Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪০. মনোরমা কলকাতায়

    দীপাবলী দাঁড়িয়ে পড়েছিল। এমন দৃশ্য যে কখনও দেখবে তা জীবনেও ভাবেনি। একটা টিনের সুটকেস এবং বড় পুঁটলি নিয়ে মনোরমা একতলার সিঁড়িতে বসে ছিলেন। তাঁর ওপাশে দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলছে খোকন। গেটে দাঁড়িয়ে দীপাবলী এ-দুটোকেও মেলাতে পারছিল না।

    প্রায় দৌড়েই সে মনোরমার সামনে হাজির হল, ‘তুমি?’

    মনোরমা মুখ তুললেন। বয়স এবং অভাব একই সঙ্গে আরও ছোবল মেরেছে ওঁর মুখে। একটু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর গানের রং কখনও হয়তো সাদা ছিল। সেমিজের চেহারাও এত নোংরা যে এ-পাড়ার কাজের মেয়েরাও পরতে চাইবে না। দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে খোকন পাশে চলে এল। মনোরমার ঘোলা চোখে ধীরে জল এল। তাঁর মুখ কাঁপতে লাগল। এবং অকস্মাৎই শরীর নিংড়ে কান্নাটা ছিটকে এল। দীপাবলীর একই সঙ্গে কষ্ট আনন্দ এবং সংকোচ হল। ক্রমশ শেষেরটা অস্বস্তির মাত্রা বাড়াল। দারোয়ান তো বটেই, ফ্ল্যাটে আর যারা যাওয়া-আসা করছে তারাও দাঁড়িয়ে পড়ছে এই দৃশ্য দেখতে। সে দু’হাতে মনোরমাকে টেনে তুলল, ‘ওঠো, ঘরে চলো।’

    কথা বলার চেষ্টা করলেন মনোরমা কিন্তু পারলেন না। দীপাবলীর মনে হচ্ছিল সে পাখির মতো হালকা একটা শরীরকে ওপরে তুলছে। খোকন আসছিল জিনিসপত্র নিয়ে ওদের পিছনে। সিঁড়ি ভাঙতেও মনোরমার বেশ কষ্ট হচ্ছে। মাঝে মাঝেই তাঁকে দাঁড় করাচ্ছিল দীপাবলী। সেই বউটি ফ্ল্যাটের দরজায় দাঁড়িয়ে অবাক চোখে দৃশ্যটি দেখল। কোনও দিকে না তাকিয়ে ধীরে ধীরে ওঁদের নিয়ে নিজের ফ্ল্যাটের দরজায় পৌঁছে গেল সে।

    ভেতরে ঢুকে একটা চেয়ারে মনোরমাকে বসিয়ে প্রথমে জানলাগুলো খুলে দিয়ে পাখা চালাল দীপাবলী। তারপর খোকনকে বলল, ‘বস খোকন।’

    চেয়ারে বসতে বসতে খোকন বলল, ‘বাঃ, সুন্দর বাড়ি তো তোর।’

    ‘বাড়ি নয়, ফ্ল্যাট। ভাড়া দিয়ে থাকি।’ দরজাটা বন্ধ করল সে। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আগে হাত মুখ ধুয়ে পরিষ্কার হ— তারপর তোদের কথা শুনব। এদিকে একটা বাথরুম আছে, তুই ওখানে চলে যা। আমি ঠাকুমাকে নিয়ে ভেতরে যাচ্ছি।’

    মনোরমার গলায় চিনচিনে শব্দ বাজল, ‘আমি এখানে একটু বসি।’

    দীপাবলী ওঁর হাত ধরল, ‘ভেতরের ঘরে গিয়ে একেবারে জামাকাপড় ছেড়ে শুয়ে পড়বে চলো। তাতে বেশি আরাম লাগবে। চলো।’ খোকন বাক্স এবং পুঁটলি ভেতরের ঘরে রেখে এল।

    এতক্ষণ সম্ভবত সমস্ত ব্যাপারটাই অনিশ্চিতের মধ্যে ছিল। শরীর এবং মনের সমস্ত শক্তি যেন নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ মরুপথ পেরিয়ে অবশ হয়ে যাওয়া মানুষ যেমন মরূদ্যান দেখতে পেয়ে আচমকা কিছু শক্তি তৈরি করে ফেলে সেইভাবেই মনোরমা ভেতরে এলেন। তাঁর মুখে কোনও কথা ছিল না। নিজের শোওয়ার ঘরের সংলগ্ন বাথরুমের দরজায় পৌঁছে দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘নিজে হাত মুখ ধুতে পারবে তো?’

    মনোরমা ঘাড় নেড়ে এগিয়ে গেলেন। দীপাবলী বলল, ‘ভেতরে বালতিতে জল আছে। সেটা নিতে না চাইলে কল খুলে নিয়ো। দরজাটা ভেজিয়ে রাখো, বন্ধ কোরো না।’

    মনোরমা ভেতরে চলে গেলে সে ছুটে রান্নাঘরে পৌঁছে গ্যাস জ্বালিয়ে এক কেটলি জল চাপিয়ে দিল। তারপর আবার ফিরে এসে মনোরমার তালাবিহীন টিনের বাক্স খুলল। ওপরেই একটি পরিষ্কার থান এবং সেমিজ রয়েছে। সে-দুটোকেই বের করে ওটাকে সরিয়ে রেখে বাথরুমের দরজায় টোকা দিল, ‘তোমার হয়ে গিয়েছে? বেশি জল ঢেলো না, নতুন জায়গা। জামাকাপড় ওখানেই ছেড়ে রাখো, তোমাকে ধুতে হবে না। আর এগুলো নাও।’

    দরজা সামান্য ফাঁক করে সে পরিষ্কার জামাকাপড় এগিয়ে ধরতেই মনোরমা সেগুলো নিলেন। এবং তখনই সারাদিনের ক্লান্তিটাকে টের পেল দীপাবলী। খাটের পাশের চেয়ারটায় বসে পড়ল সে। নিজে যতক্ষণ পরিষ্কার না হচ্ছে ততক্ষণ এই ক্লান্তিটা যাবে না। স্নান করে চা না-খাওয়া পর্যন্ত রোজই এমন হয়। বাইরের বাথরুমে জল পড়ার শব্দ হচ্ছে। হঠাৎই মনে পড়ল, বাড়িতে কাঁচাবাজার তেমন কিছু নেই। আজ সকালে যাব যাব করেও যায়নি সে। অতএব ওঁদের একটু সামলে বাজারে বেরোতে হবে। দীপাবলী উঠল। রান্নাঘরে ঢুকে দেখল জল ফুটে গিয়েছে। চটপট চা বানাতে বসল সে। বাইরের বাথরুমের দরজার শব্দ হল। অর্থাৎ খোকনের হয়ে গিয়েছে। মাথার ভেতরে একসঙ্গে অনেক চিন্তা আসছিল। কিন্তু সেগুলোকে সরিয়ে রাখছিল সন্তর্পণে। না, এ নিয়ে আগেভাগে কিছুই ভাববে না সে। চায়ের কাপ আর বিস্কুট নিয়ে প্রথমে বাইরের ঘরে গেল দীপাবলী। সেই এক শার্ট প্যান্ট পরে খোকন চুল আঁচড়াচ্ছিল। টেবিলে কাপ ডিশ নামিয়ে সে জিজ্ঞাসা করল, ‘জামা ছাড়লি না?’

    ‘নাঃ। আমি তো আজ চলে যাব।’

    ‘চলে যাবি মানে?’

    ঘড়ি দেখল খোকন, ‘এখনও আধঘণ্টা টাইম আছে। এর মধ্যে স্টেশনে যাওয়া যাবে না?’

    মাথা নাড়ল দীপাবলী, ‘না।’

    ‘তা হলে আটটার রকেট বাস ধরব। কোত্থেকে ছাড়ে জানিস?’

    ‘তোকে কি আজই যেতে হবে?’

    ‘না, মানে, থেকে কী করব!’

    ‘আমার বাড়িতে প্রথম এলি। সেখানে যদি রাজকার্য না থাকে তা হলে যাওয়া চলবে না।’

    ‘শোন, তুই এখানে একা থাকিস, আমি থাকলে তোর অসুবিধে হবে।’

    ‘একের বদলে দু’জনে যদি অসুবিধে না হয় তিনজনে হবে তা ভাবছিস কেন? তা ছাড়া আমি যদি রাত দশটায় ফিরতাম তা হলে কী করতিস? বাজে কথা না বলে চা খেয়ে ফ্রেশ হয়ে একটু রেস্ট নে। আমি আসছি।’ দীপাবলী অসন্তুষ্ট মুখে বেরিয়ে এল। দু’কাপ চা আর বিস্কুট ট্রেতে চাপিয়ে শোওয়ার ঘরে ঢুকে দেখল মনোরমা তাঁর পুটলির সামনে বসে আছেন। ফরসা জামাকাপড়ে তাঁর শোভা পালটেছে। দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘ওখানে কী করছ? উঠে এসো। চেয়ারে বসে আরাম করে চা খাও। তারপর শুয়ে পড়বে।’

    মেঝেতে বসেই মনোরমা মাথা নাড়লেন, ‘আমি তো চা খাই না।’

    ‘ও।’ থতমত হয়ে গেল দীপাবলী, ‘আগে খেতে না?’

    ‘এখন একদম ছেড়ে দিয়েছি।’

    ‘তা হলে দু’-তিন চুমুক দাও। শরীরটা ভাল লাগবে। শেষবার কখন খেয়েছ।’

    ‘খেয়েছি।’

    ‘কখন?’

    মনোরমা জবাব দিলেন না। দীপাবলী বলল, ‘তার মানে নিজেই মনে করতে পারছ না। এসো এখানে বসো৷’ প্রায় হাত ধরেই বৃদ্ধাকে তুলে নিয়ে এল সে। নিতান্ত অনিচ্ছায় মনোরমা বিস্কুট খেলেন, চায়ে কয়েকটা চুমুক দিলেন। উলটোদিকে বসে দীপাবলীর মাথায় নানান প্রশ্ন জট পাকাচ্ছিল। শেষবার যখন দেখেছিল তখনও মনোরমাকে এমন উদভ্রান্ত লাগেনি। এবং তখনই তার মনে পড়ল। মনোরমা তাকে শেষবার বাসি কাপড়েই এক বিছানায় শুতে অনুমতি দিয়েছিলেন কিন্তু এই মহিলার বাছবিচারের প্রাবল্য ভয়ানক রকমের ছিল। অতএব এখানে এসে তার ব্যবহৃত বিছানায় উনি শুতে চাইবেন কিনা সন্দেহ। শুলেও স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন না। অথচ তার সঞ্চয়ে বাড়তি বিছানা নেই। বাইরের ঘরেরটা খোকন ব্যবহার করবে। চা খাওয়া শেষ করে সে উঠে আলমারি খুলল। পরিষ্কার বিছানার চাদর বের করে খাটে রাখল। তখন মনোরমা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী করছিস?’

    ‘এটাকে পালটাচ্ছি।’

    ‘কেন? একটুও ময়লা হয়নি তো।’

    ‘তুমি এতে শোবে?’

    মনোরমা চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে বিছানায় এসে বসলেন। কোনও কথা না বলে পুরনো চাদরের ওপরেই শুয়ে পড়লেন দেওয়ালের পাশ ঘেঁষে। বড় ভাল লাগল দীপাবলীর। সে নামানো চাদর আবার তুলে রেখে ঝুঁকে মনোরমাকে স্পর্শ করল, ‘ঘুমিয়ে নাও, খাবার হলে ডাকব।’

    কপালে দ্বিতীয়বার আঙুল ছোঁয়াতেই গম্ভীর হয়ে গেল সে। মনোরমার জ্বর এসেছে। গলায় হাত রাখতেই বোঝা গেল পুড়ে যাচ্ছে। সে খুব অবাক হল। একতলা থেকে যখন বৃদ্ধাকে প্রায় কোলে করেই সে ওপরে তুলেছিল তখন কিন্তু কোনও উত্তাপ ছিল না। হয়তো টের পায়নি, কিন্তু এমন উত্তাপ টের না পেয়ে থাকা যায় না। উত্তেজনায় মন অন্যমনস্ক ছিল বলে খেয়াল করেনি এই যুক্তিও মানতে পারছে না। তা হলে জ্বর কি বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল?

    কিন্তু কী ওষুধ দেওয়া যায়? ঘরে সামান্য জ্বরজারি মাথা ধরার ওষুধ রয়েছে। কিন্তু মনোরমার শরীরের যা অবস্থা তাতে কোন ওষুধ সহ্য হবে বা হবে না তা সে জানে না। বোঝা যাচ্ছে পেট খালি আছে অনেকক্ষণ। ওঁর ধাতও তার জানা নেই। ঠিক মোড়েই যে ওষুধের দোকানটা সেখানে একজন ডাক্তার বসেন সকাল সন্ধে। যাওয়া আসার পথে দেখেছে তাঁকে। বাজার থেকে ফেরার পথে ওঁকেই ডেকে আনবে সে। আয়নার সামনে গিয়ে চুল আঁচড়ে নিচ্ছিল তাড়াতাড়ি করে এমন সময় চিনচিনে গলায় মনোরমা ডাকলেন। সে কাছে যেতে বললেন, ‘খু-উ-ব জ্বর।’

    ‘হ্যাঁ। আমি ডাক্তার ডাকতে যাচ্ছি।’

    মাথা নেড়ে না বললেন মনোরমা। তারপর উঠে বসে আঙুল দিয়ে পুঁটুলিটা দেখিয়ে দিলেন। দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘কী আছে ওতে?’

    ‘ওষুধ!’ কাঁপুনি স্পষ্ট বোঝা গেল।

    দীপাবলী এগিয়ে গিয়ে পুঁটুলি খোলার চেষ্টা করল। বাথরুম থেকে বেরিয়ে এই কারণেই এখানে বসেছিলেন মনোরমা। গিটগুলো জব্বর। খুলতে সময় লাগল। কী নেই এতে। প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় যা পেরেছেন সংগ্রহ করে এনেছেন বৃদ্ধা। তার মধ্যে থেকে একটা টিনের বাক্স বের করে আনল সে। এই বাক্সটাকে সে চেনে। অনেক অনেক বছর আগে এই বাক্সটা এনেছিলেন অমরনাথ। এতে চকোলেট ভরতি ছিল। মনোরমা বললেন, ‘ওটা। ওটা নিয়ে আয়।’

    বাক্সটাকে খুলতেই অনেকগুলো হোমিওপ্যাথি শিশির মুখ দেখতে পেল সে। ছিপির ওপর সাংকেতিক লেখা। সেটা মনোরমার সামনে ধরতেই তিনি হাতড়ে হাতড়ে একটা শিশি তুলে নিলেন। ছিপি খুলে গোটা পাঁচেক দানা জিভে ঢেলে বালিশের পাশে শিশিটাকে রেখে মাথা নাড়লেন। বাক্সটাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল দীপাবলী।

    এবার সে দ্বন্দ্বে পড়ল। মনোরমা যদি হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেতে অভ্যস্ত হন তা হলে নিশ্চয়ই অ্যালোপ্যাথ ডাক্তারের চিকিৎসা পছন্দ করবেন না। কিন্তু ওই ওষুধে যদি জ্বর না কমে? অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার নেই। কাল সকালেও যদি জ্বর না কমে তা হলে দেখা যাবে। মনোরমার শরীরে একটা চাদর মেলে দিল সে। পুরনো চাদর।

    টাকা আর বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাইরের ঘরে এসে দেখল খোকন জামাপ্যান্ট পালটেছে। তাকে দেখে জিজ্ঞাসা করল, ‘কোথায় যাচ্ছিস?’

    ‘বাজারে। এদিকে ঠাকুমার জ্বর এসেছে।’

    ‘জ্বর তো ওখানেও ছিল। ওই শরীর নিয়ে এসেছে। দুপুরে বলল জ্বর নেই। কিন্তু তুই বাজারে যাচ্ছিস কেন? উনি কি ভাত খাবেন?’

    ‘না। খেতে দেওয়া উচিত হবে না। মিষ্টি ফল আনব।’

    ‘দোকানটা কোথায় বল আমি নিয়ে আসছি। বাড়িতে আলু ডিম আছে?’

    ‘আছে।’ দীপাবলী মাথা নাড়ল।

    ‘তা হলে ডিমসেদ্ধ আলুসেদ্ধ আর ভাত কর। তুই খেতে পারলে আমার আপত্তি নেই।’

    ‘প্রথমদিন এসে ডিমসেদ্ধ খাবি?’

    ‘দুর শালা! আমি তোর কুটুম নাকি?’

    ‘অ্যাই, খারাপ কথা বলবি না!’ চোখ পাকাতে গিয়েও হেসে ফেলল দীপাবলী।

    ‘ওহো, সরি সরি। ড্রাইভার মানুষ তো, জিভের দোষ হয়ে গেছে। বল, দোকানটা কোথায়?’

    মন থেকে সায় দিচ্ছিল না। প্রথম দিনেই বাজারে পাঠানো ভদ্রতা নয়। কিন্তু দীপাবলী হার মানল খোকনের আগ্রহের কাছে। ফলের দোকানের অবস্থান ভাল করে বুঝিয়ে দিল সে। মনোরমাকে একা ফেলে দু’জনেরই একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া উচিত হবে না। মিষ্টির দোকানটা পথেই পড়বে।

    খোকন বেরিয়ে গেলে ওর বিছানাটা ঠিক করে দিয়ে বাথরুমে ঢুকল দীপাবলী। গায়ে জল দিতেই আরাম হল। শোওয়ার ঘরে মনোরমা মড়ার মতো পড়ে আছেন চাদর মুড়ি দিয়ে। এমন কী ঘটনা হল যাতে বৃদ্ধা আগাম খবর না দিয়ে চলে এলেন কলকাতায়? দীপাবলী ভেবে পাচ্ছিল না। নিশ্চয়ই কেউ ওঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। খোকনের সঙ্গে যোগাযোগ হল কী করে তাও বোধগম্য হচ্ছে না। সবশেষে এ-বাড়ির ঠিকানাটা!

    পরিষ্কার হয়ে স্বস্তি। দীপাবলী বাইরে এসে মনোরমাকে দেখল। ঘুমন্ত মানুষকে তুলে থার্মোমিটারে জ্বর দেখা ঠিক নয়। কিন্তু জ্বরটা দেখা দরকার। চেয়ারে বসে ওই মুখের দিকে তাকিয়ে সমস্ত ছেলেবেলাটাই উপড়ে এল। বাল্যের দেখা মনোরমা নিজের জগতটা আলাদা করে রাখতেন সবসময়। নিজে রান্না করে খেতেন, বেশিরভাগ ব্যাপারেই মূল পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেন। শুধু রাত্রে দীপাবলী তাঁর পাশে শুতে পারত। সে-সময় মেয়েদের কীরকম হওয়া উচিত এই ব্যাপারে উপদেশ দিয়ে যেতেন। পরবর্তীকালে এই উপদেশগুলোকে যুক্তিহীন মনে হয়েছে। কিন্তু তখন তাঁর কথা না শুনে উপায় ছিল না। তারপর চা-বাগানের সেই বাড়িতে সন্ন্যাসীর উদয় হল। দৃশ্যগুলো হঠাৎই স্পষ্ট হল। মনোরমা স্বীকার করেননি মানুষটাকে। অমরনাথও কিছুটা উদ্‌ভ্রান্ত হলেও পরে এ নিয়ে কোনও আলোচনা করেননি। সেইসময় মনোরমা কী তেজি ব্যবহার করেছিলেন। এমনকী দীপাবলীর বিয়ের ব্যাপারে ওঁর জেদ বড় ভূমিকা নিয়েছিল। হয়তো উনি জেদি না হলে অমরনাথ তার বিয়ে দিতেন না। বিধবা হয়ে ফিরে আসার পরে এই মহিলা তাকে বাধ্য করেছিলেন সেইসব আদিম নিয়মকানুন মানতে। তার মনের গায়ে বিধবা ছাপটা মেরে দেবার চেষ্টা করেছিলেন প্রবলভাবে।

    অথচ কী আশ্চর্য, এসব সত্ত্বেও এই বৃদ্ধাকে সে কখনই ভিলেন মনে করতে পারেনি। শেষবার চা-বাগানে দেখা করতে গিয়ে ওঁর পাশে শুয়ে পরিচিত ঘ্রাণ পেয়ে মনে হয়েছিল নিজের জায়গায় ফিরে এসেছে। সেবারই লক্ষ করেছিল সেই মনোরমা অনেক পালটে গিয়েছেন। নিজের মুখে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন বিবাহের ব্যাপারে জেদ ধরার জন্যে। ওটা না চাইলেও দীপাবলী কখনই ওঁকে দূরে সরিয়ে দিতে পারত না। শুধু অনুশাসনের বাড়াবাড়ি নয়, অনেক ভাল মুহূর্তও তো সে পেয়েছিল মনোরমার কাছ থেকে। অথচ ইনি তার কেউ নন। অন্তত রক্তের সম্পর্কে তো নয়। অমরনাথ যে অর্থে তার বাবা ইনি সেই অর্থে তার ঠাকুমা নন। অথচ আজ ইনি নাতনির কাছেই ছুটে এলেন। এসে ভাল করেছেন। দীপাবলীর মন এমনই চাইছিল। কিন্তু তার জীবন, জীবনযাত্রা এই প্রাচীন ভদ্রমহিলা কীভাবে নেবেন? তার চেনা মনোরমার পক্ষে তা সম্ভব নয়। ভয় এখানেই। এইসময় বেল বাজল।

    দরজা খুলে দেখল প্যাকেট নিয়ে ফিরে এসেছে খোকন। ঢুকে বলল, ‘বাব্বা, তোদের এখানে জিনিসপত্রের দাম খুব বেশি। একটা বাতাবি লেবু তিন টাকা চাইল। অথচ আমাদের ওখানে কেউ কিনে খায় না।’

    ‘খামোকা বাতাবি কিনতে যাবি কেন? আর এখন তো বাতাবির সময় নয়।’

    ‘হ্যাঁ। অসময়ের ফল অনেক দেখলাম।’

    ‘তা হলে নিউ মার্কেটে গেলে ট্যারা হয়ে যেতিস৷’ প্যাকেটদুটো নিয়ে সে জিজ্ঞাসা করল, ‘কত খরচ হল তোর?’

    ‘কেন? দাম দিবি নাকি?’

    ‘দিয়ে দেওয়া উচিত।’

    ‘খুব বড়লোক হয়েছিস, না?’

    ‘দেখে মনে হচ্ছে?’

    ‘এরকম ফ্ল্যাটে থাকার কথা আমরা ভাবতে পারি না।’

    ‘অভ্যেস। ওখানে থাকলে আমিও ভাবতাম না।’

    ‘দামের কথা বলিস না।’

    ‘বেশ। চা খাবি?’

    ‘না। সকাল থেকে শুধু চা খেয়ে যাচ্ছি।’

    ‘দুপুরে ভাত খাসনি?’

    ‘চান্সই পেলাম না। ট্রেন লেট ছিল। বারোটায় শিয়ালদায় পৌঁছেছি। তারপর ঠাকুমাকে নিয়ে কীভাবে যে বাইরে এসেছি বুঝতেই পারছিস।’

    ‘স্টেশন থেকে এখানে এলি কখন?’

    ‘তিন ঘণ্টা লেগেছে। তিনটের সময়।’

    ‘সেকী রে?’

    ‘আরে কলকাতার রাস্তাঘাট তো চিনি না। তোর ঠিকানা যাকে দেখাই সে-ই উলটোপালটা বলে। এই বাসে যান, ওই বাসে যান। বাস স্টপে এসে চক্ষু চড়কগাছ। আমি একা হলে উঠতে পারতাম। ঠাকুমাকে তুললে বুড়ি মরে যেত।’

    ‘আশ্চর্য! তুই বাসে উঠতে গেলি মালপত্র নিয়ে?’

    ‘আমি শুনেছিলাম ট্যাক্সিওয়ালারা নাকি খুব ঘোরায়।’

    ‘তুই নিজে তাই করিস নাকি?’

    ‘আমাদের ওখানে কেউ মিটারে যায় না। ফিক্সড ভাড়ায় ঘুরিয়ে লাভ কী? প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ট্যাক্সির ধান্দায় গেলাম। কেউ শালা যেতে চায় না। এটা কিন্তু আমাদের ওখানে পাবি না। শেষে এক সর্দারজি রাজি হল। ঠিকানা খুঁজে খুঁজে এখানে এসে পৌঁছালাম শেষপর্যন্ত। এসে দেখি তুই নেই। দরজা বন্ধ। দারোয়ানটা ভাল তাই বসতে দিল।’

    ‘আমি যদি না ফিরতাম?’

    ‘কোথায় যেতিস?’

    ‘ধর, কলকাতার বাইরে যদি যেতাম।’

    ‘হোটেল খুঁজতে হত।’

    ‘হুম। তা হলে তোর জব্বর খিদে পেয়েছে। বস, আমি রান্না করে ফেলি।’

    ‘চা খেয়ে খিদেটা মরেছে। ঠাকুমা কেমন আছে?’

    ‘ঘুমুচ্ছে।’ দীপাবলী প্যাকেট নিয়ে ভেতরে ঢুকল। পেছন পেছন এল খোকন। ‘এত বড় বাড়িতে তুই একা থাকিস?’

    ‘এত বড় আর কোথায়?’ হাসল দীপাবলী, ‘আর কে থাকবে সঙ্গে?’

    ‘না। এটা ঠিক না।’ মাথা নাড়ল খোকন, ‘তোর বর দিল্লিতে আর তুই এখানে। লোকটাই বা কী রে? আরে হ্যাঁ, চুপচাপ বিয়ে করলি, নেমন্তন্ন খেলাম না কিন্তু!’

    ‘আজ রাত্রে খাওয়াব।’

    ‘ডিমসেদ্ধ ভাত?’ আঁতকে উঠল খোকন, ‘তুই কী রে?’

    রান্নাঘরে ঢুকে কাজ শুরু করতে করতে দীপাবলী বলল, ‘তোর বিয়েতে আমাকে বলেছিলি? তুই আমার বিয়ের নেমন্তন্ন একেবারে খাসনি তা তো নয়!’

    ‘মানে? কখন খেলাম?’

    ‘কেন? সেই যে ছেলেবেলায়। আমার প্রথম বিয়ের সময়’

    ‘দুর! সেটা বিয়ে ছিল নাকি?’

    ‘বিয়ে থাক বা না-থাক, খেয়েছিলি তো।’

    ‘মনে আছে তোর শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার সময় আমি বিশু খুব কেঁদেছিলাম। আর তুই যখন ফিরে এলি খুব ভাল লেগেছিল। যাক গে! তোর নতুন বরের কথা বল। লোকটা কেমন? খুব শিক্ষিত নিশ্চয়ই?’

    ‘তা তো বটেই। শিক্ষিত।’

    ‘তুই মাইরি আমাদের খুব গর্ব।’

    ‘কেন?’

    ‘বাঃ, আমরা ছেলেবেলায় একসঙ্গে খেলতাম। আমি ড্রাইভার আর তুই অফিসার।’

    ‘তুই আমাকে এখনও বন্ধু ভাবিস?’

    ‘বন্ধু? না হলে এলাম কেন?’

    ‘তা হলে এসব কথা আর বলবি না।’ দীপাবলী ভাত চড়িয়ে দিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘ঠাকুমা তোকে খবর দিয়েছিল এখানে আসার জন্যে?’

    রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল খোকন। দু’দিনের দাড়িতে ওকে বিষন্ন দেখাচ্ছে। বলল, ‘না রে। আমি স্ট্যান্ডে গাড়িতে বসে ছিলাম। হঠাৎ দেখি বুড়ি ওই বাক্সপেটরা নিয়ে টলতে টলতে আসছে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কোথায় যাবেন? বলল, কলকাতায়। ভাব, তোর কাছে একা চলে আসবে? অথচ ভাল করে হাঁটতে পারছে না। অনেক বোঝালাম, শুনল না। তোর মা মারা গিয়েছে জানিস তো?’

    ‘জানি।’

    ‘তারপর কী করব! মনে হল একা ছাড়া উচিত নয়। ওকে বসিয়ে গাড়ি গ্যারেজ করে বাড়িতে গিয়ে জামাকাপড় নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।’ হাসল খোকন।

    দীপাবলী কী বলবে ভেবে পাচ্ছিল না। এরকম কাজ আজকাল কেউ করতে পারে এই ধারণাই তার চলে গিয়েছিল। সেই কোন ছেলেবেলা বিশু খোকন সে ফুল পাড়ত, আংরাভাসায় মাছ ধরতে যেত, নারী পুরুষের ভেদাভেদ জ্ঞান ছিল না, সেই স্মৃতির সুবাদে একজন দিন আনি দিন খাই মানুষ কাজকর্ম ছেড়ে এতদুরে চলে এল? অনেক অনেক দিন পরে দীপাবলীর মনে হল সে খুব সহজ গলায় কথা বলতে পারছে। এখন কোনও পুরুষ তো তাকে তুই বলে না। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোর বউ কেমন আছে?’

    ‘আছে। মায়ের সঙ্গে খচখচি চলছেই।’

    ‘মাকে বোঝাতে পারলি না?’

    ‘বাবা পারেনি।’ খোকন হাসল, ‘শোন, ঠাকুমাকে তোর কাছে রাখবি?’

    ‘হ্যাঁ, কেন?’

    ‘অসুবিধে হবে না? একা বাড়িতে রেখে যেতে হবে।’

    ‘আস্তে আস্তে মেনে নেবে।’

    ‘গুড। তোর দুই ভাই মাইরি বহুত হারামি! সরি, আবার হারামি বললাম। বড়টা বউ নিয়ে চা-বাগানে থাকে, খোঁজ নেয় না, ছোটটা যা পারছে তাই বিক্রি করছে। মা মরে যাওয়ার পর ঠাকুমাকে দেখত না। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলত। বাড়িটা বেচে দেবার ধান্দা। এই অবস্থায় আর ওখানে পাঠাস না।’ খোকন আন্তরিক গলায় বলল।

    ‘আমিই নিয়ে আসতাম। তুই আমার উপকার করলি খোকন!’

    ‘দুর! এটা আবার উপকার হল নাকি?’ একটু থেমে অন্যরকম গলায় বলল, ‘তুই যদি খুব রাগ না করিস, মানে, আমার একটা উপকার করবি?’

    ভাত দেখছিল দীপাবলী। গলার স্বরে মুখ ফিরিয়ে বলল, ‘ভণিতা করছিস কেন?’

    ‘বুঝলি তো, ড্রাইভার ক্লাসের মানুষ। অভ্যেস হয়ে গিয়েছে।’

    ‘কীসের অভ্যেস?’

    ‘তুই মাইরি রাগ করবি?’

    দীপাবলী এক মুহূর্ত ভাবল। তারপর জিজ্ঞাসা করল, ‘তুই মদ খাস?’

    ‘ওই একটু। সারাদিন খাটুনির পরে না খেলে ঘুম আসে না। আমি বাথরুমে গিয়ে টুক করে খেয়ে আসব। তুই টেরও পাবি না।’

    ‘তোর সঙ্গে আছে?’

    ‘হ্যাঁ। ভুটানি জিনিস। এই, তুই রাগ করছিস?’

    ‘ঘরে গিয়ে বস, আমি আসছি। যা।’ গলা তুলে আধো ধমকের সুরে খোকনকে পাঠিয়ে দিল সে। ভাত হতে দেরি আছে। দীপাবলী মাথা নাড়ল। অলোক বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতে বসে মদ্যপান করলে যদি দোষ না হয় তা হলে খোকন খেতে পারবে না কেন? ওর দৃঢ় বিশ্বাস খোকন বেসামাল কিছু করবে না। যে-খোকন চাঁপা ফুল তুলতে ভালবাসত তার এখন মদ না খেলে ঘুম আসে না। এরই নাম জীবন।

    শোওয়ার ঘরে গিয়ে মনোরমাকে দেখে এল সে। ঘুমুচ্ছেন। জ্বর সেই একইরকম, অন্তত কপালে হাত দিয়ে মনে হল। ডিমের ওমলেট ভাজল সে। একটা ট্রে-তে জলের বোতল, গ্লাস, ওমলেট আর চানাচুর নিয়ে সতর্ক পায়ে বাইরে ঘরে ঢুকে টেবিলে নামিয়ে রাখল। তাই দেখে লাফিয়ে উঠল খোকন, ‘আই বাপ, এ কী করেছিস ভাই?’

    ‘আগে ওমলেট খেয়ে নাও। তারপর ওগুলো গিলো। আর হ্যাঁ, গিলতে পারিস, কিন্তু পা যদি টলে তা হলে বাড়ি থেকে বের করে দেব।’ দীপাবলী উলটোদিকের চেয়ারে বসল।

    পাঁইট থেকে মদ গ্লাসে ঢেলে খোকন বলল, ‘তোকে বলতে খুব ভয় করছিল। না বললে ঠকতাম। তোর বর মাল খায়?’

    ‘আবার অভদ্র কথা বলছিস?’

    ‘সরি? মদ খায়? মদ তো অভদ্র কথা নয়।’

    ‘খায়। দীপাবলী গম্ভীর গলায় বলল, ‘তোর বাড়িতে অশান্তি হয় না?’

    ‘হয়। বউটা গন্ধ সহ্য করতে পারে না।’

    ‘তা হলে খাস কেন?’

    খোকন হাসল, ‘আমার বউ আমাকে খুব ভালবাসে।’

    ‘তা হলে তো আরও কথা শোনা উচিত।’

    ‘তুই বুঝবি না।’

    দীপাবলী উঠল। ভাত নামিয়ে কাজ গুছিয়ে রাখল। তারপর মনোরমাকে দেখতে গেল। মনোরম নড়াচড়া করছেন। সে থার্মোমিটার বের করে বলল, ‘দেখি, হাঁ করো তো, জ্বর দেখব।’

    মনোরমা কথা শুনলেন। থার্মোমিটারে জ্বর একশো দুই। খুব ঘাবড়ে যাওয়ার মতো নয়। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘এখন কেমন লাগছে?’

    মাথা নেড়ে ভাল বললেন মনোরমা। তাঁর চোখের কোণে জল।

    ‘শোনো, একটু মিষ্টি খাও। রাত্রে আর ফল দেব না। খেয়ে শুয়ে পড়ো।’

    ‘না। ভাল লাগছে না।’

    ‘না লাগলেও জোর করে খেতে হবে। ওঠো।’ দীপাবলী প্যাকেট খুলে চারটে সন্দেশ বের করে নিয়ে এল। অনেক সাধ্যসাধনা করে দুটোর বেশি খাওয়ানো গেল না। জল খাইয়ে বাথরুম থেকে ঘুরিয়ে এনে আবার বিছানায় শুইয়ে দিল তাকে। চাদর ঢেকে দিয়ে বলল, ‘এবার তুমি লক্ষ্মী মেয়ের মতো ঘুমোও, কেমন?’

    বাইরের ঘরে এল সে। চুপচাপ মদ খাচ্ছে খোকন। ওকে দেখে হাসল।

    দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘বিশুর খবর কী রে?’

    ‘জানি না। ওরা কেউ আমাকে আর বন্ধু মনে করে না।’

    ‘ঠিক না রে। ছেলেবেলার বন্ধুদের কেউ ভুলতে পারে না।’

    হঠাৎ অন্যরকম গলায় খোকন বলল, ‘কী ভাল দিন ছিল না রে? তোর বাবার কথা খুব মনে পড়ে। খুব ভদ্রলোক ছিলেন। সেই বড়বাবুর বুড়ো বাপটাকে মনে আছে? মেয়ে দেখলেই কেমন করত। তখন তো বুঝতাম না ভাল, এখন হাসি পায়।’

    দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘কালীপুজোর কথা মনে আছে?’

    ‘হুঁ। এখন মাইক বাজিয়ে পুজো হয়। আগের মতো নেই। একটা চাঁপা গাছ ছিল মাঠের মধ্যে, সেদিন দেখলাম কেটে ফেলেছে।’

    শুনে দীপাবলীর খুব খারাপ লাগল।

    খোকন বলে যাচ্ছিল, ‘ললিতাদিকে মনে আছে? সেই যে বাগানের মধ্যে শ্যামলদার সঙ্গে প্রেম করছিল, যার জন্যে শ্যামলদার বাবা আত্মহত্যা করল, মনে আছে?’

    ‘আছে।’

    ‘আত্মহত্যা করেছে।’

    ‘সেকী?’ চমকে উঠল দীপাবলী, ‘আমি তো ওকে জলপাইগুড়ির হাসপাতালে দেখেছিলাম।’

    ‘শ্যামলদার সঙ্গে ঝগড়া করে গলায় দড়ি দিয়েছে। শ্যামলদাকে পুলিশ ধরেছিল। এখন ছেড়ে দিয়েছে। ললিতাদি চিরকালই ছিটিয়া ছিল, বুঝলি।’ গ্লাস শেষ করল খোকন, ‘তোর বিয়ে হয়েছে ক’দিন?’

    ‘অনেকদিন।’

    ‘দুর! আমাদের ওখানে যখন গিয়েছিলি তার পরে তো?’

    ‘তাই।’

    ‘তা হলে অ্যাদ্দিনে বাচ্চা হয়নি কেন?’

    ‘তোর তাতে কী?’

    ‘না, বাচ্চা হলে দু’জনে আলাদা থাকতে পারতিস না।’

    মদ খাওয়া হয়ে গিয়েছিল, ছোট বোতলটা খালি। দীপাবলী ওগুলোকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভাত বাড়ল। চুপচাপ খেয়ে গেল খোকন। খাওয়াদাওয়ার পর বিছানা দেখিয়ে দিল দীপাবলী। খাটে বসে সিগারেট ধরিয়ে খোকন হঠাৎ বলল, ‘দীপু, তোর বাড়িতে যদি আমার বউকে নিয়ে আসি থাকতে দিবি?’

    ‘নিশ্চয়ই।’ দীপাবলী হাসল, কবে আসবি?’

    ‘জানি না। মা মরে গেলে হয়তো।’ গলাটা কেমন হয়ে গেল খোকনের।

    গোছগাছ করতে আরও রাত হল। খোকনের ঘরের আলো নেবানো। ওর নাক মৃদু ডাকছে। শোওয়ার জন্যে তৈরি হতে আর একটু সময় লাগল। সন্তর্পণে মনোরমার পাশে শুয়ে বেডসুইচ টিপে আলো নেবাতেই মনোরমা আঁকড়ে ধরলেন তাকে। হাউহাউ করে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন তিনি।

    খানিক স্থির হয়ে দীপাবলী ওঁর মুখে হাত চাপা দিল। মনোরমা একটু শান্ত হতে সে বলল, ‘যা বলার কাল সকালে বোলো। এবার তুমি ঘুমাবে। আমি এখন কোনও কথা শুনব না। ঘুমাতে চেষ্টা করো।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }