Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধেক মানবী – ১১

    ১১

    মেজমামা জঙ্গীপুরের শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে এলেন একটু তাড়াতাড়ি। ভন্তুর ফ্ল্যাট বানানোর কাজ পড়ে আছে, সে বেশিদিন কলকাতার বাইরে থাকতে পারবে না। ভন্তুকে চলে আসতে হলো বলেই মেজমামা আর সেখানে রইলেন না। কলকাতা ছুঁয়ে তিনি আবার যাবেন পুরুলিয়ায়। সেখানকার এক আদিবাসীদের গ্রামে ওঁর কোনো বন্ধুর সোস্যাল ওয়েলফেয়ার প্রজেক্ট আছে, সেই গ্রামে থাকবেন কয়েকদিন।

    সকালবেলা চায়ের টেবিলে মেজমামা বলল, বুঝলে ছোড়দি, এবার একটা টেস্ট কেস করলাম। তোমাদের এখানে সুটকেসটা রেখে শুধু একটা হ্যাণ্ডব্যাগ নিয়ে মুর্শিদাবাদ গেছি বলে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা খুব হতাশ!

    মা বললেন, কেন, কী হয়েছে?

    মেজমামা বললেন, অন্যবার আমার বউ সঙ্গে থাকে। তার কী রকম খরচের হাত তুমি জান না। এত রোজগার করি, তবু আমাকে ফতুর করে দেয়। প্রত্যেকবার দেশে আসবার সময় নিজের গাদা-গুচ্ছের ভাই-বোন, মা-বাবা, পিসি-মাসি, বাড়ির রাঁধুনি, রাখাল এদের জন্য শাড়ি, জামা, ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, পারফিউম, কলম, স্নো-পাউডার এইসব হাবিজাবি জিনিস নিয়ে আসে। আমার শ্বশুর বিরাশি বছরের বুড়ো, চোখে ভালো দেখতে পায় না, চিরকাল হাতের কর গুনে গুনে টাকাপয়সার হিসেব করেছে, গতবার তাকে এনে দিয়েছে একটা ক্যালকুলেটার। বুঝে দ্যাখো! সেই অন্ধ ঐ ক্যালকুলেটার দিয়ে কী করবে?

    মা বললেন, তোর কথাবার্তার কি ছিরি রে পিন্টু! শ্বশুর সম্পর্কে কেউ ঐভাবে বলে? তিনি অতি ভালোমানুষ।

    মেজমামা বললেন, আহা, ভালোমানুষরা বুঝি বুড়ো হয় না? অন্ধ হতে পারে না? আরও মজার কথা শোনো! আমার টাকার শ্রাদ্ধ করে তোমার বৌমা এত লিপস্টিক আর পারফিউম আর স্নো-পমেটম আনে, যে শেষ পর্যন্ত সেগুলো গড়াগড়ি যায়। ঐ গ্রামদেশে কে লিপস্টিক মাখবে বলো তো? চতুর্দিকে গোবরের গন্ধ, তার মধ্যে ফ্রেঞ্চ পারফিউম মাখারই বা কী দরকার? গোবরের গন্ধই তো অতি চমৎকার!

    বৌদি যেন সত্যি সত্যি গোবরের গন্ধ পাচ্ছে, এইভাবে নাকে আঁচল চাপা দিল।

    মেজমামা বললেন, গতবারেই একদিন দেখি, ও-বাড়ির বুড়ি রাঁধুনিটা ঠোটে রং মেখে বসে আছে একদিন। আর বাড়ির রাখালটা হেঁটো ধুতি ছেড়ে একটা সুইমিং ট্রাকসুট পরে গরু চরাতে যাচ্ছে। একে কালচারাল পলিউশান বলে না? বাজে জিনিস দিয়ে গ্রামের লোকের স্বভাব নষ্ট করা! তাই এবার কিছু আনিনি। সব ফক্কা।

    মা বললেন, কিচ্ছু আনিস নি? শাশুড়ির জন্য অন্তত একখানা শাড়ি?

    মেজমামা বললেন, কেন আনব? তুমি আমার নিজের ছোড়দি, তোমার জন্য শাড়ি দেবার কথা মনে থাকে না তোমার বৌমার, আর নিজের মায়ের জন্য, ভাইয়ের বৌ আর বাপের বাড়ির চৌদ্দগুষ্ঠির জন্য গুচ্ছের দেওয়া চাই। সেইজন্য এবার বলেছি, নাথিং ডুয়িং! আমি কিছু নেব না। তুমি নিজে যখন যাবে, তখন যা খুশি নিতে পার, কিন্তু আমি শ্বশুরবাড়ির জন্য মোট বইব না, ব্যাস, অমনি দুনিয়াটা কত পাল্টে গেল! অন্যান্যবার শ্বশুরবাড়িতে কত খাতির পাই, চব্য-চোষ্য—লেহ্য-পেয় কিছুই বন্ধ থাকে না। এবার থার্ড দিন থেকেই দেখি সকালে চায়ের সঙ্গে আর টা দেয় না! খালি পেটে শুধু চা। একখানা বিস্কুট পর্যন্ত না!

    একখানা বেশ দম-ফাটানো হাসি দিয়ে মেজমামা আবার বললেন, কয়েকটা দিন ওদের খুব সাসপেন্সে রেখেছিলুম। সবাই ভাবছে, আমি বুঝি মজা করছি। জিনিসগুলো অন্য কোথাও লুকানো আছে। সবাই আমার মুখের দিকে কী পাব, কী পাব বলে তাকায়। কেউ কেউ আবার মনে করিয়ে দেয়, সিঙ্গাপুরের সিল্ক খুব ভালো, ঘড়ি শস্তা। আমার এক শালী তো জিজ্ঞেস করে ফেলল, দিদি কোনো চিঠি দেয়নি? আসলে দিদির জন্য কেউ ব্যস্ত নয়। কিন্তু চিঠি থাকলেই তার মধ্যে জিনিসপত্রের উল্লেখ থাকবে। কার জন্য কোনটা পাঠানো হলো, সব লিখে দেয়। এবারে খুব ঠকিয়েছি।

    আমি বললুম, আপনিও তো ঠকেছেন! খাতির কম পেয়েছেন!

    মেজমামা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বললেন, আরে যা যা। খাতিরের চেয়েও মানুষের ব্যবহার দেখে আমি মজা পাই বেশি। ফরেন জিনিস পায়নি বলেই সবার মুখ ভার হয়ে গেল। অথচ ওদের কিন্তু কোনো জিনিসের অভাব নেই। রবীন্দ্রনাথ লিখে গেছেন, এ জগতে হায় সেই বেশি চায়, যার আছে ভুরি ভুরি।

    বৌদি জিজ্ঞেস করল, সত্যি কিছু আনেননি এবারে, মেজমামা?

    মেজমামা বললেন, কেন, তোমারও লোভ ছিল বুঝি, অলকা?

    বৌদি বলল, বাঃ, লোভ থাকবে না! আপনি আমাদেরও কারুকে কিছু দ্যাননি বলে এ বাড়িতেও আপনার খাতির কমে গেছে খানিকটা তা লক্ষ করেননি?

    মেজমামা বললেন, হুঁ, লক্ষ করেছি বটে। প্রথম দিন খাওয়ালে ইলিশ মাছ যত খুশি আর সন্দেশ। পরের দিন কাটাপোনা মাত্র দু’ পীস। তার পরের দিন ছোট ট্যাংরা। এবারে কি ময়দানে গিয়ে ফড়িং ধরে ধরে খেতে হবে!

    মা বললেন, পিন্টুর যত সব অলক্ষুণে কথা! তুই নিজেই তো বলেছিলি ছোট ট্যাংরা মাছ তুই খুব পছন্দ করিস!

    মেজমামা বললেন, যাই বলো, ছোড়দি, অলকার ব্যবহার একটু একটু বদলে গিয়েছিল ঠিকই, অলকা বোধহয় আশা করেছিল সিল্কের শাড়ি পাবে! এবারে চুঁ, ঢুঁ! আর এই নীলুটা, তুইও কিছু আশা করেছিলি নিশ্চয়ই। কী নিমকহারাম রে তুই, তোর একটা চাকরি জুটিয়ে দিলুম, তবু তুই আমাকে একদিনও খাওয়ালি না?

    আমি বললুম, এখনো মাইনে পাইনি, মেজমামা! ট্রাম বাস ভাড়া পর্যন্ত ধার করতে হয়!

    মেজমামা বললেন, পয়লা তারিখ আসেনি বুঝি? তারিখের হিসেব নেই। ঠিক আছে, পয়লা পর্যন্ত আমি এখানেই থেকে যাব। সেদিন বাড়িতে একটা বিরাট খ্যাটের ব্যবস্থা করতে হবে। বুঝলি! কয়েকজনকে ডাকতে হবে। সুরঞ্জন তো আসবেই। আর নির্মল আর রথীনকেও ডাকব। ও ব্যাটারা বলেছিল না, চাকরি জোটানো এখন অসম্ভব! ওদের দেখিয়ে দিতে হবে।

    মা বললেন, হ্যাঁ, নীলু প্রথম মাইনে পেলে কিছু লোকজনকে খাওয়াতে হবে। আর সেদিন একটা পুজো দিয়ে আসতে হবে কালীঘাটে।

    মেজমামা বললেন, কালীপুজোও মাইনে পাবার পর! ওটা বুঝি ধারে দেওয়া যেত না! নাকি মা কালীকে আস্ত পাঁঠা খাওয়াবে!

    মা ধমকে বললেন, ছিঃ পিন্টু!

    আমি বললুম, মেজমামা, আমার ঘরে আপনি যে সুটকেসটা রেখে গেছেন, সেটা অত ভারি কেন?

    দড়াম করে চেয়ারটা ঘুরিয়ে মেজমামা বললেন, অ্যাঁ! তুই সেটা খোলার চেষ্টা করেছিলি নাকি? তালা ভেঙেছিস?

    আমি হেসে বললুম, সেসব কিছুই করিনি। আমার খাটটা একবার সরাতে হয়েছিল, তাই ওটাকেও সরাতে হয়েছিল। ভেতর থেকে চকলেটের গন্ধ বেরুচ্ছিল।

    —চকলেট? চকলেটগুলো এখনো বার করিনি? অনেক কেক-মেকও এনেছিলুম যে, সেইগুলো এই গরমে গলে গেল বোধহয়! যা লোডশেডিং-এর ধাক্কা!

    —তুমি এবার কিপ্টের মতন কিছু বার করোনি।

    —নিয়ে আয়, নিয়ে আয়, সুটকেসটা শিগগির নিয়ে আয়।

    অত বড় সুটকেসটা টেনে এনে টেবিলের ওপর তুলতে আমার ঘাম ছুটে গেল। এই সব ভারি সুটকেস নিয়ে অন্য লোকেরা বিভিন্ন এয়ারপোর্ট দাবড়ে বেড়ায় কী করে? যারা বিদেশে ঘোরাঘুরি করে, তাদের রীতিমত কব্জির জোর দরকার! মেজমামা পাঞ্জাবির পকেট থেকে চাবি বার করে সুটকেসটা খুলতেই যেন চিচিং ফাঁক-এর মতন একটা ব্যাপার হয়ে গেল।

    থরে থরে উপহার দ্রব্য সাজান তার মধ্যে। শাড়ি-শার্ট-প্যান্ট-পারফিউম ইত্যাদি। ওপর দিকে চকলেট কেকের কয়েকটা প্যাকেট, সেগুলো গলে চেপ্টে অন্য জিনিসের সঙ্গে মাখামাখি হয়ে গেছে।

    মা বললেন, ইস কী করেছিস, পিন্টু! সুটকেসটা খুলিসনি একবারও!

    মেজমামা বললেন, হ্যাণ্ডব্যাগেই জামাকাপড় ছিল, তাতেই কাজ চলে যাচ্ছিল। আরও খুলিনি কেন জান, ছোড়দি? দ্যাখ, আমার বউটা সব জিনিসের ওপর কে কোনটা পাবে নাম লিখে লিখে পিন দিয়ে সেঁটে দিয়েছে। তোমার নামে আর অলকার নামে যদি কিছু না পাঠিয়ে থাকে, তা হলে কি লজ্জার কথা বলো তো!

    মা বললেন, আহা, আমাদের জন্য আবার প্রত্যেকবার জিনিস আনতে হবে কেন? আগে দু’-তিনবার তো দিয়েছে। মোটেই আমাদের জন্য আর কিছু আনতে হবে না।

    মেজমামা বললেন, এরকম কথা ভদ্রতা করে সবাই বলে। আমি চলে গেলেই তুমি আর অলকা গুজগুজ করে বলতে, পিন্টুটা তো বটেই, ওর বউটাও এমন হাড় কঞ্জুষ হয়েছে! এতদিন এ বাড়িতে থেকে গেল, একটা কিছু জিনিস আনল না আমাদের জন্য! পিন্টুর শ্বশুরবাড়ির লোকরাই সব কিছু পেল!

    বৌদি বলল, মা এরকম কিছু না বললেও আমি কিন্তু বলতুম, মেজমামা। অন্তত মনে মনে।

    মেজমামা বললেন, এই অলকা সত্যি কথা বলে বলেই তো আমি ওকে পছন্দ করি। তবে এটা বোঝ না, অলকা, আমি আসলে তোমাদের খরচ বাঁচিয়ে দিই। আমার বউ তোমাদের জন্য একটা হাবিজাবি জিনিস পাঠালেই তোমরাও চক্ষুলজ্জায় তার জন্য উল্টে কিছু কিনে দেবে। শুধু শুধু কিছু টাকা গচ্চা!

    মা বললেন, জিনিসগুলো ভন্তুর হাত দিয়ে পাঠিয়ে দে।

    আমি বললুম, এই চকলেটগুলো আর পাঠানো যাবে না। গলেটলে একেবারে যা-তা হয়ে গেছে। এগুলো আমরা খেয়ে নিতে পারি।

    ল্যাতপেতে হয়ে যাওয়া প্যাকেট দুটো সাবধানে তুলে রাখা হলো দুটো প্লেটে। তলাগুলো ছিঁড়ে গলে যাওয়া চকলেট আইসক্রিম মেশামিশি হয়ে লেগে গেছে অনেক জামাকাপড়ে। আমি আঙুল দিয়ে চেঁছে চেঁছে তুলতে লাগলুম সেগুলো।

    তারপর ইউরেকা! ইউরেকা! বলে চেঁচিয়ে উঠলুম।

    একটা সোনালি রঙের শাড়ির ওপর লেখা রয়েছে ‘অলকার জন্য’।

    শাড়িটা তুলে ধরে বললুম, বৌদি, তোমার জিনিস এসে গেছে! তোমার জন্য শাড়ি!

    মেজমামা বললেন, এঃ, চকলেট লেগে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এ শাড়ি কি আর কারুকে দেওয়া যায়? ছিঃ!

    বৌদি বলল, ও কিছু হবে না, একটু জল দিয়ে ঘষলেই উঠে যাবে। দাগ পড়বে না। রংটা কি ভালো!

    মা বললেন, দেখি, দেখি! বাঃ শাড়িটার জমি কত ভালো। ওদেশে এত ভালো শাড়ি পাওয়া যায়? ওখানে মেয়েরা কি শাড়ি পরে?

    মেজমামা বললেন, ওখানে সব পাওয়া যায়। ইণ্ডিয়ান কম নাকি? জান ছোড়দি, ওখানে সেরাঙ্গুন নামে একটা রাস্তা আছে, সেখানে গেলে তোমার মনে হবে, তুমি ইণ্ডিয়ার কোনো শহরে ঢুকে পড়েছ। সব ইণ্ডিয়ানদের দোকান, শাড়ি পরা মহিলারা ঘুরছে, দাড়িওয়ালা শিখ শুয়ে আছে রাস্তায় খাটিয়ে পেতে। মার্কেট স্ট্রিট, ট্যাঙ্ক রোড এসব জায়গাতেও অনেক ভারতীয় আছে। থাইল্যাণ্ড, মালয়েশিয়া থেকে ভালো ভালো সিল্কের শাড়ি আসে।

    আমি এসব শুনছি না, সুটকেস ঘাঁটাঘাঁটি করে আমি বৌদির নাম লেখা আর একটা প্যাকেট পেয়ে গেলুম, এটার মধ্যে রয়েছে দামি একটা পারফিউমের শিশি। মেজমামা বললেন, তা হলে অলকা, এবার আর আমাকে আড়ালে গালাগাল দেবে না তো?

    বৌদি লজ্জা-খুশি মাখানো মুখে বলল, এই পয়জন পারফিউমটার জন্য আমার অনেক দিনের শখ ছিল। ইস, এত দাম দিয়ে কেন আনলেন?

    আমি আবার একটা প্যাকেট তুলে চ্যাঁচালুম, দাদার জন্য শার্ট!

    মেজমামা বললেন, তোর জন্য কিছু নেই, নীলু? দ্যাখ দ্যাখ, খুঁজে দ্যাখ! তোর মামী কি তোর কথা ভুলেই গেল?

    আমার জন্যও পাওয়া গেল একটা খুবই ছোট প্যাকেট, তাকে প্যাকেট না বলে প্যাকেটিকা বলা উচিত। তার মধ্যে রয়েছে দুটো শস্তার লাইটার। থ্রো অ্যাওয়ে টাইপ

    মেজমামা বললেন, যাক, তাহলে সবার জন্যই কিছু না কিছু পাওয়া গেল! তুমি একটু চকলেট খাও, ছোড়দি। নীলুটার জন্য খুব কম খরচে সেরেছে। ঠিক আছে, নীলু, তোকে আমার ঘড়িটা দিয়ে যাব। তোর ঘড়ি সেদিন ছিনতাই হয়ে গেল। তুই এটা পরবি।

    —আমার ঘড়ি ছিনতাই হয়নি, সেটা ছিল দাদার ঘড়ি। তুমি দাদাকেই ঘড়িটা দিও।

    –তোর দাদার তো আর একটা ঘড়ি আছে দেখেছি। এটাই তোকে দিলুম।

    —আমায় দিও না, মেজমামা। আমি ঘড়ি পরি না কক্ষনো।

    —কেন ঘড়ি পরিস না?

    —ঘড়ি না থাকলে ছিনতাইবাজদের জব্দ করা যায়। তারা ধারে কাছে ঘেঁষে না। আমার লাইটারই খুব পছন্দ। ঘড়ি নিলেই আমি হারাব।

    মেজমামা নিজের হাত থেকে রোলেক্স ঘড়িটা খুলতে যাচ্ছিলেন, থেমে গিয়ে বললেন, আচ্ছা, থাক তা হলে।

    মা আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। চোখের পাতা সামান্য কাঁপছে। মায়ের ইচ্ছে, ঘড়িটা আমি নিয়ে নিই। নিজের ভাইয়ের চেয়ে নিজের ছেলের প্রতি তাঁর টান বেশি। মা বোধহয় এ-ও ভাবছেন, আমার ছোট ছেলেটা বড্ড বোকা!

    মায়ের দিকে ফিরে মেজমামা বললেন, একি ছোড়দি, তুমি একটুও চকলেট খেলে না? একটু খেয়ে দ্যাখো, ওদেশের চকলেট দারুণ ভালো!

    মা নিরস একটা ছোট্ট হাই তুলে বললেন, নাঃ, আমি ওসব খাব না, তোরা খা। আমি এখন চান করতে যাই।

    মা উঠে দাঁড়াতেই মেজমামা আবার মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে হা-হা-হা-হা করে হেসে মায়ের একটা হাত চেপে ধরলেন।

    তারপর বললেন, ধরা পড়ে গেলে, ছোড়দি, তুমি ধরা পড়ে গেছ!

    মা বললেন, আমি আবার কী করলুম?

    মেজমামা বললেন, এই একটু আগে বললে, কোনো জিনিস-টিনিস চাই’ না। কেন জিনিস আনবি? এখন যেই দেখলে, অন্যদের জন্য আনা হয়েছে, এমনকি তোমার পুত্রবধূও শাড়ি-টাড়ি পেয়েছে, কিন্তু তোমার জন্য কিছু নেই, অমনি তোমার মুখখানা গোমড়া হয়ে গেল! নীলু, অলকা, তোমরা বলো ঠিক কিনা?

    আমি আর বৌদি চোখাচোখি করলুম। মায়ের জন্য কিছু নেই, এই কথাটাই আমাদের দু’জনের মনেও খচখচ করছিল।

    মা বললেন, যাঃ আমি বুড়ো হয়েছি, আমি এখন আর জিনিস নিয়ে কী করব! ওদের জন্য এনেছিস, সে-ই তো যথেষ্ট!

    মেজমামা বললেন, এটাও অভিমানের কথা। তুমি ভাবছ, বয়েস হয়েছে বলে তোমায় বাতিল করে দেওয়া হয়েছে! তাই একটু চকলেট পর্যন্ত মুখে দিলে না!

    সুটকেসের একেবারে তলার দিকে হাত ঢুকিয়ে মেজমামা একটা বড় কাগজের বাক্স তুলে এনে বললেন, দ্যাখো, এটাতে কোনো নাম লেখা নেই। আমি আর কোনো রিস্ক নিইনি। যদি আমার বউটা তোমাকে ফাঁকি দিতে চায়, তাই আমি নিজে এই শাড়িটা তোমার জন্য কিনে এনেছি, ছোড়দি।

    বাস্কটা খুলতেই দেখা গেল, তার মধ্যে রয়েছে একটা গরদ-সিল্কের শাড়ি, বেশ দামি তো বটেই।

    মা আর খুশির চমক লুকোতে পারলেন না। আমি যে ঘড়ি নিইনি, সেই দুঃখ পর্যন্ত ভুলে গিয়ে বললেন, ইস, দেখেছ, শুধু শুধু আমার জন্য এত টাকার জিনিস…তুই বউয়ের নামে বড্ড বদনাম করিস, পিন্টু! এটা নিশ্চয়ই টুলু নিজে পছন্দ করে কিনেছে! ছেলেরা এরকম কিনতে পারে না!

    বৌদি বলল, মায়ের শাড়িটা সবচেয়ে ভালো।

    মেজমামা বললেন, হিংসে করো না, হিংসে করো না।

    বৌদি বলল, একটু-আধটু হিংসে করা স্বাস্থ্যকর ব্যাপার। মায়েরটা সবচেয়ে ভালো, সে কথা বলতে পারব না? কিন্তু আপনি খুব অদ্ভুত মানুষ মেজমামা! এগুলো সব বাক্সবন্দী করে রেখেছিলেন এতদিন! পরশুদিন একটা বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলুম, এই শাড়িটা আগে পেলে সেদিন পরে যেতে পারতুম। সবাই দেখত।

    মেজমামা এক টুকরো চকলেটে কামড় দিয়ে বললেন, সাসপেন্সে রাখলে চমকটা বেশি হয়। সেই খুশির ভাবটা আমার দেখতে ভালো লাগে। নীলুর জিনিস ‘একটু কম হয়ে গেল, কিন্তু নীলুকে আর একটা কত বড় উপহার আমি এবার দিয়েছি, সেটা বলো? নীলুর চাকরিটা!

    মা এবার আন্তরিকভাবে বললেন, তুই এবার কিছু না আনলেও কোনো কিছুই মনে করতুম না রে পিন্টু! কিন্তু তুই এটা যা উপকার করে গেলি…নীলু যে কোনোদিন চাকরি পাবে, সে আশাই তো ছেড়ে দিয়েছিলুম প্রায়!

    আমার দিকে খানিকটা গর্ব-মেশানো দৃষ্টিতে তাকিয়ে মেজমামা বললেন, এবারে এসে আমিও বড় আনন্দ পেয়ে গেলুম গো! তোমাকে বড় মুখ করে বলেছিলুম, কিন্তু দু’জন অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফিরিয়ে দেবার পর….তোমার ছেলে নিজের মেরিটে চাকরি পেয়েছে, শেষ পর্যন্ত কারুকে ধরাধরি করতে হয়নি, সুরঞ্জনের কাছে গিয়ে আমরা চাকরির কথা উচ্চারণও করিনি। চাকরিটা যেন নীলুর জন্য আকাশ থেকে পড়ল, জাস্ট লাইক ওআইল্ড ফল! মাইনেটাও মোটামুটি মন্দ নয়।

    মা বললেন, এখন ভালোয় ভালোয় চাকরিটা পাকা হয়ে গেলেই হয়।

    মেজমামা বললেন, তার জন্য কোনো চিন্তা নেই। পাকা হয়েই গেছে ধরে নিতে পার। তোমার ছেলে খুব মন দিয়ে কাজ করছে। সুরঞ্জন খুব প্রশংসা করছিল। ওদের বম্বের হেড অফিস থেকে গ্যাডগিল নামে খুব এক বড় সাহেব এসেছিল, সে পর্যন্ত নীলুর পিঠ চাপড়ে গেছে!

    বৌদি বলল, নীলুও মন দিয়ে চাকরি করতে পারে? শুনতে কেমন যেন লাগে! পৃথিবীতে কোনো কিছুই তা হলে অসম্ভব নয়!

    আর একখানা চকলেট মুখে পুরে মেজমামা বললেন, পয়লা তারিখ তবে কবে পড়ছে? শনিবার? খুব ভালো দিন। একটা জমপেশ খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে সেদিন। তোমরা কাকে কাকে ডাকবে লিস্ট করে ফেল। আমার কয়েকজন বন্ধুকে বলতে হবে, সুরঞ্জন তো থাকবেই, নির্মল আর রথীনকে ডেকেও আচ্ছা করে খাওয়াব…চিংড়িমাছ যদি পাওয়া যায়…

    মা আর মেজমামা মুখে মুখে নেমন্তন্নের লিস্ট আর খাদ্যতালিকা বানাতে লাগলেন। আমি উঠে পড়লুম সেখান থেকে

    চাকরির প্রসঙ্গ আসতেই নীলার কথা দারুণভাবে মনের মধ্যে তোলপাড় করছে। নীলা কোথায়? তিনদিন তার দেখা পাইনি। একটা আকস্মিক বদখৎ ঝড় আমাদের আলাদা করে দিয়েছে।

    আর কি কোনোদিন নীলার দেখা পাব না? এই চাকরির খাঁচায় বন্দী হয়ে থাকব সারা জীবন?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025
    Our Picks

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }