Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২১. খাম খুলে চিঠির ওপর নজর

    খাম খুলে চিঠির ওপর নজর বোলাতে বোলাতে দীপাবলীর মুখে অদ্ভুত সব অভিব্যক্তি খেলা করে যেতে লাগল তারই অজান্তে। এই মুহূর্তে মায়ার দুর্ঘটনার কথা সে একেবারে বিস্মৃত। একদিকে প্রত্যাশা পূর্ণ হবার আনন্দ অন্য দিকে একটা আচমকা বিস্ময়। সে চিঠিটা দু’বার পড়তেই একটি বউ দৌড়ে এল, ‘উনি তোমাকে অনেকক্ষণ থেকে খুঁজছেন। তাড়াতাড়ি এসো।’

    দীপাবলীর বাস্তবে ফিরে আসতে দেরি হল না, ‘কে?’

    ‘জেঠিমা।’

    দীপাবলী এবার মায়াদের শরিকের পুত্রবধূকে চিনতে পারল। একে সে খুব কমই দেখেছে। এই বাড়ি ভাগাভাগি হবার পর আর দেখার সুযোগ হয়নি। সে কথা না বাড়িয়ে মায়ার মাকে দেখার জন্যে পা বাড়াতেই বউটি বলল, ‘ওঁকে এখন আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।’

    দীপাবলী বউটিকে অনুসরণ করল। এখানে আসার পর মায়ার মাকে সে একটি দিনের জন্যেও বাড়ির এই এলাকায় পা বাড়াতে দ্যাখেনি। বিপদ মানুষের ব্যবধান কমিয়ে দেয়। মাসিমা বসে ছিলেন একটা তক্তপোশের ওপর। তাঁকে ঘিরে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন কয়েকজন। একজন বলে উঠল, ‘ওই তো এসে গিয়েছে। এবার একটু শান্ত হন!’

    মাসিমা কাঁদছিলেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে মনের অবস্থার প্রচুর পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। কাঁপা হাত বাড়িয়ে তিনি দীপাবলীকে আঁকড়ে ধরলেন, ‘কী হবে এখন?’

    দীপাবলী পাশে এসে বসল, ‘আপনি নার্ভাস হবেন না। আমি একটু আগে সুদীপের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। ও আজ সন্ধের ট্রেনে দার্জিলিং-এ যাচ্ছে। আপনাকেও তৈরি হয়ে থাকতে হবে। যাওয়ার পথে সুদীপ আপনাকে সঙ্গে নিয়ে যাবে।’

    ‘কিন্তু তার খবর কী?’

    ‘সেটা এখনই জানা যাচ্ছে না, গিয়ে জানতে পারবেন।’

    ‘জানতে পারবেন মানে? তুমি আমার সঙ্গে যাচ্ছ না?’

    ‘এত লোক গিয়ে ভিড় বাড়িয়ে কী লাভ?’

    যেসব মহিলা শুনছিলেন তাঁদের একজন বললেন, ‘এত লোক কোথায়? জামাই আর শাশুড়ি। দু’জনে গিয়ে সামলাতে পারবে কী করে?’

    ‘দু’জনে কেন হবে?’ শমিতের নামটা উচ্চারণ করতে গিয়েও সামলে নিল সে, ‘ওখানে শুটিং করতে যাঁরা গিয়েছেন তারাও নিশ্চয়ই পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

    হঠাৎ মাসিমা দীপাবলীর হাত আঁকড়ে ধরলেন, ‘তুমি আমার সঙ্গে চলো। তুমি কাছে না থাকলে আমি দিশেহারা হয়ে পড়ব। আমার মাথায় কিছু আসছে না।’

    সেই মহিলা বললেন, ‘ঠিকই তো। রক্তের আত্মীয় না হোক একই বাড়িতে একই হাঁড়িতে তো মাসের পর মাস থাকা খাওয়া হচ্ছে, তার কোনও দাম নেই? তা ছাড়া তুমি তো মায়ার কতদিনের বন্ধু! সে হাসপাতালে আছে আর তুমি এ-বাড়িতে একা থাকতে পারবে?’

    দীপাবলী মাসিমার দিকে তাকাল। তার চোখ থেকে সমানে জল ঝরছে। ধীরে ধীরে হাল ছেড়ে দিল সে। তার বাঁ হাতে ধরা খামটার কথা এখন এই পরিবেশে কাউকে বলা যাবে না। আর সেই খামের ভেতর ভাঁজ করা চিঠি বলছে সময় বেশি নেই। কিন্তু সে মায়ার কাছে ঋণগ্রস্ত। যাদবপুরের কলোনিতে যখন অসুস্থ বেহুঁশ হয়ে পড়ে ছিল তখন মায়াই তাকে এই বাড়িতে তুলে এনে সেবা করেছে। এমনকী আশ্রয়হীন হয়ে এই পর্বে কলকাতায় এসে সে মায়ার সাহায্যেই এবাড়িতে আশ্রয় পেয়েছে। ব্যক্তিগত যে সমস্যাই থাকুক মানুষ হিসেবে সব উপেক্ষা করে দার্জিলিং-এ ছুটে যাওয়া উচিত। সে ভাঙা গলায় বলল, ‘ঠিক আছে মাসিমা, আপনি জিনিসপত্র গুছিয়ে নিন। আমরা স্টেশনে গিয়ে আর একটা টিকিট কিনে নেব।’

    দীপাবলী সিঁড়ি ভেঙে নিজের ঘরে ফিরে এল। দরজা খুলে সটান বিছানায়। টানটান সমস্ত শরীরে অদ্ভুত অবসাদ। তার খামটি হাতের মুঠোয় তখনও ধরা। অথচ শরীরে একটা ঝিমঝিমানি পাক খাচ্ছে। চিঠিটা হাতে পেয়ে যে-আনন্দ এবং বিস্ময় একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছিল সমস্ত সত্তায় তা আচমকা থিতিয়ে গিয়েছে যেন।

    ওই চিঠির লেখাগুলো বলছে সময় বেশি নেই। মেডিক্যাল বোর্ড এবং মুসৌরি সার্ভিস কলেজে যোগ দিতে মাত্র দিন সাতেক সময় দেওয়া হয়েছে। এই সাত দিনের মধ্যে অন্তত দু’দিন চলে যাবে পথেই। অর্থাৎ হাতে থাকল পাঁচ দিন। এর মধ্যেই তাকে সব গুছিয়ে নিতে হবে। কলকাতার পাট হয়তো পাকাপাকিভাবে চুকিয়ে দিতে হবে। অত দূরের পথ, রেলের রিজার্ভেশন আজকেই করা দরকার। মিনিট তিনেক শুয়ে রইল দীপাবলী। এবং তখনই তার মনে ভেসে উঠল অমরনাথ এবং সত্যসাধন মাস্টারের মুখ। সেই মুখ দুটিতে উজ্জ্বল হাসি। দীপাবলী চোখ বন্ধ করল, ‘বাবা, আমি পেরেছি।’ অমরনাথ যেন তৃপ্তির হাসি হেসে সত্যসাধন মাস্টারের দিকে গর্বিত দৃষ্টিতে তাকালেন। সত্যসাধন এগিয়ে এলেন। চোখ বন্ধ করে তাকে দেখতে গিয়ে হঠাৎই যেন সেই ঘামের গন্ধ নাকে এল। সত্যসাধন মাস্টার বললেন, ‘আমি কইছিলাম তুমি পারবা। নাউ আই অ্যাম প্রাউড অফ ইউ। গো অ্যাহেড। প্রথম তোমার প্রকৃত যুদ্ধ শুরু হইল। ফাইট দ্যাট। ডোন্ট লুক ব্যাক।’

    চোখ খুলে ফেলল। সে যে ছাদের ঘরে শুয়ে এটুকু বুঝতে সময় লাগল। এবং তারপরেই সর্বাঙ্গে কাঁপুনি এল। সে কি সত্যি এতক্ষণ মৃত মানুষের দেখা এবং কথাবার্তা শুনেছে? আশ্চর্য! এখনও নাক থেকে নস্যির গন্ধটা দূর হয়নি। ধীরে ধীরে তার বুকে অদ্ভুত শক্তি জড়ো হল। এখন তোমার প্রকৃত যুদ্ধ শুরু হইল। মাস্টারমশাই, তা হলে এতদিন আমি কী করেছি? ডোন্ট লুক ব্যাক! ঠিক আছে, পেছনের দিকে আর ফিরে তাকাব না। দীপাবলী খাট থেকে নামল। ঘড়ি দেখল। তাকে এখনই যেতে হবে ডালহৌসিপাড়ায়। দুটো টিকিটই একসঙ্গে কাটবে। যেমন করেই হোক দার্জিলিং থেকে ফিরে আসবে চার দিনের মধ্যে। আরও আগে ফিরলে খুবই ভাল। খামটাকে সুটকেসে ঢুকিয়ে সে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। নিজের দিকে তাকিয়ে একটু ভাবল। এই হলাম আমি। কোনও ভাল জিনিস নিরবচ্ছিন্নভাবে দিতে ঈশ্বর চিরকাল যার ওপর নারাজ। কেন? কেন সে এই চিঠি পেয়ে ধীরস্থির সুস্থভাবে চাকরিতে যেতে পারবে না? কেন তাকে তার আগে দার্জিলিং-এ ছুটতে হবে? মায়ার দুর্ঘটনা কি এখনই না ঘটালে চলত না? নিজের মুখের দিকে তাকাল সে। হ্যাঁ, সে লড়াই করবে। শেষতক। দেখা যাক জিততে পারে কিনা।

    বিকেলে সুদীপ এল ট্যাক্সি নিয়ে। ততক্ষণে টিকিট কিনে বাড়ি ফিরে মাসিমাকে নিয়ে দীপাবলী তৈরি। সুদীপ তাকে তৈরি দেখে অবাক, ‘সেকী? তুমি যাচ্ছ?’

    ‘হ্যাঁ। মাসিমা চাইছেন আমি সঙ্গে যাই।’

    ‘ও। ভালই।’

    মাসিমাকে বাড়ির বাইরে সে কখনও দ্যাখেনি। আজ দেখে অবাক। যে-ভদ্রমহিলার ভাল পড়াশুনা আছে, বাঙালি মেয়েদের জাগরণের গল্প যাঁর মুখস্থ, অনেক ব্যাপারই যিনি উদার মানসিকতায় নিতে পারেন, তিনি দরজার বাইরে পা দেওয়ামাত্র কেমন জড়ভরত হয়ে গেলেন। ঘোমটা নামল ভুরুর ওপরে, ট্যাক্সিতে বসে রইলেন পুঁটুলির মতো। জামাই হিসেবে সুদীপ তো তাঁর অনেকদিনের চেনা। বিয়ের আগেও গল্প করেছেন। অতএব তাকে দেখে লজ্জা পাওয়ার কথা নয়। হয়তো মেয়ের দুর্ঘটনার কথা শোনার পর থেকেই ওঁর নার্ভ ঠিক জায়গায় নেই। সুদীপও কোনও কথা বলছে না।

    ট্রেনে রিজার্ভেশন পাওয়া যায়নি। মেয়েদের কামরায় দীপাবলী উঠল মাসিমাকে নিয়ে। সুদীপ যাওয়ার আগে অবশ্য জিজ্ঞাসা করে গিয়েছিল পথে তাকে আসতে হবে কিনা। মাসিমা মাথা নেড়ে নিচু গলায় বলেছিলেন, ‘না, ওকে বললা কষ্ট করার দরকার নেই।’ গলা যত নীচেই থাক সুদীপ শুনতে পেয়েছিল। সে চলে যাওয়ার পর ট্রেন ছাড়লে দীপাবলীর মনে হল সমস্ত ব্যাপারটা অন্যরকম হয়ে গেল। সুদীপের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে তিনি কীভাবে নিয়েছিলেন তা সে জানে না। তখন সে কলকাতার বাইরে। কিন্তু সুদীপের কাছ থেকে যখন মায়া চলে এল তখন যে তিনি মেয়েকে সমর্থন করেছেন এমন নজির সে পায়নি। মাঝে মাঝে মা মেয়েতে এই নিয়ে কিছু কথা কাটাকাটিও হয়েছে। কিন্তু এসব কিছুই তার উপস্থিতিতে কখনও করেননি মাসিমা। মনে হয়েছিল সুদীপের সঙ্গে একটা সমঝোতায় মেয়েকে যেতে বলতেন তিনি। আর এই দুর্ঘটনার পর হঠাৎ যেন সুদীপ সম্পর্কে তাঁর কোনও আগ্রহ নেই। এখন বোঝা যাচ্ছে কেন তিনি একা সুদীপের সঙ্গে যেতে চাননি। এমন হতে পারে মেয়ের দুর্ঘটনার পরোক্ষ কারণ হিসেবে তিনি জামাইকে দায়ী করছেন। অন্তত সুদীপের সঙ্গে এতটা পথ ট্যাক্সিতে আসার সময় যিনি কথা বলেননি, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে অথবা কামরায় বসেও যিনি নির্বাক ছিলেন, তিনি নিশ্চয়ই বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাঁর মন্দ লাগার কথা। দীপাবলী প্রকাশ্যে এ-ব্যাপারে কোনও কৌতুহল দেখাল না। হঠাৎ ছুটন্ত দার্জিলিং মেলে বসে ছুটে যাওয়া উলটোডাঙার দিকে তাকিয়ে তার খেয়াল হল এটাই জলপাইগুড়ি যাওয়ার পথ। কতকাল এই পথে এই ট্রেনে যাওয়া হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে অদ্ভুত সব নস্ট্যালজিক অনুভূতিতে আক্রান্ত হয়ে গেল সে।

    হঠাৎ মাসিমা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘দার্জিলিং-এ গিয়ে মায়া কি তোমাকে চিঠি লিখেছে?’

    চমকে উঠল দীপাবলী, ‘না তো।’ মাসিমা মুখ ঘুরিয়ে নিলেন।

    দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘কেন বলুন তো?’

    কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মাসিমা জবাব দিলেন, ‘কে যেন বলল তোমার চিঠি এসেছে।’

    ‘হ্যাঁ। কিন্তু সেটা তো দিল্লি থেকে।’

    ‘দিল্লি?’

    ‘হুঁ। আমি ইন্টারভিউতে পাশ করেছি।’ কথাটা না বলে পারল না সে।

    চট করে মুখ তুলে ঘোমটার নীচ দিয়ে দীপাবলীকে দেখলেন একবার, তারপর আবার মুখ নামিয়ে নিলেন মাসিমা। অনেকক্ষণ কোনও কথা নেই। দক্ষিণেশ্বর স্টেশন ছাড়িয়ে বালি ব্রিজের ওপর উঠে পড়ল ট্রেন। গুম গুম শব্দ বাজছিল অন্ধকারে। যাত্রীরা অনেকেই দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের উদ্দেশে নমস্কার করছিল। দীপাবলী দেখল মাসিমা একটুও নড়লেন না। হয় তিনি ওখানে মন্দিরের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানেন না অথবা কোনও উৎসাহ নেই। বেশ কিছুক্ষণ বাদে চারধার যখন শান্ত, শুধু চাকার আওয়াজ ছাড়া কোনও শব্দ বাজছে না, তখন মাসিমা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাকে কবে যেতে হবে?’

    ‘দিন পাঁচেকের বেশি সময় পাব না।’

    ‘ও। এই যাওয়াই শেষ যাওয়া?’

    ‘শেষ যাওয়া বলছেন কেন? আমি কি ছুটি পাব না?’

    ‘মানুষের পায়ের তলায় শেকড় আছে। পুরনো জায়গা থেকে শেকড় তুলে নিতে তার যেমন বেশি সময় লাগে না তেমনি নতুন জায়গায় সেই শেকড় বসে যেতেও দেরি হয় না।’

    ‘ঠিক আছে, আপনি দেখবেন।’

    ‘তোমার তা হলে আমাদের সঙ্গে আসা উচিত হয়নি।’

    দীপাবলী জবাব দিল না।

    মাসিমা বললেন, যখন ওরা তোমাকে আসার জন্যে জেদাজেদি করছিল তখন তো তুমি এই চিঠিটার কথা আমাকে বলতে পারতে।’

    ‘বললে আপনি নিশ্চয়ই নিষেধ করতেন। কিন্তু মায়াকে দেখতে যাওয়া আমার কর্তব্য।’

    কতব্য আমরা গিয়ে ওকে দেখতে পাব না।’

    ‘আঃ, মাসিমা, কী যা তা বলছেন আপনি?

    ‘আমার মন বলছে। ওর ঠিকুজিতেও ছিল। এই বয়সে একটা বড় ফাঁড়া আছে যা কাটানো খুব মুশকিল। ও তো কখনও বিশ্বাস করেনি এসব কথা, আমার মাথায় ছিল না।’

    ‘মাসিমা, ঠিকুজিতে অনেক ভাল ভাল কথা লেখা থাকে। জাতক রাজা বাদশা না হোক রবীন্দ্রনাথ হবে। কজন হয়?’

    ‘মন্দ কথা ভীষণ ফলে যায়। বয়স হলে বুঝতে পারবে।’

    ‘দার্জিলিং-এর পথে জিপে বসে সুদীপ বলল, ‘কোনও রেফারেন্স সঙ্গে নেই, না?’

    ‘কীসের রেফারেন্স?’

    ‘কোন হাসপাতালে মায়াকে নিয়ে গেছে ওরা!’

    ‘দার্জিলিং-এ নিশ্চয়ই কলকাতার মতো এতগুলো হাসপাতাল থাকবে না।’

    এইটুকুই। সুদীপ আর কথা বাড়ায়নি। সুদীপ বসেছিল সামনের সিটে। পুরো জিপই ভাড়া করেছিল সে। মাসিমা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন চুপচাপ। বাইরে প্রকৃতি যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দৃশ্যগুলো একের পর এক সাজিয়ে যাচ্ছে সেদিকে কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। প্রথমবার দার্জিলিংয়ে যাওয়ার উত্তেজনাও দীপাবলীর নেই। সে পেছন থেকে সুদীপকে দেখছিল। না, তার বিন্দুমাত্র রাগ হচ্ছিল না সুদীপের ওপরে। বরং হঠাৎ ওর প্রতি এক ধরনের সহানুভূতি তৈরি হল। সুদীপ জেনেশুনে দুঃখ কিনেছিল। বন্ধুর প্রতি আসক্ত কোনও নারীকে যতই ভাল লাগুক আর যাই হোক, বিয়ে করা মানে দুঃখকে পথ দেখিয়ে ঘরে ঢোকানো। মায়া ওকে কোনওদিন ভালবাসেনি। শমিতের মনে যন্ত্রণা দিতেই সে সুদীপকে বিয়ে করেছিল। ধীরে ধীরে সুদীপ নিশ্চয়ই মোহমুক্ত হয়েছে। আর আজ এই যে সে যাচ্ছে মায়াকে দেখতে তার পেছনে কতটা আবেগ আর কতটা কর্তব্য তা ঈশ্বরই জানেন। এইরকম মন নিয়ে যে যায় তার যাওয়াটা যেমন মর্মান্তিক যার কাছে যাওয়া হচ্ছে তারও তেমনি সুখের নয়। হয়তো এটাই সুদীপের জীবনে শেষ প্রায়শ্চিত্ত করা, নিজের ভুলের। মানুষ বড় হবার নেশায় এমনি ভুল করে যায়।

    দার্জিলিং বাজারের গায়েই যে-পুলিশ স্টেশন তার সামনে জিপ দাঁড় করাল সুদীপ। নেমে বলল, ‘আগে এখান থেকে খোঁজ নিয়ে যাই।’

    ও চলে গেলে মাসিমা বললে, ‘পুলিশের কাছে তো আসিনি, হাসপাতালে সোজা চলে গেলেই তো হত! মিছিমিছি সময় নষ্ট!’

    কথাগুলোয় যথেষ্ট বিরক্তি মাখাননা, দীপাবলী কোনও জবাব দিল না। মিনিট তিনেক বাদে সুদীপ বেরিয়ে এল পুলিশ স্টেশন থেকে। এসে ড্রাইভারকে বলল, ‘হাসপাতাল।’

    সে গাড়িতে ওঠামাত্র দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘কিছু শুনলে?’

    ‘হুঁ। হেড ইনজুরি।’

    ‘কন্ডিশন কীরকম?’

    ‘এরা বলতে পারল না।’

    হাসপাতালের দরজাতেই শমিত এবং আর একজন দাঁড়িয়ে। তাদের দেখতে পেয়ে প্রায় ছুটে এল শমিত, ‘এখানকার ডাক্তাররা খুব চেষ্টা করছেন, কিন্তু—!’

    ‘কিন্তু কী?’ প্রশ্নটা করল সুদীপ।

    ‘চান্স কম। কলকাতায় রিমুভ করতে পারলে কিছু সুবিধে পাওয়া যেত। কিন্তু যা কন্ডিশন তাতে নড়াচড়া করা অসম্ভব।’ শমিতের মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, শরীর বেশ কাহিল। দেখলেই বোঝা যায় নির্ঘুম রাত কাটছে।

    দীপাবলী দেখল সুদীপের মুখচোখ শক্ত হয়ে উঠছে। সে চটপট জিজ্ঞাসা করল, ‘ওকে এখন দেখা যাবে? মাসিমাকে অন্তত একবার—!’

    শমিত দুরে দাড়ানো লোকটির উদ্দেশে বলল, ‘একবার মাসিমাকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া যায় কিনা দেখুন। আপনার সঙ্গে তো ভাল আলাপ হয়ে গিয়েছে।’

    লোকটি মাথা নাড়ল, ‘আসুন।’ সঙ্গে সঙ্গে মাসিমা দীপাবলীর হাত চেপে ধরলেন। অগত্যা তাকেও সঙ্গে যেতে হল। এবং দেখা গেল সুদীপ ওদের অনুসরণ করছে।

    লোকটির পরিচয় থাকা সত্ত্বেও একজনের বেশি ভেতরে যাওয়ার অনুমতি কর্তৃপক্ষ দিলেন না। প্রথমে তো তাও দিচ্ছিলেন না। অবস্থা খুই খারাপ। অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। অতএব মাসিমাকে একাই যেতে বলা হল। তিনি দু’পা এগিয়ে থেমে গেলেন। তারপর মুখ ফিরিয়ে বললেন, ‘না, আমি যাব না। সুদীপ, তুমি ওকে দেখে এসো।’

    দীপাবলী হতভম্ব। সে দেখল সুদীপ তার দিকে তাকিয়েছে। তারপরেই যেন ঝটকা মেরে নিজেকে সচল করে এগিয়ে গেল ভেতরে। মাসিমা দাঁড়িয়ে থাকলেন গম্ভীর মুখে। দীপাবলী ওঁর পাশে চলে এল। এসে হাত ধরল। না, মানুষের মনের কোনও চেহারাই তার আজ পর্যন্ত জানা নেই।

    মিনিট তিনেক বাদে সুদীপ বেরিয়ে এল। থমথমে মুখ। দীপাবলী ওর দিকে এগিয়ে গেল। সুদীপ মাথা নাড়ল, ‘কোনও লাভ নেই গিয়ে। সারা মুখমাথায় ব্যান্ডেজ করা। সেন্সও নেই।’

    যে-লোকটি শমিতের অনুরোধে তাদের ভেতরে নিয়ে এসেছিল সে বলল, ‘চলুন, বাইরে গিয়ে দাঁড়াই। একটু বাদে ডাক্তারবাবু আসবেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলব।’

    ওরা বাইরে এসে শমিতকে দেখতে পেল না। লোকটি বলল, ‘আমি অ্যাসিস্টান্ট প্রোডাকশন ম্যানেজার। দিদি আমাদের ছবিতে কাজ করতে এসেছিলেন। দিদির অ্যাকসিডেন্টের জন্যে দু’দিন শুটিং বন্ধ ছিল। প্রত্যেকেরই মন খুব খারাপ হয়ে গেছে।’

    সুদীপ জিজ্ঞাসা করল, ‘এটা ঘটল কীভাবে?’

    লোকটি একটু চুপ করে থাকল। সুদীপ রাগী গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘বলুন?’

    লোকটি বলল, ‘কী বলব, ভাগ্য! আপনাদের শুনতে খারাপ লাগবে। দোষ দিদিরই।’

    ‘তার মানে?’ সুদীপের স্বর চড়া হল।

    ‘লেবংয়ের রাস্তায় শুটিং হচ্ছিল। সিনটা ছিল, দিদি রাস্তা থেকে খানিকটা নেমে ফুল তুলতে যাবেন এমন সময় হিরো জিপ নিয়ে ওপরে ব্রেক করে দাঁড়াবে। ডিরেক্টর দিদিকে মাত্র দু’পা নামতে বলেছিলেন। জায়গাটা মোটেই খাড়াই নয়। কিন্তু দিদি তা না শুনে আরও নীচে নামতে চেষ্টা করতেই পা হড়কে পড়ে যান বিশ ফুট নীচে পাথরের ওপর। ওখান থেকে তুলে হাসপাতালে আনতে কালঘাম ছুটিয়ে দিয়েছে আমাদের।’

    ‘আমি বিশ্বাস করি না এ-কথা।’ সুদীপ প্রতিবাদ করল।

    ‘মানে?’ লোকটা হাঁ হয়ে গেল।

    ‘অভিনয়ের ব্যাপারে মায়া খুবই ডিসিপ্লিনড়। পরিচালক যা বলে তার বাড়তি নিজে করে না।

    ‘তাই তো দেখতাম। এবারই হঠাৎ। আসলে আগের রাত থেকে উনি খুব অফ মুডে ছিলেন।

    ‘অফ মুডে ছিলেন কেন?’

    ‘তা আমি বলতে পারল না। আচ্ছা, আপনারা দিদির—?’

    দীপাবলী কথা বলল, ‘উনি মায়ার মা আর ও স্বামী।’

    ‘বাঃ, তা হলে কোনও চিন্তা নেই। প্রোডিউসার অবশ্য বলেছেন ইউনিটের তরফ থেকে যতদূর সাধ্য সবই করা হবে। তবু আপনারা আসতে আমার স্বস্তি হচ্ছে। আমাকে এখন এই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। অবশ্য শমিতবাবু ছিলেন, কিন্তু যা নার্ভাস মানুষ!’

    দীপাবলী মুখ ফিরিয়ে শমিতকে কোথাও দেখতে পেল না। সুদীপ জিজ্ঞাসা করল, ‘ওই সময় শমিত কাছে ছিল, মানে শুটিং স্পটে?’

    ‘হ্যাঁ। শমিতবাবুই তো লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে আগে নীচে পৌঁছে দিদিকে তুলে ধরেন। উনিই তো ওঁকে ওপর তুলে আনতে সাহায্য করেন। তারপর থেকে এখানেই রয়ে গেছেন। রাত্রেও হোটেলে যাচ্ছেন না। প্রথম দিন কিছুই খাননি। তারপর আমিই জোর করে খাবার এনে খাওয়াচ্ছি। উনি যা করছেন তা নিজের মানুষও খুব কম করে।

    দীপাবলী দেখল সুদীপের মুখ আরও শক্ত হয়ে গেল। সে খানিকটা এগিয়ে একটা সিঁড়ির ওপরে বসে পড়ল। মাসিমাও আর দাঁড়াতে পারছিলেন না। তাঁকে ভেতরের অপেক্ষাগৃহে বসিয়ে দিল দীপাবলী। হাসপাতালের ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলার পরে হোটেলের ব্যবস্থা করতে হবে। শারীরিক প্রয়োজনেই হোটেলে যাওয়ার প্রয়োজন। ওই অ্যাসিস্টান্ট ম্যানেজারের সঙ্গে এ-ব্যাপারে কথা বলা দরকার। মাসিমাকে বসিয়ে রেখে দীপাবলী বাইরে এল। লোকটা দাঁড়িয়ে ছিল। তাকে ব্যাপারটা বলতেই সে মাথা নাড়ল, ‘ও নিয়ে চিন্তা করবেন না। শমিতবাবু সব ব্যবস্থা করে রেখেছেন। কাছেই দু’পা এগোলে সিঙ্গিং বার্ড হোটেলে উনি আজ থেকে দু’খানা ঘর রিজার্ভ করে রেখেছেন আপনাদের নামে।’

    ‘ও কী করে জানল আমরা আসব?’

    ‘তা তো জানি না। পুলিশকে খবরটা পৌছে দিতে রিকোয়েস্ট করার পরেই উনি বললেন আপনারা তিনজনে এসে যাবেন আজ দুপুরে।’

    ভাবনা কূল পাচ্ছিল না। সেই শমিত এতটা বাস্তবমুখী হয়েছে তা কল্পনাও করতে পারছে না দীপাবলী! অথচ এখন শমিত ধারে কাছে নেই।

    সে জিজ্ঞাসা করল, ‘এখানে এসে মায়া কেমন ছিল?’

    ‘খুব ভাল। হইচই করতেন। অ্যাকসিডেন্টের আগের বিকেলে ওঁদের শুটিং ছিল না। তাই ওঁরা হাঁটতে হাঁটতে চিড়িয়াখানার দিকে চলে গিয়েছিলেন। তারপর ফিরে আসার পর শরীর খারাপ বলে শুয়ে পড়েছিলেন। রাত্রে খাননি। ওঁর রুমমেট বেলাদি বলেছিলেন দিদির নাকি মুড খারাপ। তা ফিল্‌ম ইউনিটে এরকম হয়েই থাকে। একবার এই শিলিগুড়ি লোকেশনে এসে উত্তমবাবু—।’

    ‘ঠিক আছে। অন্যদের কথা শুনতে চাইছি না। মেয়েরা কি আলাদা হোটেলে থাকত?’

    ‘এক হোটেলে এত বড় ইউনিটের জায়গা হয় নাকি? আর্টিস্ট ডিরেক্টররা এক হোটেলে আমরা অন্য জায়গায়। কেন বলুন তো!’

    ‘এমনিই জানতে চাইলাম। শমিতের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে?’

    ‘নাঃ, একদিনের বাকি ছিল। এই অ্যাকসিডেন্টের জন্যে—।’

    এমন সময় ডাক্তারকে দেখে লোকটা ছুটে গিয়ে বলল, ‘ওনার স্বামী, মা এসে গিয়েছেন।’ ডাক্তার দাঁড়ালেন। দীপাবলী কাছে গিয়ে নমস্কার করে বলল, আমি ওর বন্ধু।’

    ‘পেশেন্ট খুব খারাপ কন্ডিশনে আছে। অপারেশন করা উচিত। কিন্তু মাথার অবস্থা এমন যে আমরা অপারেশন করতে সাহস পাচ্ছি না। তা ছাড়া আমাদের এখানে এত বড় অপারেশনের কোনও ব্যবস্থা নেই। আপনারা কাল সকালে যদি হেলিকপ্টার ব্যবস্থা করে বাগডোগরা নিয়ে যেতে পারেন তা হলে দুপুরের ফ্লাইটে কলকাতায় পৌছে একটা চেষ্টা করা সম্ভব।’

    ‘সেটা কী করে করব?’

    ‘এখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আর না পারলে কাল সকালে আমরা অপারেশনের চেষ্টা করব। আবার বলছি চান্স খুব কম। আমি শমিতবাবুকেও বলেছি।’

    ডাক্তার এগিয়ে যেতে গিয়েও ফিরে দাঁড়ালেন, ‘পুলিশের সঙ্গে দেখা করেছেন?’

    ‘হ্যাঁ, ওর স্বামী গিয়েছিল।’

    ‘পুলিশকে সাহায্য করবেন। এসব কেসে পুলিশেরও কিছু জানার থাকে।’

    হঠাৎ দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘এটা কি অ্যাকসিডেন্টাল কে নয়?’

    ‘যারা স্পটে ছিলেন তাঁরাই বলতে পারবেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি ওঁর মাথার পেছনের স্কাল ভেঙে গিয়েছে। পাহাড় থেকে চিত হয়ে কী করে পড়লেন কে জানে।’ ডাক্তার মাথা নাড়লেন, ‘হেলিকপ্টার পেলেন কিনা তা বিকেলের মধ্যে জানিয়ে যাবেন।’

    মাথার ভেতর ঝিমঝিম করতে লাগল। ডাক্তার চলে যাওয়ার পর সে সুদীপের কাছে গিয়ে সব কথা খুলে বলল। চুপচাপ শুনল সুদীপ। তারপর বলল, ‘শুটিং-এর সময় অত লোকের সামনে কেউ খুন করার চেষ্টা করবে না। এটা হয় দুর্ঘটনা নয় সুইসাইড।’

    ‘সুইসাইড? কী যা তা বলছ? ও সুইসাইড করবে কেন?’

    ‘আমি জানি না।’

    ‘কিন্তু—। এসব কথা থাক। হেলিকপ্টারের জন্যে চেষ্টা করা দরকার।’

    ‘কীভাবে করব? আমি তো কাউকে চিনি না।’

    ‘চিনতে হবে। আমি শুটিং পার্টিকে বলছি। এখানকার প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করো। চলো, আগে হোটেলে যাই। সেখানে একটু বিশ্রাম নিয়ে তারপর এসব করা যাবে।’

    অ্যাসিস্টান্ট প্রোডাকশন ম্যানেজার তাদের হোটেলে নিয়ে এল। জানা গেল একদিনের টাকা আগাম দিয়ে রেখেছে শমিত। সুদীপ পার্স থেকে টাকাটা বের করে লোকটির হাতে দিল, ‘এটা আপনাদের শমিতবাবুকে দিয়ে দেবেন। বলবেন আমরা খুবই কৃতজ্ঞ।’

    টাকাটা হাতে নিয়ে লোকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। দীপাবলীর পছন্দ হচ্ছিল না এসব। সে লোকটাকে বলল, ‘আপনার প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলতে চাই। ডাক্তার ওকে কলকাতায় নিয়ে যেতে বলেছেন। কীভাবে নিয়ে যেতে হবে শুনেছেন। এই ব্যাপারে ওঁর সাহায্য চাই।’

    লোকটি মাথা নাড়ল, ‘সেই চেষ্টা হয়ে গেছে দিদি। অ্যাকসিডেন্টের দিনই উনি চেষ্টা করেছিলেন মায়াদিদিকে হেলিকপ্টারে বাগভোগরায় নিয়ে যেতে। লেবং রেসকোর্স থেকে হেলিকপ্টার ওড়ে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছিল সেটা খারাপ হয়ে পড়ে আছে। দিন সাতেকের আগে সারাবে না।’

    ‘আশ্চর্য! এই কথাটা তখন ডাক্তারবাবুকে বললেন না কেন?’

    ‘কোনও লাভ নেই। আমি দু’বার বলেছি, শমিতবাবুও বলেছেন, কিন্তু ডাক্তারবাবুর ওই এক কথা। অন্য হেলিকপ্টার জোগাড় করুন। যেন ফিয়াট খারাপ হয়েছে অ্যাম্বাসাডার আনুন। মিলিটারির হেলিকপ্টার আছে কিন্তু তারা আমাদের দেবে কেন?’

    ‘তাঁদের অনুরোধ করেছেন?’

    ‘দার্জিলিং-এর হাসপাতালে এরকম কেস প্রায়ই হয়। সবাই অনুরোধ করলে ওরা রাখবে? মিনিস্টার ফিনিস্টার হলে কথা ছিল। আপনারা দেখুন না। প্রোডিউসার বলেছেন খরচের জন্যে চিন্তা করবেন না।’ লোকটি ঘড়ি দেখল, ‘আমি হাসপাতালে যাচ্ছি। ওখানেই আমার থাকার কথা।’

    একটু পরিষ্কার হয়ে মাসিমাকে নিয়ে আবার হাসপাতালে এল ওরা। খাওয়াদাওয়া নামমাত্র। মাসিমা তো খেলেনই না। এবং সেখানে আসতেই দেখা হল শমিতের সঙ্গে। সুদীপ তাকে উপেক্ষা করে দীপাবলীকে বলল, আমি ডি এম-এর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। যদি তিনি কোনও সাহায্য করতে পারেন।’

    শমিত মাথা নাড়ল, ‘আমি ঘুরে এসেছি। ভদ্রলোক শিলিগুড়িতে গিয়েছেন।’

    সুদীপ অন্যদিকে মুখ ঘোরাল, ‘সেটা আমি বুঝব!’

    ‘সুদীপ। তুই এই অবস্থাতেও আমার ওপর রাগ করে আছিস?’

    সুদীপ কোনও জবাব না দিয়ে হাসপাতালের ভেতর ঢুকে গেল। মাসিমা তাকে অনুসরণ করলেন। দীপাবলী শমিতের দিকে তাকাল। তার কর্মস্থলে গিয়ে যে-লোকটা বেয়াদপি করেছিল তার সঙ্গে এই শমিতকে মেলানো যাচ্ছে না। সেই ঘটনার পর এই প্রথম তাদের দেখা হল। সে সহজ হতে চেষ্টা করল, ‘তুমি এখানে বসো।’

    ‘ওঃ, দিনরাত তো বসেই আছি। মানুষকে বসিয়ে রেখে ঈশ্বর তার খেলা খেলেন!’

    ‘তা হলে ঈশ্বর মানছ?’

    শমিত ঘুরে দাঁড়িয়ে হঠাৎ দুটো হাত বুকের ওপর নমস্কারের ভঙ্গিতে এনে বলল, ‘দীপা, আমি ক্ষমা চাইছি। তোমার ওখানে গিয়ে ওসব করেছিলাম স্রেফ জেদে। এখন সেই জেদটা কত হাস্যকর তা বুঝতে পারছি। আমি জানি না আমার জন্যে তোমাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে কিনা!

    দীপাবলী মাথা নাড়ল, ‘না, তুমি কেন দায়ী হবে? ভেতরের তাগিদ থেকেই আমি চাকরি ছেড়েছি। এসব কথা থাক। মায়ার ব্যাপারটা কী করে হল?’

    ‘সবাই দেখেছে। ও বেশি নীচে নেমে গিয়েছিল শেষপর্যন্ত সামলাতে পারেনি।’

    ‘তুমি দেখেছ?’

    ‘দেখতে হয়েছে। আমি সহ্য করতে পারছি না। হয়তো আমি রাজি হয়ে গেলে এটা ঘটত না।’

    ‘রাজি? কী ব্যাপারে? আগের দিন বিকেলে তো তোমরা বেড়াতে গিয়েছিলে!’

    ‘হ্যাঁ। দীপা, এখানে এসে ও আমাকে শুধু বলত অতীতের কথা ভুলে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে চায়। কিন্তু এখনও এক ভদ্রমহিলা আমার স্ত্রী। ও ডিভোর্স নেয়নি। সুদীপের সঙ্গে যদি ওর মতবিরোধ থাকেও আমার সঙ্গে সেই ভদ্রমহিলার সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। আমি তাই বোঝাতে চেয়েছি ওকে।

    দীপাবলীর শিরদাঁড়া শিরশির করে উঠল, ‘ও কি আত্মহত্যা করেছে?’

    ‘আমি জানি না, জানি না।’ শমিত মাথা নাড়তে লাগল।

    ‘সুদীপের তাই ধারণা।’

    ‘সুদীপ হয়তো ওকে বেশি বোঝে। তবে দীপা, এসব কথা কাউকে বলার দরকার নেই। আমি জানি মায়া বাঁচবে না। ওর সম্পর্কে কেউ অন্য ধারণা করুক আমি চাই না।’ গলায় কান্না এল।

    ‘শমিত, তুমি ভীষণ ভেঙে পড়ছ!’

    ‘হ্যাঁ। আমি পারছি না। সম্পর্কের অধিকার নিয়ে সুদীপ যা এখন করবে আমি তা করতে পারব না। অথচ মায়া সজ্ঞানে থাকলে—।’ এইসময় অ্যাসিস্টান্ট ম্যানেজারকে ছুটে আসতে দেখা গেল হাসপাতালের ভেতর থেকে। শমিত এক পা এগিয়েই থেমে গেল। লোকটা এক মুহূর্ত দাঁড়াল। তারপর ঠোঁট চেটে বলল, ‘উনি এইমাত্র চলে গেলেন। ইউনিটকে খবর দিতে হবে।’ বলেই দৌড়াতে লাগল।

    শমিত আকাশের দিকে মুখ তুলে চোখ বন্ধ করল। তারপর তার লম্বা হাত মুঠো করে শূন্যে ঘুষি ছুড়ল। দীপাবলীর শরীর অসাড় হয়ে গিয়েছিল। সে দেখল শমিত মাথা নিচু করে দার্জিলিংয়ের রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে। দীপাবলী টলতে টলতে ভেতরের দিকে পা বাড়াল।

    একটা রাত, দার্জিলিং শহরের হিমমাখা রাত যে কতটা দুঃসহ তা সেই রাত্রে দীপাবলী বুঝতে পেরেছিল। সমস্ত ইউনিট চলে এসেছিল। তারাই মায়ার শেষ কাজ যত্ন নিয়ে করেছিল। গম্ভীর মুখে সুদীপ সঙ্গে ছিল। এবং আশ্চর্য, মাসিমা একটুও কেঁদে ভেঙে পড়েননি। এমনকী হোটেলে রাত কাটিয়েছেন চুপচাপ বিছানায় শুয়ে। সামান্য ফোপানিও শুনতে পায়নি দীপাবলী। শমিতকে আশেপাশে কোথাও দেখা যায়নি। যেহেতু এ-যাত্রায় শুটিং মুলতুবি ঘোষণা করা হয়েছে তাই সে নাকি ওই বিকেলেই নীচে নেমে গিয়েছে।

    কে বেশি কষ্ট পেল কে কম এ-বিষয়ে এ-বিচার করা নিরর্থক, কিন্তু পরদিন সকালে নীচে নামার সময় মাসিমা অদ্ভুত কথা বললেন, ‘এখনও তো তোমার হাতে কֺ’টা দিন সময় আছে, না?’

    ‘কীসের?’ ও হ্যাঁ, দীপাবলীর খেয়াল হল মায়ার মৃত্যু তাকে বাড়তি সময় দিয়েছে।

    ‘তা হলে, এতদূর যখন এসেছ, একদিন মা ঠাকুমার কাছে থেকে যাও। কোথায় চলে যাবে তা তো জানো না, কিন্তু ওঁরা তোমাকে বড় করেছিলেন একদিন, এইটুকু মনে রাখো।’ মাসিমার কথায় চমকে উঠল দীপাবলী। এখন এই অবস্থায় এমন কথা বলতে কি শুধু মায়েরাই পারেন?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }