Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৯. সুখের চেয়ে স্বস্তি ভাল

    এই ভাল। সেই পুরনো কথাটাতেই ফিরে আসা, সুখের চেয়ে স্বস্তি ঢের ভাল। কারও সঙ্গে কোনও সংঘাত নেই, মেনে নেওয়া এবং মানিয়ে নেওয়ার টানাপোড়েন নেই। এই একা একা থাকার বাইরের কোনও উটকো ঝামেলা নেই। এখন যা কষ্ট নিজের তৈরি, তার জন্য কারও কাছে কৈফিয়ত দেবার দায়ও নেই। অনেক তো হল। একসময় নিজেকে ভীষণ নিঃসঙ্গ মনে হত। সেই নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে একটি মানুষের সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়েছিল আন্তরিকভাবে। হওয়া গেল কোথায়? জীবন কোনও অঙ্কের হিসেবে চলে না। তার কোনও নিয়মও নেই। কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের তাই নিত্যদিন সংঘাত। তাই কোনও পুরুষের সঙ্গে এক ছাদের তলায় বাস করেও যদি একা থাকতে হয়, মনের কথা মনে পুষে রেখে অন্য কথা বলতে হয়, তা হলে তার চেয়ে এই একা থাকা ঢের ভাল। অন্তত সকালে উঠেই রান্নাঘরে ছুটতে হয় না কারও মুখে চা তুলে দেবার জন্যে। নিজের মর্জিমতো চা বানাও, ইচ্ছেমতো রান্না করো। কিছু না করতে ইচ্ছে করলে টোস্ট এবং ওমলেট খেয়ে অফিসে যাওয়া যায়। দিনে দু’বার চা খেলে খিদেটা থাকে না। বাসের ভিড় ঠেলে বাড়ি ফিরে প্রথমে চা খাওয়া তারপর স্নান। এরপর যদি সেদ্ধভাত এবং সেইসঙ্গে তরকারি একটা বানিয়ে ফেলা যায় তা হলে সেটা খাওয়ার জন্যে রাত এগারোটা পর্যন্ত এটা-ওটা করতে বেশ জেগে থাকা যায়।

    সমস্যা হল ওই রাতটাকে নিয়ে। অফিসে যাওয়া আসা এবং সেখানে কাজ করার যে ক্লান্তি, সারাদিনের স্বল্পাহারের ফলে পেটে যখন ভাত পড়ে তখন যে-আলস্য, তা নিঃসন্দেহে ঘুম এনে দিতে সক্ষম। কিন্তু দশটায় শুলে একটা নাগাদ জেগে বসতে হয়। তখন অনেক চেষ্টা করেও নিদ্রাদেবীর কৃপা পায় না দীপাবলী। ঘাড়ে মুখে জল দিয়েও স্বস্তি নেই। শরীরটা যেন কিছুতেই তিন ঘণ্টার বেশি ঘুমোতে চায় না। সমস্ত পৃথিবী যখন গভীর ঘুমে ডুবে আছে তখন হয় অন্ধকারে ভূতের মতো বসে থাকো, না হয় আলো জ্বালিয়ে বই পড়ো। সেইসময় কোনও সিরিয়াস লেখা মোটেই ভাল লাগে না। হ্যাডলি চেজ কিংবা রবিন্সের লেখা স্বচ্ছন্দে পড়া যায়। বই পড়তে পড়তে কখন সকাল হয়ে যায় তা টের পায় না সে। অথচ দিল্লিতে থাকার সময় এমনটা কখনই হয়নি। অলোকের সঙ্গে হাজার ঝামেলা হলে শরীরে কষ্ট হয়েছে কিন্তু নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়নি। তাই দেরিতে রাত্রের খাওয়া শেষ করে আরও পরে বিছানায় যায় সে। ঘুম আসে। বারোটার ঘুম তিন-সাড়ে তিনটেতে ভেঙে যায়। সেইসময় বই পড়তেও ইচ্ছে করে না। অন্ধকারে চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকা। এই কষ্ট মারাত্মক। মাঝে মাঝে ঘুমের ওষুধ খেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু ইচ্ছেটাকে এখনও দমন করতে পারছে দীপাবলী। একবার শুরু করলে ওর দাসত্ব করতে হবে চিরকাল।

    এই রাতটুকু ছাড়া দীপাবলীর আর তেমন সমস্যা নেই। একা থাকতে হলে কিছু কিছু ব্যাপার সহ্য করতেই হয়। সেটাও তো একরকমের মজা। বাড়িতে বাজার নেই, আলু পর্যন্ত নেই। কিন্তু বাজারে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। শুধু চিঁড়ে খেয়ে একটা গোটা দিন দিব্যি কাটিয়ে দেয় সে। দ্বিতীয় ব্যক্তি থাকলে এটা পারত না। ভাত খাওয়া হল না বলে মনে কোনও কষ্ট এল না। ইতিমধ্যে তার সংসারে দুটো জিনিস এসে গিয়েছে। মাসিক কিস্তিতে দাম শোধ করতে হচ্ছে। গ্যাস এবং ফ্রিজ। গ্যাসের টাকা একসঙ্গে দিতে হয়েছে। এ দুটোই তাকে যেন বাঁচিয়ে দিয়েছে। রান্নার ঝামেলা নেই আর সন্ধের রান্না পরের সকালেও গরম করে খাওয়া যায়। রবিবার সকালে একটু বেশি করে বাজার এনে ফ্রিজে রেখে দিলে পুরো হপ্তা তাই দিয়ে চলে যায়। প্রথম প্রথম খেতে বসার সময় খারাপ লাগত। বিশেষ করে ছুটির দিনে। সেদিন কারও সঙ্গে কথা বলা যায় না। ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ করে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকো। অফিসে গেলে কাজের প্রয়োজনে কথা বলা যায়। কিন্তু ছুটির দিনে সময় যেন কাটতেই চায় না। তখন মনে হয় কেন ছুটি হল। মাসের তিরিশ দিনেই যদি কাজ করা যেত তা হলে যেন সে রক্ষা পেত। আর সেইসব দুপুরবেলায় একা খেতে বসে মাঝে মাঝে কান্না পেত দীপাবলীর। মুখে ভাত তুলতে পারত না। খাওয়াটা নিজের প্রয়োজনে, নিজের রুচিমতো। কিন্তু সেই খাওয়ার সময়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি যে আলাদা পরিবেশ তৈরি করে তা এর আগে এমন করে বোঝেনি। কিন্তু একসময় তো তাকেও একা থাকতে হয়েছিল যাদবপুরে। তখন তো এরকম মনে হয়নি। সেইসময় তার কোনও আকাঙ্ক্ষা বা প্রাপ্তি ছিল না। অলোকের সঙ্গে বাস করে যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল সেটাই বোধহয় এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    হ্যাঁ, এটাও একা থাকার সমস্যা। জেনেশুনেই সে ব্যবস্থাটা নিয়েছে। তা নিয়ে আক্ষেপ করে লাভ নেই। প্রথম প্রথম দরজা কিংবা জানলায় শব্দ হলে ভয় করত। চমকে উঠত। কোনও বদমায়েশ লোক শব্দ করে, যদি দেখা করতে আসে এই আশঙ্কা অবশ্যই ছিল। ধীরে ধীরে সেটাও কাটিয়ে উঠেছে সে। এখন আর বাইরের কোনও পুরুষকে তার ভয় হয় না। অনেকদিনই তো পার্ক স্ট্রিটে কেউ না কেউ তাকে অনুসরণ করে। ভুলেও সে ফিরে তাকায় না। লোকগুলো যতক্ষণ প্রশ্রয় না পায় ততক্ষণ ওদের মতো ভীরু খুব কমই আছে। এই পাড়াটাও উত্তর কলকাতার মতো নয়। কেউ কারও ব্যাপারে নাক গলায় না। কে কী করছে তা নিয়ে কোনও কৌতুহল নেই। এটা স্বস্তিকর। দীপাবলী কার সঙ্গে থাকছে বা একা কেন, এমন প্রশ্ন কেউ করেনি এখনও। একা থাকতে গেলে শরীরটাকে ঠিক রাখতে হবে।অসুস্থ হলেই বিপদ। বড় কিছু হলে না হয় নার্সিংহোমে গিয়ে থাকা যায় কিন্তু অল্প স্বল্প অসুস্থতায় কেউ এক গ্লাস জল গড়িয়ে দেবার নেই। ইদানীং একটা টেলিফোনের অভাব খুব বোধ করছে সে। টেলিফোন থাকলে কোনওমতে ডাক্তারকে ফোন করা যায়। খুব একা থাকার সময়ে কারও সঙ্গে কথা বললে একটু হালকা হয় চাপ। কিন্তু কথা বলার লোকও এই শহরে যে তেমন নেই।

    রবিবার সকালে বাজারে যাচ্ছিল দীপাবলী। সিঁড়ি বেয়ে নামতেই দেখল ঠিক নীচের ফ্ল্যাটে দরজায় এক ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে। স্বাস্থ্যবতী মধ্যবয়সিনী। এই সকালেই ঠোঁটে লিপস্টিক দিয়েছেন কিন্তু বাইরে যাওয়ার ইঙ্গিত পোশাকে নেই। চোখাচোখি হতে হাসলেন মহিলা, ‘আমি আপনার জন্যে দাঁড়িয়ে আছি।’

    ‘আমার জন্যে?’ দীপাবলী একটু অবাক।

    ‘আপনি তো প্রতি রবিবারে এইসময় বাজারে যান তাই ভাবলাম এখানেই ধরব। একবার ভাবলাম আপনার ফ্ল্যাটে যাই। কিন্তু ও বলল আপনি নাকি অফিসার, ঠিক না হলে রাগ করতে পারেন।’

    ‘কী ব্যাপারে বলছেন বুঝতে পারছি না।’

    ‘আপনার নাম কি দীপাবলী মুখার্জি?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘তা হলে ঠিক। দাঁড়ান একটু।’ ভদ্রমহিলা ভেতরে চলে গেলেন। রহস্যটা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বোঝা গেল। ভদ্রমহিলা ফিরে এসে একটা ইনল্যান্ড লেটার এগিয়ে ধরলেন, ‘কাল আমাদের লেটার বক্সে আপনার চিঠি ভুল করে ফেলে গিয়েছিল পিয়ন।’

    চিঠি নিয়ে দীপাবলী হাসল, ‘আমি অফিসার তা জানেন নামটা জানেন না?’

    ‘আপনার ফ্ল্যাটের দরজায় তো লেখা নেই। এমনকী লেটার বক্সের গায়েও নয়। দেখুন, চিঠিতে ফ্ল্যাট নম্বর লেখা হয়নি। আর দারোয়ান আপনার পুরো নাম বলতে পারল না।’

    ‘তা হলে আমারই দোষ। ওগুলো লিখে রাখতে হবে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।’

    ‘না না। এ তো সামান্য ব্যাপার। আসুন না একদিন আমার ফ্ল্যাটে।’

    ‘আসব সময় পেলে।’

    ‘খুব ভাল লাগবে। তবে এলে দুপুর বেলাটা বাদ দিয়ে আসবেন। মানে বেলা বারোটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে নয়।’ ভদ্রমহিলা হাসলেন।

    ঘাড় নেড়ে নেমে এল দীপাবলী। সে ভেবে পাচ্ছিল না হঠাৎ ভদ্রমহিলা কেন সময় বেঁধে দিলেন? ওইটে কোনও ভদ্রলোকের বাড়িতে যাওয়ার সময় নয়। ভদ্রমহিলাকে কেমন অস্বাভাবিক বলে মনে হতে লাগল ওর। সে ঠিক করল যাবে না। যত ঘনিষ্ঠতা হবে তত মানুষের কৌতূহলের সামনে পড়বে। আর তা থেকে তিক্ততায় পৌঁছে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কী দরকার গায়ে পড়ে ঝামেলা ডেকে আনার। হাতের চিঠিটা দেখল সে। অলোকের চিঠি। এখন বাজারে যাওয়ার পথে চিঠি খুলে পড়া সম্ভব নয়। বিশ্রী দেখাবে সেটা। দীপাবলী চিঠিটা রেখে দিল। অলোক যে এভাবে চিঠি লিখবে তা সে আশা করেনি। এমনটা ঠিক নয়। এই যে অলোক গায়ে পড়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে সেটা এক ধরনের ডিসিভিং ব্যাপার। ও নিজের সঙ্গে যতদিন প্রতারণা করবে ততদিন এমন ধারায় চলবে। যা সত্যি তার উলটোটা করার একটা মেকি চেষ্টা কি নিজের সঙ্গে প্রতারণা নয়?

    বাজার সেরে বাড়ি ফিরে এল যখন তখনও মেজাজ ঠিক হয়নি। কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে রইল বিছানায়। তারপর হাত বাড়িয়ে চিঠিটা তুলে নির্দয়ভাবে ছিঁড়ল। পরিষ্কার হাতে ইংরেজিতে লেখা গোটা সাতেক লাইন। বাংলা করলে এমন দাঁড়ায়, ‘দীপা, নিশ্চয়ই ভাল আছ। তোমার একটি চিঠি আমার ঠিকানায় এসেছিল। সেটি তোমার ঠিকানায় কি ইতিমধ্যে পৌঁছেছে? যাঁরা তোমায় চিঠিপত্র দিতে পারেন তাঁদের এবার নতুন ঠিকানা জানিয়ে দেওয়া ভাল। ফ্ল্যাট এখনও ছাড়িনি। ভাল থেকো। অলোক।’

    ইংরেজি ভাষার সুবিধে নেবার জন্যেই বাংলায় লেখেনি চিঠিটা। এর আগে কখনও এমন হয়নি। হঠাৎ একটা তিক্ত অনুভূতি তৈরি হল। এই চিঠিটা না লিখলে অলোকের কী ক্ষতি ছিল? ঠাকুমার চিঠিটা দেখেই তো সে বুঝেছে ওটা রি-ডাইরেক্টেড হয়ে এসেছে। নতুন ঠিকানা যে জানিয়ে দেবে সে এটা বলার প্রয়োজন হয় না। অলোক ফ্ল্যাট রেখেছে কি রাখেনি সেটা ওর ব্যাপার, দীপাবলী নিশ্চয়ই খবরটার জন্যে উদগ্রীব নয়।

    চুপচাপ শুয়ে রইল সে কিছুক্ষণ। নাকি তার মনে অন্য রকমের চিন্তা ছিল। সে কি ভেবেছিল অলোক ইনিয়ে বিনিয়ে তার একাকিত্বের কথা লিখবে? ঠিক যে-ভাষায় বিবাহ-পূর্ব পত্রাবলি লিখেছে সেই ভাষায়? এবং সেটা না দেখতে পেয়ে নিজস্ব অপমানবোধ তৈরি হল বলেই মনটা এমন বিশ্রী হয়ে গেল? তার রাগ, তার নির্লিপ্তি কি কোনও প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে?

    আচমকা হেসে ফেলল দীপাবলী। প্রত্যাশা। যার কাছ থেকে পাওয়ার কিছু নেই, তার কাছে কেউ আশা করে? হঠাৎই মনে হল, তার কি দেওয়ার কিছু ছিল? না, আর পাঁচটা বাঙালি মেয়ের মতো ভাল রান্না সে করতে পারে না। ইনিয়ে বিনিয়ে মিষ্টি কথা বলার অভ্যেস তৈরি হয়নি। মেয়েদের যেসব ন্যাকামি অনেক ছেলের ভাল লাগে তা এ-জীবনে রপ্ত করা হবে না। যা সত্যি তা বলতে কোনও দ্বিধা আসত না। এবং—! দীপাবলী স্থির চোখে ছাঁদের দিকে তাকাল। সেইসব রাতগুলো নিশ্চয়ই অন্যরকম ছিল। কিন্তু আলো জ্বেলে রেখে অলোকের ইচ্ছাপূরণ করতে সে কখনই পারেনি। অলোক ঠাট্টা করত! ‘এসব কি অন্ধকারের জিনিস বলে মনে করো? এটাও এক ধরনের শিল্প।’

    হয়তো। সপক্ষে অনেক উদাহরণ আছে। ভারতবর্ষের মন্দিরগুলোর গায়ে মূর্তিদের আবরণ যা এককালের শিল্পীরা রেখে গেছেন অমর হাতে তা দেখে শিল্প না বলে উপায় নেই। আমাদের পৌরাণিক কাহিনিগুলোয় যে শারীরিক মিলনের বিবরণ তাও শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছে অনেক জায়গায়। সারাপৃথিবী জুড়ে যৌনতাবিষয়ক বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা এখন হচ্ছে প্রকাশ্যে। শরীরের ওই খেলা এখন সাদা চোখে দেখা হচ্ছে। নরনারীর মানসিক এবং শারীরিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যাপারটা টনিকের মতো কাজ করে বলে অনেক বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন। সবই ঠিক। কিন্তু আবাল্য যে-সংস্কার রক্তের কোষে কোষে ছড়িয়ে আছে তা এক ঝটকায় ঝেড়ে ফেলতে পারেনি দীপাবলী। তার মা ঠাকুমা বলে যাঁদের জেনেছিল তাঁরা কখনই নিম্নাঙ্গে অন্তর্বাসের সংখ্যা দুইয়ে নিয়ে যাননি। শাড়ি পরার বয়সে পৌঁছানোমাত্র দীপাবলী তাঁদের অনুসরণ করেছিল। বিদেশি মেয়েরা সেটা আমৃত্যু পরেন কারণ তাঁদের স্কার্ট বা প্যান্ট ব্যবহার করতে হয়। দিল্লিতে এসে যখন বুঝল মেয়েরা শাড়ির সঙ্গে প্যান্টি ব্যবহার করেও স্বচ্ছন্দ তখন অলোকের কথা ফেলতে পারেনি। এবং তা করে ব্যাপারটি বাস্তবসম্মত মনে হয়েছিল। পোশাক মানুষ পরবে প্রয়োজনের জন্যে। এককালে, বেশি কাল আগে নয়, এদেশীয় মেয়েরা সেমিজ ব্যবহার করতেন। কাঁধ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত সেই পোশাক যে কাজের ক্ষেত্রে খুব একটা কার্যকর নয় তা বুঝেই সায়া এবং ব্লাউজের চল এল। ঠিক একই ভাবে যদি শাড়ির নীচে দ্বিতীয় অন্তর্বাসের ব্যবহার স্বাচ্ছন্দ্য দেয় তবে তা ব্যবহার করতে আপত্তি কোথায়? কিন্তু এই পরিবর্তনে অলোকের অন্য বাসনা তৃপ্ত করতে পারেনি সে। হোক তাদের ফ্ল্যাটে তৃতীয় ব্যক্তি নেই, কিন্তু নিজের কাছেই লজ্জা করত। অলোক বলত বিদেশে সমুদ্রের ধারে ওই পোশাকে অবলীলায় শুয়ে থাকে মেয়েরা। আর বন্ধ দরজার এপাশে একটি বাঙালি মেয়ে শুধু তার স্বামীর সামনে সংক্ষিপ্ত দুটো অন্তর্বাস পরে বিচরণ করতে পারবে না কেন? পারেনি দীপাবলী। আলোক রেগে গেছে, অভিমান করেছে, আর কষ্ট পেয়েছে সে ওই কারণে।

    হ্যাঁ, এ সবই তো না-দিতে পাবার তালিকায় যোগ হবে। দীপাবলী জানে না, বাংলাদেশের আর পাঁচটা বউ একই আচরণ করে কিনা। অলোক বলেছিল ‘শীতল স্ত্রী-যে কোনও পুরুষকেই উন্মাদ করে দিতে পারে যদি সে অপ্রকৃতিস্থ না হয়। সেক্সকে তুমি মাঝে মাঝে মাসান্তের অসুস্থতার মতো মনে করো।’ দীপাবলী অনেক কথা বলতে পারত না হয়তো। তবু কোনও কোনও ছুটির দুপুরের কথা ওকে মনে করিয়ে দিতে পারত। সেইসব মুহুর্তে অলোকের একটিবারের জন্যেও মনে হয়নি সে বরফের চাঁই জড়িয়ে শুয়ে আছে? নিশ্চয়ই তার খামতি ছিল। শারীরিক সম্পর্কহীন প্রেমপর্বে কখনই এই বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করা যায় না, রুচিতে লাগে। করতে পারলে হয়তো পরবর্তীকালের ঘটনার শিকার হত না দু’জনেই।

    ‘আমি অস্বাভাবিক।’ দীপাবলী ছাদের দিকে তাকিয়ে বলল। মনে মনে কথা বলতে লাগল তার পরেই। আমি যা যা করেছি তা যেন কোনও বাঙালি মেয়ে না করে। করলে তাকে খুব কষ্টে থাকতে হবে। আর না-করলে যে–মেয়ের কষ্ট হবে তার পরিত্রাণের কোনও রাস্তা নেই। তবে কোন কষ্টটা বেশি কষ্টদায়ক সেটা তাকেই বুঝে নিতে হবে। অলোক যা যা চাইত তা সে করতে পারলে নিশ্চয়ই ছবিটা অন্যরকম হত। এখন এই সময়েও বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মেয়ে আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে স্বামীর সঙ্গে জীবন কাটাচ্ছে। তার সংখ্যা আর একটি বাড়েনি এই যা।

    উঠে বসে চিঠিটা লিখে ফেলল দীপাবলী, ‘অলোক। অপ্রয়োজনীয় চিঠিটা লিখতে তোমারও নিশ্চয়ই ভাল লাগেনি। আমাদের দু’জনেরই বয়স হয়েছে। নিজের সঙ্গে প্রতারণা করে কেউ কি সামান্য আনন্দও পাব? পাব না। তাই না? দীপাবলী।’

    ইনল্যান্ড ভাঁজ করতে করতে মাথা নাড়ল সে। রুচি রুচি। রুচি নিয়ে আমি মরলাম। কেন আমি একটু অন্যরকম হলাম না? হ্যাডলি চেজের উপন্যাসের সেইসব নায়িকার মতো যারা শুধুই জীবন দেখেছে তাৎক্ষণিকতায়। তা হলে হয়তো সবকিছুর সঙ্গে সেজেগুজে বেশ থাকা যেত। যার দশে হয় না তার একশোতেও হবে না।

    জলপাইগুড়িতে যাওয়া দরকার। মনোরমাকে দেওয়া কথা রাখতে হলে সশরীরে সেখানে উপস্থিত হওয়া প্রয়োজন। দীপাবলী নিশ্চিত নয় মনোরমা তার সঙ্গে আসতে রাজি হবেন কিনা। কিন্তু তবু চেষ্টা করতে হবে। হঠাৎ তার মনে হল মনোরমা সঙ্গে থাকলে বেঁচে যাবে। একাকিত্ব যে চাপ তৈরি করে সেটা দূর হবে। কিন্তু মনোরমা বাঁচবেন আর কতদিন? জীবনের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছেন ভদ্রমহিলা। তারপর? তা ছাড়া ওঁর সংস্কার, ওঁর শুচিবায়ুগ্রস্ততা এসব তো খুবই মুশকিলে ফেলবে তাকে। এসব ভাবনা সত্ত্বেও ভেতরে ভেতরে টান বোধ করতে লাগল দীপাবলী।

    কাজ না করতে করতে কাজ সম্পর্কে যাদের নিস্পৃহ ভাব তৈরি হয়, চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিয়মে ফিরতে হয় তাদের। দীপাবলীর সেকশনের মহিলারা মুখে যা-ই বলে যান এখন তাঁদের কাজটুকু করতে হচ্ছে। নইলে প্রতিদিন গোটা দশেক কেসের শুনানি হতে পারত না। এঁরা প্রথমে দীপাবলীকে আর একজন মহিলা বলেই ভেবেছিলেন। কিন্তু অভিজ্ঞতা অন্যরকম হতে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের দোহাইগুলো কমে গিয়েছে। তবে দীপাবলী তাঁদের কিছু স্বাধীনতা দিয়েছে। যে-মহিলাটিকে রোজ সাড়ে তিনটের সময় ছেলেকে নিতে স্কুলে যেতে হত তাঁকে তিন দিন আগে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। সেই তিন দিন ঠিক দশটার সময় এসে তাঁকে কাজ শুরু করতে হবে। যিনি দেরিতে আসতেন তাঁকে যেমনভাবেই হোক দিনের কাজ দিনেই শেষ করতে হচ্ছে। অসন্তোষ থাকবেই কিন্তু তা নিয়ে মাথা ঘামায়নি সে। ছেলেকে আনতে যাওয়া মহিলাটিকে বলেছিল, ‘আপনি আপনার স্বামীর সঙ্গে এই কাজটা ভাগ করে নিন। ছেলে তো তাঁরও। উনি ছুটি পান না বললে যদি রেহাই পান তা হলে তার দায় আপনার ওপর বর্তাবে কেন?’ ভদ্রমহিলা কোনও জবাব দিতে পারেননি। মাথা নিচু করে বসেছিলেন। দীপাবলী নিচু গলায় বলেছিল, ‘সংসার আপনার একার নয়।’ হঠাৎই ভদ্রমহিলা চোখের কোণে রুমাল চেপে ধরেছিলেন। ভেজা গলায় বলেছিলেন, ‘এগুলো যে ওকে আজও মুখ ফুটে বলতে পারলাম না।’

    দীপাবলী মহিলাটির মুখের দিকে তাকাল অবাক হয়ে। বয়স বেশি নয়। কিন্তু চেহারায় লাবণ্য অথবা রূপের ছায়া আছে মাত্র। সে বলল, ‘এবার বলুন।’

    মাথা নাড়লেন মহিলা, ‘আপনাকে কী করে বলি। আপনি অসন্তুষ্ট হবেন।’

    ‘আপনার সমস্যাটি কী?’

    ‘যা চলছে তা না চালালে ও অসন্তুষ্ট হবে। খুব রাগারাগি করবে। সেই অশান্তি আমি সহ্য করতে পারি না।’ মহিলা মুখ নামালেন।

    ‘আপনি কি বিয়ের আগে থেকেই চাকরি করছেন?’

    ‘হ্যাঁ। সেইজন্যেই তো বিয়েটা হল। সারাজীবন ধরে যৌতুক পেয়ে যাবে।’

    ‘আপনি এত জানেন, বোঝেন, তা হলে প্রতিবাদ করতে চান না কেন?’

    ‘এখন প্রতিবাদ করে কী হবে?’

    ‘কেন?’

    ‘প্রতিবাদ করলে আমি সংসার হারাব। স্বামীর ঘর ছেড়ে আসা মেয়েদের আমাদের সমাজ এখনও পছন্দ করে না। সবাই সন্দেহ করবে। আর আলাদা হয়ে আমি কোথায় বা যাব? ভাইয়ের সংসারে গিয়ে থাকা মুশকিল। সে তা চাইবে না। এই মাইনেতে একা থাকতে গেলে বস্তিতে গিয়ে উঠতে হয়। ছেলেকে নিয়ে তা আমি পারব না। তাই ওঁর সঙ্গে আমাকে থাকতেই হবে। এইভাবেই, সারাজীবন।’

    ‘আপনাদের মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই?’

    ‘সম্পর্ক? শুধু ছেলে এবং সংসারকে কেন্দ্র করে যতটুকু, ততটুকু।’

    ‘কেন এমন হল?’

    ‘আমি জানি না। হয়তো দেখতে ভাল নই, খুব রোগা, ওর এরকম মেয়ে পছন্দ হয় না। আবার আমি সাজলে গুজলে খুব রেগে যায়। বলে দাঁড়কাক ময়ূর হয় না।’

    ‘এই মানুষটিকে আপনি ভালবাসেন?’

    মহিলা চোখ তুললেন, ‘আপনি এসব কথা কাউকে বলবেন না। প্লিজ। অফিসের সবাই জানে আমাদের খুব সুখের সংসার। তাই জানুক।’

    দীপাবলী বুঝল ওই প্রশ্নটির উত্তর মহিলা দেবেন না। অথবা দিতে পারবেন না। তখনই কথা হল তাঁকে সে সপ্তাহে তিন দিন ছাড়বে। বাকি তিন দিন তাঁর স্বামীকে যেতে হবে স্কুলে, ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে। এই ব্যাপারটা আজই ভদ্রমহিলা তাঁর স্বামীকে বলবেন। এবং কী হল তা জানাবেন তাকে।

    ফল হয়েছিল। মহিলা এক ফাঁকে এসে জানিয়ে গিয়েছেন একটু রাগারাগি করলেও স্বামী ভদ্রলোক ব্যবস্থাটা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। যেহেতু মহিলা বলেছেন রোজ সাড়ে তিনটেয় বেরিয়ে এলে মাইনে কাটা যাবে।

    দীপাবলী জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘আপনি খুশি?’

    মাথা নেড়েছিলেন মহিলা, ‘না। জানেন, আমার ভয় হচ্ছে ছেলেটাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ও ঠিকমতো খাবার দিতে পারবে না। হয়তো চারটের বদলে সাড়ে চারটের সময় স্কুলে যাবে ছেলেকে আনতে। আর ততক্ষণ বেচারা কান্নাকাটি করবে।’

    দীপাবলী এখানেই কথা শেষ করেছিল। ভদ্রমহিলার গল্প আর শুনতে ইচ্ছে করেনি। পশ্চিমবাংলার ঘরে ঘরে স্বামী স্ত্রীর যে মানসিক বিরোধ তার সমাধানের কোনও রাস্তা তার জানা নেই। স্বামী যতই অন্যায় করুন, তাঁর সঙ্গে থাকা মানে একটা নিরাপদ জায়গায় থাকা এই বোধ নব্বুইভাগ মহিলার মনে পাকা হয়ে আছে। আর বিকল্পই বা কী? তা হলে তো বাসস্থানের সমস্যা আরও প্রবল হবে। এত থাকার জায়গা কোথায় পাওয়া যাবে বিচ্ছিন্ন স্ত্রী পুরুষদের জন্যে? অতএব কিছু করার নেই।

    অষ্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট টিম কলকাতায় টেস্ট খেলবে। দু’দিন পরে তাদের খেলা। হঠাৎ সকালবেলায় ডাক পড়ল আই এ সি-র ঘরে। ভদ্রলোক বেশ ভদ্রতা করলেন। বললেন, ‘আপনাকে আমরা এতদিন মিসেস ব্যানার্জি বলে জেনে এসেছিলাম কিন্তু আপনি মিসেস মুখার্জি?’

    ‘হ্যাঁ। বিয়ের আগে আমি চাকরিটা পেয়েছিলাম ব্যানার্জি হিসেবে।’ দীপাবলী বলল, ‘বিয়ের ডিক্লারেশন দিয়েছিলাম। কিন্তু ওটাই কেউ কেউ বলে যাচ্ছেন।’

    ‘কেউ কেউ মানে?’

    ‘যাঁরা জানেন তারা মুখার্জি বলেন।’

    ‘হ্যাঁ। কাল আপনার রেকর্ডস দেখলাম। অবশ্য অনেকেই তো প্রথম স্বামীর পদবি ক্যারি করে যাচ্ছেন। ফিল্‌মে তো এরকম চল আছে। যা হোক, সি আই টি আমাকে রিকোয়েস্ট করেছেন টেস্টম্যাচের কয়েকটা টিকিটের জন্যে। আমি অন্যান্য আই টি ও-দের বলেছি। কিন্তু ক্লাব হাউসের টিকিট দিতে পারেন এমন অ্যাসেসি আপনার ওয়ার্ডে আছে।’

    ‘আমায় কী করতে হবে?’

    ‘দুটো ক্লাব হাউসের টিকিট পাঠিয়ে দেবেন। আমি পৌঁছে দেব।’ ভদ্রলোক হাসলেন, ‘সিনহা অবশ্য এক ডজন দিয়ে গেল। কিন্তু ক্লাব হাউসের টিকিট মাত্র দুটো। আর আমাদের সি আই টি-র দরকার ছ’টা।’

    ‘কার কাছে পাওয়া যাবে জানি না কিন্তু তিনি তো পয়সা নিতে চাইবেন না। স্যার, এভাবে টিকিট নিলে পরে ভদ্রলোক সুবিধে আদায় করতে চাইবেন।’

    ভদ্রলোক হাত তুললেন, ‘আমি এ-ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করব না। সি আই টি টিকিট চেয়েছেন, আমি জানিয়ে দিলাম। দ্যাটস অল।’

    অফিসটা যেন হঠাৎ চঞ্চল হয়ে উঠেছে। সর্বত্র টিকিট টিকিট রব। এর মধ্যে অন্তত চারজন উকিলকে ফিরিয়ে দিয়েছে দীপাবলী। সে খেলা সম্পর্কে আগ্রহী নয় অতএব টিকিটের দরকার নেই। নমিতাদি এসে মিনমিন করে টিকিট চাইলেন তাঁর আত্মীয়ের জন্যে। জানালেন প্রতিটি সেকশনের স্টাফরা দুটো করে সিজন টিকিটের সেট পেয়েছে। আই টি ও-রা ডেকে ডেকে সবাইকে টিকিট দিচ্ছে। দীপাবলীর মনে হল চারপাশের স্রোত যখন সাগরমুখী তখন সে এদের যেন পাহাড়ে ফিরতে বলছে। ক্রমশ সে সবার চোখে অপরাধী হয়ে যাবে। এদের সবাইকে বিনা পয়সায় টিকিট দেওয়া যেন অফিসার হিসেবে তার কর্তব্য— ব্যাপারটা এই পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এইসময় সেই ভদ্রলোক এলেন। অমিয়কুমার সাহা। সি এ বি-র মেম্বার, অনেকগুলো মদের দোকানের মালিক। বিনীত গলায় বললেন, ‘প্রত্যেকবার টেস্ট ম্যাচের সময় আমি টিকিট দিয়ে থাকি। ক’টা দেব?’

    দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘সিজন টিকিটের দাম কত?’

    ‘দাম? না না, দাম দিতে হবে না।’

    ‘আপনি নিশ্চয়ই বিনামূল্যে পাননি।’

    অমিয়বাবু তাজ্জব, ‘এই প্রথম এমন কথা কোনও ইনকামট্যাক্স অফিসারের মুখে শুনলাম। দেখুন ম্যাডাম, ইনকামট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের কাছে আমি কখনও কোনও ফেবার চাই না। যা রোজগার করি তা অডিট করিয়ে পাইপয়সা ট্যাক্স মিটিয়ে দিই। হ্যাঁ, কিছু ইনকাম আমি দেখাই না কিন্তু তা ধরার কোনও ক্ষমতা আপনাদের নেই। আমার খাতাপত্তর, হিসেব এবং ব্যাবসার সবকিছু খতিয়ে দেখে আপনারা কোনও খুঁত পাবেন না। তাই ভয় পেয়ে ঘুষ দেবার কোনও প্রশ্ন নেই। তবু আমি টিকিট দিতাম। দিতে হত।’

    ‘আপনি আমাকে চারটে সিজন টিকিট দিতে পারবেন? আমি টাকা দেব।’

    ‘বেশ। একশো পঁচিশ করে পাঁচশো টাকা দেবেন। ভদ্রলোক চারটে টিকিট সামনে রাখলেন, ‘ক্লাব হাউসের টিকিটগুলো কিন্তু টাকা দিয়ে কিনিনি।’ দীপাবলী এক মুহূর্ত ভাবল, ‘ওগুলোয় আমার প্রয়োজন নেই। তবে আই এ সি-র আছে।’

    ‘হ্যাঁ। উনিই চান। আপনার পূর্বসূরি টিকিট নিয়ে ওঁকে দিতেন।’

    ‘তা হলে ওই টিকিট দুটোর ব্যাপারে আমার কোনও করণীয় নেই।’

    ‘ম্যাডাম, আমি কি ওঁকে পৌঁছে দিতে পারি?’

    ‘সেটা আপনার ইচ্ছে।’

    ‘বুঝতে পেরেছি।’ অমিয়বাবু উঠতে যাচ্ছিলেন। দীপাবলী তাঁকে একটু অপেক্ষা করতে বলে নমিতাদিদের ডেকে পাঠাল। তাঁরা এলে সে চারখানা টিকিটের বই দেখিয়ে বলল, ‘অমিয়বাবুর কাছ থেকে চারখানা টিকিট পাওয়া গিয়েছে। এর বেশি কেনার সামর্থ্য আমার নেই। আপনারা নিজেরা ভাগ করে নিন।’

    ব্যাগ খুলে সে পাঁচশো টাকা বের করল। গতকাল থেকেই টাকাটা সে ব্যাগে রেখে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিল। এইসময় ইন্সপেকট্রেস মহিলা বলে উঠলেন, ‘আপনি টাকা দিয়ে টিকিট কাটছেন?’

    ‘হ্যাঁ। বিনা পয়সায় নিলে অমিয়বাবুর ওপর অবিচার করা হবে কারণ বিনিময়ে কোনও সুবিধে তো আমি ওঁকে দিতে পারব না শুধু ভদ্রতা ছাড়া।’

    ‘তা হলে আমার টিকিটের দরকার নেই।’

    ‘মানে?’

    ‘আপনি কেন কিনে দেবেন। রোজগার তো আমরাও করি।’

    ‘আপনারা?’ অন্যান্যদের দিকে তাকাল দীপাবলী।

    মহিলারা নিজেদের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন কিছুক্ষণ। তারপর নমিতাদি মাথা নাড়লেন, ‘না। থাক। দরকার নেই।’

    ‘আপনার প্রয়োজন ছিল বলেছিলেন।’

    ‘নাঃ। আসলে ডিপার্টমেন্টে কেউ পার্টির কাছে টিকিট কেনে না বলেই চেয়েছিলাম, এখন লজ্জা করছে। না না, দরকার নেই। তবে, আমরা যদি চাঁদা করে কিনে নিই?’

    বেশ তো। সেটা আরও ভাল কথা।’

    ‘চারটের দাম পাঁচশো টাকা, না? এত টাকা তো সঙ্গে নেই।’

    ‘ঠিক আছে। আমি এখন দিয়ে দিচ্ছি। পরে আপনারা আমায় দিয়ে দেবেন।’

    পিয়ন মেয়েটি চুপ করে ছিল। এবার বলল, ‘আমি তো চাঁদা দিতে পারব না। আমার ভাই খুব ধরেছিল দেখবে বলে। কোথাও টিকিট পাচ্ছে না।’

    দীপাবলী নিস্পৃহ মুখে বলল, ‘তোমার সম্পর্কে কিছু কথা আমি শুনেছি। ওগুলো যদি না করতে তা হলে আমি ভেবে দেখতাম। ঠিক আছে, ওকে একদিনের স্লিপ আপনারা দিয়ে দেবেন। আমাকে পঁচিশ টাকা কম দিলেই হবে। সমস্যার সমাধান হল?’

    নমিতা একগাল হাসলেন, হ্যাঁ। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।’

    ‘কিন্তু আপনারা পাঁচদিনই কামাই করবেন নাকি?’

    সবাই প্রায় একসঙ্গে বলে উঠলেন, ‘না।’ জানা গেল মহিলারা টিকিট নিচ্ছেন তাঁদের ছেলে ভাই বা স্বামীর জন্যে। পাঁচশো টাকা নিয়ে অমিয়বাবু উঠে দাঁড়ালেন, ‘এটা আমার কাছে একটা অভিজ্ঞতা হয়ে রইল। আমি মদ বেচি, কিন্তু খাই না শুনে কেউ কেউ অবাক হয়। এই অভিজ্ঞতা তার লক্ষগুণ বেশি চমকপ্রদ। নমস্কার।’

    দশ মিনিট পরে আই এ সির ফোন এল। তিনি ক্লাব হাউসের টিকিটের জন্যে ধন্যবাদ জানালেন। দীপাবলী বলল, ‘আমাকে ধন্যবাদ দেবেন না স্যার। ওটা মিস্টার সাহা আপনাকে দিয়েছেন।’

    ‘আরে কে দিল সেটা বড় কথা নয়, পেয়েছি সেটাই সত্যি।’ আই এ সি লাইন কেটে দিলেন। সেদিন বাড়ি ফিরে দীপাবলী তাজ্জব। তাদের ফ্ল্যাটবাড়ির একতলায় মনোরমা বসে আছেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }