Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৬. দীপাবলী এবং অলোক

    ব্যাপারটা যেন আচমকাই সহজ হয়ে গেল। অন্তত ওপর থেকে দেখলে মনে হবে নদীটা খুব শান্ত, টলটলে। নীচে, মাটির ওপর পড়ে থাকা নুড়িগুলোকে নিয়ে চোরা স্রোত যদি টালমাটাল হয় তা কারও চোখে পড়ার নয়।

    দীপাবলী এবং অলোক এখন অনেক কথাই বেশ সহজ গলায় বলতে পারে। বাড়িতে যে বদ্ধ হাওয়া চেপে বসেছিল তা যেন বদলির খবরে জানলা খোলা পেয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। দীপাবলী অলোকের সঙ্গে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই আলোচনা করতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। অলোকও এখন অনেক হালকা। কী করে যে ব্যাপারটা ওইরকম জায়গায় পৌঁছেছিল তার কোনও সঠিক ব্যাখ্যা নেই। কেউ যদি প্রশ্ন করত কী কারণে এত তাড়াতাড়ি দু’জনের সম্পর্কে অমন চিড় ধরল তা হলে তার উত্তর এককথায় বোঝানো যাবে না। প্রশ্নকর্তা ওদের অক্ষমতায় বিরক্ত হতে পারেন। অলোক এবং দীপাবলী দু’জনেই জানে, একটি ছোট্ট পিঁপড়ের কামড় কখনই সমবেদনা পাবে না, কিন্তু নিত্য যদি একই জায়গায় কামড় পড়ে তা হলে একদিন বিষ চিকিৎসার বাইরে চলে যাবেই। ব্যাপারটা চট করে কেউ বুঝতে চাইবে না, বোঝানোও মুশকিল।

    অবশ্য এখন আর বোঝানোর প্রশ্ন উঠবে না। মানুষজন জানবে দীপাবলী বদলি হয়ে যাচ্ছে কলকাতায়। সরকারি চাকরির নির্মম নিয়মেই স্বামী স্ত্রী আলাদা থাকতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক কৌতূহল এর ফলে মুখ লুকোবে। অথচ যাঁরা জানতেন, অলোকের পরিবারের সেইসব মানুষজন কিন্তু একই ঘটনার অন্যরকম ব্যাখ্যা পেলেন। দীপাবলী স্বেচ্ছায় বদলি নিয়েছে বলেই তাঁদের ধারণা হল। এবং এর ফলে কিছু তিক্ততা জন্মাল। আধুনিক মানুষেরাও সিদ্ধান্ত নিলেন এইভাবে হুট করে অজানা অচেনা ভুইফোঁড় কোনও মেয়ের সঙ্গে প্রেম বা বিবাহ করা নির্বুদ্ধিতার সামিল।

    রিলিজ অর্ডার বেরিয়ে গেল। দীপাবলীকে কলকাতার আয়কর ভবনে গিয়ে সি আই টি ওয়ানের সঙ্গে দেখা করতে হবে। মাঝখানে ইন্টারস্টেট ট্রান্সফারের কারণে যে সময়টুকু পাওয়া যায় সেটুকুই হাতে থাকবে। সরকারি অফিসে একজন অফিসাব অথবা সাধারণ কর্মচারী কাজ করতে আসেন, কাজ করেন এবং মেয়াদ শেষ হলে চলে যান। ব্যাপারটা এত স্বাভাবিক যে এ নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। নদীর স্রোতে কোন জল কখন বয়ে যাচ্ছে সেটা নিয়ে চিন্তা না করে দেখা দরকার স্রোতটা ঠিকঠাক আছে কিনা। দীপাবলীর চেয়ারে তার আগে হয়তো কয়েকটি অফিসার বসেছেন, পরেও অগুনতি বসবেন। অতএব চুপচাপ বেরিয়ে এল সে।

    সম্পর্কটা যখন আপাতসহজ তখন অলোকের যোগাযোগে কলকাতার বাসস্থান পেলে, নিতে কোনও আপত্তি নেই। তবু প্রথমে যে একটু দ্বিধা ছিল না তা নয়। দীপাবলী বলেছিল, ‘সাহায্য নিচ্ছি, তুমি আমার শত্রু নও বলেই নিচ্ছি, কিন্তু সেইসঙ্গে ভয়ও হচ্ছে।’

    ‘কীসের ভয়?’

    ‘আমাদের দেশে যখন কেউ কাউকে সাহায্য করি তখন মনে মনে নিজের একটা অধিকার তৈরি করে নিই। যাকে সাহায্য করলাম সে যেন চিরকাল আমার কথা শুনতে বাধ্য থাকবে। এরকম হলে আমার পক্ষে সাহায্য নেওয়া সম্ভব নয়।’

    ‘ব্যাপারটা আমার মাথায় আসেনি। তুমি বড় জটিল করে ভাবো।’

    ‘আগেই বলে নেওয়া ভাল। তুমি আমাকে ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দিলে। অতএব কলকাতায় গেলেই তুমি আমার কাছে উঠবে এমন হওয়াটা স্বাভাবিক।’

    ‘তুমি মূল বিষয়টাই ভুলে যাচ্ছ। আমরা পরস্পরকে কোনও কোনও ক্ষেত্রে সহ্য করতে পারছি না বলেই তো এত অশান্তি। সেই ক্ষেত্রগুলো যতদিন থাকবে ততদিন খুব অল্প সময়ের জন্যেও একত্রিত হওয়া মানে মানসিক অশান্তি ডেকে আনা। আমি আর এমন ভুল করতে রাজি নই, তুমি নিশ্চিত থেকো।’

    অলোককে বন্ধু বলে মনে হচ্ছিল। বন্ধু যে সে তো মনের কথা বোঝে। ইংরেজি ভাষায় যখন কেউ বলে আই ক্যান রিড ইউ তখন সে কাছের মানুষ হয়ে যায়। কিন্তু বিপদ ওইখানেই। পড়তে অনেকেই পারে না, যারা পারে তাদের কজনই বা পড়ে বোঝে?

    অলোক খবর এনেছিল কলকাতার দক্ষিণে লেকের ওপাশে নতুন যে জনপদ তৈরি হয়েছে সেখানে একটি পাঁচতলা বাড়ির তিনতলায় দুটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন এক ভদ্রলোক। ইনি ওর সঙ্গে পরিচিত হলেন অফিসের সূত্রে। ভদ্রলোক হঠাৎ মাস তিনেক আগে হৃদরোগে মারা গিয়েছেন। তাঁর বিধবা স্ত্রী এবং ছেলেরা দিল্লিতেই থাকেন। অলোক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাঁরা একটি ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে পারেন। দ্বিতীয়টি রেখে দেবেন যদি কখনও প্রয়োজন হয় এই ভেবে। ভবিষ্যতে দাম বাড়লে বিক্রিও করতে পারেন।

    অতএব এক বিকেলে দীপাবলী অলোকের সঙ্গে সেই মহিলার সঙ্গে দেখা করতে গেল। সে একা থাকতে পারে শুনে ভদ্রমহিলা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। এমন চাকরি করার দরকার কী যদি স্বামীকে ছেড়ে থাকতে হয়। স্বামী কতখানি স্ত্রীর জীবনে তা বিধবা হবার পর তিনি বুঝতে পারছেন। দীপাবলী চুপচাপ শুনছিল। অলোক গম্ভীর মুখে অন্যদিকে তাকিয়ে ছিল। নানান কথার পর দীপাবলী যখন জানিয়েছিল তার সঙ্গে দু’জন প্রৌঢ়া মহিলা থাকতে পারেন তখন ভদ্রমহিলা রাজি হয়েছিলেন। কোনওরকম অ্যাডভান্স বা সেলামি দিতে হবে না। মাসিক ভাড়া পাঁচশো। এ সবই অলোকের সঙ্গে পরিচয় থাকার সুবাদে। ভদ্রমহিলা চান তার স্বামীর কেনা ফ্ল্যাটটি ভালভাবে রক্ষিত হোক। কলকাতায় তাঁদের একটা অ্যাকাউন্ট আছে স্টেটব্যাঙ্কে। সেখানে প্রতি মাসের পাঁচ তারিখের মধ্যে ভাড়া জমা দিলেই চলবে।

    প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরের দিনই ভদ্রমহিলার কাছ থেকে এসে গেল। পাঁচশো টাকায় কলকাতা শহরে তিনতলায় তিনখানা ঘর পাওয়া এই সত্তর-আশির দশকেও প্রায় অসম্ভব। কৃতজ্ঞতা বোধ মানুষকে দুর্বল করে। দীপাবলীর খারাপ লাগা বাড়ছিল। কিন্তু অলোক এখন এত সহজ যে এই বিষয়ে কথা বলতে সংকোচে পড়ল সে। সংকোচ আর এই জীবনে কাটিয়ে ওঠা যায়নি।

    অলোক চেয়েছিল তাকে কলকাতায় পৌঁছে দিয়ে যায়। দীপাবলী চায়নি প্রথমে। পরে বুঝল। হাজার হোক, স্ত্রী বদলি নিয়ে একা কলকাতায় চলে যাচ্ছে এমন খবর অলোককে পরে দিল্লিতে অজস্র প্রশ্নের সামনে ফেলবে। তা ছাড়া, কলকাতা সম্পর্কে যতই দুর্বলতা থাক, সেখানে পৌছে কোথায় উঠবে দীপাবলী? ফ্ল্যাটের দখল নিয়ে গুছিয়ে বসতেও তো সময় লাগবে। শেষ বাসস্থান ছিল মায়াদের বাড়ি। দীর্ঘদিন যোগাযোগহীন থাকায় সেখানে পৌছে বলা যায় না যে থাকতে এলাম। আর মাসিমা যে আছেনই সেখানে এমন নিশ্চয়তাও নেই। অলোক হোটেলে থেকে সবকিছু সুস্থিত করে ফিরে আসতে চায়। ব্যাপারটা যেমন শোভনীয় তেমনি দীপাবলীর পক্ষে সহায়ক।

    কিন্তু এই যে সাহায্য ক্রমাগত নিয়ে যাওয়া, এটা কি তার মনের মধ্যে যে সুবিধেবাদী মন রয়েছে তার স্বার্থে নয়? যার সঙ্গে আর কোনও মনের সম্পর্ক রইল না, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে যখন একটা ছাদের তলায় আর থাকা গেল না, তখন এইসব সাহায্য নিয়ে নিজেকে নিরাপদে রাখা কি এক ধরনের নীচতা নয়? প্রতি মুহূর্তের টানাপোড়েনে দীপাবলী কাহিল। সে ভাবনাটা বলেছিল অলোককে। অলোক হেসে বলেছিল, আমরা ভালবেসে বিয়ে করেছিলাম। আমাদের সেই ভালবাসা ছাপিয়ে দৈনন্দিনের সংঘাত এমন জায়গায় পৌঁছাল যে আর একসঙ্গে থাকতে পারছি না। আমি জানি এতে আমার যেমন কষ্ট হচ্ছে তোমারও তেমনি। কিন্তু এও জানি এরপরেও এখনই একসঙ্গে থাকাটা যদি চালিয়ে যাই আরও বড় দুর্যোগ ঘটতে পারে। অতএব নিজেদের বাঁচাতে আমাদের সরে যাওয়াটাই ঠিক। কিন্তু আমি অসুস্থ হলে যেমন তুমি মাথার পাশে বসে ভেজা তোয়ালে বোলাতে পারো তেমনি তোমার প্রয়োজনে আমি কাজে লাগতে পারি। আমাদের মনে যেটুকু এখনও বেঁচে আছে সেটুকুই এটা আমাদের করাচ্ছে। তার সঙ্গে আমাদের আলাদা হবার সিদ্ধান্তের কোনও সংঘাত নেই। আমরা আমাদের খারাপ চাই না। বলা উচিত ভাল চাই। এই আলাদা হয়ে যাওয়া যেমন সেই ভাল চাওয়ার কারণে, তেমনি তোমার সঙ্গে আমার কলকাতায় যাওয়াটাও একই উদ্দেশ্যে। মন থেকে সব হঠাও।’

    যাওয়ার দিন ঘনিয়ে এল। অলোকের সঙ্গে এক বিকেলে দীপাবলী শ্বশুরবাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে এল। অলোক সঙ্গে না থাকলে কী ঘটত, কী কথা হত, তা অনুমান করা যায়। দীপাবলীর কলকাতা বাস সম্পর্কিত প্রতিটি আলোচনায় অলোক অংশ নিচ্ছে, মতামত দিচ্ছে, দেখে শাশুড়ি মুখ খুললেন না। শ্বশুর ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলেন। এমনকী কলকাতায় গেলে সে কোথায় উঠবে এ-প্রশ্নের উত্তরটাও অলোক দিল। ভাল করে বুঝিয়ে বলল, ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। সুন্দর ফ্ল্যাট। এ নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। একটা কাজের মেয়েকে রেখে দিলেই হবে।

    বৃদ্ধর মুখের ভাব দেখে বোঝা যাচ্ছিল তিনি মর্মাহত। বারংবার জানলা দিয়ে বাইরে দৃষ্টি সরিয়ে রাখছিলেন। আসলে তার বোধহয় কিছুই দেখার ছিল না। শাশুড়ি এমন ভঙ্গিতে মাঝে মাঝে কথা বললেন যাতে মনে হয় এই বদলি হয়ে যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কলকাতায় অনেকদিন যাওয়া হয় না। আগে তবু তার মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে অনেক জায়গা ছিল, সেখানে গেলে উঠতেন। ভাই মারা যাওয়ার পর সেই পাট চুকেছে। দিল্লি থেকে বেলোনোই হয় না। সেই যে সংসারে ঢুকেছেন তারপর—। তা দীপাবলী যখন কলকাতায় যাচ্ছে তখন মাঝেমধ্যে যাওয়া যাবে। কলকাতা মানে মিষ্টি। ও হো, সেসব মিষ্টির স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে। প্রায় রসাস্বাদনের মতো তিনি কে সি দাস, গাঙ্গুরাম, জলযোগ আর সেনমশাইয়ের নাম করে গেলেন। এবার মুখ ফেরালেন বৃদ্ধ, ‘কিছুই জানো না। যদি মিষ্টি খেতে চাও তা হলে যেতে হবে উত্তর কলকাতায়। বিবেকানন্দ রোডের পরে হেদোর উলটোদিকে বেথুন কলেজের গা ধরে গেলে নকুডের দোকান পাবে। ওদের সন্দেশের তুলনা পৃথিবীতে নেই।’ মহিলা তৎক্ষণাৎ বললেন, ‘কোনওদিন নিয়ে গিয়েছ যে জানব? বাড়ি বসে গান শোনাতে তোমার জুড়ি নেই।’

    যেন এসব কথাবার্তায় দীপাবলীর চলে যাওয়ার প্রাথমিক প্রস্তৃতি হয়ে গেল। শাশুড়ি উঠলেন। অলোক অদৃশ্য হল। বড় জা প্রথমে এসে কিছুক্ষণ দাড়িয়েছিল, এখন আর তার সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। শ্বশুরের সামনে থেকে উঠতে যাচ্ছিল দীপাবলী, তিনি হাত নেড়ে বসতে বললেন। তারপর নিচু গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এসব কেন হল?’

    দীপাবলী তাকাল, ‘বদলির ব্যাপারে আমার কোনও হাত ছিল না।’

    ‘তোমাকে বদলি করা হচ্ছে তা আগে আমাকে জানাওনি কেন?’

    ‘আমি প্রায় শেষ সময়ে জেনেছি। আপনার ছেলেও একই সময়ে জেনেছিল।’ ইচ্ছে করেই শেষ কথাটা জানাল দীপাবলী। তার মনে ওই ঘটনাটা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।

    ‘তোমার অফিসের ব্যাপার সে জানল কোথা থেকে?’

    ‘বাইরেই।’

    ‘তার মানে তোমার বদলির ব্যাপারে অনেকের ইন্টারেস্ট ছিল?’

    ‘মনে হয়।’

    ‘তোমার নিজের ছিল না তো?’

    ‘না। মাথায় আসেনি।’

    ‘তুমি আমায় কথা দিয়েছিলে।’

    ‘এখন পর্যন্ত তার অমর্যাদা করিনি।’

    বৃদ্ধ চোখ বন্ধ করলেন। দীপাবলীর মনে হঠাৎ কষ্ট এল। এই বৃদ্ধকে এই মুহূর্তে তার পরমাত্মীয় বলে মনে হচ্ছিল। একমাত্র এঁকেই যেন সে মনে মনে স্পর্শ করতে পারছিল। বৃদ্ধ চোখ খুললেন, ‘কী করি বলো তো। এতবড় চাকরি তো তোমাকে ছাড়তে বলতে পারি না। যদি বুঝতাম সম্পর্কটা চাকরির থেকে অনেক বেশি জরুরি তা হলে হয়তো পারতাম। কিন্তু আমার কষ্ট হচ্ছে। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি তুমি এবার অনেক দূরে সরে যাবে। আমি কালীবাড়িতে তোমায় দেখেই ঠিক করেছিলাম এ-বাড়ির বউ করব। তাই হয়েছেও। আজ আমার সবচেয়ে বড় হার হল। অথচ দ্যাখো কিছুই করার নেই আমার।’ বড় একটা নিশ্বাস শব্দ তুলল। দীপাবলী আরও কিছুক্ষণ বসে থাকার পর অলোকের ভাইঝি এসে বলল, ‘কাকিমা, মা তোমাকে ডাকছে।’ দীপাবলী শ্বশুরকে বলল, ‘আমি একটু আসছি।’

    বৃদ্ধ সাড়া দিলেন না। মেয়েটিকে অনুসরণ করে দীপাবলী চলে এল তার মায়ের ঘরে। শকুন্তলা একাই ছিল। দেখামাত্র জিজ্ঞাসা করল, ‘বেঁচে গেলে?’

    কপালে ভাঁজ পড়ল দীপাবলীর। মুখ ফিরিয়ে মেয়েটিকে দেখে বলল, ‘কী ব্যাপারে?’

    ‘সব। বোসো। শ্বশুরশাশুড়ি তখন থেকে তোমার দখল নিয়ে বসে আছে, কথা বলার উপায় নেই।’

    দীপাবলী বসল। তার খুব খারাপ লাগছিল। মেয়ের সামনে এভাবে কথা বলতে শকুন্তলা একটুও দ্বিধা করছে না। সে মেয়েটিকে বলল, ‘তোমার কাকু কোথায় দ্যাখো তো?’

    মেয়েটি বড় হয়েছে। যেন বুঝতে পারল ইঙ্গিতটা। বুঝে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    শকুন্তলা বলল, ‘তোমার কপালকে আমি খুব হিংসে করি ভাই।’

    চমকে উঠল দীপাবলী। কোনও বাঙালি মেয়ে যদি এ-কথা বলে তা হলে এর চেয়ে হাস্যকর ব্যাপার কিছু হতে পারে না। জন্মমাত্র ঈশ্বর নামক অদেখা শক্তিটি তার কপালে যা লিখে দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেছিলেন তার জের টানতে হচ্ছে একা। সে চুপচাপ শকুন্তলাকে দেখল।

    শকুন্তলা বলল, ‘বিয়ের পর পর কেমন আলাদা হয়ে গেলে। এ-বাড়ির ছায়া মাড়াতে হল না। মাথার ওপর ওই বুড়ি রইল না টিকটিক করার জন্যে। আর ইনি, এত বছর কান বন্ধ করে ছিলেন আমার দিকটা একবারও ভাবেননি। অথচ দুই ভাই। তোমার ক্ষেত্রে একরকম আর আমার ক্ষেত্রে অন্যরকম হবে কেন?’

    ‘একসঙ্গে থাকার সুবিধেগুলো কিন্তু এখন টের পাচ্ছি আমি।’

    ‘কী সুবিধে? কিস্যু না।’

    শকুন্তলা এখন বেশ ভালই বাংলা বলে। তার পরিবর্তনও হয়েছে অনেক। নিজের ঘরে বসে এসব কথা গলা খুলে বলতে তার কোনও সংকোচ নেই। সে বলল, ‘আলাদা হয়ে থাকলে কী হবে? ঝগড়া? তা নিজের স্বামীর সঙ্গে যত ঝগড়া হোক সেটা নিজেরই ব্যাপার। ঝগড়া মারপিট কথা বন্ধ যাই হোক না কেন ভাব হতে কতক্ষণ। আর তোমার মতো চাকরি করলে আলাদা থাকব, এই যেমন তুমি থাকতে যাচ্ছ।’

    ‘আমি কিন্তু ইচ্ছে করে আলাদা হচ্ছি না।’

    ‘সে জানি। শাশুড়ি তো আমাকে কিছু বলে না, শ্বশুরকে বলছিল, আমি শুনে ফেলেছি। সত্যি বলো তো, তোমরা কি ডিভোর্স নিচ্ছ?’

    ‘নিলে আমার কপালটাকে হিংসে করবে?’

    ‘না। আমি ডিভোর্স করতে পারব না। এখন শরীরের যা হাল তাতে কেউ তো আর বিয়ে করতে আসবে না। এই বয়সে একা একা থাকতে পারব না। তুমি তো বললে না, ডিভোর্স হচ্ছ নাকি?’

    ‘এখনও সেসব ভাবিনি।’

    ‘দোষ কার? ঠাকুরপোকে তো ভালই লাগত আগে।’

    ‘কারও দোষ নেই।’

    ‘তা হলে?’

    ‘তালাটাও ভাল চাবিও খারাপ নয়। তবে ঠিক তালার ঠিক চাবি নয়।’

    ‘তোমার কথার মানে আমি বুঝতে পারি না। শকুন্তলা হাসল, ‘শেষপর্যন্ত আমরা আলাদা হয়ে যাচ্ছি। ও একটা ফ্ল্যাট পেয়ে গেছে।’

    ‘ও।’ দীপাবলী ভেবে পেল না কী বলবো।

    ‘অনেক সহ্য করেছি। ভদ্রমহিলা সবসময় লাঠি ঘোরাবেন আমার ওপর সেটা আর সহ্য করব না। নিজের বাড়ি বলে যা ইচ্ছে করতে হলে এরার করুন। তুমি চলে গেলে ঠাকুরপো নিশ্চয়ই ওই ফ্ল্যাট ছেড়ে এখানে চলে আসবে। অতএব বাড়িতে তো লোক রইল। আজও উনি ছেলেকে জিজ্ঞাসা করেছেন কবে এখানে আসছে। বুঝলে, যে যার মতো সব গুছিয়ে নেয়, কোনও কিছুই কারও জন্যে আটকে থাকে না। এই কথাটাই তোমার দাদা বুঝতে পারছিল না এতদিন।’

    এইসময় অলোকের দাদা ফিরলেন। দীপাবলীকে দেখে গম্ভীর গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তা হলে তুমি কলকাতায় ফিরে যাচ্ছ?’

    ফিরে শব্দটা কানে লাগল। সে উত্তর দিল না। ভদ্রলোক বললেন, ‘কী আর করা যাবে। ওপরতলার সরকারি চাকরিতে এই বিপদ। কোথাও চিরদিন থাকতে দেবে না। আমার এক বন্ধু তো পনেরো বছরে চারটে জায়গা ঘুরল। ছেলেমেয়ে থাকলে তো আরও বিপদ। তাদের পড়াশুনার বারোটা বেজে যায়।’

    ভদ্রলোক এমন ভঙ্গিতে কথা বলছেন যেন কিছুই জানেন না। দীপাবলী সরকারি চাকরি করছে এবং বদলিটা নিয়মমাফিক এমনই শান্ত ছিল ব্যাপারটা। দীপাবলী বলল, ‘আমার কিন্তু বদলি ডিউ হয়নি। সেই সময়টা আসতে অনেক দেরি ছিল!’

    ‘তাই নাকি? তা হলে আউট অফ টার্ন। এরকম হয়। কোথাও তো লিখিত নিয়ম নেই যে এত বছরের আগে বদলি করা চলবে না। নিশ্চয়ই পেছনে কোনও কারণ আছে। তা ভালই হল। কলকাতায় গেলে তোমার ওখানে থাকা যাবে। শুনলাম, অলোক তোমাকে একটা বড় ফ্ল্যাট ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

    ‘উনি আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন, ভদ্রমহিলা, যিনি ফ্ল্যাটের মালিক, অনেকক্ষণ আমার সঙ্গে কথা বলার পর সন্তুষ্ট হয়ে আমায় ফ্ল্যাটটা দিয়েছেন।’ দীপাবলী বলল, ‘অবশ্য খবরটা উনি আমাকে দিয়েছিলেন।’

    রাত বাড়ল। চলে আসা গেল না। শাশুড়ি খাইয়ে ছাড়লেন। এর ফাঁকে একা পেলেই শাশুড়ি জানতে চেয়েছেন বড়বউ কী বলছে? দীপাবলী প্রথমবার হেসেছিল। দ্বিতীয়বারে বলেছিল, ‘আপনি যেমন ওঁকে পছন্দ করেন না, উনিও আপনাকে মানতে পারেন না। তাই উনি যা বলবেন তা তো আপনার বিরুদ্ধে যাবে। এটা জেনেও কেন বারবার তা জানতে চাইছেন? কী দরকার?’

    ভদ্রমহিলা এরপর থেকে চুপ করে গিয়েছেন।

    খাওয়াদাওয়ার পর ওরা বিদায় নিল। শ্বশুর শাশুড়ি দরজা পেরিয়ে বারান্দায় এলেন। দীপাবলীর মনে পড়ল সেই রাত্রের কথা। প্রথম দিন এবাড়িতে খাওয়াদাওয়া সেরে ট্রেন ধরার জন্যে যখন বেরিয়েছিল তখন এভাবেই এঁরা বিদায় জানাতে এসেছিলেন। সেদিন অলোক তাকে গাড়িতে স্টেশনে পৌঁছে দিয়েছিল। আজও সেসবের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। শুধু—। দীপাবলী মন স্থির করতে পারছিল না। শেষপর্যন্ত সে সামনে দাঁড়ানো পরেশবাবুকে প্রণাম করল নিচু হয়ে। ভদ্রলোক কাঁপা হাত রাখলেন মাথায়, ‘শান্তি পাও মা।’

    দীপাবলী নিশ্বাস ফেলল। সে উঠে দাঁড়াতেই শাশুডির গলা কানে এল, ‘আমাকে প্রণাম করতে হবে না। ভালভাবে থেকো তা হলেই হল।’

    দীপাবলী কথা বলল না। অলোেক গেটের সামনে গাড়ি এনেছিল, চুপচাপ গেট খুলে তাতে উঠে বসল। গাড়িটা চলতে শুরু করার পর সে মুখ ফেরাল। বারান্দা থেকে ইতিমধ্যে সবাই চলে গিয়েছে ভেতরে, শুধু পরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় একা বেঁকেচুরে দাঁড়িয়ে আছেন। এই বৃদ্ধ এখন কী ভীষণ একা, শূন্য চরাচরে নিষ্পত্র একক গাছের মতো নিঃসঙ্গ। দীপাবলী জানলায় মাথা রাখল।

    অলোক কথা বলল, ‘কিছু মনে করোনি আশা করি। আসলে যে যার মতো কোনও কিছুর ব্যাখ্যা করে। আমরা জানি আসলে কী ঘটেছে। তোমার ফ্ল্যাট আমি দিয়েছি জোগাড় করে এমন অহংকার কখনও করিনি। ওঁরা জেনে স্বস্তি পেয়েছেন। এই স্বস্তিটুকু দিতে চেয়েছিলাম। আর তার জন্যে যদি তুমি আঘাত পাও তা হলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

    দীপাবলী চুপ করে রইল। কোনও নতুন কথা বলার নেই। যা এতদিন বারংবার বলে এসেছে তা এখন মনে করতেই ক্লান্তিবোধ হচ্ছে। তা ছাড়া কথা বলতে গেলেই তো সেটা তর্কে পৌঁছে যাবে, আজকাল তর্ক করতে গেলেই নার্ভে লাগে। শরীর দেয় না। ব্যক্তিগত কারণে উত্তেজনা এলে বুকে হাঁপ ধরে, নিশ্বাসে কষ্ট আসে। সে কোনও কথা বলল না। অলোক উত্তরের অপেক্ষা করল কিছুক্ষণ। তারপর আশা ছেড়ে দিল।

    অলোকের পা অ্যাক্সিলারেটরের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল। নির্জন রাজপথে গাড়ি ছুটছিল রকেটের মতো। দীপাবলী মাথা সোজা করল। এই গতি ক্রমশ তার সহ্যের সীমা অতিক্রম করছে। সে চাপা গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘কী করছ?’

    অলোক হাসল, ‘কেন? ভয় করছে?’

    ‘নিশ্চয়ই। অ্যাকসিডেন্ট হয়ে যেতে পারে।’

    ‘হোক। তবু তো কিছু একটা হবে।’

    ‘মানে?’ দীপাবলী হতভম্ব।

    স্পিডোমিটারের কাঁটা তখন নব্বই পেরিয়ে গেছে। দু’পাশের লাইটপোস্টগুলো সাঁ সাঁ করে পেছনে ছুটে যাচ্ছিল। দু’-একটা গাড়ি যা সামনে পড়ছিল তাদের পাশ কাটাতে একটুও গতি কমাচ্ছিল না অলোক। সে হেসে বলল, ‘ধরো, এখন একটা অ্যাকসিডেন্ট হল। আমি তোমাকে কথা দিতে পারি এই স্পিডে ধাক্কা মারলে তুমি বা আমি কেউই বেঁচে থাকব না। সমস্ত সমাধান হয়ে যাবে এক মুহূর্তে কী বলো?’

    দরজা আঁকড়ে বসেছিল দীপাবলী। হাঁ হয়ে তাকাল অলোকের দিকে। ড্যাশবোর্ডের যেটুকু আলো ওর মুখে পড়ছে তাতে স্বাভাবিক মানুষ বলে মনে হচ্ছে না। সে কোনওমতে বলতে পারল, ‘সমাধান তো হয়েই গেছে।’

    ‘ওটা তোমার মতো করে সমাধান। পাবলিক তো ঘাস খায় না। সব্বাই জানতে পারবে অলোক মুখার্জির বউ ভেগেছে।’ জিভে শব্দ করল অলোক।

    গাড়িটা দুলে উঠল। চেঁচিয়ে বলল দীপাবলী, ‘প্লিজ, কথা বোলো না।’

    হঠাৎ পেছন থেকে একটা মোটরবাইকের টানা হর্ন ভেসে এল। তিরের মতো তার হেডলাইটটা ছুটে আসছে ওদের পেছনে। সেটাকে লক্ষ করামাত্র স্পিড কমাল অলোক। প্রায় পাশে চলে এসে মোটরবাইকের আরোহী গাড়িটাকে থামাতে নির্দেশ দিল। দীপাবলী দেখল লোকটা একজন পুলিশ অফিসার।

    অলোক বাঁ পাশ চেপে থামানোমাত্র লোকটা তার বাইক গাড়ির সামনে পার্ক করে এগিয়ে এল জানলার গায়ে। চোস্ত হিন্দিতে জিজ্ঞাসা করল, ‘এই রাস্তায় এত জোরে গাড়ি চালাচ্ছিলে কেন? ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখি?’

    অলোক বিনা বাক্যব্যয়ে সেটা বের করে দিল। অফিসার উঁকি মেরে দীপাবলীকে দেখল। তারপর বলল, ‘আমি তো ভেবেছিলাম কোনও ক্রিমিন্যাল ভাগছে।’

    অলোক কোনও জবাব দিল না। লোকটা একটু ভাবল। তারপর লাইসেন্স ফেরত দিয়ে বলল, ‘নর্মাল স্পিডে গাড়ি চালান, যেভাবে চালাচ্ছিলেন তাতে আপনাদের অ্যাকসিডেন্ট হয়ে যেতে পারত।’ লোকটা এগিয়ে গিয়ে বাইক চালু করে ফিরে গেল যেদিক থেকে এসেছিল।

    অলোক স্টিয়ারিং-এ হাত রেখে চোখ বন্ধ করে বসেছিল। ওইভাবেই বলল, ‘হল না। অ্যাকসিডেন্টটা তো ঘটানো গেল না। অবশ্য প্রমাণ হল, মরতে তুমি ভয় পাও।’

    ‘কে না পায়?’

    ‘যে পায় তার বাঁচার ইচ্ছে থাকে। জীবন থেকে পাওয়ার কথা ভাবে।’

    ‘নিশ্চয়ই। আমি খামোকা মরতে যাব কেন? তুমি যদি আবার ওইরকম ড্রাইভ করে তা হলে নেমে যাব।’

    ‘ডু ইউ ওয়ান্ট টু ম্যারি এগেইন?’ হঠাৎ অলোক প্রশ্ন করল।

    ‘ভাবিনি। ভাবার অবকাশ পাইনি। তা ছাড়া আমি এখনও বিবাহিত।’

    ‘তুমি তো ইচ্ছে করলেই ডিভোর্স নিতে পারো। আমি তোমাকে কথা দিয়েছি কনটেস্ট করব না। তোমার সেই বন্ধু, অভিনেতা, সেই ভদ্রলোক তো আছেনই।’

    ‘কার কথা বলছ?’

    ‘আরে যিনি আকাশ ছুঁড়ে নেমে এসে তোমার বিয়ের সাক্ষী হিসেবে সই করলেন।’

    ‘ও। এতদিন পরে তার কথা মনে পড়ল?’

    ‘শুনলাম তিনি এখন ফ্রি আছেন। কলকাতায় অভিনেতা পরিচালক হিসেবে যথেষ্ট নাম করেছেন। ওঁর প্রথম বউ এখন আলাদা থাকে।’

    ‘এত খবর তুমি জোগাড় করেছ?’

    ‘তুমি কেন কলকাতায় যাচ্ছ তা জানতে হবে না?’

    ‘কলকাতায় যাওয়ার পেছনে আমার কোনও ইচ্ছে কাজ করেনি।’

    ‘তা ঠিক।’

    ‘বাঃ। এতটা একমত হলে কী করে? তুমি জানতে আমি বদলি হব?’

    ‘জানতাম।’

    ‘তার মানে?’

    ‘আমরা কেউ কাউকে সহ্য করতে পারছি না, এ অবস্থায় ওটাই একমাত্র রাস্তা ছিল।’

    ‘আমি এইরকম একটা সন্দেহ করেছিলাম।’

    ‘কী? আমি তোমাকে বদলি করেছি? চমৎকার। আমার অত ক্ষমতা কোথায়? তা হলে তুমি কলকাতায় ফিরে গিয়ে কাউকে বিয়ে করতে চাইছ না?’

    ‘অনেক তো হল। দু’বারে যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে।’

    ‘তুমি কোনও পুরুষের সঙ্গে বাস করতে পারবে না।’

    ‘হয়তো।’

    ‘হয়তো না। এটাই সত্যি। কাউকে সুখী করার ক্ষমতা তোমার নেই।’

    ‘এসব কথা বলার সময় আর জায়গা এটা?’

    ‘আর তো কোনওদিন বলব না। বলতে পারব না।’

    ‘অলোক, তুমি কী চাইছ? এই তো সেদিন পরিষ্কার ঠান্ডা মাথায় আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথাবার্তা বললে! আবার এসব কেন?’

    ‘আমি সহ্য করতে পারছি না।’

    ‘ইটস ইয়োর প্রবলেম।’

    ‘তুমি নিষ্ঠুর।’

    ‘সেটা তুমিই তৈরি করেছ।’

    ‘না। তোমার মধ্যে একটা বরফের ছুরি লুকোনো ছিল। এইটে আমি বুঝতে পারিনি।’

    ‘বাড়িতে ফিরে চলো।’

    ‘তুমি মিথ্যুক। মিথ্যেবাদী। নিশ্চয়ই কাউকে ভালবাসতে। তাই এত সহজে এখান থেকে চলে যেতে পারছ। ইউ আর এ ডিজঅনেস্ট ওম্যান।’

    ‘বেশ তাই।’

    ‘তোমার লজ্জা করছে না?’

    ‘এতক্ষণ খারাপ লাগছিল। আর লাগছে না। লজ্জা করতে যাবে কেন?’

    অলোক হঠাৎ ইঞ্জিন চালু করল। তবে আর ঝড় তুলে নয়, স্বাভাবিক গতিতে সে গাড়িটাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে এল। দীপাবলীর বুকে প্রচণ্ড অস্বস্তি, নিশ্বাসে কষ্ট বাড়ছিল। সে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে বিছানায় উপুড় হল। কিন্তু শুলে কষ্ট আরও বাড়ে। বাথরুমে ঢুকে মুখে জল দিল। তারপর চেয়ারে শরীর এলিয়ে দিল। হঠাৎ অলোক কেন এমন শুরু করল? ভাবতে গিয়ে মাথার ভেতরটায় কেউ দুরমুশ শুরু করে দিল। উঠে দাঁড়াতে গিয়ে মাথা টলে গেল। আচমকা একটা ভয় ওকে গ্রাস করল। তার কি চরম কিছু হতে যাচ্ছে? হার্ট অ্যাটাক? সে কি মরে যাচ্ছে? কয়েক সেকেন্ড দাঁড়াতেই চোখের সামনে একটা কালো পরদা নেমে এল। সে কিছু দেখতে পাচ্ছে না। চিৎকার করতে গিয়ে দেখল কোনও শব্দ বেরোচ্ছে না। শরীরের নাগালে বিছানাটা পেয়ে গেল এটুকুই শেষপর্যন্ত বোধে এল।

    চোখ মেলল যখন তখন দিন না রাত বোঝার উপায় নেই। ঘরের জানলা গতরাত্রে খোলা হয়নি। দীপাবলী আবিষ্কার করল সে বেঁচে আছে। মাথাটা দপদপ করছে, নিশ্বাস স্বাভাবিক, বুকের অস্বস্তিটা নেই। চুপচাপ কিছুক্ষণ পড়ে থাকার পর বুঝল ঘরটাকে দেখতে পাচ্ছে। সেই কালো পরদাটা এখন উধাও। কোনওমতে নিজেকে টেনে বিছানা থেকে নামল। পা ফেলতেই মাথার ভেতরটা ঝনঝন করে উঠল। সেই অবস্থায় বাথরুমে গেল সে। একটু পরিষ্কার হয়ে ঘরের দরজা খুলে বাইরে এসে দেখল টেবিলে কাগজ চাপা আছে। অলোকের হাতের লেখা, কয়েকবার নক করেছিলাম, তুমি খোলোনি। সম্ভবত আমার সঙ্গে কথা বলতে চাও না। ট্রেন ধরতে হলে তিনটের আগে বেরুনো উচিত। আমি আসব। অলোক।’

    দীপাবলী চিরকুট রেখে দিল। এই ফ্ল্যাটে আজ তার শেষ দিন। সে ঠোঁট কামড়াল। এবং হঠাৎ কান্না এল। শূন্য ফ্ল্যাটে একা দাঁড়িয়ে কেঁদে গেল খানিক। তারপর ধীরে ধীরে বিছানায় ফিরে গেল। কান্নার সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর আবার খারাপ করতে লাগল। চুপচাপ পড়ে রইল সে।

    এগারোটা নাগাদ উঠে স্নান করল। খিদের বোধটাই নেই। অথচ সকাল থেকে একফোঁটা চা পর্যন্ত পেটে পড়েনি। জিনিসপত্র নিজের যা, তা একটু একটু করে গোছানো ছিল। গোছাবার সময় সে আবিষ্কার করেছিল তার নিজের বলতে খুব কমই রয়েছে। এতকাল যা ব্যবহার করেছে সব অলোকের দেওয়া। নিজে যা এনেছিল তা ব্যবহার করেছে কদাচিৎ। আজ যাওয়ার সময় সে অলোকের জিনিসগুলোয় হাত দেয়নি। না শাড়ি, না গয়না, না অন্যকিছু। ফলে দুটো সুটকেসেই সব ভরে গেছে।

    দুপুরে অলোক এসে গেল। সঙ্গে চাইনিজের প্যাকেট। মুখ দেখে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী হয়েছে তোমার? শরীর খারাপ?’

    ‘না, কিছু হয়নি।’

    ‘খেয়েছ কিছু?’

    ‘খিদে নেই।’

    অলোকের অনুরোধে খেতে হল। খেয়েই বমি বমি পাচ্ছিল। ইতিমধ্যে অলোক সুটকেস গুছিয়ে নিচ্ছিল। দীপাবলী দরজায় দাঁড়িয়ে বলল, তোমাকে আমার সঙ্গে কলকাতায় যেতে হবে না। আমি একাই যেতে পারব।’

    ‘তা কি হয়। কথা দিচ্ছি, আর কখনও বিরক্ত করব না। এবারটা ঘুরে আসি।’

    দীপাবলী কিছু বলল না। বলতে গেলে তর্ক করতে হবে। আর সেটা সহ্য করা সম্ভব নয়। একটু বাদে সমস্ত বাড়িতে তালা চাবি দিয়ে অলোক সুটকেসগুলো একে একে নীচে নামাল। আজ গাড়ি নয়, ট্যাক্সি ডাকা হয়েছে। দরজা খুলে পেছনের সিটে বসতে বসতে দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি এই ফ্ল্যাট ছেড়ে দেবে?’

    ‘হ্যাঁ। কী হবে আর রেখে। ফালতু।’ অলোক ড্রাইভারকে ইঙ্গিত করল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }