুকে শুনলাম কাজের মেয়েটি আমাকে খেতে ডাকছে। জানেন, যা আমরা ফেলে দিই, গত দু-তিন দিন তরকারি কুটে ফেলে দেওয়া খোসা বা গোড়া সে সরিয়ে রেখেছিল। তাই দিয়েই রেঁধেছিল। খেতে গিয়ে অমৃত মনে হল। পরে বুঝেছি সে ওই দিয়েই রাঁধতে অভ্যস্ত। আলু যার জোটে না অথচ খোসা পেয়ে যায় চেয়েচিন্তে সে তো খোসার রান্নাতেই সিদ্ধহস্ত হবে। এইটে আমাকে উৎসাহিত করল। আমি ঢাল তলোয়ার ছাড়াই যুদ্ধ করতে নেমেছি। এদের, এই এলাকার মানুষের জন্যে জল চাই, অমৃত নয়। অমৃতে তৃষ্ণা মেটে না।

    চিঠি বড় হয়ে যাচ্ছে। আমি ভাল আছি। রজনী নিদ্রাহীন (গরমে), দীর্ঘ দগ্ধ দিন, আরাম নাহি যে জানে রে। আপনি যে কী করছেন। এবার ঘরে তাকে নিয়ে আসুন। মাসিমার পাশে যিনি সবসময় থাকবেন। একটু আগেভাগে জানালে ছুটি নিয়ে হাজির হবই। শুভেচ্ছা সহ, দীপাবলী।’

    চিঠিটা ভাঁজ করতে করতে জানলা দিয়ে বাইরে তাকাল সে। এখনই রোদে ঝলমল করছে চরাচর। এখানে বসলেই একটা ন্যাড়া গাছ নজরে পড়ে। গাছটার প্রতিটি ডাল বেঁকেচুরে আকাশের দিকে প্রতিবাদের ভঙ্গিতে দাড়িয়ে আছে। সতীশবাবুর মুখে শুনেছে ওই গাছে নাকি প্রথমবার জল পড়লেই পাতা গজায়। অবশ্য বেশিদিন সেই পাতা হাওয়া খাওয়ার সুযোগ পায় না। দীপাবলী অনেক দুরে দৃষ্টি বোলাল। ফাটা মাটি আর শূন্য আকাশে রোদের রং পালটানো শুরু হয়ে গিয়েছে। বেশিক্ষণ তাকালে বুকের ভেতরটায় থম ধরে। নিজেকে নীরক্ত মনে হয়। শূন্যতা গলা টিপে ধরে।

    ‘ম্যাডাম!’

    দীপাবলী মুখ ফেরাল৷ চিঠি খামে ঢুকিয়ে বলল, ‘বলুন সতীশবাবু।’

    ‘ম্যাডাম, আপনি কি নিশ্চিত যে আজ এস. ডি. ও. সাহেব আসবেন!’

    ‘নিশ্চয়ই, আমার সঙ্গে কথা হয়েছে ওঁর।’

    ‘ও।’ ঘুরে দাড়ালেন প্রৌঢ়।

    ‘কেন জিজ্ঞাসা করলেন বলুন তো?’ দীপাবলী জানতে চাইল।

    ‘আমি এখানে আট বছর চাকরি করছি। আজ অবধি এস. ডি. ও. সাহেব মাত্র দু’বার এসেছেন। তাও বৃষ্টি পড়লে। চারজন এস. ডি. ও. সাহেব এইসময় বদলি হয়ে গিয়েছেন। তাই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আর হ্যাঁ, স্টাফদের তা হলে দুপুরে থাকতে বলি। উনি এসে না দেখতে পেলে—!’

    ‘না না। এখানকার নিয়মমতো যেমন সবাই কাজ করেন তেমন করবেন। উনি যদি দুপুরে এসে যান আমিই কথা বলব।’দীপাবলী এক মুহূর্ত ভাবল, ‘আপনি শুধু নেখালির ফাইলটা আমাকে দিয়ে যান।’

    সতীশবাবু মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেলে খামে আঠা সেঁটে ঠিকানা লিখল সে। সতীশবাবু ফাইলটা নিয়ে ফিরে এলেন, ‘একটু বসতে পারি?’

    ‘নিশ্চয়ই। বসুন।’

    ‘সতীশবাবু বসলেন। রোগা বেঁটেখাটো মানুষ, মাথায় চুল আশিভাগ পেকে গিয়েছে। দুটো হাত কচলালেন, ‘ম্যাডাম, আপনার আগে যাঁদের দেখেছি তারা মানুষ খারাপ ছিলেন না। তবে সবাই পুরুষমানুষ বলে এসেই বদলির চেষ্টা করতেন। এই হতচ্ছাড়া জায়গায় কে থাকতে চায় বলুন। আর যাঁরা বদলির চেষ্টা করেন তাদের কাজে মন বসতেই পারে না। কিন্তু আপনি কাজ করতে চাইছেন। এখানকার মানুষের জন্যে কেউ কাজ করে না।’

    ‘আমাকে চাকরি দেওয়া হয়েছে কাজ করার জন্যে, নয় কি?’

    কিন্তু আপনি কোনও কাজ করতে পারবেন না, এইটে আমার অভিজ্ঞতা।’

    ‘সতীশবাবু, চেষ্টা করতে দোষ কী?’

    ‘এখানকার সাধারণ মানুষগুলোকে দেখেছেন? বুক পিঠ আলাদা চেনা যায় না। কারও পেটে ভাত দূরের কথা সেদ্ধ পর্যন্ত রোজ পড়ে না। অথচ কোনও প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই, কেড়ে খাওয়ার সাহস নেই। এদের কোন উপকার করবেন আপনি?’

    দীপাবলী অবাক হয়ে তাকাল, ‘সতীশবাবু, আপনি কি কমিউনিস্ট?’

    চমকে উঠলেন প্রৌঢ়, ‘না না। আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থক নই।’

    সমর্থক নন কথাটা সত্যি নয়।’

    ‘কেন?’

    ‘আপনি তো ভোট দেন। ব্যালট পেপারে ছাপ দেওয়ার সময় সমর্থন জানানো হয়ে যায়।’

    মাথা নাড়লেন সতীশবাবু, ‘আমি ভোট দিই না ম্যাডাম।’

    ‘সেকী? কেন? আপনি সরকারি কর্মচারী, স্বাধীন ভারতের নাগরিক।’

    ‘জানি, ভোট দেওয়া আমার উচিত, কিন্তু কাকে ভোট দেব বুঝতে পারি না। যে জিনিসটা নিজ বুঝতে পারি না সেইটে কখনও করি না। ব্রিটিশ আমলের অভ্যেস।’

    ‘কোন আমল ভাল সতীশবাবু?’

    ‘শুনতে খারাপ লাগবে, কাজের কথা যদি বলেন ব্রিটিশ আমলে ভাল কাজ হত।’

    ফাইলটা তুলে নিল দীপাবলী, ‘আচ্ছা, এই নেখালির মানে কী? শব্দটা শুনলে মনে হয় খালি নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। অথচ ওই জায়গা থেকে নেওয়ার কিছু নেই।’

    ‘না।ম্যাডাম। লোকে বলে বটে নেখালি, আসলে জায়গাটার নাম নেইখালি। নেই, খালি হয়ে গেছে। বলার সময় উচ্চারণের দোষে অমন শোনায়।’

    ‘তাই বলুন।’

    সতীশবাবু উঠে গেলেন। ফাইলে চোখ রাখল দীপাবলী। মোট বাহান্ন ঘর পরিবার আছে নেখালিতে। এরা বেশিরভাগ জনমজুরি করে। পাঁচ মাইল দূরে অর্জুন নায়েকের জমি চাষ করতে যায় কেউ কেউ। সরকারি প্রকল্পে শ্রম দিয়ে টাকা পায় অনেকেই। কিন্তু সেই টাকার পরিমাণ এত কম এবং ধার শোধ করতে যা বেরিয়ে যায় তারপর দিনের অন্ন জোটানোই দায় হয়ে ওঠে।

    নেখালি গ্রামে সতীশবাবুকে নিয়ে সে যখন প্রথম যায় তখন বিকেল। রোদ মরেছে, ছায়া ঘন হয়নি। সে এসেছে জানতে পেরেই পিলপিল করে কঙ্কালসার মানুষগুলো বেরিয়ে এসেছিল কুঁড়েঘরগুলো থেকে। হাঁউমাউ করে চিৎকার কান্নায় মিশিয়ে যা বলতে চেয়েছিল তা প্রথম বোধগম্য হয়নি দীপাবলীর। সে আতঙ্কিত হয়েছিল। এমন মানুষ একসঙ্গে দেখা আতঙ্ক। সতীশবাবু ধমকে রাগারাগি করে ওদের দূরে সরিয়ে রাখছিলেন। একটু একটু করে অভিযোগ বুঝতে পেরেছিল সে। এদের পেটে খাবার নেই, জল নেই, তিন ক্রোশ দূরে যে কুয়ো আছে জল তার তলায় চলে যাওয়ায় কাল এই গ্রামে কারও তৃষ্ণা মেটেনি। দু’জন বুড়ো আর বাচ্চা গত সাত দিনে মরে গিয়েছে। ভগবান দেবীকে পাঠিয়েছে তাদের কাছে। এখন দেবী যদি তাদের না বাঁচায় তা হলে আর কোনও পথ নেই।

    মন্বন্তর দ্যাখেনি দীপাবলী, উপন্যাসে পড়েছে। আজ শিউরে ওঠার পর সে থমকে গেল। অভাবী মানুষেরা শ্রোতা পেলে শুধু নালিশের পর নালিশ জানিয়ে যায়। অর্জুন নায়েক তাদের যে-পয়সায় কাজ করতে ডাকে দেবার সময় তার অর্ধেক দেয়। জিজ্ঞাসা করলে বলে ওই পয়সা জমিয়ে গ্রামে কুয়ো করে দেব। গ্রামের দুটি ছেলে এখন চুরি করতে শুরু করেছে। বয়স্করা তাদের নিষেধ করেছিল কিন্তু তারা বিদ্রোহী হয়েছে। চুপচাপ সমস্ত কথা শুনে গেল দীপাবলী। সে আবিষ্কার করল একটি শব্দ উচ্চারণ করলে তা কাপা শোনাবে নিজের কাছেই। সমস্ত গ্রাম ঘুরে সে হতশ্রী আর হতাশা প্রত্যক্ষ করল। এই মানুষগুলো কেন এখানে পড়ে আছে তাই তার মাথায় ঢুকছিল না। স্বাধীন ভারতবর্ষের একটি গ্রামের এমন বীভৎস চেহারা ক’জন শহুরে মানুষ জানে সন্দেহ আছে। মন্ত্রীরা যে জানেন না এটা সত্যি।

    সতীশবাবু ওদের বোঝাচ্ছিলেন। আজ পর্যন্ত কোনও অফিসার এই গ্রামে পা দেয়নি। এবার যখন একজন দিয়েছেন তখন নিশ্চয়ই একটা কিছু ব্যবস্থা হবেই। দীপা সতীশবাবুকে বলল, ‘জনা চারেক মানুষকে বলুন আমার বাড়ির কুয়ো থেকে জল নিয়ে আসতে। তিরি বলে ঘণ্টা দুয়েক বাদে বাদে কুয়োতে জল জমে।’

    সতীশবাবু গলা নামালেন, ‘এমন কাণ্ড করবেন না ম্যাডাম।’

    ‘কেন?’

    ‘ছাগলকে বেড়ার ফাঁক দেখালে কি আর বাগান বাঁচাতে পারবেন?’

    ‘তা হোক, আজ তো প্রত্যেকে একটু জল খেয়ে বাঁচুক।’

    অগত্যা সতীশবাবু ওদের প্রস্তাবটা দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে হইচই পড়ে গেল। সবাই একসঙ্গে ছুটে যেতে চায় জল আনতে। সতীশবাবু বাধা দিয়ে জানিয়ে দিলেন চার জনের বেশি ওখানে গেলে ম্যাডাম রাগ করবেন। আর তিনি রেগে গেলে যে-সমস্ত উপকার করবেন বলে ভাবছেন তা আর করবেন না। দীপাবলী দেখল, এতে কাজ হল।

    নির্বাচিত চার জন রওনা হল পাত্র নিয়ে জল আনতে।

    ফেরার পথে অন্ধকার নামল। দীপাবলী সতীশবাবুকে জিজ্ঞাসা করল, ‘লোকগুলো এমন অবস্থায় বেঁচে আছে, রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে সদরে?’

    ‘না ম্যাডাম।’

    ‘কেন?’

    ‘এ-প্রশ্ন আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না।’

    দীপাবলী মানুষটির আবছা মুখ দেখল। সতীশবাবু এখন টর্চ জ্বেলেছেন।

    সে বলল, ‘ফাইলে দেখছিলাম, খরার সময় শীতের সময় এই ব্লকে কিছু টাকা এসেছিল, কোন খাঁতে খরচ হয়েছে তা নিশ্চয়ই বলতে পারবেন।’

    ‘হ্যাঁ পারব। খরার টাকা যখন হাতে এল তখন দু’-এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। তাই খরচ করা যায়নি। শীতের কম্বল যখন এল তখন শীত চলে গিয়েছে।’

    ‘ওগুলো গেল কোথায়?’

    ‘টাকাগুলোর একটা হিসেব পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, কম্বল কিনে নিয়েছে গঞ্জের হরিরামবাবু। ওর একটা কাপড়ের দোকান আছে।’

    ‘বাঃ, চমৎকার। আপনার বিবেকে লাগেনি একটু।’

    ‘কর্তার ইচ্ছায় কর্ম ম্যাডাম। আপনি যদি কোনও আদেশ করেন তা হলে আমি অমান্য করতে পারি?’

    ‘একা রাজা ভোগ করেন না, মন্ত্রীরাও অংশ পান নিশ্চয়ই?’

    ‘অস্বীকার করব না। তবে না নিলে চাকরি থাকত না।’

    দীপাবলী অবাক হয়ে গেল। এমন অকপট স্বীকারোক্তি সে কখনও শোনেনি। লোকটার ওপর রাগ হল না, বরং সে খুশি হল। হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞাসা করল, ‘এখন বলুন তো কী কী কাজ করলে এদের ভাল হয়।’

    ‘প্রথমে এই গ্রামে দুটো কুয়ো দরকার। ডিপটিউবওয়েল হলে খুব ভাল।’

    ‘কে যেন ওদের কুয়ো করে দেবে শুনলাম।’

    ‘অর্জুন নায়েক।’

    ‘তিনি কে?’

    ‘ওঁর বাবা ছিলেন জমিদার। উনি ম্যাট্রিক পাশ করে ব্যাবসা শুরু করেছিলেন। বাপের সম্পত্তি বাড়িয়ে চলেছেন। এস. ডি. ও. সাহেব পুলিশ সুপার সাহেব ওঁর খুব কাছের মানুষ। তাই আমাদের পাত্তা দেন না, দারোগাবাবুকেও ডেকে পাঠান।’

    ‘সেটা আমাদের দেখার কথা নয়। কিন্তু মজুরির টাকা অর্ধেক কেটে নিয়ে কুয়ো বানিয়ে দেবেন, এটাও ঠিক নয়।’ দীপাবলী বলল, ‘ওঁর সঙ্গে কথা বলা দরকার।’

    ‘ম্যাডাম। অর্জুন নায়েকের সঙ্গে আপনি যত কম কথা বলবেন তত ভাল।’

    ‘কেন?’

    ‘লোকটা চরিত্রহীন।’

    দীপাবলী জবাব দিল না। চুপচাপ বাকি পথ হেঁটে এল সতীশবাবুর টর্চের আলোয়। অফিসের সামনে সেই চারটে লোক বিব্রত ভঙ্গিতে দাড়িয়ে আছে। দীপা এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী ব্যাপার? তোমরা জল নাওনি?’

    ওরা একই সঙ্গে বলে উঠল, ওদের জল নিতে দেওয়া হচ্ছে না। সতীশবাবু বললেন, ‘আপনি যান ম্যাডাম, আমি দেখছি।’

    বাড়িতে ঢোকার দুটি পথ। পেছনের দরজা দিয়ে উঠোনে, আর অফিসের পাশ দিয়ে মূল দরজা খুলে তিরি সেখানে দাড়িয়ে ছিল। ঘরে হ্যারিকেন জ্বলছে। এই ঘর দিয়েই অফিসে ঢোকা যায়।

    সতীশবাবু তিরিকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হ্যাঁরে, ওদের জল নিতে দিসনি কেন? মেমসাহেব তো ওদের পাঠিয়েছেন।’

    ‘না। আমি দেব না জল নিতে।’ অদ্ভুত গলায় বলল তিরি। ওকে এই গলায় কথা বলতে কোনওদিন শোনেনি দীপাবলী। সে বিরক্ত হল, ‘দিবি না কেন?’

    ‘ওরা যখন আমাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল তখন মনে ছিল না?’

    ‘তুই নেখালির মেয়ে?’

    ‘হুঁ। আর আমি এখন এখানে চাকরি করি, দু’বেলা খেতে পাই বলে ওরা আমাকে রাস্তায় দেখলেই টিটকিরি দেয়। ওরা তবে কেন এসেছে জল নিতে এখানে?’ শেষের দিকে গলায় কান্না মিশল যেন।

    সতীশবাবু বললেন, ‘আহা, ওরা নিশ্চয়ই অন্যায় করেছে। কিন্তু ম্যাডাম ওদের কথা দিয়েছেন যখন তখন একটা দিন জল নিয়ে যেতে দে।’

    ‘গ্রামসুদ্ধ লোক জল নিতে এলে আমরা কি বালি খেয়ে থাকব।’

    ‘আর কেউ আসবে না। ওরাই শুধু নিয়ে যাবে। যা পেছনের দরজা খুলে দে।’

    সতীশবাবুর কথা শেষ হওয়ামাত্র নিতান্ত অনিচ্ছায় তিরি চলে গেল দরজা খুলতে। ব্যাপারটা খুব অপছন্দ করল দীপাবলী। সতীশবাবু বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। যে-গ্রাম সে দেখে এল তার ভাবনার সঙ্গে তিরির এমন আচরণ থেকে তৈরি বিরক্তি মিশে এক বিশ্রী মেজাজ তৈরি হয়ে গেল।

    মিনিট পনেরো বাদে চায়ের কাপ নিয়ে ঘরে ঢুকে সামনের টেবিলে রেখে তিরি ফিরে যাচ্ছিল, দীপাবলী ডাকল, ‘অ্যাই শোন!’

    মেয়েটা দাঁড়াল। এখন ওর পরনে দীপাবলীর অল্প রং ওঠা নীল শাড়ি। সেদিকে তাকিয়ে দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘এই বাড়িটায় আমি থাকি, তুই এখানে চাকরি করিস। কথাটা কখনও ভুলে যাস না।’

    মেয়েটা জবাব দিল না। দরজার সামনে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইল। কথাগুলো বলেই দীপাবলীর মনে হল একটু রূঢ় হয়ে গেল যেন। চায়ের কাপ হাত বাড়িয়ে নিয়ে আবার প্রশ্ন করল, ‘তোকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল কেন?’

    উত্তর এল না। দীপাবলী দেখল তিরি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

    ‘আমি তোকে একটা প্রশ্ন করেছি।’

    ‘আমি এখানে চাকরি করছি বলে ওরা তাড়িয়ে দিল।

    ‘এখানে? তুই তো এখানে চার বছর চাকরি করছিস। আমার আগে যাঁরা ছিলেন তাঁদের কাছেও তুই চাকরি করেছিস। তাতে অন্যায় কী হয়েছিল?’

    ‘আপনার আগে যাঁরা ছিলেন তাঁরা সব ছেলে।’

    দীপাবলীর কপালে ভাঁজ পড়ল, ‘তুই কি রাত্রে এখানে থাকতিস?’

    ‘প্রথম সাহেবের সময় থাকতাম না। পরের সাহেব থাকতে বলেছিলেন।’

    ‘তুই থাকতিস কেন?’

    ‘না হলে আমার চাকরি চলে যেত।’

    চায়ের কাপ নামিয়ে রাখল দীপাবলী, ‘আগের সাহেবের সঙ্গে তো কোনও মহিলা ছিলেন না। তবু তুই কোন সাহসে থেকে যেতিস রাত্রে?’

    ‘আমি আর গ্রামে ফিরে যেতে চাইনি, তাই।’

    ‘তুই, তুই কী বলছিস তা জানিস?’

    মাথা নেড়ে নীরবে হ্যাঁ বলল তিরি।।

    সমস্ত শরীরে জ্বলুনি শুরু হল, প্রবল ঘেন্না এল মনে। মেয়েটাকে নির্লজ্জ চরিত্রহীনা বলে মনে হল। এই মেয়ের সঙ্গে সে ক’দিন আছে, অথচ সতীশবাবু কিছু বলেননি বলে ওঁর ওপরও খেপে গেল। এখানে চাকরিতে জয়েন করার সঙ্গে সঙ্গে সতীশবাবু বলেছিলেন, ম্যাডাম, আপনার কপাল ভাল, আগের অফিসারের কাছে যে-মেয়েটি কাজ করত সে এখানেই আছে। সব কাজকর্ম জানে, আপনার অসুবিধে হবে না। অসুবিধে হয়নি। বরং মেয়েটির কাজকর্ম এবং ব্যবহার দেখে সে নিশ্চিন্ত হয়েছিল। আজ সন্ধের আগে পর্যন্ত কোনও খুঁত খুঁজে পায়নি।

    ‘তোকে ওরা গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ঠিকই করেছে। ‘দাঁতে দাঁতে চেপে বলল সে, ‘আমার আর তোকে দরকার নেই।’

    ‘তুমিও আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছ?’ আর্তনাদ করে উঠল তিরি।

    ‘হ্যাঁ’। আমি আর তোকে রাখব না।’

    ‘কেন? আমি কী করেছি?’

    কী করেছিস জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা করছে না?’

    ‘না। আমি তোমার কোনও কাজে ফাঁকি দিই না, দিই?’

    ‘আমি সেকথা বলিনি।’

    ‘তা হলে?’

    ‘একটা পরপুরুষের সঙ্গে রাত কাটিয়েছিস এখানে, ছিঃ!’

    ‘ও। যে-লোকটা আমাকে এখানে থাকতে বাধ্য করেছিল তার কোনও দোষ নেই?’

    ‘হ্যাঁ। যে তোকে এখানে থাকতে বাধ্য করেছিল সে লম্পট। কিন্তু তাকে ছেড়ে যেতে দিলি কেন তুই? আর কেউ বাধ্য করেছিল বললে দোষ মাপ হয়ে যায় না।’ দীপাবলী মাথা নাড়ল, ‘না। তুই চলে যা।’

    ‘আমি কোথায় যাব দিদি?’

    ‘আমি জানি না!’

    হাউহাউ করে কেঁদে উঠল তিরি। কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘তুমি আমাকে মেরে ফেলো না দিদি। এখান থেকে চলে গেলে হয় আমাকে বাজারে নাম লেখাতে হবে নয় বিষ—!’ কান্না থামছিল না।

    চোখ বন্ধ করল দীপাবলী। নেখালি গ্রামের মানুষের চেহারার স্বাস্থ্যের সঙ্গে তিরির কোনও মিল নেই। তার পূর্বসূরিরা মেয়েটিকে ব্যবহার করেছেন, প্রতিবাদ করলে ওর কী হতে পারত? নেখালি গ্রামে প্রতিমুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে জীবন্বত হয়ে বেঁচে থাকতে চায়নি তিরি। একটি কঙ্কালসার মানুষ হিসেবে তিরিকে ভাবতে সেও পারছে না কেন? আজ কথা না উঠলে সে কখনওই জানতে পারত না। নিজের অতীতের কথা যে স্বীকার করে তাকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া কি উচিত কাজ। অতীতে কী করেছিল সেইটে বড়, না তিরি তার সঙ্গে কীরকম ব্যবহার করছে তাই বিচার্য? ওর তো ওইটেই নেশা নয়, তা হলে তার সঙ্গে এমন আন্তরিকভাবে থাকতে পারত না। দীপা বলেছিল, ‘আমাকে আর এক কাপ চা করে দে, এটা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে।’

    নেখালি গ্রামে দুটো গভীর কুয়ো আর টিউবওয়েল অবিলম্বে তৈরি করে দেওয়া দরকার। আগামী এক বছরের মধ্যে চাষের খেতগুলোয় যেখানে বছরে একবারই লাঙল পড়ে, যেখানে শস্য আসে কি আসে না সেখানে সেচের ব্যবস্থা করা দরকার। এই জল গভীর কুয়ো থেকে তোলা যেতে পারে। মাটির যে গভীরত্বে জল বৈশাখ মাস পর্যন্ত টিকে থাকে তার অনেক নীচে পেঁৗছোতে হবে। চাষ যদি সম্ভব না হয় এই অঞ্চলে এখনই কুটির শিল্প স্থাপন করা উচিত। অন্তত মুরগি চাষের জন্য বেশি জল দরকার হয় না। অনেকগুলো পরিকল্পনা নিয়ে দীপাবলী এস ডি ও-র সঙ্গে দেখা করেছিল। ভদ্রলোকো আই এ এস করে সবে কাজে যোগ দিয়েছেন। এখনও এলাকাটা চিনে ওঠেননি। নেখালি গ্রামের বর্ণনা শুনে আঁতকে উঠে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনাদের মতো মহিলা ওখানে আছেন কী করে?’

    ‘আমার মতো মহিলা মানে?’

    ‘সরি, কথাটা অন্যভাবে বলা উচিত ছিল। আমি বলতে চেয়েছি সাধারণ মহিলাদের থেকে আপনাকে আলাদা মনে হয়।’

    ‘ঠিকই। কিন্তু আমি চাকরি করতে এসেছি। আমার কাজ উন্নয়ন দেখা।’

    এস ডি ও বলেছিলেন, ‘বাজেট পারমিট করবে কিনা জানি না, তবু আমি একবার নিজের চোখে দেখতে চাই। নইলে ডি এম বলুন আর মন্ত্রী কাউকে কনভিন্স করাতে পারব না।’

    ভদ্রলোকের কথাবার্তা খুব আশাজনক না হলেও খারাপ লাগেনি দীপাবলীর। অথচ সতীশবাবু বলে গেলেন তিনি আশাবাদী নন। এরকম ঘটনা নাকি সচরাচর এখানে ঘটে না। দীপাবলী ঠিক করল সে অপেক্ষা করবে। যদি ভদ্রলোক আজ না আসেন তা হলে আগামীকাল সে সদরে গিয়ে দেখা করবে। ব্যাপারটার হেস্তনেস্ত না করে সে ছাড়বে না। যদি তাতেও ভদ্রলোকের সময় না হয় তা হলে ওপরতলায় সমস্ত ব্যাপারটা জানিয়ে চিঠি লিখবে।

    বেলা দশটায় যখন চারজন কর্মচারী বাড়ি চলে গেলেন তখন সতীশবাবু এলেন ওর ঘরে, ‘আমি কি থাকব?’

    ‘না, আপনি বাড়িতে যান, বিশ্রাম নিন। উনি কখন আসবেন বুঝতে পারছি না।’

    ‘যদি এসে পড়েন তা হলে তিরিকে পাঠাবেন, সঙ্গে সঙ্গে চলে আসব। আপনি একা ওঁকে নিয়ে নেখালিতে যাবেন না।’

    ‘কেন?’

    ‘গতকাল একটা কিছু ঘটেছে ওখানে যার জন্যে সবাই খেপে আছে।’

    ‘কী ঘটেছে?’

    ‘আমি ডিটেল্স পাইনি। একটু আগে বংশীচরণ বলল কাল নাকি ওখানে খুব চেঁচামেচি হয়েছে। আচ্ছা চলি এখন।’ সতীশবাবু চলে গেলেন।

    আরও দুটো ফাইল শেষ করে যখন দীপাবলী উঠতে যাবে ঠিক তখনই বাইরে গাড়ির আওয়াজ হল। জানলাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল তাপের কারণে, গাড়ি অফিসের সামনে এসে থামতেই দীপাবলী ব্যস্ত হয়ে উঠে বাইরের ঘরের দিকে এগোতে যাবে, এইসময় দৌড়ে ভেতরে ঘরের দরজায় এল তিরি।

    সে হাঁপাচ্ছে, উত্তেজনা চোখে মুখে, ‘দিদি, তুমি বাইরে যেয়ো না।’

    অবাক হল দীপাবলী, ‘মানে? কেন যাব না?’

    ‘ওই বদমাশটা এসেছে। ওকে দেখলে আমরা লুকিয়ে পড়ি।’

    ‘কে এসেছে?’

    এইসময় বাইরের ঘরে কেউ বেশ মেজাজ নিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, ‘কী ব্যাপার? অফিস বন্ধ হয়ে গেল নাকি? লোকজন গেল কোথায়?’

    দীপাবলী এগিয়ে গিয়ে পরদা সরিয়ে দিতেই দেখতে পেল ধবধবে চোস্ত পাজামা আর আদ্দির কাজ করা পাঞ্জাবি পরা একটি লোক তার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। বছর তিরিশ বয়স, একটুও মেদ নেই শরীরে, চোখ দুটো খুব ধারালো, চুলের কায়দা চোখে পড়ার মতো। দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি কে?’

    ‘আমি?’ লোকটির যেন চমক ভাঙল। সঙ্গে সঙ্গে দু’হাত জড়ো করে ঈষৎ ঝুঁকে নমস্কার করতে করতে বলল, ‘আমি অর্জুন নায়েক। এই তল্লাটেই বাস করি। আপনি এখানে পোস্টেড হয়ে এসেছেন শুনেছিলাম কিন্তু বড় দেরি করে ফেললাম দর্শন করতে, তবে ইংরেজরা একটা ভাল কথা বলে, বেটার লেট দেন নেভার।’ লোকটার কথা বলার সময় একটা প্যাচপ্যাচে হাসি ঠোঁটে জড়ানো ছিল।

    দীপাবলীর কয়েক মুহূর্ত লাগল। এই সেই অর্জুন নায়েক? সে বলল, ‘এখন তো অফিস ছুটি। আপনার কোনও দরকার থাকলে বিকেলে আসবেন। সন্ধের পরেও ওঁরা থাকেন।

    অর্জুন মাথা নাড়ল ঠোঁট টিপে। তারপর বলল, ‘মেমসাহেব কি আমাকে বসতে বললে খুব অসুবিধে বোধ করবেন?’

    মুখে হ্যাঁ চলে এসেছিল কিন্তু দ্রুত মন পরিবর্তন করল দীপাবলী, সতীশবাবুর টেবিলের দিকে এগিয়ে গিয়ে উলটো দিকটা দেখিয়ে বলল, ‘বসুন, কী বলার আছে বলুন।’ সে নিজে সতীশবাবুর চেয়ারে গিয়ে বসল। অর্জুন নড়ল না, সেখানে দাঁড়িয়েই বলল, ‘এটা কি ঠিক হল মেমসাহেব? কেরানিদের চেয়ারে আপনাকে মানাচ্ছে না।’

    ‘আপনি বসতে চেয়েছিলেন, আমি আপত্তি করিনি।’

    ‘ও। ঠিক আছে।’ বেশ সমীহ করার ভঙ্গি নিয়ে অর্জুন এগিয়ে এসে চেয়ার টেনে বেশ শব্দ করেই বসে পড়ল। পকেট থেকে একটা রুপোর কৌটো বের করে দুই আঙুলে জরদা তুলে নিয়ে মুখে পুরল, ‘আমি ভেবেছিলাম কোনও বয়স্কা মহিলা বোধহয় বুড়ো বয়সে প্রমোশন পেয়ে এই পোস্টে এসেছেন। খুব ভাল খুব ভাল। হ্যাঁ, নাম তো বলেছি, একেবারে মহাভারতের নাম, ব্যাবসা করি, জমিজমা আছে কিন্তু তার হাল তো দেখছেন, শালা নেচার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে জমির। তবু আপনাদের শুভেচ্ছায়

    ভাত কাপড়ের অভাব নেই।’

    ‘আপনার নাম আমি শুনেছি।’

    ‘আই বাপ! আপনার কানে এর মধ্যেই কেউ মন্ত্র পড়ে দিয়েছে?’

    ‘মন্ত্র পড়া মানে?’

    ‘আর বলবেন না মেমসাহেব। এখানে মানুষ থাকে? সব এক একটা শয়তান চুকলিখোর, আপনি যত ওদের জন্য করুন কিছুতেই মন ভরবে না। কাজ করলেও দোষ, না করলে তো কথাই নেই। আমার দোষ কেন পয়সা রোজগার করছি। মানুষের নিন্দে করে ওরা সকালে দাঁত মাজে কিন্ত সামনে এলে বোবা। বুঝবেন বুঝবেন, ক’দিন থাকুন বুঝতে পারবেন।’ মাথা নাড়ল অর্জুন নায়েক।

    ‘আমি শুনেছি আপনি নেখালি গ্রামের কিছু মানুষকে খাটিয়ে অর্ধেক টাকা কেটে রেখেছেন ওখানে কুয়ো করে দেবেন বলে। কথাটা ঠিক।’

    ‘একশো বার ঠিক। আপনি ওখানে গিয়েছেন? গেলে বুকের হাড় পর্যন্ত কেঁপে উঠবে। এক ফোঁটা জল নেই। খাবার নেই। কী দুর্দশা! গবমেন্ট যখন কিছু করছে না তখন তো ওদের নিজেদেরই সব করতে হবে। হাতে টাকা দিলে তার অর্ধেক খাবার খাবে বাকি অর্ধেক মদ। আমি সেই মদের টাকায় ওদের জন্য কুয়ো করে দেব ভেবেছি। খারাপ ভেবেছি, বলুন?’

    কাজটা আপনি ঠিক করেননি। ওদের প্রাপ্যটা ওদেরই দেওয়া উচিত।’

    ‘তা হলে কুয়ো? জলের ব্যবস্থা?’

    ‘আপনি যখন এতটা ভেবেছেন তখন ওটা নিজেই করে দিতে পারতেন।’

    অর্জুন একটু ভাবল চোখ বন্ধ করে, তারপর মাথা নাড়ল, ‘ঠিক হ্যায়, করে দেব। কালই লোক লাগিয়ে দেব। জবান দিচ্ছি, আজ বিকেলে কেটে রাখা টাকা ওরা ফেরত পেয়ে যাবে। আপনার উপদেশ আমি মেনে নিলাম।’

    ‘আপনি যদি এটা করেন তা হলে সত্যি আমি খুশি হব অর্জুনবাবু।’

    ‘জবান তো দিয়েছি। এখন আপনি বলুন আপনি কবে আমার বাড়িতে পা দিয়ে আমাকে খুশি করবেন?’ ঝুঁকে এল অর্জুন।

    ‘আপনার ওখানে যাওয়ার তো একটা কারণ চাই মিস্টার নায়েক। আপনি কিন্তু এখনও আপনার বক্তব্য বলেননি।’

    ‘বক্তব্য! আরে মেমসাহেব, আমি তো আপনার সঙ্গে আলাপ করতে এলাম।’

    ‘তা হলে তো আলাপ নিশ্চয়ই এতক্ষণ হয়ে গিয়েছে।’

    ‘আপনি আমাকে চলে যেতে বলছেন? বেশ, যাচ্ছি। তবে আমার কিন্তু আপনার সঙ্গে আলাপ করে খুব ভাল লেগেছে। মুখের ওপরে সত্যি কথা বলার সাহস আপনার আছে, গুড। যখন যা লাগবে আপনি আমাকে বলবেন। সতীশবাবু চেনেন আমাকে, ওঁকে দিয়ে খবর পাঠাবেন।’

    ‘আমার কিছু প্রয়োজন হলে আপনাকে খবর দেব ভাবছেন কেন?’

    ‘মেমসাহেব। আপনি কি এদের জন্যে কাজ করতে চান না আপনার আগের লোকদের মতো চোখ বন্ধ করে থাকবেন? যদি কাজের ইচ্ছে থাকে তা হলে এই শর্মা আপনার উপকার করতে পারবে। বি ডি ও সাহেব তো বটেই, ডি এমের কাছে কোনও ফাইল আটকে থাকলে আমাকে বলবেন, এক দিনেই কাজ হয়ে যাবে। আচ্ছা, অনেক বিরক্ত করলাম, এবার আপনি আরাম করুন, আমি চলি। দরজার দিকে কথা শেষ করেই এগিয়ে গেল আচমকা অৰ্জুন। হঠাৎ কী মনে হল দীপাবলী ডাকল, ‘শুনুন, আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করছি। কাল নাকি নেখালি গ্রামে খুব গন্ডগোল হয়েছে, কী ব্যাপার আপনি কি কিছু জানেন?’

    চোখ বড় করল অর্জুন ঘুরে দাঁড়িয়ে, ‘কিছু না, আমি বলেছি ছেলেদের আর কাজে লাগাব না। ফাঁকি মারে কাজ কম হয়। এবার থেকে মেয়েদেরই কাজ দেব, তাই—! ও হ্যাঁ, আপনাকে একটা কথা বলতে একদম ভুলে গিয়েছি। একটা নয়, দুটো। প্রথমটা, আপনার এস ডি ও সাহেবের সঙ্গে আজ সকালে দেখা হয়েছিল। তার পেট খারাপ, আসতে পারবেন না আজ। আর দ্বিতীয়টা হল, পোস্ট আফসের পিয়ন আসছিল আপনার টেলিগ্রামটা নিয়ে। আমি আসছি বলে বেচারাকে কষ্ট দিলাম না, নিন।’

    টেলিগ্রামটা দীপাবলীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে অর্জুন মাথা ঝুঁকিয়ে নমস্কার করে বেরিয়ে গেল। একটু বাদেই তার গাড়ির শব্দ হল। দীপাবলীর ঘোর কাটতে সে টেলিগ্রামটার দিকে তাকাল।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }