Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. অর্জুন নায়েক

    অর্জুন নায়েক হেসে বলল, ‘খুব অসময়ে এসেছি, না? আসলে আমি ঠিক বুঝতে পারিনি। আপনি যদি এখন কথা বলতে না চান তা হলে আমি চলে যাচ্ছি।’

    কথা বলার কোনও আগ্রহ দীপাবলীর ছিল না। যদিও লোকটা খুবই বিনয় নিয়ে কথা বলছে তবু ওর ঠোঁটের কোণের সেই চটচটে হাসিটা দেখতে পাচ্ছিল সে হ্যারিকেনের আলোয়। লোকটা ধান্দাবাজ এবং নিঃসন্দেহে বদ লোক। কিন্তু হঠাৎ দীপাবলীর জেদ চেপে গেল। সে বলল, ‘আপনি বসতে পারেন।’

    একটা চেয়ার টেনে নিয়ে ধপাস করে বসে দুটো পা ছড়িয়ে যেন আরাম পেতে চাইল অর্জুন। এবং তারপরেই যেন খেয়াল হল, পা গুটিয়ে বলল, ‘সরি।’

    দীপাবলী কথা না বলে উলটো দিকের চেয়ারে বসে বলল, ‘অফিসের পরে যখন এসেছেন তখন নিশ্চয়ই জরুরি কিছু বলার আছে আপনার?’

    ‘থানার দারোগার সঙ্গে আলাপ হয়েছে আপনার?’

    ‘হ্যাঁ এস ডি ও-র অফিসে। কেন বলুন তো?’

    ‘লোকটার চাকরির বারোটা বেজে গেল। মিনিস্টার বললেন, অর্জুন, তুমি খবর পেয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে এলে আর আমারই দারোগা একবার আসার সময় করতে পারল না। ডি এম, এস ডি ও খবর পায় আর সে কোথাকার বাদশা?’

    ‘আপনি কী বললেন?’

    ‘আমি পাবলিক। মন্ত্রী সেনাপতিদের যুদ্ধে কথা বলব কেন?’

    ‘এই খবর শুনে আমি কী করব?’

    পকেট থেকে একটা ছোট্ট পেতলের কৌটো বের করে দুই আঙুলের মাঝখানে কিছু গুঁড়ো তুলে মুখে ফেলল অর্জুন, ‘ম্যাডাম, বৃষ্টি হবার আগে পিঁপড়েরা ঠিক টের পেয়ে যায়। আপনার এখান থেকে সার্কিট হাউসে ফিরে যাওয়ার পরেই যারা জানার তারা জেনে গেল মিনিস্টার আপনাকে খুব পছন্দ করেছেন। নইলে তিনি এই রোদে গরমে নেখালির মানুষদের দেখতে আসতেন না। ম্যাডাম, এই দেশে নেখালির মতো হাজার হাজার গ্রাম, লক্ষ লক্ষ মানুষ ধুঁকছে। ক’জন মন্ত্রী ভুল করেও সেখানে পা দিয়েছেন বলুন তো?’

    ‘আপনি কী বলতে চাইছেন বুঝতে পারছি না।’ খোলা দরজার বাইরে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলল দীপাবলী। তার অস্বস্তি হচ্ছিল।

    ‘খুব সহজ। এটা আপনার বোঝা উচিত ছিল!’

    ‘মানে?’

    ‘ম্যাডাম, মিনিস্টার যতদিন থাকবে, ততদিন আপনার ডিম্যান্ড থাকবে। মানে, যার যা প্রয়োজন মেটাতে আপনাকে এসে ধরবে। সবার ধারণা মিনিস্টার আপনার কথা ফেলতে পারবেন না।’

    ‘আপনার আসার উদ্দেশ্যটা কী বলুন তো?’

    ‘দারোগা এসে আপনাকে ধরবে মিনিস্টারকে বলে দেবার জন্যে। হয়তো চাইবে আপনি ওর হয়ে রাইটার্সে গিয়ে দরবার করুন। আপনাকে শুধু বলে রাখি লোকটা অত্যন্ত ফেরেব্বাজ। মন্ত্রী আসবে এদিকে তা জানত না। কেই বা জানত। তাই দারোগা গিয়েছিল নিজের ধান্দায়।’

    ‘আপনার সঙ্গে ওঁর সম্পর্ক কেমন?’ চট করে জিজ্ঞাসা করল দীপাবলী!

    হাসল অর্জুন, ‘জলে যারা বাস করে তারা পরস্পরকে সামলে চলে ম্যাডাম।’

    ‘ঠিক আছে, কিন্তু অর্জুনবাবু, আপনি এটা কী করলেন?

    ‘কোনটা?’ চোখ ছোট করল অর্জুন।

    ‘এই যে নেখালিতে আজ সকাল থেকে কুয়ো খুঁড়তে লোক পাঠালেন?’

    ‘ওটা তো আপনারই হুকুম ম্যাডাম! তাই না?’

    ‘কিন্তু এর ফলে মন্ত্রী তো হাত গুটিয়ে নিতে পারেন।’

    ‘পারেন। তবে আদৌ যে হাত খুলতেন এই গ্যারান্টি কি ছিল?

    ‘ছিল না। কিন্তু উনি যখন এসেছিলেন তখন একটা কিছু হতই।’

    ‘সেটা এখনও হতে পারে। ম্যাডাম, লোকে আমাকে ভাগ্যবান বলে। ভাগ্যবানের বোঝা সবসময় ভগবান বয়ে থাকেন। নইলে আপনি বললেন আর লোক পাঠালাম কুয়ো খুঁড়তে, এমনটা হয় না। মানে কারও কথা আমি চট করে শুনি না। তা শুনে দেখুন বিরাট লাভ হল। মিনিস্টারের গুড বুকে চলে গেলাম। জিপে করে যাওয়ার সময় কত গল্প। সব ঠিকঠাক হলে আগামী বছর—!’ জিভে শব্দ করল অর্জুন! ‘আর এসব হয়েছে আপনার জন্যে।’

    ‘আমার জন্যে?’ দীপাবলী অবাক।

    ‘সত্যি কথা বলতে আমি দ্বিধা করি না। আপনার কথা শুনেছি বলেই আজ ডি এম পর্যন্ত আমাকে খাতির করলেন। লোকটা আগে আমাকে ঠিক পাত্তা দিত না। এবার বলুন, আপনার কী সেবা করতে পারি?’ অর্জুনের ঠোঁটে সেই চটচটে হাসি চলকে উঠল। তার চোখদুটো দীপাবলীর মুখের ওপর স্থির।

    ‘আপনি কী মিন করছেন?’ আচমকা মাথায় রক্ত উঠে এল।

    ‘ম্যাডাম, একটা কথা শুনেছি, রোমে গেলে নাকি রোমানদের মতো ব্যবহার করতে হয়। রাগ করবেন না, আপনি তো নিয়মের বাইরে যেতে পারেন না।’

    ‘অর্জুনবাবু, আপনি কিন্তু সীমা ছাড়াচ্ছেন।’ দীপাবলী উঠে দাঁড়াল।

    এবার অর্জুন উঠল, ‘অনেক ধন্যবাদ মনে করিয়ে দেবার জন্যে। অপরাধ হয়ে থাকলে নিশ্চয়ই ক্ষমা করবেন। আপনি এরকম কথা বলবেন তা আমি আন্দাজ করেছিলাম। ঠিক হ্যায়, নেখালিতে না হয় আরও দুটো কুয়ো আর একটা নলকূপ করে দেব দিন চারেকের মধ্যে। তাতে নিশ্চয়ই আপনি আপত্তি করবেন না! চলি।’ নমস্কার করে খোলা দরজার দিকে এগিয়ে গেল অর্জুন। একধাপ নেমে সে ঘুরে দাঁড়াল, ‘আপনার এখানে যে-মেয়েটা কাজ করে তাকে বলে দেবেন আমি মানুষ, ভয় পেয়ে ওইভাবে ছুটে যাওয়ার কোনও কারণ নেই।

    দীপাবলী কেটে কেটে বলল, ‘কী করবেন বলুন, আপনার মতো মানুষদেরই ওর ভয়।’

    অর্জুন হাসল, ‘ও যখন নেখালিতে থাকত তখন নিশ্চয়ই ওর ভয় ছিল। কিন্তু এই কোয়ার্টার্সে আসার পর থেকে আর কোনও ঝামেলায় পড়তে হয়নি নিশ্চয়ই। কারও বাগানে ঢুকে ফুল ছেঁড়ার ইচ্ছে আমার এখনও হয়নি ম্যাডাম।’ কথা শেষ করে অর্জুন চলে গেল। জিপের আওয়াজটা চারপাশ মাতিয়ে দুরে সরে গেল হেডলাইটের আলোয় অন্ধকার কাটতে কাটতে। দরজাটা বন্ধ করল দীপাবলী। লোকটা যতক্ষণ এই ঘরে বসে ছিল ততক্ষণ এক ধরনের আড়ষ্টতা তাকে ঘিরে রেখেছিল। কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছিল না সে! লোকটা কেন এল? একটা অসৎ বদ লম্পট মানুষ কোন প্রয়োজনে তার কাছে আসতে পারে? এই জেলার বড়কর্তারা যার কথায় ওঠে বসে তার কোনও দরকার নেই তাকে খাতির করার? মন্ত্রীর নেকনজরে পড়ে লোকটা আরও রোজগার করবে। কিন্তু সেই কারণে তাকে ঘুষ দিতে আসবে কেন? সে রেগে উঠতেই নেখালির মানুষদের উপকার হবে এমন কাজ করার কথা বলল। দীপাবলীর পক্ষে সম্ভব ছিল না লোকটাকে ওই কাজ করা থেকে বিরত করা। কিন্তু অর্জুন নায়েক যতক্ষণ ছিল তাকে অসম্মান করার চেষ্টা করেনি। বরং যথেষ্ট বিনয় দেখিয়েছে। সে যে খারাপ মানুষ তা স্বীকার করতে দ্বিধা করেনি। অবাক লাগছে এখানেই।

    ‘দিদি, চা।’

    দীপাবলী দরজা বন্ধ করে চেয়ারে বসে পড়েছিল। তিরির গলা শুনে মুখ তুলল। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বলল, ‘শোন, আমার এখানে তোর কোনও ভয় নেই। কেউ এলে ওইভাবে দৌড়ে পালাবি না।’

    ‘তুমি জানো না দিদি, লোকটা একেবারে শয়তানের বাচ্চা। নতুন নতুন মেয়ে না পেলে ওর চলে না।ওর সঙ্গে বেশি কথা বোলো না।’ তিরি উত্তেজিত।

    ‘তিরি!’ দীপাবলী ধমকে উঠল, ‘এভাবে আমার সঙ্গে কথা বলবি না।’

    তিরি মাথা নিচু করল। আর তখনই দরজায় খুটখুট শব্দ হল। দীপাবলী বন্ধ দরজার দিকে প্রথমে তারপরে তিরির দিকে তাকাল। তিরি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘আমি কি দরজা খুলব?’

    দীপাবলী এক মুহুর্ত ভাবল। এই পাণ্ডববর্জিত জায়গায় রাত্রের অন্ধকারে কিছু মানুষ যদি মতলব নিয়ে আসে তা হলে দুটি মেয়ের পক্ষে কোনও প্রতিরোধ তৈরি করা সম্ভব হবে না। সতীশবাবু অবশ্য বলেছেন তেমন বিপদ এই তল্লাটে এখনও কারও হয়নি। তবু—। সে নিচু গলায় বলল, ‘জিজ্ঞাসা কর, কে? তারপর খুলবি।’ একটু আগে অর্জুনকে দরজা খোলার আগে তার এই কাজটাই করা উচিত ছিল বলে মনে হল।

    তিরি গলা তুলে জানতে চাইলে, ‘কে?’

    বাইরে থেকে আওয়াজ এল, ‘আমি। দীপাবলী ফিরেছে?’

    সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াল দীপাবলী। তারপর তিরিকে বলল, ‘ঠিক আছে, তুই ভেতরে যা।’

    তিরি পায়ে পায়ে পিছিয়ে গেল ভেতরের ঘরের দরজা পর্যন্ত। দীপাবলী এগিয়ে গিয়ে দরজা. খুলতেই আধা অন্ধকারে দাঁড়ানো শমিতকে দেখতে পেল। শমিত হাসল, ‘চমকে গেলে?’

    ‘একটু। এসো, ভেতরে এসো।’ কথাগুলো বলামাত্র দীপাবলীর খেয়াল হল কলকাতায় শেষবার দেখা হওয়ার সময়েও সে শমিতকে আপনি বলেছে। মনে মনে তৎক্ষণাৎ কুণ্ঠা ঝেড়ে ফেলল। শমিত ততক্ষণে ভেতরে ঢুকে পড়েছে। তার কাঁধে ঝোলা হাতে ব্যাগ। পরনে সেই একই পোশাক। দাড়ি রেখেছে।

    ‘বোসো।’ দরজা বন্ধ করল দীপাবলী।

    চেয়ারে বসে শমিত বলল, ‘আমি বিকেলের দিকে এসেছিলাম। শুনলাম তুমি নাকি মাননীয় মন্ত্রীমহাশয়ের সঙ্গে কাজে বেরিয়েছ। কখন ফিরবে তা তোমার মেইড সার্ভেন্ট জানে না। ফলে আমাকে একটা আস্তানার সন্ধানে যেতে হয়েছিল। কিন্তু এই জায়গা এমন পাণ্ডববর্জিত যে রাত কাটানোর কোনও ব্যবস্থাই নেই। ভয়ে ভয়ে ফিরলাম যদি তোমার দেখা পাই। আমি ভাবছি বেশ ভাগ্যবান, কী বলো?’

    চুপচাপ কথাগুলো শুনল দীপাবলী। তারপর চুপচাপ উলটোদিকের চেয়ারে বসল।

    শমিত জিজ্ঞাসা করল, ‘আমি কি তোমাকে অসুবিধেতে ফেললাম?’

    ‘কেন?’

    ‘তোমার মুখ দেখে মনে হচ্ছে।’

    ‘না। আমি ভাবছি হঠাৎ কী কারণে তুমি তোমার নাটক ছেড়ে এতদূরে, আমার ঠিকানাই বা পেলে কোথায়!’

    ‘এ সবই চেষ্টা করলে পাওয়া যায় দীপা। কিন্তু আমি খুব ক্ষুধার্ত, সারাশরীর গরমে ঘামে পচছে। একটু আরাম করে স্নান করা দরকার তার আগে।’

    ‘নিশ্চয়ই। কিন্তু এই অঞ্চলে জল খুব মূল্যবান বস্তু। অতএব একটু কৃপণের মতো খরচ করলে সবার উপকার হয়।’ দীপাবলী উঠে ভেতরের ঘরের দিকে যেতেই তিরিকে দেখতে পেল, ‘বাথরুমে একটা আলো দে।’

    বাইরের ঘর থেকে শমিতের গলা ভেসে এল, ‘আমার কাছে স্নানের সব সরঞ্জাম আছে।’

    ‘যেমন?’ গলা তুলল দীপাবলী।

    ‘গামছা, সাবান।’

    দীপাবলীর ঠোঁটে হাসি মিলিয়ে গেল। তিরি ফিরে আসা পর্যন্ত সে ভেতরের ঘরেই দাঁড়িয়ে রইল। তিরি বলল, ‘হয়ে গিয়েছে।’

    দীপাবলী বাইরের ঘরে বেরিয়ে এল, ‘একটু সাবধানে যাও। এখানে ইলেকট্রিক নেই। ব্যাগটা ওখানেই থাক।’ শমিত ঝোলাটা নিয়েই তিরিকে অনুসরণ করে ভেতরে চলে গেল। খাটে এসে বসল দীপাবলী। অভদ্রতা করা যেখানে অসম্ভব, খুশি যেখানে চেষ্টা করেও হওয়া যায় না, সেখানে একধরনের চাপা অস্বস্তি থিকথিক করে। দীপাবলী কিছু ভাবতেই পারছিল না। তার এখন কী করা উচিত?

    এইসময় তিরি ফিরে এল, ‘দিদি, উনি কি রাত্রে খাবেন?’

    ‘তাই তো মনে হচ্ছে।’

    ‘কী হবে তা হলে? আমি তো মাত্র আমাদের জন্যে রেঁধেছি।’

    ‘আবার ভাত বসিয়ে দে। ডিম নেই?’

    মাথা নাড়ল তিরি, ‘কিন্তু শোবে কোথায়?’

    ‘দেখি ভেবে।’

    তিরি এক মুহূর্ত চুপ করে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার কে হয়?’

    দীপাবলী চমকে উঠল। কেউ না, বলতে গিয়েও থমকে গেল। যেটা স্বাভাবিক, সেই বন্ধু শব্দটি উচ্চারণ করলে তিরি হজম করতে পারবে না। অথচ এমন প্রশ্নের জবাব দেবার একটা দায় থেকেই যায়। কর্তৃত্ব দেখিয়ে ধমকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। দীপাবলী উত্তর দিল, ‘আমাদের আত্মীয়। তুই রান্নাঘরে যা।’

    তিরি চলে গেলে এই একটি বাংলা শব্দের কাছে কৃতজ্ঞ হল সে। আত্মীয় শব্দটি ঠিক আকাশের মতো। কোনও গণ্ডিতে আটকানো নয়। রক্ত অথবা আত্মার সম্পর্ক থাকলে তো বটেই আবার পাঁচজনের চোখে যা কাছের তাকে দূরে ঠেলতেও ওই একই শব্দ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু শমিত কেন এখানে?

    বছরগুলো বেশি পুরনো নয়। সেই দুপুরে শমিতের বাড়ি থেকে চলে আসার পরে দীপাবলী ভেবেছিল হয়তো কিছুদিন সে তার সামনে আসবে না। সেদিন হস্টেলে ফিরে এসেছিল একটা ঘোরের মধ্যে। যত সময় যাচ্ছিল তত ভাল লাগা কুয়াশার মতো তার দশদিক আড়াল করে দিচ্ছিল। একটি ছেলে নাটক করে, কোনও বদ অভ্যাস নেই, পড়াশুনা করতে ভালবাসে এবং সেইসঙ্গে ব্যক্তিত্ব, তার ভালবাসা উপেক্ষা করার একটাই যুক্তি ভবিষ্যতে স্বাচ্ছন্দ্য আসবে কিনা তার স্থিরতা নেই। কিন্তু ক্রমশ মনে হচ্ছিল সেই ঝুঁকি নেওয়া যায়। সৎ শিল্পের সঙ্গে যে-মানুষ জড়িত তার পাশে থাকায় নিশ্চয়ই এক ধরনের তৃপ্তি আছে। সেই তৃপ্তি ধনসম্পদের বিনিময়ে পাওয়া যাবে না।

    শমিত প্রচণ্ড আবেগ নিয়ে তাকে স্পর্শ করেছিল। সেই স্পর্শে কাম ছিল কিনা এখন বোধে নেই। সে এমন অপ্রাপ্তমনস্ক নয় যে শমিতের মন তার জন্যে তৈরি এই কথাটা এতদিনে বোঝেনি। অতএব নিরালায় একা পেয়ে শমিতের বাঁধ যদি ভেঙে যায় তা হলে প্রাথমিক যে-কুণ্ঠা মনে আসে তা দূর করার মতো যুক্তি খুঁজে নিচ্ছিল দীপাবলী। সেই কত বছর আগে জীবনীশক্তি ফুরিয়ে যাওয়া একটি অর্ধমৃত মানুষ শুধু আদেশ পালন করার তাগিদে তার শরীরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখন এই শরীর তৈরি হয়নি কোনও পুরুষের জন্যে। যে-মানুষটি স্বামী হিসেবে ফুলশয্যায় রাত্রে তাকে মা করতে চেয়েছিল তার ক্ষমতা কত সীমিত ছিল যে সামান্য প্রতিরোধ সহ্য করতে পারেনি। একধরনের জ্বালা ঘেন্না আতঙ্ক তার মনে তৈরি করে মানুষটি নেতিয়ে পড়েছিল। এত বছর পরে সেই ভাবনা মুখ নামিয়ে ছিল মনের কোণে। কোনও পুরুষ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি, পুরুষের স্পর্শের জন্যে একটুও আকাঙক্ষা হয়নি তার। ওই দুপুরে শমিতের স্পর্শে সেই ভাবনা মুখ তুলেছিল। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সেই ঘেন্না আকাশ ছুঁয়েছিল। কিন্তু রাত্রে সবকিছু থিতিয়ে যাওয়ার পর অনেক বছর আগের মৃত মানুষটিকে ছাপিয়ে একটি স্বাস্থ্যবান পুরুষের আবেগজড়ানো স্পর্শ তাকে যেন বিপরীত দিকে টানতে লাগল। সেই মুহূর্তে তার সারা আকাশ জুড়ে শমিত। যদি রাত না অন্ধকার ছড়াত, যদি বাস-ট্রাম বন্ধ না হয়ে যেত, তা হলে হয়তো সে ছুটে যেতে পারত শমিতের কাছে। কী বলত তা জানা নেই, জানতে ইচ্ছেও ছিল না। শুধু ছুটে যাওয়ার এক উগ্র আকাঙক্ষা বুকের পাঁজরে বারংবার ঘা মারছিল।

    রাত কেটেছিল আধো ঘুম আধো জাগরণে। সেই একটি রাত যা তার সমস্ত ব্যক্তিগত আকাঙক্ষাকে মৃত করে দিয়েছিল। জলপাইগুড়ি থেকে যে-প্রতিজ্ঞা নিয়ে কলকাতায় এসেছিল তা যেন অর্থহীন মনে হয়েছিল। এক ফোঁটা ভালবাসার জন্যে যদি কোনও মানুষ লক্ষ মাইল হেঁটে যেতে পারে তা হলে একটা পুরো সমুদ্র পেলে সে কী করবে?

    সকাল হল। রোদ উঠল রোদের মতন। অদ্ভুত আলস্য নেমে এসেছিল শরীরে, মনে। কিন্তু ভাল লাগছিল না, কিছু না। এমনকী স্নান বা খেতেও মন আসছিল না। দুপুর যখন ঠিক দুক্কুরবেলা, তখন সে বেরিয়েছিল হস্টেল থেকে। প্রায় উদভ্রান্তের মতো হাজির হয়েছিল মায়াদের বাড়িতে। মায়া বাড়িতে ছিল না। মাসিমা তাকে দেখে চমকে উঠে জানতে চেয়েছিলেন, ‘কী হয়েছে?’

    ‘কই! কিছু না তো!’ হঠাৎ যেন নিজের ব্যবহারে আটপৌরে ভঙ্গি আনতে চাইল সে।

    ‘কিছু একটা হয়েছে। শরীর কেমন আছে?’

    ‘ভাল। মায়া কোথায়?’

    ‘বেরিয়েছে।’

    ‘কোথায়?’

    ‘বলে তো গেল ও আর সুদীপ শমিতের বাড়িতে যাচ্ছে।’

    নামটা শোনামাত্র বুকের বাতাস স্থির হল, ‘কেন?’

    ‘কাল নাকি শমিত রিহার্সালে আসেনি। ও তো এমন কখনও করে না।’

    ‘মায়া সুদীপের সঙ্গে গিয়েছে?’

    ‘বলে তো গেল। একাও যেতে পারে। আমি মেয়েকে বুঝি না বাবা।’

    ‘কেন?’

    ‘মুখে আলগা আলগা ভাব দেখায় কিন্তু মনে যে শমিতের জন্যে টান আছে তা লুকিয়ে রাখতে চায়। দ্যাখো, শমিত ভাল ছেলে। কিন্তু—।’ হঠাৎ চুপ করে গেলেন মাসিমা, তারপর মাথা নাড়লেন, ‘নাঃ যখন ঠিক করেছি বাধা দেব না, তখন কিছুতেই বাধা দেব না। নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই বুঝে নিক। আমাকে তো দায়ী করতে পারবে না।’

    মাসিমা নিশ্বাস ফেললেন। আর এই কথাগুলো শোনামাত্র মাথা থেকে একটা স্রোত ধীরে ধীরে পায়ের বুড়ো আঙুলে, শেষে শরীরের বাইরে নেমে উধাও হয়ে গেল দীপাবলীর। আচমকা যেন সবকিছু সহজ হয়ে গেল। হস্টেলে ফিরে এসে চুপচাপ নিজের খাটে শুয়ে শুধু একধরনের শূন্যতাবোধ ছাড়া আর কিছু মনে জড়িয়ে ছিল না।

    অথচ সেই শূন্যতাবোধের যে কতখানি ভার, তার টের সে পেতে লাগল সময় যত পেরিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ যেন সিংহাসন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এমন অনুভূতি প্রবল হচ্ছিল। এবং সেইসঙ্গে এল ঈর্ষা, রাগ, অভিমান। নিজেকে খুব খেলো মনে হতে লাগল। মায়া কোনও এক সময় তাকে ঠাট্টার গলায় বলেছিল, দেখিস বেশি জড়িয়ে যাস না। সেটা কি সতর্কীকরণ ছিল? আমার সম্পত্তিতে হাত দিয়ো না! কিন্তু শমিত কারও সম্পত্তি হতে পারে না। মায়া শমিতকে ভালবাসে এটা নিছক অনুমানেই ছিল তাঁর। সেইমতো শমিতকে বলেছিল ওইসময়। শমিত অস্বীকার করেছিল, অর্থাৎ ভালবাসাটাসা নয়, স্রেফ শরীরের প্রয়োজনে তাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। যা একসময় আবেগের চূড়ান্ত প্রকাশ বলে মনে হয়েছিল তাকেই এখন পরিকল্পিত লাম্পট্য বলে মনে হল। আর তখনই অপমানবোধ প্রবল হল। ওই দুপুরের পর নিজের যে পরিবর্তন হয়েছিল তার জন্যে লজ্জায় ঘেন্নায় নুইয়ে যাচ্ছিল সে। ইচ্ছে করছিল সোজা মায়ার কাছে গিয়ে সব কথা খুলে বলে দেয়। যে-পুরুষ প্রেমিকাকে প্রতারণা করে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা বোকামি। মায়াকে সতর্ক করে দেওয়া দরকার। মায়ার সঙ্গে কোনও আত্মিক সম্পর্ক নেই বলে শমিত যে তাকে ভুল বুঝিয়েছে তাও মায়ার জানা দরকার। মন স্থির করে ফেলেছিল দীপাবলী। আর তখনই ঘটনাটা ঘটল।

    সন্ধে সবে ঘন হয়েছে। মায়া এল তার কাছে।

    তখনও বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে ছিল দীপাবলী। মায়া একটা চেয়ার টেনে পাশে বসতে সে ধীরে, ধীরে উঠে বসে গম্ভীর গলায় জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘কী ব্যাপার?’

    ‘আমাদের বাড়িতে গিয়েছিলি?’ মায়ার গলায় কোনও তাপ নেই।

    হঠাৎ কথা বলার ইচ্ছে, এতক্ষণ ধরে জমে থাকা কথাগুলো যেন হারিয়ে ফেলল দীপাবলী। সে নীরবে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল।

    মায়া বলল, ‘শোন, তোর সঙ্গে কয়েকটা কথা আছে। আমি শমিতের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তুই যদি ইচ্ছে করিস তা হলে শমিতকে বিয়ে করতে পারিস।’

    চমকে উঠল দীপাবলী। বুকের ভিতরটাই যেন টলে উঠল। সে কপালে ভাঁজ ফেলে মায়ার দিকে তাকাল। মায়ার মুখ পাথরের মতো।

    মায়া মুখ ফেরাল, ‘শমিত আমাকে বলেছে কী ঘটনা ঘটেছিল।’

    ‘তোকে শমিত বলেছে?’ বিশ্বাস করতেই পারছিল না দীপাবলী।

    ‘হুম। ও স্বীকার করেছে যে তোকে ভালবাসে!’

    ‘কেউ যদি আমাকে ভালবাসে তা হলে আমার কী করার আছে?’ হঠাৎই এক উদাসীনতা দীপাবলীর গলায় জড়িয়ে গেল।

    ‘কী বলছিস দীপা?’

    ‘নতুন কিছু না। পৃথিবীর কোটি কোটি পুরুষ প্রতি মুহূর্তে কোনও-না-কোনও মেয়েকে ভালবেসে ফেলছে। এ নিয়ে মাথা ঘামালে মেয়েদের তো কোনও কাজই করা হবে না।’

    ‘তোকে শমিত কী বলেছে?’

    ‘যা শুনেছিস।’

    ‘তোর প্রতিক্রিয়া হয়নি?’

    ‘হয়নি বললে মিথ্যে বলা হবে। নিজেকে খুব—।’

    ‘চুপ করলি কেন?’

    ‘বলতে ইচ্ছে করল না, তাই।’

    ‘শোন, তোকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করছি, তুই শমিতকে ভালবাসিস?’

    ‘কীসে এ-কথা মনে হল?’

    ‘মনে হয়েছে। শমিত তোকে যাদবপুরে পৌঁছে দিতে গিয়েছিল শিফট করার সময়। মুখে ‘না’ বলেও আমার অসুস্থতার সময় তুই নাটক করলি আর যেই আমি সুস্থ হলাম নিজেকে গুটিয়ে নিলি। শমিত তোকে এই হস্টেল ঠিক করে দিয়েছে। শমিতের কাছে চাকরির জন্যে গিয়েছিলি? মিথ্যে কথা?’

    দীপাবলী হাসল, ‘মায়া, তোর সম্পর্কে আমার অন্যরকম ধারণা ছিল। যারা রাজনীতি করে, পাঁচটা ছেলের সঙ্গে দলের প্রয়োজনে দিনরাত মেশে, যাদের পড়াশুনো আছে, তাদের দেখার চোখ অনেক ব্যাপক বলে ভাবতাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ভুল। যে-কোনও ঘরকুনো মেয়ের সংকীর্ণতার সঙ্গে তোদের কোনও পার্থক্য নেই, অন্তত ঘা খেলে যে মুখোশটা খুলে যায় সেটা বুঝতে পারছি।’

    ‘তুই আমাকে অপমান করছিস দীপা। আমি সংকীর্ণ? সংকীর্ণ হলে নিজে এসে তোকে বলতাম না শমিতকে গ্রহণ কর।’

    ‘আমি কাকে গ্রহণ করব তা তুই ঠিক করে দিবি?’

    ‘আমার তো তাই মনে হয়েছিল। তুই শমিতকে আমার কথা বলেছিলি?’

    ‘বলেছিলাম। কারণ আমি বিশ্বাস করি তুই শমিতকে ভালবাসিস৷ না মায়া, আমি শমিতের জন্যে মোটেই ব্যগ্র নই। এ-কথা ভাল লাগছে শমিত যা করেছে, তা তোকে বলেছে। লোকটা খুব ছোট হয়ে ছিল এতক্ষণ আমার কাছে, এখন সত্যি শ্রদ্ধা হচ্ছে। কিন্তু আমি জানি তুই ওকে ভালবাসিস। তুই নিশ্চিন্ত থাক, শমিতের জন্যে আমার কোনও আগ্রহ নেই।’

    ‘তুই এ-কথা শমিতকে বলতে পারবি?’

    ‘নিশ্চয়ই। আমি তো বলেই এসেছি ওকে বন্ধু হিসেবে সম্পর্ক রাখতে।’

    হঠাৎ মায়া দু’হাতে মুখ ঢেকে হু হু করে কেঁদে ফেলল, ‘আমি এখন কী করব?’

    দীপাবলী উঠল। এক হাতে মায়াকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘এবার তোকে আমার হিংসে হচ্ছে।’

    ‘ঠাট্টা করছিস?’ মুখ না তুলে বলল মায়া।

    ‘না রে। তোর মতো এমন ভালবাসা যদি কাউকে বাসতে পারতাম!’

    ‘কী হবে বেসে! শমিত আমাকে বুঝতে চায় না, বোঝে না!’

    ‘অপেক্ষা কর।’ দীপাবলী মায়ার মাথায় হাত বুলিয়েছিল, ‘শমিত নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে। আমাকে নিয়ে আর দুশ্চিন্তা করিস না।’

    এরও দিন সাতেক বাদে শমিতের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। হস্টেলের সামনের রাস্তায়। একেবারে মুখোমুখি, ‘তোমার কাছে যাচ্ছিলাম।’

    ‘বলুন।’

    ‘তোমার চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে। আমাদের স্কুলের সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলেছি। তুমি সকাল ঠিক সাড়ে ন’টায় আমাদের বাড়িতে চলে এসো। আমি স্কুলে নিয়ে যাব।’

    মন স্থির করাই ছিল। দীপাবলী হাসল, ‘আপনি অনেক করলেন আমার জন্যে। কিন্তু আমার পক্ষে আর আপনার স্কুলে চাকরি করা সম্ভব নয়।’

    ‘সেকী? কেন?’ অবাক হয়ে গেল শমিত।

    ‘আর সম্ভব নয়।’ মাথা নেড়েছিল দীপাবলী।

    ‘আমি কারণটা জানতে চাইছি।’

    ‘আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। সব কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।’

    ‘কিন্তু আমাকে আগামীকাল কৈফিয়ত দিতে হবে সেক্রেটারিকে। তুমি কি এই ব্যাপারটাকে ছেলেখেলা বলে মনে করো? আমি অসম্মানিত হব তুমি চাইছ?’

    ‘বেশ, তা হলে বলি। সেদিন আপনার ব্যবহার আমি মেনে নিতে পারিনি।’

    ‘ও!’ থমকে গেল শমিত।

    আপনার খারাপ লাগতে পারে কিন্তু আমার পক্ষে এক স্কুলে কাজ করা সম্ভব নয়। কারণ আপনাকে দেখলেই ওইসব মনে পড়বে। মায়া আপনাকে কিছু বলেনি?’

    ‘মায়া? না তো!’

    ‘ও। আপনি যে-ব্যবহার করেছিলেন তা হৃদয়ের সম্পর্ক নিবিড় হলেই মানুষ করে থাকে বলে শুনেছি। আপনাকে আমি ওই স্তরে ভাবতে পারছি না। অথচ আপনি যেহেতু প্রস্তাব করেছেন তাই একসঙ্গে কাজ করলে মনে হবে আমি সমস্যা তৈরি করছি। এই অস্বস্তিতে আমি থাকতে চাই না।’

    ‘এটাই তা হলে তোমার শেষ কথা?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কিন্তু তুমি বলেছিলে বন্ধুত্ব থাকবে।’

    ‘বলেছিলাম। কিন্তু এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বন্ধুত্বের মধ্যেও একটা ছোট্ট দেওয়াল থাকে। আপনি সেই দেওয়ালটাকে নড়বড়ে করে দিয়েছেন। তবে দেখা হলে নিশ্চয়ই কথা বলব। আশা করব আপনিও সহজ হয়ে কথা বলবেন।’

    সেই শেষ দেখা। চাকরি নেবার সময় মায়াদের বাড়িতে গিয়েছিল দীপাবলী। মায়া ছিল না। ওর মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। ভদ্রমহিলা এসব ব্যাপারের কিছুই জানেন না। নিজের চাকরির বিস্তারিত ব্যাপার মহিলাকে জানিয়েছিল সেদিন। আর তারপর কলকাতা চোখের আড়ালে। খুব খারাপ লেগেছিল লাবণ্যর কাছ থেকে বিদায় নিতে। মেয়েটা এতদিনে যেন অনেক বুঝতে শিখেছে। সে বারংবার ওর দিদিমাকে বলেছিল লাবণ্যকে অন্তত গ্র্যাজুয়েট যেন করা হয়। শিক্ষিত একটি মেয়ে তার অতীত, যা পূর্বনারীরা তাকে দিয়েছিল, জেনে নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করে নিক। ততদিন তার জন্যে সুস্থ পরিবেশ রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    ‘বাপস! এত রাত্রেও জল ঠান্ডা হয় না এখানে?’

    চমকে মুখ তুলল দীপাবলী। পাজামা পাঞ্জাবি পরে মাথায় ভেজা গামছা ঘষতে ঘষতে ঘরে ঢুকল শমিত, ‘পরনেরগুলো বাথরুমের বালতিতে ভিজিয়ে দিয়েছি। ওগুলো আর গায়ে রাখা যাচ্ছিল না।’

    ‘ঠিক আছে, তিরি কেচে দেবে।’

    ‘তোমার কাজের মেয়েটির নাম বুঝি তিরি? ফ্যানটাস্টিক নাম তো? তিরি মানে কী? তিরতিরে থেকে এসেছে নাকি?’ শমিত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে প্রশ্নটা করামাত্র ভেতরের বারান্দা থেকে কৌতুক-মেশানো হাসি ছিটকে উঠেই আচমকা থেমে গেল। সেদিকে তাকিয়ে শমিত বলল, ‘বাঃ, চমৎকার বাংলা বোঝে তো!’

    দীপাবলী ঠোঁট কামড়াল। বারান্দায় অন্ধকার। তিরি ওখানে যে ছিল বা আছে তা বোঝার উপায় নেই। কিন্তু নির্ঘাত সে কথা শোনার লোভেই কাছাকাছি রয়েছে। শমিত আর কোনও বিষয় পেল না বলবার। সমস্ত ব্যাপারটাই খুব বিশ্রী লাগছিল দীপাবলীর। খাট থেকে নেমে বলল, ‘তুমি বাইরের ঘরে গিয়ে বসো, রাতের খাবার পেতে সময় লাগবে।’

    ‘আপাতত এক কাপ চা হলেই চলবে, সঙ্গে বিস্কুট।’ শমিত পা বাড়াল।

    বারান্দার দিকে মুখ করে দীপাবলী গলা তুলল, ‘তিরি, তোর কানে গিয়েছে নিশ্চয়ই। চা নিয়ে আয়।’

    বাইরের ঘরে ঢুকে দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘তা হলে তুমি এখনও নাটক করছ?’

    ‘মানে?’

    ‘তোমার দাড়ি আর কাঁধের ব্যাগ বলে দিচ্ছে শিল্পের জন্যে সংগ্রাম করছ। শুনেছি সংগ্রাম করতে গেলে নাকি এইরকম বেশ দরকার।’

    ‘ঠাট্টা করছ?’

    ‘নাঃ। বলো, কী উদ্দেশ্যে আগমন? ’

    ‘তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে হচ্ছিল। এসে লাভ হল।’

    ‘যেমন?’

    ‘তুমি তো আমাকে আপনি বলতে সবসময়, এসে পড়েছি বলে তুমি শুনলাম।

    ‘বয়স মানুষকে অনেক জায়গায় উদার করে।’

    ‘তোমার বয়স—!’

    ‘আমার কথা থাক। শুধু দেখার ইচ্ছের জন্যে যদি আসা হয় তা হলে অন্যায় করেছ। আমি এটা পছন্দ করছি না; মায়া কেমন আছে?’

    ‘মায়া! তুমি জানো না?’

    ‘কী জানব?’

    ‘মায়া বিয়ে করেছে। বছরখানেক হয়ে গেল।’

    ‘আচ্ছা?’ বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল দীপাবলীর।

    হ্যাঁ। সুদীপকে। সুদীপ তো আমাদের দল ছেড়ে দিয়েছে।’

    ‘সুদীপকে?’ দীপাবলী যেন তল পাচ্ছিল না।

    ‘ইয়েস ম্যাডাম। জীবন এইরকম। আমি অবশ্য খুব খুশি হয়েছি। তবে মায়া আর সুদীপের টেম্পারামেন্ট আলাদা, এইটেই গোলমাল।’

    অর্থাৎ মায়া আর শমিতের জীবনে নেই। এতক্ষণ যে-স্বাভাবিক ব্যবহার সে করছিল তা যেন অকস্মাৎ হারিয়ে গেল। শমিতের একা হওয়া মানে তার সমস্যা বাড়া—এমন অনুভূতি প্রবল হল। সে কোনওমতে জানতে চাইল, ‘আমার ঠিকানা পেলে কোথায়?’

    ‘তোমার হেডঅফিস থেকে।’

    ‘কী জন্যে এসেছ এখনও জানলাম না।’

    ‘এত ব্যস্ত হচ্ছ কেন? যদি আপত্তি থাকে বলো বাড়ি থেকে বেরিয়ে মাঠেঘাটে রাত কাটিয়ে ফিরে যাই।’

    ‘সেটা আর বলতে পারছি কোথায়?’

    ‘বলতে যখন পারছ না তখন এসো অন্য গল্প করি। তোমার চাকরি কেমন লাগছে? জায়গাটা কেমন?’

    রাত্রে খাওয়াদাওয়া চুকে গেলে তিরিকে দিয়ে বাইরের ঘরে বিছানা পাতাল দীপাবলী শমিতের জন্যে। ভেতরের বারান্দায় একটা খাটিয়া পড়ে ছিল, সেটাকেই নিয়ে আসা হল। তিরি যেমন শোয় তেমনি শোবে দীপাবলীর ঘরে। শুতে যাওয়ার আগে দীপাবলী বলল, ‘কাল ভোর থেকেই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। তুমি কখন যাবে?’

    ‘আমি এখানে ক’দিন থাকব দীপা। একটা নাটক লিখছি এদিকের মানুষ নিয়ে। তাই এদের ভাষা, জীবন, জানা দরকার। একটা দেশলাই দাও তো?’

    বিরক্ত দীপাবলী ঘরে ফিরে আসামাত্র দেখল তরতরিয়ে একটা দেশলাই নিয়ে তিরি বাইরের ঘরের দিকে যাচ্ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }