Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধেক মানবী – ৯

    ৯

    সারারাত ঘুম এল না কিছুতেই।

    শুধু চোখের সামনে নীলাকে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এ রক্তমাংসের জীবন্ত নীলা নয়, আমার ঘরে সে কখনো আসেনি। অন্ধকারের মধ্যে ভেসে উঠেছে তার ছবি, সে হাসছে, কথা বলছে, মিলিয়ে যাচ্ছে হঠাৎ হঠাৎ।

    কে ঐ নীল শাড়ি পরা মেয়েটি? যখন সে সত্যি সত্যি আসে, তাকে স্পর্শ করি, তখন বেশি প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে না, মনে হয়, তার উপস্থিতি খুব স্বাভাবিক, সে শুধু আমারই জন্য আসে। তাকে অন্য লোকরাও দেখতে পায়, একবালপুরের গুণ্ডা দুটো বলেছিল, মেয়েটা কোথায় গেল?

    মাথার মধ্যে যখন চিড়িক চিড়িক ব্যথাটা বেশ বেড়ে যায়, তখনই নীলা আসে। কিন্তু এই ব্যথাটা কখন কোথায় শুরু হবে, তার ঠিক নেই। ব্যথাটা আমি সৃষ্টি করতে পারি না। তাই ইচ্ছেমতন যে-কোনো সময় তাকে ডাকা যায় না।

    নীলা বার বার বলে, আমাকে যেতে দিও না, আমাকে পরিপূর্ণ করো! এর মানে বুঝতে পারি না। আমিই কি তাকে নির্মাণ করছি? তাকে পুরোপুরি নির্মাণ করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি একটু উচ্ছল হয়ে উঠলেই ও আর থাকতে পারে না।

    কতখানি তীব্র একাগ্রতায় এমন একজন নারীকে সম্পূর্ণভাবে ধরে রাখা যায়?

    দু’দিন ধরে আমার আর কিছু ভালো লাগছে না।

    নীলার মতন একটি মেয়ে আমার কাছে স্বেচ্ছায় আসে, আমার দুঃখের সে ভাগ নিতে চায়, অপমানের সময় সে সান্ত্বনা দেয়, এরকম সৌভাগ্য কজনের হয়? আবার সে কোথায় থাকে তা জানি না, ইচ্ছে করলেও আমি তার সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারি না, এও যে চরম কষ্টকর!

    নীলা যে বলল, সে দিকশূন্যপুরে থাকে, কাছাকাছি দিকশূন্যপুর তৈরি হয়েছে, তা কি ইয়ার্কি? আমি অনেকদিন দিকশূন্যপুরে যাইনি। সে জায়গাটার জন্য আমার মন কেমন করে!

    জানলার বাইরে একটা চিলের ডাক শোনা গেল। প্রত্যেকদিন ঐ চিলটার ডাকে আমার ভোর সূচিত হয়, ছাদের কার্নিসে এসে বসে।

    এখন আর ঘুমোবার চেষ্টা করারও কোনো মানে হয় না।

    রাস্তায় খবরের কাগজের হকাররা সাইকেলের বেল বাজিয়ে ছুটছে। ঠিকে—`ঝি দরজায় ধাক্কা দিতে আমিই গিয়ে খুলে দিলুম।

    মা কিংবা দাদা-বৌদি এখনো জাগেনি। ভোরের নরম আলো গায়ে মাখবার জন্য আমি দাঁড়ালুম গিয়ে বারান্দায়। হাফপ্যান্ট আর কেডস পরে অনেক প্রৌঢ় মর্নিংওয়াকে বেরিয়েছে, কোমরের বেড় কমাবার জন্য কেউ কেউ ছুটছে।

    এ দৃশ্য আমার ভালো লাগে না। ছাদটা বরং আকর্ষণীয়। মা অনেকগুলো ফুলগাছের টব বসিয়েছেন। টবের গাছ আমার তেমন পছন্দ নয়, কিন্তু মধুর অভাবে গুড়। গাছের পাতায় যে ভোরের শিশির লেগে থাকে, সেগুলো আঙুলে তুলে ঠোটে লাগালে বেশ একটা প্রকৃতিকে চুমু খাওয়ার স্বাদ পাওয়া যায়। অবশ্য শিশির পড়ে শীতকালে। এখন পাতাগুলো ভেজেনি।

    ছাদের দরজাটা বন্ধ করে দিলুম। এখানে আমি সম্পূর্ণ একা। এখন নীলা আসতে পারে না? সেই এক বৃষ্টির রাতে যেমন এসেছিল?

    আমি গুনগুন করে বলতে লাগলুম, নীলা, এসো, নীলা, এসো…।

    ফুরফুরে হাওয়ায় এত আরাম লাগছে, মাথার মধ্যে একটুও ব্যথা নেই!

    আমি সারা ছাদ ঘুরে ঘুরে ডাকতে লাগলুম নীলা, এসো, নীলা, একবার এসো, একটুক্ষণের জন্য।

    কোনো সাড়া নেই। কোথায় নীলা? কোনো পাত্তা নেই।

    রোদ্দুর চড়া হবার পর নেমে এলুম ছাদ থেকে।

    চা তৈরি হয়ে গেছে। আমার দিকে এক কাপ এগিয়ে দিয়ে বৌদি জিজ্ঞেস করল, তুমি বুঝি ছাদে গান গাইতে যাও?

    আমি বললুম, না, ধ্যান করি।

    বৌদি এমন একটা চোখের ভঙ্গি করল, যেন এরকম অসম্ভব কথা সে কখনো শোনেনি! অথচ আমি খাঁটি সত্যি কথাই বলেছি, সত্যের কি হেনস্থা!

    বৌদি আবার জিজ্ঞেস করল, আজ তো তোমার ছুটি। তোমার দাদা বলছিল, আজ তুমি বাজার করে আনবে, না ও যাবে?

    আমাকে এখন সকাল আটটার মধ্যে অফিসে বেরুতে হয় বলে বাজার করার দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছি। বাড়ির অন্যান্য কাজের জন্যও এখন আর যখন তখন কেউ আমাকে হুকুম করে না। ঠিকে-ঝির মাইনে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সে সকালের দুধ নিয়ে আসে। কেরোসিন কিংবা চিনি সে যোগাড় করে। বাড়ির চাকরগিরি করার বদলে আমি এখন এক ওষুধ কোম্পানির চাকর হয়েছি, তাই বাড়িতে খাতির বেড়ে গেছে। যদিও এখনো এক মাসের মাইনেও পাইনি, তবু সেই সম্ভাবনাতেই বৌদি টাকা ধার দেয়।

    দাদা একদিন জিজ্ঞেস করছিল, হ্যাঁরে নীলু, তোরা অফিস থেকে বিনা পয়সায় ওষুধ পাস না? তোদের কোম্পানি ভালো আয়রন টনিক বানায়। আমার পেটের গোলমালটা কিছুতে যাচ্ছে না, মাসে তিরিশ-পঁয়তিরিশ টাকার ওষুধ কিনতে হয়!

    আমি বলেছিলুম, না, কারুক্কে কিছু নিতে দেয় না।

    দাদা বলেছিল, কমিশনে তো অন্তত পেতে পারিস? খোঁজ নিয়ে দ্যাখ, নিশ্চয়ই অনেকেই নেয়।

    বৌদি বলেছিল, নীলু মুখ ফুটে কারুকে কিছু বলতেই পারবে না। ও যা মুখচোরা!

    পঁয়তিরিশ টাকার ওষুধের কত কমিশন হতে পারে? আমি যদি বলতুম, একগোছা টাকা আমি খামসুদ্ধ জলে ফেলে দিয়েছি, তা হলে দাদা-বৌদির মুখের চেহারা কীরকম হতো?

    অফিসের পার্টিতে দাদা ড্রিংক করে, মাঝেমধ্যে বাড়িতেও হুইস্কির বোতল কিনে আনে। শস্তা বোতলের দামও আশি-নব্বই টাকা। বিনা পয়সায় স্কচ পাবার সম্ভাবনা দেখলে কি দাদা ছাড়ত?

    দাদা নিউজ এজেন্সিতে কাজ করে। সে অফিসে ঘুষ পাবার কোনোরকম সুযোগই নেই। দাদা তাই ঘুষের বিরুদ্ধে প্রায়ই বক্তৃতা দেয়।

    অনেকটা দয়া করার ভঙ্গিতে বৌদিকে বললুম, ঠিক আছে, দাও আমিই আজ বাজার করে দিচ্ছি!

    মায়ের জন্য নিমপাতা আর চালতা, বৌদির জন্য মোচা, আর দাদার জন্য চিংড়িমাছের মুড়ো, এই তিনটে জিনিস আনতেই হবে। আমাদের মতন পরিবারে গলদা চিংড়ি খাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না, তবে শুধু মুড়ো এক একদিন বেশ শস্তায় পাওয়া যায়। মাছগুলো চলে যায় সাহেবদের দেশে। ভাগ্যিস বোকা সাহেবগুলো এখনো গলদা চিংড়ির মুড়োভাজা খেতে শেখেনি!

    বাজার করতে আমার খারাপ লাগে না, কিন্তু আজ কোনো উৎসাহ পাচ্ছি না। কয়েকদিন বৃষ্টি হয়নি, তবু বাজারের মধ্যে জল প্যাচপ্যাচ করছে, মাছের বাজারটার মুখে নোংরা জলের মধ্যে মধ্যে ইঁট পেতে রেখেছে। কেউ কোনো আপত্তি বা প্রতিবাদ করে না। একটা লোক আমাকে ধাক্কা দিতেই নোংরার মধ্যে পা পড়ে গেল!

    লোকটা ভিড়ের মধ্যে মিশে গেল টপ করে। সুযোগও দিল না প্ৰতিশোধ নেবার। শুধু চটি না, প্যান্টেও কাদা লেগেছে।

    সব কিছুর আজ আগুন দাম। ট্যাংরা মাছ ষাট টাকা, কুচো চিংড়ি পঁয়তিরিশ। পার্শে মাছ পঞ্চাশ, গলদার মুড়ো আসেনি। এইসব দিনে অ্যামেরিকান পোনা ছাড়া গতি নেই, যদিও দাদা এই পেটমোটা মাছ দু’চক্ষে দেখতে পারে না।

    ছুটির দিনে বাজারের বাজেট পঁচিশ, অন্যদিন কুড়ি। এখনো বলতে গেলে একা দাদার উপার্জনেই সংসার চলছে, বৌদির মাইনে সামান্য। এর বেশি খরচ করার উপায় নেই। কিন্তু এই টাকাতে কিছুই প্রায় কেনা যায় না। মাত্র কয়েক বছর আগে বাবা দশ টাকাতে কত কী কিনে আনতেন!

    ছোট সাইজের অ্যামেরিকান পোনা কুড়ি টাকা কিলো, একটার ওজন হলো পাঁচশো। মাছটা থলিতে নেবার পর আমি মাছওয়ালার দিকে কুড়ি টাকার একটা নোট বাড়িয়ে দিলুম।

    সে লোকটা একটা চটের নীচে ঢুকিয়ে দিয়ে, কী ভেবে আবার বার করে আনল। সেটা চোখের সামনে তুলে ভালো করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে সে বলল, দাদা, এটা তো চলবে না। এটা জাল!

    আমি চমকে গিয়ে বললুম, জাল?

    মাছওয়ালা বলল, এই দেখুন না। জলছাপ নেই। মাঝখানটায় জোড়া।

    নোটটা নিজের হাতে নিয়ে দেখলুম, সত্যিই সেটাতে জলছাপ নেই, মাঝখানটায় আঠা দিয়ে জোড়া হয়েছে। একটা অতি বাজে ধরনের জালি নোট।

    আমি বললুম, যাঃ!

    ঐ যাঃ বলাটাই আমার কাল হলো। আমার কাছে আর মাত্র পাঁচ টাকা আছে, বাজার করা হবে না, আবার বাড়ি ফিরে যেতে হবে, এইসব দ্রুত চিন্তায় আমার মুখ দিয়ে ঐ অসাবধান উক্তি বেরিয়ে এল।

    কেননা পরের মুহূর্তেই বুঝলুম, কোথাও কিছু একটা ভুল হয়ে যাচ্ছে। এই নোটটা আমি দিইনি। আমার টাকাটা ছিল অপেক্ষাকৃত নতুন, সেটা দু ভাঁজ ছিল, এটা চার ভাঁজ। সব টাকাই এক এক টুকরো কাগজ, তবু হাতে নিলে দুটো নোটের তফাৎ বোঝা যায়।

    মাছওয়ালা বলল, কেউ আপনাকে গছিয়ে দিয়েছে! একদম দু’নম্বরি!

    আমি বললুম, এটা তো আমার নোট নয়। আমি এটা দিইনি ভাই তোমাকে।

    —বাঃ, এই মাত্তর দিলেন!

    –না, না, অন্য নোট দিয়েছি। তুমি তোমার ওখানটায় দ্যাখ।

    —এই দেখুন, আমার এখানে আর কুড়ি টাকার নোটই নেই। আমি দেখে শুনে এইরকম নোট নেবো? আর একখানা দিন।

    —আর একখানা নেই আমার কাছে। আমি বলছি, আমি ভালো নোট দিয়েছি!

    সে লোকটি পাশের এক মাছউলির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, তুমি দ্যাখনি, এই বাবু একটা কুড়ি টাকার নোট দিলেন! আমার কাছে এই একখানাই মাত্তর কুড়ি টাকা। অথচ উনি বলছেন, উনি দ্যাননি!

    মাছউলি ভালোমানুষের মতন মুখ করে বলল, হ্যাঁ, দেখলাম তো!

    আমি এবার ঝাঁঝের সঙ্গে বলে উঠলুম, দেখবে মানে, কী দেখবে? আমি একটা নতুন কুড়ি টাকার নোট দিয়েছি!

    –না, আপনি দ্যান নি।

    —হ্যাঁ দিয়েছি।

    অন্য পাশ থেকে আর একজন মাছওয়ালা নোটটি দেখে আমার দিকে আবার বাড়িয়ে দিয়ে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল, এ কী চালাতে এসেছেন, দাদা? এই ভূষিমাল কখনো চলে?

    রাগে আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত জ্বলে যাচ্ছে। এরা আমাকে ভেবেছেটা কি? আমি গোছা গোছা পঞ্চাশ টাকার নোট কচুরিপানা ভর্তি জলে ফেলে দিয়েছি, সেই আমাকে মাত্র কুড়ি টাকার জন্য অবিশ্বাস? পৃথিবীটা কী হয়ে যাচ্ছে দিন দিন!

    মাছওয়ালা হাত বাড়িয়ে আমার থলে থেকে মাছটা তুলে নেবার চেষ্টা করতেই আমি গর্জন করে বললুম, খবর্দার, হাত দেবে না!

    লোকটি গলা তুলে বলল, আপনাকে মিনিমাগনায় মাছ দেব নাকি?

    চ্যাঁচামেচিতে খানিক ভিড় জমে গেছে। কিন্তু আমি কিছুতেই ছাড়তে রাজি নই। কেউ একজন বিদ্রূপ করে বলে উঠল, ভ্যাজাল নোট চালাতে গেলে জেল হয়ে যায়!

    আমি মুখ ফিরিয়ে তাকে কিছু বলতে যেতেই দেখি পাশে দাঁড়িয়ে আছে নীলা!

    আমার সমস্ত রাগ উবে গেল এক মুহূর্তে। আমি স্থির চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইলুম। আমার মাথায় তো কোনো যন্ত্রণা হয়নি, তবু নীলা এসেছে?

    নীলা মৃদু গলায় বলল, চল।

    আমি কাতরভাবে বললুম, দ্যাখ, এরা আমাকে ঠকাচ্ছে!

    মাছওয়ালা নীলাকে বলল, দেখুন তো দিদি, আমার কী দোষ! উনি কোথা থেকে একটা জালি টাকা নিয়ে এসেছেন!

    নীলা বলল, ঠিক আছে। কোনো একজনের ভুল হয়েছে নিশ্চয়ই। আপনার কিংবা ওর।

    আমি বললুম, আমার ভুল হয়নি।

    নীলা আমার বাহু ছুঁয়ে বলল, মাছ কিনতে হবে না, চলো।

    আমি থলি উপুড় করে ঢেলে দিলুম মাছটা। নোটটা ছুঁড়ে দিলুম লোকটার দিকে। তারপর নীলার সঙ্গে বেরিয়ে এলুম সেই ভিড় থেকে।

    নীলা সলজ্জ ভৎসনার সুরে বলল, তুমি বাজারের লোকজনদের সঙ্গে মারামারি করতে যাচ্ছিলে, নীললোহিত? এ কি তোমাকে মানায়?

    সঙ্গে সঙ্গে দোষ স্বীকার করে নিয়ে আমি বললুম, না, আমার ভুল হয়েছে। ওদের সঙ্গে তর্কে আমি পারতুম না। কিন্তু আমাকে এমনভাবে ঠকাবে কেন? বলো?

    নীলা বলল, ওকে নিশ্চয়ই অন্য কেউ ঠকিয়েছে।

    —তুমি কী করে ওই বাজারের ভিড়ের মধ্যে আমাকে খুঁজে পেলে, নীলা?

    —আমার তবু একটু দেরি হয়ে গেল। আমি সকাল থেকেই তোমার কাছে আসতে চাইছিলুম।

    —তোমার কাছে টাকা আছে, নীলা? আমাকে ধার দেবে? আমার কাছে মাছ কেনার আর টাকা নেই। পকেটে আর মোটে পাঁচ টাকা।

    —আমার কাছেও টাকা নেই। তোমার পাঁচ টাকায় কিছু পাওয়া যাবে না?

    —হ্যাঁ, নিমপাতা, চালতা, মোচা কোনোরকমে হয়ে যেতে পারে। আলু-পেঁয়াজের দোকান আমার চেনা, ওখানে ধারে পেতে পারি। নিরামিষ বাজার হয়ে যাবে। কিন্তু তুমি আমার সঙ্গে বাজারে ঘুরবে? তোমার কষ্ট হবে। এই নোংরা, জল-কাদার মধ্যে!

    —যাঃ, কষ্ট আবার কিসের? অন্য মেয়েরা বুঝি বাজারে আসে না? ঐ তো, আরও দু’-একজনকে দেখছি!

    —কিন্তু তুমি যে অন্য সকলের চেয়ে আলাদা।

    —কিচ্ছু আলাদা নই। চলো, তুমি কী রকম বাজার করো, দেখব। তুমি দরদাম করতে পার?

    —নিমপাতা আর চালতা মোচা কেনার জন্য দরদাম লাগে না।

    বাজারের অনেক লোক ঘুরে ঘুরে নীলাকে দেখছে। কেউ নীলার গায়ে ধাক্কা দেবার চেষ্টা করলে আমি তাকে হাত দিয়ে ঘিরে রাখছি। প্রায় সর্বক্ষণই নীলার শরীরের সামান্য ছোঁয়া লাগছে আমার শরীরে।

    মোচা কেনার সময় আমি একটা ফুল ছিঁড়ে তার গোড়াটা দাঁতে কাটতেই নীলা জিজ্ঞেস করল, ও কি করছ? খাঁচা খাচ্ছ?

    আমি বললুম, তুমি জান না বুঝি? কোনো কোনো মোচা তেতো হয়। সেইজন্য খেয়ে দেখতে হয়।

    নীলা বলল, দেখি দেখি! আমিও একটু খেয়ে দেখি!

    মোচাওয়ালি মেয়েটি বলল, দেখুন দিদি, আপনিও দেখুন। আমি তেতো মোচা বেচি না।

    মাছওয়ালা, মোচাওয়ালি এরা সবাই নীলার সঙ্গে কথা বলছে। নীলা অলীক নয়। এই উপলব্ধি একটা অদ্ভুত আনন্দে যেন আমার দম বন্ধ করে দিচ্ছে।

    আলুওয়ালা ধার দিতে রাজি হয়ে গেল এক কথায়। এক কিলো আলু সে ওজন করে দিচ্ছে, তার থেকে একটা আমি তুলে নিয়ে বদলে দিলুম।

    নীলা জিজ্ঞেস করল, ঐ একটা আলু তুমি শুধু সরিয়ে দিলে কেন?

    আমি বললুম, ঐ আলুটার গা খানিকটা নীল রঙের। মেয়েদের নীল রঙের শাড়িতে মানায়। কিন্তু নীল রঙের আলু ভালো হয় না। যারা ধারে কেনে, আলুওয়ালা তাদের নীল রঙের আলু দেয়।

    আলুওয়ালাটি হেসে বলল, না, না। আমি দেখতে পাইনি।

    আমি বললুম, পেঁয়াজও ধারে দিতে হবে। কিন্তু থ্যাৎলানো পেঁয়াজ তার মধ্যে ঢুকিয়ে দিলে চলবে না।

    নীলা খুব মজা পাচ্ছে। সে তার চম্পকবর্ণ হাতটি মুখে চাপা দিয়ে হাসছে নিঃশব্দে।

    নিমপাতা কেনার পর আর মোটে দশটি পয়সা বাকি রইল। আর একটা দরকারি জিনিস বাদ পড়ে গেছে। কাঁচা লঙ্কা।

    বাজারের বাইরের রাস্তায় এক বুড়িকে বললুম, ওগো, দশ পয়সার কাঁচা লঙ্কা দাও তো?

    বুড়ি মুখঝামটা দিয়ে বলল, দশ পয়সায় হবে না! কাঁচালঙ্কার এখন অনেক দাম!

    কাঁচালঙ্কার এখন যে কত দাম, তা কি আমি জানি না! মাত্র একশো গ্রামের দাম এক টাকা। কিন্তু আমার কাছে যে দশ পয়সার বেশি আর নেই।

    আমি বললুম, দাও না যে কটা হয়।

    পয়সাটা তার কোলের ওপর ফেলে দিতে সে আর আপত্তি করতে পারল না। এই বুড়ির যৌবনে দশ পয়সার কত মূল্য ছিল, তা ভুলে যায়নি নিশ্চয়ই। গজগজ করতে করতে বলল, জিনিসপত্রের দাম এত বাড়ছে, সে কি আমাদের দোষ?

    গোটা সাতেক লঙ্কা তুলে দিল সে। তাও খুব কৃপার সঙ্গে।

    কয়েক পা হেঁটে যাবার পর আমি নীলাকে জিজ্ঞেস করলুম, বাজারে এত লোক থাকতে ঐ মাছওয়ালাটা আমাকেই ঠকাবার জন্য বেছে নিল কেন?

    নীলা বলল, তুমি কুড়ি টাকার শোক ভুলতে পারনি?

    আমি বললুম, শুধু টাকার জন্য নয়। লোকটা আমাকে মিথ্যেবাদী, জোচ্চোর প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছিল। ও আমাকে….

    হঠাৎ থেমে গিয়ে আমি বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইলুম। এতক্ষণ অন্য দিকটা আমি খেয়াল করিনি। মাছওয়ালাটি আজ আমার দারুণ উপকার করেছে।

    আমি বললুম, না, না, না, ও ঠিক করেছে। ভাগ্যিস জাল টাকাটা চালাবার জন্য আমাকেই বেছে নিয়েছিল! ও ওরকমভাবে অপমান না করলে তুমি বাজারে আসতে না, নীলা!

    নীলা বলল, আমি ওর কথা শুনিনি। তুমি আমাকে ডাকছিলে…

    এও আর একটা বিস্ময়। ভোরবেলা ছাদে ঘুরতে ঘুরতে কতবার আকূলভাবে ডেকেছি, তবু নীলা আসেনি। বাজারে আমি নীলাকে ডাকব কেন? তার কথা তখন মনেও পড়েনি। অথচ নীলা আমার ডাক শুনতে পেয়েছে বলছে। গভীরভাবে ডাকারও একটা রহস্য আছে। আমি কখন ডাকি আমি নিজেই তা জানি না।

    আমি ওর হাত ছুঁয়ে বললুম, সেদিন তুমি আকাশ দেখিয়েছিলে। তুমি কি সত্যিই মহাকাশ থেকে আসো?

    মুচকি হেসে নীলা বলল, হতেও পারে। নাও হতে পারে।

    —তুমি কি কল্প-বিজ্ঞানের নায়িকা? কিন্তু তাদের তো পাহাড়ের উপত্যকায় কিংবা খুব নির্জন কোনো জায়গায় দেখতে পাওয়া যায়। বাজারের ভিড়ে, এরকম নোংরা জল-কাদার মধ্যে তো তাদের দেখা পাওয়ার কথা কখনো শোনা যায়নি!

    —আমাকে বিশ্বাস করো, নীললোহিত, আমি যখন তোমার কাছে আসি, তখন পেছনের কোনো কথাই আমার মনে পড়ে না। তখন আমি শুধু তোমাকেই চিনি। অন্য কোনো প্রশ্নও আমার মনে জাগে না।

    —ঠিক বলেছ। আমিও প্রশ্ন করতে চাই না। তুমি যে আসো, দেখা দাও, সেটাই তো দারুণ ব্যাপার। আমার মহাভাগ্য। তুমি এলেই আমার মনটা আতর জলে ধোওয়া হয়ে যায়। তুমি আছ, এটাই যথেষ্ট। ‘তুমি যে তুমিই ওগো, সেই তব ঋণ’! তবু মানুষ তো সব সময় যুক্তি খোঁজে। তাই আমিও জানতে চাই, তুমি আমার কাছেই আসো কেন? আমি তো সেরকম কেউ না। কোনো দিক থেকেই আমার কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। আমার মতন কত ছেলে এই শহরে ফ্যা—ফ্যা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তোমাকে পাবার মতন আমার যে কোনো যোগ্যতাই নেই, নীলা! দেখছ না, আমি কত ব্যাপারে হেরে যাই! আমাকে লোকে ভয় দেখায়, ঠকায়, আমি তাদের বিরুদ্ধে লড়ে যেতে পারি না। আমি সব সময় পালাবার সুযোগ খুঁজি। তোমার মতন মেয়েকে সাধারণত সার্থক পুরুষরাই পায়।

    –আমি তো আর কোনো সার্থক পুরুষকে চিনি না, নীললোহিত।

    —এই কলকাতা শহরের এত পুরুষমানুষের মধ্যে তুমি আর কারুকেই চেন না?

    —না, এখনো চিনি না। চেনা উচিত বুঝি?

    –না, না, সে কথা বলছি না। তুমি শুধু আমাকে চেন। এজন্য গর্বে আমার বুক ফুলে উঠছে। আমার হুর-রে বলে চিৎকার করা উচিত। এই রাস্তার মধ্যে আমার নাচতে, ডিগবাজি খেতে ইচ্ছে করছে!

    —নীললোহিত, এবার আমাকে চলে যেতে হবে। আমার শরীর কাঁপছে।

    —না, এখন যেও না। এত তাড়াতাড়ি…তোমার সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে। যেও না!

    —এই দ্যাখ, আমার শরীরটা কাচের মতন হয়ে যাচ্ছে!

    সত্যিই তো তাই। নীলার হাত দুখানা কাচের মতন স্বচ্ছ হয়ে আসছে। তার মুখখানা প্রিজম-এর মতন, রোদ্দুর পড়ে এমন ঝলসাচ্ছে যে তাকানো যাচ্ছে না! আমি বাজারের থলেটা মাটিতে নামিয়ে রেখে সেই প্রকাশ্য রাস্তায় তার কাঁধ চেপে ধরে বললুম, তোমাকে এখন আমি কিছুতেই যেতে দেব না!

    নীলা ফিসফিস করে বলল, যেতে দিও না, আমাকে জোর করে ধরে রাখ!

    আমি বললুম, তোমার কাচের মতন শরীর ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে না তো?

    নীলা বলল, আমাকে তোমার বুকের মধ্যে মিশিয়ে নাও।

    একটা গাড়ি আমাদের পেছনে এসে হর্ন দিচ্ছে। আমি বললুম, সরব না, কছুতেই সরব না। ছেড়ে দিলেই নীলা এখান থেকে চলে যাবে।

    নীলা বলল, এই দ্যাখ, হাতদুটো আবার ঠিক হয়ে গেছে। চল, ফুটপাথে উঠি।

    বেলা প্রায় সাড়ে আটটা। এখন রাস্তা-ভর্তি মানুষ। অনেকে অবাক হয়ে দেখছে আমাদের। কিন্তু নাগরিক সভ্যতায় কেউ কোনো মন্তব্য করে না।

    ট্রাম রাস্তার কাছে এসে রাস্তা পার হবার জন্য দাঁড়িয়ে আমি বললুম, নীলা, তুমি কাচের মতন স্বচ্ছ হয়ে মিলিয়ে যেতে চাইছিলে, তখন আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল, সে কষ্ট কারুকে বোঝাতে পারব না।

    নীলা বলল, ঠিক আমারও অতখানিই কষ্ট হয়।

    —তুমি সেদিন দিকশূন্যপুরের কথা বলছিলে! দিকশূন্যপুরের কথা তুমি কী করে জানলে? খুব কম লোকেই সে জায়গাটা চেনে।

    —আমি তো দিকশূন্যপুরেই ফিরে যাই।

    –তুমি বললে, এখন কাছাকাছি দিকশূন্যপুর তৈরি হয়েছে! এটা আমার ও জানা ছিল না।

    –তুমি যাবে সেখানে, নীললোহিত?

    –বাঃ যাব না? তুমি আমাকে নিয়ে যাবে বলেছিলে। আজই চলো।

    –ঠিক আছে, তুমি বাজারের থলেটা রেখে এসো।

    –তুমি এর মধ্যে আবার হারিয়ে যাবে না তো? নীলা, তুমি আমার সঙ্গে আমার বাড়ি পর্যন্ত এসো। আমি এক দৌড়ে ওপরে রেখে আসব।

    কলকাতা শহরের ছেলেমেয়েরা হাত-ধরাধরি করে যায় না। কিন্তু গেলেই বা ক্ষতি কি? আমি নীলার হাত ধরে হাঁটতে লাগলুম।

    নীলাকে ওপরেও নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু তা হলে অনেক নীরব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। আমার একজন বান্ধবী এলে মা কিংবা বৌদি ভুরু তুলবে না, কিন্তু নীরব প্রশ্নগুলো গায়ে বিধবে ঠিকই। তাতে নীলা যদি আবার কাচের শরীর হয়ে যায়!

    বাড়ির সামনে এসে বললুম, তুমি এখানে একটু দাঁড়াবে? দু মিনিট!

    নীলা ঘাড় হেলিয়ে বলল, হ্যাঁ।

    আমি নীলার একটা হাত তুলে নিয়ে কড়ে আঙুলের ডগাটা সামান্য কামড়ে দিলুম।

    নীলা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, এটার মানে কি?

    আমি বললুম, তোমাকে একটা গণ্ডি দিয়ে রেখে যাচ্ছি। কেউ তোমার ওপর নজর দিতে পারবে না।

    দু’তিনটে সিঁড়ি লাফিয়ে লাফিয়ে উঠে এলুম ওপরে। দরজাটা হাট করে খোলা। একটা ধপধপে সাদা কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদের ফ্ল্যাটের মধ্যে।

    বৌদিদের ঘরের দরজা বন্ধ। সেখান থেকে বৌদি জিজ্ঞেস করল, কে, নীলু? দ্যাখো, কী সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার! একটা কুকুর ঢুকে পড়েছে!

    আমি হাসতে হাসতে বললুম, এত সুন্দর একটা স্পিৎজ, এটা দেখে ভয় পাচ্ছ! এ কুকুর কামড়ায় না। এটা কোত্থেকে এল?

    বৌদি বলল, জানি না। তুমি ওটাকে তাড়িয়ে দাও প্লিজ। না হলে আমি ঘর থেকে বেরুতে পারব না। সদর দরজা খোলা রেখে গেছে, অমনি এই কুকুরটা ঢুকে পড়েছে!

    —দাদা কোথায়?

    —তোমার দাদা এইমাত্র বেরুল। মা বাথরুমে। আমাকে একা পেয়ে কুকুরটা কামড়ে দিতে এসেছিল।

    –বৌদি, তুমি আর লোক হাসিও না। এইটুকু কুকুরকেও কেউ ভয় পায়! ওরা কামড়ায় না, আদর খেতে ভালোবাসে।

    —তুমি ওকে বার করে দরজা বন্ধ করে দাও আগে!

    কুকুরটা আমার দিকে জুলজুল করে তাকিয়ে লেজ নাড়ছে।

    আমি নীচু হয়ে ওটাকে ধরতে যেতেই ও ভুক ভুক করে দুবার ডেকে দৌড়ে ঢুকে গেল আমার শোবার ঘরে।

    আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। দেরি হয়ে যাচ্ছে—কিন্তু কুকুরটা না তাড়ালে সত্যিই বৌদি বেরুতে পারবে না। দোতলায় ভাড়াটেরা কুকুর পুষছে নাকি?

    আমি আয়, আয়, আয় বলে একটু একটু করে এগোতে লাগলুম ওটার দিকে, সেটাও একটু একটু করে পিছিয়ে ঢুকে গেল খাটের তলায়। যত ডাকি, কিছুতেই আসে না। এইটুকু কুকুরের তেজ আছে, এক একবার দাঁত বার করে ভয় দেখাতে আসে!

    খাটের তলা থেকে কুকুর বার করা সোজা কথা নয়। অন্য ঘর থেকে বৌদি চ্যাঁচাচ্ছে, গ্যাছে? গ্যাছে?

    আমি বললুম, দাঁড়াও, বার করছি, আর একটা লাঠি যদি পাওয়া যেত!

    আজকাল কেউ বাড়িতে লাঠি রাখে না। হাতপাখাও থাকে না। খবরের কাগজ পাকিয়ে ভয় দেখাই, সেটা তবু এক কোণ থেকে অন্য কোণে সরে যায়। এ তো মহা মুশকিল দেখছি!

    এবার কুকুরটার ওপর দারুণ রাগ হচ্ছে। ওকে আর মোটেই সুন্দর বলে মনে হচ্ছে না। কিছু জিনিস দিয়ে খোঁচাখুঁচি করলে স্পিৎজ কুকুরও রেগে যায়। দাঁত আছে, মরীয়া হয়ে কামড়ে দেওয়া আশ্চর্য কিছু না।

    পুরো খাটটাকেই টেনে সরিয়ে আনলুম। এবার আর কুকুরটার কোনো দেয়ালের দিকে গা দেওয়ার উপায় রইল না। উল্টো দিকে গিয়ে তাড়া দিতেই সে এবার ছুটে বেরিয়ে ঢুকল মায়ের ঘরে।

    মায়ের চৌকিটা নীচু। সেটার তলায় সে ঢুকতে পারল না বটে, চতুর্দিকে কয়েক পাক ঘুরে সে একটা বিশ্রী কাণ্ড করল। ঘরের এককোণে মায়ের ছোটখাটো ঠাকুর দেবতার জায়গা, কয়েকটা ছবি ও একটা পেতলের সিংহাসন রয়েছে। কুকুরটা লণ্ডভণ্ড করে দিল সেই জায়গাটা।

    এবার আমি তাকে খবরের কাগজ দিয়ে খুব পেটালুম, সে বেরিয়ে গেল ফ্ল্যাট থেকে। কিন্তু মায়ের ঠাকুরের ছবিটবিতে কুকুর পা দিয়েছে, এটা মাকে জানান উচিত নয়। দ্রুত হাতে গুছিয়ে দিতে লাগলুম সেগুলো। একটা কমণ্ডলু থেকে গঙ্গাজল উল্টে পড়ে গেছে, সে আর কিছু করা যাবে না।

    সব কোনোরকমে সামলে বৌদিকে বললুম, এবার ঠিক আছে। বেরিয়ে সদর বন্ধ করে যাও। আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। ফিরতে দেরি হতে পারে।

    হুড়হুড় করে বন্যার জলের মতন সিঁড়ি দিয়ে প্রায় গড়িয়ে নেমে এলাম নীচে। দরজা থেকে এক লাফে রাস্তায়।

    নীলা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সে জায়গাটা শূন্য। নীলা নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025
    Our Picks

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }