Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৮. এ এক অপূর্ব আনন্দ

    এ এক অপূর্ব আনন্দ! সমস্ত উত্তেজনা উৎকণ্ঠায় সিঁটিয়ে থাকা নার্ভগুলো আচমকা মোলায়েম হয়ে গেল। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রগুলো একের পর এক যখনই হাতে আসছিল তখনই একই অভিজ্ঞতা। সে সব জানে, সব। এই কয়েক মাস দিনরাত এবং পৃথিবী ভুলে জ্ঞানসমুদ্রের ঢেউগুলো ভাঙতে ভাঙতে যে দিশেহারা অবস্থায় পৌঁছেছিল তা উধাও হতে সময় লাগেনি। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর মনের মতো করে লিখতে পারার যে আনন্দ তার সঙ্গে অন্য কোনও সুখের তুলনা ওই মুহূর্তে তার মনে পড়েনি। প্রশ্নগুলো এত চেনা, উত্তরগুলো এমন পরিচিত, যেন সে চোখ বন্ধ করে এ-ঘর থেকে ও-ঘরে হেঁটে যেতে পারল।

    শেষ পরীক্ষার পর বাইরে বেরিয়ে এসে দীপাবলী প্রথম ক্লান্তিবোধ করল। এতদিন অথবা এই পরীক্ষার দিনগুলোতে তার মনে কখনও ক্লান্তি আসেনি। তার মনে পড়ল এখন আর কিছুই করার নেই। চাকরি নেই, পড়াশুনো নেই, কোনও কিছুতে সে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারবে না। আর এটা মনে হওয়ামাত্র এতদিনের চাপা-থাকা ক্লান্তি ঝাঁপিয়ে পড়ল।

    এইসময় রোজ বাড়িতে ফিরে গিয়েই পরের দিনের জন্যে তৈরি হত সে। আজ তার প্রয়োজন নেই। নিজেকে একদম বিচ্ছিন্ন করে রাখায় পুরনো বন্ধুদের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরি হয়নি। এইসময় মায়া অথবা সুদীপের বাড়িতে থাকার কথা নয়। ভরদুপুরে অকেজো লোকের সন্ধান পাওয়া মুশকিল। কিন্তু দীপাবলীর খুব ইচ্ছে করছিল কারও সঙ্গে কথা বলতে। খানিকক্ষণ আড্ডা দিতে। অথচ তেমন কেউ নেই এই কলকাতায়। এবং অবশ্যম্ভাবী যে-নাম মাথায় এল তার ওখানে যেতে অনেক কুণ্ঠা। কুণ্ঠা না বলে অনিচ্ছাই বলা ভাল। হিসেবমতো অমলকুমারের বিয়ে কয়েক মাস হয়ে গিয়েছে। বিবাহিত অমলকুমারের সঙ্গে আড্ডা মারতে যে-মানসিকতা দরকার তা এখনও তার তৈরি হয়নি। মাসিমার সঙ্গে গিয়ে কথা বলা যায়। কিন্তু কী কথা বলবে সে? যে-কোনও বিষয়ই হবে ভাসাভাসা, ওপর ওপর। এবং সেখানে ওঁর বউমা নিশ্চয়ই থাকবে। একটি অপরিচিতা মেয়ে যার চোখে শুধু কৌতূহল থাকবে তার সম্পর্কে, তাকে শত্রু ভাবার কোনও কারণ নেই। শত্রু শব্দটি মনে আসতেই সে মাথা নাড়ল। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে নিজেকে ধিক্কার দিল। তার মন কি আজকাল খুব ছোট হয়ে যাচ্ছে! এরকম একটা ভাবনা সে ভাবতে পারল কী করে? অমলকুমারকে সে খুবই পছন্দ করেছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে এমন কথা হয়নি যে চুক্তিভঙ্গ করার অপরাধে সে অপমানিত হবে এবং ওর স্ত্রী সম্পর্কে ঈর্ষান্বিত বোধ করবে। যা কিছু হয়েছে এবং সেইজন্যে মনে কোনও চাপ যদি এসে থাকে তবে সেটা একান্তভাবে তার নিজের সমস্যা। ওদের কোনও সংযোগ নেই এর সঙ্গে। কিন্তু শব্দটা সে ভাবতে পারল কী করে? হ্যাঁ, এটা ঠিক, সে মহিলার সঙ্গে স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারবে না। যেখানে অস্বস্তি সেখানে না যাওয়াই ভাল।

    ‘দীপা!’

    ডাকটা কানে আসতেই মুখ ফিরিয়ে চমকে উঠল সে। কিন্তু সেটা লহমা মাত্র। তারপর হেসে ফেলল, ‘আরে, তুমি! কেমন আছ?’

    ‘যাক, চিনতে পারলে তা হলে!’

    ‘না চেনার কিছু নেই। একটু স্বাস্থ্য ভাল হয়েছে, এই যা।’

    ‘অনেকক্ষণ থেকে লক্ষ করছিলাম কিছু ভাবতে ভাবতে হাঁটছ। ডাকব কিনা বুঝতে পারছিলাম না।’

    ‘আমি দেখতে পেলে দ্বিধা করতাম না।’

    ‘তাই!’

    ‘পরিচিত মানুষকে অনেকদিন বাদে দেখলে যদি কথা বলতে ইচ্ছে করে তা হলে ইতস্তত করব কেন? যাক, কেমন আছ বলো?’ দীপাবলী সহজ গলায় জিজ্ঞাসা করল।

    ‘চলছে। তুমি এখানে কী করছিলে?’

    ‘একটা পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম। চাকরির।’

    ‘চাকরি? তুমি তো চাকরি করছ বলে শুনেছিলাম।’

    ‘ও। হ্যাঁ করতাম, কিন্তু ছেড়ে দিয়েছি।’

    দীপাবলী লক্ষ করছিল অসীম এখন পুরোপুরি ভদ্রলোক হয়ে গিয়েছে। সেই ছাত্রসুলভ ছেলেমানুষি যা স্বভাবের সঙ্গে চেহারায় জড়িয়ে থাকে তা আর নেই। ওর চোখে এখন পাতলা ফ্রেমের চশমা, শরীরেও ভারিক্কি ভাব। সুখী মানুষদের চেহারা যেমন হয়। এবং তখনই সে আবিষ্কার করল কোনও কথা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অসীমও কেমন জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কথার অভাবে। যে-সময়টা কথা না বলে পার করল তারা তারপরে আর দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। আবার হুট করে চলেও যাওয়া যাচ্ছে না। তবু দীপাবলী নিচু গলায় বলতে পারল, ‘ঠিক আছে, চলি।’

    অসীমকে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দীপাবলী পা বাড়াল। আর তখনই অসীম বলে উঠল, ‘দীপা, তোমার হাতে সময় আছে?’

    ‘কেন?’ দীপাবলী মুখ ফেরাল।

    ‘আমি, আমরা কোথাও বসতে পারি না। এই, খানিকক্ষণ!’

    দীপাবলী দেখল অসীমের মুখ কোমল হয়ে গেছে। এবং সেটা মোটেই অভিনয় নয়। এক মুহূর্ত ভাবল সে। অসীম শত্রু নয়। বরং কলকাতায় আসার পর বন্ধু হিসেবে সে ওকেই প্রথমে পেয়েছিল। পরে তার সঙ্গে মিথ্যে কথা বলা, কিছুটা নিচুতে নামায় সম্পর্কচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অসীম তাকে কিছুটা ভাল সময় উপহার দিয়েছিল এতে কোনও সন্দেহ নেই। এখন অসীম সম্পর্কে কোনও দুর্বলতা তার মনে অবশিষ্ট নেই। প্রথম যৌবনে সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনও পুরুষ যখন বন্ধুর মতো পাশে এসে দাঁড়ায় তখন মন নরম হয়ই। অন্তত প্রথমবার জলপাইগুড়িতে যাওয়ার সময় সারারাতের ট্রেনে, গঙ্গার ওপর স্টিমারে মনে সেই ভাল লাগা জন্মেছিল। তবু সে এখন জিজ্ঞাসা না করে পারল না, ‘তুমি কেন বসতে চাইছ অসীম?’

    এই সময়টুকু পেয়েই অসীম বোধহয় দ্রুত নিজেকে ফিরে পেয়েছিল। সে শান্ত গলায় জবাব দিল, ‘তোমার সঙ্গে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে। এই ইচ্ছেটা কিন্তু অনেকদিনের। তোমার আপত্তি না থাকলে আমার খুব ভাল লাগবে।’

    মাথা দোলাল দীপাবলী, ‘ঠিক আছে। এখন আমার বাড়িতে ফিরতে ভাল লাগছিল না। কথা বললে কিছুটা সময় কাটবে। কোথায় বসবে?’

    আমরা ফ্লুরিসে বসতে পারি। পার্ক স্ট্রিট এখান থেকে বেশি দূরে নয়।’

    ‘না, তার চেয়ে কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসে চলল। অনেকদিন ওখানে যাইনি।’

    ‘যাইনি আমিও। কিন্তু সেখানে তো বাজারের আবহাওয়া।’

    ‘একসময় তো তুমিই আমাকে নিয়ে গিয়েছিল ওখানে। ঠিক আছে, তোমার জায়গায় যাওয়া যাক।’ অসীমের ইচ্ছেটাকে মেনে নিল দীপাবলী।

    অসীম তাকে অনুসরণ করতে বলল। খানিকটা পিছিয়ে দীপাবলী দেখল রাস্তার পাশে পার্ক করা একটা গাড়ির দরজায় চাবি ঢোকাল অসীম। চমৎকার দেখতে ফিয়াট। ওপাশের দরজার লক খুলে গাড়ি থেকে নেমে ঘুরে গিয়ে সেই দরজা টেনে ভদ্রভাবে দাঁড়াল অসীম। এটুকু দীপাবলী নিজেই করতে পারত কিন্তু এই মুহূর্তে ভাল লাগল। ইংরেজি ছবির পুরুষ চরিত্রদের সে মেয়েদের এইভাবে সৌজন্য দেখাতে দেখেছে। যে-দেশের ছেলেরা একসঙ্গে রাস্তায় নেমে মেয়েদের দশ হাত পেছনে ফেলে হেঁটে যায় একই লক্ষ্যে সে দেশে এমন ব্যবহার নিশ্চয়ই আলাদাভাবে চোখে পড়ে।

    অসীম গাড়ি ফার্স্ট গিয়ার থেকে সেকেন্ড গিয়ারে নিয়ে যাওয়ামাত্র দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি এখন কী করছ?’

    ‘ব্যাবসা। চামড়ার জিনিসপত্র বিদেশে এক্সপোর্ট করি।’

    ‘সেই দিল্লির চাকরিটা নাওনি?’

    ‘না।’ গাড়ি চালাতে চালাতে উত্তর দিল অসীম।

    ‘তোমার ব্যাবসা মনে হচ্ছে ভালই চলছে?

    ‘কী করে বুঝলে? ও গাড়িটা দেখে!’ অসীম হাসল।

    ‘তা তো বটেই, তোমার চেহারাতেও তার প্রকাশ ঘটেছে।’

    ‘সাদা বাংলায় বলো মোটা হয়েছি। হ্যাঁ, আপাতত মন্দ চলছে না। বাঁধা খদ্দের। নিজের কারখানা আছে। ধারধোর করে শুরু করেছিলাম, সে সব শোধ দিতে পেরেছি।’

    অসীম হাসল, ‘তুমি কিন্তু, দীপা, অনেক সুন্দর হয়েছ দেখতে।’

    খচ করে লাগল শব্দটা। তার সুন্দর হবার কোনও অবকাশ ছিল না। না আছে মনের শান্তি, না স্বস্তি। গত কয়েক মাস যে পরিশ্রম করেছে তাতে শরীরের হাল মোটেই সুবিধের নয়। এই অবস্থায় তাকে সুন্দর বলা মানে কথা খুঁজে না পাওয়া।

    সে বলল, ‘তুমি বোধহয় পালটাওনি।’

    ‘মানে!’

    ‘এখনও আগের মতো কোনও কথা মিন না করেই বলে ফেললা।’

    ‘বুঝলাম না।’

    ‘আমাকে দেখে যদি তোমার সুন্দর বলে মনে হয় তা হলে বলতে হবে তুমি সৌন্দর্যের মানেই বোঝো না।’ একটুও উত্তেজিত না হয়ে কথাগুলো বলল দীপাবলী।

    ‘এই বোঝাটা ব্যক্তিবিশেষে তফাত হয়, হয় না?’

    ‘তবু তার একটা সীমা থাকে।’

    ‘তুমিও পালটাওনি। একই রকম অহংকারী রয়ে গেলে।’

    দীপাবলী ঠোঁট কামড়াল। তার মেজাজ চট করে খারাপ হয়ে গেল কথাটা শুনেই। এরা সবাই যখন তাকে অহঙ্কারী বলে তখন তাতে একটু তেতো মিশে থাকে। মুখ ফিরিয়ে জানলা দিয়ে ফুটপাত দেখল সে। কোনওমতে নিজেকে সামলে নিল একসময়। কথা বলতে আর ভাল লাগছে না। এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে একই কথা আওড়াতে হবে।

    মুখ ফিরিয়ে দীপাবলীকে দেখে অসীমও বুঝেছিল ব্যাপারটা। সে আর কথা না বলে নিঃশব্দে গাড়ি চালাতে লাগল। কিন্তু মাঝে মাঝে আড়চোখে দীপাবলীকে দেখার লোভ সংবরণ করতে পারল না। হঠাৎ দীপাবলী নড়েচড়ে বসল। তার মনে হল সে কেন অসীমের সঙ্গে চা খেতে যাচ্ছে? যে-কোনও সিনেমাহলে ঢুকে সময় কাটাতে পারত। অসীম তার কাছে আলাদা গুরুত্ব পাবে কেন? যে-কেউ চা খেতে বললে তার সঙ্গে চলে যেতে হবে! কিন্তু এখন গাড়ি থামাতে বলে নেমে গেলে খুব নাটকীয় হবে। অন্তত অসীমের শেষ কথার পর। হয়তো এই মনে হওয়াটাও ওই কথা শোনার প্রতিক্রিয়া।

    মিডলটন রোডে গাড়ি পার্ক করে অসীম যে সহজ ভঙ্গিতে ফ্লুরিসে ঢুকল তাতে বোঝা গেল এখানে তার নিয়মিত যাতায়াত আছে। মুখোমুখি বসার পর সে বেয়ারাকে বলল, ‘আবদুল, কী খাওয়াতে পারো বলো?’

    আবদুল জবাব দেবার আগেই দীপাবলী বলল, ‘আমি শুধু চা খাব।’

    হাত তুলল অসীম, ‘শুধু চা কেন? এখানে যখন এসেছ তখন নিদেনপক্ষে প্যাস্ট্রি খাও। এদের প্যাস্ট্রি কলকাতার সেরা।’

    ‘নাঃ, শুধু চা।’

    সেটাই আবদুলকে আনতে বলে অসীম হাসল, ‘আমার কথায় সেই যে রেগেছ এখনও তার কোনও উপশম হল না। আগে হলে তর্ক করতে।’

    ‘এখন কিছু করার ইচ্ছেটাই চলে গিয়েছে।’

    ‘বাঃ। এটা একটা পরিবর্তন। কলকাতায় কোথায় আছ?’

    ‘মায়ার বাপের বাড়িতে ঘর ভাড়া করে আছি।’

    ‘একা?’

    হাসল দীপাবলী, ‘সেটাই তো আমার স্বভাব। তোমার খবর বলো।’

    ‘এই তো, ব্যাবসা করছি।’

    ‘বিয়ে করেছ তো?’

    ‘নাঃ!’

    ‘এত জোর দিয়ে না বললে!’

    ‘ইচ্ছে হয়নি বলব না, হয়েছে, কিন্তু করা হয়নি। আর বয়স তো খুব বেশি নয়।’

    এই প্রথম অসীমকে ভাল লাগল দীপাবলীর। সহজ কথাটা স্বাভাবিকভাবে বলতে পারায় মনে হল অসীমের সঙ্গে আড্ডা মারা যায়। পূর্বপরিচিতা মেয়ের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হলে বেশিরভাগ ছেলেরা এই বিষয় নিয়ে কিছুটা নাটক করে। অসীম সেই জড়তা দেখাল না। সে বলল, ‘এখানে তোমার নিয়মিত আসার অভ্যেস আছে, না?’

    ‘হ্যাঁ, জায়গাটাকে আমার ভাল লাগে।’

    ভাল দীপাবলীরও লাগছিল। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চায়ের দোকান। টেবিলে টেবিলে যারা বসে গল্প করছে তাদের গলার স্বর নিচুতেই। আদবকায়দা মানা ভদ্র সভ্য মানুষেরা কোনওরকম বেপরোয়া ছবি তৈরি করছেন না। ক্লান্তির পর এই নরম ঠান্ডায় বসতে খুব আরাম হচ্ছিল। একটা মেনুকার্ড টেবিলে রাখা ছিল। সেদিকে তাকাতেই চমকে উঠল দীপাবলী। চায়ের পট পাঁচ টাকা? তাও দু’কাপের বেশি থাকবে না। কফি হাউসে এক কাপ কফি পঞ্চাশ পয়সায় পাওয়া যায়। বসন্ত কেবিনের চা আরও শস্তা। পকেটে কী পরিমাণ পয়সা থাকলে লোকে এখানে আসতে পারে! সে বিস্ময় প্রকাশ না করে পারল না।

    অসীম বলল, ‘আসলে এরা যে মানের চা দেয় তা মধ্যবিত্ত কোনও রেস্টুরেন্টে পাবে না। যে-আরামে বসে তুমি সময় কাটাচ্ছ তার জন্যেও তো একটা দাম দেওয়া উচিত। তুমি যদি আরাম করতে চাও তা হলে তার জন্যে উপযুক্ত দাম তো দিতেই হবে।’

    ‘আমরা সাধারণ মানুষ, দাম দেখলেই চমকে উঠি।’

    ‘আমি অসাধারণ নই কিন্তু, তবে একটু আরামে থাকার চেষ্টা করি। কেউ কেউ প্রচুর রোজগার করেন, কিন্তু তাঁদের এমন অভ্যেস হয়ে যায় যে ইচ্ছে থাকলেও পয়সা খরচ করতে পারেন না। যদি কখনও টাকা পকেটে না থাকে তা হলে এখানে আসব না কিন্তু তাই বলে আফশোসও করব না।’

    ‘বাঃ, চমৎকার থিয়োরি তৈরি করে নিয়েছ তো’ দীপাবলী হাসল, ‘মনে হচ্ছে এর মধ্যেই তুমি সাফল্যের সুবিধেগুলো রপ্ত করে ফেলেছ। মদ খাও?’

    ‘খাই না বললে মিথ্যে বলা হবে। তবে লোকে যেমন পায়েস খায় তেমনি আমি মদ খাই।’ অসীম চা আসছে দেখে একটু সরে বসল।

    ‘পায়েস খাওয়ার সঙ্গে মদের কী সম্পর্ক?’

    হাসল অসীম, ‘বাঙালি পায়েস খায় জন্মদিনে আর শীত পড়লে। বাকি মাসগুলোতে সচরাচর কেউ পায়েস রাঁধে না। আমারও তেমনি বড় অর্ডার পেতে পার্টি দিলে বা তেমন কেউ নেমন্তন্ন করলে হাতে মদের গ্লাস তুলতেই হয়। কিন্তু মদ খাওয়ার পর নিজেকে স্বাভাবিক রাখার মধ্যে অদ্ভুত আনন্দ খুঁজে পাই। অবশ্য সেরকম ব্যাপার বছরে কয়েকবারই ঘটে।’

    আবার ভাল লাগল দীপার। আজ অবধি সে কাউকে বলতে শশানেনি যে সে মদ খায়। বাঙালির মদ লুকোবার সহজাত প্রবণতা আছে। যে-শমিত অমন বেপরোয়া সে যখন নেখালিতে গিয়ে দিশি মদ গিলেছে তখন বোঝাই যায় কলকাতায় তার মদ খাওয়ার অভ্যেস ছিল। কিন্তু কখনই তার কথাবার্তায় সেটা আগে বুঝতে দেয়নি। হয়তো অসীম প্রচুর পরিমাণে খায়, নিজেকে ঢাকতে আগেভাগে স্বীকার করে ভদ্র সাজতে চাইছে। কিন্তু তাই বা ক’জন করে। আর তখনই তার চোখের সামনে অর্জুন নায়েকের মুখ ভেসে উঠল। সন্ধে নামলে যে-লোকটা মদ ছাড়া থাকতে পারে না, মদ খাওয়ার ব্যাপারে যার কোনও লাজলজ্জা নেই, তাকে সে কোন পর্যায়ে ফেলবে? অর্জুনের চোখেমুখের ওপর সুরার ছাপ পড়েছে। চোখের তলায় চর্বি জমেছে। সে হঠাৎ মুখ তুলে অসীমকে দেখল। অসীমের মুখের চামড়া টানটান, কোথাও সামান্য ভাঁজ নেই। অর্জুনের সঙ্গে ওর কোনও মিল নেই। অসীম বলল, ‘আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কী খুঁজছ?’

    স্বীকার করল দীপাবলী, ‘আমি একজন মদ্যপায়ীকে চিনতাম। তার মুখের দিকে তাকালে বোঝা যায় মদ কতখানি অধিকার করেছে। লোকটার অনেক দুর্নাম ছিল কিন্তু কখনই আমাকে অসম্মান করেনি। কারণটা আমি আজও বুঝতে পারি না।’

    ‘তুমি কী বলতে চাইছ?’ হঠাৎ অসীমের গলা পালটে গেল। কানে যেতেই নিজের ভুল বুঝতে পারল দীপাবলী। সে চা ঢালতে লাগল কাপে, ‘কী বলতে কী বলেছি। দোহাই, নিজেকে এর সঙ্গে জড়িয়ে ফেললা না।’

    চা খাওয়া হল চুপচাপ। দাম মেটাল অসীম। তারপর বলল, ‘তোমাকে তোমার বাড়িতে পৌঁছে দিতে আমার কোনও অসুবিধে নেই। অবশ্য তোমার আপত্তি যদি না থাকে।’

    ‘নাঃ, এই থাক। একদিনে অত আরাম সহ্য হবে না।’

    ‘তোমার সঙ্গে আবার দেখা হতে পারে?’

    ‘বাঃ, এক শহরে যতক্ষণ আছি ততক্ষণ তো হতেই পারে।’

    ‘যতক্ষণ মানে? তোমার কি অন্য শহরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে?’

    ‘কে বলতে পারে। চাকরিবাকরি নেই, যদি শেষপর্যন্ত বাধ্য হই যে-কোনও চাকরি করতে, তা হলে ভারতবর্ষের যে-কোনও জায়গায় চলে যেতে পারি।’

    ‘দীপা—!’

    ‘বলতে পারো।’

    ‘দীপা, তুমি বিয়ে করবে না?’

    মুখ নামাল দীপাবলী। তারপর এক ঝটকায় নিজেকে সোজা করল, ‘করব না বলে এখনও ভাবিনি। আসলে এ নিয়ে ভাবার মতো মানুষের দেখাই এখনও পেলাম না।’

    ‘তুমি কি ঠিকঠাক কথা বলছ দীপা?’

    ‘আমি অকারণে অসত্য বলি না।’

    ‘কিন্তু তোমার ব্যবহারে একসময় অন্য কিছু প্রকাশ পেত।’

    ‘ও। হ্যাঁ, সে একটা সময় ছিল। তখন ভাল লাগাটাকেই ভালবাসা বলে মনে হত। সেটা মানুষের এমন একটা বয়স যখন বিচারশক্তি তৈরিই হয় না। তোমাকে ধন্যবাদ, তুমি নিজের অজান্তে বিপরীত আচরণ না করলে হয়তো ভুল বুঝতে পারতাম না।’

    ‘ভুল বলছ দীপা?’

    ‘অসীম, এখন এ নিয়ে কথা বলা মানে পোস্টমর্টেম করা। অতগুলো বছর চলে গিয়েছে, সবকিছু খুঁটিনাটি স্মৃতিতে নেইও। কী দরকার ওই প্রসঙ্গ টেনে আনার!’

    অসীম মাথা নাড়ল। তারপর বলল, ‘চলো, উঠি। তোমাকে পৌঁছে দিতে পারলে আমার ভাল লাগত। আমি গাড়িতে যাব আর তুমি ভিড় বাসে যাবে—!’

    ‘অসীম, তোমার তো এখন প্র্যাকটিক্যাল হওয়া উচিত। জীবনের সত্য স্বীকার করে নিতে এত সংকোচ করছ কেন? আমার এখন যা অবস্থা তাতে বাসই তো স্বাভাবিক।’

    বাইরে বেরিয়ে এল ওরা। বিদায় নেবার জন্যে অসীম দাঁড়াল, ‘শোনো, আমি আমার অতীতের আচরণের জন্যে ক্ষমা চাইতে পারি না। সেই অধিকারও আমার নেই। কিন্তু তোমাকে এটুকু বলতে পারি সেই আমি আর এই আমি এক নই। তাকে অনেক পেছনে ফেলে এসেছি।’

    ‘তুমি কী বলতে চাইছ?’

    ‘তোমার মনে কি আমার জন্যে কোনও ইমোশনাল ইনভলভ্‌মেন্ট অবশিষ্ট নেই?’

    অসীমের মুখের দিকে তাকাল দীপাবলী, তারপর নীরবে মাথা নেড়ে না বলল।

    অসীম মুখ নিচু করল। তারপর সেই অবস্থায় বলল, ‘কিন্তু আমার আছে।’

    ‘সেটা তোমার সমস্যা। সমাধান তোমাকেই করতে হবে।’

    ‘তুমি এত নিষ্ঠুর কেন?’

    ‘নাঃ, আমি জীবন দেখেছি। অসীম, সেই তুমি আমার মানসিকতার নও।’

    ‘মানলাম। কিন্তু এই আমি?’

    ‘এখনকার তোমাকে তো আমি চিনিই না।’

    ‘চিনতে তো অসুবিধে নেই।’

    ‘তার জন্যে এফর্ট দিতে হয়।’

    ‘তাই দাও।’

    হাসল দীপাবলী, ‘আর যাই হোক, এই সম্পর্ক এফর্ট দিয়ে হয় না অসীম। স্বাভাবিকভাবেই আসে। ঠিক আছে, তুমি আমাকে পৌঁছে দিতে চাইছিলে, চলো।’

    ‘তুমি আমাকে অনুগ্রহ করছ?’

    ‘বাঃ! তোমার গাড়িতে লিফট নেব, অনুগ্রহ তো তুমিই করছ।’

    অসীম ঘুরে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। পাশাপাশি বসে ওরা কিছুক্ষণ নিঃশব্দে রইল। পার্ক স্ট্রিট পাড়ার হোটেল চত্বর ছাড়িয়ে নিরিবিলিতে আসার পর দীপাবলী বলল, ‘বাঃ, কী সুন্দর জায়গা। এখানে যদি একটা ফ্ল্যাট পাওয়া যেত!’

    ‘ফ্ল্যাট চাও?’ গাড়ি চালাতে চালাতে জিজ্ঞাসা করল অসীম।

    ‘হ্যাঁ। আছে সন্ধানে?, বেশি টাকা দিতে পারব না কিন্তু। আমার মতো কুঁজোর অবশ্য চিত হয়ে শোওয়ার স্বপ্ন দেখাই উচিত নয়। তবে এসব জায়গা দেখলে ইচ্ছে হয়।’

    কিছু দূর যাওয়ার পর অসীম গাড়ি দাঁড় করাল একটা পাঁচতলা বাড়ির সামনে। ইশারায় বাড়িটাকে দেখিয়ে বলল, ‘এই বাড়ির টপ ফ্লোরে আমার মাসতুতো দিদি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। জামাইবাবু আমেরিকায় থাকেন। সারাবছর ফ্ল্যাট তালাবন্ধ থাকে। উনি একজন কাউকে খুঁজছে যিনি ভদ্র শিক্ষিত, কেয়ারটেকার হয়ে থাকবেন এবং আলো ও অন্যান্য বিলগুলো পে করবেন। আর ওঁরা যখন আসবেন তখন একটা ঘর ছাড়া বাকি ঘরগুলো ওঁদের জন্যে ছেড়ে দেবেন ছুটি শেষ না-হওয়া পর্যন্ত। এমন লোক পাওয়া খুব কঠিন। তুমি যদি এই প্রস্তাবে রাজি থাকো তা হলে এখনই গিয়ে কথা বলতে পারো। ওঁরা আগামী সপ্তাহে আমেরিকায় ফিরে যাচ্ছেন।’ একটানা বলে গেল অসীম।

    ‘কত ভাড়া দিতে হবে?’

    ‘বললাম তো, ওঁরা কেয়ারটেকার চাইছেন। ভাড়া নয়, তার বদলে ফ্ল্যাটটাকে দেখাশোনা করতে হবে। ভাড়ার ঝামেলায় ওঁরা যেতে চান না।’

    ‘তা হলে আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। একেবারে বিনা পয়সায় থাকলে হীনম্মন্যতায় ভুগব। তা ছাড়া, ওঁরা আমাকে চেনেন না, জানেন না, আমাকে ফ্ল্যাট দেবেন কেন?’

    ‘আমি তোমার সম্পর্কে যতটুকু জানি ততটুকু বলব।’

    ‘তুমি আমার এই কয় বছরের জীবনযাপন জানো না।’ মাথা নাড়ল দীপাবলী, ‘নাঃ, হল না একটু আরাম করে থাকা। চলো।’

    ‘তুমি কিন্তু মিছিমিছি ব্যাপারটাকে জটিল করে ফেলছ। ওঁদের সঙ্গে আলাপ হলে দেখবে তোমার ধারণা বদলে যাবে।’ অসীম দীপাবলীর দিকে ফিরল।

    ‘দ্যাখো, আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব টাকা, যদি ওঁরা নিতে রাজি থাকেন তা হলেই কথা বলা যেতে পারে। নইলে মনে হবে অন্যের দয়ায় আছি।’

    অসীম স্টিয়ারিং-এর দিকে ফিরল, ‘তা হলে তো কিছুই করার নেই।’

    হাসল দীপাবলী, ‘তা ছাড়া এভাবে ফ্ল্যাট নিলে আমি তোমার কাছে ঋণী হয়ে থাকব। আমার যদি ইচ্ছে হয় তবু তোমাকে বলতে পারব না ফ্ল্যাটে এসো না। এটা ঠিক নয়।’

    অসীম আর কথা বলল না। চুপচাপ ওরা কলকাতার উত্তরপ্রান্তে চলে এল। এইভাবে প্রত্যাখ্যান করে দীপাবলীর মন ভাল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একসময় যে লোভ মাথা তুলেছিল সেটাও সত্যি। নিজেকে মাঝে মাঝে দুর্বোধ্য মনে হয়।

    গলির মুখে গাড়ি দাঁড় করাতে বলল সে। অসীম সেটা মান্য করে জিজ্ঞাসা করল, ‘এখান থেকে কি অনেকটা হাঁটতে হবে?’

    দীপাবলী দেখল এর মধ্যে অনেকে তাদের দেখছে। চায়ের দোকানে ঢোকার কল্যাণে সে এখনও পাড়ার লোকের কৌতূহলের বস্তু। তাড়াতাড়ি কথা শেষ করার জন্যে বলল, ‘অল্পই।’

    সে যখন গাড়ি থেকে নামছে তখন অসীম বলল, ‘একটা কথা বলি। তখন তুমি বলছিলে তোমার এই কয় বছরের জীবনযাপনের কথা আমি জানি না। ব্যাপারটা হচ্ছে আমি কতটা জানি তা তুমি জানো না।’

    ‘মানে?’ দরজা খুলে রেখেই ফিরে তাকাল দীপাবলী।

    ‘আমি জানাতে চাইনি মানে এই নয় আমি জানি না। অসীম হাসল, ‘আমি তোমার জন্যে অপেক্ষা করে আছি। এতক্ষণ একসঙ্গে থাকলাম তবু তুমি আমার বাড়ি বা অফিসের হদিশ জানতে চাইলে না। স্পষ্ট বললে কোথাও আমার জন্যে জায়গা রাখোনি। শুনতে নিশ্চয়ই একটুও ভাল লাগেনি আমার। তবু মেনে নিচ্ছি, পাওনা বলেই মানছি।’ সে পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে এগিয়ে ধরল, ‘তুমি যদি এটা রাখো তা হলে খুশি হব।’

    ‘তোমার কার্ড?’

    ‘আমার হদিশ। আচ্ছা চলি৷’ দীপাবলী নেমে দরজা বন্ধ করতেই অসীম গাড়ি ঘুরিয়ে গতি বাড়িয়ে চলে গেল। দীপাবলী লক্ষ করল অসীম একবারও ফিরে তাকাল না। কার্ডটাকে সে অন্যমনস্কভাবেই ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখল। হঠাৎ সেই ক্লান্তিটা ফিরে এল শরীরে। দীপাবলী ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগল বাড়ির দিকে। তার মস্তিষ্ক এবং শরীর ক্রমশ শিথিল হয়ে পড়ছিল।

    সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠতেই মাসিমার সঙ্গে দেখা। দীপা হাসার চেষ্টা করল। মায়ার মা বললেন, ‘তোমার আবার কী হল?’

    ‘কিছু না তো।’ দীপাবলী সোজা হয়ে দাঁড়াল।

    ‘মুখ চোখ শুকনো লাগছে। এবার তো পরীক্ষা শেষ, এখন কিছুদিন আরাম করো। আর হ্যাঁ, ওপরে যাও, তিনি দুপুরবেলায় এসে বসে আছেন।’

    ‘মায়া এসেছে?’ জিজ্ঞাসা করল বটে কিন্তু ভাল লাগল না উত্তরটা। এখন মায়া সঙ্গে থাকলে কথা বলে যাবে সমানে। তার কথা বলতে একটুও ইচ্ছে করছে না।

    মাসিমা কাছে এগিয়ে এলেন, ‘তুমি তো সব জানো। মায়া বলছে এখন থেকে এ বাড়িতে থেকেই অফিস করবে। আমি বিয়ের আগে পইপই করে নিষেধ করেছিলাম, তখন শুনলে আজ এ অবস্থা হত না। আমি যে কী করি! তুমি একটু ওকে বুঝিয়ে বলো।’

    দীপা চুপচাপ ছাদের ঘরে চলে এল। তারই চেয়ারে বসে বই পড়ছে মায়া নিবিষ্ট হয়ে। এই মুহুর্তে ওকে দেখলে কেউ আন্দাজ করতে পারবে না যে, সুদীপকে অস্বীকার করে এসেছে। দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘কী রে, কী ব্যাপার?’

    মায়া মুখ তুলল, ‘এই, এসে গেছিস! মুজতবা আলির দেশে বিদেশে’টা আবার পড়ছি, কী দারুণ লেখা!’

    ‘তা তো বুঝলাম। কিন্তু তোর খবর কী?’ দীপাবলী খাটে গিয়ে বসল।

    ‘ও, নীচেই রিপোর্ট পেয়ে গেছিস।’ মায়ার গলার স্বর পালটানো, ‘হ্যাঁ, আর পারলাম না। এখন থেকে একা থাকব।’

    ‘কী পাগলামি করছিস?’

    ‘এতদিন পাগলামি করছি এখন স্বাভাবিক হলাম। ওর সঙ্গে বাস করা যায় না।’

    ‘হঠাৎ এই উপলব্ধি হল কেন?’

    ‘দ্যাখ দীপাবলী, আমি এ নিয়ে আর ভাবতে চাই না।’

    ‘সুদীপকে জানিয়ে এসেছিস?’

    ‘নিশ্চয়ই। অন্যায় কিছু করিনি যে চোরের মতো চলে আসব।’ মায়া উঠে দাঁড়াল, ‘আমি মন স্থির করে ফেলেছি। তুই যদি জীবনের প্রথম সরকারি চাকরি কিছুকাল করে সেটা ছেড়ে দিয়ে নতুন করে পরীক্ষায় বসতে পারিস তা হলে আমিই বা কেন জীবনটাকে নতুন করে শুরু করতে পারব না? ভুল হলে সংশোধন করে নেওয়াই তো উচিত!

    ‘কিন্তু ভুলটা তুই ইচ্ছে করে করেছিলি।’

    ‘ব্যস। আমি পুরনো কথা ভুলতে চাই দীপা।’

    ‘শমিত জানে?’

    মায়া থমকে গেল। তারপর বলল, ‘হুঁ।’

    দীপাবলী মুখ ফিরিয়ে মায়াকে দেখল। মায়া চোখ সরিয়ে নিল। দীপাবলী নিচু গলায় বলল, ‘মায়া, একটা ভুল সংশোধন করতে গিয়ে তুই আর একটা ভুল করছিস।’

    মায়া জবাব দিল, ‘ঠিক আছে, তাই যদি হয় দামটা আমিই দেব।’

    ‘তুই এখনও শমিতের কথা ভাবছিস!’

    ‘ভাবতে তো কোনও অসুবিধে নেই। ওর কথা আমি ভুলতে পারব না।’

    ‘কিন্তু শমিত বিবাহিত।’

    ‘হোক না। আমি তো ওর সংসারে নাক গলাতে যাচ্ছি না।’

    ‘তুই কি ওর দলে নাটক করতে যাচ্ছিস?’

    ‘এখনও ভাবিনি। কিন্তু ঠিক করেছি ফিলম্‌ করব।’

    ‘ফিল্‌ম!’

    ‘হ্যাঁ। এতদিন দলের কথা ভেবে ফিল্‌মে যেতে চাইনি। এখন তো সেসব বাধা রইল না।’

    ‘দলে থেকেও তো শমিত ফিল্‌মে অভিনয় করছে।’

    ‘পরিচালকরা যা খুশি করতে পারে, সাধারণ সদস্যদের ক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য ছিল না। যাক, আমার নাটকের অভিনয় দেখে কিছু প্রস্তাব এসেছে ফিলমের জন্যে, এবার রাজি হব।’

    ‘কিন্তু সুদীপকে ছেড়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলি কেন?’

    ‘লোকটা অমানুষ। বাইরে প্রগতিবাদী, পড়াশুনা করা নাট্যকর্মী, আর ভেতরে, যখন একা থাকে, তখন যত রকমের মেন্টাল টর্চার করা সম্ভব তাই আমার ওপর করে যায়। শমিতের সঙ্গে টেক্কা দিতে চায় ও এবং সে ব্যাপারে আমাকে ব্যবহার করেছে এতদিন।’

    ‘মানে!’

    ‘ওর ধারণা শমিতের কাছ থেকে আমাকে কেড়ে নিয়ে ও জিতে গেছে। আমি যেন একটা খেলার পুতুল! এই ভুলটা আমি ভেঙে দিতে চাই।’ মায়া দরজার কাছে এগিয়ে গিয়ে থামল, ‘এ নিয়ে আর কথা বলিস না দীপা, আমার ভাল লাগছে না।’

    মায়া বেরিয়ে গেলে চুপচাপ শুয়ে রইল দীপাবলী। এখন যেন তার ক্লান্তি আরও বেড়ে গিয়েছে। কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার পর মনে হল গলা শুকিয়ে আসছে, জিভ বিস্বাদ। যে-মায়াকে দেখে কলকাতায় আসার পর সে স্বাধীনভাবে বাঁচার স্বপ্ন জোরালো করেছিল সেই মায়া আজ গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছে। জীবন কখনই একটা জায়গায় সমানভাবে বয়ে যায় না। যেসব মেয়েদের তাদের বাপমায়ের পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করে সারাজীবন মুখ বন্ধ করে কাটাতে হয় তারা, আর নিজের ভুল নিজে সংশোধন করে আবার ভুলের মধ্যে জড়িয়ে যাওয়া মেয়েরা, কারা সুখী? কারা ভাল আছে? যারা ভালবেসে বিয়ে করে তাদের ক’জন শেষ পর্যন্ত ভালবাসা ধরে রাখতে পারে? দাম্পত্যজীবনে শুধু ভালবাসা নয় আরও কিছু চাই। একটা শেকড়ের ওপর গাছ দাঁড়িয়ে থাকে না, তাকে আরও শেকড়ের বাঁধন ছড়াতে হয়। মায়া আর অসীমের কি একই অবস্থা? অসীম যা বলে গেল তা যদি সত্যি হয়—! দীপাবলী কেঁপে উঠল। নাঃ, আর নয়। সে ব্যাগ থেকে অসীমের কার্ড বের করে কুচিকুচি করল, করে নিশ্চিন্ত হল। অন্তত সেই সময়ে।

    কয়েক মাস পরে সরকারি চিঠি এল। একা, ভীষণ একা দীপাবলী উত্তেজিত হাতে খাম খুলে পড়ল, তাকে দিল্লি যেতে হবে। পরীক্ষার ভাল ফলের সুবাদে বোর্ডের সামনে যেতে হবে ইন্টারভিউয়ের জন্যে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }