Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৩. ঘুম ভেঙ্গেছিল সাতসকালে

    ঘুম ভেঙেছিল সাতসকালে। চোখ মেলতেই দেখেছিল পাশেমনোরমা নেই। এখন বাইরে অন্ধকার নেই কিন্তু আলোও ফোটেনি। দীপাবলী ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসে দেখল কুয়োর পেছনে একটা তুলসীগাছ থেকে পাতা তুলছেন মনোরমা। এর মধ্যে তাঁর বাসি কাপড় পালটানো হয়ে গিয়েছে। ইদানীং এই ব্যাপারে ছেলেলি অভ্যেস এসে গিয়েছে দীপাবলীর। ঘুম থেকে উঠেই কেন গায়ের পোশাককে অত নোনাংরা ভাবতে হবে তার বোধগম্য হয় না। যেটা এক ঘণ্টা আগেও আরামে শরীরে রাখতে পারা যেত সেটাকে না পালটালে অশুচি হতে হবে কেন? ছেলেদের ক্ষেত্রে তো সেটা প্রযোজ্য নয়! এই ভাবনাকে সাহায্য করত এক ধরনের আলসেমি। একা থেকে থেকে সেটা বেশ মানিয়ে গিয়েছিল। তাই যা কিছু ছাড়াছাড়ি তা একেবারে স্নানের সময়। এখন মনোরমাকে দেখে তার অস্বস্তি হল। বাসি কাপড় সাতসকালে ছাড়ার অভ্যেসটা আকৈশোর এবং তারও পরে মনোরমাই তার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ সে তাকে ধরে রাখেনি জানলে তিনি কি খুশি হবেন?

    মুখহাত ধুয়ে, পরিষ্কার হয়ে দীপাবলী ঘরে ফিরে গিয়ে বিছানা তুলে কাপড় বদলাল। খামোকা একটি মানুষকে কষ্ট দিয়ে কী লাভ? যদিও এটা হিপোক্রেসি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কখনও কখনও তার প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। পোশাক পরিবর্তনের সময় ঘরটির দিকে তার ভাল করে নজর পড়ল। কাল রাত্রে মাঝে মাঝে ঠান্ডা লাগছিল। খুবই অযত্নে তৈরি এই ঘরটিতে হাওয়া ঢোকার যথেষ্ট জায়গা আছে। জোরে বৃষ্টি হলে জল ঢোকে কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না। অমরনাথ স্বপ্নেও ভাবতে পারতেন না এমন ঘরে তার মা রাত্রিবাস করেন। হয়তো মূল বাড়িতে মনোরমাকে থাকতে বলেছিল অঞ্জলি, মনোরমাই রাজি হননি। এটুকু অনুমান করতে অসুবিধে হয় না। বৈধব্য নিয়ে আলাদা থাকার একটা জেদ মনোরমার অনেকদিনের।

    এখন একটু চা হলে ভাল হত। ঘরের বাইরে এসে সে দেখল মনোরমা ফিরে আসছেন। অঞ্জলিরা কেউ ওঠেনি। পৃথিবীটা কী মনোরম শান্ত। মনোরমার মুখে হাসি ফুটল। একটু সামনের দিকে ঝুঁকে চলেন এখন। বললেন, ‘বাসি কাপড় স্নানের সময় কেচে দিস৷ তোর দেখছি মেমসাহেব হওয়া হল না।’

    নিজেকে প্রতারক মনে হচ্ছিল। কিন্তু বৃদ্ধার এই আনন্দটুকু নষ্ট করা এই সাতসকালে খুবই অন্যায় হবে। দীপাবলী বলল, ‘তুমি পুজোটুজো করো, আমি একটু ঘুরে আসি।’

    ‘ওমা, কোথায় যাবি?’

    ‘এমনি, হাঁটব।’ দীপাবলীর চোখে পড়েছিল পেছনে একটা গেট আছে, সে সেই দিকে এগিয়ে গেল। হাঁটতে হাঁটতে তার মনে হল এরা এই জায়গাটাকে কলোনি বলে বটে, কিন্তু তার দেখা যাদবপুরের কলোনির সঙ্গে কোনও মিল নেই। সেখানকার মানুষ এমন ফাঁকাফাঁকা থাকে না, সেখানে এত গাছগাছালিও নেই। এই সময়েই বাচ্চারা রাস্তায় বেরিয়ে শব্দ তোলে।

    কলোনির ভেতর দিয়ে হেঁটে চলে এল দীপাবলী পিচের রাস্তায়। ডান দিকে একটু এগোলেই চা-বাগান আর তার পরেই মেছুয়াপুল ছাড়িয়ে খুঁটিমারির জঙ্গল। আকাশে পাখি উড়ছে। পুরো রাস্তাটা শুয়ে আছে চমৎকার আলস্য নিয়ে। নির্জনতায় বুক ভার হয়ে আসে।

    দীপাবলী বাঁ দিকে হাঁটতে লাগল। কাল রিকশায় বসে যতটুকু চোখে পড়েছিল তাতে চৌমাথার দিকটাকে একেবারে শহর বলেই মনে হয়েছিল। এদিকের শ-মিলগুলো একই রকম রয়েছে, স্কুলের মাঠ এবং স্কুলবাড়িও পালটায়নি। সত্যসাধন মাস্টার নেই। মন কেমন খারাপ হয়ে গেল কথাটা মনে পড়তেই। ঠাকুরবাড়ির সামনে পৌঁছাতে একটি মানুষের দেখা পেল সে। বৃদ্ধ, বেড়াতে বেরিয়েছেন সম্ভবত। সে চিনতে পারল না। ছেলেবেলায় অবশ্য বাগানের বাইরে এই এলাকার বেশি মানুষকে সে চিনত না। বৃদ্ধ একটু বিস্মিত চোখে তাকে দেখে চলে গেলেন। ইচ্ছে করেই দীপাবলী চলে এল চৌমাথায়। দোকানপাট সব বন্ধ। একটা ট্যাক্সি মোড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে। একটুও ব্যস্ততা নেই কোথাও। দীপাবলীর মনে হল জায়গাটার শরীরে অনেক ভার চাপানো হয়েছে বটে কিন্তু তাতে তার চরিত্র বদল এখনও হয়নি। সে পিচের রাস্তা ধরে আংরাভাসার দিকে এগিয়ে গেল।

    একটু একটু করে চেনা কাঠের বাড়িগুলোর সামনে দিয়ে সে আংরাভাসার পুলের ওপর এসে দাঁড়াল। জল নেই, পাথরগুলো ধুলোয় ভরতি। এই নদী তার ছেলেবেলায় জড়িয়ে। বইয়ের পাতায় লেখা থাকে, সময় সবকিছু গ্রাস করে নেয়। এই সময়টা কত দিনে তা জানা ছিল না। কেউ তাকে তার ছেলেবেলা ফিরিয়ে দিতে পারবে না কিন্তু ইচ্ছে করলে এই হাড়জিরজিরে নদীতে আবার স্রোত আনা যায়, শুধু ওপাশের বাঁধটুকু কেটে দিতে যেটুকু পরিশ্রম।

    কিন্তু প্রয়োজনের চেহারা বদলে গেলে আর বাঁধ কাটবে না কেউ। এটাই জীবনের সত্যি। ঠিক একই ব্যাপার, আজ এই মুহূর্তে এখানে একদম একা ভাবা। দীপাবলী পুল ছেড়ে এগোতে লাগল। এবার চা-বাগানের চৌহদ্দি শুরু। ওই যে শ্যামলদাদের কোয়ার্টার্স, ওপাশে বিশু আর খোনদের বাড়ি। খোকনদের বাড়ির গাছে বসে থাকত এক পেতনি। আঃ, সেই ছেলেবেলায় ব্যাপারটা কী দারুণ বিশ্বাসযোগ্য ছিল। ওই যে বড়বাবুর বাড়ি। বড়বাবুর বাবা তেজেন্দ্র কীরকম দুর্বল ছিলেন মেয়েদের সম্পর্কে! মনোরমা থেকে শুরু করে বালিকা দীপাবলী পর্যন্ত সবাই তার কাছে সমান যত্ন পেত। ভদ্রলোক নিশ্চয়ই মারা গিয়েছেন। ওই মাঠ, তাদের খেলার মাঠ, কালীপূজার মাঠ এখন কীরকম নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে আছে! এসব দিকে তাকিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছিল দীপাবলীর। কিন্তু সে রাস্তা থেকে নামল না। সোজা এগিয়ে গিয়ে থামল চা-বাগানের মধ্যে। চারপাশে এখন স্মৃতিরা তাদের নিজস্ব জায়গা নিয়ে বেঁচে আছে। এতগুলো বছরে এখানকার গঞ্জ এলাকার যত পরিবর্তনই হোক চা-বাগানের চেহারার ছবি একই অবস্থায় রয়েছে। এই গাছপালা, মাঠ, এমনকী ঘাসগুলোকেও তার বন্ধু আত্মীয় বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু তাকে কেউ চেনে না। এই দীপাবলী এদের সম্পূর্ণ অচেনা। মনে মনে এমন অনুভূতি তৈরি হচ্ছিল।

    হঠাৎ বুধুয়ার কথা মাথায় এল। বুধুয়া তো ওই বাগান পেরিয়ে কুলি লাইনে থাকত। কতকাল বুধুয়া তাদের বাড়িতে চাকরি করেছে। একবার গেলে কেমন হয়! সেই নিরক্ষর মদেশিয়া মানুষটি তাকে খুব সমীহ করত। এখন কি করবে?

    দীপাবলী এগোতেই কানে গাড়ির আওয়াজ এল। জলপাইগুড়ির দিক থেকে একটা প্রাইভেট গাড়ি ছুটে আসছে। ফাকা রাস্তা বলে দুরন্ত গতিতে ছুটছে গাড়ি। দীপাবলী রাস্তা থেকে সরে ঘাসের ওপর গিয়ে দাঁড়াল। হুস করে গাড়িটা বেরিয়ে গিয়েও আচমকা গতি কমাতে লাগল। সম্ভবত ব্রেকে জোর চাপ পড়তেই শব্দ বাজল। দীপাবলী দেখল গাড়িটা বেশ কিছুদূরে গতির টানে এগিয়ে গিয়ে থামতে পারল। এরকম জায়গায় ওই গতির গাড়ির থামার কথা নয়। উত্তরবাংলার নির্জন রাস্তায় কখনও কখনও গাড়ি থামিয়ে অনেক কুকাণ্ড করত একসময়। অস্বস্তি নিয়ে সে দেখল গাড়িটার দরজা খুলে ড্রাইভাব নামছে। নেমে একটু দাঁড়িয়ে তাকে দেখার চেষ্টা করছে।

    এত দূর থেকে দীপাবলী কিছু বুঝতে পারছিল না। সে দেখল লোকটা তার দিকে দৌড়ে আসছে। এবং তখনই সে চিনতে পারল। এক দৌড়ে সামনে এসে খোকন বলল, ‘আরে তুই, আমি ঠিক চিনেছি, তুই এত বড় হয়ে গেছিস! একদম ভদ্রমহিলা! বাব্বাঃ। কবে এসেছিস?’

    এতগুলো প্রশ্ন এক নিশ্বাসে উচ্চারিত হওয়ামাত্র বুকের সমস্ত হিম উধাও হয়ে গেল। জবাবে শুধু হাসতে পারল দীপাবলী। খোকনকে এখন সত্যি চেনা যায় না। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, লম্বা পুরুষালি চেহারা কিন্তু অভাবের ছাপ আছে। শার্ট প্যান্টেও সেটা স্পষ্ট। এই খোকন তার বাল্যকালের বন্ধুর চেহারা বহন করছে না। পূর্ণিমার রাত্রে যখন বাতাবির রস ঘন হয় তখন এই খোকনের ঠাকুমা আকাশ থেকে নেমে বাতাবির ডালে ঠ্যাং ছড়িয়ে বসে প্রথম ফলের রস চুষে নিশ্চয়ই খেতেন না।

    ‘কী রে? কথা কানে যাচ্ছে? হাঁ করে কী দেখছিস?’ খোকন ধমকে উঠল।

    ‘তোকে? তুই কীরকম হয়ে গেছিস!’ দীপাবলী জবাব দিল।

    ‘মানে? আমি ড্রাইভারি করি, ড্রাইভারদের চেহারা যেমন হয় তেমন হয়েছি। তুই শিক্ষিতা ভদ্রমহিলা, বড় চাকরি করিস বলে শুনেছি, তোর কথা আলাদা!’

    ‘একদম বাজে বকবি না।’ দীপাবলীর রাগ এল।

    ‘ওঃ, তোকে দেখে কী ভাল লাগছে ভাবতে পারছি না। কবে এসেছিস?’

    ‘গতকাল।’

    ‘থাকবি তো কিছুদিন?’

    ‘না রে। আজই চলে যেতে হবে।’

    ‘সে কী? কেন?’

    হঠাৎ খুব খারাপ লাগল। এতক্ষণ নিজেকে বাইরের লোক বলে মনে হচ্ছিল। কেউ তাকে চেনে না বলে একটা কষ্ট ছোবল মারছিল। খোকন আসামাত্র তার জায়গায় অন্য কষ্ট এল। একটা দিন থাকতে পারলে ভাল লাগত। এখন পৃথিবীর সমস্ত পুরুষ, যাদের সঙ্গে যৌবনের শুরু থেকে আলাপ হচ্ছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হয় অনেক মেপে, ভেবে। একটা নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেমন যাওয়া যায় না তেমনি সেই সীমার এপারে তাদের আসতে না দেওয়ার চেষ্টাও করতে হয়। এরা কেউ অসীম, কেউ শমিত, কেউ অলোক, আবার কেউ অর্জুন নায়েক। কিন্তু বাল্য বয়সের বন্ধু খোকনদের সঙ্গে কথা বলতে সেই সচেতন বোধ মোটেই কাজ করে না। খোকন এখন যেভাবে কথা বলছে পরে আলাপ হওয়া কোনও পুরুষ সেইভাবে কথা কখনই বলতে পারবে না। দীপাবলী জবাব দিল, ‘কাজ আছে রে!’

    ‘তুই এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?’

    ‘এমনি। এসব জায়গা দেখছিলাম। ছেলেবেলার কথা মনে হতেই চলে এলাম। খোকন, তোর মনে আছে, ওইখান দিয়ে জঙ্গলের পাশের নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আমরা হাতির তাড়া খেয়েছিলাম?’

    খোকনের কপালে ভাঁজ পড়ল, ‘ও হ্যাঁ। তারপর সেই শ্যামলদার কেসটা?’ বলে হাসল, ‘শ্যামলদাটা মাইরি একদম বুড়ো হয়ে গিয়েছে। চিনতে পারবি না।’

    ‘আচ্ছা, তোর মনে হয় ওসব কথা, যখন এখান দিয়ে যাস?’

    ‘দুর, অনেকদিন পরে এসেছিস বলে আজ তোর মনে হচ্ছে। রোজ যদি দেখতে হত তা হলে মাথায় এসব ভাবনা আসতই না। বিয়ে করেছিস?’

    ‘করলে দেখে বুঝতে পারতিস না?’

    ‘মর্ডান মেয়েদের বোঝা যায় না।’

    ‘মর্ডান মেয়ে বলতে কী বুঝিস? সবাই সমান। ওইসব ব্যাপারে। তুই?’

    ‘হুম।’

    ‘আচ্ছা! কবে? তোর বউ কোথায়?’ উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল দীপাবলী।

    আর তখনই গাড়ির হর্ন বাজল। যাকে গাড়িতে বসিয়ে খোকন নেমে এসেছিল সে বোধহয় আর ধৈর্য রাখতে পারছে না। খোকন গাড়ির দিকে তাকাল, ‘ভাড়া দেবে কম আবার হর্ন বাজাচ্ছে! তুই কোনদিকে যাবি? তোর মা-রা তো কলোনিতে থাকে।’

    ‘ওখানেই যাব।’

    ‘চল। লোকটাকে নামিয়ে দিয়ে তোর সঙ্গে গ্যাঁজাব।’

    ‘তুই কোত্থেকে আসছিস?’

    ‘জলপাইগুড়ি। কাল রাত্রে একটা হসপিটাল কেস নিয়ে গিয়েছিলাম ফেরার সময় একে পেয়ে গেলাম। আয়।’

    হাঁটতে হাঁটতে দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘রাত্রে ঘুমোসনি?’

    ‘না। অভ্যেস আছে। গাড়িতে স্পিড় তুলে একটু একটু ঘুমিয়ে নিই।’

    ‘তোর বউ কোথাকার মেয়ে?’

    ‘এখানকার। তুই চিনিস না। সত্যবতীর বাবা অনেক পরে এসেছে।’

    ‘সত্যবতী!’

    ‘আর বলিস না। ছোট করে ডাকলে মনে হয় ব্যাটাছেলেকে ডাকছি।’ খোকন ড্রাইভারের এপাশের দরজা খুলে দীপাবলীকে উঠতে বলে পেছন দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সরি স্যার। অনেক দিনের পুরনো বন্ধুকে দেখতে পেয়ে একটু—।’

    দীপাবলী ফ্রন্ট সিটে বসে আয়নায় দেখল মাঝবয়সি লোকটা কঠিন মুখে তাকিয়ে আছে। সে নিজে ট্যাক্সি ভাড়া করে এলে ড্রাইভার যদি মাঝরাস্তায় বসিয়ে রেখে গল্প করত তা হলে কি একই প্রতিক্রিয়া হত? হয়তো।

    গাড়ি চালু করে খোকন বলল, ‘এখন বাগানের বেশিরভাগ লোককে তুই চিনতে পারবি না। আমি

    তো আর ওদিকে পা বাড়াই না।’

    ‘তুই আছিস কোথায়?’

    ‘ওই তো, শ্মশানের পাশে বাবা জমি কিনেছিল, সেখানেই বাড়ি করেছি একটা। বাবা মারা গিয়েছে, মা আছে এখনও। শালা বউয়ের সঙ্গে রোজ টিকটিকানি চলছে।’

    গাড়ি আংরাভাসার পুল পেরিয়ে বাজারের ভেতর ঢুকে পড়ল৷ এখন রাস্তায় কিছু লোকজন। দোকানপাট খোলার তোড়জোড় চলছে। চৌমাথা পেরিয়ে পি ডবলু ডি অফিসের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে গাড়ি থামাল খোকন। ভদ্রলোক নেমে ভাড়া দিলেন। তারপর একটু ইতস্তত করেই এগিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এক্সকিউজ মি, আমার মনে হচ্ছে আপনাকে আমি দেখেছি। আপনি কি, আপনি কি মিসেস ব্যানার্জি?’

    খোকন আগ বাড়িয়ে জবাব দিল, ‘না না। ও হল দীপা, আমরা একসঙ্গে থাকতাম চা-বাগানে। সেই ছেলেবেলা থেকেই থাকতাম।’

    দীপাবলীর ভুরু কুঁচকে গিয়েছিল। খোকনের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর মনের সব রশি আলগা হয়ে গিয়েছিল, প্রশ্নটা শুনে সঙ্গে সঙ্গে টানটান। এই লোকটি তাকে অবশ্যই চেনে। চা-বাগানে আজ পর্যন্ত কেউই তাকে মিসেস ব্যানার্জি বলে ডাকেনি। খুব বেসুরো লাগল ডাকটা, অন্তত এখানে।

    সে খোকনকে বলল, ‘তুই থাম। হ্যাঁ, আমার নাম দীপাবলী বন্দ্যোপাধ্যায়।’

    সঙ্গে সঙ্গে লোকটির মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল, ‘ঠিক ধরেছি। কিন্তু কিছুতেই আমি মেলাতে পারছিলাম আমি মদনগোপাল দত্ত। এখানকার সাব ডিভিশনাল অফিসার। কাল ডি এম-এর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। জিপ খারাপ হয়ে গেল। যাক গে। আসুন আসুন, আমার বাড়িতে একটু চা খেয়ে তবে যাবেন।’

    গাড়ি থেকে না নেমে দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ’আপনি আমাকে চিনলেন কী করে?’

    ‘আমি এককালে বীরভূম পুরুলিয়ায় পোস্টেড ছিলাম। ওই যেবার মন্ত্রী এসে ডি এম-এর বাংলোয় মিটিং করেন তাতে আমিও ছিলাম যে। ওঃ, আপনি যেভাবে মন্ত্রীকে আমেন্ট করে কনভিন্স করলেন তা আমার এখনও মনে আছে। আমাকে আপনার চেনার কোনও কারণ নেই। কিন্তু সেদিনের কথা আমার স্পষ্ট মনে আছে। এই চা-বাগানের মধ্যে আপনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আর এর সঙ্গে এভাবে কথা বলতে শুনে কিছুতেই মেলাতে পারছিলাম না। হেঁ হেঁ, বুঝতেই পারছেন।’

    দীপাবলী শান্ত গলায় বলল, ‘লোকে যে-পোশাকে অফিসে যায় আর যে-পোশাকে রাত্রে নিজের বিছানায় শোয় তা নিশ্চয়ই এক হতে পারে না। কিন্তু আমি তো এখন আপনার বাড়িতে গিয়ে চা খেতে পারব না। অনেকদিন বাদে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে, ওর বাড়িতেই যেতে হবে। কারণ আজই আমি ফিরে যাচ্ছি।’

    ‘আচ্ছা, কানাঘুষোয় শুনেছিলাম আপনি নাকি রিজাইন করেছেন। আমি তখন এদিকে চলে এসেছিলাম বলে ব্যাপারটা ঠিক জানি না।’

    ‘হ্যাঁ। ঠিকই শুনেছেন।’ বলে দীপাবলী খোকনকে ডাকল, ‘চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে।’

    গাড়ি গেটের বাইরে এলে খোকন বলল, ‘আই বাপ, লোকটা তোকে কীরকম খাতির করছিল রে, আর তুই ওকে পাত্তাই দিলি না।’

    ‘ওঁর সঙ্গে কথা বলার জন্যে আমি এখানে আসিনি।’

    ‘তুই সরকারি চাকরি করতিস, না?’

    ‘হুঁ’

    ‘রিজাইন দিলি কেন? কত খাতির, কত পাওয়ার!’

    দীপাবলী প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলল, ‘তোর বাড়িতে চল।’

    ‘আমার বাড়িতে? সত্যি বলছিস?’

    ‘নিয়ে যেতে অসুবিধে আছে?’

    ‘দুর! তুই আমাদের ঘরের লোক, তোকে নিয়ে যেতে অসুবিধে হবে কেন?’ চৌমাথা থেকে শ্মশানের দিকে গাড়ি ঘোরাতে ঘোরাতে খোকন বলল, ‘মা তোকে দেখে চমকে যাবে। দেখিস তোর কাছে আমার নামে হেভি লাগাবে।’

    ‘লাগাবে কেন?’

    ‘বউটাকে শাসন করি না বলে।’

    ‘বউকে বুঝিয়ে বলিস না কেন?’

    ‘মেয়েছেলেকে বোঝানোনা আমার দ্বারা সম্ভব নয়।’

    ‘ছোটলোকের মতো কথা বলিস না।’

    ‘ড্রাইভার তো ছোটলোকই।’

    ‘ড্রাইভারি করিস, কিন্তু তুই খোকন। আমাদের বন্ধু।’

    ‘বুঝলাম।’ খোকন হাসল, ‘তুই মাইরি একই রকম থেকে গেলি।’

    ‘মানে?’

    ‘আমাদের অন্য বন্ধুরা দেখা হলে দুটোর বেশি তিনটে কথা বলে না। আমি ড্রাইভার ক্লাসের লোক, কথা বললে প্রেস্টিজ যাবে। এখন কেউ আমাকে বন্ধু বলে না। যারা বলে তারা এই লাইনের লোক, মালফাল খায়। তোকে একটু ছোঁব?

    ‘মানে?’

    ‘আগে ছুঁতে দে।’ হাত বাড়াল খোকন। দীপাবলীর খুব মজা লাগছিল। সে খপ করে সেই হাত ধরল।

    দীপাবলী হাসল, ‘ছুঁলি কেন?’

    ‘দোস্তিটা যাতে বহুত দিন টিকে থাকে।’

    শ্মশানের পর থেকে আর এক নতুন জনপদ গড়ে উঠেছে আসাম রোডকে মাঝখানে রেখে। বেশ কিছুটা জমির ওপর পাকা একতলা বাড়ি। যদিও তাদের ছিরিছাদ খুবই সাধারণ তবু এলাকাটা যে বাড়ছে তার প্রমাণ। খোকনদের বাড়ির চারপাশে কোনও বেড়া নেই। একেবারে সিঁড়ির গায়ে দাঁড় করিয়ে সে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করল, ‘মা, কে এসেছে দ্যাখো!’

    কোনও সাড়া এল না ভেতর থেকে। খোকন ভেতরে ঢুকে যাওয়ার পর দীপাবলী গাড়ি থেকে নামল। সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে একটু ইতস্তত করল সে। এখন বেশ সকাল। হুট করে চলে আসা হয়তো ঠিক হয়নি। ভিতরে খোকনের গলা পাওয়া যাচ্ছে। এইসময় এক মহিলাকে দেখা গেল। খুবই আটপৌরে পোশাকে এবং সেগুলো বেশ ময়লাটে। মুখ চোখ মোটেই সুন্দর নয়। খোকন বেরিয়ে এল ভেতর থেকে, ‘আয় রে। এই হল আমার বউ।’

    দীপাবলী নমস্কার করল, ‘খুব অসময়ে এসে বিরক্ত করলাম, না?’

    মহিলা ঠোঁট টিপে না বললেন মাথা নেড়ে। খোকন বলল, ‘আমার বউকে কেমন দেখছিস?’

    হঠাৎ মহিলা গলা তুললেন, ‘কেমন দেখবে? যেমন রেখেছ তেমন দেখবে।’

    ‘মুখ শুনলি? একেবারে মা মনসা। ভেতরে আয়।’

    দীপাবলী খোকনকে অনুসরণ করে বলল, ‘কী যা তা বলছিস!’

    জবাবে হো হো করে হাসল খোকন। যে-ঘরে দীপাবলী বসল তাতে অযত্ন স্পষ্ট। বেতের চেয়ার এখানে বেশ সস্তা। খোকন বলল, ‘কোনওমতে আছি বুঝলি। এখন লাইনে হেভি কম্পিটিশন, ননবেঙ্গলিরা এসে গিয়েছে।’

    দীপাবলীর এই কথাগুলো খোকনের মুখে শুনতে ভাল লাগছিল না। সে প্রসঙ্গ ঘোরাতে যাচ্ছিল এমন সময় খোকনের মা দরজায় এলেন, ‘ওমা, দীপা, তুই?’

    ‘চলে এলাম। আপনি কেমন আছেন?’

    ‘ভাল নয়। অম্বলে অম্বলে শরীর শেষ হয়ে গেল। তোর কাকাবাবু নেই, জানিস তো। সে গেল আর আমার কপাল পুড়ল।’ নিশ্বাস ফেললেন ভদ্রমহিলা।

    ‘মা!’ খোকন চাপা গলায় বলল।

    ‘আহা, দীপা তো বাইরের লোক নয়। ওকে তো জন্ম থেকে দেখেছি।’

    ‘জন্ম থেকে দ্যাখেননি। আমার জন্ম হয়েছিল মালবাজারে।’

    ‘ও তাই তো! তবে অঞ্জলি তোকে বুকে করে মানুষ করেছে তো। সেই মা ঠাকুমাকে ফেলে রেখে তুই কলকাতায় কী করে বেড়াচ্ছিস রে?’

    ‘কী করছি?’

    ‘আর তোকেই বা কী বলব? আমার ঘরে যিনি এসেছেন তার স্বরূপই বা কী! তোর চেহারা কিন্তু বেশ ভাল হয়েছে। কলকাতার মেয়েদের মতন।’ খোকনের মা কথা শেষ করামাত্র চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকল বউটি।

    খোকনের মা তাকে বললেন, তুমি একে চিনবে না। তোমার বর আর এ একসঙ্গে বড় হয়েছে। অনেক লেখাপড়া শিখেছে। চোখের ওপর দেখলাম সব। বাপ মা জোর করে বিয়ে দিল, বিধবা হল, ঠাকুমার সঙ্গে ঠিক বিধবার মতো থাকত।’

    ‘আপনি বিধবা?’ বউটি চমকে উঠল।

    চায়ের কাপ ধরেছিল দীপাবলী, শক্ত হয়ে গেল। খোকনের মা বললেন, ‘হ্যাঁ, তাই আর বিয়ে করল না। এটা বাপু প্রশংসা করতেই হবে।

    খোকন বলল, ‘তোমরা অন্য কোনও বিষয় পাচ্ছ না কথা বলার?’

    ‘বাঃ, অন্যায় কী বলেছি? হ্যাঁরে দীপাবলী?’

    ‘অন্যায় কিনা জানি না, তবে ভুল বলেছেন অর্ধেক। আমার মনে হয় বিয়ের বয়স এখনও যায়নি আর বিয়ে করব না এমন প্রতিজ্ঞাও আমি করিনি।’

    বউটি বলল, ‘ঠিক তো। তা ছাড়া বিধবারা আজকাল বিয়ে করে।’

    দীপাবলী মাথা নাড়ল, ‘আমি নিজেকে বিধবা বলে মনে করি না। কিছুদিন বাধ্য হয়ে ঠাকুমার জন্যে নিয়ম মানতাম, পরে বাবা বেঁচে থাকতেই আর মানিনি। যে-লোকটাকে স্বামী বলেই মনে হয়নি সে মারা গেলে আমি বিধবা হব কেন?’

    ‘তুই তো শুনেছি তাদের টাকায় বড়লোক হয়েছিস।’ খোকনের মা বললেন।

    ‘ভুল শুনেছেন। খোকন, চলি রে, আমাকে আজই কলকাতায় ফিরতে হবে।’

    বউটি জিজ্ঞাসা করল, ‘আজই ফিরে যাবেন?’

    ‘হ্যাঁ ভাই। কলকাতা থেকে যেতে হবে দিল্লি। আমি একটা সরকারি চাকরি পেয়েছি। খুব ভাল লাগল তোমার সঙ্গে আলাপ করে।’

    ‘তুই চা খেলি না?’ খোকন জিজ্ঞাসা করল। বউটি বলল, ‘না, চা না খেলে যেতে দেব না। আপনাকে আজ প্রথম দেখলাম।’

    নিতান্ত অনিচ্ছায় চা খেতে হল। খোকনের মায়ের কথা শুনে মন তেতো হয়ে গিয়েছিল। বিস্বাদ লাগল। খানিকটা রেখে দিল সে কাপে। তারপর বেরিয়ে এল বাইরে। খোকন এগিয়ে যাচ্ছিল গাড়ির দিকে। দীপাবলী তাকে বলল, ‘তুই কাল থেকে বাইরে আছিস। বাড়িতে থাক এখন, আমি এটুকু পথ হেঁটে যেতে পারব।’

    ‘খুব খচেছিস না? ওঠ!’

    দীপাবলীর পাশাপাশি বউটি হাঁটছিল। তার কাঁধে হাত রেখে দীপাবলী বলল, ‘তোমার জন্যে আমার খারাপ লাগছে। এই সংসারে যখন এসে পড়েছ তখন মেনে নিতেই হবে। বয়স হয়েছে এটুকু ভেবেই মেনে নাও।’

    ‘মানতে আমার আপত্তি নেই দিদি। শুধু ও যদি আমাকে বুঝত! মাঝে মাঝে মায়ের পক্ষ নিয়ে অন্যায় তর্ক করে।’ বউটি মুখ নামাল।

    গাড়ি চলতে আরম্ভ করলে দীপাবলী দেখল বউটি একা দাঁড়িয়ে আছে, খোকনের মা বাইরে আসেননি। সে খোকনকে জিজ্ঞাসা করল, এরকম করিস কেন?’

    স্টিয়ারিং-এ আঙুলের বোল তুলল খোকন, ‘না করলে পাবলিক বলবে আমি মাকে কষ্ট দিচ্ছি। অমানুষ!’

    ‘মাকে বোঝা। কথা বলার ধরন পালটাতে বল।’

    খোকনের গলা নীচে নামল, ‘দীপা, তুই আমাকে ক্ষমা কর?’

    চমকে তাকাল দীপাবলী ‘মানে?’

    ‘মায়ের কথা মনে রাখিস না।’

    দীপাবলী কোনও কথা বলল না। একেবারে বাড়ির দরজায় গাড়ি নিয়ে এল খোকন। এবং মনে পড়ে গেছে এমন ভঙ্গিতে বলল, ‘তুই সব জানিস তো?’

    ‘কী ব্যাপারে?’

    ‘তোর ছোট ভাইয়ের ব্যাপারে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘আমি একদিন বলতে গিয়েছিলাম, আমাকেই অপমান করল।’

    ‘আর বলিস না।’ দীপাবলী গাড়ি থেকে নামতে নামতে দেখল অঞ্জলি দরজা খুলে দাঁড়িয়েছে। খোকন তাকে দেখে হাত নাড়ল, ‘কেমন আছেন?’

    ‘ভাল। বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল?’

    ‘হ্যাঁ। ওকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলাম। চলি রে।’

    ‘আচ্ছা।’

    ‘আবার কবে আসবি?’

    ‘জানি না।’

    ‘তুই না এলে তো দেখা হবে না। আর আমার যা লাইন, কবে শুনবি আসাম রোডে ট্রাকের সঙ্গে

    ভিড়িয়ে দিয়ে আমি ফোটো হয়ে গিয়েছি।’

    ‘তুই যাবি?’ দীপাবলী গলা তুলল।

    খোকন হাসল, ‘যাচ্ছি। তুই কখন শিলিগুড়িতে যাবি?’

    ‘শিলিগুড়ি না। জলপাইগুড়ি থেকে থ্রু কোচে উঠব। একটার সময় বেরুলেই হবে।’

    ‘তা হলে তখন এসে তোকে বাস ধরিয়ে দেব। কবে দেখা হবে বললি না যখন তখন আমাকে আসতেই হচ্ছে।’ খোকন চলে গেল।

    বড় ভাই বাড়িতে নেই। তার চা-বাগানে ডিউটি শুরু হয়ে গিয়েছে। ছোট ভাই ঘুমুচ্ছে। দীপাবলী আব অঞ্জলি ভেতরের উঠোনে এল। অঞ্জলি বলল, ‘তুই চায়ের সঙ্গে কী খাবি?’

    ‘কিছু না মা। তোমাদের খবর বলো।’

    ‘এই তো। বড় চাকরি পাওয়ায় বেঁচে গিয়েছি। তুই টাকা পাঠাতিস বলে সেইসময় সামলে নিয়েছি। কিন্তু ছোটটা নষ্ট হয়ে গেল। রোজ মদ খেয়ে ফেরে। শুনেছিস নিশ্চয়ই, ঠাকুমা বলেনি?’

    ‘নিজের কানে ওর চিৎকার শুনেছি।’

    ‘আমার কপাল।’

    ‘মা, আমি এখন ট্রেনিং-এ কলকাতার বাইরে যাব। ফিরে এসে সেটল্‌ড হলে ঠাকুমাকে আমার কাছে নিয়ে যেতে চাই।’

    অঞ্জলি বড় বড় চোখে তাকাল। তারপর মুখে একটিও শব্দ উচ্চারণ না করে ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলল। দীপাবলী সেটা লক্ষ করে জিজ্ঞাসা করল, ‘মন থেকে বলছ?’

    ‘হ্যাঁ। তোর বাবা বেঁচে থাকলেও তাই চাইতেন। ছেলেদের কাছে ওঁকে রাখতেন না।’

    ‘মা!’

    অঞ্জলি হঠাৎ ঠোঁট আঁচলে টিপে ছুটে গেল রান্নাঘরের দিকে। দীপাবলী অবাক হয়ে গেল। যে অঞ্জলি নিজের গর্ভজাত সন্তানদের জন্যে স্বার্থ নিয়ে কী মারাত্মক বাড়াবাড়ি করেছিল একসময়, তার মুখ থেকে এ কী কথা উচ্চারিত হল? তার খুব ইচ্ছে করছিল অঞ্জলিকে জড়িয়ে ধরতে, কিন্তু সে পারল এই মুহূর্তে।

    ছোট ভাইয়ের দর্শন পেল না দীপাবলী। ঘুম থেকে উঠেই সে কাউকে কিছু না বলে হাওয়া হয়ে গিয়েছে। দিদির আসার খবর বোধহয় রাত্রেই পেয়েছিল। তবু এ নিয়ে অঞ্জলির আফশোস। একদম খালিপেটে বেরিয়ে গেছে, তার ওপর ওসব খাবে। দুপুরে বড় ভাই এল। বাবার চেহারা পেয়েছে। গম্ভীর গলায় কুশল জিজ্ঞাসা করল এমনভাবে যেন বাইরের লোকের সঙ্গে কথা বলছে। দীপাবলী সেই দূরত্বই রাখল। দীপাবলীর মনে পড়ছিল, এই ছেলে যেদিন অমরনাথ অসুস্থ হয়েছিলেন সেইদিন তাঁর সামনে তাকে অসুস্থতার জন্যে দায়ী করেছিল।

    একজন বৃদ্ধা তাঁর প্রৌঢ়া বউমাকে পাশে নিয়ে অত্যন্ত যত্ন করে খাওয়ালেন তাকে। ডাল ভাজা তরকারি বেঁধেছেন মনোরমা, মাছ অঞ্জলি। খাওয়াদাওয়ার পরেই খোকন গাড়ি নিয়ে হাজির। বেরুবার সময় অঞ্জলি কাঁদল, মনোরমা চুপচাপ। দীপাবলী তাঁকে জড়িয়ে ধরে নিচু গলায় বলল, ‘আর ক’টা দিন অপেক্ষা করো।’

    গাড়িতে উঠে সে দেখল খোকনের মুখ গম্ভীর। কোনও কথা না বলে গাড়ি চালাচ্ছে। দীপাবলী চোখ বন্ধ করল। প্রতিটি মানুষের মনে নিজস্ব অশান্তি আছে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ আলাদা আলাদা অভাববোধ এবং তা থেকে জাত দুঃখ নিয়ে বেঁচে থাকে। জীবন তাদের যতই শিক্ষা দিক তাদের মন তা মানতে চায় না। সে মনে করে কেউ তার সমস্যা বুঝতে পারবে না, তার মতো অশান্তিতে কেউ নেই। এই যে নিজেকে আলাদা করে ভাবার চেষ্টা এটা তাকে এক ধরনের সুখ দেয়। অথচ পৃথিবীর মানুষেরা কেউ তার নিজের জায়গায় সুখী নয়। খোকনের গলা কানে এল, ‘তোর বাস আসছে একটা। এটা ধরবি না পরেরটায় যাবি?’

    দীপাবলী সোজা হল, ‘এটাই ধরব। গাড়ি থামা।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }