Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶

    অর্ধেক মানবী – ১২

    ১২

    গেটের দু’পাশে দু’জন দারোয়ান বেশ কর্তব্যপরায়ণ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে।

    এদের মধ্যে যে আসল দারোয়ান নয়, সেই ছদ্মবেশী সহদেব পালের ব্যবহারই বেশি বেশি দারোয়ানের মতন। সে আমাকে দেখে একটা স্যালুট দিল জুতো ঠুকে। আগের দিন দেখেছি, সে খৈনী খাওয়াও রপ্ত করেছে।

    এক নম্বর গোডাউন থেকে বেরিয়ে দু’ নম্বরের দিকে যেতে গিয়ে মিথিলাবাবু থমকে দাঁড়াল। চেয়ে রইল আমার দিকে, কিন্তু কোনো কথা বলল না। আমার সঙ্গে সে আজকাল প্রায় কথাই বলে না। আমার ঘরে তাকে রোজ দু’বার করে অন্তত আসতেই হয়, বিশেষ এক ধরনের কৌতূহলের দৃষ্টিতে তাকিয়ে হুঁ-হাঁ করে কাজ সারে।

    এই অফিসের কারুর সঙ্গেই আমার এ পর্যন্ত ঘনিষ্ঠতা হলো না। তার জন্য আমার একা-চোরা স্বভাবটাই দায়ী! আমি যেচে কারুর সঙ্গে আলাপ করতে পারি না। ব্যক্তিগত প্রসঙ্গও তুলতে পারি না চট করে।

    সিঁড়ি দিয়ে উঠে এলুম দোতলায়। বারান্দাটা যেন বড় বেশি ফাঁকা। সেদিনের পর আর একবারও নীলা এসে এখানে দাঁড়ায়নি। জলাটায় আজও অনেক বক এসেছে। দুটো খুব সুন্দর মাছরাঙা উড়ে গেল পাশাপাশি। খানিকটা দূরে কয়েকজন লোক জলে নেমে কচুরিপানা সাফ করছে। কচুরিপানা নদী-নালা-পুকুরের অনেক ক্ষতি করে ঠিকই, কিন্তু এই বেওয়ারিশ ধরনের জলাটায় যেন কচুরিপানাই মানায়

    আমি না এলে এ ঘরটার তালা খোলা হয় না। আজ আমার পনেরো মিনিট লেট। এই প্রথম। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটু লজ্জিতভাবে সিগারেট ধরালুম। ঘরের চাবি দারোয়ানদের জিম্মাতেই থাকে। সহদেব নয়, অন্য একজন পুরোনো দারোয়ান চাবি নিয়ে এল। তার পেছনে ছুটতে ছুটতে এল পল্টু। সে রীতিমতন হাঁপাচ্ছে।

    দরজা খোলার পর পল্টু বলল, ট্রেন আটকে গেছিল, ওঃ, কী কষ্ট করেই যে আজ এসেছি!

    আমি হাজিরা খাতা খোলার পর পল্টু বলল, আপনিও এইমাত্র এসেছেন, আমি দূর থেকে ঢুকতে দেখলুম আপনাকে! আমায় লেট মার্ক করলে আপনার নিজেরটাও করতে হবে!

    পল্টু ক্লাস ফোর হলেও আমায় বেশ ধমকে ধমকে কথা বলে।

    আমি নিজের নামের পাশে একটা লাল পেন্সিলের দাগ দিয়ে বললুম, তোমায় লেট মার্ক করছি না।

    পল্টু তাতেও খুশি হলো না। সে বলল, আজ আমায় স্যার যেতেও হবে একটু তাড়াতাড়ি। আমার মায়ের শরীর ভালো নেই। বড্ড বাড়াবাড়ি।

    এখানকার অনেকেই জেনে গেছে যে পল্টু সারা বছর ধরেই বাবা কিংবা মায়ের অসুখের অজুহাত দেয়। এক সপ্তাহ অন্তর এক একজনের। কেউ কেউ বলে, পল্টুর বাবা কিংবা মা কেউ আসলে বেঁচেই নেই।

    পল্টু তার হাতের চটের ঝোলা থেকে দুটি বেশ বড় হরলিকসের ভর্তি শিশি বার করে বলল, এ দুটো আমি বাইরে থেকে কিনে এনেছি। নিজের পয়সায়। আপনার এখানে রেখে যাব?

    আমি ভুরু কুঁচকে বললুম, এখানে রেখে যাবে কেন?

    পল্টু নাকি-নাকি গলায় অভিযোগের সুরে বলল, আমায় বেরোবার সময় তো দারোয়ানরা ধরবে। বলবে, এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি। আপনার কাছে রাখুন, আপনি তখন টিকিটে লিখে দেবেন।

    পল্টুর মতন একজন লোকের দু’খানা হরলিকসের শিশি একসঙ্গে কেনার কোনো যুক্তি আছে কি? বিশেষত এখন মাসের শেষ! এমন কথা শোনা গেছে যে পল্টু এখানকার সাপ্লায়ারদের কিংবা বড় বড় ক্রেতাদের অফিসে বা দোকানে গিয়ে বিভিন্ন জিনিস চায়, বখশিশও দাবি করে। তা সে অফিসের বাইরে যা ইচ্ছে করুক। আমার দেখার দরকার নেই।

    আমি কড়া গলায় বললুম, না, ওসব এখানে রাখা চলবে না। দারোয়ানদের দেখিয়ে, যদি ওদের কাছে রেখে দিতে পার তো সেই চেষ্টা করো।

    পল্টু গজগজ করতে করতে চলে গেল।

    দারোয়ানদের কাছে রাখার কী অসুবিধে, তাও অনুমান করা শক্ত নয়। দারোয়ানরা নির্ঘাৎ শিশি দুটোর উৎস বুঝতে পেরে একটা নিজেরা রেখে দেবে।

    আমার আগে অন্য যারা পৌঁছেছে, তারা একে একে নাম সই করতে এল। প্রত্যেকে পাতা উল্টে দেখে গেল, আমি আমার নামের পাশে লাল ঢ্যাঁড়া মেরেছি কিনা।

    আজ আমি বিভূতিভূষণের আরণ্যক এনেছি। যতবার ইচ্ছে পড়া যায়, পড়লে মন ভালো হয়ে যায়। আমার এই চাকরিতে বই পড়া নিষিদ্ধ নয়। মাঝে মাঝে একেবারে বসে থাকতে হয় চুপচাপ।

    একটু পড়তে গিয়েই মন জুড়ে এল নীলার মুখ। এই নীলা আসল নীলা নয়। কেন যেন মনে হচ্ছে, সেই নীল শাড়ি পড়া মেয়েটি চিরকালের জন্য হারিয়ে গেছে। আর দেখা পাব না তার। সামান্য একটা ঝড় সহ্য করতে পারিনি আমি।

    গতকাল সন্ধেবেলাতেও একবালপুর-খিদিরপুরের সেই খালের ধারে বসেছিলুম অনেকক্ষণ। সেখানে নৌকোটা ছিল না। এক সময় আমার মাথা ব্যথা করছিল খুব। তবু নীলা আসেনি।

    হঠাৎ হঠাৎ চমকে জানলার দিকে তাকাই। না, কেউ নেই। জলাভূমির ওপরের আকাশ আজ পরিষ্কার নীল।

    দুপুরের দিকে সিঁড়িতে জুতোর ধুপধাপ শব্দ তুলে এসে সহদেব পাল ঢুকল আমার ঘরে। প্রথমে স্যালুট দিয়ে, খুব দুর্বোধ্য হিন্দীতে বেশ জোর গলায় কিছু একটা বলল।

    তারপর দরজাটায় ছিটকিনি দিয়ে, জানলার পর্দাগুলো টেনে খুলে ফেলল মাথার চুল, গোঁফ।

    একটা চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়ে বলল, উফ, এই রোদ্দুরে আর পারা যায় না! আজ একেবারে ডাকাতের মতন রোদ উঠেছে। আর কয়েকটা দিন কেটে গেলে বাঁচি।

    আমি বললুম, আপনি কবে ট্রান্সফার হচ্ছেন আবার?

    সহদেব পাল বলল, দারোয়ান সেজে থাকা কি পোষায়! আর চারদিন পরেই ছুটিতে যাচ্ছি কালিম্পং। সেখান থেকে একেবারে ফ্রেস হয়ে এসে সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে জয়েন করব কলকাতার অফিসে।

    –বাঃ, কালিম্পং খুব ভালো জায়গা। ওখান থেকে লাভা ঘুরে আসবেন। লুলেগাঁও-তে ভালো বাংলো আছে।

    —আরে ধুর মশাই! আমি অত বেড়াবার লাইনে নেই। কালিম্পং-এ কোম্পানির রেস্ট হাউস আছে, সেখানে গিয়ে বডি ফেলব আর শুধু ঘুমোবো। বেস্পতিবার আগুনটা ঠিকমতন লাগাতে পারলেই কোম্পানি আমাকে কালিম্পং ট্রিপটা রিওয়ার্ড দেবে।

    —আগুন লাগাতেই হবে?

    –সে নিয়ে আপনি কিছু চিন্তা করবেন না। সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। গোডাউনের তিনজনকে কনফিডেন্সে নিতেই হয়েছে। এতগুলো ডেট এক্সপায়ার হয়ে যাওয়া ওষুধ, তার একটা হিল্লে করতে হবে না? ইনসিওরেন্স থেকে যারা ইন্সপেকশানে আসবে, তাদেরও ম্যানেজ করে ফেলেছি। তবু আগুনটা কনভিনসিং হওয়া দরকার। যাতে খবরের কাগজে ওঠে।

    —আপনি তো খুব করিৎকর্মা লোক!

    –কোম্পানি কি আর এমনি এমনি রেখেছে! শুনুন মশাই, যেজন্য আপনার কাছে এলুম। আমি সব খবর রাখি তো, এখানকার সব স্টাফ যে আপনার ওপর খুব খাপচুরিয়াস হয়ে আছে!

    —কেন? আমি কী দোষ করেছি? কারুর ব্যবহারেও তো বোঝা যায় না।

    —ব্যবহারে বুঝতে দেবে কেন? আপনার নামে সবাই মিলে পিটিশন করবে শোনা যাচ্ছে। আপনি নাকি কয়েকজনের নামে চুকলি কেটেছেন বড় সাহেবদের কাছে!

    –সে আবার কি? চুকলি কাটব কেন?

    –ঐ যে গ্যাডগিল, সে আপনার এখানে অনেকক্ষণ সময় কাটিয়ে গেল সেদিন, আপনার সঙ্গে হেসে হেসে গল্প করেছে, আসল ইন্‌সপেকশান তো প্ৰায় কিছুই করল না। কিন্তু সে আজ গোডাউন স্টাফদের মধ্য থেকে তিনজনকে ডেকে পাঠিয়েছে তার হোটেলে। অটোমেটিক্যালি আপনার ওপর সন্দেহ পড়বেই। আপনি তাদের নামে কিছু কমপ্লেইন করেছেন, তাই গ্যাডগিল ডেকেছে। নইলে গ্যাডগিলের তো ঐসব স্টাফদের নাম জানারই কথা নয়!

    —আমি কমপ্লেইন করলেই বা গ্যাডগিল শুনবেন কেন? আমি তো একটা চুনোপুঁটি!

    —আপনি গ্যাডগিলের মেয়েকে বিয়ে করছেন। গ্যাডগিল আপনার মতনই একজন ওয়াচম্যান ছিলেন, তাঁকে দেখে কোম্পানির মালিকের পছন্দ হয়ে গিয়েছিল, মালিকের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হওয়াতেই গ্যাডগিলের এখন এত রবরবা।

    —এ গল্প আপনি জানলেন কী করে? আপনি তো তখন এ ঘরে ছিলেন না!

    —এসব কথা হাওয়াতে ভেসে বেড়ায়—বুঝলেন, হাওয়াতে ভাসে! স্টোরের লোকরা এখন এই আলোচনাই করছে।

    —আপনি স্টোরের লোকদের গিয়ে বলুন, ওরা যেন আগে গ্যাডগিলের আর একটা বিয়ের ব্যবস্থা করে!

    একটু থমকে গিয়ে, পরে হেসে ফেলে সহদেব বলল, ও, এই ব্যাপার! গ্যাডগিলের মেয়ে নেই? সে যাই হোক, আপনার ওপর সবাই কিন্তু খাপ্পা হয়ে আছে বেশ!

    —আমি কী দোষ করেছি জানি না। আপনি বলছেন সবাই খাপ্পা, তার মানে কি আপনিও, সহদেববাবু?

    -তা খানিকটা বলতে পারেন। আপনি আমার জন্য কিছু একটা ব্যবস্থা করলেন না। আর মাত্র চারদিন আছে, আমি খালি হাতে চলে যাব?

    —আপনি যে বললেন, কোম্পানি আপনাকে রিওয়ার্ড দেবে?

    —সে কোম্পানি যা দেবার দেবে। কিন্তু এখান থেকে কিছু পাব না! এ জায়গা যে মশাই সোনার খনি! শুনুন, নীললোহিতবাবু, আপনি আর আমি কোম্পানির কলকাতার মেইন অফিসের লোক। আমাদের রাখা হয়েছে করাপশান চেক করবার জন্য। ঠিক তো? বেশ, আমরা কোম্পানির স্বার্থ নিশ্চয়ই দেখব। বাট, আপটু অ্যান এক্সটেণ্ট! তা বলে কি আমরা নিজেদের স্বার্থ একেবারেই দেখব না?

    —নিজেদের স্বার্থ? শুধু স্বার্থ বললেই বোধহয় চলে!

    —আর ধুর মশাই! আপনি আবার এর মধ্যে ব্যাকরণ-ফ্যাকরণ টেনে আনছেন কেন? বলি, বাইরের সাপ্লায়াররা নানা রকম গিফ্‌ট নিয়ে আসে। তাড়াতাড়ি কাজ আদায় করতে গেলে এগুলো করতে হয়। সারা দেশেই চলে। কার্টন কার্টন ফরেন সিগারেট, হুইস্কি, লাইফ সেভিং ড্রাগ, হরলিক্স, এটা, সেটা! এগুলো যদি তারা দিতে চায়, লোকে নেবে না? জলে ফেলে দেবে?

    আমি চমকে উঠে বললুম, না, না, জলে ফেলে দেবে কেন? এরকম সব দামি জিনিস?

    সহদেব চকচকে চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, আমি সব খবর রাখি। দ্যাট ইজ মাই ডিউটি! আপনি ফেলে দিয়েছেন। আপনি ফেলে দিলে অন্যরাও খোলা মনে কিছু নিতে পারে না।

    –কেন, আমি তো কারুকে বাধা দিই না! নিক না, যার যা খুশি!

    —আপনি যদি কিছু না নেন, তা হলেই আপনি সাসপেক্ট। আপনি চুকলিখোর। আমিও কিছু নিতে পারছি না। আমরা এক পালকের পাখি। আপনি যদি সাধু সেজে থাকেন, তা হলে আমিও ফাঁক পড়ে যাই। আমি তো আর দারোয়ানদের কাছে ভাগ বসাতে পারি না। দ্যাট ইজ বিনিথ মাই ডিগনিটি!

    আমি সহদেব পালের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলুম। আর কোনো কথা আমার মুখে এল না।

    সহদেব আমার চোখের সামনে শাসানির আঙুল তুলে বলল, আর একটা কথা। আজকাল শুধু মাসমাইনের টাকায় ক’জনের সংসার চলে? কিছু উপরি দরকার সকলেরই। এমনকি রাজীব গান্ধীরও। শুধু শুধু এখানকার গরিব বেচারাদের ওপর চোখ রাঙিয়ে কী হবে? আমরা কোম্পানির স্বার্থ দেখছি ঠিকই, কিন্তু বাইরের সাপ্লায়াররা শুধু যদি তাড়াতাড়ি কাজ আদায় করার জন্য দু’ হাজার পাঁচ হাজার দিতে রাজি থাকে, তাহলে সেটা নিতে আপত্তি কিসের? কোম্পানির টাকা নয়, কোম্পানির কোনো ক্ষতিও হচ্ছে না, দিচ্ছে বাইরের পার্টি! সেটা সবাই ভাগ করে নিলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়? কী, উত্তর দিচ্ছেন না যে? বলুন বলুন, চুপ করে রইলেন কেন? আমি মশাই খোলাখুলি কথা বলি। আপনার কি জবাব আছে বলুন।

    আমি আস্তে আস্তে উত্তর দিলুম, মহাভারত শুদ্ধ রাখার দায়িত্ব আসলে তো কেউ দেয়নি!

    —তবে? আপনি এত আলগা আলগা ভাব করে থাকছেন কেন? আপনি একটা শেয়ার নিন, তা হলেই ল্যাঠা চুকে যাবে। অফিসে কাজ করতে গেলে সকলের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়। অন্য সবাই এক রকম আর আপনি আলাদা সাধু সেজে থাকবেন, এ কখনো হয়? একবার চুঁচড়োর একটা ফ্যাক্টরিতে কী হয়েছিল জানেন? সেখানে আপনার মতন …

    সহদেব পালের কথা শেষ হলো না। গেটের কাছে একটা ট্রাক ঢোকার আওয়াজ পাওয়া গেল। সহদেব উঠে গিয়ে ওদিককার জানলার পর্দা সরিয়ে উঁকি মেরে বলল, বাইরের একটা পার্টি ডেলিভারি নিতে এসেছে। বড় পার্টি। আমাকে তো তা হলে যেতে হচ্ছে এখন!

    দরজার ছিটকিনি খুলে সহদেব বাইরে পা বাড়াতেই আমি তাকে ডেকে বললুম, ও সহদেববাবু, আপনি আপনার চুল আর গোঁফ ফেলে যাচ্ছেন যে!

    সহদেব চমকে ঘুরে দাঁড়াল। তার মুখখানা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। এত স্মার্ট মানুষটা বিহ্বলভাবে বলল, অ্যাঁ! চুল আর গোঁফ…সর্বনাশ হয়ে যেত, ধরা পড়ে যেতুম। সব প্ল্যান বানচাল হয়ে যাচ্ছিল আর একটু হলে।

    টেবিল থেকে নকল জিনিস দুটো তুলে সে খুব সাবধানে পরে নিল। তারপর আমার দিকে একটা বিচিত্র দৃষ্টি দিয়ে বেরিয়ে গেল।

    আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়ার রিং ছাড়তে লাগলুম।

    মিঃ গ্যাডগিল আমার পিঠ চাপড়ে গিয়ে আমার দারুণ ক্ষতি করে গেছেন। কেন, অন্য আরও কত লোকেরই তো পিঠ আছে, তিনি সেগুলো চাপড়াতে পারতেন না? উনি একসময় ওয়াচম্যানের কাজ করতেন বলে এই ঘরে এসে ওঁর স্মৃতি উথলে উঠেছিল, সেটা কি আমার দোষ?

    আমাকে বলে কিনা চুকলিখোর! এরকম খারাপ কথা একজন মানুষ সম্পর্কে অন্য কেউ এমন অবলীলাক্রমে বলতে পারে? গ্যাডগিল এখানে ঘুরে যাবার পর কয়েকদিনের জন্য শিলং গিয়েছিলেন, আবার ফিরে এসে গ্র্যাণ্ড হোটেলে উঠেছেন। এইটুকু আমি শুনেছি মাত্র। আর তাঁকে চোখে দেখিনি। তিনি যদি এখানকার কয়েকজনকে ডেকে পাঠিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই সেদিন হাজিরাখাতা উল্টেপাল্টে দেখে নিজেই কিছু সন্দেহ করেছেন।

    আমি এই ক’দিন আর কারুর টিকিটে দাগ দিইনি। আসা-যাওয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি করি না, তবু আমার ওপরে রাগ কেন এদের? আমি জিনিসপত্র কিছু নিই না ঠিকই। আমি নির্লোভ, সাধুপুরুষ নই। কিন্তু যখনই এখানকার কেউ কেউ আমাকে এটা-সেটা দিতে আসে, তখনই মনে হয়, এরা আমাকে একটা ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। আমি যে আসলে ভীতু, সেটা এরা বোঝে না।

    যে-সব পার্টি এখান থেকে ওষুধ ডেলিভারি নিতে আসে, তারা নানারকম উপহারদ্রব্য নিয়ে আসে, এটা আমি দেখেছি। টাকাপয়সা কত লেনদেন হয় তা আমি জানি না। পার্টিগুলোর এখানকার কর্মচারিদের খাতির করার কারণটা অতি সরল। অতি প্রয়োজনীয় কোনো ওষুধ কেউ নিতে এল, এখানকার মিথিলাবাবুর মতন কোনো স্টোর-ইনচার্জ অম্লান বদনে বলে দেবে, ঐ জিনিস তো স্টকে নেই। আজ পাবেন না, পরশু আসবেন। দু’ দিন দেরিতে অনেক টাকা ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তখন হুইস্কির বোতল, বিলিতি সিগারেট আরও নানান জিনিস দিলেই দেখা যায় স্টকে আছে যথেষ্টই। এটাই রেওয়াজ হয়ে গেছে। সবসময় স্টকে নেই বলতেও হয় না, আগে উপহার, তারপর ডেলিভারি। অনেক কোম্পানি অফিসিয়াল গিফট হিসেবেই ঘড়ি, রেডিও, লাইটার ইত্যাদি দেয়।

    বিনা পয়সায় এসব জিনিস পেতে সবাই ভালোবাসে। উপহার পেতে কার না লোভ হয়! এই যে মেজমামার আনা উপহার তা নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা, আমার বৌদি, মা, সবাই লোভ করেনি? আমিও শুধু লাইটার পেয়ে নিরাশ হইনি? মনে মনে আমার ইচ্ছে ছিল না আরও কিছু পাওয়ার?

    এই গুদামে আগে কোনো ওয়াচম্যান ছিল না। নিজেরাই কাজ চালাত। তাতে তো কোম্পানি ফেল পড়েনি, সব কিছুই তো ঠিকঠাক চলছিল। আমাকে এখানে এনে বসানোটা এখানকার কেউ পছন্দ করছে না! আমি যেন একটা ফোঁপরদালাল!

    লাখ লাখ বেকারের মধ্যে একজন কেউ চাকরি পেয়ে গেলে অন্য বেকাররা ক্ষুব্ধ হতে পারে। আবার দেখা যাচ্ছে, যারা চাকরি করতে করতে ঝানু হয়ে গেছে, তারাও নতুন কেউ চাকরিতে জয়েন করলে তাকে সহজে মেনে নিতে চায় না। এরা আমার পোস্টটাকেই অপ্রয়োজনীয় মনে করছে।

    নিজের মামার কাছ থেকে কিছু জিনিস নেওয়া আর অচেনা কোনো পার্টির কাছ থেকে জিনিষপত্র নেওয়া কি এক? নিজের পয়সা দিয়ে রোজ সিগারেট কিনতে হয়, এখানে ফাইভ ফিফটি ফাইভের ছড়াছড়ি, এক এক সময় কি আমার ইচ্ছে হয় না দু’-এক প্যাকেট নিই?

    কিন্তু ভয় হয়। সিগারেট নিলেই মদ, ঘড়ি, রেডিও নিতে হবে। হরলিক্স, ওষুধ, কেক-পেস্ট্রি। তারপর টাকা। সেটাই বা অস্বীকার করব কী করে? এইসব নিলেই ওদের দলে ভিড়ে যেতে হবে। চাকরির দড়ি আমাকে বেঁধে ফেলবে আষ্টেপৃষ্ঠে। আমাকে আর পালাতে দেবে না।

    নীলার সঙ্গে আর কোনোদিন যেতে পারব না দিকশূন্যপুরে? খুঁজে পাব না সেই পথ?

    খানিক বাদে সহদেব পাল আবার ফিরে এল।

    এবার আর গোঁফ-চুল খুলল না, আমার টেবিলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে রইল কয়েক মুহূর্ত। অস্বস্তিকর নীরবতা।

    তারপর গম্ভীরভাবে বলল, নীললোহিতবাবু, তখন আপনি আমার চুল আর গোঁফের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অশেষ উপকার করেছেন। এমন একটা পার্টি এসেছিল, যারা আমার আসল চেহারাটা চেনে, যদি দেখত আমি দারোয়ানের পোশাকে আছি, তাহলে…। আপনি তো এটা না করলেও পারতেন!

    আমি চুপ করে রইলুম। আমি কি এসব ভেবেছি নাকি? চোখে পড়েছে, তাই বলেছি!

    সহদেব বলল, এজন্য আপনারও একটা উপকার আমার করা উচিত। বেশি সময় নেই, আপনাকে একটা খবর জানিয়ে যাচ্ছি শুধু। মিথিলাবাবু আর কয়েকজন মিলে ঠিক করেছে, আপনাকে একটু রগড়াবে। আপনি মিথিলাকে ওর দ্বিতীয় বউয়ের সঙ্গে দুপুরবেলা দেখা করতে যেতে দেন না, সেইজন্য ওর খুব রাগ।

    -আমি যেতে দেব না কেন? গেলেই পারেন!

    —আপনি খাতায় রেকর্ড করেছেন!

    —উনি তো আমায় আগে কিছু বলেননি। রগড়াবে মানে কী? মারবে? মেরে ফেলবে?

    —খুন? না, না, খুনটুন করবে না। আপনাকে মারলে সেটা তো আর পলিটিক্যাল মার্ডার বলে চালানো যাবে না! বউ খুন ছাড়া আজকাল আর কেউ নন-পলিটিক্যাল মার্ডারের ঝঞ্ঝাটে যেতে চায় না। যতদূর মনে হচ্ছে, যেদিন আগুন লাগান হবে, সেদিন আপনাকে একটু ঝলসে দেবে!

    —একটু?

    –একটু না বেশি, সেটা ঠিক বলা যায় না এখন

    —আমি একটুও আগুনের ছ্যাকা সহ্য করতে পারি না। আমার ভীষণ লাগে!

    —আগুনের ছ্যাঁকায় সবারই লাগে। একবার চুঁচড়োর এক কারখানায় আপনারই মতন একজনকে একটুখানি রগড়াতে গিয়ে বেশি হয়ে গিয়েছিল। সে লোকটার একটা চোখই কানা হয়ে গেল। মনে হচ্ছে, এই ঘরের খাতাপত্তর সব পোড়াবে, সেই সঙ্গে আপনাকেও…আপনি সাবধানে থাকবেন…আমি চেষ্টা করব আপনাকে বাঁচাবার, তবু বলা তো যায় না, দৈবের কথা কে বলতে পারে? আমি যদি এখন…।

    আমি টেবিলের ওপর মাথা দিয়ে চোখ বুজলুম। এরা কি আমাকে পয়লা তারিখ পর্যন্তও কাজ করতে দেবে না? অন্তত এক মাসের মাইনেটাও পাব না? মা, বৌদি কত আশা করে আছে, মাসের প্রথমে আমি তাদের হাতে তিন হাজার টাকা তুলে দেব! মেজমামা লোকজন খাওয়াবার ব্যবস্থা করে ফেলেছেন…।

    এরা বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে তারপর ভেতরে পেট্রোল ছুঁড়ে আগুন লাগাবে এই ঘরে। চিকেন রোস্টের মতন ঝলসাবে আমাকে, আমি আর্তনাদ করব, দরজায় দুম দুম করে ধাক্কা মারব জ্বলন্ত শরীরে, বাইরে থেকে মিথিলা বলবে, আর একটু, আর একটু পুড়ুক, এখন দরজা খুলো না, পল্টু…।

    আমি নিজেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলুম, মাত্র এক মাসের জন্য কষ্ট করো, নীললোহিত। এক মাস কষ্ট করে মা-দাদা-বৌদি-মেজমামাকে খুশি করো। তারপরেই দেশান্তরী হব। কিন্তু সেই এক মাসও আমাকে সহ্য করতে পারল না এই লোকগুলো? বৌদির কাছে ধার, সিগারেট-দোকানদারের কাছে ধার, বাজারে আলুওয়ালার কাছে ধার, সেসব কিছুই শোধ করা যাবে না!

    আমার পিঠে কার হাতের ছোঁয়া লাগতেই আমি কেঁপে উঠলাম। মুখ ফিরিয়ে দেখি, নীলা।

    নীলা বলল, শিগগির ওঠ, দ্যাখো, ঝড় আসছে!

    আমি বললুম, ঝড়?

    নীলা বলল, দ্যাখো, আকাশ দ্যাখো!

    আমি বারান্দার দিকে তাকিয়ে দেখলুম, সকালবেলা আকাশ নীল ছিল, এখন সত্যিই কালো হয়ে এসেছে। ব্যস্তভাবে ওড়াউড়ি করছে একঝাঁক চিল।

    আমি উঠে দাঁড়িয়ে বললুম, তুমি আমাকে ত্যাগ করেছিলে?

    নীলা বলল, আমি তোমার কাছে কিছুতেই আসতে পারছিলুম না। বার বার বাধা পড়ছিল।

    -কিসের বাধা?

    —জানি না। আমার শরীর কাচ হয়ে যাচ্ছিল। তুমি আমাকে সেদিন ছেড়ে চলে গেলে!

    —ঝড়ের জন্য ধরে রাখতে পারিনি। আর কি আমি কোনোদিন তোমার দিকশূন্যপুরে যেতে পারব না?

    –সেই জন্যই তো আমি এসেছি। এক্ষুনি চলো।

    —আবার ঝড় উঠছে। তোমাকে দেখতে পাব না।

    —ঝড়ের আগেই পৌঁছে যেতে হবে। আজ আমার হাত কিছুতেই ছেড়ো না তুমি!

    উঠে দাঁড়িয়ে নীলার হাত চেপে ধরে বললুম, ছাড়ব না। চলো।

    সিঁড়িতে পা দিয়ে আবার বললুম, গেট দিয়ে বেরুতে গেলে তোমাকে সবাই দেখবে। দেখুক। আমি গ্রাহ্য করি না।

    নীলা বলল, এই পাঁচিলের গায়ে একটা ছোট্ট দরজা আছে, জলার দিকে।—তাই নাকি? আমি তো আগে দেখিনি!

    –আমি তো সেই দরজা দিয়েই এলুম। খোলা রেখে এসেছি।

    তরতর করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে আমরা দেয়াল ঘেঁষে ছুটতে লাগলুম। সত্যিই একটা ছোট দরজা রয়েছে। সেটা দিয়ে বাইরে বেরুতেই জলাভূমি। বড় বড় ঘাস, প্যাচপেচে কাদা। আসন্ন বৃষ্টির সম্ভাবনায় ব্যাঙ ডাকতে শুরু করেছে। দূরে যে লোকগুলো কচুরিপানা সাফ করছিল, তারা এখন নেই।

    —নীলা, তোমার পায়ে কাদা লাগছে। এখানে সাপখোপ থাকতে পারে।

    –তুমি শুধু আমার হাত ধরে থাকো।

    —এখান দিয়ে আমরা যাব কী করে? এখানে তো নৌকো নেই!

    —আছে, নৌকো আছে, আর একটু চলো।

    —কিন্তু এই দমদম থেকে আমরা দিকশূন্যপুরে যাব কী করে? অনেক দূর না?

    —যে-কোনো জায়গা দিয়েই দিকশূন্যপুর পৌঁছনো যায়। দিকশূন্যপুরকে কাছেও আনা যায়, তাই না?

    —এটা আমি জানতুম না।

    জলের পাশ দিয়ে দিয়ে, বড় বড় বিন্নি ঘাস আর নলখাগড়ার ঝোপ ভেদ করে যেতে যেতে এক জায়গায় দেখলুম, একটা লোক জলে ছিপ ফেলে চুপ করে বসে আছে। আমাদের দেখে সে চমকে উঠল।

    নীলা তাকে জিজ্ঞেস করল, ভাই, এখানে একটা নৌকো ছিল না? লোকটি বলল, হ্যাঁ, দিদি, ছিল তো। ঐ যে দেখুন, ভেসে গিয়ে একটা দামে আটকে গেছে।

    নীলা আমার দিকে ফিরে বলল, তুমি জলে নেমে নৌকোটা নিয়ে আসতে পারবে?

    আমি বললুম, নিশ্চয়ই।

    লোকটি বলল, আপনি জলে নামছেন কেন? আমার গা ভিজে। আমি এনে দিচ্ছি।

    সে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে গেল, নিয়ে এল নৌকোটা আমাদের কাছে। নীলা বলল, আপনি খুব ভালো লোক। দ্যাখো নীললোহিত, পৃথিবীতে এখনও কত ভালো মানুষ আছে। এমনি এমনি অন্যের জন্য নৌকো এনে দেয়।

    লোকটি লজ্জা পেয়ে বলল, আপনারা যাবেন তো উঠে পড়ুন। ঝড় এসে যাবে।

    আমি সাবধানে নীলাকে বসালুম নৌকোর মাঝখানে। একটা বৈঠা তুলে নিয়ে লোকটিকে বললুম, তুমি আমাদের উপকার করলে, তোমার সব কিছু ভালো হোক।

    খানিকটা যেতে না যেতেই ঝড় উঠল।

    আমার দু’ হাতে বৈঠা। আমি বললুম, নীলা, তুমি আরও কাছে সরে এসো, আমার হাঁটু চেপে ধরে থাকো। নৌকো উল্টোলেও ভয় নেই।

    নীলা আমার বুকের ওপর এসে, দু’ হাতে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, তোমাকে এবার কিছুতেই ছাড়ব না।

    আমি পেছন ফিরে একবার আমাদের গোডাউনটার দিকে তাকালুম।

    ঝড়ের জন্য কিছু দেখা যাচ্ছে না। মনে হলো, ওখানে আসলে কোনো গুদাম ছিল না। ওটা অলীক। আমার চাকরিটাও অলীক। এই কচুরিপানায় ভর্তি জলা, এই নৌকো, এই ঝড়, আমার বুকের ওপর নীলা, এই কয়েকটি শুধু বাস্তব।

    ঝড়ের ধাক্কায় নৌকোটা দুলছে। কিন্তু নৌকো চালানো সম্পর্কে আমার প্রবল আত্মবিশ্বাস আছে। আমি সুন্দরবনের দুর্দান্ত নদীতেও ঝড়ের মধ্যে নৌকো চালিয়েছি।

    বাতাসও এখন কালো। কোনোদিকেই কিছু দেখা যায় না। সেদিনের কুয়াশার মতন। তাহলে এবার দিকশূন্যপুরে ঠিকই পৌঁছনো যাবে।

    আমার বুকের ওপর মাথা রেখে যেন নীলা সেই কথাটা শুনতে পেল। মুখ তুলে বলল, এই তো আমরা এসে গেছি।

    একবার বিদ্যুৎচমকে চোখে পড়ল, কাছেই একটা বেশ তকতকে ঘটি বাঁধানো। নৌকোটা ভেড়ালুম সেখানে।

    নীলা উঠে দাঁড়াতেই নৌকোটা দুলে উঠল, আমি বললুম, সাবধান!

    আমি আগে লাফিয়ে নেমে পড়লুম মাটিতে। পাকা মাঝিদের মতন নৌকোটা টেনে পাড়ের ওপর খানিকটা তুলে এনে তারপর নীলার হাত ধরে নিয়ে এলুম ওপরে।

    ঝড় কমেছে, এবার বৃষ্টি।

    বৃষ্টির মধ্যে তবু কিছু কিছু দেখা যায়। গালিচার মতন সবুজ ঘাস, ছোট ছোট অচেনা গাছ। পায়ে চলা রাস্তায় নুড়ি ছড়ান। নীলা ভিজে একেবারে শপশপে হয়ে গেছে। আমি নিজের ভেজা শরীর দেখতে পাচ্ছি না, নীলাকেই দেখছি। মোটেই হেমেন মজুমদারের ছবির মতন নয় সে, তার নীল শাড়ি ভেদ করে শরীর ফুটে ওঠেনি, মনে হচ্ছে তার কোনো শাড়িই নেই, তার অস্তিত্বটাই নীল। প্রাচীন গ্রীস ভাস্করদের বানানো একটা নীল মূর্তি।

    একটা বড় গাছের দিকে হাত দেখিয়ে নীলা বলল, এটা চিনতে পার?

    আমি গাছটার গায়ে হাত রেখে কোনো চেনা সাড়া পেলুম না।

    নীলা বলল, এটা সেদিনের সেই চাঁপা গাছটা। উর্বশী চাঁপা। এখান থেকে তুমি হারিয়ে গিয়েছিলে।

    আমি নীলাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললুম, তোমাকে আর এক মিনিটের জন্যও আমি ছেড়ে থাকতে পারব না।

    নীলা বলল, তোমাকে ছেড়ে থাকলে আমি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাই। আমার বড় কষ্ট হয়। তুমি আর ফিরে যেও না, নীললোহিত।

    আমি বললুম, কোথায় যাব? আর সব কিছুই মিথ্যে হয়ে গেছে। কলকাতা শহরটাই তো অবাস্তব। আমাকে এখানে তোমার কাছে থাকতে দেবে?

    নীলা বলল, তুমি আমার কাছে থাক। আমি তোমাকে রান্না করে খাওয়াব। আমরা খুব ভালোবাসব। এই গাছটা ধরে ঝাঁকাও তো। যদি দু’-একটা ফুল পড়ে, ঘরে নিয়ে গিয়ে সাজাব।

    —আমার গাছের ফুল দরকার নেই। সেদিন তোমার মুখে আমি চাঁপা ফুলের গন্ধ পেয়েছিলাম। নীলা, সত্যি তুমি আকাশ থেকে শুধু আমারই জন্য এসেছ এই পৃথিবীতে? গ্রহ-গ্রহান্তর পেরিয়ে, মহাশূন্যের কোনো এক বিন্দু থেকে ….

    –তুমিই আমাকে এনেছ। অন্য কেউ তো আমায় আনেনি।

    —আমার চিন্তার তরঙ্গ অতদূর পৌঁছয়? সেই জন্যই আমার মাথায় চিড়িক চিড়িক করে ব্যথা হতো। অন্য কোনো তরঙ্গের সাড়া পেতুম? কিন্তু তোমার এই রূপ, এটা তোমারই তো নিজস্ব? আমি তো এ রূপ কল্পনা করিনি!

    —আমার কোনো রূপই নেই, নীললোহিত!

    আমি নীলার চিবুকে, বুকে হাত বুলিয়ে বললুম, এই যে তোমার শরীর?

    নীলা বলল, এই সবই তোমার!

    আমি বললুম, নীলা, কী করে আমার এত সৌভাগ্য হলো? কী এমন ভালো কাজ করেছি জীবনে?

    নীলা বলল, এটা আমারই সৌভাগ্য। তুমি আমার উপহার। চলো, আর বৃষ্টিতে ভেজা যাচ্ছে না। আমার ঘরে গিয়ে বসি।

    -এখানে তোমার ঘর আছে?

    –বাঃ, ঘর থাকবে না? তোমার সেই দিকশূন্যপুরে বন্দনাদি, কৃষ্ণা, ওদের নিজস্ব ঘর ছিল না? কতরকম ফুল দিয়ে আমার ঘর সাজাই। সেদিন তোমাকে একটা মজার জিনিস দেখাব বলেছিলুম। এবার সেটা দেখবে আমার ঘরে।

    দুই লঘু বালক-বালিকার মতন হাত ধরে ছুটতে লাগলুম আমরা।

    বৃষ্টির জন্য অন্য বাড়িঘর কিছু চোখে পড়ছে না। কিন্তু সরু পথটা আমাদের নিয়ে এল জলের ধারে একটি বাড়ির কাছে। একটিই মাত্র ঘর, পাথরের দেওয়াল, ওপরে খড়ের ছাউনি। সামনে একচিলতে বারান্দা।

    বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরের বৃষ্টির ছাঁটে পায়ের কাদা ধুয়ে নিলুম আগে। নীলা একটা তোয়ালে এনে বলল, ভালো করে মাথা মুছে নাও। এখন আমরা চা খাব।

    ঘরের মধ্যে উঁকি দিয়েই বুকে যেন বিশাল একটা হাতুড়ির ঘা লাগল।

    দূরের দেওয়ালের দিকে, একটা বেতের চেয়ারে, আমার দিকে পেছন ফিরে বসে আছে একজন পুরুষ।

    এক লহমার জন্য সেই নিথর মানুষটিকে মনে হয়েছিল একটা পাথরের মূর্তি, তারপরই বোঝা গেল, না, মানুষ। পেছন ফিরে আছে বলে মুখের একটা পাশ শুধু দেখতে পাচ্ছি, মনে হয়, আমারই কাছাকাছি বয়েসের কোনো যুবক, প্যান্ট আর হাওয়াই শার্ট পরা, পায়ে চটি, এক হাতের ওপর চিবুকটা রাখা।

    নীলা তা হলে একা থাকে না? তার একজন পুরুষ সঙ্গী আছে? শুধু আমারই জন্য সে শূন্য থেকে নেমে এসেছে বলেছিল, তা আসলে সত্যি নয়? এই ছোকরাটি ওর বডিগার্ড? এর সঙ্গে একঘরে থাকে? আমার প্রতি যে এত ভালোবাসা, তা আসলে ছলনা? কিংবা অন্য কোনো জগৎ থেকে এসে এই মেয়েটি আমার ওপর কোনো এক্সপেরিমেন্ট করছে?

    ঈর্ষায়, রাগে বুকটা ফেটে যেতে চাইছে। আর সব কিছুই আমি ছাড়তে পারতুম, কিন্তু নীলাকেও ছাড়তে হবে? তা হলে যে আমার কিছুই রইল না।

    নীলা আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছে খেলা করবার জন্য?

    এই যুবকের হাতে নীলাকে সঁপে দেবার বদলে নীলাকে ধ্বংস করে দেওয়াও ভালো?

    নীলা জিজ্ঞেস করল, ওকে চিনতে পারছ?

    আমার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরুল না। নীলা আমাকে একটা মজার জিনিস দেখাবে বলেছিল। একি নিষ্ঠুর কৌতুক ওর

    নীলা বেতের চেয়ারটির কাছে গিয়ে যুবকটির কাঁধে হাত দিয়ে খুব আদর করা গলায় বলল, এই, মুখ ফেরাও! দ্যাখ, কে এসেছে!

    আমার ইচ্ছে হলো ছুটে চলে যেতে। কিন্তু দুঃখের চেয়ে রাগটা প্রবল হয়ে উঠছে, সব কিছু ভেঙে না দিয়ে আমি যেতে পারব না।

    যুবকটি মুখ ফিরিয়ে বলল, ও, আপনি? নমস্কার!

    আমি তার প্রতি উল্টে নমস্কার জানালুম না।

    নীলা জিজ্ঞেস করল, তুমি এখনও চিনতে পারছ না একে?

    আমি উত্তর দিলুম না তবু। চিনতে পারিনি, ওকে আমি চিনতে চাই—ও না!

    নীলা বলল, তুমি আশ্চর্য মানুষ তো! তুমি একে চিনতে পারছ না, আমার রূপ কেমন হবে তা তুমি জানতে না, তুমি বড্ড ভুলো-মনা, নীললোহিত!

    দেওয়াল থেকে একটা আয়না খুলে এনে আমার মুখের সামনে ধরে বলল, এবার নিজেকে দ্যাখো, তারপর ওকে দ্যাখো!

    এবার আমি ভূত দেখার মতন কেঁপে উঠলুম। যুবকটিকে হুবহু আমার মতন দেখতে। জামাটা অন্য রকম, চুল আঁচড়ানোটা আলাদা, তা ছাড়া আর কোনো তফাত নেই! ঠিক যেন আমার যমজ ভাই। এ পৃথিবীতে আমার যমজ কেউ নেই, তা আমি খুব ভালোই জানি। অন্য কোথাও ছিল?

    নীলা বলল, ওকে আমি তৈরি করেছি। তুমি যখন কাছে থাক না, তোমাকে যখন পাই না, তখন আমার খুব কষ্ট হয়। তাই একটু একটু করে বানিয়েছি ওকে। তুমি যেমন আমাকে তৈরি করেছ, তেমনি আমিও তৈরি করেছি তোমাকে!

    এতক্ষণ পরে আমি বললুম, সত্যি? নীলা, তুমি যা বললে, তা সত্যি?

    নীলা বলল, কেন সত্যি হবে না! ঠিক তোমার মতন হয়নি? এই তিনদিন দেখা পাইনি তোমার, এই তিনদিনে ওকে সম্পূর্ণ করেছি। আজই ও হাঁটতে শিখেছে। দেখবে? এই, তুমি উঠে একটু হাঁটো তো!

    দ্বিতীয় নীললোহিত উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটল কয়েক পা। প্রথমে বাচ্চাদের মতন একটু টলে গেলেও সামলে নিয়ে হেসে বলল, ঠিক পেরে যাব!

    ওর গলার আওয়াজ অবিকল আমার মতন!

    নীলা বলল, ও কিন্তু ভুলো-মনা নয়। ওকে যা শেখাই সব মনে রাখে।

    আমি অভিভূতের মতন জিজ্ঞেস করলুম, আমরা দুজনে এখানে থাকব?

    নীলা বলল, না, তা কি হয়! তুমি এসে গেছ, তুমি আর ফিরে যাবে না তো?

    আমি বললুম, না, নীলা, আমি ফিরে যাব না। আমি তোমার কাছে থাকতেই এসেছি। কিন্তু ও রাগ করবে না তো?

    নীলা আর দ্বিতীয় নীললোহিত একসঙ্গে হাসল।

    নীলা বলল, ও রাগ করবে কেন? ও তোমার জায়গায় ফিরে যাবে। ও সব জানে। ওকে কেউ বাজারে ঠকাতে পারবে না। ওকে কেউ অফিসে অপমান করতে পারবে না। কেউ ওকে আগুনে ঝলসে মারতে পারবে না। ও অপরাজেয়।

    দ্বিতীয় নীললোহিত একটা হাত তুলে, ভুরু নাচিয়ে হেসে বলল, আমি সব জানি। আমি সব পারব। এখন যাব?

    আমি তবু অবিশ্বাসের সুরে বললুম, ও রাস্তা চিনে যেতে পারবে?

    দ্বিতীয় নীললোহিত বলল, রাস্তা চেনা তো খুব সহজ। ঝড় থেমে গেছে, বৃষ্টিও নেই।

    নীলা তার পিঠে হাত দিয়ে বলল, যাও, তাহলে এগিয়ে পড়, আমি মাঝে মাঝে গিয়ে তোমাকে দেখে আসব।

    দ্বিতীয় নীললোহিত নেমে পড়ল রাস্তায়, আমি আর নীলা এসে দাঁড়ালুম সরু বারান্দায়।

    সে বেশ সাবলীলভাবে হেঁটে যাচ্ছে। একবার মুখ ফিরিয়ে আমাদের দিকে হাত তুলল। তারপর গতি বাড়িয়ে দিল।

    অলীক শহর, অলীক চাকরি, অলীক সংসারের দিকে যাচ্ছে একজন অলীক মানুষ। আমার মতন চেহারা হলেও ও আমার মতন নয়, ও সব কিছু সামলাতে পারবে।

    আমি আর নীলা বারান্দায় হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে রইলুম চিরকালের বাস্তব সত্য হয়ে।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025
    Our Picks

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }