Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. সকালে উঠেই তিরি চলে গিয়েছে

    সকালে উঠেই তিরি চলে গিয়েছে হাটতলায়। রান্নাঘরের জিনিসপত্রে টান পড়েছে। আজ রবিবার। চুপচাপ বিছানায় পড়ে থেকেও দীপাবলী বুঝল গনগনিয়ে সূর্যদেব উঠছেন। জানলা বন্ধ তবু তাঁর আঁচে বোঝা যাচ্ছে দিনভর তিনি জ্বলবেন আর জ্বালাবেন। ক’দিন যেসব মেঘেরা আকাশ কাঁপাচ্ছিল তারা চলে গিয়েছে ডুয়ার্স কিংবা আর কোথাও।

    ছুটির দিনেও বিছানায় শুয়ে থাকার অভ্যেস তৈরি হয়নি তার। কিন্তু সে আজ ইচ্ছে করেই উঠছিল না। চোখ খুলে এই ঘর, ছায়াছায়া ঘরের কোণ দেখতে দেখতে আচমকাই নিশ্বাস বেরিয়ে এল। হঠাৎ মনে হল সে বড্ড ভাল হয়ে আছে। সততা, রুচি, বিবেক ইত্যাদি ব্যাপারগুলো নিয়ে হয়তো বেশিরকমের বাড়াবাড়ি করছে। একটা রক্তমাংসের মানুষের যা করা উচিত, অথবা মানুষীরা যা করে থাকে তার ধারে কাছে যাচ্ছে না। নিজেকে আজ কীরকম নীরক্ত বলে মনে হতে লাগল। তার জায়গায় একটি পুরুষ থাকলে কী করত? যে-পুরুষ জীবন শুরু করার মুহূর্তেই ধাক্কা খেয়েছে। বল্‌গাহীন জীবনযাপন করত? সেটা কীরকম? সবকিছু ছড়িয়ে এলোমেলো করে রাখা, মদ্যপান কিংবা নারীসঙ্গে নিজেকে বিস্তৃত করা! একা সেই পুরুষ যদি ভিতু না হয়, যদি তার পাপবোধ নিজের মতো করে তৈরি থাকে তা হলে সে এসব কাজ করতেই পারে। কিন্তু নারীর পক্ষে চোরাপথে কানামাছি খেলে স্বাদ মেটানো ছাড়া ওই জীবনের কাছে পৌঁছাতে এই সামাজিক ব্যবস্থা কখনওই দেবে না। আর তার নিজের ক্ষেত্রে তো এ-ব্যাপারের জন্যে কখনওই কোনও আকর্ষণ দানা বাঁধেনি। কার এক গল্পে যেন পড়েছিল কোনও এক মানষ বিবেকানন্দের আন্তরিক ভক্ত ছিলেন। তাঁর কথা তাঁর গল্পে মানুষটির জীবনের শতকরা তিরিশ ভাগ বুঁদ হয়ে থাকত। সেই একই মানুষ মদ্যপান করতে যেতেন প্রকাশ্যে। খারাপ পাড়ায় গিয়ে বারবনিতাদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভারী ভালবাসতেন। মানুষটি পছন্দসই বারবনিতার সঙ্গে অবসরে গল্প বলতেন বিবেকানন্দ বিষয়ে। তাঁর জীবনের এমন অনেক চমকপ্রদ ঘটনা যা সেই বারবনিতাকেও আকর্ষণ করত। হয়তো মানুষটির গল্প বলার ক্ষমতা ছিল নিপুণ। শুনতে শুনতে নাকি সেই বারবনিতা একদিন ব্যাবসাই ছেড়ে দিল। মানুষটিকে বলল, ‘আর এসো না বাপু আমার কাছে। ঘেন্না ধরে গেছে এ-জীবনে। আহা, তিনি কী করতে বলেছিলেন আর আমি কী করেছি এত দিন!’ সত্যি সেই স্ত্রীলোকটির জীবন পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল অথচ ওই মানুষটির হয়নি। কেউ তাঁকে ঘটনাটা বলে প্রশ্ন করতেই তিনি হেসেছিলেন, ‘আমার মনে যদি বিশ্বাস খাঁটি না হত তা হলে ওর মনে বিশ্বাস জন্মাত না। কিন্তু খাঁটি বলেই যদি এখানে আসা বন্ধ করি তা হলে ওর তো কোনওকালেই মুক্তি আসত না। ও গেল, দেখি আর যদি কেউ যায়!’

    গল্পটি মনে পড়তেই হেসে ফেলল দীপাবলী। যতই সে নিজে গম্ভীর মুখে চলাফেরা করুক আসলে সে নিশ্চিতভাবে গবেট। রাগ অপমান বেড়ে গেলে সমঝোতা করতে শিখল না। হুট করে এই চাকরিটা ছেড়ে দিল। সবকিছু পাকা হয়ে গিয়েছে। এস ডি ও, ডি এম-রা তো দরখাস্ত গ্রহণ না করানো পর্যন্ত স্বস্তি পায়নি। অথচ সামনে কী পড়ে আছে তা তার জানা নেই। এই কোয়ার্টার্স ছেড়ে যাওয়ার সময় এলে চারদিকে নিচ্ছিদ্র অন্ধকার।

    পাশ ফিরে শুয়ে দীপাবলী সেই হস্টেলটার কথা ভাবল। সোজা কলকাতায় চলে গিয়ে দেখা করলে হয়। পুরনো বোর্ডার বলে জায়গা থাকলে জায়গা মিলতে পারে। না হলে অন্য হস্টেলে। একটু পাকা ব্যবস্থা করে রাখা যাতে মেয়াদ ফুরিয়ে এলে জলে পা না বাড়াতে হয়। চাকরি থেকে সব দিয়ে থুয়েও যা হাতে আছে এবং আসবে তাতে কয়েক মাস তো কাটানো যেতে পারে টাকার কথা না ভেবে। চোখ বন্ধ করল দীপাবলী। তিন দিনের ছুটি নিয়ে কলকাতায় যেতে হবে। এইসময় বাইরের দরজায় শব্দ বাজল। বেরুবার সময় তিরি মাটিতে ছিটকিনি ফেলে দরজা টেনে দিয়ে গিয়েছিল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠতে হল। বাইরের লোক কেউ হলে বড় অস্বস্তির। বাসিমুখে কারও সঙ্গে কথা বলতেই তার খারাপ লাগে। কিন্তু আজ সেটা উপেক্ষা করে দরজা খুলে তিরিকে দেখে নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরল। তিরির মুখে উত্তেজনা, এক হাতে বাজারের থলে অন্য হাতে একটা খাম।

    ‘জানো, সিনেমার লোকজন সব কাল রাত্রে ফিরে গিয়েছে। সবার মাথায় হাত।’

    ‘মাথায় হাত কেন?’

    ‘বাঃ, পকেটে টাকা আসছিল বন্ধ হয়ে গেল। আর এই নাও তোমার চিঠি। কাল নাকি এসেছে, জ্বর হয়েছিল বলে কাল দিতে পারেনি, বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল, দেখা হতে দিয়ে দিল। চা করব?’ খাম হাতে নিয়ে মাথা নাড়ল দীপাবলী। তারপর বেতের চেয়ারে গিয়ে বসল। অমলকুমারের চিঠি। যাদের ছিল সরাসরি চলে আসার কথা তাদের খবর নিয়ে চিঠি এল। চোখ সরিয়ে নিল সে। এই চিঠি পড়তে বিন্দুমাত্র আগ্রহ হচ্ছে না। বিষয় কী তা তো জানাই। না আসতে পারার জন্যে নিশ্চয়ই একগাদা যুক্তি থাকবে সেইসঙ্গে বিনীত ক্ষমা প্রার্থনা। চিঠিটাকে খামের ভেতর ঢুকিয়ে রাখল সে। আর তারপরেই মনে এল, ওরা না এসে ভালই করেছে। এখন এই জায়গা ছেড়ে যাওয়ার আগে ওরা এলে সে কী বলত? আমার চাকরি নেই, চলে যাচ্ছি। অমলকুমার কীভাবে নিত জানা নেই তবে মাসিমার নিশ্চয়ই ভাল লাগত না কথাটা শুনতে। যার কাছে বেড়াতে আসা সেই যদি শেকড়ছিন্ন হয় তা হলে কি খুশি থাকা যায়? মানুষ বড় দুঃখের সঙ্গী চায়, কিন্তু অপমান হজম করতে হয় একা, নিজের মতন করে। এখন তার সেই সময়। অমলকুমাররা না এসে একদিক দিয়ে তার বড় উপকার করেছে।

    সারাটা দিন কেউ এল না। সতীশবাবু মাঝে মাঝে রবিবারেও এসে দেখা করে যান। আজ তাঁরও দেখা পাওয়া গেল না। বিকেলে চা খেতে খেতে তিরির সঙ্গে কথা বলছিল সে। তিরি জেনেছে সে এখান থেকে চলে যাবে। জানার পর এ-বিষয় নিয়ে আর কথা বলেনি। আজ সে নিজে থেকেই ডেকেছিল তিরিকে। কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে মেয়েটা আচমকা প্রশ্ন করল, ‘আমাকে তুমি সঙ্গে নিয়ে যাবে না?’

    ‘তুই আমার সঙ্গে যাবি!’ খুব অবাক দীপাবলী।

    মাথা নাড়ল তিরি।

    ‘দুর! আমার নিজেরই কিছু ঠিক নেই। কোথায় থাকব তাই জানি না। তোকে নিয়ে রাখব কোথায়?’

    ‘কেন? তুমি কোথায় থাকবে?’

    ‘জানি না রে!’

    ‘তা হলে আমার কী হবে?’

    গলার স্বরে চমকে উঠল দীপাবলী এবং দ্রুত সহজ করতে চাইল তিরিকে, ‘কেন? এখানেই থাকবি। আমি সতীশবাবুকে বলে যাব। এর পরের অফিসার এলে তাঁর কাছে কাজ করবি।’

    ‘সেই লোকটা যদি একা হয়?’

    দীপাবলী মেয়েটার মুখ দেখল, ‘তুই তো আমার আগে একটা লোকের কাছে কাজ করেছিস!’

    মুখ নামাল তিরি, ‘তখন করেছিলাম, তোমার কাছে থাকার পর আর করতে চাই না। তা ছাড়া—!’

    দীপাবলী অপেক্ষা করল। তিরির মুখ আরও নামল, ‘তুমি চলে গেলে অর্জুনবাবু আমাকে ঠিক জোর করে ধরে নিয়ে যাবে। তুমি আমাকে সঙ্গে নিয়ে চলো।’

    ‘তুই বরং এবার বাবার কাছে ফিরে যা।’

    ‘নাঃ।’ দ্রুত মাথা নাড়ল মেয়েটা, ‘বাবা তো দু’দিনও ঘরে রাখবে না।’

    ‘তা হলে বংশীর কাছে গিয়ে কিছুদিন থাক।’

    ‘তুমি সত্যি আমাকে নিয়ে যেতে পারবে না?’

    ‘এখনই না। যদি চাকরিবাকরি পাই, থাকার জায়গা জোটে, তখন তোকে নিয়ে যাব। কিন্তু এখান থেকে গিয়ে তুই কি মানিয়ে নিতে পারবি? বড় শহর হলে অনেক লোকজন থাকবে!’ দীপাবলীর কথা শেষ হতে-না-হতেই তিরি তড়াক করে উঠে দাঁড়াল। দূরে একটা জিপ দেখা দিয়েছে। একটি বাক্যও ব্যয় না করে মেয়েটি ভেতরে চলে গেল। দীপাবলী দেখল এগিয়ে আসছে জিপটা, অর্জুন নায়েকের জিপ। সঙ্গে সঙ্গে আড়াল হয়ে গেল। সেই ঘটনার পর অর্জুন নায়েকের দেখা পায়নি সে। থানার দারোগা শঙ্কর ঘোষ পর্যন্ত এদিকে পা বাড়াননি। প্রথম ক’দিন আক্রমণের ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকতে হয়েছিল। কিন্তু অর্জুন অদ্ভুত উদাসীন থেকেছে তার সম্পর্কে। অত বড় অপমানের পর প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষাটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু অর্জুন মোটেই সে-পথে যায়নি। এমনকী সে যে এই তল্লাটে রয়েছে তাও বুঝতে দেয়নি। অথচ সতীশবাবু জানিয়ে গিয়েছেন অর্জুন বেশ বহাল তবিয়তে এখানে রয়েছে। অবাক হয়েছিল দীপাবলী। ক্রমশ সময় অবস্থাটাকে সহজ করে দিলে একটু কৌতুহলও জেগেছিল। তাকে অর্জুনের শত্রু ভাবাই স্বাভাবিক। আর এইসব লোক নিজের এলাকায় শত্রুকে পিষে ফেলতে মোটেই দ্বিধা করে না। রহস্য তাই সেখানেই।

    জিপ থামতেই খুব ধীরেসুস্থে নামল অর্জুন। পরনে ধবধবে চুড়িদার পাজামা পাঞ্জাবি। দীপাবলী উঠে দাঁড়াতেই হাত জোড় করল, ‘নমস্কার। কেমন আছেন বলুন?’

    দীপাবলী ওর ঠোঁটে সেই হাসিটাকে দেখতে পেল। গম্ভীর মুখে সে জবাব দিল, ‘ভাল।’ মাথা নাড়ল অর্জুন, চারপাশে তাকাল। তারপর বুকপকেট থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করে এগিয়ে এল, ‘আপনার চিঠি। ডিরেক্টর সাহেব যাওয়ার আগে দিয়ে গিয়েছেন।’

    দীপাবলী চিঠিটা নিল। এই লোকের মুখের চেহারা এবং গলার স্বর দেখে কে বলবে দু’দিন আগে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় কীরকম আস্ফালন করেছিল! আপাত নির্লিপ্ত হয়ে চিঠির ভাঁজ খুলল সে। সুবিনয় সেন মার্জনা চেয়েছেন যাওয়ার আগে দেখা করে যেতে পারেননি বলে। শুটিংকে কেন্দ্র করে যেসব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে তার জন্যে আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করেছেন। লিখেছেন, তাঁর এতদিনের পরিচালক জীবনে এমন ব্যাপার কখনও ঘটেনি। কিছু একটা তাঁর অজান্তে ঘটে যাচ্ছিল। আর এসব কারণে তিনি কিছু কাজ সংক্ষেপে তুলেই ফিরে যাচ্ছেন। দীপাবলী যদি কলকাতায় কখনও যায় তা হলে যেন তার সঙ্গে দেখা করে।

    চিঠিটাকে আবার ভাঁজ করল দীপাবলী। কোনও প্রয়োজন ছিল না, তবু শেষ মুহুর্তে শিষ্টাচারে বেধেছিল বলেই হয়তো ভদ্রলোক এমন একটা চিঠি লিখে মনের ভার কমিয়েছেন। কিন্তু অর্জন নায়েক এখনও চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই চিঠি দেওয়ার জন্যে ওর এত দূরে আসার প্রয়োজন ছিল না। যে-কোনও অনুগতই ছুটে আসতে পারত। অর্থাৎ আর একটা মতলবের সামনে তাকে দাঁড়াতে হচ্ছে।

    সে গম্ভীর গলায় বলল, ‘আর কিছু?’

    ‘না না। আপনার বোধহয় বিশ্বাস হবার কথা নয় এমনি বিনা কারণে আমি আসতে পারি?’ পায়চারির ভঙ্গিতে দু’পা হাঁটল অর্জুন, ‘আসলে মনে পড়ল, আপনি তো আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেনই, যাওয়ার আগে দেখা করা তো আমার কর্তব্য। সত্যি কথা বলছি, আপনি এখানে আসার পর এলাকার মানুষেরা কিছু ব্যাপারে উপকৃত হয়েছে।’

    দীপাবলী কোনও কথা বলল না। তার মনে হচ্ছিল সে যা বলবে তারই সূত্র ধরে অর্জুন কথা বাড়াবে। অর্জুন উত্তরের জন্যে সামান্য অপেক্ষা করে বলল, ‘অবশ্য সব জিনিস চিরকাল একভাবে চলতে পারে না। আজ কিংবা কাল পালটানো শুরু হতই। আরে! আপনি অমন গম্ভীর মুখ করে আছেন কেন?’

    ‘আপনি তো হাসির কথা কিছু বলেননি!’

    অর্জুন কিছুক্ষণ তাকাল, ‘আপনি আমাকে কী ভাবছেন বলুন তো! সেদিন পুলিশ দিয়ে অ্যারেস্ট করিয়ে থানায় নিয়ে গিয়েছিলেন বলে উলটোপালটা কিছু করব? দুর। আপনার কাজ আপনি করেছেন, আমি আমার ক্ষমতা ব্যবহার করেছি। প্রথম রাউন্ডে আপনি জিতেছিলেন, শেষ জেতাটা আমার। অবশ্য শেষ জেতা বলিই বা কী করে? এখনও তো অনেককাল বেঁচে থাকতে হবে। তাই বলছিলাম, ওসব ব্যাপার আপাতত চাপা থাক, যাওয়ার আগে আসুন আমরা ভালমন্দ কিছু কথা বলি।’

    দীপাবলী মাথা নাড়ল, ‘অর্জুনবাবু, আমার কথা বলতে একটুও ভাল লাগছে না।’

    জিভে ছোট্ট শব্দ তুলল অর্জুন, ‘ম্যাডাম, আপনি জীবনে প্রচুর দুঃখ পাবেন।’

    ‘মানে!’ চোখ ছোট করল দীপাবলী।

    ‘মুখের ওপর মনের কথা স্পষ্ট উচ্চারণ না করলে দুঃখগুলো দূরে থাকে।’

    দীপাবলী হেসে ফেলল, না হেসে পারল না।

    ‘আমি কোনও হাসির কথা কিন্তু এবারে বলিনি।’

    ‘না। আপনার মুখে কবিত্ব কিংবা আধ্যাত্মিকতাও আমি আশা করিনি।’

    ‘আঃ। তাই বলুন। ম্যাডাম, পণ্ডিতরা যা বইয়ে লেখেন তা আমাদের মতো মানুষ জীবন থেকে শিখে নেয়। আমরা বলি আপনারা তার নামকরণ করেন। যা হোক, আমি লোকটা আপনাদের চোখে নিশ্চয়ই খারাপ। মদ্যপান করি, স্ত্রীলোক নিয়ে সন্ধের পর সময় কাটাই, নিজের অধিকারের সীমা বাড়াতে ঘুষ আর ঘুষি, দুটোরই সমান ব্যবহার করি। কেউ আমার ওপর লাঠি ঘোরালে শুধু লাঠি নয় তার হাতও ভেঙে দিতে একটুও দ্বিধা হয় না আমার। এ সবই ঠিক। কিন্তু আপনার সঙ্গে কোনও খারাপ ব্যবহার করতে ইচ্ছে করেনি কখনও। যেখানে খারাপ ব্যবহার করলে আনন্দ আসে সেখানেই করি। তাই আমার ওপরে আপনার রাগ থাকার কোনও কারণ নেই তো!’

    ‘কথাগুলো মনে হচ্ছে আপনি আগেও বলেছিলেন।’

    ‘হয়তো। তবে দ্বিতীয় কোনও মানুষকে বলিনি।’

    ‘দেখুন অর্জুনবাবু, আমি তো চলে যাচ্ছি, আপনার রাজত্ব চালাতে আর কোনও বাধা রইল না। এতে আপনার খুশিই হওয়া উচিত। হয়েছেনও নিশ্চয়ই। তবে আমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেছেন আপিন, এটা নিশ্চয়ই মনে রাখব।’

    ‘আমি কৃতজ্ঞ থাকব। যদি কেউ কখনও আমাকে অভিযোগ করে বলে আমার মধ্যে একটুও ভাল নেই তবে তাকে আপনার কাছে পাঠিয়ে দেব। আপনি, আমি জানি, তখনও সত্যি কথা বলবেন।’ অর্জুন আচমকা ঘুরে জিপের দিকে এগোল। একটা পা ভেতরে তুলে সে গলা উঁচু করে বলল, ‘যাওয়ার সময় নিশ্চয়ই গাড়িটাড়ির প্রয়োজন পড়বে। এমনি দিলে তো নেবেন না। যদি জানান তা হলে ন্যায্য দামে ব্যবস্থা করে দিতে পারলে খুশি হব।’ কথা শেষ করেই সে জিপে উঠে ইঞ্জিন চালু করে বেরিয়ে গেল। জিপটা যত আস্তে এখানে এসে পৌঁছেছিল তার থেকে অনেক বেশি গতিতে ছুটে যাচ্ছিল ব্যবধান বাড়াতে। দীপাবলীর দুটো পা যেন মাটিতে শক্ত হয়ে সেঁটে গিয়েছিল। নড়বার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল সে। অর্জুন নায়েককে সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না।

    জেলা শহর থেকে সন্ধের ট্রেনে উঠে বসেছিল দীপাবলী, সকালেই শিয়ালদায় পৌঁছে যাবে। আবার কলকাতা। আর তখনই তার ভাবনাটা মাথায় এল। সে জন্মেছে উত্তর বাংলার চা বাগানে, কলেজ করেছে জলপাইগুড়িতে, অথচ একা থাকার জায়গা খুঁজতে আজ চলেছে কলকাতায়। একবারও মাথায় আসেনি জলপাইগুড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা। প্রকৃতি তার স্বাভাবিক নিয়মেই কলকাতাটাকে বেছে দিয়েছে তাকে। যেখানে শেকড়, মাটি সেখানে নয়, যেখানে ডালপালা পাতা সেখানেই যাও। জানলার ধারে সিট পেয়েছিল সে। মাথা রাখার মতো দেওয়াল রয়েছে পাশে তাই একটু স্বস্তি। চোখ বন্ধ করে ছুটন্ত ট্রেনে বসে থাকতে থাকতে টুকরো টুকরো ছবির মতো সেইসব স্মৃতি ছুটে আসতে লাগল যারা চাপা পড়েছিল পারিপার্শ্বিকতার চাপে। অসীমের মুখ, সকরিকলি মনিহারি ঘাট পেরিয়ে যাওয়া স্টিমারে গঙ্গার বাতাস মেখে। অসীম! অসীম এখন কোথায় আছে? তৃতীয় বর্ষের একটি ছাত্র তার যাবতীয় অপরিপক্কতা নিয়ে সমবয়সি একটি মেয়ের মন পাওয়ার জন্যে শুধু আবেগের কাছে সমর্পিত হয়ে অনর্গল মিথ্যে বলে যাওয়া মুখ নিয়ে উঠে এল তার সামনে। এই একটি ঘটনার কথা জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে দীপাবলী অনেক ভেবেছে। কেন সে হঠাৎ মনের অজান্তে অসীমের কথা ভাবতে পেরেছিল? তার ব্যবহারিক জীবনে কোথাও অসীম নেই। যে ছেলেমানুষির পর্যায়কে সে অনেক অনেককাল আগে ছেড়ে চলে এসেছে, সেই সময় কোন জাদুর টানে উঠে এল বিস্মৃতির গভীর থেকে!

    রাতটা ছিল অন্ধকারের। চাঁদ ওঠার পক্ষ নয়, তারাগুলোও মিটমিটে। শুধু ছুটন্ত ট্রেনের শব্দ, শনশন অন্ধকার ছিটকে সরে যাচ্ছে দু’দিকে, গিয়েই আবার ঝাঁপিয়ে ফিরছে, দীপাবলী অগভীর ঝরনায় ডুবে থাকা পাথরের মতো সেই অন্ধকার দু’চোখে মিশিয়ে নিচ্ছিল। কতক্ষণ এভাবে কেটেছিল তার জানা নেই, হঠাৎ মনে পড়ল অমলকুমারের কথা। অমলের চিঠিটা আর পড়া হয়নি। এখনও হাতের ব্যাগের কোণে পড়ে আছে সেটা। হাত বাড়াল সে। চিঠিটা চোখের সামনে নিয়ে এসে বুঝল আলো বড় কম। কামরার ছাদের নীচে যে-বাল্‌ব ঝুলছে তা বড় কৃপণ। পাশের আসনগুলোতে যাঁরা বসে আছেন তাঁরা ইতিমধ্যেই সংসার গুছিয়ে নিয়েছেন। সঙ্গে টর্চ আছে। কিন্তু রেলগাড়ির কামরায় বসে টর্চ জ্বেলে চিঠি পড়তে দেখলে অনেকেরই বিস্ময় ছিটকে উঠবে।

    দীপাবলী চিঠিটা নিয়ে ভিড় কাটিয়ে কাটিয়ে চলে এল বাথরুমের ভেতরে দরজা বন্ধ করে জোরালো আলোর নীচে ছোট্ট ঘরটিতে দাঁড়িয়ে চিঠি মেলল। ‘দীপাবলী। যা হবার কথা ছিল তা এ যাত্রায় হল না। ঠিক করেছিলাম মাকে নিয়ে একেবারে হাজির হব তোমার কাছে। ক’দিন নিস্তরঙ্গ বিশ্রাম নিয়ে শরীরের ওজন বাড়িয়ে মন হালকা করে ফিরব। হল না। কারণ জানাতে গেলে জায়গা লাগবে অনেক। টেলিগ্রাম করেও পা বাড়াতে পারলাম না যখন তখন নিশ্চয়ই বুঝবে গুরুত্ব কম ছিল না।

    এখন আমি এবং মা একেবারে কলকাতার বাসিন্দা। মায়ের অবশ্য এখানে মোটেই ভাল লাগছে না। এর মধ্যেই মতলব আঁটছেন দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে তো মানুষের জুড়ি নেই। পেয়েও গেছেন একটা। আমাকে সংসারী করার সমস্ত বন্দোবস্ত পাকা। কন্যা সুশ্রী, গৃহকর্মনিপুণা এবং সেইসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গান জানেন। বাঙালি পরিবারে বিয়ের পরে মেয়েদের সংস্কৃতিচর্চা কর্পূরের চেয়ে দ্রুত উবে যায়, দেখেছি। মনে হয় তার ভাগ্যেও অন্য কিছু ঘটবে না। দিনক্ষণ স্থির হতে চলেছে। এ ব্যাপারে তো তোমার উৎসাহ ছিল যথেষ্ট। মা বারংবার বললেন, সেদিন তিনি তোমার দর্শন চান। নিজের কথা এখন আর ভাবি না। যে-মহিলাটি আসছেন তাঁর জীবনে আমার আচরণ যেন কোনও ছায়া না ফেলে সেটুকুই চেষ্টা করে যাব। এ-মাসের পঁচিশ তারিখে লগ্ন। লগ্ন শুভ এবং মেয়েটি যেহেতু রক্ষে পেতে চায় না তাই আমারও পালিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন নেই। কিন্তু নতুন জীবনে পা বাড়াবার ঠিক আগের মুহূর্তে তোমার মতো বন্ধুর সঙ্গে কয়েকটা কথা বলতে চাই। আশা করব খুব, ‘অমল।’

    ছোট ঘর, পায়ের তলায় ছুটন্ত ট্রেনের মেঝে ঝড়ের দোলায় দুলছে। কানে তালা পড়ার মতো আওয়াজ উঠছে চারপাশ থেকে। দীপাবলী কোনওমতে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়াল। তার চোখের সামনে রায়কতপাড়া থেকে মেয়েদের কলেজ হস্টেল আসার জলপাইগুড়ির নির্জন জ্যোৎস্নাভেজা পথটা ভেসে উঠল। হঠাৎ সমস্ত শরীর কাঁপিয়ে কান্না উঠে এল গলায়, চোখে। সেই শব্দ মিশে গেল ট্রেনের চাকার আওয়াজে। কেন কান্না আসছে, কেন এমন করে বুকের ভেতরটা থেঁতলে যাচ্ছে সে জানে না, কিন্তু হঠাৎ যেন সমস্ত শরীর অবশ, দু’হাতের মুঠোয় বাথরুমের আংটা ধরেও যেন নিজেকে সামলাতে পারছে না কিছুতেই। কিছুক্ষণ পরে যখন বাইরে থেকে কারও ব্যস্ত হাতের শব্দ বাজল তখন চেতনায় ফিরল সে। হাতের মুঠোয় দলা পাকানো চিঠিটার দিকে তাকিয়ে মনে হল ছুড়ে ফেলে দেয়। কিন্তু তারপরেই মন পালটাল। আঁচলে চোখ মুছে গম্ভীর মুখে সে ফিরে এল নিজের জায়গায়, এসে ব্যাগে রেখে দিল চিঠিটাকে।

    সাতসকালে কলকাতায় পৌঁছে মনের সঙ্গে মনের আড়াআড়ি শুরু হয়ে গেল।

    এখন কলকাতার চেহারা কীরকম আদুরে! সারারাতের বিশ্রামের পর জড়সড় হয়ে থাকা। অতি বড় লম্পটও দীর্ঘ ঘুমের পর পলকের জন্যেও তপস্বীর চেহারা পেয়ে যায়। কলকাতা এখন তেমন। কোনও চেঁচামেচি নেই, কোনও ব্যস্ততা, মানুষেরা গায়ে গা লাগিয়ে কলকাতা ফুটপাতের দখল নিচ্ছে না। এমন ঠান্ডা কলকাতা যার সঙ্গে একমাত্র তারই তুলনা করা যেতে পারে, ছেড়ে থাকার কোনও মানে নেই। আহা, এই ভোর এবং সকালের আরম্ভটা যদি দিনভর থেকে যেত! দীপাবলীর মনে হল কলকাতার এমন চেহারা হলে এই শহরে কোনও আত্মীয়ের দরকার হত না। স্টেশন থেকে বেরিয়ে সে অনেকটা হেঁটে এল অকারণের কারণে। হাঁটতে ভাল লাগছিল তার। এইসময় ট্রামবাসগুলো কেমন নিজস্ব বলে মনে হয়। হ্যারিসন রোড ধরে কলেজ স্ট্রিট পৌছাতে পৌছাতে কখন কেমন করে দিনের কলকাতা জেগে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে অস্বস্তি। দীপাবলী ছোট্ট ব্যাগটা নিয়ে শ্যামবাজারের ট্রামে উঠে পড়ল। ট্রাম অবশ্য এখনও খালি। তবু অভ্যেসে সে গিয়ে বসল লেডিজ সিটে। বসেই সেটা খেয়াল হল। একটা পুরো ট্রাম খালি পাওয়া সত্ত্বেও কেন যে পা লেডিসমার্কা সিটগুলোর দিকে এগিয়ে আসে!

    বনানীদি তখন তক্তাপপাশে বসে আনন্দবাজার খুলে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলেন। শব্দ শুনে দরজার দিকে ফিরে চোখ বড় করলেন, “ও মা! অফিসার যে! কী ব্যাপার, ঠিক দেখছি তো!’

    গলার স্বরে যে-উত্তাপ ছিল তাতে ভাল লাগা তৈরি হল। দীপাবলী ঘরে ঢুকে ধপ করে বসে পড়ল তক্তাপোশে, তোমার চোখে ন্যাবা হয়নি। সারারাত ট্রেনে জেগে এসেছি, বেশি প্রশ্ন কোরো না।’

    ‘আরে! আমি প্রশ্ন করলাম কখন?’ বনানীদি সরে বসলেন, ‘ওঃ, তুই এসে খুব ভাল করেছিস। আজ আমাদের হেডমিস্ট্রেসের ভাইয়ের বিয়ে।’

    ‘তোমার হেডমিস্ট্রেসের ভাইয়ের বিয়ের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক?’

    ‘দাড়া না, সেদিন গড়িয়াহাটে গিয়েছিলাম। ঠিক মোড়ের মাথায় একটা শাড়ির দোকান আছে না, দেখেছিস, ও দেখিসনি, খুব বড় দোকান, তার শোকেসে যা একখানা সুন্দর শাড়ি দেখলাম না, কী বলব, মন জুড়িয়ে গেল। দোকানে ঢুকে দাম জিজ্ঞাসা করতেই জিভ কামড়ালাম। সাড়ে তিনশো টাকা! তুই বোঝ! সব ভাল ভাল জিনিস না বড়লোকরা নিয়ে নেয়।’

    এরও সঙ্গে হেডমিস্ট্রেসের ভাইয়ের বিয়ের কোনও সম্পর্ক নেই।’

    ‘আঃ। সেইরকমই একটা শাড়ি পেয়ে গেলাম শ্যামবাজারের দোকানে। দাম মাত্র একশো বাষট্টি। কিনে ফেললাম দুম করে। ওটা পরেই তো আজ বিয়েবাড়িতে যাব। কিন্তু কেবলই মনে হচ্ছে একই শাড়ির দাম দু’জায়গায় দু’রকম হবে কেন? একদম নর্থ পোল সাউথ পোল? কাউকে দেখাতেও পারছি না।’

    ‘কেন?

    ‘বাব্বা! যা সব নতুন নতুন মেয়ে এসেছে আর তাদের যেমন ছোট মন! কত গল্প তৈরি করবে তা তো জানি। তা তুই এসে গিয়েছিস, ভালই হল, তুই একবার দ্যাখ তো শাড়িটায় গোলমাল আছে কিনা।’

    দীপাবলী মাথা নাড়ল, বনানীদি, আমি শাড়ি চিনি না।’

    ‘যাঃ! মেয়েমানুষ শাড়ি চিনবে না কী!’

    ‘তুমি কি মেয়ে নও?’ ‘

    তোরা আজকের মেয়ে, আমরা কোন কালের।’

    ‘উঁহুঁ, আমি মনে করি মেয়েদের অনেক কাজ আছে। শুধু শাড়ি গয়নার জন্যে তারা জন্মায় না।”

    ‘তোর সঙ্গে কথায় পারা যায় না। সর, তোকে শাড়িটা দেখাই।’

    ‘দাঁড়াও না। বিকেলে যখন বিয়েবাড়িতে ওটা পরে যাবে তখন দেখব।’

    ‘আ্যঁ! বিকেলে! সত্যি বলছিস, ততক্ষণ তুই এখানে থাকবি?’

    দীপাবলী হাসল, ‘তোমাদের এই হস্টেলে কোনও সিট খালি আছে? ’

    ‘তার মানে?’

    ‘আমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে এসেছি। কলকাতায় একটা থাকার জায়গা চাই। হাতে কিছু টাকা আছে। যদি এখানে জায়গা থাকে তা হলে খুব ভাল হয়, বেঁচে যাই।’ দীপাবলী তক্তাপোশের এক পাশে শরীর এলিয়ে দিল। দিয়ে বলল, ‘আঃ! কী আরাম!’

    বনানীদি ঝটপট দেওয়ালের দিকে সরে গেলেন, ‘এই! সত্যি কথা বলছিস? তুই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিস?’

    হাসল দীপাবলী। তারপর মাথা নাড়ল। বনানীদির গলার স্বরে যত রাজ্যের অবিশ্বাস। পাগল না হলে কেউ এমন কাজ করে। পাগল! উন্মাদ। হঠাৎ গানের লাইনটা মনে পড়ল। উন্মাদকে না দেখে আকাশের চাঁদ পাণ্ডুর হয়েছিল।

    বনানীদিকে বিস্তারিত বলার কোনও মানে হয় না। তবু কিছুটা বলল। এখনও এই কলকাতা শহরে অনেক মানুষ আছেন যারা যন্ত্রসভ্যতার চাপে নীরক্ত হয়ে যাননি। এখনও কিছু মানুষ আশ্চর্য সরল চোখে জীবনটাকে দেখে থাকেন। তাঁদের মনে ন্যায় নীতি ইত্যাদি ব্যাপার চমৎকার আঁটোসাঁটো হয়ে থাকে। ভাল এবং মন্দকে দুটো জায়গায় রেখে মাঝখানে একটা বর্ডার ফেলতে তাঁদের কোনও দ্বিধা নেই। এঁদের খুব সহজে ঠকিয়ে যেতে পারে মতলববাজ মানুষেরা। বনানীদি সেই গোত্রের মানুষ। অতএব ওপরওয়ালারা ঘুষ নিচ্ছে আর নিরন্ন মানুষ ঘুষি খাচ্ছে এবং তার মাঝখানে থেকে চোখ বন্ধ রাখতে পারেনি দীপাবলী, অথচ প্রতিবাদের শক্তি জন্মানোমাত্র মৃত করে দেওয়া হয় বলে চাকরি ছেড়ে এসেছে শুনে বনানীদি দ্রুত মাথা নাড়লেন, ‘ঠিক করেছিস। এইজন্যে বলি মেয়েছেলের উচিত স্কুল কলেজে পড়ানো। তুই ইচ্ছে করলেই পড়ানোর চাকরিটা পেতে পারিস। এক কাজ কর, বিটি-টা করে নে এখন।’

    ‘বনানীদি, তোমাকে অনেকবার বলেছি প্রাইভেট বাসের কনডাক্টরের মতো মেয়েছেলে মেয়েছেলে বলবে না।

    ‘ওরে বাব্বা! আসলে জন্ম থেকে কথাটা শুনে এসেছি তো তাই জিভের ডগায় বসে গেছে।

    ‘তুলে ফেলো। মেয়েমানুষ বললে যে মানে ছেলেমানুষ বললে ছেলেদের ক্ষেত্রে যখন সেই একই মানে হয় না তখন কেন বলবে!’ মাথা নাড়ল সে, ‘স্কুলে পড়াবার জন্যে আমি জন্মাইনি।’

    ‘তা হলে তুই কী জন্যে জন্মেছিস ভাই?’

    নিশ্বাস বন্ধ করল দীপাবলী। তারপর অন্যরকম গলায় বলল, ‘সত্যি! জন্মটাই যে কেন হল?’

    ‘আঃ, আবার নাটক বা নবেলের কথা। তোর সব ভাল, মাঝে মাঝে এমন কথা বলিস!’

    ‘কীরকম কথা?’

    ‘জানি না।’

    ‘তবু?’

    ‘অন্যরকম। বুঝতে পারি কিন্তু ধরতে পারি না।’

    ‘বাঃ, চমৎকার। একটা উদাহরণ দাও।’

    ‘এই ধর রবীন্দ্রনাথের অনেক গানের মতো।’

    ‘কী বললে?’ স্প্রিং-এর মতো লাফিয়ে উঠল দীপাবলী। দু’হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরল বনানীদিকে, ‘তুমি যা বললে তার এক ভাগও যদি পেতাম তা হলে দশবার জন্মাতে আমি রাজি আছি।’

    ‘তুই যে কী বলিস বুঝতে পারি না। সত্যি তুই এখানে থাকবি?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কিন্তু হস্টেল তো ভরতি।’

    ‘একটাও সিট খালি নেই?’

    ‘না। নাম লিখিয়ে বসে আছে কতজন।’

    ‘ওঃ। তা হলে কী করা যায়!’

    ‘একটা কিছু ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তুই আমার কাছে থাক।’

    ‘বলছ?’

    ‘এতে আবার বলাবলির কী আছে?’

    ‘তোমার অসুবিধে হবে না তো?’

    ‘মারব এক গাঁট্টা।’ দীপাবলীর শরীরে আলতো চড় মারলেন বনানীদি।

    ‘মুশকিল কী জানো, বাড়ি ভাড়াও চট করে কেউ দেবে না আমায়। আবার নেই নেই করে কোয়ার্টার্সে যা সব সম্পত্তি জমে গেল তাই বা রাখি কোথায়?’

    ‘কোয়ার্টার্স ছেড়ে দিয়েছিস?’

    ‘না, এখনও কিছুদিন অধিকারে আছে।’

    ‘যা মুখ হাত ধুয়ে কাপড় পালটা। এ নিয়ে পরে ভাবনা করা যাবে।’

    ‘তোমার রুমমেট কোথায়?’

    ‘কাল বাইরে থেকেছে।’

    ‘মানে? বলো কোথাও গিয়েছেন।’

    ‘দূর! মাঝে মাঝেই ও হস্টেলে ফেরে না। তুই রাগ করবি কিন্তু ও নষ্ট মেয়েমানুষ।’

    ‘ওঃ। বনানীদি—!’

    ‘সত্যি কথা বললাম। মেয়েদের চারপাশে কোথাও একটা বর্ডার থাকা উচিত। ওর তা নেই।’

    ‘তাই বলে নষ্ট হয়ে গেল?’

    ‘তুই তো আছিস, বুঝতেই পারবি।’ বনানীদি তক্তাপোশ থেকে উঠে দাঁড়ালেন, ‘যা আর দেরি করিস না। আমাকে এখনই স্কুলে যেতে হবে। গামছা সঙ্গে আছে না আমারটা দেব?’

    ‘তুমি অকারণে ব্যস্ত হচ্ছ। আমাকে কয়েকটা দিন আশ্রয় দাও তা হলেই হবে।’

    দুপুরে একা হয়ে গেলে কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না দীপাবলী। নতুন চাকরিবাকরির কোনও হদিশ ভাবামাত্র হবে না এটা সে জানে। একটা চাকরি পেতে কয়েক মাস, হয়তো বছরও অপেক্ষা করতে হতে পারে। কিন্তু থাকার পাকা জায়গা চাই! এই হস্টেলে যখন হল না তখন অন্য হস্টেলগুলোয় চেষ্টা করা উচিত। এর আগেরবার থাকার সময় সে আরও দুটো হস্টেলের খবর জেনেছিল। একটি আছে পূরবী সিনেমার সামনে, শিয়ালদায়, অন্যটি মানিকতলায়। দূরত্ব খুব বেশি নয়।

    বিকেল তিনটে নাগাদ দীপাবলী আবিষ্কার করল কলকাতায় এসে একা বাস করছে এমন মেয়ের সংখ্যা যেন হুড়মুড়িয়ে বেড়ে গিয়েছে। কোথাও ঠাই নেই, খুব অল্প সময়ের মধ্যে যদিও বা দু’-একটা সিট খালি হতে পারে কিন্তু তার জন্যে প্রতীক্ষায় রয়েছে অনেকে। আর ওই দুটো হস্টেলে ঘুরে সে জানতে পারল শুধু উত্তরে নয়, দক্ষিণেও মেয়েদের থাকার হস্টেল বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় তার সংখ্যা এত কম যে ঘুরে ঘুরে পা ব্যথা হওয়া ছাড়া নতুন কোনও লাভ হল না। এবং তখন তার রাধার কথা মনে পড়ল। কলেজে থাকার সময় সাহস দেখিয়ে সে রাধাদের কলোনিতে ঘর ভাড়া করে ছিল কিছু সময়। রাধা ছিল বলেই সেটুকু সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু অনভ্যাসের চন্দন এত শুকিয়ে খটখটে হয়ে গিয়েছিল যে অসুখ নিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু অমন একটা দুর্ঘটনা, সেটা না ঘটলে তো একসময় নিশ্চয়ই অভ্যেসে এসে যেত একা থাকা। দক্ষিণের হদিশ বিফল হতে গড়িয়াহাটের মোড়ে দাড়িয়ে সে একবার ভাবল রাধার কাছে যাবে কিনা। রাধা কী করছে কেমন আছে তা কলেজ ছাড়ার পর আর জানা নেই। এবং তখনই তার মনে পড়ল রাধার দাদার কথা। কী যেন নামটা—! দীপাবলী কিছুতেই মনে করতে পারছিল না। কিন্তু সেই সাধারণ সহজ লোকটি গড়িয়াহাটের ফুটপাতেই দোকান করত। দীপাবলী মুখ ফিরিয়ে দেখল গড়িয়াহাটের মোড়ের চার রাস্তার ফুটপাত জুড়ে সার সার দোকানে ব্যস্ততা চলছে। এদের সংখ্যা কম নয় এবং তার মধ্যে কোনটে বাধার দাদার তা খুঁজতে যথেষ্ট সময় লাগবে। তবে ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হলে সে রাধার বর্তমান অবস্থা জানতে পারত। দীপাবলী হাঁটতে লাগল। তিনটে রাস্তা অনেকখানি ঘোরার পর সে দেখল একটি ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। এবার চতুর্থ রাস্তায় পা বাড়িয়েই মনে হল একটা লোক অনেকক্ষণ তার পিছু ছাড়ছে না। লোকটিকে সে অন্তত এর আগের দুটো রাস্তায় পেছন পেছন আসতে দেখেছে। তখন মাথা ঘামায়নি। কলকাতার ফুটপাতে যে-কোনও মানুষের ইচ্ছেমতো হাঁটার অধিকার আছে। আর তা ছাড়া এতদিন বাইরে থেকে তার চিন্তায় আসে না একটা লোক খামোকা পেছন পেছন হাঁটতে পারে। সে ঘুরে দাড়িয়ে লোকটাকে দেখতেই বুঝল সন্দেহটা অমূলক নয়। মুহূর্তেই কেমন নার্ভাস হয়ে গেল মানুষটার মুখ। চোরের মতো ডানদিকে বাঁদিকে তাকাতে লাগল। দীপাবলী যে চট করে থেমে যাবে তা সম্ভবত ভাবতে পারেনি। এখন না পারছে থামতে না স্বচ্ছন্দে এগোতে। তবু দ্রুত সেই ভাবটা কাটিয়ে পাশের স্টলের সামনে গিয়ে পত্রিকা দেখতে লাগল। ওর দেখার ভঙ্গিতে বোঝা গেল পত্রিকাগুলোকে সে আগে নাড়াচাড়াও করেনি। দীপাবলী উপেক্ষা করল। আগবাড়িয়ে কথা বলার কোনও মানে হয় না, বিশেষ করে লোকটা যখন সরাসরি তাকে কিছু বলছে না। সে আবার হাঁটতে শুরু করল। হঠাৎ কানে এল, ‘আরে! দীপাবলী না!’

    চমকে পেছনে ফিরতেই সে হতভম্ব। সুদীপ। ঢোলা পাঞ্জাবির নীচে প্যান্ট পরেছে, হাতে গোটা তিনেক মোটা ইংরেজি বই। একটু রোগা হয়েছে যদিও গায়ের রঙে ফরসাভাব এসেছে। সুদীপ এগিয়ে এল, ‘আমি ঠিক দেখছি তো? হ্যাঁ, ঠিকই। কী ব্যাপার?’

    ‘খুব চমকে গিয়েছিলাম।’ দীপাবলী বুকে হাত রাখল।

    ‘সেটা তো বুঝতেই পারছি। শুনেছিলাম তুমি বাংলাদেশের কোন জেলার ডাকসাইটে অফিসার।’

    ‘বাংলাদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গ।’

    ‘রাখো! আমাদের জেনারেশন পর্যন্ত কেউ চট করে পশ্চিমবঙ্গ বলতে পারবে না। কোন জেলায় আছ তুমি? এখানে কী করছ?’

    ‘অনেকগুলো প্রশ্ন হয়ে গেল। তার আগে বলো, তুমি এখন কোথায় যাচ্ছ?’

    ‘কলেজে ক্লাস করিয়ে বের হলাম। এখন কলেজ স্ট্রিটে কফিহাউসে যাব।’

    ‘সেকী? তুমি, তোমরা এখনও নাটক করো না?’

    ‘অবশ্যই। আজ রিহার্সাল নেই।’

    ‘তা হলে চলো তোমার সঙ্গে উত্তরে ফিরে যাই। যে প্রশ্নগুলো করেছ তার উত্তর দিতে কিছুটা সময় লাগবে।’ কথা বলতে বলতে দীপাবলী লক্ষ করল সেই অনুসরণকারী এবার উলটোদিকে হাঁটতে শুরু করেছে।

    একটা টু বি বাস খালি পাওয়া গেল। সুদীপের সঙ্গে দোতলায় উঠে পাশাপাশি বসল সে। সুদীপকে দেখে তার কিছুতেই অধ্যাপক বলে মনে হচ্ছিল না। যদিও ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি থাকায় সুদীপকে বেশ ব্যক্তিত্ববান বলে মনে হচ্ছিল। অবশ্য একদিন এই সুদীপ শমিতের পাশে প্রায় নিবে থাকত। শমিতের মুখ মনে পড়ামাত্র তার মুখ শক্ত হল। সে জিজ্ঞাসা করল, “তোমাদের শমিতের খবর কী?’

    ‘আমাদের!’ হেসে ফেলল সুদীপ, ‘শমিত এখন বাংলাদেশের তামাম নাট্য প্রেমিকের। নতুন দল করেছে, নাটক নামিয়েছে। ফাটাফাটি ব্যাপার।’

    তুমি দেখেছ?’

    ‘না শুনেছি। সময় পাইনি যাওয়ার।’

    সুদীপের গলার স্বরে যতই নিরাসক্তি থাকুক তবু দীপাবলীর মনে হল বলার ভঙ্গি সহজ নয়। এই সুদীপ এবং শমিত একসময় হরিহর আত্মা ছিল।

    রাসবিহারীর মোড় ছাড়ালে দীপাবলী বলল, ‘সুদীপ, আমি চাকরি ছেড়ে এসেছি। আপাতত কলকাতায় একটা থাকার জায়গা দরকার।’

    ‘তা হলে তুমি আজই মায়ার সঙ্গে কথা বলো।’

    ‘মায়া?’

    ‘তুমি জানো না আমি মায়াকে বিয়ে করেছি?’

    ‘দীপাবলী মাথা নাড়ল, ‘তা জানি।’

    ‘কার কাছে শুনলে?’

    ‘শমিতের কাছে।’

    ‘অ্যাঁ?’ চমকে উঠল সুদীপ, ‘শমিত! শমিতের সঙ্গে তোমার যোগাযোগ আছে?’

    ‘এখন নেই। কিছুদিন আগে ও আমার কাছে এসেছিল। তখনই যোগাযোগের রশি ছিঁড়ে গিয়েছে।’

    ‘তা হলে তুমি বেঁচে গেছ!’

    ‘মানে? ’

    ‘দীপাবলী, নাটক বুঝিয়েছে শুধু এই কারণে একটা লোককে চিরকাল কৃতজ্ঞতা জানানো যায় না যদি তার জীবন এবং আচরণের জন্যে মনে অবিরত ঘৃণা জন্মাতে থাকে।’ সুদীপ মুখ বিকৃত করল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }