Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প725 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪২. মনোরমার বিদ্রোহ

    মনোরমা এখন কিঞ্চিৎ সুস্থ। আর বাঙালি নায়েদের যা স্বভাব, গায়ে সামান্য জোর আসামাত্রই সমস্ত অসুস্থতা বিস্মৃত হওয়া, মনোরমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হল না। দিন দুয়েক বাদেই তিনি রান্নাঘরে ঢুকলেন দীপাবলীর প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও। এবং অবশ্যই রান্নাঘরের ব্যবস্থা তাঁকে খুশি করল না। নিজের কাজ চালানোর জন্যে শটকার্ট মেথডে রান্নাঘর সাজিয়েছিল দীপাবলী। অবশ্য সাজানো শব্দটিও একটু বাড়াবাড়ি মনে হবে। মনোরমা বলেই বসলেন, ‘ইস, তুই কী রে? ব্যাটাছেলেদের মতো রান্নাঘরের হাল করে রেখেছিস! তোর শ্বশুর-শাশুড়ি দেখলে কী বলবে?’

    ‘তাঁরা নিশ্চয়ই এখানে দেখতে আসছেন না!’

    ‘আসতেও তো পারেন। ছেলের বউয়ের কাছে আসবেন না-ই বা কেন?’

    ‘তোমরা আমাকে ছেলেবেলায় এসব শেখাওনি কেন?’

    ‘মেয়েছেলেকে আবার রান্নাঘর, রান্না শেখাতে হয় নাকি? নিজেই শিখে নেয়। আমাকে কে শিখিয়েছিল? অবশ্য তোর মতো বই মুখে নিয়ে বসার সুযোগ হয়নি আমার।’

    ‘ঠিক আছে। আমার বান্নাঘর নিয়ে তোমার মাথা ঘামানোর দরকার নেই।’

    ‘বা রে বা। আমি কি এ-বাড়িতে থাকব না?’

    ‘থাকবে না মানে?’

    ‘তা হলে আমার আমার করছিস কেন? এখানে তো আমিও রাঁধব।’

    ‘ওরে বাবা, সেটা এখন নয়। ভাল করে সেরে ওঠো, গায়ে জোর হোক—।’

    ‘আমি ভাল হয়ে গেছি। তুই যদি জোর করে শুইয়ে রাখিস তা হলে মরে যাব। আমাকে আমার কাজ করতে দে। তুই বরং কাল থেকে অফিসে যা।’

    দীপাবলী হালটা মনোরমার হাতে ছেড়ে দিয়ে একটা চেয়ার টেনে বসে বলল, ‘তোমার জীবনে আর একটা পর্ব যোগ হল।’

    মনোরমা ততক্ষণে এটা নেই সেটা নেই শুরু করে দিয়েছেন। উত্তর দিলেন না। দীপাবলী বলল, ‘ছেলেবেলায় বাপের সংসার, যৌবনে স্বামীর, প্রৌঢ়া অবস্থায় ছেলের আর বার্ধক্যে নাতনির সংসার সামলাতে জন্মেছ বুঝি তুমি?’

    মনোরমা প্যাকেটে ফেলে রাখা তেজপাতার জন্যে কৌটো খুঁজছিলেন, বললেন, ‘যাক, স্বীকার করলি তা হলে যে সংসার করছিস। আজই গোটা দশেক ছোট-বড় কৌটো কিনে নিয়ে আয়। বাঙালির রান্নাঘরে সবচেয়ে কাজের জিনিস হল কৌটো।’

    দীপাবলী আর কথা বাড়াল না। মনোরমা নানারকম ত্রুটি ধরতে লাগলেন। রান্নার সময় এগুলোর অভাব বুঝলেও তা নিয়ে মাথা ঘামায়নি সে। শেষপর্যন্ত ফ্রিজের দরজা খুললেন বৃদ্ধা, ‘দ্যাখ তো কত সুবিধে হয়েছে এখন। এ-বেলায় রান্না করে ও-বেলা পর্যন্ত খাবার রাখতে আমার বুক ঢিপঢিপ করত। টকে গেলে তো তোর বাপ মুখে দিত না। নাক ছিল খুব। এখানে কতদিন ঠিক থাকে খাবার?’

    ‘সাত দিন মোটামুটি চালানো যায়।’

    ‘তুই তাই করিস?’

    ‘প্রায়ই। খাওয়ার সময় গরম করে নিই।’

    ‘খেতে বিশ্রী লাগে না?’

    ‘একটু স্বাদ পালটায়। তবু সময় তো বাঁচে। পরিশ্রমও।’

    কাজের লোক পাসনি এখানে?’

    ‘রাখতে সাহস হয় না। সাৱাদুপুর একা থাকবে। কী হতে কী হয়ে যাবে!’

    ‘বিশ্বাসী লোক পাওয়া যায় না?’

    ‘বিশ্বাস? তুমি তোমার নিজের নাতিকে বিশ্বাস করতে পারো?’

    মনোরমা চুপ করে গেলেন। খোঁচাটা একটু বেশি হয়ে গিয়েছে বুঝে দীপাবলী বলল, ‘ঠিকে লোক রেখেছিলাম। দু’বেলা এসে রান্না করবে, ঘর পরিষ্কার করবে। তিন দিন আসে তো দু’দিন আসে না। তার ওপর সকালে আমার বেরুনোর সময় তার কাজ শেষ হয় না। তার হাতে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হত। শেষপর্যন্ত তাকেও বাদ দিলাম।’

    ‘কেন?’

    ‘একদিন বাইরের ঘরের দরজার পাশে পোড়া বিড়ি দেখেছিলাম।’

    ‘বিড়ি খেত বুঝি? বাগানের মদেশিয়া মেয়েরা তো খায়।’

    ‘না খেত না। তাই বলেছিল আমাকে। বিড়িটা কোত্থেকে এসেছিল বলতে পারেনি।’

    ‘ও। তোর একা থাকতে ভয় করে না?’

    ‘কেন? দরজা বন্ধ থাকলে ভয় কী?’

    ‘রাত্রে যদি শরীর খারাপ হয়?’

    মাথাটা পেছনদিকে হেলাল দীপাবলী, ‘কী আবার হবে! মরে যাব।’

    ‘ওটা তো অত সহজ নয়। তা হলে এত চাইলেও আমার মরণ হচ্ছে না কেন?’

    ‘প্লিজ, আবার শুরু কোরো না। আমার কাছে এসেও তোমার মরার ইচ্ছে হচ্ছে?’

    মনোরমা কিছু বললেন না। এখন সকাল। তরকারির ঝুড়িটা নিয়ে বললেন, ‘এ কী রে! শুধু কয়েকটা আলু আর পেঁয়াজ পড়ে আছে।’

    ‘তাতেই হয়ে যাবে। ডাক্তার তোমাকে আলুসেদ্ধ ভাত আর দুধ খেতে বলেছে।’

    ‘তই কী খাবি?’

    ‘আমিও তাই।’

    ‘তার মানে? তুই মাংস ডিম খাস না?’

    ‘খাই। কিন্তু ওগুলো কিনতে হলে বাজারে যেতে হবে। সেই ইচ্ছেটা নেই।’

    ‘আশ্চর্য কুঁড়ে তো!’

    মনোরমাকে একা ফ্ল্যাটে রেখে প্রথমদিন অফিসে গিয়ে বেশ অস্বস্তি হয়েছিল। নতুন জায়গায় বুড়ি একা কীরকম থাকবে কে জানে। বেরোবার আগে পইপই করে বলে দিয়েছিল যেন দরজা না খোলে। যেই আসুক, দরজা বন্ধ রেখেই কথা বলে। কলকাতার ফ্ল্যাটে ডাকাতির গল্প বলে সে মনোরমাকে সাবধান করে দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও অস্বস্তিটা যায়নি।

    কলকাতা ইতিমধ্যে ক্রিকেট জ্বর কাটিয়ে উঠেছে। ওই পাঁচটা দিন প্রায় পুরো অফিস ফাঁকা। ইডেনে যত লোক ধরে তার বহুগুণ সরকারি অফিসগুলোতে কাজ করেন। মাঠে যাঁরা খেলা দেখতে যান তাঁদের সকলেই সরকারি কর্মচারী এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। কিন্তু খেলার ওই ক’টি দিন হাজিরা খাতায় সই করে দলে দলে মাঠে যাওয়ার নাম করে বেরিয়ে যান। যেন মাঠে যাওয়ার কথা বললে অঘোষিত ছুটিটি পাওয়া যাবে। এমনকী এই ক’দিন কোনও আন্দোলন অথবা গেট মিটিং বন্ধ। সেগুলোর প্রয়োজন খেলার সময় সাময়িকভাবে জরুরি নয়।

    কিন্তু দীপাবলী মনে মনে স্বীকার করে যে মেয়েদের নিয়ে তার সেকশন খারাপ চলছে না। বরং বেশ ভাল কাজ হচ্ছে। এতদিন এঁরা দায়িত্ব পাননি। অফিসে এসে ফাঁকি দেবার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এঁদের। যে-মানসিকতায় অফিস টাইমের বাসে কোনও মহিলা কর্মীকে পুরুষরা পরের বাসে আসার উপদেশ দেয়, ঠিক সেই মানসিকতাতেই একজন সিনিয়ার মহিলাকে চালান পোস্টিং করার দায়িত্ব দেওয়া হত মুখরক্ষা করার জন্যে। এখন কাজ করার স্বাধীনতা পেয়ে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। অন্তত কোনও পার্টিকে হ্যারাস করা হচ্ছে এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত ওঠেনি।

    অফিসারদের কোনও কমনরুম নেই যেখানে সবাই মিলে বসতে পারে। একমাত্র আই এ সি-র ঘরে মিটিং থাকলে এর সঙ্গে ওর দেখা হয়। দীপাবলীর সঙ্গে প্রত্যেকের এখন মৌখিক আলাপ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ওই পর্যন্ত। সিনহা হাল ছাড়েননি। লোকটা তলায় তলায় যাই করুক সামনাসামনি অত্যন্ত ভদ্রলোক। কথাবার্তায় কোনও ত্রুটি রাখে না। আই এ সি-র ঘরে এক মিটিং-এ নতুন অফিসারকে দেখল দীপাবলী। লম্বা ছিপছিপে এক মধ্যবয়সি মানুষ। আই এ সি প্রত্যেকের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলেন।

    ঘরে বসার কিছুক্ষণ বাদেই সেই ভদ্রলোক, যার নাম মলয় মিত্র, দরজায় এসে দাঁড়ালেন, ‘ভেতরে আসতে পারি? খুবই ব্যস্ত কি?’

    দীপাবলি সামান্য অবাক, বলল, ‘না না। আসুন।’

    মলয় সটান চেয়ার টেনে বসলেন, ‘আপনার কথা খুব শুনেছি, তাই কথা বলতে ইচ্ছে হল। গতকাল এখানে জয়েন করেছি। আপনার বছর পাঁচেক আগে মুসৌরিতে ছিলাম আমি। এতদিন আয়করে ছিলাম।’

    ‘আমার কথা কী শুনেছেন?’

    ‘সিস্টেম ভাঙতে চাইছেন। অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেন না।’

    ‘চাইলেই যে পারা যাবে এমন নিশ্চয়তা কোথায়? আর আমি একা কী করে পারব! চারপাশে একই নিয়ম যখন চলছে তখন আমিই বেনিয়ম।’

    ‘এইটে খুবই সত্যি কথা। তবে সুবিধে হল আপনি ঘুষ নিয়ে ধরা পড়লে ব্ল্যাক লিস্টেড হতে পারেন কিন্তু ঘুষ নিচ্ছেন না বলে সেরকম কিছুর সম্ভাবনা নেই।’

    দীপাবলী হাসল, ‘ট্রান্সফার অর্ডার পেতে পারি।’

    ‘সেটা তো সবসময়ই। তবে আপনার ক্ষেত্রে হবে না।’

    ‘মানে?’

    ‘আপনার বড় সহায় হলেন ওয়েস্টবেঙ্গল সার্কেলের বড়সাহেব।’

    ‘আপনি এ-কথা কী করে জানলেন?’

    ‘উনিই বলেছেন। আপনার মতো একজন অনেস্ট সিনসিয়ার অফিসারের জন্যে উনি গর্বিত।’

    দীপাবলী অবাক হল। এই ভদ্রলোকের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ নেই। দু’জনের চাকরির পদের মধ্যে এতখানি দূরত্ব যে তা হবার সম্ভাবনাও নেই। তবু ভদ্রলোক যে তার কথা মনে রেখেছেন এইটেই আশ্চর্যের।

    এখন বাড়িতে ফেরার কথা ভাবলে আরাম লাগে। ব্যাগ থেকে চাবি বের করে তালা খুলতে হবে না। বন্ধ ফ্ল্যাটের ভ্যাপসা গরম এবং গন্ধ সহ্য করতে হবে না। বেল টিপলেই মনোরম পরিচয় জানতে চান। সে হেসে বসে, ‘তোমার নাতনি।’ মনোরমা দরজা খুলে প্রথমেই এক গ্লাস জল এনে দেন। সেটা খেয়ে প্রথমদিন দীপাবলী বলেছিল, ‘তোমার ভাব দেখে মনে হচ্ছে আমি রাজ্য জয় করে এসেছি বলে আপ্যায়ন করছ!’

    মনোরমা হাসেন, কথা বলেন না। বৃদ্ধার দিকে তাকালেই বোঝা যায় তিনি এখন অনেক ভাল আছেন। মুখচোখে বেশ প্রশান্তি। ইতিমধ্যে ওঁর জন্যে গোটা চারেক নরুন পেড়ে ধুতি কিনে দিয়েছে সে। জমিটা খুবই মোলায়েম। মনোরমা বলেছিলেন, ‘তোর বাবা এইরকম কাপড় কিনে দিত আমাকে।’ মুশকিল হয়েছিল ওঁর সেমিজ নিয়ে। কলকাতার দোকানে আজকাল রেডিমেড সেমিজ কিনতে পাওয়া যায় না। মনোরমা সঙ্গে যেসব নিয়ে এসেছেন তাদের অবস্থা খুবই করুণ। অর্ডার দিয়ে বানাতে হলে তাঁকে নিয়ে দোকানে যেতে হবে। জ্ঞান হওয়া তক যে-মহিলাকে সে সেমিজ পরা দেখে আসছে তার জন্যে জামা এবং সায়া কিনেছিল দীপাবলী। সংকোচের সঙ্গে বলেছিল, ‘তোমার সেমিজ পাওয়া যায়নি।’

    সেগুলোর দিকে তাকিয়ে মনোরমা বলেছিলেন, ‘কেন এগুলো আনতে গেলি।’

    ‘বাঃ। তোমার জামার অবস্থা দেখেছ? এখানে অত পুরনো জিনিস পরা চলবে না। এখানে তোমার সব নতুন, তুমিও।’

    প্রথম দিনে হয়নি। দ্বিতীয় দিনে প্রায় জোর করেই ভদ্রমহিলাকে সায়া ব্লাউজ পরাল সে। সত্যি সুন্দর দেখাচ্ছে। কিন্তু কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে দীপাবলী মাথা নেড়েছিল, ‘বড্ড সাদা দেখাচ্ছে। একটু রঙের ব্রেক থাকা দরকার।’

    ‘কী থাকা দরকার?’

    ‘অত সাদা সহ্য হচ্ছে না আমার।’

    ‘সহ্য হচ্ছে না বললে তো চলবে না। এতেই আমার পেটে বুকে অস্বস্তি হচ্ছে! বিধবাদের অত রঙের দরকার নেই।’

    ‘বাঃ। আমিও তো বিধবা।’

    ‘মারব মুখে এক থাপ্পড়। অলোক বেঁচে নেই?’

    দীপাবলীর মজা লাগল, ‘আহা, একসময় তো বিধবা ছিলাম।’

    ‘তোর সঙ্গে আমি কথায় পারব না।’

    রাতারাতি নয়, একটু একটু করে বৃদ্ধার আচরণে বদল আসছে। যে-মনোরমা এককালে ছোঁয়াছুঁয়ি বাদবিচারে মগ্ন থাকতেন এখন তিনি সেসব মুখেও উচ্চারণ করেন না। রোজ রাত্রে শোওয়ার সময় ঠাকুমা নাতনিতে গল্প হয়। জানার আগ্রহ ওঁর খুব। আজ সারাদিন অফিসে কী হল, বাসে যাওয়ার আসার পথে কী অভিজ্ঞতা হয়েছে, তার বিশদ বিবরণ দিতে হয় দীপাবলীকে। সেটা শুনে নিজস্ব মন্তব্য করেন তিনি।

    আর এইসময় অলোকের কথা খুব মনে পড়ে দীপাবলীর। একই বিছানায় সে শুয়েছে। অলোক এবং মনোরমার সঙ্গে। প্রথম বিয়ের একটি রাতকে শোওয়া বলা চলে না। শেষের দিকে পাশে শুয়ে কথা বলার ক্ষমতা থাকত না অলোকের। কিন্তু অন্ধকার ঘরে পাশাপাশি শুয়ে গল্প করতে যে আরাম তার অভাববোধ করত তখন দীপাবলী। আজ অলোককে মনে পড়ছে বারংবার। আর তা মন থেকে সরাতেই সেই ছেলেবেলার মতো মনোরমার হাত আঁকড়ে শুয়ে থাকত সে। ওর এই শোওয়ার ভঙ্গিটার জন্যে মনোরমা হেসে বলেছিলেন, ‘তুই এখনও বড় হসনি রে। ছেলেবেলার কথা মনে আছে?’

    অন্ধকার ঘরে দীপাবলী জবাব দিয়েছিল, ‘হুঁ। তখন তুমি অন্যরকম ছিলে।’

    ‘কীরকম?’

    ‘রাগী রাগী। গম্ভীর। শুচিবায়ুগ্রস্ত।’

    ‘যৌবনে বৈধব্য এলে বাঙালি মেয়েকে নিজেকে আড়াল করতে একটা কিছু নিয়ে থাকতে হয়। আমার পক্ষে ওইটে ছাড়া আর কিছু নেওয়ার মতো ছিল না।’

    দীপাবলী চমকে উঠল। মনোরমা সব জেনেশুনেই ওই আচরণ করতেন? সে মহিলাকে যেন বুঝতে পারছিল না। আজ মনোরমার বয়স কত হবে? চিরকাল তো ওঁকে একইরকম দেখে আসছে। আশির এদিকে কোনওমতেই হবে না। চা-বাগানের অন্ধকারে যাঁর সারাজীবন কেটেছে তিনি কী করে এমন আধুনিক ব্যাখ্যা করেন?

    মনোরমা বললেন, ‘শোন, কাল বাজারে যাবি।’

    ‘আচ্ছা।’

    ‘তোর জন্যে মাছ আনবি।’

    ‘কী দরকার? আমার মাছ-মাংস ছাড়া দিব্যি চলে যাচ্ছে।’

    ‘ওসব বাজে কথা রাখ। তুই কেন মাছ আনা বন্ধ করেছিস জানি না ভাবছিস?’

    ‘ও। তুমি জানো বুঝি। দ্যাখো, দুটো হেঁশেল হোক আমি চাই না।’

    মনোরমা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন, ‘আগে আমারটা করে নেব তারপর—’

    একঘরে আগে পবে চলবে না। অতএব এ-প্রসঙ্গ থাক।’

    ‘জামাই এলে নিরামিষ খাওয়াবি?ֹ’

    ‘খাবে।’

    ‘বাঃ। আমি থাকতে তা হতে পারে না।’

    ‘কেন?’

    ‘মনে হবে আমার জন্যে করছিস।’ মনোরম মাথা নাড়লেন।

    দীপাবলী সময় নিল, ‘দ্যাখো, আমি যদি বলি হেঁশেল আলাদা না করলে মাছ আনব তা হলে তোমার ওপর চাপ দেওয়া হবে। যেন আমার কাছে আছ বলেই আমি জোর করে তোমাকে দিয়ে মানিয়ে নিচ্ছি।’

    সকালে চা খাওয়ার পর যখন বাজারে বের হচ্ছে দীপাবলী তখন তাকে মাছ আনার কথা মনে করিয়ে দিলেন মনোরমা। দীপাবলী ঘাড় নাড়ল। মনোরমা হাসলেন, ‘আচ্ছা বাবা, আলাদা রান্না করব না।’

    দীপাবলী আচমকা খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরল মনোরমাকে! তিনি চিৎকার করে উঠলেন, ‘ছাড় ছাড়! উঃ, তোর গায়ে কী জোর’!

    সেদিন এক হেঁশেলে রান্না হল। একই কড়াইতে। দীপাবলী অঞ্জলির কথা ভাবছিল। বেঁচে থাকলে এই দৃশ্য দেখলে অঞ্জলি হাঁ হয়ে যেত। মনোরমার বাছবিচারের ধাক্কা সামলাতে জেরবার হতে হয়েছে অঞ্জলিকে। মনোরমার মনের এই পরিবর্তন শুধু পরিস্থিতির চাপে তা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু ঘটনাটা সত্যি।

    একটি ব্যাপার মনোরমার কাছে কিছুতেই স্পষ্ট করতে পারেনি দীপাবলী। অলোকের সঙ্গে সম্পর্ক যে আর নেই এ কথা বলতে তার নিজের কন্ঠা হয়েছে। মনোরমা যা জানেন তার চেয়ে বেশ কিছু জানানোর আগ্রহ হয়নি। এর মধ্যে একদিন তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন অলোকের চিঠিপত্র এসেছে কিনা। দীপাবলী জবাবে হেসেছিল। তিনি নিশ্চয়ই সেটা এসেছে অর্থেই বুঝেছেন। হ্যাঁ, এটা অর্ধ মিথ্যা বলা হল। মুখে উচ্চারণ না করে সত্যি গোপন করা তো অর্ধ মিথ্যাই।

    কিন্তু কোন সত্যিটা বলবে দীপাবলী? সত্যিটাই বা কী তাই তার ভাল জানা নেই। অলোকের সঙ্গে মতবিরোধ হয়েছে, একসঙ্গে থাকা মুশকিল হয়ে উঠেছিল, এমন সময় ট্রান্সফার অর্ডারটা এল এবং সে দিল্লি ছাড়ল। মোটামুটি ছবিটা এইরকম। এক্ষেত্রে কলকাতায় বসে সম্পর্ক নেই বলে ঘোষণা করলে হাতের লোহা এবং নামের পেছনে উপাধিটা যে উপহাস করবে। মনে মনে যাই জানুক, নিজেরা যা বুঝে নিক, পাঁচজনকে ডেকে বলার পেছনে যে-তথ্য থাকা দরকার তা এখনও তৈরি হয়নি। মনোরমাকে তাই বলা যায় না, আমাদের আর কোনও সম্পর্ক নেই।

    এবং অবশ্যম্ভাবীভাবে আর একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে তাকে যার সম্ভাবনা এতদিন ছিল না। বৈধব্যজীবনে তো বেশ মানিয়ে নিয়েছিলে! একা একা জীবনটা কাটানো অভ্যেসে এসে গিয়েছিল। এবার কেউ তোমার ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়নি। অনেক দেখে ভেবেচিন্তে নিজে বিয়ে করেছিলে পছন্দের পুরুষকে, তা হলে তার সঙ্গে টিকতে পারলে না কেন? এই নির্মম প্রশ্নটি মনোরমার মুখ থেকে উচ্চারিত হোক দীপাবলী চায় না।

    মনোরমার একটি চশমা আছে। প্রায় আঠারো বছর আগে সেটি করানো হয়েছিল। ডাঁটি ভেঙে যাওয়ায় সুতো দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। নাকের ডগায় তুললে হাস্যকর দেখায়। আঠারো বছরে চোখ আরও শক্তিহীন হয়েছে কিন্তু চশমা পালটানো হয়নি। মনোরমাকে পাওয়ার পরিবর্তন করিয়ে নতুন চশমা দিতে গেলে চোখের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু তিনি এই ফ্ল্যাটের বাইরে যাবেন না। বিকেলবেলায় বারান্দায় বসে রাস্তার যেটুকু দেখতে পান সেটাই হয় কলকাতাদর্শন। দীপাবলী তাঁকে কালীঘাট দক্ষিণেশ্বরের কথা বলেছিল। তিনি হাত নেড়ে না বলেছিলেন। বলেছিলেন, ‘চিঠি লেখার জন্যে চশমা দরকার। আমার তো চিঠি লেখার কোনও লোকই নেই। তাই চশমারও দরকার হয় না। বইপত্র তো পড়ি না।’

    ব্যাপারটা দীপাবলীর পছন্দ হয় না। ইদানীং কেবলই মনে হয় মনোরমাকে আরও অনেককাল তার নিজের প্রয়োজনে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সেই বাঁচাটা যদি ভালভাবে না হয় তো মুশকিল। কিন্তু মনোরমার কোনও চাহিদা নেই। সবকিছুই যেন তাঁর বেশ ভাল লাগে। এই ফ্ল্যাটের জীবনে তিনি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

    মনোরমার সঙ্গে যে পাশের ফ্ল্যাটের ভদ্রমহিলার আলাপ হয়েছে তা জানতে পেরে দীপাবলী ভেবেছিল একটু সতর্ক করে দেবে। আলাপ থেকে মেলামেশা হতে বাধ্য। সেই মেলামেশা অনাবশ্যক কৌতূহলী করে তুলবে প্রতিবেশীকে। এইটে সে চায় না। কিন্তু বলব বলব করেও পারল না দীপাবলী। চব্বিশ ঘণ্টা ফ্ল্যাটে থেকে মনোরমা নিশ্চয়ই হাঁপিয়ে ওঠেন। ওইটুকু আলাপ যদি তাঁকে স্বস্তি দেয়, দিক। কয়েকদিন বাদে মনোরমা খবর দিলেন একটি পার্টটাইম কাজের লোকের ব্যবস্থা হয়েছে। পাশের ফ্ল্যাটের বউটি করে দিয়েছে। রান্না ছাড়া সব কাজ করবে। এখন তো তিনি আছেন। দীপাবলী অফিসে বেরিয়ে গেলেও কোনও অসুবিধে হবে না। এই অভাবটা মিটে গেল বলে দীপাবলী আপত্তি করার কোনও কারণই পেল না। যে-মেয়েটি এল সে স্বামী পরিত্যক্তা, সুন্দরবনে বাড়ি। এখানে লাইনের ধারে ঝুপড়িতে থাকে। মনোরমা তার সঙ্গে কথা বলেন। সেইসমস্ত কথা ধরাবাঁধা কাজের মধ্যে থাকে না। সুন্দরবনে মধু চাষ থেকে তার স্বামীর নির্যাতন পর্যন্ত কোনও প্রসঙ্গই বাদ যায় না। বছর তিরিশের একটি মেয়ে ঝুপড়িতে একা কী করে থাকে তাই নিয়ে মনোরমার অনেক দুশ্চিন্তা। কাউকে কিছু নিয়ে থাকতে হবে, মনোরমাও এই নিয়ে আছেন।

    রবিবার সকালে বাজারে যায় দীপাবলী। সেদিন ভাঁড়ার একেবারে শূন্য হয়ে যায়। আগের রাত্রে সর্দি হয়েছিল। সকালের দিকে বেশ জ্বরোভাব। গায়ে হাতে ব্যথা। মনোরমা বললেন পেট গরমের সর্দি, বাড়ি থেকে বেরুতে হবে না। তিনি কাজের মেয়েটিকে বাজারে পাঠালেন। দীপাবলী নিশ্চিন্ত হয়েছিল। আজকের দিনটা কোনওমতে চলে গেলে সে সন্ধেবেলায় না হয় বাজারে যাবে। দুপুরের আগে শরীর ঠিক হয়ে গেল। খেতে বসল সে মনোরমার সঙ্গে। মনোরমার থালার দিকে তাকিয়ে সে অবাক। তিনি আলসেদ্ধ ডাল আর কাঁচালঙ্কা নিয়ে বসেছেন ভাতের সঙ্গে। দীপাবলীর পাতের পাশে বড় বাটিতে মাছ। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘এটা কী হল?’

    মনোরমা লজ্জা পেলেন, ‘আমারই ভুল রে। তোকে যে বেশি টাকা দিতে বলব তা মনে ছিল না। এদিকে আমি ওকে বলে দিয়েছিলাম তোর জন্যে ভাল মাছ আনতে। কেনার পর ওর হাতে আর টাকা ছিল না।’

    ‘কী আশ্চর্য! ও তরকারি কিনল না কেন? মাছের কী দরকার ছিল?’

    ‘আহা। বললাম না, আমারই ভুল। কিন্তু এতে আমার অসুবিধে হবে না। ওখানে কতদিন শুধু আলুসেদ্ধ ভাত খেয়েছি। ডালও জোটেনি৷’

    ‘না। আমি খাব না। এভাবে খাওয়া যায় না।’

    ‘সেকী? খাবি না মানে? একটা বেলা মানিয়ে নে।’

    তর্ক চলল কিছুক্ষণ। হঠাৎ দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘নিজেকে কষ্ট দিয়ে খুব আনন্দ পাও?’

    ‘এ-কথা কেন?’

    ‘মাছটা তুলে রাখো। আমি তুমি যা খাচ্ছ তাই খাব।’

    ‘ওমা। তা হলে মাছ আনালাম কেন? তোর খেতে অসুবিধে হবে।’

    ‘তোমার যদি না হয় আমার হবে না।’

    ‘আশ্চর্য! আমি বিধবা হবার পর মাছ খেয়েছি কখনও?’

    ‘খাওনি কেন?’

    ‘এদেশের বিধবারা খায় না বলে।’

    ‘আমিও তো বিধবা ছিলাম। যখন জোর করে খেতে লাগলাম তখন তুমি চেঁচামেচি করোনি কেন?’

    ‘সেটা তোর বাবার জন্যে। ও চাইত না তুই বিধবার মতো থাকিস।’

    ‘মাছ খেলে তোমার বৈধব্য নষ্ট হয়ে যাবে?’

    ‘আমি জানি না।’

    ‘আজকাল এইসব বাজে প্রথা কেউ মানে না।’

    ‘আমি তো আজকালকার মানুষ নই।’

    ‘তা হলে এককালে সহমরণে যেত সদ্যবিধবা। সেটা মানো?’

    ‘আমি আর তর্ক করতে পারছি না।’

    ‘তা ছাড়া, ঠাকুমা, তুমি বিধবা হয়ে আছ অভিমানে। আমরা এখনও জানি না ঠাকুরদা মারা গিয়েছেন কিনা। ঠিক তো?’

    ‘তিনি থাকুন বা না-থাকুন আমি বিধবা।’

    ‘হ্যাঁ, আমি তোমার এই মানসিকতাকে মেনে নিচ্ছি। কিন্তু তুমি বিধবা বলে মাছ খাবে না কেন? একসময় বুঝিয়েছিলে মাছ-মাংস-ডিম শরীরকে তপ্ত করে। বিধবার উচিত নয় ওসব খাওয়া। তা শরীর যে-বয়সে তপ্ত হয় সেই বয়সটাকে তুমি অনেককাল আগে ফেলে এসেছ, তাই না?’

    ‘আঃ। ফাজলামি হচ্ছে, না?’

    ‘তা হলে যুক্তি কোথায়?’

    ‘আমি অত যুক্তিফুক্তি জানি না। যা কোনওদিন করিনি—।’

    ‘দাঁড়াও। তুমি এর আগে কলকাতায় এসেছ? আসোনি। এমন ফ্ল্যাটবাড়িতে থেকেছ? থাকেনি। সায়া ব্লাউজ পরেছ? পরোনি। তা হলে? আমি তোমাকে স্পষ্ট বলে দিচ্ছি তুমি মাছ না খেলে আমিও খাব না।’

    ‘তুই আমার ওপর জোর করছিস। খাওয়া নিজের রুচিমতো করতে হয়।’

    ‘মাছে তোমার অরুচি?’

    ‘ষাট-পঁয়ষট্টি বছর না খেয়ে আছি, নাকি তারও বেশি, এখন খেয়ে কী হবে?’

    ‘তোমার শরীর ভাল থাকবে। চোখের প্রবলেম কমবে।’

    ‘ছাই।’

    ‘বেশ, তুমি মুখে তুলে দ্যাখো, যদি খেতে খারাপ লাগে খাবে না।’

    ‘আমার বমি হয়ে যাবে।’

    ‘হলে খাবে না আর।’

    ‘কী আরম্ভ করেছিস বল তো?’

    ‘কিছুই করিনি।’

    মনোরমা পাথরের মতো বসে রইলেন। যেন অনেক অনেক বছর ধরে যে-বাঁধ শক্তহাতে গড়েছিলেন তা এখন ভেঙে পড়ার মুখে। দীপাবলী তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল। প্রথমদিকে সে বিরক্ত হয়েছিল, তারপর যুক্তিবাদী এবং এখন স্রেফ কৌতূহল। কিন্তু সে একটা আশঙ্কাও করছিল। হঠাৎ যদি মনোবমা বলে বসেন তোর বাড়িতে আছি বলে তুই আমাকে নষ্ট করতে চাইছিস তা হলে পিঠ ঠেকাবার মতো কোনও দেওয়াল পেছনে পাবে না। এইসময় মনোরমা বললেন, ‘লোকে শুনলে ছি ছি করবে রে।’

    ‘কলকাতার লোকের অনেক কাজ আছে।’ দীপাবলী হাসল, ‘না। থাক। তোমাকে খেতে হবে না। যদি কখনও ইচ্ছে হয় বোলো। আমি মাছ খাচ্ছি, তুমি খেতে আরম্ভ করো।’

    খাওয়া শুরু হল। দু’জনে চুপচাপ খাচ্ছিল। মনোরমা ধীরে খান। আলুসেদ্ধ ভাতেই তাঁকে বেশ তৃপ্ত মনে হচ্ছিল। দীপাবলী যখন মাছের বাটির দিকে হাত বাড়াচ্ছে তখন তিনি মুখ তুলে বললেন, ‘আমার জন্যে এই একটুখানি রেখে দিবি।’

    ‘মানে?’ এবার হতভম্ব দীপাবলী, ‘তুমি মাছ খাবে?’

    ‘বললাম তো!’

    ‘না বাবা। আমি জবরদস্তি করলাম বলে নিজেরই খারাপ লাগছে।’

    ‘সেটা করলি বলেই তো ইচ্ছে হচ্ছে।’

    ‘সত্যি?’ দীপাবলী খুব খুশি হল, ‘দাড়াও, রান্নাঘর থেকে এনে দিই।’

    ‘না। নষ্ট করে কোনও লাভ নেই। একটা টুকরো দে!’

    ‘দ্যাখো, তুমি আমার মন রাখতে খাচ্ছ না তো?’

    ‘তোর মন না রাখলে তুই কি আমাকে তাড়িয়ে দিতিস? তা হলে মন রাখার কথা উঠছে কেন? সেই বিধবা হবার পর খুব ইচ্ছে হত। ইচ্ছেটাকে একসময় মেরে ফেলেছিলাম। এখন তোর কথা শুনে মনে হল এটা তো মনের ব্যাপার। শরীর নিলে না খাওয়ার কী আছে!’

    দীপাবলী বাটি থেকেই অনেকটা মাছ ভেঙে নিজের থালায় নিয়ে বাটিটাকে ঠেলে দিল আস্তে করে। মনোরমার ডাল খাওয়া যেন শেষ হচ্ছে না। নিজের খাওয়া হয়ে গেলে সে থালা তুলে বেসিনের পাশে রেখে হাত ধুয়ে শোওয়ার ঘরে চলে এল। মনোরমা মাছ খাচ্ছেন আর সে সামনে বসে আছে এতে ওঁর স্বস্তি না-ও হতে পারে। দীপাবলী সতর্ক হল। যে-কোনও মুহূর্তেই মনোরমার বমির শব্দ শুনতে পাবে বলে আশঙ্কা করছিল?

    একটু বাদে জলপড়ার শব্দ হল। মনোরমা হাত ধুচ্ছেন, সে বিছানায় শুয়ে পড়ল। ওদিকে কোনও অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে বলে এখনও মনে হচ্ছে না। মিনিট পাঁচেক বাদে মনোরমা ঘরে ঢুকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ভাত খেয়ে আবার জ্বর আসবে না তো? শুলি যে?’

    ‘এমনি।’ সে মনোরমাকে জায়গা করে দিল।

    পাশে শুয়ে মনোরমা কিছুক্ষণ চুপচাপ রইলেন। দীপাবলী ওঁর কোমর জড়িয়ে ধরল। মনোরমা এবার বললেন, ‘এখন মনে হচ্ছে আমি কী বোকা!’

    ‘কেন?’ ওঁর কাঁধের কাছে মুখ ছিল দীপাবলীর।

    ‘কত বছর? ষাট-পঁয়ষট্টি বছর ধরে কত ভাল ভাল জিনিস থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে রেখেছি। এখন খুব আপশোস হচ্ছে রে!’

    দীপাবলী চমকে উঠল। তার সামনে লোলচর্ম মনোরমা, যাঁর শরীরে সময় অজস্র দাঁত বসিয়েছে। সে বলল, ‘তুমি এখনও অনেকদিন বাঁচবে তা জানো।’

    মনোরমা বললেন, ‘বাঁচতে যে খুব ইচ্ছে করে।’

    ‘তোমাকে বাঁচতেই হবে।’

    দু’জন নিঃসঙ্গ মহিলা পাশাপাশি চুপচাপ শুয়ে রইল। দু’জনের হাত দু’জনকে স্পর্শ করে আছে। দীপাবলীর মনে হল মনোরমা আজ যে-বিদ্রোহ করলেন তার তুলনায় সে নিজে কিছুই করেনি। এইসময় কলিংবেল বেজে উঠল প্রচণ্ড জোরে। চমকে উঠে বসল দু’জনেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার
    Next Article সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }