Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৬. কিছু ভাল ছেলেমেয়ে

    সারাদেশ থেকে যাচাই করে নেওয়া কিছু ভাল ছেলেমেয়ে প্রতি বছর মুসৌরির আকাদেমিতে আসে তিন মাসের কোর্স করতে। এরাই শিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে আবার সমস্ত দেশে ছড়িয়ে পড়বে সরকারি অফিসার হয়ে। ভারত সরকারের শাসনযন্ত্রের হাত শক্ত করবে এরা। মুসৌরির ফাউন্ডেশন কোর্সে নিজেকে মানিয়ে নিতে বিন্দুমাত্র অসুবিধে হল না দীপাবলীর। ভাল হস্টেল, নিয়ম মেনে পড়াশুনো, খাওয়া, ঘুমানো আর শীতল পরিবেশ মন ও শরীরকে চাঙ্গা করতে খুব সাহায্য করে। শুধু আই আর এস নয় অন্য উইং-এর সমস্ত ছেলেমেয়ে একসঙ্গে জড়ো হওয়ায় সত্যিকারের সর্বভারতীয় চেহারা নিয়েছে আকাদেমি। মেয়েদের সংখ্যা খুবই কম। দীপাবলীকে নিয়ে ওদের ব্যাচে মাত্র পাঁচ জন। দু’জন করে একটি ঘরে থাকার ব্যবস্থা। নিজেকে পঞ্চমে নিয়ে যাওয়ায় তার ভাগ্যে পুরো ঘর জুটেছে।

    রেভিনিউ সার্ভিসের জন্যে যারা নির্বাচিত তাদের তিন মাস পরে যেতে হবে নাগপুরে। কিন্তু অন্যান্যদের অনেক বেশি সময় থেকে যেতে হবে এখানে। অনীশ চ্যাটার্জি নামের একটি বঙ্গসন্তান আই পি এস পেয়েছে। তাকে ছয় মাস থাকতে হবে এখানে। ওর সঙ্গে আলাপ হয়েছে দীপাবলীর। বেচারা এত পরিশ্রম করতে হবে ভাবেনি। ম্যানেজমেন্ট, ভারতীয় অর্থনীতি, ইতিহাস থেকে সিভিল ডিফেন্স, পিটি ড্রিল এবং ঘোড়ায় চড়া— কী না করতে হচ্ছে তাকে। এখান থেকে সে যাবে মাউন্ট আবুতে। সেখানে পড়বে অপরাধবিজ্ঞান, আদালতি আইন, মোটর ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে আস্তাবল পরিচালনা। আর তারও পরে দু’মাসের জন্যে ব্যারাকপুরের পুলিশ কলেজে। তানীশ যেন পালিয়ে যেতে পারলে বাঁচে। একটু বেশি ভাল ছেলে, সরল ধাতের। আই এ এস বে বলে ভেবেছিল, দ্বিতীয় প্রেফারেন্সে আই পি এস দেওয়ার সময় কল্পনা করতে পারেনি সেটাই তার ভাগ্যে জুটবে। এই খাটুনি এখন তার কাছে আতঙ্কের হয়ে উঠেছে। দীপাবলী তাকে উৎসাহিত করত। দেখা হলেই বলত, “এবারে ব্যাচে আপনিই একমাত্র বাঙালি। আপনি যদি পালিয়ে যান তাহলে সেটা পশ্চিমবাংলার কলঙ্ক হয়ে দাঁড়াবে। সবাই আমাদের ছি ছি করবে। আর ক’টা দিনের কষ্ট তো, প্লিজ পালাবেন না।’

    ছেলেটির বয়স কম, গ্র্যাজুয়েশনের পরেই পরীক্ষায় বসেছিল! আপনি না বললে স্বস্তি হত। এরকম মুখচোরা লাজুক ছেলে পরবর্তীকালে কী ধরনের পুলিশ অফিসার হবে আন্দাজেও আসত না দীপাবলীর। এখানে সবাই তাকে ব্যানার্জি বলে ডাকে। প্রথমদিন একটি পাঞ্জাবি ছেলে তাকে মিস ব্যানার্জি বলে ডেকেছিল। সে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে, ‘মাপ করবেন আমি মিস নই। যেহেতু আমার বিয়ে হয়েছিল এবং সেই ভদ্রলোক বিয়ের পরদিন মারা গিয়েছিলেন তাই আমি বিধবা। কিন্তু আপনি আমাকে শুধু ব্যানার্জি বলেই ডাকবেন।’

    খবরটা পাঁচকান হয়ে গিয়েছিল দু’দিনেই। দীপাবলীর ভাল লেগেছিল, কেউ তাকে কোনও প্রশ্ন করেনি এর পরে, নির্বিকার মুখে ব্যানার্জি বলেই ডেকেছে।

    যে-চারটি মেয়ে তার হস্টেলে থাকে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান ভারতীয় মানের অনেক ওপরে। এদের মধ্যে শকুন্তলা গুপ্তার সঙ্গে মোটামুটি ভাব হয়েছে দীপাবলীর। একটা ব্যাপারে দু’জনে একমত, মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যায় না। শকুন্তলারও মেয়েবন্ধু খুব কম। একই ব্যাপার দীপাবলীরও। মায়া ছাড়া তার কোনও মেয়েবন্ধু ছিল না। শকুন্তলা এখানে আসার মাসখানেকের মধ্যেই অর্জুন নামে এক পাঞ্জাবি ছেলের প্রেমে পড়েছে। ওরা দু’জনেই অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের। প্রেম এর মধ্যেই বেশ ঘনীভূত। চিন্তা হচ্ছে কাজে যোগ দিলে বিয়ে হবে কী করে! কারণ দু’জন দুই প্রদেশে পোস্টিং পাবে।

    তিনটের পরে আজ কোনও ক্লাস নেই। মুসৌরির আকাশে এখন চাপ চাপ মেঘ। এরকম চলছে দিন দুয়েক হল। মেঘ আছে কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না। একটু সেজেগুজেই দীপাবলী হস্টেল থেকে বের হল। শকুন্তলা ধারেকাছে নেই। কিছুটা হাঁটার পর সে অনীশকে দেখতে পেল। সাদা ফুলপ্যান্ট আর ব্লেজার পরে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছে। ওকে দেখে এগিয়ে এল, ‘কোথায় যাচ্ছেন?’

    ‘ম্যালের দিকে!’

    ‘অতটা!’

    ‘কী এমন দূরত্ব! কী করা হচ্ছে?’

    ‘কিছু না। ভাল লাগছে না। আমার লাকটাই খুব খারাপ।’

    ‘কেন?’

    ‘আই এ এস পেলাম না। এস পি হয়ে জেলায় গেলে ডি এম যা বলবে তাই করতে হবে। অথচ আমি ডি এম হতে পারতাম।’

    ‘ডি এম-কে তো এস পি-র ওপর ভরসা করতে হয়।’

    ‘ওই পর্যন্ত!’ অনীশ সঙ্গে হাঁটছিল। দীপাবলীর অস্বস্তি হল। অথচ ছেলেটা এত ভাল যে তাকে কিছু বলতেও দ্বিধা হচ্ছিল। গতকাল অলোকের চিঠি এসেছে। আজ দুপুরে ও দিল্লি থেকে মুসৌরিতে পৌছাবে। ঠিক চারটের সময় ও থাকবে হুইসপারিং উইন্ডোতে। এর আগে এখানে দীপাবলী আসার পরপরই অলোক দেখা করতে এসেছিল। তখন ওই হুইসপারিং উইন্ডোতেই বসেছে। নির্জন সুন্দর রেস্টুরেন্ট। একটা মানুষ শুধু তার সঙ্গে কথা বলতে দিল্লি থেকে এত দূরে আসছে আর সে যদি অনীশকে সঙ্গে নিয়ে যায় তা হলে কীরকম প্রতিক্রিয়া হবে? অনীশকে এ-কথা বলতে গিয়েও মত পালটাল দীপাবলী। দেখাই যাক না কী করে অলোক! যদি রেগে যায় কতখানি রাগতে পারে সেটাও জানা দরকার।

    হাঁটতে হাঁটতে অনীশ গল্প করছিল। সে দার্জিলিং-এ গিয়েছে। মুসৌরি দার্জিলিং-এর কাছে কিস্যু নয়। ওই লাল টিপ্পা, টোপ টিপ্পা অথবা লম্বা ম্যাল যেখানে ভাল বসার জায়গা নেই, এই তো হল মুসৌরি। শুধু ঠান্ডাটা আর পাহাড়। কিন্তু দার্জিলিং-এর পাহাড় আরও সুন্দর দেখতে। কথাগুলো ঠিক। কিন্তু তবু দীপাবলীর মনে হল মুসৌরি তো কলকাতা নয়। কলকাতায় বাস করা যায় না, সেখানে বাস করতে হয়। কিছুক্ষণ হাঁটার পর অনীশ বলল, ‘দুত একদম ভাল লাগছে না। আপনার কেমন তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমাকে এখনও পড়ে থাকতে হবে’।

    ‘দীপাবলী হাসল, ‘নাঃ, আপনাকে দিয়ে চলবে না।’

    ‘মানে?’ যেন খোঁচা খেল অনীশ।

    ‘এইরকম ছেলেমানুষকে লোকে এস পি বলে মানবে?’

    ‘আমি এখনই এস পি হব নাকি। মাউন্ট আবুতে এক বছর কাটিয়ে, যেতে হবে ব্যারাকপুরে। সেখানে দু’মাস পড়তে হবে। তারপর কোন থানায় দশ সপ্তাহ দারোগার কাছে কাজ শিখতে হবে। এরপরে এস ডি পি-ও দু’বছর এবং এ এস পি হয়ে মিনিমাম তিন বছর কাটলে তবে এস পি হতে। পারব। অনেক সময় লাগবে। তদ্দিন যদি টিকে থাকি তা হলে লোকে মানতে বাধ্য হবে।’ অনীশ দম নিল, ‘আচ্ছা, আপনি শুধু শুধু ম্যালে বেড়াতে যাচ্ছেন?’

    ‘শুধু শুধু হবে কেন? আমার এক বন্ধু আসবে দিল্লি থেকে। তার সঙ্গে দেখা করব।’

    ‘তা হলে আমি যাচ্ছি কেন?’

    ‘আপনার হাতে কোনও কাজ নেই এবং আমারও অসুবিধে হবে না তাই।’

    ‘কিন্তু আপনার বন্ধু তো কিছু মনে করতে পারে! ’

    ‘সেটাই দেখতে চাই। দীপাবলী হাসল।’

    ঠান্ডাটা আজ যেন একটু বেশি। নাকের ডগা চিনচিন করছিল। অনীশ বলল, ‘জানেন, আমার এক বান্ধবী ছিল। কলেজে পড়ার সময়। কিন্তু আমি আই পি এস নিয়েছি জানার পরে বলে দিয়েছে যে কোনও সম্পর্ক রাখবে না।’

    ‘কেন?’

    ‘সে নাকি পুলিশকে দু’চক্ষে দেখতে পারে না।’

    ‘মেয়েটি ভাল।’

    ‘মানে?’

    ‘মনের কথা অকপটে বলেছে। এইজন্যেই আপনার মন খারাপ বুঝি?’

    ‘হ্যাঁ, সব মিলিয়েই।’

    ‘এরকম ছেলেকে ভাই বা পুত্র হিসেবে মমতায় বাঁধা সম্ভব কিন্তু মানুষ হিসেবে সমালোচনা করতেই হয়। দীপাবলী কিছু বলল না। অনীশের মনে এখনও সারল্য আছে। এই সারল্য হয়তো তাকে কিছুটা ব্যক্তিত্বহীন করছে। তা ছাড়া এখন আর তর্ক করে মেজাজ খারাপ করতেও ইচ্ছে করছিল না। হয়তো এই অনীশ একদিন পরিস্থিতির চাপে নেখালিতে চাকরি করার সময় দেখা এস পি-র মতো হয়ে যাবে। সেইটেই স্বাভাবিক, অন্তত ভারতবর্ষে।

    ম্যালের মুখে হুইসপারিং উইন্ডো রেস্তোরাঁর দরজা পেরিয়ে ওরা ভেতরে ঢুকতেই প্রথমে শকুন্তলা আর অর্জুনকে দেখতে পেল। তন্ময় হয়ে গল্প করছে। অর্জুনই ওদের দেখতে পেল প্রথমে। তৎক্ষণাৎ সোজা হয়ে দাড়িয়ে হাসল, ‘হাই’।

    দীপাবলী মাথা নাড়ল, ‘আপনারা গল্প করুন, আমরা অন্য টেবিলে বসছি।’

    শকুন্তলার চোখে বিস্ময়। সে যেন ভাবতেই পারছে না অনীশকে নিয়ে এখানে আড্ডা মারতে আসতে পারে দীপাবলী। ওদের পাশ কাটিয়ে একটু এগিয়ে দীপাবলী বুঝতে পারল অলোক এখনও আসেনি। এত দেরি হবার কথা নয়। হঠাৎ মনের মধ্যে ভার জমল, সেইসঙ্গে ভাবনা। অনীশ জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনার বন্ধু কোথায়?’

    ‘আসেনি দেখছি।’

    ‘যাক, ভাল হল, আমি আসায় আপনাকে একা ফিরে যেতে হবে না। যাবেন তো?’

    ‘এখনই? একটু অপেক্ষা করে দেখি।’

    জানলার ধারে যে-খালি টেবিল সেটি দখল করল দীপাবলী। অতএব উলটোদিকে বসল অনীশ। বসে দেখল দীপাবলী কাচের ভেতর দিয়ে রাস্তা দেখছে। মেঘগুলো আরও নীচে নেমে এসেছে। কেমন একটা স্যাতসেঁতে ময়লাটে ভাব ছড়িয়ে আছে মুসৌরিতে। বেয়ারা এসেছিল। অনীশ তাকে দুটো কফি দিতে বলল। তারপর হাসল, ‘আগে না কোনও মেয়ের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে ঢোকার কথা কল্পনাই করতে পারতাম না। আমার বন্ধুটি তো খুব রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে স্কুলে যেত ঝি অথবা দাদুর সঙ্গে। বুঝতেই পারছেন—।’

    অনীশ বলে যাচ্ছিল। প্রথমদিকে কিছু কথা কানে ঢুকলেও শেষপর্যন্ত সেগুলো আর স্পর্শ করছিল না দীপাবলীকে। সে কিছুতেই বুঝতে পারছিল না কেন অলোক দেরি করছে। অলোকের যে স্বভাব তাতে এমন হতেই পারে না। আগের চিঠিতেই অন্য একটি প্রসঙ্গে অলোক লিখেছিল, চরিত্রহীন বলতে শরৎচন্দ্র কী বোঝাতে চেয়েছেন জানি না, অভিধানে লম্পট বা মন্দ চরিত্র বলা হয়েছে, কিন্তু এ নিয়ে বিতর্ক উঠতেই পারে। আমার কাছে চরিত্রহীন শব্দের অর্থ, যে কথা দিয়ে কথা রাখে না।

    অলোক অসুস্থ হতে পারে। অসুস্থতার খবর তার কাছে পৌঁছাতে দেরি হওয়া অসম্ভব নয়। ভাবনাটা মাথায় আসতেই আর এক ধরনের অস্বস্তি আরম্ভ হল। অলোক কী ধরনের অসুস্থ, তা না গিয়ে কি জানা যাবে? এখানে যা ব্যবস্থা একমাত্র রবিবার ছাড়া ছুটি পাওয়া যাবে না। স্টেশন লিভ করতে কি এরা দেবে?

    হঠাৎ কানে এল অনীশের গলা, ‘ও, আপনি আমার কোনও কথাই শুনছেন না।’

    সামলে নিতে চাইল দীপাবলী, ‘না না। বলুন।’

    ‘বৃষ্টি আসছে কিন্তু।’

    দীপাবলীর মনে হল বৃষ্টি এলে অন্তত অনীশের অসুবিধে হবে। তার জন্যে ও বেচারাকে ভিজতে বলতে পারে না। অতএব ওঠা উচিত। কিন্তু— সে শেষ বাহানা নিল, ‘কফি আসুক, খেয়েই উঠব।’

    অনীশ হাত নেড়ে বেয়ারাকে ডাকল। এবং তখনই দীপাবলী কাচের ভিতর দিয়ে অলোককে দেখতে পেল। বেশ দ্রুত গতিতেই হেঁটে আসছে। এই সুন্দর স্বাস্থ্যের মানুষটির সঙ্গে সে জীবন যোগ করতে যাচ্ছে! অদ্ভুত রোমাঞ্চ এতক্ষণের সমস্ত উদ্বেগ ভুলিয়ে দিল।

    দীপাবলী মুখ ঘোরাচ্ছিল না। এতক্ষণে নিশ্চয়ই রেস্তোরাঁয় ঢুকে পড়েছে অলোক। সে যেখানে বসে আছে দরজাটা তার অনেক পেছনে। একই সঙ্গে বেয়ারা এবং অলোক ওদের টেবিলে এল। অলোক বলল, ‘সরি, ট্রেন এত লেট ছিল যে—।’

    দীপাবলী অলোকের মুখের দিকে তাকিয়েই অনীশকে দেখল। বেচারা কেমন আড়ষ্ট হয়ে বসে আছে। অলোক অনীশের পাশের চেয়ার টেনে নিয়ে বসল, ‘কতক্ষণ এসেছ?’

    ‘যখন আসবে বলে লিখেছিলে।’

    ‘লাইনে গোলমাল ছিল। আমার তো ভয় হচ্ছিল শেষপর্যন্ত পৌঁছাতে পারব কিনা।’

    ‘তোমাকে এত কষ্ট করে এখানে আসতে হবে না।’

    ‘এটা আমার সমস্যা।’

    দীপাবলী মুহূর্তেই সহজ হয়ে গেল। সে অনীশের সঙ্গে অলোকের আলাপ করিয়ে দিল। অলোক বলল, ‘বাঃ, খুব ভাল। আমি তো প্রথম দিকে জানতাম দীপা আই পি এস করবে। ভয়েই এগোতে পারিনি।’

    কথা বেশ সহজ গতিতে এগোচ্ছিল যদিও অনীশ বলছিল খুব কম। ওর উপস্থিতি অলোককে বিন্দুমাত্র বিচলিত করেনি। দীপাবলীর ভাল লাগল এটা। অলোক বলল, ‘তুমি কাস্টমস না নিয়ে ইনকাম ট্যাক্স নিলে?’

    ‘হ্যাঁ। এবার নাগপুরে যেতে হবে।’

    ‘নাগপুর অনেকদূর। সেখানে হাজিরা দিতে পারব না।’

    ‘আমি তোমাকে বলেছি কখনও হাজিরা দিতে?’

    ‘মনে মনে না বললে আমার খুব খারাপ লাগবে।’

    দীপাবলী হেসে ফেলল। কফি খাওয়া হয়ে গেলে দাম দিতে গেল অনীশ। দীপাবলী আপত্তি করল! ‘একদম না। আমি দেব।’

    ছেলেটিকে প্রথমে রাজি করানো যাচ্ছিল না। শেষপর্যন্ত মেনে নিয়ে সে বলল, ‘তা হলে ব্যানার্জি, আপনারা গল্প করুন, আমি চলি।’

    ‘কোন রাজকার্য আছে?’

    হঠাৎ কথা ফুটল অনীশের ঠোঁটে, ‘আফটার অল এখন রাজকর্মচারী। তাই একটা কাজ খুঁজে নিতে দেরি হবে না। উনি অতটা দূর থেকে কথা বলতে এসেছেন, আমার সামনে বসে থাকা ঠিক হবে না।’

    দীপাবলী প্রতিবাদ করতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই অলোক বলল, ‘আপনার বিচক্ষণতা আমাকে মুগ্ধ করছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ।’

    মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল অনীশ। খুব খারাপ লাগল দীপাবলীর। তারা তিনজনেই চমৎকার আড্ডা মারতে পারত। অনীশকে একটু লাজুক, বেশি রকমের গুডিবয় বলে মনে হত এতদিন, কিন্তু ও যে এমন অমিশুক তা মনে হয়নি। অবশ্য তাই বা কী করে বলা যায়, তার সঙ্গে দেখা হলে অনীশ চমৎকার কথা বলে। সারল্য থাকে কিন্তু সেইসঙ্গে আন্তরিকতাও।

    ‘কী ভাবছ?’

    অলোকের প্রশ্নে সংবিৎ এল। মাথা নেড়ে বলল, ‘ও কেমন অদ্ভুতভাবে চলে গেল।’

    ‘তোমার ভক্ত?’

    ‘আমি কি গুরুটুরু যে ভক্ত হবে?’

    ‘ইংরেজিতে ফ্যান যাকে বলে বাংলায় তার প্রকৃত প্রতিশব্দ হল ভক্ত। অবশ্য তেমন হলে আমার উপস্থিতি ওর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হত না।’

    ‘যা তা বলছ কিন্তু!’ দীপাবলী মুখ ফেরাল। অলোক হাসল। দীপাবলী বলল না, বলতে পারল না, সে অনীশের নয়, অলোকের প্রতিক্রিয়া দেখতে চেয়েছিল। অলোক এত সহজ এবং স্বাভাবিক যে নিজের ভাবনার জন্যে লজ্জিত সে।

    অলোক বলল, ‘যাক, কী ঠিক করলে?’

    ‘কীসের?’ দীপাবলী মুখ তুলল।

    ‘নাগপুর থেকে বেরিয়ে—?’

    ‘শুনলাম আমাকে কলকাতায় পোস্টিং দেবে। আমি যেহেতু ওয়েস্টবেঙ্গল ক্যাডারের তাই সেটাই চল।’

    ‘তুমি কলকাতায় আর আমি দিল্লিতে থাকব? আমার পক্ষে তো কলকাতায় গিয়ে সেট্‌ল করা সম্ভব না।’ অলোক গলা নামাল, ‘তুমি অনুরোধ করতে পারো না দিল্লিতে পোস্টিং-এর জন্যে।’

    ‘পারি।’

    ‘তাই করো, প্লিজ। মহিলাদের অনুরোধ কর্তৃপক্ষ নস্যাৎ করতে পারবেন না।’

    ‘দিল্লিতে চাইলে বোধহয় আর পশ্চিমবাংলায় ফিরে যাওয়া যাবে না।’

    দরকারই বা কী? তোমার তো সেখানে কোনও পিছুটান নেই। আর ছুটিছাটায় নিশ্চয়ই যেতে পারব আমরা।’

    ‘আমরা?’ দীপাবলীর মুখে রক্ত জমল।

    ‘কী হচ্ছে কী? এখনও সত্যিটাকে স্বীকার করতে পারছ না?’

    ‘বড় ভয় হয়।’

    ‘ভয়! কেন?’

    ‘জানি না।’

    ‘ওঃ। তুমিও নার্ভাস হচ্ছ? শোনো, মা বলেছেন তোমার সঙ্গে এ-ব্যাপারে পরিষ্কার কথা বলে যেতে।

    ব্যাপারটা কীভাবে করতে চাও?’

    দীপাবলীর চিবুক নামল, ‘আমি জানি না।’

    ‘আরে, জানি না বললে হবে নাকি? আমাদের বাড়ি থেকে তোমার মা বা ঠাকুমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে কি? তাঁরা তো পাত্রীপক্ষ হিসেবে দাঁড়াতে পারেন।’

    ‘দাঁড়াবেন কিনা জানি না কিন্তু আমি চাই না।’

    ‘এ-কথা আমি মাকে বলেছিলাম। কিন্তু ওঁর প্রশ্ন বিয়েটা কীভাবে হবে?’

    দীপাবলী সোজা হয়ে বসল, ‘আমার পক্ষে বিয়ের পিড়িতে বসে মন্ত্র উচ্চারণ করা একদম সম্ভব নয়। অতএব ওসবের প্রয়োজন নেই।’

    অলোক চুপ করে গেল। দীপাবলী জানলা দিয়ে বাইরে তাকাল। কিছুক্ষণ কারও মুখে কোনও কথা নেই। শেষপর্যন্ত অলোকই বলল, ‘তুমি এখনও মনে রেখেছ?’

    ‘মনে রাখিনি, এগুলো জন্মটিকার মত, মন থেকে ওঠে না। কিন্তু তার জন্যে নয়, আমি ওসব মন্ত্রে বিশ্বাস করি না। ইউজলেস। বিয়ের পিঁড়িতে বসে যে শব্দগুলো মানুষ বলে তা অন্যের শেখানো। পাখির বুলি আওড়ানোর মতো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবন অন্য কথা বলে কিছুদিনের মধ্যেই। হ্যাঁ, খেলা হিসেবে পাঁচজনকে দেখিয়ে ওইভাবে বিয়ে করার মধ্যে যে মজা আছে তা অন্তত আমার ক্ষেত্রে নেই, কারণ ওই ব্যবস্থাটাকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। তুমি বা তোমার মায়ের যদি এর বিকল্প ব্যবস্থায় তৃপ্তি না হয় তা হলে অলোক, তুমি যে-কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারো।’

    হঠাৎ টেবিলে রাখা দীপাবলীর হাতের ওপর নিজের হাত রাখল অলোক, ‘তুমি অনর্থক উত্তেজিত হচ্ছ! বিকল্পে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু দিনটা কবে ঠিক করছ?’

    ‘এখন নয়। নাগপুর থেকে বেরিয়ে।’

    ‘এখনও দেড় বছর?’

    ‘আমি ঝাড়া হাত-পা হতে চাই।’

    ‘অগত্যা মানতে হচ্ছে।’

    ‘আরও কিছু কথা ছিল।’

    ‘শুনব, আর এক কাপ চা বা কফি বলবে?’

    ‘আমি খাব না। তুমি খেতে পারো।’

    ‘না থাক। চলো।’

    ‘স্ত্রী হিসেবে আমার কাছে তুমি ঠিক ঠিক কী চাও?’

    অলোক চোখ বন্ধ করল, ‘নাথিং। ভেবে পাচ্ছি না।’

    ‘আমি কতগুলো ব্যাপারে সারেন্ডার করছি। বারো বছর থেকে যে ওলট-পালট হয়েছিল তারপরে আর পাঁচটা মেয়ের মতো স্বাভাবিকভাবে আমি বড় হইনি। কলেজ থেকে তো হস্টেলে হস্টেলে অথবা ঘর ভাড়া করে আছি। রান্নাবান্না শেখার সুযোগই পাইনি। তা ছাড়া চা-বাগানের বাড়িতেও খুব সাদামাটা রান্না হত। তোমাদের বাড়ির খাবার আমি খেয়েছি। আমার রান্না খেতে তাই তোমার খুব অসুবিধে হবে।’ দীপাবলী সোজাসুজি বলে ফেলল।

    ‘এটা কোনও প্রবলেম নয়।’

    ‘তুমি জানো না। মানুষ খাওয়ার সময় নিজের তৃপ্তি খোঁজে।’

    ‘বাব্বা। আমি বলছি রান্না কোনও প্রবলেম নয়। দু’জনে রোজগার করব, অতএব রান্নার লোক রেখে দিলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

    ‘দ্বিতীয় পয়েন্ট হল, আমি চাকরি করব, আমার স্বাধীনতা কতখানি?’

    ‘যতখানি চাও। আমরা এমন কিছু করব না যাতে কেউ অসম্মানিত হতে পারি। আমরা কেউ পরাধীন নই যে স্বাধীনতার প্রশ্ন উঠবে।’

    ‘আর আমার কিছু বলার নেই।’

    ‘আমার আছে।’ চট করে বলে ফেলল অলোক।

    ‘বলে ফ্যালো।’

    ‘যখন তোমার মনে কোনও প্রশ্ন জমবে তুমি আমাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করবে। এনি থিং, মনে মনে সেটাকে পাকাবে না।’

    ‘চেষ্টা করব।’

    ‘মদের ব্যাপারে তোমার কোনও অ্যালার্জি আছে?’

    ‘মানে?’ আঁতকে উঠল দীপাবলী, ‘আমি কি মদ খাই যে অ্যালার্জি হবে কিনা বুঝতে পারব?’

    ‘আহা, তা বলছি না। আমি মদ খেলে তুমি সহ্য করবে?’

    ‘তুমি মদ খাও?’

    ‘খুব কম। কখনও কোনও পার্টিতে গেলে এক-আধ পেগ।’

    ‘অ্যাভয়েড করা যায় না?’

    ‘একটু রূঢ় হতে হয়।’ অলোক হাসল, ‘বুঝতে পেরেছি।’

    দীপাবলী মাথা নাড়ল, ‘না। যেমন আছ তেমনই থাকো। কিন্তু কথা দিতে হবে কখনও মাতাল হবে। না। মাতালদের আমি ঘেন্না করি।’

    ‘তথাস্তু। আমি তোমার কাছে ঘেন্না পেতে চাই না।’

    দীপাবলী হাসল, ‘আচ্ছা আমরা কেমন অফিশিয়াল কথা বলছি, না?’

    ‘জানি না অন্য কেউ এরকম বলে কিনা! তবে বলে নিয়ে কোনও ক্ষতি করিনি আমরা। পরে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে আগে বলে নেওয়া ঢের ভাল।’

    ‘চলো, এখান থেকে বের হই। একটু হাঁটি।’

    ‘গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে।’

    ‘পড়ুক, এই বৃষ্টি গায়ে লাগবে না।’

    বাইরে বের হওয়ামাত্র মনে হল ঠান্ডার দাঁত আরও ধারালো। শালটাকে মাথার ওপর তুলে দিল দীপাবলী। কুচি কুচি বৃষ্টি পড়ছে। মাঝে মাঝে হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের। হাঁটতে ভাল লাগছিল। দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘কোন হোটেলে উঠেছ?’

    ‘এবার স্নো পিকে। খুব সুন্দর ঘর।’

    ‘কাল চলে যাবে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    দীপাবলীর খুব খারাপ লাগল। এই এক রাত্রের জন্যে আসা কেন? কেন অলোক বলতে পারে না সাত দিন থাকব। তা হলে প্রত্যেকটা দিন নতুন বলে মনে হত। সে বলে ফেলল, ‘তুমি খুব কৃপণ। দিতে পারো না।’

    ‘বদনাম দিচ্ছ কেন?’

    ‘এইভাবে একরাত্রের জন্য কেন এলে?’

    অলোক থতমত হয়ে তাকাল। শালের প্রান্তে কপালের ওপর যে চুলগুলো বেরিয়ে ছিল তাতে জলের কণা মুক্তোর মতো ঝুলছে। মুখ ভেজা। সে গাঢ় গলায় বলল, ‘আই অ্যাম সরি। এর পরের বার কয়েকদিন থাকার পরিকল্পনা নিয়ে আসব। আমি বুঝতে পারিনি।’

    ‘থাক। তোমাকে কিছু করতে হবে না। জোর করে আদায় করে কিছু সুখ হয় না। আমি বলছি বলে তুমি আসবে, নিজে থেকে যখন আসতে পারোনি তখন বেশিদিন থাকার জন্যে আসতে হবে না।’

    ‘আমি ক্ষমা চাইছি তো!’

    ‘ভেতর থেকে যেটা আসবে সেটাই করবে। আমি বলছি বলে কিছু করতে হবে না।’ দীপাবলীর গলায় অভিমানের সুর এবার স্পষ্ট।

    ‘বেশ, করব না।’

    শোনামাত্র খুব রাগ হয়ে গেল। আশ্চর্য! তার কথা শুনে যেন বেঁচে গেল অলোক। বেশি দিন কাজ ছেড়ে থাকতে হবে না আর। কিন্তু খুব দ্রুত নিজেকে সামলে নিল সে। কী ছেলেমানুষের মতো ঝগড়া করছে সে। সে যা বলছে অলোক তাতেই সায় দিচ্ছে। সে কেন চাইছে অলোক তার মনের কথা বুঝে নিক, মুখের কথার মানে না ধরুক। এগুলোর জন্যে সময় দরকার হয়। দু’জনকে ভালমতো জানার জন্যে সময়। সেটা তো এখনও হয়নি। খানিকটা যাওয়ার পর, আলো যখন বেশ কমে এসেছে, অলোক বলল, ‘চলো, আমার হোটেলে গিয়ে একটু বসবে।’

    এর আগেরবার দীপাবলী অলোকের হোটেলে গিয়েছিল। নির্জন একটি ঘরে অলোক তার সঙ্গে আধঘণ্টা গল্প করেছিল। তখন প্রতিটি মুহূর্তে একধরনের উত্তেজনা এবং আশঙ্কা একইসঙ্গে কাজ করে গিয়েছিল তার মনে। অথচ অলোক তার হাত পর্যন্ত স্পর্শ করেনি সেইসময়। হস্টেলে ফিরে হঠাৎই সে নিজের মনখারাপ আবিষ্কার করেছিল। সিনেমা বা উপন্যাসে দুটি প্রেমিক প্রেমিকা ওই অবস্থায় থাকলে পরস্পরকে আদর করে। হস্টেলে শুয়ে তার মনে হয়েছিল অলোক তাকে উপেক্ষা করেছে। অথচ ওর সঙ্গে হোটেলের ঘরে গল্প করার সময় আশঙ্কা ছিল যে-কোনও মুহূর্তে অলোক মুখোশ খুলে ফেলবে। একই মানুষ বিপরীত ভাবনা ভেবেছে একই দিনে। আজ অলোকের প্রস্তাব শোনামাত্র সে কেঁপে উঠল। দীপাবলী এবার নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে মুখ ফিরিয়ে অলোকের দিকে তাকাল। অলোকের চিবুকের ওপর একটা সুন্দর ভাজ আছে। অনেকসময় একা থাকতে থাকতে সে ওই ভাঁজটার কথা ভেবেছে। কেমন আদুরে। আঙুলের ডগা দিয়ে ভাঁজটাকে স্পর্শ করার লোভ হত। এখনও হল।

    সে মাথা নাড়ল না, আজ থাক। ওয়েদার ভাল নয়’।

    ‘কী এমন হবে! চলো না! ঘরটা ভাল লাগবে।’

    ‘ঘরের জন্যে যাব কেন? আর যদি যেতেই হয় তা হলে একেবারেই যাব।’

    ‘বেশ। তোমার যা ইচ্ছা।’

    ওরা হস্টেলের দিকে নির্জন পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিল। বৃষ্টি হচ্ছে না এখন। দু’পাশের লম্বা গাছগুলো ভেজা বলেই ছায়া তাদের শরীরে আরও এঁটে বসেছে। দীপাবলী নিচু গলায় বলল, ‘তুমি আমাকে ভুল বুঝবে না।’

    ‘না। কিন্তু তুমি দিল্লির জন্যে চেষ্টা করবে।’

    ‘নিশ্চয়ই।’

    একদল ভেড়া গলায় ঘন্টা বাজিয়ে নেমে আসছে ওপর থেকে। পৃথিবী ছায়াময়। ওরা দু’জনে প্রাণীগুলোকে যেতে দিল। গুঁতোগুতি করে প্রত্যেকে প্রথমে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আর একটু এগোতে পথটা যেখানে বাঁক নিয়েছে সেখানে পৌছেই থমকে গেল দু’জনে। বাঁকের শেষে একটা বড় পাথরের পাশে অর্জুন আর শকুন্তলা দাঁড়িয়ে আছে আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে। একটুও নড়ছে না। সমস্ত বিশ্ব ভুলে গিয়েছে যেন। ওদের পাশ দিয়েই ভেড়াগুলোকে নিয়ে গেছে রাখাল। তখনও কি ওরা ওই অবস্থায় ছিল। এইভাবে প্রকাশ্যে? হোক রাস্তা নির্জন—! অলোক বলল, ‘ওদের ডিস্টার্ব করা উচিত হবে না। একটু অপেক্ষা করো।’ দীপাবলী মাথা নাড়ল। কয়েক সেকেন্ড পরেই শকুন্তলা আলিঙ্গনমুক্ত হয়ে অর্জুনের হাত ধরে হাঁটা শুরু করল।

    অলোক বলল, ‘বাঁচা গেল।’ দীপাবলীর মন কেমন তেতো হয়ে যাচ্ছিল। সে নিচু গলায় বলল, ‘তুমি ফিরে যাও। এখান থেকে আমি একাই যেতে পারব। বেশি দূর নয়।’

    ‘তোমার কি অস্বস্তি হচ্ছে?’

    ‘দীপাবলী একটুও দ্বিধা করল না, হ্যাঁ।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }