Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধেক মানবী – ৭

    ৭

    মেজমামা বললেন, এ পাড়ায় কি একটাও ভালো ফোন আছে? কোনো জায়গা থেকে ফোন করা যাবে?

    আমি বললুম, মোড়ের মাথায় একটা ওষুধের দোকান আছে। ওদের ফোনটা ব্যবহার করতে দেয়।

    মা বললেন, থাক, আর ফোন-টোন করতে হবে না। যথেষ্ট হয়েছে। অমন চাকরির কোনো দরকার নেই। ইস, ছেলেটাকে এমন ভাবে মেরেছে। ঠোটের পাশটায় কেটে গেছে কতটা! ছি ছি ছি ছি!

    আমি বললুম, মা, চাকরির ব্যাপারটা আলাদা, আর মার খাওয়ার ব্যাপারটা আলাদা। এটা তো সাধারণ গুণ্ডাদের ব্যাপার। ঐ সুরঞ্জনবাবু আরও বেশি বড় গুণ্ডা! মা বললেন, তবু ঐ অলক্ষুণে চাকরির জন্যই তো তোকে ঐ বাজে পাড়াতে যেতে হয়েছিল!

    মেজমামা বললেন, না, ছোড়দি, সুরঞ্জনকে আমি ছাড়ব না। আমার বন্ধু হয়ে সে এরকম নিমকহারামের মতন কাজ করল? এর চেয়ে তো নির্মল আর রথীন অনেক ভালো, তারা সরাসরি পারবে না বলে দিয়েছে। আর ঐ সুরঞ্জনকে আমরা কিছু বলিনি। সে এমনি একখানা তিন হাজার টাকার থালায় করে একটা চাকরি সাজিয়ে দিল আমার ভাগ্নের জন্য। হারামজাদার পেটে পেটে এত শয়তানি বুদ্ধি ছিল?

    মা বললেন, থাক, যা হবার তা তো হয়েই গেছে। আর ওসব লোককে ঘাঁটাবার দরকার নেই! ওসব লোকের পুলিশ-টুলিশ হাত করা থাকে।

    মেজমামা বললেন, কী, আমি ওকে ভয় পাব? আমি পিনাকপানি ব্যানার্জি ভয় পাব ঐ একটা ছুঁচোকে? টেলিফোন করারও দরকার নেই, চল তো নীলু, ওর বাড়ি গিয়েই বলে আসি। ট্যাক্সি পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই!

    মায়ের আর কোনো আপত্তিতে কর্ণপাত না করে মেজমামা আমার হাত ধরে টেনে নামাতে লাগলেন সিঁড়ি দিয়ে।

    আমারও ইচ্ছে করছে সুরঞ্জন দত্তরায়ের ওপর কিছুটা গায়ের ঝাল ঝেড়ে আসতে। আমি একা কিছু করতে পারব না, মেজমামা থাকতে থাকতেই প্রতিশোধ যা নেবার নিতে হবে।

    ঝট করে একটা ট্যাক্সিও পাওয়া গেল। তাতে উঠে বসে মেজমামা বললেন, ও ব্যাটা থাকে যোধপুর পার্কে। ওদিকটার রাস্তা আমি ভালো চিনি না। তুই চিনতে পারবি তো নীলু!

    —একটু সময় লাগলেও খুঁজে বার করা যাবে!

    —শোন, আমার মাথায় রক্ত ফুটছে টগবগ করে। রাগ না চণ্ডাল। যদি দেখিস আমি সুরঞ্জনের গলা টিপে ধরেছি, তা হলে আমার কানের কাছে দু’বার বলবি, প্রিমিয়াম! প্রিমিয়াম!

    —তার মানে?

    –তোর মানে বোঝার দরকার নেই। শুধু দু’বার বলবি ঐ কথাটা!

    —মানে না বুঝলে হয়তো কথাটা আমার মনে থাকবে না। আমি হয়তো ওর বদলে বলে ফেলব, স্কচ! স্কচ!

    -ওঃ হো, ঠিক আছে, তোকে বুঝিয়ে দিচ্ছি। আমি একটা বড় গোছের ইনসিওরেন্স করিয়েছি, আর দুটো অ্যানুয়াল প্রিমিয়াম বাকি আছে। সুরঞ্জনটার গলা টিপে ধরে যদি শেষ পর্যন্ত ওকে মেরেই ফেলি, তাহলে আর আমি ফাঁসির আসামী হিসেবে ঐ টাকাটা পাব না। ফাঁসির আসামীর বউও ইনসিওরেন্সের টাকা পায় না। সুতরাং ঐ দুটো দেবার আগে আমার ফাঁসি যাওয়াটা ঠিক হবে না!

    —সুরঞ্জনকে একেবারে মেরে ফেলার দরকার নেই, মেজমামা। ওর একটা চোখ শুধু কানা করে দিলে হয় না? লোকে এর পরে ওর নাম দেবে কানা শয়তান!

    —ঠিক আছে, আমি গলা টিপে ধরব, তুই একটা দেশলাই কাঠি জ্বেলে ওর চোখে চেপে দিবি। পারবি না?

    ট্যাক্সিচালকটি বাঙালি, সে ঘাড় ঘুরিয়ে আমাদের দিকে তাকাল।

    মেজমামা আস্তে কথা বলতে পারেন না, তিনি ওর তাকানোটার তোয়াক্কাও করলেন না। আমাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, হ্যাঁরে, নীলু, তুই ঠিক জানিস, যারা তোকে মেরেছে আর ঘড়ি-ফড়ি কেড়ে নিয়েছে, তারা ঐ ইউনিয়ানের লোক নয়!

    —না, না, ওরা কেন হতে যাবে? শেষে আমি দুটো সাধারণ ছিনতাইবাজের হাতে পড়েছিলুম!

    –ঐ যে কী নাম, দীনেন বোস না কী বললি, তার বাড়ি থেকে বেরুবার পর ইউনিয়ানের লোকেরা তোকে ফলো করতে পারে। তোকে ভালোমতন শিক্ষা দেবার জন্য তারাও পেঁদিয়ে দিতে পারে।

    —তারা মারবে কেন? আমি তো বলেই এসেছি, আর জীবনে কখনো ঐ অফিসে পা দেব না!

    —বিশ্বাস করেছে কি? আজকালকার বাজারে একটা চাকরি পেয়েও কি কেউ এককথায় ছেড়ে দেয়? র‍্যাট রেস! র‍্যাট রেস!

    —ওরা নিশ্চয়ই বিশ্বাস করেছে। ওরা আমার সঙ্গে সবসময় ভালো ব্যবহার করেছে।

    —জোর করে রাস্তা থেকে ট্যাক্সিতে তুলে নিয়ে যাওয়া মানে ভালো ব্যবহার?

    —ওরকম নাটক অবশ্য না করলেও চলত। আগে আমাকে সব ব্যাপারটা বুঝিয়ে বললে আমি নিজেই ওদের সঙ্গে যেতুম।

    —ঐ দীনেন বলে লোকটার বউয়ের দুটো বাচ্চা?

    —হ্যাঁ মেজমামা, কী সুন্দর যমজ। দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে করে।

    —ঐ সুন্দর দুটো বাচ্চাকে ফেলে ও হারামজাদা সাধু হয়ে যেতে চেয়েছিল? যারা বউ-বাচ্চা ফেলে সাধু হবার জন্য পালায়, তাদের শাস্তি দেবার কোনো ব্যবস্থা নেই? আমার তো ইচ্ছে করছে, ঐ দীনেন হারামজাদার বাড়িতেও একবার যাই। বাচ্চা দুটোকে আদর করে আসি। আর বাবাটার মাথায় গোটা কতক রাম গাট্টা মারি।

    -লোকটা খারাপ না। একটু অভিমানী ধরনের। পৃথিবীর বেশির ভাগ লোককেই কাওয়ার্ড বললে প্রতিবাদ করে। ও কিন্তু বলল, হ্যাঁ, আমি কাওয়ার্ড!

    —আসল কাওয়ার্ড হচ্ছে ঐ সুরঞ্জন। তোকে কাল ঐ অফিসের খাঁচার মধ্যে ভরে দিয়ে নিজে পালিয়েছিল।

    .

    যোধপুর পার্কের ভেতরের রাস্তাগুলো এক রকমের। ঠিকানা খুঁজে বার করা বেশ মুশকিল। বিভিন্ন লোককে জিজ্ঞেস করে করে শেষ পর্যন্ত পৌঁছোনো গেল।

    একটা বেশ সুন্দর দোতলা বাড়ি। সামনে লোহার গেট, তারপর ছোট বাগান, মূল দরজার দু’পাশে দুটি অজন্তার স্টাইলে নারীমূর্তি আঁকা।

    বেল বাজাবার পর একজন উর্দিপরা আর্দালি দরজা খুলে দিল।

    মেজমামা হুঙ্কার দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, সুরঞ্জন বাড়ি আছে?

    আর্দালিটি বলল, সাহেব এইমাত্র উপরে গেলেন বিশ্রাম করতে। এই সময় তো কারুর সঙ্গে দেখা করেন না। আপনাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে?

    মেজমামা বললেন, ওকে বলো গিয়ে ওর যম এসেছে! যমের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগে না!

    আর্দালিটিকে ঠেলেই ভেতরে ঢুকে পড়লেন মেজমামা।

    আর্দালিটি অভিজ্ঞ লোক, সে জানে কোন ধরনের মানুষদের ফেরানো যায় না। সে এবার বিনীত ভাবে জিজ্ঞেস করল, আপনার নাম কী বলব, সাহেব?

    —বলো, সিঙ্গাপুরের পিন্টু সাহেব এসেছে। তোমার সাহেবের বন্দুক আছে?

    —বন্দুক? আজ্ঞে না স্যার!

    —তবে ঠিক আছে, যাও!

    বসবার ঘরের মেঝেটি কালো-সাদা মারবেলের, এক পাশে একটা কার্পেট পাতা। দু’দিকে দু’রকম বসার ব্যবস্থা। যেদিকে সোফা-সেট, তার সেণ্টার টেবিলে একটা পোরসিলিনের বোলে অনেকগুলি আপেল ও সিঙ্গাপুরী কলা রাখা আছে।

    ঝপাস করে একটা সোফায় বসে পড়ে ফলগুলোর দিকে হাত বাড়িয়ে মেজমামা বললেন, শালা, মাটির নাকি?

    তারপর বললেন, নাঃ, রিয়েল। নে নীলু, কলা খা! এই কলাগুলোকে এখানে সিঙ্গাপুরী কলা কেন বলে রে? ওখানে কোনোদিন এরকম কলা দেখিনি।

    —কী জানি! সবাই তো বলে।

    —আপেল-ফাপেল সব শেষ করে দে! ওঃ, আবার কায়দা করে দেয়ালে যামিনী রায়ের ছবি টাঙানো হয়েছে! ওটা খুলে নিয়ে যাব!

    -এই সুরঞ্জনবাবু তোমার কী রকম বন্ধু? তোমার কাছ থেকে কখনো কোনো উপকার পেয়েছে কিংবা টাকা ধার নিয়েছে?

    —টাকা ও ধার নেবে না, ওদের অবস্থা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো ছিল। নর্থ ক্যালকাটায় অনেক সম্পত্তি ছিল, তারই একটা বাড়ি বেচে এখানে এই বাড়ি বানিয়েছে। উপকার, অ্যাঁ, উপকার আমি কারুর কখনো করি না। তবে, কলেজে পড়ার সময় একবার পিকনিকে গেসলুম বোটানিকসে। সেই সময় এই সুরঞ্জনটা, ও একদম সাঁতার জানে না, ক্যারদানি করে নৌকোয় চড়তে গেল, তখন জোয়ার ছিল, হঠাৎ নৌকোটার একটা ধার কাত হতেই সুরঞ্জন একটা পেপার ওয়েটের মতন টপাৎ করে ডুবে গেল। গঙ্গায় যখন জোয়ার আসে, কী রকম সাঙ্ঘাতিক চেহারা হয় দেখেছিস তো, পাড়ের কাছে পর্যন্ত মানুষ দাঁড়ায় না, নৌকোয় আরো তিনজন ছিল, কোনো ব্যাটার সাহস হয়নি সেই জোয়ারের জলে ঝাঁপিয়ে পড়ার। শুধু পিনাকপানি ব্যানার্জি, ইন্টার-কলেজ সুইমিং চাম্পিয়ন, এই পিনাকপানি সঙ্গে সঙ্গে লাফ মেরেছিল জলে, বুঝলি! ওর গলা ধরে টেনে তুলেছি। আর একটু হলে সুরঞ্জনটা মরেই যেত সেদিন, পেটে এত জল ঢুকেছিল যে হাসপাতালে রাখতে হয়েছিল তিন দিন। একে কি উপকার বলা যায়?

    —যে যেমন ভাবে নেয়!

    —ঠিক বলেছিস, যে যেমন ভাবে নেয়। এখন যদি পুরো ব্যাপারটাই ভুলে মেরে দিয়ে থাকে, আমি কি জোর করে মনে করাতে পারি?

    বসবার ঘরের মাঝখান দিয়েই উঠে গেছে দোতলার সিঁড়ি। পুরো পাঁচ মিনিট বাদে সেই সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগলেন সুরঞ্জন দত্তরায়, বাংলা সিনেমার নায়িকার বাবাদের মতন একটা ভেলভেটের ড্রেসিং গাউন পরা, মুখে পাইপ, এক হাতে গেলাশ ভর্তি রঙিন পানীয়। এই ওঁর বিশ্ৰাম!

    নামতে নামতেই তিনি বললেন, ওপর থেকেই গলার আওয়াজ পেয়েছি। প্রথম দিনটা তোর ভাগ্নেকে খুব জ্বালাতন করেছে তো? ওরকম তো হবেই। বী ব্রেইভ ইয়াং ম্যান! আমি অফিসে ছিলুম না আজ, কিন্তু ভেতরে আমার স্পাই আছে, সে খবর দিয়েছে, ইউনিয়ানের লোকেরা আজ ওর সঙ্গে কোঅপারেট করেনি!

    জল্লাদের মতন উঠে দাঁড়িয়ে মেজমামা গম্ভীর ভাবে বললেন, সুরঞ্জন, তোর বউ কোথায়?

    সুরঞ্জন দত্তরায় বললেন, প্রতিমা তো এইমাত্র বাপের বাড়ি গেল! তোর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়া হয়নি এখনো। তুই আছিস তো কয়েকদিন, এর মধ্যে একদিন তোকে খেতে ডাকব, সেদিন আলাপ হবে।

    –বাপের বাড়ি কত দূরে?

    —এই তো কালীঘাটে। কেন বল তো?

    —টেলিফোন করে ডেকে আনা যায় না?

    —তা যায় বটে। এখনো বোধহয় গিয়ে পৌঁছোয়নি। কেন, প্রতিমার সঙ্গে তোর হঠাৎ কী দরকার পড়ল।

    —তাকে তুই শেষবার দু’চোখ ভরে দেখে নিবি!

    —আমার বউকে আমি দু’চোখ ভরে দেখব, না তুই দেখবি? প্রতিমাকে অনেকে এখনো সুন্দরীই বলে।

    —আমি বলছি, তুই শেষবার দু’চোখ ভরে দেখে নিবি। তুই আমার ভাগ্নে নীলুকে আজ চরম অপমানের মধ্যে ফেলেছিস। তুই একটা লোকের শুধু শুধু চাকরি খেয়ে সেখানে ওকে বসিয়েছিস। তুই সব জেনেশুনে…কেন রে শালা, আমরা ভিখিরির মতন তোর কাছে চাকরি চেয়েছিলুম? চাকরির কথা একবারও উচ্চারণ করেছি? তুই নিজে সেধে সেধে, ইচ্ছে করে, ওকে বিপদের মধ্যে পাঠিয়েছিস! এই সুযোগে তুই আমাকেও ইনসাল্ট করলি। আমার ওপর তোর বরাবরের হিংসে! কিন্তু আমরা এমনি তোকে ছেড়ে দেব ভেবেছিস! আমরা দু’জনে মিলে ডিসাইড করেছি, তোর একটা চোখ গেলে দেব!

    প্রথমটায় বেশ অবাক হয়ে সুরঞ্জন দত্তরায় ভুরু তুলে রইলেন। তারপর মুখে একটা পাতলা হাসি ছড়িয়ে পড়ল। তিনি বললেন, তুই আমার বাড়িতে ধেয়ে এসেছিস আমার একটা চোখ নষ্ট করে দেবার জন্য?

    মেজমামা দৃঢ়স্বরে বললেন, হ্যাঁ। নাথিং লেস দ্যান দ্যাট।

    সুরঞ্জন দত্তরায়, নীচের ঠোঁট কামড়ে কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করলেন। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, দ্যাখ পিন্টু, তোর বোধহয় মনে নেই, কিন্তু আমি আজও মনে রেখেছি, তুই একবার আমার জীবন বাঁচিয়েছিলি। শিবপুরে আমি গঙ্গায় ডুবে গেসলাম। তুই আমার জীবন বাঁচিয়েছিলি, এখন তুই এসে যদি আমার একটা চোখ নিয়ে নিতে চাস, তাতে আমি আপত্তি করতে পারি না। আমি এত যভদ্র নই। ঠিক আছে, কোন্ চোখটা চাই? ডান চোখ, না বাঁ চোখ! ডান চোখ, না বাঁ চোখ! ইউ ডিসাইড!

    মেজমামা আমার দিকে একবার তাকিয়ে বললেন, বাঁ চোখটাই ভালো? কি বল?

    সুরঞ্জন দত্তরায় আবার জোরে জোরে বললেন, ডান চোখ, না বাঁ চোখ? ডান চোখ, না বাঁ চোখ? ভেবে বল্!

    মেজমামা বললেন, বাঁ চোখ, বলছি তো!

    সুরঞ্জন দত্তরায় এবার এমন জোরে অট্টহাস্য করে উঠলেন যে আমরা দু’জনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলুম। দেয়াল ফাটিয়ে হাসছেন, হাসি থামতেই চায় না।

    মেজমামা এগিয়ে গিয়ে ওর কাঁধ ধরে একটা ঝাঁকুনি দিলেন।

    সুরঞ্জন দত্তরায় চোখ থেকে চশমাটা খুলে বললেন, এবারও হেরে গেলি পিন্টু! বাঁ চোখটা দ্যাখ ভালো করে। পাথরের। ইউরোপে একবার আমার খুব বড় অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল মনে নেই? তোকে চিঠিতে জানিয়েছিলুম! কার অ্যাকসিডেন্টে এই বাঁ চোখটা একেবারে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে ওদেশের খুব ভালো ব্যবস্থা আছে, এমন পাথরের চোখ বসিয়ে দিয়েছে যে বোঝাই যায় না। আমার কোনো খরচই লাগেনি।

    আমরা দু’জনেই কাছে গিয়ে দেখলুম, কথাটা মিথ্যে নয়। ওঁর বাঁ চোখটা একেবারে স্থির।

    সুরঞ্জনের দৃষ্টিতে কিছু একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল, আমার অবচেতনে খটকা লেগেছিল, সেই জন্যই কি ওঁর চোখ গেলে দেবার কথা মনে হয়েছিল আমার?

    উনি বললেন, বোস্ বোস্! কী খাবি বল। আমার এই অ্যাকসিডেন্টটা হয়েছিল বিয়ের আগে। সুতরাং আমার বউ প্রতিমাকে কোনোদিনই আমি দু’চোখ ভরে দেখিনি। এক চোখ দিয়ে দেখি বলেই বোধহয় বেশি সুন্দর লাগে। এতদিন ধরে লাগছে!

    সোফায় বসে পড়ে তিনি হাঁক দিলেন, বেয়ারা ড্রিংকস লাগাও! ওপর থেকে স্ন্যাকস দিতে বলো।

    পাইপটা আবার টানতে টানতে তিনি বললেন, তোকে একটা কায়দা শিখিয়ে দি। একে বলে ফোর্সিং। সাইকোলজিক্যাল ফোর্সিং! তোরা আমার বাঁ চোখের বদলে ডান চোখটাও তো চাইতে পারতি! কিন্তু ঐ যে বার বার বলতে লাগলাম, ডান চোখ না বাঁ চোখ, ডান চোখ না বাঁ চোখ। অধিকাংশ লোক শেষেরটাই বেছে নেয়। আমি যদি বলতুম, চাঁপা না গোলাপ, চাঁপা না গোলাপ, তুই বলতি গোলাপ

    মেজমামা গোমড়া মুখ করে বললেন, হুঁ! তাই বুঝি?

    বেয়ারা কয়েকটি গেলাশ, সোডা, জলের বোতল ও ডিকাণ্টার নিয়ে এল। কলকাতার বড় বড় কোম্পানির ম্যানেজার সাহেবদের বাড়িতে প্রিমিয়াম স্কচ খাওয়ানোই এখন রেওয়াজ, কিন্তু ডিকান্টার রাখা খুব বেশি কায়দা!

    একটা গেলাশে শুধু পানীয় ঢেলে সুরঞ্জন দত্তরায় বললেন, এত রাগারাগি কিসের? এখন ওয়েস্ট বেঙ্গলের যা অবস্থা, তাতে যে-কেউ নতুন চাকরিতে জয়েন করলেই সহকর্মীরা গোড়ার দিকে হোস্টাইল থাকে। ভাবখানা যেন এই, এ আবার কে উড়ে এসে জুড়ে বসল রে বাবা! দু’চার দিন একটু মানিয়ে চলতে হয়!

    মেজমামা বললেন, দু’চারদিন? প্রথম দিনই ওকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়েছিল এক জায়গায়!

    সুরঞ্জন দত্তরায় হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে বললেন, জোর করে ধরে নিয়ে গিয়েছিল? কোথায়? কারা? এ খবর তো আমার কানে আসেনি? ইউনিয়ানের ছেলেরা ধরে নিয়ে গেলে চমৎকার পুলিশ কেস হবে।

    মেজমামা বললেন, ওকে দীনেন বোসের বাড়িতে ধরে নিয়ে গিয়েছিল!

    —দীনেন বোস? ঐ স্কাউণ্ড্রেলটা আবার গুণ্ডাও পোষে বুঝি?

    —শাট আপ! ওর দুটো ফুটফুটে যমজ বাচ্চা আছে, ওকে তুই স্কাউণ্ট্ৰেল বলছিস কোন্ সাহসে! তোর নিজের ছেলেপুলে নেই? তুই কোন্ কাণ্ডজ্ঞানে ওকে সাসপেণ্ড করলি?

    –দ্যাখ পিন্টু, সুন্দর দেখতে ছেলেপুলে থাকা বুঝি কোনো অফিস ওয়ার্কারের কোয়ালিফিকেশান হতে পারে? ওর যমজ বুঝি? সেটা জানতুম না। কিন্তু অনেকের তো তিন চারটে ছেলেমেয়েও থাকতে পারে। সো হোয়াট? ঐ দীনেন বোস কী করেছে জানিস?

    —কী করেছে?

    —কেউ কাজে ভুল করলে শাস্তি দেওয়া যাবে না? এই জন্যই তো এদেশের অফিস-টফিসের কাজকর্মের এই অবস্থা! কেউ কাজ করবে না, ফাঁকি মারবে। কিন্তু কিছু বলতে যাও, অমনি স্ট্রাইক। ওয়ার্ক কালচার বলতে কিছু নেই।

    -লেকচার মারিস না, রঞ্জু! এই কেসটা কী হয়েছে, সেটা বল।

    —দীনেন বোসের কেসটা শুনবি! ঐ দীনেন বোস, ও ধরাধরি করে কাজ পেয়েছিল। মোস্ট ইনএফিসিয়েন্ট! ফাঁকিবাজ, সীটে থাকে না। সেসবও না হয় সহ্য করা গেল। কিন্তু কত চিঠি যে হারায় তার ঠিক নেই। এর মধ্যে দুটো চিঠি হারিয়েছে, তার মধ্যে একটা সাত লাখ আর একটা একুশ লাখ টাকার অর্ডার সাপ্লাইয়ের ব্যাপার ছিল। তুই জানিস নিশ্চয়ই অর্ডার সাপ্লাইয়ের ব্যাপার টাইম বাউণ্ড হয়, ঠিক সময়ের মধ্যে মাল ডেলিভারি না দিতে পারলে অর্ডার ক্যানসেল তো হয়েই যায়, উপরন্তু খেসারত দিতে হয়। এতগুলো টাকার ক্ষতি হয়ে গেলেও কোম্পানি ওকে কোনো শাস্তি দেবে না, কোলে বসিয়ে আদর করবে?

    –সত্যি তোদের কোম্পানির অত টাকা ক্ষতি হয়েছে?

    -অফ কোর্স! তাও তো ওকে আমি জেলে না দিয়ে শুধু সাসপেণ্ড করেছি। মালিক বলেছিল, ও ইচ্ছে করে চিঠি দুটো গাপ্ করেছে, এই অভিযোগ দেখিয়ে ওর নামে থানায় ডায়েরি করতে।

    —মালিক জানে যে ওর দুটো ফুটফুটে, সুন্দর, যমজ বাচ্চা আছে? সে বেচারারা তো কোনো দোষ করেনি?

    —দ্যাখ পিন্টু, এরকম অদ্ভুত কথা বলিসনি। কারুর যদি খুনের দায়ে ফাঁসি হয়, তখন কি বিচারক দেখতে যাবে যে সেই খুনীর সংসারে বাচ্চা ছেলেমেয়ে আছে কিনা! তাহলে তো আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু থাকেই না। যাদেরই ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আছে, তারা মহা আনন্দে যত খুশী বে-আইনি কাজ করে যাবে!

    মেজমামা আর কোনো যুক্তি খুঁজে না পেয়ে নখ খুঁটতে লাগলেন।

    সুরঞ্জন দত্তরায় এবার আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বেঁকিয়ে বললেন, ইউনিয়ানের ছেলেরা বলছে, ঐ দীনেনের জায়গায় অন্য কোনো লোককে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিতে দেবে না। আলবাৎ দেব! আমাকে অফিস চালাতে হবে না? আমি আশা করেছিলাম, তোমার বুকের পাটা আছে, তুমি দাপটের সঙ্গে নিজের জায়গা বুঝে নেবে! তুমি একটুতেই ব্যাক আউট করবে? হেরে গেলে?

    সুরঞ্জন দত্তরায়কে এত সহজে জিততে দেওয়া যায় না।

    আমি এবার বললুম, আপনি আমাকে ব্যাকগ্রাউণ্ডটা আগে জানাননি কেন? অন্য একজনের অন্ন মেরে আমি চাকরি করতে চাইব, একথা আপনাকে কে বলেছে? এখানে বুকের পাটার কোনো প্রশ্নই আসে না!

    মেজমামা আবার নবোদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়ে বললেন, ঠিক ঠিক! একশোবার ঠিক! সাপ্রেশান অফ ফ্যাক্‌ট ইজ আ ক্রাইম! এই চাকরির পেছনে যে এত ঝঞ্ঝাট আছে, সে কথা তুই আগে বলিসনি কেন? অফিসের অন্য সব স্টাফ দীনেনকে সাপোর্ট করছে, সেখানে নতুন কেউ পোস্টে গিয়ে কাজ করতে পারে? আমার ভাগ্নে কি ভিখিরি, খেতে পায় না? তোর পায়ে ধরে চাকরির জন্য সেধেছিল?

    —সব চাকরিতেই এরকম কিছু না কিছু ঝঞ্ঝাট থাকেই!

    –তোর ছেলে আছে? বল, তোর ছেলে আছে?

    -হ্যাঁ, আছে। এবার পার্ট টু দেবে!

    –বেশ, ভালো কথা। তুই অফিসের ম্যানেজার হিসেবে একজনের কাজের গাফিলতির জন্য সাসপেণ্ড করেছিস। বুঝলুম সেটা। কিন্তু ঐ রকম একজনকে সাসপেণ্ড করা পোস্টে কি তুই তোর ছেলেকে চাকরিতে বসাবি কখনো?

    সুরঞ্জন দত্তরায় উত্তর দিতে একটু ইতস্তত করতেই মেজমামা তাঁকে আরও চেপে ধরে বললেন, দিতি কি না বল! ইয়েস অর নো? ইয়েস অর নো? ইয়েস অর নো?

    —নো!

    —হা-হা-হা-হা! সাইকোলজিক্যাল ফোর্সিং। একটু আগে তোর কাছ থেকেই শিখেছি। ডান চোখ না বাঁ চোখের মতন, তুইও ইয়েস আর নো-র মধ্যে দ্বিতীয়টা বেছে নিলি। নিজের ফাঁদে নিজেই পা দিয়েছিস চাঁদু! যে-রকম জায়গায় তুই নিজের ছেলেকে পাঠাতিস না, সে-রকম জায়গায় তুই আমার ভাগ্নেকে পাঠালি কেন? বল, বল, উত্তর দে!

    এবার সুরঞ্জন দত্তরায়ও চুপ করে গেলেন।

    মেজমামা বললেন, তা হলে তুই আমাদের সঙ্গে চিটিং করেছিস, এটা স্বীকার করছিস?

    সুরঞ্জন দত্তরায় এক চুমুকে নিজের গেলাশের পানীয় শেষ করে বললেন, তুই কিছু খাচ্ছিস না, পিন্টু? সিভাস রিগ্যাল!

    মেজমামা বললেন, আমাকে স্কচের লোভ দেখাসনি! আমাদের দেশে শস্তার বাংলা মদ যা, সিঙ্গাপুরে স্কচও তাই। তুই যখন আসবি, তখন তোকে প্রিমিয়াম স্কচে চোবাবো! এখন বল, তুই আমাদের সঙ্গে এরকম ব্যবহার করলি কেন? নীলু বেচারা এমন শক পেয়েছে, বাড়িতে এসে বলছে যে, জীবনে আর কোনো দিন কোনো চাকরিতে যাবে না!

    —আই মাস্ট কম্‌পেনসেট দেন। আমি আর একটা প্রস্তাব দেব?

    –কী শুনি?

    —আজ আমাদের কোম্পানির গোডাউনে ইনস্পেকশনে গিয়েছিলুম। ওখানে জনা বারো স্টাফ আছে। আজ গিয়ে বুঝলুম, ওখানে একটা টাইম কীপারের পোস্ট ক্রিয়েট করা দরকার। একজন কেউ অফিসার শ্রেণীর থাকবে, যে অন্য স্টাফদের আসা-যাওয়ার দিকে নজর রাখবে!

    —শুনেই মনে হচ্ছে বাজে কাজ!

    –না রে, না! একটা আলাদা ঘর থাকবে গোডাউনের গেটের কাছে। কাজ খুব হালকা। শুধু বসে থাকা। যে-যখন আসবে-যাবে টাইম নোট করে রাখা। অন্য সময়ে সে ইচ্ছে করলে গল্পের বই পড়তে পারে। এই কাজটা নীলু করতে পারবে না? মাইনে একই পাবে!

    মেজমামা ও সুরঞ্জন দত্তরায়ের পরবর্তী কয়েকটা সংলাপ আমি শুনতে পেলুম না। আমার চোখ চলে গেছে সিঁড়ির দিকে। নীল শাড়ি পরে কেউ নেমে আসছে ওপর থেকে, প্রথমে দেখা যাচ্ছে শুধু পা। বুকটা ধক করে উঠল। নীলা? এখানে, এই বাড়িতে নীলা কী করে আসবে, সে প্রশ্নও আমার মনে জাগল না।

    মেজমামা আমার গায়ে একটা ধাক্কা দিয়ে বললেন, কী রে, তুই শুনছিস না? এ প্রস্তাবটা তো ভালোই মনে হচ্ছে!

    আমি চমকে উঠে বললুম, কী?

    মেজমামা বললেন, দমদমের এই পোস্টটা। তুই একলা একটা ঘর পাবি। কেউ তোকে ডিসটার্ব করবে না। সব সময় মাথার ওপর কোনো বস্ত্ত থাকবে না। ছোড়দি কত খুশি হবে বল্। ছোট ছেলে চাকরি পেয়েছে শুনে তোর মা কাল যেমন খুশিতে ডগবগ করছিল, আজ তেমনি নিরাশ হয়ে গিয়েছিল। এখন গিয়ে বলতে পারব, নীলুর চাকরি ঠিকই আছে। নীলু সম্মানের সঙ্গেই চাকরি করবে।

    সুরঞ্জন দত্তরায় বললেন, এই চাকরিটা তুমি নিশ্চিন্তে নিতে পারো, নীলু। একদম নতুন পোস্ট। তোমার মনে কোনো গিল্টি কমপ্লেক্স থাকবে না। তা ছাড়া, যত ছোট অফিস, তত ঝামেলা কম।

    —তুই ঠিক বলছিস, রঞ্জু? এ চাকরির পেছনে কোনো গ্যাঁড়াকল নেই?

    —আই প্রমিস! ঠিক আছে, এক কাজ করা যেতে পারে। কাল সকালে আমার গাড়িতে তোকে আর নীলুকে তুলে নেব। আমি নিজে নীলুকে সব কাজ বুঝিয়ে দিয়ে বসিয়ে আসব চেয়ারে। তুইও দেখেশুনে বুঝে আসতে পারবি, পি, অবস্থাটা।

    —তাহলে তো খুব ভালো কথা। আমি নিজে দেখলে অবস্থাটা ঠিক বুঝতে পারব!

    –তোর দিদির বাড়িতে আমি হাজির হব ঠিক পৌনে আটটার সময়!

    আমার চোখ চলে গেছে আবার সিঁড়ির দিকে। নীল শাড়ি নয়, চওড়া নীল পাড়, বাকি অংশটা জংলা ধরনের। যে নেমে আসছে, সে নীলা নয়। অন্য একজন।

    এবার আমার স্থির দৃষ্টি অনুসরণ করে মেজমামা এবং তাঁর বন্ধুও মুখ ফেরালেন। মেজমামা চমকে উঠে বললেন, ও কে?

    সুরঞ্জন দত্তরায়ের মুখে যেন একটা মেঘের ছায়া পড়ল। তিনি আস্তে আস্তে বললেন, আমার বড় মেয়ে!

    মেজমামা বললেন, অবিকল যেন তোর মায়ের মুখখানা বসানো! শেষ যে—বার তোর মাকে দেখি, তখনো যেন তাঁর একটুও বয়েস বাড়েনি!

    সুরঞ্জন দত্তরায় আরও আস্তে, করুণ গলায় ফিসফিস করে বললেন, আমার মেয়ে শ্রেয়া, ঠিক সুস্থ নয়। শী ইজ আ মোঙ্গল চাইল্ড, অনেক জিনিসই এখনো বোঝে না। ও যদি তোদের সঙ্গে ঠিক মতন ব্যবহার না করে, তোরা কিছু মনে করিস না। আমারও সমস্যা কম নয় রে, পিন্টু!

    তারপর তিনি মুখ তুলে বললেন, শ্রেয়া এদিকে এসো। তোমার একজন আংকল এসেছেন বিদেশ থেকে।

    মেয়েটি কোনো ভ্রূক্ষেপও করল না। মাটির দিকে চেয়ে, কিছু যেন একটা খুঁজতে খুঁজতে বসবার ঘরে দু’-এক পাক ঘুরল, তারপর চলে গেল পেছনের একটা দরজা খুলে।

    তার বাবা ও মেজমামা আরও দু’-একবার তাকে ডাকলেন কাছে। কিন্তু সে যেন শুনতেই পেল না কোনো ডাক।

    এরপর ওঁরা দু’জনে ছেলেমেয়েদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে লাগলেন একটুক্ষণ। আমি চিন্তা করতে লাগলুম নীলার কথা।

    নীলা আজ শেষ কথা বলেছিল, আমাকে ধরে রাখো, চলে যেতে দিও না!

    আমি সে কথার অর্থ বুঝতে পারিনি।

    একটু বাদে মেজমামা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, চল নীলু, এবার বাড়ি যাওয়া যাক।

    সুরঞ্জন দত্তরায় বললেন, তা হলে ঐ কথাই রইল, কাল সকালে আমি তোদের তুলে নিচ্ছি। নো মোর ব্যাড ফিলিংস?

    মেজমামা বললেন, নো মোর ব্যাড ফিলিংস! তবে, একটা শুধু খটকা রয়ে গেল, রঞ্জু! তুই যে ফোর্সিং-এর কথা বললি তখন, ওটা সব ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই খাটে না। আমি যদি বলতুম, তোর ডান চোখটা চাই। তাহলে তুই কী করতিস?

    সুরঞ্জন দত্তরায় বললেন, সে উত্তরটাও আমার রেডি ছিল। ভেরি সিম্‌পল! তুই বাইচান্স ডান চোখ চাইলি তখনো আমি চশমাটা খুলে বাঁ চোখটা দেখাতুম। তারপর বলতুম, ডান চোখটা খুবলে নিলে আমি একেবারে অন্ধ হয়ে যাব। তোরা তো আমাকে শুধু কানা করতে চেয়েছিস, অন্ধ করতে তো চাসনি। ডান চোখটা নিলে তোদের কথার খেলাপ হয়ে যাবে!

    মেজমামা বললেন, নিয়তির কি বিচিত্র কারখানা! এক এক সময় একটা পাথরের চোখও কত কাজে লেগে যায়!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025
    Our Picks

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }