Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৬. দোতলা বাসের জানলা

    দোতলা বাসের জানলা থেকে কলকাতাকে দেখতে বেশ অদ্ভুত লাগছিল। ঠাসাঠাসি বাড়ি, ছায়াছায়া রাস্তা, রাস্তার ভিড়, গাড়ির শব্দ— অথচ নিজেকে এসবের অনেক উঁচুতে এমন ভাবতে পারার মজা হচ্ছিল। হঠাৎ দীপাবলীর মনে হল তার পাশে যে-সুদীপ বসে আছে সে বিবাহিত। যার কাছে সে চলেছে তারও বিয়ে হয়েছে। অর্থাৎ তাদের প্রজন্মের মানুষরা এখন একটা জীবন থেকে আর একটা জীবনে ঢুকে পড়েছে। অথচ সে দাঁড়িয়ে আছে একই জায়গায়। মনের ঘরের বদ্ধ বাতাসটা আবার ছটফটানি শুরু করল। আর সেইসময় সুদীপ জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি বিয়ে করছ না কেন?’

    ‘কাকে?’ মুখ ঘোরাল দীপাবলী। আর চলতি বাসের হাওয়ার চাপে তার মুখের ওপর একফালি চুল খসে এল মাথা থেকে। সেদিকে তাকিয়ে সুদীপের চোখ হঠাৎই অন্যরকম হয়ে গেল। ব্যাপারটা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে দীপাবলী বলল, ‘আরে, উত্তরটা দাও!’

    সুদীপ মাথা নাড়ল, ‘নেই। উত্তর নেই।’

    ‘যাক বাঁচালে।’ দীপাবলী হেসে উঠল।

    ‘আমি বুঝতে পারি না, তোমার মতো সহজ সুন্দরী গুণী মেয়ের জীবনে কোনও সত্যিকারের ভাল ছেলে আসছে না কেন? ছেলেগুলো কি অন্ধ?’

    ‘দাঁড়াও দাঁড়াও। টপাটপ কয়েকটা শব্দ ব্যবহার করে ফেলেছ। সহজ সুন্দরী ব্যাপারটা আমি বুঝতে পারলাম না। আটপৌরে ভাল দেখতে?’

    ‘বাজে বোকো না। ন্যাচারাল বিউটির প্রতিশব্দ হিসেবে ভাবা যায় না!’

    ‘সবুজ মাঠ দেখে তো চোখ জুড়িয়ে যায়। ন্যাচারাল বিউটি। কিন্তু চতুষ্পদ জন্তুদের ছেড়ে দাও সেই মাঠে, তার সৌন্দর্য দেখবে না ঘাস খাবে? আর গুণী? এইটে যা বললে? কী গুণ আছে আমার যা কেউ বাইরে থেকে সাইনবোর্ডের মতো দেখতে পাবে?’

    ‘তুমি অদ্ভুত।’

    ‘একটু বাকি আছে। সবশেষে তুমি বলেছিলে সত্যিকারের ভাল ছেলে। হোয়াট দ্যাট?’

    ‘মানে ভাল ছেলে। ভাল চাকরি করে, শিল্পসংস্কৃতিতে আগ্রহ আছে, রুচি মার্জিত।’

    ‘সুদীপ, এই তোমার ভাল ছেলের ব্যাখ্যা?’

    ‘কেন? ভুল হল?’

    ‘ছেলেটি যদি ব্যাবসা করে, শিল্প সংস্কৃতির ধারে কাছে নেই, কিন্তু যে-মেয়েটিকে সে ভালবাসে তাকে উগ্রভাবেই ভালবাসতে চায়। তাকে যত্নে রাখতে পৃথিবীর কোনও কিছুর সঙ্গে সেই ছেলে কম্প্রোমাইজ করতে চায় না। একে কীরকম ছেলে বলবে?’

    ‘ওয়েল!’ সুদীপ চোখ বন্ধ করল, ‘খারাপ বলতে অসুবিধে হচ্ছে।’

    ‘শব্দটা সোনার পাথরবাটি। একটি পুরুষ ভাল কি খারাপ তা বিচার করতে পারে সেই নারী যে তার সঙ্গে থাকে। ওই নারীর ভাবনার সঙ্গে কারও ভাবনার মিল না-ও হতে পারে এবং সেটাই স্বাভাবিক৷ তা আমি যখন কোনও পুরুষের সঙ্গে থাকতে পারছি না তখন—।’ হেসে কথাটা নিয়ে আর এগোল না দীপাবলী।

    সুদীপ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আচমকা জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি কখনও কারও প্রেমে পড়েছ দীপাবলী? কোনও সম বা অসমবয়সি পুরুষের?’

    দীপাবলী হাসতে চাইল। এবং তখনই বাতাসটা যেন পাখা ঝাপটাল৷ সে কি কারও প্রেমে কখনও পড়েছে? আচ্ছা, প্রেমে পড়া বলে কেন? প্রেমে তো মানুষ ওঠে। তার উত্তরণ হয়। মুহূর্তেই চোখের সামনে অমলকুমারের মুখ ভেসে এল। একটা চিনচিনে ব্যথা, হৃৎপিণ্ডের ওজন আচমকা বেড়ে যাওয়া! কোনওরকমে সহজ হল দীপাবলী। শমিত? শমিত এখন শুধুই অস্বস্তি। জলের দাগ শুকিয়ে থাকা সাদা কাগজ।

    সুদীপ এবার হাসল, ‘কী হল?’

    মাথা নাড়ল দীপাবলী, ‘নিজের প্রেমে এমন মজে আছি যে অন্যের প্রেমে পড়ার কোনও সুযোগই পাইনি। আমার দ্বারা কিস্যু হবে না, তাই না?’

    রিহার্সাল না থাকায় মায়াকে বাড়িতেই পাওয়া যাবে ভেবেছিল দীপাবলী। কিন্তু দরজা খুলল একটি কাজের মেয়ে। সুদীপ প্রশ্ন করে জানল, মায়া এখনও ফেরেনি। সুদীপ হেসে বলল, ‘এসো আমার ঘরে এসো।’

    ততক্ষণে দীপাবলী বেশ সহজ, ‘ব্যস, বাইরে থেকে এসে যিনি অন্তরে ঢুকে বসে আছেন তাঁর জন্যে বাকি লাইনগুলো তুলে রাখো। বাঃ! চমৎকার সাজিয়েছ তো ঘরখানা।’

    সুদীপ চেয়ারে পা ছড়িয়ে বসল, ‘আমার কৃতিত্ব কিছু নেই। তোমার বন্ধু পুরুলিয়া শান্তিনিকেতন থেকে জিনিসপত্র এনে একে সুন্দর করার চেষ্টা চালিয়েছে। এসো, মায়া ফেরার আগে এক কাপ করে। চা খেয়ে নিই। খুব খিদেও পেয়েছে।

    ‘আমার পায়নি। মায়া আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি।

    ‘ধরো, মায়া যদি আজ না আসে? তুমি সারারাত অপেক্ষা করবে?

    ‘তুমি বড় বাজে বকো।’

    ‘খুব একটা বাজে নয়। তুমি তো মায়াকে চেনো।’

    ‘এরকম করে নাকি?’

    ‘অসাক্ষাতে এসব বললে নিন্দে করা হবে। বসো। সুদীপ উঠে ভেতরে চলে গেল।

    দীপাবলী আলমারির দিকে এগোল। ঠাসঠাস বই এবং দেখলেই বোঝা যায় রীতিমতো ব্যবহৃত হয়। কারও মলাট একটু ছিড়ে গিয়েছে, কেউ দাড়িয়ে আছে ব্যস্ততার হাত থেকে ছাড়া পেয়ে। একটা তাকে। পাশাপাশি আজকের কবিতার বই। বুদ্ধদেব বসু থেকে সুভাষ মুখোপাধ্যায়। মাত্র কিছুদিন আগে সে বুদ্ধদেব বসুর চিল্কায় সকাল কবিতাটি মনে করতে চাইছিল। মন কিছুতেই তুলে আনতে পারছিল না। শব্দগুলো। ভোরের প্রথম শিউলিমাখা রোদের মতো একটা অনুভূতি মশারির আড়াল আনে চারপাশে। হাত বাড়াল দীপাবলী। তার খুব ইচ্ছে করছিল কবিতাটি পড়তে এবং তখনই দরজায় শব্দ হল। কাজের মেয়েটি ছুটে আসছিল কিন্তু তাকে ইশারায় থামতে বলে সে এগিয়ে গেল। দরজা খুলতেই দেখল মায়ার মুখটা কেমন পালটে গেল। যেন নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছে না সে।

    ‘এত দেরি করে বাড়িতে ফেরা হয় কেন?’ কপট গাম্ভীর্য গলায় আনল দীপাবলী।

    ‘তুই?’ হঠাৎ ছিটকে উঠল শব্দটা, মায়া ঘরে ঢুকে দীপাবলীকে জড়িয়ে ধরল, ‘আমি ভাবতেই পারছি না তুই এখানে! কখন এলি! কী করে ঠিকানা পেলি।’

    নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দীপাবলী বলল, ‘ততাদের সঙ্গে কথা বলাই উচিত না। বিয়ে করলি চোরের মতন। একটা খবর পর্যন্ত দেবার প্রয়োজন মনে করলি না। সংসার করছিস তাও জানালি না। যদি আজ গড়িয়াহাটায় সুদীপের সঙ্গে দেখা না হয়ে যেত তা হলে—’

    ‘এখন কোনও অজুহাত দিলে শুনবি না। ব্যাপারটা হঠাৎই হয়ে গিয়েছিল। তা ছাড়া তুই সরকারি চাকরি নিয়ে কোথায় পোস্টিং পেয়েছিস তাও তত আমরা জানি না।‘ দরজা বন্ধ করে মায়া ভিতরের দরজার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘ও কোথায়?’

    ‘তোর বর নিশ্চয়ই আমাকে বাড়িতে একা রেখে বেরিয়ে যাবে না!’ দীপাবলী হাসল।

    মাথা নাড়ল মায়া। ওরা দু’জনে মুখোমুখি বসল। মায়া জিজ্ঞেস করল, কী দেখছিস?’

    ‘তোকে একদম অন্যরকম দেখাচ্ছে।’ না বলে পারল না দীপাবলী।

    ‘মোটা হয়েছি?’ মায়ার মুখচোখে একটু যেন লজ্জা!

    ‘তা তো বটেই। তুই আর মেয়ে নেই!’

    হো হো করে হেসে উঠল মায়া। এবং সেই হাসির মধ্যেই সুদীপ ঘরে ঢুকল। তার হাতে দু’কাপ চা। ছোট টেবিলে কাপ দুটো রেখে সুদীপ জিজ্ঞাসা করল, ‘এত হাসির কী হল?’

    দীপাবলী মাথা নাড়ল, ‘কিছু না। কিন্তু তুমি চা করে আনলে?!

    জবাব দিল মায়া, ‘পিটপিটে লোকদের যা অবস্থা! কাজের মেয়েটা চা ভাল করতে পারে না। উনি তাই ওকে চা করতে দেবেন না। শুধু চা দিলে?’

    সুদীপ ফিরে যাচ্ছিল, সম্ভবত নিজের কাপটি নিয়ে আসতে, যাওয়ার আগে বলে গেল, আমি যা। পেরেছি করেছি, তুমি এসে গেছ যখন তখন চার্জ টেকওভার করো।’

    বিরক্ত ভঙ্গিতে মায়া উঠতে যাচ্ছিল দীপাবলী তাকে নিষেধ করল, ‘আমি কিছু খেতে পারব না, তুই বস।’

    সন্ধের অনেক পরেও ওদের আড্ডা শেষ হল না। মায়া ওকে জোর করে খাইয়ে দিল। দীপাবলীর খুব ভাল লাগছিল। কয়েকবছর আগেও যাদের কলেজের ছাত্র হিসেবে অনেক নিয়মকানুন মেনে চলতে দেখেছে, আজ তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেসব নস্যাৎ করতে বসেছে। পারছে। সুদীপের হাবভাব এবং চেহারা যতটা এখনও চেনা মায়া তার থেকে অনেক বেশি পালটে গিয়েছে নিজের অজান্তে। শরীরে ঈষৎ মেদ লাগা, চামড়া চকচকে হওয়া, কথা বলায় তৃপ্তি ফুটে ওঠা, এসব তো ছিলই, তার সঙ্গে আরও কিছু। একটা সময় দীপাবলী সেটাও আবিষ্কার করল। যেসব স্বামী স্ত্রীদের সে এতকাল দেখে এসেছে তাদের স্ত্রীরা বয়স এবং ব্যক্তিত্বে অবশ্যই স্বামীর নীচে ছিল। মায়ার ব্যক্তিত্ব মাঝে মাঝে সুদীপের থেকে বেশি মনে হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর প্রচলিত আচরণের ছবি কিছুটা বদলে গিয়ে আজ চোখে ঠেকছিল। শমিতের পাশে মায়াকে কখনওই এমন মনে হয়নি। সুদীপকে চিরকাল শমিতের অনুগামী হিসেবে দেখেছিল। তখনই সুদীপ এবং মায়া ছিল প্রায় সমান সমান। আজ সুদীপ নিজেকে যতই পরিবর্ধিত করুক মায়া বয়স এবং অভিজ্ঞতা পেয়ে তার অনেকগুণ বেশি এগিয়ে গিয়েছে। চোখে ঠেকার কারণ এটাই। পুরুষকে লাঠি ঘোরাবার সুযোগ দিতেই এককালে বিয়ের সময় আট-দশ বছরের কম বয়সি নারীর সন্ধান করা হত।

    ওরা শোওয়ার ঘরে বসে আড্ডা মারছিল। কথা বলছিল মায়াই বেশি। সুদীপ সায় দিচ্ছিল। বেশিরভাগ কথাই ওদের নাটক নিয়ে। এখনও গ্রুপ থিয়েটার তার পায়ের তলায় কোনও মাটি পায়নি। সেই একই আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং দুর্দশার মধ্যে নাটক করে যেতে হচ্ছে। ফলে ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। কবে কখন একটা কল শো পাওয়া যাবে সেই আশায় বসে থাকা। কিন্তু সুদীপের বক্তব্য হল সাধারণ মানুষের একটু একটু করে গ্রুপ থিয়েটারের নাটক সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ছে। একটা যুগের নাট্যকর্মীরা নিজেদের শহিদ করবে হতো, কিন্তু পরের যুগের নাট্যকর্মীরা যখন তার ফল ভোগ করবে তখন এর মূল্য বোঝা যাবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যারা স্বাধীনতা অর্জনের জন্যে প্রাণ দেয় তারা। স্বাধীনতা ভোগ করে না। মায়া এই বিশ্লেষণ গ্রহণ করতে নারাজ। একটু তিক্ততা দুজনের কথাবার্তা ফুটে উঠল। পুশসেল করার ক্ষমতা শেষ হয়ে গেলে ইলভাড বিভপন টিকিট ছাপার খরচ পকে থেকে দিয়ে দিনের পর দিন শো কবে নাট্য আন্দোলন করছি বলে। যে-সুখ মনে মনে তৈরি করা হচ্ছে তা সে মানতে রাজি নয়। পরিষ্কার বলতে পারল, নাটক করতে ভালবাসি বলেই করে যাচ্ছি। ওরা এই ভালবাসার ওপরে এক একটা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে আনন্দ পায়। বলতে পারিস খুব এক্কাপেনসিভ ভালবাসা। এসব গ্রুপ থিয়েটার টিয়েটার যারা করে তারাই ভাবে। দর্শক নাটক দেখতে যায় সিপ থিয়েটারের টানে।’ সুদীপ প্রতিবাদ করেছিল। তার বক্তব্য থিয়েটার দলগত শিল্প। লেখা গানের মতো একা কিছু করা এই শিল্পে সম্ভব নয়। সিঙ্গল থিয়েটার বলে কোনও কিছু থাকতে পারে না। কাঠালেন আমসত্ত্ব। মায়া বিশদ করেছিল। এই যাট দশকেও শ্যামবাজারের বাইরে নাটক দেখতে যারা আসেন তারা বিশেষ একজনের জন্যেই আসেন। হয় শম্ভু মিত্র আছেন নয় উৎপল দত্ত। শেখর চ্যাটার্জির গ্রুপ অথবা ডানেশ মুখার্জির। একমাত্র নান্দীকারেই আরও কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে কিন্তু প্রথমেই থাকছেন অজিতেশ ব্যানার্জি। মুশকিল হল যিনি পরিচালক তিনিই প্রধান চরিত্রের অভিনেতা। বিজ্ঞাপনে শুধু তারই নাম যায়। ফলে দর্শক আগে তাকেই জানতে পারে। এবং তিনি যদি ক্ষমতাবান হন, দর্শককে আকৃষ্ট করতে পারেন, তা হলে থিয়েটারটা তার নামেই চিহ্নিত হয়ে যায়। যে-ভাবনা নিয়ে গ্রুপ থিয়েটার করার চেষ্টা হয়েছে তা চাপা পড়ে, ব্যক্তির নামই বড় হয়ে ওঠে ক্রমশ। সিঙ্গল থিয়েটার তো বটেই এবং সেটা ডিরেক্টার ওরিয়েন্টেড থিয়েটার। এই কথাটা দলের পরিচালক-অভিনেতা ছাড়া আর সবাই মানবেন। এমনকী প্রযোজনা নামাবার আগে পরিচালককে তার দলের কোনও সদস্য যদি কিছু ঠিকমতো সাজেশন দেন তা হলে তিনি তা গ্রহণ করতে অক্ষম হন। ব্যাপারটা এমন যে তার দলে আর কেউ ভাল নাটক বোঝে না। শশায়ের পরে টিকিট না কেটে আমন্ত্রিত হয়ে কিছু গুণী মানুষ গ্রিনরুমে আসেন বাহবা জানাতে এবং তারা কথা বলেন পরিচালক-অভিনেতার সঙ্গে। কলকাতা শহরে কিছু গুণী মানুষ আছেন যারা গ্রুপ থিয়েটারের শো-গুলোতে চরে বেড়ান আমন্ত্রিত হয়ে এবং নিজেদের নাট্যবোদ্ধা হিসেবে জাহির করেন। এঁরা টিকিট কাটেন না, কেউ কেউ কাগজে দু’-এক কলম লেখেন এবং এঁদের অনুগ্রহ পেয়ে নাম কেনেন পরিচালক-অভিনেতা। কিন্তু তার বিনিময়ে টিকিট বিক্রি হয় না। মায়ার বক্তব্য ছিল এভাবে নাটক বাঁচানো যাবে না। পনেরোশো টাকা খরচ এবং একশো টাকা টিকিট বিক্রি হলে একসময় মুখ থুবড়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। দলের সবাইকে গ্রুপ থিয়েটারের নামে নিজেকে উৎসর্গ করার ট্যাবলেট খাইয়ে কতদিন আর সচল রাখা যাবে! এই কারণেই এখন থেকে এই থিয়েটারকে প্রফেশনাল হতে হবে। এর দৃষ্টিভঙ্গিও পালটানো দরকার। শেষ তাস ফেলল মায়া, ‘এই যেমন সুদীপ, যতদিন আগের দলে ছিল ততদিন কেউ ওকে চিনত না। ও ছটফট করত। আর যেই নিজের দল করল, পরিচালক হল, সবাইকে গ্রুপ থিয়েটারের আদর্শের কথা বলে নিয়ন্ত্রণ করল, অমনি ওর নাম ছড়িয়ে পড়ল। টিকিট বিক্রি হোক বা না হোক, সুদীপের খুব নাম হয়েছে।

    হঠাৎ সুদীপের গলা পালটে গেল, ‘তুমি কী বলতে চাইছ মায়া?’

    কাঁধ ঝাকাল মায়া, ‘আমার এই সিস্টেমটাই ভাল লাগছে না।’

    ‘সেটা আলাদা কথা। কিন্তু তুমি আমার যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দেহ করছ। আমি জানি তুমি আমাকে কখনওই স্বীকার করতে পারবে না। আমি যত ভাল নাটকই করি না কেন তোমার কাছে স্বীকৃতি পাব না।’

    ‘কেন?’ আলতো করে প্রশ্নটা উচ্চারণ করল মায়া।

    ‘সেটা তুমি ভাল করেই জানো। সুদীপ মাথা নাড়ল, ‘তোমাকে আমি স্বাধীনতা দিচ্ছি। যদি মনে করো আমাদের দলে তুমি বাধ্য হয়ে থাকছ তা হলে স্বচ্ছন্দে চলে যেতে পারো।’

    মায়া হাসল, ‘কোথায় যাব? নাটক করতে না পারলে যে ভাত হজম হবে না।’

    ‘যেখানে হজম হবে সেখানে যাও।’ সুদীপের গলা চড়ায় উঠল, ‘আমার যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দেহ নিয়ে আমার দলে থাকতে হবে না। দলের ক্ষতি হবে তবু সেটা মেনে নেব।’

    ‘বাঃ। চমৎকার। নিজের মুখেই বলে ফেললে আমার দল। আপত্তিটা তো সেখানেই।’

    দীপাবলী চুপচাপ শুনছিল। ওর খুব মজা লাগছিল। থিয়েটার সম্পর্কে এইসব কথা সে নিজে একসময় অনেক বলেছে। তার বলে যাওয়া কথাগুলোই আজ মায়া আবৃত্তি করছে। কিন্তু এখন এই মুহুর্তে থিয়েটার সম্পর্কে কোনও কথা বলার অধিকার তার নেই। স্রোতে গা ভাসালেই দলের সঙ্গে আত্মীয়তা তৈরি করা যায়। পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শক হলে কথাবার্তার জায়গাও কমে আসা উচিত। কিন্তু ওর মজা লাগছিল অন্য কারণে। সুদীপ এবং মায়া স্বামী স্ত্রী। সমবয়সি। কিন্তু এখন এরা যেভাবে কথা বলছে তাতে মনে হচ্ছে ওরা কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া বন্ধু। মতান্তর হওয়ায় উত্তেজনা এসেছে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা অথবা সমীহ যা এতকাল দেখে-আসা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কগুলোকে আলাদা করত তা এখানে একেবারেই অনুপস্থিত। সুদীপ কি মায়াকে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করছে শমিতকে নিয়ে? ও কি এখনও শমিত সম্পর্কে হীনম্মন্যতায় ভোগে? কথাগুলোয় যেন সেইরকম গন্ধ মিশে আছে।

    সুদীপ উঠে দাঁড়িয়েছিল, ‘থাক গে। যে জন্যে দীপাবলী এ-বাড়িতে এসেছে তা নিয়ে কথা বলো।

    দীপাবলী সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘আরে তুমি যাচ্ছ কোথায়? বসো।’

    সুদীপ মাথা নাড়ল, ‘তোমরা কথা বলল, আমি এখনই আসছি।’

    সুদীপ চলে গেল। মায়া বলল, ‘ও ওরকমই। মাথা গরম হলে ঠান্ডা করতে কিছুক্ষণ একলা থাক। এবার তোর কথা বল। চাকরি ছেড়ে কলকাতায় থাকবি ঠিক করেছিস?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ। ওই চাকরি করা গেল না। ওপরওয়ালা আর স্বার্থান্বেষী কিছু মানুষের পা-চাটা হয়ে থাকতে আমি পারব না।’ দীপাবলী বলল।

    ‘তোর কিন্তু সাহস আছে। এমন সুন্দর চেহারা নিয়ে ওইরকম মাঠে জঙ্গলে একা একা পড়ে থাকতিস কী করে? আমি হলে কিছুতেই পারতাম না।’

    ‘আমার তো আর কিছুই নেই, শুধু সাহসটুকু আছে। শোন, তুই আমাকে একটা থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে দে। গড়িয়াহাটায় তোর বরের সঙ্গে দেখা হতেই বলল তোকে কথাটা বলতে।’

    মায়া হাসল, ‘তুই এখানে এসে থাক।’

    ‘এখানে?’ হাঁ হয়ে গেল দীপাবলী, ‘ভাগ।’

    ‘শোন। তুই কিছুদিন আমাদের পুরনো বাড়িতে থাকতে পারিস৷ এখন গেলে চিনতে পারবি না। পার্টিশন হয়ে যাওয়ার পরে যে যার নিজেরটা আলাদা করে নিয়েছে। আমাদের সেই কমন সিঁড়িটাও আর নেই। মা উঠে গিয়েছে পেছনের দিকটায়। অসুখ হবার পরে তুই ছাদের ওপরে যে-ঘরটায় ছিলি। সেটাও মা পেয়েছে। মা তো ওবাড়িতে একাই থাকে, তুই থাকতে চাইলে খুশিই হবে।’

    ‘বাঃ। এর চেয়ে ভাল আর কিছুতেই হবে না। কিন্তু মাসিমাকে ভাড়া নিতে হবে।’

    ‘সেটা তুই মায়ের সঙ্গে কথা বলে দ্যাখ।’

    মাথা নাড়ল দীপাবলী, ‘তোকে গিয়ে বলতে হবে। উনি যদি আমার কাছে ভাড়া নেন তা হলেই আমি ওবাড়িতে থাকব। নইলে অন্য কোথাও ব্যবস্থা করে দে।’

    ‘তুই বিয়ে করলে এসব সমস্যা হত না।’

    দীপাবলী উঠে দাঁড়াল, ‘ঠিক আছে, সুদীপকে ডাক।’

    সুদীপ নিশ্চয়ই কাছাকাছি ছিল। কথাটা শোনামাত্র ঘরে ঢুকল, ‘তা হলে সমস্যার সমাধান হয়ে গেল।’ দীপাবলী বলল, ‘আগে মাসিমার সঙ্গে কথা বলে দেখি।’

    মায়া বলল, ‘আমি দীপাবলীকে এগিয়ে দিয়ে আসছি।’

    দীপাবলী আপত্তি করল কিন্তু মায়া শুনল না। দরজায় দাঁড়িয়ে সুদীপ বলল, ‘যদি সম্ভব হয় একদিন রিহার্সালরুমে চলে এসো। দলের সবাইকে দেখবে তোমার ভাল লাগবে।’

    ‘দেখি।’ দীপাবলী বিদায় নিল। খানিকটা তফাতে এসে মায়া বলল, ‘একসময় আমি অসুস্থ ছিলাম বলে তোকে জোর করে শমিত অভিনয় করিয়েছিল। এখন আমার অনিচ্ছা দেখে সুদীপ সেটাই রিপিট করতে চাইছে।

    দীপাবলী হাসল, ‘তুই কিন্তু সুদীপকে সব ব্যাপারে যা ইচ্ছে তাই বলছিস।’

    ‘সেইরকম মনে হল বুঝি।’ হাঁটতে হাঁটতে উদাসীন গলায় বলল মায়া। সুরটা কেমন লাগল, দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘আচ্ছা, তুই সুদীপকে ভালবাসতিস জানতাম না তো?’

    ‘এখন কী করে জানলি! এই তো বললি সব ব্যাপারে যা ইচ্ছে তাই করছি।’

    ‘বাঃ, ভাল না বাসলে তোরা বিয়ে করতিস নাকি?’

    মায়া জবাব দিল না। ওরা দু’জনে নিঃশব্দে হাঁটতে লাগল। ঘড়িতে রাত হয়েছে। যদিও দোকানপাট বন্ধ না হওয়ায় সেটা ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না। বাস স্ট্যান্ডে এসে মায়া আচমকা জিজ্ঞাসা করল, ‘তোকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করছি। তুই শমিতকে বিয়ে করলি না কেন?’

    নিজের অজান্তেই ঘুরে দাড়াল দীপাবলী, অসাড়ে বলল, ‘তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?’

    ‘কেন? আমি মিথ্যে বলছি?’

    ‘একশোবার মিথ্যে। শমিতের সঙ্গে আমার এমন কোনও সম্পর্ক হয়নি যে বিয়ের কথা উঠতে পারে।’

    ‘তুই অস্বীকার করছিস দীপা।’

    ‘এরকম ধারণা তোর কেন হল?’

    ‘শমিত তোর কোয়ার্টার্সে যায়নি?’

    ‘গিয়েছিল। গিয়ে আমাকে অপদস্থ করেছে।’

    ‘মানে?’

    ‘আমি একা একটি কাজের মেয়েকে নিয়ে থাকি। সে মেয়েটিকে প্রলুব্ধ করেছে। পাশের গরিব গ্রামে গিয়ে মদ খেয়ে এমন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল যে হাসপাতালে ভরতি না করে উপায় ছিল না। লোকটা গিয়েছিল ছন্নছাড়া আবহাওয়া নিয়ে আমার জীবনকে অস্থির করতে।’

    ‘কেন?’

    ‘আমি জানি না।’

    ‘তুই ওর বাড়িতে কোনওদিন যাসনি?

    ‘গিয়েছিলাম। যখন থাকার জায়গা নেই, অথচ দরকার, সেই সময়ে।’

    ‘কেন?’

    ‘বাঃ। শমিত ছিল আমাদের বন্ধু। তুই আর ও আমাকে অসুস্থ অবস্থায় তুলে নিয়ে এসেছিলি যাদবপুরের কলোনি থেকে। আমার হস্টেলে থাকার ব্যবস্থাও করে দিয়েছিল শমিত। একজন বন্ধুর কাছে আমি নিশ্চয়ই সাহায্যের জন্যে যেতে পারি।’

    ‘সেদিন তোদের মধ্যে কিছু হয়নি?’

    ‘হয়েছিল। শমিত জোর করে আমাকে জড়িয়ে ধরে প্রেম নিবেদন করেছিল। আমি প্রচণ্ড আপত্তি করেছিলাম। তার কথা বলে সরে এসেছিলাম।’

    ‘আমার কথা? ‘

    ‘হ্যাঁ। আমি জানতাম তুই শমিতকে ভালবাসিস।’

    ‘ও। তাই সরে এসেছিলি?’

    ‘সত্যি কথা বলছি, শমিতকে বন্ধু ভাবতাম, তার বেশি কোনও ইচ্ছা আমার মনে আসেনি।’

    ‘কিন্তু শমিত আমাকে অন্য কথা বলেছে?’

    ‘কী বলেছে?’

    ‘ও তোকে ভালবাসে। এবং এই কারণেই আমাকে গ্রহণ করতে চায়নি।’

    ‘এটা একদম ওর সমস্যা। আমি কখনও জড়িত ছিলাম না।’

    ‘তুই বলছিস শমিত আমাকে মিথ্যে বলেছে?’

    ‘আমি জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি আমার সঙ্গে ওর কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।’

    ‘অদ্ভুত লাগছে।’

    ‘তুই এতসব জানলি কী করে? শমিতের সঙ্গে তোর যোগাযোগ আছে?’

    ‘মাঝে মাঝে। ওই বলেছে তোর কাছে ও গিয়েছিল।’

    ‘আর কিছু বলেনি?’

    ‘বলেছে তুই ওকে ফিরিয়ে দিয়েছিস।’ নিশ্বাস ফেলল মায়া, ‘এখন সত্যিই ওর জন্যে আমার খুব কষ্ট হয় দীপা। শুধু জেদের জন্যে কোথাও স্থির হতে পারল না।’

    দীপাবলী মায়ার দিকে তাকাল, ‘তোর সঙ্গে শমিতের তা হলে এখনও যোগাযোগ আছে?’

    ‘বললাম তো।’ মুখ ফেরাল মায়া।

    ‘সুদীপ জানে?’

    ‘জিজ্ঞাসা করেনি কখনও তবে বুঝি অনুমান করছে।’

    ‘সুদীপ নিশ্চয়ই পছন্দ করছে না তোর সঙ্গে শমিতের কোনও সম্পর্ক থাক!’

    ‘স্বাভাবিক।’

    ‘তবু করছিস কেন? ’

    ‘আই কান্ট হেল্‌প। পারি না। অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু কিছুতেই ভুলতে পারছি না।’

    ‘শমিত?’

    ‘ওকে আমি বুঝতে পারি না। মাঝে মাঝে এমন নির্লিপ্ত থাকে যে মনে হয় ওর পৃথিবীতে কোথাও আমি নেই। হঠাৎই দুম করে এমন আচরণ করে ফেলে যে মিল পাওয়া যায় না।’

    শমিত কী চায়?

    ‘জানি না।’

    ‘কিন্ত তুই ঠিক কাজ করছিস না মায়া। সুদীপকে তুই পছন্দ করে বিয়ে করেছিস।’

    ‘মানছি। কিন্তু বিয়ের আগে একটা সত্য বুঝতে পারিনি।’

    ‘কী সেটা?’

    ‘আমার পক্ষে সুদীপকে মেনে নিয়ে চিরকাল ঘর করা অসম্ভব। ও ভীষণ ভালমানুষ। যাকে বলে ন্যাতানো মানুষ। ও যে মাঝে মাঝে চকচকে কথা বলে সেটা একটা মুখোশ। আসলে একেবারে ঝুঁকি নিতে না চাওয়া ভীরু বঙ্গসন্তান। এরকম মানুষকে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মেয়ের মা হয়তো জামাই হিসাবে পছন্দ করবে। কিন্তু আমার কাছে বড় আলুনি হয়ে গেছে। ও যা, তা আমার কাছে মূল্যহীন আর ও যা হবার ভান করে সেটা যে শুধুই ভান তা বুঝতে আমার দেরি হয় না। এজন্যে দায়ী তুই। হ্যাঁ। তোর জন্যে শমিত দুর্বল এটা শোনার পর স্রেফ জেদের বশে আমি সুদীপকে বিয়ে করেছিলাম। নইলে আজ আমার জীবন অন্যরকম হত। তুই জানিস শমিতের গ্রুপে একটাও ভাল অভিনেত্রী নেই। ও বারংবার বলছে আমাকে জয়েন করতে। কিন্তু আমি পারছি না।’

    ‘এবার পারবি। সুদীপ তোকে গ্রুপ থেকে ছেড়ে দিতে চেয়েছে। ’

    ‘সেইজন্যেই আরও পারব না।’

    দীপাবলী মায়ার হাত ধরল, ‘মায়া, এখন তুই আফশোস করছিস। কিন্তু কে জানে শমিতকে বিয়ে করলে তুই স্বস্তি এবং শান্তি দুটোই হারাতিস হয়তো। ওর মতো বেপরোয়া নিয়ম না-মানা একগুঁয়ে পুরুষকে দূর থেকে পছন্দ করা যায় কিন্তু কাছে গেলে জ্বলেপুড়ে মরতে হয়।

    ‘এভাবে বাঁচার চেয়ে মরণ আরও ভাল ছিল।’

    দীপাবলী হাত ছেড়ে দিল, ‘তা হলে সুদীপকে ডিভোর্স করছিস না কেন?’

    হঠাৎ দীপাবলীকে অবাক করে দিয়ে মায়া হেসে ফেলল, ‘মাঝে মাঝে নিজেকেই বুঝতে পারি না, তাই। যাক গে। তোর বাস আসছে। তুই আগামীকাল সকালে মায়ের ওখানে চলে আয়। আমি দশটা নাগাদ যাব।’

    সেই রাত্রে হস্টেলে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পরেও দীপাবলী ঘুমাতে পারছিল না। তার কেবলই মনে হচ্ছিল মায়া ঠিক বলেনি। সে মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল বলে শমিতকে মায়া বিয়ে করেনি এটা মোটেই সত্যি নয়। নিজেকে কীরকম ময়লাটে বলে মনে হচ্ছিল তার। শমিতকে কি কখনও ভালবাসার কথা। বলেছে? কখনও এমন ইঙ্গিত দিয়েছে? সে চোখ বন্ধ করে পরিচিত মানুষের মুখ দেখতে চাইল। তিনজন তার জীবনে খুব বন্ধুর মতো কাছাকাছি এসেছিল। প্রথমে অসীম। উনিশ-কুড়ি বছরের একটি ভাল ব্যবহার করা ছেলের প্রতি তো সব মেয়েই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে। একথা ঠিক, অসীম যখন তাকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল তখন সে ধীরে ধীরে আবেগে আক্রান্ত হয়েছিল। স্রেফ বন্ধুত্ব। এবং অন্য ধরনের আবেগের মাঝখানে যখন সে দাড়িয়ে তখনই বুঝতে পেরেছিল। অসীমের সঙ্গে তার মানসিকতার লক্ষ যোজন তফাত। যাত্রা শুরু করার মুখে সে তাই থেমে যেতে পেরেছিল। একজন নারী হিসেবে ওই আবেগের শিকার হওয়া, শুধুই প্রাথমিক কেঁপে ওঠা কি অপরাধ? না। কিছুতেই নয়। অসীমকে সে কখনই প্রেমিক হিসেবে সম্মান দেয়নি। দেওয়া অসম্ভব ছিল। তারপর শমিতা হ্য, যে-কোনও নারী শমিতের আকর্ষণ এড়াতে অক্ষম হবে। তার পাশে দাড়িয়ে সাহায্যের নানান হাত বাড়িয়ে আর এক শমিত ধীরে ধীরে তার মনে জায়গা করে নিচ্ছিল। কিন্তু সে জানত শমিতের সলে মায়ার সম্পর্কের কথা। শুধু সেই কারণেই সবসময় বন্ধুত্ব রেখে গিয়েছে, প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে এগোয়নি। একই সঙ্গে আবেগের ঝরনা আর নির্লিপ্তির বাধ মনের ভেতর তৈরি হয়ে গিয়েছিল বলে সে শমিতের বাড়ি থেকে ওই দুপুরে সরে আসতে পেরেছিল। যাকে বলে পরিপূর্ণ ভালবাসায় আপ্লুত হওয়া তা কখনওই শমিতের ক্ষেত্রে হয়নি। যাকে সে সবসময় দূরে রেখে দিয়েছে, যার প্রতি একই সঙ্গে আবেগ এবং নির্লিপ্তি মনে দানা বেঁধেছে, সে কী করে তার প্রেমিক হবে? শমিতকে না পেলে সে বাঁচবে না এমন ভাবনাও মনে আসেনি। শমিত তার কর্মস্থলে গিয়েছিল ঝড় হয়ে, সে একজন বন্ধু মতো ততটুকু কর্তব্য করেছে যতটুকু করা উচিত। সে কখনই এমন কোনও আচরণ করেনি যার জন্যে শমিতের জীবন ছারখার হয়ে যেতে পারে। তা হলে? এই যে এটুকু জড়িয়ে পড়া, তাও কি অন্যায়? জীবনে যে-পুরুষ প্রথমে আসবে তাকেই চোখ বন্ধ করে প্রেমিক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, এ কেমন কথা? তৃতীয় মুখ অমলকুমারের। হ্যা, ওর সঙ্গে অসীম বা শমিতের কোনও মিল নেই। বরং বলা যায় অমলকুমার সেই পুরুষ যে তার মনের ছন্দে পা ফেলে। তার প্রতি সে আকৃষ্ট হয়েছে কিন্তু সেটা পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে কোথাও একটা সংকোচ এসে আড়াল করেছে। তার মনে হয়েছিল অত্যন্ত ভদ্র এবং শশাভনভাবে অমলকুমারের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে যার মধ্যে কোনও তাড়াহুড়ো নেই, আকাঙক্ষার কোনও শিখা গ্রাস করতে মুখ বাড়ায়নি। অমলকুমার সেটা বোঝেনি তা বুঝতে সে নারাজ। কিন্তু যেটা অনুচ্চারিত ছিল সেটা উচ্চারণ করতে শেষপর্যন্ত রাজি হল না অমলকুমার। দীপাবলী যখন রসিকতা করে লিখত অমলকুমারকে সংসারী হবার উপদেশ দিয়ে তখন যেন প্রতিটি অক্ষরে তার বিপরীত কথাই বলতে চাইত। খুড়তুতো ভাইয়ের বিধবা স্ত্রী হিসেবে যে-সম্পর্ক নিয়তি তৈরি করে দিয়েছিল তা কখনওই আড়াল হয়নি, কিন্তু দীপাবলী মনে মনে চাইত প্রস্তাবটা অমলকুমারের কাছ থেকেই আসুক। আঃ। তার বদলে এল বিয়ের চিঠি। এই শহরে অমলকুমার এখন নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে, হয়তো ভাবী বিয়ের স্বপ্ন দেখছে সে। কষ্ট হয়েছিল খুব ঠিকই চিঠি পেয়ে। কিন্তু যাকে বলে ভেঙে পড়া তা কেন পড়েনি সে?

    এরও উত্তর তার জানা আছে। অমলকুমারের প্রতি তার প্রেম জন্মেছিল। কিন্তু প্রেমের স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত বোধহয় শেকড় মনের গভীরে ছড়িয়ে পড়ে না। অমলকুমার যেহেতু তাকে সেই স্বীকৃতির। স্তরে নিয়ে যায়নি তাই একটা গুমরে ওঠা কষ্ট মুখ তুলেছিল শুধু। হয়তো জীবনে কোনও পুরুষ না এলে এই কষ্টের স্মৃতি কখনওই মুছে যাবে না। জীবনে আবার কোনও পুরুষের কথা মনে হতেই সে হেসে ফেলল। বাংলাদেশের একজন মেয়ের তিন-তিনটে পুরুষ বন্ধু জীবনে এলে তার চরিত্র সম্পর্কে কত গল্প তৈরি হয়। সে প্রেমে পড়ুক বা প্রেমের আভাসে থাক।

    হঠাৎ দীপাবলী চেতনা ফিরে পেল। সে এসব ভাবছে কেন? যতক্ষণ না সে কোনও অন্যায় করছে ততক্ষণ কোনও অনুশোচনার প্রশ্নই ওঠে না। সে কোনও অন্যায় করেনি। মায়ার জীবনযাপন ওর সমস্যা। তার কোনও দায় নেই। দীপাবলী চেষ্টা করল ঘুমাতে। বালিশ আঁকড়ে।

    সতীশবাবু দুঃসংবাদটা দিলেন। কলকাতা থেকে ফিরতে ফিরতে দুপুর হয়ে গিয়েছিল। সকালের অফিস তখন ছুটি হবার মুখে। সতীশবাবুও বেরোচ্ছিলেন। দীপাবলীকে দেখে থেমে গেলেন। বললেন, ‘তা হলে কি সব স্থির করে এলেন এবারে?’

    দীপাবলী অফিসের বাইরের ঘরে চেয়ার টেনে বসল, ‘হ্যাঁ। থাকার জায়গা পেয়ে গেছি।’

    ‘মন স্থির হয়ে গিয়েছে?’ লোকটি অদ্ভুত গলায় জিজ্ঞাসা করল।

    ‘মানে?’

    ‘চেষ্টা করলে তো এখান থেকে বদলিও হওয়া যেত।’

    ‘নাঃ। যা ঠিক করেছি তা আর পালটাব না।’

    ‘ও। আপনার জন্যে স্নানের জল তুলিয়ে রেখেছি। আপনি ঘরে গিয়ে বিশ্রাম করুন। আমি ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই খাবার নিয়ে ফিরে আসছি।’ সতীশবাবু বললেন।।

    ‘কেন?’ ভ্রূ কোঁচকাল দীপাবলী, ‘আপনি খাবার আনতে যাবেন কেন? তিরি কোথায়?’

    ‘সে নেই।’ মাথা নিচু করলেন বৃদ্ধ।

    ‘নেই মানে? অবাক দীপাবলী।

    ‘সে এখানকার কাজ ছেড়ে দিয়েছে।’

    ‘সেকী? যাওয়ার সময় তো কিছু বলেনি। অদ্ভুত ব্যাপার। ও কি নেখালিতে স্বামীর কাছে ফিরে গেল? ব্যাপারটা আমি ভাবতে পারছি না সতীশবাবু!’

    ‘না মা, সে নেখালিতে যায়নি। শুনছি সে হাটতলার পাশে ঘর নিয়ে অর্জুন নায়েকের আশ্রয়ে আছে। আমি অনেক নিষেধ করেছিলাম চাকরি ছাড়তে, শোনেনি।’

    কী বলছেন আপনি?’ প্রায় চিৎকার করে উঠল দীপাবলী।

    ‘হ্যাঁ মা। বলে গেল, আজ নয় কাল যে-কাজটা করতেই হবে সেটা সময় থাকতে করাই ভাল। আপনি চলে যাওয়ার পর ওর কপালে যা লেখা ছিল তা বোধহয় পড়তে পেরেছিল।’

    দীপাবলী দু’হাতে মুখ ঢেকে বসে রইল। জীবন বড় বিচিত্র। কখনওই কোনও হিসেব ঠিকঠাক মেলে। না। নিজেকে খুব ছিবড়ে বলে মনে হচ্ছিল তার।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }