Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধেক মানবী – ৪

    ৪

    পার্টি অফিসটায় নতুন রং করা হয়েছে। কাছে গেলেই গন্ধ পাওয়া যায়। কলকাতার অন্যান্য বাড়ির সঙ্গে এই বাড়িটার একটা বিশেষ তফাৎ এই যে, এর দেয়ালে কোনো পার্টির শ্লোগান লেখা নেই।

    সামনে দু’-তিনটি গাড়ি ও অনেকগুলি স্কুটার-সাইকেল। বেশ লোকজনের যাওয়া-আসার ব্যস্ততা।

    আমার মাথার মধ্যে চিড়িক চিড়িক করে ব্যথাটা শুরু হয়ে গেল।

    এই রে, ব্যথাটা হঠাৎ খুব বেড়ে যাবে নাকি? ব্যথাটা আরম্ভ হলেই পা-দুটো দুর্বল লাগে, শুয়ে পড়তে ইচ্ছে করে। এখন এলেবেলে কথা শুনতে হবে কতক্ষণ তা কে জানে।

    মূল দরজাটার ঠিক পাশেই দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে। গাঢ় নীল রঙের শাড়ি পরা, মাথার চুল খোলা, একটু আগেই বৃষ্টিতে ভিজেছে বোধ হয়, মুখে কয়েক ফোঁটা জলের বিন্দু।

    মেয়েটি সোজা চেয়ে আছে আমার দিকে। দিন-দুপুরে আমার বুকটা কেঁপে উঠল।

    কাল রাত্তিরে ছাদে এই মেয়েটিকেই দেখেছিলুম না? তখন বৃষ্টি ও অন্ধকার ছিল, বিদ্যুৎচমকে একবার মাত্র দেখা গিয়েছিল। আমার দিকে চেয়ে হাসছিল সে। না, ছাদে সত্যিকারের কোনো মেয়ে ছিল না। ওটা আমার চোখের ভুল। দ্বিতীয়বার বিদ্যুৎচমকে আর তাকে দেখা যায়নি। এমন চোখের ভুল আমার আগে কখনো হয়নি, আমি কোনোদিন ভূত বা পেত্নী দেখিনি।

    কিন্তু কাল রাত্তিরে ছাদে অবিকল রক্তমাংসের মানবীর মতন একজনকে দেখেছিলাম, এটাও যেমন ঠিক, আবার একটু পরেই সে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল, এটাও ঠিক। আমি ছিলুম সিঁড়ির দরজার দিকে, সুতরাং সেখান দিয়ে কোনো মেয়ের চট করে নেমে যাওয়ারও সম্ভাবনা ছিল না। সুতরাং কাল্পনিক নারী হতে বাধ্য। যদিও বৃষ্টির মধ্যে ছাদের পাঁচিলে ঠেস দিয়ে দাঁড়ানো একটি মেয়েকে আমি খামোখা কল্পনা করতে যাব কেন, তাই-ই বা কে জানে!

    সেই কাল্পনিক মেয়েটির সঙ্গে এই নীল শাড়ি পরা মেয়েটির মুখের আশ্চর্য মিল। এ মেয়েটি তো আর অবাস্তব হতে পারে না। এখন পৌনে বারোটা বাজে, সদ্য বৃষ্টি থেমে এক ঝলক রোদ উঠেছে। সেই রোদ পড়েছে মেয়েটির মুখে। ওর ব্লাউজের রং লাল, চটির রং লাল, তার কানেও দুটি লাল পাথরের দুল, এগুলো কি কল্পনা হতে পারে নাকি?

    মেয়েটি সোজাসুজি তাকিয়ে আছে আমার দিকে। ও কি আমাকে চেনে? হাসি হাসি মুখ করে আছে। আমি চট করে মাথা ঘুরিয়ে একবার পেছনটা দেখে নিলুম, হয়তো অন্য কারুর দিকে চেয়ে ও হাসছে। কিন্তু আমার ঠিক পেছনে কেউ নেই।

    পৃথিবীতে কত মেয়েকে দেখলে মনের ভেতরটা আকুলি-বিকুলি করে, ব্রাউনিং-এর কবিতার মতন বলতে ইচ্ছে করে, তোমার সমগ্র জীবন থেকে আমাকে একটিমাত্র মুহূর্ত দাও! বলতে ইচ্ছে করে, কিন্তু বলা হয় না। অচেনা কোনো মেয়ের সঙ্গে আলাপ করার বিন্দুমাত্র প্রতিভা নেই আমার।

    মেজমামা ভেতরে ঢুকে গিয়েও মাথা ঘুরিয়ে বললেন, এই নীলু, কী হলো, বাইরে দাঁড়িয়ে রইলি কেন, কেটে পড়বার মতলবে আছিস নাকি?

    মেজমামা ফিরে এসে হাত ধরে টানাটানি করবেন, এই ভয়ে আমাকেও ভেতরে ঢুকে পড়তে হলো। মেয়েটি একটু যেন কৌতুকের হাসি দিল সেজন্য।

    মেজমামা একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, রথীন তালুকদারকে কোথায় পাব? লোকটি বেশ আগ্রহের সঙ্গে বলল, রথীনদা? চলে যান, দোতলায় উঠে ডান দিকের বারান্দায় প্রথম দু’খানা ঘর ছেড়ে…।

    দোতলায় উঠে দেখা গেল একটা টানা বারান্দা। অনেকগুলো ঘর। আর একটি লোককে জিজ্ঞেস করতে সেও একই রকম ভাবে বলল, রথীনদা? ঐ যে দরজাটা এক পাল্লা খোলা দেখছেন…।

    সেই ঘরের মধ্যে অনেক লোকজন, নানারকম গুঞ্জন। দরজার কাছে পাহারাদারের ভঙ্গিতে একজন যুবক দাঁড়িয়ে। রথীন তালুকদারের নাম শুনে বলল, চলে যান ভেতরে, ঐ যে মাঝখানে বসে আছেন!

    নির্মল পত্রনবীশের ঘরে লোকজন বিশেষ ছিল না, তবু আমাদের আটকান হচ্ছিল। এখানে কেউ কোনোরকম বাধা দেয় না।

    ঘরের মধ্যে চেয়ার-টেবিল নেই, একটা নীচু চৌকির ওপর ফরাস পাতা। একজন মাঝবয়েসী, মাঝারি স্বাস্থ্যের লোককে ঘিরে বসে আছে দশ-বারোটি নারী—পুরুষ। ভদ্রলোকের দু’ পাশে দুটি লাল ও নীল টেলিফোন, তিনি অনেকের সঙ্গেই পর্যায়ক্রমে কথা বলছেন, আবার মাঝে মাঝে টেলিফোন তুলছেন।

    চৌকিটার কাছে গিয়ে এখন দাঁড়ালেও তিনি আমাদের দিকে তাকালেন না। মেজমামা দু’বার গলা খাঁকারি দিলেন, তাতেও কোনো কাজ হলো না।

    অসহিষ্ণুভাবে মেজমামা বললেন, রথীন, কেমন আছিস? তাকিয়ে দ্যাখ কে এসেছে!

    ভদ্রলোক এবারেও মেজমামার দিকে না তাকিয়ে বললেন, হয়ে যাবে, সব ঠিক হয়ে যাবে!

    মেজমামা আবার বললেন, রথীন তালুকদার, মস্ত বড় লিডার, একবার মুখখানা তোলো বাপ!

    ভদ্রলোক বললেন, লিডার আবার কি! জনগণই সব শক্তির উৎস!

    ধৈর্য হারিয়ে মেজমামা হেঁকে বললেন, অ্যাই রথীন! তোদের নামে আমি মামলা করব। ব্যাটা গভর্নমেন্ট চালাচ্ছিস তোরা, আর রাস্তায় ইয়া বড় বড় গর্ত নর্দমা, হাইড্র্যান্টের ঢাকনা নেই, কত লোকের পা ভাঙছে, আমারই তো পা মচকে গেছে, এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে?

    ঘরের অন্য সকলে এক নিমেষে চুপ করে গেছে। রথীন তালুকদার মুখ তুলে প্রশ্রয়ের হাসি দিলেন একটা। তারপর ভাবগম্ভীর স্বরে বললেন, সমাজ—দেহের সারা জায়গায় এত ক্ষত, আর আপনি সামান্য রাস্তার গর্ত নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন? আগে আসুন, আমরা সবাই মিলে সমাজটাকে বদলাই, সুস্থতা ফিরিয়ে আনি, তারপর রাস্তা সারাবার কথা ভাবা যাবে।

    কথাগুলো তিনি বললেন আবৃত্তির সুরে। আগে থেকে তৈরি করা এবং অনেকবার বলতে হয়, তা শুনলেই বোঝা যায়।

    বলা শেষ করেই তিনি অন্য একজনের দিকে তাকিয়ে বললেন, হ্যাঁ। ঐ বস্তিতে কত ভোটার বললে? সাড়ে তিন শো। কতজন মেল, কতজন ফিমেল? মেজমামা এক পা এগিয়ে গিয়ে বললেন, অ্যাই রথীন, একবার তাকিয়ে দ্যাখ ভালো করে কে এসেছে। আমি পিন্টু। চিনতে পারছিস না নাকি? আমার তো নির্মলের মতন চেহারা পাল্টায় নি।

    —হ্যাঁ, হ্যাঁ, চিনতে পারব না কেন? বসুন, বসুন। আপনার বাবা কেমন আছেন?

    —বাবা? আমার বাবা তো কেটে পড়েছেন চোদ্দ বছর আগে। আমার বাবার শ্রাদ্ধে তুই নেমন্তন্ন খেয়েছিলি মনে নেই?

    —আপনাদের ওখানকার পার্টি অফিসটা বড় করতে হবে। একটা ঘর না বাড়ালেই নয়।

    —অ্যাঁ, পার্টি অফিস? আমাদের ওখানে কোনো পার্টিই নেই।

    —আপনারা কত চাঁদা তুলতে পারবেন?

    —চাঁদা? সিঙ্গাপুরে কেউ চাঁদা তুলতে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে জেলে ভরে দেবে। এবার আমি লক্ষ্য করলুম, রথীন তালুকদার সামান্য লক্ষ্মী ট্যারা। উনি মেজমামার দিকে তাকিয়ে থাকলেও কথা বলছেন পাশের লোকটির সঙ্গে। মেজমামা একরকম উত্তর দিচ্ছেন, পাশের লোকটিও অন্যরকম উত্তর দিয়ে যাচ্ছে।

    রথীন তালুকদার আবার মেজমামার দিকে চেয়ে থেকেই বললেন, বুর্জোয়া শোষণ ব্যবস্থা আর সাম্প্রদায়িকতা, এই দুটোর বিরুদ্ধে আমাদের সব সময় লড়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, পার্টি মেম্বার মানেই প্রত্যেকে এক একজন অতন্দ্র প্রহরী!

    মেজমামা এবার খুব রেগে গিয়ে প্রবল গলা চড়িয়ে বললেন, তখন থেকে আমার ওপর বড় বড় বুকনি ঝাড়ছিস যে বড়। আমি পিন্টু, আমাকে তুই চিনিস না? শালা, আমাকে না-চেনার ভান করছিস? চ্যালা-চামুণ্ডা নিয়ে বসে আছিস বলে এতক্ষণ কিছু বলিনি। এবার মারব এক থাবড়া? খুব বড় নেতা হয়েছিস, না?

    মেজমামা সত্যি সত্যি মারার জন্য হাত তুললেন। আমি প্রমাদ গনলুম। চ্যালাদের কাছে ছুরি কিংবা বোমা থাকা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। আজকাল যে—কোনো পার্টির চ্যালাদেরই প্রথম যোগ্যতা ছুরি কিংবা বোমা চালাতে জানা। মেজমামা একা শুধু গায়ের জোরে কী করবেন?

    অন্য নারী-পুরুষরা একসঙ্গে গুনগুন করে কী যেন বলে উঠল। দু’জন উঠে দাঁড়াল। রথীন তালুকদার বাঁ হাত তুলে তাদের নিবৃত্ত করে কয়েক পলক তাকিয়ে রইলেন মেজমামার দিকে। তারপর তিনিও হঠাৎ হো-হো করে হেসে উঠে বললেন, পিনাকপানি! পিনাকপানি! তাই বল। তখন থেকে পিন্টু পিন্টু করছিস কেন? পিনাকের মতন গলাটা চড়ালি বলেই তো চিনতে পারলুম। রোজ এখানে অন্তত পাঁচজন করে পিন্টু আসে। খুব কমন নাম। পিন্টু, হেবো, বঙ্কা, গুল্লু এইসব নামেই আজকাল এরা অনেকে নিজেদের পরিচয় দেয়, ভালো নাম-টাম কেউ বলে না। তারপর পিনাক, তোর কী খবর বল? তুই এখন দুর্গাপুরেই আছিস? মেজমামা আবার ভুরু কুঁচকে বললেন, দুর্গাপুরে? আমি আবার সেখানে ছিলুম কবে, আমি তো থাকি সিঙ্গাপুর।

    রথীন তালুকদার বললেন, ও হ্যাঁ, ভুলে গিয়েছিলাম। আচ্ছা দাঁড়া এক মিনিট

    তিনি অন্য একজনের দিকে ফিরে বললেন, এই তোদের পাড়ার দেওয়ালগুলো অন্য পার্টি ক্যাপচার করল কী করে? দেয়াল একদম ছাড়া চলবে না। দেয়াল দখলটাই আসল লড়াই। দেয়াল আমাদের চাই।

    আর একজনকে বললেন, গুল্লু, তোদের ওখানে আরো হকার বসা। রাস্তার দুধারে মোটে পঁচিশ-তিরিশটা হকার দেখলুম সেদিন। অন্তত দেড়শোজন হকার না হলে স্ট্রং ইউনিয়ন হবে না। আরও হকার ডেকে এনে পুরো ফুটপাথ ঢেকে দে!

    আর একজনকে বললেন, তোমাদের ওখানে খালের ওপর একটা ব্রীজ চাই? হ্যাঁ, ছোটখাটো একটা কাঠের ব্রীজ আপাতত দরকার, সেটা আমিও দেখে এসে বুঝেছি। মিউনিসিপ্যালিটিকে বলে এক্ষুনি একটা ব্রীজ বানিয়ে দিতে পারি। পি ডবলু ডি-র ফাণ্ড থেকেও দেওয়া যেতে পারে কিছু টাকা। কিন্তু ব্রীজের ওপারটায় কারা থাকে? সব অন্য পার্টির সাপোর্টার। গতবার আমাদের এগেইনস্টে ভোট দিয়েছে। দেয়নি? ঐসব হারামজাদা, নিমকহারামদের জন্য গভর্নমেন্টের পয়সা খর্চা করে ব্রীজ বানান হবে? আমরা ব্রীজ বানাব, ওরা মজা লুটবে? ওসব চলবে না! আমাদের ক্যাডাররা গিয়ে বলুক, ওরা যদি পরের বার আমাদের ভোট দেয়, তবেই ব্রীজ পাবে।

    আবার তিনি মেজমামার দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন, হ্যাঁ, আপনার কী চাই বলুন!

    মেজমামা তড়পে উঠে বললেন, ফের ন্যাকামি হচ্ছে? আমার সঙ্গে আপনি আপনি?

    রথীন তালুকদার বললেন, ওঃ হো! পিনাকপানি! বড্ড ভুলে যাইরে আজকাল। এতে কাজ, এত লোকজন আসে, কোন দিকটা সামলাব!

    মেজমামা বললেন, তোর বড্ড ভুলো মন বরাবরই। ইউনিভারসিটিতে পড়ার সময় তোকে পাঁচশো টাকা ধার দিয়েছিলুম, সেটাও ভুলে মেরে দিয়েছিস! কোনোদিন ফেরৎ দিসনি।

    –না, না। সেটা ভুলব কেন? তোর কাছে বেশি টাকা ছিল তুই দিয়েছিস! আমার অভাব ছিল, আমি নিয়েছি। এটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার, তাই না? এর মধ্যে আবার ফেরৎ দেবার কোশ্চেন আসছে কোথা থেকে?

    —আমার বেশি টাকা ছিল? তুই পরীক্ষার ফি জোটাতে পারিসনি বলে আমি আমার মেডেল বিক্রি করে দিইনি? সে থাকগে, টাকা চাইতে আসিনি আমি, ভয় নেই। সেই টাকার চিন্তাতেই তুই আমাকে না চেনার ভান করছিলি?

    –আরে না, না, তোকে চিনব না কেন?

    —আমার বাবা ছোটবেলা থেকে তোকে পড়িয়েছেন। আমাকে একটা জামা কিনে দিলে তোকেও একটা জামা দিতেন। বাবা মারা যাবার সময় তুই হাউ হাউ করে কেঁদেছিলি! শ্রাদ্ধের দিন কত খাটাখাটনি করলি। সেই তুই আজ আমায় ক্যাজুয়ালি জিজ্ঞেস করছিস, বাবা কেমন আছে? বড় নেতা হলে বুঝি এইসব কথা ভুলে যেতে হয়?

    রথীন তালুকদার অন্যদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা সব এবার যাও। আমার এক পুরোনো বন্ধু এসেছে, এর সঙ্গে প্রাইভেট কথা আছে।

    সঙ্গে সঙ্গে সবাই হুড়মুড় করে উঠে গেল।

    একটু পরেই একজন এসে বড় ভাঁড়ে চা দিয়ে গেল।

    মেজমামা আর রথীন তালুকদার মেতে উঠলেন পুরোনো কালের গল্পে। আমি আর কান দিলুম না সেদিকে।

    বাইরে দেয়াল-ঘেঁষে দাঁড়ান মেয়েটি আমার দিকে চেনা-চেনা চোখে তাকিয়েছিল। ওকে কি আমি আগে কোথাও দেখেছি? কোথাও পরিচয় হয়েছিল? একটি সুশ্রী তরুণীর সঙ্গে আমার পরিচয় হলে তাকে আমি ভুলে যাব, এও কি সম্ভব?

    মেয়েটি কি এখনো দাঁড়িয়ে আছে দরজার বাইরে?

    বাথরুমে যাবার নাম করে একবার দেখে এলে হয় না? এরা দুই বন্ধু তো এখন গল্পে মত্ত। আমার মাথার ব্যথাটা কমে গেছে কখন যেন। চায়ের পরে সিগারেটেও দু’-একটান দিয়ে আসা দরকার।

    উঠতে যাচ্ছি, এমন সময় মেজমামা বললেন, শোন রথীন, এবার একটা কাজের কথা বলে নিই। তোর কাছে এসেছি একটা চাকরির জন্য।

    রথীন তালুকদার বলেন, সে কি, তুই এখনো চাকরি করিস না? এত বয়েস পর্যন্ত বেকার? এতদিন আমাকে কোনো খবর দিসনি কেন?

    মেজমামা চোখ পাকিয়ে বললেন, আমার জন্য বলছি না, ইডিয়েট। সিঙ্গাপুরে কি আমি ভ্যারেণ্ডা ভাজি? আমার এই ভাগ্নেটার জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তোদের হাতে তো এখন অনেক ক্ষমতা।

    রথীন তালুকদার এই প্রথম আমাকে দেখলেন। এতক্ষণ যে তাঁর বাল্যবন্ধুর পাশে আর একজন মানুষও বসে আছে, তা তিনি লক্ষ্যই করেননি।

    মেজমামা আমার পিঠ চাপড়ে বললেন, এই হচ্ছে আমার ভাগ্নে, নীলু। পড়াশুনোয় খুব একটা ভালো ছিল না। স্বভাবটাও বাউণ্ডুলে টাইপের। তবে মাঝারি চাকরির জন্য তো বেশি কিছু কোয়ালিফিকেশান লাগে না। বসিয়ে দে কোনো একটা পোস্টে।

    রথীন তালুকদার জিজ্ঞেস করলেন, বয়েস কত?

    মেজমামা বললেন, চব্বিশ-পঁচিশ হবে, তাই না রে নীলু?

    আমি শুকনো গলায় বললুম, সাতাশ।

    রথীন তালুকদার জিজ্ঞেস করলেন, কোন পার্টিতে আছে?

    মেজমামা আমার দিকে ফিরে বললেন, তুই কোনো পার্টি-ফার্টি করিস নাকি! আমি দু’দিকে মাথা নাড়লুম।

    রথীন তালুকদার একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বললেন, তা হলে তো ভাই আমি কিছু করতে পারব না। আমাদের পার্টি ওয়ার্কার ছাড়া তো কারুকে চাকরি দেওয়া যাবে না।

    মেজমামা বললেন, সে কি রে? সোজাসুজি এই কথা বললি? সরকারি চাকরি তা শুধু তোদের পার্টির ওয়ার্কাররা পাবে কেন? সরকার আর পার্টি কি এক?

    রথীন তালুকদার বললেন, এতে অবাক হবার কী আছে রে, পিন্টু? দেশে যখন আলাদা আলাদা পার্টি আছে, তখন যে-পার্টি যখন ক্ষমতায় আসবে, সেই পার্টি তখন নিজের পাতে যত বেশি পারে ঝোল টানবে, চাকরি-বাকরিগুলো নিজেদের ওয়ার্কার দিয়ে ভরাবার চেষ্টা করবে, এটাই তো স্বাভাবিক, সব দেশেই এরকম হয়।

    —তুই কটা দেশের খবর রাখিস রে? ইংল্যাণ্ডে রুলিং পার্টি এরকম ফেভারিটিজম দেখাবার চেষ্টা করলে গভর্নমেন্ট ফল করে যায়। ফ্রান্সে একবার…—ঠিক আছে, অন্য দেশের কথা বাদ দে। আমাদের দেশে এরকমই সিসটেম। ইণ্ডিয়ার অন্য স্টেটগুলোতে দ্যাখ না! এমনকি সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টেও কি আমাদের পার্টির কেউ চাকরি পাবে? পুলিস এনকোয়ারি করে নাকচ করে দেবে। ওরা ওদের পার্টির লোকদের চান্স দেয়, আমরাও আমাদের পার্টির ওয়ার্কারদের চান্স দেব। সোজা কথা।

    —তা হলে যে-সব ছেলেমেয়ে এ পার্টিতেও নেই, ও পার্টিতেও নেই, তারা কোথায় যাবে?

    —তারা ফরেনে চলে যাবে। তারা ইংল্যাণ্ড-আমেরিকায় চাকরি করতে চলে যায়।

    —এ কী সর্বনেশে কথা রে! সব ছেলেমেয়েকেই পার্টি পলিটিক্স করতে হবে? তা হলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কবি, শিল্পী, গায়ক এসব হবে কারা? চীন—রাশিয়াতেও তো সব ছেলেমেয়ে পার্টি মেম্বার হয় না।

    –আমরাও হতে বলছি না।

    —তা হলে যে চাকরি পাবে না বলছিস!

    —শোন, পিন্টু, রবীন্দ্রনাথের একটা গান আছে না, ‘ঘরেও নাহি, পারে নাহি, যে-জন আছে মাঝখানে, সন্ধ্যাবেলা কে ডেকে লয় তারে…।’ কে ডাকে বল তো? কেউ ডাকে না। সে নিজের চেষ্টায় যা পারে করবে। আমি তোর ভাগ্নের জন্য কিছু করতে পারব না।

    মেজমামা এক মিনিট থুতনি চুলকোতে চুলকোতে চিন্তা করলেন।

    তারপর আমার ঘাড়ে আর একখানা চাপড় মেরে বললেন, কুছ পরোয়া নেই। নীলু, তুই রথীনদের পার্টির ওয়ার্কার হয়ে যা। তা হলে প্রবলেম সল্ভড় হয়ে যায়। কী রে, রথীন, ও এখন ওয়ার্কার হতে পারে না?

    –তা হতে পারে। কোনো অসুবিধে নেই।

    —কী কী করতে হবে? কোনো খাতায় নাম লেখাতে হয়?

    —সেসব আমি ব্যবস্থা করে দেব।

    —নীলু, তুই তা হলে আজ থেকেই লেগে যা।

    আমি ডান হাতটা তুলে বললুম, আমি কি…আমি তো বোমা বাঁধতে জানি না। কালীপুজোর সময় তুবড়ি বানিয়েছিলুম একবার।

    রথীন তালুকদার ধমক দিয়ে বললেন, বোমা-টোমা আবার কি! ওসব নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। বোমা বানাবার অনেক লোক আছে। আমাদের চাই আদর্শ কর্মী। ডেডিকেটেড ওয়ার্কার। বইটই পড়ে নিতে হবে। তোমাদের পাড়ার লোকাল কমিটিকে আমি জানিয়ে দেব, ওরাই যোগাযোগ করবে তোমার সঙ্গে।

    মেজমামা উল্লাসের সঙ্গে বললেন, দ্যাট সেটলস ইট। গুড, ভেরি গুড। থ্যাঙ্ক ইউ, রথীন, বড্ড উপকার করলি! তা হলে আমার ভাগ্নেটাকে কী চাকরি দিচ্ছিস?

    -চাকরি? চাকরি এক্ষুনি কি?

    —এই যে বললি পার্টি ওয়ার্কার হলেই চাকরি পাবে?

    —সঙ্গে সঙ্গে? এ কি মামাবাড়ির আবদার নাকি রে? তা হলে তো চাকরি পাবার লোভে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে ছুটে এসে বলবে, পার্টি ওয়ার্কার হব! এতই সোজা? দেশে লক্ষ লক্ষ বেকার। সবাইকে কি চাকরি দিতে পারব? যারা আমাদের পার্টির সত্যি সত্যি সিনসিয়ার ওয়ার্কার হবে, সেটা প্রুভ করবে, তাদেরই জন্য চাকরির ব্যবস্থা করব।

    —সেটা প্রুভ করতে কতদিন লাগবে? ততদিন এই বেকারগুলো খাবে কি? নীলুকে তুই কতদিন পরে চান্স দিবি?

    –ওকে লাইনে থাকতে হবে। যারা আগে এসেছে, তারা আগে চান্স পাবে। ওর নম্বর হবে পাঁচ হাজার সাতশো তিরাশি।

    —তুই আমার সঙ্গে ইয়ার্কি মারছিস, রথীন! অতগুলো লোকের পর চা পেতে পেতে তো আমার ভাগ্নেটা বুড়ো হয়ে যাবে। কিংবা ওর টার্ন আসবার আগে মরেই যাবে হয়তো।

    —আর একটা উপায় হচ্ছে, পাঁচ হাজার সাতশো তিরাশি টাকা চাঁদা যদি দিতে পারে।

    -ঘুষ? চাকরির জন্য ঘুষ?

    —ঘুষ নয়, চাঁদা। পার্টি ফাণ্ডে।

    —দ্যাখ রোথো, আমার সহ্যের একটা সীমা আছে। তুই আমার ভাগ্নের একটা চাকরির জন্য আমার কাছে ঘুষ চাইছিস?

    —ঘুষ নয় ভাই, পার্টি ফাণ্ডে চাঁদা! কোন্ পার্টি এভাবে চাঁদা তোলে না বল তো? সবাই তোলে।

    —যে-পার্টিই তুলুক। স্বেচ্ছায় দিলে তাকে বলা যায় চাঁদা। প্রেসার দিয়ে আদায় করলে তাকেই বলে ঘুষ! হারামজাদা, তুই কতদিন আমাদের বাড়িতে খেয়েছিস, থেকেছিস, ঘুমিয়েছিস, এখন তুই আমার ভাগ্নের একটা চাকরির বদলে ঘুষ চাইছিস

    —তুই শুধু শুধু আমার ওপর রাগ করছিস পিন্টু। পার্টির নীতি কিংবা নির্দেশ আমি অগ্রাহ্য করতে পারি না। এখানে আমি ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব কিংবা আত্মীয়তাকেও প্রশ্রয় দিই না। তুই সিঙ্গাপুরে বড় চাকরি করিস, এই কটা টাকা দিতে তোর এমন কি অসুবিধে হবে?

    —এক পয়সাও দেব না। অন প্রিন্সিপাল দেব না! চল নীলু, তুই সারাজীবন বেকার থাকবি তাও সই, তবু খবর্দার মাথা নোয়াবি না! পলিটিক্সের নিকুচি করেছে! চোখের চামড়া পর্যন্ত নেই, আমার কাছে এই রোথোটা ঘুষ চাইল!

    –কেন বারবার ঘুষ ঘুষ বলছিস পিন্টু? আমি নিজের জন্য চেয়েছি? বলছি না পার্টি ফাণ্ডে চাঁদা।

    —তোর ডিক্সনারিতে যেটা চাঁদা, আমার ডিক্সনারিতে সেটাই ঘুষ! পাঁচ হাজার সাতশো তিরাশি! একেবারে অঙ্কের হিসেবের মতন।

    —রাউণ্ড ফিগার কেন বলা হয় না জানিস? সেটা বড্ড মারোয়াড়ি মারোয়াড়ি শোনায়।

    হঠাৎ লজ্জা পেয়ে, জিভ কেটে রথীন তালুকদার বললেন, সরি, সরি! অফ দা রেকর্ড। মারোয়াড়ি কথাটা আমি উচ্চারণ করতে চাইনি। শিল্প অফ টাং। কোনো বিশেষ কমিউনিটির বিরুদ্ধে আমরা কিছু বলতে চাই না। মারোয়াড়িদের বিরুদ্ধেও আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। আমি বলতে চাইছিলাম, পাঁচ হাজার দশ হাজার এইরকম ডোনেশন বড় বড় ব্যবসায়ীরা যখন তখন দিতে পারে। কিন্তু পাঁচ হাজার সাতশো তিরাশি, এরকম ফিগার শুনলেই মনে হয়, একজন মেহনতী মানুষ অনেক কষ্ট করে টাকাটা জোগাড় করেছে, শেষ সম্বলটাও পার্টিকে দিয়েছে।

    মেজমামা মুখ ভেংচে বললেন, শুনলে এরকম মনে হয়? আর একজন বেকার এই টাকাটা জোগাড় করবে কী করে?

    —কষ্ট করতে হবে! পার্টির জন্য দিচ্ছে। পার্টিকে ষ্ট্রং করতে হবে। তুই আমার ওপর রাগ করে চলে যাচ্ছিস পিন্টু, এক সময় তুই আমার অনেক উপকার করেছিস, সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনো কিছু করতে পারি না। পার্টির স্বার্থ আমাকে সব সময় দেখতেই হবে!

    —তুই কোনো চাকরি-বাকরি করিস, রথীন? না তুইও বেকার?

    –বেকার মানে? আমি সারাক্ষণই এই কাজ করি। আমি পার্টির হোল—টাইমার!

    —ভাবের ঘরে আর কতদিন চুরি করবি, শালা! পার্টির স্বার্থ মানেই তোর ব্যক্তিগত স্বার্থ। চাঁদার টাকায় এরকম বড় বড় বাড়ি হবে। তোর মতন নেতারা দু’ পাশে দু’খানা টেলিফোন নিয়ে অন্যদের লেকচার মেরে যাবে। মাথার ওপর পাখা, যখন তখন চা। তোর খাওয়া পরার খরচও পার্টি দেয়। পার্টি তোকে গাড়ি দেয়নি? আরও চাঁদা তোল, গাড়ি পাবি।

    —তুই বুঝতে পারছিস না, পিন্টু। সব পার্টিতেই হোল টাইমার থাকে, আমি যদি…

    —আমার আর বোঝার দরকার নেই! গুড বাই! এককালের ছাত্র বিপ্লবী এখন চাঁদা তোলার যন্ত্র।

    .

    মেজমামা গটমট করে বীর দর্পে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেও তাঁর মুখখানা অপমানে ও ক্ষোভে কালচে হয়ে গেছে।

    আমি সিঁড়ি দিয়ে প্রায় নাচতে নাচতে নামতে লাগলুম। মেজমামার এই পরাজয় দেখার আনন্দ আমি আর চেপে রাখতে পারছি না। বাড়ি ফিরে বৌদিকে সব রসিয়ে বলতে হবে। তারপর দু’জনে মিলে মেজমামাকে যা নাস্তানাবুদ করব আজ বিকেলে!

    বাইরে এসেই বাঁ দিকে তাকালুম। না, সে মেয়েটি নেই। এতক্ষণ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবেই বা কেন সে? মেয়েটি কি এখানে কারুর জন্য প্রতীক্ষা করছিল?

    মেজমামা বিরস মুখে এদিক ওদিক তাকিয়ে জিপটা খুঁজতে লাগলেন।

    আমি বললুম, আর কি কোথাও যাবার দরকার আছে? এবার বাড়ি ফিরলে হয় না?

    মেজমামা বললেন, সত্যি রে নীলু, চাকরির বাজার যে এমন টাইট, ভাবতেই পারিনি। রথীনটার ওপর খুব ভরসা করেছিলুম, কিন্তু ও এমন বদলে গেছে! বন্ধুত্ব—টন্ধুত্বর কোনো দাম নেই, সবই এখন পার্টি!

    -মেজমামা, উনি তো দোষের কিছু বলেননি! সব পার্টিই এইরকম কথা বলে।

    –সব পার্টিরই আমি গুষ্ঠির পিণ্ডি চটকাই! পার্টির বাইরে কেউ নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না, সবাইকেই জো-হুজুর হতে হবে! এখন দেখতে পাচ্ছি, তোর কথাটাই ঠিক। এরকম অপমানজনকভাবে চাকরি জোগাড় করার চেয়ে বেকার থাকা ঢের ভালো। যাদের বাড়িতে হাঁড়ি চড়ে না, কাচ্চা-বাচ্চারা না খেয়ে থাকে, তাদের তো একটা কিছু করতেই হবে। তোর তো সে ঝামেলা নেই, তুই বেশ আছিস, বনে-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছিস। যতদিন তোর দাদা-বৌদি তোকে খাওয়াবে, তুই এরকমই চালিয়ে যা।

    —শুধু শুধু এই বাদলার দিনে তুমি এতটা সময় নষ্ট করলে মেজমামা!—পুরোনো বন্ধুরা যে এমন পাল্টে যায়, কী করে জানব? এই রথীন যখন আমাদের বাড়িতে এসে থাকত, আমরা এক বালিশে মাথা দিয়ে শুয়েছি। আজ সে তোকে চাকরি দিতে পারুক বা না পারুক, একটাও পার্সোনাল কথা বলল না! শুধু বড় বড় লেকচার!

    —আকাশ আবার কালো হয়ে এসেছে। চল, বাড়ি যাই!

    —হুঁ! তোর মার কাছে বড় গলা করে বলেছিলুম, তোর একটা চাকরি আমি জোগাড় করে দেবই! এখন ছোড়দি ঠাট্টা করবে। খালি হাতে ফিরলেই বলবে, দেখলুম পিন্টু তোর মুরোদ!

    —আমি আর বৌদিও তোমাকে ক্ষ্যাপাব! সিঙ্গাপুরে থাক, এ দেশের কিছুই খবর রাখ না।

    —তোরাও আমায় ক্ষ্যাপাবি?

    —নিশ্চয়ই! তুমি আমার কতটা সময় নষ্ট করলে! তোমার সঙ্গে এসে আমাকেও ফালতু অপমান সহ্য করতে হলো!

    —তা হলে তো দেখছি আজই শ্বশুরবাড়ি পালাতে হবে ভন্তুর সঙ্গে। চল, একবার সুরঞ্জনের অফিসটা ঘুরে যাই!

    —আবার? দু’খানা বন্ধুর স্যাম্পেল তো দেখলে মেজমামা। সবাই এই রকমই হবে। কেন সাধ করে নিজের মান খোওয়াতে যাবে।

    —সুরঞ্জনের অফিসটা কাছেই। শুধু একবার দেখা করে যাব। ঠিক আছে, চাকরির কথা উচ্চারণও করব না। তুই ভালো করে রুমাল দিয়ে মুখটা মুছে ফ্যাল। তোর মুখ দেখলেই যাতে বোঝা যায়, তুই চাকরি-ফাকরি কিচ্ছু গ্রাহ্য করিস না।

    আবার জিপটায় উঠে বসার পর মেজমামা আবার বলল, এই যে সুরঞ্জন দত্তরায়ের কাছে যাচ্ছি, ওর সঙ্গে আমি স্কুলে পড়েছি। আমার সঙ্গে খুব যে ভাব ছিল তা নয়, বরং রেষারেষি ছিল। ও একবার ফার্স্ট হতো, আমি পরের বার ফার্স্ট হতাম। হ্যাঁ, তুই বিশ্বাস করছিস না, আমি সত্যি সত্যি ফার্স্ট হয়েছি অনেকবার। তা সুরঞ্জন এখন সাকসেসফুল হয়েছে, প্রাইভেট ফার্মে বড় চাকরি করে। কিন্তু ও ঘন ঘন চাকরি বদলায়। এর মধ্যে আট-দশ জায়গায় বদলেছে। একটা ছাড়ে, আবার একটা পেয়েও যায় সঙ্গে সঙ্গে।

    আমি বললুম, ওপরের দিকের লোকদের চাকরির অভাব নেই। খবরের কাগজে বড় বড় বিজ্ঞাপন থাকে। দশ বছর, পনেরো বছরের অভিজ্ঞতা চায়। যত ঝঞ্ঝাট আমার বয়েসীদের, যাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আচ্ছা বলো তো, কোনো চাকরি না পেলে অভিজ্ঞতা হবে কী করে? তোমার ঐ প্রথম বন্ধু নির্মলবাবু বললেন না, তোমাদের জেনারেশানের পরে আর কেউ চাকরিও পাবে না!

    মেজমামা বললেন, এই সুরঞ্জনের সঙ্গে দেখা হলেই বাঙালিদের নিন্দে করে। নিজে যে বাঙালি সেটা পর্যন্ত অস্বীকার করতে চায়। ও বলে, বাঙালিরা কোনো কর্মের না, ফাঁকি মারে, ইউনিয়ানবাজি করে, কথায় কথায় স্ট্রাইক ডাকে, কিন্তু কাজের বেলায় চুঁ হুঁ! এমনকি বাঙালি কেরানিরা নাকি ভালো করে ঘুষ নিতেও জানে না। পঞ্চাশ-একশো টাকা ঘুষ নিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকে। আর নর্থ ইণ্ডিয়ার অফিসগুলোতে যে-কোনো কাজের জন্য যাও, স্ট্রেট দশ পাশেন্ট ঘুষ চাইবে, কাজটাও নিখুঁত করে দেবে! ঘুষের ব্যাপারে তারা অনেস্ট।

    —ঘুষেরও অনেস্টি!

    –হে-হে-হে-হে! যে বিয়ের যে মন্তর! সুরঞ্জনের কাছে যাচ্ছি তার কারণ ও আমাকে একটা চিঠি লিখেছে, আসবার ঠিক দু’ দিন আগেই পেয়েছি। উত্তর দেওয়া হয়নি।

    —দশ মিনিটের বেশি বসব না কিন্তু। তোমরা দেখা হলেই স্কুল-কলেজের বন্ধুদের কথা বলতে শুরু করে দাও, আমার বোরিং লাগে।

    —ঠিক আছে, ঠিক আছে।

    থিয়েটার রোডে গিয়ে আবার একটা সরু রাস্তায় ঢুকে সুরঞ্জন দত্তরায়ের অফিস। এখানকার এক একটা বাড়িতেই অনেকগুলো অফিস থাকে। এদের কোম্পানিটা দোতলা তিনতলা মিলিয়ে।

    সুরঞ্জন দত্তরায়ের ঘরের সামনে একজন বেয়ারা বসে আছে, সে যথারীতি জানাল যে সাহেব এখন ব্যস্ত আছেন।

    তার কথা অবিশ্বাস করা গেল না, কারণ ঠিক তক্ষুনি সেই ঘরের দরজা ঠেলে একজন লোক বেরুল, দরজার ফাঁক দিয়ে দেখা গেল যে ঘরের মধ্যে এক ঝাঁক মানুষ

    দু’ জায়গায় ঘা খেয়ে মেজমামা অনেকটা ঠাণ্ডা হয়ে গেছেন।

    তিনি আর চ্যাঁচামেচি করলেন না, বেয়ারার কাছ থেকে শিল্প নিয়ে তাতে নিজের নাম লিখে পাঠিয়ে দিলেন।

    চ্যাঁচামেচির চেয়ে অনেক বেশি কাজ হলো। প্রায় ম্যাজিকের মতন। সঙ্গে সঙ্গে নীল সুট পরা একজন সুপুরুষ বেরিয়ে এসে প্রবল উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বললেন, পিনাকপানি? পিন্টু! কী আশ্চর্য ব্যাপার! এ যে মেঘ না চাইতেই জল। আজ সকাল থেকে তোর কথাই ভাবছি! কেমন আছিস?

    তারপরেই আর্দালির দিকে ফিরে তিনি বললেন, সুখরাম, পাশের কামরাটা খুলে দাও! এ সি চালাও।

    মেজমামার হাত ধরে বললেন, আয় পিন্টু, আমরা এখানে বসি।

    মেজমামা বললেন, তুই কাজে ব্যস্ত ছিলি, ঘরে অত লোক দেখলাম।

    সুরঞ্জন দত্তরায় বললেন, থাক না, ওরা কাজ করুক। তুই এসেছিস এতদিন পর। তুই আমার এই অফিসের ঠিকানা জানলি কী করে? এখানে এসেছি মাত্র দেড় বছর!

    –তোর চিঠি পেলাম যে!

    —পেয়েছিস? উত্তর দিলি না কেন?

    —এই তো উত্তর দিতে সশরীরে এসেছি। চিঠি পেলাম মাত্র দু’দিন আগে। পাশের ঘরটি ছোট, কিন্তু খুব সাজানো। অনেকগুলো কালো রঙের গদিমোড়া চেয়ার, টেবিলের ওপর একটা ফ্লাওয়ার ভাসে একগুচ্ছ রজনীগন্ধা। কোনো ফাইল বা একটুকরো কাগজও নেই সেখানে, অফিস বলে মনেই হয় না।

    সেখানে বসার পর সুরঞ্জন দত্তরায় আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এই ছেলেটিকে তো চিনতে পারলাম না।

    মেজমামা বললেন, এ আমার ভাগ্নে। তুই আগে দেখিস নি।

    সুরঞ্জন দত্তরায় বললেন, খুব ভালো ছেলে মনে হচ্ছে। এই বয়েসী কোনো ছেলে তার মামার সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এ তো আজকাল দেখাই যায় না। আমার ছেলে আমার সঙ্গে দার্জিলিং-এ যেতেই রাজি হলো না। তোমার নাম কি ভাই?

    আমি আমার নাম জানালুম।

    সুরঞ্জন দত্তরায় বললেন, পিন্টু, এই ছেলেটিকে দেখে আমার লোভ হচ্ছে। একে আমায় দিবি?

    মেজমামা অবাক হয়ে বললেন, তোকে দেব মানে? তুই ওকে তোর মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিতে চাস নাকি? অ্যাঁ?

    —ওকে আমার জামাই করতে পারলে খুশিই হতাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমার মেয়ের বিয়ে হবে না। অসুবিধা আছে। ওকে আমার অফিসে একটা চাকরি দিতে চাই। আসলে ব্যাপার কী হয়েছে জানিস, পিন্টু। আজই আমার এখানে একটা পোস্ট খালি হয়েছে। আমি ঠিক করে রেখেছিলুম, প্রথম যে ছেলেটিকে দেখে আমার পছন্দ হবে, তাকেই কাজটা দেব।

    মেজমামা স্তম্ভিতভাবে প্রায় এক মিনিট তাকিয়ে রইলেন আমার দিকে। তারপর পাগলের মতন হাসতে লাগলেন হাত-পা ছুঁড়ে।

    মেজমামার হাসি বন্ধ করার জন্য গম্ভীরভাবে বললুম, আমার তো চাকরির দরকার নেই। আমি অলরেডি এক জায়গায় কাজ করি।

    সুরঞ্জন দত্তরায় সঙ্গে সঙ্গে বললেন, তাতে কী হয়েছে। সেটা ছেড়ে দাও। চাকরি পাল্টাও। চাকরি না পাল্টালে জীবনে উন্নতি করতে পারবে না। এক জায়গায় একঘেয়ে চাকরিতে কত কিছু দেখা বাকি থেকে যায়।

    মেজমামা হাসতে হাসতেই বলে যেতে লাগলেন, বাজে কথা! বাজে কথা! ও কোথাও চাকরি করে না। একেবারে কাঠ বেকার! দে, দে, ওকে একটা চাকরি দে, রুণু। আমার প্রেস্টিজ বাঁচা!

    —চাকরি তো হয়েই গেল। এক্ষুনি অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার ইস্যু করে দিচ্ছি। এখন কী খাবি বল। চা-কফি-কোল্ড ড্রিংকস? বীয়ার?

    –সত্যি রুণু, তুই ওকে চাকরি দিচ্ছিস? এ যে রূপকথা রে!

    —দ্যাট ইজ সেটল্ড! কাল থেকে জয়েন করবে। কত মাইনে চাই?

    —তুই ওর ইন্টারভিউ নিলি না, কোয়ালিফিকেশান জিজ্ঞেস করলি না। এমনি এমনি চাকরি হয়ে গেল?

    —মুখ দেখেই সব বোঝা যায়। ওয়েল বিহেভড় ছেলে। স্বাস্থ্যও খারাপ না। আচ্ছা, আমি ওকে দু’-একটা কথাও জিজ্ঞেস করে নিচ্ছি।

    সুরঞ্জন দত্তরায় আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত একবার দৃষ্টি বোলালেন। উল্টোভাবে আর একবার।

    তারপর বেশ নরম গলায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি ইংরিজিতে কিছু কিছু চিঠি ড্রাফ্ট করতে পারবে? শক্ত কিছু নয়, পয়েন্টগুলো আমরা বলে দেব!

    আমি দারুণ জোরে মাথা নেড়ে বললুম, আজ্ঞে না। আমি ইংরিজিতে খুব কাঁচা, গ্রামার ঠিক থাকে না, প্রচুর বানান ভুল হয়।

    —ঠিক আছে। তুমি অঙ্কে কী রকম? অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে সিম্পল কিছু হিসেবের কাজ। ওয়ার্কারদের মাইনের বিল বানানো।

    —অসম্ভব! তাহলে কেউ মাইনেই পাবে না। আমি অঙ্কে বরাবর গাড্ডু পেয়েছি। সাতচল্লিশের সঙ্গে তিপ্পান্ন যোগ করলে কত হয়, সেটাই আমি বলতে পারব না।

    মেজমামার চোখ দুটো রসগোল্লার মতন হয়ে গেছে। সুরঞ্জন দত্তরায় মুচকি মুচকি হাসছেন। মেজমামা কিছু একটা বলার চেষ্টা করতেই তিনি হাত তুলে থামিয়ে দিয়ে আবার আমাকে বললেন, আচ্ছা, ঠিক আছে। তুমি কিছু ঘোরাঘুরি করতে পারবে? অফিসের কাজে। এই ধরো, দুর্গাপুর, পাটনা, জামশেদপুর এই সব জায়গায় অফিসের কাগজপত্র নিয়ে যেতে হবে, ভালো ট্রাভলিং অ্যালাউয়েন্স পাবে।

    আমি কাঁচুমাচু মুখ করে বললুম, দেখুন, আমি একলা কক্ষনো ট্রেনে চাপিনি জীবনে বর্ধমানের চেয়ে বেশি দূর যাইনি। আমার ভয় করে। চারদিকে কত চোর—ডাকাত ঘুরে বেড়ায়। নিজের বাড়িতেই সবাই নিশ্চিন্ত। আর একটা কথা, আমি খুব কাগজপত্র হারিয়ে ফেলি, ব্যাগ হারাই, ছাতা হারাই। আমাকে এই কাজ দেবেন না, প্লিজ, আমি পারব না!

    -ঠিক আছে। তোমাকে ট্রেনে করে দূরে কোথাও যেতে হবে না। কলকাতায় ট্রামে-বাসে-ট্যাক্সিতে ঘোরার অভ্যেস নিশ্চয়ই আছে। এই কলকাতাতেই আমাদের তিনটে ব্র্যাঞ্চ, আরও পাঁচ-ছটা অফিসের সঙ্গে আমাদের রোজ কাজকারবার হয়। তোমাকে সেইসব অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। টেলিফোন তো পাওয়া যায় না সবসময়। তুমি অফিসে এসেই সই করে বেরিয়ে পড়বে, সারা দুপুর ঘোরাঘুরি করে আবার ফিরে আসবে বিকেলে।

    —দুপুরবেলা? ওরে সর্বনাশ! আমার একদম রোদ্দুর সহ্য হয় না। একটু রোদ মাথায় লাগলেই সাইনোসাইটিশ! আজ বৃষ্টির দিন বলে আমি বেরিয়েছি। অন্যদিন খুব ভোর আর সন্ধের পর ছাড়া আমি বাড়ি থেকেই বেরুতে পারি না। মাপ করবেন, আমায় দুপুরবেলা ঘোরাঘুরি করতে বলবেন না।

    সুরঞ্জন দত্তরায় এবার হাততালি দিয়ে বলে উঠলেন, বা-বা-বা-বা! এই তো চাই, এই তো চাই! ঠিক এইরকমই একজনকে চেয়েছিলুম! তুই কাকে এনেছিস রে, পিন্টু! এ যে রত্ন! আমার অফিসের পক্ষে আইডিয়াল!

    এবার আমার অবাক হবার পালা!

    মেজমামার মুখে আবার হাসি ছড়িয়েছে।

    সুরঞ্জন দত্তরায় আমার দিকে ঝুঁকে এসে বললেন, শোনো, তোমাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিই। আমার অফিসে দশ-বারোটা ইংলিশের এম এ গড়াগড়ি যাচ্ছে। যে—কোনো চিঠি লিখতে বললেই তারা ঝটাঝট লিখে আনে। এমনকি আমার ইংরিজিতে পর্যন্ত ভুল ধরে। তারপর ধরো অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে আছে কুড়ি—পঁচিশটা বি কম, এম কম। তারা সব সময় হিসেব করছে, কী করে বেশি ওভারটাইম পাবে, কী করে ফল্স মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে ছুটির মাইনে পাওয়া যায়, কী ভাবে ইনক্রিমেন্টের জন্য চাপ দিতে হয়, এইসব! কাজেই অ্যাকাউন্টসের লোকও আমার দরকার নেই। অন্য স্টাফদের মধ্যে অনেকেরই ধান্দা, কী করে পাটনা-জামসেদপুরে অফিসের ট্যুর ফেলবে। ট্রাভলিং অ্যালাউন্সের লোভ। সেকেণ্ড ক্লাসে গিয়ে ফার্স্ট ক্লাসের ভাড়া নেয়, শস্তায় হোটেলে থেকে টাকা বাঁচায়। আর একদল আছে, যারা অফিসে এসেই নামটি সই করে অন্য অফিসে কাজের নাম করে বেরিয়ে পড়ে। কাজ না থাকলেও যাবেই। ঐ সময়টা তারা সিনেমা দেখে, না পার্কে শুয়ে শুয়ে প্রেম করে, তা কে জানে। মোট কথা, তাদের অফিসের চেয়ারে বসিয়ে রাখাই একটা সমস্যা। দুপুর হলেই হাওয়া। সেই জন্যই আমি এমন একজন চাইছিলাম, যে সারাক্ষণ অফিসে নিজের জায়গায় বসে থাকবে। আমি যা দেখছি, বাঙালির ছেলেদের মধ্যে একমাত্র তোমারই এই যোগ্যতা আছে। আমাদের অফিস খোলে সাড়ে আটটায়। রোদ চড়া হবার আগেই তুমি চলে আসবে অফিসে। ফিরবে সূর্য অস্ত যাবার পর।

    মেজমামা উঠে এসে আমার কাঁধে একটা বিরাট থাবড়া মেরে বললেন, এবার চাঁদু, পালাবে কোথায়? নিজের মুখেই স্বীকার করলি, তুই ঘোরাঘুরি পছন্দ করিস না!

    তারপর সুরঞ্জন দত্তরায়ের হাত ধরে ঝাঁকুনি দিতে দিতে বললেন, তুই যে কামাল করে দিলি, রুণু! উল্টো প্যাঁচে ছেলেটা একেবারে কুপোকাৎ! ছোড়দির কাছে আমার দারুণ প্রেস্টিজ বেড়ে যাবে। তুই এই ছেলেটাকে কী কাজ দিবি?

    —কাজ খুব সহজ। আমাদের ডেসপ্যাচ সেকশানে সারাক্ষণ বসে থাকবে। বাইরের অনেক লোক কত জরুরি চিঠিপত্র নিয়ে আসে, অনেক সময় সীটে লোকই পায় না। এ চিঠিগুলো রিসিভ করবে, আমাদের এদিককার চিঠিগুলো শুধু এন্ট্রি করে দেবে খাতায়, পিওনরা নিয়ে যাবে। আসল কাজ হলো বসে থাকা। অফিসটাকে বাইরের লোকদের কাছে রিপ্রেজেন্ট করা।

    –বাঃ, এ তো ভালো কাজ। আমি ভেবেছিলুম, টুল-ফুলে বসতে হবে বোধহয়। এ তো দেখছি চেয়ার পাবে। কত মাইনে দিবি?

    —দু হাজার দিলে চলবে?

    —অ্যাঁ? এত টাকা? বলিস কি? অ্যাত টাকা নিয়ে এ ছেলেটা কী করবে?

    —ঠিক আছে, আড়াই হাজার?

    —তুই পাগল নাকি? আমি কমাতে বলছি। বেকার ছেলে, এতদিন বাজার থেকে চুরি করা টু-পাইস ছাড়া আর কোনো রোজগার ছিল না, হঠাৎ হাতে একসঙ্গে এতগুলো টাকা পেলে মাথা ঘুরে যাবে। না, না, অত দরকার নেই।

    —তা হলে তিন হাজারই পাবে। আজকাল এর কমে কারুর চলে না। এখন কয়েক মাস তিন হাজারই চলুক, পরে আবার বাড়িয়ে দেওয়া যাবে।

    —তুই আমাদের সঙ্গে ঠাট্টা করছিস না তো, রুণু? এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না।

    —ঠাট্টা? উপকারটা তো আমার। একজন ঠিক ঠিক লোক পেলাম।

    তার পরেই তিনি ফোন তুললেন, ত্রিপাঠী, একবার এ ঘরে আসুন তো! একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার তৈরি করতে হবে, আধ ঘণ্টার মধ্যেই চাই।

    ফোন রেখে দিয়ে তিনি বললেন, কী আশ্চর্য যোগাযোগ। কাল মাসের পয়লা তারিখ। তুমি কাল থেকেই জয়েন করো। ওয়েলকাম টু আওয়ার অফিস। এবার একটু কফি খাওয়া যাক।

    মেজমামা বললেন, তুই কবে সিঙ্গাপুর আসছিস, রুণু?

    —আমি পনেরো তারিখ মালয়েশিয়া যাচ্ছি। অফিসের কাজ। ওখান থেকে সিঙ্গাপুরে কয়েকদিন থেকে আসব। আমার বউ যেতেও পারে সঙ্গে। সিঙ্গাপুরে কিছু শপিং-টপিং করবে। সেই জন্যই তোকে চিঠি লিখেছিলাম। ফরেন এক্সচেঞ্জ তো বেশি পাওয়া যাবে না। তোর বাড়িতে কয়েকটা দিন থাকা যাবে?

    —আমার ভাগ্নেকে চাকরি না দিলেও তুই থাকতে পারতিস। যখন ইচ্ছে।

    —তোর কোনো অসুবিধে হবে না?

    —অসুবিধের কোনো প্রশ্নই নেই। গেস্টদের জন্য একখানা আলাদা ঘর রেখেছি। নতুন তোয়ালে, সাবান, টুথপেস্ট সব সাজানো আছে। বাড়িতে যা রান্না হয়, তাই খাবি।

    —আমার খাওয়া-দাওয়ার কোনো ঝামেলাই নেই। ডাল-ভাত আর ডিম সেদ্ধ হলেই আমার চলে যায়।

    –তুই রোজ ডিমসেদ্ধ খাস?

    -রোজ। দুটো করে।

    —হার্ড বয়েলড?

    –না, হাফ বয়েলড। ভেতরের কুসুমটা নরম থাকা চাই।

    —তাই বল! এই জন্য তুই এত উন্নতি করেছিস! যে-কোনো কাজের ব্যাপারে চট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারিস। ভেরি গুড! ডিম খায় না বলেই বাঙালি অফিসার জাতটা অধঃপাতে গেল। নীলু, তুই এখন থেকে প্র্যাকটিস রেখে যা।

    বেয়ারা এসে কফি দিয়ে গেল। তাতে চুমুক দিতে যাচ্ছি, সুরঞ্জন দত্তরায় বললেন, থামো, থামো, এক মিনিট! আজ এরকম একটা ভালো যোগাযোগ ঘটে গেল। চলো, সেলিব্রেট করা যাক। এখন প্রায় একটা বাজে, তোমরা চলো, তোমাদের কোনো ভালো জায়গায় লাঞ্চ খাওয়াবো। কফি খেয়ে খিদে নষ্ট করো না। কিরে, পিন্টু, কোনো আপত্তি নেই তো।

    মেজমামা জোরে জোরে মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন, কোনো আপত্তি নেই। কোনো আপত্তি নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025
    Our Picks

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }