Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৩. ন্যাড়া গাছটা

    ন্যাড়া গাছটাকে আর চেনার উপায় নেই। কচি সবুজ পাতায় তার চেহারা এখন বড় আদুরে। শুধ গাছ নয়, মাটি ফুঁড়েও কিছু উদ্ভিদ মুখ তুলেছে। এগুলোকে ঠিক ঘাস বলতে আপত্তি আছে দীপাবলীর। চা-বাগানের মাঠে যে চাপড়া বাঁধা ঘাস ছড়িয়ে থাকে তা এখানে কোনওকালেই হবে না। কিন্তু যা হল তা কম কী! সতীশবাবুরা বলেন দেখতে দেখতে এসব পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। গাছটা পাতা খসিয়ে দিতে বাধ্য হবে। সত্যি কথা। কিন্তু দীপাবলীর ইচ্ছে ওগুলো তিন মাসের নোটিশ শেষ হওয়া পর্যন্ত টিকে থাক। অন্তত যাওয়ার সময় একটু সবুজ দেখে যেন যেতে পারে।

    টেলিগ্রাম পাওয়ার পর ক’দিন বেশ টেনশনে ছিল সে। কিন্তু অমলকুমার আসেনি, তার বদলে চিঠি এল। দীপাবলী, টেলিগ্রামটার জন্যে আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আসলে অনেক কিছুর মতো শেষ মুহুর্তে আমাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছিল। এই চিঠি আমি লিখছি কলকাতা থেকে। জলপাইগুড়ি ছেড়ে আসার আগে মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল রামপুরহাটে নেমে তোমাকে দর্শন করে আসবেন। লোকে রামপুরহাটে নামে তারাপীঠ দর্শনের জন্যে। মায়ের সেই ইচ্ছে ছিল না যা সম্ভবত দেবীকে ঈর্ষান্বিত করেছিল। তিনি বোধহয় কোনও প্রতিযোগীকে সহ্য করতে পারেন না। ফলে আসার দিন সকালে মা যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন তখন যাত্রার দিন পিছোতে হল। মায়ের সুস্থ হওয়া এবং আমার নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মধ্যে সময় এত অল্প ছিল যে বাধ্য হয়েছি সরাসরি চলে আসতে।

    একটু অবাক হয়েছ নিশ্চয়ই। জলপাইগুড়িতে বসে বাড়ির ভাত খেয়ে শৌখিন ব্যাবসা করে যার বেশ দিন চলে যাচ্ছিল সে কী করে হঠাৎ চাকরি করতে কলকাতায় এল! বছর দেড়েক আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্কে একটা আবেদন করেছিলাম। পরীক্ষা ইত্যাদি চুকে যাওয়ার পর বিস্মরিত হয়েছিলাম ব্যাপারটা। হঠাৎ ইন্টারভিউয়ের ডাক এল। কাউকে না জানিয়ে কলকাতায় গিয়ে দিয়েও এসেছিলাম সেটা। দেখা গেল কোনও মামা পেছনে না থাকা সত্ত্বেও কখনও কখনও এ-দেশে চাকরি পেয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে যায়। মাইনেপত্র এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা যা তাতে মনে হয়েছে ব্যাবসা করার শৌখিনতা আমার ত্যাগ করা উচিত। সত্যি বলতে কী ব্যবসায়ীর কোনও গুণ আমি এ জন্মে রপ্ত করত পারতাম না।

    অতএব এখন কলকাতায়। বাসা নিয়েছি একজন পরিচিতের সূত্র ধরে কর্নফিল্ড রোডে। মা এর মধ্যে বেশ গুছিয়ে বসেছেন। টেলিগ্রামটার জন্যে তিনিও লজ্জিত। তুমি ছুটিছাটা পাও না? সরকারি অফিসারদের কি কলকাতায় আসার প্রয়োজন হয় না? যদিও এখানে তোমার চেনা হস্টেল নিশ্চয়ই আছে তবু এই ভাড়া বাড়িতে একটি অতিরিক্ত ঘর পাওয়া গেছে, খবরটা তোমাকে জানিয়ে রাখলাম। ভাল থেকো। অমলকুমার।’

    চিঠি পড়ে মন বেশ ভাল হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে সে উত্তর লিখতে বসল। অমলকুমারের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হোক এই কামনা জানিয়ে নিজের কথা খানিকটা আড়াল রেখে শেষ করল, ‘ছুটির কথা বলছিলে না? এক জায়গা থেকে ছুটি চাইলেই চট করে পাওয়া যায়! নিয়ম মানতে ধৈর্য ধরতেই হয়। আমারও এ ছাড়া কোনও উপায় নেই!’

    দীপাবলী একটা ব্যাপারে বেশ অবাক হচ্ছিল। পদত্যাগপত্র সে পাঠিয়েছে প্রপার চ্যানেলে। অথাৎ এস ডি ও বা ডি এম-এর হাত ঘুরে তা যাবে কলকাতায়। কিন্তু এই দুই ওপরওয়ালা কোনওরকম বিস্ময় প্রকাশ করেননি। নিত্য সরকারি সার্কুলার বা চিঠিপত্র অফিসে আসছে। পদত্যাগপত্র দেখে কারণ জানতেও কেউ চাইল না! মানুষ এত নির্লিপ্ত কখন হয়। সে কি এই দুই ভদ্রলোকের গলগ্রহ হয়ে যাচ্ছিল!

    ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট হল পরের সপ্তাহে ডি এমে সঙ্গে মিটিং-এ। নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা বললেন তিনি। কী করতে হবে তার নির্দেশ দিলেন। দু’বছর আগের করা ভোটার লিস্টটাকে অনুসরণ করতে হবে সবাইকে। মিটিং-এর পরে তিনি দীপাবলীর সঙ্গে আলাদা কথা বললেন, ‘আপনার ওখানে তো দিবাকরবাবু দাঁড়িয়েছেন। শুনেছি খুব সজ্জন লোক। কমিউনিস্ট পার্টির ক্যান্ডিডেটের চান্স কেমন?’

    ‘আমি দিন কয়েক আগে ওঁর নাম শুনেছি।’

    ‘হুম। দিবাকরবাবুকে হারানো খুব মুশকিল।’

    হঠাৎ দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি দিবাকরকে দেখেছেন?’

    চমকে উঠলেন ডি এম, ‘মানে?’

    ‘আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছিল আপনি ওঁকে খুব ভাল চেনেন।’

    ‘শুনেছি। একেবারে যাকে বলে মাটি থেকে উঠে আসা মানুষ। কোনওরকম মতবাদে অন্ধ নন। এইটেই তো চাই।’

    ‘আপনি আমাকে কী জন্যে ডেকেছেন?’

    ‘নির্বাচনের আগেই ওখানে বিখ্যাত পরিচালক সুবিনয় সেন শুটিং করবেন? আপনি কি মনে করেন কোনও গোলমাল হবার আশঙ্কা আছে?’

    ‘বিন্দুমাত্র না। অবশ্য যতক্ষণ অর্জুন নায়েক ওঁকে সাহায্য করবেন।’

    ‘না না। অর্জুনবাবু তো সাহায্য করবেন বলে কথা দিয়েছেন।’

    ‘তা হলে কোনও সমস্যা নেই। উনি যতদিন পাশে থাকবেন ততদিন আপনাদের কোনও দুশ্চিন্তা থাকছে না।’

    ‘হুম। আপনি আবার এর মধ্যে ছুটি নিয়ে চলে যাবেন না তো?’

    ‘না। তেমন ইচ্ছে নেই।’

    ‘কোথাও বড় চাকরি পেয়েছেন নিশ্চয়ই। কে যেন বলছিল কলেজে পড়াতে যাবেন। অবশ্য মেয়েদের সেটা খুব সেফ এলাকা।’

    ‘মাপ করবেন। আমি এম এ পরীক্ষার দরজা পর্যন্ত কখনও পৌঁছাইনি। এ-দেশের কলেজে পড়াতে গেলে অন্তত এই ডিগ্রিটা দরকার হয়। আর এসব আমার একদম ব্যক্তিগত ব্যাপার।’ উঠে দাঁড়িয়েছিল দীপাবলী।

    সুবিনয় সেন এখন এখানে শুটিং করছেন। এমন এলাহি ব্যাপার এ-তল্লাটের মানুষ আগে কখনও দ্যাখেনি। যাতায়াতের সময় বাঁচানোর জন্যে স্কুলটাকে তিন সপ্তাহের জন্যে বন্ধ রাখা হয়েছে অর্জুন নায়েকের হুকুমে। স্কুলবাড়ির মাঠে তিনদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি খড়ের ঘর তৈরি করে পুরো ইউনিটের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। নায়ক এবং সুবিনয় সেন স্কুল বাড়িতে আছেন। ওঁদের জন্যে বেশ কয়েকটা সাময়িক বাথরুম পায়খানা তৈরি হয়েছে মাঠেই। কলকাতার ঠাকুর দু’বেলা রান্না করছে। নায়িকার কাজ শুরু হতে দেরি আছে বলে তিনি দলের সঙ্গে আসেননি। একটা কথা ঠিক শুটিং-পার্টি আসায় সমস্ত তল্লাটটা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বৃষ্টির পরে রোদ উঠছে নিয়মিত, পাতাগুলো বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ার মুখে, কিন্তু মানুষের উৎসাহ বেড়ে গেছে অনেকগুণ।

    হাটতলার ট্যাক্সিগুলো দিনরাত ভাড়া খাটছে শুটিং-এ। আগামী নির্বাচনে যারা দিবাকরের হয়ে খাটবে তারা কাজ পেয়েছে রোজের ভিত্তিতে। ভিড় সরাতে. যে-বাহিনী তৈরি হয়েছে তারা দু’বেলা খাওয়া নিয়ে কুড়ি টাকা করে পাচ্ছে। দীপাবলীর নির্দেশে স্থানীয় নতুন দারোগা প্রথমদিন গিয়ে সব বুঝেসুঝে রিপোর্ট করে গিয়েছেন, পুলিশের কোনও প্রয়োজন হবে না। অর্জুনবাবু সবকিছু যাতে শান্তিতে শেষ হয় তার ব্যবস্থা করে রেখেছেন।

    শুটিং-এর আগের দিন বিকেলে সুবিনয় সেন দেখা করতে এসেছিলেন। তাঁকে চা খাইয়েছিল দীপাবলী। রোদ মরে যাওয়ার বাইরে চেয়ার পেতে বসেছিল ওরা। সুবিনয় সেন বলেছিলেন, ‘তোমায় কাল স্পটে চাই।’

    ‘কেন?’ হেসেছিল দীপাবলী।

    ‘শুটিং শুরু করছি, তুমি এখানকার কর্ত্রী, তুমি থাকবে না?’

    ‘তা হলে তো আমার যাওয়া হল না।’

    ‘কেন?’

    ‘কারণ আমি এখানকার কর্ত্রী নই।’

    ‘কিন্তু খাতায় কলমে তো এখনও আছ।’

    ‘আপনি জানেন বলে মনে হচ্ছে।’

    ‘হ্যাঁ। অর্জুন আমাকে বলেছে তুমি পদত্যাগ করছ। কেন জিজ্ঞাসা করব না। আচ্ছা, তোমার সঙ্গে আমার যদি কোনও ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে থাকে তার সুবাদেই না হয় এসো৷’

    ‘ক্ল্যাপস্টিক দিতে হবে?’ আবার হেসেছিল দীপাবলী।

    ‘নাঃ। সে দায় মিস্টার শ্রীবাস্তবের। তিনি আগামীকাল সকালেই এখানে পৌঁছে যাবেন। আলাপ হলে বুঝবে আলাদা ধরনের মানুষ।’

    দীপাবলী গিয়েছিল। ঠিক সকাল সাতটায় গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ভদ্রলোক। মাইল দুয়েক দূরে টিলামতো জায়গায় শুটিং হবে। প্রচণ্ড ভিড় হয়েছে এই সাতসকালে। দিবাকরের বাহিনী তাদের সামাল দিচ্ছে। দীপাবলী গাড়ি থেকে নেমে দেখল অর্জুন নায়েক এস ডি ও সুবিনয়বাবুর সঙ্গে কথা বলছেন। তাকে দেখতে পেয়ে অর্জুন কয়েক পা এগিয়ে এল, ‘আসুন আসুন। মিস্টার সেনকে বলছিলাম একমাত্র পুজোর মেলা না হলে এত মানুষকে এক জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় না।’

    অর্জুন এমন সরল গলায় কথা বলল যেন তাদের সম্পর্ক খুব ভাল। দীপাবলী তাকে জটিল না করে উত্তর দিল, ‘ভালই তো, আর একটা মেলা পাওয়া গেল।’

    এস ডি ও ঘড়ি দেখছিলেন, ‘দশটার পর তো কাজ করতে পারবেন না। ডি এম-এর যে কেন দেরি হচ্ছে বুঝতে পারছি না।’

    সুবিনয় সেন বললেন, ‘প্রথমে দিনের দৃশ্যগুলো তুলব কয়েকদিন ধরে। সকাল ছ’টা থেকে দশটা আবার বিকেল তিনটে থেকে যতক্ষণ আলো পাওয়া যায়।’

    অর্জুন ঠাট্টা করল, ‘তা হলে মেমসাহেবকে ধরুন। উনি প্রার্থনা করলে আকাশে মেঘ জমতে পারে। আপনার কাজের সময় বাড়বে।’

    ‘না না। মেঘ চাই না। তা হলে কন্টিনিউটির গোলমাল হয়ে যাবে।’ সুবিনয় সেন হাত নাড়লেন। তারপর সহকারীকে বললেন, ‘স্বপনকে ডাকো তো।’

    সহকারী ছুটল। একপাশে চাঁদোয়া খাটিয়ে চেয়ার টেবিল পাতা হয়েছে। সেখান থেকে এক সুদর্শন ভদ্রলোককে ডেকে নিয়ে এল। সুবিনয়বাবু বললেন, ‘স্বপন, এঁদের সঙ্গে তোমার আগেই পরিচয় হয়েছে। এঁর নাম দীপাবলী। একজন সরকারি অফিসার। এককালে গ্রুপ থিয়েটারে দারুণ অভিনয় করত। আর এ হল স্বপন, নাম শুনেছ নিশ্চয়ই। এই ছবির নায়ক।’

    মাথা দুলিয়ে যেন নমস্কার সেরে নিল স্বপন। দীপাবলী হাত জোড় করেছিল। তার মেজাজ খারাপ হল। স্বপন বলল, ‘সুবিনয়দা যখন অভিনয়ের প্রশংসা করলেন তখন নিশ্চয়ই ভাল করতেন। তা হলে ছাড়লেন কেন?’

    ‘উনি স্নেহ করেন বলে অতিরঞ্জিত করেছেন।’

    এইসময় ডি এম-এর জিপের পেছন পেছন একটি সাদা গাড়িকে আসতে দেখা গেল। ডি এম-এর জিপ থেকে তাঁর স্ত্রী নামলেন। এস ডি ও ছুটে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে জানালেন মন্ত্রী আসবেন বলে ডি এম শহর ছাড়তে পারেননি। তাই স্ত্রীকে পাঠিয়ে সুবিনয়বাবুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সাদা গাড়ি থেকে একটি সুদর্শন প্রবীণ ভদ্রলোককে নামিয়ে নিয়ে এলেন সুবিনয়বাবু। নায়ক বিগলিত হয়ে তাঁকে নমস্কার করল। তিনি হাসলেন। বছর ষাটের ওপর বয়স। পরনে সাদা শার্ট প্যান্ট। সুবিনয়বাবু ওঁর সঙ্গে সবার আলাপ করিয়ে দিলেন। শ্রীযুক্ত দীননাথ শ্রীবাস্তব। বর্তমান ছবির প্রযোজক। তিনিই ক্ল্যাপস্টিক দিলেন। ছবির প্রথম দৃশ্যগ্রহণ করা হল। না, নায়ক স্বপনকে নিয়ে নয়। দু’জন অভিনেতা একটি ঘোড়ার ওপর মালপত্র চাপিয়ে গ্রাম্যবেশে আসছে— শুধু এই দৃশ্যটি। যতক্ষণ না সুবিনয়বাবুর পছন্দ হল ততক্ষণ অভিনেতা এবং কলাকুশলীদের বারংবার একই কাজ করতে হচ্ছিল। দ্বিতীয়বার দেখার পর বিরক্তি এসে গেল। স্থানীয় দর্শকরা একবার হেসে উঠল মজা পেয়ে। অর্জন তাদের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল, ‘কারও যদি বেশি হাসি পেয়ে থাকে তা হলে পরে আমার সঙ্গে দেখা কোরো।’ সঙ্গে সঙ্গে জনতা একদম চুপচাপ। দীপাবলী লক্ষ করল ওরা আর আগের মতো সহজ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে নেই।

    দৃশ্যটি গৃহীত হওয়ামাত্র চা এল। এই টিলার পাশেই শুটিং কোম্পানি সব ব্যবস্থা করে ফেলেছে। সুবিনয়বাবু একপাশে দাঁড়িয়ে শ্রীবাস্তব সাহেবের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎ হাত তুলে দীপাবলাকে ডাকলেন। দীপাবলী যেন বেঁচে গেল। ঠিক তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ডি এম-এর স্ত্রী। কিন্তু তিনি এমন ভঙ্গি করছিলেন যেন এখানে মহিলা বলতে একমাত্র তিনিই আছেন। দীপাবলীর দিকে ভুলেও তাকাচ্ছিলেন না। পদমর্যাদায় যে তিনি অনেক ওপরের তলায় তা বুঝিয়ে দিতে বেশ আনন্দ পাচ্ছেন। অস্বস্তি হচ্ছিল দীপাবলীর। এখনও অনেক মহিলা স্বামীর চাকরিকে নিজের চাকরি বলে মনে করেন। স্বামীর বোনাস পাওয়া মানে তাঁরই পাওয়া। এক্ষেত্রে পদমর্যাদার অহংকার সেই কারণেই। সুবিনয়বাবু ডাকতে দীপাবলী এগিয়ে গেল।

    সুবিনয়বাবু বললেন, ‘শ্রীবাস্তব সাহেবকে তোমার কথা বলছিলাম।’

    অপ্রস্তুত দীপাবলী, ‘আমার কথা মানে?’

    এবার দীননাথ শ্রীবাস্তব পরিষ্কার বাংলায় কথা বললেন, ‘শুনলাম আপনি সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছেন। এরকম খবর খুব কম পাই।’

    ‘ও। আসলে আমি কাজ করতে চেয়েছিলাম। ছেলেবেলা থেকে আমার অ্যাম্বিশন ছিল নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে কাজ করব। ডবলু বি সি এস দিয়েছিলাম। ওপরের দিকে কিছু পাইনি খারাপ ফল হওয়ায়। কিন্তু এই চাকরিতে কিছু করার পাচ্ছি না। করতে দেওয়া হচ্ছে না।’

    দীননাথ চোখ বন্ধ করে শুনলেন, ‘শেষ কথাটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট।’

    ‘হ্যাঁ। তাই।’

    ‘তা হলে আপনি লড়াই করতে চান?’

    ‘চাই কিন্তু লড়াই করার জায়গা খুঁজতে হবে।’

    এইসময় সুবিনয় সেন বললেন, ‘তুমি ফিল্‌মে এসো। আমি তোমার ভাল ব্রেকের ব্যবস্থা করব।’ তারপর শ্রীবাস্তব সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি ওর অভিনয় দেখেছি। শি ইজ এ ভেরি গুড অ্যাকট্রেস।’

    ‘আই ডোন্ট থিঙ্ক সো’ মাথা নাড়ল দীপাবলী, ‘আমি কোনও কনস্ট্রাক্টিভ কাজ করতে চাই।’

    ‘আপনার, কিছু মনে করবেন না, বয়স কত?’ শ্রীবাস্তব জানতে চাইলেন।

    দীপাবলী জানাল। ওইরকম একজন প্রবীণ মানুষ তাকে তখন থেকে আপনি বলে যাচ্ছেন, একবার ইচ্ছে হয়েছিল আপত্তি করতে, কিন্তু ভদ্রলোক যে দূরত্ব রেখে কথা বলছিলেন তাতে মেনে নেওয়াই ঠিক বলে ভাবল।

    দীননাথ শ্রীবাস্তব এবার চারপাশে তাকালেন, ‘মিস্টার সেন, আমি এবার যাচ্ছি। আশা করি আপনার কাজ ভালভাবে শেষ হবে।’

    ‘আপনি কি কলকাতায় থাকবেন?’

    ‘না। কালই বম্বে যেতে হবে। ফিরব দিন পাঁচেক বাদে। আপনার কোনও অসুবিধে হলে চৌধুরীকে কনট্যাক্ট করবেন। ওকে সমস্ত ইনস্ট্রাকশন দেওয়া আছে।’ শ্রীবাস্তব দু’পা এগিয়েই থেমে গেলেন। দীপাবলীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘চাকরি ছেড়ে দেবার পর আপনি কি কলকাতায় যাবেন?’

    ‘হয়তো। কিছু ঠিক করিনি।’

    ‘ও। কলকাতায় গেলে আপনার ইচ্ছে হলে আমার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কারও ভেতরে ফাইটিং স্পিরিট থাকলে তার সঙ্গে কথা বলতে আমার ভাল লাগে।’ কথা শেষ করে উপস্থিত অতিথিদের হাত তুলে নমস্কার জানিয়ে গাড়িতে উঠে বসলেন দীননাথ শ্রীবাস্তব। গাড়ি বেরিয়ে গেল।

    আবার যখন কাজ শুরু হতে যাচ্ছে তখন এস ডি ও সামনে এলেন, ‘তা হলে আমাদের মায়া ত্যাগ করলেন?’

    ‘মায়া তো তৈরিই হল না, ত্যাগ তো পরের কথা।’

    ‘ও। আপনাকে একটা খবর দিচ্ছি। আপনার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে আমাকে চার্জ বুঝিয়ে দেবেন। অবশ্য যদি আপনার জায়গায় কোনও অফিসার এসে যায় তা হলে আলাদা কথা।’

    দীপাবলী হাসল, ‘আমাকে কিন্তু কেউ বুঝিয়ে দেয়নি। আমি এসেছি এবং কাজ শুরু করেছি।’

    ভদ্রলোক থতমত হয়ে বললেন, ‘আরে না না। আমি সেরকম কিছু বলছি না। এটা একটা চলতি কথামাত্র।’ বলেই চলে গেলেন তিনি ডি এম-এর স্ত্রীর কাছে। বিগলিত হয়ে কথা বলতে লাগলেন। ভদ্রমহিলা যে স্বস্তি পেলেন কথা বলতে পেরে তা না বুঝিয়ে মাথা নাড়তে নাড়তে শালিখের মতো হাঁটতে লাগলেন।

    দীপাবলী সুবিনয়বাবুর কাছ থেকে বিদায় নিল। তিনি গাড়ির ব্যবস্থা করে দিলেন তার ফিরে যাওয়ার জন্যে। দীপাবলী বুঝল অর্জুন তার দিকে তাকিয়ে আছে।

    নতুন দারোগা শঙ্কর ঘোষের বয়স বেশি নয়। কথাবার্তায় ভদ্র। জয়েন করে দেখা করে গিয়েছিলেন। ভদ্র কিন্তু একটু বেশি কথা বলেন। শুটিং-এর প্রথম দিন বিকেলে তিনি এলেন। দীপাবলী অফিসেই ছিল। ভেতরে ঢুকে নমস্কার করে বসলেন, ‘ম্যাডাম, শুনলাম আজ সকালে আপনি শুটিং স্পটে গিয়েছিলেন।’

    ‘হ্যাঁ। ওঁরা নেমন্তন্ন করেছিলেন। কিন্তু তখন আপনাকে দেখলাম না তো!’

    ‘অর্জুন নায়েক নিষেধ করেছিলেন।’

    ‘কী আশ্চর্য! অর্জুনের কথায় আপনি হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন? যদি কিছু গোলমাল হত তা হলে কী কৈফিয়ত দিতেন? আমাকে ছাড়ত ওপরওয়ালা। আমি তো আপনাকে নোট পাঠিয়েছিলাম।’ দীপাবলী রেগে গেল।

    ‘সব ঠিক ম্যাডাম।’ শঙ্কর ঘোষ তাঁর টাক চুলকালেন, ‘আমার হয়েছে বিপদ, কর্তব্য করব না ওপরওয়ালার কথা শুনব। অর্জুনবাবু থানায় এসে বলে গেলেন তাঁর সঙ্গে ডি এম-এর কথা হয়েছে যে তিনিই ম্যানেজ করবেন। পুলিশ নাকি কোনও কাজে আসবে না। ডি এম বলেছেন যখন—।’

    ‘তা হলে আর কী! আমার কাছে এসেছেন কেন?’

    শঙ্কর ঘোষ নিচু গলায় বললেন, ‘কিন্তু আমি খবর পেয়েছি এই শুটিং নিয়ে গোলমাল বাধতে পারে।’

    ‘কীরকম?’

    ‘দিবাকরবাবুর বিরোধী পক্ষ, কমিউনিস্টরা প্রচার করছে যে শুটিং-এর চমক দিয়ে অর্জুনবাবু ইলেকশন জিততে চান। গরিব মানুষের এই দেশে বড়লোকের শুটিং পার্টি শুধু ফয়দা লুটতে এসেছে, গরিব গরিবই থেকে যাবে। ব্যাপারটা যদি ভালভাবে প্রচার হয় তা হলে খুব মুশকিল।’

    ‘খবরটা পেলেন কী করে?’

    ‘আমরা যে শুটিং-এ যাইনি তা সবাই জেনে গিয়েছে। আজ ওদের অ্যান্টি পার্টির কয়েকজন এসে শাসিয়ে গেল, আপনারা যখন একবার যাননি তখন কখনও যাবেন না। গরিবের অভাব দেখিয়ে ফিল্‌মপার্টি লাখ লাখ রোজগার করবে এ হতে দেব না। যদিও ওদের অর্গানাইজেশন নেই তেমন তবু আমার ভাল লাগছে না।’

    ‘অদ্ভুত লাগছে। অর্জুন নায়েকের বিরুদ্ধাচারণ করার মানুষ এখানে আছে?’

    ‘এখানকার লোক নয় ওরা। সাবডিভিশন টাউন থেকে এসেছে।’

    ‘বাইরের লোক এখানে এসে কী করতে পারে?’

    ‘অর্জুনবাবুর বিরুদ্ধে কিছু করা মুশকিল। লোকটার ক্ষমতা আছে ম্যাডাম। ডি এম-এর স্ত্রী আজ ওঁর বাড়িতে লাঞ্চ খেয়ে ফিরে গিয়েছেন। এস ডি ও ছিলেন।’

    ‘আপনি এস পি-কে ব্যাপারটা রিপোর্ট করুন। আমিও ডি এম-কে জানাচ্ছি।’

    ‘কিন্তু যদি কিছু না হয় পরে তা হলে বেইজ্জত হয়ে যাব না?’

    ‘কিছু লোক এসে শাসিয়েছিল এটা তো ঘটনা। তাই জানান।’

    ‘অর্জুনবাবুকে কি জানাব?’

    ‘তিনি কি আপনার বস?’

    ‘না—মানে—।’

    ‘প্লিজ, নিজের কর্তব্য করুন।’

    শঙ্কর ঘোষ চলে গেলেন বটে কিন্তু হঠাৎ কয়েক দিনের মধ্যে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পোস্টার পড়তে দেখা গেল। শঙ্কর ঘোষের বলা কথাগুলোই লেখা হতে লাগল সেইসব পোস্টারে। অর্জুন নায়েকের লোক প্রকাশ্যে তা ছিঁড়ে ফেললেও পরদিন আবার দেখা গেল রাতের অন্ধকারে কারা পোস্টার সেঁটে গিয়েছে। এবার অর্জুনের লোকজন রাতের পাহারায় নামলে পোস্টার মারা বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে মুখে মুখে ব্যাপারটা আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুটিং কিন্তু বন্ধ হয়নি। কেউ হামলা করেনি সেখানে। দিবাকর প্রত্যহ শুটিং-এর বিভিন্ন স্পটে লোক নিয়ে গিয়ে নাটক দেখানোর মতো শুটিং দেখিয়ে আসছে। এইসময় নায়িকা এলেন। তিনি গোটা চারেক ছবি করেছেন এবং এর মধ্যে বেশ নাম হয়েছে তাঁর, বিশেষ করে অতি আধুনিকার চরিত্র চিত্রণে। অর্জুন নায়েক প্রোডাকশন ম্যানেজারকে সঙ্গে নিয়ে শহর থেকে জিপে চড়িয়ে তাঁকে নিয়ে এল শুটিং স্পটে। সাধারণ মানুষ অবাক চোখে দেখল একটি মোমের মতো মেয়ে সবার সামনে স্বচ্ছন্দে সিগারেট খাচ্ছে। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল স্কুলের টেন্টে। তিনি সেখানে গিয়ে নাক কোঁচকালেন। তাঁর দাবি শহর থেকে রোজ শুটিং স্পটে আসবেন। দূরত্ব ও সময়ের কথা ভেবে সকলের যখন মাথায় হাত তখন অর্জুন প্রস্তাব দিল তার গরিবের কুটিরে যদি ম্যাডাম থাকতে পারেন তবে সে ধন্য হবে। নায়িকা গেলেন সেই কুটির দেখতে। দেখে এত পছন্দ করে ফেললেন যে সব রাগ জল হয়ে গেল।

    এখন অর্জুনের জিপে নায়িকাকে দেখা যাচ্ছে। নায়িকার আঙুলে সিগারেট। মানুষজন জুলজুল করে দেখছে তাদের। তাদের চেনা মানুষ অর্জুনকে নায়িকা যেরকম খাতির করছে তাতে তাদের গর্ব বাড়তে লাগল, সেইসঙ্গে ঈর্ষাও। আর সেইসময় গোটা দশেক লোক নায়িকাকে নিয়ে শুটিং-এ যাওয়ার সময় হঠাৎ পথ আগলে বিক্ষোভ দেখাতে লাগল। অর্জুন জিপ থামাতে বাধ্য হল। সে চিৎকার করে বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বলল। কিন্তু এই মানুষগুলো তার অচেনা। ব্যাপারটা দেখে মজা পেতেই স্থানীয় কিছু মানুষ সেখানে জুটে গেল। অর্জুন জিপ ঘুরিয়ে নায়িকাকে নিয়ে চলে যায়। কিন্তু তার আধঘণ্টার মধ্যেই ওই জনা দশেক মানুষকে প্রচণ্ড আহত করে বড় রাস্তায় ফেলে দেওয়া হল। নায়িকা শুটিং-এ পৌঁছে গেলেন। দারোগা শঙ্কর ঘোষ ঘটনাস্থলে ছুটে যেতে বাধ্য হলেন। খবর এল দীপাবলীর কাছেও। বড় রাস্তায় পৌঁছে সে দেখতে পেল দারোগা আহতদের সাবডিভিশন হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। একটি লরিকে আনা হয়েছে। দীপাবলী শঙ্কর ঘোষকে বলল, ‘এদের মধ্যে যে-লোকটি কম আহত তার এজাহার নিন। দেখুন ও কোনও স্পেসিফিক অভিযোগ করে কিনা!’

    ‘নিয়েছি ম্যাডাম।’

    ‘কী বলছে?’

    ‘বলছে অর্জুন নায়েক লোক দিয়ে ওদের প্রচণ্ড আহত করেছে। লোহার শিক দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়েছে। ওরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিল, এই হল অপরাধ।’

    ‘এরা কোত্থেকে এসেছে এখানে?’

    ‘সাবডিভিশনাল টাউন থেকে। কমিউনিস্ট পার্টি করে এরা।’

    ‘প্রয়োজনে সাক্ষী দিতে পাওয়া যাবে এদের?’

    ‘মনে হয়। আমি লক্ষ করেছি কমিউনিস্টরা সহজে হার স্বীকার করে না।’

    ‘বেশ। আপনি আরও তদন্ত করুন। ঘটনাস্থলের কিছু মানুষকে জোগাড় করুন যারা সাক্ষী দিতে পারবে। আর এসব কথা নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলবেন না।’

    ‘কী সব কথা?’

    ‘এরা যে এজাহার দিয়েছে তা কাউকে বলার দরকার নেই।’

    ‘ঠিক আছে ম্যাডাম।’

    আহতদের হাসপাতালে পাঠিয়ে একটা রিপোর্ট লিখল দীপাবলী। এখন এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অর্জুনকে অ্যারেস্ট করা যায়। ক্রিমিন্যাল অফেন্স। কিন্তু ব্যাপারটা এস ডি ও বা ডি এম-কে জানালেই অর্জুন জানতে পেরে পেরে যাবে সঙ্গে সঙ্গে। সে ইচ্ছে করেই রিপোর্টে অর্জুনের নাম লিখল না। নায়িকার সঙ্গে যাওয়ার কথা যতটা সম্ভব সে এড়িয়ে গেল। কিছু বিক্ষোভকারীকে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা মারাত্মক জখম করে ফেলে গিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করল।

    বিকেলে শঙ্কর ঘোষ এলেন। তিনি কিছু স্থানীয় সাক্ষী জোগাড় করে ফেলেছেন এর মধ্যে। তারা বলেছে কারা কারা আক্রমণে অংশ নিয়েছিল। এরা সবাই অর্জুন নায়েকের নিজস্ব মানুষ। আলোচনা করে দীপাবলী নির্দেশ দিল ঠিক রাত ন’টায় শঙ্কর ঘোষ ওদের চারজন পান্ডাকে তুলে থানায় নিয়ে যাবেন। সাড়ে ন’টায় মধ্যে লোকগুলোর কাছ থেকে খবর বের করে বাহিনী নিয়ে চলে আসবেন দীপাবলীর কাছে।

    সারাটা সন্ধে খুব উত্তেজিত হয়ে রইল দীপাবলী। তার একটা ব্যাপার খুব অদ্ভুত বলে মনে হচ্ছিল। এইসব গোলমালের খবর নিশ্চয়ই শুটিং পার্টির লোকেরা পেয়েছে। সুবিনয় সেনের চিন্তিত হওয়া উচিত। তিনি যে কেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন না তাই সে বুঝতে পারছিল না।

    ঠিক রাত সাড়ে ন’টায় শঙ্কর ঘোষ এলেন। খাওয়াদাওয়া শেষ করে তৈরি হয়ে বসে ছিল দীপাবলী। শঙ্করবাবু বললেন, ‘ব্যাপারটা খুব সহজ নয় ম্যাডাম। আজ সন্ধের সময় অর্জুনবাবু নায়িকাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসেছিলেন।’

    ‘তাই নাকি?’

    শঙ্কর ঘোষ মাথা নাড়লেন, ‘অর্জুনবাবু নায়িকাকে দিয়ে ডায়েরি করালেন। কিছু সমাজবিরোধী তাঁর কাজে যাওয়া-আসার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি জানিয়েছেন এর পরিণাম খারাপ হতে পারে।’

    ‘ডায়েরিতে শুধু দিন লেখেননি তো?’

    ‘না না, ডায়েরি সবসময় সময় দিয়ে লেখা হয়। অর্জুনবাবু তখন কিছু বলেননি কিন্তু খুব গম্ভীর হয়ে বসে ছিলেন। যাওয়ার আগে বলে গেলেন ডি এম জানতে চেয়েছেন আমি কেমন কাজকর্ম করছি? হেসেই বললেন। সাপের মতো হাসি।’

    ‘লোকগুলোকে তুলেছেন?’

    ‘হ্যাঁ। ওরা স্বীকার করেছে, অর্জুন নায়েকের নির্দেশে এই কাজ করেছে।’

    ‘স্বীকারোক্তিতে সই করিয়েছেন?’

    ‘এটা আর আমাকে মনে করিয়ে দেবেন না। কিন্তু একটা কথা ভাবুন, অর্জুনবাবুর পাশে সমস্ত প্রশাসন আছে। তিনি আমাদের গুঁড়িয়ে দিতে পারেন।’

    ‘ঠিকই। আমি সতীশবাবুকে রিপোর্ট জমা দিতে পাঠিয়েছিলাম। তিনি আমার নির্দেশমতো শহরের সবকটা বড় কাগজের প্রতিনিধিকে আজ মধ্যরাত্রে আমাদের থানায় আসতে বলে এসেছেন। কোনও ইঙ্গিত দেননি। শুধু বলেছেন একটা বিরাট ব্যাপার ঘটতে যাচ্ছে। মনে হয় রাত বারোটায় শহর থেকে সাংবাদিকদের গাড়ি আপনার থানায় পৌঁছে যাবে। তাঁরা যদি খবরটা ছেপে দেন তা হলে আপনার আর ভয়ের কিছু থাকবে না।’

    ‘ঠিক আছে। লোক আমি খুব সৎ নই। তবে এবার একটু সাহস দেখাই। চলুন, আমার বাহিনী প্রস্তুত।’

    এইসময় বাইরে একটা গাড়ির আওয়াজ হল। দরজা খোলাই ছিল। দীপাবলী এগিয়ে গিয়ে দেখতে পেল একটা বড় ভ্যান থেকে কয়েকজন নামছেন। তাঁদের একজন প্রশ্ন করলেন, ‘শুনলাম ও সি নাকি এখানে এসেছেন। তাঁর দেখা পেতে পারি?’

    ‘আপনারা?’ দীপাবলী প্রশ্ন করল।

    ‘আমরা সাংবাদিক। আজ বিকেলে খবর পেয়েছি—।’

    ‘কিন্তু আপনারা আগেই এসে গিয়েছেন।’

    ‘হ্যাঁ। কিন্তু ব্যাপারটা কী?’

    এইসময় শঙ্কর ঘোষ বেরিয়ে এলেন, ‘ঠিক আছে। আপনারা আমাদের অনুসরণ করতে পারেন। আজ এখানে একটি গণধোলাই হয়েছে। কয়েকজনের জীবনহানির আশঙ্কা আছে তা নিশ্চয়ই আপনারা জানেন। আমরা একজন খুব ক্ষমতাবান মানুষ, যিনি এই কাণ্ডের নায়ক, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে যাচ্ছি। আপনাদের আমি আমন্ত্রণ করছি না। কিন্তু পেছনে এলে বাধা দেব না। তবে আমার কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করবেন না।’

    অন্ধকার হেডলাইটে সরিয়ে কয়েকটা গাড়ি দ্রুতবেগে ছোটা শুরু করল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }