Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬. এস ডি ওর অফিসে

    এস ডি ও-র অফিসে ফিরে যাওয়ার কথা আর মনে আসেনি। সোজা বাস স্ট্যান্ডে চলে এসেছিল রিকশা নিয়ে। জানলার ধারে জায়গাও পেয়েছিল। বাস ছাড়তে ছাড়তেই অন্ধকার উঠে এল পৃথিবীর তলা থেকে, উঠে আকাশ ছুঁতে চাইল।

    এখন ওই তপ্ত অন্ধকার, বাসের খুঁড়িয়ে চলা, যাত্রীদের কথাবার্তা, কিছুই যেন স্পর্শ করছিল না দীপাবলীকে। সেই দৃশ্যটি দেখার পর থেকেই বুকের ভেতর যেন হাজারমনি পাথর, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সমস্ত শিরায় শিরায় ঝিমুনি। এও কি সম্ভব? সতীশবাবুর মুখ বারংবার মনে পড়ছিল। মৃতা স্ত্রীর পাশে পাথরের মতো বসে থাকা সতীশবাবু। কোনও আন্দোলন নেই। একটি মানুষ কখন পৃথিবী থেকে চলে গিয়েছেন, হয়তো তিনি যাওয়ার মুহূর্তেও সাক্ষী ছিলেন, কিন্তু তারপরও দীর্ঘ সময় সেই মানুষটির পাশে স্থির হয়ে সঙ্গ দিচ্ছিলেন। শুধুই কি দিচ্ছিলেন? সতীশবাবু স্ত্রীর জীবদ্দশায় যা পাননি তাই কি পেতে চাইছিলেন। আর একেও কি ভালবাসা বলে?

    দীপাবলী চোখ খুলে অন্ধকার দেখল। চলন্ত বাসে অন্ধকারও কি দুলে দুলে ছোটে? আর তখনই রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ল। বাঙালির সব শেষ আশ্রয় রবীন্দ্রনাথ। একটি পূর্ণাঙ্গ মানুষের বেঁচে থাকা এবং না-থাকার সময়ে সমস্ত অনুভূতি এবং স্মৃতির কথা তিনি ঈশ্বরের চেয়েও আন্তরিক হয়ে বলে গেছেন। সত্যি, কী আশায় বসে ছিলেন সতীশবাবু? সে কি শুধুই দুঃখের শ্বাস? না, দুখের আশ? আর ওই চোখের জল কি সুখের সন্ধান? সবই ঠিক কিন্তু তারপরও, ‘তবুও কী নাই?’ বাঙালির গীতা উপনিষদ তার নিজস্ব ভাষায় লেখা নয়। কিন্তু বাঙালির গীতবিতান আছে। একটি মানুষের যা সমস্ত জীবনের আশ্রয়। যেখানে দেবতা মানুষ আর প্রকৃতি একাকার হয়ে পরস্পরের বন্ধু হয়ে যায়। বুকের মধ্যে এত চাপ, দীপাবলী ছটফট করছিল বাড়িতে ফিরতে। কলকাতা থেকে কর্মস্থলে ঘোরার সময় সে কিছু বই সঙ্গে রাখতে পেরেছে, গীতবিতান তো অবশ্যই।

    বাস থেকে নেমে সে বুঝতে পারল মনের চাপ শরীরকেও আক্রমণ করেছে। হাঁটতেই যেন কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু খবরটা দেওয়া দরকার। প্রৌঢ় মানুষটি মৃতা স্ত্রীকে আঁকড়ে বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারেন না।

    ব্লক অফিস তৈরি হবার সময় সরকারি জমিতে কিছু বাড়ি ঘর তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে কর্মচারীরা সেগুলোই বাড়িয়ে নিয়েছেন। যদিও বদলির চাকরি তা হলেও একবার এখানে এলে সচরাচর ওই স্তরের কর্মচারীদের আর সরানো হয় না। এদিকটায় কখনও আসেনি সে, আসা হয়নি এই পর্যন্ত।

    খবর দেওয়ামাত্র শোকের ঢল নামল। সবাই ওই মুহূর্তে শহরে যেতে চান। শেষ বাসের দেরি আছে শহরে ফিরে যাওয়ার। দীপাবলী আর দাঁড়াল না। ফিরে আসার পথে অন্ধকার মাঠে দাঁড়িয়ে পড়ল সে হঠাৎ। চারপাশে কোথাও এক ফোঁটা আলো দেখা যাচ্ছে না। অন্ধকার যেন সমস্ত বিশ্বচরাচর গ্রাস করে নিয়েছে শুধু আকাশ ছাড়া। মুখ তুলল সে। যখন সতীশবাবু স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তখন তো কেউ সঙ্গে যায়নি। যেন সেটা স্বামীর কর্তব্য ছিল। এখন কেন সবাই ব্যস্ত সহযোগী হতে? শুধু শরীরে প্রাণ নেই বলে? প্রাণহীন শরীর কি কারও নিজস্ব আত্মীয় নয়? চোখ মেলল সে আকাশে। আর হঠাৎ তাকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে একটি লাইন যেন নিশ্বাসের মতো ধাক্কা দিতে লাগল বুকের ঘরের দেওয়ালে, ‘দেখো আমার হৃদয়তলে সারারাতের আসন মেলা।’

    মুখ নামাল দীপাবলী। এমন একটা লাইন কেন মনে এল?

    সে দ্রুত হাঁটতে লাগল। ধীরে ধীরে তিরির জ্বালানো হ্যারিকেন চোখে এল। সে সিঁড়িতে পা রাখতেই দরজা খুলে প্রায় ছিটকে বেরিয়ে এল তিরি, ‘তুমি চলে যাওয়ার পরে দাদাবাবু আর আসেনি!’

    দীপাবলী এক মুহূর্ত শক্ত হল, নিচু গলায় বলল, ‘আসেনি!’

    ‘না সারাদিন নিশ্চয়ই না খেয়ে আছে।’ তিরি যেন খুবই চিন্তিত।

    দীপাবলী আর পারছিল না। বাইরের ঘরের চেয়ারে বসে বলল, ‘আমায় এক কাপ চা করে দে তিরি।’

    তিরি তবু দাঁড়িয়ে রইল। বলল, ‘একটু খোঁজ করবে না?

    ‘আঃ। তোকে যা বলছি তাই কর।’ স্পষ্টতই বিরক্তি বোঝাল সে৷ তিরি চলে গেল ভেতরে। গুম হয়ে বসে বইল দীপাবলী। এই ঘরের এক কোণে শমিতের আনা জিনিসপত্র পড়ে রয়েছে। কিন্তু এরকম পাণ্ডববর্জিত জায়গায় সে যাবেই বা কোথায়? নাকি সত্যিই ফিরে গেল কলকাতায়? হয়তো সারাদিন রোদে ঘুরে সহ্য করতে পারেনি, পড়ে আছে কোথাও অসুস্থ হয়ে। এলোমেলো নানান চিন্তা মাথায় জট পাকাল। দীপাবলী বুঝতে পারছিল না তার কী করা উচিত। সতীশবাবুর ভাবনার পাশে শমিতের তৈরি করা সমস্যা যেন একই মাত্রায় উঠে এল। শমিত যদি চলে যায়? একটা খেলা খেলে যাওয়ার জন্যেই কি এই আসা? ও কিছু চায়নি, দ্বিধাও দেখায়নি, কিন্তু একটু আগে মাঠের মাঝখানে মনে আসা লাইনটাকে যেন সত্যি করে দিল, ‘নীরব চোখে সন্ধ্যালোকে খেয়াল নিয়ে করলে খেলা।’ এবং এই কথাগুলো তো পৃথিবীর জন্মের মতো সত্যি, ‘দেখা হল, হয়নি চেনা—প্রশ্ন ছিল, শুধালে না।’ এই অবধি মনে হতেই অদ্ভুত শান্তি পেল দীপাবলী। সে শমিতের কাছে কৃতজ্ঞ হয়ে উঠল। মনের আকাঙক্ষাকে হেলায় সরিয়ে দিয়ে শমিত যেন তাকে বাঁচিয়ে গেছে।

    তিরি চা করে আনল। চুমুক দিতেই গাড়ির আওয়াজ কানে এল। অন্ধকার কাটতে কাটতে হেডলাইট দুটো ছুটে আসছে এদিকে। ক্রমশ সেটা শব্দ করে থেমে গেল। চায়ের কাপ নামিয়ে রাখল সে কিন্তু উঠে দাঁড়াল না।

    দরজা খোলা। বাইরে গাড়ির আলো দেখা যাচ্ছে। ড্রাইভার গাড়ি থামাবার পরেও হেডলাইট অফ করেনি। সেই আলোয় একটি মানুষকে এগিয়ে আসতে দেখা গেল। দরজার সামনে এসে কপালে হাত ছুঁইয়ে নমস্কার করল লোকটা, ‘মেমসাহেব!’

    লোকটাকে চিনতে পারল না দীপাবলী। সে চুপচাপ বসে রইল।

    লোকটা বলল, ‘বাবু জিপ পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

    ‘কোন বাবু?’ ধীরে ধীরে উচ্চারণ করল সে৷

    ‘অর্জুনবাবু। লাস্ট বাস খারাপ হয়ে গিয়েছে। আপনাদের শহরে যাওয়ার কথা ছিল, তাই জিপ পাঠিয়ে দিয়েছেন।’ লোকটি খুব বিনীত ভঙ্গিতে বলল।

    এবার দীপাবলী উঠে দাঁড়াল, ‘তোমার সাহেবকে কে খবরটা দিল?’

    ‘বাড়িতে ফেরার সময় রাস্তায় বাবুদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।’

    ‘তা আমার এখানে কেন গাড়ি নিয়ে এসেছেন।’

    ‘বাবু যে আপনার কাছেই নিয়ে আসতে বললেন।’

    ‘তোমার বাবুকে বলবে আমার গাড়ির দরকার নেই। যাও।’

    লোকটা এক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে ফিরে যাচ্ছিল গাড়ির দিকে। এটা অর্জুন নায়েকের আর একটা চালাকি। ঘুষ দিয়ে হাতে রাখতে চাইছে। কিন্তু সেইসঙ্গে ওর মনে হল, শহরে সতীশবাবু একা রয়েছেন। বাস যদি আজ রাত্রে না যায় তা হলে এখান থেকে কেউ সাহায্য করতে যেতে পারবে না। সে তড়িঘড়ি দরজার বাইরে নেমে এল, ‘এই যে, শুনুন।’

    লোকটা ঘুরে দাঁড়াল। দীপাবলী বলল, ‘আমাদের অফিসের লোকজন কি এখনও বড় রাস্তায় অপেক্ষা করছে? আপনি জানেন?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’ লোকটি মাথা নাড়ল।

    ‘তা হলে ওঁদের কাছে গাড়ি নিয়ে যান। ওঁরা যদি শহরে যেতে চান, মানে যে ক’জন আপনাদের জিপে যেতে পারেন, নিয়ে গেলে ভাল হয়।’

    ‘ঠিক আছে মেমসাহেব।’ লোকটি আবার মাথা নেড়ে জিপে উঠে বসে ঘুরিয়ে নিয়ে চলে গেল অন্ধকার কাটতে কাটতে।

    দরজা বন্ধ করল দীপাবলী। সোজা শোওয়ার ঘরে এসে খাটে শরীর এলিয়ে দিল। এবং তখনই তার মনোরমার কথা মনে এল। এইভাবে বাইরের জামাকাপড়ে বিছানায় শুলে তিনি নিশ্চয়ই কুরুক্ষেত্র করতেন। একসময় ব্যাপারটা মানত সে, বাধ্য হয়েই মানত। এখন তো সব ছন্নছাড়া। কোনও কিছুই আর বেশিদিন আঁকড়ে ধরা যাচ্ছে না।

    এই যেমন তাকে শেষপর্যন্ত অর্জুন নায়েকের সাহায্য নিতেই হল। প্রথমে সাহায্যটাকে ঘুষ বলে মনে হলেও সেটাকে এড়ানো গেল না বলেই সাহায্য হিসেবে ভাবতে ভাল লাগছে। সতীশবাবুকে আজ রাত্রে হাসপাতালে একা ফেলে রাখা খুব অন্যায় হত। আবার এমনও হতে পারে, অর্জুন সম্পর্কে নানান কুকথা শুনে তার প্রতি বিরূপ হয়েছে সে, হয়তো লোকটা তার সঙ্গে সত্যি সত্যি ভাল ব্যবহার করতে চায়!

    মনোরমা বলতেন, ‘ঘরে থাকবি ঘরের মতো, বাইরে বাইরের মতো। এ দুটোকে কখনই এক করবি না। শোয়ার আগে নিজে বিছানায় বসবি না, কাউকে বসতে দিবি না। রাত্রে ঠিকঠাক করে রাখা নরম বিছানায় শুয়ে যে আরাম পাবি সেই একই বিছানা ব্যবহার করার পরে ভোরবেলা তোকে শুতে দিলে কি সেই আরাম লাগবে? তার মানে সবকিছু তোর কাছে আলাদা যত্ন চায়। যত্ন করলে সে-ও তোকে খুশি করবে, বুঝলি।’

    মনোরমা এককালে রাত্রে শুয়ে শুয়ে এমন অনেক কথা বলতেন। তখন শুনতে ভাল লাগত না। অন্যমনস্ক হয়ে প্রায়ই সে ঘুমিয়ে পড়ত। এখন তার কিছু কিছু বড় সত্যি বলে মনে হয়। মনোরমা হয়তো একটা মানে ভেবে ওসব বলতেন, এখন সেটা আর একটা অর্থ তৈরি করে। আজ এই মুহূর্তে মনোরমাকে খুব মনে পড়ছিল দীপাবলীর। এখন অবশ্য মনোরমা তাকে মাসে একখানা হলেও চিঠি দেন। চাকরি পাওয়ার খবরে উল্লসিত হয়েছিলেন। দীপাবলী লিখেছিল, কে বলতে পারে তাকে হয়তো জলপাইগুড়ি জেলায় কখনও বদলি করতে পারেন সরকার। সেরকম হলে মনোরমা বেশি খুশি হবেন বলে জানিয়েছিলেন। চাকরি পাওয়ার পর দীপাবলী মনোরমাকে লিখেছিল, তিনি যদি ইচ্ছে করেন তা হলে তার কাছে এসে থাকতে পারেন। মনোরমা জবাবে লিখেছিলেন, বউমা তাঁকে কিছুতেই ছাড়তে রাজি নন। অমরনাথের বড় ছেলে স্কুল ফাইনাল পাশ করামাত্র কোম্পানি চা-বাগানে ডেকে নিয়ে চাকরি দিয়েছে। এখন বউমাও তাঁর সেবাযত্ন করে। এই অবস্থায়, তাদের ছেড়ে তাঁর পক্ষে অন্য কোথাও গিয়ে থাকা সম্ভব নয়। মনোরমাকে আমন্ত্রণ জানানোর সময় সে নিশ্চয়ই আন্তরিক ছিল, কিন্তু পরে মনে হয়েছে তার কাছে এলে মনোরমা নিশ্চয়ই খুব স্বস্তি পেতেন না। তাঁর যাবতীয় শুচিবায়ুতা এখানে এসে প্রতি পদে আঘাত পেত।

    রাত দশটায় দু’জন গ্রাম্য মানুষ এসে ডাকাডাকি করতে লাগল।

    বিছানায় শুয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল দীপাবলী নিজেই জানে না। তিরিও তাকে খেতে ডাকেনি। ঘুম ভাঙার পর মনে হল, মধ্যরাত। ঘরে হ্যারিকেন জ্বলছে। ডাক শুনেছিল তিরিও। সে শুয়ে ছিল মেঝেতে, ধড়মড় করে উঠে বসল। দীপাবলী তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘কে ডাকছে রে?’

    ‘দরজা খুলে দেখব?’ তিরি উঠে দাঁড়াল।

    ‘না, ভেতর থেকে জিজ্ঞাসা কর।’

    তিরি বাইরের ঘরে গিয়ে চেঁচিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে দেশীয় গলায় জবাব মিলল। নেখালির দু’জন মানুষ এসেছে। নাম শোনামাত্র ছুটে এল তিরি দীপাবলীর কাছে, ‘ওরা এসেছে, নিশ্চয়ই ঝামেলা করবে।’

    ‘ঝামেলা করবে কেন?’

    ‘আমার জন্যে।’

    দীপাবলীর খুব রাগ হয়ে গেল। এই মেয়েটা এখানে থেকেও মাঝেমধ্যেই আতঙ্কিত হয়। গ্রামের মানুষ এসে তাকে সুখের জগৎ থেকে টেনে নিয়ে যাবে এইরকম ধারণা ওর মন থেকে সরছে না। আর লোকদুটো যদি সত্যি ঝামেলা করতে আসে তা হলে ওদের শায়েস্তা করার ক্ষমতা দীপাবলীর আছে। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে সে-ও অসহায়। পুলিশের সাহায্য তো আগামীকালের আগে পাওয়া যাবে না।

    সে সোজা বাইরের ঘরে গিয়ে দরজা খুলে হ্যারিকেন উঁচিয়ে ধরতেই দুটো লোক কপালে হাত ঠেকিয়ে নমস্কার করল। দীপাবলী উঁচু গলায় প্রশ্ন করল, ‘কী চাই?’

    একজন বলল, ‘একজন বাবু আমাদের গ্রামে মাঠের ওপর শুয়ে আছে। বাবু বলছে আপনার সঙ্গে জানাশোনা আছে।’

    ‘মাঠের ওপর শুয়ে আছে?’ চমকে উঠল দীপাবলী।

    ‘হ্যাঁ দিনভর হাঁড়িয়া খেয়েছে, খাইয়েছে সবাইকে। এখন আর উঠতে পারছে না। আপনার নাম শুনে খবর দিতে এলাম।’

    ‘এখন মাঠেই শুয়ে আছে?’চমকে উঠল দিপাবলী।

    “হ্যাঁ। নেশা মাথায় উঠে গিয়েছে, হাঁটতে পারছে না।’

    ঠোঁট কামড়াল দীপাবলী। তারপর শেষ সংশয় থেকেই প্রশ্ন করল, ‘কীরকম দেখতে?’

    ‘লম্বা, পাজামা পাঞ্জাবি পরেছে।’

    নিশ্বাস ফেলল দীপাবলী। তারপর বলল, ‘এতদূরে তো এই রাত্রে ওকে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তোমরা যদি ওকে কোনও ঘরে রাতটা থাকতে দাও তা হলে ভাল হয়?’

    এবার দ্বিতীয় লোকটি বলল, ‘এখন গ্রামের কেউ ঘরে থাকতে দেবে না।’

    ‘কেন?’

    ‘মাতাল হয়ে বাবু একজনের সঙ্গে মারপিট করেছে।’

    ‘মারপিট? সেকী?’

    ‘হুঁ। যাদের সঙ্গে হাঁড়িয়া খাচ্ছিল তাদের একজন খারাপ কথা বলে, বাবুও তাই খারাপ কথা বলে, তারপর মারপিট আরম্ভ হয়ে যায়।’

    ‘ও। আমার কাছে লোকজন এখন নেই। আমি কী করতে পারি বলো? তোমরা কি ওকে এখানে নিয়ে আসতে পারবে?

    লোকদুটো নিজেদের মধ্যে কিছু কথা বলল। তারপর জানাল যে চেষ্টা করবে। নেখালির মানষদের দীপাবলী যে সাহায্য করছে তার জন্যেই চেষ্টা করবে। বলে ওরা চলে গেল।

    দরজা বন্ধ করে সোজা বাথরুমে চলে গেল দীপাবলী। সারাদিনের ঘাম, ক্লান্তি, আধাঘুম ভেঙে যাওয়ার জড়তার সঙ্গে আর একটা গা-ঘিনঘিন করা অনুভূতি জুড়ে গেল। শমিত এত নীচে নেমে গেছে সে ভাবতেই পারছিল না। যে-শমিত এককালে সুস্থ শিল্পের কথা বলত, মানুষের প্রতিভার নামে যা-ইচ্ছে তাই করবে স্বাধীনতায় বিশ্বাস করত না, সে সারাদিন ওই গরিব মানুষদের গ্রামে মদ খেয়ে এবং খাইয়ে পড়ে রইল? একটা সাধারণ মাতালের মতো মারপিট করল? মগের জল শরীরে ঢালতে ঢালতেও কাঁটা হয়ে রইল দীপাবলী।

    স্নান সেরে সে তিরিকে বলল খাবার দিতে। বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকলে এবং সেইসঙ্গে উত্তেজনা মিশলে পেটে চিনচিনে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। সে খেতে চাইছে দেখে তিরি যেন অবাক। কিন্তু মুখে কিছু না বলে খাবার দিল। কোনও কোনও সময় খাওয়াটা যে কতখানি বিরক্তিকর হয় তা এখন টের পেল দীপাবলী। খেয়েদেয়ে বলল, ‘ওরা যদি শমিতকে নিয়ে আসে তা হলে বাইরের ঘরটা খুলে দিবি। ওখানেই শুইয়ে ওরা চলে গেলে দরজা বন্ধ করে তুই শুয়ে পড়বি। শোওয়ার সময় এই দরজাটাও বন্ধ করে রাখবি। যা, খেয়ে নে। আর শোন, ওরা এলে আমাকে ডাকাডাকি করার কোনও দরকার নেই। আমার শরীর ভাল না।’

    মশারি খাটিয়ে দিল তিরি। শুয়ে পড়ল দীপাবলী। বিছানায় গা এলিয়েই বুঝতে পারল আজ সহজে ঘুম আসবে না। একবার ভেঙে যাওয়া ঘুম এখন উধাও হয়ে গিয়েছে। সে প্রাণপণ চেষ্টা করতে লাগল ঘুম আনতে দুই চোখে। কিন্তু বন্ধ চোখের পাতায় শমিতের মুখ। বারংবার। সে নিঃসাড়ে পড়ে রইল।

    নিঝুম হয়ে যাওয়া চরাচরে একসময় কিছু লোকের কথাবার্তা শোনা গেল। শেষপর্যন্ত দরজায় ধাক্কা, মানুষজনের গলার আওয়াজ। দীপাবলী বিছানায় স্থির হয়ে রইল। তিরির গলা শোনা গেল, ‘কে?’

    বাইরে থেকে জবাব ভেসে এল, ‘বাবুকে নিয়ে এসেছি।’

    দীপাবলী শুনল, তিরি দরজা খুলছে। লোকগুলো শমিতকে নিয়ে সম্ভবত ভেতরে ঢুকল। শুইয়ে দেওয়ার শব্দ হল। হঠাৎ একটা লোক বলে উঠল, ‘মেমসাহেব কোথায়?’

    ‘শরীর খারাপ শুয়ে পড়েছে।’ তিরি অন্যরকম গলায় কথা বলল।

    ‘তোর জন্যে, তোর জন্যে বাবু মারপিট করল। হুঁ।’

    তারপরেই লোকগুলোর চলে যাওয়ার শব্দ পাওয়া গেল। গলার স্বর অন্ধকারে একসময় মিলিয়ে গেল। তিরি দরজা বন্ধ করল আরও কিছুক্ষণ বাদে। দীপাবলী বুঝতে পারছিল না এতক্ষণ দরজা খুলে তিরি কী করছিল! আরও খানিকটা সময় পার করে তিরি এ-ঘরে এল। এবার ও বিছানা করে শুতে যাচ্ছে। দীপাবলী গম্ভীর গলায় বলল, ‘মাঝখানের দরজাটা বন্ধ করে দিতে বলেছিলাম তোকে!’

    ‘বাবুর শরীরে জ্বর এসেছে।’ কাতর গলায় বলল তিরি।

    ‘তোকে যা বলছি তাই কর।’

    তিরি উঠল। দরজাটা ভাল করে বন্ধ করতে একটু শব্দ হল। দীপাবলীর মনে হল শব্দটা যেন তিরি ইচ্ছে করেই করল। শমিত আসার পর থেকে যেন তিরি তার সঙ্গে অন্যরকম ব্যবহার করছে। একটা প্রতিবাদী ভঙ্গি সবসময় ওর আচরণে চোখে পড়ছে। দীপাবলীর কিছুতেই ঘুম আসছিল না। সারাদিন মাঠেঘাটে পড়ে মদ গিললে জ্বর আসতেই পারে, কিন্তু তাকে জ্বালাতন করা কেন?

    তবু শেষরাতে তন্দ্রা এসেছিল কিন্তু রাত ফুরোবার আগেই সেটা গেল সরে। উঠে বসল দীপাবলী। ঘড়িটা চোখের সামনে টেনে এনে সময় দেখল। অন্যদিন আরও আধঘণ্টা সে স্বচ্ছন্দে ঘুমায়। আজ ঘুম এল কখন? চট করে পাশের বন্ধ দরজার দিকে তাকাল সে। ঘরের এক কোনায় নিবন্ত হ্যারিকেন থেকে ফ্যাকাশে হলুদ আলো বের হচ্ছে। মাটিতে অঘোরে ঘুমাচ্ছে তিরি। দীপাবলী বিছানা থেকে নেমে বাথরুমে গেল।

    দাঁত মাজতে মাজতে, প্রায়ান্ধকার বাথরুমে দাঁড়িয়ে অন্য চিন্তা মাথায় এল তার। শমিতের ঘটনাটা নেখালির মানুষেরা নিশ্চয়ই গল্প করবে। এ-ধরনের ব্যাপার রোজ ঘটে না। আর যেখানে সে জড়িত তখন গল্পের গতি বাড়বে। সে এর আগে দেখেছে, এক অল্পবয়সি মেয়ে চাকরি করতে এসেছে, তা যে-পোস্টেই হোক, আশেপাশের মানুষ তার মধ্যে গল্প খোঁজে। শমিত অন্তত এই ক্ষতিটুকু করতে পারল। অবশ্য নিজে যতক্ষণ অন্যায় না করছে ততক্ষণ সে কাউকে পরোয়া করে না, তবু এসব কার ভাল লাগে?

    অভ্যেসমতো স্নান সেরে সে যখন ঘরে ফিরে এল তখনও তিরির ঘুম থেকে ওঠার সময় হয়নি। বাইরের ঘর দিয়ে বেরুবার প্রবৃত্তি হল না। সে ভেতরের উঠোন পেরিয়ে খিড়কির দরজা খুলে মাঠে এসে দাঁড়াল। অন্ধকার আকাশ থেকে নেমে আসছে পৃথিবীর ওপর। আর একটু বাদেই তারা ঢুকে যাবে মাটির ভেতরে। এ বড় সুসময়। অন্যদিন এই মুহূর্তে মন মাজা কাঁসার থালার মতো ঝকঝকে হয়ে যায়।

    দীপাবলী অন্যমনস্ক হাঁটতে লাগল। সতীশবাবুর বাড়ির দিকে যাওয়ার কথা ভাবল একবার। নিশ্চয়ই যারা গিয়েছিল কাল শহরে তারা এতক্ষণে শ্মশানেই আটকে আছে। সে পুবমুখো দাঁড়াল৷ সূর্য দেখা যাচ্ছে না, তিনি এখনও দিগন্তের নীচে। কিন্তু তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে তাঁর উঠে আসার। হঠাৎ দূরে ঝাপসা হয়ে থাকা একটি মানুষের মূর্তি চোখে পড়ল। লোকটি গুনগুন করে গান গাইছে। বিস্মিত দীপাবলী কয়েক পা এগোেল। তখনই কানে এল, ‘আকাশ পানে হাত বাড়ালেম কাহার তরে?’

    গলার স্বর কাঁপছে, সুর সব জায়গায় চেনা নয়। শরীর দুলছে। শমিত। ও কী করে তার আগে এখানে এল? দীপাবলী অনুমান করল শমিত তার অনেক আগেই বেরিয়েছে। গতরাত্রে সম্পূর্ণ মাতাল একটা লোককে শুইয়ে দেওয়ার পর এই ভোর না-হওয়া সময়ে সে কোন পুলকে বাইরে বেরিয়ে গান ধরে?

    দীপাবলী লক্ষ করল, গান থামল, ধীরে ধীরে উবু হয়ে বসল মাঠের ওপর। এই বসার ভঙ্গি চোখে খারাপ ঠেকল। স্বাভাবিক মানুষ এই ভঙ্গিতে সচরাচর বসে না। মাথা ঝুঁকে পড়েছে সামনের দিকে। নিতান্ত অনিচ্ছায় দীপাবলী এগিয়ে গেল। একজন কেউ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে এই বোধও যেন শমিতের নেই। একটু বাদেই বাবুরা কাজে আসবেন। তাঁরা যদি শমিতকে এইভাবে বসে থাকতে দ্যাখেন তা হলে গতরাত্রের গল্প আরও জোরদার হবে। কালকের মদের প্রতিক্রিয়া কি এখনও চলছে ওর শরীরে?

    দীপাবলী ডাকল, ‘শমিত?’

    শমিত অনেক কষ্টে মুখ তুলল যেন। তার মুখচোখ দেখে আঁতকে উঠল সে। হাত বাড়িয়ে কপাল স্পর্শ করতেই আগুনের ছোঁয়া পেল। আতঙ্কিত দীপাবলী বলল, ‘ওঠো, বাড়িতে গিয়ে শোবে চলো। এরকম অসুস্থ হয়ে কেন বাইরে এসেছ?’

    শমিত হাসতে চেষ্টা করল কিন্তু পারল না।

    ওকে একা তোলা দীপাবলীর পক্ষে অসম্ভব। সে দ্রুত ফিরে গেল। তিরিকে ডেকে এনে দু’জনে মিলে কোনওরকমে শমিতকে নিয়ে এল বাইরের ঘরে। সেখানে ঢুকেই শরীর গুলিয়ে উঠল। সমস্ত ঘরে বমি করে রেখেছে শমিত। দুর্গন্ধে সেখানে দাঁড়ানো যাচ্ছে না। এরকম একটা নরকে কোনও মানুষকে শোওয়ানো যায় না। দীপাবলী তিরিকে ভেতরের দরজাটা খুলতে বলল। সেটা যেহেতু বন্ধ ছিল ওপাশ থেকে তাই তিরিকে খিড়কির দরজা ঘুরে যেতে হল। শমিতকে দু’হাতে ধরে দাঁড়িয়ে আছে দীপাবলী। টলছে শমিত। আর টলতে টলতে বলছে, ‘আই অ্যাম সরি দীপা, লেট মি গো।’ কথা জড়িয়ে যাচ্ছে।

    ভেতরের ঘরে দ্বিতীয় বিছানা নেই। মাটিতেও শোওয়ানো যায় না। অতএব নিজের বিছানাতেই শুইয়ে দিতে বাধ্য হল দীপাবলী। দেখা গেল ওর পাঞ্জাবির হাতাতেও কিঞ্চিৎ বমি শুকনো হয়ে লেগে আছে। নতুন পাঞ্জাবি শমিতের ঝোলা থেকে এনে সেটা পরিয়ে দিতে প্রচণ্ড কসরত করতে হল।

    তিরি বলল, ‘কী হবে দিদি। শরীর যে পুড়ছে।’

    ‘মাথা ধুইয়ে দেওয়া দরকার। তুই এক বালতি জল নিয়ে আয়।’

    শমিতের মাথা বিছানার একপাশে নিয়ে এসে ধীরে ধীরে মাথা ধুইয়ে দিল দীপাবলী। শরীরের ছোঁয়া পাওয়ামাত্র জল গরম হয়ে যাচ্ছে। জলের স্পর্শ পেয়ে চোখ খুলল শমিত। লাল টকটকে চোখ মেলে কী দেখল সে-ই জানে।

    তিরি ততক্ষণে চলে গিয়েছে বাইরের ঘরটাকে পরিষ্কার করতে। জল এবং ঝাঁটার শব্দ হচ্ছে সেখানে। একবার দরজায় এসে বলল, ‘কাল সারাদিন কিছু খায়নি দিদি, যেখানে বমি পড়েছে সেখানেই কালো দাগ হয়ে গিয়েছে।’

    দীপাবলী চোখ বন্ধ করে পড়ে-থাকা শমিতের দিকে তাকাল। সেই শমিত এমন কাণ্ড কেন করল? আর এই শমিত সারাজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত সমস্ত জ্ঞান, অহংকার, আকাঙক্ষা হারিয়ে কী অসহায় হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু এভাবে কাউকে ফেলে রাখা যায় না। একজন ডাক্তারকে ডেকে আনা দরকার। তিরি ফিরে এলে তাকে শমিতের ওপর নজর রাখতে বলে সে তৈরি হয়ে অফিসঘরে চলে গেল।

    হরিপদবাবু নেই। বাবুদের মধ্যে মাত্র একজনই এসেছেন। তিনি এত সামান্য কাজ করেন যে দীপাবলীর প্রয়োজন পড়ে না কথা বলার। তাঁকেই ডাকতে হল। লোকটির যথেষ্ট বয়স হয়েছে। প্রথমদিন দেখেই মনে হয়েছিল বয়স ভাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘সতীশবাবুর কোনও খবর পেয়েছেন?’

    ‘না।’ দ্রুত মাথা নাড়লেন ভদ্রলোক, ‘দুপুরের আগে কী করে ফিরে আসবে। সকালের আগে তো বডি শ্মশানে নিয়ে যেতে পারবে না।’

    এত স্বাভাবিক গলায় কথাগুলো বললেন ভদ্রলোক যে দীপা অবাক হয়ে তাকাল। তারপর জিজ্ঞাসা করল, ‘সবাই গেল আপনি গেলেন না কেন? ’

    ‘আমি আর কী করতাম ওখানে। জিপে জায়গা বেশি হত না। তা ছাড়া আমি সি এল নষ্ট করতে চাই না এখন।’

    ‘সি এল?’

    ‘হ্যাঁ ম্যাডাম। ক্যাজুয়াল লিভ। আপনি তো ওদের ছুটি কাটবেন। আমি বছরের শেষে ওই সি এলগুলো নিয়ে দেশের বাড়িতে যাই। আমি তো আপনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাই না তাই আপনি জানেন না।’

    ‘হুঁ! আচ্ছা বলুন তো, এখানে ভাল ডাক্তার কি কেউ আছেন?’

    ‘ডাক্তার? না কেউ নেই। থাকলে সতীশবাবুর বউ মারা যায়?’

    ‘কেউ নেই?’

    ‘আছে। তিন ক্রোশ দূরে মতি হালদার। ব্যাটা চামার।’

    ‘আপনি এক কাজ করুন। এখন অফিসে কাজ করতে হবে না। ওরা যখন নেই তখন কী কাজই বা আপনি করবেন। আপনি দয়া করে ওই মতি হালদারকে আমার নাম করে ডেকে আনুন।’

    ‘ডেকে আনব? কিন্তু সতীশবাবুর স্ত্রী তো মারা গিয়েছেন?’

    ‘আপনাকে যা বললাম তাই করুন।’

    ‘ঠিক আছে, যাচ্ছি। কিন্তু কে অসুস্থ জিজ্ঞাসা করলে কী বলব?’

    ‘আমার বাড়িতে একজন আত্মীয় এসেছেন, তিনি অসুস্থ। এই নিন দুটো টাকা, আপনাদের বাসভাড়া।’

    টাকাটা নিয়ে ভদ্রলোক আর দাঁড়ালেন না। দীপাবলী একটু স্বস্তি পেল। এই লোকটির সঙ্গে সে আগে কথা না বলে ভালই করেছে। মতি হালদার যত চামারই হন ডাক্তার তো বটে। এইসময় তিরি চা নিয়ে এল।

    দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘হ্যাঁরে, তোদের এখানে কারও অসুখ হলে কী করিস?’

    ‘শুয়ে থাকি।’

    ‘শুয়ে থাকলে অসুখ সেরে যায়?’

    ‘সেরে যায়, কেউ কেউ মরে যায়।’

    ‘চিকিৎসা হয় না?’

    মাথা নেড়ে না বলল তিরি।

    দীপাবলী বলল, ‘মতি হালদার নামে একজন ডাক্তার আছেন, তাঁকে ডাকতে পাঠালাম।’

    ‘তুমি পাগলাবাবাকে খবর দেবে?’

    ‘পাগলাবাবা?’

    ‘ওই শিবমন্দিরে থাকে। শেকড় পাতা দিয়ে অসুখ সারায়।’

    চায়ে চুমুক দিল দীপাবলী। কথা ঘোরাবার জন্যে বলল, ‘বাবু কি একই রকম ভাবে শুয়ে আছে?’

    ‘হুঁ। শরীরের রক্ত যতক্ষণ ফুটবে ততক্ষণ হুঁশ থাকবে না।’

    দশটা নাগাদ মতি হালদারকে নিয়ে ভদ্রলোক ফিরে এলেন। মতি হালদার মধ্যবয়সি। পোশাক এবং চেহারায় দুর্দশার ছাপ স্পষ্ট। হাতের ব্যাগটি জরাজীর্ণ। তিনি এসেই ঝুঁকে নমস্কার করলেন দীপাবলীকে, ‘অনেক আগেই এসে আলাপ করা উচিত ছিল কিন্তু গুরুর নিষেধ থাকায় পারিনি। মার্জনা করবেন।’

    ‘গুরুর নিষেধ?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ। গুরু বলেছিলেন বিনা কলে কারও বাড়িতে যাবে না। সেই থেকে আমি যাই না। আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতেও না। কার অসুখ? কী অসুখ?’

    ‘আপনি ভেতরে আসুন।’ দীপাবলীর বলার ধরন দেখে বৃদ্ধ কর্মচারী অফিসঘরে ফিরে গেলেন। মতি হালদারকে নিয়ে সে শোওয়ার ঘরে চলে গেল। খাটের ওপর পা তুলে বসে মতি হালদার মিনিট তিনেক শমিতকে পরীক্ষা করলেন। তারপর বাক্স খুলে দুটো বড়ি বের করে বললেন, ‘একটা এখন খাইয়ে দিন। ঘণ্টায় ঘণ্টায় মাথা ধোয়াবেন। জ্বর না কমলে চার ঘণ্টা বাদে দ্বিতীয় বড়ি। তাতেও না কমলে হাসপাতালে। চিকিৎসার কিছু থাকবে না।’

    ‘কী হয়েছে?’

    ‘সমস্ত শরীর, ভেতরে বাইরে উত্তপ্ত। কেস খুব সিরিয়াস।’

    ‘আপনি কি এখনই হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলছেন?’

    ‘দুটো বড়ি ফেল করলে।’

    ‘আপনার ফি কত?’

    ‘পাঁচ টাকা, বড়ির দাম আট আনা।’

    টাকা এবং খুচরো পকেটে পুরে দরজা পর্যন্ত গিয়ে মতি হালদার ঘুরে দাঁড়ালেন, ‘ইনি কে?’

    ‘আমার আত্মীয়।’

    ‘মুখে এখনও মদের গন্ধ। লিভার থেকেও হতে পারে। চলি।’

    মতি হালদার চলে যাওয়ার পর দীপাবলী ধপ করে চেয়ারে বসে পড়ল। তার এতক্ষণ মনে হচ্ছিল শমিত তাকে ইচ্ছে করে বিপদে ফেলবার জন্যে এখানে এসেছে। এখন মনে হল, শমিত কি আত্মহত্যা করতে এসেছিল, একটা জলজ্যান্ত মানুষ তার কাছে এসে যদি দুম করে মারা যায়! সে কেঁপে উঠল। মুখ ফিরিয়ে দেখল তিরি পরম যত্নে শমিতের মুখ তুলে বড়ি খাওয়াচ্ছে। সে চুপচাপ শমিতের মুখে গ্লাসের জলের ধারা পড়তে দেখল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }