Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প139 Mins Read0
    ⤷

    কড়িখেলা – ১

    ॥ ১ ॥

    সাড়ে এগারোটার সময় ধীমানদা একটা হাঁক দিয়ে বলল, “জেঠাইমা, এবার আপনি উঠুন, জেঠাকে নিয়ে আমরা রওনা দিই। অ্যাই, কে আছিস, জেঠাইমাকে ধরে ভিতরে নিয়ে যা। সরসী, নীলা, তোরা আমার গাড়িতে উঠে পড়। ছাড়, জেঠাকে ছাড়। শনিবারের বারবেলা পড়ে যাবে এর পর, আর দেরি করা যাবে না!”

    ধীমানদা এপাড়ার একজন নেতৃস্থানীয় লোক, কংগ্রেস করে। তা ছাড়া পাড়ার ফাংশন থেকে শুরু করে রক্তদান শিবির— সবেতেই ধীমানদার ভূমিকা সঞ্চালকের। জীবনের সব পরিস্থিতির সমস্ত কথাই ধীমানদা বেশ উচ্চৈঃস্বরে কেটে কেটে বলে থাকে। তবু এই সময় এতটা জোরালো কথাবার্তা শাঁটুলের মতো বেপরোয়া, চোখ-কানকাটা ছেলের কানেও কেমন বিশ্রী শোনাল!

    ধীমানদার কথায় কানাই জেঠার বৈঠকখানা ঘরে আরও একবার আছড়ে পড়ল কান্নার ঢেউ। কানাই জেঠার দুই মেয়ে, নীলাদি আর সরসীদি। দু’জনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে দু’জনেই কানাই জেঠার মৃতদেহ দু’পাশ থেকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। জেঠাইমা বসে আছেন একটা চেয়ারে, জেঠার পা দুটোকে ছুঁয়ে। জেঠাইমা বেশি কাঁদেননি। লক্ষ করেছে শাঁটুল। বয়সের ভারে বৃদ্ধা নিজেও যথেষ্ট জবুথবু। একটু হতভম্ব চোখমুখ। ঘরের মধ্যে বেশ বড় একটা জটলা। পাড়ার কে নেই সেখানে। বেশিরভাগই কানাই জেঠার সমসাময়িক লোকজন। সতু কাকাও রয়েছেন। লুঙ্গি আর ফতুয়া পরা সতুকাকা নিশ্চয়ই শ্মশানে যাবেন না। তা ছাড়া সতুকাকার হাতে মাছের রক্তের দাগ লাগা থলে। বোঝাই যাচ্ছে, বাজারে যাচ্ছিলেন।

    ধীমানদার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে সতুকাকা বলে উঠলেন, “ওরে, আর কেঁদে কী হবে? যে গেছে, সে আর ফিরবে না। তোরা ওঠ, ওঠ, আর দেরি করিসনে, এবার আমাদের বেরিয়ে পড়তে হবে।”

    শ্মশানে যাবেন না, অথচ ‘আমাদের বেরিয়ে পড়তে হবে’ বলছেন! শুনে শাঁটুল হাসল মনে মনে। এই বুড়ো হল সর্বঘটে কাঁঠালি কলা। কথাটা বলেই সতুকাকা হাঁপাতে শুরু করেছেন। তাঁর প্রচণ্ড হাঁপানি, বুকটা সব সময় হাপরের মতো উঠছে, নামছে। আজন্মকাল হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে বুকের খাঁচা কেমন যেন ঠেলে উঠেছে উপরের দিকে। শাঁটুল লক্ষ করেছে, আম আদমি জোরে জোরে নিশ্বাস নিলে কপালে, নাকে বিজবিজে ঘাম দেখা দেয়। কিন্তু সতুকাকার মতো হেঁপো রোগীরা অষ্টপ্রহর হাঁপালেও তাঁদের শরীরের উপর চেপে বসে থাকা চামড়ার জিনিসটার কোনও ঘামটাম নেই! যেন কেমন ম্যাদা মেরে যাওয়া ঠান্ডা, নির্জীব আর ফ্যাকাশে। হাঁপানির রোগীদের বোধহয় ঘাম হয়ই না। কে জানে? ভুলও হতে পারে।

    সতুকাকার হাঁপানো দেখে কানাই জেঠাদের ভাড়াটে স্নেহাশিসদার বউ ঘোমটা টানতে টানতে বলে উঠল, “কাকা, আপনি খুব হাঁপাচ্ছেন। একটু শান্ত হন।”

    এই কথায় সতুকাকা হাউহাউ করে কেঁদে উঠে বললেন, “ওরে, কানাইদা আমাকে হাত ধরে ইস্কুলে নিয়ে যেত। কানাইদা আমাকে রাস্তা পার হওয়া শিখিয়েছিল। কানাইদা আমাকে কত ঘটিগরম খাইয়েছে। সেই কানাইদা চলে গেল?”

    এসব কথা শুনলে শাঁটুলের মনে বরাবরই হাসির ঢেউ ওঠে। চলে গেল মানে? যাবে না? আর কদ্দিন পড়ে থাকবে? ছিয়াশি তো হয়েছিল। বাব্বাঃ, শাঁটুল কখনও এতদিন পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখবে না! শাঁটুল চায় বেশ তরতরে থাকতে থাকতে দুনিয়া থেকে কেটে পড়তে। পাড়ায় এত বুড়ো হাবড়া দেখতে দেখতে বৃদ্ধাবস্থাকে সে প্রায় ঘৃণার চোখেই দেখে! কানাই জেঠা মারা গেছে শুনে তো প্রথম যে কথাটা ভেবেছিল সেটা হল, ‘যথেষ্ট!’ বেফালতু একটা লোক আর ক’দিন বাঁচবে? বেঁচে থেকে পৃথিবীর ভার বাড়ানো বই তো নয়? টানাটানির অন্ন ধ্বংস করা। এই বয়সে একটা লোক আর পৃথিবীর কোন কাজে লাগবে? তখনই কাউন্টার চিন্তাটা মাথায় এসেছিল তার, কানাই জেঠার ক্ষেত্রে এটা ঠিক। জেঠা সকাল থেকে বেলা বারোটা অবধি রকে ইজ়িচেয়ার পেতে বসে থাকত, হাতে ধরা থাকত একটা খবরের কাগজ, যে যেত, তাকে ডেকে ডেকে কথা বলাটা ছিল একমাত্র কাজের মধ্যে কাজ! আবার বিকেল পাঁচটা থেকে ঠিক ওই একই জায়গায় বসে থাকত রাত ন’টা পর্যন্ত। শীত, গ্রীষ্ম কুড়ি বছর ধরে ওই একই রুটিন! কিন্তু কানাই জেঠার পাশের বাড়ির পশুপতি জেঠার ক্ষেত্রে কেসটা ঠিক উলটো। পশুপতি জেঠারও বয়সও আশি হবে। পশুপতি জেঠা পেশাসূত্রে হলেন ঐতিহাসিক, হিস্টোরিয়ান। পাড়ার গর্ব। ইতিহাসের অনেকগুলো মোটা মোটা বই আছে, জেঠার নিজের লেখা। বাড়ি তো নয়, একটা লাইব্রেরি! এখনও সকাল-সন্ধে জানলা থেকে দেখা যায় জেঠা টেবিলে বসে পড়াশোনা, লেখালিখি চালিয়ে যাচ্ছেন। নিরলস সংগ্রাম! এই তো সেদিন টিভিতে ইন্টারভিউ হচ্ছিল জেঠার। বলছিলেন, ‘ইতিহাসের কোলেই মাথা দিয়ে শুয়ে আছি, আর ইতিহাস আমার কানে মৃদু মৃদু কথা কইছে! বড় রহস্যময় সেই ফিসফাস, খুবই সাংকেতিক এক ভাষা!’ এইটুকুই শুনেছিল শাঁটুল, তার বেশি শোনার ধৈর্য ছিল না তার, সে নিজে তো ইতিহাসে পাতি হাঁস!

    পশুপতি জেঠার এখনও কত ছাত্র-ছাত্রী, অনেকেই সকাল- সন্ধে আসছে। এই একটা ব্যাপার শাঁটুল ও তার বন্ধুবান্ধবদের কাছে একসময় খুব উপভোগ্য ছিল। পশুপতি জেঠার কাছে ভাল ভাল বাড়ির সুন্দর সুন্দর মেয়েরা আসত পড়াশোনা সংক্রান্ত সহায়তার জন্য। পি এইচ ডি-র স্টুডেন্ট ফুডেন্ট আর কী! নিমাই খুড়োর রকে বসে সেসব সুন্দরী মেয়েদের দেখতে কী ভালই না লাগত শাঁটুলদের! একটা চার চোখো মেয়ের তো প্রেমেই পড়ে গিয়েছিল সে! তখন শাঁটুলের নিজস্ব বাহন ছিল না। তবু বাসে-ট্রামে করেই মেয়েটাকে ফলো করেছিল একদিন। মেয়েটা থাকত দক্ষিণ কলকাতার বর্ধিষ্ণু পাড়া ল্যান্সডাউন রোডে। বরাবরই শাঁটুলের দক্ষিণ কলকাতার মেয়েদের উপর দুর্বলতা আছে। এপাড়ায় তো কিছু কম মেয়ে নেই। গিজগিজ করছে। কিন্তু শাঁটুলের চোখে দক্ষিণ কলকাতার মেয়েরাই অসামান্য। টক ঝাল মিষ্টি লজেন্সের মতো। সে তুলনায় এখানকার মেয়েরা তাকে তেমন টানে না, যেন বড্ড বেশি জানা। তো সেই পশুপতি জেঠা এখনও, এই বয়সেও মাঝেমধ্যে পাটভাঙা ধুতি-পাঞ্জাবি পরে নানা সভা-সমিতিতে যাচ্ছেন, বক্তৃতা দিচ্ছেন। এই যে মেদিনীপুরে জমি খুঁড়তে গিয়ে তিন ফুট লম্বা কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি পাওয়া গেল, তাই নিয়ে টিভিতে কত আলাপ আলোচনা, জেঠাকে তো স্টুডিয়োয় যেতেই হল না। বিরাট একটা ও বি ভ্যান দাঁড়িয়ে পড়ল ঠিক এখানে, যেখানে শাঁটুল এখন দাঁড়িয়ে আছে। পশুপতি জেঠার এখনও বেশ ব্যস্ততাময় জীবন। সুতরাং এর মানে দাঁড়াল, কারও কারও বয়স হলেও সংসারে একটা দাম থাকে। যাকে বলে, একটা উপযোগিতা থাকে। সেদিক থেকে ভেবে দেখলে, শাঁটুলের নিজের জেঠারও বয়স আশি ছাড়াল এবং মা যে সারাক্ষণ বলে, ‘বটঠাকুর না থাকলে কি এ সংসারে দু’বেলা হাঁড়ি চড়বে? সাধে কি আমি বুড়োকে এত তোয়াজ করি? দুধটা, ডিমটা ওর পাতে দিই?’ সে তো শাঁটুল বিলক্ষণ জানে কেন দেয়! জেঠা ছিল রেলের কেরানি। পেনশন হোল্ডার, বিয়ে-থা করেনি। এখনও অবধি জেঠার পেনশনটাই শাটুলদের সাত-আটজনের ফ্যামিলির মেন ইনকাম। বুড়ো মরলেই ইনকাম বন্ধ! ভাগ্যিস নন্দলাল দাস বিয়ে-থা করেনি, এই কথাটা শাঁটুলদের সংসারে সারাক্ষণ অনুচ্চারিত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। জেঠার কাছ থেকে শেষ যা শাঁটুল হস্তগত করেছে, তা এই লাল ঘোড়া মোটরবাইকটা। এটায় চেপেই শাঁটুল ইদানীং এই চত্বর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কাজকর্ম এখন বেশ ভালই হচ্ছে তার। এ মাসে সে প্রায় তিরিশ হাজার টাকা পকেটে পুরেছে। আজও রোজকার মতো শাঁটুল সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে পাঁউরুটি চায়ে ভিজিয়ে খেয়ে মোটরবাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল শ্যামবাজারে এক ক্লায়েন্টকে বাড়ি দেখাতে। অনাদি ঘোষাল স্ট্রিটে ঢুকেই সে জানতে পারল, কানাই জেঠা দেহ রেখেছেন! জেঠা দশ দিন ভর্তি ছিল হসপিটালে। মৃত্যুর কারণ, বয়সজনিত। এখন সাতটা, সাড়ে সাতটা বাজে। ধীমানদা বলল, ‘শাঁটুল তোকে দরকার লাগবে। ব্যস, তার আর কাজে যাওয়া হল না। লালুকে পিছনে বসিয়ে শাঁটুল চলে গেল বাগবাজার ঘাটে, খাট আর ফুল কিনে আনতে। ক্লায়েন্টকে ফোন করে বলে দিল সন্ধেবেলা নিয়ে যাবে বাড়ি দেখাতে। তারপর সে একটা ম্যাটাডোর ভাড়া করল খাল পাড় থেকে, সেখান থেকে গেল আর জি কর। বডি নিয়ে ফেরত আসা ইস্তক সে এখানেই দাঁড়িয়ে আছে। এপাড়ায় যত বিপদ আপদ, দুর্ঘটনা, মৃত্যু, ঝগড়া কাজিয়া, লাফড়া, কিচাইন সব কিছুর উপরই শাঁটুলদের একটা ওনারশিপ আছে! স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এখন তারাই পাড়ার সবেধন নীলমণি। সেই ক্লাস নাইন-টেন থেকে শাঁটুল যে কত বার হসপিটাল, নার্সিংহোম থেকে বডি এনেছে, কত বার শ্মশানে গেছে, তার হিসেব নেই। সে তাই দাঁড়িয়ে আছে কানাই জেঠার বাড়ির সামনে। কখন কী কাজের আহ্বান আসে…মাঝখানে দু’বার সে শুধু জগুর চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে এসেছে। সিগারেটে টান মেরে এসেছে। একটু আগে মা আর বউদি এসেছিল জেঠাকে শেষ দেখা দেখতে। মা তাকে দেখতে পেয়ে দাঁতে দাঁত চিপে বলল, “ও, তুই এখানেই তাঁবু গেড়ে বসে আছিস? সকালে বললাম একটু বাজার এনে দে, তখন তো খুব কাজ দেখালি?’ মায়ের কথা শেষ হওয়ার আগেই শাঁটুল গঙ্গাধরের লন্ড্রির ভিতর গিয়ে সেঁধিয়েছিল। মা-বউদি চলে যাওয়ার পর আবার ফিরে এসেছে। তখন একটা অদ্ভুত কথা মনে হয়েছিল শাঁটুলের, মা কস্মিনকালেও বাড়ির বাইরে বেরোয় না। মাকে রাস্তাঘাটে হঠাৎ দেখলে শাঁটুল আগেও দু’-একবার চিনতে পারেনি। আজ বউদিকে দেখেই সে মাকে চিনে নেয়। তা-ও মুহূর্ত সময় লেগেছিল!

    সতুকাকার আবেগমথিত কথা শেষ না হতেই ‘বলো হরি, হরি বোল’ ধ্বনি একটা অতীব ভারী কণ্ঠস্বর থেকে ছিটকে উঠল ঘরের মধ্যে। যে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, এমনকী শাঁটুল নিজেও চমকে উঠল সেটা শুনে! বাড়ির সামনে ইতস্তত ছড়ানো-ছিটানো ভিড়টা নতুন করে একবার গা ঝাড়া দিয়ে এগিয়ে গেল কানাই জেঠার বাড়ির গোল রকটার কাছে। আবার একটা ক্রন্দনরোল উঠল। শাঁটুল দেখল, মিন্তিপিসি জেঠাইমাকে ধরে ধরে বাড়ির ভিতর নিয়ে চলে যাচ্ছে। নীলাদি, সরসীদি আবার একবার জাপটে ধরেছে বাবার মৃতদেহ। ধীমানদা কাঁধ দিল জেঠাকে। শাঁটুল গিয়ে ম্যাটাডোরের ড্রাইভারকে বলল গাড়িটা এনে ঠিক নিমাইখুড়োদের রকের সামনে রাখতে। পাড়ার ভিড়টা বাড়ছে। ম্যাটাডোরের ড্রাইভার গাড়িটা পজ়িশনে রেখে এবার আর স্টার্ট বন্ধ করল না। এক হাত স্টিয়ারিং-এ রেখে অন্য হাতে ধরা মোবাইলে লোকটা কথা বলতে বলতে হাসছে।

    ঠিক এই সময় মোহিনীমোহন লাট লেন দিয়ে এসে অনাদি ঘোষাল স্ট্রিটে এন্ট্রি নিল আয়েষাদি। কানাই জেঠার মরদেহ নিয়ে তৈরি হওয়া ছোটখাটো প্রসেশনটাকে ঠেলে ঠুলে কানাই জেঠার মৃতদেহের পায়ে আলতো হাত ছুঁইয়ে প্রণাম করে দুদ্দাড় করে মোটা মোটা আহ্লাদী শরীরটাকে নিয়ে ঢুকে গেল কানাই জেঠার বাড়ির ভিতর, যেতে যেতে তার দিকে তাকিয়ে আয়েষাদি বলল, “অভীকদাকে দেখেছিস শাঁটুল?”

    ঠিক ক’দিন পর আয়েষাদি কথা বলল তার সঙ্গে? এটা মার্চ মাস, পুজোর পর আর সরাসরি তার সঙ্গে আয়েষাদির কথা হয়নি। সামনে পড়ে গেলেও আয়েষাদি এমন ভান করে আজকাল, যেন সে পোকামাকড়! দেখতেই পাচ্ছে না, এত তুচ্ছ! আজ শাঁটুল সেটাই করল, যেটা সে কখনও করেনি আয়েষাদির সঙ্গে! এত বছর, এত অপমানিত হওয়া সত্ত্বেও, সে জাস্ট মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে হেঁটে গেল নিমাই খুড়োদের রকের দিকে। সে ভাবল, আজকাল আয়েষাদির খুব এসব কাণ্ডজ্ঞান হয়েছে। পাড়ার কেউ মারা গেলে সাদা সালোয়ার- কামিজ পরে শোকজ্ঞাপন করতে আসে।

    ভীষণ নেকা নেকা লাগে শাঁটুলের এসব। আয়েষা ঘোষ কি হিন্দি সিনেমার নায়িকা যে, কেউ মারা গেলে সাদা কলিদার পরে, চোখে সানগ্লাস দিয়ে দেখা করতে আসতে হবে? এপাড়ায় বহুত আলতু ফালতু জিনিস আমদানি করেছে আয়েষাদি। পারলে আয়েষাদি শ্বশুর বিশ্বম্ভর ঘোষের টাকায় এই গোটা তল্লাটটাই কিনে নেয়। ‘বলো হরি, হরি বোল’ বলতে বলতে বড়কাকা, ছোটকাকা, ধীমানদা, শৈলেন চৌধুরি, সকলে মিলে কানাই চাটুজ্যেকে ম্যাটাডোরে তুলে দিল, সবসুদ্ধ জনাদশেক ছেলে জুটে গেছে। একে-একে তারা সব লাফ মেরে উঠে পড়ছে ম্যাটাডোরে। সবচেয়ে শেষে উঠল ধীমানদা। নিজের মোটরবাইকের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে শাঁটুল লালুকে জিজ্ঞেস করল, “অ্যাই? তুই যাবি তো আমার সঙ্গে?”

    অন্য দিন হলে লালু ওর সেই নিজস্ব ভঙ্গিতে আধশোওয়া হয়ে থাকত নিমাই খুড়োদের রকের উপর। লাল তেলচুকচুকে সিমেন্টের বেদিতে পিঠ ঠেস দিয়ে হাঁটু জোড়া নাক বরাবর তুলে এনে লালু প্রায় শুয়ে পড়ে। দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে গলিয়ে দেয় একটা হাত, অন্য হাতটা সিগারেট ধরা অবস্থায় ঝুলে থাকে বাইরে, লালু চোখ বুজে ঝিমোয়। আজ নেহাত একটা শোকের ব্যাপার ঘটে গেছে বলে লালু পা ঝুলিয়ে বসে আছে রকে। তার কথায় লালু সিগারেটের টুকরোটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলল, “চল।”

    শাঁটুলের বাইকটা অ্যাকোয়ারিয়ামের গায়ে দাঁড় করানো আছে। এই অ্যাকোয়ারিয়ামটা লালুর খুব মায়ার জিনিস। পনেরো-কুড়ি বছর আগে ‘সৌহার্দ্য সঙ্ঘ’ থেকে গঙ্গাধরের লন্ড্রির সামনে এক চিলতে বেওয়ারিশ জায়গায় এই অ্যাকোয়ারিয়ামটা তৈরি করে দিয়েছিল। তখন লালু ক্লাস থ্রি- ফোরে পড়ে। লাল-নীল মাছগুলো দেখতে গিয়ে যাতায়াতের পথে রোজই দাঁড়িয়ে পড়ত অ্যাকোয়ারিয়ামের সামনে। তখন এই নিমাই খুড়োদের রকটা দখলে ছিল বটুকদাদের। আর যখন সে অবাক হয়ে জলের মধ্যে খেলে বেড়ানো মাছগুলো দেখতে ব্যস্ত, বটুকদা হঠাৎ করে এসে প্যান্ট খুলে দিত তার! তখন সে খুব বদলা নেওয়ার কথা ভাবত এসবের। সমস্ত অপমানের, অবজ্ঞার, তাচ্ছিল্যের। এদিকে খার থাকলে কী হবে, সে বটুকদাকে ভয়ও পেত খুব। সে জানত, গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরিতে বটুকদা গুলি বানায়। গালে গালপাট্টা, বড় বড় চুল, বটুকদার চেহারাটাও ছিল বাজখাঁই। তা ছাড়া ছোটবেলায় লালুরা বাড়িতে ঠিকমতো খেতে পেত না। না খেয়ে খেয়ে সে কেমন একটা ক্যাবলা ক্যাবলা হয়ে গেছিল। কবে যে অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছগুলো মরে গিয়ে অ্যাকোয়ারিয়ামটা ফাঁকা হয়ে গেল, মনে নেই লালুর। এখন অ্যাকোয়ারিয়ামের ভিতরটা শেওলায় কালো হয়ে আছে। কাচের গায়ে মোটা মোটা শুঁড়ের মতো বেয়ে বেয়ে উঠেছে শেওলা। বটুকদা লোকটাও হেমন্ত সেতুর উপর দিয়ে সাইকেল চালিয়ে আসতে গিয়ে একদিন বাস চাপা পড়ে মরেছে। প্রকৃতপক্ষে এখন লালু নিজেও ছোট ছোট বাচ্চাদের খচানোর জন্য অনেক সময় প্যান্ট খুলে দেয়। এটা একটা পুরনো খেলা, যা বড়রা ছোটদের সঙ্গে খেলেই থাকে! কিন্তু এখনও সে প্রায়ই ভাবে, অ্যাকোয়ারিয়ামটা পরিষ্কার করবে একদিন। ক’টা রঙিন মাছ ছাড়বে। কিন্তু হয়ে আর ওঠে না।

    লালু ভাবছিল, এই একটা মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাড়ায় বেশ নাটক হচ্ছে। কানাই চাটুজ্যের মড়ার গলাতে সাত-আটটা মালা? ভাবা যায় না! কুঁড়ে আর কেপ্পন, ‘কানাই চাটুজ্জ্যে’ বলতে এই তো বোঝায়! কোনওদিন ভিখিরিকে একটা পয়সা দিয়ে দেখেছে বুড়োটা? ম্যাটাডোরটা চলতে শুরু করেছে। সরসীদির বর ‘বলো হরি, হরি বোল’ বলতে বলতে ঝনাত শব্দে কিছু খুচরো পয়সা ছড়িয়ে দিল রাস্তার উপর।

    লালু সেই দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল, “যাঃ শালা, সব পাঁচ পয়সা, দশ পয়সা! সব অচল পয়সা রে শাঁটুল! জমিয়ে রেখেছিল।”

    শাঁটুল বলল, “যাবি তো চল রে লালু!”

    শাঁটুলের মুখে অন্য উদ্দীপনা। শ্মশানে যাওয়ার একটু নেশা আছে ওর।

    লালু বলল, “আজ আমার সকাল থেকে পেটটা বসে গেছে। যাওয়ার পথে ‘পপুলার’ থেকে কিছু একটা ওষুধ নিতে হবে।”

    ম্যাটাডোরটা তখন অনেকটা এগিয়ে গেছে। লালু চড়ে বসল শাঁটুলের ঘোড়ার পিছনে। বাম্ শব্দে স্টার্ট দিল শাঁটুল বাইকটা। এখন রাস্তার দু’পাশের বাড়িগুলোর বারান্দায়-রকে নানা মুখ। সকলেই কানাই জেঠার শেষযাত্রার সাক্ষী হচ্ছে। প্রদীপদার দু’বছরের ছেলেটা খুব নমো নমো করছে। ঠিক তখনই ভবেশ মিত্তিরের বাড়ির সদর দরজা খুলে বেরিয়ে এল কমলের বউ। কমলের বউকে অচানক দেখতে পেয়ে শাঁটুলের বাইক প্রায় অ্যাক্সিডেন্টই করছিল শনি মন্দিরের গায়ে গিয়ে! খুবজোর বেঁচে গেল। কমলের বউয়ের নাম সোহিনী। আর শাঁটুল তার নাম দিয়েছে সোহিনী সাউথ। সাউথ থেকে বিয়ে হয়ে নর্থে এসেছে মেয়েটা। শাঁটুলের ধারণা, সাউথের মেয়েরা অন্যরকম হয়। সবাই জানে, বিয়ে করলে শাঁটুল সাউথের মেয়েকেই করবে। রায়বাগানের এই ইট বের করা বাড়ি, এঁদো গলির চেয়ে সাউথ ক্যালকাটা কত আলাদা! সোহিনী সাউথের যেখানে থাকে, সেটা মুদিয়ালি। মুদিয়ালি জায়গাটা দারুণ। ঝকঝকে রাস্তাঘাট, সুন্দর সুন্দর বাড়ি, বড় বড় গাছ, চওড়া বুলেভার্ড। সোহিনী ওই মুদিয়ালির মতো, এপাড়ার তুলনায় চোখটাটানো গ্ল্যামার, হাঁটাচলা, আদবকায়দা, পোশাকআশাক, কথা বলা, সবই আলাদা। এমনকী, ওর বিয়ের দিন শাঁটুল ফুলের স্তবক দিতে গেলে সোহিনী সাউথ যে হাসিটা হেসেছিল, সেটাও মারাত্মক ছিল! হেভি পার্সোনালিটি। এককথায় বলতে গেলে শাঁটুল-লালুরা এত স্মার্ট মেয়ে আগে কখনও দেখেনি। তাদের কাছে এই স্মার্টনেস, এই ঝাঁ চকচকে উপস্থিতি রোমহর্ষক, উত্তেজক! লালু জানে, হঠাৎ করে সোহিনীকে দেখলে শাঁটুল সেই চাপা উত্তেজনায় চিতাবাঘের মতো হয়ে যায়। গুঁড়ি মেরে এগিয়ে যেতে চায় কমলের বউটার একদম ঘাড়ের কাছে। চোখ টানটান করে থমথমে মুখে তাকিয়ে থাকে। কৌতূহল জলের মীনের মতো সুরুত সুরুত করে আনাগোনা করে ওর চোখে। কমলের বউয়ের প্রতি শাঁটুলের এই বেপরোয়া আচরণ খুব এনজয় করে লালু। শাঁটুল ছটফট করলে তার খুব মস্তি হয়। আর যেহেতু সে শাঁটুলের সত্যিকারের বন্ধু, তাই সে সাবধানও করে শাঁটুলকে বাড়াবাড়ি না করতে। এপাড়ায় সকলেই সকলের দিকে নজর রাখে। কমলটা যতই ম্যাদামার্কা হোক, সোহিনী তো কমলের বউ। আর ‘বউ’ মানেই তো সম্পত্তি। ভোগ-দখলের সম্পত্তি! লালু দেখল, ফাটাফাটি ড্রেস করেছে সোহিনী আজ। সোহিনীর টকটকে ফর্সা গায়ের চামড়ায় যেন কেটে কেটে বসে গেছে কালো ব্লাউজটা। একটা সাদা-কালো চেক চেক শাড়ি পরেছে। শ্যাম্পু করা একটু বাদামি রঙের চুল খোলা অবস্থায় যেন লকলকিয়ে উঠছে কাঁধের উপর। চোখে সানগ্লাস। পায়ে পেনসিল হিল, হাতে একটা চমৎকার হ্যান্ডব্যাগ। ঠোঁটে কী একটা লিপস্টিক লাগিয়েছে, রোদে ঝলসে উঠছে পাকা পাকা টসটসে দুটো ঠোঁট। সেই ঠোঁটে সামান্য ঢেউ তুলে, হিলে শব্দ তুলে সে হেঁটে যাচ্ছে তিন মাথার মোড়ের উদ্দেশে। আর শাঁটুল এলোমেলো বাইক চালাচ্ছে। হঠাৎ গতিটা বাড়িয়ে দিয়ে শাঁটুল সোজা বটতলার ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল। লালু দেখল, শাঁটুলের চিবুক শক্ত, মাথার দু’পাশের রগ ফুলে উঠছে। সে নেমে দাঁড়াতে যাচ্ছিল বাইক থেকে। শাঁটুল তার পায়ে চাপড় মারল, “বসে থাক।”

    খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসল লালু, “শ্মশানে যাবি না?”

    “নাঃ!” বলল শাঁটুল।

    “দ্যাখ শাঁটুল, বাড়াবাড়ি করিস না। পাড়ার বউ, বন্ধুর বউ পরস্ত্রী, সমঝে চল। কমলের বউকে দেখলে তুই যে এরকম করিস, তা কিন্তু অনেকেরই নজরে পড়েছে। সেদিন রকে বসে তুই কমলের বউকে নিয়ে যেসব মন্তব্য করছিলি, সকলেই বুঝতে পারছিল, তোর একটা অন্যরকম ইন্টারেস্ট আছে!” নাকের কাছে উড়ে আসা একটা মাছি তাড়াতে তাড়াতে বলল লালু। সে দেখল, ওই তিন মাথার মোড় থেকে বাঁ হাতে ঘুরল সোহিনী সাউথ। এদিকেই আসছে। ট্যাক্সিতে উঠবে, জানা কথা।

    শাঁটুল তাকিয়ে থাকতে থাকতে খুব বিদ্বেষপূর্ণ স্বরে বলল, “উলটো দিকের বাড়িতে একজন মারা গেছে, তার বডি এখনও পাড়া থেকে বেরোতে পারল না। কমলের বউ তারই মধ্যে এত মাঞ্জা দিয়ে বেরিয়ে পড়ল? মেয়েটার কি কোনও চক্ষুলজ্জা নেই? এইজন্য কমলের মা বউকে দেখতে পারে না! আরে, এটা তো সাউথ ক্যালকাটা নয়, এখানে পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে লোকের জন্মজন্মান্তরের সম্পর্ক, এই বউটা সেসব তো মানতেই চায় না!”

    “এসব মেয়ে এরকমই! কোনও নিয়মকানুন মানলেওয়ালি থোড়ি! অহংকারে মটমট করছে?” লালু সত্যি ভেবেই বলল কথাটা।

    শাঁটুল চোখটা সরু করে তাকাল, “তাই না? আমার বউ হলে দেখিয়ে দিতাম! এত ছটফটানি বের করে দিতাম। কমলটা তো একটা ছাগল। এসব জ্যান্ত রাক্ষুসিকে কি কমলটমল হ্যান্ডল করতে পারে?”

    ‘আমার বউ হলে’ কথাটার মধ্যে অসম্ভব একটা কাম ভাব রয়েছে, বুঝল লালু। অবদমিত কাম। সে আত্মসংবরণ না করে বলল, “তোর বউ হলে আর কী করতি? বল শালা?”

    শাঁটুল খুব শান্তভাবে বলল, “প্রথমেই থাই দুটো দেখতাম একটু। দু’হাতে দলাইমলাই করতাম!”

    শাঁটুলের মধ্যে তৈরি হওয়া অমানুষিক ইচ্ছেটা পড়তে পারল লালু। সে বলল, “শালা তোকে পুয়েরা হড়কে দিয়েছে। তোর কপালে অনেক দুঃখ আছে?” বলে গলাটা বিকৃত করে হাসল একটু।

    শাঁটুল বলল, “দাঁড়া তো! আজ কমলের বউটাকে ফলো করতে হবে। প্রায় দিন এরকম ভরদুপুরে সেজেগুজে কোথায় যায় জানতে হবে!”

    লালু বলল, “দ্যাখ শাঁটুল, আমি এই ফলো করাকরিতে নেই। যদি শ্মশানে যেতে হয় চল, যাচ্ছি। নইলে আমার বিস্তর কাজ আছে। একটু পরেই অভীকদা আমাকে খুঁজবে।”

    “ভাগ শালা অভীকের পেয়াদা! আমাকে দ্যাখ। নিজের মর্জির চাকর, অন্যের নই! তোকে কত দিন ধরে বলছি, অভীকদাকে ছাড়, আমার লাইনটা ধর। আমারও চাপ বাড়ছে। একটা হেল্‌প হলে ভাল হয়, শেয়ার থার্টি, সেভেন্টি। তুই শুধু পার্টিকে বাড়িগুলো দেখিয়ে দিবি, ব্যস!”

    দুপুর তিনটে নাগাদ অভীকদা লালুকে ট্রাভেল এজেন্সিতে যেতে বলেছে। অভীকদার বাবা-মা দিল্লিতে কোনও আত্মীয়ের বিয়েতে যাবে, টিকিট কালেক্ট করে টাকাপয়সা মিটিয়ে আসতে হবে। লালুর কোনও চাকরিবাকরি নেই। অভীকদা, আয়েষাদির ফাইফরমাশ খেটেই দিন চলছে তার। আয়েষাদির আজকাল হেভি মেজাজ হয়েছে। পান থেকে চুন খসলেই ডাঁটো ডাঁটো বাক্যি ঝাড়ে। লালু বলল, “অভীকদাকে আমি চটাতে চাই না। মাস গেলে চার-পাঁচ হাজার এসে যাচ্ছে, আমার এতেই যথেষ্ট!”

    শাঁটুল বলল, “তোর শাঁটুল দাসের মতো এলেম নেই। তোর বুকটা চড়াই পাখির বুক হয়ে গেছে লালু! তুই অভীকদার পুরো চাকর বনে গেছিস। তোর লজ্জা করে না? সেদিন দোলের আগের দিন রাতে সজলদাদের ছাদে মাল খেতে খেতে অভীকদা বলল, ‘লালু একটু পিঠটা ম্যাসাজ করে দে তো!’ তুই অমনই অভীক ঘোষের গাত্র মর্দনে লেগে গেলি! ছিঃ লালু, ছিঃ, ছিঃ! রোজ তোকে দিয়ে অভীকদা গা হাত-পা টেপায়!”

    সত্যি একদম কাছে চলে এসেছে সোহিনী সাউথ! হাঁটার ছন্দে দুটো ভরাট সুডৌল ঊরু ফুটে ফুটে উঠছে, দুটো সাদা নিটোল লম্বা লম্বা হাতে ঝিকিয়ে উঠছে সোনার অলংকার। বালা না বাউটি, কী যেন বলে। লালুর কোনও জ্ঞান নেই এসব বিষয়ে। তার মায়ের হাতে তো আজীবন শুধু খয়ে যাওয়া ব্রোঞ্জের চুড়ি! ‘গয়না’ বললে লালুর বরং আয়েষাদির কথা মনে পড়ে। গয়নার বিজ্ঞাপনের চেয়েও বেশি গয়না পরে আয়েষাদি। আচ্ছা, সোহিনী সাউথকে কি আয়েষাদির চেয়ে বেশি ভাল দেখতে? তবে এটা এখন সকলেই জানে, বিশ্বম্ভর ঘোষের একমাত্র ছেলের বউ আয়েষা ঘোষ সোহিনী সাউথকে বেশ ঈর্ষার চোখে দেখে। এপাড়ায় আয়েষাদির প্রবল প্রতাপ- প্রতিপত্তি। যেমনটা একসময় ছিল আয়েষাদির শ্বশুর বিশ্বম্ভর ঘোষের। আয়েষাদি যেন শ্বশুরের জায়গাটাই নিয়েছে। সেই আয়েষাদি একমাত্র সোহিনী মিত্রের কাছে কোনও পাত্তা পায় না। বছরদুয়েক আগে তখন সোহিনী সবে বিয়ে হয়ে এপাড়ায় এসেছে, আয়েষাদি সোহিনীকে দলে টানতে চেয়েছিল। পুজোর ফাংশনে নাচতে বলেছিল সোহিনীকে। তাতে সোহিনী খুব বিরক্ত হয়ে ভ্রূ তুলে বলেছিল, ‘আমার গুরুর নাম বিজেশ মহারাজ, তুমি ভাবলে কী করে আমি এসব পাড়ার ফাংশনে নাচব?’ আরও একটা জায়গায় আয়েষাদিকে পুরো নাস্তানাবুদ করে দিয়েছে সোহিনী সাউথ। সোহিনী সাউথ তুখোড় ইংরেজি বলে। আর আয়েষাদি যতই বড়লোকের বউ হোক, আসলে তো তাদের মতোই গরিব বাড়ির মেয়ে। গোলক মাঝি লেনে থাকত, পড়েছে মনোমোহিনী বালিকা বিদ্যালয়ে, বাংলা মিডিয়ামে। সোহিনী তরতর করে ইংরেজি বললে আয়েষাদি বাক্যিহারা হয়ে যায়। যারা সামনাসামনি আয়েষাদিকে সবচেয়ে বেশি তোল্লাই দেয়, তারাই এই নিয়ে পিছনে হাসাহাসি করে।

    বটতলায় এই সময় ট্যাক্সির সংখ্যা হাতে গোনা। সর্বসাকুল্যে দুটো ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে। একটা এইমাত্র প্যাসেঞ্জার তুলে চলে গেল। শাঁটুল এমনভাবে বটগাছের আড়ালে ‘সারদেশ্বরী’ প্রিন্টিং প্রেসের চাতালে ঢুকে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তারা সোহিনীকে দেখতে পাচ্ছে, কিন্তু সোহিনীর পক্ষে তাদের দেখা সম্ভব হচ্ছে না। ট্যাক্সির দরজা খুলে ভিতরে উঠে বসল সোহিনী, অমনই স্টার্ট দিল শাঁটুল বাইকে। লালু একশো আশি ডিগ্রি চোখ ঘুরিয়ে বোঝার চেষ্টা করল, ব্যাপারটা কে-কে লক্ষ করছে! ‘সারদেশ্বরীর’ বুড়ো ম্যানেজারটা চোখে মোটা পাওয়ারের চশমা পরে হাতের কাজ থামিয়ে তাকিয়ে আছে এদিকে। কিন্তু সোহিনী ট্যাক্সিতে উঠে বসলেও ট্যাক্সি তো এগোচ্ছে না। লালু ভাবল, ট্যাক্সিটা কি যেতে চাইছে না? সোহিনী কী একটা বোঝাচ্ছে ড্রাইভারকে।

    শাঁটুল বলল, “কেসটা কী? হারামিটা কি সোহিনী সাউথকে রিফিউজ করছে? লোকটা আজ কার মুখ দেখে উঠেছিল?”

    লালু বুঝে গেল, এর পর কী হতে চলেছে, স্টার্ট বন্ধ করে মোটরবাইকটা তাকে ধরিয়ে দিয়ে শাঁটুল হেভি রেলা নিয়ে হেঁটে গেল ট্যাক্সিটা অবধি। জানলায় হাত রেখে ঝুঁকে পড়ে বলল, “কী ব্যাপার? কোনও প্রবলেম?”

    সোহিনী সানগ্লাস পরা চোখমুখ তুলল শাঁটুলের দিকে, এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল। তারপর কোনও উত্তর না দিয়ে সটান নেমে এল ট্যাক্সি থেকে। আর হনহন করে হাঁটতে লাগল ব্রিজের দিকে। ব্যস, হেভি বোকা বনে গেল শাঁটুল! সোহিনীর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে কী করবে ভেবে না পেয়ে সে আচমকাই মাথা গরম করে ফেলে দুম করে একটা ঘুষি মেরে বসল ড্রাইভারটাকে!

    মোটরবাইকটা ঠিক করে রেখে লালু ছুটে গেল ঝামেলা সামলাতে। ড্রাইভারটাও হাতা ফাতা গুটিয়ে নেমে পড়েছে গাড়ি থেকে। ব্যাপার অনেক দূর গড়াল, লোকজন জমে গেল। পাড়া, তাই দু’-চারটে চড়-থাপ্পড় খেয়ে ট্যাক্সিওয়ালা পালাল ব্যাপারটা ছেড়ে। ততক্ষণে আধঘণ্টা সময় বয়ে গেছে বি টি রোডের সামনে দিয়ে। অতঃপর কিংকর্তব্য? নাকের পাটা ফুলিয়ে শাঁটুল রাস্তার দু’পাশে। তারপর শ্যামবাজারের জনারণ্যে সোহিনীকে খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেল কাশী মিত্তির ঘাটে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }