Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. টেলিগ্রামটা ছিঁড়ল দীপাবলী

    টেলিগ্রামটা ছিঁড়ল দীপাবলী। এর আগে কখনও তার নামে কেউ টেলিগ্রাম পাঠায়নি। কৌতূহল ছিল তাই। শমিতের নামটা দেখে সে ভ্রূ কোচকাল। শমিত লিখেছে সে আসছে। কেন আসছে, কী জন্যে, এবং কতদিন থাকবে, তার বিশদ লেখার প্রয়োজন বোধ করেনি অথবা পয়সা বাঁচিয়েছে। সে যে এখানে আছে তা একমাত্র অমলকুমার ছাড়া কাউকে জানায়নি। তা হলে শমিত কী করে ঠিকানাটা পেল! টেলিগ্রামে ওর আসার দিনও উল্লেখ করা নেই।

    দরজা বন্ধ করে ভেতরে চলে এল দীপাবলী। তিরি কাছেপিঠে নেই। বাড়ির প্রতিটি জানলা বন্ধ। বাইরে এখন সূর্যের কড়াই থেকে যেন লাভা ঝরছে। শরীরে জামাকাপড় রাখতে ইচ্ছে করে না। শাড়ি পর্যন্ত তেতে উঠেছে। বাঁচোয়া এই যে তেমন ঘাম হয় না। গলা তুলে দীপাবলী ডাকল, ‘তিরি, এক গ্লাস জল দে।’

    তিরি এল মিনিট দেড়েকের মধ্যেই। জল দিয়ে হাসল। সেটা গলায় ঢেলে দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘আজ জল তুলে রেখেছিস?’

    ‘আজ কেন তুলব? কাল তুলেছি। ঘোলা জল ছিল, ঘেঁকে ফুটিয়ে কপূর দিয়ে রেখেছি। কেন, কপূরের গন্ধ পেলে না?’

    ‘পেয়েছি। তুই এমন চমৎকার বাংলা শিখলি কোখেকে?’

    ‘শিখে গিয়েছি।’

    ‘আচ্ছা, যদি একদিন দেখিস কুয়োতে এক ফোঁটা জল উঠছে না তো কী করবি?’

    ‘তুমি ছুটি নেবে আর আমি তোমার সঙ্গে এখান থেকে চলে যাব।’ হাসল তিরি, ‘না দিদি, এই কুয়োর জল কখনও শুকোয় না।’

    ‘তা হলে ওরা নিতে এলে আপত্তি করেছিলি কেন?’

    ‘দু’জনের জল দুশো জন নিলে থাকবে! দিদি, ও তোমাকে কী বলল?’

    দীপাবলীর মনে পড়ল, হ্যাঁ, তুই অর্জুন নায়েককে দেখে আমাকে বাইরে বেরুতে মানা করছিলি কেন? ব্যাপারটা কী?’

    মাথা নাড়ল তিরি, ‘আমি ভুলে গিয়েছিলাম তুমি মেমসাহেব।’

    ‘তার মানে?’

    ‘মেমসাহেব বলে ও তোমাকে কিছু বলল না।’

    ‘খুলে বল তো, হেঁয়ালি করিসনি।’

    ‘আগে পাশের যত গ্রাম আছে ভাল মেয়ে দেখলেই ও কাজ দেবার নাম করে বদমায়েশি করে। সবাই জানে কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারে না।’

    দীপাবলীর চোয়াল শক্ত হল। অর্জুন নায়েকের কিলবিলে হাসিটা মনে পড়ে গেল। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোকে কিছু বলেছিল?’

    ‘সেইটাই তো আসল ব্যাপার।’ মাথা নাড়ল তিরি, ‘দাঁড়াও, আসছি রান্নাঘর থেকে।’

    দীপাবলী হতাশ হল। সে খাটে শরীর এলিয়ে দিল। মেয়েটাকে কোনও প্রশ্ন করলে সরাসরি জবাব পাওয়া যায় না। ওয়ার্কিং গার্লস হস্টেলে বনানীদির স্বভাবের কিছুটা পেয়েছে ও। বিকেলে বনানীদি হন্তদন্ত হয়ে ঘরে এসে বললেন, ‘উঃ, আজ যা কাণ্ড হয়েছে তোকে কী বলব!’ প্রথমদিকে দীপাবলী ব্যস্ত গলায় জিজ্ঞাসা করত, ‘কী হয়েছে?’

    ‘আর বলিস না। সকালে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর দেখি মাথা ধরেছে। চা খেলাম তবু কমল না। খবরের কাগজ পড়লাম। সুজাতা বলল মাথা ধরার ট্যাবলেট খেতে। আমি আবার ওসব খেতে পারি না। সাততাড়াতাড়ি স্নান করে খেয়েদেয়ে স্কুলে গেলাম। গিয়ে শুনি আমাদের এক কলিগ্ স্বপ্নার কাল রাত্রে বাচ্চা হয়েছে। খুব শখ ছিল ছেলের, হল মেয়ে। ওর কথা ভেবে মন খারাপ হয়ে গেল। তবে স্বপ্না এত রোগা যে ভালয় ভালয় হয়েছে এই ঢের।’

    ‘কী কাণ্ড হয়েছে বলছিলেন না?’

    ‘হ্যাঁ বলছি৷ দুপুরে হেডমিস্ট্রেসের সঙ্গে ঝগড়া হয়ে গেল। আমাদের স্কুলে আবার মেটার্নিটি লিভ নেই। পুজোর ছুটি গরমের ছুটি তার ওপর নাকি মেটার্নিটি লিভ দেবেন না। বললেন, এমনভাবে প্ল্যান করুন যেন ছুটির সময় বাচ্চা হয়। বোঝ!’

    দীপাবলী হেসে ফেলল, ‘তারপর?’

    ‘তুই হাসছিস? কীরকম কাণ্ডজ্ঞান দ্যাখ! ছুটির পর ভাবলাম আমার এক মাসতুতো বোনের বিয়ে হয়েছে গড়পাড়ে, ঘুরে আসব। গেলাম। ও তো খুব খুশি। ওর বরের নাকি নিউ মার্কেটে দোকান আছে। যাবি একদিন ওখানে?’

    ‘যেতে আপত্তি কী! কিন্তু কাণ্ডটা!’

    ‘হ্যাঁ, তা ওখানেই বোনের ভাশুরের সঙ্গে আলাপ হল। তার বউ মারা গিয়েছে বিয়ের পরের বছর। মাথায় বিশাল টাক। পঁয়তাল্লিশ বছর বয়স। পেটের গোলমালে ভোগে। অনেক খরচ করেছে, কমেনি। তা আমি বললাম গ্রে স্ট্রিটে একজন হোমিওপ্যাথ আছেন আমাদের মণিকার পেটের অসুখ সারিয়েছিলেন। তাই শুনে এমন ধরল যে ওকে নিয়ে যেতে হল সেই ডাক্তারের কাছে। আমি তো মণিকার সঙ্গে কয়েকবার গিয়েছিলাম। ওষুধটষুধ নিয়ে পৌঁছে দিয়ে গেল আমাকে হস্টেলে।’

    ‘এইটে তোমার কাণ্ড?’

    ‘দুর! তা কেন হবে?’

    ‘তা হলে?’

    ‘ভদ্রলোকের স্ত্রী, যিনি মারা গিয়েছেন, তিনি নাকি আমাদের হেডমিস্ট্রেসের বোন, ব্যাপারটা ভাব। সেই বোন যদি বেঁচে থাকত তা হলে মানুষটার অবস্থা কী হত?’

    দীপাবলী কী উত্তর দেবে বুঝতে পারেনি। বনানীদি যদি শ্যামবাজারের কথা বলতে আসতেন তা হলে বালিগঞ্জ থেকে শুরু করতেন। এবং যে-কোনও বিষয়েই কথা বলতে গেলে একবার না-একবার হেডমিস্ট্রেস চলে আসতেনই।

    খাটে শুয়ে চোখ বন্ধ করে দীপাবলী ডাকল, ‘তিরি!’

    তিরি দূর থেকে সাড়া দিল। তারপর তার পায়ের আওয়াজ ঘরে এল। দীপাবলী বলল, ‘শোন, তোকে আমি যখন যা প্রশ্ন করব তখনই তার উত্তর দিবি। ফেনাবি না।’

    ‘আমি তো উত্তর দিই!’ সরল গলায় বলল তিরি।

    ‘তোকে অর্জুন নায়েক কী বলেছিল?’

    ‘ও, ওই কথা! না, শুনলে তুমি রাগ করবে।’

    ‘আবার?’

    ‘মানে, আমার যখন চোদ্দো বছর বয়স তখন চার-চারটে বিয়ের সম্বন্ধ এসেছিল। নেখালি থেকে না।যেসব গ্রামে বৃষ্টি হয়, চাষবাস করা যায়, সেইসব গ্রাম থেকে। বাবার তো পয়সা ছিল না যে বিয়ে দেবে। তা সবাই বলল অর্জুনবাবুকে গিয়ে ধরো। একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। বাবা গেল। অর্জুনবাবু বলল, আগে তোমার মেয়েকে চোখে দেখি তারপর বিয়ের খরচ দেব। তাই শুনে মা কিছুতেই রাজি নয়। এ-গ্রামের মেয়েদের চেহারা ভাল না বলে ডাক পড়ে না। কিন্তু অন্য গ্রামের মেয়েরা নাকি হপ্তায় একদিন অর্জুনের কাছে কাজের নামে গিয়ে থাকে। একজনের পেটে বাচ্চা এসে গিয়েছিল, অর্জুনবাবু নেখালির একটা ছেলেকে টাকা দিয়ে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল। মেয়েটা নেখালিতে আসার পরের বাতেই গলায় দড়ি দেয়। তাই মা আমাকে পাঠাল না।

    ‘তুই ধান ভানতে শিবের গীত গাইছিস কেন?’

    ‘মানে?’

    ‘তারপর কী হয়েছিল?’

    ‘মা পাঠাল না। আমার বিয়েও হল না। এক বছর পরে যখন বাবা-মা সবাই কাজে গিয়েছে, ওই যে তেঁতুলতলার রাস্তাটা তৈরি হচ্ছিল, তখন অর্জনবাবু লোক পাঠান আমাদের ঘরে। সেই লোক জিজ্ঞাসা করল আমি ওর ওখানে কাজ করতে যেতে চাই কিনা। আমি না বললাম। ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে নেখালির মানুষদের কাজে নেওয়া বন্ধ করে দিল অর্জনবাবু। সবাই আমার ওপর খেপে গেল। গ্রামসুদ্ধ লোক বাবাকে গিয়ে বলল, তোমার মেয়েকে কাজে পাঠাও, না হলে আমরা না খেয়ে মরব। এইসময় বংশীদাদা এসে বাবাকে বলল এই কাজটার কথা। মা বলল, চলে যা নইলে তোকে বাঁচাতে পারব না। আমি চলে এলাম। তাই গ্রামের লোক খেপে গেল। বেশ কিছুদিন আমি এখানে চাকরি করতাম আর বংশীদার বাড়িতে থাকতাম। তারপর আগের সাহেব আসার পর—।’ মুখ নামাল তিরি।

    ‘অর্জুন জানে যে তুই এখানে কাজ করিস।’

    ‘সব জানে। কোন খবর ওর কাছে যায় না বলো!’

    ‘ঠিক আছে, তুই যা। আমাকে খাবার দে।’

    চোখের ওপর হাত রেখে কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে রইল দীপাবলী। এরকম চরিত্রের কথা কিছু গল্প-উপন্যাসে পড়েছে সে। লোকটার স্বভাবে একটা ডোন্টকেয়ার ভাব আছে, কিন্তু প্রথম দিনের আলাপে কখনও অসম্মান করেনি তাকে। এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন, শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে কাজে লাগানো ইত্যাদি কিছু দায়িত্ব চাকরির সূত্রে তার ওপর অর্পিত। এ-গ্রামে থানা নেই। থানার দারোগার সঙ্গে আলাপ হয়েছে, ব্রিটিশ আমলের মানুষ। বছর দুয়েকের মধ্যে অবসর নেবেন। কিন্তু লোকটিকে মনে হয়েছে মেরুদণ্ডহীন এবং পাশ কাটানো। এস ডি ও কিংবা ডি এমের সঙ্গে যার সখ্যতা তাকে তো দারোগা দেবতাজ্ঞানে পুজো করবেন। অর্জুন নায়েক যদি মেয়েদের নিয়ে সুখী হতে চান তা হলে সে কিছুই করতে পারে না যতক্ষণ না ওইসব মেয়ে বা তাদের পরিবার তার কাছে নালিশ করছে। কিন্তু এস ডি ও শেষপর্যন্ত এলেন না। সতীশবাবুর ধারণাই সত্যি হল। ভদ্রলোক খবর পাঠালেন অর্জুন নায়েকের মাধ্যমে যেটা দীপাবলী মোটেই পছন্দ করছে না। এখন মনে হচ্ছে উনি বাহানা দিয়েছেন, আসার অভিপ্রায় তাঁর মোটেই ছিল না। এক্ষেত্রে নেখালির মানুষজনের জন্যে আপাতত কিছুই করা যাচ্ছে না।

    এমন সময় বাইরে সাইকেলের ঘণ্টা বাজল। বন্ধ অফিসঘরে দরজায় শব্দ হল। দীপাবলী গলা তুলল, ‘তিরি, দ্যাখ তো কে এসেছে?’

    ‘যাচ্ছি।’ তিরি রান্নাঘর থেকে সাড়া দিল।

    গরম বাড়ছে। যেই আসুক দায়ে না পড়লে এই রোদে বের হবে না। ঈশ্বর নামক শক্তিমানের খামখেয়ালিপনার শেষ নেই। আষাঢ় থেকে আশ্বিন পর্যন্ত ক্রমাগত বৃষ্টি আর তিস্তা-করলার বুক ছাপানো জলের ঢালে জলপাইগুড়ির মানুষ বিব্রত হয় যেখানে—সেখানে এই মাইলের পর মাইল জমি জলের অভাবে বন্ধ্যা হয়ে থাকে। যে কলকাতা শহরে বৃষ্টির দরকার নেই সেখানে একদিন জল পড়লেই লোকে হাঁটুর ওপর কাপড় তুলে হাঁটতে বাধ্য হয়। সমস্ত শরীর চিড়বিড় করছে গরমে। শাড়ি খুলে শুতে পারলে ভাল হত। খাওয়াদাওয়ার পর ঘণ্টা তিনেক সেই সুযোেগ মেলে। তখন শোওয়ার ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয় সে। সংস্কার এমন জিনিস যা কাজের লোকের সামনেও নিজেকে সহজ হতে দিতে পারে না।

    তিরি ঘরে এল একটা পিয়ন বুক হাতে, তার মধ্যে সরকারি বিধি। উঠে বসে চিঠিটা নিল সে। তিরি কলম এনে দিতে সই করতেই ওটা ফেরত নিয়ে গেল। খামের মুখ ছিড়ল দীপাবলী। ডি এমের সরকারি নির্দেশ। আগামীকাল সকাল দশটায় সমস্ত সাব ডিভিশন এবং ব্লকের অফিসারদের সার্কিট হাউসে উপস্থিত থাকতে হবে। মাননীয় কৃষিমন্ত্রী আলোচনা করতে চান।

    দীপাবলীর মনে হল এটা একটা বড় সুযোগ। তার পক্ষে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা বা কাজের ব্যাপারে অভিযোগ জানানো ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার শামিল। উপরওয়ালা, তস্য উপরওয়ালার অনুমতি চাই। এরকম একটা আলোচনাসভায় মন্ত্রী যদি কিছু জানতে চান তা হলে সরাসরি বলে ফেললে কেউ কিছু মনে করতে পারবেন না। সতীশবাবুকে বলতে হবে সমস্ত পয়েন্ট সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট তৈরি করতে।

    সতীশবাবুর ওপর দায়িত্ব দিয়ে সকাল সাতটার বাস ধরল দীপাবলী। একটাই বাস দিনে দু’বার যায় এবং ফেরে। সকালের বাসে ভিড় ছাদেও থিকথিক করে। তাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে কনডাক্টর ব্যস্ত হয়ে ভিড় হঠিয়ে জায়গা করে দিল বসার। দীপাবলী জানত না এখানে আসার এত অল্প দিনের মধ্যেই এত লোক চিনে গিয়েছে। বাসে বসে আর একটা অভিজ্ঞতা হল। চেঁচামেচি বকরবকর যা হবার তা হচ্ছে পেছন দিকে। তার সামনে যেসব দেহাতি এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত বাঙালি বসে তারা রয়েছে বেশ গম্ভীর মুখে। যেন কথা না বলে তারা তাকে সম্মান দেখাচ্ছে। এর মধ্যে বাসের জানলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গরম হাওয়ার জন্য। চুপচাপ বসে এল দীপাবলী। নামার আগে কনডাক্টরকে ডাকল সে, ‘এই যে ভাই, টিকিটের দাম নাও।’

    লোকটার বয়স বেশি নয়, এক হাত জিভ বের করে মাথা নাড়ল।

    ‘কেন?’ দীপাবলী বেশ বিরক্ত হল।

    ‘না।মেমসাহেব, পারব না, আমার চাকরি চলে যাবে।’

    ‘তা হলে তো তোমাদের বাসে আমি উঠতেই পারব না।’

    ‘এ কী কথা বলছেন! আপনি হলেন গিয়ে আমাদের—না না।’ প্রায় পালিয়েই গেল সে। দীপাবলী বুঝল কোনও লাভ হবে না। সে মুখে যতই বলুক ভাড়া না নিলে বাসে উঠবে না কিন্তু ভাল করেই জানে বাসে না উঠে কোনও উপায় নেই। স্ট্যান্ড থেকে রিকশা নিল সে। দশটা বাজতে পনেরো মিনিট বাকি। এতবার লোক ওঠা নামা করছে যে দেড়ঘণ্টার পথ প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা লাগিয়ে দিল বাস। সে অবশ্য এস ডি ও-র অফিসে যেতে পারত। মিনিট চল্লিশেকের মধ্যেই পৌঁছোননা যেত সেখানে। এস ডি ও-র জিপে চড়ে সোজা শহরে। কিন্তু গতকালের ঘটনার পর ব্যাপারটা ভাবতেই ভাল লাগেনি।

    সার্কিট হাউসের সামনে পৌঁছে মোটামুটি ভিড় দেখতে পেল। আদেশ মান্য করে সবাই জমায়েত হয়ে মন্ত্রীর অপেক্ষা করছেন। ডি এম নেই। জানা গেল তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে আসবেন। অরবিন্দ সেন এগিয়ে এলেন, নমস্কার মিসেস ব্যানার্জি, কেমন আছেন?’ দীপাবলী একটু আড়ষ্ট হল। সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে হলে নিজের ঠিকুজি জানিয়ে দিতে হয়। ইচ্ছা না থাকলেও দীপাকে নিয়ম মানতে হয়েছে। পরলোকগত অতুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর পরিচয় তাকে বহন করতেই হয় এই কারণে বাধ্য হয়ে। সে মাথা নাড়ল, ‘ভাল। আপনি?’

    ‘আর বলবেন না। খাচ্ছি দাচ্ছি ঘুমোতে পারছি না। যা গরম?’

    ‘আপনাদের ওদিকে প্রবলেম কেমন?’

    ‘নাথিং। কিছু নেই। আপনার হাতে ওটা কী?’

    ‘এই কিছু কাগজপত্র। মন্ত্রীমশাই যদি জিজ্ঞাসা করেন তা হলে বলতে হবে তো?’

    ‘তা হলে আপনি খুব সিরিয়াসলি কাজকর্ম করছেন বলুন।’

    দীপাবলী হাসল। যেন কাজকর্ম করা একটা অন্যায় ব্যাপার এমনই মনে হল ওর এঁর কথা শুনে। সে দেখল তার এস ডি ও আর এক ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলছেন দূরে দাঁড়িয়ে। যাঁর সঙ্গে উনি কথা বলছেন তার নজর এদিকেই। দীপাবলীকে দুচোখে গিলছেন তিনি। হঠাৎ এস ডি ও এদিকে তাকালেন। তারপর ওঁরা এগিয়ে এলেন।

    ‘সরি মিসেস ব্যানার্জি, কাল শরীর এমন খারাপ হয়ে পড়ল যে যেতে পারিনি কিন্তু আমি আপনাকে খবর পাঠিয়েছিলাম।’ এস ডি ও বললেন।

    ‘হ্যাঁ। আপনি এখন কেমন আছেন?’

    ‘ভাল না। মন্ত্রী না এলে আজ বের হতাম না।’ বলেই যেন মনে পড়ল, ‘তা আপনি আমার ওখানেই তো আসতে পারতেন, আমি আসছিলাম—!’

    ‘বুঝতে পারিনি আসবেন কিনা, অসুস্থ শুনলাম?’

    ‘আপনার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই। ইনি সুধীর গুপ্তভায়া, সাউথ ডিস্ট্রিক্টের এস ডি ও। আমারই ব্যাচমেট।’

    সঙ্গে সঙ্গে ভদ্রলোক দু’হাত জোড় করে নমস্কার করলেন, ‘আপনার কথা আগেই শুনেছিলাম। আপনার মতো সুন্দরী মহিলা এই চাকরিতে আছেন ভাবাই যায় না!’

    ‘কেন? চাকরি বুঝি অসুন্দরী মহিলাদের জন্যে?’

    ‘না না, সুন্দরীরা সাধারণত পটের বিবি হন। এত খাটাখাটুনির চাকরি তাদের সহ্য হয় না। আমি এটাই মিন করতে চেয়েছি।’

    দীপাবলী হাসল, ‘তা হলে বলব আপনার দেখার পরিধি বেশি বড় নয়।’

    এইসময় তিনটে গাড়ি ছুটে এল। সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। এস ডি ও-রা এগিয়ে গেলেন ব্যস্ত হয়ে। গাড়ি থেকে মন্ত্রী, ডি এম নামলেন। দীপাবলী দেখল মন্ত্রীর বয়স হয়েছে কিন্তু খাদির পাঞ্জাবি ও ধুতিতে বেশ সৌম্য দেখাচ্ছে তাকে। পুলিশের সুপারও ছিলেন পেছনের জিপে। অফিসাররা সবাই হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন— তাঁদের সারির মধ্যে দিয়ে নমস্কার করতে করতে মন্ত্রীমশাই ডি এম-কে নিয়ে সার্কিট হাউসে ঢুকে গেলেন বিনা বাক্যব্যয়ে।

    মিনিট চারেকের মধ্যে মিটিং আরম্ভ হল। মন্ত্রী এবং ডি এম বসেছেন ঘরে একদিকে, এপাশে অফিসাররা। দীপাবলী দ্বিতীয় সারির এক কোণে বসে শুনছিল। ডি এম ভূমিকা করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাকে থামিয়ে দিয়ে মন্ত্রীমশাই বললেন, না না, কথা বাড়ানোর দরকার নেই। আপনাদের সোজাসুজি কিছু কথা বলি। এই জেলায় খরা যেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করেছে। বৃষ্টি হয় না তাই চাষবাসও হয় না। কৃষকরা খুব কষ্টে বেঁচে আছেন। আমরা অবশ্য তাদের নানারকম সাহায্য করি তা আপনারা জানেন। কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যাতে এই এলাকায় চাষবাস হয়। এ-ব্যাপারে আপনাদের আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। আর চাষ ছাড়া ওদের হাতে শ্রমের বিনিময়ে যাতে কিছু পয়সা আসে, নিয়মিত রোজগার করে যেতে পারে, তার জন্য আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। মনে রাখবেন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু বারংবার বলেছেন কৃষকরাই হল ভারতবর্ষের মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ডকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের সবরকম চেষ্টা করা উচিত। মন্ত্রী হাত বাড়িয়ে গ্লাস তুলে নিয়ে দুটো চুমুক দিলেন, ‘জল। এই জেলার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল জলের অভাব। ঈশ্বর এই জেলাকে মেরে রেখেছেন কোনও বড় নদী না দিয়ে। জল ছাড়া চাষবাস করা সম্ভব নয়। আমাদের ভাবতে হবে কীভাবে শুধু বছরের দু-তিন মাস নয়, বারো মাস ফসল ফলানোর ব্যবস্থা এখানে করা যায়। বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে অনেকরকম গবেষণা শুরু করে দিয়েছেন। দুশো বছর ধরে ইংরেজরা শুধু ভারতবর্ষের গরিব কৃষকদের শোষণ করেছে কিন্তু তাদের উন্নতির কোনও চেষ্টাই করেনি। আমরা জনগণের নির্বাচিত সরকার, তাই হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। আমাদের হাত হল আপনারা। আপনারাই পারেন গাঁধীজি জওহরলালের স্বপ্নের ভারতবর্ষকে বাস্তবে নিয়ে আসতে। বন্দেমাতরম!’ মন্ত্রী বসে পড়লেন। পকেট থেকে সাদা রুমাল বের করে কপাল গলা মুছে ডি এমের দিকে হাসিহাসি মুখে তাকালেন।

    ডি এম নিচু গলায় তাকে কিছু বলতে তিনি বাঁ হাত উলটে সম্মতি দিলেন। ডি এম উঠে দাঁড়ালেন, ইংরেজিতে বললেন, ‘মাননীয় মন্ত্রীমহাশয় অত্যন্ত ব্যস্ততা সত্ত্বেও এখানে এসে আমাদের যা বললেন তা নিশ্চয়ই স্মরণে রাখব। তবে আপনারা যারা এই জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে আছেন তাঁরা যদি কোনও সমস্যার কথা বলতে চান তা লিখিতভাবে আমার কাছে পাঠালে আমি নিশ্চয়ই কলকাতায় মাননীয় মন্ত্রী মহাশয়ের দপ্তরে পাঠিয়ে দেব।’

    হঠাৎ মন্ত্রী বলে উঠলেন, ‘স্পেশ্যাল কিছু সমস্যা আছে নাকি?’

    অফিসাররা সবাই এ ওর মুখের দিকে তাকাতে লাগলেন। মন্ত্রী বললেন, ‘চিঠি চাপাটিতে সময় নষ্ট করে বলে ফেলুন এখানে। আপনি বলুন ভাই?’

    দীপাবলী দেখল সামনের সারিতে বসা তার এস ভি ও-র দিকে ইঙ্গিত করছেন মন্ত্রী। তিনি খুব নার্ভাস ভঙ্গিতে উঠে দাড়ালেন, ‘স্যার, অ্যাজ সাচ তেমন কিছু প্রবলেম নেই, শুধু গরম ছাড়া।’

    সবাই হো হো করে হেসে উঠলেন। মন্ত্রীমশাইও সেই হাসিতে যোগ দিয়ে বললেন, ‘এ-ব্যাপারে সরকারের তরফে কিছু করার নেই। ঈশ্বরের ওপর আমাদের কোনও কন্ট্রোল নেই যে তাঁকে কথা শুনতে বাধ্য করব। সিট ডাউন প্লিজ।’ এস ডি ও বসে পড়লেন।

    ডি এম তখনও দাঁড়িয়ে ছিলেন, ‘তা হলে আমরা এখানেই আজকের আলোচনা শেষ করছি। মাননীয় মন্ত্রী মহাশয়কে জেলার পক্ষ থেকে এখানে আসার জন্যে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

    অনেকক্ষণ থেকে উসখুস করছিল দীপাবলী। তার এস ডি ও-র এইরকম হাস্যকর মন্তব্য শোনার পর সে ঠিক করল উঠে দাঁড়াবে। ডি এম কথা বলতে শুরু করামাত্র সে তার হাত উঁচুতে তুলেছিল। কথা শেষ করে ডি এম সেটা দেখতে পেলেন। আলোচনা সভা শেষ হয়েছে ভেবে সবাই উঠে দাঁড়াচ্ছিল, ডি এস দু’হাত শূন্যে তুলে সবাইকে বসতে ইঙ্গিত করলেন। দীপাবলী দেখল সবাই এখন তার দিকে কৌতুহলী চোখে তাকাচ্ছে। ডি এম বললেন, ‘মনে হচ্ছে আপনি কিছু বলতে চাইছেন?’

    দীপাবলী উঠে দাঁড়াল, ‘হ্যাঁ।’

    ‘আপনি কোন ব্লকে আছেন?’

    দীপাবলী উত্তর দিল। মন্ত্রী কিছু বললেন ডি এমকে। তিনি মাথা ঝুঁকিয়ে সেটা শুনে হাসলেন। তারপর ইঙ্গিত করলেন দীপাবলীকে বলতে।

    দীপাবলী হাতের ফাইলটা খুলল। তারপর বিনীত গলায় বলল, ‘মাননীয় মন্ত্রীমহাশয়, মাননীয় ডি এম। আমি খুব অল্প দিন হল এই জেলায় বদলি হয়ে এসেছি। যে-এলাকায় আমাকে কাজ করতে পাঠানো হয়েছে তার অবস্থা দেখে আমি শিউরে উঠেছি। স্বাধীনতার পর পনেরো বছর হতে চলল আমরা শাসনে এসেছি কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি এখানকার মানুষদের বেঁচে থাকার ন্যনতম সুযোগসুবিধে আমরা দিতে পারিনি।’

    হঠাৎ একটা চাপা গুঞ্জন উঠল। দীপাবলী অস্বস্তিতে পড়ল। মন্ত্রীমহাশয় হাত তুলে ইঙ্গিত করলেন সবাইকে চুপ করতে। দীপাবলী একটু নার্ভাস হয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ জেদের বশে সে যা করতে যাচ্ছে তার পরিণতি আন্দাজ করতে পারছিল না। তবু এখন পিছিয়ে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। সে বলল, ‘আমার এলাকায় বৃষ্টি হয় না বললেই ঠিক বলা হয়। বছরের একটা সময় জল এত নীচে চলে যায় যে কুয়ো নতুন করে খোঁড়াতে হয়। আমি নেখালি নামের একটি গ্রামের ছবি মাননীয় মন্ত্রী মহাশয়ের সামনে তুলে ধরতে চাই। নেখালি গ্রামে বাহান্নটি পরিবার কোনওমতে টিকে আছে। মাটি পাথর হয়ে গিয়েছে তাই চাষ হয় না। কোনওরকম গাছপালা নেই। গ্রামে কোনও কুয়ো বা নলকূপ নেই। কয়েক ক্রোশ দূর থেকে জল নিয়ে আসে তৃষ্ণা মেটানোর জন্যে। স্নানের কথা বছরে এক-দু’দিনের বেশি ভাবতে পারে না। মাঝে মাঝে দিনমজুরি করে এরা যে পয়সা পায় তাই দিয়ে কোনওমতে বেঁচে থাকে। কেন বেঁচে আছে তা এরা নিজেরাই জানে না। নেখালির প্রায় প্রতিটি মানুষ কমবেশি অসুস্থতায় ভুগছে। তবে চর্মবোগ ওদের মধ্যে ব্যাপক। আমি এদের দিকে তাকালে কোন ভারতবর্ষকে দেখতে পাব? আমরা এদের জন্য আজ পর্যন্ত কী করেছি?’

    দীপাবলী থামতেই মন্ত্রীমশাই বললেন, ‘আপনি কি সরকারকে অভিযুক্ত করছেন?’

    সমস্ত ঘর মুহূর্তেই নিঃশব্দ হয়ে গেল। দীপাবলী মাথা নাড়ল, ‘না, আমি একজন কর্মচারী হিসেবে সরকারের অঙ্গ। সত্যিকারের ছবি তুলে ধরছি।’

    ‘কিন্তু আমি আপনার গলায় কমিউনিস্টদের সুর পাচ্ছি।’

    দীপাবলী থমকে গেল। তারপর বলল, ‘মাননীয় মন্ত্রীমহাশয়, আমি রাজনীতির ধারে কাছে থাকি না। যা সত্যি তাই বলছি।’

    এবার ডি এম, এস ডি ওর দিকে তাকালেন, ‘আপনার বক্তব্য কী?’

    এস ডি ও বললেন, ‘মিসেস ব্যানার্জি আমাকে অবশ্য নেখালির কথা বলেছিলেন। সমস্যা নিশ্চয়ই আছে কিন্তু আমার মনে হয়েছিল মহিলারা একটু বেশি ভাবপ্রবণ হন।

    ‘দ্যাটস রাইট।’ ডি এম বললেন, ‘মিসেস ব্যানার্জি, আপনি যাদের কথা বললেন তাদের মতো অনেক মানুষ ভারতবর্ষে ছড়িয়ে আছে। মাননীয় মন্ত্রীমহাশয় নিশ্চয়ই তা জানেন। তবে সরকার কিছুই করছে না একথা আমরা বলতে চাই না।’

    এবার মন্ত্রীমহাশয় উঠে দাঁড়ালেন, ‘একটু আগে যখন জানতে চেয়েছিলাম আপনাদের কোনও সমস্যা আছে নাকি তখন সবাই চুপ করে ছিলেন। একজন শুধু বলেছিলেন তাঁর খুব গরম লাগে। কিন্তু এখন উনি যে-গ্রামের ছবি তুলে ধরলেন তা যদি সত্যি হয় তা হলে বলতে হবে এ-জেলায় সরকারি কাজকর্ম ঠিকঠাক হচ্ছে না। রাজা কান দিয়ে দ্যাখে। আমাদের কান হলেন আপনারা। যা হোক, ঠিক ছিল আমি এখান থেকে কলকাতায় ফিরে যাব। কিন্তু আমি এই ইয়ং লেডির বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে চাই। ওই গ্রামটি এখান থেকে কতদূর?’

    ডি এম, এস ডি ওর দিকে তাকালেন। এস ডি ও দীপাবলীর দিকে। দীপাবলী বলল, ‘গাড়িতে যাতায়াতে ঘণ্টা তিনেকের বেশি লাগা উচিত নয়। অবশ্য রাস্তা সব জায়গায় খুব ভাল নয়।’

    ঘড়ি দেখলেন মন্ত্রী, ‘চলন, আর দেরি করে লাভ নেই।’ সভা ভাঙল। সবাই গুনগুন করতে লাগলেন, আগে জানলে তাঁরাও নিজেদের এলাকার সমস্যার কথা বলতে পারতেন। আফশোস এখন সবার মুখে।

    দুটো জিপ রওনা হল। মন্ত্রী, ডি এম ও এবং এস ডি ও প্রথম জিপটাতে, দ্বিতীয়টাতে দীপাবলী এবং পুলিশের লোকজন। মন্ত্রীর পি এ প্রথম জিপে উঠলেন। শহর ছাড়িয়ে জিপ ছুটল। দীপাবলীর ভাল লাগছিল। বৃদ্ধ মন্ত্রী যে এভাবে নিজের চোখে নেখালি দেখতে যেতে চাইবেন তা সে অনুমান করেনি। যেভাবে সাজানো কথার মিটিং চলছিল সেই পরিপ্রেক্ষিতে ভাবা যায় না। কিন্তু একটা কথা তার মনে খচখচ করছিল। মন্ত্রীমশাই তার গলায় কমিউনিস্টদের সুর পেয়েছেন। ভবিষ্যতে এর ফল মারাত্মক হতে পারে। নিপীড়িত মানুষের কথা অন্যের মুখে শুনলে এঁরা কেন কমিউনিজম আবিষ্কার করেন তা এঁরাই জানেন। ধুলো উড়িয়ে জিপ ছুটছিল চাঁদিফাটা রোদূরে। মুখের চামড়া গরম হাওয়ার হলকায় জ্বলছে। আঁচলে মুখ ঢেকেও কষ্ট কমানো যাচ্ছে না।

    সোওয়া ঘণ্টা নাগাদ জিপ থেমে গেল। রাস্তাটা দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে। মন্ত্রীর পি এ দৌড়ে সামনের জিপ থেকে চলে এলেন, ‘মিনিস্টার আপনাকে সামনের জিপে যেতে বলছেন।’;দীপাবলী চটপট নেমে পড়ল। রাস্তাটুকু পার হতে মনে হল পায়ে ফোসকা পড়ে যাবে। জিপে উঠতেই মন্ত্রী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কোথায় হে নেখালি?’

    ‘সোজা যেতে হবে।’

    এবার এস ডি ও বললেন, ‘আমার অফিস হয়ে যদি যাই—!’

    ‘আপনার অফিস কোনদিকে?’

    ‘ডানদিকে?’

    ‘নেখালি তো উলটো পথ হয়ে যাবে। আপনার অফিসে গিয়ে টেবিল চেয়ার দেখতে আমি এসেছি নাকি?’

    জিপ সোজা পথ ধরল। ডি এম বললেন, ‘সময়টা ভুল বাছা হয়েছে স্যার। এখন যাকে বলে স্কর্চিং ভোরভোর বা বিকেলে এলে দেখার সুবিধে হত।’

    ‘ঠিক কথা। ব্লক অফিস ওখান থেকে কতদূর?’

    ‘কাছেই স্যার।’ দীপাবলী জবাব দিল।

    ‘তা হলে ব্লকেই যাই আগে। চারটে নাগাদ নেখালি দেখে ফিরে যাব।’

    মন্ত্রী কথাগুলো বলমাত্র এস ডি ও জিপের আওয়াজের আড়াল খুঁজে দীপাবলীকে বললেন, ‘আপনার ওখানে অ্যারেঞ্জমেন্ট কেমন? ফ্রিজ আছে?’

    ‘ফ্রিজ? ওখানে তো ইলেকট্রিসিটি যায়নি।’

    ‘মাই গড! তা হলে মন্ত্রীকে খাওয়াবেন কী?’

    ‘সেটা ওঁকে বলুন।’

    এবার মন্ত্রীর পাশে বসা ডি এমের দিকে তাকিয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে লাগলেন, এস ডি ও। সেটা ডি এম বোঝার আগে মন্ত্রী দেখে ফেললেন, ‘কী হয়েছে? কিছু বলছেন?’

    তো তো করলেন এস ডি ও ‘স্যার, ব্লক অফিসে আপনাদের জন্যে ভাল অ্যারেঞ্জমেন্ট করা সম্ভব নয়। মানে উইদাউট নোটিশ আর কী!’

    ডি এম বললেন, ‘দ্যাটস রাইট।’

    এস ডি ও সাহস পেলেন, ‘বলছিলাম কী, আপনি যদি আমার ওখানে যান, ওখান থেকে বেশি সময় লাগবে না!’

    ‘আপনি নেখালি গিয়েছেন?’ মন্ত্রী জিজ্ঞাসা করলেন।

    ‘না, মানে, স্যার, আমি তো নতুন এসেছি।’

    ‘উনি আপনাকে রিপোর্ট করার পরেও যাওয়ার সময় পাননি?’

    স্যার, আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম।’

    ততক্ষণে ব্লক অফিস দেখা যাচ্ছে। দীপাবলী বলল, ‘ওই যে আমার অফিস।’

    মন্ত্রী বললেন, ‘অনেকগুলো ঘর আছে দেখছি, চলো, ওখানেই চলো।’

    অতএব জিপদুটো থামল। অফিসঘর বন্ধ। সতীশবাবুরা ঠিক দশটাতেই আজ চলে গিয়েছেন। তিনি দরজা খুলে দিতেই সবাই যেন প্রাণ বাঁচাতে ভেতরে ঢুকে পড়ল। মন্ত্রীকে নিয়ে দীপাবলী নিজের ঘরে চলে এল, সঙ্গে ডি এম।

    ‘অফিসে লোকজন কই হে?’

    ‘স্যার, এখানে গরমের জন্যে মর্নিং আর আফটারনুন অফিস হয়।

    চেয়ারে বসে মন্ত্রীমশাই বললেন, ‘জল খাওয়াও।’

    দীপাবলী ছুটে ভেতরে চলে গেল। তিরিকে নির্দেশ দিল, প্রথমে জল, পরে চা দেবার জন্যে। নির্দেশ দিয়েই সে আবার দৌড়ে বাইরে চলে এসেছিল। মন্ত্রীমশাই তখন ডি এমের সঙ্গে গল্প করছেন। তাঁর ধারণা ছিল সরকারি কাজে মহিলারা শুধু শোভাই বাড়ান কিন্তু এই মেয়েটিকে দেখে তাঁর ধারণা পালটাচ্ছে।

    প্রায় এক কুঁজো জল শেষ হয়ে গেল। এস ডি ও বললেন, ‘শরবত করে দিন, এই গরমে কেউ চা খাবেন না।’

    তিরি দাঁড়িয়েছিল দরজায়, বলে উঠল, ‘যা জল ছিল তা উনুনে বসিয়ে দিয়েছি চায়ের জন্যে, গরম জলে শরবত হবে কী করে?’

    দীপাবলী বিরক্ত এবং রাগত ভঙ্গিতে বলল, ‘তোকে এখানে কথা বলতে কে বলেছে। ভেতরে গিয়ে কুয়ো থেকে জল তোল।’

    ‘এখন কুয়েতে জল নেই।’

    ‘মানে?’ দীপাবলী একদম অপ্রস্তুত।

    ‘তুমি চলে যাওয়ার পরে চারজন লোক এসে জোর করে জল তুলে নিয়ে গিয়েছে। আমাকে বলল মেমসাহেব বলেছেন নিয়ে যেতে। এখন কাদা পড়ে গিয়েছে, বিকেলের আগে জল জমবে না।’

    ‘কী আশ্চর্য! কারা এসেছিল?’

    ‘নেখালির ওরা।’

    ঘরে সবাই একদম চুপ। এইসময় বাইরে একটি জিপ এসে থামল। এস ডি ও কৌতূহলী হয়ে বেরিয়ে গেলেন, পেছনে দীপাবলী। জিপ থেকে নামছে অর্জুন নায়েক। সে তার দুই সঙ্গীকে নির্দেশ দিচ্ছে কিছু নামাতে। তারা ভারী দুটো বাক্স নামাচ্ছে। এস ডি ও চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘আরে আপনি?’

    অর্জুন ঘরের ছায়ায় চলে এল, এই আর কী! শুনলাম মিনিস্টার নেখালি দেখতে এসেছেন তাই এই গরমে ওঁর সেবার জন্যে চলে এলাম। কোল্ড ড্রিঙ্কস আর তেমন কোল্ড নেই যদিও। নমস্কার মেমসাহেব, নেখালিতে আজ সকাল থেকে কুয়ো খুঁড়তে লাগিয়ে দিয়েছি। আপনার আদেশ অমান্য করিনি।’

    দীপাবলী দেখল দু’হাতে অর্জুনের আনা দুটো ঠান্ডা পানীয়ের বোতল নিয়ে এস ডি ও মন্ত্রীকে দেবার জন্যে ছুটে যাচ্ছেন। অর্জুন ফিসফিস করল, ‘মিনিস্টার কোথায়?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }