Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৫. যাত্রাপথে

    যাত্রাপথের প্রায় প্রতিটি বড় স্টেশনেই অলোক মুখার্জি এসে দীপাবলীর সঙ্গে দেখা করে গিয়েছে। একটু আধটু কথা এবং সেই কথাগুলো ক্রমশ আন্তরিক হয়েছে। প্রয়োজনের সময় অনেক কিছুই ভদ্রতার বাঁধ দিয়ে আটকানো যায় না। আর কেউ যদি জোর করে নিজেকে প্রয়োজনীয় করে তোলে তা হলে কথাই নেই। অলোকের যাওয়া আসা, জোর করে খাবার দিয়ে যাওয়া দীপাবলীকে অবশ্যই একটু অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বৃদ্ধ কিছু বলেননি। কিন্তু অন্য সহযাত্রীরা ওদের সম্পর্ক নিয়ে যে কিছুটা কৌতুহলী তা বুঝতে অসুবিধে হয়নি। তবে চলন্ত অবস্থার একটাই সুবিধে, ইচ্ছে করলে যে-কোনও কৌতুহলকে উপেক্ষা করা যায়। অলোক দ্বিতীয়বার অনুরোধ করেনি, করলেও এতটা পথ পেরিয়ে এসে কামরা পালটানো সম্ভব হত না দীপাবলীর পক্ষে। কিন্তু তার ভাল লাগছিল। কলকাতায় গিয়ে অলোক তার খবর নিয়েছিল, এখন যত্ন নিচ্ছে, এসবে ভাল না লাগার কোনও কারণ ছিল না।

    বৃদ্ধ নেমে গেলেন কানপুরে। যাওয়ার আগে বললেন, ‘বেটি, তুমি ভাল থেকো। আজ সকালে তুমি আমাকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছিলে, তাই চা খেয়েছিলাম। এখন শরীরটায় অস্বস্তি হচ্ছে। তবু তোমার সঙ্গে আমি একমত নই। মেয়েরা হল জমির মতো। তাদের চারপাশে নদীর স্রোত। ভাল বাঁধ না দিলে সেই জমি নদী গ্রাস করে নেবেই। আর বাঁধটা ভেঙে তোমাদের পক্ষে নদীর সঙ্গে লড়াই করা কতটা সম্ভব তা সময় বিচার করবে। আমি বুড়ো হয়েছি। তোমার সঙ্গে হয়তো আর দেখা হবে না। তবে তোমার কথা আমি নাতিনাতনিদের বলব, তুমিও আমার কথা মনে রেখো। ভুল বললেও ভুলো না।’

    দীপাবলী কথা বলতে পারেনি। বৃদ্ধের গলায় এমন আন্তরিক স্পর্শ ছিল যা তাকে অবশ করে। রেখেছিল। বৃদ্ধের বক্তব্যের সঙ্গে সে একমত হতে পারেনি। কিন্তু সেই মুহূর্তে আর বিতর্কে যেতেও। ইচ্ছে করছিল না। বৃদ্ধ নেমে যাওয়ার পর হঠাৎ তার মনে হল সে খুব একা হয়ে পড়েছে। এই বোধ থেকেই কিছু ভাবনা মাথায় এল। পুরনো ভাবনার মানুষ যদি নিকট আত্মীয় হন, যদি তাঁর কাছে কোনও না কোনওভাবে বেঁচে থাকার জন্যে ঋণী হতে হয়, তবে তাঁর প্রাচীন মানসিকতার বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই কথা বলা উচিত কিন্তু তাঁকে আহত করার কোনও মানে হয় না। সেক্ষেত্রে চুপচাপ সরে আসা ভাল। অন্তত সেই ঋণের কারণে যদি নিজের সঙ্গে তঞ্চকতা করতে হয় তাও সময়বিশেষে করা ভাল। সেই মানুষটিকে এড়িয়ে গিয়েও নিজের ধ্যানধারণামতো কাজ সুষ্ঠুভাবে করে যাওয়া সম্ভব। দীপাবলী চোখ বুজেছিল। সে নিজেও তো একই আচরণ করেছে। অঞ্জলিকে জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই মা বলেছে, অথচ এখন মায়ের কথা ভাবলে অঞ্জলিকে মনে পড়ে না। অমরনাথের মৃত্যুর আগে এবং পরে যে নোংরা ব্যবহার সে ওই মহিলার কাছে পেয়েছিল তাতে অঞ্জলির মধ্যে জননীত্ব ছিল না। অথচ এবার সে চা-বাগানে গিয়ে একবারও ক্ষোভ জানায়নি। যেন কিছুই ঘটেনি এমন আচরণ করেছে। শৈশব এবং বালিকা বয়সের কৃতজ্ঞতাবোধ তাকে উপেক্ষা করতে শিখিয়েছে নিজের অজান্তেই।

    দিল্লি স্টেশনে ট্রেন থামামাত্র দীপাবলী উঠে দাঁড়াল। সময়ে ট্রেন চলেনি। ঘড়িতে রাত বেড়েছে। ভেবেছিল একটা অটো রিকশা নিয়ে কালীবাড়িতে চলে যাবে। এখনও সেই চেষ্টাই করতে হবে। এই ট্রেনে না এসে যেটা সকাল সকাল দিল্লিতে পৌঁছায় তাতেই টিকিট কাটা উচিত ছিল। কামরার বাইরে আসতেই অলোক বলল, ‘চলুন।’ দীপাবলীর মুখ থেকে বেরিয়ে এল, ‘কোথায়?’

    ‘আমাদের বাড়িতে। অবশ্য আপনার যদি অন্য পরিকল্পনা থাকে তা হলে আলাদা কথা।’

    ‘না না। এত রাত্রে হঠাৎ আপনাদের বাড়িতে গেলে আমার স্বস্তি হবে না।’ ‘সেটা অন্য কথা। আপনি যদি বলতেন বাড়ির লোকের অস্বস্তি হবে তা হলে প্রতিবাদ করতে পারতাম।’

    ‘আমি আমার কথাই বলেছি।’

    ‘দেখছি তাই। তা হলে কোথায় উঠবেন ঠিক করেছেন?’

    ‘আগের জায়গায়।’

    ‘ও। ওখানে চিঠি দেওয়া আছে?’

    ‘না। আসলে আসাটা যখন ঠিক হল তখন বান্ধবীর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতা ছেড়েছিলাম। নিজের ব্যাপার দেখার সুযোগ পাইনি।’

    ‘আপনার বান্ধবী কেমন আছেন?’

    ‘ও নেই।’

    অলোক চুপ করে গেল। ঘড়ি দেখল। তারপর অন্য গলায় কথা বলল, ‘দিল্লির রাস্তায় রাতের বেলায় কলকাতার নিরাপত্তা নেই। চলুন কালীবাড়ি, যদি জায়গা থাকে তা হলে সমস্যাটা মিটবে।’

    ‘যদি জায়গা না থাকে?’

    ‘আপনি যদি আমাদের বাড়িতে না যেতে চান তা হলে কনট প্লেসে চলুন। ওখানে একটা খুব ভাল হোটেল আছে, বেশি চার্জ করবে না। স্বচ্ছন্দে থাকতে পারবেন।’

    পছন্দ হল দীপাবলীর। স্টেশনের বাইরে এসে ওরা একটা অটো ধরল। এ ব্যাপারেও একটু পছন্দ করল অলোক। বেছে বেছে এক বৃদ্ধ সর্দারজির অটোতে উঠে বসল। নির্জন রাজপথ কী ঝকঝকে। আলোগুলো দিনের সঙ্গে পাল্লা দিতে চাইছে যেন। দীপাবলীর মনে হল কলকাতার চেয়ে দিল্লির মানুষেবা অনেক বেশি সুখ উপভোগ করে। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘কলকাতা কেমন লাগল?’

    ‘দেখুন, মা যত কুশ্রী হন না কেন সন্তানের চোখে তা এড়িয়ে যায়। প্রবাসী বাঙালিরা নস্ট্যালজিক অনুভূতিতে কলকাতা দেখে। আপনার অভিমত কী?’

    দীপাবলী হাসল, ‘আপনাকে বলব না।’

    ‘কেন?’

    ‘এটা আমার ব্যক্তিগত মত। আগের বার দিল্লিতে এসে সেটা বুঝেছিলাম। তা ছাড়া নিজের বাড়ির লজ্জার কথা কেউ অন্যের কাছে গল্প করে না।’

    ‘মানলাম। কিন্তু বাড়ির লোকের সঙ্গে আলোচনা করতে দোষ কী?’

    দীপাবলী হার মানল। হার মানতে ওর ভাল লাগল। সে বলল, ‘শহরটা প্রায় তিনশো বছরের পুরনো বলে রাস্তাঘাট কম আর সেই কারণে ট্র্যাফিকের গোলমাল এটা সবাই জানি। কিন্তু সেইসঙ্গে স্বাধীনতার পরোক্ষ বিষ দিনে দিনে ফুটে উঠছে। কলকাতার মানুষেরা রাস্তায় নামলেই বিশৃঙ্খল সভ্যতাবর্জিত আচরণ করে। একটা ট্যাক্সিতে বসলেও বোঝা যায় কেউ নিয়ম মানতে চাইছে না। বাস গাড়ির চলন দেখার জন্যে পুলিশ আছে, কিন্তু তারা পয়সা পেলে চোখ বুজে থাকে। আর সাধারণ মানুষের পথ চলা দেখার জন্যে কেউ নেই। এই ইনডিসিপ্লিন্ড মানসিকতাই কলকাতাকে আরও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

    ‘এরকম হল কেন?’

    ‘অনেক কারণ। লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়া, অন্যায় করলেও পার পেয়ে যাওয়া, সম্ভ্রমবোধহীন ব্যবহার, অভাব অনটন থেকে বেপরোয়া ব্যবহার— এ সবই জড়িয়ে মিশিয়ে আছে এর পেছনে। আমরা যারা বাইরে থেকে ওই শহরে গিয়েছি তারা বুঝতে পারি শহরটাকে সবাই ব্যবহার করে, নিজের বলে ভাবতে পারে না।’

    অলোক বলল, ‘এ-কথাগুলো আমি বললে কলকাতার মানুষ প্রতিবাদ করতেন দিল্লিওয়ালা বলে। মানুষগুলো বাসেটাসে উঠলে কেমন হিংস্র হয়ে যায়।’

    অটো শহরের মধ্যে ঢুকছিল ফাঁকা জমি ছেড়ে। দোকানপাট বন্ধ। অথচ রাস্তায় আলোর রোশনাই। মাঝে মাঝে গাড়ি ছুটে যাচ্ছে হুসহাস করে। দীপাবলী বলল, ‘প্রসঙ্গটা থাক। যার কোনও সমাধান নেই, দিনকে দিন যা আরও খারাপের দিকে এগোবে, তা নিয়ে আলোচনা করে কোনও লাভ নেই।’

    ‘সমাধান নেই কেন?’

    ‘যদুবংশ ধ্বংস হবেই। এটাই ভবিতব্য ছিল। শ্রীকৃষ্ণ তো স্বয়ং ভগবান ছিলেন। তিনি পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। ওরা নিজেরাই মারপিট করে সেই সময়টাকে আরও ত্বরান্বিত করেছিল।’

    ‘আপনি তা হলে হতাশার কথা বলেন?’

    ‘আশা থাকলে তবে হতাশার কথা ওঠে। চালু সিস্টেম পালটানো আমার আপনার দ্বারা সম্ভব নয়। একদল লোক, যাদের কোনও জায়গায় জুত হয় না, তারা এদেশে রাজনীতি করে, প্লেনে চাপে, ফাইভস্টারে থাকে, এবং জনসাধারণকে আরও উসকে দেয়। ভণ্ড গুরু আর এই রাজনীতিকরা সমান অপরাধী। এদের হাত থেকে কি সহজে নিস্তার পাওয়া সম্ভব!’

    ‘এখানে আপনি একটা ভুল করছেন। পরাধীনতার আমলে যাঁরা দেশের কাজ করতেন তাঁদের একটাই উদ্দেশ্য ছিল। দেশ স্বাধীন করার চিন্তা মাথায় রেখে তাঁরা কাজ করতেন। এখন সেইরকম কোনও ডেফিনিট উদ্দেশ্য নেই। তা ছাড়া ভারতীয় সংবিধান মেনে চলতে গেলে দেশ শাসনের জন্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন। ধরুন সবাই যদি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার নিদেনপক্ষে কেরানি হতে চাইত তা হলে বিধানসভা লোকসভায় করা যেত? এই দেশের পরিচালনা কারা করত? স্বাধীনতার পরপর অন্য জীবিকায় সফল অনেক মানুষ রাজনীতি করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিখ্যাত আইনব্যবসায়ী আইনমন্ত্রী হয়েছেন, শিক্ষাবিদ শিক্ষামন্ত্রী। ক্রমশ যখন দেখা গেল ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারের মতো রাজনৈতিক নেতৃত্ব একটা ডেফিনিট প্রফেশন তখন প্রচুর ছেলেমেয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে এখানে। ঢুকে পড়ল। অতএব যাদের কিছু জোটে না তারাই রাজনীতি করে এমন ভাবা ভুল। একটু ঝুঁকি আছে, সেটা কোন বড়, প্রফেশনে নেই বলুন, কিন্তু মাঝারি নেতৃত্ব যদি বাগিয়ে নেওয়া যায় তা হলে দল ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরে পঞ্চাশ বছরের কাজ হয়ে যাবে। তা ছাড়া ডাক্তারদের মতো এই প্রফেশনেও কোনও রিটায়ারমেন্ট নেই। এরা না থাকলে দেশে সামরিক শাসন হত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিশ্চয়ই সেটা কাম্য নয়।’ অলোক খুব সিরিয়াস গলায় কথাগুলো বলে যাচ্ছিল। একটু থেমে সে আবার বলল, ‘করাপশন এবং বিশৃঙ্খলতা সারা দেশেই আছে, কলকাতায় যেহেতু একগাদা মানুষ গিজগিজ করে তাই সেখানে বেশি চোখে পড়ে। আপনি গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন হঠাৎ সামনের ট্যাক্সি একেবারে মোড়ের মাথায় কোনও নিয়ম না মেনে গাড়ি ঘোরাতে লাগল আগাম সাইন না দিয়ে। আপনি যদি ব্রেক কষে না থামতে পারেন তবে সেটা আপনার অপরাধ, সেই ড্রাইভারটির সাতখুন মাপ। এইসব মেনেই যখন কলকাতার লোকজন থেকে যায় তখন কোনও সরকারের সাধ্য নেই ওখানে কিছু করে।’

    এই ব্যাখ্যা দীপাবলীকে চমৎকৃত করল। রাজনীতি যে একটি বুদ্ধিমান শিক্ষিত ছেলের জীবিকা হতে পারে এমন ভাবনা কখনও তার মাথায় আসেনি। তার মায়ার কথা মনে পড়ল। কলেজে পড়ার সময় মায়া ছাত্র ইউনিয়ন করত। ও যদি ওই নিয়ে থাকত তা হলে—!

    অলোকের নির্দেশ মেনে অটো দাঁড়িয়ে গেল যেখানে তার সামনেই হোটেলটা। এত রাত্রেও আলো জ্বলছে। দরজা খোলা। ভাড়া মেটাতে মেটাতে অলোক বলল, ‘আপনি আবার এই ভাড়া দেওয়া নিয়ে আপত্তি করবেন না।’

    দীপাবলী কিছুই বলল না। তার খুব ক্লান্তি লাগছিল। হোটেলের রিসেপশনে একজন তখনও কাজ করছিল। ওদের দেখে বলল, ‘বলুন!’

    ‘এঁর জন্যে একটা ঘর চাই। উনি একাই থাকবেন।’

    লোকটি ঠোঁট কামড়াল, ‘একা থাকবেন?’

    দীপাবলী বলল, ‘হ্যাঁ। আমি একজন সরকারি অফিসার, ট্রেনিং নিতে মুসৌরি যাচ্ছি। কাল বিকেল পর্যন্ত থাকতে চাই।’

    ‘আমাদের চেক আউটের সময় দুপুর বারোটা। সেটা না হয়, কিন্তু ম্যাডাম, একলা মেয়েকে ঘর ভাড়া দেওয়াতে আমাদের অসুবিধে আছে। এর আগে খুব ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল।’

    দীপাবলী উত্তেজিত হল, ‘আমি এই গল্প জানি। কিন্তু আমি দাবি করছি আমাকে ঘর দিতেই হবে। আমি বাজে মানুষ নই, একটা ডেফিনিট আইডেন্টিটি আছে। আপনি ঘর দিতে বাধ্য। দরকার হলে পুলিশ ডাকতে পারেন।’

    লোকটি বলল, ‘আপনি অযথা উত্তেজিত হচ্ছেন। এখন দুটো ঘর খালি আছে। কিন্তু আমি যদি বলি কোনও ঘর খালি নেই তা হলে কী বলবেন আপনি! আমি মিথ্যে বলছি তা এই রাত্রে প্রমাণ করতে পারবেন না। ওই ঝামেলার পর পুলিশ থেকে বলা হয়েছে কোনও একা মেয়েকে যেন ঘর ভাড়া না দিই। আমি আপনার প্রবলেম বুঝতে পারছি বাট আই কান্ট হেল্‌প।

    দীপাবলী ঘুরে দাঁড়াল অলোকের দিকে, ‘এখান থেকে কালীবাড়ি কত দূর’

    ‘খুব বেশি নয়। কিন্তু সেটা খুব রিস্ক হয়ে যাবে।’

    দীপাবলী মাথা নাড়ল, ‘এই পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থা—!’

    অলোক লোকটিকে বলল, ‘আপনি যদি আমার নাম খাতায় এন্ট্রি করেন তা হলে এঁকে থাকতে দিতে আপত্তি আছে?’

    ‘বিন্দুমাত্র নয়। আমি এই কথাটাই বলতে চেয়েছিলাম।’

    দীপাবলী ফোঁস করে বলে উঠল, ‘আমি আপনার নাম ব্যবহার করে থাকব কেন?’

    অলোক বলল, ‘একটু সহজভাবে নিন। আমাকে বন্ধু ভাবুন।’

    রিসেপশনিস্ট বলল, ‘এক কাজ করি। আপনার নাম কী স্যার?’

    ‘অলোক মুখার্জি।’

    ‘আমি খাতায় লিখছি এ মুখার্জি অ্যান্ড পার্টি।’

    দীপাবলী বাধ্য হল এই সমঝোতা মানতে। অন্তত পুরোপুরি অলোকের নাম ব্যবহৃত হল না।

    হঠাৎ অলোক বলল, ‘দুটো ঘর আছে বলছিলেন না? আপনি আমার জন্যেও একটা ঘর দিন।’

    দীপাবলী অবাক হল, ‘সেকী? আপনি বাড়িতে যাবেন না?’

    অলোক হাসল, ‘এখন ক’টা বাজে দেখেছেন? এত রাত্রে একা এতটা দূরে যেতে চাইছি না। তা ছাড়া রাতদুপুরে বাড়ির সবাইকে ঘুম থেকে তোলার কোনও মানে হয় না। আমি তো একদিন বাদেও ফিরতে পারতাম, না!’

    দীপাবলী কথা বাড়াল না। অলোকের থেকে যাওয়াটা তার ভাল লাগছিল না।

    তিনতলায় যে-ঘরটি তাকে দেওয়া হল সেটা এই মধ্যরাত্রে বেশ ছিমছাম। জিনিসপত্র রাখার পর হোটেলের কর্মচারীটি যখন বেরিয়ে যাচ্ছে তখন দরজায় দাড়ানো অলোক জিজ্ঞাসা করল, এখন কোনও খাবারদাবার পাওয়া যাবে?

    ‘নেহি সাব। কিচেন বন্ধ হো গিয়া।’

    ‘তুমি কিছু ব্যবস্থা করতে পারবে না?’

    লোকটি জানাল সে দেখে এসে বলছে কিছু দিতে পারবে কিনা। ও চলে গেলে দীপাবলী বলল, ‘এত রাত্রে আর কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না।’

    ‘খালি পেটে থাকাটা কি ঠিক হবে? দেখুন। এলাম। দরজা বন্ধ রাখবেন।’

    অলোক তার সুটকেস নিয়ে চলে যেতে দীপাবলী এগিয়ে এল দরজা বন্ধ করতে। সে দেখল বিপরীত দিকের একটি ঘরে ঢুকছে অলোক। সেটার দরজা আসার সময়ে কর্মচারী খুলেই দিয়েছিল। দরজা বন্ধ করে সে ঘরটি ভাল করে দেখল। একটা সিঙ্গল বিছানা, ড্রেসিং টেবিল, দেওয়াল আলমারি, বড় কাচের জানলার গায়ে চেয়ার টেবিল। সে জানলায় যেতেই রাতের দিল্লি দেখতে পেল। কেমন নিঝুম। আলোগুলো বেশ ভৌতিক। দাঁড়াতে ইচ্ছে করছিল না।

    বাথরুম থেকে পরিষ্কার হয়ে বেরিয়ে আসামাত্র দরজায় টোকা পড়ল। দীপাবলীর কপালে ভাঁজ পড়ল। যেন এরকম একটা শব্দ হতে পারে বলে এতক্ষণ মনের অজান্তে একটা শঙ্কা ওত পেতে ছিল। এই নির্জন রাত্রে বিদেশ বিভূঁইয়ে কোনও মেয়ে একলা হোটেলের ঘরে থাকলে এইভাবে টোকা মারার লোকের অভাব হয় না। আর যারা দিনের আলোয় ভদ্রতার মুখোশ পরে থাকে তারাই রাত্রের অন্ধকারে সঠিক চেহারা দেখায়। দীপাবলী খাটে এসে বসল। তিনবার টোকা দেবার পর সম্ভবত নিরাশ হল লোকটি। অনেকক্ষণ আর কোথাও কোনও শব্দ না পেয়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিল সে। আঃ, কী আরাম! কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সে বুঝতে পারল নিদ্রাদেবীর কোনও অনুকম্পাও হচ্ছে না। এত পরিশ্রান্ত, রাতও অনেক, তবু চোখে ঘুম নেই। আলো নিবিয়ে সে টেবিলে রাখা জগ থেকে গ্লাসে জল ঢেলে ঢকঢক করে খেয়ে নিল। পেটে চিনচিন ব্যথা করছে। মরতে মরতেও যেটুকু খিদে এখনও বেঁচে আছে সেটি ঘুম না আসার যথেষ্ট কারণ। এপাশ ওপাশ করতে করতে কখন ভোরের বেলায় সে ঘুমিয়ে পড়েছিল তা টের পায়নি। যখন ঘুম ভাঙল তখন জানলা ভেদ করে একরাশ তাতার রোদ ঘর মাত করেছে এবং কানে আসছে দরজায় নক করার শব্দ। দ্রুত বিছানা থেকে নেমে সাড়া দিল সে। তারপর বাথরুমে গিয়ে মুখ ধুয়ে নিজেকে আয়নায় দেখল। এখন মুখ চোখ বেশ ফোলা ফোলা। গতরাত্রে যখন দরজায় টোকা পড়েছিল তখন সে নিঃশব্দ ছিল অথচ দিনের বেলায় গলা তুলে জানান দিতে একটুও মনে দ্বিধা আসেনি। এটাও তো একধরনের চরিত্রবদল!

    দরজা খুলতেই হোটেলের সেই কর্মচারীটি হাসল। তার হাতের ট্রে-তে চায়ের কাপ এবং বিস্কুট। অনুমতির অপেক্ষা না রেখে ভেতরে ঢুকে টেবিলের ওপর ওগুলো নামিয়ে দিয়ে সে বলল, ‘এর আগে দু’বার চা নিয়ে এসে ডেকেছিলাম, আপনার ঘুম ভাঙেনি। কাল রাত্রেও আপনি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।’

    ‘না তো। কাল তিনটে পর্যন্ত আমি জেগে ছিলাম।’

    ‘নেহি মেমসাব। আমি লস্যি নিয়ে এসে আপনার দরজায় নক করেছি তিনবার আপনি খোলেননি। তারপর ওঘরে গিয়ে সাহেবকে বললাম। সাহেব বললেন হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছেন তাই বিরক্ত করার দরকার নেই।’ লোকটা চলে গেল।

    লজ্জিত হল দীপাবলী। গতরাত্রে ভয় না পেলে লস্যি জুটত। সেক্ষেত্রে ঘুম আসত তাড়াতাড়ি। আর সে ওই টোকাটার অন্য মানে করে অনর্থক কীসব ভেবে গিয়েছে। ঈশ্বর যদি মানুষকে অন্তত একদিনের জন্যে অন্যের মনের কথা পড়ার ক্ষমতা দিতেন তা হলে নব্বইভাগ মানুষ কেউ কারও সঙ্গে থাকতে পারত না।

    চা খাওয়ার পর অলোকের ঘরের দরজায় গেল সে। অলোক চেয়ারে বসে খবরের কাগজ পড়ছে। চোখাচোখি হতে জিজ্ঞাসা করল, ‘ঘুম হল?’

    ‘একটু। আপনি বাড়ি ফিরছেন কখন?’

    ‘বারোটার পর। এই প্রথম দিল্লিতে হোটেলে থাকলাম।’

    ‘আমার জন্যে কষ্ট করতে হল।’

    ‘তা করলাম। আসুন, বসুন।’

    ‘আমার ঘরের দরজা খোলা আছে।’

    অলোক চেয়ার ছেড়ে খাটের এমন জায়গায় গিয়ে বসল যেখান থেকে দীপাবলীর দরজা দেখা যায়, ‘নিন, আমি এখান থেকেই পাহারা দিতে পারব।’

    দীপাবলী মৃদু হেসে চেয়ারটায় বসল, ‘আপনার বাবা-মা শুনলে কী ভাববেন!’

    ‘বোঝালে নিশ্চয়ই বুঝবেন। তা হলে আজ মুসৌরি চললেন?’

    ‘হ্যাঁ। কিন্তু ট্রেনের ব্যবস্থা করতে হবে।’

    ‘সেটার জন্যে কোনও চিন্তা নেই। কিন্তু আপনি কলকাতা থেকে ডাইরেক্ট দেরাদুন হয়ে মুসৌরিতে চলে যেতে পারতেন। দুন এক্সপ্রেসে।

    ‘টিকিট পাইনি। ওরাই বলল দিল্লি হয়ে যেতে।’

    ‘ভাগ্যিস। নইলে আপনার দেখা পেতাম না।’

    ‘সেটা আমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।’

    ‘আচ্ছা, বলুন তো আপনি ঠিক কী করতে যাচ্ছেন?’

    ‘আমি আই এ এস দিয়েছিলাম জানেন তো?’

    ‘সেটা তো জানিই। বাবা এই নিয়ে খুব উত্তেজিত।’

    ‘আমার প্রথম প্রেফারেন্স ছিল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস। কিন্তু অত ভাল ছাত্রী নই বলে সেটা জুটল দ্বিতীয় চাওয়া ছিল আই পি এস অথবা আই আর এস।’

    ‘আপনি আই পি এস, মানে পুলিশ সার্ভিস চেয়েছিলেন?’

    ‘হ্যাঁ। এদেশে একমাত্র পুলিশের হাতেই কিছু ক্ষমতা আছে।’

    ‘ক্ষমতা নিয়ে আপনি কী করবেন?’

    ‘পাইনি যখন তখন আর ও নিয়ে ভেবে কী লাভ! আমি রেভিনিউ সার্ভিসে সিলেক্টেড হয়েছি। ভাবলাম দিল্লি হয়ে যখন যাচ্ছি তখন এখানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে জানাব যে রেভিনিউ সার্ভিসে। আমাকে যেন ইনকাম ট্যাক্সে দেওয়া হয়। এই পছন্দটা ওখানে গিয়ে জানালে চলে কিনা তা জানি না।’

    ‘ই-ন-কা-ম ট্যাক্স?’ চেঁচিয়ে উঠল অলোক।

    ‘চিৎকার করার কী আছে?’

    ‘ও তো পুলিশের চেয়ে ডেঞ্জারাস!’

    ‘তার মানে?’

    ‘বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা, পুলিশে ধরলে ছত্রিশ। এটা সবাই জানি। কিন্তু ইনকাম ট্যাক্স যাকে ধরে তার ঘা গোনা যায় না, একেবারে চামড়া ছাড়িয়ে ছেড়ে দেয়। কোথাও যদি নিজের পরিচয় দেন ইনকাম ট্যাক্স অফিসার বলে তা হলে লোকে আপনাকে এড়িয়ে যাবে অথবা খাতির করবে।’

    ‘কেন?’

    ‘ভাববে আপনি খুব বড় চোর নয় ডাকাত।’

    ‘এই ভুলটা ভাঙানো দরকার।’

    ‘দেখুন আপনি পারেন যদি। যা মজ্জাগত হয়ে গেছে তা দূর করা আমার আপনার দ্বারা সম্ভব নয়। তা মুসৌরিতে কতদিন?’

    ‘কয়েকমাস। ওখানকার অ্যাকাডেমিতে সব গ্রুপের ক্যান্ডিডেটই যায়।’

    ‘তারপর?’

    ‘তারপরে যেতে হবে নাগপুরে।’

    ‘নাগপুরে?’

    ‘হ্যাঁ, ডাইরেক্ট ট্যাক্সের ট্রেনিং ওখানে হয়।’

    ‘তারপর?’

    ‘পোস্টিং। আমি পশ্চিমবাংলাই চাইব।’

    একটু চুপ করে থাকল অলোক। তারপর নিচু গলায় বলল, ‘আপনি দিল্লিতে পোস্টেড হতে চাইলে

    ওরা দেবে না?’

    ‘আমি জানি না। কিন্তু দিল্লিতে আমি থাকতে চাইব কেন?’

    অলোক মুখ নামাল। কয়েক মুহুর্ত চুপ থেকে বলল, ‘আপনি না চাইলে তো কোনও কথাই নেই।’

    ‘আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।’

    ‘কী পারছেন না?’

    ‘আপনি কী বলতে চাইছেন?’

    ‘দীপাবলী, আমি আপনাকে এক্সপেক্ট করছি। আমার বাবা-মা আপনাকে দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন। ওঁদের ইচ্ছে আপনাকে পাওয়ার। আর আমার ইচ্ছের কথাও আপনার অজানা নয়। আর এটা সম্ভব হতে পারে যদি আপনি দিল্লিতে পোস্টিং নেন। অবশ্যই এসব আমার ভাবনা। আপনার তরফ থেকে আপত্তি থাকলে কিছু বলার নেই।’

    দীপাবলী এইরকম সরাসরি প্রস্তাব আশা করেনি। ভেতরে ভেতরে অদ্ভুত কাঁপুনি এসে গেল। কী বলবে বুঝতে পারছিল না সে।

    অলোকও আর কথা বলছে না। ঘরের এই নীরবতা খুব অস্বস্তিকর। শেষপর্যন্ত দীপাবলী বলতে পারল, ‘আমাকে একটু ভাবতে দিন।’

    ‘বেশ তো, ভাবুন।’

    ‘আসলে এতদিন একা একা থেকে আজকাল খুব ভয় হয় আমি কারও সঙ্গে বাস করলে অ্যাডজাস্ট করতে পারব কিনা।’

    ‘এরকম হওয়ার কারণ একা একা থাকা?’

    ‘নিশ্চয়ই। এই আমি এখন স্বাধীন। স্বাধীনতা মানে আমার কাছে বলগাহীন জীবনযাপন নয়। কিন্তু আমার ভালমন্দ পছন্দ করার স্বাধীনতা থাকায় যে-অভ্যেস তৈরি হয়ে গেছে সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

    ‘বিয়ের পরে সে ব্যাপারে আমি হস্তক্ষেপ করব না।’

    ‘মানলাম। কিন্তু—।’

    ‘বলুন, খোলাখুলি কথা বলুন।’

    ‘আমি নিজেকেই ভয় পাই।’

    ‘মানে?’

    ‘ওই যে বললাম, মানাতে পারব কিনা।’

    ‘ওটা আমার ওপর ছেড়ে দিন।’

    দীপাবলী চোখ বন্ধ করল, আপনি আমাকে লোভী করে তুলেছেন।’

    ‘না। আমি আপনাকে বাস্তবে নেমে আসতে বলছি।’

    দীপাবলী মুখ নামাল, ‘আপনি তো আমাকে ভাল করে জানেন না।’

    ‘এমন কিছু যদি থাকে তা হলে জানাতে পারেন।’

    দীপাবলী নিশ্বাস ফেলল। সেটা দেখে অলোক হাসল, ‘আমি যদিও একটা প্রশ্ন করিনি। আমাকে গ্রহণ করতে আপনার আপত্তি আছে?’

    ‘আমি একটু ভাবব।’

    ‘ভাবনাটা কি আমার যোগ্যতা নিয়ে?’

    ‘না। নিজেকে নিয়ে।’

    ‘সত্যি কি এত ভাবার কিছু আছে?’

    ‘দেখুন, জীবনে প্রথমবার আমার যখন বারো বছর বয়স তখন পুরুষ সম্পর্কে যে-অভিজ্ঞতা পেয়েছিলাম তা এখনও মনের কোথাও এঁটোর মতো লেগে আছে। ভয় হয় সেইটে যদি শেষ পর্যন্ত থেকে যায়।’

    ‘আপনি আমার মাকে যা বলেছেন তা আমি জেনেছি। আপনি সেইসময় একটা সামাজিক অব্যবস্থার শিকার হয়েছিলেন। আর আমি এও বিশ্বাস করি সেই মানসিক অবস্থা আপনি কাটিয়ে উঠেছেন। নইলে এত বড় পরীক্ষা পাশ করে এই জায়গায় আপনার পক্ষে আসা সম্ভব ছিল না। অবশ্য যদি আপনার মনে অন্য ছেলের কথা থাকে তা হলে আমি আর কিছু বলব না। দিল্লিতে আমি একজনকেও পাইনি যাকে দেখে মনে হয়েছে এর সঙ্গে জীবন কাটাতে পারি।’

    ‘না। কোনও পুরুষের অস্তিত্ব আমার জীবনে নেই।’

    ‘তা হলে ভাল করে ভাবুন। আমি অপেক্ষা করব।’

    দীপাবলী ধীরে ধীরে উঠে এল। নিজের ঘরে পৌছে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল সে। সমস্ত শরীর বিছানার সঙ্গে লেপটে ক্রমশ নিজেকে স্থির করতে পারল। স্বামী হিসেবে অলোক আপাতচোখে যে-কোনও মেয়ের কাম্য হতে পারে। মানুষটা ভদ্র এবং শিক্ষিত। অথবা বলা যেতে পারে শিক্ষিত এবং ভদ্র। এই বিয়ের প্রস্তাব সবরকম সমীহের সঙ্গেই দিয়েছে সে। নিজেকে প্রশ্ন করল দীপাবলী, আর কতকাল একা থাকব? এই একা, আমি? একটা মানুষের সঙ্গ দরকার যাকে মনের কথা বলা যায়। একটা মানুষ পাশে থাকলে মনে হবে আমি আর একা নই। তার জন্যে যদি কিছু মানতে হয় তাও তো ভাল। সে চোখ বন্ধ করতেই নিজের বিবাহের দৃশ্য দেখতে পেল। সঙ্গে সঙ্গে কেঁপে উঠল সে। ছবিটাকে ভুলতে আর একটা ছবি তৈরি করতে হবেই। এইভাবে একটা নিষ্ঠুর স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকবে না সে!

    বিকেল পেরিয়ে স্টেশনে এল ওরা। অলোক দুপুরে বাড়িতে ফেরেনি। সে দীপাবলীকে ট্রেনে তুলে দিয়ে একেবারে যাবে। টিকিটের ব্যবস্থাও হল! এই ট্রেন দীপাবলীকে দেরাদুনে পৌঁছে দেবে। সেখান থেকে কাল সকালে মুসৌরি। দীপাবলী কম কথা বলছিল। অলোক একসময় জিজ্ঞাসা করল, আমি কিছু চাপিয়ে দিচ্ছি না তো?’ দীপাবলী মাথা নেড়ে না বলল। তারপর নিচু গলায় জানাল, ‘আমি ওখানে গিয়ে চিঠিতে সব কথা লিখে জানাব। প্লিজ, এখন কথা বলবেন না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }